Jadavpur University: মেয়াদ শেষের আগেই সরানো হল যাদবপুরের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ও ফাইন্যান্স অফিসারকে

jadavpur university acting registrar finance officer removed by chancellor

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের (Jadavpur University) রেজিস্ট্রার এবং ফাইন্যান্স অফিসার পদে বড়সড় বদল। রাজ্যপাল তথা আচার্যের নির্দেশে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ও ফাইন্যান্স অফিসারের দায়িত্বের অবসান ঘটানো হয়েছে। তার জায়গায় নিয়োগ করা হয় দুই আধিকারিককে ৷ ছ’মাসের জন্য অন্তর্বর্তী দায়িত্ব দেওয়া হল তাঁদের। যাদবপুরের রেজিস্ট্রার সেলিম বক্স মণ্ডলের জায়গায় নয়া রেজিস্ট্রার (JU Registrar Removed) হলেন দেবজিৎ দত্ত। তিনি ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক। একই ভাবে সরানো হল ফাইন্যান্স অফিসারকেও। তাঁর জায়গায় এসেছেন কলা বিভাগের সচিব ইন্দ্রজিৎ দত্ত। ৮ সেপ্টেম্বর উচ্চশিক্ষা দফতর থেকে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্যকে এই সংক্রান্ত নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে।

আচার্যের নির্দেশ মতো কাজ

নির্দেশিকা অনুযায়ী, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর দেবজিৎ দত্তকে রেজিস্ট্রার এবং ফ্যাকাল্টি অফ আর্টসের সচিব ইন্দ্রজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফাইন্যান্স অফিসার হিসেবে সাময়িক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দু’জনকেই তাঁদের স্বাভাবিক দায়িত্বের পাশাপাশি ছ’মাসের জন্য সংশ্লিষ্ট পদে কাজ করতে বলা হয়েছে। তাঁদের দায়িত্ব গ্রহণের দিন থেকেই এই মেয়াদ কার্যকর হবে, অথবা পরবর্তী নির্দেশ জারি না হওয়া পর্যন্ত-যেটি আগে হয়। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে শোনা যাচ্ছে, বুধবারই তাঁরা দায়িত্ব গ্রহণ করছেন। অন্যদিকে, রাজ্যপাল তথা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য আরএন রবির ২৬ অগাস্টের নির্দেশে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক সেলিমবক্স মণ্ডল এবং ভারপ্রাপ্ত ফাইন্যান্স অফিসার শিলাদিত্য চট্টোপাধ্যায়ের দায়িত্বের অবসান ঘটানো হয়েছে । নির্দেশে বলা হয়েছে, তাঁদের দায়িত্ব অবিলম্বে শেষ হবে। আচার্যের নির্দেশে আরও বলা হয়েছে, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় আইনের সংশ্লিষ্ট ধারার অধীনে রেজিস্ট্রার এবং ফাইন্যান্স অফিসার পদে স্থায়ী নিয়োগের জন্য যে বিধিবদ্ধ প্রক্রিয়া প্রয়োজন, তা শুরু করা যেতে পারে।

কেন এই সিদ্ধান্ত

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের খবর, বিদায়ী ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার সেলিম বক্স মণ্ডলের কার্যকালের মেয়াদ ছিল আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত। তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তাঁকে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হল। বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী, ভারপ্রাপ্ত পদের মেয়াদ ছ’মাসের বেশি দীর্ঘায়িত করা যায় না। কিন্তু কর্মসমিতি (ইসি) স্থায়ী আধিকারিক নির্বাচনের আইনি প্রক্রিয়া চালুর বদলে অস্থায়ী আধিকারিকের মেয়াদ বৃদ্ধি করে যাচ্ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য তথা রাজ্যপাল মনে করেছেন, এই পদক্ষেপ প্রশাসনিক ও আর্থিক নিয়মানুবর্তিতার পরিপন্থী। সেই কারণেই ১৯৮১ সালের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় আইনের ১৭(৩) ধারায় নিজের পর্যালোচনা ক্ষমতা প্রয়োগ করে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত আধিকারিকদের সরিয়ে নতুন নিয়োগের নির্দেশ জারি করেছেন তিনি।

আচার্যের পর্যবেক্ষণ

আচার্যের পর্যবেক্ষণ, বিশ্ববিদ্যালয়ের এগজিকিউটিভ কাউন্সিল স্থায়ী রেজিস্ট্রার এবং ফাইন্যান্স অফিসার নিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় বিধিবদ্ধ প্রক্রিয়া শুরু করেনি। পাশাপাশি, ‘অ্যাক্টিং’ বা ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাও আইনে নির্ধারিত সময়সীমার বেশি চালু রাখা হয়েছিল বলে নির্দেশে উল্লেখ করা হয়েছে। নির্দেশে আরও বলা হয়েছে, এই পরিস্থিতি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজকর্ম, অ্যাকাডেমিক গভর্ন্যান্স এবং আর্থিক শৃঙ্খলার স্বার্থের পরিপন্থী। সেই কারণেই এগজিকিউটিভ কাউন্সিলের সংশ্লিষ্ট কার্যকলাপ বা নিষ্ক্রিয়তার বিষয়টি পর্যালোচনা করে আচার্য নতুন অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। উচ্চশিক্ষা দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, স্থায়ী পদাধিকারী নিয়োগের আগে অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা হিসেবে আগামী ছ’মাসের জন্য অথবা পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত নতুন দুই আধিকারিককে এই দায়িত্ব সামলাতে হবে। মূল কাজের অতিরিক্ত হিসেবেই তাঁরা এই প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করবেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নথি ও অর্থের নিরাপত্তা নিয়ে নির্দেশ

নতুন দায়িত্বপ্রাপ্তদের কাছে পুরনো রেজিস্ট্রার ও ফাইন্যান্স অফিসারকে সমস্ত সরকারি নথি, ফাইল, ডকুমেন্ট, রেজিস্টার, আর্থিক রেকর্ড, ডিজিটাল ক্রেডেনশিয়াল, সরকারি সিল, চাবি, সম্পত্তি-সহ তাঁদের কাছে থাকা যাবতীয় দায়িত্ব হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর জন্য পৃথক হ্যান্ডওভার-টেকওভার স্টেটমেন্ট তৈরি করে তা রেকর্ডে রাখার কথাও বলা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নথি ও অর্থের নিরাপত্তা নিয়েও বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উপাচার্যকে বলা হয়েছে, সমস্ত বিধিবদ্ধ নথি, গোপনীয় কাগজপত্র, আর্থিক ও ব্যাংক সংক্রান্ত নথি, ডিজিটাল সিস্টেম এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য সম্পত্তি নিরাপদ রাখতে হবে এবং শুধুমাত্র অনুমোদিত আধিকারিকদেরই সেগুলিতে প্রবেশাধিকার থাকবে। প্রসঙ্গত, একাধিকবার দক্ষিণপন্থী অধ্যাপক সংগঠনের তরফে এই দাবি তোলা হয়েছিল। তাদের প্রশ্ম ছিল, এই ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক সেলিমবক্স মণ্ডল এবং ভারপ্রাপ্ত ফাইন্যান্স অফিসার শিলাদিত্য চট্টোপাধ্যায়ের মেয়াদ শেষ হয়েছে। তাহলে কীভাবে তাঁরা এখন সেই পদে রয়েছেন।

উত্তপ্ত যাদবপুর

এ দিকে, বুধবার অর্থাৎ আজ গোলপার্ক থেকে যাদবপুর পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ‘গেরুয়া সম্মান যাত্রা’ রয়েছে। এই আবহের মধ্যেই এমন পরিবর্তন। বস্তুত, বিগত কয়েকদিন ধরেই তপ্ত রয়েছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, এখানে জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠা করেই ছাড়বেন। সম্প্রতি তিনি যাদবপুরে ‘বন্দে মাতরম’ গান গাওয়ার কর্মসূচিও নিয়েছিলেন। এ দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্দরে আবার দেশবিরোধী স্লোগান মুছে দিয়েছে কলকাতা পুরসভা। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পরই তা করা হয়েছে পুরসভার তরফে। এবার বদল করা হল রেজিস্ট্রারকে।

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share