Category: রাজ্য

Get West Bengal News, Bengali Breaking News, Latest News in Bengali only from মাধ্যম | Madhyom, Bengali News Portal for সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর

  • Suvendu Adhikari: রাজ্যের সব অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ, স্থায়ী ভবন তৈরির ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: রাজ্যের সব অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ, স্থায়ী ভবন তৈরির ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের মাসিক ভাতা পাঁচ হাজার টাকা বৃদ্ধির পর এবার রাজ্যের সমস্ত অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ করার কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। সোমবার উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটিতে আয়োজিত ‘অঙ্গন মিলন সেবা’ (ICDS Centres) অনুষ্ঠানে এই ঘোষণা করেন তিনি। ভাড়াবাড়িতে চলা অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিকে সরকারি স্থায়ী ভবনে স্থানান্তরিত করার প্রতিশ্রুতিও দেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন এবং বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের আর্থিক সুরক্ষা, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং শিশু ও প্রসূতিদের পুষ্টির উন্নয়নে একাধিক পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন শুভেন্দু।

    অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের উন্নয়নে শুভেন্দুর সরকার (Suvendu Adhikari)

    মুখ্যমন্ত্রী জানান, অগাস্ট মাস থেকেই অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের মাসিক ভাতা পাঁচ হাজার টাকা বাড়ানো হয়েছে। তাঁদের আয়ুষ্মান ভারত স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে। এর ফলে দেশের প্রায় ৩৮টি নামী সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে বছরে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসার সুযোগ পাবেন তাঁরা। শিশুদের পুষ্টি এবং গর্ভবতী ও প্রসূতি মায়েদের খাবারের বরাদ্দ বৃদ্ধির কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর ঘোষণা, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে শিশুদের খাবারের দৈনিক বরাদ্দ ছ’টাকা থেকে বাড়িয়ে আট টাকা করা হয়েছে। গর্ভবতী ও প্রসূতি মায়েদের খাবারের বরাদ্দ ১২ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৪ টাকা করা হয়েছে (Suvendu Adhikari)।

    স্থায়ী ভবনের ঘোষণা

    অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলির পরিকাঠামো উন্নয়নেও বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে রাজ্য সরকার। শুভেন্দু জানান, বর্তমানে রাজ্যের প্রায় ১৯ হাজার অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র ভাড়াবাড়িতে চলছে। আগামী দিনে এই কেন্দ্রগুলিকে সরকারের নিজস্ব স্থায়ী ভবনে স্থানান্তরিত করা হবে। সেই লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় অর্থও বরাদ্দ করা হয়েছে। এদিকে, অনুষ্ঠানে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের ভূমিকার প্রশংসা করেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন। তিনি বলেন, “শিশুদের জীবনের প্রথম গুরু হলেন এই অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরাই (ICDS Centres)। শৈশবেই খুদেদের নৈতিক শিক্ষা ও যত্নের দায়িত্ব তাঁরা কাঁধে তুলে নেন। বস্তুত, দেশের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত রয়েছে তাঁদেরই হাতে (Suvendu Adhikari)।”

     

  • Nitin Nabin: সরকার-সংগঠনের মধ্যে সমন্বয়ে জোর নিতিন নবীনের, গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব-দুর্নীতি নিয়ে কড়া বার্তা বিজেপি সভাপতির

    Nitin Nabin: সরকার-সংগঠনের মধ্যে সমন্বয়ে জোর নিতিন নবীনের, গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব-দুর্নীতি নিয়ে কড়া বার্তা বিজেপি সভাপতির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সরকার ও সংগঠনের মধ্যে সমন্বয় আরও নিবিড় করতে হবে। ব্যক্তিস্বার্থ ও গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ভুলে একযোগে কাজ করতে হবে দলের নেতা-কর্মীদের। পশ্চিমবঙ্গ সফরে এসে দলের সাংসদ, বিধায়ক ও সাংগঠনিক নেতৃত্বকে এমনই বার্তা দিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন (Nitin Nabin)। নিউটাউনের বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে একাধিক বৈঠকে তিনি স্পষ্ট করে দেন, সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব নিতে হবে দলীয় সংগঠনকে। পাশাপাশি, সংগঠনের (BJP) অন্দরে দুর্নীতি ও অনৈতিক কার্যকলাপের অভিযোগ নিয়েও কঠোর অবস্থান নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

    রবিবার সকালে কলকাতা বিমানবন্দরে নিতিন নবীনকে স্বাগত জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার, বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ-সহ বিজেপির একাধিক শীর্ষ নেতা। মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে মা কালীর মূর্তি উপহার দেন। সেখান থেকে নিউটাউনের বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে পৌঁছে রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠান শোনেন তিনি। এরপর দিনভর দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

    গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নিয়ে কড়া বার্তা (Nitin Nabin)

    রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠনের পর বিভিন্ন জেলায় বিধায়ক ও সাংগঠনিক নেতাদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। কোথাও কোথাও সমান্তরালভাবে কাজ করার প্রবণতা নিয়েও দলের অন্দরে উদ্বেগ রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সংগঠন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও সরকারের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন নিতিন নবীন।

    দলীয় সূত্রের খবর, বৈঠকে তিনি জানিয়ে দেন, ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করতে গিয়ে সংগঠনকে উপেক্ষা করা চলবে না। ক্ষমতায় আসার পর যাঁরা সংগঠনের গুরুত্ব ভুলে যাচ্ছেন, তাঁদের আচরণও মেনে নেওয়া হবে না। একই সঙ্গে দলে নতুন যোগ দেওয়া ব্যক্তিদের কার্যকলাপের ওপর নজর রাখার পরামর্শ দেন তিনি। দুর্নীতি ও অনৈতিক কাজকর্মের অভিযোগ উঠলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন বলে দলীয় সূত্রে খবর। শুভেন্দু সরকারের গত কয়েক মাসের উন্নয়নমূলক কাজ সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরার নির্দেশ দিয়েছেন বিজেপি সভাপতি। তাঁর বার্তা, সরকার ও সংগঠনকে পরস্পরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ‘উন্নত পশ্চিমবঙ্গ’ এবং ‘সোনার বাংলা’ গড়ার যে লক্ষ্য বিজেপি নিয়েছে, তা বাস্তবায়নে সংগঠনের প্রত্যেক স্তরকে সক্রিয় হতে হবে (Nitin Nabin)।

    সংগঠন মজবুত করার নির্দেশ

    নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচন এবং আসন্ন পুরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের সাংগঠনিক প্রস্তুতিও খতিয়ে দেখেন নিতিন নবীন। সম্প্রতি রাজ্য ও জেলাস্তরে বিজেপির সাংগঠনিক রদবদল হয়েছে। নতুন নেতৃত্বের দায়িত্ব বণ্টন এবং বিভিন্ন স্তরের নেতাদের মধ্যে সমন্বয়ের বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়।

    দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পুরসভা নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের হাতে থাকবে বলেও জানানো হয়েছে। কাউকে প্রার্থী করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ব্যক্তিগত প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা যাতে না হয়, সেই বিষয়েও সতর্ক করা হয়েছে নেতাদের।

    আসন্ন দুর্গাপুজো-সহ উৎসবের মরশুমে জনসংযোগ বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন বিজেপি সভাপতি। তবে কোনও পুজো কমিটির নেতৃত্ব বা পৃষ্ঠপোষকতার দায়িত্ব জোর করে নেওয়া যাবে না বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুজো কমিটির পক্ষ থেকে প্রস্তাব এলে তবেই সেই দায়িত্ব গ্রহণ করা যাবে। পাশাপাশি, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে (Nitin Nabin)।

    জনসংযোগ বাড়ানোর পরামর্শ

    বৈঠকে সাংসদ ও বিধায়কদের নিয়মিত নিজেদের কার্যালয়ে সময় দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্রের খবর। প্রতিদিন কত মানুষ তাঁদের সঙ্গে দেখা করতে আসছেন, কী কী সমস্যা জানাচ্ছেন এবং সেগুলির সমাধানে কী পদক্ষেপ করা হচ্ছে, তার যথাযথ হিসাব রাখতে বলা হয়েছে।

    নেতাদের সঙ্গে ছবি তুলে কেউ যাতে সেই পরিচয়কে অসামাজিক বা অপরাধমূলক কাজে ব্যবহার করতে না পারেন, সে বিষয়েও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিধানসভাভিত্তিক জনকল্যাণমূলক কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে (BJP)।

    ‘মন কি বাত‘ শুনে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য তুলে ধরলেন নবীন

    এদিন নিউটাউনের বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানের ১৩৮তম পর্ব শোনেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি। পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় অনুষ্ঠানের বিভিন্ন প্রসঙ্গ তুলে ধরেন তিনি।

    নবীন তাঁর বার্তায় ২০১৬ সালের সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের দশ বছর পূর্তি উপলক্ষে ভারতীয় সেনার বীরত্বের প্রসঙ্গের উল্লেখ করেন। পাশাপাশি দেশের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, প্রকৃতি সংরক্ষণ, যুবসমাজকে নেশামুক্ত করার সংকল্প এবং জনগণনায় নাগরিকদের অংশগ্রহণের বিষয়ও তুলে ধরেন।

    তাঁর বক্তব্য, সাধারণ মানুষের উদ্যোগ, সাফল্য ও অনুপ্রেরণার কাহিনি তুলে ধরার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠেছে ‘মন কি বাত’। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার বিভিন্ন দৃষ্টান্ত এই অনুষ্ঠানে উঠে আসে (Nitin Nabin)।

    সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ রাখাই লক্ষ্য

    পূর্ণাঙ্গ রাজ্য কমিটি গঠনের পর প্রথম পশ্চিমবঙ্গ সফরে এসে নিতিন নবীনের বৈঠকগুলিতে সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ রাখা, সরকারের কাজের প্রচার এবং নির্বাচনের প্রস্তুতির বিষয়গুলি গুরুত্ব পেয়েছে। দলের রাজ্য পদাধিকারী, বিভিন্ন মোর্চার সভাপতি, জেলা নেতৃত্ব, সাংসদ ও বিধায়কদের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে সাংগঠনিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন তিনি। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সুনীল বনসল।

    দলীয় নেতৃত্বের কাছে (BJP) নবীনের বার্তা, নিজেদের মধ্যে মতপার্থক্য দূরে সরিয়ে সাধারণ মানুষের সমস্যা সমাধানকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। সরকারের উন্নয়নমূলক কাজের সঙ্গে সাংগঠনিক কর্মসূচির সমন্বয় ঘটিয়ে তৃণমূল স্তরে জনসংযোগ বাড়াতে হবে। আসন্ন নির্বাচনগুলির আগে সেই লক্ষ্যেই সংগঠনকে আরও সক্রিয় করার নির্দেশ দিয়েছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি (Nitin Nabin)।

     

  • SRFTI Incident: “বামপন্থীদের কদর্য চেহারা! স্বামী বিবেকানন্দের ছবিকে প্রকাশ্যে ছিঁড়ে ফেলা অপরাধ”, এসআরএফটিআই নিয়ে নিন্দা সুকান্তর

    SRFTI Incident: “বামপন্থীদের কদর্য চেহারা! স্বামী বিবেকানন্দের ছবিকে প্রকাশ্যে ছিঁড়ে ফেলা অপরাধ”, এসআরএফটিআই নিয়ে নিন্দা সুকান্তর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতার সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট (এসআরএফটিআই)-এর ঘটনায় (SRFTI Incident) ভিডিও প্রকাশ করে ঘটনার তীব্র নিন্দা করলেন সুকান্ত মজুমদার (Sukanta Majumdar)। একইসঙ্গে ঘটনায় ‘বহিরাগত’ হিসেবে পরোক্ষে বামপন্থী যোগের অভিযোগ তুললেন তিনি। সমাজ মাধ্যম ফেসবুকে ঘটনার একটি ভিডিও শেয়ার করে সুকান্ত লেখেন, “বামপন্থীদের কদর্য চেহারা আর নিকৃষ্ট মানসিকতার আজ আবারও প্রকাশ্যে এল। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু সেই মতাদর্শগত পার্থক্যের জেরে দেশমাতৃকার প্রতি অসম্মান কিংবা বিশ্ববরেণ্য মনীষী স্বামী বিবেকানন্দের ছবিকে প্রকাশ্যে ছিঁড়ে ফেলা, লাথি মারা ও থুতু ফেলার মতো জঘন্য আচরণ কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।”

    বাঙালি জাতির আত্মমর্যাদার প্রতি অবমাননা

    বামেদের কটাক্ষ ছুঁড়ে দিয়ে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রীর তোপ, “মুখে প্রগতিশীলতা, বাঙালিত্ব ও সংস্কৃতির দাবি করলেও এমন কদর্য ও জঘন্য আচরণ সেই দাবির সঙ্গে গভীর বৈপরীত্যই প্রকাশ করে। আজকের এই অসম্মান, লাথি শুধু একজন বিশ্ববরেণ্য সন্ন্যাসী ও মনীষীর প্রতি নয়, এটি বাংলার ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সমগ্র বাঙালি জাতির আত্মমর্যাদার প্রতিও এক চূড়ান্ত গভীর অবমাননা।” উল্লেখ্য রবিবার অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েতের অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ধুন্ধুমার কাণ্ড বেঁধে যায় সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইন্সস্টিটিউট বা এসআরএফটিআই-এ৷ জানা গিয়েছে, এ দিন এসআরেএফটিআই ক্যাম্পাসের ভিতরে একটি প্রেক্ষাগৃহে অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েতের অনুষ্ঠান চলছিল৷ অভিযোগ, তখনই সেই অনুষ্ঠানে বাধা দেন এসআরএফটিআই-এর একদল পড়ুয়া৷ অনুষ্ঠানে বাধা দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করেই দুপক্ষের মধ্যে প্রথমে বচসা এবং তার পর রীতিমতো হাতাহাতি শুরু হয়ে যায়৷ দু পক্ষই পরস্পরের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ করেছে৷

    কী ঘটেছিল? দাবি-পাল্টা দাবি

    এসআরএফটিআই-এর অডিটোরিয়াম ভাড়া নিয়ে অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েত পশ্চিমবঙ্গ প্রান্ত৷ অভিযোগ, সেই সময় এসএফআই সদস্যরা ওই অনুষ্ঠানস্থলে যায়। কেন একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠান করা হচ্ছে, সেই প্রশ্ন করা হয় আয়োজকদের। তাদের দাবি, কোনও কথা না শুনে এসএফআইয়ের তরফে ভারতমাতা, স্বামী বিবেকানন্দের ছবি এবং ব্যানার ছিঁড়ে দেওয়া হয়। প্রথমে আয়োজকদের সঙ্গে পড়ুয়াদের কথা কাটাকাটি শুরু হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। তাঁদের আরও দাবি, হামলার ঘটনায় কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং চারজনকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। সংগঠনের এক সদস্যের দাবি, নিয়ম মেনেই টাকা দিয়ে তাঁরা অডিটোরিয়াম ভাড়া নিয়েছিলেন। অন্যদিকে পড়ুয়াদের দাবি, একে তো তাদের অন্ধকারে রেখে আরএসএসের শাখা সংগঠনকে অনুষ্ঠান করতে দেওয়া হয়েছে।  সন্ধ্যার পর পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও উত্তেজনা পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি।

    বিনা প্ররোচনায় সভা ভণ্ডুলের চেষ্টা

    ঘটনার সূত্রপাত রবিবার সকালে। সকাল ১০টা নাগাদ সংঘের সংগঠন ‘অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েত বা এবিজিপি (পশ্চিমবঙ্গ প্রান্ত)’ এসআরএফটিআই-এর একটি প্রেক্ষাগৃহ ভাড়া করে কর্তৃপক্ষের আগাম অনুমতিপত্র নিয়েই সভা করছিল। সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বেসরকারি সংগঠন সভা করবে কেন, তা নিয়ে আপত্তি তোলেন পড়ুয়াদের একাংশ। প্রেক্ষাগৃহের সামনে গিয়ে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। স্লোগানও দেওয়া হয়। এবিজিপি-র দাবি, কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে তারা সভা করছিল। কিন্তু পড়ুয়াদের একাংশ বিনা প্ররোচনায় তাদের সদস্যদের মারধর করে। তাতে বেশ কয়েকজন আহত হন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে এবিজিপি-র রাজ্য সভাপতি পঙ্কজ রায় বলেন, “১৫ হাজার টাকা ভাড়া দিয়ে, কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে আমরা সভা করছিলাম। আমাদের সংগঠন মূলত ক্রেতাসুরক্ষা, ক্রেতাদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির কাজ করে। কিন্তু আমাদের সভা বানচাল করার চেষ্টা করা হয়। ভারতমাতা, স্বামী বিবেকানন্দের ছবি ছিঁড়ে ফেলা হয়। হাসপাতালে ইতিমধ্যেই চারজন ভর্তি হয়েছেন। এরা ছাত্র? সব পড়ুয়ারা নেশাগ্রস্ত ওইখানে।”

    মহাপুরুষদের ছবিতে কালি বরদাস্ত করা হবে না

    বিচ্ছিন্নতাবাদী এবং দেশবিরোধী শক্তি এতদিন ধরে বাংলায় সক্রিয় ছিল। প্রাক্তন সরকারের ছত্রছায়ায় বেঁচে ছিল। তারা একে একে এক্সপোজ হয়ে যাচ্ছে। দেশের সংস্কৃতি এবং পরম্পরা বিরোধী এইসব কার্যকলাপ মানুষ আর মানবে না। নকশাল আমলে মহাপুরুষদের ছবিতে কালি লাগিয়ে দেওয়া হত। মূর্তি ভেঙে দেওয়া হত। সেইসব দিন চলে গেছে। তাদের কিছু উত্তরসূরি এখনও বেঁচে আছে। যারা করেছে সেটা সমাজবিরোধী কার্যকলাপ। এটা বরদাস্ত করা হবে না। এদিকে রবিবারের চরম গণ্ডগোলের পর সোমবার সকালেও সত্যজিৎ রায় ফিল্ম এন্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের সামনে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। মূল গেটের সামনে বাইরে থেকে কেউ ঢুকলে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় মোট ৩টি অভিযোগ দায়ের হয়েছে পঞ্চসায়র থানায়। ক্যাম্পাসের ভিতরে গাড়িতে ধাক্কাধাক্কি, গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া নিয়ে পুলিশের তরফ থেকে একটি অভিযোগ দায়ের হয়েছে। অন্যদিকে আয়োজকদের তরফ থেকেও একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। আবার অনুমতি নিয়ে সভা করার পরেও হামলা কেন সেই প্রশ্ন তুলে ছাত্রদের তরফ থেকেও একটি অভিযোগ দায়ের করা হয় বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

     

     

     

     

  • Suvendu Adhikari: ১০ লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠ থেকে ব্রিগেডের ধর্মসভা, একাধিক কর্মসূচি ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

    Suvendu Adhikari: ১০ লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠ থেকে ব্রিগেডের ধর্মসভা, একাধিক কর্মসূচি ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে ১১ হাজার কণ্ঠে গীতাপাঠের মঞ্চ থেকে একাধিক বড় ধর্মীয় কর্মসূচির ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আগামী ২৯ ডিসেম্বর কলকাতায় ১০ লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠ আয়োজনের কথা জানান তিনি। পাশাপাশি ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে ধর্মসভার পরিকল্পনার কথাও প্রকাশ্যে আনেন মুখ্যমন্ত্রী। ২৯ ডিসেম্বরের অনুষ্ঠানে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত উপস্থিত থাকতে পারেন বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।

    রবিবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে বাঙ্গুর জাগরণ মঞ্চের উদ্যোগে আয়োজিত ১১ হাজার কণ্ঠে গীতাপাঠ অনুষ্ঠানে যোগ দেন শুভেন্দু। বক্তব্যের শুরুতেই তিনি জানান, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নয়, বরং ‘একজন সনাতনী’ এবং ‘ভারতমাতার সন্তান’ হিসেবে এই কর্মসূচিতে উপস্থিত হয়েছেন। অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকেই আগামী দিনের একাধিক কর্মসূচির রূপরেখা তুলে ধরেন তিনি।

    ২৯ ডিসেম্বর ১০ লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠ

    শুভেন্দু জানান, এর আগে ব্রিগেডে লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠ, শিলিগুড়িতে ৫০ হাজারের বেশি মানুষের অংশগ্রহণে গীতাপাঠ এবং গত বছর পাঁচ লক্ষের বেশি মানুষের উপস্থিতিতে বড় কর্মসূচি হয়েছে। এবার সেই আয়োজনকে আরও বড় আকার দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

    ২৯ ডিসেম্বর ১০ লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠ হবে বলে ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। ওই অনুষ্ঠানে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের উপস্থিতির সম্ভাবনার কথাও জানান তিনি। গীতার প্রচার ও এই কর্মসূচির প্রস্তুতির প্রসঙ্গে শ্রীমৎ জ্ঞানানন্দ মহারাজের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, গীতাপাঠের কর্মসূচির প্রস্তুতির জন্য জ্ঞানানন্দ মহারাজ একাধিকবার বাংলায় এসেছেন।

    এদিন পদ্মশ্রী কার্তিক মহারাজ, তরুণ সন্ন্যাসী রামচন্দ্র দাস মহারাজ, বিশ্ব হিন্দু পরিষদের বীরগুণানন্দ ব্রহ্মচারী মহারাজ এবং পুরীর ধাম থেকে আসা দ্বৈতাপতি ভবানী প্রসাদের নামও উল্লেখ করেন তিনি। গৌরব মহারাজ, জগৎদাত্রী প্রভু, সর্বানন্দ অবধূত মহারাজ এবং মুরার্জী মহারাজ-সহ একাধিক সাধু-সন্তের উপস্থিতির কথাও জানান।

    জানুয়ারিতে ব্রিগেডে ধর্মসভা

    গীতাপাঠের পাশাপাশি ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে ধর্মসভা করার পরিকল্পনার কথাও জানান শুভেন্দু। জগদগুরু রামভদ্রাচার্যের সঙ্গে তাঁর কথোপকথনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, আগামী ১৫ জানুয়ারি মকর সংক্রান্তিতে রামভদ্রাচার্য গঙ্গাসাগরে পুণ্যস্নানে আসার কথা জানিয়েছেন।

    এর পরেই জানুয়ারিতে ব্রিগেডে ধর্মসভার আয়োজনের কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যে ১৬ থেকে ২৬ জানুয়ারির কর্মসূচির উল্লেখ থাকলেও প্রকাশিত প্রতিবেদনে ব্রিগেডের মূল অনুষ্ঠানটি ২৪ জানুয়ারি হওয়ার কথা বলা হয়েছে। বাগেশ্বর ধামের ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রীর বাংলায় আসার কথাও এদিন উল্লেখ করেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, বিভিন্ন সাধু-মহন্ত তাঁদের বক্তব্যের মাধ্যমে সনাতন ধর্মের গুরুত্ব তুলে ধরবেন।

    ‘প্রাণ খুলে গীতাপাঠ করুন’, বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

    ধর্মীয় আচার পালনের ক্ষেত্রে ভয় না পাওয়ার বার্তাও দেন শুভেন্দু। তাঁর কথায়, “প্রাণ খুলে গীতা পাঠ করুন, গীতা বিতরণ করুন, হনুমান চালিশা পাঠ করুন।” পাশাপাশি শঙ্খ, সিঙ্গা, মৃদঙ্গ, খঞ্জরি ও ঘণ্টা বাজানো এবং হরে কৃষ্ণ মন্ত্র ও নাম কীর্তনের আহ্বান জানান তিনি।

    গোমাতা, গীতা, তুলসী এবং ধর্মীয় ঐতিহ্য রক্ষার কথাও বলেন মুখ্যমন্ত্রী। সাধু-সন্তদের অপমানের অভিযোগে প্রশাসনের পদক্ষেপের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনায় সরকার আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।

    শুভেন্দুর বক্তব্য, “যাঁরা সাধু, সন্ত ও মহারাজদের অপমান করবেন, বর্তমান সরকার তাঁদের সোজা জেলে পুরবে।” ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রীর ছবি পোড়ানোর ঘটনায় অভিযুক্তকে ঘটনার রাতেই গ্রেফতার করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

    ‘সবাই এক থাকতে হবে’, বিচ্ছিন্নতাবাদী স্লোগান নিয়েও বার্তা

    এদিনের বক্তব্যে দেশের ঐক্য নিয়েও সতর্কবার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, বিচ্ছিন্নতাবাদী স্লোগান বা বক্তব্যের বিরুদ্ধে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে এবং “সবাই এক থাকতে হবে।”

    শ্রীরামপুরে স্বাধীনতার দাবিতে স্লোগান দেওয়ার অভিযোগের প্রসঙ্গও তোলেন তিনি। এই ধরনের বক্তব্যের জবাব দেশের মানুষ দেবে বলে মন্তব্য করেন শুভেন্দু।

    সব মিলিয়ে, নেতাজি ইন্ডোরের ১১ হাজার কণ্ঠে গীতাপাঠের মঞ্চ থেকেই আগামী কয়েক মাসের জন্য একাধিক বড় ধর্মীয় কর্মসূচির ঘোষণা সামনে আনলেন মুখ্যমন্ত্রী—২৯ ডিসেম্বর ১০ লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠ এবং ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে ব্রিগেডে ধর্মসভা, যার মধ্যে ২৯ ডিসেম্বরের কর্মসূচিতে মোহন ভাগবতের সম্ভাব্য উপস্থিতির কথাও উঠে এসেছে।

  • Adani Group: রাইটার্স বিল্ডিং সংস্কারের দায়িত্ব আদানি গোষ্ঠীর হাতে, খরচ হতে পারে ১০০ কোটি টাকারও বেশি

    Adani Group: রাইটার্স বিল্ডিং সংস্কারের দায়িত্ব আদানি গোষ্ঠীর হাতে, খরচ হতে পারে ১০০ কোটি টাকারও বেশি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ ১৩ বছরেও শেষ হয়নি ঐতিহাসিক রাইটার্স বিল্ডিং সংস্কারের কাজ। এখনও পর্যন্ত মাত্র ২৫ শতাংশ কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে। এবার ঔপনিবেশিক আমলের এই ঐতিহ্যবাহী ভবন সংস্কারের দায়িত্ব আদানি গোষ্ঠীর (Adani Group) হাতে তুলে দিল রাজ্য সরকার। বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে আদানি গোষ্ঠীর সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে রাজ্য। সংস্থার সামাজিক দায়বদ্ধতা কর্মসূচির আওতায় সংস্কারের কাজ করা হবে। প্রকল্পটি শেষ করতে ১০০ কোটি টাকারও বেশি খরচ হতে পারে বলে খবর (Writers Building Restoration)।

    রাজ্য সরকারের এক পদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন, রাইটার্স বিল্ডিংয়ের সংস্কার সম্পূর্ণ করতে আদানি গোষ্ঠীর সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। সংস্থাটি সামাজিক দায়বদ্ধতা কর্মসূচির আওতায় এই কাজ করবে। সংস্কার শেষ করতে তাদের ১০০ কোটি টাকারও বেশি খরচ হতে পারে।

    আদানি গোষ্ঠীর বক্তব্য (Adani Group)

    আদানি গোষ্ঠী জানিয়েছে, রাজ্য সরকারের সঙ্গে দু’টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে তারা। একটি ঐতিহাসিক রাইটার্স বিল্ডিং সংস্কারের জন্য। অন্যটি ‘আদানি পুজো প্রিভিউে’র মাধ্যমে কলকাতার দুর্গাপুজোর শিল্পকলা ও ঐতিহ্যকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরার জন্য।

    রাজ্য সরকারের মালিকানাধীন কোনও ঐতিহ্যবাহী ভবন সংস্কারের দায়িত্ব এই প্রথম কোনও বেসরকারি সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া হল। প্রশাসনের একটি সূত্রের কথায়, “এত দিন সমস্ত ঐতিহ্যবাহী ভবনের সংস্কার করত পূর্ত দফতর অথবা ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণ। এই প্রথম কোনও ঐতিহ্যবাহী ভবন সংস্কারের দায়িত্ব পাচ্ছে বেসরকারি সংস্থা।”

    বিনিয়োগের প্রয়োজন রয়েছে, এমন একটি রাজ্যের পক্ষে এই উদ্যোগ ইতিবাচক ইঙ্গিত হতে পারে বলে মনে করছে প্রশাসনের একাংশ। তাদের মতে, রাজ্যের ইতিহাস ও সংস্কৃতির প্রতি বড় বেসরকারি সংস্থাগুলির আগ্রহ বাড়ছে।

    তবে রাইটার্স বিল্ডিং সংস্কারে দীর্ঘসূত্রিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। প্রশাসনের একটি সূত্রের বক্তব্য, “রাইটার্স বিল্ডিংয়ের সংস্কারের কাজ কার্যত থমকে গিয়েছিল। প্রায় ১৩ বছরে রাজ্য সরকার মাত্র ২৫ শতাংশ কাজ শেষ করতে পেরেছে। রাইটার্সের মতো গুরুত্বপূর্ণ ভবনের সংস্কারে এত বিলম্ব হলে তা ভাল বার্তা দেয় না।”

    পুরনো চেহারায় ফিরিয়ে আনাই লক্ষ্য

    ২০১৩ সালের মাঝামাঝি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় এবং শিবপুরের ভারতীয় প্রযুক্তি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের তৈরি পরিকল্পনা অনুযায়ী, স্বাধীনতার পরে নির্মিত আটটি অংশ ভেঙে ফেলার কথা ছিল। উদ্দেশ্য ছিল, রাইটার্স বিল্ডিংকে ব্রিটিশ আমলের পুরনো চেহারায় ফিরিয়ে আনা (Adani Group)।

    মূল ভবনের পাশাপাশি এক, দুই, তিন, চার ও পাঁচ নম্বর অংশ অক্ষত রেখে সেগুলির সংস্কারের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। ১৯৪৭ সালের পরে অতিরিক্ত সরকারি দফতরের জায়গা তৈরি করতে নির্মিত তৃতীয় তলগুলি সরিয়ে ভবনগুলিকে স্বাধীনতার আগের চেহারায় ফিরিয়ে আনার কথা ছিল। পাশাপাশি এ, বি, সি, ডি, ই, এফ এবং জি অংশ ভেঙে ফেলার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছিল।

    এক সরকারি আধিকারিকের কথায়, “স্বাধীনতার পরে অতিরিক্ত নির্মাণের ফলে ভবনগুলির অবস্থা ক্রমশ খারাপ হচ্ছিল। সেই কারণেই অপ্রয়োজনীয় নির্মাণ সরিয়ে ভবনের উপর চাপ কমানো জরুরি ছিল। কিন্তু সরকার বিষয়টিকে যথেষ্ট গুরুত্ব না দেওয়ায় সংস্কারের কাজ কখনও ঠিক মতো গতি পায়নি।”

    গত ১৩ বছরে রাজ্য সরকার কেবল এ, বি, ই এবং এফ অংশ ভেঙেছে। পাশাপাশি এক ও দুই নম্বর অংশের উপরের তলগুলিও সরানো হয়েছে। এখনও পর্যন্ত এক নম্বর অংশ এবং মূল ভবনের একটি অংশের সংস্কার সম্পূর্ণ হয়েছে। প্রশাসনের একটি সূত্র জানিয়েছে, সব মিলিয়ে মোট কাজের মাত্র ২৫ শতাংশ শেষ হয়েছে (Adani Group)।

    একসময় রাইটার্স বিল্ডিং থেকেই পরিচালিত হত রাজ্য প্রশাসনের যাবতীয় কাজ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরে ২০১৩ সালের অক্টোবরে রাজ্য সচিবালয় রাইটার্স থেকে নবান্নে স্থানান্তরিত হয়। তার পর থেকেই ঐতিহাসিক ভবনটির সংস্কারের কাজ চলছে।

    কাজ করবে আদানি গোষ্ঠী

    প্রশাসনের এক উচ্চপদস্থ আমলা জানিয়েছেন, সংস্কারের দায়িত্ব নেওয়ার পরে আদানি গোষ্ঠীকে মূল পরিকল্পনা মেনেই কাজ করতে হবে। প্রায় এক বছরের মধ্যে বাকি কাজ শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    ইতিমধ্যেই আদানি গোষ্ঠীর একটি প্রতিনিধিদল রাইটার্স বিল্ডিং পরিদর্শন করেছে। ওই দলের নেতৃত্বে ছিলেন কলকাতায় সংস্থার উপদেষ্টা তথা পশ্চিমবঙ্গ ক্যাডারের অবসরপ্রাপ্ত আইএএস আধিকারিক সঞ্জয় থাড়ে। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন পূর্ত দফতরের আধিকারিকেরাও।

    পূর্ত দফতরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, “সংস্কারের বাকি কাজ কীভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে, তা নিয়ে শীঘ্রই বিস্তারিত রূপরেখা চূড়ান্ত করা হবে (Adani Group)।”

    প্রাথমিকভাবে রাইটার্স বিল্ডিং সংস্কারের জন্য প্রায় ২০০ কোটি টাকা খরচ ধরা হয়েছিল। তবে ইতিমধ্যেই কাজের একটি অংশ শেষ হয়েছে। ফলে বাকি সংস্কারের জন্য আদানি গোষ্ঠীকে প্রায় ১০০ কোটি টাকা খরচ করতে হতে পারে বলে প্রশাসনের একাংশের অনুমান (Writers Building Restoration)।

     

  • Keshav Smriti Bhavan: নিউ টাউনে কেশব স্মৃতি ভবনের উদ্বোধন, বাংলায় হিন্দু সমাজের জাগরণের প্রতিফলন দেখছেন হোসেবল

    Keshav Smriti Bhavan: নিউ টাউনে কেশব স্মৃতি ভবনের উদ্বোধন, বাংলায় হিন্দু সমাজের জাগরণের প্রতিফলন দেখছেন হোসেবল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মানিকতলার কেশব ভবন থেকে নিউ টাউনের নবনির্মিত কেশব স্মৃতি ভবনে আরএসএসের কার্যালয় স্থানান্তরকে বাংলায় হিন্দু সমাজ ও চেতনার জাগরণের প্রতিফলন বলে মন্তব্য করলেন সংঘের সরকার্যবাহ দত্তাত্রেয় হোসেবল (Hosabale)। শনিবার নতুন কার্যালয়ের (Keshav Smriti Bhavan) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, এই ভবন নির্মাণকে কেবল একটি সাংগঠনিক কার্যালয় তৈরির উদ্যোগ হিসেবে দেখা উচিত নয়। এর সঙ্গে হিন্দু সমাজের বৃহত্তর জাগরণের বিষয়টিও জড়িয়ে রয়েছে। নতুন কার্যালয়ের ভূমিকা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে হোসেবল বলেন, “কার্যালয় বসবাসের জায়গা নয়। সংঘের প্রচারকরা কার্যকর্তাদের বাড়িতে থাকবেন।” তাঁর বক্তব্য, কোনও ভবন নিজে থেকে অনুপ্রেরণার কেন্দ্র হয়ে ওঠে না। সেখানে যাঁরা কাজ করেন, তাঁদের জীবনযাপন, আচরণ, নিষ্ঠা ও আদর্শই সেই ভবনকে অনুপ্রেরণার কেন্দ্রে পরিণত করে। সংঘের স্বনির্ভরতার ঐতিহ্য তুলে ধরতে তামিলনাড়ুর একটি ঘটনার উল্লেখ করেন হোসেবল। তিনি জানান, বোমা হামলায় তামিলনাড়ুতে সংঘের একটি কার্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর রাজ্য সরকার সেটি পুনর্নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু স্বয়ংসেবকরা সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেননি। নিজেদের উদ্যোগেই তাঁরা আগের চেয়ে বড় একটি ভবন নির্মাণ করেন। তাঁর মতে, এই ঘটনা সংঘের স্বনির্ভরতার ঐতিহ্য এবং নিজেদের প্রচেষ্টায় সাংগঠনিক প্রয়োজন পূরণের সক্ষমতার পরিচয় দেয়।

    কেশব রাও দীক্ষিতের স্মৃতিতে নতুন ভবন (Keshav Smriti Bhavan)

    মানিকতলার পুরনো কেশব ভবনটি নির্মিত হয়েছিল আরএসএসের প্রতিষ্ঠাতা ডাঃ কেশব বলিরাম হেডগেওয়ারের স্মৃতিতে। নিউ টাউনের নতুন ভবনটির নামকরণ করা হয়েছে প্রবীণ সংঘ প্রচারক কেশব রাও দীক্ষিতের স্মরণে। সাংগঠনিক কাজের জন্য তিনি পশ্চিমবঙ্গে এসেছিলেন এবং এই রাজ্যেই তাঁর জীবনাবসান হয়।

    অনুষ্ঠানে কেশব রাও দীক্ষিত এবং পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘদিন কাজ করা প্রয়াত সংঘ প্রচারক শ্যামলাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবদান স্মরণ করেন হোসবালে। তিনি বলেন, তাঁদের জীবন এবং কাজ আজও সংঘের স্বয়ংসেবকদের অনুপ্রাণিত করে। কোনও পদ বা দায়িত্বের কারণে নয়, বরং সংগঠন ও সমাজের প্রতি আজীবন নিষ্ঠা এবং ব্যক্তিগত আচরণের মাধ্যমেই তাঁরা মানুষের মনে প্রভাব বিস্তার করেছিলেন।

    সংঘের সাংগঠনিক সম্প্রসারণের কথাও তুলে ধরেন সরকার্যবাহ। তাঁর বক্তব্য, দেশজুড়ে সংঘের শাখা, স্বয়ংসেবক, প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এবং সামাজিক উদ্যোগের সংখ্যা বেড়েছে। সাংগঠনিক কাজের পরিধি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে উপযুক্ত পরিকাঠামোর প্রয়োজনও তৈরি হয়েছে। তবে কার্যালয় নির্মাণের মূল উদ্দেশ্য সাংগঠনিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।

    প্রত্যাশা নয়, লক্ষ্য সমাজসেবা

    হোসেবল বলেন, সংঘের কোনও প্রচারক পদ, স্বীকৃতি কিংবা ব্যক্তিগত সুবিধা পাওয়ার প্রত্যাশা নিয়ে সাংগঠনিক কাজে যোগ দেন না। তাঁর কথায়, “একজন স্বয়ংসেবক বা প্রচারক কখনও ভাবেন না, তিনি কোন দায়িত্ব বা পদ পাবেন। তিনি এই ভাবনা নিয়েই কাজ করেন যে, তিনি কয়েক দিন থাকুন বা না থাকুন, দেশের উন্নতি হওয়া উচিত।”

    দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রচারকদের পাঠানোর ঐতিহ্যের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, প্রচারকরা নিজেদের কর্মস্থলকেই কর্মভূমি হিসেবে গ্রহণ করেন। এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে গিয়ে ব্যক্তিগত লাভের প্রত্যাশা ছাড়াই তাঁরা সমাজের জন্য জীবন উৎসর্গ করেন।

    সংঘের কার্যালয়গুলি সম্পর্কে হোসবালে বলেন, সেগুলিকে কেবল প্রচারকদের আবাসস্থল হিসেবে দেখা উচিত নয়। তাঁর কথায়, “কার্যালয় শুধু প্রচারকদের বসবাসের জন্য নয়। এটি (Keshav Smriti Bhavan) কাজের জায়গা।”

    তিনি জানান, সেখানে কর্মরত স্বয়ংসেবকদের আচরণ, শৃঙ্খলা ও সাধনার মাধ্যমেই একটি কার্যালয় অনুপ্রেরণার কেন্দ্র হয়ে ওঠে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সংঘের কার্যালয়গুলির ইতিহাস সংগঠনের কর্মকাণ্ড এবং স্বয়ংসেবকদের জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

    ভবিষ্যতের প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ও পরিকাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও স্বীকার করেন তিনি। তবে তাঁর বক্তব্য, “কোনও কার্যালয় বা ভবন নিজে থেকে অনুপ্রেরণা দেয় না। সেখানে যাঁরা থাকেন, কাজ করেন এবং আসেন, সেই স্বয়ংসেবক ও কার্যকর্তারাই ভবনটিকে শক্তি ও প্রাণশক্তি জোগান।”

    সংঘের কাজের ভিত্তি স্বেচ্ছাসেবা

    আরএসএসের কর্মকাণ্ডের ভিত্তি স্বেচ্ছাসেবা ও নিষ্ঠা বলে মন্তব্য করেন হোসবালে। তিনি জানান, সংগঠনের স্বয়ংসেবকরা কোনও পারিশ্রমিকের প্রত্যাশা ছাড়াই দেশ ও সমাজের জন্য নিজেদের নিয়োজিত করেন।

    “তন সমর্পিত, মন সমর্পিত অউর ইয়ে জীবন সমর্পিত”—অর্থাৎ মাতৃভূমির জন্য শরীর, মন ও জীবন উৎসর্গ করার আদর্শই সংঘের মাধ্যমে স্বয়ংসেবকরা গ্রহণ করেন বলে জানান তিনি।

    হোসেবলের বক্তব্য, স্বয়ংসেবকদের অবদান কেবল কার্যালয় নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তাঁদের নিষ্ঠার মাধ্যমেই সমাজসেবা, সামাজিক সংগঠন গড়ে তোলা এবং রাষ্ট্রগঠনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড এগিয়ে চলে।

    গত এক শতাব্দীতে সংঘের দীর্ঘ পথচলার প্রসঙ্গ তুলে তিনি স্বীকার করেন, এখনও বহু সমস্যা ও প্রতিকূলতা রয়েছে। তাঁর কথায়, “সব প্রশ্নের সমাধান হয়নি এবং সব সমস্যাও দূর হয়ে যায়নি। এখনও নানা চ্যালেঞ্জ ও সংকট রয়েছে (Keshav Smriti Bhavan)।”

    তবে আত্মবিশ্বাস ও দৃঢ় সংকল্প নিয়ে সমস্যার মোকাবিলা করলে সমাধানের পথে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি। হোসেবলের কথায়, “সংকল্প যত বড় হয়, সমস্যা তত ছোট হয়ে যায় (Hosabale)।”

    বক্তব্যের শেষে তিনি বলেন, কেশব স্মৃতি ভবনকে এমন একটি কেন্দ্র হয়ে উঠতে হবে, যা স্বয়ংসেবক ও সমাজকে নিরন্তর অনুপ্রাণিত করবে। ডাঃ হেডগেওয়ার এবং কয়েক প্রজন্মের নিবেদিতপ্রাণ স্বয়ংসেবকদের আদর্শ অনুসরণ করে দেশ ও সমাজের জন্য কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি আগামী শতাব্দীর প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা এবং সংঘের কাজের মৌলিক বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ণ রাখার উপর গুরুত্ব দেন।

    রাম-শরদ কোঠারি প্রতিভা সম্মান অনুষ্ঠানে হোসেবল

    এদিন কলকাতার আলিপুরে জাতীয় গ্রন্থাগারের প্রেক্ষাগৃহে রাম-শরদ কোঠারি স্মৃতি সংঘ আয়োজিত ‘রাম-শরদ কোঠারি প্রতিভা সম্মান ২০২৬’ অনুষ্ঠানেও যোগ দেন দত্তাত্রেয় হোসেবলে। অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তিনি। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

    কলকাতার বাসিন্দা দুই ভাই রামকুমার ও শরদকুমার কোঠারি ১৯৯০ সালে অযোধ্যায় রামমন্দির আন্দোলনের সময় নিহত হন। তাঁদের স্মরণে প্রতিবছর এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সমাজের উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে এই অনুষ্ঠানে সম্মানিত করা হয়।

    এবারের অনুষ্ঠানে পুরুলিয়ার বিদ্যাসাগর শিশু শিক্ষা নিকেতনের (Hosabale) প্রধান শিক্ষক ঈশ্বরচন্দ্র হেমব্রম, ওড়িশার পরিবেশকর্মী রমেশচন্দ্র মিশ্র এবং ঝাড়খণ্ডের ধ্যান ফাউন্ডেশনকে সমাজে অবদানের জন্য সম্মানিত করা হয় (Keshav Smriti Bhavan)।

     

  • Suvendu Adhikari: বিদ্যুৎ বিলে বছরে ৩০ হাজার পর্যন্ত সাশ্রয়, ধানের দাম কুইন্টালে ২৭০০ টাকা! বর্ধমানে কল্পতরু শুভেন্দু

    Suvendu Adhikari: বিদ্যুৎ বিলে বছরে ৩০ হাজার পর্যন্ত সাশ্রয়, ধানের দাম কুইন্টালে ২৭০০ টাকা! বর্ধমানে কল্পতরু শুভেন্দু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সেচের বিদ্যুৎ খরচ কমাতে ইউনিট পিছু দু’টাকা ভর্তুকি, ধান কেনার দাম বৃদ্ধি এবং কৃষকদের বার্ষিক আর্থিক সহায়তায় অতিরিক্ত বরাদ্দ (Suvendu Adhikari)। শুক্রবার পূর্ব বর্ধমানের প্রশাসনিক সভা থেকে কৃষিক্ষেত্রের জন্য একাধিক সিদ্ধান্ত ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর ঘোষণা অনুযায়ী, রাজ্যের চার লাখেরও বেশি কৃষক বিদ্যুৎ ভর্তুকির আওতায় আসবেন। পাশাপাশি, সরকারি ব্যবস্থায় কুইন্টাল প্রতি ২৭০০ টাকায় ধান কেনা হবে। কৃষকদের জন্য কেন্দ্র ও রাজ্যের সম্মিলিত বার্ষিক আর্থিক সহায়তার পরিমাণ দাঁড়াবে ৯০০০ টাকা।

    সেচের বিদ্যুতে ভর্তুকি (Suvendu Adhikari)

    কৃষিকাজে বৈদ্যুতিক পাম্পসেট ব্যবহারকারী কৃষকদের জন্য প্রতি ইউনিট বিদ্যুতে দু’টাকা করে ভর্তুকি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রীর হিসাব অনুযায়ী, এই সুবিধার ফলে একজন কৃষকের বছরে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিদ্যুৎ খরচ কমতে পারে। পূর্ব বর্ধমানের প্রায় ২৫ হাজার কৃষক এই প্রকল্পে উপকৃত হবেন। সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ অগাস্ট থেকে এই ভর্তুকি কার্যকর বলে গণ্য করা হবে। রাজ্যজুড়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য অতিরিক্ত ৩০০ কোটি টাকা ব্যয় করবে সরকার।

    ধানের দাম ২৭০০ টাকা, সরাসরি কিনবে সরকার

    ধানচাষিদের জন্যও নতুন আর্থিক সুবিধার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। কুইন্টাল প্রতি নির্ধারিত ২৫০০ টাকার সঙ্গে রাজ্য আরও ২০০ টাকা যোগ করবে। ফলে সরকারি ক্রয়কেন্দ্রে ধান বিক্রি করে কৃষকেরা কুইন্টাল প্রতি মোট ২৭০০ টাকা পাবেন। পাঁচ একর পর্যন্ত জমির মালিকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান কেনার কথা জানিয়েছে রাজ্য সরকার। ধান কেনার প্রক্রিয়ায় ফড়ে বা অন্য কোনও মধ্যস্বত্বভোগীর ভূমিকা থাকবে না বলেও ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে ১০০ কুইন্টাল ধান বিক্রি করলে অতিরিক্ত ২০ হাজার টাকা উৎসাহ ভাতা দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

    পিএম কিষানে বছরে ৯০০০ টাকা, কৃষকবন্ধু প্রকল্পের পুনর্মূল্যায়ন

    কৃষকদের সরাসরি আর্থিক সহায়তার পরিমাণও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য। পিএম কিষান সম্মাননিধি প্রকল্পে কেন্দ্রের বার্ষিক ৬০০০ টাকার সঙ্গে আরও ৩০০০ টাকা দেবে রাজ্য সরকার। প্রয়োজনীয় যাচাইয়ের মাধ্যমে নতুন আবেদনকারীদেরও প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। পাশাপাশি, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কৃষকবন্ধু প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের পুনর্মূল্যায়নের কাজ শেষ করার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। জমির পরিমাণ অনুযায়ী বছরে ৪০০০ থেকে ৬০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনাও তুলে ধরেন (Power Bill) তিনি।

    আলুচাষিদের জন্য ডিসেম্বরে বিশেষ প্যাকেজ

    ধানচাষিদের পাশাপাশি আলুচাষিদের সমস্যার কথাও উঠে আসে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে। পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে সারের কালোবাজারি, আন্তঃরাজ্য সীমানায় বিধিনিষেধ এবং হিমঘর মালিকদের উপর চাপ সৃষ্টির অভিযোগ তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, এসব কারণে অতীতে আলুচাষিদের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছিল। আসন্ন আলুচাষের মরশুমের আগে বিশেষ আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণার আশ্বাস দিয়েছেন শুভেন্দু। ডিসেম্বরের মধ্যেই ভর্তুকিযুক্ত সার এবং অন্যান্য সরকারি সহায়তার বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানিয়েছেন তিনি (Suvendu Adhikari)।

    পূর্ব বর্ধমানে পরিকাঠামো প্রকল্পের উদ্বোধন

    কৃষকদের জন্য আর্থিক ঘোষণা ছাড়াও এ দিনের সভা থেকে একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করেন মুখ্যমন্ত্রী। ভাতারে প্রায় ১২৩ কোটি ৪৯ লাখ টাকার পরিকাঠামো প্রকল্পের পাশাপাশি ৩৩ কোটি টাকা ব্যয়ে তিনটি পৃথক প্রকল্পের উদ্বোধনের কথাও জানানো হয়। দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজপুর সোনারপুর ও বিষ্ণুপুরে বিদ্যুৎ সাব-স্টেশন এবং পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরের চৌবেরিয়ায় ইডেন খালের উপর নতুন সেতুর উদ্বোধনও এই কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত ছিল। বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের হাতে কৃষি, সেচ, বিদ্যুৎ ভর্তুকি এবং সূর্যঘর প্রকল্পের চেক তুলে দেওয়া হয় (Power Bill)।

    ১২৫ দিনের কাজের প্রতিশ্রুতি

    কৃষি ও পরিকাঠামোর পাশাপাশি রাজ্যের অন্যান্য সরকারি প্রকল্প নিয়েও বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী। ১২৫ দিনের গ্রামীণ কর্মসংস্থান, অন্নপূর্ণা, আবাস, আয়ুষ্মান ভারত এবং জল জীবন মিশনের মতো প্রকল্পের অগ্রগতির কথা তুলে ধরেন তিনি। রাজ্যে দুর্নীতি রোধের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করার পাশাপাশি অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউসিসি) কার্যকর করা এবং ‘লাভ জিহাদ’ ও ‘ল্যান্ড জিহাদ’ প্রতিরোধে কঠোর আইন আনার পরিকল্পনার কথাও জানান শুভেন্দু। পূর্ব বর্ধমানকে রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কৃষি উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, কৃষকদের আয় বৃদ্ধি, সেচের খরচ কমানো এবং সরকারি সহায়তা সরাসরি তাঁদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উপর গুরুত্ব দিচ্ছে তাঁর সরকার (Suvendu Adhikari)।

     

  • PM Modi: মহালয়ায় ইডেনে মোদি-শুভেন্দুর মেগা শো, পাঁচ পুজোর উদ্বোধন থেকে ড্রোন প্রদর্শনী, দেখুন পুজোর জাঁক

    PM Modi: মহালয়ায় ইডেনে মোদি-শুভেন্দুর মেগা শো, পাঁচ পুজোর উদ্বোধন থেকে ড্রোন প্রদর্শনী, দেখুন পুজোর জাঁক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দুর্গাপুজোর কার্নিভালের পরিবর্তে এবার মহালয়াতেই বিশেষ আয়োজন রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের। ১০ অক্টোবর ইডেন গার্ডেন্সে দুর্গোৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, হাজার হাজার ঢাকির পরিবেশনা, পুজোর উদ্বোধন থেকে ড্রোন শো—সব মিলিয়ে বড় আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। শুক্রবার সেই প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গলের (সিএবি) কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন রাজ্য প্রশাসনের (Eden Gardens Mahalaya) শীর্ষ আধিকারিকরা।

    সূত্রের খবর, বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কলকাতার পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে, পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দা এবং পর্যটন ও তথ্য-সংস্কৃতি দফতর-সহ একাধিক বিভাগের আধিকারিকরা। অনুষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থার প্রতিনিধিরাও বৈঠকে যোগ দেন। মহালয়ার অনুষ্ঠানের সম্ভাব্য সূচি ও সামগ্রিক আয়োজনের পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

    রেড রোডে রোড শো (PM Modi)

    প্রাথমিক সূচি অনুযায়ী, ১০ অক্টোবর বিকেল ৫টা থেকে ইডেনে শুরু হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। প্রায় ৬ হাজার শিল্পীর অংশগ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ স্টেডিয়ামে পৌঁছনোর কথা প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর। রাত ৮টা ২০ মিনিট পর্যন্ত তাঁদের সেখানে থাকার সম্ভাবনা। তবে নিরাপত্তা ও অন্যান্য প্রশাসনিক কারণে অনুষ্ঠানের সময়সূচিতে পরিবর্তন হতে পারে। ইডেনের মূল অনুষ্ঠানের আগে রেড রোডে প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর রোড শো করার পরিকল্পনা রয়েছে। সেখান থেকে তাঁরা পৌঁছবেন স্টেডিয়ামে। উলুধ্বনি, শঙ্খধ্বনি ও ঢাকের তালে তাঁদের স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি চলছে। প্রধানমন্ত্রীর জন্য ইডেনের হোম ড্রেসিংরুম এবং মুখ্যমন্ত্রীর জন্য অ্যাওয়ে ড্রেসিংরুম ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হয়েছে। সেখান থেকে মাঠে প্রবেশ করবেন তাঁরা। গলফ কার্টে চেপে প্রধানমন্ত্রীর মাঠ প্রদক্ষিণের কথাও রয়েছে।

    পাঁচ পুজোর উদ্বোধন

    সূত্রের খবর, মহালয়ার সন্ধ্যায় ইডেন গার্ডেন্স থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে কলকাতার পাঁচটি নামী দুর্গাপুজোর উদ্বোধন করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী। প্রাথমিক তালিকায় রয়েছে শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাব, সুরুচি সংঘ, সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার, চেতলা অগ্রণী এবং ত্রিধারা সম্মিলনী। চূড়ান্ত তালিকা অবশ্য এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

    পুজো কমিটিগুলির উদ্দেশেও বক্তব্য রাখার কথা প্রধানমন্ত্রীর (PM Modi)। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাজ্যের প্রায় পাঁচ হাজার পুজো কমিটির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে তাঁর।

    ঢাকের তালে…

    মহালয়ার বিশেষ অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ হতে চলেছে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। প্রাথমিক পরিকল্পনায় প্রায় ৬ হাজার শিল্পীর অংশগ্রহণের কথা রয়েছে। সংগীত পরিবেশনের সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছেন শান্তনু মৈত্র, শান, অন্তরা মিত্র, লগ্নজিতা চক্রবর্তী, দেবর্ষি ভট্টাচার্য ও কৌশিকী চক্রবর্তী। অংশ নেওয়ার কথা বাংলা লোকসংগীতের দল দোহারেরও।

    অনুষ্ঠানের সংগীত পরিচালনার দায়িত্বে থাকছেন শান্তনু মৈত্র। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রায় তিন হাজার ঢাকির একযোগে পরিবেশনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তবে চূড়ান্ত সংখ্যাটা আয়োজকদের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পরেই নিশ্চিত হবে (Eden Gardens Mahalaya)।

    শ্রেয়া ঘোষাল ও সুরকার প্রীতম এই অনুষ্ঠানে থাকছেন না বলেই আপাতত খবর। দু’জনেই দেশের বাইরে থাকায় তাঁদের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা কম।

    ড্রোন শো ও আতসবাজি

    প্রধানমন্ত্রী (PM Modi) ও মুখ্যমন্ত্রীর ভাষণের পর রাত ৮টা ২০ মিনিট নাগাদ তাঁদের ইডেন ছাড়ার প্রাথমিক পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁদের উপস্থিতিতে লাইট অ্যান্ড সাউন্ডের একটি অনুষ্ঠান হওয়ার কথাও রয়েছে। এরপর স্টেডিয়ামে আয়োজন করা হবে বিশেষ ড্রোন শো ও আতসবাজির প্রদর্শনীর।

    আমেদাবাদের টি-টোয়েন্টি ফাইনালের ধাঁচে আলোকসজ্জা ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রদর্শনীর পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর। দুর্গাপুজোর বিভিন্ন বিষয়কে তুলে ধরা হতে পারে ড্রোনের মাধ্যমে।

    দর্শক, ভিভিআইপির ভিড়

    ইডেনের এই অনুষ্ঠানে প্রায় ৩৫ হাজার দর্শকের উপস্থিতির পরিকল্পনা রয়েছে। তার মধ্যে আড়াই হাজার আসন ভিভিআইপিদের জন্য সংরক্ষিত রাখার কথা। প্রায় ৭০০ সাংবাদিকের বসার ব্যবস্থাও করা হতে পারে।

    ক্লাব হাউসের দু’পাশের গ্যালারি সংলগ্ন এলাকায় মঞ্চ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। রাজ্যের মন্ত্রী এবং অন্যান্য বিশিষ্ট অতিথিদের বসার জন্য পৃথক ব্যবস্থা রাখা হবে।

    প্রধানমন্ত্রীর (PM Modi) সফর ঘিরে নিরাপত্তার বিশেষ বন্দোবস্ত করা হচ্ছে। অনুষ্ঠানের কয়েক দিন আগে থেকেই ইডেনের নিরাপত্তার দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তারক্ষীদের হাতে চলে যেতে পারে। অনুষ্ঠান চলাকালীন ক্লাব হাউসের দু’টি তলা এবং প্রেস বক্সে প্রবেশের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

    সিএবি সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় জানিয়েছেন, অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিয়ে রাজ্য প্রশাসনের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। সিএবি কোষাধ্যক্ষ সঞ্জয় দাসও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

    সঞ্জয় বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানের আয়োজন আগে কখনও করিনি আমরা। তাই অভিজ্ঞতা নেই। যেভাবে প্রশাসন চাইবে আমরা সেরকমই ব্যবস্থা করে দেব। প্রথমবার দেশের প্রধানমন্ত্রী ইডেনে আসছেন।”

    মহালয়ার অনুষ্ঠানের জন্য ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত ইডেন গার্ডেন্স ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে (PM Modi) রাজ্য সরকারের। মূল অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পরে অস্থায়ী মঞ্চ ও অন্যান্য পরিকাঠামো সরানোর জন্যও অতিরিক্ত সময় রাখা হয়েছে (Eden Gardens Mahalaya)।

     

  • Puja Bookstall Row: বেশি সংখ্যায় পুনর্মুদ্রণ হচ্ছে বিবেকানন্দ-শঙ্করাচার্য থেকে দেশপ্রেমের বই! পুজোর বুকস্টল বিতর্কের মধ্যেই নয়া কৌশল বামেদের

    Puja Bookstall Row: বেশি সংখ্যায় পুনর্মুদ্রণ হচ্ছে বিবেকানন্দ-শঙ্করাচার্য থেকে দেশপ্রেমের বই! পুজোর বুকস্টল বিতর্কের মধ্যেই নয়া কৌশল বামেদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দুর্গাপুজোয় বামেদের বুকস্টল ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই বই প্রকাশ ও পুনর্মুদ্রণে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে সিপিএম (CPM)। স্বামী বিবেকানন্দ থেকে আদি শঙ্করাচার্য, গৌতম বুদ্ধ থেকে হিন্দু-মুসলমানের যৌথ সাধনা—এবার পুজোর বইয়ের স্টলে এই সমস্ত বিষয়কে সামনে আনতে চাইছে আলিমুদ্দিন স্ট্রিট। স্বাধীনতা আন্দোলন এবং দেশভাগ নিয়ে নতুন বই প্রকাশের প্রস্তুতিও চলছে। বুকস্টল নিয়ে বিজেপির সঙ্গে রাজনৈতিক সংঘাতের আবহে সিপিএমের প্রকাশনা সংস্থা ন্যাশনাল বুক এজেন্সির (এনবিএ) এই উদ্যোগ (Puja Bookstall Row) তাৎপর্যপূর্ণ।

    শঙ্করাচার্য-বিবেকানন্দের বই (Puja Bookstall Row)

    এবার এনবিএর পুনর্মুদ্রণের তালিকায় বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে কেরলের প্রথম কমিউনিস্ট মুখ্যমন্ত্রী ইএমএস নাম্বুদ্রিপাদের লেখা ‘আদি শঙ্করাচার্য ও অন্যান্য প্রসঙ্গ’। একই সঙ্গে বেশি সংখ্যায় ছাপানো হচ্ছে বিভিন্ন বামপন্থী নেতার লেখার সংকলন ‘মার্ক্সবাদীর দৃষ্টিভঙ্গিতে স্বামী বিবেকানন্দ’। প্রকাশনা সংস্থা সূত্রে খবর, গৌতম বুদ্ধের দর্শন সংক্রান্ত বই এবং ক্ষিতিমোহন সেনের ‘ভারতে হিন্দু-মুসলমানের যুক্ত সাধনা’ও পুনর্মুদ্রণের পরিকল্পনায় রয়েছে। পুজোর বুকস্টলে ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের নিয়ে বই রাখার প্রশ্নে ইতিমধ্যেই বিজেপির সঙ্গে বামেদের বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বামেদের স্টলে বিদেশি কমিউনিস্ট নেতাদের বই থাকলেও বিবেকানন্দের বই কেন থাকে না, সেই প্রশ্ন তুলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পাল্টা সিপিএম নেতৃত্বের দাবি, তাঁদের স্টলে বিবেকানন্দ ও চৈতন্যদেবকে নিয়ে বই আগেও ছিল। বিজেপি এবং আরএসএসের বইয়ের স্টলে ভগৎ সিংয়ের লেখা কেন দেখা যায় না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন বাম নেতারা। এই পরিস্থিতিতে পুরনো বই পুনর্মুদ্রণের সিদ্ধান্তকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। সিপিএমের রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য সুজন চক্রবর্তী এনবিএর দায়িত্বে রয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, “এই বইগুলি আমাদের প্রকাশনা সংস্থা আগেই এনেছে। নতুন নয়। তবে হ্যাঁ, এবার নানাবিধ প্রশ্ন আসছে বলেই আমাদের বিশেষভাবে মনোযোগ দিতে হচ্ছে।”

    মিলবে দেশপ্রেমের বই

    এবারের পুজোয় নতুন বইয়ের তালিকাতেও থাকছে রাজনৈতিক ইতিহাস। সুজন চক্রবর্তীর লেখা ‘দেশপ্রেমের খতিয়ান স্বাধীনতা আন্দোলন ও বাংলাভাগ’ প্রকাশিত হওয়ার কথা। একই সঙ্গে বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসুকে নিয়ে প্রকাশিত হচ্ছে ‘আমাদের চেয়ারম্যান’। বইটি সম্পাদনা করেছেন সিপিএমের রাজ্য কমিটির সদস্য সুদীপ সেনগুপ্ত। প্রকাশ কারাত, বৃন্দা কারাত, মহম্মদ সেলিম এবং সূর্যকান্ত মিশ্র-সহ একাধিক নেতা তাঁদের স্মৃতিচারণায় তুলে ধরেছেন বিমান বসুকে। আগামী ৭ তারিখ আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে বইটির আনুষ্ঠানিক প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে।

    সুদীপ বলেন, “আগামী ৭ তারিখ আলিমুদ্দিন স্ট্রিটেই এই বইয়ের উদ্বোধন হবে। বিমান বসু বরাবরই আত্মপ্রচারবিমুখ। কেউ তাঁকে ‘রাজনৈতিক সন্ন্যাসী’ বলেন, কেউ বলেন ‘রাজনৈতিক বিপ্লবী’। এরকম একজন মানুষকে নিয়ে তাঁর সহকর্মীদের লেখা নিশ্চয়ই সকলের ভালো লাগবে।”

    এদিকে, পুজোর বুকস্টল নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মন্তব্য ঘিরে। বিধানসভায় তিনি বামেদের ধর্মাচরণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। পুজোমণ্ডপের পাশে বইয়ের স্টল বসিয়েও সেখানে ‘দুর্গাপুজো’র পরিবর্তে ‘শারদোৎসব’ লেখা হয় কেন, তা নিয়ে আপত্তি জানান তিনি। পুজো উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা ছিল, “বুকস্টলে দুর্গাপুজো না-লিখলে স্টল করতে দেবেন না (Puja Bookstall Row)।”

    পুজোর বুকস্টল পরিচালনার প্রস্তুতি শুরু সিপিএমের

    বিতর্কের মধ্যেই পুজোর বুকস্টল পরিচালনার প্রস্তুতি শুরু করেছে সিপিএম। দক্ষিণবঙ্গের জেলা নেতৃত্বকে নিয়ে কলকাতার সূর্য সেন স্ট্রিটে এনবিএর দফতরে বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম ও সুজন চক্রবর্তীর পাশাপাশি বিমান বসুরও উপস্থিত থাকার কথা। উত্তরবঙ্গের জেলা নেতৃত্বকে নিয়ে শিলিগুড়িতেও পৃথক বৈঠকের পরিকল্পনা হয়েছে। সেখানে সুজনের সঙ্গে দলের পলিটব্যুরোর সদস্য শ্রীদীপ ভট্টাচার্যের যোগ দেওয়ার কথা।

    বুকস্টলে সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জায়গায় রাতপাহারার ব্যবস্থাও করার পরিকল্পনা করেছে সিপিএম। ক্ষমতা হারানোর পরেও দুর্গাপুজো-সহ বিভিন্ন উৎসবে বইয়ের স্টল বসানোর সাংগঠনিক কর্মসূচি বজায় রেখেছে দল (CPM)। এবারের রাজনৈতিক বিতর্কের আবহে সেই কর্মসূচি পরিচালনা এবং বইয়ের সম্ভার সাজানোর প্রস্তুতিতে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে (Puja Bookstall Row) বঙ্গের লাল পার্টির ভরকেন্দ্র আলিমুদ্দিন স্ট্রিট।

     

  • Municipal Election 2026: পুজোর পরই পুরভোটের বাদ্যি! নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে কলকাতা-হাওড়াসহ ৭ পুরসভায় ভোটের প্রস্তুতি

    Municipal Election 2026: পুজোর পরই পুরভোটের বাদ্যি! নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে কলকাতা-হাওড়াসহ ৭ পুরসভায় ভোটের প্রস্তুতি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দুর্গাপুজোর আবহ কাটতে না কাটতেই রাজ্যে ফের ভোটের প্রস্তুতি। কলকাতা ও হাওড়া পুরনিগম-সহ মোট সাতটি পুরসভায় নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে ভোট হতে পারে বলে প্রশাসনিক ও নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর। যদিও এখনও পর্যন্ত ভোটের দিন আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা হয়নি। কমিশনের প্রস্তুতি অনুযায়ী, অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে বিজ্ঞপ্তি জারি করে নভেম্বরের ২৭ থেকে ২৯ তারিখের মধ্যে ভোটগ্রহণ করা হতে পারে। ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই ফলপ্রকাশের লক্ষ্যে এগোচ্ছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন।

    কোন সাত পুরসভায় ভোট?

    প্রথম দফায় কলকাতা ও হাওড়া পুরনিগমের পাশাপাশি বালি, হলদিয়া, ধূপগুড়ি, কালিম্পং এবং কার্শিয়াং পুরসভায় ভোট হওয়ার কথা। এই সাতটি পুর এলাকায় প্রায় ৬,৩০০-৬,৪০০ বুথে ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি চলছে। কমিশনের সাম্প্রতিক পরিকল্পনায় ৬,৩০১টি বুথের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

    সম্ভাব্য সূচি অনুযায়ী, অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে নির্বাচনের বিজ্ঞপ্তি জারি হতে পারে। এরপর নভেম্বরের ২৭, ২৮ অথবা ২৯ তারিখের মধ্যে ভোটগ্রহণের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ভোটের ফল ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে। গোটা নির্বাচনী প্রক্রিয়া ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে বলে সূত্রের খবর।

    জেলাশাসকদের সঙ্গে কমিশনের বৈঠক

    ভোটের প্রস্তুতি নিয়ে শুক্রবার সংশ্লিষ্ট জেলার জেলাশাসকদের সঙ্গে ভিডিয়ো কনফারেন্সে বৈঠক করছেন রাজ্য নির্বাচন কমিশনার কৃষ্ণ গুপ্ত। ভোটকেন্দ্র, ভোটকর্মী, ইভিএম, ভোটার তালিকা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং অন্যান্য পরিকাঠামোগত প্রস্তুতি নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হওয়ার কথা। একই সঙ্গে ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস এবং আসন সংরক্ষণ সংক্রান্ত বিষয়ও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

    কমিশনের প্রস্তুতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে ইতিমধ্যেই ভোটকর্মী বাছাই ও প্রশিক্ষণের প্রক্রিয়াও এগোনোর কথা জানানো হয়েছে। সাতটি পুর এলাকায় কয়েক হাজার ভোটকর্মীর প্রয়োজন হবে। সামগ্রিকভাবে ভোট পরিচালনার জন্য বুথভিত্তিক কর্মী নিয়োগ, তাঁদের বর্তমান দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি এবং প্রশিক্ষণের মতো বিষয়গুলিও এখন কমিশনের অগ্রাধিকারে।

    রাজ্যে এল ২১ হাজারের বেশি ইভিএম

    পুরভোটের প্রস্তুতিতে বড় পদক্ষেপ হিসেবে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের হাতে পৌঁছেছে ২১ হাজারের বেশি ইভিএম। প্রথম দফায় ২১,১৮৪টি ব্যালট ইউনিট এবং ১৯,৫৬৪টি কন্ট্রোল ইউনিট পাঠানো হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

    এই ইভিএমের একটি অংশ নভেম্বরের সাত পুরসভার নির্বাচনে ব্যবহার করা হবে। বাকি ইভিএম পরবর্তী ধাপে রাজ্যের অন্যান্য পুরসভা ও পুরনিগমের নির্বাচনে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে। সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, সাতটি পুর এলাকার জন্য প্রায় ৬,৪০০ ইভিএম ব্যবহারের প্রস্তুতি রয়েছে।

    হাওড়ায় দীর্ঘ অপেক্ষার পর ভোট

    এই নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিশেষ নজরে রয়েছে হাওড়া পুরনিগম। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচিত পুরবোর্ড নেই। ২০১৩ সালে শেষবার পুরভোট হয়েছিল এবং ২০১৮ সালে নির্বাচিত বোর্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকে প্রশাসকের মাধ্যমে পুর পরিষেবা পরিচালিত হচ্ছে। বর্তমানে রাজ্যের ১২টি জেলার মোট ১৫টি পুরসভায় নির্বাচিত পুরবোর্ড নেই বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর।

    কলকাতা পুরনিগমের ক্ষেত্রেও ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস ও আসন সংরক্ষণের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ভোটের আগে এই সংক্রান্ত প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। সংরক্ষণ পদ্ধতি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলির একাংশ আপত্তি জানিয়েছে বলে সূত্রের খবর। কমিশনের বৈঠকে সেই বিষয়গুলিও গুরুত্ব পেতে পারে।

    ভোটার তালিকা নিয়েও নজর

    এবারের পুরভোটে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত ভোটার তালিকাকেই ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করবে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। অর্থাৎ বিধানসভা নির্বাচনের জন্য প্রকাশিত ভোটার তালিকাই পুরভোটের ক্ষেত্রেও কার্যকর হবে; মূল পরিবর্তন হবে সংশ্লিষ্ট ভোটারদের বুথ বিন্যাসে।

    এই পরিস্থিতিতে ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর ঘিরে যেহেতু একাধিক আবেদন ও আপত্তি এখনও প্রক্রিয়াধীন, তাই পুরভোটের আগে ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিষয়গুলির দিকে নজর রাখছে কমিশন। কলকাতা পুর এলাকার এসআইআর-সংক্রান্ত বহু আবেদন এখনও ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন রয়েছে বলে সাম্প্রতিক রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

    হীত

    ভোটের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি এখনও প্রকাশিত না হলেও রাজনৈতিক দলগুলির প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। তৃণমূল নেতা বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় জানান, বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে। ডিলিমিটেশন নিয়ে দলের বক্তব্য আগেই জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে নিয়ম মেনে নির্বাচন করার বিষয়েও দলের অবস্থান থাকবে বলে জানান বৈশ্বানর।

    বিজেপির প্রধান মুখপাত্র দেবজিত সরকার জানান, তাঁদের দল সবসময় নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত থাকে। পুরভোটকে রাজ্যের নগর প্রশাসন ও উন্নয়নের প্রশ্নের সঙ্গে যুক্ত করে তিনি বলেন, মানুষের কাছে দলের পরিকল্পনা তুলে ধরা হবে।

    তবে রাজনৈতিক দলগুলির প্রস্তুতির মধ্যেই এখন মূল নজর নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তির দিকে। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরই ভোটের দিন, মনোনয়ন, প্রচার, ভোটগ্রহণ ও গণনার চূড়ান্ত সময়সূচি স্পষ্ট হবে।

    সব মিলিয়ে, পুজোর পরেই রাজ্যে ফের ভোটের আবহ তৈরি হতে চলেছে। কলকাতা, হাওড়া-সহ সাত পুর এলাকায় নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে ভোট করানোর লক্ষ্যে প্রশাসনিক প্রস্তুতি যে ইতিমধ্যেই জোরকদমে শুরু হয়েছে, ইভিএম পাঠানো থেকে জেলাশাসকদের সঙ্গে বৈঠক—একাধিক পদক্ষেপেই তার ইঙ্গিত মিলছে।

LinkedIn
Share