Tag: bangla khabar

bangla khabar

  • Paid Content Boost: মেটা-র বিরাট স্বীকারোক্তি! টাকা নিয়ে করা হয় ‘কনটেন্ট বুস্ট’, বেআইনি পোস্ট প্রচার নিয়ে আরও বড় চাপে সংস্থা

    Paid Content Boost: মেটা-র বিরাট স্বীকারোক্তি! টাকা নিয়ে করা হয় ‘কনটেন্ট বুস্ট’, বেআইনি পোস্ট প্রচার নিয়ে আরও বড় চাপে সংস্থা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি ভিডিও সাময়িকভাবে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম থেকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিতর্ক এবার অনেক বড় আকার নিয়েছে। কেন্দ্রীয় ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক (MeitY)-এর শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে মেটা নাকি স্বীকার করেছে, নির্দিষ্ট ধরনের কনটেন্টের প্রচার (Boost) বাড়াতে বিপুল পরিমাণ অর্থ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, সংস্থাটি এ-ও মেনে নিয়েছে যে তাদের প্ল্যাটফর্মে অবৈধ কনটেন্টও প্রচার পেয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মেটা-র সিইও মার্ক জুকেরবার্গ শিশু যৌন নির্যাতন-সংক্রান্ত কনটেন্ট (CSAM), ডিপফেক এবং কিছু অপারেশনাল ত্রুটির জন্য দুঃখপ্রকাশও করেছেন। যদিও এই তথ্যগুলির বেশিরভাগই বৈঠক-সংক্রান্ত সূত্রের দাবি, এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনও বিচারিক সিদ্ধান্ত বা আনুষ্ঠানিক আইনি রায় হয়নি।

    শুধু প্রযুক্তিগত ভুল নয়, সামনে এল আরও বড় প্রশ্ন

    প্রথমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি ভিডিও। মেটা জানায়, প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণেই ভিডিওটি সাময়িকভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। পরে সেটি পুনরায় প্রকাশ করা হয় এবং সংস্থার পক্ষ থেকে ক্ষমাও চাওয়া হয়। কিন্তু সরকারি সূত্রের দাবি, তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের সঙ্গে বৈঠকে আলোচনার মূল বিষয় ছিল শুধু ওই ভিডিও নয়। বরং মেটা-র কনটেন্ট প্রচার (Content Amplification), ‘অ্যালগরিদম’ এবং ‘পেড বুস্টিং’ ব্যবস্থা নিয়েই সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন তোলা হয়। সূত্রের দাবি, মেটা-র প্রতিনিধিরা স্বীকার করেন যে নির্দিষ্ট ধরনের কনটেন্টকে বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। একই সঙ্গে কিছু বেআইনি কনটেন্টও প্ল্যাটফর্মে প্রচার পেয়েছে বলে তাঁরা মেনে নেন। যদিও কোন ধরনের কনটেন্টের কথা বলা হয়েছে, তা প্রকাশ্যে জানানো হয়নি।

    ‘কনটেন্ট বুস্ট’ বলতে আসলে কী বোঝায়?

    ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামে প্রতিটি পোস্ট সমান সংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছায় না। জটিল অ্যালগরিদম ঠিক করে দেয়, কোন ব্যবহারকারী কোন পোস্ট দেখবেন, কতবার দেখবেন এবং কোন ক্রমে দেখবেন। ‘বুস্টিং’ বলতে বোঝায় কোনও পোস্টের স্বাভাবিক নাগালের বাইরে তার পৌঁছনোর ক্ষমতা বাড়িয়ে দেওয়া। এটি হতে পারে—

    • ● পেড প্রোমোশনের মাধ্যমে,
    • ● রেকমেন্ডেশন অ্যালগরিদমের সাহায্যে,
    • ● অথবা অন্যান্য অ্যালগরিদমিক অ্যাম্পলিফিকেশন টুলের মাধ্যমে।

    ফলে যে পোস্ট স্বাভাবিকভাবে কয়েক হাজার মানুষের কাছে পৌঁছনোর কথা, সেটি কয়েক লক্ষ বা কোটি মানুষের কাছেও পৌঁছে যেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি অর্থের বিনিময়ে নির্দিষ্ট ধরনের কনটেন্টকে বেশি মানুষের সামনে তুলে ধরা হয়, তাহলে সেই প্ল্যাটফর্মকে আর শুধু নিরপেক্ষ প্রযুক্তিগত মধ্যস্থতাকারী (Intermediary) বলা কঠিন হয়ে পড়ে। কারণ তখন প্ল্যাটফর্ম নিজেই তথ্যপ্রবাহকে প্রভাবিত করছে।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী বা মধ্যস্থতাকারীর মর্যাদা?

    ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি আইন, ২০০০ (Information Technology Act, 2000)-এর আওতায় সোশ্যাল মিডিয়া সংস্থাগুলি সাধারণত মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আইনি সুরক্ষা পেয়ে থাকে। এই আইনি সুরক্ষার মূল ভিত্তি হল—প্ল্যাটফর্মটি কেবল ব্যবহারকারীদের তৈরি করা কনটেন্ট হোস্ট করবে, নিজে সেই কনটেন্ট তৈরি বা নির্বাচন করবে না। সরকারি সূত্রের দাবি, মধ্যস্থতাকারীর আধিকারিকরা মেটা-কে জানিয়েছেন যে, যদি প্ল্যাটফর্ম নিজেই অ্যালগরিদমের মাধ্যমে ঠিক করে দেয় কোন কনটেন্ট কার কাছে পৌঁছবে এবং বাণিজ্যিক স্বার্থে সেই দৃশ্যমানতা বাড়ায়, তাহলে ‘ইন্টারমেডিয়ারি সেফ হারবার’ (Intermediary Safe Harbour)-এর দাবি স্বয়ংক্রিয়ভাবে করা যায় না। যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও আদালত মেটা-র বিরুদ্ধে এমন সিদ্ধান্ত দেয়নি।

    কনটেন্ট হোস্ট করা আর কনটেন্ট প্রচার করা এক নয়

    আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনও প্ল্যাটফর্মে ব্যবহারকারীর পোস্ট সংরক্ষণ করা এবং সেই পোস্টকে সক্রিয়ভাবে আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া—দুটি সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। একটি নিরপেক্ষ প্ল্যাটফর্ম শুধু অবকাঠামো দেয়। কিন্তু যখন কোনও সংস্থা—

    • ● রেকমেন্ডেশন অ্যালগরিদম ব্যবহার করে,
    • ● ট্রেন্ডিং তালিকা তৈরি করে,
    • ● ব্যক্তিগতকৃত ফিড সাজায়,
    • ● অথবা পেড বুস্টিংয়ের মাধ্যমে নির্দিষ্ট পোস্টকে আরও বেশি মানুষের সামনে তুলে ধরে,

    তখন সেটি কার্যত তথ্যের দৃশ্যমানতা নিয়ন্ত্রণ করছে। মেটা-র কথিত স্বীকারোক্তি সেই বিতর্ককেই নতুন করে উসকে দিয়েছে।

    ভারতে কেন এত গুরুত্বপূর্ণ এই বিতর্ক?

    মেটা-র সবচেয়ে বড় ব্যবহারকারীভিত্তিক বাজারগুলির অন্যতম ভারত। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম এবং হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করেন কয়েকশো মিলিয়ন ভারতীয়। এই পরিস্থিতিতে অ্যালগরিদম কোন কনটেন্টকে সামনে আনছে, তা জনমত, রাজনৈতিক আলোচনা, সংবাদ গ্রহণ এবং সামাজিক প্রবণতার উপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। অনেক ব্যবহারকারী মনে করেন কোনও পোস্ট ভাইরাল হয়েছে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত আগ্রহের কারণে। কিন্তু বাস্তবে অ্যালগরিদমিক অ্যাম্পলিফিকেশন বা পেড বুস্টিংয়ের ফলে সেই ধারণা বদলে যেতে পারে।

    মোদির ভিডিও থেকেই শুরু বিতর্ক

    সূত্রের দাবি, ২৩ জুলাই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি একটি ভার্টিক্যাল ভিডিও পোস্ট করার পর সেটি কিছু সময়ের জন্য ফেসবুক (Facebook) এবং ইনস্টাগ্রাম (Instagram) থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। পরে ভিডিওটি ফের প্রকাশ করা হয়। মেটা এই ঘটনাকে প্রযুক্তিগত ত্রুটি বলে ব্যাখ্যা করলেও, সেই ব্যাখ্যায় পুরোপুরি সন্তুষ্ট হয়নি কেন্দ্রীয় সরকার। এরপরই তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক মেটা-র গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স প্রধান জোয়েল কাপলান-সহ শীর্ষ প্রতিনিধিদের তলব করে। বৈঠকে শুধু মোদির ভিডিও নয়, শিশু যৌন নির্যাতন-সংক্রান্ত কনটেন্ট (CSAM), ডিপফেক, কনটেন্ট মডারেশন এবং প্ল্যাটফর্মের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও আলোচনায় উঠে আসে বলে সূত্রের দাবি।

    মেটা-র কনটেন্ট মডারেশন নিয়ে নতুন প্রশ্ন

    মেটা দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছে যে তারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ ব্যবস্থা এবং মানব মডারেটরের মাধ্যমে ক্ষতিকর কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণে বিপুল বিনিয়োগ করছে।

    তবুও বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সময়ে সংস্থাটি সমালোচনার মুখে পড়েছে—

    • ● শিশু যৌন নির্যাতন-সংক্রান্ত কনটেন্ট,
    • ● ডিপফেক,
    • ● ভুয়ো তথ্য,
    • ● আর্থিক প্রতারণা,
    • ● ঘৃণামূলক বক্তব্য,
    • ● অন্যান্য বেআইনি কনটেন্ট ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগে।

    যদি সত্যিই বেআইনি কনটেন্ট অ্যালগরিদম বা পেড প্রোমোশনের মাধ্যমে আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে থাকে, তাহলে মেটা-র নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতেই পারে।

    শুধু ভারত নয়, বিশ্বজুড়েই বাড়ছে নজরদারি

    ভারতের মতো ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়াসহ একাধিক দেশ এখন শুধু কনটেন্ট অপসারণ নয়, অ্যালগরিদমিক স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতার উপর জোর দিচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডিজিটাল সার্ভিসেস অ্যাক্ট (DSA)-এ বড় অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলিকে তাদের রেকমেন্ডেশন অ্যালগরিদমের ঝুঁকি মূল্যায়ন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশ্বজুড়েই এখন প্রশ্ন উঠছে—সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম কি শুধু তথ্য সাজিয়ে দেয়, নাকি তারা ঠিক করে দেয় মানুষ কী দেখবে?

    আবারও ডাকা হতে পারে মেটা-কে

    সূত্রের খবর, বিষয়টি নিয়ে মেটা-কে আরও এক দফা আলোচনার জন্য ডাকা হতে পারে। তবে এখনও পর্যন্ত কোনও আদালত এই মর্মে রায় দেয়নি যে মেটা তার ইন্টারমেডিয়ারি (Intermediary) বা মধ্যস্থতাকারীর মর্যাদা হারিয়েছে বা ভারতীয় আইন ভঙ্গ করেছে। নির্দিষ্ট কনটেন্ট বুস্ট করা বা বেআইনি কনটেন্ট প্রচারের অভিযোগও এখনও আনুষ্ঠানিক আইনি পরীক্ষার মুখোমুখি হয়নি। তবুও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারতের ডিজিটাল নীতিনির্ধারণে একটি মৌলিক প্রশ্ন সামনে এসেছে—যে প্ল্যাটফর্ম অ্যালগরিদম ও অর্থের বিনিময়ে কনটেন্টের দৃশ্যমানতা নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে কি এখনও সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দেখা উচিত? আগামী দিনে এই প্রশ্নের উত্তরই ভারতের ডিজিটাল নিয়ন্ত্রণ নীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে।

  • Mark Zuckerberg Apologizes: মোদির ভিডিও বিতর্কে চাপে মেটা, দুঃখপ্রকাশ জুকেরবার্গের! শিশু যৌন নির্যাতন-সংক্রান্ত কনটেন্ট ও ডিপফেক নিয়েও কেন্দ্রের কড়া বার্তা

    Mark Zuckerberg Apologizes: মোদির ভিডিও বিতর্কে চাপে মেটা, দুঃখপ্রকাশ জুকেরবার্গের! শিশু যৌন নির্যাতন-সংক্রান্ত কনটেন্ট ও ডিপফেক নিয়েও কেন্দ্রের কড়া বার্তা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শেষ পর্যন্ত ভারত সরকারের চাপে নতিস্বীকার করলেন মেটা। ইনস্টাগ্রাম-সহ মেটার নানা সোশাল মিডিয়া প্লাটফর্মে ‘চাইল্ড পর্ন’-এর মতো নানা আপত্তিকর কন্টেন্ট আপলোড করার দায় স্বীকার করে ক্ষমা চাইলেন মেটাকর্তা মার্ক জুকেরবার্গ (Mark Zuckerberg)। সূত্রের খবর, এর পাশপাশি মোদির ভিডও সরানোর বিষয়ে প্রযুক্তি-প্রক্রিয়ার ত্রুটির কথাও বলা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি ভিডিও ভুলবশত সরিয়ে দেওয়া, শিশু যৌন নির্যাতন-সংক্রান্ত কনটেন্ট (CSAM) এবং ডিপফেক মোকাবিলায় ব্যর্থতার অভিযোগে তীব্র চাপে পড়ে মেটা। কেন্দ্রের হুঁশিয়ারিতে অস্বস্তিতে বাড়ে সংস্থার। উল্লেখ্য, ভারত মেটার বৃহত্তম বাজার। এখানে কোটি কোটি মানুষ ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করেন।

    ‘সেফ হারবার’ সুরক্ষা-র জন্যই নতি স্বীকার!

    সরকারি সূত্রের দাবি, মেটার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (CEO) মার্ক জুকেরবার্গ এই ঘটনাগুলির জন্য সরকারের কাছে দুঃখপ্রকাশ করেছেন। সূত্রের দাবি, কেন্দ্র মেটাকে স্পষ্ট জানিয়েছে যে, তারা কেবলমাত্র একটি নিরপেক্ষ ‘ইন্টারমিডিয়ারি’ হিসেবে কাজ করে না। বরং কোন ব্যবহারকারীর কাছে কোন কনটেন্ট পৌঁছবে, তা অ্যালগরিদমের মাধ্যমে বেছে দেয়। ফলে তথ্যপ্রযুক্তি আইন (IT Act)-এর ধারা ৭৯ অনুযায়ী যে ‘সেফ হারবার’ সুরক্ষা ইন্টারমিডিয়ারিদের দেওয়া হয়, তা মেটার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নাও হতে পারে।

    তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের সঙ্গে ৪৫ মিনিট বৈঠক

    বুধবার মেটার চিফ গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স অফিসার জোয়েল ক্যাপলানের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের (MeitY) সচিব এস. কৃষ্ণনের সঙ্গে প্রায় ৪৫ মিনিট বৈঠক করে। বৈঠকে গত মাসে প্রধানমন্ত্রী মোদির ভিডিও ভুলবশত সরিয়ে দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে মেটা। মেটার তরফে উপস্থিত ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট নিল পটস, সিনিয়র ডিরেক্টর রাফায়েল ফ্রান্কেল, আমান জৈন ও প্রিয়া শ্রীনিবাসন। বৈঠকে কনটেন্ট মডারেশন নিয়ে নিরাপত্তা ও সুরক্ষা বাড়ানোর কথা বলা হয়। কেন্দ্রের তরফে মেটাকে কঠোরভাবে বলা হয় আইন-নিয়ম মেনে চলতে। বাক স্বাধীনতা হরণ করা হচ্ছে না, তবে সমস্ত সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মকে আইন মেনে চলতে হবে। সূত্রের খবর, মেটার আধিকারিকরা জানিয়েছেন, তাদের অভ্যন্তরীণ নিয়ম ও ফ্যাক্ট চেকিং মেকানিজম আগে থেকেই রয়েছে।

    কনটেন্ট বণ্টন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন

    এর আগে সংসদের তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান তথা বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে কড়া ভাষায় মেটাকে সতর্ক করেছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও মুছে ফেলা কোনও ইন্টারমিডিয়ারির কাজ নয়, বরং প্রকাশকের (Publisher) মতো আচরণ। তাই তিন দিনের মধ্যে মার্ক জুকেরবার্গকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। অন্যথায় মেটার ‘সেফ হারবার’ সুরক্ষা প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হবে। দুবে বলেন, “সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলি দীর্ঘদিন ধরে এই আইনি সুরক্ষার অপব্যবহার করছে। যদি এই সুরক্ষা তুলে নেওয়া হয়, তবে আপত্তিকর বা ক্ষতিকর কনটেন্টের জন্য সরাসরি সংস্থার বিরুদ্ধে মামলা করা সম্ভব হবে।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রীর ভিডিওটি প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা ফেসবুকে অনুপস্থিত ছিল। এই ধরনের ঘটনা অত্যন্ত গুরুতর এবং বড় প্রযুক্তি সংস্থাগুলির কনটেন্ট বণ্টন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

    আপত্তিকর কনটেন্ট দ্রুত সরাতে ব্যর্থ

    শুধু ভিডিও বিতর্ক নয়, শিশু যৌন নির্যাতন-সংক্রান্ত কনটেন্ট (CSAM) এবং নারীদের বিরুদ্ধে আপত্তিকর কনটেন্ট দ্রুত সরাতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগও তোলেন দুবে। তাঁর দাবি, মেটা এবং ইউটিউব—উভয় প্ল্যাটফর্মেই এই ধরনের কনটেন্ট রয়ে যায়, যদিও এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের উদ্বেগ একাধিকবার জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, ইন্সটাগ্রামে পেইড বিজ্ঞাপনে শিশুদের যৌন শোষণ ও নিপীড়ন নিয়ে ভিডিও দেখানো নিয়ে ইতিমধ্যেই কেন্দ্রের নজরদারিতে এসেছে মেটা। সরকারের তরফে গত মাসে এই ইস্যুতে নোটিসও পাঠানো হয়।

    ভুলস্বীকার জুকেরবার্গ-এর

    পরিচালনগত ত্রুটি এবং সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া শিশু যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত তথ্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন মেটা-কর্তা মার্ক জুকেরবার্গ। বুধবার সরকারি সূত্র উদ্ধৃত করে এমনই জানিয়েছে বিভিন্ন সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম। সরকারি সূত্র উদ্ধৃত করে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, কেন্দ্রের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় মেটা-র সিইও শিশু যৌন নির্যাতনমূলক (সিএসএএম) এবং ডিপফেক কন্টেন্ট (মূলত ভিডিও) ছড়ানোর বিষয়ে তাঁদের ভুলস্বীকার করেছেন। জুকেরবার্গ বলেছেন যে, তাঁদের কোম্পানির প্ল্যাটফর্ম পরিচালনাগত ত্রুটি ছিল। পরবর্তী সময়ে এ নিয়ে তাঁরা আরও সতর্ক থাকবেন। বৃহস্পতিবার সরকারপক্ষের সঙ্গে আবার একপ্রস্ত আলোচনা হতে পারে মেটার।

    কোথা থেকে বিতর্কের সূত্রপাত

    প্রসঙ্গত, গত ২৩ জুলাই প্রকাশিত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ওই ভিডিওটি ছিল নিট ইউজি ২০২৬ পরীক্ষায় অনিয়মের প্রতিবাদে চলা ৩৬ দিনের ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষিতে তরুণদের উদ্দেশে তাঁর প্রথম সরাসরি বার্তা। ভিডিওতে তিনি প্রশ্নপত্র ফাঁস রুখতে কঠোর আইন আনার আশ্বাস দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে কেন্দ্র পরীক্ষা (Prevention of Unfair Means) সংশোধনী বিল ২০২৬ অনুমোদন করে এবং বিলটি সংসদের উভয় কক্ষেই পাস হয়। গত ২৮ জুলাই মেটা এক বিবৃতিতে জানায়, প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে ভিডিওটি সরিয়ে গিয়েছিল এবং পরে তা পুনরায় পুনঃস্থাপন করা হয়। তবে এই ঘটনার পর সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলির অ্যালগরিদমিক কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ এবং ‘সেফ হারবার’ সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্ক শুরু হয়েছে।

  • Shakib Al Hasan: হাসিনার ভার্চুয়াল সম্মেলনে যোগ দিতেই শাকিবের বাড়িতে ‘পেট্রলবোমা হামলা’! বাংলাদেশে রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে

    Shakib Al Hasan: হাসিনার ভার্চুয়াল সম্মেলনে যোগ দিতেই শাকিবের বাড়িতে ‘পেট্রলবোমা হামলা’! বাংলাদেশে রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক:বাংলাদেশের প্রাক্তন অধিনায়ক শাকিব আল হাসানের (Shakib Al Hasan) মাগুরার বাড়িতে পেট্রলবোমা হামলার অভিযোগ। বুধবার সন্ধ্যায় তাঁর বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ওই সময় বাড়িতে (Bangladesh) কেউ ছিলেন কি না, তা জানা যায়নি। হামলায় কেউ আহতও হননি।

    শাকিবের বাড়িতে হামলা (Shakib Al Hasan)

    স্থানীয় সময় রাত ৮টা ৪৫ মিনিট নাগাদ শাকিবের বাড়িতে হামলা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি বাড়িতে ইট-পাটকেল ছুড়ে জানালার কাচ ভাঙচুর করে, পরে বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। স্থানীয় কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, হামলার সময় বাড়িতে পেট্রলবোমাও ছোড়া হয়। যদিও পুলিশ পেট্রলবোমা ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, “কয়েকজন দুষ্কৃতকারী বাড়িতে ইটের টুকরো ছুড়ে জানালা ভাঙচুর করেছে। তারা বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ারও চেষ্টা করেছে।” হামলার সময় শাকিবের বাড়ির বাইরে আতশবাজির মতো বিকট শব্দ শোনা যায় বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা। আওয়ামি লিগের পক্ষ থেকেও প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছে শাকিবের বাড়ির বাইরে আতশবাজির মতো শব্দ। ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি মাধ্যম।  শাকিব মাগুরা-১ কেন্দ্রের প্রাক্তন আওয়ামি লিগ সংসদ। ঘটনার পর তাঁর বাড়ির বাইরে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। হামলাকারীরা কারা এবং কী উদ্দেশ্যে এই হামলা চালানো হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

    শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে যোগ

    শাকিবের বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে দিল্লি থেকে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল ভাষণে অংশ নেওয়া একটি সংবাদমাধ্যমের অনুষ্ঠানে শাকিবের যোগ দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরেই। দক্ষিণ এশিয়ার বিদেশি সংবাদদাতাদের সংগঠনের উদ্যোগে ওই অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছিল। অনুষ্ঠানে হাসিনা ২০২৪ সালের জুলাই-অগাস্টে আন্দোলন মোকাবিলায় তাঁর সরকারের ভূমিকার পক্ষে সাফাই দেন। তাঁর দাবি, তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য ছাত্রনেতৃত্বাধীন আন্দোলনটি স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ ছিল না, ছিল সুপরিকল্পিতভাবে সরকার পরিবর্তনের একটি ছক। অনুষ্ঠানের আগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল, জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতারা প্রকাশ্যে এর বিরোধিতা করেন। অভিযোগ, কয়েকটি সংবাদমাধ্যমকে হাসিনার বক্তব্য প্রচার বা সম্প্রচার না করার ব্যাপারেও সতর্ক করা হয়েছিল।আওয়ামি লিগের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের অভিযোগ, ওই অনুষ্ঠানে শাকিবের অংশগ্রহণের কারণেই তাঁর বাড়িতে হামলা হয়েছে। তবে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখনও হামলার সঙ্গে ওই অনুষ্ঠানের কোনও যোগসূত্রের প্রমাণ পায়নি। হামলাকারীদেরও শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি (Bangladesh)।

    রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে বিতর্কে শাকিব

    বাংলাদেশের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার হিসেবে পরিচিত শাকিব দীর্ঘদিন ধরেই দেশের ক্রিকেটে গুরুত্বপূর্ণ নাম। তবে আওয়ামি লিগের সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক যোগ থাকায় তিনি একই সঙ্গে বিতর্কিতও হয়ে উঠেছেন (Shakib Al Hasan)।২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামি লিগের প্রার্থী হিসেবে মাগুরা-১ আসন থেকে সংসদ নির্বাচিত হন শাকিব। বিরোধী একাধিক দল ওই নির্বাচনকে প্রকৃত প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন নির্বাচন হিসেবে সমালোচনা করেছিল। ওই বছরের অগাস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশে আওয়ামি লিগের রাজনৈতিক কার্যকলাপ নিষিদ্ধ করা হয়। বুধবারের বক্তব্যে হাসিনা তাঁর দলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানান। পাশাপাশি একাধিক আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে থাকলেও, বাংলাদেশে ফেরার আসার ইচ্ছার কথাও ফের জানান তিনি। এই পরিস্থিতিতে হাসিনার ওই অনুষ্ঠানে শাকিবের অংশগ্রহণ আওয়ামি লিগের সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক সম্পর্ক এখনও অব্যাহত থাকার বিষয়টিকে প্রকাশ্যে এনেছে।

    রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশে ফেরেননি শাকিব

    হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে শাকিব আর বাংলাদেশে ফেরেননি। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক ফৌজদারি মামলা দায়ের হয়েছে। এর মধ্যে একটি হত্যা মামলায়ও তাঁকে একাধিক অভিযুক্তের সঙ্গে আসামি করা হয়েছে। বাংলাদেশের প্রাক্তন অধিনায়ক একাধিকবার বলেছেন, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হলে এবং হয়রানি থেকে সুরক্ষার নিশ্চয়তা পেলে দেশে ফিরে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে তিনি প্রস্তুত। বর্তমানে পরিবারের সঙ্গে আমেরিকায় বসবাস করছেন শাকিব। সেখান থেকেই বিভিন্ন দেশের ঘরোয়া ও ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে খেলছেন। ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগ ও লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগের মতো প্রতিযোগিতায়ও অংশ নিয়েছেন এই অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার।বাংলাদেশ (Bangladesh) ক্রিকেট বোর্ড অবশ্য আগে একবার জানিয়েছিল, জাতীয় দলে শাকিবের ফেরার পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি (Shakib Al Hasan)।

     

  • Sheikh Hasina: “গ্রেফতার বা মৃত্যুভয় আমাকে কর্তব্য থেকে সরাতে পারবে না”, বাংলাদেশে ফেরার কথা জানিয়ে বললেন হাসিনা

    Sheikh Hasina: “গ্রেফতার বা মৃত্যুভয় আমাকে কর্তব্য থেকে সরাতে পারবে না”, বাংলাদেশে ফেরার কথা জানিয়ে বললেন হাসিনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রায় দু’বছর পরে বাংলাদেশে (Bangladesh) ফেরার কথা ঘোষণা করলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina)। বুধবার এক প্রকাশ্য ভাষণে তিনি জানান, আগামী ডিসেম্বরেই দেশে ফিরতে চান তিনি। ২০২৪ সালের সরকারবিরোধী আন্দোলনের পরে ঢাকা ছেড়ে ভারতে চলে যাওয়ার পর এটাই তাঁর প্রথম প্রকাশ্য বক্তব্য। দেশে ফিরলে তাঁকে গ্রেফতার করা হতে পারে, এমনকি প্রাণনাশের আশঙ্কাও রয়েছে বলে কবুল করেছেন হাসিনা। তবে কোনও ভয়ই তাঁকে দেশে ফেরা থেকে বিরত রাখতে পারবে না বলেও দৃঢ়ভাবে জানান তিনি।

    ‘হত্যাও করা হতে পারে’ (Sheikh Hasina)

    হাসিনা বলেন, “আমাকে জেলে পাঠানো হতে পারে, এমনকি হত্যাও করা হতে পারে। কিন্তু মানুষের প্রতি আমার কর্তব্য কী হবে, তা ভয় দিয়ে নির্ধারিত হতে পারে না। ১৯৭৫ সালে আমি আমার পরিবারের সদস্যদের হারিয়েছি এবং ছ’বছর নির্বাসনে কাটিয়েছি। নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমি উদ্বিগ্ন নই, আমি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন।” দেশে ফেরার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে হাসিনা জানান, বাংলাদেশের উন্নয়নের ধারা ফের প্রতিষ্ঠিত করা এবং দেশের মানুষের নিরাপত্তা, সমৃদ্ধি, শান্তি ও বৃহত্তর অর্থনৈতিক সুযোগ নিশ্চিত করাই তাঁর লক্ষ্য। ক্ষমতায় ফেরার আকাঙ্ক্ষা থেকে নয়, মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধ থেকেই তাঁর দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত বলে দাবি করেন তিনি।

    ‘আমি ফিরতে চাই’

    প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি ফিরতে চাই, কারণ বাংলাদেশের মানুষ নিরাপত্তা, উন্নয়ন, সমৃদ্ধি এবং শান্তির অধিকারী। তারা এমন একটি রাষ্ট্র পাওয়ার অধিকারী, যে রাষ্ট্রের স্বপ্ন তারা দেখেছিল এবং এমন একটি অর্থনীতি পাওয়ার অধিকারী, যা তাদের সামনে সুযোগ তৈরি করবে। আমার ফেরা ক্ষমতার জন্য নয়, বাংলাদেশকে আবার সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার জন্য। আমি মানুষের পাশে দাঁড়াতে এবং তাদের জীবনযাত্রার উন্নতিতে সাহায্য করতে ফিরতে চাই। সমস্ত ক্ষমতার উৎস হল জনগণ।” দেশ ছাড়তে বাধ্য হলেও, দেশের মানুষের সঙ্গে তাঁর কখনও বিচ্ছেদ ঘটেনি বলেও দাবি করেন হাসিনা। বলেন, “গত দু’বছর ধরে আমি আমার প্রিয় বাংলাদেশকে কষ্ট পেতে দেখেছি… এ সেই বাংলাদেশ নয়, যে বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলেছিলাম। এ সেই বাংলাদেশও নয়, যার জন্য ১৯৭১ সালে ৩০ লাখ মানুষ প্রাণ উৎসর্গ করেছিলেন।”

    ২০২৪-এর ছাত্র আন্দোলন শান্তিপূর্ণ ছিল না

    ২০২৪ সালের জুলাই-অগাস্টের আন্দোলন নিয়ে হাসিনা জানান, তাঁর সরকারের পতনের দিকে নিয়ে যাওয়া সেই (Bangladesh) আন্দোলন কোনও শান্তিপূর্ণ ছাত্র আন্দোলন ছিল না। তাঁর দাবি, ছাত্রদের সামনে রেখে হিংসা ও সরকার পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে একটি যৌথ অভিযান চালানো হয়েছিল। হাসিনা বলেন, “২০২৪ সালের জুলাই-অগাস্টের সত্যটা আমি আপনাদের জানাতে চাই। এটি কোনও শান্তিপূর্ণ ছাত্র আন্দোলন ছিল না। এটি কোনও স্বতঃস্ফূর্ত ছাত্র প্রতিবাদও ছিল না।” আন্দোলন দমনে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ওঠা সমালোচনা প্রসঙ্গেও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, মানুষের জীবন এবং সরকারি সম্পত্তি রক্ষা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব (Sheikh Hasina)। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্ন, “যখন পুলিশ ও সরকারি ভবনে আগুন দেওয়া হয় এবং সেগুলি লুট করা হয়, তখন মানুষের জীবন ও সম্পত্তি রক্ষা করার কি রাষ্ট্রের কোনও দায়িত্ব নেই?” হাসিনা জানান, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই হিংসার ঘটনার তদন্ত এবং প্রতিটি মৃত্যুর তথ্য নথিভুক্ত করার জন্য তিনি একটি বিচারবিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন করেছিলেন। তিনি বলেন, “উদ্দেশ্য ছিল স্পষ্ট—প্রতিটি মৃত্যুর ঘটনা নথিভুক্ত করা।”

    ভারতকে ‘চিরকালের বন্ধু’ বললেন হাসিনা

    বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের কথাও উঠে আসে হাসিনার বক্তব্যে। প্রতিবেশী দেশ ভারতকে তিনি “মহান বন্ধু” হিসেবে উল্লেখ করেন। হাসিনার বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনার বিষয়ে ভারত সরকার অবগত কি না, সেই প্রশ্নের জবাবে তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, “তিনি দেশে ফিরতে চান—এই খবর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে শিরোনাম হয়েছে। তাই ভারতের সকলেই এ বিষয়ে জানবেন।” গত দু’বছর ভারতে শেখ হাসিনার অবস্থান প্রসঙ্গে জয় বলেন, তাঁকে একজন সরকারপ্রধানকে যে মর্যাদা ও নিরাপত্তা দেওয়া হয়, সেই মর্যাদা ও নিরাপত্তাই দেওয়া হয়েছে (Sheikh Hasina)। তিনি বলেন, “ভারত তাঁকে রাষ্ট্রপ্রধানের মতো মর্যাদা দিচ্ছে এবং তাঁর সঙ্গে অত্যন্ত ভালো ব্যবহার করছে। তিনি রাষ্ট্রপ্রধানের মতো পূর্ণ নিরাপত্তায় এখানে রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার তাঁকে সর্বোচ্চ সম্মান দেখিয়েছে (Bangladesh)।”

    বাংলাদেশের ক্ষোভ

    হাসিনার এই বক্তব্যের পর দিল্লিতে অনুষ্ঠানটি আয়োজনের অনুমতি দেওয়ায় ভারত সরকারের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকার। বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রক এক বিবৃতিতে হাসিনাকে “পলাতক দণ্ডিত গণহত্যাকারী” বলে উল্লেখ করে অভিযোগ করেছে, তাঁকে দিল্লিতে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, সেখানে শেখ হাসিনা ও তাঁর সহযোগীরা বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও দেশের মানুষের বিরুদ্ধে “বিষোদ্গার” করেছেন। বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রক আরও জানিয়েছে, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে এই অনুষ্ঠানের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে আগে থেকেই ভারত সরকারকে উদ্বেগের কথা জানানো হয়েছিল। তা সত্ত্বেও অনুষ্ঠানটি প্রকাশ্যে আয়োজনের অনুমতি দেওয়ায় ঢাকা গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছে (Sheikh Hasina)।

    ভারতের বক্তব্য

    তবে মঙ্গলবার ভারতের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল স্পষ্ট করে জানিয়েছিলেন, দিল্লিতে শেখ হাসিনার সঙ্গে সংবাদমাধ্যমের যে যোগাযোগের কথা বলা হচ্ছে, তার সঙ্গে ভারত সরকারের কোনও সম্পর্ক নেই। তিনি বলেন, “আপনারা যে যোগাযোগের কথা বলছেন, সেটি একটি বেসরকারি সংবাদমাধ্যম সংস্থা আয়োজন করছে। এর সঙ্গে সরকারের কোনও ধরনের সম্পৃক্ততা নেই (Bangladesh)। ওই মঞ্চে যে মতামত প্রকাশ করা হবে, সরকার তার (Sheikh Hasina) কোনওটিই সমর্থনও করে না।”

     

  • Women’s Quota Bills: ১৭ অগাস্ট সংসদে বিশেষ অধিবেশন! আসন পুনর্বিন্যাস এবং মহিলা সংরক্ষণ বিল পেশের পথে কেন্দ্র

    Women’s Quota Bills: ১৭ অগাস্ট সংসদে বিশেষ অধিবেশন! আসন পুনর্বিন্যাস এবং মহিলা সংরক্ষণ বিল পেশের পথে কেন্দ্র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাস এবং মহিলা সংরক্ষণ বিল ১৭ অগাস্ট সংসদে পেশ হতে পারে। এর জন্য তিন দিনের বিশেষ অধিবেশন ডাকা হতে পারে। প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসকে এই সংক্রান্ত বার্তা দিয়েছে মোদি সরকার। সূত্রের খবর, কংগ্রেস জানিয়েছে, দলে এবং অন্য বিরোধী দলগুলির সঙ্গে আলোচনা করে সরকারকে সিদ্ধান্ত জানাবে তারা। এর আগে বাজেট অধিবেশনে এই বিল সরকার পাশ করাতে পারেনি। কারণ, সংবিধান সংশোধনী বিল পাশ করানোর জন্য দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল না।

    রাজনৈতিক সমীকরণে জোর

    সূত্রের খবর, বর্ষাকালীন অধিবেশন শেষ হলেও সংসদকে আনুষ্ঠানিকভাবে মুলতবি (Prorogue) না-ও করা হতে পারে। এতে প্রয়োজন অনুযায়ী খুব অল্প সময়ের নোটিশেই বিশেষ অধিবেশন ডাকা সম্ভব হবে। তবে এই সাংবিধানিক সংশোধনী বিল পাস করাতে লোকসভা ও রাজ্যসভা—দুই কক্ষেই দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন। সেই সমর্থন নিশ্চিত করার জন্যই সরকার রাজনৈতিক সমীকরণে জোর দিচ্ছে। উল্লেখ্য, গত এপ্রিলে অনুষ্ঠিত তিন দিনের বিশেষ অধিবেশনে ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল-এর অংশ হিসেবে ডিলিমিটেশন এবং মহিলা সংরক্ষণ সংক্রান্ত প্রস্তাব আনা হলেও, প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন না থাকায় বিলটি পাস করা সম্ভব হয়নি। সে সময় বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ-র কাছে লোকসভা ও রাজ্যসভা—কোনও কক্ষেই প্রয়োজনীয় সংখ্যা ছিল না।

    সংসদে বিজেপির শক্তিশালী অবস্থান

    সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে পরিবর্তন এসেছে। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয়ের পর সংসদে বিজেপির অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। বর্তমানে সাংবিধানিক সংশোধনী বিল পাসের জন্য লোকসভায় ৩৬০ জন এবং রাজ্যসভায় ১৬৪ জন সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যে পৌঁছনোর ব্যবধান আগের তুলনায় কমেছে বলে সূত্রের দাবি। এদিকে, তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক সমীকরণও কেন্দ্রের নজরে রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী এম. কে. স্ট্যালিনের দল ডিএমকে-র সঙ্গে কংগ্রেসের সম্পর্কের অবনতি হওয়ার পর, ডিএমকে-র ২২ জন লোকসভা সাংসদের সম্ভাব্য সমর্থন পাওয়ার দিকেও নজর রেখেছে বিজেপি। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সরকার যদি প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে পারে, তাহলে বিশেষ অধিবেশনেই এই দুই গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস করানোর উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।

  • Indus Waters Treaty: সিন্ধু জলচুক্তি নিয়ে রাষ্ট্রসংঘে পাকিস্তানের উদ্যোগে বাধা, দ্বিপাক্ষিক কাঠামোতেই অনড় ভারত

    Indus Waters Treaty: সিন্ধু জলচুক্তি নিয়ে রাষ্ট্রসংঘে পাকিস্তানের উদ্যোগে বাধা, দ্বিপাক্ষিক কাঠামোতেই অনড় ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সিন্ধু জলচুক্তি (Indus Waters Treaty-IWT) নিয়ে ফের আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদ রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে (UNSC) বিষয়টি উত্থাপন করে দাবি করেছে, চুক্তি নিয়ে ভারতের পদক্ষেপ আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তার উপর প্রভাব ফেলতে পারে। তবে আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ ও কূটনৈতিক মহলের একাংশের মতে, পাকিস্তানের এই উদ্যোগ থেকে কোনও বাধ্যতামূলক বা কার্যকর হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা অত্যন্ত কম। বিশেষজ্ঞদের মতে, ১৯৬০ সালের সিন্ধু জলচুক্তিতেই বিরোধ নিষ্পত্তির একটি সুস্পষ্ট ও বহুপাক্ষিক আইনি কাঠামো রয়েছে। ফলে সেই প্রক্রিয়া এড়িয়ে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সরাসরি হস্তক্ষেপের সুযোগ সীমিত। অতীতেও সীমান্তবর্তী নদীর জলবণ্টন সংক্রান্ত বিরোধে, যেখানে নির্দিষ্ট আইনি কাঠামো বিদ্যমান, সেখানে নিরাপত্তা পরিষদ হস্তক্ষেপ থেকে বিরত থেকেছে।

    ১৯৬০ সালের চুক্তিতেই বিরোধ মেটানোর পথ

    ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ১৯৬০ সালে স্বাক্ষরিত সিন্ধু জলচুক্তিকে বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘস্থায়ী জলবণ্টন চুক্তি হিসেবে ধরা হয়। বিশ্বব্যাঙ্ক চুক্তির কিছু প্রক্রিয়াগত বিষয়ে স্বাক্ষরকারী হলেও, চুক্তিতে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য পৃথক ও ধাপে ধাপে এগোনোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রথম ধাপে রয়েছে পার্মানেন্ট সিন্ধু কমিশন (PIC), যেখানে দুই দেশ আলোচনার মাধ্যমে মতপার্থক্য দূর করার চেষ্টা করে। প্রযুক্তিগত বিষয়ে সমাধান না হলে নিউট্রাল এক্সপার্ট নিয়োগের সুযোগ রয়েছে। আর জটিল আইনি ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে বিষয়টি কোর্ট অব আরবিট্রেশন-এ নিয়ে যাওয়ার বিধানও রয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, দুই দেশ স্বেচ্ছায় এই কাঠামো মেনে চুক্তি স্বাক্ষর করায় বিরোধ মেটানোর প্রধান পথও এটিই। ফলে নিরাপত্তা পরিষদের মতো রাজনৈতিক মঞ্চে বিষয়টি নিয়ে যাওয়ার আইনি ভিত্তি খুবই দুর্বল।

    রাষ্ট্রসংঘে পাকিস্তানের কূটনৈতিক তৎপরতা

    পাকিস্তান একাধিকবার রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির কাছে চিঠি দিয়ে ভারতের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে। ইসলামাবাদের দাবি, ভারতের পদক্ষেপ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করছে এবং তাই বিষয়টি নিরাপত্তা পরিষদের আওতায় আনা উচিত। বিশ্লেষকদের মতে, এর মাধ্যমে পাকিস্তান আন্তর্জাতিক স্তরে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে এবং ভবিষ্যতের কূটনৈতিক ও আইনি অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে রাষ্ট্রসংঘের পক্ষ থেকে কোনও বাধ্যতামূলক পদক্ষেপের সম্ভাবনা নেই বলেই মত তাঁদের।

    দ্বিপাক্ষিক অবস্থানেই অনড় ভারত

    ভারত বরাবরই জানিয়ে এসেছে, সিন্ধু জলচুক্তি সংক্রান্ত সমস্ত বিষয় সম্পূর্ণভাবে দ্বিপাক্ষিক এবং চুক্তির নির্ধারিত ব্যবস্থার মাধ্যমেই তার সমাধান হওয়া উচিত। নয়াদিল্লির মতে, এই চুক্তিতে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য পর্যাপ্ত আইনি ব্যবস্থা রয়েছে। তাই তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ বা আন্তর্জাতিকীকরণের কোনও প্রয়োজন নেই। ভারতের এই অবস্থান তার দীর্ঘদিনের বিদেশনীতির সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেখানে দ্বিপাক্ষিক বিষয়গুলিতে তৃতীয় পক্ষের ভূমিকার বিরোধিতা করা হয়।

    নিরাপত্তা পরিষদের হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা কেন কম?

    আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান দায়িত্ব আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষা করা। কিন্তু যেখানে একটি আন্তর্জাতিক চুক্তিতে বিরোধ নিষ্পত্তির নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রয়েছে, সেখানে সাধারণত নিরাপত্তা পরিষদ সরাসরি হস্তক্ষেপ করে না। উদাহরণ হিসেবে ইথিওপিয়ার গ্র্যান্ড ইথিওপিয়ান রেনেসাঁ ড্যাম (GERD) সংক্রান্ত বিরোধের কথা উল্লেখ করা হচ্ছে। সেই ক্ষেত্রেও নিরাপত্তা পরিষদ সংশ্লিষ্ট দেশগুলিকে বিদ্যমান আইনি ও আঞ্চলিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাধানের পরামর্শ দিয়েছিল। এছাড়া নিরাপত্তা পরিষদে কোনও বাধ্যতামূলক প্রস্তাব পাশ করাতে সদস্য দেশগুলির ব্যাপক সমর্থনের পাশাপাশি স্থায়ী পাঁচ সদস্যের ভেটো এড়ানোও জরুরি। দ্বিপাক্ষিক চুক্তি সংক্রান্ত বিষয়ে এমন ঐকমত্য গড়ে ওঠা অত্যন্ত কঠিন বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

    আইসিজিতেও যাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিরোধ আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (ICJ)-এ পাঠানোর সম্ভাবনাও খুবই কম। কারণ, আইসিজি সাধারণত সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রগুলির সম্মতি ছাড়া কোনও মামলার বিচার করে না। পাশাপাশি সিন্ধু জলচুক্তিতে ইতিমধ্যেই বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে সামগ্রিকভাবে আইন বিশেষজ্ঞ ও কূটনৈতিক মহলের মূল্যায়ন, পাকিস্তান রাষ্ট্রসংঘে বিষয়টি তুললেও সিন্ধু জলচুক্তির নির্ধারিত কাঠামোই বিরোধ নিষ্পত্তির প্রধান এবং কার্যকর পথ হিসেবে বহাল থাকবে। নিরাপত্তা পরিষদের পক্ষে সেই ব্যবস্থাকে অগ্রাহ্য বা প্রতিস্থাপন করার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম।

    আন্তর্জাতিক সমর্থন জোগাড়ের চেষ্টা

    ১৯৬০ সালে বিশ্বব্যাঙ্কের মধ্যস্থতায় সিন্ধু জলচুক্তিতে স্বাক্ষর করে ভারত ও পাকিস্তান। ঠিক হয়, রাভি, বিয়াস ও শতদ্রু নদীর জল ভারত ব্যবহার করবে। আর সিন্ধু, ঝিলম ও চেনাব নদীর অধিকাংশ জল যাবে পাকিস্তানে। এই জলের প্রায় ৮০ শতাংশ কৃষিকাজে ব্যবহার করত পাকিস্তান। পহেলগামে জঙ্গি হামলায় ২৬ জন পর্যটকের মৃত্যুর পরেই সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত করে ভারত। তখন থেকেই জল সঙ্কটে ভুগছে পাকিস্তান। এই নিয়ে আগেই ভারতকে নিশানা করেছিল ইসলামাবাদ। সম্প্রতি এই ইস্যুতে ভারতকে ফের আক্রমণ করেছে পাকিস্তান। সিন্ধু জলচুক্তি পুনর্বহালের জন্য আন্তর্জাতিক সমর্থন জোগাড়ের চেষ্টা চালাচ্ছে ইসলামাবাদ।

  • Narendra Modi: সময়সীমা ৩ দিন! তার মধ্যে মোদির ভিডিও ডিলিটের জন্য ক্ষমা চাইতেই হবে জুকেরবার্গকে, জানাল সংসদীয় কমিটি

    Narendra Modi: সময়সীমা ৩ দিন! তার মধ্যে মোদির ভিডিও ডিলিটের জন্য ক্ষমা চাইতেই হবে জুকেরবার্গকে, জানাল সংসদীয় কমিটি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ফেসবুক লাইভ ডিলিট নিয়ে মেটা কর্ণধার মার্ক জুকেরবার্গকে ক্ষমা চাইতে হবে বলে জানিয়েছে বিশেষ সংসদীয় কমিটি। ক্ষমা চাওয়ার জন্য তিনদিনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় মামলা দায়ের হবে বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, যে বা যাঁরা গোটা ঘটনার জন্য দায়ী, তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। নিশিকান্ত নেতৃত্বাধীন সংসদীয় তথ্যপ্রযুক্তি কমিটি জানিয়েছে, মোদি ভারতের ১৪০ কোটি মানুষের প্রতিনিধি। তাঁর ভিডিও ডিলিট করে দেওয়ার অর্থ ‘গণতন্ত্রে’র উপর হামলা। জুকেরবার্গকে ক্ষমা চাইতেই হবে। অন্যথায় দায়ের করা হবে মামলা। যে বা যাঁরা দায়ী, তাঁদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ না করলে আইনি রক্ষাকবচও মিলবে না।

    ক্ষমা চাইতেই হবে জুকেরবার্গকে

    নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র নেতৃত্বে ছাত্র আন্দোলনের সূচনা ঘটে। সেই আন্দোলনের জেরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিতে হয় ধর্মেন্দ্র প্রধানকে। সেই আবহেই গত ২৩ জুলাই দেশের যুবসমাজকে ভিডিও বার্তা দিতে ফেসবুক লাইভ করেন মোদি। কিন্তু সেই ভিডিও আচমকাই গায়েব হয়ে যায় ফেসবুক থেকে। বিষয়টি নিয়ে জলঘোলা শুরু হলে, মেটা জানায়, ভুলবশত ভিডিওটি ডিলিট হয়ে গিয়েছিল। ভিডিওটি ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তবে মেটা-র সাফাইয়ে সন্তুষ্ট নয় সংসদীয় তথ্যপ্রযুক্তি কমিটি। সংস্থার প্রতিনিধিদের ডেকে ক্ষোভ জানানো হয়। ক্ষমা চাইতে বলা হয় তাঁদের। মেটা জানায়, তারা আগেই দুঃখপ্রকাশ করেছে। আবারও ক্ষমা চাইতে রাজি। কিন্তু ওই কমিটি জানায়, মেটা নয়, ক্ষমা চাইতে হবে জুকেরবার্গকে। মেটা-র তরফে প্রযুক্তিগত ত্রুটির কথা বলা হলেও কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের মনঃপুত হয়নি সেই যুক্তি।

    সার্বভৌম ক্ষমতার ওপর হস্তক্ষেপের সমান

    সরকারের অভিযোগ, ভারতের প্রধানমন্ত্রীর মতো একটি সাংবিধানিক পদের শীর্ষ ব্যক্তিত্বের বক্তব্য এভাবে সরিয়ে ফেলা অত্যন্ত দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং সার্বভৌম ক্ষমতার ওপর হস্তক্ষেপের সমান। মেটা কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে এখনো এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি। তবে আগামী ৩ দিন জুকেরবার্গ কী অবস্থান নেন এবং ভারতীয় সংসদীয় কমিটির কাছে ক্ষমা চান কি না, সেদিকেই নজর রাখছে বিশ্ব রাজনৈতিক ও প্রযুক্তি মহল।

     

  • Jantar Mantar Protest: জন্তর-মন্তর বিক্ষোভে পাক-যোগ! পুলিশের নজরে ৪০০-র বেশি সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট

    Jantar Mantar Protest: জন্তর-মন্তর বিক্ষোভে পাক-যোগ! পুলিশের নজরে ৪০০-র বেশি সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জুলাই মাসে দিল্লির জন্তর-মন্তরে অনুষ্ঠিত ছাত্র বিক্ষোভকে (Jantar Mantar Protest) ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে পরিকল্পিত ডিজিটাল প্রচার চালানো হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে দিল্লি পুলিশ। তদন্তে শুধু সোশাল মিডিয়ার কার্যকলাপই নয়, আর্থিক লেনদেন এবং বিদেশি যোগের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, প্রায় ১৮০টি ইনফ্লুয়েন্সার ও ইউটিউব চ্যানেল, তিনটি বেসরকারি ডিজিটাল মার্কেটিং সংস্থা এবং পাকিস্তান-যোগের অভিযোগ থাকা ৪০০-র বেশি সোশাল মিডিয়া হ্যান্ডেল পুলিশের নজরে রয়েছে। পুলিশের সন্দেহ, জন্তর-মন্তরের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে সমন্বিতভাবে নির্দিষ্ট কিছু কনটেন্ট ছড়িয়ে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা হয়েছিল, যাতে ঘটনাটি বাস্তবের তুলনায় অনেক বড় জাতীয় সংকট হিসেবে প্রতীয়মান হয়।

    কী খতিয়ে দেখছে পুলিশ?

    তদন্তকারীরা ১৯ ও ২০ জুলাই জন্তর-মন্তরে হওয়া বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে অনলাইনে একই ধরনের বার্তা কীভাবে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছিল, তা বিশ্লেষণ করছেন। পুলিশের দাবি, বিদেশে পরিচালিত কিছু সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট অতীতেও ‘অপারেশন সিঁদুর’-সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সময় সক্রিয় ছিল। সেই একই ধরনের অ্যাকাউন্ট জন্তর-মন্তর বিক্ষোভের সময়ও সক্রিয় হয়ে ওঠায় বিদেশি প্রভাব বা দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত প্রচারের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। দিল্লি পুলিশ এখনও পর্যন্ত কোনও ইনফ্লুয়েন্সার, সংস্থা বা সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের নাম প্রকাশ করেনি। তদন্তকারীদের বক্তব্য, আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত এগুলি কেবল তদন্তের অংশমাত্র।

    আর্থিক লেনদেনও তদন্তের আওতায়

    ডিজিটাল প্রচারের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি বা সংস্থাগুলি কোনও গোপন আর্থিক সুবিধা পেয়েছিল কি না, তাও তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তকারীরা বিশেষভাবে নজর দিচ্ছেন— পিয়ার-টু-পিয়ার ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেন, অ্যাফিলিয়েট বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে অর্থপ্রাপ্তি, তৃতীয় পক্ষের মার্কেটিং কনসালটেন্সি চুক্তি এবং এমন অন্যান্য ডিজিটাল পেমেন্ট পদ্ধতি, যেগুলির প্রচলিত ব্যাংকিং নথি থাকে না।

    সোশাল মিডিয়া অ্যালগরিদমের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে

    তদন্তে উঠে এসেছে, বিভ্রান্তিকর দাবি, সম্পাদিত ভিডিও, ডিপফেক বা অতিরঞ্জিত তথ্য প্রথমে অল্প কয়েকটি অ্যাকাউন্ট থেকে ছড়িয়ে পড়ে। পরে লাইক, শেয়ার, কমেন্ট ও ভিউ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের অ্যালগরিদম সেই কনটেন্টকে আরও বৃহৎ পরিসরে পৌঁছে দেয়। পুলিশ খতিয়ে দেখছে, জন্তর-মন্তরের বিক্ষোভের ক্ষেত্রেও একই ধরনের প্রক্রিয়া কাজ করেছিল কি না। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে একই ধরনের বার্তার একাধিক সংস্করণ তৈরি করে ইনস্টাগ্রাম, এক্স (সাবেক টুইটার), ইউটিউব-সহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে অল্প সময়ের ব্যবধানে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল কি না, তা-ও খতিয়ে দিচ্ছে তদন্তকারীরা।

    তদন্তের মূল লক্ষ্য

    দিল্লি পুলিশের বক্তব্য, তদন্তের উদ্দেশ্য শুধু ভুয়ো তথ্য শনাক্ত করা নয়। বরং জন্তর-মন্তরের তুলনামূলকভাবে সীমিত পরিসরের বিক্ষোভকে পরিকল্পিতভাবে বৃহত্তর অনলাইন আন্দোলনে রূপ দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল কি না এবং তার মাধ্যমে জনমনে উদ্বেগ, বিভ্রান্তি ও সামাজিক উত্তেজনা সৃষ্টি করা হয়েছিল কি না, সেটাই এখন তদন্তের মূল বিষয়। এখনও পর্যন্ত এই মামলায় কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি এবং কোনও চার্জশিটও দাখিল হয়নি। ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ, আর্থিক নথি এবং সোশাল মিডিয়ার কার্যকলাপ বিশ্লেষণ করে দেশীয় বা বিদেশি কোনও সংগঠিত চক্র জড়িত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে দিল্লি পুলিশ।

  • Indian Vessel Sinks: ইয়েমেন উপকূলে হামলা! লোহিত সাগরে ডুবল ভারতীয় পণ্যবাহী জাহাজ, নিন্দা নয়াদিল্লির

    Indian Vessel Sinks: ইয়েমেন উপকূলে হামলা! লোহিত সাগরে ডুবল ভারতীয় পণ্যবাহী জাহাজ, নিন্দা নয়াদিল্লির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইয়েমেন উপকূল (Yemen) সংলগ্ন লোহিত সাগরে (Red Sea) ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ডুবে গেল ভারতীয় পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ এমএসভি ফাইজে নূরে ওলিয়া (MSV Faize Noore Oliya)। তবে জাহাজে থাকা ১৩ জন ভারতীয় নাবিক এবং একজন বিদেশি নাগরিককে নিরাপদে উদ্ধার করেছে ইয়েমেন কোস্ট গার্ড (National Resistance Force)। উদ্ধার হওয়া নাবিকদের ইয়েমেনের মোখা বন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় বন্দর, জাহাজ চলাচল ও জলপথ মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল ঘটনাটি নিশ্চিত করে বলেন, নিরস্ত্র একটি বেসামরিক বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর এই হামলা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও নিন্দনীয়। তিনি জানান, জাহাজে থাকা ১৪ জন নাবিকই নিরাপদে উদ্ধার হয়েছেন।

    হামলার তীব্র নিন্দা বিদেশ মন্ত্রকের

    ভারতের বিদেশ মন্ত্রক (MEA) এক বিবৃতিতে এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ৪ আগস্ট ইয়েমেন উপকূলের কাছে লোহিত সাগরে ভারতীয় পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ এমএসভি ফাইজে নূরে ওলিয়া (MSV Faize Noore Oliya)-এর ওপর হামলার ঘটনায় ভারত গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে। বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, জাহাজে থাকা ১৩ জন ভারতীয় নাগরিককেই নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। সৌদি আরবের রিয়াধে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস ইয়েমেন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যোগাযোগ রেখে উদ্ধার হওয়া নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে। পাশাপাশি দ্রুত উদ্ধারকাজের জন্য ইয়েমেন প্রশাসনকে ধন্যবাদও জানানো হয়েছে।

    নাবিকদের নিরাপত্তা সবার আগে

    কেন্দ্রীয় বন্দর, জাহাজ চলাচল ও জলপথ মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল বলেন, ‘‘বিনা প্ররোচনায় ভারতীয় জাহাজটিকে নিশানা করা হয়েছে। প্রতিরোধ ক্ষমতা বিহীন একটি জলযানের উপরে বিনা প্ররোচনায় এই হামলার তীব্র নিন্দা করছে ভারত। আমাদের নাবিকদের নিরাপত্তাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।’’ তিনি আরও জানান, উদ্ধার হওয়া নাবিকদের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে মেরিটাইম অ্যাডমিনিস্ট্রেশন-কে সংশ্লিষ্ট সমস্ত সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    কারা চালাল হামলা?

    উপসাগরীয় এলাকায় ভারতীয় কোনও জাহাজে এইভাবে সরাসরি হামলার ঘটনা এই প্রথম৷ সৌদি থেকে তেল নিয়ে আসছিল ভারতীয় এই জাহাজটি৷ ইয়েমেনের বাব আল মানডাবের হোদেইদাহ থেকে ১৩ নটিক্যাল মাইল দূরে এই হামলার ঘটনা ঘটে৷ বিস্ফোরক বোঝাই যে নৌকা করে আত্মঘাতী এই হামলা চালানো হয়, সেটিও ইয়েমেনেরই বলে জানা গিয়েছে৷সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেন উপকূল এবং বাব-এল-মান্দেব প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে ধারাবাহিক হামলার জেরে গোটা লোহিত সাগর অঞ্চল অস্থির হয়ে উঠেছে। তবে এখনও পর্যন্ত এই হামলার জন্য দায়ী গোষ্ঠীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি ভারত সরকার। লোহিত সাগরে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটছে। পরপর এমন ঘটনায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। এই ঘটনার পর ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় সরকার পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ লোহিত সাগর?

    লোহিত সাগর বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌ-বাণিজ্য পথ। সুয়েজ খালের মাধ্যমে ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে পণ্য ও জ্বালানি পরিবহনের বড় অংশ এই পথেই হয়। কিন্তু ইয়েমেন উপকূলবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার আশঙ্কা এবং বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্য করে ধারাবাহিক আক্রমণের ফলে আন্তর্জাতিক শিপিং শিল্পের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বহু আন্তর্জাতিক শিপিং সংস্থা জাহাজ ঘুরিয়ে আফ্রিকার কেপ অব গুড হোপ হয়ে চলাচল করছে। ফলে পরিবহণ ব্যয়, বীমার খরচ এবং পণ্য সরবরাহের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। একই সঙ্গে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথে নিরাপত্তা জোরদার করতে আন্তর্জাতিক নৌবাহিনীগুলিও টহল বাড়িয়েছে।

    সঙ্কটে আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথ

    একই দিনে হরমুজ প্রণালীর কাছে আরেকটি ড্রাই বাল্ক কার্গো জাহাজও একটি প্রজেক্টাইলের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে খবর। ওই জাহাজের কর্মীরা জাহাজ ছেড়ে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বাধ্য হন। তবে একজন নাবিক এখনও নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। এদিকে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা কেপলার-এর তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ইরাকের হরমুজ প্রণালী দিয়ে অপরিশোধিত তেল রফতানি প্রায় ৭১ শতাংশ কমে গেছে। সংস্থার হিসেব অনুযায়ী, ৪ জুলাই থেকে ৪ আগস্টের মধ্যে ইরাক প্রায় ৩ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করেছে, যেখানে যুদ্ধের আগে মাসিক গড় রফতানি ছিল ১০.৫ কোটি ব্যারেল। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৪ জুলাই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ (Naval Blockade) কার্যকর করার পর হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খলেও চাপ তৈরি হয়েছে।

    আন্তর্জাতিক জলপথে অবাধ বাণিজ্য জরুরি

    ভারত স্পষ্ট জানিয়েছে, লোহিত সাগর অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজের উপর ধারাবাহিক হামলা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আন্তর্জাতিক জলপথে অবাধ ও নিরাপদ বাণিজ্যিক নৌচলাচল দ্রুত পুনরুদ্ধারের প্রয়োজন রয়েছে। তাই আন্তর্জাতিক আইন মেনেই এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে চলাচল নিশ্চিত করতে হবে বলে মনে করছে দিল্লি। গত মাসেই ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধের ঘোষণা করে। তার পর থেকে লোহিত সাগর ও বাব এল-মান্দেব প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা তীব্র হয়েছে। এই প্রণালী লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগর ও ভারত মহাসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি ও পণ্য পরিবহণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে হামলার ঘটনা উদ্বেগ বাড়িয়েছে বিভিন্ন মহলে।

     

     

     

     

  • Exclusive Breastfeeding: শুধু শিশুই নয়, মায়েরও বড় সুরক্ষা! প্রথম ছ’মাস শুধু মাতৃদুগ্ধ কেন জরুরি?

    Exclusive Breastfeeding: শুধু শিশুই নয়, মায়েরও বড় সুরক্ষা! প্রথম ছ’মাস শুধু মাতৃদুগ্ধ কেন জরুরি?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    সন্তান জন্মের পরে প্রথম ছ’মাস শুধুই মায়ের দুধ! বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এই পরামর্শ পৃথিবী জুড়ে চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কিন্তু সম্প্রতি ভারতে এই সচেতনতায় বেশ কিছুটা ঘাটতি দেখা গিয়েছে। যা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, শিশুর জন্মের পরের মুহূর্ত থেকে পরবর্তী ছ’মাস স্তন্যপান না করালে, পরবর্তী জীবনে একাধিক স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। কিন্তু ভারতে সম্প্রতি এই প্রবণতা দেখা গিয়েছে। যা যথেষ্ট উদ্বেগের। অগাস্ট মাসে স্তন্যপান নিয়ে সচেতনতা কর্মশালা পালন হয়। এ বছরে তাই সুস্থ ও মজবুত আগামী প্রজন্ম গড়ে তুলতে স্তন্যপান করানো কতখানি জরুরি, সে নিয়েই লাগাতার সচেতনতা শিবির এবং কর্মশালার আয়োজন করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

    কী বলছে সাম্প্রতিক রিপোর্ট? কেন উদ্বিগ্ন বিশেষজ্ঞরা?

    সম্প্রতি এক সর্বভারতীয় সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, শহুরে ভারতীয়দের একাংশ, সন্তান জন্মের পরে প্রথম ছ’মাস শুধুমাত্র স্তন্যপান করান না। গত পাঁচ বছরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশ মাফিক জন্মের প্রথম ছ’মাস শুধুই স্তন্যপান করা শিশুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য ভাবে কমেছে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, এর প্রভাব আগামী কয়েক বছরে গভীর ভাবে পড়বে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতে স্তন্যপান নিয়ে সচেতনতার হার এখনো পর্যাপ্ত নয়। আবার অনেকক্ষেত্রেই চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে মায়ের পেশাগত জীবনের ব্যস্ততা। তাঁরা, জানাচ্ছেন, জন্মের পরে মধু বা মিছরির জল নয়, শিশুকে প্রথমেই স্তন্যপান করানো প্রয়োজন। সদ্যোজাতের শরীরে প্রথমেই, মায়ের প্রথম দুধের পৌঁছলে একাধিক দীর্ঘমেয়াদি উপকার হয়। কিন্তু এখনো অনেকক্ষেত্রে শিশুকে প্রথমে মধু, মিছরির জল দেওয়া হয়। সচেতনতার ঘাটতি রয়েছে!

    মাতৃত্বকালীন ছুটির অভাব বড় চ্যালেঞ্জ!

    তবে, জন্মের পরের প্রথম ছ’মাস টানা স্তন্যপান করানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে মায়ের ছুটির অভাব। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, একাধিক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, নতুন মায়ের ছুটি নিয়ে নানান জটিলতা তৈরি করা হয়। মাতৃত্বকালীন ছুটি দেওয়া হয় না।‌ এর ফলে মা বাধ্য হয়ে কর্মজীবনে ফিরে যান। কিন্তু সন্তান জন্মের পরের ছ’মাস মায়ের সদ্যোজাতের সঙ্গে কাটানো‌ জরুরি। এই সময়ে শিশু সম্পূর্ণ স্তন্যপান করবে। জল বা অন্য কোনো খাবার খাবে না। তাতেই তার শরীরে একাধিক উপকার হবে। ভারতের আইন মহিলাদের মাতৃত্বকালীন ছুটির অধিকার দিয়েছে। কিন্তু অনেকক্ষেত্রেই অভিযোগ ওঠে, সেই ছুটি মঞ্জুর করা হয় না। ফলে মা কাজের জায়গায় যেতে বাধ্য হন। অনেক সময়েই মা একসঙ্গে সারাদিনের দুধ পাম্প করে রেখে যেতে পারেন না। ফলে শিশু প্রয়োজনীয় পর্যাপ্ত মাতৃদুগ্ধ পায় না। শিশু ঠিকমতো মায়ের দুধ না পেলে আগামী প্রজন্ম একাধিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগবে বলেই আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকেরা। তাই উদ্বেগ বাড়ছে!

    কেন আগামী মজবুত করতে স্তন্যপান জরুরি?

    চলতি বছরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, পৃথিবী জুড়ে চলবে প্রচার কর্মসূচি! যার মূল কথা হলো, আগামী প্রজন্মকে সুস্থ ও মজবুত গড়ে তুলতে স্তন্যপান জরুরি। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন, শিশুর শরীরে সম্পূর্ণ পুষ্টি এবং অ্যান্টিবডি গড়ে তুলতে স্তন্যপান সবচেয়ে জরুরি। শিশুকে ঠিকমতো স্তন্যপান করালে তবেই ডায়ারিয়া, নিউমোনিয়া সহ একাধিক সংক্রমণের ঝুঁকি কমবে।
    শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশে স্তন্যপানের কোনো বিকল্প নেই। জন্মের পরের প্রথম ছ’মাস শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। মায়ের দুধে এমন একাধিক উপাদান থাকে, যা শিশুর মস্তিষ্কের‌‌ বিকাশে বিশেষ সাহায্য করে। তাই আগামী দিনে শিশুর সুন্দর জীবনের জন্য স্তন্যপান অত্যন্ত জরুরি। মা ও শিশুর সম্পর্ক গভীর করতেও স্তন্যপান জরুরি বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকেরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, স্তন্যপান করালে মা ও শিশুর মানসিক সম্পর্ক গভীর ও দৃঢ় হয়। তাই স্তন্যপান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    সন্তানকে স্তন্যপান করালে মায়ের স্বাস্থ্য লাভ কতখানি?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শিশু জন্মের পরের প্রথম ছ’মাস শুধুমাত্র মায়ের দুধ খেলে দীর্ঘমেয়াদি উপকার হয়। তেমনি, মায়ের শরীরেও দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতার চাবিকাঠি স্তন্যপান করানো। তাঁরা জানাচ্ছেন, স্তন্যপান করালে শুধু শিশুর শরীর সুস্থ থাকে এমন নয়, মায়ের শরীর ও ভালো থাকে। স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, সন্তানকে পর্যাপ্ত স্তন্যপান করালে মায়ের আগামী দিনে স্তন ক্যান্সার এবং ডিম্বাশয়, জরায়ুর ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে। স্তন্যপান করালে শরীরে হরমোনের ভারসাম্য বজায় থাকে। ফলে, এই সমস্ত অঙ্গে ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, নিয়মিত পর্যাপ্ত স্তন্যপান করালে মায়ের প্রসব পরবর্তী রক্তক্ষরণ সহজেই বন্ধ হয়ে যায়। তাঁরা জানাচ্ছেন, বহু মায়ের প্রসব পরবর্তী কালে প্রচন্ড রক্তক্ষরণ শুরু হয়। কিন্তু ঠিকমতো স্তন্যপান করালে সেই রক্তক্ষরণ বন্ধ হয়। প্রসব পরবর্তী কালে মায়ের মানসিক অবসাদ হয়। সেই অবসাদ কমাতে স্তন্যপান সাহায্য করে বলেও জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, মায়ের শরীরে নানান হরমোনের পরিবর্তন হয়। ফলে, মানসিক অবসাদ‌ তৈরি হয়। সেই অবসাদ কাটাতে বাড়তি সাহায্য করে স্তন্যপান। তবে, সন্তানকে স্তন্যপান করানোর সময়ে মায়ের যত্ন জরুরি। মায়ের নিয়মিত পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবার খাওয়া জরুরি।‌ মায়ের পর্যাপ্ত জল খাওয়া দরকার। পাশপাশি মায়ের প্রয়োজন পর্যাপ্ত বিশ্রাম। সেই দিকে পরিবারের খেয়াল রাখার দায়িত্ব রয়েছে। নতুন মা এবং সন্তানের যত্ন যাতে ঠিকমতো হয়, আগামী প্রজন্ম যাতে সুস্থ ও মজবুত হতে পারে, সে নিয়ে সব মহলে সচেতনতা জরুরি।

LinkedIn
Share