Tag: bangla khabar

bangla khabar

  • PM Modi: “গত এক বছরে কর্তব্যরত অবস্থায় প্রাণ হারাননি কোনও সিআরপিএফ জওয়ান”, বললেন প্রধানমন্ত্রী

    PM Modi: “গত এক বছরে কর্তব্যরত অবস্থায় প্রাণ হারাননি কোনও সিআরপিএফ জওয়ান”, বললেন প্রধানমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নকশালবাদ দমনে কেন্দ্রীয় সরকারের নীতি এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সাহস, সংযম ও দৃঢ় সংকল্পের প্রশংসা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। তাঁর দাবি, গত এক বছরে কর্তব্যরত অবস্থায় কোনও সিআরপিএফ জওয়ান প্রাণ হারাননি। রবিবার ছত্তিশগড়ের বস্তারে দীপাবলি উদ্‌যাপনের অনুষ্ঠানে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে এই মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ২০১৪ সালের পর থেকে মাওবাদী বিদ্রোহের বিরুদ্ধে দেশের লড়াইয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। ওই বছর বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় রাজনৈতিক সদিচ্ছা আরও (Naxal Free Bastar) শক্তিশালী হয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য (PM Modi)

    মোদি বলেন, “দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে দৃঢ় সংকল্প এবং সুপরিকল্পিত কৌশলের মাধ্যমে দেশের শত্রুদের মোকাবিলা করে পরাস্ত করতে হবে। একসময় এই কাজ করার মতো রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব ছিল। ২০১৪ সালে সেই সদিচ্ছা আরও শক্তিশালী হয়েছে।” তিনি আরও জানান, দেশের সেবা করার সুযোগ মানুষ তাঁকে দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই পরিস্থিতির পরিবর্তন শুরু হয়েছে।

    নিরাপত্তা বাহিনীর সাফল্যের প্রসঙ্গ তুলে মোদি বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে আমরা দেখেছি, নকশালদের তুলনায় আমাদের বেশি সংখ্যক জওয়ান প্রাণ হারাচ্ছেন। কিন্তু ৪৭ বছরের ইতিহাসে প্রথমবার একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটেছে। গত এক বছরে কর্তব্যরত অবস্থায় কোনও সিআরপিএফ জওয়ান প্রাণ হারাননি।”

    প্রধানমন্ত্রী এই সাফল্যের কৃতিত্ব সরকারের নীতি এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সাহস, সংযম ও দৃঢ় সংকল্পকে দিয়েছেন। একই সঙ্গে ২০০৪ থেকে ২০১৩ সালের পরিসংখ্যান তুলে ধরে নকশাল সমস্যা মোকাবিলায় পূর্ববর্তী সরকারগুলির ভূমিকার সমালোচনা করেন তিনি। মোদির দাবি, ওই সময়ে প্রতি বছর নকশালদের তুলনায় নিরাপত্তা বাহিনীর বেশি সংখ্যক সদস্য নিহত হতেন।

    নকশাল-সমস্যাকে উপেক্ষা করা হয়েছিল!

    তিনি বলেন, “দুর্ভাগ্যজনকভাবে, সেই সময়ের সরকারগুলি নকশালবাদকে এমন একটি দুরারোগ্য ব্যাধি বলে মনে করেছিল, যার কোনও সমাধান নেই। ফলে সমস্যাটিকে কার্যত উপেক্ষা করা হয়েছিল।”

    প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য, মাওবাদী বিদ্রোহের বিরুদ্ধে লড়াই মোটেই সহজ ছিল না। নকশালরা একদিকে যেমন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের উপর হামলা চালিয়েছে, অন্যদিকে সাধারণ নাগরিকদেরও নিশানা করেছে। পাশাপাশি, নকশাল প্রভাবিত এলাকায় গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করেছে।

    প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ, নকশালরা সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার পর্যন্ত কেড়ে নিয়েছিল। এক বছরে দেশে প্রায় ২,০০০টি নকশাল হামলার ঘটনা ঘটেছিল বলেও জানান তিনি।

    ২০১০ সালে ছত্তিশগড়ের হিংসার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী দান্তেওয়াড়ায় নকশালদের সঙ্গে সংঘর্ষে ৭৬ জন সিআরপিএফ জওয়ানের মৃত্যুর ঘটনা স্মরণ করেন। ওই বছরই একই জেলায় অন্য একটি ঘটনায় ৪৪ জন সাধারণ নাগরিক নিহত হয়েছিলেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

    মোদি বলেন, “এই মাটি আমাদের বীর জওয়ানদের রক্তে ভিজে গিয়েছিল। অথচ প্রাসাদে বসবাসকারী প্রভাবশালী নেতাদের কাছ থেকে প্রতিবাদের একটি আওয়াজও শোনা যায়নি। তাঁদের চোখে এক ফোঁটা জলও দেখা যায়নি।”

    প্রধানমন্ত্রীর দাবি, কয়েক দশক ধরে এই ধরনের হামলা চলেছে। শুধু ছত্তিশগড়েই ওই সময়ে এক হাজারেরও বেশি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য প্রাণ হারিয়েছিলেন। ২০০৪ থেকে ২০১৩ সালের পরিসংখ্যানের উল্লেখ করে তিনি ফের দাবি করেন, সেই সময়ে নকশালদের তুলনায় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের মৃত্যুর সংখ্যা ছিল বেশি। তাঁর অভিযোগ, তৎকালীন সরকারগুলি বিদ্রোহের মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ করতে ব্যর্থ (PM Modi) হয়েছিল।মোদি বলেন, “শত্রুর মুখোমুখি হয়েও কোনও দেশ এমন মনোভাব নিয়ে চলতে পারে না যে, যা চলছে তা চলতেই থাকবে।”

    নকশালমুক্ত ভারত

    এর আগে ২০২৬ সালের দীপাবলিকে বিশেষ বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর দাবি, কয়েক দশকের নকশালবাদ ও মাওবাদী সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জয় পেয়েছে ভারত। দেশের প্রতিটি জেলা এখন নকশালমুক্ত। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই প্রথম এমন দীপাবলি, যখন দেশ কয়েক দশকের নকশালবাদ ও মাওবাদী সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জয়ী হয়েছে। এই প্রথম দেশের প্রতিটি জেলা নকশালমুক্ত।” তাঁর কথায়, নকশাল আতঙ্কের ভয় ছাড়াই এখন কোটি কোটি ভারতীয় উৎসব উদ্‌যাপন করতে পারবেন। এই সাফল্যের পিছনে নিরাপত্তা বাহিনীর অবদানও বিশেষভাবে উল্লেখ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী জানান, ১৪০ কোটি দেশবাসীর প্রতিনিধি হিসেবে তিনি বস্তারে এসেছেন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের আত্মত্যাগ, নিষ্ঠা এবং দেশের প্রতি তাঁদের সেবার জন্য কৃতজ্ঞতা জানাতে (Naxal Free Bastar)। দেশের সীমান্ত রক্ষাকারী বাহিনী এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা বাহিনীর ভূমিকার তুলনা করে মোদি বলেন, দেশের ঐক্য ও অখণ্ডতা রক্ষায় উভয়ের অবদানই সমান গুরুত্বপূর্ণ। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কর্তব্যরত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের দীপাবলির শুভেচ্ছা জানান তিনি। তাঁদের কাজের জন্য কোটি কোটি ভারতীয় গর্বিত বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী (PM Modi)।

     

  • Suvendu Adhikari: সীমান্ত সুরক্ষায় কড়া বার্তা শুভেন্দুর, বিএসএফ জওয়ানদের সঙ্গে দীপাবলি উদযাপন হিঙ্গলগঞ্জে

    Suvendu Adhikari: সীমান্ত সুরক্ষায় কড়া বার্তা শুভেন্দুর, বিএসএফ জওয়ানদের সঙ্গে দীপাবলি উদযাপন হিঙ্গলগঞ্জে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীপাবলির উৎসবে সীমান্তরক্ষী জওয়ানদের পাশে দাঁড়ালেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রবিবার হিঙ্গলগঞ্জের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর শিবিরে গিয়ে জওয়ানদের সঙ্গে আলোর উৎসবে শামিল হন তিনি (Suvendu Adhikari)। উৎসবের আবহে সীমান্ত সুরক্ষা, অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ এবং সীমান্তবর্তী এলাকার পরিকাঠামো উন্নয়ন নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন (Diwali Celebration) মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি সীমান্তে কর্তব্যরত সীমান্তরক্ষী বাহিনী, সশস্ত্র সীমা বল এবং রাজ্য পুলিশের আধিকারিক ও কর্মীদের কাজের স্বীকৃতি দিতে আগামী নতুন বছরে ‘সীমা মিত্র সম্মান’ চালুর কথা ঘোষণাও করেন তিনি।

    অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকার সীমান্ত সুরক্ষার ক্ষেত্রে সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করেনি। বিশেষ করে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রিতা তৈরি করা হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর জমি সংক্রান্ত সেই জটিলতা অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে। ফলে সীমান্তে বেড়া নির্মাণের কাজ আরও দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

    বাহিনীর প্রশংসা (Suvendu Adhikari)

    সীমান্তবর্তী এলাকায় শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে সীমান্তরক্ষী বাহিনী, সশস্ত্র সীমা বল এবং রাজ্য পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও এই বাহিনীগুলির জওয়ান ও পুলিশকর্মীরা নিষ্ঠা এবং সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁদের অবদানকে যথাযথ মর্যাদা দিতেই নতুন বছরে ‘সীমা মিত্র সম্মান’ চালু করা হবে। সীমান্ত সুরক্ষায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালনকারী কর্মীদের এই সম্মানের মাধ্যমে স্বীকৃতি জানানো হবে।

    অনুপ্রবেশ রুখতে জিরো টলারেন্স নীতি

    সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশের প্রশ্নে কোনওরকম আপস করা হবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন রাজ্যের পালাবদলের মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে রাজ্য সরকার কঠোর অবস্থান বজায় রাখবে। এ ক্ষেত্রে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি কার্যকর থাকবে। সীমান্ত সুরক্ষার স্বার্থে কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং রাজ্য পুলিশের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয় আরও জোরদার করার উপরেও গুরুত্ব দেন তিনি।

    প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সীমান্তরক্ষী বাহিনী সম্পর্কে করা বিভিন্ন মন্তব্যেরও সমালোচনা করেন শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকারের আমলে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর প্রতি নেতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করা হয়েছিল। বাহিনী সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্যও করা হয়েছিল। বর্তমান সরকার কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় বজায় রেখে সীমান্ত সুরক্ষাকে আরও মজবুত করতে বদ্ধপরিকর বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)।

    জরুরি পরিষেবা নিয়েও বার্তা

    এদিন রাজ্য পুলিশের উদ্যোগে দ্রুত ১১২ নম্বর জরুরি পরিষেবা চালুর বিষয়টিও তুলে ধরেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর মতে, এই পরিষেবা চালু হওয়ায় বিপদের সময়ে সাধারণ মানুষ দ্রুত পুলিশের সহায়তা পাবেন। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত পদক্ষেপ করা এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে (Diwali Celebration)।

    সব মিলিয়ে, হিঙ্গলগঞ্জে সীমান্তরক্ষী জওয়ানদের সঙ্গে দীপাবলি উদযাপনের মঞ্চকে কাজে লাগিয়ে সীমান্ত সুরক্ষা, অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ, কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে রাজ্য সরকারের সমন্বয় নিয়ে একাধিক রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)।

     

  • Tripura: ত্রিপুরায় বিএসএফের উপর হামলা, মূল অভিযুক্ত হাসিনা আখতার-সহ গ্রেফতার আরও ৩

    Tripura: ত্রিপুরায় বিএসএফের উপর হামলা, মূল অভিযুক্ত হাসিনা আখতার-সহ গ্রেফতার আরও ৩

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ত্রিপুরার সিপাহিজলা জেলার আশাবাড়িতে বিএসএফ জওয়ানদের উপর হামলার ঘটনায় আরও তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করল পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন এক মহিলাও। ধৃতরা হলেন, ঘটনার (Tripura) মূল অভিযুক্ত হাসিনা আখতার, তাঁর ছেলে রবিউল হোসেন এবং মহাবুল হোসেন। এই (BSF) তিনজনকে গ্রেফতারের পর হামলার ঘটনায় মোট ধৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২১।

    আগরতলার পুলিশ সুপার বিজয় দেববর্মা জানিয়েছেন, ধৃত হাসিনা আখতারকে আদালতে পেশ করা হলে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ২০২৬ সালের ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হামলার ঘটনার একটি ভিডিয়ো ফুটেজে রবিউল হোসেনকে বিএসএফ জওয়ানের কাছ থেকে অস্ত্র ছিনিয়ে নিতে দেখা গিয়েছে। অপর অভিযুক্ত মহাবুল হোসেনকে দেখা গিয়েছে জওয়ানদের নির্মমভাবে মারধর করতে। এই দুই অভিযুক্তকে আগামীকাল আদালতে পেশ করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবে পুলিশ।

    অভিযুক্তদের খোঁজে আরও তল্লাশি (Tripura)

    পলাতক বাকি অভিযুক্তদের খোঁজে পুলিশ, বিএসএফ এবং কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনী যৌথভাবে তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে। পুলিশ সুপার বিজয় দেববর্মা বলেন, “ঘটনায় জড়িত যে সব অভিযুক্ত এখনও পলাতক, তাদের চিহ্নিত করে গ্রেফতারের জন্য আমরা সক্রিয়ভাবে কাজ করছি। কাউকেই রেহাই দেওয়া হবে না। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক এবং নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ, বিএসএফ এবং কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনী যৌথভাবে অভিযান ও টহলদারি চালাচ্ছে।”

    উল্লেখ্য, হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ করার জন্য ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়ার পর থেকেই নিরাপত্তা ও নজরদারি আরও জোরদার করা হয়। তার পরেই নতুন করে এই তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    গত ২ নভেম্বর, সোমবার ত্রিপুরার সিপাহিজলা জেলার কলমচৌড়া থানার আশাবাড়ি এলাকার নতুন বাজারের কাছে এই হামলার ঘটনা ঘটে। জানা গিয়েছে, রহিমপুর থেকে বক্সনগরের দিকে বিএসএফের একটি গাড়িতে করে যাচ্ছিলেন বাহিনীর কয়েকজন জওয়ান। গাড়িটির নম্বর টিআর-০১-এএল-১০৫১। নতুন বাজারের কাছে পৌঁছতেই একদল বিক্ষোভকারীর মুখোমুখি হন তাঁরা।

    বিএসএফের উপর হামলা

    উদ্ভিদ সাফাইয়ের কাজ চলাকালীন হেফজুর রহমান নামে এক ব্যক্তিকে আটক করার প্রতিবাদে স্থানীয় বাসিন্দারা সেখানে জমায়েত করেছিলেন। সেই বিক্ষোভ থেকেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, বিক্ষোভকারীরা লাঠি ও বাঁশ নিয়ে বিএসএফ জওয়ানদের উপর চড়াও হন। হামলায় বাহিনীর গাড়িটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কয়েকজন হামলাকারী জওয়ানদের মারধরের পাশাপাশি তাঁদের সার্ভিস রাইফেল ছিনিয়ে নেওয়ারও চেষ্টা করেন।

    এই ঘটনায় আহত তিন বিএসএফ কর্মীর পরিচয় জানা গিয়েছে। তাঁরা হলেন কোম্পানি কমান্ডার রোহিত, গাড়িচালক সুনীল কুমার এবং মঞ্জিত। তিনজনই বিএসএফের ৪৯ নম্বর ব্যাটালিয়নে কর্মরত।

    ত্রিপুরা পুলিশের আইনশৃঙ্খলা বিভাগের ডিজি ইপ্পার মাঞ্চাক জানিয়েছেন, ঘটনার দিনই তিন মহিলা-সহ মোট ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। পরের দিন আরও আটজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ফলে (Tripura) প্রাথমিকভাবে ধৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছিল ১৮। এবার আরও তিনজন গ্রেফতার হওয়ায় সেই সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২১।

    ডিজির বক্তব্য

    ডিজি বলেন, “চলতি মাসের ২ তারিখ আশাবাড়ি সীমান্ত চৌকির বিএসএফ কর্মীদের সঙ্গে স্থানীয় কয়েকজন দুর্ব্যবহার করেন এবং তাঁদের উপর হামলা চালান। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ করে। প্রথম দিন তিন মহিলা ও সাত পুরুষ-সহ মোট ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়। পরের দিন আরও আটজনকে গ্রেফতার করা হয়। সব মিলিয়ে তখন ধৃতের সংখ্যা ছিল ১৮। এফআইআরে যাঁদের নাম রয়েছে এবং তাঁদের সহযোগীদের পাশাপাশি অন্যদের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উপযুক্ত প্রমাণের ভিত্তিতেই গ্রেফতার করা হচ্ছে (BSF)।”

    ঘটনার পর থেকে এলাকায় উত্তেজনা ছড়ালেও বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বলে প্রশাসনের দাবি। বাকি অভিযুক্তদের গ্রেফতার করতে অব্যাহত রয়েছে (Tripura) যৌথ তল্লাশি অভিযান।

     

  • Donald Trump: ট্রাম্পের শুল্কনীতি ও লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধিই কি কাল হল? মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বড় ধাক্কা রিপাবলিকানদের

    Donald Trump: ট্রাম্পের শুল্কনীতি ও লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধিই কি কাল হল? মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বড় ধাক্কা রিপাবলিকানদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২৬ সালের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের অন্যতম বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছিল। বিশেষ করে অর্থনৈতিক উদ্বেগ, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের আবহে এই নির্বাচনের ফল ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে বড় রাজনৈতিক ধাক্কা হয়ে উঠেছে। মার্কিন কংগ্রেসের দুই কক্ষেই জয় পেয়েছে বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা। সেনেটে (Donald Trump) ৫৪-৪৪ ব্যবধানে এগিয়ে থাকার পাশাপাশি প্রতিনিধি পরিষদেও অন্তত ৩০টি নতুন আসন দখল করেছে তারা।

    সর্বশেষ গণনা অনুযায়ী, প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের আসনসংখ্যা ২৪০ এবং রিপাবলিকানদের ১৪৭। যদিও কয়েকটি আসনের ফল তখনও চূড়ান্ত হয়নি। এই ফলের ফলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নীতির বিরোধিতা (India Tariffs) করার পাশাপাশি তাঁর প্রশাসনের সিদ্ধান্ত ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার ক্ষেত্রে ডেমোক্র্যাটদের শক্তি অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে।

    নির্বাচনে রিপাবলিকানদের এই বিপর্যয়ের পর দলের একাধিক নেতা দ্রুত ট্রাম্পের নীতির সমালোচনা শুরু করেছেন। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স-সহ দলের নেতাদের একাংশের দাবি, ইরান যুদ্ধ এবং ইজরায়েল সম্পর্কে আমেরিকার অবস্থান ভোটারদের একাংশকে ক্ষুব্ধ করেছে। এমনকী বহু রিপাবলিকান সমর্থকও এবার দলের প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন।

    কিন্তু কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারানোর পিছনে কি শুধুই বিদেশনীতি দায়ী? উত্তর হল, একেবারেই নয়। বরং আরও গভীর একটি প্রশ্ন উঠে আসছে। মাত্র দু’বছর আগে যাঁরা ট্রাম্প এবং রিপাবলিকান পার্টির প্রতি আস্থা রেখেছিলেন, তাঁরাই কেন এবার দলটিকে শাস্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন?

    আম-আমেরিকানদের আর্থিক পরিস্থিতি (Donald Trump)

    এর উত্তর খুঁজতে গেলে সাধারণ আমেরিকানদের দৈনন্দিন জীবনের আর্থিক পরিস্থিতির দিকে নজর দিতে হবে। টেক্সাসের রিপাবলিকান সেনেটর টেড ক্রুজ জর্জটাউন ব্লাড অ্যান্ড প্লাজমা রিসার্চ গ্রুপের একটি গবেষণার উল্লেখ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, “২০২৬ সালে আমেরিকানরা অর্থের বিনিময়ে ৭ কোটি ৫০ লাখেরও বেশি বার রক্তরস দান করেছেন। এটিও একটি নতুন রেকর্ড। অর্থাৎ প্রতিদিন ২ লাখ আমেরিকানকে কেবল নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কেনার টাকা জোগাড় করতে হাতে সূচ ফুটিয়ে রক্তরস দান করতে হচ্ছে।”

    ক্রুজের এই মন্তব্য আমেরিকার সাধারণ মানুষের আর্থিক দুরবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক সামনে এনেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম, সংসার চালানোর খরচ এবং সীমিত আয়ের মধ্যে জীবনযাপনের চাপ ক্রমশ বাড়ছিল। আর এখানেই প্রশ্নের মুখে পড়েছে ট্রাম্পের অর্থনৈতিক নীতি, বিশেষ করে তাঁর ব্যাপক শুল্ক আরোপের কৌশল।

    ট্রাম্পের শুল্কযুদ্ধ, চাপে মার্কিন অর্থনীতি

    ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি দ্বিতীয়বার হোয়াইট হাউসে ফিরে আমেরিকার স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তাঁর ঘোষিত লক্ষ্য ছিল, বিদেশি পণ্যের উপর নির্ভরতা কমানো, দেশীয় উৎপাদন বাড়ানো এবং আমেরিকার বাজারকে সুরক্ষিত করা।

    কিন্তু ক্ষমতায় ফেরার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই শুরু হয় তাঁর শুল্কযুদ্ধ। ২০২৫ সালের ২ এপ্রিল বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা পণ্যের উপর পাল্টা শুল্ক ঘোষণা করেন তিনি। অধিকাংশ আমদানি পণ্যের ক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে ১০ শতাংশ শুল্ক ধার্য করা হয়। ট্রাম্পের যুক্তি ছিল, দীর্ঘদিন ধরে বিদেশি দেশগুলি বাণিজ্যের ক্ষেত্রে আমেরিকার সুযোগ-সুবিধার অন্যায্য ব্যবহার করে এসেছে (Donald Trump)।

    আমেরিকানদের কাছে এই নীতিকে বিদেশি দেশগুলির উপর আর্থিক চাপ সৃষ্টি এবং দেশের বাজার রক্ষার পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল। কিন্তু কিল ইনস্টিটিউট ফর দ্য ওয়ার্ল্ড ইকনমির গবেষণায় উঠে এসেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন ছবি। বিদেশি রফতানিকারীদের পরিবর্তে শুল্কের অধিকাংশ আর্থিক বোঝা শেষ পর্যন্ত বহন করতে হয়েছে আমেরিকার আমদানিকারী সংস্থা, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ ক্রেতাদের।

    এই পরিস্থিতিতে ভারতের প্রসঙ্গ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাম্প প্রশাসন প্রথমে ভারতীয় পণ্যের উপর ২৬ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নেয়। পরে তা কমিয়ে ২৫ শতাংশ করা হয়। কিন্তু রাশিয়ার কাছ থেকে ভারতের জ্বালানি তেল কেনা অব্যাহত থাকায় অগাস্টে আরও ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক চাপান ট্রাম্প। ফলে বহু ভারতীয় পণ্যের উপর আমেরিকার মোট শুল্কের হার দাঁড়ায় ৫০ শতাংশে।

    এর প্রভাব শুধু ভারতীয় রফতানিকারীদের উপরেই পড়েনি, আমেরিকার সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ও বেড়েছে। সংসারের বাজেট সামলানো কঠিন হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধির ফলে মানুষের ক্ষোভ জমেছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের প্রচার এবং রাজনৈতিক বার্তার তুলনায় এই আর্থিক সমস্যাগুলিই ভোটারদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    রিপাবলিকানদের পরাজয়ের কারণ

    রিপাবলিকানদের পরাজয়ের কারণ এই নয় যে আমেরিকানরা হঠাৎ ভোট দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছিলেন। টেড ক্রুজও নির্বাচনের পর তাঁর বিশ্লেষণে বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন। তাঁর বক্তব্য, রিপাবলিকান সমর্থক, নির্দলীয় ভোটার এবং উদারপন্থী ভোটারদের একাংশ ভোট দিতে এসেছিলেন ঠিকই, কিন্তু তাঁরা রিপাবলিকান প্রার্থীদের প্রত্যাখ্যান করেছেন।

    অর্থাৎ সমস্যা ছিল ভোটারদের বুথমুখী করা নয়, বরং তাঁদের আস্থা অর্জন করা। অর্থনীতি সাধারণ মানুষের স্বার্থে কাজ করছে, এই বিশ্বাস যথেষ্ট সংখ্যক ভোটারের মধ্যে তৈরি করতে ব্যর্থ হয়েছেন (Donald Trump) রিপাবলিকান নেতৃত্ব।

    নির্বাচনের আগে রয়টার্স ও ইপসোসের যৌথ সমীক্ষাতেও তার ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল। সমীক্ষায় অংশ নেওয়া নিবন্ধিত ভোটারদের ৪৮ শতাংশ জানিয়েছিলেন, ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্তে তাঁদের কাছে জীবনযাত্রার ব্যয়ই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দ্বিতীয় স্থানে ছিল গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার নিয়ম ও মূল্যবোধ, যার পক্ষে মত দিয়েছিলেন ২৬ শতাংশ। অভিবাসন সমস্যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন ১৩ শতাংশ (India Tariffs) ভোটার।

    আরও একটি তথ্য ট্রাম্পের জন্য উদ্বেগজনক ছিল। সমীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রায় ৪৯ শতাংশ ভোটার জানিয়েছিলেন, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্প ক্ষমতায় ফেরার পর তাঁদের পারিবারিক আর্থিক পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। মাত্র ১৩ শতাংশের মতে, তাঁদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। অন্যদিকে ৩৭ শতাংশ জানিয়েছিলেন, পরিস্থিতির বিশেষ কোনও পরিবর্তন হয়নি।

    ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ

    হিস্পানিক সম্প্রদায়ের ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ ছিল আরও বেশি। তাঁদের ৫৪ শতাংশের মতে, পরিবারের আর্থিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। মাত্র ১০ শতাংশ জানিয়েছিলেন, তাঁদের আর্থিক পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।

    অর্থনৈতিক সাফল্যকে নিজের রাজনৈতিক পরিচয়ের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরা ট্রাম্পের কাছে এই পরিসংখ্যান নিঃসন্দেহে বড় ধাক্কা। তিনি বারবার মধ্যবর্তী নির্বাচনকে নিজের নেতৃত্ব ও নীতির উপর গণভোট হিসেবে দেখার আহ্বান জানিয়েছিলেন। ভোটাররাও কার্যত সেই পথেই হেঁটেছেন। কিন্তু ফল গিয়েছে তাঁর বিপক্ষে।

    শুল্কের প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সংঘাত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামের

    ট্রাম্পের শুল্কনীতির পিছনে যুক্তি ছিল সহজ। বিদেশি পণ্যের দাম বাড়িয়ে আমেরিকার বাজারে দেশীয় পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি করা, বিদেশি দেশগুলিকে বাণিজ্যনীতি পরিবর্তনে বাধ্য করা এবং দেশে উৎপাদন বাড়ানো।

    কিন্তু কোনও পণ্যের উপর বিদেশি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে শুল্ক আরোপ করলেই তার আর্থিক বোঝা বিদেশি দেশগুলির ঘাড়ে গিয়ে পড়ে না। আমদানি করা পণ্য আমেরিকার সীমান্তে পৌঁছনোর পর সে দেশের শুল্ক দফতর সংশ্লিষ্ট আমদানিকারী সংস্থার কাছ থেকে শুল্ক আদায় করে। পরে সেই অতিরিক্ত খরচ ব্যবসায়িক সরবরাহ ব্যবস্থার বিভিন্ন পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত পণ্যের খুচরো দামের সঙ্গে যুক্ত হয়।

    কিল ইনস্টিটিউটের গবেষণায় ট্রাম্পের শুল্কনীতির এই প্রভাবের একটি বিস্তারিত ছবি উঠে এসেছে (Donald Trump)।

    গবেষণার জন্য প্রায় ৪ লাখ কোটি ডলার মূল্যের আমদানি বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত আড়াই কোটিরও বেশি পণ্য পরিবহণের নথি বিশ্লেষণ করা হয়েছিল। গবেষকদের দাবি, বিদেশি রফতানিকারীরা শুল্কের মোট আর্থিক বোঝার মাত্র ৪ শতাংশ বহন করেছেন। বাকি প্রায় ৯৬ শতাংশের বোঝা গিয়ে পড়েছে আমেরিকার ক্রেতাদের উপর। এর প্রভাব পড়েছে পোশাক থেকে শুরু করে গয়না, খাদ্যপণ্য এবং গাড়ির যন্ত্রাংশের বাজারেও।

    ঋণমান নির্ধারণকারী সংস্থা আইসিআরএ-র মতে, দৈনন্দিন ব্যবহারের সুতির পোশাক, তৈরি পোশাক এবং গৃহস্থালির কাপড়ের পাইকারি দামে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি ঘটেছে। আমেরিকা তার আমদানি করা বস্ত্রের প্রায় এক-তৃতীয়াংশের জন্য ভারতের উপর নির্ভরশীল। ফলে শুল্কের প্রভাব এই বাজারে বিশেষভাবে অনুভূত হয়েছে।

    গয়নার বাজারেও একই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। জেম অ্যান্ড জুয়েলারি এক্সপোর্ট প্রোমোশন কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, পালিশ করা হিরে এবং উন্নত মানের সোনার গয়নার দাম বেড়েছে। বিশ্বের প্রায় ৯০ শতাংশ হিরে পালিশ করার কাজ ভারতের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। ফলে এই ক্ষেত্রে ভারতীয় সরবরাহ ব্যবস্থার গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি।

    খাদ্যপণ্য ও রেস্তরাঁ ব্যবসাতেও শুল্কের প্রভাব পড়েছে। আমদানি করা হিমায়িত চিংড়ি, বাসমতি চাল এবং বিভিন্ন মশলার খুচরো দাম বেড়েছে বলে বাণিজ্যিক পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে। এমনকী গাড়ি মেরামতির বাজারও এর প্রভাব থেকে রেহাই পায়নি। আমেরিকার বাজারে ইঞ্জিনের যন্ত্রাংশ, ধাতব ঢালাইয়ের উপকরণ এবং বিকল্প যন্ত্রাংশের দাম বৃদ্ধির বিষয়টি তুলে ধরেছে ভারতের অটোমোটিভ কম্পোনেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন।

    অন্যদিকে, ২০২৫ সালে আমেরিকার শুল্ক আদায়ের রাজস্ব প্রায় ২০০০ কোটি ডলার বেড়েছিল। কিন্তু সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধি মানেই সাধারণ মানুষের আর্থিক লাভ নয়। কারণ এই অতিরিক্ত অর্থের জোগান এসেছে মূলত আমদানিকারী সংস্থা ও ক্রেতাদের পকেট থেকেই। বাস্তবে শুল্ক অনেকটা ভোগ্যপণ্যের উপর অতিরিক্ত করের মতো কাজ করেছে।

    ট্রাম্পের শুল্কনীতির পরীক্ষাগারে ভারতও

    ট্রাম্পের শুল্কযুদ্ধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছিল ভারত। ২০২৫ সালের অগাস্টে ভারতীয় পণ্যের উপর আমেরিকার শুল্কের হার ২৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করা হয়।

    প্রশ্ন উঠেছিল, অতিরিক্ত শুল্কের বোঝা সামলাতে ভারতীয় রফতানিকারীরা কি নিজেদের পণ্যের দাম কমিয়ে দিয়েছিলেন? কিল ইনস্টিটিউটের গবেষণা বলছে, বাস্তবে তা হয়নি। বরং আমেরিকার বাজারে ভারতীয় পণ্যের চালান উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।

    এর অর্থ, বিদেশি রফতানিকারীরা শুল্কের বোঝা বহন না করলে সেই আর্থিক চাপ অন্য কোনও পথে আমেরিকার অর্থনীতিতে প্রবেশ করে। আমদানিকারীদের বেশি টাকা দিতে হয়। ব্যবসায়িক সংস্থাগুলির খরচ বাড়ে। সরবরাহ ব্যবস্থায় পরিবর্তন আসে। বাজারে পণ্যের জোগান কমে যেতে পারে। শেষ পর্যন্ত বেশি দাম দিয়ে সেই পণ্য কিনতে হয় সাধারণ ক্রেতাদেরই।

    নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের জন্য কি শুল্কই দায়ী?

    নির্বাচনের ফলের পিছনে একাধিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কারণ কাজ করেছে। তবে সাধারণ মানুষের আর্থিক উদ্বেগ যে অন্যতম প্রধান কারণ, তা টেড ক্রুজের নিজের দেওয়া তথ্য থেকেও স্পষ্ট (Donald Trump)।

    কানসাসের ভোটারদের মতামত বিশ্লেষণ করে তিনি জানিয়েছেন, সেখানকার ৩০.৬ শতাংশ ভোটারের কাছে জীবনযাত্রার ব্যয়, জ্বালানি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী ইস্যু। দ্বিতীয় স্থানে ছিল দুর্নীতি, যার পক্ষে মত দিয়েছিলেন ১৮.৫ শতাংশ ভোটার। অন্যদিকে ইরান যুদ্ধের ব্যয়কে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেছিলেন ১০.১ শতাংশ ভোটার।

    এই পরিসংখ্যানের তাৎপর্য যথেষ্ট গভীর। ভোট দিতে যাওয়ার সময় আমেরিকার সাধারণ মানুষ যে শুধু ইরান যুদ্ধ কিংবা ইজরায়েল নীতি নিয়ে ভাবছিলেন, তা নয়। তাঁদের চিন্তার কেন্দ্রে ছিল প্রতিদিনের বাজার খরচ, জ্বালানির দাম, বিমার খরচ এবং মাসের শেষে বেতন দিয়ে সংসার চালানোর বাস্তব সমস্যা।

    ট্রাম্পের শুল্কনীতি এই বৃহত্তর অর্থনৈতিক সংকটের অন্যতম অংশ হয়ে উঠেছিল। ফলে বিদেশি দেশগুলির বিরুদ্ধে কঠোর বাণিজ্যনীতি গ্রহণের রাজনৈতিক বার্তা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন আর্থিক সমস্যাকে আড়াল করতে পারেনি।

    নিজের উপরেই গণভোট চেয়ে বিপাকে ট্রাম্প

    মধ্যবর্তী নির্বাচনকে নিজের নেতৃত্বের উপর গণভোটে পরিণত করার কৌশল নিয়েছিলেন ট্রাম্প। এর পিছনে রাজনৈতিক যুক্তিও ছিল। সাধারণত মধ্যবর্তী নির্বাচনে স্থানীয় প্রার্থী এবং আঞ্চলিক সমস্যাগুলি বেশি গুরুত্ব পায়। কিন্তু প্রেসিডেন্ট নিজেকে নির্বাচনের কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এলে জাতীয় রাজনীতির প্রশ্নগুলি সামনে চলে আসে।

    তবে এই কৌশলের ঝুঁকিও রয়েছে। সাধারণ মানুষ সরকারের কাজে অসন্তুষ্ট হলে প্রেসিডেন্ট নিজেই তাঁদের ক্ষোভ প্রকাশের প্রধান লক্ষ্য হয়ে ওঠেন।

    ট্রাম্প কার্যত ভোটারদের তাঁর শাসনকাল ও নীতির মূল্যায়ন করার সুযোগ করে দিয়েছিলেন। ভোটাররাও সেই মূল্যায়ন করেছেন। আর সেই মূল্যায়নের প্রধান মাপকাঠি হয়ে উঠেছে জীবনযাত্রার ব্যয়, আর্থিক সচ্ছলতা এবং দেশের অর্থনীতির প্রকৃত অবস্থা।

    মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল তাই শুধু রিপাবলিকান পার্টির সাংগঠনিক বিপর্যয় নয়, বরং অর্থনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও সাধারণ মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতার মধ্যে (India Tariffs) তৈরি হওয়া ব্যবধানেরও প্রতিফলন। বিদেশি দেশগুলিকে শুল্কের চাপে রাখার নীতি শেষ পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে কতটা (Donald Trump) চাপ তৈরি করেছে, সেই প্রশ্নই এখন ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ।

     

  • LK Advani: গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই থেকে রামমন্দির আন্দোলন, ভারতীয় রাজনীতির ইতিহাসে এক স্বতন্ত্র অধ্যায় লালকৃষ্ণ আডবাণী

    LK Advani: গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই থেকে রামমন্দির আন্দোলন, ভারতীয় রাজনীতির ইতিহাসে এক স্বতন্ত্র অধ্যায় লালকৃষ্ণ আডবাণী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় রাজনীতির ইতিহাসে লালকৃষ্ণ আডবাণীর অবদান ও ভূমিকা অনস্বীকার্য। গণতন্ত্র রক্ষা, সংবিধানের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা, জনসংঘের ভিত মজবুত করা থেকে শুরু করে বিজেপির উত্থান এবং (LK Advani) রামমন্দির আন্দোলন—দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে তাঁর নাম। রবিবার, ৮ নভেম্বর, জীবনের শততম বর্ষে পদার্পণ করলেন প্রবীণ এই রাজনীতিক। ঘটনাচক্রে, এ বছর তাঁর জন্মদিন পড়েছে দীপাবলির সময়েই (PM Modi)। ভারতীয় জনসংঘের প্রতিষ্ঠার ৭৫ বছর, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মজয়ন্তী এবং রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের শতবর্ষ উদ্‌যাপনের আবহে আডবাণীর জীবনের এই বিশেষ মুহূর্তের তাৎপর্য আরও বেড়েছে।

    ১৯২৭ সালের ৮ নভেম্বর দেব দীপাবলির দিন অধুনা পাকিস্তানের করাচিতে জন্ম আডবাণীর। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় কিশোর বয়সেই সিন্ধের পরিচিত পরিবেশ ছেড়ে ভারতে চলে আসতে হয়েছিল তাঁকে। নতুন করে জীবন শুরু করার সেই কঠিন অভিজ্ঞতা তাঁকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও শূন্য থেকে সংগঠন গড়ে তোলার যে মানসিকতা তাঁর মধ্যে তৈরি হয়েছিল, পরবর্তী রাজনৈতিক জীবনেও তার প্রতিফলন দেখা গিয়েছে। জনসংঘকে শক্তিশালী করা থেকে শুরু করে বিজেপিকে জাতীয় রাজনীতির অন্যতম প্রধান শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা—প্রতিটি ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন তিনি।

    বিজেপির রাজনৈতিক উত্থান (LK Advani)

    আডবাণীর নেতৃত্বে বিজেপির রাজনৈতিক উত্থানও ছিল উল্লেখযোগ্য। তাঁর দলীয় সভাপতিত্বের সময়ে ১৯৮৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের আসনসংখ্যা ৪০০-র গণ্ডি থেকে নেমে ২০০-র নীচে চলে আসে। অন্যদিকে, ১৯৯৬ সালে প্রথমবারের জন্য লোকসভায় একক বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে বিজেপি। একাধিক প্রজন্মের দলীয় কর্মীকে তৈরি করার পাশাপাশি জাতীয়তাবাদকে অগ্রাধিকার দেওয়ার রাজনৈতিক দর্শনের উপর দলের ভিত গড়ে তুলেছিলেন তিনি।

    নেতা হিসেবে আডবাণীর দু’টি বৈশিষ্ট্য বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। প্রথমত, তাঁর আদর্শগত স্বচ্ছতা এবং রাজনৈতিক ও বৌদ্ধিক বিশ্লেষণক্ষমতা। বক্তৃতা, লেখালেখি এবং সংসদীয় বক্তব্যে বারবার তার পরিচয় পাওয়া গিয়েছে। জনসংঘ ও বিজেপির হয়ে তাঁর তৈরি করা একাধিক রাজনৈতিক প্রস্তাব আজও প্রাসঙ্গিক। দ্বিতীয়ত, ভারতীয় রাজনীতির একটি বড় অংশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত ছদ্মধর্মনিরপেক্ষতার প্রবণতাকে প্রকাশ্যে তুলে ধরার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা।

    আরএসএসের প্রচারক আডবাণী

    আরএসএসের প্রচারক হিসেবে রাজস্থানের বিভিন্ন এলাকায় কাজের মধ্যে দিয়ে আডবাণীর সাংগঠনিক জীবনের সূচনা। পরে তিনি দিল্লিতে আসেন এবং অটলবিহারী বাজপেয়ীর সঙ্গে কাজ শুরু করেন। কয়েক দশক ধরে দুই শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক নেতার মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও আস্থার যে সম্পর্ক বজায় ছিল, ভারতীয় রাজনীতিতে তা বিরল দৃষ্টান্ত। প্রতিযোগিতার পরিবর্তে সহযোগিতার মাধ্যমে তাঁরা একসঙ্গে দেশের রাজনৈতিক গতিপথে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন (LK Advani) এনেছিলেন।

    দেশভাগের ক্ষত তখনও দিল্লির সমাজজীবনে গভীরভাবে রয়ে গিয়েছিল। সেই সময় জনসংঘের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধিতে নিজেকে নিয়োজিত করেন আডবাণী। ১৯৬৭ সালে তিনি দিল্লি মহানগর পরিষদের চেয়ারম্যান হন। সেই দায়িত্বে প্রয়াত বিজয়কুমার মালহোত্রার সঙ্গে কাজ করেছিলেন তিনি।

    ১৯৭০ সালে রাজ্যসভার সদস্য হওয়ার মধ্যে দিয়ে তাঁর সংসদীয় জীবনের সূচনা। সংসদে তাঁর বক্তব্য ও ভূমিকা দলমত নির্বিশেষে প্রশংসা পেয়েছে। পরবর্তী সময়ে লোকসভা ও রাজ্যসভা—উভয় কক্ষেই বিরোধী দলনেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। শাসকপক্ষের আসনে থেকেও নিজের সংসদীয় দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। সংসদের কাজের ব্যস্ততার মধ্যেও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখতেন তিনি।

    স্মরণীয় অধ্যায়

    ১৯৯১ সালের লোকসভা নির্বাচন আডবাণীর রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায়। সেই নির্বাচনে গান্ধীনগর-সহ দু’টি আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি। গুজরাটের সঙ্গে তাঁর পারিবারিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক ছিল দীর্ঘদিনের। দেশভাগের পর তাঁর বাবা কচ্ছ অঞ্চলে বসতি স্থাপন করেছিলেন। এই গুজরাট থেকেই রাজ্যসভার সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন আডবাণী। ফলে গান্ধীনগর থেকে নির্বাচনে লড়া ছিল অনেকটা নিজের ঘরে ফিরে আসার মতোই।

    সেই সময় বিজেপির সাংগঠনিক কাজে যুক্ত থাকার সুবাদে তাঁর নির্বাচনী মনোনয়নপত্র তৈরি এবং প্রচারের বিভিন্ন কাজে সহযোগিতা করার সুযোগ পেয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদি। গান্ধীনগরের মানুষ বারবার তাঁকে সংসদে পাঠিয়েছেন। ওই কেন্দ্রের ভোটার হিসেবে একাধিকবার আডবাণীকে ভোট দেওয়ার অভিজ্ঞতার কথাও উল্লেখ করেছেন মোদি। নিজের নির্বাচনী এলাকার মানুষের প্রতি আডবাণীর যত্ন ও দায়িত্ববোধকে রাজনৈতিক কর্মীদের কাছে শিক্ষণীয় বলে মনে করেন তিনি।

    আ টেল অব টু ইমার্জেন্সিস’

    আডবাণীর জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মোড় ছিল ১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থা। গণতন্ত্র ও সংবিধান রক্ষার আন্দোলনে তিনি সামনের সারিতে ছিলেন। জরুরি অবস্থার সময়কার অভিজ্ঞতা নিয়ে তাঁর লেখা বই ‘আ প্রিজনার্স স্ক্র্যাপ-বুক’ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ওই বইয়ের ‘আ টেল অব টু ইমার্জেন্সিস’ শীর্ষক অংশে ১৯৭৫ সালের জুন মাস থেকে ভারতে শুরু হওয়া জরুরি অবস্থার সঙ্গে ১৯৩৩ সালে নাৎসি জার্মানিতে ঘটে যাওয়া রাজনৈতিক ঘটনাবলির তুলনা তুলে ধরেছিলেন (PM Modi) তিনি।

    আডবাণী যেমন ছিলেন তেজস্বী বিরোধী নেতা, তেমনই প্রশাসক হিসেবেও তাঁর দক্ষতা ছিল উল্লেখযোগ্য। ১৯৭৭ সালে জনতা সরকার ক্ষমতায় আসার পর তিনি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের দায়িত্ব পান। ওই মন্ত্রকে তাঁর কাজ প্রশাসনিক ক্ষেত্রে বিশেষ প্রভাব ফেলেছিল বলে মনে করা হয়। পরবর্তী সময়ে উপপ্রধানমন্ত্রী এবং দীর্ঘদিনের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন তিনি। নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের কাজের পরিবেশ ও সুযোগ-সুবিধার উন্নতিতেও তাঁর অবদান স্মরণীয়। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে তাঁর কঠোর অবস্থানের ফলেই দেশে কঠোর সন্ত্রাসবিরোধী আইন প্রণয়নের পথ প্রশস্ত হয়েছিল।

    তবে আডবাণীর রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলির মধ্যে অন্যতম ১৯৯০ সালের সোমনাথ থেকে অযোধ্যা পর্যন্ত রথযাত্রা। এই যাত্রা ভারতীয় রাজনীতি ও সমাজজীবনে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলেছিল। রথযাত্রার পরিকল্পনা থেকে বাস্তবায়ন—প্রতিটি পর্যায়ে যুক্ত থাকার সুযোগকে বিশেষ সৌভাগ্যের বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী। সোমনাথে যাত্রার সূচনাপর্বে উপস্থিত থাকার অভিজ্ঞতাও তাঁর কাছে বিশেষ স্মরণীয়।

    দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়া, প্রতিদিনের ব্যস্ত কর্মসূচি, শারীরিক ধকল এবং ক্লান্তির মধ্যেও লক্ষ্য স্থির রাখার জন্য অসাধারণ সহনশীলতার প্রয়োজন হয়। রথযাত্রার সময় আডবাণী সেই ধৈর্য ও মানসিক দৃঢ়তার পরিচয় দিয়েছিলেন।

    বিহারে আডবাণীর গ্রেফতারি

    বিহারে আডবাণীর গ্রেফতারির ঘটনাও তাঁর রাজনৈতিক জীবনের একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায়। ওই ঘটনার পর গুজরাটে চিমনভাই পটেল সরকারের উপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে নেয় বিজেপি। এর মাধ্যমে দলের আদর্শ এবং রামমন্দিরের প্রশ্নে আপসহীন অবস্থানের বার্তা দেওয়া হয়েছিল। দলের প্রবীণ নেতা থেকে সাধারণ কর্মী—অনেকেই প্রতিকূল পরিস্থিতি এলেও অযোধ্যায় রামমন্দির নির্মাণের শপথ নিয়েছিলেন। দীর্ঘ সময়ের অপেক্ষার পর দেশবাসীর আশীর্বাদে অযোধ্যায় ভগবান শ্রীরামের মন্দির নির্মাণ বাস্তবায়িত হয়েছে।

    রাজনৈতিক জীবনের বাইরেও আডবাণীর ব্যক্তিত্বের নানা দিক রয়েছে। তাঁর সরল জীবনযাপন, অধ্যয়ন এবং ইতিহাসের প্রতি গভীর আগ্রহ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। নবনির্মাণ আন্দোলনের পর তিনি জুনাগড়ে গিয়ে প্রায় এক মাস সাধারণ দলীয় কর্মীর মতো থেকেছিলেন। সেই সময় বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতিতে সংগঠনের কাজে যুক্ত ছিলেন তিনি। ওই নির্বাচনে কংগ্রেস পরাজিত হয়েছিল।

    জনজীবনে স্বচ্ছতা ও নৈতিকতার প্রশ্নে আডবাণী বরাবরই নিজের অবস্থানে অনড় থেকেছেন। তিনি নিয়মিত সংবাদপত্র পড়েন এবং বিভিন্ন বিষয় গভীরভাবে খুঁটিয়ে দেখেন। চলচ্চিত্র ও নাটকের প্রতিও তাঁর বিশেষ আগ্রহ রয়েছে (LK Advani)। চলচ্চিত্র সমালোচক হিসেবেও তাঁর পরিচিতি ছিল। ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে তাঁর চিন্তার প্রতিফলন ঘটেছে ‘মাই কান্ট্রি মাই লাইফ’ বইয়ে।

    সিন্ধু দর্শন পূজার প্রচার

    সিন্ধি সংস্কৃতির সঙ্গেও বরাবর যোগাযোগ বজায় রেখেছেন আডবাণী। লেহর কাছে সিন্ধু দর্শন পূজার প্রচার ও প্রসারেও উদ্যোগী হয়েছিলেন তিনি। এই অনুষ্ঠানে আডবাণীর সঙ্গে জর্জ ফার্নান্ডেজের উপস্থিতির স্মৃতিও ভাগ করে নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

    আডবাণীর দীর্ঘ রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত জীবনের আলোচনা করতে গেলে তাঁর স্ত্রী কমলা আডবাণীর অবদানের কথাও বিশেষভাবে উল্লেখ করতে হয়। প্রকাশ্য জীবনের দীর্ঘ পথচলায় তিনি ছিলেন আডবাণীর নিরন্তর শক্তি ও ভরসার জায়গা।

    করাচিতে বেড়ে ওঠা কিশোর লালকৃষ্ণ আডবাণী জীবনের পরবর্তী সময়ে কোন পথে এগোবেন, তা হয়তো তখন কল্পনাও করতে পারেননি। দেশভাগের যন্ত্রণা থেকে শুরু করে জাতীয় রাজনীতির শীর্ষে পৌঁছনো—তাঁর জীবনযাত্রা একাধিক ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী। দেশের প্রতি তাঁর দীর্ঘ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৪ সালে তাঁকে ভারতরত্ন সম্মানে ভূষিত করা হয়।

    জীবনের শততম বর্ষে পদার্পণের এই বিশেষ দিনে আডবাণীর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী (PM Modi)। একই সঙ্গে দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনে তাঁর অভিজ্ঞতা এবং আদর্শ আগামী প্রজন্মকেও অনুপ্রাণিত করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি (LK Advani)।

     

  • PM Modi: দীপাবলি উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রীর, জওয়ানদের সঙ্গে উৎসব পালন করবেন শুভেন্দুও

    PM Modi: দীপাবলি উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রীর, জওয়ানদের সঙ্গে উৎসব পালন করবেন শুভেন্দুও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীপাবলি উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে ভিডিয়ো বার্তা প্রকাশ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। শনিবার প্রকাশিত ওই বার্তায় তিনি বলেন, আলোর উৎসব শুধু ঘরে ঘরে আলো জ্বালানোর উপলক্ষ নয়, অন্ধকারের বিরুদ্ধে দেশের সম্মিলিত সংকল্পেরও প্রতীক (Diwali Wishes)। দেশবাসীর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করার পাশাপাশি জওয়ানদের সঙ্গে দীপাবলি উদ্‌যাপনের কথাও জানান তিনি।

    প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা (PM Modi)

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আপনাদের মতো আমিও অত্যন্ত উৎসাহের সঙ্গে দীপাবলি পালন করি। আপনারা জানেন, এই দিনটি দেশের জওয়ানদের সঙ্গে কাটানো আমার দীর্ঘদিনের রীতি। এই বছরও সেই পরম্পরা বজায় রাখব। সকলকে আবারও দীপাবলির আন্তরিক শুভেচ্ছা।” ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সেনা ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীর জওয়ানদের সঙ্গে দীপাবলি পালন করে আসছেন মোদি। লাদাখের সিয়াচেন থেকে শুরু করে পঞ্জাব সীমান্ত, হিমাচল প্রদেশ, জম্মু-কাশ্মীর, রাজস্থান, কার্গিল এবং গুজরাটের  সীমান্তবর্তী এলাকা—বিভিন্ন জায়গায় জওয়ানদের সঙ্গে উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নিয়েছেন তিনি। গত বছর গোয়া-কারওয়ার উপকূলের কাছে ভারতীয় নৌবাহিনীর রণতরীতেও দীপাবলি উদ্‌যাপন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। শনিবারই উপরাষ্ট্রপতি সি পি রাধাকৃষ্ণনের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করে দীপাবলির শুভেচ্ছা বিনিময় করেন মোদি।

    আন্তর্জাতিক সীমান্তে শুভেন্দুও

    এদিকে, আলোর উৎসব দীপাবলিতে যখন আলোর রোশনাইয়ে সেজে উঠেছে গোটা দেশ, তখনও কর্তব্যে অবিচল সীমান্তরক্ষীরা। পরিবারের কাছ থেকে দূরে থেকে দেশের নিরাপত্তায় দিনরাত পাহারা দিচ্ছেন তাঁরা। সেই সমস্ত জওয়ানদের সঙ্গে উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নিতেই এবার সুন্দরবনের ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্তে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রবিবার উত্তর ২৪ পরগনার হিঙ্গলগঞ্জ সীমান্ত চৌকিতে গিয়ে বিএসএফ জওয়ানদের সঙ্গে দীপাবলি উদ্‌যাপন করবেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে থাকার কথা রাজ্য পুলিশের ডিজিরও।

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দীর্ঘদিনের রীতির অনুসরণেই মুখ্যমন্ত্রীর এই উদ্যোগ বলে মনে করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী পদে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই প্রতি বছর দীপাবলিতে দেশের কোনও না কোনও সীমান্ত এলাকায় গিয়ে সেনা ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীর জওয়ানদের সঙ্গে উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নেন মোদি। এবার সেই ধারাই অনুসরণ করতে চলেছেন শুভেন্দু। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর এটাই তাঁর প্রথম দীপাবলি। আর সেই বিশেষ উৎসবের দিনটি সীমান্তরক্ষীদের সঙ্গে কাটানোর সিদ্ধান্ত যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে (PM Modi) রাজনৈতিক মহল।

    শনিবার কলকাতা পুলিশের সদর দফতর লালবাজারে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে নিজের এই কর্মসূচির কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “সীমান্তের নিরাপত্তায় যাঁরা নিজেদের পরিবার-পরিজন ছেড়ে দিনরাত দায়িত্ব পালন করছেন, তাঁদের সঙ্গে দীপাবলির শুভেচ্ছা বিনিময় করতে রবিবার রাজ্য পুলিশের ডিজিকে সঙ্গে নিয়ে হিঙ্গলগঞ্জ সীমান্ত চৌকিতে যাব।”

    কেন গুরুত্বপূর্ণ হিঙ্গলগঞ্জ সীমান্ত চৌকি?

    উত্তর ২৪ পরগনার সুন্দরবন সংলগ্ন ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্তের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে হিঙ্গলগঞ্জ সীমান্ত চৌকির গুরুত্ব অপরিসীম। নদী, খাঁড়ি এবং ঘন ম্যানগ্রোভ অরণ্যে ঘেরা এই অঞ্চল ভৌগোলিকভাবে অত্যন্ত দুর্গম। ফলে এখানে সীমান্ত পাহারা দেওয়া নিরাপত্তারক্ষীদের কাছে যথেষ্ট চ্যালেঞ্জের। সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ, চোরাচালান এবং অন্যান্য বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধে দিনরাত নজরদারি চালান সীমান্তরক্ষী বাহিনীর জওয়ানরা। জলপথে নজরদারি আরও জোরদার করতে আধুনিক ভাসমান সীমান্ত চৌকিও ব্যবহার করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে নদী ও খাঁড়ি বরাবর নিয়মিত টহলদারি চালানোর পাশাপাশি সন্দেহজনক গতিবিধির উপর দ্রুত নজর রাখা সম্ভব হচ্ছে। এই হিঙ্গলগঞ্জ সীমান্ত চৌকি সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ৭৪ নম্বর ব্যাটালিয়নের অধীন। এটি দক্ষিণবঙ্গ সীমান্তের কলকাতা সেক্টরের আওতাভুক্ত। সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ জলপথ এবং দুর্গম ভূপ্রকৃতির মধ্যে দেশের আন্তর্জাতিক সীমান্ত সুরক্ষিত রাখতে এই চৌকির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি জনসংযোগেও জোর

    শুধু সীমান্ত পাহারা দেওয়াই নয়, সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতেও একাধিক উদ্যোগ নিয়েছে সীমান্তরক্ষী বাহিনী। বিভিন্ন সময়ে সামাজিক কর্মসূচি, নাগরিক সহায়তা শিবির, সাইকেল মিছিল-সহ নানা উদ্যোগের মাধ্যমে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তোলার চেষ্টা করা হয়। এর ফলে সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি জনসম্পৃক্ততাও বাড়ছে (Diwali Wishes)। উল্লেখ্য, এর আগে হিঙ্গলগঞ্জ সীমান্ত চৌকিতেই জওয়ানদের সঙ্গে হোলি উৎসবে অংশ নিয়েছিলেন সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ডিজি। ফলে এই সীমান্ত চৌকির সঙ্গে বাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির যোগ রয়েছে। প্রসঙ্গত, এর আগের দিনই তমলুকে কালীপুজোর উদ্বোধন করতে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে পুজোর সূচনা করার পাশাপাশি দেবী বর্গভীমার মন্দিরে পুজো দেওয়ার ইচ্ছাও প্রকাশ (PM Modi) করেছিলেন তিনি।

     

  • TCS: টিসিএস কাণ্ডে নয়া মোড়, মূল অভিযুক্ত নিদা খানকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে চার্জশিটে নাম প্রাক্তন সাংসদ ইমতিয়াজ জলিলের

    TCS: টিসিএস কাণ্ডে নয়া মোড়, মূল অভিযুক্ত নিদা খানকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে চার্জশিটে নাম প্রাক্তন সাংসদ ইমতিয়াজ জলিলের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মহারাষ্ট্রের নাসিকে টিসিএস কার্যালয়ে মহিলা কর্মীদের যৌন হেনস্থা (TCS) এবং ধর্মান্তরের চেষ্টার অভিযোগকে ঘিরে তদন্তে নয়া মোড়। এই ঘটনায় পুলিশের জমা দেওয়া অতিরিক্ত অভিযোগপত্রে অভিযুক্ত হিসেবে নাম উঠল প্রাক্তন সাংসদ তথা অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের (এআইএমআইএম) নেতা ইমতিয়াজ জলিলের। মূল অভিযুক্ত নিদা খান (Nashik Controversy) পুলিশের গ্রেফতারি এড়িয়ে পালিয়ে বেড়ানোর সময় তাঁকে আশ্রয় দেওয়ার ব্যবস্থা করার অভিযোগ উঠেছে জলিলের বিরুদ্ধে। তিনি বর্তমানে মহারাষ্ট্রে এআইএমআইএমের রাজ্য সভাপতি।

    কী বলছে পুলিশ (TCS)

    পুলিশের দাবি, নিদাকে আত্মগোপনে থাকতে সাহায্য করার ঘটনায় জলিলের ভূমিকার প্রমাণ পাওয়ার পর তাঁকে এই মামলার ১১ জন অভিযুক্তের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই বিষয়ে তাঁর বয়ানও নথিভুক্ত করেছে তদন্তকারী দল।

    নাসিক পুলিশের অপরাধ দমন শাখার সহকারী পুলিশ কমিশনার সন্দীপ মিটকে জানিয়েছেন, “সম্ভাজিনগরের প্রাক্তন এআইএমআইএম সাংসদকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে। নিদা খান যখন পুলিশের নাগালের বাইরে ছিলেন, তখন তাঁকে আশ্রয় দেওয়ার ব্যবস্থা করার ঘটনায় জলিলের ভূমিকা সামনে এসেছে। এই বিষয়ে তাঁর বক্তব্যও রেকর্ড করা হয়েছে।”

    এদিকে, শিবসেনা নেতা তথা মহারাষ্ট্রের মন্ত্রিসভার সদস্য সঞ্জয় শিরসাটও এই ঘটনায় জলিলকে নিশানা করেছেন। ৬ নভেম্বর এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি দাবি করেন, “ইমতিয়াজ জলিল এই মামলার অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত। নাসিক পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। তাঁকে জেলে যেতে হবে। সরকার বিষয়টিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে দেখছে এবং পুলিশও সেই অনুযায়ী তদন্ত চালাচ্ছে। জলিলের ফোনের কথোপকথনের রেকর্ড এবং কণ্ঠস্বরের নমুনার সঙ্গে পাওয়া তথ্যের মিল রয়েছে।”

    জলিলের নির্দেশেই সব কিছু!

    শিরসাটের আরও অভিযোগ, “দলের এক পুরপিতা আসলে এই ঘটনায় কেবল দাবার ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছেন। বিষয়টি একদিনে ঘটেনি। নিদা আত্মীয়দের সঙ্গে এখানে ৩৫ দিন ছিলেন। জলিলের নির্দেশেই সব কিছু হয়েছে।”

    অন্যদিকে, এক নির্যাতিতার আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, নাসিকের অতিরিক্ত দায়রা আদালতের বিচারক অমিত খরকারের এজলাসে এই অভিযোগপত্র পেশ করা হয়েছে। দেওলালি ক্যাম্প থানায় দায়ের হওয়া মামলার অভিযোগপত্রে জলিলের নাম অভিযুক্ত হিসেবে রয়েছে। আদালতে তাঁকে হাজির হতে বলা হলেও তিনি হাজির হননি। বিচারকের তরফে সমন জারি হলে তাঁকে আদালতে উপস্থিত হতে হবে অথবা জামিনের আবেদন করতে হবে। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া আইন অনুযায়ী এগোবে।

    তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, নিদাকে যখন পুলিশ খুঁজছিল, তখন মহারাষ্ট্রের মধ্যাঞ্চলে অবস্থিত সম্ভাজিনগরে তাঁকে আশ্রয় দিয়েছিলেন এআইএমআইএমের স্থানীয় পুরপিতা মতিন প্যাটেল। নাসিক থেকে ওই শহরের দূরত্ব প্রায় ২০০ কিলোমিটার। প্যাটেল নরেগাঁও এলাকার জনপ্রতিনিধি। এর আগেও নিদাকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে তাঁকে আটক করেছিল পুলিশ।

    এই সূত্র ধরেই ইমতিয়াজের সঙ্গে মতিন প্যাটেলের যোগাযোগের বিষয়টি তদন্তকারীদের নজরে আসে। ঘটনার প্রায় এক মাস আগে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ৩৫(৩) ধারায় জলিলকে হাজির হওয়ার নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। ৮ অগাস্ট মতিনকে জিজ্ঞাসাবাদের পর হেফাজতে নেওয়া হয়। যে ফ্ল্যাটে নিদা আত্মগোপন করেছিলেন, সেটির মালিক হানিফ খানকেও এই মামলায় অভিযুক্ত (TCS) করা হয়েছে।

    মহিলা কর্মীদের নির্যাতন

    টিসিএসের নাসিক শাখায় মহিলা কর্মীদের নির্যাতন, জোরপূর্বক ধর্মান্তরের চেষ্টা, ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত, শ্লীলতাহানি এবং মানসিক হেনস্থার অভিযোগ নিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে বিশেষ তদন্তকারী দল। এখনও পর্যন্ত মোট ন’টি অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে। এর মধ্যে আটটি অভিযোগ জমা পড়েছে নাসিকের মুম্বই নাকা থানায় এবং একটি অভিযোগ দায়ের হয়েছে দেওলালি ক্যাম্প থানায়।

    তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২২ সালের জুলাই মাস থেকেই ওই কার্যালয়ে এ ধরনের ঘটনা ঘটে আসছিল বলে অভিযোগ। সম্প্রতি আট মহিলা কর্মী প্রকাশ্যে এসে তাঁদের অভিজ্ঞতার কথা জানানোর পর বিষয়টি আরও গুরুত্ব পায়। তাঁদের অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্তের পরিধি বাড়ানো হয়েছে। ইতিমধ্যেই (Nashik Controversy) বিশেষ তদন্তকারী দল এই মামলায় দু’টি অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে। অতিরিক্ত অভিযোগপত্রে ইমতিয়াজের নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় গোটা ঘটনায় নতুন করে চর্চা শুরু (TCS) হয়েছে রাজনৈতিক মহলেও।

     

  • Paraguay: ভয়াবহ আর্থিক সংকটে প্যারাগুয়ে, বিপাকে ৩০ লাখ গ্রাহক! গৃহবন্দি দেশের প্রেসিডেন্ট

    Paraguay: ভয়াবহ আর্থিক সংকটে প্যারাগুয়ে, বিপাকে ৩০ লাখ গ্রাহক! গৃহবন্দি দেশের প্রেসিডেন্ট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভয়াবহ আর্থিক সংকটে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ প্যারাগুয়ে। দেশের অন্যতম বৃহৎ ডিজিটাল ব্যাঙ্ক উয়েনো ব্যাঙ্কের পতনের জেরে প্রায় ৩০ লাখ মানুষ নিজেদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে থাকা অর্থ ব্যবহার করতে পারছেন না। একই সঙ্গে কয়েকশো মিলিয়ন ডলারের সরকারি আমানত ও বিনিয়োগের ভবিষ্যৎও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এই আর্থিক বিপর্যয় ক্রমশ রাজনৈতিক (Paraguay) সংকটের রূপ নিয়েছে। পরিস্থিতির জেরে ইমপিচমেন্টের মুখে পড়ে ক্ষমতাচ্যুত হয়েছেন দেশের প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনা।

    গত ৬ নভেম্বর ইমপিচমেন্টের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় পেনাকে। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই তাঁকে গ্রেফতার করে (President Faces Impeachment) পুলিশ। বর্তমানে তাঁকে গৃহবন্দি রাখা হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার তিনি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু সংসদে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় তাঁর পদত্যাগ কার্যকর হয়নি। পরবর্তীতে দায়িত্বে অনিয়ম এবং ব্যাঙ্কের আর্থিক বিপর্যয়ের সঙ্গে যোগসূত্রের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়া শুরু হয়।

    ইমপিচমেন্টের পক্ষে ভোট (Paraguay)

    সংসদের উচ্চকক্ষে উপস্থিত ৪৪ জন সদস্যই পেনার বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্টের পক্ষে ভোট দেন। দায়িত্ব পালনে গুরুতর ব্যর্থতার অভিযোগে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর দেশের উপ-রাষ্ট্রপতি পেদ্রো আলিয়ানা নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। অন্যদিকে, উয়েনো ব্যাঙ্কের মালিকানাধীন ব্যবসায়িক গোষ্ঠী গ্রুপো ভাসকেসের সঙ্গে পেনার পূর্ববর্তী ব্যবসায়িক সম্পর্কের বিষয়টি সামনে আসায় তাঁর বিরুদ্ধে পৃথক ফৌজদারি তদন্তও শুরু হয়েছে।

    গত ৩ নভেম্বর প্যারাগুয়ের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক উয়েনো ব্যাঙ্কের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয়। নিয়ন্ত্রক সংস্থার পরিদর্শনে দেখা যায়, ব্যাঙ্কটির আর্থিক সক্ষমতার অনুপাত আইন অনুযায়ী নির্ধারিত ন্যূনতম মাত্রার অর্ধেকেরও নীচে নেমে গিয়েছে। এরপরই ব্যাঙ্কটির বিরুদ্ধে বিশেষ নিয়ন্ত্রণমূলক প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। আমানতকারীদের অ্যাকাউন্টে লেনদেন বন্ধ হয়ে যায়। ব্যাঙ্কের শীর্ষ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারির পদক্ষেপ করা হয়। এর প্রতিবাদে এবং নিজেদের সঞ্চয়ের নিরাপত্তার দাবিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্ষোভে সামিল হন সাধারণ মানুষ।

    প্যারাগুয়ের প্রাপ্তবয়স্ক জনসংখ্যার প্রায় ৬০ শতাংশই উয়েনো ব্যাঙ্কের গ্রাহক। ফলে মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করা এই ব্যাঙ্কের বিপর্যয় সাধারণ মানুষের কাছে কার্যত বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো। প্রায় ৩০ লাখ গ্রাহকের সঞ্চয় আটকে যাওয়ার পাশাপাশি সরকারি তহবিলের কয়েকশো মিলিয়ন ডলারের অর্থও ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

    একসময় ছোট একটি আর্থিক সংস্থা হিসেবে যাত্রা শুরু করেছিল এই প্রতিষ্ঠান। কিন্তু পাঁচ বছরেরও কম সময়ে গোটা দেশে নিজেদের ব্যবসা ছড়িয়ে দিতে সক্ষম হয় তারা। ২০২১ সালে গ্রুপো ভাসকেস ফিনানসিয়েরা এল কোমেরসিও অধিগ্রহণ করে। পরবর্তীতে সেটির নাম পরিবর্তন করে ফিনানসিয়েরা উয়েনো রাখা হয়। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে চালু হয় তাদের ডিজিটাল ব্যাঙ্কিং পরিষেবা। ২০২৩ সালে পূর্ণাঙ্গ ব্যাঙ্ক হিসেবে কাজ করার অনুমতি পাওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটির নতুন পরিচয় হয় উয়েনো ব্যাঙ্ক। এরপর ২০২৪ সালে ভিশন ব্যাঙ্ক অধিগ্রহণ ও সংযুক্তিকরণের মাধ্যমে গ্রাহকসংখ্যা এবং ব্যবসার পরিধি আরও বাড়ায় তারা।

    উয়েনো ব্যাঙ্কের পতনের কারণ

    আর্থিক ব্যবস্থাপনায় একাধিক গুরুতর দুর্বলতা এবং ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ প্রদানের সিদ্ধান্তই উয়েনো ব্যাঙ্কের পতনের অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। অভিযোগ, ব্যাঙ্কটি তার মালিকপক্ষের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন সংস্থাকে বিপুল পরিমাণ ঋণ দিয়েছিল। অর্থাৎ, মালিকপক্ষের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলিতে ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে যথাযথ সতর্কতা ও নিয়মনীতি অনুসরণ করা হয়নি (Paraguay)।

    প্যারাগুয়ের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের তদন্তে প্রতিষ্ঠানটির সম্পদ সংক্রান্ত হিসাবনিকাশে একাধিক অসংগতি, পর্যাপ্ত নথিপত্র ছাড়া আর্থিক লেনদেন এবং গ্রুপো ভাসকেসের সঙ্গে যুক্ত সংস্থাগুলিকে দেওয়া ঋণের বিষয়টি উঠে এসেছে। ব্যাঙ্কের হিসাবপত্র খতিয়ে দেখে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, তার মূলধনের পরিমাণ আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ন্যূনতম মাত্রার অর্ধেকেরও নীচে নেমে গিয়েছে। ফলে আর্থিকভাবে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ে।

    এই বিপর্যয়ের প্রভাব পড়েছে প্যারাগুয়ের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকের উপর। উয়েনো ব্যাঙ্কে জমা থাকা প্রায় ৩৮০ মিলিয়ন ডলারের আমানত ও বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শুধু সাধারণ গ্রাহকই নন, ব্যাঙ্কটির মাধ্যমে পেনশন পাওয়া প্রায় ৩২ হাজার অবসরপ্রাপ্ত মানুষও এই সংকটের শিকার হয়েছেন।

    একটি দ্রুত সম্প্রসারিত ডিজিটাল ব্যাঙ্কের আর্থিক বিপর্যয় কীভাবে গোটা দেশের অর্থনীতি ও রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে নাড়িয়ে দিতে (President Faces Impeachment) পারে, প্যারাগুয়ের সাম্প্রতিক ঘটনা তারই বড় উদাহরণ। এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, আমানতকারীরা কবে তাঁদের সঞ্চয়ের টাকা ফেরত পাবেন এবং এই বিপুল আর্থিক ক্ষতির দায় শেষ পর্যন্ত কার উপর (Paraguay) বর্তাবে।

     

  • Nisha Bhagat: ফেসবুক লাইভে প্রশাসন ও হেমন্ত সোরেন সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ, রাঁচিতে আত্মঘাতী আদিবাসী নেত্রী নিশা ভগত

    Nisha Bhagat: ফেসবুক লাইভে প্রশাসন ও হেমন্ত সোরেন সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ, রাঁচিতে আত্মঘাতী আদিবাসী নেত্রী নিশা ভগত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ঝাড়খণ্ডের রাজধানী রাঁচিতে মর্মান্তিক ঘটনা। ফেসবুকে লাইভ সম্প্রচার করার কয়েক মিনিটের মধ্যেই আত্মহত্যা করলেন আদিবাসী নেত্রী তথা সমাজকর্মী নিশা ভগত (Nisha Bhagat)। ৬ নভেম্বরের এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃত্যুর আগে ফেসবুক লাইভে রাজ্যের হেমন্ত সোরেন সরকার এবং প্রশাসনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে মানসিক হেনস্থা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে টার্গেট করার অভিযোগ করেন তিনি। সরকারের অনিয়মের বিরুদ্ধে সরব হওয়ার মূল্য তাঁকে নিজের জীবন দিয়ে চোকাতে (Tribal Woman Suicide Case) হচ্ছে বলেও দাবি করেন নিশা। ওরাঁও আদিবাসী সম্প্রদায়ের সদস্য নিশার আদি বাড়ি ঝাড়খণ্ডের গুমলা জেলায়। ২০২৪ সালের বিধানসভা নির্বাচনে গুমলা কেন্দ্র থেকে ঝাড়খণ্ড লোকতান্ত্রিক ক্রান্তিকারী মোর্চার প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন তিনি। যদিও জয়ী হতে পারেননি। দীর্ঘদিন ধরেই ঝাড়খণ্ডের আদিবাসী সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষায় আন্দোলন করে আসছিলেন নিশা। আদিবাসীদের জমি দখলের সঙ্গে যুক্ত জমি মাফিয়াদের পাশাপাশি ধর্মান্তকরণ কার্যকলাপেরও বিরোধিতা করেছিলেন তিনি।

    সরকারের বিরুদ্ধে নিশার ক্ষোভ (Nisha Bhagat)

    মৃত্যুর কয়েক মিনিট আগে প্রকাশিত প্রায় ১০ মিনিটের ফেসবুক লাইভে কার্যত ভেঙে পড়তে দেখা যায় নিশাকে। সেখানে রাজ্য সরকার ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে তাঁকে এবং তাঁর বাবা-মাকে লাগাতার হেনস্থা করার অভিযোগ করেন তিনি। কান্নায় ভেঙে পড়ে নিশাকে বলতে শোনা যায়, “হেমন্ত সোরেন সরকার এক মহিলাকে অপমান ও অসম্মান করার সমস্ত সীমা অতিক্রম করেছে। আর সহ্য করতে পারছি না। আমার বাবা-মাকে আর কত কষ্ট সহ্য করতে হবে?”

    তাঁর বিরুদ্ধে বিজেপি ও রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের দালাল হওয়ার অভিযোগ তোলা হচ্ছিল বলেও দাবি করেন নিশা। সেই অভিযোগের জবাবে তিনি বলেন, “আমি কারও দালাল নই। নিজের আদিবাসী সমাজের সুরক্ষার জন্যই দীর্ঘদিন ধরে লড়াই করছি।”

    লাইভ সম্প্রচারের সময় বারবার প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, নিজের সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষার লড়াইয়ে কার্যত একা হয়ে পড়েছিলেন তিনি। পিঠোরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিককেও ফোন করেন নিশা। নিজের জীবন শেষ করে দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা তাঁকে জানানোর পাশাপাশি যাঁরা তাঁকে হেনস্থা করছেন এবং সামাজিকভাবে হেয় করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে পুলিশ কোনও ব্যবস্থা নেয়নি বলেও অভিযোগ করেন। এই চরম সিদ্ধান্তের জন্য নিশা সরাসরি ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার সরকার, অজয় তিরকে নামে এক ব্যক্তি এবং স্থানীয় প্রশাসনের লাগাতার হয়রানিকে দায়ী করেন। খবর পেয়ে পুলিশ নিশার বাড়িতে পৌঁছয়। সেখান থেকে তাঁকে উদ্ধার করে রাঁচির হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

    নিশার বাবার অভিযোগ

    নিশার (Nisha Bhagat) মৃত্যুর পর তাঁর বাবা হান্ডু ভগত পিঠোরিয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। অজয় তিরকে, জ্যোৎস্না কেরকেট্টা-সহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে কঠোর আইনি পদক্ষেপ করার দাবি জানিয়েছেন তিনি। পিঠোরিয়া থানার কর্তা সুনীল কুমার দাস অভিযোগপত্রটি গ্রহণ করেছেন।

    হান্ডুর অভিযোগ, সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে তাঁর মেয়েকে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে নিশাকে মানসিক ও সামাজিকভাবে হেনস্থা করা হচ্ছিল। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর সম্মানহানি করা হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মিথ্যা অভিযোগ ছড়ানো হয়েছে।

    নিশার বাবার আরও অভিযোগ, লাগাতার অপমান, হয়রানি ও চরিত্রহননের কারণে তাঁর মেয়ে এমন পরিস্থিতিতে পৌঁছে গিয়েছিলেন যে, বাড়ির বাইরে বেরোতেও ভয় পেতেন।

    আদিবাসীদের অধিকার রক্ষায় দীর্ঘদিনের আন্দোলন

    আদিবাসী সমাজের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় দীর্ঘদিন ধরেই সরব ছিলেন নিশা। তাঁর আন্দোলনের অন্যতম দাবি ছিল আদিবাসীদের জন্য পৃথক সারনা ধর্মীয় পরিচয় ও ধর্মীয় বিধির স্বীকৃতি। জল, জঙ্গল ও জমির অধিকার সুরক্ষিত করা, ছোটনাগপুর প্রজাস্বত্ব আইন এবং সাঁওতাল পরগনা প্রজাস্বত্ব আইনের যথাযথ প্রয়োগ ও পঞ্চায়েত (তফসিলি এলাকায় সম্প্রসারণ) আইন কার্যকর করার (Tribal Woman Suicide Case) দাবিও তুলেছিলেন তিনি।

    আদিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে ধর্মান্তকরণ কার্যকলাপেরও তীব্র বিরোধিতা করতেন নিশা। তাঁর মৃত্যুর (Nisha Bhagat) ঘটনায় ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তাঁর বাবার দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ কী পদক্ষেপ করে, এখন সেটাই দেখার।

     

  • France Unrest Threat: ফ্রান্সে অশান্তি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে, আশঙ্কা প্রাক্তন গোয়েন্দাপ্রধানের

    France Unrest Threat: ফ্রান্সে অশান্তি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে, আশঙ্কা প্রাক্তন গোয়েন্দাপ্রধানের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফ্রান্সে সামাজিক অস্থিরতা আগামী দিনে আরও ঘন ঘন এবং হিংসাত্মক হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করলেন দেশটির প্রাক্তন গোয়েন্দাপ্রধান পিয়ের ব্রোশঁ। তাঁর দাবি, ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ ও দাঙ্গার সময় কট্টর বামপন্থী কর্মী এবং অভিবাসী অধ্যুষিত এলাকার তরুণ মুসলিমদের একসঙ্গে সক্রিয় (France Unrest Threat) হতে দেখা যাচ্ছে। এই দুই গোষ্ঠীর মধ্যে ক্রমবর্ধমান সমন্বয় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন (Mass Migration) তিনি।

    গত সপ্তাহে ফরাসি সংবাদপত্র ল্য ফিগারো-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ব্রোশঁ বলেন, ফ্রান্সের সামাজিক ও জনবিন্যাসগত টানাপোড়েন সম্পর্কে যাঁদের ধারণা রয়েছে, তাঁদের কাছে সাম্প্রতিক হিংসার ঘটনা মোটেই অপ্রত্যাশিত নয়। তাঁর মতে, সাংস্কৃতিক বিচ্ছিন্নতা এবং জাতীয় আনুগত্যের অভাববোধে ভোগা কিছু মানুষের কারণে বারবার চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে দেশের জনশৃঙ্খলা।

    দীর্ঘ কূটনৈতিক জীবনে ব্রোশঁ ইজরায়েল, হাঙ্গেরি ও পর্তুগালে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সাতের দশকে ভিয়েতনামে জুনিয়র কূটনীতিক থাকাকালীন সায়গনের পতনের ঘটনাও প্রত্যক্ষ করেন তিনি। পরবর্তী সময়ে ২০০২ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত ফ্রান্সের বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএসই-র প্রধান ছিলেন এই প্রাক্তন কূটনীতিক।

    দাঙ্গায় সংগঠকের ভূমিকা নিচ্ছে কট্টর বামপন্থী গোষ্ঠীগুলি (France Unrest Threat)

    ব্রোশঁর দাবি, কট্টর বামপন্থী সংগঠনগুলির সাংগঠনিক ক্ষমতাকে তিনি আগে বিশেষ গুরুত্ব দেননি। বিশেষ করে ব্ল্যাক ব্লক এবং অ্যান্টিফা-র মতো গোষ্ঠীগুলি ফ্রান্সের বড় শহরগুলিতে অস্থিরতা তৈরির ক্ষেত্রে ক্রমশ প্রভাবশালী হয়ে উঠেছে। তাঁর মতে, রাস্তায় বিক্ষোভ বা সংঘর্ষের সময় এই সংগঠনগুলি নিজেদের মধ্যে সমন্বয় রেখে কাজ করতে সক্ষম।

    তাঁর ব্যাখ্যা, বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে আদর্শগত মতপার্থক্য থাকলেও নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে তারা কৌশলগতভাবে একসঙ্গে কাজ করতে পারে। কট্টর বামপন্থীরা আন্দোলনের সাংগঠনিক কাঠামো তৈরি করে, অন্যদিকে অংশগ্রহণকারীদের একাংশ সংখ্যার জোর এবং রাস্তায় সংঘর্ষের শক্তি জোগায়।

    অর্থাৎ, এটি কোনও ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক আন্দোলন নয়, বরং স্বার্থের প্রয়োজনে গড়ে ওঠা সাময়িক সমঝোতা। ব্রোশঁর মতে, অভিন্ন আদর্শ না থাকলেও এই ধরনের সমন্বয় বিক্ষোভকে দীর্ঘস্থায়ী বিশৃঙ্খলায় পরিণত করতে পারে। ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ফরাসি প্রশাসন ও পুলিশের সামনে চ্যালেঞ্জ আরও বাড়বে।

    এই পরিস্থিতি বোঝাতে প্রাক্তন চিনা প্রধানমন্ত্রী চৌ এন লাইয়ের নামে প্রচলিত একটি মন্তব্যের উল্লেখ করেছেন ব্রোশঁ। তাঁর কথায়, “তারা একই বিছানায় ঘুমোয়, কিন্তু তাদের স্বপ্ন এক নয়।”

    সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ছে তরুণ মুসলিমরাও

    ব্রোশঁর দাবি, প্রতিবাদী ছাত্রছাত্রী এবং অভিজ্ঞ দাঙ্গাকারীরা কট্টর বামপন্থীদের আন্দোলনের প্রথম সারির শক্তি হিসেবে কাজ করছে। তাঁদের অনেকেই ইউরোপীয় মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে আসা। অন্যদিকে, অভিবাসী অধ্যুষিত শহরতলির তরুণ মুসলিমদেরও পরবর্তী পর্যায়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়তে দেখা যাচ্ছে বলে তাঁর অভিযোগ।

    সাম্প্রতিক বিক্ষোভ ও দাঙ্গার বিভিন্ন দৃশ্যের উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, জনতার মুখে বারবার আরবি শব্দ “ওয়াল্লাহ” শোনা গিয়েছে। শব্দটির অর্থ, “আল্লাহর নামে শপথ করছি।” সাক্ষাৎকারে মুসলিম অভিবাসন এবং ফরাসি সমাজে তাঁদের একীভূত হওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে (France Unrest Threat)।

    ব্রোশঁর বর্ণনা অনুযায়ী, একটি দিনের মধ্যেই কীভাবে বিক্ষোভের চরিত্র বদলে যেতে পারে, তার একটি ধারাবাহিক চিত্র রয়েছে। প্রথমে স্থানীয় বাসিন্দাদের শান্তিপূর্ণ মিছিল হতে পারে। এরপর কট্টর বামপন্থী কর্মীদের একাংশ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাঙচুরে জড়িয়ে পড়তে পারে। পরবর্তী পর্যায়ে শহরতলির তরুণ মুসলিমদের একাংশ লুটপাটে অংশ নিতে পারে বলে তাঁর দাবি।

    এই প্রক্রিয়াকে তিনি বহুস্তরীয় মহাকাশযানের সঙ্গে তুলনা করেছেন। যেখানে একের পর এক জ্বালানি-সহায়ক অংশ মহাকাশযানকে গতি জোগায় এবং কাজ শেষ হলে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তাঁর বক্তব্য, বিভিন্ন গোষ্ঠীকে একই সময়ে সক্রিয় হতে হবে, এমন কোনও প্রয়োজন নেই। তাদের পর্যায়ক্রমিক অংশগ্রহণই অশান্তিকে দীর্ঘায়িত করার পক্ষে যথেষ্ট।

    রাষ্ট্রের প্রতি আস্থার সংকট

    ফ্রান্সের ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে মুসলিম অভিবাসন এবং জনসংখ্যার পরিবর্তন ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে মনে করেন ব্রোশঁ। তাঁর দাবি, আগামী বছরগুলিতে ফ্রান্সের জনসংখ্যায় ইউরোপের বাইরের দেশগুলি থেকে আসা জনগোষ্ঠীর প্রভাব বাড়বে। এর ফলে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া দুই গোষ্ঠীর মধ্যে দূরত্বও ক্রমশ কমতে পারে।

    জনসংখ্যা সংক্রান্ত কিছু পূর্বাভাসের উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, ২০৪০ সালের মধ্যে ফ্রান্সে ইউরোপের বাইরের জনগোষ্ঠীর শিশু জন্মের হার মোট জন্মের সংখ্যার অর্ধেকের বেশি হতে পারে। ২০৭০ সালের মধ্যে দেশের মোট জনসংখ্যার ক্ষেত্রেও এই জনগোষ্ঠী সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়ে উঠতে পারে বলে তাঁর পূর্বাভাস। তাঁর মতে, এই জনবিন্যাসগত পরিবর্তন দেশের ভবিষ্যৎকে গভীরভাবে প্রভাবিত করবে। একই সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনাপূর্ণ সামাজিক পরিবেশে হিংসাত্মক সংঘর্ষের ঘটনা আরও ঘন ঘন এবং তীব্র হতে পারে। বিষয়টিকে নিছক আশঙ্কা নয়, বরং নিশ্চিত পরিণতি হিসেবেই দেখছেন তিনি।

    ফ্রান্সে হিংসা ও লুটপাটের ঘটনা রাষ্ট্রের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা দুর্বল করে দিতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন প্রাক্তন গোয়েন্দাপ্রধান। তাঁর বক্তব্য, নাগরিকরা কর দেন মূলত এই আশায় যে রাষ্ট্র তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখবে। কিন্তু প্রশাসন যদি সেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ বলে প্রতীয়মান হয়, তা হলে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলির প্রতি মানুষের বিশ্বাসে চিড় ধরতে পারে।

    সামাজিক আস্থার বিরুদ্ধে গণবিধ্বংসী অস্ত্র

    এই আস্থার সংকটকে ব্যাঙ্ক থেকে একযোগে আমানত তুলে নেওয়ার পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করেছেন ব্রোশঁ। তাঁর কথায়, হিংসা হল সামাজিক আস্থার বিরুদ্ধে গণবিধ্বংসী অস্ত্র। আর সামাজিক আস্থাই সম্মিলিত কল্যাণের মূল ভিত্তি। তাঁর সতর্কবার্তা, হিংসার শিকার মানুষের সংখ্যা একটি নির্দিষ্ট সীমা অতিক্রম করলে রাষ্ট্রের প্রতি মানুষের বিশ্বাস পুনরুদ্ধার করা অত্যন্ত কঠিন, এমনকী অসম্ভবও হয়ে উঠতে পারে।

    সাম্প্রতিক বামপন্থী ও ইসলামপন্থী গোষ্ঠীগুলির সংশ্লিষ্টতায় সংঘটিত অশান্তির মধ্যেও সংযম বজায় রাখার জন্য সাধারণ ফরাসি নাগরিকদের প্রশংসা করেছেন ব্রোশঁ। তাঁর মতে, পুলিশের নানা সীমাবদ্ধতা এবং হিংসা ও লুটপাটের চাপ সত্ত্বেও অধিকাংশ মানুষ নিজের হাতে আইন তুলে নেওয়া থেকে বিরত থেকেছেন।

    পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে

    তবে এই সংযমকে চিরস্থায়ী বলে ধরে নেওয়া উচিত নয় বলেও সতর্ক করেছেন তিনি। তাঁর আশঙ্কা, সাধারণ মানুষ যদি মনে করতে শুরু করেন যে রাষ্ট্র তাঁদের নিরাপত্তা দিতে অক্ষম এবং নিজেদের সুরক্ষার দায়িত্ব তাঁদের নিজেদেরই নিতে হবে, তা হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ ও অপূরণীয় পরিণতির দিকে এগোতে পারে।

    সব মিলিয়ে ব্রোশঁর সতর্কবার্তা, কট্টর বামপন্থীদের সাংগঠনিক তৎপরতা, অভিবাসী অধ্যুষিত শহরতলির তরুণদের একাংশের সংঘর্ষে অংশগ্রহণ এবং ক্রমবর্ধমান জনবিন্যাসগত পরিবর্তন—এই তিনের সম্মিলিত প্রভাবে ফ্রান্সের জনশৃঙ্খলা ও সামাজিক সংহতি আগামী দিনে বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে (France Unrest Threat)।

    উল্লেখ্য, জনসংখ্যা পরিবর্তন, অভিবাসন এবং ভবিষ্যৎ সংঘর্ষ নিয়ে ব্রোশঁ যে পূর্বাভাস দিয়েছেন, সেগুলি তাঁর ব্যক্তিগত মূল্যায়ন ও আশঙ্কা। এগুলিকে (Mass Migration) প্রতিষ্ঠিত পরিসংখ্যানগত সত্য বা নিশ্চিত ভবিষ্যৎ হিসেবে দেখার অবকাশ নেই বলেই মত সংশ্লিষ্ট মহলের।

     

LinkedIn
Share