Tag: bangla khabar

bangla khabar

  • Mamata Blind Faith on Abhishek: পরিবারতন্ত্রের পক্ষেই মমতা! অভিষেককে না মানলে তৃণমূল থেকে বহিষ্কার, নেত্রীর ‘অভিষেকীকরণ’ নিয়ে দলে ক্ষোভ

    Mamata Blind Faith on Abhishek: পরিবারতন্ত্রের পক্ষেই মমতা! অভিষেককে না মানলে তৃণমূল থেকে বহিষ্কার, নেত্রীর ‘অভিষেকীকরণ’ নিয়ে দলে ক্ষোভ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২০৭টি আসনে জিতে সরকার গড়তে চলেছে বিজেপি। তৃণমূলের দীর্ঘ ১৫ বছরের অপশাসনের পর বিজেপিতে তৃণমূলীকরণ চান না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। কিন্তু তৃণমূল আছে তৃণমূলেই। বলা ভাল মমতা আছেন মমতা-তেই। তৃণমূলের এই ভরাডুবির পিছনে যখন দলের একাংশ অভিষেকীকরণ-কে দায়ী করছেন তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুধবার তৃণমূলের টিকিটে জয়ীদের বৈঠকে সেই অভিষেকের ‘লড়াইকে’ সম্মান দিতে উঠে দাঁড়ানোর কথা বললেন। যা নিয়ে দলের অন্দরে বিতর্ক তুঙ্গে।

    ৫ বছরের ব্যবধানে ধরাশায়ী অবস্থা

    তৃণমূলের ক্ষমতার মিনার ভেঙে পড়ার পর থেকেই দলের অন্দরে আলোচ্য হয়ে উঠেছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা। তাঁর কর্পোরেট কায়দা, পরামর্শদাতা সংস্থা আই-প্যাককে সংগঠনের সমান্তরাল করে তোলা নিয়ে নবীন-প্রবীণ নির্বিশেষে ক্ষোভ গোপন করছেন না। একুশের বিধানসভা ভোটে বাংলার ২৯৪ আসনে তৃণমূলের প্রাপ্ত আসন সংখ্যা ছিল ২১৩। ভয়ঙ্কর ভরাডুবি দেখাল ছাব্বিশের নির্বাচন। জনতার রায়ে এবারের নির্বাচনে তৃণমূলের দখলে রইল মাত্র ৮০ কেন্দ্র। তাবড় তাবড় নেতা মন্ত্রী থেকে খোদ মুখ্যমন্ত্রী। ধরে রাখতে পারেননি নিজেদের কেন্দ্র। গড় হিসেবে পরিচিত দক্ষিণ ২৪ পরগনা, কলকাতা, হাওড়া, পূর্ব বর্ধমানের মতো জেলাগুলিতেও উঠেছে গেরুয়া ঝড়। কিন্তু ৫ বছরের ব্যবধানে এমন ধরাশায়ী অবস্থা কীভাবে? ১৯৯৮ সাল থেকে বাংলার ‘অগ্নিকন্যার’ লড়াই ছাব্বিশেই ইতি টানল? বিভিন্নমহল থেকে একাধিক কাটাছেঁড়া চললেও, এবার দলের অন্দরেই ফোঁস করে উঠছেন নেতারা। বলছেন, ‘অভিষেকই (Abhishek Banerjee) যত নষ্টের গোড়া। দলে কর্পোরেট কালচারটাই কাল হল।’

    সেই অভিষেককেই সম্মান!

    বুধবার তৃণমূলের টিকিটে জয়ীদের বৈঠকে সেই অভিষেকের ‘লড়াইকে’ সম্মান দিতে উঠে দাঁড়াতে হল সকলকে। উঠতে হল অভিষেকের জন্মের আগে থেকে রাজনীতির আঙিনায় থাকা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়, সমর মুখোপাধ্যায়, জাভেদ খান, ফিরহাদ হাকিমদেরও। কালীঘাটের বাড়িতে তৃণমূলের জয়ী ৮০ জন প্রার্থীকে ডেকেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈঠকে ছিলেন অভিষেকও। সূত্রের খবর, সেই বৈঠকেই অভিষেকের লড়াইকে সম্মান জানানোর নির্দেশ দেন মমতা। তৃণমূলের এক বিজয়ী প্রার্থী বলেন, ‘‘অভিষেকের লড়াইকে সম্মান জানতে মমতাই সকলকে বলেন উঠে দাঁড়াতে।’’ রতুয়ার প্রবীণ বিধায়ক সমর, বালিগঞ্জ থেকে জেতা শোভনদেব, কলকাতার মেয়র তথা বন্দর আসন থেকে জেতা ফিরহাদ, বজবজ থেকে জেতা অশোক দেব— সকলকেই উঠে দাঁড়িয়ে সম্মান জানাতে হয়েছে অভিষেকের প্রতি। যা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়ে গিয়েছে তৃণমূলের মধ্যে।

    চেয়ার ছাড়তে হল প্রবীণদেরও

    সূত্রের খবর, মমতার নির্দেশ মেনে অনেককে উঠে দাঁড়িয়ে সম্মান জানাতে হয়েছে ঠিকই। তবে অনেকেই চেয়ার ছেড়ে উঠতে ইতস্তত করেছেন। জয়ী এক প্রার্থী বলেন, ‘‘বসেও তো হাততালি দেওয়া যেত। কিন্তু হাঁটুর বয়সি অভিষেকের সামনে উঠে দাঁড়ানো প্রবীণ নেতাদের কাছে দৃশ্যতই অস্বস্তিকর ছিল।’’ তবে বৈঠকের ভিতরে উঠে দাঁড়ালেও বাইরে বেরিয়ে কেউই বিষয়টি প্রকাশ্যে স্বীকার করেননি। যা খানিকটা প্রত্যাশিতই।

    অভিষেকের সমালোচনা নয়

    তৃণমূল সূত্রে আরও খবর, মমতা স্পষ্ট বার্তা দিয়ে দিয়েছেন, অভিষেকের সমালোচনা করলে পার্টি বরদাস্ত করবে না। শৃঙ্খলা রাখার বিষয়ে তিনি একটি শৃঙ্খলারক্ষা কমিটিও গড়ে দিয়েছেন। যাতে রাখা হয়েছে রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন, প্রাক্তন মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, শুভাশিস চক্রবর্তী এবং ধনেখালির জয়ী প্রার্থী অসীমা পাত্রকে। ডেরেককে অভিষেকের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসে বসার দায়িত্ব দিয়েছেন মমতা। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত তিনি সেখানে থাকবেন।

    জয়ীদের মধ্যে ১১ জন গরহাজির কেন

    তৃণমূলের টিকিটে এবার জিতেছেন সাকুল্যে ৮০ জন। সূত্রের খবর, বুধবারের বৈঠকে জয়ীদের মধ্যে ১১ জন হাজির ছিলেন না। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হাসনের কাজল শেখ এবং আমডাঙা থেকে জয়ী তথা ফুরফুরা শরিফের পিরজাদা কাশেম সিদ্দিকি। বিধানসভা নির্বাচনে দলের ভরাডুবির পরে দলনেত্রীর ডাকা এই বৈঠকে একসঙ্গে এতজন জয়ী প্রার্থীর অনুপস্থিতি নিয়ে স্বাভাবিক ভাবেই জল্পনা শুরু হয়েছে। তৃণমূল সূত্রের দাবি, যে জয়ী প্রার্থীরা উপস্থিত হননি, মমতা নিজেই তাঁদের নির্দেশ দিয়েছেন, আপাতত নিজেদের এলাকায় ‘আক্রান্ত’ মানুষের পাশে থাকতে। দলীয় নেতৃত্বের ব্যাখ্যা সত্ত্বেও মমতার উপস্থিতিতে নতুন পরিষদীয় দলের প্রথম সভায় ১১ জন গরহাজির থাকায় যে জয়ী প্রার্থীরা কালীঘাটের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, তাঁদের অনেকেই বিস্মিত হয়েছেন। এ দিনের বৈঠকে উপস্থিত তৃণমূলের প্রথম সারির এক নেতা তথা জয়ী প্রার্থীর কথায়, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বৈঠক ডেকেছেন, সেখানে অনুপস্থিত থাকার ঘটনা বেনজির। একমাত্র কাজল শেখের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, নানুরে রাজনৈতিক অশান্তির কারণে একজনের মৃত্যু হওয়ায় তিনি আসতে পারেননি। কিন্তু বাকিরা কেন অনুপস্থিত, তা স্পষ্ট করে বলা হয়নি।’

    অভিষেকের বিরুদ্ধে গেলে ব্যবস্থা!

    ফল প্রকাশের পর থেকে রবীন্দ্রনাথ ঘোষ, কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরী, খগেশ্বর রায়ের মতো প্রবীণ নেতা থেকে বিভিন্ন পুরসভার প্রাক্তন–বর্তমান চেয়ারম্যান, কাউন্সিলার দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত ভোটকুশলী সংস্থার বিরুদ্ধেও সুর চড়িয়েছেন অনেকে। বেসুরো নেতাদের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে দেখে ডেরেক ও’ব্রায়েন, ফিরহাদ হাকিম, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, অসীমা পাত্র ও শুভাশিস চক্রবর্তীকে নিয়ে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করেছেন মমতা। সূত্রের দাবি, বৈঠকে তৃণমূলনেত্রী বলেছেন, ‘যিনি দলের বিরুদ্ধে কথা বলবেন, দলের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে কথা বলবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দলের সঙ্গে যাঁরা বিশ্বাসঘাতকতা করবেন, তাঁদের দল থেকে বের করে দেওয়া হবে।’ তবে, মমতা যাই বলুন, তৃণমূল সূত্রে খবর, শুধু প্রবীণরাই নন অভিষেকের পথ মানতে নারাজ অনেক যুব তৃণমূল নেতাও। তাঁদের অভিযোগ, “হারের পিছনে এক এবং একমাত্র কারণ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দলটাকে কর্পোরেট একনায়কতন্ত্রে পরিণত করা হয়েছে। যে দল গ্রাসরুটে মিশে থাকার কথা, তাকে নিয়ে চলে গিয়েছে ক্যামাক স্ট্রিটের ৬ তলায়। ১৯৯৮ সাল থেকে লড়াই করা নেতাদের পাত্তাই দেননি অভিষেক।” ক্ষমতা হারানোর পর দলের অভ্যন্তরে বিরোধিতা তৈরী হলেও মমতা কিন্তু ভোট দিলেন পরিবারতন্ত্রের পক্ষেই।

  • Amit Shah in Kolkata: মুখ্যমন্ত্রী কে? শুক্রবারের বৈঠকেই ঠিক হবে নাম, নতুন বিধায়কদের প্রশাসনিক পাঠ পড়াতে আসছেন শাহ

    Amit Shah in Kolkata: মুখ্যমন্ত্রী কে? শুক্রবারের বৈঠকেই ঠিক হবে নাম, নতুন বিধায়কদের প্রশাসনিক পাঠ পড়াতে আসছেন শাহ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে পালাবদল হয়ে গিয়েছে। ক্ষমতার অলিন্দে এখন একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে রাজ্যের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কে? জল্পনা উসকে দিয়েই আগামী শনিবারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের আগে শুক্রবার বিকেলে এক জরুরি বৈঠকে বসছে বিজেপি (BJP)। আর সেই বৈঠকের পৌরহিত্য করতে খোদ কলকাতা আসছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। এই বৈঠকেই আনুষ্ঠানিকভাবে ঠিক হবে বিজেপি পরিষদীয় দলের নেতা কে হবেন। অর্থাৎ, কার মাথায় উঠবে বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রীর মুকুট।

    ‘অ্যাকশনে’র প্রস্তুতি শুরু

    বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে প্রস্তুতি শুরু শুক্রবারের ‘অ্যাকশনে’র। আগামী ৮ মে, শুক্রবার ঠিক বিকেল চারটেয় নিউটাউনের বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে বিজেপির পরিষদীয় দলের প্রথম বৈঠক ডাকা হয়েছে। এই হাই-প্রোফাইল মিটিং থেকেই ঠিক হবে বাংলা কার নেতৃত্বে চলবে আগামী পাঁচ বছর। আগামী শনিবারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের চূড়ান্ত ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করা হবে এখানেই। এই বৈঠকের প্রস্তুতি এবং সভাস্থল খতিয়ে দেখতে বুধবারই বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টার ঘুরে দেখলেন শঙ্কর ঘোষ ও সৌমিত্র খাঁ-র মতো দলের হেভিওয়েট নেতারা।

    অমিত শাহের উপস্থিতি তাৎপর্যপূর্ণ

    সাধারণত দিল্লি থেকে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক পাঠিয়ে পরিষদীয় দলের নেতা নির্বাচন করা বিজেপির দস্তুর। কিন্তু বাংলার ক্ষেত্রে শাহের সশরীরে উপস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে রাজনৈতিক মহল। নেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে সাবধানী বিজেপি। সর্বসম্মতভাবে নেতা নির্বাচন নিশ্চিত করাই এই বৈঠকের লক্ষ। পাশাপাশি রয়েছে, ঐক্যের বার্তা। সরকার গঠনের আগে দলের বিধায়কদের একজোট রাখার কড়া বার্তা দেওয়া এই বৈঠকের অন্যতম অ্যাজেন্ডা বলে মনে করা হচ্ছে। এর সঙ্গেই বৈঠকে আলোচনা হবে শপথের রূপরেখা নিয়ে। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে একাধিক নাম ঘুরছে গেরুয়া শিবিরের অন্দরমহলে। জল্পনার তালিকায় যেমন রয়েছেন দীর্ঘদিনের লড়াকু নেতারা, তেমনই প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের নামও উঠে আসছে। শুক্রবারের বৈঠকের পর শাহের উপস্থিতিতেই সেই ধোঁয়াশা কাটবে বলে মনে করা হচ্ছে।

    কখন আসবেন শাহ

    আগামী কাল, শুক্রবার দুপুর ১টা নাগাদ শাহের বিমান কলকাতার মাটি ছোঁবে। নিউটাউনের হোটেলে রাত কাটাবেন তিনি। খোদ অমিত শাহের কলকাতায় এসে এই বৈঠক করা আসলে প্রমাণ করছে, বাংলার নতুন মন্ত্রিসভা গঠনে একচুলও ঢিলেমি দিতে নারাজ বিজেপি নেতৃত্ব। কলকাতায় এসে নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়কদের ‘ক্লাস’ও নেবেন শাহ। কীভাবে রাজ্যে সরকার বা প্রশাসনিক কাজকর্ম সামলাতে হয়, প্রধানত তারই পাঠ। দলের অন্দরের ব্যাখ্যা, এর আগে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি বিধায়কদের বিরোধী দলের ভূমিকাই সামলাতে হয়েছে। ফলে সরকার চালানোর অভিজ্ঞতা বঙ্গ বিজেপির একেবারেই নেই। সেই অভিজ্ঞতার পাঠই পড়াবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তবে শুধুই ‘ক্লাস’ করানো নয়। প্রয়োজনীয় কিছু নির্দেশিকাও দেবেন অমিত শাহ।

  • Model Code of Conduct: নির্বাচনী বিধিনিষেধের অবসান, চার রাজ্য ও এক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল থেকে ‘মডেল কোড অফ কনডাক্ট’ প্রত্যাহার করল কমিশন

    Model Code of Conduct: নির্বাচনী বিধিনিষেধের অবসান, চার রাজ্য ও এক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল থেকে ‘মডেল কোড অফ কনডাক্ট’ প্রত্যাহার করল কমিশন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের (Bengal Assembly Election 2026) মহাযজ্ঞ সম্পন্ন হওয়ার পর দেশজুড়ে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছে জনজীবন ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড। বৃহস্পতিবার ভারতের নির্বাচন কমিশন (ECI) পশ্চিমবঙ্গসহ চার রাজ্য এবং একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল থেকে ‘আদর্শ আচরণবিধি’ (Model Code of Conduct) প্রত্যাহারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেছে।

    কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসমূহ (Model Code of Conduct)

    বিধিনিষেধ মুক্ত এলাকা

    পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও এই তালিকায় রয়েছে তামিলনাড়ু, কেরালা, আসাম এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল (Bengal Assembly Election 2026) পুদুচেরি।

    স্বাভাবিক হবে প্রশাসনিক কাজ

    নির্বাচনী আচরণবিধি উঠে যাওয়ার ফলে এখন থেকে এই রাজ্যগুলোর সরকার (Model Code of Conduct) জনকল্যাণমূলক নতুন প্রকল্প ঘোষণা, উন্নয়নমূলক কাজে অনুমোদন এবং প্রশাসনিক রদবদল বা বদলির মতো কাজগুলো পুনরায় শুরু করতে পারবে।

    কমিশনের নির্দেশনা

    কমিশনের (Bengal Assembly Election 2026) পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলোর মুখ্য সচিবদের চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে যে, নির্বাচনের ফলাফল সরকারিভাবে গেজেটভুক্ত হওয়ার পর এখন আর নির্বাচনী আচরণবিধি বলবৎ রাখার প্রয়োজন নেই।

    প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ওপর নজরদারি ছিল

    উল্লেখ্য, নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যে সরকারি (Model Code of Conduct) কর্মকাণ্ডে এক ধরনের বিধিনিষেধ নেমে এসেছিল। রাজনৈতিক দলগুলোর প্রচার ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ওপর নজরদারি ছিল কমিশনের (Bengal Assembly Election 2026)। বিধানসভা ভেঙে দেওয়া এবং নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরির মাঝে এই বিধিনিষেধ প্রত্যাহার প্রশাসনিক গতিবিধি পুনরায় চালুর ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এর ফলে নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায় আর কোনও আইনি বা নীতিগত বাধা থাকল না। দ্রুত প্রশাসনিক জটিলতা কাটিয়ে কাজ শুরু করার পথ প্রশস্ত হলো।

  • Panihati Bombing: পানিহাটিতে পরপর বোমায় পাঁচ জন বিজেপি কর্মী গুরুতর আহত, বরানগরে ছুরিকাঘাত

    Panihati Bombing: পানিহাটিতে পরপর বোমায় পাঁচ জন বিজেপি কর্মী গুরুতর আহত, বরানগরে ছুরিকাঘাত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বারুদের স্তুপের উপর বসে রাজ্য। ভোট পরবর্তী ঘটনায় তারই প্রমাণ মিলছে। কোথাও চলল গুলি, কোথাও বোমাবাজি (Panihati Bombing)। পরপর হামলা, অশান্তির অভিযোগ শহর কলকাতা লাগোয়া একাধিক জায়গায়। ভোট পরবর্তী সময়ে গত ১৫ বছরে রাজনৈতিক সংঘর্ষে বারবার উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বারাকপুর, টিটাগড়, সোদপুর, কাঁকিনাড়া, ভাটপাড়া চত্বর। কার্যত বোমা-বারুদের স্তূপে পরিণত হয়েছিল এই সব এলাকা। এখনও সেই রেশ ধরেই বুধবার পানিহাটিতে চলল বোমাবাজি। রাজ্য জুড়ে গেরুয়া ঝড়ের পরও আক্রান্ত হলেন বিজেপি কর্মীরা। একদিকে মধ্যমগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়কে গুলি করে খুনের অভিযোগ, অন্যদিকে বসিরহাটে গুলিবিদ্ধ বিজেপি কর্মী।

    পানিহাটিতে পরপর বোমা

    বুধের মধ্যরাত পেরিয়ে শহরের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে অশান্তির খবর আসে। সূত্রের খবর, পানিহাটি সেন্ট জেভিয়ার্স স্কুলের কাছে বুধবার রাত সাড়ে দশটার কিছু পরে অশান্তি শুরু হয়। বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূলের কর্মীরা বোমা ছোড়ে। পানিহাটির (Post Poll Violence) দু’নম্বর ওয়ার্ডের দত্ত রোডের ঘটনা। গতকাল রাতে উত্তেজনা ছড়ায় ওই এলাকায়। জানা গিয়েছে, বিজেপি কর্মীরা সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলছিলেন। ঠিক সেই সময় বেশ কয়েকজন দুষ্কৃতী বাইকে করে ঘটনাস্থলে আসেন। বাইকে চারজন ছিলেন বলে দাবি করেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। সেখানে বিজেপি কর্মীদের লক্ষ্য করে বোমা ছোড়ে বলে অভিযোগ। পরপর তিনটি বোমা ছোড়া হয়েছে বলে অভিযোগ। ঘটনার পরই সেখান থেকে পালিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা।

    পাঁচ জন বিজেপি কর্মী গুরুতর আহত

    বোমাবাজিতে প্রায় পাঁচ জন বিজেপি কর্মী গুরুতর আহত হন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। আহতদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় আরজি কর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই তাঁদের চিকিৎসা চলছে বলে খবর। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় খড়দা থানার পুলিশ। সঙ্গে পৌঁছন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। সেখানে পৌঁছে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে খড়দা থানার পুলিশ। এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দুষ্কৃতীদের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে। এছাড়াও সোনারপুরের সাউথ উইন্ডস কমপ্লেক্স এলাকাতেও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বুধবার। বরানগরে বিজেপির এক কর্মীর উপর ছুরি চালানো হয়েছে।

  • Shamik Bhattacharya: বিজেপিতে ‘তৃণমূলীকরণ’ চলবে না! পঁচিশে বৈশাখ ব্রিগেডে শপথ নতুন মুখ্যমন্ত্রীর, ঘোষণা করেই নবান্নে শমীক

    Shamik Bhattacharya: বিজেপিতে ‘তৃণমূলীকরণ’ চলবে না! পঁচিশে বৈশাখ ব্রিগেডে শপথ নতুন মুখ্যমন্ত্রীর, ঘোষণা করেই নবান্নে শমীক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিজেপিতে ‘তৃণমূলীকরণ’ চলবে না, হুঁশিয়ারি দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের (Shamik Bhattacharya)। আগামী ৯ মে, পঁচিশে বৈশাখ ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে হবে রাজ্যের নয়া মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান। এ নিয়ে রাজ্যের মুখ্যসচিবের সঙ্গে আলোচনার জন্য বুধবার বিকেলে নবান্নে গেলেন শমীক ভট্টাচার্য। রাজ্য প্রশাসনের সদর দফতরে ঢোকার আগে বিজেপির রাজ্য সভাপতি বলে যান, ভোট-পরবর্তী হিংসা বরদাস্ত করা হবে না। এ নিয়ে রাজ্যের মুখ্যসচিবের সঙ্গে আলোচনাও করবেন তিনি।

    কেন নবান্নে গেলেন শমীক

    বুধবার বিকেল ৩টে নাগাদ শমীক নবান্নে প্রবেশ করেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিজেপির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক তথা পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি পর্যবেক্ষক সুনীল বনশল। ছিলেন রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক জ্যোতির্ময় মাহাতো এবং সৌমিত্র খাঁ। উদ্দেশ্য, ব্রিগেডে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি সংক্রান্ত বিষয়ে রাজ্যের মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিওয়ালার সঙ্গে আলোচনা করা। আগামী শুক্রবার, ৮ মে সন্ধেয় নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়কদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ডাকা হয়েছে। সেই বৈঠকেই আনুষ্ঠানিকভাবে পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচন করা হবে। তার ঠিক পরদিনই, অর্থাৎ ৯ মে শনিবার পঁচিশে বৈশাখের সকালে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত হবে রাজকীয় শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান। এই অনুষ্ঠানের রূপরেখা তৈরি করতেই এদিন বিকেলে রাজ্য প্রশাসনের সদর দফতর নবান্নে পৌঁছন শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya)।

    শপথগ্রহণে থাকবেন মোদি-শাহ

    বিজেপি সূত্রে খবর, আগামী শনিবার মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ উপস্থিত থাকবেন। তবে মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন, তা নিয়ে জল্পনা তৈরি হলেও সরকারি ভাবে নাম বলতে নারাজ বিজেপি নেতৃত্ব। এগারো সালে বাংলায় বিধানসভা ভোটে পরিবর্তনের মুখ ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার ‘পাল্টানো দরকার’ ক্যাম্পেনে বিজেপি কোনও একজনকে মুখ করেনি। তৃণমূলকেও এ ব্যাপারে কোনও ন্যারেটিভ তৈরির সুযোগ দেয়নি। দল লড়েছিল সমষ্টিগত লড়াই দিয়ে।

    ভোট-পরবর্তী হিংসা নিয়ে কঠোর

    নবান্নে যাওয়ার পথে শমীক আবার ভোট-পরবর্তী হিংসা নিয়ে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘‘বিজেপির পতাকা নিয়ে কেউ যদি তৃণমূল কংগ্রেসকে আক্রমণ করে, তার দায় এই মুহূর্তে বিজেপি নেবে না। কারণ, এখনও আমরা ক্ষমতায় আসিনি।’’ তাঁর সংযোজন, ‘‘আমি ছ’মাস আগে থেকে বলে আসছি, তৃণমূল চলে গিয়েছে, তৃণমূল চলে যাবে এবং তৃণমল চলে যাওয়ার পরে যে ‘ব্রিদিং টাইম’ থাকে, সেখানে রাজ্যপাল এবং নির্বাচন কমিশনকে দায়িত্ব নিতে হবে— তৃণমূলকে তৃণমূলের হাত থেকে বাঁচানোর দায়িত্ব।’’

    দলে তৃণমূলীকরণ নয়

    শমীকের দাবি, রাজ্যে ভোট-পরবর্তী হিংসার নামে যা হচ্ছে, তা আদতে তৃণমূল বনাম তৃণমূলের লড়াই। আর যাঁরা ক্ষমতার রদবদল হচ্ছে দেখে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপি হয়েছেন, তাঁদের প্রত্যেককে দল থেকে বিদায় জানানো হবে। বস্তুত, ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের আগে এবং পর দলবদলের রাজনীতি সবচেয়ে বেশি প্রত্যক্ষ করেছে পশ্চিমবঙ্গ। তৃণমূল তৃতীয় বার ক্ষমতায় আসার পর দল পাল্টানোর হুড়োহুড়ি পড়ে গিয়েছিল। শমীক জানাচ্ছেন, তাঁর দলে ওই দৃশ্য দেখা যাবে না। বিজেপির রাজ্য সভাপতির কথায়, ‘‘কিছু নব্য বিজেপি দেখা যাচ্ছে। এঁদের আমরা বিজেপিতে ঢুকতে দেব না। বিজেপিতে তৃণমূলীকরণ হতে দেব না। অনেকে নিজেদের রক্ত-ঘাম দিয়ে বিজেপিকে তৈরি করেছেন। ’৮০-’৯০ সাল থেকে বিজেপির যখন কিচ্ছু ছিল না, ওই ব্যক্তিদের রক্ত-ঘামে বিজেপি তৈরি। এই পার্টির তৃণমূলীকরণ আমি হতে দেব না। যেখানে যেখানে হামলা হচ্ছে… প্রয়োজনে আমি রাস্তায় নামব।’’

    রক্ত ঝড়ছে বিজেপি কর্মীদের

    শমীকের এ-ও দাবি, রাজ্যে প্রথম বার বিজেপি ক্ষমতা দখল করার পরেও রক্ত ঝরেছে তাঁদেরই। ইতিমধ্যে বিজেপির দু’জন কর্মী মারা গিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘‘আজ নির্বাচনের ফল যদি উল্টো হত, এখনই বিজেপির ২০০ কর্মী খুন হয়ে যেতেন। ১০০০ মহিলা গণধর্ষিতা হতেন। কিন্তু আমরা কোনও অবস্থায় হিংসা চাই না। আমি আগেও রাজ্যের ডিজি, কলকাতার সিপি-কে বলেছি, লাঠিচার্জ করতে।’’বিজেপির রাজ্য সভাপতি দাবি করেছেন, এই মুহূর্তে যাঁরা রাজ্যনৈতিক হিংসা ঘটাচ্ছেন, তাঁরা প্রত্যেকে বিজেপি ‘সেজেছেন’। তার পরেও বিজেপির যদি কোনও নেতা উস্কানিতে প্ররোচনা দেন, হিংসায় প্রশ্রয় দেন, তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শমীকের কথায়, ‘‘বিজেপির যত বড় নেতাই হোন, কেউ এ রকম করলে তাঁকে আমরা অ্যারেস্ট করাব। ছবি দিন, নাম দিন। আমি কথা দিচ্ছি ব্যবস্থা নেব। নইলে আমি সভাপতির পদ থেকে চলে যাব।’’

    নবান্ন না মহাকরণ!

    বাংলার রাজনৈতিক পালাবদল (West Bengal Election Result 2026) ঘটে গেলেও প্রশাসনিক সদর দফতর নিয়ে জল্পনা চলছেই। রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya) অনেক আগে থেকেই ঘোষণা করেছিলেন যে তাঁরা ক্ষমতায় এলে প্রশাসনকে আবার গঙ্গার এপারে মহাকরণে ফিরিয়ে আনবেন। অর্থাৎ নবান্ন (Nabanna) থেকে নয়, রাইটার্স বিল্ডিং বা মহাকরণ (Writers’ Building) থেকেই সরকার চলবে। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি বলছে, ২০১৩ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নবান্নে সরে যাওয়ার পর থেকে রাইটার্স বিল্ডিংয়ের যে সংস্কার কাজ শুরু হয়েছিল, তা আজও সম্পূর্ণ হয়নি। ফলে নতুন সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক নবান্ন না কি মহাকরণ – কোথায় হবে, তা নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায়নি।

    বিধানসভার অ্যানেক্স বিল্ডিংয়ে প্রথম বৈঠক!

    রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বুধবার জানিয়েছেন, প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকের স্থান এখনও স্থির হয়নি। মহাকরণের মেইন ব্লকসহ একাধিক ব্লকের সংস্কারের কাজ এখনও বাকি। এই অবস্থায় বৈঠক কোথায় হতে পারে তা নিয়ে বিভিন্ন স্তরে আলোচনা চলছে। বিকল্প হিসেবে নবান্ন বা বিধানসভার অ্যানেক্স বিল্ডিংয়ের নাম উঠে আসছে। তবে সূত্রে খবর, বুধবার রাজ্যের মুখ্যসচিব বিধানসভার সচিবের সঙ্গে একটি বৈঠক করেছেন। এর ফলে রাজনৈতিক মহলে প্রবল জল্পনা তৈরি হয়েছে যে, নবনির্বাচিত সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক হয়তো বিধানসভার অ্যানেক্স বিল্ডিংয়ে আয়োজিত হতে পারে।

     

     

     

     

     

  • ICC T-20 Ranking: টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের সিংহাসনে ভারত, দু মাস মাঠে না নেমেও আইসিসির তালিকায় শীর্ষে বিশ্বজয়ীরা

    ICC T-20 Ranking: টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের সিংহাসনে ভারত, দু মাস মাঠে না নেমেও আইসিসির তালিকায় শীর্ষে বিশ্বজয়ীরা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (ICC Ranking) টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ক্রমতালিকায় শীর্ষ স্থানে ভারত। ২০২৪ সালের পর ২০২৬ সালেও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ভারত। মাঠের মতো আইসিসির টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ক্রমতালিকাতেও এখন সেরা সূর্যকুমারেরা। মঙ্গলবার আইসিসি দলগুলির যে ক্রমতালিকা প্রকাশ করেছে তাতে শীর্ষে রয়েছে ভারত। ভারতীয় দলের রেটিং ২৭৫। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ভারতের কাছে হেরে যাওয়া ইংল্যান্ড। তাদের রেটিং ২৬২।

    ক্রম তালিকায় কে কোথায়

    গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ রানার্স নিউজিল্যান্ড রয়েছে চতুর্থ স্থানে। মিচেল স্যান্টনারের দলের রেটিং ২৪৭। বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব বিদায় নিলেও ক্রমতালিকায় তৃতীয় স্থান ধরে রেখেছে অস্ট্রেলিয়া। তাদের রেটিং ২৫৮। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠা দক্ষিণ আফ্রিকাও রয়েছে ক্রমতালিকায় পঞ্চম স্থানে। প্রোটিয়াদের রেটিং ২৪৪। ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে পাকিস্তান। তাদের রেটিং ২৪০। দু’বারের বিশ্বজয়ী ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২৩৩ রেটিং নিয়ে সপ্তম স্থানে। বিশ্বকাপ না খেলা বাংলাদেশ রয়েছে ক্রমতালিকায় আট নম্বরে। লিটন দাসের দলের রেটিং ২২৫। নয় এবং দশ নম্বরে রয়েছে এশিয়ার অন্য দুই দেশ শ্রীলঙ্কা এবং আফগানিস্তান। এই দু’দেশের রেটিং যথাক্রমে ২২১ এবং ২২০।

    সেরা ব্যাটার অভিষেক

    টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর সূর্যকুমার যাদবের দল এখনও মাঠে নামেনি। ২০২৪ সালের টি-২০ বিশ্বকাপ থেকেই এই ফরম্যাটে সেরা ভারত। ২০২৪ থেকে ২০২৬ বিশ্বকাপ। এই দু’বছরে একটাও সিরিজ হারেনি টিম ইন্ডিয়া। এমনকী, ২০২৬ বিশ্বকাপটাও ভারত খেতাব জেতে। যার সুফল টিম ইন্ডিয়া পেয়েছে আইসিসি ক্রমতালিকাতেও। ব্যক্তিগত ক্রমতালিকাতেও দাপিয়ে বেড়াচ্ছে সেই ভারতীয়রাই। ব্যাটারদের ক্রমতালিকায় প্রথম তালিকায় রয়েছেন অভিষেক শর্মাই। দু’নম্বরে ভালো ফর্মে থাকা ঈশান কিষান। পাকিস্তানের সাহিবজাদা ফারহান তৃতীয় স্থানে। বোলারদের শীর্ষস্থান অবশ্য খুইয়েছেন বরুণ চক্রবর্তী। তিনি রয়েছেন দ্বিতীয় স্থানে। যশপ্রীত বুমরা রয়েছেন পঞ্চম স্থানে।

  • TMC Internal Conflict: ‘‘দলে ‘ধৃতরাষ্ট্র’ ছিলেন মমতা’’, ‘‘পাপ বাপকেও ছাড়ে না’’, ‘‘তৃণমূলে আমরা চাকর ছিলাম’’! ভোটে ভরাডুবির পরেই ঘাসফুলে বিদ্রোহ!

    TMC Internal Conflict: ‘‘দলে ‘ধৃতরাষ্ট্র’ ছিলেন মমতা’’, ‘‘পাপ বাপকেও ছাড়ে না’’, ‘‘তৃণমূলে আমরা চাকর ছিলাম’’! ভোটে ভরাডুবির পরেই ঘাসফুলে বিদ্রোহ!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তৃণমূলের ১৫ বছরের সাম্রাজ্যের অবসান ঘটিয়ে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। ৪ মে রাজ্যে পালাবদল হতেই তৃণমূলের অন্দরে শুরু হয়ে গিয়েছে দোষারোপের পালা। দীর্ঘদিন ধরে মনের ভিতর জমে থাকা ক্ষোভ এবার আগ্নেয়গিরির মতো ফেটে বেরোতে শুরু করেছে। এঁদের মধ্যে কেউ জেলাস্তরের দলের সাংগঠনিক নেতা, তো কেউ বঞ্চিত টিকিটপ্রার্থী। নির্বাচনে তৃণমূল পর্যুদস্ত হতেই দলের একাংশের বিরুদ্ধে এক এক করে যাবতীয় রাগ উগরে দিচ্ছেন তৃণমূলের এই নেতানেত্রীরা। কারও মুখে দলের পরাজয়ের কারণ, তো কেউ ফাঁস করছেন টিকিট নিয়ে কালোবাজারির কথা। কেউ কেউ তো আবার সরাসরি হারের জন্য নাম করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলের ভোট-কুশলী সংস্থা আই-প্যাককে দায়ীও করেছেন।

    ‘তৃণমূলে আমরা চাকর ছিলাম’

    এবারের নির্বাচনে গোটা উত্তরবঙ্গ পদ্মময়। কার্যত নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে ঘাসফুল। এই প্রেক্ষিতে শিলিগুড়িতে তৃণমূলের প্রাক্তন জেলা সভানত্রী পাপিয়া ঘোষের সাফ কথা, “তৃণমূলে আমরা ছিলাম চাকর। তাই এমন হওয়ার ছিল। গত ৫ বছরে দল চলেছে শুধু-মালিক আর চাকর হিসাবে। আমাদের কাজ ছিল চাকর হয়ে নির্দেশ মানা।” তৃণমূলের এই দাপুটে নেত্রী বলেন, ‘‘২০২১ থেকে ২০২৬, এই পাঁচ বছর দল আর আগের মতো সিস্টেমে চলেনি। কোথাও যেন মনে হয়েছে গোটা দলটাই মালিক আর চাকরের হয়ে গিয়েছে। এই সময়কালে সিন্ডিকেট-রাজ মারাত্মকভাবে বেড়ে গিয়েছে। আমাদের তো কথা বলার জায়গাই ছিল না। যে এজেন্সি এসেছিল তাঁদের হয়তো যাঁরা মিষ্টির প্যাকেট দিতে পারতেন তাঁদের কথা উপরে যেত।’’ তাঁর মতে, বাংলার সাধারণ মানুষ তৃণমূলের মতো দলকে প্রত্যাখ্যান করেনি। প্রত্যাখ্যান করেছে দাম্ভিক, অহংকারী নেতাদের।

    ‘অপরাধীদের বাঁচাতে ব্যস্ত ছিলেন অভিষেক’

    উত্তরবঙ্গের আরও এক তৃণমূল নেতা হারের জন্য সরাসরি অভিষেককে দায়ী করেছেন। শিলিগুড়ি জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অত্রিদেও শর্মার দাবি, শওকত, জাহাঙ্গিরের মতো অপরাধীদের বাঁচাতে ব্যস্ত ছিলেন অভিষেক। মানুষ এসব ভালোভাবে নেয়নি। আইপ্যাকের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে বলেন, “আইপ্যাকের হাতে অসীম ক্ষমতা ছিল। রাজ্যস্তরের নেতারা কিছুই করতে পারছিল না। সব এদের মাধ্যমে হচ্ছিল। ফলে কোনও কিছুই সংগঠিতভাবে ছিল না। সবার দম্ভ দেখে মনে হয়েছিল আমরা যেভাবে চাইব সেভাবেই নির্বাচন হবে। কিন্তু কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রচেষ্টায়, নির্বাচন কমিশনের তীক্ষ্ণ নজরে আমরা আমাদের মতো ভোট করাতে পারিনি।”

    ‘দলের ভেতর ‘ধৃতরাষ্ট্র’ ছিলেন মমতা’

    ইংরেজবাজার পুরসভার চেয়ারম্যান তথা প্রাক্তন মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরীও সরাসরি তোপ দেগেছেন অভিষেকের বিরুদ্ধে। তাঁর বিস্ফোরক অভিযোগ, “একজন ব্যক্তি দলটাকে তিলে তিলে শেষ করে দিলেন, তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।” কৃষ্ণেন্দুবাবুর দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দলের ভেতর ‘ধৃতরাষ্ট্র’ করে রাখা হয়েছিল। টিভিতে নেত্রীর লাঞ্ছনার দৃশ্য দেখে ব্যথিত এই প্রবীণ নেতা বলেন, “মমতাকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেওয়া হয়েছে, এমন দৃশ্য রাজনৈতিক জীবনে দেখিনি।” প্রার্থী বাছাই নিয়ে অভিষেককে একহাত নিয়ে তাঁর কটাক্ষ, হরিশ্চন্দ্রপুরে এমন একজনকে টিকিট দেওয়া হয়েছে যাঁর ভাষাজ্ঞান নেই, আবার রতুয়ায় দাঁড়িয়েছেন ৮৪ বছরের এক অশক্ত বৃদ্ধ। এই ভুল সিদ্ধান্তের মাসুলই দিচ্ছে দল।

    ‘ঔদ্ধত্ব ও অহংকার…পতনের মূল কারণ’

    চুঁচুড়া আসন নিয়ে কম জলঘোলা হয়নি। পোড়খাওয়া ও বর্ষীয়ান নেতা অসিত মজুমদারকে সাইডলাইন করে তৃণমূল টিকিট দিয়েছিল তরুণ তুর্কি দেবাংশু ভট্টাচার্যকে। প্রাক্তন বিধায়ক অসিত মজুমদার জানিয়েছেন, ‘‘আমরা অনেক দক্ষ লোক ছেড়ে, অদক্ষ লোক নিয়ে সংগঠন তৈরি করার চেষ্টা করেছিলাম। একবারে সমস্ত পুরনো নেতাদের বাদ দেওয়া দলের কর্মীরা ভালো চোখে নেয়নি। অনেকের ঔদ্ধত্ব ও অহংকার হয়ে গিয়েছিল যে, আমরাই হয়তো শেষ কথা বলার লোক। সেটাও মানুষ ভালো চোখে দেখেনি। আর এটাই পতনের মূল কারণ।’’ দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ভোট কুশলী সংস্থা ‘আই-প্যাক’-এর ভূমিকা নিয়ে বিস্ফোরক প্রশ্ন তুললেন প্রাক্তন বিধায়ক। তাঁর সাফ কথা, দলের পুরনো ও অভিজ্ঞ ঘোড়াদের বসিয়ে দিয়ে ‘ভাড়াটে’ দিয়ে দল চালাতে যাওয়ার মাসুল দিতে হয়েছে এই নির্বাচনে। অসিত বলেন, ‘‘যাঁদের বাদ দেওয়া হল, তাঁদের সঙ্গে অন্তত আলোচনার প্রয়োজন ছিল। আই-প্যাকের প্রয়োজন আমাদের কখনও হয়নি। সিপিএমের চরম অত্যাচারের সময় যখন আমরা দুটো নির্বাচন জিতেছি, তখন তো কোনও ভাড়ার লোক লাগেনি!’’

    ‘আগে ভদ্র লোকেরা তৃণমূল করত’

    বর্ধমানের তৃণমূল নেতা নুরুল হাসান তৃণমূলের এই পরাজয়ের পর ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, তোলাবাজদের সংস্থার মাধ্যমে নেতৃত্ব গঠন করা, মাতাল গাঁজাখোরদের এলাকায় নেতৃত্ব দেওয়া হলে এটাই হবে। তাঁর দাবি, ‘‘আগে ভদ্র লোকেরা পার্টি করত, কিন্তু এখন যাদের হাতে পার্টিটা দিয়েছে, তারা কেউ কোনও দিন তৃণমূল করেনি। কেউ ১০১২, কেউ ২০১৬-এ দলে এসেছে। তৃণমূলের ক্ষমতায় আসার পর দলে এসেছে। এই অহংকার ও দাম্ভিকতার জন্য তৃণমূলের এই হাল।’’

    ‘পাপ বাপকেও ছাড়ে না’

    অসিতের মতোই এবারের নির্বাচনে টিকিট পাননি প্রাক্তন ক্রিকেটার-বিধায়ক মনোজ তিওয়ারি। তাঁর বদলে তৃণমূল এবার শিবপুরে প্রার্থী করেছিল রানা চট্টোপাধ্যায়কে। ঘাসফুলের সেই শক্ত ঘাঁটিতেই ফুল ফুটিয়েছেন বিজেপি-র রুদ্রনীল ঘোষ (Rudranil Ghosh)। পাঁচ বছর আগে, একুশের বিধানসভা ভোটে হাওড়ার শিবপুর কেন্দ্রে তাঁকে প্রার্থী করেছিল তৃণমূল। বিজেপির হেভিওয়েট প্রার্থী রথীন চক্রবর্তীকে তিরিশ হাজারের উপর ভোটে হারিয়েই বিধায়ক হন তিনি। এরপর মনোজকে ক্রীড়া ও যুবকল্যাণের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দিয়েছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার, তৃণমূলের বিপর্যয়ের পর মনোজের ইঙ্গিতবাহী পোস্ট— ‘পাপ বাপকেও ছাড়ে না’। মনোজ জানিয়েছেন, শুধু তারাই টিকিট কিনতে পেরেছেন, যাঁরা মোটা অঙ্কের টাকা দিতে পেরেছেন। এবার অন্তত ৭০-৭২ জন প্রার্থী টিকিট পাওয়ার জন্য প্রায় ৫ কোটি টাকা দিয়েছেন। মনোজের দাবি, তাঁকেও জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি টাকা দিতে অস্বীকার করায় টিকিট পাননি। মনোজের আরও অভিযোগ, তৃণমূলের মধ্যে অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের অভাব রয়েছে। ক্রিকেটারের সংযোজন, ‘‘আমাকে ‘এমওএস’ (প্রতিমন্ত্রী) পদের একটি ললিপপ ধরিয়ে দেওয়া হয়েছিল, যার কার্যত কোনও অর্থই ছিল না। আমি যদি উঠে দাঁড়িয়ে বলতাম, দিদি, আমি একটি নির্দিষ্ট সমস্যার প্রতি আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই, তিনি মাঝপথেই আমাকে থামিয়ে দিয়ে বলতেন, তোমাদের মতো লোকের জন্য আমার কাছে কোনও সময় নেই।’’ মনোজ প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকেও ধুয়ে দিয়েছেন। বলেছেন, ‘‘অরূপদা তো খেলার এ-বি-সি-ডি’ই জানেন না। নিজের হীনমন্যতা বা নিরাপত্তাহীনতার কারণে আমাকে আমার মন্ত্রিত্বের দায়িত্ব পালন করতে দেননি।’’

    রাজনৈতিক মহলের মতে, এই বিদ্রোহ কেবল হিমশৈলের চূড়া মাত্র। একদিকে কর্পোরেট সংস্কৃতি আর অন্যদিকে প্রবীণদের ব্রাত্য করে রাখা, এই দুইয়ের জাঁতাকলে পিষ্ট হয়েই যে বাংলার মসনদ হারাতে হলো তৃণমূলকে, তা এখন ঘরোয়া কোন্দলেই স্পষ্ট।

  • BJP in Bengal: ‘‘অন্য কোনও দল থেকে আপাতত কাউকে বিজেপিতে নেওয়া হবে না’’ স্পষ্ট বার্তা রাজ্য নেতৃত্বের

    BJP in Bengal: ‘‘অন্য কোনও দল থেকে আপাতত কাউকে বিজেপিতে নেওয়া হবে না’’ স্পষ্ট বার্তা রাজ্য নেতৃত্বের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে পালাবদল ঘটে গিয়েছে। ক্ষমতার ধারেকাছে থাকার চেষ্টায় এবার দল বদলের পালা। অতীতেও এমন ছবি দেখা গিয়েছে রাজ্য-রাজনীতি থেকে জাতীয় স্তরে। তবে, দলবদলের-স্রোতে এখনই নিজেদের ঘর ভাসাতে রাজি নন বিজেপি নেতৃত্ব (BJP in Bengal)। সংগঠনের সব স্তরে সেই বার্তা পৌঁছে দিয়েছে বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব। অন্য দল থেকে বিজেপিতে কাউকে যোগদান করানোয় ‘নিষেধাজ্ঞা’ জারি করে দেওয়া হয়েছে।

    বিজেপিতে যোগ দিতে চাওয়ার আর্জি

    বিজেপি সূত্রে খবর, দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ মিটে যাওয়ার পর থেকেই বেশ কিছু এলাকায় বিজেপি নেতারা ফোন পেতে শুরু করেছিলেন। সে সব ফোন তৃণমূলের স্থানীয় নেতা-কর্মী, পঞ্চায়েত সদস্য, কাউন্সিলরদের। ৪ মে-র পর প্রয়োজনে হলে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার দরজা যাতে খোলা থাকে, সেই অনুরোধ সংবলিত ফোন। ৪ মে ইভিএম খোলার পর দেখা যায়, ২০০-র বেশি আসন নিয়ে রাজ্যে সরকার গড়তে চলেছে বিজেপি। এ হেন পরিস্থিতিতে বিজেপিতে যোগ দিতে চাওয়ার আর্জি আরও বেড়েছে।

    তৃণমূল বা অন্যান্য দল থেকে বিজেপিতে নয়

    বিজেপির দাবি, তৃণমূলের অনেকেই অবিলম্বে বিজেপিতে শামিল হয়ে যেতে চাইছেন। এই ‘স্রোত’ তথা ‘বেনোজল’ আপাতত রুখতে চায় বিজেপি। যাঁদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ এবং ক্রোধের কারণে রাজ্যবাসী বিপুল সংখ্যায় বিজেপি-কে ভোট দিলেন, রাতারাতি তাঁরাই বিজেপিতে ঢুকে পড়ে নতুন শাসকদলের ‘মাতব্বর’ হয়ে উঠলে জনতা বিজেপির উপর ক্রুদ্ধ হবে বলে পদ্মনেতারা মনে করছেন। তাই আপাতত তৃণমূল বা অন্যান্য দল থেকে কাউকে বিজেপিতে শামিল করানোর উপরে সরাসরি নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

    আপাতত কাউকেই নেওয়া হচ্ছে না

    রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেছেন, ‘‘যোগদান করানো একদম বন্ধ! অন্য কোনও দল থেকে আপাতত কাউকে বিজেপিতে নেওয়া যাবে না। সংগঠনের প্রত্যেকটি স্তরে আমরা সে বার্তা পাঠিয়ে দিয়েছি।’’ তা হলে কি বিজেপিতে আর কেউ কখনও যোগ দিতে পারবেন না? পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির রাজনীতি বিষয়ক বিভাগের প্রধান তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের কথায়, ‘‘কেউ কখনও যোগ দিতে পারবেন কি না, দল সে সব পরে স্থির করবে। কিন্তু আপাতত কাউকেই নেওয়া হচ্ছে না। পরবর্তী নির্দেশ না-যাওয়া পর্যন্ত সব যোগদান বন্ধ।’’

    যাঁদের বিরুদ্ধে মানুষ ভোট দিলেন, তাঁদের দলে নয়

    মমতার মুখে অবশ্য বিজেপির অন্য ‘ভূমিকা’র কথা শোনা গিয়েছে। মঙ্গলবার তিনি অভিযোগ করেছেন, তৃণমূলের অনেককে ফোন করে বিজেপিতে যোগ দিতে বলা হচ্ছে। মমতার কথায়, ‘‘কেউ যদি নিজের নিরাপত্তার জন্য যেতে চান, আমি বাধা দেব না।’’ মমতার এই অভিযোগকে অবশ্য বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব গুরুত্ব দিতে চাননি। বিজেপির একাধিক বিধায়ক মঙ্গলবার বলেছেন, ‘‘যাঁদের বিরুদ্ধে মানুষ ভোট দিলেন, তাঁরাই রাতারাতি বিজেপি হয়ে গিয়ে আবার সাধারণ জনতার উপরে অত্যাচার শুরু করবেন, এ আমরা হতে দিতে পারি না। তাই নেতৃত্বের নির্দেশ শিরোধার্য। পরবর্তী নির্দেশ না-আসা পর্যন্ত কাউকে দলে নেওয়া হবে না।’’

    অশোকনগর এলাকায় ছাঁকনি প্রতিবাদ

    দলীয় নির্দেশকে সামনে রেখে হাতে চায়ের ছাঁকনি, মাথায় গেরুয়া আবির, আর পিছনে দলীয় পতাকা নিয়ে, এই ভাবেই রাস্তায় নামলেন বিজেপি কর্মীরা। মঙ্গলবার রাতে এমনই দৃশ্য দেখলেন উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগর এলাকার বাসিন্দারা। বিজেপি কর্মীদের এই ভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখতে কিছুটা অবাকই হন এলাকার লোকজন। বিজেপি কর্মীরা জানিয়েছেন, রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর বিভিন্ন জায়গায় অশান্তি, ভাঙচুর এবং দখলদারির ঘটনা বেড়েছে। অভিযোগ, তৃণমূলের পার্টি অফিস ভাঙচুর থেকে শুরু করে সন্ত্রাসের ঘটনা ঘটছে। সেই সঙ্গেই রাতারাতি দলবদল করে চলে আসছেন অনেকেই। দলের পুরনো কর্মীদের পাশ কাটিয়ে রাতারাতি দলবদল করে আসা কিছু সমর্থকই এই অশান্তির সঙ্গে যুক্ত বলেও দাবি তাঁদের। এই কারণেই ‘ছাঁকনি প্রতিবাদ’। ওই বিজেপি (BJP) কর্মীরা জানিয়েছেন, ছাকনিকে প্রতীক হিসেবে তুলে ধরে এর মাধ্যমে বিশেষ বার্তা দিতে চাইছেন তাঁরা।

    কেন প্রতিবাদের হাতিয়ার ছাঁকনি

    ওই বিজেপি কর্মীরা বলেন, ‘ছাঁকনি দিয়ে নোংরা অংশ বাদ দেওয়া যায়। যাতে দরকারি জিনিসের সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় অংশ চলে না আসে তা নিশ্চিত করা যায়। তেমনই দলে হঠাৎ আসা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার বার্তা দেওয়া হয়েছে এই প্রতিবাদের মাধ্যমে।’ মঙ্গলবার রাতে এই অভিনব প্রতিবাদ মিছিল হয় অশোকনগর চৌরঙ্গী মোড় এলাকায়। বিজেপির স্থানীয় নেতারা জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই জয়ী বিধায়কের তরফে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। সেই সঙ্গেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আর্জি জানানো হয়েছে।

    দলবদলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা হাবরায়

    দলবদলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে হাবরা এলাকাতেও। এই আসনে বিজেপির দেবদাস মণ্ডলের কাছে হেরে গিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress) প্রার্থী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। তার পরেই তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত থাকা অনেকেই রাতারাতি দলবদল করেছেন। বিজেপির পতাকা হাতে নিয়ে এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসের পার্টি অফিস দখল এবং অশান্তি সৃষ্টি করছেন তারা বলে অভিযোগ। এই নিয়ে হাবরা থানার সামনে দাঁড়িয়েই কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এলাকার নবনির্বাচিত বিধায়ক। তাঁর দাবি, এই অশান্তির ঘটনায় প্রকৃত বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের কোনও ভূমিকা নেই। তৃণমূল সমর্থকরাই দলবদল করে এই অশান্তি ঘটাচ্ছে। যারা এই ধরনের অরাজকতায় যুক্ত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেছেন তিনি।

  • Suvendu Adhikari: “গুন্ডাদের দমন করার দায়িত্ব আমার, নন্দীগ্রামে জয়ের অভিনন্দন”, জানিয়ে বার্তা শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: “গুন্ডাদের দমন করার দায়িত্ব আমার, নন্দীগ্রামে জয়ের অভিনন্দন”, জানিয়ে বার্তা শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ও রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের পর নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে জয় নিশ্চিত করলেন বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে পরাজিত করার পর তাঁর এই জয় রাজ্য রাজনীতিতে এক বিশেষ মাত্রা যোগ করেছে। বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসের পাতায় নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রটি এক অবিস্মরণীয় নাম। তবে ২০২১ সালের প্রেক্ষাপটে এই কেন্দ্রটি কেবল একটি নির্বাচনী ক্ষেত্র নয়, বরং হয়ে উঠেছিল মর্যাদার লড়াইয়ের এক চূড়ান্ত রণাঙ্গন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করে জয়ী হওয়ার পর শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক অবস্থান এবং তাঁর বক্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। তিনি বলেন, “নন্দীগ্রামের (Nandigram) মানুষ আমায় বিশ্বাস করেছেন, আমি তাঁদের সেই বিশ্বাসের অমর্যাদা করব না।”

    জয়ের নেপথ্যে জনগণের রায় (Suvendu Adhikari)

    শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) তাঁর বক্তব্যে বারংবার নন্দীগ্রামের ভূমিপুত্র হওয়ার আবেগকে গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেন, “এই জয় কেবল কোনও রাজনৈতিক দলের সাফল্য নয়, বরং এটি নন্দীগ্রামের (Nandigram) আত্মসম্মান ও অধিকার রক্ষার লড়াইয়ের জয়। ভূমিপুত্র বনাম বহিরাগত তত্ত্বে ভূমি পুত্রের জয় হয়েছে। জনগণের জনাদেশ সেই ভাবাবেগকেই সিলমোহর দিয়েছে। আপনারা নিশ্চিন্ত থাকুন, আপনাদের ঋণ আমি শোধ করব। তবে আমার আবেদন, শান্তি বজায় রাখুন। কুকুর মানুষের পায়ে কামড়ায়, মানুষ তাকে কামড়ায় না। তাই আইন কেউ হাতে নেবেন না।” তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, বহিরাগত শক্তির আক্রমণ রুখে দিয়ে নন্দীগ্রামের মানুষ যে আস্থা তাঁর ওপর রেখেছেন, তার প্রতি তিনি চিরকাল দায়বদ্ধ থাকবেন।

    গণতন্ত্র ও আইনি লড়াইয়ের প্রেক্ষাপট

    নন্দীগ্রামের (Nandigram) ফলাফল ঘোষণা নিয়ে ভোট গণনার দিন যে চরম নাটকীয়তা তৈরি হয়েছিল, তা কারোর অজানা নয়। শুরুতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জয়ের খবর চাউর হলেও, শেষ পর্যন্ত শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) জয়ী হয়েছিলেন। এই ফলাফলকে কেন্দ্র করে শাসকদলের পক্ষ থেকে যে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল, তার জবাবে শুভেন্দু অধিকারী অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে গণতন্ত্রের প্রতি তাঁর আস্থার কথাকেই প্রকাশ করেছেন। তিনি স্পষ্ট ভাবে বলেন, “নির্বাচন কমিশনের শংসাপত্রই শেষ কথা এবং কোনও প্রকার ভয়ভীতি বা আইনি চাপের কাছে মাথা আমরা নত করব না। ২০১১ সালের পরিবর্তনেও আমি ছিলাম, আর এবারের আসল পরিবর্তনেও আমিই রয়েছি।”

    বিরোধী দলনেতা হিসেবে আগামীর লক্ষ্য

    নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতিতে নন্দীগ্রামের (Nandigram) প্রতিনিধি হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) ভূমিকা এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি কেবল তাঁর নির্বাচনী এলাকার উন্নয়নের কথাই বলেননি, বরং সমগ্র বাংলার বিরোধী রাজনীতির একটি শক্তিশালী কণ্ঠস্বর হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছেন। তাঁর ভাষণে বলেন, “আগামী ১ বছরের মধ্যে রাজ্যের মানুষ প্রকৃত পরিবর্তনের স্বাদ পাবেন। মোদির গ্যারান্টি, অমিত শাহর ঘোষিত সংকল্পপত্র অক্ষরে অক্ষরে সময় মতো পূরণ করার ক্ষেত্রে বিজেপি দায়বদ্ধ। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এসে আইন মেনে প্রত্যেকটি পুরনো মামলা পুনরায় চালু করবে। মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো কর্মীদের মুক্তি ও আইনি বিচারের ব্যবস্থা করা হবে। গুন্ডাবাহিনীকে মোকাবিলা করার দায়িত্ব আমার নিজের কাঁধে।”

    উন্নয়নের রাজনীতি

    শুভেন্দু বলেন, ‘‘মহিলারা দরকারে যখন খুশি বাড়ি থেকে বেরোবেন। রাতে বেরনো যাবে না, এরকম কথা আগের মুখ্যমন্ত্রীর মতো আগামীর মুখ্য়মন্ত্রী বলবেন না।’’ ভোট-পরবর্তী হিংসা রুখতে এবং এলাকার শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসনিক সক্রিয়তার ওপর তিনি জোর দিয়েছেন শুভেন্দু। দলীয় কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতে তিনি বারবার অভয় দিয়েছেন যে, জয়ী প্রতিনিধি হিসেবে তিনি সর্বদা তাঁদের পাশে থাকবেন। নন্দীগ্রামের প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের সামাজিক সুরক্ষা ও সরকারি পরিষেবা নিশ্চিত করাই তাঁর প্রধান অগ্রাধিকার হবে।

    কোনও অলৌকিক ঘটনা নয়

    শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) এই জয় রাজ্য রাজনীতিতে বিজেপির অবস্থানকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছে। নন্দীগ্রামের মতো একটি সংবেদনশীল কেন্দ্র থেকে রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানকে পরাজিত করা রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত দুঃসাধ্য ছিল। শুভেন্দুর মতে, এটি কোনও অলৌকিক ঘটনা নয়, বরং বছরের পর বছর মানুষের সাথে মিশে থাকা এবং তাঁদের সুখ-দুঃখের ভাগীদার হওয়ার ফল।

    বাংলার রাজনীতিতে ‘নন্দীগ্রাম মডেল’

    শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) নন্দীগ্রাম (Nandigram) জয়ের পরবর্তী অবস্থান কেবল বিজয়োল্লাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। তাঁর মার্জিত অথচ কঠোর রাজনৈতিক অবস্থান ইঙ্গিত দেয় যে, আগামী দিনগুলোতে তিনি বিধানসভার ভেতরে ও বাইরে শাসকদলের প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে নিজেকে আরও শক্তিশালী করে তুলবেন। নন্দীগ্রামের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, বাংলার রাজনীতিতে ‘নন্দীগ্রাম মডেল’ আগামী দিনেও প্রাসঙ্গিক থাকবে এবং তাঁর এই জয় আগামী দিনের বৃহত্তর রাজনৈতিক পরিবর্তনের সোপান হিসেবে কাজ করবে।

  • South 24 Parganas: ক্যানিংয়ে হাসপাতালের ওটি থেকে তৃণমূল নেতার প্রচুর পরিমাণে টাকা, সোনা উদ্ধার, কীভাবে পৌঁছল?

    South 24 Parganas: ক্যানিংয়ে হাসপাতালের ওটি থেকে তৃণমূল নেতার প্রচুর পরিমাণে টাকা, সোনা উদ্ধার, কীভাবে পৌঁছল?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দক্ষিণ ২৪ পরগনার (South 24 Parganas) ক্যানিং পূর্বের মঠেরদিঘি গ্রামীণ হাসপাতালে চাঞ্চল্যকর এক ঘটনায় বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করেছে পুলিশ। হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারের (OT) ভেতর থেকে একটি সুটকেস উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় স্থানীয় রাজনীতি ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক শোরগোল পড়েছে।  যার কাছে এই টাকা উদ্ধার হয়েছে তিনি তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লা ঘনিষ্ঠ হোসেন গাজি (TMC Leader) বলে জানা গিয়েছে।

    সুটকেসটি তল্লাশি করে প্রায় ২০ লক্ষ টাকা উদ্ধার (South 24 Parganas)

    নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার পরবর্তী পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার সকালে হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে একটি পরিত্যক্ত সুটকেস লক্ষ্য করা যায়। খবর পেয়ে জীবনতলা (South 24 Parganas) থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং সুটকেসটি তল্লাশি করে প্রায় ২০ লক্ষ টাকা নগদ, প্রচুর পরিমাণে স্বর্ণালঙ্কার, বেশ কিছু আধার কার্ড এবং একটি গাড়ির চাবি উদ্ধার করে। সরকারি হাসপাতালের মতো সংবেদনশীল স্থানে কীভাবে এই বিপুল সম্পত্তি পৌঁছাল, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও বিস্ময় সৃষ্টি হয়েছে।

    প্রাথমিক তদন্ত ও চিকিৎসককে আটক

    হাসপাতালের চিকিৎসক ডাঃ শাহরুখ হোসেন বলেন, “স্থানীয় তৃণমূল বুথ সভাপতির সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্ক থাকার সুবাদে সভাপতির ছেলেই এই ব্যাগটি আমার কাছে রেখে গিয়েছিলেন।” বিজেপির দাবি, ডাক্তার শাহরুখ হোসেন এলাকায় তৃণমূল আশ্রিত অত্যন্ত প্রভাবশালী চিকিৎসক হিসেবে পরিচিত। তিনি হাসপাতালের প্রশাসনিক কাজের চেয়ে তৃণমূল নেতাদের নির্দেশ পালনেই বেশি ব্যস্ত থাকেন।

    পুলিশি তদন্তে জানা গিয়েছে, হাসপাতালেরই (South 24 Parganas) এক অ্যাম্বুলেন্স চালক ওই সুটকেসটি সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের এক চিকিৎসকের জিম্মায় রাখতে দিয়েছিলেন। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অপারেশন থিয়েটারের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসককে আটক করেছে। সংশ্লিষ্ট অ্যাম্বুলেন্স চালককে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়েছে।

    রাজনৈতিক সংযোগ ও অভিযোগ

    বিজেপির অভিযোগ, উদ্ধার হওয়া এই বিপুল সম্পত্তি স্থানীয় এক প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লা ঘনিষ্ঠ হোসেন গাজির। ভোটের ফল প্রকাশের পর লুটের আশঙ্কায় বা আইনি জটিলতা এড়াতে ওই নেতা তাঁর ঘনিষ্ঠ লোকজনের মাধ্যমে হাসপাতালের নিরাপদ স্থানে সম্পদ গচ্ছিত রেখেছিলেন। বর্তমানে ওই তৃণমূল নেতা (TMC Leader) এলাকা ছেড়ে আত্মগোপন করেছেন বলে জানা গেছে। এই ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা (South 24 Parganas) হাসপাতালের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। পুলিশের দাবি, উদ্ধার হওয়া অর্থের উৎস এবং এর নেপথ্যে কাদের হাত রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। খুব দ্রুত এই রহস্যের কিনারা করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদী প্রশাসন।

LinkedIn
Share