Tag: bangla khabar

bangla khabar

  • Mamata Banerjee: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পদত্যাগে অস্বীকার করায় বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আর.এন. রবি

    Mamata Banerjee: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পদত্যাগে অস্বীকার করায় বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আর.এন. রবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর এক নজিরবিহীন সাংবিধানিক সংকটের সাক্ষী থাকল রাজ্য। নির্বাচনী বিপর্যয়ের পরেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) পদত্যাগে অস্বীকার করায় শেষ পর্যন্ত বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আর.এন. রবি (R N Ravi)।

    ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২০৭টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের আসন সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৮০-তে। এমনকি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং ভবানীপুর কেন্দ্রে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ১৫ হাজারেরও বেশি ভোটে পরাজিত হয়েছেন।

    অচলাবস্থার মূল কারণ (Mamata Banerjee)

    সাধারণত পরাজয়ের পর বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যপালের (R N Ravi) কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে তিনি পদত্যাগ করবেন না। তাঁর অভিযোগ:

    • নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী মিলে ‘ভোট লুট’ করেছে।
    • নির্বাচনী ফলাফলকে তিনি ‘চক্রান্ত’ এবং ‘জালিয়াতি’ বলে অভিহিত করেছেন।
    • তাঁর দাবি, জনমতকে জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে, তাই নৈতিকভাবে তিনি পদত্যাগ করতে বাধ্য নন।রাজ্যপালের কড়া পদক্ষেপ

    রাজ্য সরকারের বর্তমান মেয়াদের শেষ দিন ছিল ৭ মে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) মুখ্যমন্ত্রী স্বেচ্ছায় পদ না ছাড়ায় এবং নতুন সরকার গঠনের পথ প্রশস্ত না হওয়ায় সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগ করেন রাজ্যপাল আর.এন. রবি (R N Ravi)। বৃহস্পতিবার দুপুর নাগাদ তিনি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার নির্দেশ দেন। রাজ্যপালের এই পদক্ষেপের ফলে বিদায়ী মন্ত্রিসভার আইনি বৈধতা আর রইল না।

    আইনি বিশেষজ্ঞদের মত

    প্রবীণ আইনজীবীদের মতে, যখন কোনও সরকার নির্বাচনে গরিষ্ঠতা হারায় এবং মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerjee) পদত্যাগ করতে অস্বীকার করেন, তখন রাজ্যপালের হাতে বিধানসভা ভেঙে দেওয়া ছাড়া আর কোনও বিকল্প থাকে না। পরিস্থিতি জটিল হলে পুলিশি সহায়তায় প্রশাসনিক ভবন খালি করার মতো কঠোর পদক্ষেপও নেওয়া হতে পারে।

    রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

    বিজেপি শিবির এই ঘটনাকে ‘গণতন্ত্রের জয়’ হিসেবে দেখছে এবং দ্রুত শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি শুরু করেছে। অন্যদিকে, অখিলেশ যাদবের মতো বিরোধী নেতারা কলকাতায় এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) সঙ্গে দেখা করেছেন। রাজ্য রাজনীতির এই উত্তাল পরিস্থিতিতে এখন সবার নজর নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়ার দিকে।

  • Suvendu Adhikari: ‘আমি ভবানীপুরে না জিতলে চন্দ্রনাথ টার্গেট হত না’, নাম না করে তৃণমূলের দিকে সরাসরি অভিযোগ শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: ‘আমি ভবানীপুরে না জিতলে চন্দ্রনাথ টার্গেট হত না’, নাম না করে তৃণমূলের দিকে সরাসরি অভিযোগ শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভবানীপুরে শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) না জিতলে চন্দ্রনাথকে এভাবে খুন হতে হত না। চন্দ্রনাথের মৃত্যু ‘ব্যক্তিগত ক্ষতি’ বলে মন্তব্য করলেন শুভেন্দু। তাঁর কথায়, “আমার সহায়ক না হলে হয়ত চন্দ্রনাথকে চলে যেতে হত না।” শুভেন্দুর দাবি, ঠাণ্ডা মাথায় পরিকল্পনা করে, সুপারি কিলার এনে খুন করা হয়েছে চন্দ্রনাথ রথকে। শুভেন্দু বলেন, “বিরোধী দলনেতার সরকারি এক্সিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্টকে গুলি চালানো হয়েছে। ১০ বছর তিনি এয়ারফোর্সে কাজ করেছেন। এখন আমার মনে হচ্ছে, বাড়ির লোক হয়ত ভাবতেই পারেন, আমার সহায়ক না হতেন, আমি যদি ভবানীপুরে মুখ্যমন্ত্রীকে না হারাতাম, তাহলে ৩৮ বছরের যুবককে এভাবে চলে যেতে হত না। তাঁর অপরাধ ছিল, তিনি শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক।”

    চন্দ্রনাথের মৃত্যু ‘ব্যক্তিগত ক্ষতি’

    চন্দ্রনাথের মৃত্যুকে ‘ব্যক্তিগত ক্ষতি’ বলে অভিহিত করেছেন শুভেন্দু। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনি উপায়ে ফাঁসিতে ঝোলানোর আর্জি জানিয়েছেন তিনি। শুভেন্দু (Suvendu Adhikari PA Death) বলেন, “ঠান্ডা মাথায় রেকি করে খুন করা হল। তদন্তকারীদের কাছে আমার প্রার্থনা, এর সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকটা লোককে খুঁজে বার করে আইনি পথে ফাঁসিতে ঝোলানো হোক।” বুধবার রাতে আপ্তসহায়কের মৃত্যুর খবর পেয়েই মধ্যমগ্রামে ছুটে গিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। বৃহস্পতিবার সকালে ময়নাতদন্তের পর দেহ বের করার সময়ও সেখানে দেখা গেল শুভেন্দুকে। সঙ্গে আরও দুই বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু এবং জ্যোতির্ময় সিংহ মাহাতো এবং অন্যান্য নেতারা।

    বুকের স্কেচ তৈরি করে গুলি

    বৃহস্পতিবার শুভেন্দু জানিয়েছেন, রাজ্য পুলিশের ডিজির সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। ডিজি শুভেন্দুকে জানিয়েছেন, খুনে ব্যবহৃত মোটরবাইকটি ঘটনাস্থল থেকে চার কিলোমিটার দূরে পাওয়া গিয়েছে। শুভেন্দু আরও জানিয়েছেন, “গত ৩-৪ দিন ধরে রেইকি করে, যেভাবে পাঁচটি বুলেট তাঁর শরীরে বিদ্ধ করা হয়েছে, যেভাবে তাঁর বুকের স্কেচ তৈরি করে তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে, তাতে নিন্দা আর দুঃখপ্রকাশ করার ভাষা পাচ্ছি না।” শুভেন্দু এ-ও জানিয়েছেন যে, চন্দ্রনাথের চণ্ডীপুরের বাড়িতেও যাবেন তিনি। সেখানে পূর্ব মেদিনীপুরের বিজেপি সাংসদ এবং বিধায়কেরা সকলে রয়েছেন বলে জানান তিনি। শুভেন্দু বলেন, আমার কর্তব্য হল, চন্দ্রনাথের স্ত্রী-কন্যাসন্তানকে দেখা।”

    বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন

    বুধবার রাতে মধ্যমগ্রামের দোহাড়িয়ায় গুলি করে খুন করা হয় শুভেন্দুর আপ্তসহায়ককে। গাড়িচালকও গুলিবিদ্ধ হন। দু’জনকেই প্রথমে মধ্যমগ্রামের এক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক চন্দ্রনাথকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। অপর জনকে কলকাতায় বাইপাসের ধারে এক হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। নিহত চন্দ্রনাথের দেহ বুধবার রাতেই নিয়ে যাওয়া হয় বারাসত মেডিক্যাল কলেজ এবং হাসপাতালের মর্গে। চন্দ্রনাথ হত্যার তদন্তে বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করা হয়েছে। এই তদন্তকারী দলে রাজ্য পুলিশের আধিকারিকদের পাশাপাশি সিআইডি-র আধিকারিকেরাও রয়েছেন।

  • Operation Sindoor Anniversary: “ভারত ক্ষমা করে না”! অপারেশন সিঁদুরের বর্ষপূর্তিতে ভিডিও প্রকাশ করে কড়া বার্তা ভারতীয় বায়ুসেনার

    Operation Sindoor Anniversary: “ভারত ক্ষমা করে না”! অপারেশন সিঁদুরের বর্ষপূর্তিতে ভিডিও প্রকাশ করে কড়া বার্তা ভারতীয় বায়ুসেনার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজকের দিনেই এক বছর আগে ভারতীয় বায়ুসেনা (IAF) পাকিস্তানের বিরুদ্ধে শুরু করেছিল ‘অপারেশন সিঁদুর’। জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলায় ২৬ জন পর্যটকের মৃত্যুর পর এই অভিযান চালানো হয়। ভারতের জানিয়েছিল, পাকিস্তান-সমর্থিত ও প্রশিক্ষিত জঙ্গিরাই ওই হামলার সঙ্গে জড়িত।

    ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় পাকিস্তানের

    ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ পাকিস্তানের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়ে। ক্ষতিগ্রস্ত হয় বিমানঘাঁটির কংক্রিট হ্যাঙ্গার, এয়ারফ্রেম এবং উন্নত বিমান প্রতিরক্ষা রেডার ব্যবস্থা। ভারতীয় বাহিনীর ব্রহ্মোস ক্রুজ মিসাইল, ড্রোন এবং নির্ভুল গাইডেড গ্লাইড বোমার আঘাতে এই ধ্বংসযজ্ঞ ঘটেছিল। ভারতের হামলার পর পাকিস্তানের একাধিক এলাকায় রাতের আকাশ জুড়ে বিশাল অগ্নিগোলক দেখা যায়। ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে জঙ্গি শিবির এবং সামরিক পরিকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছিল বলে জানিয়েছিল ভারত। সেই বিস্ফোরণের ছবি আন্তর্জাতিক মহলেও আলোচনার কেন্দ্রে আসে।

    “ভারত ক্ষমা করে না”

    বৃহস্পতিবা, রাত ১টা ৫ মিনিটে ভারতীয় বায়ুসেনা তাদের এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে অপারেশন সিঁদুরের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের একটি ভিডিও প্রকাশ করে। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, গত বছরের ৭ মে রাত ১টা ৫ মিনিটেই ভারত প্রথম দফার হামলা চালিয়েছিল পাকিস্তানের ভিতরে জঙ্গি ও সামরিক ঘাঁটির উপর। প্রকাশিত ভিডিওতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কণ্ঠে শোনা যায়, “ভারত প্রতিটি জঙ্গি এবং তাদের মদতদাতাদের চিহ্নিত করবে, খুঁজে বের করবে এবং শাস্তি দেবে।” ভিডিওর সঙ্গে ভারতীয় বায়ুসেনা একটি কড়া বার্তাও পোস্ট করে। সেখানে লেখা হয়, “অপারেশন সিঁদুর। ন্যায় প্রতিষ্ঠিত। পদক্ষেপে নিখুঁত, স্মৃতিতে চিরন্তন—অপারেশন সিঁদুর অব্যাহত। ভারত কিছু ভোলে না। ভারত ক্ষমা করে না।”

    পাঁচ দশকের বৃহত্তম মাল্টি-ডোমেন যুদ্ধ

    ভারতের সামরিক সূত্রে দাবি, গত প্রায় পাঁচ দশকের মধ্যে এটি ছিল দেশের বৃহত্তম মাল্টি-ডোমেন যুদ্ধ অভিযান। সীমান্ত পেরিয়ে সন্ত্রাসে পাকিস্তানের মদতের জবাব দিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়, যা ভারতের কৌশলগত ও নিরাপত্তা নীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। অপারেশন সিঁদুরে পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরের একাধিক জঙ্গি ঘাঁটি নিশানা করা হয়েছিল বলে জানা যায়। এর মধ্যে ছিল বাহাওয়ালপুরে জইশ-ই-মহম্মদের সদর দফতর, মুরিদকেতে লস্কর-ই-তইবার ঘাঁটি, সিয়ালকোটের মেহমুনা জোয়া, মুজফফরাবাদের সাওয়াই নালা ও সৈয়দ না বিলাল, কোটলির গুলপুর ও আব্বাস, ভিম্বরের বারনালা এবং সারজাল এলাকা। ভারতীয় হামলার তীব্রতা ও কার্যকারিতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে যখন গত বছরের ৯ মে বিকেলে পাকিস্তান যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনার দিকে এগোয় বলে দাবি করা হয়। যদিও আরও প্রায় দু’দিন সংঘর্ষ চলেছিল, তবুও ভারতের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে ভারতীয় সামরিক চাপ সহ্য করতে পাকিস্তান ব্যর্থ হয়েছিল।

  • Operation Sindoor Anniversary: ‘দেশের জন্য সর্বদা প্রস্তুত’, অপারেশন সিঁদুর’-এর বর্ষপূর্তিতে সেনাকে কুর্নিশ মোদির

    Operation Sindoor Anniversary: ‘দেশের জন্য সর্বদা প্রস্তুত’, অপারেশন সিঁদুর’-এর বর্ষপূর্তিতে সেনাকে কুর্নিশ মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর বর্ষপূর্তিতে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর সাহস ও বীরত্বকে সম্মান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বুধবার নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) প্রোফাইলের ডিসপ্লে ছবি পরিবর্তন করলেন। নতুন ডিসপ্লেতে স্থান পেয়েছে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর প্রতীকী ছবি, যা দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় সেনাবাহিনীর ভূমিকার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০২৫ সালের ৭ মে পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার পর ভারত শুরু করেছিল ‘অপারেশন সিঁদুর’ (Operation Sindoor Anniversary)। ভারতীয় সেনাবাহিনী পাকিস্তান ও পাকিস্তান অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীর (PoJK)-এ অবস্থিত একাধিক জঙ্গি ঘাঁটিতে নিশানা করে অভিযান চালায়। সরকারি সূত্র অনুযায়ী, এই অভিযানে লস্কর-ই-তইবা, জইশ-ই-মহম্মদ এবং হিজবুল মুজাহিদিনের মোট ৯টি বড় জঙ্গি লঞ্চপ্যাড ধ্বংস করা হয়। অভিযানে ১০০-রও বেশি জঙ্গি নিহত হয়েছিল বলে দাবি ভারতের।

    সেনাবাহিনীকে স্যালুট প্রধানমন্ত্রী মোদির

    পহেলগাঁও হামলার বদলা নিতে গত বছর ৭ মে অপারেশন সিঁদুর অভিযান চালায় ভারত। বৃহস্পতিবার তার বর্ষপূর্তি উপলক্ষে সেনাবাহিনীর জয়গান গাইলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। একইসঙ্গে তাঁর বার্তা, “সন্ত্রাসবাদকে ধ্বংস করার সংকল্পে অটল ভারত।” বৃহস্পতিবার মোদি তাঁর এক্স হ্যান্ডলে লেখেন, ‘এই অভিযানে ভারতের সশস্ত্র বাহিনী অতুলনীয় সাহস, নির্ভুলতা এবং দৃঢ় সংকল্পের প্রদর্শন করেছে। অপারেশন সিঁদুর সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের দৃঢ় অবস্থান এবং জাতীয় নিরাপত্তার প্রতি অবিচল অঙ্গীকারকে প্রতিফলিত করেছে।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই অভিযান ভারতের সশস্ত্র বাহিনীর পেশাদারিত্ব, প্রস্তুতি এবং তিন বাহিনীর সম্মিলিত শক্তির পরিচয় দিয়েছে। গোটা দেশ সেনাবাহিনীকে স্যালুট জানায়। সন্ত্রাসবাদকে ধ্বংস করতে করতে ভারত নিজের সংকল্পে অটল রয়েছে।”

    আত্মনির্ভর ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার প্রমাণ

    অন্যদিকে, এদিন সকালে সেনাবাহিনীর তরফেও ভিডিও প্রকাশ করে বিশেষ বার্তা দেওয়া হয়। বলা হয়, “সন্ত্রাসবাদীদের রেহাই নেই। জঙ্গিদের খুঁজে খুঁজে শাস্তি দেবে ভারত।” এদিন অপারেশন সিঁদুরের বর্ষপূর্তিতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংও ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর বীরত্ব ও আত্মত্যাগকে কুর্নিশ জানান। এক্সে করা পোস্টে তিনি লেখেন, “অপারেশন সিঁদুর আমাদের জাতীয় সংকল্প ও প্রস্তুতির শক্তিশালী প্রতীক। এই অভিযানে ভারতীয় সেনাবাহিনী যে নিখুঁত সমন্বয়, আধুনিক কৌশল ও দৃঢ়তা দেখিয়েছে, তা ভবিষ্যতের সামরিক অভিযানের জন্যও এক নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে।” তিনি আরও বলেন, “দেশের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী সবসময় প্রস্তুত। একই সঙ্গে এই অভিযান আত্মনির্ভর ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতারও প্রমাণ বহন করে।”

  • Chandranath Rath: চন্দ্রনাথকে খুনের ঘটনায় ব্যবহৃত খুনিদের বাইক উদ্ধার করল পুলিশ, মিলেছে আরও চাঞ্চাল্যকর তথ্য

    Chandranath Rath: চন্দ্রনাথকে খুনের ঘটনায় ব্যবহৃত খুনিদের বাইক উদ্ধার করল পুলিশ, মিলেছে আরও চাঞ্চাল্যকর তথ্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari PA) আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথের (Chandranath Rath) নৃশংস হত্যাকাণ্ডের তদন্তে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসছে। চন্দ্রনাথ রথকে হত্যার ঘটনায় ব্যবহৃত বাইক উদ্ধার করল পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে এই বাইকে করে চেপেই পালিয়ে গিয়েছিল দুষ্কৃতীরা। এ বার ওই দু’টি বাইকের মধ্যে একটি বাইক উদ্ধার করল পুলিশ। অপরটির খোঁজ এখনও চলছে। তবে বাইকটি কোন এলাকা থেকে উদ্ধার হয়েছে, তা প্রাথমিক ভাবে জানা যায়নি। আবার এই অপরাধে ব্যবহৃত ঘাতক গাড়িটির নম্বর প্লেট এবং চেসিস নম্বর নিয়ে চাঞ্চাল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। গাড়ির মালিক উইলিয়াম জোশেফ জানিয়েছেন, “গাড়িটি বিক্রির জন্য আমি ইন্টারনেটে দিয়েছিলাম।” এরপর মাটিগাড়া থানায় পুলিশরা তাঁর গাড়ির পুরো ভেরিফিকেশন করেছে।

    নম্বর প্লেট ও চেসিস নম্বরে কারসাজি (Chandranath Rath)

    তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, চন্দ্রনাথ (Chandranath Rath) খুনের ঘটনায় ব্যবহৃত চারচাকা গাড়িটির নম্বর প্লেটটি পরিকল্পিতভাবে জালিয়াতি করা হয়েছিল। শুধু তাই নয়, গাড়িটির পরিচয় মুছে ফেলতে বনেট, দরজা এবং অন্যান্য অংশ থেকে চেসিস নম্বর ঘষে তুলে দেওয়া হয়েছে। সাধারণত কোনও পেশাদার অপরাধী গোষ্ঠী ছাড়া এত নিখুঁতভাবে গাড়ির পরিচয় গোপন করা সম্ভব নয় বলে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান।

    গাড়ির মালিকানা নিয়ে বিভ্রান্তি

    শুভেন্দুর পিএ খুনের (Suvendu Adhikari PA) তদন্তে দেখা গিয়েছে, গাড়িটির যে নম্বর প্লেট ব্যবহার করা হয়েছিল, তা উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়ির বাসিন্দা উইলিয়াম জোসেফ নামে এক ব্যক্তির নামে নথিভুক্ত। তিনি পেশায় চা-শিল্পের কর্মী। তবে পুলিশ (Chandranath Rath)  তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি দাবি করেন, তাঁর গাড়িটি বর্তমানে শিলিগুড়িতেই রয়েছে। এর থেকে স্পষ্ট হয় যে, অপরাধীরা অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে আসল গাড়ির মডেল ও নম্বর নকল করে এই ‘ভুয়ো’ গাড়িটি তৈরি করেছিল।

    হামলার ধরন ও নৃশংসতা

    ঘটনাটি ঘটে রাত ১০টা থেকে ১০টা ১৫ মিনিটের মধ্যে, যখন চন্দ্রনাথ রথ মধ্যমগ্রামের দোহারিয়া এলাকা দিয়ে যাচ্ছিলেন। তদন্তে জানা গিয়েছে যা যা তা হল–

    তিনজন এই হত্যার (Suvendu Adhikari PA) হামলায় অংশ নেয়। একজন গাড়ি চালক এবং বাকি দুইজন মোটরসাইকেলে। ঘাতক গাড়িটি চন্দ্রনাথের (Chandranath Rath) গাড়ির সামনে আড়াআড়িভাবে দাঁড়িয়ে গতিরোধ করে। এরপর মোটরবাইকে আসা দুষ্কৃতীরা গাড়ির জানলার কাঁচে বন্দুক ঠেকিয়ে চন্দ্রনাথের মৃত্যু নিশ্চিত করতে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি চালায়। তিনটি গুলি লাগে চন্দ্রনাথের শরীরে।

    ৬ ঘণ্টা ধরে রেকি

    চারচাকা গাড়িটি চন্দ্রনাথের গাড়ি মাঝরাস্তায় আটকেছিল, সেটি বুধবার বিকেল ৩টে ৫৭ মিনিট নাগাদ দোলতলা সাহারা ব্রিজের কাছে দেখা গিয়েছে সিসিটিভি ফুটেজে। অর্থাৎ খুনের প্রায় ৬ ঘণ্টা আগে মধ্যমগ্রাম এলাকায় ঢুকে গিয়েছিল গাড়িটি। পুলিশের অনুমান, এরপর চন্দ্রনাথের বাড়ির কাছে ওই গাড়ি নিয়ে রেকি করেছিল আততায়ীরা, কীভাবে খুন করা যায় তার পরিকল্পনা ছকে নেওয়া হয়েছিল বলে অনুমান পুলিশের। খুনের আগে পিছন থেকে এসে আচমকা চন্দ্রনাথের গাড়ির গতি আটকায় এই চারচাকা গাড়িটি।

    পুলিশের পদক্ষেপ

    রাজ্য পুলিশের মহানির্দেশক (ডিজি) সিদ্ধিনাথ গুপ্ত জানিয়েছেন, বারাসাত ও মধ্যমগ্রাম এলাকার সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই খুনের (Suvendu Adhikari PA) রহস্য উদ্ঘাটনে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) এখন কাজ করছে। বিরোধী দলনেতার ঘনিষ্ঠ সহযোগীর এই পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড এবং তাতে ব্যবহৃত গাড়ির পরিচয় লোপাটের এই নয়া তথ্য রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।

  • West Bengal election: “পাল্টেছে এই বার, এল বিজেপি সরকার”, নতুন গান ও স্লোগান রিলিজ বিজেপির, রয়েছেন মোদি, শুভেন্দু-শমীক

    West Bengal election: “পাল্টেছে এই বার, এল বিজেপি সরকার”, নতুন গান ও স্লোগান রিলিজ বিজেপির, রয়েছেন মোদি, শুভেন্দু-শমীক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে (West Bengal election) জয়ের পর ভারতীয় জনতা পার্টি (West Bengal BJP) তাদের সাফল্যের উদ্‌যাপনে নতুন গান ও স্লোগান প্রকাশ করেছে। ভোট প্রচারে স্লোগান ছিল ‘পাল্টানো দরকার, চাই বিজেপি সরকার’। পশ্চিমবঙ্গ জয়ের পরে নতুন স্লোগান বাঁধল পদ্মশিবির। এবারের গান “পাল্টেছে এই বার, এল বিজেপি সরকার। বাঁধল নতুন গানও।”

    স্লোগানে পরিবর্তন (West Bengal election)

    নির্বাচনের (West Bengal election) আগে বিজেপির প্রধান স্লোগান ছিল—“পাল্টানো দরকার, চাই বিজেপি সরকার।” জয়ের পর সেই স্লোগান পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে—“পাল্টেছে এই বার, এল বিজেপি সরকার।” ক্ষমতায় আসার পরে সেই গান এবং স্লোগান উদ্‌যাপন করতে নতুন গান প্রকাশ্যে আনল পদ্মশিবির। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে সেখানে প্রতিশ্রুতি পূরণের বার্তার পাশাপাশি রইল মোদির মুখে ‘জয় মা কালী’ ধ্বনি। গানের সুরে রয়েছে ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনিও। দলের তরফে দুই মিনিট দৈর্ঘ্যের একটি নতুন গান প্রকাশ করা হয়েছে। এই গানে নির্বাচনের সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো পূরণের অঙ্গীকার করা হয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতি (West Bengal BJP) প্রসঙ্গে গানে বলা হয়েছে শিক্ষা হবে উর্ধ্বগামী সিঁড়ি। বেকারত্ব দূরীকরণ এবং রাজ্যে তথাকথিত ‘দাদাগিরি’র সংস্কৃতির অবসানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

    সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অনুষঙ্গ

    গানের ভিডিওতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কণ্ঠে ‘জয় মা কালী’ ধ্বনি এবং আবহ সঙ্গীতে ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি (West Bengal BJP) ব্যবহার করা হয়েছে, যা দলের আদর্শগত অবস্থানকে প্রতিফলিত করে। শিক্ষা এ বার ‘ঊর্ধ্বগামী সিঁড়ি’তে পা রাখবে। রাজ্যে আর ‘বেকারত্ব থাকবে না’, সেই বার্তাও দেওয়া হয়েছে নতুন গানে। পশ্চিমবঙ্গ থেকে রাজনৈতিক ‘দাদাগিরির’ সংস্কৃতি ঘোচানোর আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে। গানের ভিডিওতে প্রধানমন্ত্রী মোদির পাশাপাশি ভবানীপুর কেন্দ্রে জয়ী শুভেন্দু অধিকারী এবং রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যসহ দলের প্রথম সারির নেতাদের সাফল্যের মুহূর্তগুলো (West Bengal election) তুলে ধরা হয়েছে। সেই সঙ্গে নেতাকর্মীদের প্রবল পরিমাণে উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা গিয়েছে গানে।

     গানের প্রেক্ষাপট

    গত ১৭ জানুয়ারি মালদার জনসভা (West Bengal election) থেকে প্রধানমন্ত্রী মোদি যে স্লোগান বেঁধে দিয়েছিলেন, তা প্রচার পর্বে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়েছিল। বিজেপি মনে করছে, মানুষের আবেগকেই জয়ের পর এক নতুন মাত্রায় পৌঁছে দিতে এই গান ও স্লোগান বিশেষ ভূমিকা পালন করবে। রাজ্যে ২০০-র গণ্ডি পেরিয়ে ক্ষমতায় আসার পর জনতাকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করাই এখন নতুন সরকারের (West Bengal BJP) প্রধান লক্ষ্য—এই বার্তাই গানে স্পষ্ট করা হয়েছে।

  • Suvendu Adhikari PA Death: শুভেন্দুর পিএ মেরে কোন পথ ধরে আততায়ীরা? এসেছিল কোন দিক দিয়ে? প্রকাশ্যে এল প্ল্যান

    Suvendu Adhikari PA Death: শুভেন্দুর পিএ মেরে কোন পথ ধরে আততায়ীরা? এসেছিল কোন দিক দিয়ে? প্রকাশ্যে এল প্ল্যান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে নতুন সরকারের শপথ গ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে হাড়হিম হত্যা! মধ্যমগ্রামে রাস্তার ওপর পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করে খুন করা হল শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে (Suvendu Adhikari PA Death)! গুলিবিদ্ধ হয়েছেন গাড়ির চালকও। পুলিশের দাবি এই খুন সুপরিকল্পিত। যে আবাসনের সামনে এই ঘটনা ঘটে সেই শুভম গার্ডেনিয়া আবাসনের সিকিউরিটি গার্ড জানান আরও কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য। এই আবাসনের সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে সবটাই।

    কোন দিক দিয়ে এসেছে আততায়ীরা

    সিকিউরিটি গার্ড জানান, ১০টা থেকে ১০.১০টার মধ্যে হঠাৎই গুলি চলার আওয়াজ পান তিনি। তখন সিকিউরিটি ডেস্ক-এ বসে ছিলেন। এমন আওয়াজ শুনেই গেটের সামনে ছুটে যান তিনি। দরজা খুলে দেখতে পান কিছু একটা ঘটছে তাঁর অনতিদূরে। এরপর তড়িঘড়ি তিনি ছুটে এসে আবাসনের দরজা বন্ধ করে দেন। এরপর চাঞ্চল্যকর দাবি করেন সিকিউরিটি। পুলিশের প্রাথমিক দাবি ছিল এই রাস্তা দিয়েই চলে যায় বাইক। কিন্তু ওই সুরক্ষাকর্মীর কথায়, এই রাস্তা দিয়ে দুটো বাইকের কোনও বাইকই যশোর রোডের দিকে যায়নি। সিকিউরিটির দাবি, বাইক দুটি ঢুকেছে যশোর রোড দিয়েই দোহারিয়ার দিকে। মনে করা হচ্ছে, যশোর রোড না ধরে ভিতরের ঘিঞ্জি এলাকা দিয়েই আততায়ীরা পালানোর পরিকল্পনা নেয়।

    গাড়ির দরজা খুলতেই…

    যেখানে ঘটনাটি ঘটেছে, তা নিহত চন্দ্রনাথের ফ্ল্যাটের খুব কাছেই। ওই এলাকার এক বিজেপি কর্মী  হত্যার প্রত্যক্ষ করেন। তিনি জানান, পথকুকুরকে খাওয়ানোর সময় তিনি গুলির আওয়াজ শুনেই ছোটেন। সুশান্ত সরকার নামে ওই বিজেপি কর্মী জানান, সেই মুহূর্তে ঠিক কী ঘটেছিল। তিনি জানান, সেখানে গিয়ে দেখেন একটি সাদা রঙের স্করপিও গাড়ির সামনে একটি ছোট গাড়ি আড়াআড়ি ভাবে দাঁড় করানো রয়েছে। ছোট গাড়ির ভিতরে কেউ ছিল না। তবে স্করপিওর ভিতরে একজন ব্যক্তি আতঙ্কিত অবস্থায় বসে কাঁদছিলেন এবং ভয়ে দরজা খুলতে সাহস পাচ্ছিলেন না। সুশান্ত জানান, তিনি সাহস জোগানোর পরে ওই ব্যক্তি গাড়ির দরজা খোলেন। এর পরেই গাড়ির ভিতরে রক্তাক্ত অবস্থায় আরও দুই ব্যক্তিকে পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। সুশান্তর দাবি, এমনিই রাত ৮টার পরে একটু ফাঁকা থাকে ওই এলাকা। এখান থেকে এক মিনিটও লাগে না যশোহর রোড যেতে। আততায়ীরা একেবারে ঠান্ডা মাথায় সব প্ল্যান করে এই ঘটনা ঘটিয়েছে বলে দাবি তাঁর।

    পাশ দিয়েই চলে গিয়েছিল আততায়ীরা

    পুলিশ সূত্রে দাবি, ঘটনাটি ঘটেছে রাত ১০ থেকে ১০.১৫-র মধ্যে। জানা যাচ্ছে, হামলার সময় গাড়ির সামনের সিটে ছিলেন চন্দ্রনাথ রথ ও তাঁর গাড়ির চালক। কিন্তু বিস্তারিত জানতে মধ্যমগ্রাম ও ওই এলাকার সিসিটিভি ফুটেজে নজর রেখেছে পুলিশ। এরই মধ্যে চাঞ্চল্যকর দাবি করলেন এক প্রত্যক্ষদর্শী। আদিত্য নামের ওই প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ‘চন্দ্রনাথদার যে গাড়িটি ছিল সেটা আমাকে ক্রস করেছিল। বারাসাতের দিকে যাচ্ছিলাম এই পথে। সেই সময় আমাকে ক্রস করেই এগিয়ে যায় গাড়িটি। আমি চন্দ্রদার গাড়ি থেকে খুব বেশি হলে ১৫০ মিটার দূরে ছিলাম। আমার গাড়ি ওই ৪০-৫০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টায় ছিল। ওঁর গাড়ি ৬০ এর কাছাকাছি ছিল কারণ আমার গাড়িকে ক্রস করে। হঠাৎ করেই দেখি গাড়ির গতি কমে যায়। পড়ে বুঝতে পারি সামনে একটা গাড়ি চলে আসে। এরপর একটি বাইক আমাকেও ক্রস করে ওই গাড়ির কাছে চলে যায়। ওই লোকটিই গুলি করে। একজন লোকই ফায়ার করেছিল। ওখানে আমার আর দাঁড়ানোর সাহস ছিল না। মাথায় হেলমেট ছিল বলে মুখ দেখতে পাইনি ওই বাইকারের।’

    পেয়ারাবাগানে অপেক্ষা

    তদন্তে উঠে এসেছে, এই ঘটনার পর বাইকটি দোহারিয়া শৈলেশ নগরের কাছে পেয়ারাবাগানে ওই গাড়িটির জন্য অপেক্ষা করছিল। এরপর চন্দ্রনাথ রথের গাড়ি ওই এলাকায় ঢুকতেই পেয়ারাবাগান থেকে রওনা দেয় গাড়িটি। এরপর পথ আটকে গাড়ি থেকে নেমে আসে দুষ্কৃতীরা। গুলি করার ধরন দেখে তদন্তকারীদের দাবি ওই আততায়ী শার্প শ্যুটার। তাঁকে ভাড়াটে খুনি হিসেবে নিয়োগ করা হয়ে থাকতে পারে বলে অনুমান। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, অলিগলি না চিনলে বা আগে থেকে রেকি না করলে এমন নির্জন জায়গা বেছে নেওয়া সম্ভব নয়।

  • Suvendu Adhikari: “মমতাকে হারানোর বদলা নিল তৃণমূল”, কেঁদে কেঁদে বললেন চন্দ্রনাথের মা

    Suvendu Adhikari: “মমতাকে হারানোর বদলা নিল তৃণমূল”, কেঁদে কেঁদে বললেন চন্দ্রনাথের মা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথের রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। রামকৃষ্ণ মিশনের মেধাবী ছাত্র থেকে বায়ুসেনায় চাকরি, সেখান থেকে দাপুটে রাজনীতিবিদের ছায়াসঙ্গী— চন্দ্রনাথের (Chandranath Rath) এই অকাল প্রয়াণ কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না তাঁর পরিজন ও প্রতিবেশীরা। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে যে শোক ও ক্ষোভের আবহ তৈরি হয়েছে। বিজেপির অবশ্য দাবি এই ঘটনার পিছনে তৃণমূল দুষ্কৃতীদের একটা চক্র রয়েছে। তবে শপথ গ্রহণের আগেই এই হত্যাকাণ্ড রাজ্যরাজনীতিতে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।

    মেধাবী ছাত্র থেকে বায়ুসেনা হয়ে রাজনীতির আঙিনায়, কেমন ছিলেন চন্দ্রনাথ (Suvendu Adhikari)?

    পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুরের বাসিন্দা চন্দ্রনাথ রথ ছোটবেলা থেকেই ছিলেন অত্যন্ত বিনয়ী এবং পড়াশোনায় অত্যন্ত মেধাবী। ২০০০ সালে সসম্মানে মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া এই যুবক ছিলেন এলাকার গর্ব। তাঁর সহপাঠী ও বাল্যবন্ধু শিবশঙ্কর দাসের স্মৃতিচারণায় উঠে এসেছে এক আদর্শবাদী তরুণের ছবি।

    • শিক্ষাগত যোগ্যতা: মাধ্যমিক পরীক্ষায় ছয়টি বিষয়ে লেটার মার্কস-সহ স্টার মার্কস পেয়েছিলেন চন্দ্রনাথ।
    • ব্যক্তিত্ব: বন্ধুমহলে তিনি পরিচিত ছিলেন পরোপকারী ও মিষ্টভাষী হিসেবে। কাউকেও কোনোদিন উচ্চস্বরে কিছু বলা বা কোনও বিবাদে জড়ানোর বিন্দুমাত্র ইতিহাস তাঁর ছিল না।
    • রাজনৈতিক বিবর্তন: কর্মজীবন শুরু করার পর একসময় তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে দল পরিবর্তন করে ভারতীয় জনতা পার্টিতে (বিজেপি) যোগদান করেন এবং রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক হিসেবে কাজ শুরু করেন।

    শোকাতুর পরিবার ও প্রতিবেশীদের হাহাকার

    শুভেন্দুর পিএ (Suvendu Adhikari) চন্দ্রনাথের মৃত্যুর খবর পৌঁছানো মাত্রই চণ্ডীপুরে তাঁর গ্রাম শোকস্তব্ধ হয়ে পড়ে। গতকাল রাত থেকেই তাঁর বাড়ির সামনে ভিড় জমাচ্ছেন উদ্বিগ্ন গ্রামবাসী ও পরিচিতরা। পরিবারের একমাত্র ছেলের এমন মর্মান্তিক পরিণতির কথা শুনে ভেঙে পড়েছেন তাঁর মা। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে নিয়ে চিন্তিত পরিজনেরা। প্রতিবেশীরা বলেন, দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে তাঁকে চেনা প্রতিবেশীরা বলছেন, “এমন মার্জিত ও অমায়িক ছেলে এ তল্লাটে বিরল।” ভোটের ঠিক আগের দিনও গ্রামে এসে সবার সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলে গিয়েছিলেন তিনি। সেই স্মৃতিই এখন গ্রামবাসীর চোখে জল এনে দিচ্ছে।

    মৃত্যুর পিছনে যারা রয়েছে, তাদের যেন শাস্তিটুকু হয়

    চন্দ্রনাথের (Chandranath Rath) মা হাসি রানী রথের অভিযোগ, সবটাই তৃণমূলের সাজানো গল্প। তিনি বলেন, “আজ আমরা ক্ষমতায় আসার পর, যখন আমাদের নেতা বলছেন সুশৃঙ্খলভাবে থাকতে, তখন শাসকদের যাঁরা গরম গরম বক্তৃতা দিয়েছিল যে চার তারিখের পর কোনও বাপ রক্ষা করতে পারবে না, সেটাই করে দেখাল। আমি নতুন সরকারের কাছে আবেদন করব আমার ছেলের মৃত্যুর পিছনে যারা রয়েছে, তাদের যেন শাস্তিটুকু হয়।”

    রাজনৈতিক চক্রান্তের অভিযোগ ও বিচারের দাবি

    চন্দ্রনাথের (Chandranath Rath) এই মৃত্যুকে নিছক দুর্ঘটনা হিসেবে মানতে নারাজ তাঁর বন্ধু ও অনুগামীরা। শিবশঙ্কর দাসের স্পষ্ট অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হতে হয়েছে চন্দ্রনাথকে। তিনি বলেন, ‘‘যিনি কোনওদিন কাউকে একটি চড় পর্যন্ত মারেননি, তাঁর সঙ্গে কারও ব্যক্তিগত শত্রুতা থাকা অসম্ভব। বিজেপি করার ‘অপরাধেই’ তাঁকে সুপরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে।’’ বর্তমানে এই ঘটনার তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়ার দিকে তাকিয়ে আছে গোটা রাজ্য। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সরব চন্দ্রনাথের গ্রাম ও রাজনৈতিক মহল।

  • ABVP: সমস্ত কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউনিট খুলবে এবিভিপি, দ্রুত ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ডাক

    ABVP: সমস্ত কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউনিট খুলবে এবিভিপি, দ্রুত ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ডাক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বঙ্গে পদ্ম ফুটতেই (BJP Bengal Victory) রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের ছাত্র সংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের (ABVP) প্রদেশ কার্যালয়ে ঢল নেমেছে জেন জিদের। স্বদেশ মাতার বন্দনা, দেশের সুরক্ষা এবং দুর্নীতি মুক্ত শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে তৃণমূল ছাত্র পরিষদ এবং বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলিকে ছাড়ার হিড়িক দেখা দিয়েছে ছাত্র সমাজের মধ্যে। রাজনৈতিক পালা পরিবর্তনের পর এবিভিপির পক্ষ থেকে লিংড কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে ছাত্র সংসদ নির্বাচন করার জোরালো দাবি উঠেছে। সেই সঙ্গে সংগঠনের তরফে ঘোষণা করা হয়েছে, সমস্ত কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউনিট খুলবে বিদ্যার্থী পরিষদ। বাংলার ভেঙে পড়া শিক্ষা পরিকাঠামকে পুনঃনির্মাণের দাবি তোলা হয় এই হিন্দুত্ববাদী ছাত্র সংগঠনের তরফে।

    ক্যাম্পাসে শিক্ষার অনুকুল পরিবেশ (ABVP)

    অষ্টাদশ বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Election 2026) পর অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের (ABVP) তরফে সাফ দাবি করা হয়, নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই রাজ্যজুড়ে সমস্ত কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নির্বাচন করতে হবে। ছাত্র অধিকারের দাবিতে ক্যাম্পাসে শিক্ষার অনুকুল পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে। স্বাভাবিক পঠনপাঠন এবং ক্যাম্পাসকে রাজনীতি মুক্ত করে এবিভিপি সকল ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থকে সুরক্ষিত করার কথা জোর দিয়ে জানিয়েছে। ভর্তিতে কাটমানি, তোলাবাজি, নেশামুক্ত ক্যাম্পাস এবং কাম্পাসে নারী সুরক্ষার বিষয়ে ১০০ শতাংশ নিরাপদ করার দাবিও তুলেছে এবিভিপি। বঙ্গের কৃষ্টি-সংস্কৃতির জাগরণের আরেকবার পুনঃজাগরণের কথায় জোর দেওয়া হয়েছে।

    ২০১৬ সালের পর থেকে কোনও নির্বাচন হয়নি

    ২০২৬ সালের নির্বাচনের আগে থেকেই জেলা ভিত্তিক সংগঠনের কাজ সম্পন্ন করেছে এবিভিপি। ইতিমধ্যে কলকাতা, শহরতলী, উত্তর ২৪ পরগনা, বর্ধমান, মেদিনীপুর, হুগলি, শিলিগুড়ি, মালদা, কোচবিহারে এবিভিপির শক্ত সংগঠন রয়েছে। রাজ্যের তৃণমূল সরকারের আমলে গত ৮ বছর আগে ২০১৯ সালে শেষ ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়েছিল কেবলমাত্র যাদবপুর বিশ্ববিদ্যায় এবং প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ে। একক ভাবে এবিভিপি (ABVP) বিশেষ ভাবে নিজেদের ভোট অঙ্কে বিরাট প্রতিফলন হয়েছিল। তবে রাজ্যের বাকি কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় এবং ক্যাম্পাসগুলিতে ২০১৬ সালের পর থেকে কোনও নির্বাচন হয়নি। একক ভাবে তৃণমূল ছাত্রপরিষদ সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিজেদের একাধিপত্য জোরপূর্বক দখল করে রেখে ছিল। তবে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির (BJP Bengal Victory) ফলে ক্যাম্পাসকে ভয় মুক্ত করতে এগিয়ে আসছে বঙ্গের জেন জি সমাজ।

    রাজনীতির আখড়া গড়ে তুলেছে

    এবিভিপির দাবি, তৃণমূলের রাজত্বে গত আট বছর এ রাজ্যের কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে ছাত্রসংসদ গঠন করা যায়নি। স্বচ্ছ ভাবে করা হয়নি ছাত্র সংসদের ভোট। বারবার তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, ছাত্রসংসদ নিষ্ক্রিয় করে রেখছে শাসকদল তৃণমূল। ইউনিয়ন রুমে ক্যাম্পাসের তৃণমূল নেতারা ছাত্রীদের ধর্ষণের মতো ঘটনাও ঘটেছে।  সাউথ ক্যালকাটা ল কলেজে এমন ঘটনায় নিন্দার ঝড় উঠেছিল সর্বত্র। অকারণে শিক্ষক, অধ্যাপক, গবেষকদের সঙ্গে অভব্য আচরণ, মারধর এবং রাজনীতির আখড়া গড়ে তুলেছে। কলজেগুলিকে লোকাল রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীদের প্রভাব বন্ধ করতে হবে। যাদবপুরের মতো জায়গায় স্বপ্নদীপের মতো একজন প্রথম বর্ষের ছাত্রকে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করা হয়েছিল। ক্যাম্পাসে নামাজ, ইফতারের নামে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের কাজ করেছে তৃণমূল। তাই সার্বিক ভাবে অপসংস্কৃতির সমাপ্তি ঘটিয়ে একটি শিক্ষার পরিমণ্ডল চায় এবিভিপি।

    দুর্নীতিগ্রস্তদের সংগঠনে না

    এবিভিপি-র (ABVP) রাষ্ট্রীয় মিডিয়া সেলের সহ-আহ্বায়ক দেবাঞ্জন পাল জানিয়েছেন, “ইতিমধ্যেই গোটা রাজ্য থেকে বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা এবিভিপি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হতে চাইছেন। তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সদস্যেরা সব থেকে বেশি যোগ দিতে চাইছেন আমাদের সংগঠনে। কিন্তু নেতৃত্বের তরফে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ক্যাম্পাসের পরিবেশ যাঁরা এত দিন নষ্ট করে এসেছেন, ভাবমূর্তি খারাপ তাঁদের কোনও ভাবেই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত করা যাবে না। ২০১৭-র পর থেকে কোথাও ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়নি। এই ন’বছরে যাঁরা পড়াশোনা করেছেন, তাঁরা বুঝতেই পারলেন না ছাত্র রাজনীতি কী। তৃণমূল স্বাভাবিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ধ্বংস করেছে আমরা সেটা ফিরিয়ে আনব।”

    ছাত্র সমাজের বিরাট পরিবর্তন

    রাজ্যে গত ১৫ বছরের তৃণমূলের শাসনের (West Bengal Election 2026) অবসান হয়েছে। পদ্মশিবির উত্তর থেকে দক্ষিণে দিকে দিকে জয়যুক্ত হয়েছে। গেরুয়া শিবিরের ঢেউ (BJP Bengal Victory) আছড়ে পড়েছে পশ্চিমবঙ্গের অলিগলিতে। লাগাম ছাড়া নারীধর্ষণ এবং প্রশাসনিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে একক ভাবে সংখ্যা গরিষ্ঠ আসনে জয়যুক্ত হয়েছে। মমতার মা মাটি সরকারের লাগাম ছাড়া তোষণনীতির বিরুদ্ধে এবং হিন্দু সুরক্ষার পক্ষে জনাদেশ এসেছে। এই অবস্থায় পশ্চিমবঙ্গের ছাত্র-যুব সমাজের মধ্যেও বিরাট পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিদ্যার্থী পরিষদ রাজ্যের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে হিংসা মুক্ত পরিবেশ চায় এবিভিপি। এমনটাই জানানো হয়েছে সংগঠনের তরফে।

  • Mamata Blind Faith on Abhishek: পরিবারতন্ত্রের পক্ষেই মমতা! অভিষেককে না মানলে তৃণমূল থেকে বহিষ্কার, নেত্রীর ‘অভিষেকীকরণ’ নিয়ে দলে ক্ষোভ

    Mamata Blind Faith on Abhishek: পরিবারতন্ত্রের পক্ষেই মমতা! অভিষেককে না মানলে তৃণমূল থেকে বহিষ্কার, নেত্রীর ‘অভিষেকীকরণ’ নিয়ে দলে ক্ষোভ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২০৭টি আসনে জিতে সরকার গড়তে চলেছে বিজেপি। তৃণমূলের দীর্ঘ ১৫ বছরের অপশাসনের পর বিজেপিতে তৃণমূলীকরণ চান না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। কিন্তু তৃণমূল আছে তৃণমূলেই। বলা ভাল মমতা আছেন মমতা-তেই। তৃণমূলের এই ভরাডুবির পিছনে যখন দলের একাংশ অভিষেকীকরণ-কে দায়ী করছেন তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুধবার তৃণমূলের টিকিটে জয়ীদের বৈঠকে সেই অভিষেকের ‘লড়াইকে’ সম্মান দিতে উঠে দাঁড়ানোর কথা বললেন। যা নিয়ে দলের অন্দরে বিতর্ক তুঙ্গে।

    ৫ বছরের ব্যবধানে ধরাশায়ী অবস্থা

    তৃণমূলের ক্ষমতার মিনার ভেঙে পড়ার পর থেকেই দলের অন্দরে আলোচ্য হয়ে উঠেছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা। তাঁর কর্পোরেট কায়দা, পরামর্শদাতা সংস্থা আই-প্যাককে সংগঠনের সমান্তরাল করে তোলা নিয়ে নবীন-প্রবীণ নির্বিশেষে ক্ষোভ গোপন করছেন না। একুশের বিধানসভা ভোটে বাংলার ২৯৪ আসনে তৃণমূলের প্রাপ্ত আসন সংখ্যা ছিল ২১৩। ভয়ঙ্কর ভরাডুবি দেখাল ছাব্বিশের নির্বাচন। জনতার রায়ে এবারের নির্বাচনে তৃণমূলের দখলে রইল মাত্র ৮০ কেন্দ্র। তাবড় তাবড় নেতা মন্ত্রী থেকে খোদ মুখ্যমন্ত্রী। ধরে রাখতে পারেননি নিজেদের কেন্দ্র। গড় হিসেবে পরিচিত দক্ষিণ ২৪ পরগনা, কলকাতা, হাওড়া, পূর্ব বর্ধমানের মতো জেলাগুলিতেও উঠেছে গেরুয়া ঝড়। কিন্তু ৫ বছরের ব্যবধানে এমন ধরাশায়ী অবস্থা কীভাবে? ১৯৯৮ সাল থেকে বাংলার ‘অগ্নিকন্যার’ লড়াই ছাব্বিশেই ইতি টানল? বিভিন্নমহল থেকে একাধিক কাটাছেঁড়া চললেও, এবার দলের অন্দরেই ফোঁস করে উঠছেন নেতারা। বলছেন, ‘অভিষেকই (Abhishek Banerjee) যত নষ্টের গোড়া। দলে কর্পোরেট কালচারটাই কাল হল।’

    সেই অভিষেককেই সম্মান!

    বুধবার তৃণমূলের টিকিটে জয়ীদের বৈঠকে সেই অভিষেকের ‘লড়াইকে’ সম্মান দিতে উঠে দাঁড়াতে হল সকলকে। উঠতে হল অভিষেকের জন্মের আগে থেকে রাজনীতির আঙিনায় থাকা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়, সমর মুখোপাধ্যায়, জাভেদ খান, ফিরহাদ হাকিমদেরও। কালীঘাটের বাড়িতে তৃণমূলের জয়ী ৮০ জন প্রার্থীকে ডেকেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈঠকে ছিলেন অভিষেকও। সূত্রের খবর, সেই বৈঠকেই অভিষেকের লড়াইকে সম্মান জানানোর নির্দেশ দেন মমতা। তৃণমূলের এক বিজয়ী প্রার্থী বলেন, ‘‘অভিষেকের লড়াইকে সম্মান জানতে মমতাই সকলকে বলেন উঠে দাঁড়াতে।’’ রতুয়ার প্রবীণ বিধায়ক সমর, বালিগঞ্জ থেকে জেতা শোভনদেব, কলকাতার মেয়র তথা বন্দর আসন থেকে জেতা ফিরহাদ, বজবজ থেকে জেতা অশোক দেব— সকলকেই উঠে দাঁড়িয়ে সম্মান জানাতে হয়েছে অভিষেকের প্রতি। যা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়ে গিয়েছে তৃণমূলের মধ্যে।

    চেয়ার ছাড়তে হল প্রবীণদেরও

    সূত্রের খবর, মমতার নির্দেশ মেনে অনেককে উঠে দাঁড়িয়ে সম্মান জানাতে হয়েছে ঠিকই। তবে অনেকেই চেয়ার ছেড়ে উঠতে ইতস্তত করেছেন। জয়ী এক প্রার্থী বলেন, ‘‘বসেও তো হাততালি দেওয়া যেত। কিন্তু হাঁটুর বয়সি অভিষেকের সামনে উঠে দাঁড়ানো প্রবীণ নেতাদের কাছে দৃশ্যতই অস্বস্তিকর ছিল।’’ তবে বৈঠকের ভিতরে উঠে দাঁড়ালেও বাইরে বেরিয়ে কেউই বিষয়টি প্রকাশ্যে স্বীকার করেননি। যা খানিকটা প্রত্যাশিতই।

    অভিষেকের সমালোচনা নয়

    তৃণমূল সূত্রে আরও খবর, মমতা স্পষ্ট বার্তা দিয়ে দিয়েছেন, অভিষেকের সমালোচনা করলে পার্টি বরদাস্ত করবে না। শৃঙ্খলা রাখার বিষয়ে তিনি একটি শৃঙ্খলারক্ষা কমিটিও গড়ে দিয়েছেন। যাতে রাখা হয়েছে রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন, প্রাক্তন মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, শুভাশিস চক্রবর্তী এবং ধনেখালির জয়ী প্রার্থী অসীমা পাত্রকে। ডেরেককে অভিষেকের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসে বসার দায়িত্ব দিয়েছেন মমতা। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত তিনি সেখানে থাকবেন।

    জয়ীদের মধ্যে ১১ জন গরহাজির কেন

    তৃণমূলের টিকিটে এবার জিতেছেন সাকুল্যে ৮০ জন। সূত্রের খবর, বুধবারের বৈঠকে জয়ীদের মধ্যে ১১ জন হাজির ছিলেন না। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হাসনের কাজল শেখ এবং আমডাঙা থেকে জয়ী তথা ফুরফুরা শরিফের পিরজাদা কাশেম সিদ্দিকি। বিধানসভা নির্বাচনে দলের ভরাডুবির পরে দলনেত্রীর ডাকা এই বৈঠকে একসঙ্গে এতজন জয়ী প্রার্থীর অনুপস্থিতি নিয়ে স্বাভাবিক ভাবেই জল্পনা শুরু হয়েছে। তৃণমূল সূত্রের দাবি, যে জয়ী প্রার্থীরা উপস্থিত হননি, মমতা নিজেই তাঁদের নির্দেশ দিয়েছেন, আপাতত নিজেদের এলাকায় ‘আক্রান্ত’ মানুষের পাশে থাকতে। দলীয় নেতৃত্বের ব্যাখ্যা সত্ত্বেও মমতার উপস্থিতিতে নতুন পরিষদীয় দলের প্রথম সভায় ১১ জন গরহাজির থাকায় যে জয়ী প্রার্থীরা কালীঘাটের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, তাঁদের অনেকেই বিস্মিত হয়েছেন। এ দিনের বৈঠকে উপস্থিত তৃণমূলের প্রথম সারির এক নেতা তথা জয়ী প্রার্থীর কথায়, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বৈঠক ডেকেছেন, সেখানে অনুপস্থিত থাকার ঘটনা বেনজির। একমাত্র কাজল শেখের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, নানুরে রাজনৈতিক অশান্তির কারণে একজনের মৃত্যু হওয়ায় তিনি আসতে পারেননি। কিন্তু বাকিরা কেন অনুপস্থিত, তা স্পষ্ট করে বলা হয়নি।’

    অভিষেকের বিরুদ্ধে গেলে ব্যবস্থা!

    ফল প্রকাশের পর থেকে রবীন্দ্রনাথ ঘোষ, কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরী, খগেশ্বর রায়ের মতো প্রবীণ নেতা থেকে বিভিন্ন পুরসভার প্রাক্তন–বর্তমান চেয়ারম্যান, কাউন্সিলার দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত ভোটকুশলী সংস্থার বিরুদ্ধেও সুর চড়িয়েছেন অনেকে। বেসুরো নেতাদের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে দেখে ডেরেক ও’ব্রায়েন, ফিরহাদ হাকিম, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, অসীমা পাত্র ও শুভাশিস চক্রবর্তীকে নিয়ে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করেছেন মমতা। সূত্রের দাবি, বৈঠকে তৃণমূলনেত্রী বলেছেন, ‘যিনি দলের বিরুদ্ধে কথা বলবেন, দলের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে কথা বলবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দলের সঙ্গে যাঁরা বিশ্বাসঘাতকতা করবেন, তাঁদের দল থেকে বের করে দেওয়া হবে।’ তবে, মমতা যাই বলুন, তৃণমূল সূত্রে খবর, শুধু প্রবীণরাই নন অভিষেকের পথ মানতে নারাজ অনেক যুব তৃণমূল নেতাও। তাঁদের অভিযোগ, “হারের পিছনে এক এবং একমাত্র কারণ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দলটাকে কর্পোরেট একনায়কতন্ত্রে পরিণত করা হয়েছে। যে দল গ্রাসরুটে মিশে থাকার কথা, তাকে নিয়ে চলে গিয়েছে ক্যামাক স্ট্রিটের ৬ তলায়। ১৯৯৮ সাল থেকে লড়াই করা নেতাদের পাত্তাই দেননি অভিষেক।” ক্ষমতা হারানোর পর দলের অভ্যন্তরে বিরোধিতা তৈরী হলেও মমতা কিন্তু ভোট দিলেন পরিবারতন্ত্রের পক্ষেই।

LinkedIn
Share