Category: দেশ

Get updates on India News Headlines National News from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • Grand Durga Visarjan Procession: শ্রীনগরের লালচকে দুর্গাপ্রতিমা বিসর্জনের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, উৎসবে মাতল কাশ্মীরের বাঙালি সমাজ

    Grand Durga Visarjan Procession: শ্রীনগরের লালচকে দুর্গাপ্রতিমা বিসর্জনের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, উৎসবে মাতল কাশ্মীরের বাঙালি সমাজ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কয়েক দশকের বিরতির পর জম্মু-কাশ্মীরের শ্রীনগরের কেন্দ্রস্থল লালচকে দুর্গাপুজোর বর্ণাঢ্য বিসর্জন শোভাযাত্রা ঘিরে তৈরি হল উৎসবের আবহ (Grand Durga Visarjan Procession)। মহারাজা বাজার থেকে শুরু হওয়া শোভাযাত্রাটি ঐতিহাসিক ঘণ্টাঘর হয়ে আমিরা কদল পর্যন্ত যায়। শোভাযাত্রায় দুর্গা, কালী, লক্ষ্মী এবং গণেশের প্রতিমা নিয়ে অংশ নেন (Srinagar) ভক্তরা। পরে ঝিলম নদীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় দশমীর অনুষ্ঠান। আয়োজকদের মতে, শ্রীনগরের বুকে এত বড় মাপের ধর্মীয় শোভাযাত্রা কয়েক দশক ধরে দেখা যায়নি। দীর্ঘ বিরতির পর লালচক এলাকায় প্রকাশ্যে দুর্গাপুজোর উৎসব উদ্‌যাপনকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

    সহযোগিতার প্রশংসা (Grand Durga Visarjan Procession)

    দুর্গাপুজোর আয়োজন নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে স্থানীয় বাসিন্দা, পুলিশ এবং নিরাপত্তাবাহিনীর সহযোগিতার কথা জানিয়েছেন ভক্তরা। তাঁদের বক্তব্য, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের সহায়তায় শ্রীনগরে এ বার আরও বড় পরিসরে উৎসব উদ্‌যাপন সম্ভব হয়েছে। বাঙালি সম্প্রদায়ের সদস্য প্রসেন মণ্ডল বলেন, “সবাই আমাদের সহযোগিতা করেছেন। এখানে কোনও বৈষম্য নেই। আমাদের সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপুজো। স্থানীয় কাশ্মীরি বাসিন্দা থেকে শুরু করে জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ ও নিরাপত্তাবাহিনী—সকলেই আমাদের পাশে রয়েছেন। আমরা এখানে থাকি এবং কাজ করি। সকলকে সঙ্গে নিয়ে চলার পরিবেশ তৈরি হওয়ায় এ বার আরও বড় পরিসরে উৎসব পালন করতে পেরেছি।”

    ভূস্বর্গে বদলের ছবি

    বিসর্জনের শোভাযাত্রাকে ঘিরে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আবেগের পাশাপাশি শ্রীনগরের কেন্দ্রস্থলে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণও নজর কেড়েছে। বিজয়া দশমী উপলক্ষে প্রচলিত আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উৎসব পালন করেন ভক্তরা। শোভাযাত্রার শেষ পর্বে সিঁদুর খেলায় অংশ নেন মহিলারা। দুর্গাপুজোর সমাপ্তি উপলক্ষে প্রচলিত এই আচারকে ঘিরেও দেখা যায় ব্যাপক উৎসাহ। আয়োজকদের বক্তব্য, শান্তিপূর্ণভাবে উৎসব সম্পন্ন হওয়া সামাজিক সম্প্রীতি ও জননিরাপত্তা বজায় রাখার গুরুত্বকে তুলে ধরেছে ((Grand Durga Visarjan Procession))।

    বেজায় খুশি কাশ্মীরি পণ্ডিতরাও

    শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া কাশ্মীরি পণ্ডিত সম্প্রদায়ের সদস্যরাও এই আয়োজনকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। তাঁদের মতে, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ একসঙ্গে উৎসবে যোগ দেওয়ায় পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সাংস্কৃতিক আদানপ্রদানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিদিতা নামে এক তরুণী কাশ্মীরি পণ্ডিত বলেন, “আমার জন্ম ২০১০ সালে। এখানে এমন প্রতিমা বিসর্জন আমি আগে কখনও দেখিনি। কাশ্মীরে এই প্রথম এমন অভিজ্ঞতা হল। বাঙালি সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হতে পেরে এবং এই সম্প্রীতির সাক্ষী হতে পেরে আমি খুব খুশি। আমরা লালচক পর্যন্ত হেঁটেছি, ঘণ্টাঘরে গিয়েছি এবং আমিরা কদল হয়ে ফিরেছি। কাশ্মীরে ইতিবাচক পরিবর্তন সত্যিই চোখে পড়ছে।”

    শোভাযাত্রা দেখতে ভিড় স্থানীয় বাসিন্দাদের

    শোভাযাত্রা দেখতে পথের দু’পাশে জড়ো হন স্থানীয় বাসিন্দারা। উৎসব দেখার পাশাপাশি তাঁরা ভক্তদের শুভেচ্ছাও জানান। ব্যস্ত শহরকেন্দ্রের মধ্যে দিয়ে শোভাযাত্রা নির্বিঘ্নে এগিয়ে নিয়ে যেতে স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রশাসনের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকেরা। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের উপস্থিতি উৎসবের সামাজিক গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে দেয়। ধর্মীয় আচার পালনের পাশাপাশি এই ধরনের আয়োজন পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সম্প্রীতির পরিবেশ গড়ে তুলতে সাহায্য করে বলেও মনে করছেন (Srinagar) অংশগ্রহণকারীরা।

    ‘কাশ্মীরিয়ত’

    ঝিলম নদীতে দুর্গাপ্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে উৎসবের সমাপ্তি ঘটে। ভক্তদের কাছে এই আয়োজন কেবল ধর্মীয় অনুষ্ঠানের শেষ পর্ব নয়, বরং কাশ্মীরের বহুত্ববাদী সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও সহাবস্থানেরও প্রতীক। এই ঐতিহ্যকে প্রায়ই ‘কাশ্মীরিয়ত’ নামে উল্লেখ করা হয়। শ্রীনগরের এই শোভাযাত্রায় বিভিন্ন পটভূমির মানুষের অংশগ্রহণ ধর্মীয় বিশ্বাস, সাংস্কৃতিক আদানপ্রদান এবং সামাজিক সংহতির একটি প্রকাশ্য ছবি তুলে ধরে। কয়েক দশক পর শহরের কেন্দ্রস্থলে এমন আয়োজন ঘিরে স্থানীয়দের উৎসাহও ছিল উল্লেখযোগ্য ((Grand Durga Visarjan Procession))।

  • PM Modi Attacks Congress: ‘কংগ্রেস ভারতের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে, দলকে নিয়ন্ত্রণ করছে দিমাগি নকশালরা’, আক্রমণ প্রধানমন্ত্রীর

    PM Modi Attacks Congress: ‘কংগ্রেস ভারতের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে, দলকে নিয়ন্ত্রণ করছে দিমাগি নকশালরা’, আক্রমণ প্রধানমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ভারতের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার অভিযোগ তুলে তীব্র আক্রমণ শানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi Attacks Congress)। তাঁর অভিযোগ, ‘দিমাগি নকশালরা’ কংগ্রেসের চিন্তাভাবনাকে নিয়ন্ত্রণ করছে। এর ফলে দলটি কার্যকর বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করতে ব্যর্থ হচ্ছে। বৃহস্পতিবার একটি সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কংগ্রেসের রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে সরব হন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, দেশের সাফল্য ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতের ক্রমবর্ধমান গুরুত্বকে তুলে ধরার পরিবর্তে কংগ্রেস নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে। রাহুল (Modi to Rahul) গান্ধীকে নিশানা করে প্রধানমন্ত্রী মোদির প্রশ্ন, আর কতদিন নিজেদের ‘ব্যর্থ প্রোডাক্ট’ লঞ্চ করার চেষ্টা চালিয়ে যাবে হাত শিবির? একই সঙ্গে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশিদের হস্তক্ষেপে উৎসাহ দেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন তিনি।

    ভারতের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা

    ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (SIR) নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে কংগ্রেসের নেতৃত্বে প্রতিবাদের আবহেই প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। মোদি বলেন, “যখন গোটা বিশ্ব নতুন বিশ্বব্যবস্থার সন্ধান করছে, তখন কিছু মানুষ ভারতে বিশৃঙ্খলার স্বপ্ন দেখছেন।” কংগ্রেসের বিরুদ্ধে বিদেশের মাটিতে ভারতের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশি হস্তক্ষেপের প্রত্যাশা করার অভিযোগও তোলেন তিনি। কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধীকে নিশানা করে প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, নিজেদের ‘ব্যর্থ পণ্য’কে সামনে আনতে কংগ্রেস আর কত দিন দেশের স্বার্থকে বাজি রাখবে?

    ‘বিক্ষোভের আওয়াজে চাপা পড়ছে অন্য বিরোধীদের বক্তব্য’

    প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ, সরকারের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে যুক্তিসংগত বক্তব্য তুলে ধরতে চাওয়া বিরোধী নেতাদের কণ্ঠস্বর কংগ্রেসের হট্টগোলে চাপা পড়ছে। তিনি বলেন, সরকারের বিরুদ্ধে যাঁরা বৈধ ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নিজেদের বক্তব্য জানাতে চান, কংগ্রেসের বিক্ষোভ ও হইচইয়ের কারণে তাঁদের বক্তব্য মানুষের কাছে পৌঁছতে পারছে না। কংগ্রেসের আদর্শগত অবস্থান নিয়ে আক্রমণ আরও তীব্র করে মোদি দাবি করেন, একসময় যারা জঙ্গলে ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ চালাত, তারাই এখন কংগ্রেসের চিন্তাভাবনার মধ্যে ঢুকে পড়েছে এবং দেশের ক্ষতি করার পথে এগোচ্ছে। এই প্রসঙ্গেই তিনি ‘দিমাগি নকশাল’ শব্দবন্ধ ব্যবহার করেন।

    ‘পরিবারতন্ত্রই কংগ্রেসের বোঝা’

    কংগ্রেসের বিরুদ্ধে পরিবারতন্ত্রকে অগ্রাধিকার দেওয়ার অভিযোগও তোলেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, দেশের উন্নয়ন, সাফল্য এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অর্জনকে রাজনৈতিক সংঘাতের বিষয় করে তোলা হচ্ছে। নেতৃত্বের বারবার ব্যর্থতা থেকে নজর ঘোরাতেই এই কৌশল নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। মোদির দাবি, কংগ্রেসের অন্দরেও দলের সমস্যাগুলি সম্পর্কে প্রবীণ নেতারা অবগত। কিন্তু অসন্তোষ থাকা সত্ত্বেও তাঁরা প্রকাশ্যে মুখ খুলছেন না। তিনি বলেন, “এই পরিবার কংগ্রেস দলের কাছে বোঝা হয়ে উঠেছে। দলের প্রবীণ নেতারাও বিষয়টি উপলব্ধি করছেন।” প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ, কংগ্রেসের এই রাজনৈতিক আচরণ সরকারের সমালোচনা করতে চাওয়া অন্য নেতাদের ক্ষতিগ্রস্ত করছে এবং গণতান্ত্রিক পরিসরকে দুর্বল করছে।

    ‘ব্যর্থ প্রোডাক্ট লঞ্চ করতে আর কত চেষ্টা করবে কংগ্রেস?’

    রাহুল গান্ধীর নাম সরাসরি উল্লেখ না করলেও তাঁকে লক্ষ্য করেই কংগ্রেসের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার বারবার চেষ্টা নিয়ে কটাক্ষ করেন প্রধানমন্ত্রী। মহাকাশ গবেষণায় একের পর এক উৎক্ষেপণের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, শ্রীহরিকোটায় এক বছরে যত উৎক্ষেপণ হয়, তার চেয়েও বেশি বার কংগ্রেস তাদের নেতাকে রাজনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করে। প্রধানমন্ত্রীর কথায়, “কংগ্রেস তাদের ব্যর্থ প্রোডাক্ট লঞ্চ করার জন্য দেশের স্বার্থকে আর কতদিন বাজি রাখবে, তা আমি জানি না। শ্রীহরিকোটায় এক বছরে যত লঞ্চ হয়, কংগ্রেস তার নেতাকে লঞ্চ করার ব্যর্থ চেষ্টা তার চেয়েও বেশি বার করে।” এখানেই থামেননি মোদি। তাঁর অভিযোগ, একটি পরিবারকে ব্যর্থতার দাগ থেকে বাঁচাতে গিয়ে কংগ্রেস দেশের সাফল্য, গৌরব ও উন্নয়নকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। আঙুর টক হওয়ার উপমা টেনে তিনি বলেন, কংগ্রেস এখন নিজেদের রাজনৈতিক ব্যর্থতার জেরে গোটা ব্যবস্থাকেই ক্ষতিগ্রস্ত করতে চাইছে।

    কংগ্রেসকে ‘পরজীবী’ বলেও কটাক্ষ

    এদিন কংগ্রেসকে ‘পরজীবী’ বলেও আক্রমণ করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, অন্য রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের বিকাশের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় কংগ্রেস। ক্ষমতা হারানোর পর দলটির রাজনৈতিক অবস্থানেও ক্ষোভ ও বিরূপ মনোভাবের প্রতিফলন দেখা যায় বলে দাবি করেন তিনি। মোদির বক্তব্য, রাজনৈতিক মতপার্থক্য গণতন্ত্রের স্বাভাবিক অংশ। কিন্তু সেই মতপার্থক্যের কারণে দেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি কিংবা উন্নয়নের সাফল্যকে প্রশ্নের মুখে ফেলা উচিত নয়। রাজনৈতিক মহলের নজর এখন এই মন্তব্য ঘিরে কংগ্রেসের প্রতিক্রিয়ার দিকে। রাহুল গান্ধীকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রীর এই আক্রমণ জাতীয় রাজনীতিতে শাসক ও বিরোধী শিবিরের সংঘাতকে আরও তীব্র করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

    সংসদ অচল করার অভিযোগ

    সংসদে কংগ্রেসের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মোদি। তাঁর অভিযোগ, সংসদের কাজকর্মে বাধা সৃষ্টি করে কংগ্রেস বিরোধী শিবিরের তরুণ সাংসদদের নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করছে। একই সঙ্গে বিরোধী শিবিরের অন্য নেতাদের গুরুত্ব কমিয়ে একজন নেতাকেই বারবার সামনে রাখা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। প্রশাসনিক দুর্বলতা তুলে ধরা কিংবা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সংস্কারের দাবি জানিয়ে আয়োজিত প্রতিবাদগুলিকে কংগ্রেস রাজনৈতিক সংঘাতে পরিণত করছে বলেও অভিযোগ করেন প্রধানমন্ত্রী। সবশেষে কংগ্রেসকে ‘পরজীবী’ বলে কটাক্ষ করেন মোদি। তাঁর বক্তব্য, দলের এই রাজনৈতিক কৌশল অন্য বিরোধী নেতাদের নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী করার পথে বাধা সৃষ্টি করছে। প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্য ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে শাসক ও বিরোধী শিবিরের সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

  • India at UN: রাষ্ট্রসংঘে ভারতের কড়া বার্তা! ‘যাচাইহীন অভিযোগে কলঙ্কিত করা যাবে না বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রকে’

    India at UN: রাষ্ট্রসংঘে ভারতের কড়া বার্তা! ‘যাচাইহীন অভিযোগে কলঙ্কিত করা যাবে না বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রকে’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রসংঘের মঞ্চে ভারতের বিরুদ্ধে ওঠা মানবাধিকার সংক্রান্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে কড়া অবস্থান নিল নয়াদিল্লি। যাচাই না করা অভিযোগ, অসম্পূর্ণ পরিসংখ্যান এবং নির্দিষ্ট দেশ সম্পর্কে পর্যবেক্ষণহীন রিপোর্টের ভিত্তিতে বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের নেতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরির চেষ্টা বরদাস্ত করা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিল ভারত। একইসঙ্গে ভারতের বক্তব্য, মানবাধিকার নিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে আলোচনা ও সহযোগিতায় নয়াদিল্লি প্রস্তুত। তবে সেই প্রক্রিয়া হতে হবে নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ এবং তথ্যনির্ভর। মানবাধিকারকে কোনও দেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি বা বেছে বেছে নিশানা করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়।

    রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের তৃতীয় কমিটিতে এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্স বা জোরপূর্বক গুম সংক্রান্ত ওয়ার্কিং গ্রুপের আলোচনা চলাকালীন ভারতের এই অবস্থান সামনে আসে। সেখানে বিদেশ মন্ত্রকের ডেপুটি সেক্রেটারি বরখা তামরাকার ভারতের বক্তব্য তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, যাচাই না করা অভিযোগকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে তুলে ধরা এবং মানবিক উদ্বেগের ভিত্তিতে পাঠানো যোগাযোগকে দেশের বিরুদ্ধে রায়ের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া গ্রহণযোগ্য নয়।

    ‘যাচাইহীন অভিযোগ দিয়ে ভারতকে কলঙ্কিত করা যাবে না’

    রাষ্ট্রসংঘে ভারতের প্রতিনিধি বরখা তামরাকার বলেন, “যাচাই না করা অভিযোগ, অসম্পূর্ণ পরিসংখ্যান কিংবা ভারত সম্পর্কে কোনও দেশ-নির্দিষ্ট পর্যবেক্ষণ নেই এমন রিপোর্টকে ব্যবহার করে বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের নেতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরির যে কোনও প্রচেষ্টার বিরোধিতা করে ভারত।”

    একইসঙ্গে তিনি জানান, নির্দিষ্ট এবং যথাযথ নথিপত্র-সহ উপস্থাপিত ঘটনার বিষয়ে প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যাখ্যা দিতে ভারত প্রস্তুত। অর্থাৎ, মানবাধিকার সংক্রান্ত অভিযোগ নিয়ে আলোচনার দরজা বন্ধ করতে চাইছে না নয়াদিল্লি। বরং ভারতের আপত্তি, অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করেই সেগুলিকে প্রতিষ্ঠিত তথ্য বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে তুলে ধরার প্রবণতায়।

    ভারতের বক্তব্য, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলির সঙ্গে যোগাযোগ ও সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সেই সহযোগিতার ভিত্তি হতে হবে আলোচনা, পরামর্শ, পারস্পরিক সহযোগিতা, নিরপেক্ষতা এবং স্বচ্ছতা। কোনও নির্দিষ্ট দেশকে রাজনৈতিকভাবে চাপে ফেলার উদ্দেশ্যে মানবাধিকার সংক্রান্ত বিষয়কে ব্যবহার করা হলে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতাই প্রশ্নের মুখে পড়ে।

    রাষ্ট্রসংঘের রিপোর্ট নিয়ে ভারতের আপত্তি কোথায়?

    জোরপূর্বক গুম সংক্রান্ত ওয়ার্কিং গ্রুপের আলোচনা ঘিরে ভারতের মূল আপত্তি রিপোর্ট ও অভিযোগের তথ্যগত ভিত্তি নিয়ে। ভারতের বক্তব্য, রাষ্ট্রসংঘের বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ ও বিশেষ প্রতিবেদক তাঁদের রিপোর্ট তৈরির ক্ষেত্রে কখনও কখনও অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তি বা পক্ষের জমা দেওয়া তথ্যের উপর নির্ভর করেন। সেই তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা না হলে তাকে চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়।

    তামরাকার রাষ্ট্রসংঘের সদস্য দেশগুলির প্রতিনিধিদের রিপোর্টের বক্তব্য যথাযথভাবে উদ্ধৃত করার আহ্বান জানান। তাঁর কথায়, কোনও মানবিক উদ্বেগের ভিত্তিতে পাঠানো যোগাযোগকে অতিরঞ্জিত করে একটি দেশের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত রায়ের মতো তুলে ধরা উচিত নয়।

    এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ভারত আন্তর্জাতিক মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার বিরোধিতা করার পরিবর্তে তার পদ্ধতি ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। নয়াদিল্লির অবস্থান, মানবাধিকার সংক্রান্ত অভিযোগের গুরুত্ব থাকলেও প্রতিটি অভিযোগের মূল্যায়ন হওয়া উচিত প্রামাণ্য তথ্য, নির্দিষ্ট ঘটনা এবং যাচাইযোগ্য নথির ভিত্তিতে।

    সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদ ও বিচারব্যবস্থার কথা তুলে ধরল ভারত

    ভারতের প্রতিনিধি আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের সাংবিধানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষাকবচগুলির কথাও তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য, ভারত একটি প্রাণবন্ত গণতন্ত্র, যেখানে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত এবং নাগরিকের জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার সাংবিধানিকভাবে সুরক্ষিত।

    ভারতীয় সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদে জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। কোনও ব্যক্তির বেআইনি আটক বা নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগের ক্ষেত্রে বিচারবিভাগের হস্তক্ষেপ চাওয়ার সুযোগও রয়েছে। বিশেষত, হেবিয়াস কর্পাস বা বন্দি-উপস্থাপন সংক্রান্ত রিটের মাধ্যমে আদালত কোনও ব্যক্তিকে আটক রাখার বৈধতা খতিয়ে দেখতে পারে এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিতে পারে।

    ভারতের বক্তব্য, এই স্বাধীন বিচারব্যবস্থা নাগরিকের অধিকার রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে কোনও নির্দিষ্ট ঘটনায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠলে তার প্রকৃত মূল্যায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট তথ্য ও নথি পরীক্ষা করা জরুরি বলেও ভারতের অবস্থান থেকে স্পষ্ট।

    তথ্যের অধিকার থেকে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, কী কী যুক্তি ভারতের?

    মানবাধিকার রক্ষায় ভারতের বিভিন্ন সাংবিধানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার উল্লেখ করেন বরখা তামরাকার। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

    • ● তথ্যের অধিকার আইন (RTI): সরকারি কাজকর্মে স্বচ্ছতা এবং প্রশাসনিক জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই আইন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

    • ● জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (NHRC): মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পদক্ষেপের জন্য একটি প্রাতিষ্ঠানিক মঞ্চ রয়েছে।

    • ● রাজ্য মানবাধিকার কমিশন: রাজ্যস্তরেও মানবাধিকার সংক্রান্ত অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা রয়েছে।

    • ● স্বাধীন বিচারব্যবস্থা: নাগরিকের জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতা রক্ষায় আদালতের হস্তক্ষেপের সুযোগ রয়েছে।

    • ● স্বাধীন সংবাদমাধ্যম ও নাগরিক সমাজ: প্রশাসনের কাজকর্মের উপর নজরদারি, অভিযোগ প্রকাশ্যে আনা এবং জনস্বার্থের বিষয়গুলি তুলে ধরার ক্ষেত্রে সংবাদমাধ্যম ও নাগরিক সংগঠনগুলির ভূমিকা রয়েছে।

    ভারতের মতে, এই ব্যবস্থাগুলি সম্মিলিতভাবে নাগরিকের অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে কোনও মূল্যায়ন করতে হলে এই প্রতিষ্ঠানগুলির ভূমিকা এবং সংশ্লিষ্ট ঘটনার বাস্তব তথ্যও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।

    দিল্লিতে যুব বিক্ষোভ ঘিরে রাষ্ট্রসংঘের বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ

    ভারতের এই কড়া অবস্থানের নেপথ্যে রয়েছে দিল্লিতে যুবকদের বিক্ষোভ ঘিরে মানবাধিকার সংক্রান্ত বিতর্কও। মঙ্গলবার জেনিভায় রাষ্ট্রসংঘের ২০ জনেরও বেশি বিশেষজ্ঞ দিল্লিতে যুবকদের কথিত শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের উপর পুলিশের বারবার কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

    বিক্ষোভ চলাকালীন মানবাধিকার লঙ্ঘনের যে অভিযোগ উঠেছে, তার ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানান তাঁরা। তাঁদের বক্তব্যের কেন্দ্রে ছিল বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের আচরণ এবং অভিযোগগুলির যথাযথ তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করার প্রশ্ন।

    অন্যদিকে, ভারতের বক্তব্য, যাচাইহীন বা অসম্পূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে কোনও দেশ সম্পর্কে নেতিবাচক সিদ্ধান্তে পৌঁছনো উচিত নয়। তবে দিল্লির বিক্ষোভ ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলির বিষয়ে ভারতের বক্তব্য এবং রাষ্ট্রসংঘের বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ—দুটি বিষয়কেই পৃথকভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের জন্য নির্দিষ্ট ঘটনা, প্রমাণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ খতিয়ে দেখা জরুরি।

    ককরোচ জনতা পার্টি বিতর্কেও রাষ্ট্রসংঘের রিপোর্টকে ‘শোনা কথা’ বলেছিল ভারত

    রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার সংক্রান্ত রিপোর্ট নিয়ে ভারতের আপত্তি এই প্রথম নয়। এর আগে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP) নামে একটি ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক আন্দোলনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের অভিযোগ নিয়ে রাষ্ট্রসংঘের এক বিশেষ প্রতিবেদকের রিপোর্টেরও বিরোধিতা করেছিল নয়াদিল্লি।

    সেই রিপোর্টে ভারতের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে ‘শোনা কথা’ বা ‘হিয়ারসে’ বলে অভিহিত করেছিল ভারত। নয়াদিল্লির বক্তব্য ছিল, অজ্ঞাত পরিচয় সূত্রের উপর নির্ভর করে এবং যাচাই না করা তথ্যের ভিত্তিতে দেশের বিরুদ্ধে বিস্তৃত অভিযোগ তোলা কোনওভাবেই নির্ভরযোগ্য প্রমাণের বিকল্প হতে পারে না।

    ভারতের প্রতিনিধি সেই সময় বলেছিলেন, “অজ্ঞাত এবং যাচাই না করা দাবির উপর ভিত্তি করে বিশ্বের বৃহত্তম যুব জনসংখ্যার বিরুদ্ধে এমন বিস্তৃত অভিযোগ কোনও প্রমাণ নয়। এটি রাষ্ট্রসংঘের রিপোর্টের মোড়কে সাজানো শোনা কথা।”

    এই অবস্থানের সঙ্গে বর্তমান বক্তব্যেরও মিল রয়েছে। উভয় ক্ষেত্রেই ভারতের মূল আপত্তি রিপোর্টের তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা, অভিযোগ যাচাইয়ের পদ্ধতি এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মঞ্চের নিরপেক্ষতা নিয়ে।

    জোরপূর্বক গুম সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক কনভেনশন প্রসঙ্গ

    আলোচনায় জোরপূর্বক গুম সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক কনভেনশনের বিষয়টিও উঠে এসেছে। ভারত জানিয়েছে, নয়াদিল্লি International Convention for the Protection of All Persons from Enforced Disappearance-এর স্বাক্ষরকারী।

    এই কনভেনশন জোরপূর্বক গুমের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক স্তরে একটি গুরুত্বপূর্ণ মানবাধিকার কাঠামো। তবে কোনও আন্তর্জাতিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করা এবং সেটির অধীনে পূর্ণাঙ্গ আইনগত বাধ্যবাধকতা গ্রহণ করা এক বিষয় নয়। কোনও রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে কনভেনশনের আইনগত বাধ্যবাধকতার পরিধি নির্ধারণে তার অনুমোদন বা অনুসমর্থনের অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ।

    তাই ভারতের স্বাক্ষরকারী হওয়ার বিষয়টি উল্লেখযোগ্য হলেও, একে কনভেনশনের সমস্ত বাধ্যবাধকতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রহণ করার সমতুল্য হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।

     

  • MIB Advisory: টিভি চ্যানেলগুলিকে কেন্দ্রের কড়া বার্তা! জঙ্গিদমন অভিযান নিয়ে লাইভ সম্প্রচারে সতর্কতা, এআই ব্যবহারেও বিধি আরোপ

    MIB Advisory: টিভি চ্যানেলগুলিকে কেন্দ্রের কড়া বার্তা! জঙ্গিদমন অভিযান নিয়ে লাইভ সম্প্রচারে সতর্কতা, এআই ব্যবহারেও বিধি আরোপ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেলগুলির জন্য নতুন নির্দেশিকা জারি করল কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক। জঙ্গি দমন অভিযান চলাকালীন সরাসরি সম্প্রচার, হিংসাত্মক ঘটনার দৃশ্য দেখানো এবং সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়াতে পারে এমন বিতর্কমূলক অনুষ্ঠান নিয়ে সংবাদমাধ্যমগুলিকে সতর্ক করেছে মন্ত্রক। একইসঙ্গে টেলিভিশন সংবাদ পরিবেশনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর ব্যবহার নিয়েও নির্দিষ্ট সীমারেখা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। বুধবার, ২১ অক্টোবর এই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

    মন্ত্রকের বক্তব্য, টেলিভিশনে সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত আইন ও সম্প্রচারবিধি কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক ক্ষেত্রে নিয়ম না মানার অভিযোগ সামনে আসার পরেই এই পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে। কেন্দ্রের স্পষ্ট বার্তা, সংবাদ পরিবেশনের নামে এমন কোনও বিষয় প্রচার করা যাবে না, যা দেশের নিরাপত্তা, সামাজিক সম্প্রীতি কিংবা সংবেদনশীল পরিস্থিতির উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

    জঙ্গি দমন অভিযানের লাইভ সম্প্রচারে সতর্কতা

    নতুন নির্দেশিকায় সন্ত্রাসবাদবিরোধী অভিযান সংক্রান্ত খবর পরিবেশনের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের কথা বলা হয়েছে। অভিযান চলাকালীন সরাসরি সম্প্রচার এড়িয়ে চলতে হবে সংবাদমাধ্যমগুলিকে। এ ধরনের অভিযানের সময় টেলিভিশনে প্রচারিত তথ্য বা দৃশ্য নিরাপত্তা বাহিনীর কাজকে প্রভাবিত করতে পারে। সেই কারণে অভিযানের গতিবিধি, নিরাপত্তা সংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য কিংবা ঘটনাস্থলের এমন কোনও বিবরণ প্রচার করা উচিত নয়, যা অভিযানের স্বার্থের পরিপন্থী হতে পারে।

    পাশাপাশি, অপরাধ, প্রাকৃতিক বিপর্যয় এবং হিংসাত্মক ঘটনার খবর দেখানোর ক্ষেত্রেও সংযম বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনও ঘটনার ভয়াবহতা তুলে ধরতে গিয়ে অতিরিক্ত হিংসাত্মক বা বিভ্রান্তিকর দৃশ্য বারবার দেখানো থেকে বিরত থাকতে হবে।

    সংবাদ পরিবেশনের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত দর্শকদের নির্ভরযোগ্য তথ্য দেওয়া। উত্তেজনা তৈরি করা বা দর্শক টানার জন্য ঘটনার সংবেদনশীল দিকগুলিকে অতিরঞ্জিত করা কোনওভাবেই কাম্য নয়—নির্দেশিকার মূল বক্তব্য এমনটাই।

    সাম্প্রদায়িক ও দেশবিরোধী মনোভাব ছড়ায়, এমন বিতর্কে নিষেধাজ্ঞার বার্তা

    টেলিভিশনের বিতর্কমূলক অনুষ্ঠান নিয়েও কড়া অবস্থান নিয়েছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, এমন কোনও আলোচনা, বিতর্ক বা প্যানেল শো সম্প্রচার করা যাবে না, যা সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ কিংবা দেশবিরোধী মনোভাবকে উৎসাহিত করে।

    বর্তমানে বিভিন্ন সংবাদচ্যানেলে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিষয় নিয়ে সরাসরি বিতর্কের চল রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়, ব্যক্তিগত আক্রমণ এবং উস্কানিমূলক মন্তব্য আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে। এর ফলে প্রকৃত বিষয়টি আড়ালে চলে যাওয়ার পাশাপাশি সামাজিক বিভাজনও বাড়তে পারে।

    এই পরিস্থিতিতে আলোচনার বিষয়বস্তু, অতিথিদের বক্তব্য এবং সঞ্চালকের ভূমিকার উপর সম্পাদকীয় নজরদারি বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা মনে করিয়ে দিয়েছে মন্ত্রক। তবে নির্দেশিকার এই অংশের মূল লক্ষ্য কেবল বিতর্কের তীব্রতা নিয়ন্ত্রণ করা নয়, বরং সম্প্রচারের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক বা দেশবিরোধী মনোভাব ছড়িয়ে পড়া আটকানো।

    এআই দিয়ে সংবাদ পরিবেশনেও লাগাম

    টেলিভিশন সংবাদে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়তে থাকায় এই প্রযুক্তি নিয়েও সতর্ক করেছে কেন্দ্র। এআই-নির্ভর গ্রাফিক্স, ভার্চুয়াল সংবাদ উপস্থাপক এবং অন্যান্য কৃত্রিমভাবে তৈরি দৃশ্য ব্যবহারের ক্ষেত্রে সংবাদমাধ্যমগুলিকে নির্দিষ্ট নীতি মেনে চলতে বলা হয়েছে।

    মন্ত্রকের নির্দেশ, সংবাদ তৈরির ক্ষেত্রে এআই-কে সহায়ক প্রযুক্তি হিসেবেই ব্যবহার করতে হবে। এই প্রযুক্তির প্রয়োগ যেন খবরের নির্ভুলতা, সত্যতা এবং সংবেদনশীলতা নষ্ট না করে, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সম্প্রচারকারী সংস্থার।

    বিশেষ করে, কৃত্রিমভাবে তৈরি কোনও ছবি বা দৃশ্য যদি বাস্তব ঘটনার ছবি হিসেবে দর্শকদের সামনে তুলে ধরা হয়, তাহলে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। সংবেদনশীল ঘটনা, অপরাধ কিংবা সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার সঙ্গে সম্পর্কিত খবরের ক্ষেত্রে এ ধরনের ভুল আরও গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই এআই-নির্ভর উপাদান ব্যবহারের আগে তার যথার্থতা যাচাই এবং সম্পাদকীয় পর্যালোচনার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।

    ভারতের মানচিত্র থেকে যৌন নির্যাতনের শিকারদের পরিচয়—একাধিক বিষয়ে নির্দেশ

    নতুন নির্দেশিকায় আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। ভারতের মানচিত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য ও প্রামাণ্য মানচিত্র ব্যবহার করতে হবে। মানচিত্রের ভুল উপস্থাপনা যাতে বিভ্রান্তি তৈরি না করে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে সম্প্রচারকারী সংস্থাগুলিকে।

    যৌন নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের পরিচয় গোপন রাখার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সংবাদ পরিবেশনের সময় তাঁদের পরিচয় প্রকাশ পেতে পারে, এমন কোনও তথ্য বা দৃশ্য সম্প্রচার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

    এ ছাড়া সাম্প্রদায়িকভাবে সংবেদনশীল ঘটনা নিয়ে প্রতিবেদন তৈরির সময় তথ্য যাচাই, ভাষার ব্যবহার এবং দৃশ্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অপরাধ ও হিংসার খবরের ক্ষেত্রেও সংযত এবং দায়িত্বশীল উপস্থাপনার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।

    সম্প্রচারবিধি মানার ক্ষেত্রে আইডিসি-র পর্যবেক্ষণ

    মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, ইন্টার-ডিপার্টমেন্টাল কমিটি বা আন্তঃবিভাগীয় কমিটি (IDC) সম্প্রচার সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করে দেখেছে। কমিটির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, একাধিক টেলিভিশন চ্যানেলে একই বিষয় নিয়ে প্রায় একই ধরনের খবর এবং দৃশ্য সম্প্রচার করা হচ্ছিল।

    এই পরিস্থিতিতে আইন ও সম্প্রচারবিধি মেনে চলার ক্ষেত্রে আরও কঠোর হওয়ার সুপারিশ করেছে কমিটি। পাশাপাশি, টেলিভিশনের পর্দায় অনুপযুক্ত আচরণ এবং আপত্তিকর ভাষার ব্যবহার যেন ক্রমশ স্বাভাবিক বিষয় হয়ে না ওঠে, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    অর্থাৎ, কেবল খবরের বিষয়বস্তু নয়, সংবাদ পরিবেশনের ভাষা, উপস্থাপনার ধরন এবং সম্পাদকীয় সিদ্ধান্তের মানও এই নির্দেশিকার আওতায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    সম্পাদকীয় নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ, নিয়ম ভাঙলে আইনি পদক্ষেপ

    নির্দেশিকা কার্যকর করতে সংবাদমাধ্যমগুলির অভ্যন্তরীণ সম্পাদকীয় ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার কথা বলেছে মন্ত্রক। সংবাদ সংগ্রহ, সম্পাদনা, প্রযোজনা, সম্প্রচার এবং টেলিকাস্টের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা বৃদ্ধির উপরেও জোর দেওয়া হয়েছে।

    এর অর্থ, সম্প্রচারের আগে কোনও খবরের তথ্য, ভাষা, ছবি বা ভিডিও যথাযথভাবে যাচাই করা হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের। বিশেষত, সন্ত্রাসবাদবিরোধী অভিযান, হিংসাত্মক ঘটনা, সাম্প্রদায়িক সংঘাত এবং এআই-নির্ভর সংবাদ উপাদানের ক্ষেত্রে এই নজরদারি গুরুত্বপূর্ণ।

    মন্ত্রক সতর্ক করে জানিয়েছে, নির্দেশিকা লঙ্ঘন করলে কেবল সতর্কবার্তাতেই বিষয়টি সীমাবদ্ধ থাকবে না। প্রয়োজনে কেবল টেলিভিশন নেটওয়ার্কস (রেগুলেশন) অ্যাক্ট, ১৯৯৫-এর অধীনে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

    সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও দায়িত্বশীলতার প্রশ্ন

    কেন্দ্রের এই নির্দেশিকা সংবাদমাধ্যমের দায়িত্বশীলতা নিয়ে নতুন করে আলোচনার অবকাশ তৈরি করেছে। একদিকে, সন্ত্রাসবাদবিরোধী অভিযানের সময় সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ না করা এবং হিংসাত্মক ঘটনার ক্ষেত্রে সংযম বজায় রাখা জননিরাপত্তার স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে, সাম্প্রদায়িক বা দেশবিরোধী মনোভাবের সংজ্ঞা প্রয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা এবং নিরপেক্ষতার প্রশ্নও তাৎপর্যপূর্ণ।

    এআই-নির্ভর সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রেও তথ্যের সত্যতা যাচাই এবং দর্শকদের বিভ্রান্ত না করার বিষয়টি অত্যন্ত জরুরি। প্রযুক্তির ব্যবহার যত বাড়বে, সংবাদমাধ্যমের সম্পাদকীয় দায়বদ্ধতাও তত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

    সব মিলিয়ে, কেন্দ্রের নতুন নির্দেশিকার মূল লক্ষ্য হল টেলিভিশন সংবাদ পরিবেশনে আইন মেনে চলা, সংবেদনশীল বিষয়ে সংযম বজায় রাখা এবং এআই-সহ আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারকে দায়িত্বশীল কাঠামোর মধ্যে রাখা। তবে এই নির্দেশিকা বাস্তবে কীভাবে কার্যকর হয় এবং নিয়ম লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কী ধরনের পদক্ষেপ করা হয়, তার উপরেই এর প্রভাব অনেকাংশে নির্ভর করবে।

  • CJP Leaders Peace Bond: আইন অমান্যের অভিযোগে আদালতের কড়া অবস্থান! কঠোর কঠোর শর্তসাপেক্ষে মুক্তি সিজেপির দুই নেতার

    CJP Leaders Peace Bond: আইন অমান্যের অভিযোগে আদালতের কড়া অবস্থান! কঠোর কঠোর শর্তসাপেক্ষে মুক্তি সিজেপির দুই নেতার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বারবার আইন অমান্য, নিষিদ্ধ ঘোষিত স্থানে বিক্ষোভের ডাক এবং শান্তিশৃঙ্খলা ভঙ্গের আশঙ্কা—এই সমস্ত অভিযোগকে কেন্দ্র করে কড়া অবস্থান নিল দিল্লির আদালত। ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে বিচারবিভাগীয় হেফাজত থেকে মুক্তি দেওয়া হলেও, তার জন্য আদালতে লিখিত মুচলেকা দিতে হয়েছে তাঁদের। ভবিষ্যতে জনশান্তি বিঘ্নিত করবেন না, আইন মেনে চলবেন এবং আইন অনুযায়ী নিষিদ্ধ ঘোষিত থাকা পর্যন্ত যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক দেবেন না—এই মর্মে অঙ্গীকার করেছেন দুই নেতা। তাঁদের মুক্তির সিদ্ধান্তে শর্ত আরোপের মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার প্রশ্নে কোনও রকম ঝুঁকি নিতে নারাজ আদালত।

    যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ ঘিরে বিতর্ক, সাত দিন হেফাজতে থাকার পর মুক্তি

    গত ১৩ অক্টোবর যন্তর মন্তরে অনুমতি ছাড়া প্রবেশের অভিযোগে সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে আটক করা হয়েছিল। অভিযোগ, এর আগেও শান্তি বজায় রাখার মুচলেকা দেওয়ার পরেও তাঁরা ফের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ওই এলাকায় প্রবেশ করেছিলেন। সেই ঘটনার পর তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করা হয় এবং সাত দিন বিচারবিভাগীয় হেফাজতে থাকতে হয়।

    বুধবার, ২১ অক্টোবর, দিল্লির স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (SEM) আদালতে মুক্তির আবেদন নিয়ে শুনানি হয়। সেখানে দুই নেতা পৃথক লিখিত মুচলেকা জমা দেন। ভবিষ্যতে শান্তিভঙ্গ করবেন না এবং আদালতের প্রতি আস্থা বজায় রাখবেন বলে তাঁরা জানান। এরপরই তাঁদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ড এবং সমপরিমাণ জামিনদারের বন্ডে মুক্তির নির্দেশ দেন স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ঋতু রাজ, যিনি দিল্লি পুলিশের অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার পদেও রয়েছেন।

    লিখিত অঙ্গীকারে কী জানালেন সিজেপির দুই নেতা?

    আদালতে জমা দেওয়া পৃথক মুচলেকায় দুই নেতা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

    • ● শান্তি বজায় রাখার অঙ্গীকার: তাঁরা কোনও ধরনের শান্তিভঙ্গ করবেন না বলে জানিয়েছেন।

    • ● যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক নয়: আইন অনুযায়ী যন্তর মন্তর নিষিদ্ধ ঘোষিত থাকা পর্যন্ত সেখানে বিক্ষোভের ডাক দেবেন না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

    • ● সংবিধানের কাঠামো মেনে আন্দোলন: ভবিষ্যতে কোনও প্রতিবাদ বা বিক্ষোভ হলে তা সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন।

    • ● বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা: তাঁরা জানিয়েছেন, বিচারব্যবস্থা এবং তার সমস্ত অঙ্গ, এমনকী স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের প্রতিও তাঁদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে।

    এই অঙ্গীকারগুলির ভিত্তিতেই আদালত মনে করেছে, আপাতত তাঁদের আরও কিছু দিন হেফাজতে রাখার প্রয়োজন নেই। তবে মুক্তি মানেই যে তাঁদের বিরুদ্ধে চলা আইনি প্রক্রিয়া শেষ হয়ে গেল, তা নয়।

    আদালতের মর্যাদা নিয়ে প্রশ্ন, নিঃশর্ত ক্ষমা চাইলেন আইনজীবী

    শুনানির সময় দিল্লি পুলিশের আইনজীবী ১৯ অক্টোবর সংবাদমাধ্যমে দেওয়া দুই নেতার কিছু বক্তব্যের প্রসঙ্গ তোলেন। পুলিশের অভিযোগ ছিল, ওই বক্তব্যগুলি স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করেছে।

    এর পরিপ্রেক্ষিতে দুই নেতার হয়ে উপস্থিত আইনজীবী মৌখিকভাবে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের আচরণের পুনরাবৃত্তি হবে না বলেও আদালতকে আশ্বাস দেওয়া হয়।

    উল্লেখ্য, ১৯ অক্টোবরের নির্দেশে ম্যাজিস্ট্রেট দুই নেতার আচরণ নিয়ে গুরুতর আপত্তি জানিয়েছিলেন। তাঁর পর্যবেক্ষণ ছিল, তাঁদের কাজকর্মে আইনের প্রতি কোনও সম্মান দেখা যাচ্ছে না। নিষিদ্ধ ঘোষিত স্থানে বারবার বিক্ষোভের ডাক দেওয়ার বিষয়টিও আদালতের উদ্বেগ বাড়িয়েছিল।

    এই প্রেক্ষাপটে বুধবারের শুনানি তাৎপর্যপূর্ণ। একদিকে আদালত মুক্তির ক্ষেত্রে লিখিত অঙ্গীকারকে গুরুত্ব দিয়েছে, অন্যদিকে আইন অমান্য এবং শান্তিশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার অভিযোগকে উপেক্ষা করেনি।

    আরও তিন দিন হেফাজতে রাখার আর্জি খারিজ

    সিজেপির দুই নেতাকে আরও তিন দিন হেফাজতে রাখার আবেদন জানিয়েছিল দিল্লি পুলিশ। কিন্তু স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সেই আবেদন মঞ্জুর করেননি।

    ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (BNSS)-র ১৩৫(৩) ধারায় বিবেচিত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার উদ্দেশ্য নতুন করে দেওয়া শান্তির মুচলেকা এবং লিখিত অঙ্গীকারের মাধ্যমে পূরণ করা সম্ভব বলে মনে করেছে আদালত। সেই কারণে এই পর্যায়ে তাঁদের বিচারবিভাগীয় হেফাজত অব্যাহত রাখার প্রয়োজন নেই বলে নির্দেশ দেওয়া হয়।

    এখানে আদালতের অবস্থানটি গুরুত্বপূর্ণ। মুক্তির সিদ্ধান্তকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি হিসেবে দেখা যাবে না। বরং আদালত মনে করেছে, আপাতত শান্তি বজায় রাখার নিশ্চয়তা আদায়ের জন্য বন্ড ও লিখিত অঙ্গীকার যথেষ্ট হতে পারে। ভবিষ্যতে সেই অঙ্গীকার ভঙ্গ হলে পরিস্থিতি অনুযায়ী পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের প্রশ্ন উঠতে পারে।

    দিল্লি হাইকোর্টেও প্রশ্নের মুখে দুই নেতা

    এর আগে বুধবারই দিল্লি হাইকোর্টে বিচারপতি সুব্রামনিয়ম প্রসাদ দুই নেতার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। আগের শান্তির মুচলেকা ভঙ্গের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কেন তাঁরা ফের একই ধরনের পদক্ষেপ করলেন এবং প্রচলিত আইনি প্রতিকারের পথ অনুসরণ না করে সরাসরি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন করেন বিচারপতি।

    এর পরেই সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা তাঁদের আবেদন প্রত্যাহার করে নেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, হাইকোর্ট থেকে আবেদন প্রত্যাহারের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে লিখিত অঙ্গীকার জমা দিয়ে তাঁরা মুক্তি পান।

    এই ঘটনাপ্রবাহ থেকে স্পষ্ট, যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের অনুমতি এবং পূর্ববর্তী মুচলেকা মেনে চলার বিষয়টি দুই নেতার আইনি লড়াইয়ের কেন্দ্রে রয়েছে। তবে হাইকোর্টে আবেদন প্রত্যাহার করাকে আদালতের কোনও চূড়ান্ত রায় বা তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিষ্পত্তি হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।

    ২৩ অক্টোবর ফের শুনানি, জামিনদারদের যাচাই করবে পুলিশ

    মুক্তি পেলেও সিজেপির দুই নেতার বিরুদ্ধে চলা প্রক্রিয়া এখনও শেষ হয়নি। স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে। আগামী ২৩ অক্টোবর ফের শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।

    দুই নেতার জামিনদারদের পরিচয় ও নথিপত্র যাচাই করে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে দিল্লি পুলিশকে। ফলে তাঁদের মুক্তির পরবর্তী আইনি পরিস্থিতিও নজরে থাকবে।

    সব মিলিয়ে, এই ঘটনায় আদালতের বার্তা স্পষ্ট—প্রতিবাদ বা রাজনৈতিক কর্মসূচির অধিকার থাকলেও তা আইন ও জনশৃঙ্খলার সীমার মধ্যে থাকতে হবে। পূর্ববর্তী মুচলেকা, নিষিদ্ধ ঘোষিত স্থানে প্রবেশের অভিযোগ এবং আদালতের মর্যাদা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের প্রেক্ষিতে সিজেপির দুই নেতাকে কঠোর শর্তে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত সেই আইনি অবস্থানকেই সামনে এনেছে। এখন দেখার, আগামী শুনানিতে পুলিশ কী রিপোর্ট জমা দেয় এবং দুই নেতা তাঁদের দেওয়া অঙ্গীকার কতটা মেনে চলেন।

  • Bharatiya Jan Sangh Foundation Day: শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্বপ্ন থেকে মোদির ভারত— জনসংঘের ৭৫ বছরের রাজনৈতিক যাত্রা

    Bharatiya Jan Sangh Foundation Day: শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্বপ্ন থেকে মোদির ভারত— জনসংঘের ৭৫ বছরের রাজনৈতিক যাত্রা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: স্বাধীনতার পরবর্তী ভারতের রাজনীতিতে কংগ্রেসের আধিপত্যের মধ্যেই একটি বিকল্প জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছিলেন ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। ১৯৫১ সালের ২১ অক্টোবর দিল্লিতে তাঁর হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত হয় ভারতীয় জনসংঘ। সেই সংগঠন পরবর্তী সময়ে জনতা পার্টির সঙ্গে মিশে যায় এবং ১৯৮০ সালে আত্মপ্রকাশ করে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। আজ নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে বিজেপি দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক শক্তি। জনসংঘের প্রতিষ্ঠাকালীন ‘নেশন ফার্স্ট’ বা ‘রাষ্ট্র আগে’ ভাবনা কীভাবে সময়ের সঙ্গে বদলে গিয়ে বর্তমান বিজেপির রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংগঠনিক কাঠামোর ভিত্তি তৈরি করেছে, সেই ইতিহাস তাৎপর্যপূর্ণ।

    শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও জনসংঘের প্রতিষ্ঠা

    ১৯৫০ সালে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে লিয়াকত-নেহরু চুক্তির বিরোধিতা করে কেন্দ্রীয় শিল্প ও সরবরাহমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। তাঁর লক্ষ্য ছিল, দেশের সাংস্কৃতিক পরিচয়, জাতীয় ঐক্য এবং ভারতীয় মূল্যবোধের ভিত্তিতে একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক বিকল্প তৈরি করা।

    রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (আরএসএস) সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও বৌদ্ধিক ব্যক্তিত্বের সহযোগিতায়, বিশেষত দীনদয়াল উপাধ্যায়ের মতো নেতাদের সঙ্গে নিয়ে, ১৯৫১ সালের ২১ অক্টোবর প্রতিষ্ঠা করেন ভারতীয় জনসংঘ। জম্মু-কাশ্মীরের পূর্ণ একীকরণের দাবিও সংগঠনটির রাজনৈতিক দর্শনের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হয়ে ওঠে। শ্যামাপ্রসাদের বক্তব্য ছিল, একটি দেশে দুটি সংবিধান, দুটি প্রধান এবং দুটি পতাকা থাকতে পারে না।

    ১৯৫৩ সালে কাশ্মীরে তাঁর মৃত্যুকে জনসংঘের রাজনৈতিক আন্দোলনে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে দেখা হয়। জাতীয় সংহতি, ভূখণ্ডের অখণ্ডতা এবং কাশ্মীরের সাংবিধানিক অবস্থান নিয়ে তাঁর অবস্থান পরবর্তী কয়েক দশক ধরে বিজেপির রাজনৈতিক কর্মসূচিতে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে থাকে।

    জনসংঘ থেকে বিজেপি: রাজনৈতিক বিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ

    ১৯৫১–১৯৬৭: জনসংঘের উত্থান

    প্রথম সাধারণ নির্বাচনে তিনটি আসন পায় জনসংঘ। পরে দীনদয়াল উপাধ্যায় ‘একাত্ম মানবদর্শন’-এর ধারণাকে দলের আদর্শগত ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরেন। ১৯৬৭ সালে একাধিক রাজ্যে কংগ্রেসবিরোধী জোট সরকারেও অংশ নেয় জনসংঘ।

    ১৯৭৫–১৯৭৭: জরুরি অবস্থার বিরুদ্ধে আন্দোলন

    ইন্দিরা গান্ধীর ঘোষিত জরুরি অবস্থার বিরোধিতায় জনসংঘ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। ১৯৭৭ সালে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে বৃহত্তর ঐক্য গড়তে জনতা পার্টিতে মিশে যায় জনসংঘ। অটলবিহারী বাজপেয়ী ও লালকৃষ্ণ আডবাণীর মতো নেতারা পরবর্তী সময়ে কেন্দ্রীয় সরকারে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পান।

    ১৯৮০–১৯৯৬: বিজেপির আত্মপ্রকাশ ও বিস্তার

    জনতা পার্টির অভ্যন্তরীণ মতবিরোধের পর প্রাক্তন জনসংঘ নেতারা ১৯৮০ সালে বিজেপি গঠন করেন। প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হন অটলবিহারী বাজপেয়ী। ১৯৮৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে মাত্র দুটি আসন পেলেও, আডবাণীর নেতৃত্বে রাম জন্মভূমি আন্দোলন ও সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদের প্রসারের সঙ্গে দলের রাজনৈতিক উত্থান ঘটে। ১৯৯৬ সালে বিজেপি লোকসভার বৃহত্তম একক দল হয়ে ওঠে।

    ১৯৯৮–২০০৪: এনডিএ সরকারের অধ্যায়

    বাজপেয়ীর নেতৃত্বে জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট (এনডিএ) সরকার দেখায়, কংগ্রেসের বাইরে থাকা একটি জোটও পূর্ণ পাঁচ বছরের মেয়াদ সম্পন্ন করতে পারে। পারমাণবিক সক্ষমতা, অর্থনৈতিক সংস্কার ও পরিকাঠামো উন্নয়ন এই সময়ের উল্লেখযোগ্য বিষয়।

    ২০১৪ থেকে বর্তমান: সংখ্যাগরিষ্ঠতা ও আদর্শগত কর্মসূচি

    নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ২০১৪ ও ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় বিজেপি। ২০১৯ সালে ৩৭০ অনুচ্ছেদ বিলোপ এবং ২০২৪ সালে রামমন্দিরের উদ্বোধন দলের দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হিসেবে তুলে ধরা হয়।

    অর্থনৈতিক দর্শন: স্বদেশি থেকে আত্মনির্ভর ভারত

    জনসংঘের অর্থনৈতিক দর্শন গড়ে উঠেছিল নেহরুর রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত পরিকল্পনা ও বৃহৎ সরকারি শিল্পকেন্দ্রিক মডেলের বিকল্প হিসেবে। ছোট ব্যবসা, কৃষি, গ্রামীণ শিল্প এবং স্থানীয় উৎপাদনের উপর জোর দিয়েছিল দলটি। অতিরিক্ত সরকারি নিয়ন্ত্রণ, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং বিদেশি সাহায্যের উপর নির্ভরতার বিরোধিতা করে স্বদেশি অর্থনীতির পক্ষে সওয়াল করা হয়েছিল।

    দীনদয়াল উপাধ্যায়ের ‘একাত্ম মানবদর্শন’-এর পাশাপাশি ‘অন্ত্যোদয়’—সমাজের প্রান্তিকতম মানুষের উন্নয়ন—এই রাজনৈতিক দর্শনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধারণা হয়ে ওঠে।

    তবে বর্তমান বিজেপির অর্থনৈতিক নীতি আগের জনসংঘের মডেলের হুবহু প্রতিরূপ নয়। বিশ্বায়ন, প্রযুক্তি ও বেসরকারি বিনিয়োগের বাস্তবতা মেনে নিয়ে সরকার একদিকে বাজারনির্ভর বৃদ্ধির উপর জোর দিয়েছে, অন্যদিকে মহাসড়ক, রেল, বন্দর এবং ডিজিটাল পরিকাঠামোয় সরকারি মূলধনী ব্যয় বাড়িয়েছে।

    এই পরিবর্তনের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য দিক হল:

    • ● আত্মনির্ভর ভারত: দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সরবরাহ-শৃঙ্খলে ভারতের অবস্থান শক্তিশালী করার লক্ষ্য।

    • ● প্রোডাকশন লিঙ্কড ইনসেনটিভ (PLI): নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে উৎপাদন ও বিনিয়োগ বাড়াতে আর্থিক প্রণোদনা।

    • ● ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার: আধার, ইউপিআই এবং ডিজিলকারের মতো ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিষেবা প্রদান ও আর্থিক লেনদেনের ডিজিটাল সম্প্রসারণ।

    • ● কর ও ব্যবসায়িক সংস্কার: জিএসটি, করব্যবস্থার পরিবর্তন এবং বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ।

    • ● অন্ত্যোদয় থেকে কল্যাণমূলক পরিষেবা: আবাসন, শৌচাগার, রান্নার গ্যাস, বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্যবিমা ও কৃষি সহায়তার মতো প্রকল্পের মাধ্যমে সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার উপর জোর।

    অর্থাৎ, জনসংঘের স্বদেশি ভাবনা বর্তমান বিজেপির কাছে কেবল আমদানি কমানো বা দেশীয় পণ্য ব্যবহারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বরং দেশীয় উৎপাদন, প্রযুক্তি, পরিকাঠামো এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বৃদ্ধির সঙ্গে তা যুক্ত হয়েছে।

    ‘লাভার্থী’ রাজনীতি ও বিজেপির সাংগঠনিক শক্তি

    ভারতের নির্বাচনী রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে জাতপাতভিত্তিক সমীকরণ, নির্দিষ্ট সামাজিক গোষ্ঠীর সমর্থন এবং আঞ্চলিক জোট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বিজেপি সেই পরিচিত সমীকরণের পাশাপাশি সরকারি প্রকল্পের সুবিধাপ্রাপকদের একটি বৃহত্তর ভোটার গোষ্ঠী হিসেবে সংগঠিত করার চেষ্টা করেছে। এই গোষ্ঠীকে রাজনৈতিক পরিভাষায় ‘লাভার্থী’ বলা হয়।

    প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, উজ্জ্বলা যোজনা, স্বচ্ছ ভারত অভিযান এবং পিএম-কিষান প্রকল্পের মতো কর্মসূচির সুবিধাপ্রাপকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে দলটি সামাজিক ভিত্তি বিস্তারের চেষ্টা করেছে। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি অর্থ পাঠানো বা ডিরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার (DBT), আধারভিত্তিক পরিষেবা এবং ডিজিটাল যোগাযোগ এই ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

    এর পাশাপাশি বুথস্তরে ‘পন্না প্রমুখ’ ব্যবস্থা—ভোটার তালিকার নির্দিষ্ট পৃষ্ঠার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মী—এবং ধারাবাহিক প্রচার বিজেপির সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে সাহায্য করেছে। নির্বাচনের সময়সীমার বাইরে গিয়েও ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখার এই কৌশল দলটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

    সরকারি প্রকল্পের সুবিধা সরাসরি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উপর জোর দিয়ে বিজেপি প্রশাসনিক পরিষেবা প্রদানকে রাজনৈতিক বার্তার অংশ করে তুলেছে। তবে প্রকল্পের বাস্তবায়ন, সুবিধার প্রকৃত বণ্টন এবং তার নির্বাচনী প্রভাবের মূল্যায়ন করতে হলে সরকারি তথ্য ও স্বাধীন পর্যালোচনাও গুরুত্বপূর্ণ।

    ৩৭০ অনুচ্ছেদ থেকে রামমন্দির: আদর্শগত প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন

    দীর্ঘদিন ধরে বিজেপির একাধিক আদর্শগত প্রতিশ্রুতি বিরোধীদের কাছে রাজনৈতিক স্লোগান হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার সরকার গঠনের পর দলটি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করে।

    • ● ৩৭০ অনুচ্ছেদ বিলোপ, ২০১৯: জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ সাংবিধানিক মর্যাদা প্রত্যাহার করা হয় এবং রাজ্যটিকে জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ—এই দুই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পুনর্গঠন করা হয়। বিজেপি একে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের পূর্ণ একীকরণের দাবির বাস্তবায়ন হিসেবে তুলে ধরে।

    • ● রামমন্দির, ২০২৪: অযোধ্যায় রামমন্দিরের উদ্বোধন দীর্ঘদিনের রাম জন্মভূমি আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিণতি। সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদের প্রশ্নে এটি বিজেপির রাজনৈতিক বক্তব্যে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

    • ● নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA): পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান থেকে আসা নির্দিষ্ট ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের, আইন নির্ধারিত শর্তপূরণকারী ব্যক্তিদের নাগরিকত্ব পাওয়ার পথ সহজ করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আইনটি নিয়ে রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক বিতর্কও রয়েছে।

    • ● পরিকাঠামো ও জাতীয় নিরাপত্তা: মহাসড়ক, বিমানবন্দর, রেল যোগাযোগ এবং ডিজিটাল পরিকাঠামোর উন্নয়নকে প্রশাসনিক কাজের পাশাপাশি নির্বাচনী প্রচারের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

    • ● বিদেশনীতি ও আন্তর্জাতিক অবস্থান: জি২০ সভাপতিত্ব, আন্তর্জাতিক কূটনীতি এবং জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে সরকারের পদক্ষেপকে ভারতের বিশ্বমঞ্চে প্রভাব বৃদ্ধির উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে বিজেপি।

    এই কর্মসূচিগুলি দলের মূল সমর্থকদের কাছে আদর্শগত ধারাবাহিকতার প্রতীক। অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলি এর বিভিন্ন দিক নিয়ে সাংবিধানিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রশ্ন তুলেছে। ফলে এই পদক্ষেপগুলির তাৎপর্য বুঝতে হলে রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও তার বাস্তব প্রভাব—দুই দিকই বিচার করা প্রয়োজন।

    বিজেপির সামনে পরবর্তী চ্যালেঞ্জ কী?

    উত্তর-পূর্ব ভারতের মতো অঞ্চলে সংগঠন বিস্তার, অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি (ওবিসি) এবং দলিত ভোটারদের মধ্যে সমর্থন বৃদ্ধির চেষ্টা বিজেপিকে জাতীয় স্তরে আরও বিস্তৃত রাজনৈতিক ভিত্তি গড়তে সাহায্য করেছে। একই সঙ্গে বিজেপির রাজনৈতিক প্রভাব মোকাবিলায় বিরোধী দলগুলিও বৃহত্তর জোট গঠনের পথে হেঁটেছে। ‘ইন্ডিয়া’ (I.N.D.I.A.) জোট তার অন্যতম উদাহরণ।

    তবে রাজনৈতিক সাফল্যকে দীর্ঘমেয়াদি শাসনগত সাফল্যে পরিণত করার জন্য কর্মসংস্থান, কৃষকের আয়, মূল্যবৃদ্ধি, বৈষম্য, ক্ষুদ্র ব্যবসার সমস্যা এবং সরকারি পরিষেবার গুণমানের মতো বিষয়গুলিও গুরুত্বপূর্ণ থাকবে। কল্যাণমূলক প্রকল্পের পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি তার কার্যকারিতা ও আর্থিক স্থায়িত্ব নিশ্চিত করাও বড় চ্যালেঞ্জ।

    শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্ম ১৯০১ সালের ৬ জুলাই। ২০২৬ সালে তাঁর ১২৫তম জন্মবার্ষিকী এবং জনসংঘের প্রতিষ্ঠার ৭৫ বছর পূর্তির প্রেক্ষাপট এই রাজনৈতিক যাত্রাকে নতুন করে পর্যালোচনার সুযোগ করে দিয়েছে।

    সব মিলিয়ে, জনসংঘ থেকে বিজেপির যাত্রা কেবল একটি রাজনৈতিক দলের উত্থানের ইতিহাস নয়। এটি জাতীয়তাবাদী আদর্শ, অর্থনৈতিক চিন্তা, সাংগঠনিক কৌশল এবং কল্যাণমূলক শাসনের পরিবর্তিত রূপেরও ইতিহাস। ১৯৫১ সালে যে ‘নেশন ফার্স্ট’ ভাবনাকে সামনে রেখে যাত্রা শুরু হয়েছিল, আজকের বিজেপির কাছে তার পরবর্তী পরীক্ষা হল—জাতীয় উন্নয়নের লক্ষ্যকে কর্মসংস্থান, সমৃদ্ধি, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি এবং নাগরিক পরিষেবার বাস্তব ফলাফলে কতটা রূপান্তরিত করা যায়।

  • PM Modi Speech: জাতীয় সম্মান, সামাজিক ঐক্য ও ভারতীয় সংস্কৃতি— বিজয়া দশমীতে ‘নেশন ফার্স্ট’ ডাক মোদির

    PM Modi Speech: জাতীয় সম্মান, সামাজিক ঐক্য ও ভারতীয় সংস্কৃতি— বিজয়া দশমীতে ‘নেশন ফার্স্ট’ ডাক মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিজয়া দশমীর অনুষ্ঠানে দেশবাসীর উদ্দেশে ‘নেশন ফার্স্ট’ বা ‘সবার আগে দেশ’ শপথ নেওয়ার আহ্বান জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দেশের সম্মান ক্ষুণ্ণ করে, সমাজে বিভাজন তৈরি করে এবং ভারতীয় সংস্কৃতির প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে, এমন শক্তিগুলিকে সম্মিলিতভাবে চিহ্নিত করে পরাস্ত করার ডাক দিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার রাজধানীতে বিজয়া দশমী উদযাপনে অংশ নিয়ে মোদি বলেন, সত্য ও মানবতার পাশে দাঁড়ালে শেষ পর্যন্ত জয় হয় সত্যেরই।

    প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে এসেছে ভগবান রামের আদর্শ, সত্য ও ন্যায়ের প্রতি অবিচল থাকা এবং অন্যায়, অত্যাচার ও সন্ত্রাসের অবসানের বার্তা। তাঁর মতে, রামের আদর্শকে বাঁচিয়ে রাখা এবং চিরন্তন সত্যের মিথ্যার বিরুদ্ধে জয়ের বিশ্বাস শুধু উৎসবের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা ভারতের প্রাণশক্তির অংশ।

    ‘নেশন ফার্স্ট’ শপথ, দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার বার্তা

    বিজয়া দশমীর মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেক নাগরিকের উচিত ‘নেশন ফার্স্ট’ শপথ গ্রহণ করা। দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে এমন শক্তিগুলিকে চিহ্নিত করতে হবে, যারা জাতীয় সম্মানের ক্ষতি করতে চায়, সমাজকে বিভক্ত করে এবং ভারতীয় সংস্কৃতির প্রতি ঘৃণা ছড়ায়।

    মোদি বলেন, “সত্য ও মানবতার পাশে যখন আমরা দাঁড়াই, তখন শেষ পর্যন্ত জয় আমাদেরই হয়।” তাঁর এই বক্তব্যে জাতীয় ঐক্য, সাংস্কৃতিক পরিচয় এবং দেশের অগ্রগতির প্রশ্নকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রীর বার্তার মূল সুর, দেশের উন্নয়ন ও সামাজিক সংহতি বজায় রাখতে নাগরিকদের সম্মিলিত ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় স্বার্থকে ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে রাখার আহ্বানও তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট।

    ভগবান রামের আদর্শে সত্য, ন্যায় ও সহনশীলতার শিক্ষা

    বিজয়া দশমীর তাৎপর্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ভগবান রামের জীবনের নানা প্রতিকূলতার কথা স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, রাজ্যাভিষেকের পরিস্থিতি হোক বা বনবাসের কঠিন সময়—রামচন্দ্র সত্য ও নৈতিকতার পথ থেকে কখনও সরে যাননি।

    সংস্কৃত শ্লোক উদ্ধৃত করে মোদি বোঝানোর চেষ্টা করেন, অনুকূল ও প্রতিকূল—উভয় পরিস্থিতিতেই নিজের কর্তব্য ও আদর্শে অবিচল থাকার শিক্ষা দিয়েছেন ভগবান রাম। তাঁর মতে, সংকটের মধ্যেও ন্যায় ও সত্যের পথ অনুসরণ করাই রামের জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ভগবান রাম দয়া, করুণা, ভালোবাসা ও সম্প্রীতির দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন।”

    এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বিজয়া দশমীর সাংস্কৃতিক ও নৈতিক তাৎপর্য তুলে ধরেন তিনি। অন্যায় ও অত্যাচারের অবসান, সত্যের প্রতিষ্ঠা এবং সমাজে সম্প্রীতি বজায় রাখার বার্তাকেই উৎসবের মূল শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

    ‘অত্যাচার ও সন্ত্রাসের অবসান’, উৎসবের তাৎপর্য ব্যাখ্যা মোদির

    মোদি বলেন, ভগবান রামের আদর্শকে জীবন্ত রাখা, অত্যাচার ও সন্ত্রাসের অবসানের ঘোষণা এবং মিথ্যার বিরুদ্ধে চিরন্তন সত্যের জয়ের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস—এই বিষয়গুলি ভারতের কাছে শুধুমাত্র উৎসবের উপলক্ষ নয়, বরং দেশের প্রাণশক্তি।

    প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে বিজয়া দশমীকে কেবল ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক উদযাপনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়নি। বরং সত্য, ন্যায়, নৈতিকতা ও সামাজিক ঐক্যের মতো মূল্যবোধের সঙ্গে দেশের সামগ্রিক অগ্রগতির সম্পর্ক তুলে ধরা হয়েছে।

    ভারতীয় ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি সমাজের মধ্যে ইতিবাচক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে।

    ‘সমুদ্র সামনে, লঙ্কা দূরে’, বাধা পেরিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছনোর বার্তা

    ভগবান রামের জীবন থেকে সাফল্যের সূত্র ব্যাখ্যা করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পথে বাধা এলেই যাত্রা থেমে যেতে পারে না। তাঁর কথায়, “সামনে সমুদ্র ছিল, লঙ্কা ছিল অনেক দূরে, কিন্তু সংকল্প ছিল অটুট।”

    রামের লঙ্কা অভিযানের প্রসঙ্গ টেনে মোদি বোঝান, কঠিন পরিস্থিতিতে লক্ষ্য স্থির রাখা এবং সম্মিলিত শক্তিকে কাজে লাগানোই সাফল্যের অন্যতম শর্ত। ভগবান রাম মানুষের সম্মিলিত শক্তিকে জাগ্রত করেছিলেন, জনসাধারণের অংশগ্রহণকে নিজের শক্তি হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন এবং উপলব্ধ সম্পদকে একত্রিত করে আপাতদৃষ্টিতে অসম্ভব লক্ষ্যকে সম্ভব করে তুলেছিলেন।

    প্রধানমন্ত্রীর মতে, সাফল্যের মৌলিক সূত্র হল নিজের শক্তির উপর আস্থা রাখা, নিজের সামর্থ্যের প্রতি বিশ্বাস বজায় রাখা, সম্পদের যথাযথ ব্যবহার করা এবং লক্ষ্যের প্রতি অবিচল থাকা।

    এই বার্তাকে দেশের উন্নয়ন, সামাজিক উদ্যোগ এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টার ক্ষেত্রেও প্রাসঙ্গিক বলে ব্যাখ্যা করা যায়। তাঁর বক্তব্যে ব্যক্তিগত সংকল্পের পাশাপাশি জনঅংশগ্রহণের গুরুত্বও বিশেষভাবে উঠে এসেছে।

    রাজনৈতিক চাপের আবহে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য ঘিরে নজর

    প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা Special Intensive Revision (SIR)-এর মাধ্যমে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে। নির্বাচন কমিশনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিরোধী পক্ষের নেতৃত্বে প্রতিবাদ কর্মসূচি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ভোটার তালিকা সংশোধনে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে প্রতিবাদকারীরা।

    অন্যদিকে, বিজেপির অভিযোগ, রাজধানী-সহ বিভিন্ন জায়গায় হওয়া এই প্রতিবাদ দেশের অগ্রগতি চায় না, এমন বিদেশি শক্তির প্ররোচনায় পরিচালিত হয়েছে। তবে এই অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনও প্রমাণ এখানে উল্লেখ করা হয়নি।

    এই রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মোদির ‘নেশন ফার্স্ট’ আহ্বান এবং দেশের অগ্রগতির বিরোধী শক্তিগুলিকে চিহ্নিত করার বার্তা বিশেষ তাৎপর্য পেয়েছে। যদিও প্রধানমন্ত্রীর বিজয়া দশমীর বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল জাতীয় ঐক্য, ভগবান রামের আদর্শ এবং সত্য ও ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা, তবু চলতি রাজনৈতিক বিতর্কের আবহে তাঁর মন্তব্যের রাজনৈতিক তাৎপর্যও আলোচনায় আসতে পারে।

    সব মিলিয়ে, বিজয়া দশমীর মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বার্তা ছিল—দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া, বিভাজনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকা এবং প্রতিকূলতার মধ্যেও সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকা। ভগবান রামের জীবন ও আদর্শকে সামনে রেখে তিনি দেশবাসীকে মনে করিয়ে দিয়েছেন, দৃঢ় সংকল্প, সম্মিলিত প্রচেষ্টা এবং লক্ষ্য সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকলে কঠিন বাধাও অতিক্রম করা সম্ভব।

  • Mohan Bhagwat: ‘পশ্চিম থেকে আসছে ঝড়’, ভারতকে নিয়ে বড় সতর্কবার্তা আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের

    Mohan Bhagwat: ‘পশ্চিম থেকে আসছে ঝড়’, ভারতকে নিয়ে বড় সতর্কবার্তা আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতকে ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা সফল হবে না। ক্ষমতার পালাবদল হলেই পরিস্থিতি বদলে যাবে, এমন ধারণাও ভুল। মঙ্গলবার নাগপুরে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (RSS) বিজয়াদশমী উৎসবে ভাষণ দিতে গিয়ে এই মন্তব্য করলেন সঙ্ঘপ্রধান মোহন ভাগবত। তাঁর দাবি, ভারতের উন্নয়ন ও দৃঢ় নীতির অগ্রগতিতে বাধা দিতে একাধিক শক্তি সক্রিয় রয়েছে। একইসঙ্গে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আন্দোলন দেশে অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে এসআইআর (SIR) সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগে চলা প্রতিবাদের আবহে ভাগবতের এই বক্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

    ‘পশ্চিম থেকে আসছে ঝড়’, ভারতকে নিয়ে সতর্কবার্তা ভাগবতের

    ভাগবতের বক্তব্য, ভারত ক্রমশ এগিয়ে চলেছে বলেই দেশকে বিপথে চালিত করার চেষ্টা করছে কিছু শক্তি। তাঁর কথায়, গত কয়েক দশকে দৃঢ় নীতি ও সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ভারত যে অগ্রগতি করেছে, তা ব্যাহত করাই তাদের লক্ষ্য। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভারতকে ভেঙে দেওয়ার পাশাপাশি সঙ্ঘকেও দুর্বল করার চেষ্টা চলছে।

    সঙ্ঘপ্রধানের কথায়, “পশ্চিম দিক থেকে একটি ঝড় আসছে, যা সংস্কৃতি, ব্যবস্থা ও নিরাপত্তাকে ঘৃণা করে। এই শক্তি ধ্বংস করতে চায়।” তাঁর দাবি, বিশ্বের একাধিক শক্তি চায় না ভারত নিজের উন্নয়নের লক্ষ্যে এগিয়ে যাক। এই পরিস্থিতিতে সমাজকে সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ থাকার বার্তা দিয়েছেন তিনি।

    নিজের বক্তব্যের সমর্থনে ফ্রান্স, বাংলাদেশ ও নেপালের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন ভাগবত। বাংলাদেশে ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের জেরে শেখ হাসিনার সরকারের পতন এবং ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে নেপালে জেন-জি আন্দোলনের পর কেপি শর্মা ওলির সরকারের পতনের উদাহরণ দেন তিনি। ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, জনপরিষেবার অবনতি ও শিক্ষাক্ষেত্রের সংস্কারকে ঘিরে বিক্ষোভের কথাও উল্লেখ করেন।

    ভাগবতের অভিযোগ, ভারতে এমন কিছু মানুষ রয়েছেন, যাঁরা এই শক্তিগুলির উদ্দেশ্যের সঙ্গে সহমত পোষণ করেন। তাঁদের একাংশের মধ্যে ক্ষমতার লোভ রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    আন্দোলন নয়, সমাজের ভিতর থেকেই সমাধানের বার্তা

    রাজনৈতিক প্রতিবাদ ও আন্দোলনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন আরএসএস প্রধান। তাঁর বক্তব্য, আন্দোলন করলেই সমস্যার সমাধান হয় না। বরং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত বা উসকানিমূলক বিক্ষোভের ফলে উত্তেজনা, অরাজকতা এবং জনজীবনে বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে।

    তাঁর মতে, সমস্যার সমাধান খুঁজতে হবে সমাজের ভিতর থেকেই। প্রতিবাদের মাধ্যমে পরিস্থিতি বদলানোর পরিবর্তে সামাজিক ঐক্য ও দায়িত্ববোধের উপর জোর দিয়েছেন তিনি।

    এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে এসআইআর প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ চলছে। এর আগে সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ বলেছিলেন, দিল্লিতে এই প্রতিবাদ ক্রমশ ‘সরকার পরিবর্তনের লড়াই’-এ পরিণত হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়।

    বিজেপির তরফে এই মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করা হয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং অভিযোগ করেন, কিছু গোষ্ঠী তরুণদের ব্যবহার করে দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে। বিজেপির মুখপাত্র সি আর কেশবনও দাবি করেন, সরকার ফেলার উদ্দেশ্য আড়াল করতেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকে ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে এই অভিযোগগুলির প্রেক্ষিতে বিরোধীদের অবস্থান নিয়ে প্রতিবেদনে পৃথক কোনও বক্তব্য দেওয়া হয়নি।

    উন্নয়ন বনাম পরিবেশ, ভারসাম্যের উপর জোর

    রাজনৈতিক বক্তব্যের পাশাপাশি উন্নয়নের মডেল নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন ভাগবত। তাঁর মতে, ভারতকে এমন উন্নয়নের পথ দেখাতে হবে, যা মানবসমাজের জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠবে না। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতি জরুরি হলেও পরিবেশ এবং নৈতিকতার প্রশ্নকে উপেক্ষা করা চলবে না।

    ভারতের ধর্মীয়, ভাষাগত ও খাদ্যাভ্যাসের বৈচিত্র্যকে সম্মান ও সুরক্ষিত রাখার উপরও জোর দিয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, দেশের বৈচিত্র্যকে স্বীকার করেই সামাজিক ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।

    উন্নয়ন ও পরিবেশের ভারসাম্য বোঝাতে নেপালের সাম্প্রতিক বন্যার প্রসঙ্গ টানেন সঙ্ঘপ্রধান। হিমালয় অঞ্চলে ভারত, নেপাল ও চিন—তিন দেশের ক্ষেত্রেই অপরিকল্পিত উন্নয়ন নতুন সমস্যা তৈরি করছে বলে সতর্ক করেন তিনি। তাঁর মতে, উন্নয়নের মূল্য যেন মানুষের প্রাণ দিয়ে চোকাতে না হয়, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

    সব মিলিয়ে, বিজয়াদশমীর ভাষণে মোহন ভাগবতের বক্তব্যে উঠে এসেছে তিনটি প্রধান বিষয়—ভারতের অগ্রগতির পথে বাধা সৃষ্টির আশঙ্কা, রাজনৈতিক আন্দোলনের পরিবর্তে সমাজের ভিতর থেকে সমস্যার সমাধান এবং পরিবেশ ও নৈতিকতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা। নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে চলা বিতর্কের আবহে তাঁর রাজনৈতিক মন্তব্যও নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।

  • Yusuf Pathan: বরোদার সেই বিতর্কিত জমি অবশেষে উপহার হিসেবে পেলেন প্রাক্তন ক্রিকেটার ইউসুফ পাঠান

    Yusuf Pathan: বরোদার সেই বিতর্কিত জমি অবশেষে উপহার হিসেবে পেলেন প্রাক্তন ক্রিকেটার ইউসুফ পাঠান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গুজরাট সরকারের পক্ষ থেকে প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার এবং রাজনীতিবিদ ইউসুফ পাঠানকে (Yusuf Pathan) একটি বড় স্বস্তি দেওয়া হয়েছে। বরোদার তন্দলজা এলাকায় অবস্থিত ৯৭৮ বর্গমিটারের একটি বিতর্কিত পৌর কর্পোরেশন বা মিউনিসিপ্যাল প্লট আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে দেওয়ার অনুমোদন দিয়েছে রাজ্য সরকার। এই জমিটি নিয়ে বরোদায় দীর্ঘদিন ধরে জটিলতা ও আইনি লড়াই চলছিল। ইউসুফ পাঠানের পরিবারের বাসভবনের পাশেই অবস্থিত এই সম্পত্তি ঘিরে অতীতে নানা বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। বরোদা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন এর আগে এই জমিতে অননুমোদিত দখলের অভিযোগ এনে নোটিশ পাঠিয়েছিল এবং বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। তবে সম্প্রতি সমস্ত আইনি জটিলতা পাশ কাটিয়ে রাজ্য সরকারের বিশেষ অনুমোদনের মাধ্যমে এই জমিটি হস্তান্তর করার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হয়েছে।

    উপহার ও বিশেষ মূল্যের শর্তে জমি বরাদ্দ

    নতুন সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বরোদার এই বিতর্কিত জমির সম্পূর্ণ অংশটি সাধারণ নিলাম প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে ইউসুফ পাঠানকে (Yusuf Pathan) প্রদান করা হচ্ছে। এর মধ্যে মোট ৯৭৮ বর্গমিটার জমির মধ্য থেকে ঠিক ৫০০ বর্গমিটার জমি তাকে সম্পূর্ণ আবাসিক ব্যবহারের জন্য ‘উপহার’ বা বিনা মূল্যে দেওয়া হবে। বাকি থাকা ৪৭৮ বর্গমিটার জমি সাধারণ মূল্যে নয়, বরং নির্ধারিত মূল্যায়ন মূল্যের মাত্র ৫৫ শতাংশ দামে তাকে হস্তান্তর করা হবে। বরোদা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের স্থায়ী কমিটি ও সাধারণ বোর্ডে এই বিশেষ বরাদ্দ নিয়ে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সরকারি সূত্র অনুযায়ী, এই সিদ্ধান্তকে বরোদার অন্য কোনো মামলার ক্ষেত্রে দৃষ্টান্ত হিসেবে গণ্য করা হবে না এবং রাজ্য সরকার মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনকে এর সমপরিমাণ মূল্যের আরেকটি জমি ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রদান করবে।

    রাজনৈতিক সমীকরণ ও বর্তমান পরিস্থিতি

    বরোদার এই জমি বরাদ্দ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বেশ আলোচনা শুরু হয়েছে। অতীতে বরোদা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে এই জমির বাজারমূল্য প্রায় ২০ কোটি টাকার বেশি নির্ধারণ করা হয়েছিল এবং বিনা নিলামে জমি হস্তান্তরের বিরোধিতা করে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং আইনি লড়াইয়ে ইউসুফ পাঠানের (Yusuf Pathan) পক্ষ থেকে মামলা প্রত্যাহার করে নেওয়ার পরেই এই বড় সিদ্ধান্তটি এল। দীর্ঘদিনের এই বিরোধ মিটে যাওয়ায় সাবেক এই তারকা ক্রিকেটারের আইনি জটিলতার অবসান ঘটেছে। বরোদা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, সরকারি শর্তগুলো পূরণ সাপেক্ষে এই সম্পত্তি হস্তান্তরের চূড়ান্ত প্রক্রিয়া খুব দ্রুত সম্পন্ন করা হবে।

  • India: ২৭ দেশের ৪০০ শিক্ষাবিদের আবেদন, বিশৃঙ্খলা থেকে ভারতকে রক্ষা করুন

    India: ২৭ দেশের ৪০০ শিক্ষাবিদের আবেদন, বিশৃঙ্খলা থেকে ভারতকে রক্ষা করুন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্বের ২৭টি দেশের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর চারশোর বেশি ভারতীয় (India) বংশোদ্ভূত শিক্ষাবিদ, গবেষক ও শিক্ষার্থী একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করেছেন। “স্পেয়ার ইন্ডিয়া ফ্রম অ্যানার্জি” বা বিশৃঙ্খলা থেকে ভারতকে রক্ষা করুন শীর্ষক এই বিবৃতিতে তারা ভারতের গণতন্ত্র ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করার যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় হার স্বীকার না করে বা আদালতের রায়কে প্রশ্নবিদ্ধ করে রাস্তায় বিশৃঙ্খল আন্দোলন গড়ে তোলার প্রবণতা দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর (India) জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এই স্বাক্ষরকারীরা যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি ও ফ্রান্সের মতো দেশের এমআইটি, অক্সফোর্ড, ক্যামব্রিজ, প্রিন্সটন ও হার্ভার্ডের মতো বিখ্যাত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

    সংবিধান বনাম রাজপথের রাজনীতি

    বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে স্বাধীনতার পর থেকে গত সাত দশকে ভারতের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে কাজ করে আসছে। কিন্তু সম্প্রতি নির্বাচনে পরাজয়ের পর ফলাফলকে প্রশ্নবিদ্ধ করা এবং বিচার বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন মন্তব্য করার সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে। এর ফলে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। শিক্ষাবিদরা ড. বি আর আম্বেদকরের সেই পুরনো সতর্কবার্তার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, যেখানে তিনি সাংবিধানিক পথ ছেড়ে বিপ্লব বা রাজপথের ধ্বংসাত্মক পথ বেছে নেওয়াকে ‘অরাজকতার ব্যাকরণ’ বলে অভিহিত করেছিলেন। তারা জোর দিয়ে বলেছেন যে রাজনৈতিক মতপার্থক্য ও ক্ষোভ থাকতেই পারে, তবে তা কোনোভাবেই সংসদীয় প্রক্রিয়া বা সাংবিধানিক কাঠামোর বাইরে গিয়ে হিংসাত্মক উপায়ে সমাধান করা উচিত নয়।

    সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

    এই বিবৃতিটি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে যখন ভারতের (India) নির্বাচন কমিশনের স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন বা ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ প্রক্রিয়া নিয়ে দেশজুড়ে পরিকল্পিত রাজনৈতিক উত্তেজনা শুরু করেছে বিরোধীরা। বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকে এই সংশোধনের প্রতিবাদে দিল্লিতে সংসদ ভবন থেকে নির্বাচন কমিশন পর্যন্ত মিছিল, সুপ্রিম কোর্টে মামলা এবং যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ প্রদর্শনের নামে বিশঙ্খলা করা হচ্ছে।প্রসঙ্গত, নির্বাচন কমিশন এটিকে একটি রুটিন প্রক্রিয়া হিসেবে উল্লেখ করেছে। এই উত্তাল পরিস্থিতির মাঝেই দেশের বাইরে থাকা বিশিষ্ট ভারতীয় শিক্ষাবিদরা বিতর্কিত রাজপথের আন্দোলনের বদলে আলাপ-আলোচনা ও সাংবিধানিক উপায়ে দেশ পরিচালনার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন।

LinkedIn
Share