Tag: bangla khabar

bangla khabar

  • FCRA Bill: ১২ অগাস্ট সংসদে উঠছে বিদেশি অনুদান (নিয়ন্ত্রণ) সংশোধনী বিল! কী কী প্রস্তাব রয়েছে নয়া বিলে?

    FCRA Bill: ১২ অগাস্ট সংসদে উঠছে বিদেশি অনুদান (নিয়ন্ত্রণ) সংশোধনী বিল! কী কী প্রস্তাব রয়েছে নয়া বিলে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বহুল আলোচিত বিদেশি অনুদান (নিয়ন্ত্রণ) সংশোধনী বিল, ২০২৬ (FCRA Amendment Bill, 2026) আগামী ১২ অগাস্ট সংসদে আলোচনা ও পাসের জন্য তোলা হবে। তবে বিলটি পূর্ববর্তী সময় (Retrospective Effect) থেকে কার্যকর করা হবে না বলে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আশ্বাস দিয়েছেন। সংসদ ভবনে সাংবাদিকদের এ কথা জানান মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রী লালদুহোমা। মিজোরামের বিভিন্ন চার্চ সংগঠনের প্রতিনিধিদের নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-এর সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী লালদুহোমা। বৈঠকে তাঁরা প্রস্তাবিত এফসিআরএ সংশোধনী বিল নিয়ে নিজেদের উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন। লালদুহোমা বলেন, “আমরা নতুন এফসিআরএ বিল নিয়ে আমাদের আশঙ্কার কথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে জানিয়েছি। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, এই বিল অতীত থেকে কার্যকর হবে না।” তিনি আরও জানান, অমিত শাহ তাঁদের বলেছেন যে ১২ অগাস্ট সংসদে বিলটি নিয়ে আলোচনা হবে। উল্লেখ্য, বিলটি চলতি বছরের ২৫ মার্চ লোকসভায় উত্থাপিত হয়েছিল।

    বিলে কী কী প্রস্তাব রয়েছে

    প্রস্তাবিত সংশোধনী বিলে বিদেশি অনুদানপ্রাপ্ত সংস্থাগুলির ওপর নজরদারি আরও কঠোর করার প্রস্তাব রয়েছে। বিল অনুযায়ী, যে সংস্থার এফসিআরএ লাইসেন্স বাতিল হবে, স্বেচ্ছায় জমা দেবে বা মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে, তাদের বিদেশি অনুদান এবং সেই অর্থে তৈরি সম্পদ প্রথমে একটি ‘ডিজাইনেটেড অথরিটি’-র অধীনে অস্থায়ীভাবে ন্যস্ত হবে। যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সংস্থা নতুন লাইসেন্স না পায় বা লাইসেন্স পুনর্বহাল না হয়, তাহলে সেই সম্পদ ও বিদেশি অনুদান স্থায়ীভাবে ওই কর্তৃপক্ষের অধীনে চলে যাবে।

    প্রতি বছর হিসেব জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক

    বিদেশি অনুদান (এফসিআরএ) সংক্রান্ত নিয়ম আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে নতুন সংশোধনী এনেছে কেন্দ্র। প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো (পিআইবি)-র প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিদেশি অনুদান গ্রহণে কোনও নিষেধাজ্ঞা নয়, বরং সেই অর্থ কোথা থেকে এল, কীভাবে খরচ হল এবং তার হিসেব যাতে স্পষ্ট থাকে, সেটাই এই আইনের মূল উদ্দেশ্য। কেন্দ্রের দাবি, বিদেশি অনুদান গ্রহণ করতে হলে সংস্থাগুলিকে এফসিআরএ-র অধীনে নিবন্ধন করতে হবে এবং নির্দিষ্ট ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে অনুদান নিতে হবে। প্রতি বছর নিরীক্ষিত হিসেব জমা দেওয়াও বাধ্যতামূলক।

    বিস্তারিত তথ্য, ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে

    ২০২৬ সালের সংশোধনীতে বলা হয়েছে, কোনও সংস্থা কোন ধরনের কাজ করবে এবং কোন রাজ্যে কাজ করবে, তা আগে থেকেই জানাতে হবে। নিবন্ধন নবীকরণের জন্য গত দুই বছরে অন্তত ১০ লক্ষ টাকা প্রকল্পে খরচের প্রমাণ দেখাতে হবে। পাশাপাশি, প্রকল্পভিত্তিক ব্যয়ের বিস্তারিত তথ্য, ওয়েবসাইট এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্যও প্রকাশ করতে হবে। কেন্দ্রের বক্তব্য, এই সংশোধনের লক্ষ্য বিদেশি অনুদানের অপব্যবহার রোধ করা, জাতীয় নিরাপত্তা সুরক্ষিত রাখা এবং প্রকৃত জনকল্যাণমূলক কাজকে আরও স্বচ্ছভাবে পরিচালনা করা। সরকারের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন-সহ বহু দেশেও বিদেশি অর্থায়নের ক্ষেত্রে একই ধরনের নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা রয়েছে।

  • PM Modi’s Foreign Tours: মোদির বিদেশ সফরে প্রতি এক টাকা খরচের বিনিময়ে ৬৬ হাজার টাকা এফডিআই এসেছে ভারতে, রাজ্যসভায় হিসেব দিল কেন্দ্র

    PM Modi’s Foreign Tours: মোদির বিদেশ সফরে প্রতি এক টাকা খরচের বিনিময়ে ৬৬ হাজার টাকা এফডিআই এসেছে ভারতে, রাজ্যসভায় হিসেব দিল কেন্দ্র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিদেশ সফর নিয়ে সংসদে বড় তথ্য দিল কেন্দ্রীয় সরকার। গত পাঁচ বছরে প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরের খরচের তুলনায় বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে অনেক বেশি। কেন্দ্রের দাবি, ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিদেশ সফরে কেন্দ্রের মোট ব্যয় হয়েছে ৪৮২.৯২ কোটি। একই সময়ে, অর্থাৎ এপ্রিল ২০২১ থেকে ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত ভারতে এসেছে ৩৮১.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা প্রায় ৩১.৬৯ লক্ষ কোটি প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (FDI)। চলতি বছরে একাধিক দেশে সফর করেছেন প্রধানমন্ত্রী। সেই সফরে কত টাকা খরচ হয়েছে, তা রাজ্যসভায় স্পষ্ট করেছে কেন্দ্র। ২০২৬ সালে এখনও পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বিদেশ সফরে খরচ হয়েছে প্রায় ৭৪.৫ কোটি।

    কোথায় কত টাকা থরচ হয়েছে

    বিদেশ মন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে আমেরিকা, ব্রিটেন, ফ্রান্স ও চিন-সহ মোট ২৩টি দেশ সফরে ১৮০ কোটিরও বেশি টাকা খরচ হয়েছে। ২০২১ সাল থেকে মোট ৭৪টি বিদেশ সফরে খরচ হয়েছে ৫৫০ কোটি টাকা। ২০১৪ থেকে ২০১৮ এই চার বছরে প্রধানমন্ত্রীর বিদেশযাত্রায় খরচ হয়েছিল প্রায় ২ হাজার কোটি। ২০২০ থেকে ২০২৫-এই পাঁচ বছরে খরচ কমে দাঁড়ায় ২৫৮ কোটি। সে তুলনায় ২০২১ সাল থেকে প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরের খরচ কমেছে। ২০২১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিদেশ সফরের খরচ এবং এই সফরগুলির জেরে দেশে আসা প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের পরিসংখ্যানও তুলে ধরা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাজ্যসভায় এক লিখিত উত্তরে বিদেশ মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী পবিত্র মার্ঘেরিটা জানান, চলতি বছরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মোট ৬টি সরকারি বিদেশ সফরে গিয়েছেন। এই সফরগুলিতে তিনি ১৩টি দেশে সফর করেছেন এবং তাতে সরকারি কোষাগার থেকে খরচ হয়েছে ৭৪.৫ কোটি টাকা।

    কত টাকা এফডিআই এসেছে

    কেন্দ্রের তরফে যে হিসেব দেওয়া হয়েছে তাতে বলা হয়, ডলার প্রতি ৮৩ টাকা বিনিময় হার ধরে হিসেব করলে দেখা যায়, বিদেশ সফরে প্রতি ১ টাকা খরচের বিপরীতে গড়ে প্রায় ৬৫,৬২০, অর্থাৎ প্রায় ৬৬ হাজার টাকা এফডিআই এসেছে। ভারতীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৩১.৬৯ লক্ষ কোটি। তবে এটি শুধুমাত্র একটি গাণিতিক তুলনা। সরকারের পক্ষ থেকে কোথাও দাবি করা হয়নি যে, প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরের ফলেই এই বিনিয়োগ এসেছে বা দুইয়ের মধ্যে সরাসরি কোনও কারণ-ফল সম্পর্ক রয়েছে।

    বিদেশ সফরে কত খরচ হয়েছে

    করোনা মহামারির পর ভারতের আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরের ব্যয়ও ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

    ২০২১: ৩টি বিদেশ সফর, ব্যয় ৩৬.১২ কোটি
    ২০২২: ৭টি সফর, ব্যয় ৫৫.৮৩ কোটি
    ২০২৩: ৬টি সফর, ব্যয় ৯৩.৬৩ কোটি
    ২০২৪: ১১টি সফর, ব্যয় ১০৯.৫১ কোটি
    ২০২৫: ১১টি সফর, ব্যয় ১৮৭.৮৩ কোটি

    সব মিলিয়ে ২০২১ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত ৩৮টি বিদেশ সফরে মোট ব্যয় হয়েছে ৪৮২.৯২ কোটি। এছাড়া ২০২৬ সালে এখনও পর্যন্ত বিদেশ সফরে ৭৪.৫৯ কোটি ব্যয়ের তথ্য প্রকাশ করেছে সরকার। তবে এই অঙ্ক চূড়ান্ত নয়। জুন মাসের ফ্রান্স সফরের ব্যয় এখনও সংকলনের পর্যায়ে রয়েছে এবং কয়েকটি দেশের সফরের বিল নিষ্পত্তির কাজ বাকি রয়েছে।

    বিদেশ সফরের গুরুত্ব নিয়ে সরকারের বক্তব্য

    বিদেশ মন্ত্রক (MEA) রাজ্যসভায় জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর উচ্চপর্যায়ের বিদেশ সফর বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ভারতের দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার একটি প্রতিষ্ঠিত কূটনৈতিক মাধ্যম। সরকারের মতে, এসব সফরের সময় স্বাক্ষরিত বিভিন্ন চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক (MoU) বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, উদ্ভাবন এবং স্থিতিশীল সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

    একাধিক ক্ষেত্রে মউ স্বাক্ষর

    সংসদে জানানো হয়েছে, ২০২১ সালের পর থেকে প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরগুলিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), ডিজিটাল প্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য শক্তি, প্রতিরক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, মহাকাশ, দক্ষতা উন্নয়ন, সেমিকন্ডাক্টর, টেলিযোগাযোগ, সমালোচনামূলক খনিজ, গ্রিন হাইড্রোজেন, স্টার্টআপ সহযোগিতা, পারমাণবিক শক্তি এবংইউপিআই-সহ ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার সংক্রান্ত একাধিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি, ইন্দোনেশিয়া, ব্রাজিল, ভুটান, সাইপ্রাস, ইথিওপিয়া ও গায়ানাসহ একাধিক দেশের সঙ্গে এই চুক্তিগুলি হয়েছে। সরকারের দাবি, এসব উদ্যোগ ভারতের দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ও কৌশলগত সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে।

    ২০২৫ সালের সবচেয়ে ব্যয়বহুল সফর

    সরকার জানিয়েছে, ২০২৫ সালে প্রধানমন্ত্রী মোদির আমেরিকা সফর ছিল সবচেয়ে ব্যয়বহুল। ওই সফরে ২৫.৫ কোটিরও বেশি সরকারি টাকা খরচ হয়েছিল। আর ২০২৬ সালে এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ব্যয় হয়েছে নরওয়ে সফরে। যেখানে মোট খরচের পরিমাণ গিয়ে দাঁড়ায় প্রায় ১৭ কোটি। প্রধানমন্ত্রী মোদির বিদেশ সফরের ব্যয় এবং তার বিনিময়ে দেশের অর্থনীতি কতটা লাভবান হয়েছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে। কেন্দ্রের দাবি, এই সফরগুলির মাধ্যমে ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্ক, বাণিজ্য এবং বিদেশি বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্য ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

  • Bhawana Kanth: ভারতের প্রথম মহিলা ‘টপ গান’ ফাইটার পাইলট! ইতিহাস গড়লন বায়ুসেনার স্কোয়াড্রন লিডার ভাবনা কান্ত

    Bhawana Kanth: ভারতের প্রথম মহিলা ‘টপ গান’ ফাইটার পাইলট! ইতিহাস গড়লন বায়ুসেনার স্কোয়াড্রন লিডার ভাবনা কান্ত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় বায়ুসেনার (IAF) স্কোয়াড্রন লিডার ভাবনা কান্ত আবারও ইতিহাস গড়লেন। ভারতীয় বায়ুসেনার প্রথম মহিলা ফাইটার পাইলট হিসেবে ‘ফাইটার কমব্যাট লিডার (Fighter Combat Leader – FCL) কোর্স’ সফলভাবে সম্পন্ন করলেন ভাবনা। মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়রে অবস্থিত ট্যাকটিক্স অ্যান্ড এয়ার কমব্যাট ডেভেলপমেন্ট এস্টাবলিশমেন্ট (TACDE)-এ অনুষ্ঠিত এই প্রশিক্ষণকে আইএএফ-এর অন্যতম কঠিন ও মর্যাদাপূর্ণ উন্নত যুদ্ধবিমান প্রশিক্ষণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ২০ সপ্তাহব্যাপী এই কোর্সে শুধুমাত্র নির্বাচিত ফাইটার পাইলটদের অংশগ্রহণের সুযোগ থাকে। সফলভাবে এই প্রশিক্ষণ শেষ করলে সংশ্লিষ্ট পাইলটরা আকাশপথে কঠিন যুদ্ধাভিযানে নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেন।

    শীর্ষ যুদ্ধকৌশল বিশেষজ্ঞদের তালিকায় ভাবনা

    ট্যাকটিক্স অ্যান্ড এয়ার কমব্যাট ডেভেলপমেন্ট এস্টাবলিশমেন্টকে ভারতীয় বায়ুসেনার প্রধান ফাইটার ট্যাকটিক্স প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে গণ্য করা হয়। এর মর্যাদা অনেকটা মার্কিন নৌবাহিনীর বিখ্যাত ‘টপ গান’ (Strike Fighter Tactics Instructor Programme)-এর সমতুল্য। এখানে উন্নত যুদ্ধকৌশল, মিশন পরিকল্পনা, আকাশ থেকে আকাশ এবং আকাশ থেকে ভূমিতে হামলার কৌশল, পাশাপাশি উচ্চ-তীব্রতার সামরিক অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়ার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রশিক্ষক হিসেবে থাকেন ভারতীয় বায়ুসেনার সবচেয়ে অভিজ্ঞ ফাইটার পাইলট ও এয়ার কন্ট্রোলাররা। এই প্রশিক্ষণ পেয়ে ভারতীয় বায়ুসেনার শীর্ষ যুদ্ধকৌশল বিশেষজ্ঞদের তালিকায় স্থান করে নিলেন ভাবনা।

    কে এই স্কোয়াড্রন লিডার ভাবনা কান্ত?

    বিহারের দারভাঙার বাসিন্দা ভাবনা কান্ত একজন ইঞ্জিনিয়ারিং স্নাতক। ২০১৬ সালের জুন মাসে তিনি ভারতের প্রথম মহিলা ফাইটার পাইলটদের ব্যাচের সদস্য হিসেবে ভারতীয় বায়ুসেনায় কমিশনপ্রাপ্ত হন। তাঁর সঙ্গে একই ব্যাচে ছিলেন অবনী চতুর্বেদী এবং মোহনা সিং। সামরিক বিমানচালনায় নারীদের অগ্রযাত্রায় ভাবনা কান্ত একাধিক ঐতিহাসিক মাইলফলক স্থাপন করেছেন। ২০১৯ সালে তিনি প্রথম ভারতীয় মহিলা ফাইটার পাইলট হিসেবে দিনের বেলায় যুদ্ধবিমান পরিচালনার অনুমোদন পান। প্রথমে তিনি মিগ ২১ বাইসন উড়িয়েছেন, পরে এসইউ-৩০ এমকেআই যুদ্ধবিমান ওড়ান। ২০২১ সালে তিনি প্রথম মহিলা ফাইটার পাইলট হিসেবে প্রজাতন্ত্র দিবসের প্যারেডে অংশ নেন। এরপর ২০২৪ সালের প্রজাতন্ত্র দিবসের ফ্লাইপাস্টেও তিনি অংশগ্রহণ করেন। আর এবার ফাইটার কমব্যাট লিডার কোর্স সফলভাবে সম্পন্ন করে ভারতীয় বায়ুসেনায় নারীদের নেতৃত্ব ও যুদ্ধক্ষমতার ইতিহাসে আরও একটি নতুন অধ্যায় যোগ করলেন। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ভাবনা কান্তের এই সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত কৃতিত্ব নয়, বরং ভারতীয় বায়ুসেনায় নারীদের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণ, দক্ষতা এবং নেতৃত্বের সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক।

  • Mohan Bhagwat on Reservation: বৈষম্য না মিটলে সংরক্ষণ চলবে, উন্নীতদের স্বেচ্ছায় সুবিধা ছাড়ার আহ্বান মোহন ভাগবতের

    Mohan Bhagwat on Reservation: বৈষম্য না মিটলে সংরক্ষণ চলবে, উন্নীতদের স্বেচ্ছায় সুবিধা ছাড়ার আহ্বান মোহন ভাগবতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশে জাতিভিত্তিক সংরক্ষণ (Mohan Bhagwat on Reservation) নিয়ে নতুন করে বিতর্ক এবং বিভিন্ন রাজ্যে আন্দোলনের আবহে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করলেন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত। তিনি বলেন, “যতদিন সামাজিক বৈষম্য থাকবে, ততদিন সংরক্ষণও চলবে।” তবে যাঁরা সংরক্ষণের সুবিধা নিয়ে সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে উন্নতি করেছেন, তাঁদের উচিত উদারতার পরিচয় দিয়ে সেই সুবিধা ছেড়ে দেওয়া, যাতে একই সম্প্রদায়ের আরও পিছিয়ে থাকা মানুষ উপকৃত হতে পারেন। মুম্বইয়ের নীতা মুকেশ আম্বানি কালচারাল সেন্টার (NMACC)-এ এক অনুষ্ঠানে আনুমানিক ২,০০০ তরুণ-তরুণীর উপস্থিতিতে এই মন্তব্য করেন আরএসএসের সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবত।

    ‘আম্বেদকরের দৃষ্টিভঙ্গিতেই সংরক্ষণকে দেখতে হবে’

    শিক্ষা ও চাকরিতে সংরক্ষণ অনির্দিষ্টকাল চলবে কি না—এই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে ভাগবত বলেন, বিষয়টি ড. ভীমরাও রামজি আম্বেদকরের দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী দেখা উচিত। তাঁর কথায়, “সংরক্ষণ সামাজিক কারণে চালু হয়েছে। যতদিন সমাজে বৈষম্য থাকবে, ততদিন সংরক্ষণও থাকবে। সংরক্ষণের মাধ্যমে যাঁদের জীবনযাত্রার উন্নতি হয়েছে, তাঁদের উচিত স্বেচ্ছায় এই সুবিধা ছেড়ে দেওয়া, যাতে একই সম্প্রদায়ের আরও পিছিয়ে থাকা মানুষ সুযোগ পান।” তিনি জানান, সংরক্ষণপ্রাপ্তদের একাংশের মধ্যেই এমন মানসিকতা গড়ে উঠছে যে, সংরক্ষণ কোনও স্থায়ী ব্যবস্থা নয়; এর সুফল নিয়ে নিজেদের উন্নত করার পর অন্যদের জন্য সুযোগ ছেড়ে দেওয়া উচিত। এই মানসিকতাকে উৎসাহিত করারও আহ্বান জানান তিনি।

    উপ-শ্রেণিবিন্যাসের পক্ষে মত

    সংরক্ষিত শ্রেণির মধ্যে উপ-শ্রেণিবিন্যাস (Sub-categorisation) নিয়ে ওঠা দাবির প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেন আরএসএস প্রধান। তাঁর মতে, এর উদ্দেশ্য হল সংরক্ষণের সুবিধা যাতে প্রকৃত প্রাপকদের কাছে পৌঁছায়। তিনি উল্লেখ করেন, এই বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টও মতামত দিয়েছে। ভাগবতের বক্তব্য, সংরক্ষণকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা উচিত নয়। সরকার যদি আন্তরিকভাবে কল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে, তবে দ্রুত সামাজিক বৈষম্য কমবে এবং একসময় সংরক্ষণের প্রয়োজনও শেষ হবে। তার আগে সংরক্ষণ তুলে দেওয়ার প্রশ্ন ওঠা উচিত নয়।

    ‘রাজনীতিকরণই সমস্যার মূল’

    সংরক্ষণ নিয়ে রাজনীতির সমালোচনা করে মোহন ভাগবত বলেন, এটি মূলত সামাজিক ঐক্য প্রতিষ্ঠার জন্য চালু করা হয়েছিল। কিন্তু রাজনৈতিক স্বার্থে বিষয়টিকে ব্যবহার করায় সমাজে বিভাজন তৈরি হয়েছে। তাঁর কথায়, “ব্যবস্থাটি ভুল নয়। কিন্তু যারা এটিকে ব্যবহার করছে, তারা ভুলভাবে ব্যবহার করছে। এই প্রবণতা না বদলালে পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে না।” রাজস্থান, মহারাষ্ট্র, উত্তরপ্রদেশ ও অন্ধ্রপ্রদেশে সংরক্ষণ নীতির পর্যালোচনা বা সংশোধনের দাবিতে বিক্ষোভের আবহে সংঘ প্রধানের এই মত খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

  • Mohan Bhagwat on Gen-Z: ‘জেন জি যুক্তি চায়, প্রতিবাদ গণতন্ত্রেরই অংশ’ আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান সম্ভব, বার্তা মোহন ভাগবতের

    Mohan Bhagwat on Gen-Z: ‘জেন জি যুক্তি চায়, প্রতিবাদ গণতন্ত্রেরই অংশ’ আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান সম্ভব, বার্তা মোহন ভাগবতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের তরুণ প্রজন্ম বা জেন-জি রা যদি নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরে, তাহলে সেটিকে কেবল বিরোধিতা হিসেবে দেখা উচিত নয়। তাদের উদ্বেগ, প্রত্যাশা এবং সমস্যাগুলি সহানুভূতির সঙ্গে বোঝা এবং সমাধানের চেষ্টা করা সমাজ ও প্রশাসনের দায়িত্ব। আন্দোলন কিংবা প্রতিবাদ করলেই নতুন প্রজন্মকে ‘দেশ-বিরোধী’ (Anti-National) দেগে দেওয়ার প্রবণতাকে প্রত্যাখ্যান করলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (RSS) প্রধান মোহন ভগবত (Mohan Bhagwat)। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, আজকের ‘জেন জি’ (Gen Z) বা নতুন প্রজন্ম যদি নিজেদের অধিকারের দাবিতে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করে, তার অর্থ এই নয় যে তারা দেশবিরোধী। ওরা দেশের ভবিষ্যৎ। একটি সুস্থ গণতন্ত্রের ভিত্তি হলো সংলাপ, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং গঠনমূলক অংশগ্রহণ। সমাজ ও রাষ্ট্র যদি যুবসমাজের আকাঙ্ক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে তাদের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলে, তবে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান আরও শক্তিশালী হবে।

    জেন জি ও জেন আলফা দেশের ভবিষ্যৎ

    বৃহস্পতিবার মুম্বইয়ে এক অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে আরএসএস প্রধান (Mohan Bhagwat on Gen-Z) বর্তমান প্রজন্মের চিন্তাভাবনার প্রশংসা করে বলেন, ‘‘আমরা যখন ওদের বয়সে ছিলাম, তখন প্রবীণদের কথা চোখ বন্ধ করে শুনে নিতাম। প্রশ্ন করার সাহস বা মানসিকতা ছিল না। কিন্তু আজকের জেন জি যুক্তিসহ উত্তর চায়। তারা না বুঝে কোনও কিছু মেনে নিতে প্রস্তুত নয়।’’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘‘যদি জেন জি কোনও বিষয়ে প্রতিবাদ জানায়, তবে তারা দেশবিরোধী, এমন তো নয়। তারা আমাদেরই পরিবার, আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম। আমি মনে করি, আমাদের প্রজন্মের চেয়ে এই নতুন প্রজন্ম – জেন জি এবং জেন আলফা (Gen Alpha) অনেক বেশি সৎ। দেশপ্রেম ও সেবার সৎ বার্তা ওদের ওপর সবচেয়ে বেশি কাজ করে।’’

    সংলাপকেই সর্বপ্রথম গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান

    সমাজে মতভেদ বা অসন্তোষের পরিস্থিতিতে সংলাপকেই সর্বপ্রথম গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানালেন আরএসএসের সরসংঘচালক ড. মোহন ভাগবত। তাঁর বক্তব্য, প্রতিবাদ গণতন্ত্রের একটি স্বীকৃত মাধ্যম হলেও তা যেন সমাজে বিভাজন সৃষ্টি না করে, বরং ঐকমত্য গড়ে তোলার পথে সহায়ক হয়। সম্প্রতি মুম্বইয়ে ইন্ডিয়াস ইন্টারন্যাশনাল মুভমেন্ট টু ইউনাইট নেশনস (IIMUN)-এর একটি অনুষ্ঠানে জেন-জি প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নিয়ে ড. ভাগবত এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ভারতের প্রাচীন ‘শাস্ত্রার্থ’-এর ঐতিহ্যে বিরোধী মত (পূর্বপক্ষ) এবং তার জবাব (উত্তরপক্ষ)—উভয়কেই সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়। মতপার্থক্য দেখা দিলে আলোচনার মাধ্যমেই সমাধানের চেষ্টা করা উচিত বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    তরুণদের প্রতিবাদ করা ভুল নয়

    ড. ভাগবতের মতে, তরুণদের প্রতিবাদ করা ভুল নয়। তবে প্রতিবাদের উদ্দেশ্য, পদ্ধতি এবং আচরণ যেন মর্যাদাপূর্ণ ও দায়িত্বশীল হয়। তিনি বলেন, ভারতীয় সংবিধানের প্রণেতা ড. ভীমরাও রামজি আম্বেডকরও সাংবিধানিক মূল্যবোধ ও সঠিক নীতির ভিত্তিতে আন্দোলন পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছিলেন। তিনি আরও বলেন, কোনও আন্দোলনের লক্ষ্য কোনও ব্যক্তি, সম্প্রদায় বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে হওয়া উচিত নয়; বরং প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক ও নীতিগত সংস্কারের উদ্দেশ্যেই আন্দোলন হওয়া উচিত। এদিন আনুমানিক দুই হাজার জেন জি ও জেন আলফা প্রজন্মের শিক্ষার্থীর সঙ্গে মতবিনিময় করেন ড. ভাগবত। ‘‘বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ করতে যুবসমাজের ভূমিকা: ভারতীয় দৃষ্টিভঙ্গি’’ শীর্ষকর্ষ এই অনুষ্ঠানে দেশের ১০০-রও বেশি শহর থেকে ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সি শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়।

    সোশাল মিডিয়া নিষিদ্ধ কেন

    সোশাল মিডিয়ার ক্রমবর্ধমান প্রভাব, তরুণ প্রজন্মের পরিবর্তিতর্তি রোল মডেল এবং শিশু-কিশোরদের জন্য সামাজিক মাধ্যমের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নেও এদিন গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন মোহন ভাগবত। সংঘ প্রধানের মতে, সোশাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করাই সমস্যার সমাধান নয়; বরং সমাজের মধ্যে আত্মনিয়ন্ত্রণ, সচেতনতা ও মূল্যবোধ গড়ে তোলাই প্রকৃত পথ। মোহন ভাগবত বলেন, ‘‘সোশাল মিডিয়ার সঠিক ব্যবহারই আসল বিষয়। নিয়ম তৈরি করা এবং শৃঙ্খলা আনা প্রয়োজন, কিন্তু মানুষের মানসিকতার পরিবর্তনর্ত না হলে শুধু আইন করে কোনও লাভ হবে না। সমাজই প্রকৃত আইন।’’ তিনি বলেন, ‘‘প্রতিটি যুগে রোল মডেল পরিবর্তিত হয়। তবে যাঁদের লক্ষ লক্ষ মানুষ অনুসরণ করেন, তাঁদের আরও বেশি দায়িত্বশীল হওয়া উচিত। যদি আমার দশ লক্ষ অনুসারী থাকে, তাহলে আমার দায়িত্ব তাঁদের ভুল পথে পরিচালিত না করা। এটিই প্রকৃত প্রজ্ঞা।’’

    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) অপব্যবহার

    সোশাল মিডিয়ায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) অপব্যবহারের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন আরএসএস প্রধান। তাঁর কথায়, বর্তমান প্রযুক্তির সাহায্যে কারও মুখ, কণ্ঠস্বর বা বক্তব্য নকল করে ভুয়ো ভিডিও তৈরি করা সম্ভব। তাই যে কোনও তথ্য বিশ্বাস করার আগে অবশ্যই নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে তা যাচাই করা উচিত। ড. ভাগবত বলেন, ‘‘নতুন যুগের এই মাধ্যম ব্যবহারে আত্মনিয়ন্ত্রণ ও আত্মশৃঙ্খলা অত্যন্ত জরুরি। শুধুজেন জি নয়, গোটা সমাজকেই এই অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। বড়রা নিজেরা তা মেনে চললে তবেই তরুণ প্রজন্মও সেই শিক্ষা গ্রহণ করবে।’’ সোশাল মিডিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করে তিনি বলেন, ‘‘কোনও কিছু নিষিদ্ধ করলে তা কালোবাজারে আরও বেশি ছড়িয়ে পড়ে। তাই নিষেধাজ্ঞা কোনও সমাধান নয়। এর সমাধান সমাজের ভেতর থেকেই আসতে হবে, শুধু সরকারের ওপর নির্ভর করলে হবে না।’’

  • WhatsApp: হোয়াটসঅ্যাপে বড় পরিবর্তন, ভারতে শুরু বয়স যাচাই পরীক্ষা! ডিপিডিপি আইনের আগে চাপে মেটা

    WhatsApp: হোয়াটসঅ্যাপে বড় পরিবর্তন, ভারতে শুরু বয়স যাচাই পরীক্ষা! ডিপিডিপি আইনের আগে চাপে মেটা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হোয়াটঅ্যাপ (WhatsApp) বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম। ব্যক্তিগত চ্যাট থেকে অফিসের কাজ…সব ক্ষেত্রেই এই অ্যাপের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। তবে, এবার হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারে বয়স (WhatsApp Age Restriction) বাধা হতে পারে। সম্প্রতি, ব্যবহারকারীর কাছে একটি নোটিফিকেশন আসছে। সেখানে তাঁদের জন্মতারিখ দিতে বলা হচ্ছে। এরপর থেকেই জোর জল্পনা শুরু হয়েছে, ভবিষ্যতে কি ভারতে বয়স যাচাই বাধ্যতামূলক করতে চলেছে হোয়াটসঅ্যাপ? যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি। তবে সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, ভারতে নির্বাচিত কিছু ব্যবহারকারীর জন্য বয়স যাচাই (Age Verification) ব্যবস্থা পরীক্ষামূলকভাবে চালু করেছে হোয়াটসঅ্যাপ।

    কেন বয়স যাচাই

    হোয়াটসঅ্যাপের অফিসিয়াল সাপোর্ট পেজ অনুযায়ী, ব্যবহারকারীরা অ্যাকাউন্ট খোলার সময় বা নির্দিষ্ট কিছু ফিচার ব্যবহার করার সময় সংস্থা বয়স বা জন্মতারিখ জানতে চাইতে পারে। প্রয়োজনে বয়স যাচাইয়ের জন্য অতিরিক্ত তথ্যও চাওয়া হতে পারে। সংস্থার দাবি, এই তথ্য সংগ্রহের মূল উদ্দেশ্য হল বিভিন্ন দেশের আইনি নিয়ম মেনে চলা এবং ব্যবহারকারীদের বয়স অনুযায়ী পরিষেবা দেওয়া। উল্লেখ্য, ২০২৭ সালের ১৩ মে থেকে কার্যকর হতে চলা ডিজিটাল পার্সোনাল ডেটা প্রোটেকশন (DPDP) আইন মেনে চলার প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ বলে মনে করা হচ্ছে। নতুন আইন কার্যকর হলে অপ্রাপ্তবয়স্কদের ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহারে প্রযুক্তি সংস্থাগুলির উপর কঠোর নিয়ম প্রযোজ্য হবে। হোয়াটসঅ্যাপের মূল সংস্থা মেটা জানিয়েছে, এই পরীক্ষামূলক ব্যবস্থা ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতায় কোনও পরিবর্তন আনবে না। তবে এর মাধ্যমে ১৮ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীদের শনাক্ত করা সহজ হবে এবং তাদের তথ্য ব্যবহারের আগে অভিভাবকের যাচাইকৃত সম্মতি নেওয়া সম্ভব হবে।

    ডিপিডিপি আইনে কী বদলাবে?

    নতুন আইনের আওতায় হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, এক্স-সহ সমস্ত বড় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে ১৮ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীর তথ্য প্রক্রিয়াকরণের আগে অভিভাবকের সম্মতি নিতে হবে।

    আইনে আরও বলা হয়েছে—

    শিশুদের অনলাইন আচরণ পর্যবেক্ষণ বা ট্র্যাক করা যাবে না।
    ১৮ বছরের কম বয়সীদের লক্ষ্য করে টার্গেটেড বিজ্ঞাপন দেখানো নিষিদ্ধ হবে।
    ব্যবহারকারী নিবন্ধন, পরিচয় যাচাই এবং তথ্য সংরক্ষণের পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন আনতে হবে প্রযুক্তি সংস্থাগুলিকে।

    তথ্যপ্রযুক্তি সচিব এস কৃষ্ণন বলেন, হোয়াটসঅ্যাপের এই বয়স যাচাই প্রক্রিয়া সম্ভবত ডিপিডিপি আইনের প্রস্তুতির অংশ। আইন কার্যকর হওয়ার আগে সংস্থার বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া সরকার খতিয়ে দেখবে।

    মেটার উপর বাড়ছে সরকারি নজর

    বয়স যাচাই পরীক্ষার পাশাপাশি আরও কয়েকটি কারণে মেটা বর্তমানে কেন্দ্রের নজরে রয়েছে। সরকার হোয়াটসঅ্যাপের প্রস্তাবিত ইউজারনেম ফিচার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এই ফিচার চালু হলে মোবাইল নম্বর প্রকাশ না করেও ব্যবহারকারীরা একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন। নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রক দিক থেকে এর প্রভাব খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে মেটার চিফ গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স অফিসার জোয়েল কাপলান-সহ সংস্থার শীর্ষ প্রতিনিধিদের সঙ্গে নয়াদিল্লিতে কেন্দ্রের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি ফেসবুক পোস্ট সাময়িকভাবে সীমাবদ্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনাও এই বৈঠকে আলোচনায় আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

    হঠাৎ অ্যাকাউন্ট ‘রিভিউ’-তে, ব্যাখ্যা হোয়াটসঅ্যাপের

    সম্প্রতি ভারত-সহ একাধিক দেশে হাজার হাজার হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্ট হঠাৎ ‘Account in review’ অবস্থায় চলে যায়। প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত অনেকেই বার্তা পাঠানো বা কল করতে পারেননি। স্ক্রিনে একটি বার্তায় জানানো হয়, ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্ট কার্যকলাপ ও ডিভাইস সংক্রান্ত তথ্য পর্যালোচনা করা হচ্ছে। ঘটনায় সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। অনেক ব্যবহারকারী দাবি করেন, তাঁরা কোনও নিয়ম লঙ্ঘন করেননি। এর জবাবে হোয়াটসঅ্যাপ জানায়, অপব্যবহার রোধে তাদের স্বয়ংক্রিয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা সন্দেহজনক অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করে। তবে কখনও কখনও সেই স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থায় ভুল হতে পারে। সংস্থার দাবি, সমস্যাটি দ্রুত সমাধান করে অধিকাংশ ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্ট পুনরায় সচল করা হয়েছে।

    শিশুদের গোপনীয়তা রক্ষায় নতুন অধ্যায়

    এর মধ্যে রয়েছে—উল্লেখ্য, অস্ট্রেলিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সিদের জন্য ফেসবুক,ইনস্টাগ্রাম,টিকটক,স্ন্যাপচাট,এক্স,ইউটিউব ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। যদিও সেখানে হোয়াটসঅ্যাপ এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে ভারত যদি এ ধরনের নিয়ম আনে, তাহলে হোয়াটসঅ্যাপের পাশাপাশি টেলিগ্রাম,সিগনাল, ইনস্টাগ্রাম এবং স্ন্যাপচ্যাটের মতো প্ল্যাটফর্মগুলিকেও বয়স যাচাইয়ের ব্যবস্থা চালু করতে হতে পারে। তবে, এই মুহূর্তে ভারত সরকার বা হোয়াটসঅ্যাপ, কোনও পক্ষই এমন কোনও নতুন নিয়মের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেনি। তবে ভারতে ডিপিডিপি আইন কার্যকর হতে আর এক বছরেরও কম সময় বাকি। ফলে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে হোয়াটসঅ্যাপ-সহ বড় প্রযুক্তি সংস্থাগুলি বয়স যাচাই, অভিভাবকের সম্মতি সংগ্রহ এবং শিশুদের তথ্য সুরক্ষার জন্য নতুন ব্যবস্থা চালু করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, হোয়াটসঅ্যাপের এই পরীক্ষামূলক উদ্যোগ ভবিষ্যতে অন্যান্য সামাজিক মাধ্যম কীভাবে ভারতের নতুন তথ্য সুরক্ষা আইন মেনে চলবে, তার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে।

  • Chandipura Virus: গুজরাটে বহু শিশুর মৃত্যু, দেশজুড়ে উদ্বেগ! কী এই চাঁদিপুরা ভাইরাস? জানুন লক্ষণ, ঝুঁকি ও সতর্কতা

    Chandipura Virus: গুজরাটে বহু শিশুর মৃত্যু, দেশজুড়ে উদ্বেগ! কী এই চাঁদিপুরা ভাইরাস? জানুন লক্ষণ, ঝুঁকি ও সতর্কতা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বর্ষার মরশুমে সামান্য জ্বর আর সর্দিতে কমবেশি সকলেই ভোগেন। পরিবারের খুদে সদস্যের জ্বর বা সর্দি হলেও তাই অভিভাবকেরা হালকা ভাবেই নেন। কিন্তু চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, সম্প্রতি এক ভাইরাসের দাপটে আতঙ্ক বাড়ছে। বর্ষার মরশুমে জ্বর-সর্দি-কাশি হলেও বাড়তি নজরদারি জরুরি। কারণ, দেশজুড়ে দাপট বাড়াচ্ছে চাঁদিপুরা ভাইরাস! তাই বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।

    চাঁদিপুরা ভাইরাস কী?

    চাঁদিপুরা ভাইরাস একটি বিরল এবং বিপজ্জনক ভাইরাস। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এটা ১৯৬৫ সালে মহারাষ্ট্রের চাঁদিপুর এলাকায় প্রথম দেখা গিয়েছিলো। এই ভাইরাসে আক্রান্ত হলে মস্তিষ্ক এবং স্নায়ুতন্ত্রের উপরে গভীর প্রভাব পড়ে।

    কেন চাঁদিপুরা ভাইরাস আতঙ্ক বাড়াচ্ছে?

    সম্প্রতি গুজরাট এবং মহারাষ্ট্রে চাঁদিপুরা ভাইরাসের দাপট দেখা গিয়েছে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, গুজরাটে ২২ জন শিশু এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছে। মহারাষ্ট্রেও এই ভাইরাসের সংক্রমণের দাপট বাড়ছে। তাই দেশ জুড়ে সতর্কতা থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, প্রথম থেকেই এই বিপজ্জনক ভাইরাস থেকে সতর্ক না হলে সমস্যা তৈরি হতে পারে।

    কাদের ঝুঁকি বেশি?

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, চাঁদিপুরা ভাইরাসে মূলত শিশুরাই আক্রান্ত হয়। ১৫ বছরের কম বয়সি ছেলেমেয়েদের এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। সাম্প্রতিক সময়েও গুজরাট এবং মহারাষ্ট্রে এই ভাইরাসে আক্রান্তেরা সকলেই ১৫ বছরের কম বয়সি। তাই শিশুদের বাড়তি সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা।

    কীভাবে এই সংক্রমণ ঘটে?

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, বালির মাছি বা স্যান্ড ফ্লাই থেকে চাঁদিপুরা ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। গুজরাট এবং মহারাষ্ট্রের যে অঞ্চলে এই রোগের প্রকোপ বেশি দেখা গিয়েছে, সেখানে স্যান্ড ফ্লাইয়ের দাপট বেশি। তবে যে কোনও রকম পোকা, যা মানুষকে সহজে কামড়াতে পারে, কামড়ে রক্ত বেরিয়ে যায়, এই ধরনের পোকার মাধ্যমে মানুষ এই ভাইরাস সংক্রমণের শিকার হতে পারেন‌। তবে বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, একজনের দেহ থেকে আরেক জনের দেহে দ্রুত এই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে না। তাই সতর্ক থাকলে মহামারির ঝুঁকি হবে না।

    কেন বাড়তি আতঙ্ক এই ভাইরাসে?

    শিশুরোগ বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন, চাঁদিপুরা ভাইরাস স্নায়ু ও মস্তিষ্কের উপরে প্রভাব ফেলে। আক্রান্তের মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা চলে যায়। স্নায়বিক জটিলতা তৈরি হয়। রোগ নির্ণয় হলেও চিকিৎসা অত্যন্ত জটিল। তাঁরা জানাচ্ছেন, চাঁদিপুরা ভাইরাসের নির্দিষ্ট কোনও অ্যান্টিবায়োটিক নেই। নির্দিষ্ট কোনও চিকিৎসা পদ্ধতিও নেই। তবে আক্রান্তের উপসর্গ কমানোর চেষ্টা করা হয়। মস্তিষ্কের সক্রিয়তা যাতে বন্ধ না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা হয়। আর স্নায়বিক জটিলতা কমানোর চেষ্টা চলে। এই রোগের নির্দিষ্ট চিকিৎসা এবং ওষুধ না থাকার জেরেই এই রোগ নিয়ে বাড়তি উদ্বিগ্ন চিকিৎসক মহল।

    কী পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা?

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, এই ধরনের সংক্রামক রোগ রুখতে সচেতনতা জরুরি। সন্তানের জ্বর হলে তার বাড়তি খেয়াল রাখতে হবে। জ্বরের সঙ্গে খিঁচুনি, বার বার বমি হওয়া, অতিরিক্ত ক্লান্তি বোধ করছে কিনা কিংবা স্নায়বিক কোনও জটিলতা দেখা দিচ্ছে কিনা সেদিকে নজরদারি প্রয়োজন। জ্বরের সঙ্গে খিঁচুনি বা জ্ঞান হারানোর মতো উপসর্গ দেখা দিলে আর দেরি করা যাবে না। বরং দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া জরুরি। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, এই রোগের নির্দিষ্ট ওষুধ নেই।‌ তাই যাতে শরীরের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ সক্রিয় থাকে, তাই আগাম চিকিৎসা শুরু জরুরি। না হলে বড় বিপদ হয়ে যেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, এই মরশুমে রোগ থেকে বাঁচতে হাত ও পা ঢাকা জামা কাপড় পরা জরুরি। কোনও রকম পোকা যাতে কামড়াতে না পারে, সেদিকেও‌ খেয়াল রাখতে হবে। রাতে মশারি টাঙিয়ে ঘুমোনোর পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

  • Assam Floods: অসম বন্যায় ত্রাণ ও উদ্ধারকাজে সংঘ, ৩৭৮টি গ্রামের ৪০ হাজারের বেশি পরিবারকে সহায়তা আরএসএস-এর

    Assam Floods: অসম বন্যায় ত্রাণ ও উদ্ধারকাজে সংঘ, ৩৭৮টি গ্রামের ৪০ হাজারের বেশি পরিবারকে সহায়তা আরএসএস-এর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অসমের পূর্বাঞ্চলে ভয়াবহ বন্যায় (Assam Floods) ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (RSS in Assam) ও সংঘ-ঘনিষ্ঠ বিভিন্ন সংগঠন। সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এখনও পর্যন্ত ১,৯১২ জন স্বয়ংসেবক ৩৭৮টি গ্রামের মোট ৪০,১৬৮টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে বিভিন্ন ধরনের সহায়তা পৌঁছে দিয়েছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শিবসাগর, চরাইদেও এবং জোরহাট জেলা। বন্যার জেরে হাজার হাজার পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে। খাদ্য, বিশুদ্ধ পানীয় জল, নিরাপদ আশ্রয় এবং জরুরি চিকিৎসা পরিষেবার তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

    বিভিন্ন জেলায় সহায়তা শিবির

    আরএসএসের (RSS in Assam) বিবৃতি অনুযায়ী, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে স্বয়ংসেবকেরা উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ, ঘরবাড়ি পরিষ্কার এবং পুনর্গঠনের কাজে নিয়োজিত রয়েছেন। শিবসাগর জেলার বেতবাড়ি এলাকার কাকতি গাঁও, ২ নম্বর কনওয়ার গাঁও, নেপালি খুঁটি, বিহুবার এবং চেতিয়া কৈবর্ত গ্রাম থেকে প্রায় ২০০ জনকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এছাড়াও সুন্দর পুখুরি, বামুন পুখুরি, গেলেকি এবং রাজাবাড়ি এলাকার দুর্গতদের রান্না করা খাবার, বিশুদ্ধ পানীয় জল, ওষুধ, পোশাক এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। জোরহাট জেলার এলেংমোরা, কাটিরাম চুক, কুলাই চুক, নালিয়া চুক, শেনচোয়া চুক এবং চারিঘোরিয়া চুক এলাকাতেও ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। সেখানে চাল, চিনি, পোরিজ, শুকনো খাবার, শিশু খাদ্য, বিস্কুট, লবণ, বিশুদ্ধ পানীয় জল, আলু, পোশাক, বিছানাপত্র, মোমবাতি, সাবান, ফিটকিরি, ওষুধ এবং মশা প্রতিরোধক কয়েল বিতরণ করা হয়েছে বলে সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

    ৫০টিরও বেশি স্বাস্থ্য শিবির

    আরএসএস এর তরফে আরও জানানো হয়েছে, ন্যাশনাল মেডিকোস অর্গানাইজেশন (এনএমও)-এর সহযোগিতায় বন্যাকবলিত (Assam Floods) এলাকায় ৫০টিরও বেশি মেডিক্যাল ক্যাম্প আয়োজন করা হয়েছে। চিকিৎসকরা দুর্গতদের প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রদান করছেন। সংগঠনের দাবি, প্রথমদিকে ছোট নৌকার মাধ্যমে দুর্গত এলাকায় পৌঁছে খাদ্য ও পানীয় জল সরবরাহ করা হয়। পরে প্রবীণ, মহিলা, শিশু এবং অসুস্থদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। বর্তমানে উত্তর অসম প্রান্তের স্বয়ংসেবকেরা দুর্গত পরিবারগুলিকে বিভিন্নভাবে সহায়তা করছেন। পাশাপাশি গবাদি পশুর জন্য খাদ্য ও ওষুধ সরবরাহ এবং কৃষকদের ধান রোপণে সহায়তার কাজও চলছে। আরএসএস ও সেবা ভারতীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মানবসেবাই তাদের মূল লক্ষ্য।

  • Varanasi Cricket Stadium: ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মেলবন্ধন! ভগবান শিবের অনুপ্রেরণায় তৈরি হচ্ছে বারাণসীর অত্যাধুনিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম

    Varanasi Cricket Stadium: ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মেলবন্ধন! ভগবান শিবের অনুপ্রেরণায় তৈরি হচ্ছে বারাণসীর অত্যাধুনিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের অন্যতম প্রাচীন ও পবিত্র শহর বারাণসীতে তৈরি হচ্ছে এক অনন্য আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেট স্টেডিয়াম, যার নকশার মূল অনুপ্রেরণা ভগবান শিব ও কাশীর আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির লোকসভা কেন্দ্র বারাণসীতে নির্মীয়মাণ এই স্টেডিয়াম শুধু ক্রিকেটের জন্যই নয়, স্থাপত্যশৈলী ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের কারণেও দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় ক্রীড়া পরিকাঠামো হয়ে উঠতে চলেছে। প্রস্তাবিত স্টেডিয়ামের নকশায় আধুনিক ক্রীড়া পরিকাঠামোর সঙ্গে কাশীর ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অনন্য মেলবন্ধন ঘটানো হয়েছে। স্টেডিয়ামের বিভিন্ন অংশে ভগবান শিবের প্রতীকী উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে, যা একে দেশের অন্যান্য ক্রিকেট স্টেডিয়াম থেকে আলাদা পরিচিতি দেবে।

    শিব-প্রেরণায় অনন্য স্থাপত্য

    আরও এক আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম পাচ্ছে উত্তরপ্রদেশ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নিজের লোকসভা কেন্দ্র বারাণসীতে অত্যাধুনিক এই স্টেডিয়ামটি তৈরি হবে বেলপাতার আদলে। বারাণসী, যা কাশী বা মহাদেবের শহর নামেও পরিচিত, সেই ঐতিহ্যকে সামনে রেখেই স্টেডিয়ামের নকশা তৈরি করা হয়েছে। আধুনিক স্থাপত্যের পাশাপাশি শিবের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন প্রতীককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যাতে স্টেডিয়ামটি কেবল একটি ক্রীড়া ভেন্যু নয়, বরং কাশীর সাংস্কৃতিক পরিচয়ের প্রতীক হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত হয়।

    ডমরু আকৃতির মিডিয়া সেন্টার

    স্টেডিয়ামের অন্যতম আকর্ষণ হবে ডমরু-আকৃতির মিডিয়া সেন্টার। ভগবান শিবের অন্যতম প্রতীক ডমরুর আদলে তৈরি এই ভবন সাংবাদিক, সম্প্রচার সংস্থা এবং অন্যান্য গণমাধ্যমের কার্যক্রম পরিচালনার কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হবে। একই সঙ্গে এটি স্টেডিয়ামের স্থাপত্যে একটি স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করবে।

    ত্রিশূলের আদলে ৬৫ মিটার উঁচু ফ্লাডলাইট

    স্টেডিয়ামের ফ্লাডলাইট টাওয়ারগুলিও বিশেষভাবে নজর কাড়বে। প্রায় ৬৫ মিটার উঁচু এই টাওয়ারগুলি ত্রিশূলের আদলে নির্মাণ করা হচ্ছে। রাতের ম্যাচে আলোকিত অবস্থায় এই টাওয়ারগুলি স্টেডিয়ামের সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে তুলবে এবং কাশীর আধ্যাত্মিক আবহকে ফুটিয়ে তুলবে।

    গঙ্গার ঘাটের অনুপ্রেরণায় ৩২ হাজার আসন

    প্রায় ৩২ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতা সম্পন্ন স্টেডিয়ামের গ্যালারির নকশা গঙ্গার বিখ্যাত ঘাটগুলির আদলে তৈরি করা হচ্ছে। এতে দর্শকরা ক্রিকেট ম্যাচ উপভোগের পাশাপাশি কাশীর ঐতিহ্যবাহী পরিবেশের অনুভূতিও পাবেন। সব মিলিয়ে এই স্টেডিয়াম তৈরিতে খরচ ৪৫১ কোটি টাকা ধার্য্য করা হয়েছে। জমি অধিগ্রহণ করতে যোগী আদিত্যনাথ সরকারের খরচ হয়েছে ১২১ কোটি টাকা। স্টেডিয়াম তৈরির জন্য ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বরাদ্দ করেছে ৩৩০ কোটি টাকা।

    বর্ষাতেও দ্রুত ম্যাচের জন্য প্রস্তুত

    আধুনিক প্রযুক্তিতে নির্মিত এই স্টেডিয়ামের অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য হলো, বৃষ্টির পর মাত্র প্রায় ৩০ মিনিটের মধ্যেই মাঠকে ম্যাচের জন্য প্রস্তুত করা সম্ভব হবে। বর্ষাকালে ক্রিকেট আয়োজনের ক্ষেত্রে এটি বড় সুবিধা দেবে বলে মনে করা হচ্ছে। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ম্যাচের জন্য ১৪টি পিচ রাখা হয়েছে। এছাড়াও বৃষ্টির পর মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যে মাঠ খেলার জন্য প্রস্তুত করার মতো আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা রয়েছে।

    পর্যটন ও অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব

    আন্তর্জাতিক মানের এই স্টেডিয়াম চালু হলে বারাণসীতে দেশ-বিদেশের ক্রিকেটপ্রেমী, পর্যটক, সম্প্রচার সংস্থা এবং ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আনাগোনা বাড়বে। এর ফলে স্থানীয় পর্যটন, হোটেল, পরিবহণ ও ব্যবসায়িক ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কানপুর এবং লখনউয়ের পর এই স্টেডিয়াম হবে উত্তরপ্রদেশের তৃতীয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম। উপর থেকে ওই স্টেডিয়াম দেখতে লাগবে অর্ধচন্দ্রের মতো। যেমন মহাদেবের জটায় থাকে অর্ধচন্দ্র।

    ঐতিহ্য ও আধুনিকতার নতুন প্রতীক

    গঙ্গার ঘাট, প্রাচীন মন্দির ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের জন্য বিশ্বজোড়া পরিচিত বারাণসীতে এই ক্রিকেট স্টেডিয়াম আধুনিক ভারতের নতুন প্রতীক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে। শিব-অনুপ্রাণিত স্থাপত্য, বিশ্বমানের ক্রীড়া পরিকাঠামো এবং কাশীর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সমন্বয়ে এটি ভবিষ্যতে দেশের অন্যতম দর্শনীয় ক্রীড়া স্থাপনা হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে। স্টেডিয়ামটি উত্তরপ্রদেশকে ক্রীড়ার পাওয়ার হাউস বানানোর একটি নিদর্শন হতে চলেছে।

    কাজ প্রায় শেষের পথে

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নিজের শহর আমেদাবাদে তাঁরই নামাঙ্কিত বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রিকেট স্টেডিয়াম রয়েছে। এবার তাঁর নিজের নির্বাচনী কেন্দ্র বারাণসীতে একটি আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেট স্টেডিয়াম হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী মোদি মনে করেন, ক্রিকেটের মাধ্যমে সারা বিশ্বের সঙ্গে ভারতের সংযোগ স্থাপন হচ্ছে। অনেক দেশ নতুন করে ক্রিকেট খেলা শুরু করছে। এই স্টেডিয়াম হচ্ছে মহাদেবের শহরে। মহাদেবকেই এই স্টেডিয়াম উৎসর্গ করা হচ্ছে। কাশীতে আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম হলে এখানকার ক্রীড়াবিদদের উপকার হবে। বারাণসীর (বেনারস) গঞ্জারিতে নির্মাণাধীন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামটির নির্মাণ কাজ প্রায় শেষের পথে। এই প্রজেক্টের ডিরেক্টর সরোজ শুক্লা জানান, ট্রায়াল বা প্রদর্শনী ম্যাচ হিসেবে এটি ২০২৬ সালের শেষের দিকে চালু হতে পারে। শীতের সময়ে ডিসেম্বরে এখানে একটি পরীক্ষামূলক ম্যাচ খেলার কথা চলছে। ২০২৭ সালে প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। আইসিসি তথা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের সব নিয়ম মেনেই এই অভিনব স্টেডিয়াম তৈরি হচ্ছে।

     

     

     

     

     

  • India: বিদেশে পালিয়েও রেহাই নেই, ৩৬ দেশ থেকে ভারতে ফেরানো হয়েছে ২৭৪ পলাতককে, জানাল কেন্দ্র

    India: বিদেশে পালিয়েও রেহাই নেই, ৩৬ দেশ থেকে ভারতে ফেরানো হয়েছে ২৭৪ পলাতককে, জানাল কেন্দ্র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিদেশে পালিয়ে গিয়ে আইনের হাত থেকে দীর্ঘদিন রেহাই পাওয়ার দিন শেষ হতে (India) চলেছে। বিজয় মাল্যর লন্ডনে পৌঁছে যাওয়া, ব্রিটেনে নীরব মোদির বিরুদ্ধে দীর্ঘ আইনি লড়াই কিংবা আমেরিকা থেকে ২৬/১১ মুম্বই হামলায় অভিযুক্ত তাহাউর হুসেন রানাকে ভারতে প্রত্যর্পণের দীর্ঘ প্রক্রিয়া—এই ধরনের ঘটনায় বহুদিন ধরেই দেশে প্রশ্ন উঠেছে, বিদেশে পালিয়ে যাওয়া (Fugitives) অপরাধীদের কি আদৌ ভারতীয় আইনের আওতায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব? দীর্ঘদিন ধরে নরেন্দ্র মোদি সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, বিদেশে পালিয়ে যাওয়া অপরাধীদের দেশে ফেরাতে সরকারের প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও কৌশলের অভাব রয়েছে। তবে সংসদে পেশ করা সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান সেই ধারণার সম্পূর্ণ ভিন্ন ছবি তুলে ধরেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ থেকে ২০২৬ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত ৩৬টি দেশ থেকে ২৭৪ জন পলাতক অপরাধীকে ভারতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আর্থিক অপরাধী, সন্ত্রাসবাদে অভিযুক্ত, সংগঠিত অপরাধী, গ্যাং সদস্য এবং খুন, ধর্ষণ, পকসো আইন লঙ্ঘন, মাদক পাচার ও সাইবার অপরাধের মতো গুরুতর মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা।

    মামলা চলত বছরের পর বছর (India)

    লন্ডন, দুবাই, কানাডা, আমেরিকা কিংবা অন্য কোনও দেশে বসে থাকা অপরাধীরা বহু বছর ধরে ভারতীয় আইনের নাগালের বাইরে থেকে যেতেন। আদালতে মামলা চলত বছরের পর বছর, ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় থাকতেন ভুক্তভোগীরা। অন্যদিকে তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে বিদেশি সরকারের সঙ্গে লাগাতার চিঠিপত্র চালাচালি করতে হত। সময় যত গড়াত, মামলার নথি ততই বাড়ত, এবং অনিশ্চয়তাও গভীর হত। ফলে দেশে বারবার প্রশ্ন উঠত—বিদেশের মাটি থেকে কি আদৌ অপরাধীদের ফিরিয়ে আনতে পারবে ভারত? এই জায়গায়ই মোদি সরকারের বিরুদ্ধে ব্যর্থতার অভিযোগ উঠেছিল। সমালোচকদের দাবি ছিল, দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া অপরাধীদের ফিরিয়ে আনার মতো দৃঢ়তা সরকারের নেই। কিন্তু সরকারের পেশ করা তথ্য বলছে অন্য কথা। সরকারের দাবি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দিকনির্দেশনায় ২০১৪ থেকে ২০২৬ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত ৩৬টি দেশ থেকে ২৭৪ জন পলাতক অপরাধীকে ভারতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

    আগের ব্যবস্থার দুর্বলতাই ছিল বড় বাধা

    সংসদে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালের আগে ভারতের প্রত্যর্পণ ব্যবস্থায় একাধিক সমস্যা ছিল। প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত আইনগুলি অনেকটাই পুরনো হয়ে গিয়েছিল এবং বর্তমান সময়ের প্রয়োজনের সঙ্গে সেগুলির সামঞ্জস্য ছিল না। অর্থনৈতিক অপরাধীদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার জন্য নির্দিষ্ট আইনও ছিল না। বিভিন্ন মন্ত্রক ও তদন্তকারী সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের ক্ষেত্রেও কাঠামোগত ঘাটতি ছিল। বিদেশি আদালতে জমা দেওয়া নথি অনেক সময় অসম্পূর্ণ থাকত। বিভিন্ন দেশের আলাদা আইনি কাঠামো ও নিয়ম মেনে নথি তৈরির জন্য কোনও অভিন্ন ব্যবস্থা ছিল না। এর ফলে ২০০৪ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর গড়ে মাত্র চারজন পলাতককে ভারতে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছিল। একই সময়ে ১১০টি প্রত্যর্পণ অনুরোধ ঝুলে ছিল। অনেক ক্ষেত্রে “দ্বৈত অপরাধ” এবং “একই অপরাধে দু’বার বিচার না করার নীতি”-র মতো আইনি যুক্তিতে ভারতের আবেদন খারিজ হয়ে যেত। ফলে বহু অভিযুক্ত বছরের পর বছর বিদেশের মাটিতে আইনের নাগালের বাইরে থেকে যেতেন।

    রাজনৈতিক সদিচ্ছায় বদলেছে কৌশল

    সরকারের দাবি, ২০১৪ সালের পর পলাতক অপরাধীদের দেশে ফেরানোর বিষয়টিকে নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখা শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে এই বিষয়টিকে জাতীয় অগ্রাধিকারের পর্যায়ে নিয়ে আসা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দিকনির্দেশনায় গড়ে তোলা হয় তিনটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ—বিশ্বব্যাপী অভিযান, শক্তিশালী সমন্বয় এবং কৌশলী কূটনীতি।এর ভিত্তিতে বিদেশমন্ত্রক, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা, রাজ্য পুলিশ, আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা এবং বিদেশি সরকারের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগের ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। প্রত্যর্পণের আবেদনও আগের তুলনায় আরও পেশাদার পদ্ধতিতে তৈরি করা শুরু হয়। যে দেশের আদালতে আবেদন করা হচ্ছে, সেই দেশের নির্দিষ্ট আইনি প্রয়োজন অনুযায়ী নথি প্রস্তুত করা হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী লিখিত নিশ্চয়তাও দেওয়া হয়, যাতে বিদেশি আদালতে ভারতের বক্তব্য আরও কার্যকরভাবে তুলে ধরা যায়।

    অর্থনৈতিক অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন

    বিদেশে পালিয়ে যাওয়া বড় অর্থনৈতিক অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পলাতক অর্থনৈতিক অপরাধী আইন প্রণয়ন করা হয়। এই আইনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের সম্পত্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার শক্তিশালী আইনি ভিত্তি তৈরি হয় (Fugitives)। সরকারের উদ্দেশ্য ছিল, অর্থনৈতিক অপরাধ করে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার প্রবণতার বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দেওয়া। সরকারের মতে, আর্থিক অপরাধের বিরুদ্ধে ভারতের কৌশলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হয়ে উঠেছে এই আইন। ২০১৯ সালে জাতীয় তদন্ত সংস্থা আইন এবং বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইনেও সংশোধন করা হয়। এর ফলে তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থার পরিধি শুধু সংগঠনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। বিদেশে থাকা সন্ত্রাসবাদী, তাদের বিদেশি নিয়ন্ত্রক, অর্থ জোগানের নেটওয়ার্ক এবং সহযোগীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ বাড়ে (India)।সরকারের বক্তব্য, আধুনিক সন্ত্রাসবাদ কোনও দেশের সীমান্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আর্থিক নেটওয়ার্ক, ডিজিটাল যোগাযোগ এবং আন্তর্জাতিক যোগসূত্রের কারণে সন্ত্রাস মোকাবিলায় বিশ্বব্যাপী সহযোগিতা অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। সেই অনুযায়ী আইনি ব্যবস্থাও শক্তিশালী করা হয়েছে।

    নতুন তিন ফৌজদারি আইনে নতুন পথ

    ২০২৪ সালে কার্যকর হওয়া তিনটি নতুন ফৌজদারি আইনে পলাতক অপরাধীদের বিষয়ে বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ৩৫৫ ও ৩৫৬ ধারায় প্রথমবারের মতো অভিযুক্তের অনুপস্থিতিতেও বিচার চালানোর বিধান আনা হয়েছে। এই ব্যবস্থায় কোনও পলাতক ব্যক্তি অনুপস্থিত থাকলেই অনির্দিষ্টকালের জন্য বিচারপ্রক্রিয়া থেমে থাকবে না। প্রয়োজনীয় পরিস্থিতিতে আদালত বিচারপ্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে। সরকারের ধারণা, এর ফলে বিচারপ্রক্রিয়া আরও কার্যকর হবে এবং মামলার নিষ্পত্তির গতি বাড়বে।

    আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় ভারতের জোর

    ২০২২ সালে ভারত আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থার ৯০তম সাধারণ পরিষদের আয়োজন করে। সেই মঞ্চ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আন্তঃসীমান্ত অপরাধ মোকাবিলায় তিনটি নীতির কথা তুলে ধরেন—যোগাযোগ, সহযোগিতা ও সমন্বয়।সরকারের বক্তব্য, দ্রুত তথ্য আদানপ্রদান, পারস্পরিক আস্থা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা আন্তঃসীমান্ত অপরাধ মোকাবিলার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময় বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ভারতের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলির সহযোগিতাও আরও জোরদার হয়। ধারাবাহিক কূটনৈতিক আলোচনার ফলে একাধিক মামলায় প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়াও গতি পায়।

    তথ্য নেটওয়ার্কের নতুন মেরুদণ্ড ‘ভারতপোল’

    ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ‘ভারতপোল’ চালু করেন। এর মাধ্যমে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা, রাজ্য পুলিশের সদর দফতর, জেলা পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থার নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করে একটি বিস্তৃত তথ্য পরিকাঠামো তৈরি করা হয়েছে (India)। বর্তমানে ১,৪০০-র বেশি সংস্থা এই ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত। আগে যে তথ্য পেতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগত, বহু ক্ষেত্রে এখন তা তিন থেকে দশ দিনের মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। অন্য ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় তথ্য ১০ থেকে ২০ দিনের মধ্যে আদানপ্রদান করা হচ্ছে। তথ্যপ্রবাহের এই গতি প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত মামলার প্রস্তুতিকে আরও সুসংগঠিত করেছে (Fugitives)।

    প্রযুক্তির সাহায্যে অপরাধীদের খোঁজ

    বিদেশে পালিয়ে যাওয়া অপরাধীরা অনেক সময় পরিচয় বদলায়, নতুন নথি ব্যবহার করে এবং এক দেশ থেকে অন্য দেশে জায়গা পরিবর্তন করে আইনকে ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করে। এই পরিস্থিতিতে প্রচলিত তদন্তপদ্ধতি অনেক সময় যথেষ্ট হয় না। এই সমস্যা মোকাবিলায় প্রযুক্তিনির্ভর কৌশল গ্রহণ করেছে ভারত। ‘অপারেশন ত্রিশূলে’র মাধ্যমে উপগ্রহ প্রযুক্তি, ডিজিটাল গতিবিধির বিশ্লেষণ, নজরদারি এবং অপরাধীদের গতিবিধির মানচিত্র তৈরির মতো আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করে বিদেশে লুকিয়ে থাকা পলাতকদের শনাক্ত ও অবস্থান নির্ধারণের চেষ্টা করা হয়েছে। অপরাধীদের ডিজিটাল কর্মকাণ্ড, যোগাযোগের নেটওয়ার্ক এবং আন্তর্জাতিক যাতায়াত বিশ্লেষণ করে তাদের প্রকৃত অবস্থান চিহ্নিত করার চেষ্টা চালিয়েছে তদন্তকারী সংস্থাগুলি। বিদেশে নাম বা পরিচয় বদলানোর চেষ্টা করলেও, ডিজিটাল চিহ্ন এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অনেকের প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।

    রেড নোটিশ জারিতে গতি

    অপরাধীদের খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থার রেড নোটিশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের পুলিশের মধ্যে অভিযুক্ত অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের বিষয়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার পথ তৈরি হয়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে রেড নোটিশ জারির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। দেখে নেওয়া যাক ছোট্ট একটা পরিসংখ্যান:
    ২০২২ সালে — ৪০টি
    ২০২৩ সালে — ১০০টি
    ২০২৪ সালে — ১০৭টি
    ২০২৫ সালে — ১১২টি
    ২০২৬ সালে এখনও পর্যন্ত — ১৮২টি

    গত তিন বছরে মোট ৪০১ জন পলাতক অপরাধীর বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি হয়েছে। সরকারের মতে, এই বৃদ্ধি প্রমাণ করে যে আন্তর্জাতিক পুলিশ সহযোগিতাকে তদন্ত কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ করে তুলেছে ভারত (India)।

    অর্থনৈতিক অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্বিমুখী পদক্ষেপ

    বিদেশে পালিয়ে যাওয়া অর্থনৈতিক অপরাধীদের বিরুদ্ধে অর্থ ও সম্পত্তির বিষয়টিকেও কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ করেছে কেন্দ্র। অর্থপাচার প্রতিরোধ আইনের কার্যকর প্রয়োগের মাধ্যমে ২০১৯ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে পলাতক অর্থনৈতিক অপরাধীদের সঙ্গে যুক্ত মোট ১৭,৮৭৪ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে (Fugitives)। একই সময়ে ১৮,৭৬২ কোটি টাকা সফলভাবে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এর মধ্যে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া অর্থনৈতিক অপরাধীদের সঙ্গে যুক্ত অর্থও রয়েছে। অপরাধের মাধ্যমে অর্জিত সম্পদ সুরক্ষিত করা এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তা পুনরুদ্ধার করাই এই পদক্ষেপের লক্ষ্য বলে জানিয়েছে সরকার।

    বিদেশে পলাতকদের ধরতে বিশেষ কেন্দ্র

    কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা বিদেশে লুকিয়ে থাকা অপরাধীদের খুঁজে বের করতে একটি বিশেষ আন্তর্জাতিক অভিযান কেন্দ্র গড়ে তুলেছে। আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থার মাধ্যমে এই কেন্দ্র বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ রাখে। এছাড়া রাজ্য ও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির মধ্যেও আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগের জন্য বিশেষ আধিকারিক নিয়োগ করা হয়েছে। এর ফলে তথ্য আদানপ্রদানের গতি আরও বেড়েছে।

    ২৭৪ পলাতক ফেরত, কোন অপরাধে কতজন?

    ২০১৯ থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত ৩৬টি দেশ থেকে মোট ২৭৪ জন পলাতক অপরাধীকে ভারতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। গুরুতর বিভিন্ন অপরাধের মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা এই তালিকায় রয়েছেন। অপরাধের ধরন অনুযায়ী পরিসংখ্যান বলছে, খুন, ডাকাতি ও হিংসাত্মক অপরাধের মামলায় সর্বাধিক ৬২ জনকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।ধর্ষণ, যৌন নির্যাতন এবং পকসো-সংক্রান্ত গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত ৫৩ জনকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। সংগঠিত অপরাধ, গ্যাং-সংক্রান্ত কার্যকলাপ এবং তোলাবাজির মামলায় ৪২ জনকে দেশে ফেরানো হয়েছে। মানবপাচার ও অপহরণের মামলায় ১৮ জন, সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ, দেশবিরোধী কাজ এবং মাদক-সন্ত্রাসের সঙ্গে যুক্ত ১৭ জনকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। মাদকদ্রব্য ও মাদক পাচারের মামলায় অভিযুক্ত ১৬ জনও দেশে (India) ফিরেছেন। সাইবার অপরাধ, জাল নোট এবং নিষিদ্ধ পণ্য পাচারের মতো অপরাধে অভিযুক্ত ১২ জন এবং অর্থনৈতিক অপরাধে অভিযুক্ত ৯ জনকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

    বছরভিত্তিক প্রত্যর্পণের গতি

    বিদেশ থেকে পলাতকদের দেশে ফেরানোর পরিসংখ্যানেও সাম্প্রতিক বছরগুলিতে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। ২০১৯ সালে ৯ জন, ২০২০ সালে ৭ জন, ২০২১ সালে ২৩ জন, ২০২২ সালে ৪০ জন, ২০২৩ সালে ৩৭ জন, ২০২৪ সালে ৪৩ জন, ২০২৫ সালে ৭০ জন এবং ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত ৪৫ জনকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। সরকারের দাবি, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, আইনি প্রস্তুতির উন্নতি এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির ফলেই এই সাফল্য এসেছে। বিশেষ করে ২০২৫ ও ২০২৬ সালে পলাতকদের দেশে ফেরানোর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে (Fugitives)।

    তাহাউর রানার মামলা: দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের নজির

    আন্তর্জাতিকভাবে আলোচিত মামলাগুলির মধ্যে তাহাউর হুসেন রানার প্রত্যর্পণ অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। আমেরিকা থেকে তাকে ভারতে ফেরাতে দীর্ঘ আইনি ও কূটনৈতিক লড়াই চালিয়েছে ভারত। সরকারের মতে, এই মামলা প্রমাণ করে যে জটিল সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত মামলায়ও দীর্ঘমেয়াদি আইনি প্রস্তুতি, আন্তর্জাতিক আলোচনা এবং কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে সাফল্য অর্জন করা সম্ভব। জম্মু ও কাশ্মীর-সংক্রান্ত একাধিক মামলায়ও বিদেশে থাকা পলাতক এবং জঙ্গি নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সীমান্তপারের কার্যকলাপে সহায়তার চেষ্টা সামনে এসেছে। এই ধরনের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়।

    ‘সমগ্র সরকার’ মডেলে একযোগে অভিযান

    পলাতক অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে একাধিক সংস্থা একযোগে কাজ করছে। এর মধ্যে রয়েছে গোয়েন্দা ব্যুরো, কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা, গবেষণা ও বিশ্লেষণ শাখা, জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা, এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট, বিদেশমন্ত্রক, মাদক নিয়ন্ত্রণ ব্যুরো, জিএসটি গোয়েন্দা দফতর এবং বিভিন্ন রাজ্যের পুলিশ। সরকার এই ব্যবস্থাকে “সমগ্র সরকার” মডেল হিসেবে বর্ণনা করেছে। এই ব্যবস্থায় কেন্দ্র ও রাজ্যের বিভিন্ন সংস্থা একটি অভিন্ন লক্ষ্য সামনে রেখে একসঙ্গে কাজ করে (India)।

    ভবিষ্যৎ কৌশলে নয়া নজর

    ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে গোয়েন্দা ব্যুরোর বহু-সংস্থা কেন্দ্রের অধীনে একটি স্থায়ী বিশেষ গোষ্ঠী গঠন করা হয়েছে। এর লক্ষ্যগুলির মধ্যে রয়েছে অগ্রাধিকারভিত্তিতে পলাতকদের চিহ্নিত করা, মামলার নথির অভিন্ন কাঠামো তৈরি করা, তথ্যের ঘাটতি দূর করা, বিদেশি সংস্থাগুলির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখা এবং রাজ্যগুলিকে জাতীয় স্তরে সাহায্য করা (Fugitives)।  সব মিলিয়ে বিদেশে পালিয়ে যাওয়া অপরাধীদের বিরুদ্ধে ভারতের বর্তমান কৌশলের মূল বার্তা স্পষ্ট—দেশে অপরাধ করে বিদেশে পালিয়ে গেলেই আইনের নাগালের বাইরে থাকা যাবে না। ২৭৪ জন পলাতককে দেশে ফিরিয়ে আনা, ৪০১টি রেড নোটিশ জারি, হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ও পুনরুদ্ধার, ‘ভারতপোলে’র মতো ডিজিটাল তথ্যব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার পরিধি বৃদ্ধির ঘটনা প্রমাণ করে আন্তঃসীমান্ত অপরাধ মোকাবিলায় ভারত তার কৌশল আরও বিস্তৃত করেছে। বিদেশে লুকিয়ে থাকা অপরাধীদের উদ্দেশে সরকারের বার্তা এখন স্পষ্ট—অপরাধ করে ঠিকানা বদলালেই অপরাধ মুছে যায় না। কেন্দ্রীয় সরকার বিদেশের মাটি থেকে পলাতক অপরাধীদের দেশে ফিরিয়ে এনে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চালিয়ে (India) যাবে।

     

LinkedIn
Share