মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্ব রেকর্ড গড়লেন প্রধানমন্ত্রী মোদি (PM Narendra Modi)। ইন্সটাগ্রামে (Instagram) এখন শুধু তাঁরই চর্চা। সকলের ইন্সটা ফিড জুড়ে শুধু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির রিল। ২৪ ঘণ্টায় প্রধানমন্ত্রী মোদির রিলে ভিউ হয়েছে ৩২৮ মিলিয়ন! অর্থাৎ ৩২ কোটি ৮০ লাখ মানুষ এখনও পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর ভিডিয়োটি দেখেছেন। যা সর্বোচ্চ ভিউ। প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে সরকারের পদক্ষেপ নিয়ে প্রকাশিত এই ভিডিওটি ইনস্টাগ্রামের ইতিহাসে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সর্বাধিক দেখা রিল হিসেবে উঠে এসেছে। শুধু ভিউ-ই নয়, এই রিল প্রকাশের পর এক রাতের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী মোদির ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে প্রায় ১০ লক্ষ নতুন ফলোয়ার যুক্ত হয়েছে। পাশাপাশি ভিডিওটি ১.৬ কোটিরও বেশি লাইক পেয়েছে। ভিডিওটি নিয়ে মন্তব্য করেছেন প্রায় ১৫ লক্ষ। যা এটিকে প্ল্যাটফর্মের অন্যতম আলোচিত রাজনৈতিক পোস্টে পরিণত করেছে।
আইশো স্পিড, বিটিএস কে ছাড়িয়ে রেকর্ড মোদির
এর আগে জনপ্রিয় ইন্টারনেট ব্যক্তিত্ব আইশো স্পিড (IShowSpeed)-এর একটি রিল প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ভিউ পেয়ে রেকর্ড গড়েছিল। কোরিয়ান বয় ব্যান্ড বিটিএস (BTS)-র রিলেও ভিউ ছিল ৩০০ মিলিয়ন। প্রধানমন্ত্রী মোদির নতুন রিল সেই সংখ্যাকেও অতিক্রম করেছে। রেকর্ড গড়ার পর প্রকাশিত আরেকটি ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বন্ধুরা, আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ। গত রাতে আপনাদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পেয়েছিলাম। ভিডিওটির প্রতি আপনাদের অভূতপূর্ব সাড়া এবং ইতিবাচক পরামর্শের জন্য কৃতজ্ঞ। আপনাদের ভালোবাসা আমাকে অনুপ্রাণিত করবে এবং আমাদের এই সম্পর্ক আরও গভীর হবে।”
কেন ইনস্টাগ্রামকেই বেছে নিলেন মোদি?
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, প্রধানমন্ত্রী চাইলে সরকারি প্রচারযন্ত্র বা আনুষ্ঠানিক ভিডিও বার্তার মাধ্যমেও একই বার্তা দিতে পারতেন। কিন্তু তিনি ইচ্ছাকৃতভাবেই ইনস্টাগ্রামের মতো জনপ্রিয় সামাজিক মাধ্যম এবং অনানুষ্ঠানিক ভাষা বেছে নেন, যাতে বিশেষ করে জেন-জি (Gen Z)-র সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করা যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাতের সময় অধিকাংশ তরুণ-তরুণী ও কর্মজীবী মানুষ মোবাইলে শর্ট ভিডিও দেখেন। সেই সময়কে লক্ষ্য করেই ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়, ফলে এটি সাধারণ সরকারি ঘোষণার বদলে ব্যক্তিগত ও সহজবোধ্য বার্তা হিসেবে দর্শকদের কাছে পৌঁছে যায়।
পেপার লিক ইস্যুতেই মূল বার্তা
ভিডিওটির মূল বিষয় ছিল প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে সরকারের কঠোর অবস্থান এবং পরীক্ষা ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও নিরাপদ করার প্রতিশ্রুতি। যে ভিডিয়োটি এত ভাইরাল, তাতে প্রধানমন্ত্রী মোদি দেশের যুবসমাজের মনের কথা বুঝেই বলেছেন যে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা কোনও সামান্য বিষয় নয়। এটি লাখ লাখ পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি অত্যন্ত গুরুতর সমস্যা। তিনি আশ্বাস দিয়ে জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অভিযুক্তদের কঠোর থেকে কঠোরতম শাস্তি দিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পরই ফাস্ট ট্রাক কোর্ট গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। প্রশ্নফাঁস রুখতে আনা হচ্ছে কঠোর আইনও, যেখানে ১০ বছরের সাজা ও ১ থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে।
তাৎপর্যপূর্ণ ভিডিও বার্তা
সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ও ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে এই বার্তাকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিজেপির জাতীয় তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগের প্রধান অমিত মালব্য এক্স (সাবেক টুইটার)-এ পোস্ট করে বলেন, “এটি শুধু একটি সোশ্যাল মিডিয়া রেকর্ড নয়। এটি প্রমাণ করে, প্রজন্ম ও ভৌগোলিক সীমানা পেরিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি মানুষের আস্থা, গ্রহণযোগ্যতা এবং সংযোগ কতটা গভীর।”
তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে সংযোগ বাড়ান
ইনস্টাগ্রামে আরও সক্রিয় হন। দেশের যুব সম্প্রদায়ের সঙ্গে সংযোগ বাড়াতে বেশি করে রিল পোস্ট করুন। সূত্রের খবর, তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যদের সম্প্রতি এমনই পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি মনে করেন, সমাজমাধ্যম, বিশেষত ইনস্টাগ্রামে নানা ধরনের পোস্টই দেশের তরুণ-তরুণীদের আরও কাছে পৌঁছোনোর পথ! নিট কেলেঙ্কারিকে কেন্দ্র করে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) আন্দোলন এখন আর শুধু দিল্লিতে সীমাবদ্ধ নয়। প্রায় গোটা দেশেই বিক্ষিপ্ত ভাবে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ছে। সেই আন্দোলনে নানা বয়সিদের জমায়েত চোখে পড়লেও কেন্দ্রবিন্দুতে তরুণ প্রজন্ম। সেই আবহে শুক্রবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে মন্ত্রীদের উদ্দেশে আগেই ইনস্টাগ্রাম নিয়ে এই বার্তা দেন মোদি।
তরুণদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগের চেষ্টা
প্রধানমন্ত্রী জানেন, দেশের তরুণ প্রজন্মের একটা বড় অংশই ইনস্টাগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্মে সময় কাটায়। সরকারের উচিত সেই প্ল্যাটফর্মকে কাজে লাগিয়ে তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে সংযোগ বাড়ানো। সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে মানুষের মধ্যে যে কোনও বার্তা পৌঁছে দেওয়ার সহজতম উপায়ই হল ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক, ইউটিউব, হোয়াটসঅ্যাপের মতো সামাজিক মাধ্যম। তাই পর্যবেক্ষকদের মতে, প্রচলিত সরকারি বিবৃতির পরিবর্তে ইনস্টাগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে প্রধানমন্ত্রী মোদি তরুণদের সঙ্গে আরও সরাসরি সংযোগ স্থাপনের চেষ্টা করেছেন। দর্শকদের মতামতের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে প্রকাশিত তাঁর দ্বিতীয় ভিডিও সেই যোগাযোগকে আরও আন্তরিক ও দ্বিমুখী করে তুলেছে।

Leave a Reply