Category: রাজ্য

Get West Bengal News, Bengali Breaking News, Latest News in Bengali only from মাধ্যম | Madhyom, Bengali News Portal for সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর

  • Kolkata Thunder Lightning: মুহূর্তে অন্ধকার শহর, তারপর তাণ্ডব! কলকাতায় নজিরবিহীন বজ্রপাতের নেপথ্যে কোন রহস্য?

    Kolkata Thunder Lightning: মুহূর্তে অন্ধকার শহর, তারপর তাণ্ডব! কলকাতায় নজিরবিহীন বজ্রপাতের নেপথ্যে কোন রহস্য?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সকাল থেকেই ছিল অস্বস্তিকর ভ্যাপসা গরম। কিন্তু দুপুর গড়াতেই যেন আচমকা বদলে গেল প্রকৃতির মেজাজ। মুহূর্তের মধ্যে কালো মেঘে ঢেকে গেল আকাশ, তারপর শুরু হল ঝোড়ো হাওয়া, প্রবল বর্ষণ এবং একের পর এক বিকট শব্দে বজ্রপাত। বৃহস্পতিবারের কলকাতা যেন সাক্ষী থাকল প্রকৃতির এক বিরল ও রুদ্র রূপের। সাম্প্রতিক অতীতে এত ঘনঘন এবং এত তীব্র বজ্রপাতের অভিজ্ঞতা খুব কমই হয়েছে মহানগরবাসীর। আকাশ চিরে পরপর বিদ্যুতের ঝলকানি এবং কানফাটানো বজ্রধ্বনিতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন বহু মানুষ। শহরের বহুতল আবাসন থেকে শুরু করে রাস্তাঘাট— সর্বত্রই অনুভূত হয় বজ্রপাতের তীব্রতা।

    ঝড়-বৃষ্টিতে কার্যত থমকে শহর

    বৃহস্পতিবার দুপুরের এই আকস্মিক দুর্যোগে কলকাতার স্বাভাবিক জনজীবনে বড়সড় প্রভাব পড়ে। ধর্মতলা, পার্ক স্ট্রিট, ময়দান, এসপ্ল্যানেড, কলকাতা হাইকোর্ট চত্বর-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বজ্রপাতের বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে পরিবেশ। মুষলধারে বৃষ্টির কারণে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় যানজটের সৃষ্টি হয়। অফিসফেরত মানুষ, পথচারী ও নিত্যযাত্রীরা নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটতে বাধ্য হন। বহু এলাকায় দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় যান চলাচলেও বিঘ্ন ঘটে। শুধু কলকাতাই নয়, এই ঝড়-বৃষ্টির প্রভাব পড়েছে হাওড়া, হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, নদিয়া-সহ দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে। বিভিন্ন জেলায় ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎসহ ভারী বৃষ্টিপাতের খবর মিলেছে।

    কেন এত তীব্র বজ্রপাত? ব্যাখ্যা আবহাওয়া দফতরের

    আলিপুর আবহাওয়া দফতরের মতে, বর্তমান পরিস্থিতির নেপথ্যে কাজ করছে একাধিক সক্রিয় আবহাওয়াজনিত সিস্টেম। বর্তমানে উত্তর বিহার থেকে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত একটি সক্রিয় নিম্নচাপ অক্ষরেখা বিস্তৃত রয়েছে। এই অক্ষরেখা ঝাড়খণ্ড, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ এবং ওড়িশার উপর দিয়ে বিস্তৃত হয়েছে। একই সময়ে রাজস্থান থেকে গাঙ্গেয় বঙ্গ পর্যন্ত মৌসুমী অক্ষরেখাও সক্রিয় রয়েছে। এর পাশাপাশি উত্তর-পূর্ব বাংলাদেশ সংলগ্ন এলাকায় একটি শক্তিশালী ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হয়েছে। আবার বঙ্গোপসাগরের উপরও এই মরশুমের প্রথম গুরুত্বপূর্ণ ঘূর্ণাবর্ত সক্রিয় হয়েছে। এই সমস্ত আবহাওয়াগত উপাদানের সম্মিলিত প্রভাবে সমুদ্র থেকে বিপুল পরিমাণ জলীয় বাষ্প স্থলভাগে প্রবেশ করছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, অতিরিক্ত জলীয় বাষ্প এবং দিনের তাপমাত্রাজনিত অস্থিরতার ফলে দ্রুত তৈরি হচ্ছে বিশালাকার কিমিউলোনিম্বাস (Cumulonimbus) বা বজ্রগর্ভ মেঘ। এই মেঘ থেকেই উৎপন্ন হচ্ছে প্রবল বজ্রঝড় এবং ঘনঘন বজ্রপাতের ঘটনা।

    কী সতর্কতা মেনে চলবেন?

    আবহাওয়া দফতরের পরামর্শ অনুযায়ী—

    • ● বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠ, ছাদ বা গাছের নিচে দাঁড়াবেন না।
    • ● মোবাইল ফোন চার্জে লাগিয়ে ব্যবহার করা এড়িয়ে চলুন।
    • ● বিদ্যুৎ পরিবাহী ধাতব বস্তু থেকে দূরে থাকুন।
    • ● ঝড় শুরু হলে পাকা বাড়ি বা নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান করুন।
    • ● অপ্রয়োজনীয়ভাবে বাইরে বের হওয়া এড়িয়ে চলুন।

    সোমবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গে হলুদ সতর্কতা

    গত কয়েকদিন ধরে চলা দফায় দফায় বৃষ্টি এবং ঝড়ের কারণে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে গরমের তীব্রতা কিছুটা কমেছে। তবে আবহাওয়া দফতরের মতে, আপাত স্বস্তির মাঝেও দুর্যোগের আশঙ্কা এখনও কাটেনি। সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী সোমবার পর্যন্ত কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের অধিকাংশ জেলায় বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সঙ্গে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। এই পরিস্থিতির জন্য জারি করা হয়েছে হলুদ সতর্কতা।

    বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়েছে—

    • ● উত্তর ২৪ পরগনা
    • ● দক্ষিণ ২৪ পরগনা
    • ● পূর্ব বর্ধমান
    • ● পশ্চিম বর্ধমান
    • ● বীরভূম
    • ● মুর্শিদাবাদ
    • ● নদিয়া
    • ● পুরুলিয়া
    • ● বাঁকুড়া
    • ● ঝাড়গ্রাম
    • ● পূর্ব মেদিনীপুর

    এই জেলাগুলিতে বিক্ষিপ্তভাবে প্রবল বজ্রপাতের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে হাওয়া অফিস।

    উত্তরবঙ্গে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক

    দক্ষিণবঙ্গে যেখানে মূল উদ্বেগ বজ্রপাত ও ঝড়বৃষ্টি, সেখানে উত্তরবঙ্গের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে অতিভারী বৃষ্টির কারণে। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহার জেলায় আগামী কয়েকদিনে ৭ থেকে ২০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। কিছু এলাকায় বৃষ্টির পরিমাণ ২০ সেন্টিমিটারও ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে পূর্বাভাস। অতিভারী বর্ষণের ফলে তিস্তা, তোর্সা, বালাসন-সহ একাধিক পাহাড়ি নদীর জলস্তর দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে নিম্নাঞ্চলে জল জমা, নদী উপচে পড়া এবং পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের আশঙ্কা প্রবল হয়েছে। এই পরিস্থিতির জন্য উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলায় লাল ও কমলা সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া দফতর।

    উত্তাল সমুদ্র, মৎস্যজীবীদের সতর্কবার্তা

    শুধু স্থলভাগ নয়, বঙ্গোপসাগরও বর্তমানে উত্তাল অবস্থায় রয়েছে। উত্তর ওড়িশা উপকূল এবং পশ্চিমবঙ্গ সংলগ্ন সমুদ্র এলাকায় ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে সম্পূর্ণ নিষেধ করা হয়েছে। যারা ইতিমধ্যেই গভীর সমুদ্রে রয়েছেন, তাঁদের দ্রুত নিরাপদ বন্দরে ফিরে আসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়াবিদদের স্পষ্ট বার্তা, আগামী কয়েকদিন দক্ষিণবঙ্গে বজ্রঝড় ও বৃষ্টির এই অস্থির আবহাওয়া বজায় থাকবে। ফলে পরিস্থিতির দিকে নজর রেখে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে সাধারণ মানুষকে।

  • West Bengal BJP: বিতর্ক নয়, বাজেটের সাফল্য পৌঁছে দিতে হবে মানুষের কাছে, বিজেপি বিধায়কদের কড়া বার্তা নেতৃত্বের

    West Bengal BJP: বিতর্ক নয়, বাজেটের সাফল্য পৌঁছে দিতে হবে মানুষের কাছে, বিজেপি বিধায়কদের কড়া বার্তা নেতৃত্বের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে প্রথম বিজেপি সরকারের (West Bengal BJP) বিভিন্ন জনকল্যাণকামী পদক্ষেপ এবং সাম্প্রতিক বাজেটের ইতিবাচক দিকগুলি (Budget Benefits) সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরার ওপর বিশেষ জোর দিল পদ্ম-দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। সম্প্রতি দলীয় বিধায়কদের নিয়ে আয়োজিত দু’দিনের বিশেষ বৈঠকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়, রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি বা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়ানোর বদলে সরকারের উন্নয়নমূলক কাজের প্রচারেই বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।

    ‘ডুজ অ্যান্ড ডোন্টজে’র পাঠ (West Bengal BJP)

    দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বৈঠকে নেতৃত্ব পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, ডিম ছোড়া, দলীয় কার্যালয় দখল কিংবা কোনও ধরনের উসকানিমূলক কার্যকলাপ বিজেপি সমর্থন করে না। তার বদলে সরকারের বিভিন্ন কল্যাণমূলক সিদ্ধান্ত, বাজেটের ঘোষণা এবং প্রশাসনিক সাফল্য মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বিধায়কদের। বাজেটে সরকারি কর্মীদের জন্য ডিএর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। বর্তমানে চালু থাকা ১৮ শতাংশ ডিএর সঙ্গে আরও ২০ শতাংশ বাড়িয়ে মোট হার ৩৮ শতাংশে নিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। আগামী ১ অক্টোবর থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার কথা। এর পাশাপাশি নয়া কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে এক লাখ চাকরি সৃষ্টির পরিকল্পনার কথাও বাজেটে উল্লেখ করা হয়েছে। বিজেপি নেতৃত্বের মতে, এই ধরনের সিদ্ধান্ত মানুষের কাছে তুলে ধরতে পারলে সরকারের ইতিবাচক ভাবমূর্তি আরও শক্তিশালী হবে।

    বিধায়কদের সতর্ক-বার্তা

    বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, কেন্দ্রীয় নেতা সুকান্ত মজুমদার, সুনীল বনসল, অমিত মালব্য এবং অমিতাভ চক্রবর্তী-সহ একাধিক শীর্ষ নেতা। বৈঠকে নবনির্বাচিত বিধায়কদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কেও বিস্তারিত আলোচনা হয়। প্রথমবার নির্বাচিত বিধায়কদের বিধানসভা ও সাংগঠনিক কাজের বিভিন্ন দিক সম্পর্কেও শিখিয়ে-পড়িয়ে নেওয়া হয় (West Bengal BJP)। দল এবং সরকারের ভূমিকার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা, সংগঠনের সঙ্গে সমন্বয় রক্ষা এবং শৃঙ্খলার মধ্যে থেকে রাজনৈতিক কাজ পরিচালনার প্রয়োজনীয়তার কথাও মনে করিয়ে দেন পদ্ম নেতারা। কোথাও যাতে তোলাবাজি বা অনিয়মের অভিযোগ না ওঠে, সেই বিষয়েও (Budget Benefits) বিধায়কদের সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে খবর (West Bengal BJP)।

  • Suvendu Adhikari: ‘‘আপনাদের পাপের ফল’’! তারাতলাকাণ্ডে তৃণমূলকে তোপ শুভেন্দুর, মৃতদের পরিবারকে ১০ লক্ষ সাহায্য, ক্ষতিপূরণ ঘোষণা পিএমও-রও

    Suvendu Adhikari: ‘‘আপনাদের পাপের ফল’’! তারাতলাকাণ্ডে তৃণমূলকে তোপ শুভেন্দুর, মৃতদের পরিবারকে ১০ লক্ষ সাহায্য, ক্ষতিপূরণ ঘোষণা পিএমও-রও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গত বুধবার তারাতলায় নির্মীয়মাণ গুদাম ভেঙে পড়ার ঘটনায় ৯ জনের মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে৷ আহত কমপক্ষে ২০ জন৷ এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় মৃতদের পরিবার প্রতি রাজ্যের তরফে ১০ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করে আর্থিক সাহায্যের কথা ঘোষণা করেন। এছাড়া আহতদের দেওয়া হবে ১ লক্ষ টাকা। ক্ষতিপূরণ ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর দফতরেরও। পিএমও-র তরফে জানানো হয়েছে, মৃতদের পরিবার পিছু ২ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে। আহতদের ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সাহায্য করা হবে।

    ‘‘ভগবানের দূত…’’

    বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টায় বিধানসভায় গোটা দুর্ঘটনার বিবরণ দেন শুভেন্দু অধিকারী। বিবৃতি পাঠ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘গতকাল দুপুর ১২টা ০৭ মিনিটে কলকাতা পুর-এলাকার তারাতলায় একটা নির্মীয়মাণ বিল্ডিং ভেঙে পড়ে। বেদনাদায়ক ঘটনা ঘটে। পরিবারের পাশে সমবেদনা, বিদেহী আত্মার অমরত্ব প্রার্থনা করি। এসএসকেএম হাসপাতালে যারা ভর্তি তাদের পাশে আছি৷’’ এদিন বিধানসভার বিবৃতিতে উদ্ধারকাজে মন্ত্রী থেকে আধিকারিক থেকে সেনা, সকলের ভূমিকার কথা বিশদে উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী৷ শুভেন্দু জানান, ‘‘প্রথমে কলকাতা পুলিশ, ফায়ার ব্রিগেড ও স্থানীয় জনগণ হাত লাগান। একটা কাটার মেশিন নেই। একটা আধুনিক যন্ত্রপাতি নেই।সেনা কাজ করছে। বিহার রেজিমেন্ট সব আধুনিক যন্ত্র নিয়ে এসে কাজ করছে। আর ভগবানের দূত হিসাবে কাজ করেছে এনডিআরএফ৷ বন্দর, ডিএমজি, সিভিল ডিফেন্স সবাই একযোগে কাজ করেছে। সবাই আমরা সাপোর্ট করছি৷ উদ্ধারকার্য এখনও চলছে।’’

    ‘‘৯ জনের মৃত্যু’’

    উদ্ধারাভিযান নিয়ে শুভেন্দু বলেন, ‘‘বুধবার রাতভর কাজ চলেছে। এখনও কাজ চলছে। সরকারের পক্ষ থেকে প্রথম যান ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ ও পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। এরপর পৌঁছন দমকল মন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী। যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়-সহ অন্যান্যরা। আমি প্রথম থেকেই মনিটরিং করছিলাম। তবে গেলে উদ্ধারকাজে বাধা তৈরি হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার পর বিকেলে যাই। হাসপাতালেও গিয়েছি। আহতদের সঙ্গে কথা হয়েছে।” এদিন বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ২৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছিল। ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। বাকিরা চিকিৎসাধীন। তবে এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে রয়েছেন বেশ কয়েকজন। তাঁদের উদ্ধারের কাজ এখনও চলছে।’’ এর সঙ্গেই ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। জানান, মৃতদের পরিবার পিছু ১০ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য ঘোষণা করবে রাজ্য সরকার। আহতদের ১ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘‘অর্থ দিয়ে মৃত্যুর ক্ষতিপূরণ হয় না। সেটা স্বীকার করেও দায়িত্বশীল সরকার তার দায়িত্ব পালনের জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ।’’ এ দিনই প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের (PMO) তরফেও আর্থিক সাহায্যের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। মৃতদের পরিবার পিছু ২ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য ঘোষণা করেছে পিএমও। আহতদের ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সাহায্য করা হবে।

    ‘‘আপনাদের পাপের ফল..’’

    তবে, তারপরেই তীক্ষ্ণ আক্রমণ শানান বিরোধী তৃণমূলের বিরুদ্ধে৷ দুর্নীতি থেকে অব্যবস্থা৷ মুখ্যমন্ত্রীর কথায় দফায় দফায় উঠে আসে বিগত সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ৷ বিরোধীদের বিঁধে শুভেন্দু বলেন, ‘‘এই যে মাননীয় চিফ হুইপ অপোজিসন, আখরুজ্জামান সাহেব আমি বলার আগে উঠে পড়েছিলেন৷ একটু কেয়ারফুলি শুনুন, যে ক’টা লোক আছেন আপনারা৷ এই বিল্ডিং প্ল্যানটা গত ১৭ জানুয়ারি আপনারা দিয়েছিলেন৷ সব বের করছি আমরা৷’’ তারপরেই শুভেন্দুর তোপ, ‘‘এ আপনাদের পাপের ফল৷ সব জায়গায় টাকা নিতে নিতে এই সিটি অফ জয়কে, এবং বৃহত্তর কলকাতাকে মৃত্যুপুরীতে পরিণত করেছেন আপনারা৷’’

    ‘‘কাউকে ছাড়া হবে না’’

    মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, গার্ডেনরিচ থেকে শুরু করে একাধিক ঘটনা ঘটলেও তা থেকে কোনও শিক্ষা নেয়নি পূর্বতন সরকার৷ কোনও সংশোধন আসেনি প্রক্রিয়ায়৷ উদ্ধারকাজে সেনা এবং এনডিআরএফ-কে কোনও দিন ডাকা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি৷ গার্ডেনরিচে মুর্শিদাবাদের ১৪ জন চাপা পড়ে মারা গিয়েছিল বলে জানান শুভেন্দু৷ একজনকেও সেই সময় জীবিত উদ্ধার করা যায়নি৷ বিরোধী তৃণমূলের চিপ হুইপ আখরুজ্জামান সাহেবের উদ্দেশ্যে শুভেন্দু বলেন, ‘‘কী করেছেন আপনারা? একটাকেও তো ছাড়ার কোনও সিন নেই৷ আপনার প্রাক্তন মেয়রের সই আছে এতে৷ কাউকে ছাড়া হবে না৷ ইঞ্জিনিয়ার যাদের নাম আছে তাদের ছাড়া হবে না। ৫ জনকে গ্রেফতার করেছি। আসগরকে খুঁজছি। চাইব যাতে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করতে পারি৷ কালি’কে খুঁজে বার করছি। ক্যামাক স্ট্রিটে ২০০ কোটি জমা দিয়েছে। সব জানি।’’ সবশেষে শুভেন্দু জানান, এরপরে আগামী ১ মাস সব নির্মীয়মাণ কাজ বন্ধ থাকবে৷ সবকিছু অডিট করা হবে৷

    গঠিত সিট, এখনও পর্যন্ত গ্রেফতার ৫

    তারাতলার ঘটনার তদন্তে গঠন করা হয়েছে বিশেষ তদন্তকারী দল। সেই দলে রয়েছেন গোয়েন্দা বিভাগের এসিপি জয়সূর্য মুখোপাধ্যায়। গোয়েন্দা দপ্তরের হোমিসাইড বিভাগের অফিসার ইনচার্জ দেবাশিস দত্ত। গোয়েন্দা বিভাগের ইন্সপেক্টর হিরক দলপতি, গুণ্ডাদমন শাখার ইন্সপেক্টর সরফরাজ আহমেদ। তারাতলা থানার সাব-ইন্সপেক্টর মানস ভট্টাচার্য, ও তারাতলা থানার সাব-ইন্সপেক্টর কুশল মণ্ডল। তারাতলা কাণ্ডে এখনও পর্যন্ত ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের নাম গুলজার হোসেন (সুপার ভাইজার অয়ন ট্রেডার্স), কমল সামন্ত (লোহার কাঠামো প্রস্তুতকারক), শম্ভুনাথ শম্ভুনাথ বেহেরা (যিনি জমি লিজ নিয়েছিলেন), দিবারক ভাণ্ডারি (শ্রমিক সরবরাহকারী ও ট্রাইমেক্স ঠিকাদার), আবদুল হামিদ (কেএমসি-তে নির্মাণ পরিকল্পনা অনুমোদনের জন্য মধ্যস্থতাকারী)। ঘটনায় আরও কারও গাফিলতি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারীদল। প্রয়োজনে তাঁদেরও গ্রেফতার করা হবে।

  • Taratala Godown Collapse: তারাতলার গুদামে গোড়ায় গলদ! স্ক্যানারে তৃণমূল আমলে পাশ হওয়া বিল্ডিং প্ল্যান, কলকাতায় বাণিজ্যিক নির্মাণের কাজ ৩১ জুলাই পর্যন্ত বন্ধ

    Taratala Godown Collapse: তারাতলার গুদামে গোড়ায় গলদ! স্ক্যানারে তৃণমূল আমলে পাশ হওয়া বিল্ডিং প্ল্যান, কলকাতায় বাণিজ্যিক নির্মাণের কাজ ৩১ জুলাই পর্যন্ত বন্ধ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতা পুর এলাকায় তৃণমূল জমানায় ছাড় পাওয়া সব নির্মাণ খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। তারাতলার ঘটনাস্থল খতিয়ে দেখে এসে নবান্নে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, কলকাতা পুরসভার (KMC) আগের বোর্ডে ছাড়পত্র পাওয়া সমস্ত বাণিজ্যিক নির্মাণের কাজ ৩১ জুলাই পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। প্রতিটি নির্মাণকাজ যথাযথ নিয়ম মেনে হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখবে একটি প্রতিনিধিদল। সেই দলকে নেতৃত্ব দেবেন মুখ্যসচিব। তারাতলা এলাকায় নির্মীয়মাণ শেড ভেঙে পড়ার ঘটনার জেরেই এই সিদ্ধান্ত বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পরই কলকাতা পুরসভার তরফে নির্মাণ বন্ধ রাখা সংক্তান্ত পাবলিক নোটিস জারি করা হয়।

    তারাতলার গুদামে প্ল্যানে ত্রুটি

    তারাতলার শেড দুর্ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে প্ল্যানে ত্রুটি থাকার বিষয়টি সামনে এসেছে। প্ল্যান অনুমোদনের সঙ্গে যুক্ত পুরসভার আধিকারিকদের তালিকাও ইতিমধ্যে তৈরি করেছে লালবাজার। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, তারাতলা বিপর্যয়ের আসল কারণ তদন্ত সাপেক্ষ। তবে ত্রুটিপূর্ণ নকশার জেরেই নির্মীয়মাণ গুদাম ও কোল্ড স্টোরেজটি ভেঙে পড়েছে বলেই প্রাথমিকভাবে কলকাতা পুরসভার ইঞ্জিনিয়াররা জানিয়েছেন। আর সেই কারণেই তৃণমূল আমলে পাশ হওয়া বিল্ডিং প্ল্যান খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বুধবার কলকাতার তারাতলায় গুদামের ছাদ ভেঙে পড়ে মৃত্যু হয়েছে তিন জনের। আহত হয়ে এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১৮ জন। বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পরেই নবান্নে চলে যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

    তৃণমূল জমানায় অনুমোদিত বিল্ডিং প্ল্যান পরীক্ষা

    তৃণমূল জমানায় অনুমোদিত বিল্ডিং প্ল্যান যথাযত ছিল কি না, এবং ঠিক থাকলে সেই প্ল্যান অনুযায়ী কাজ হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখবে পুরসভা, কেএমডিএ, পূর্ত, দমকল, অসামরিক প্রতিরক্ষা ও পুলিশ আধিকারিকদের নিয়ে গঠিত একটি বিশেষ দল। তদন্ত রিপোর্টে কোনো সমস্যা না উঠে এলে, ১ আগস্ট থেকে ফের চালু করা যবে বাকি থাকা নির্মাণ কাজ। যা নিয়ে ‘পাবলিক নোটিস’ও জারি করেছে কলকাতা পুরসভা। শুভেন্দু জানান, তৃণমূল সরকারের আমলে যে সমস্ত বাড়ি বা বহুতলের নকশা (বিল্ডিং প্ল্যান) অনুমোদিত হয়েছিল, সেগুলির নির্মাণকাজ যথাযথ নিয়ম মেনে হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখবে একটি প্রতিনিধিদল। শুভেন্দুর কথায়, “কলকাতা পুর এলাকায় বাণিজ্যিক, জলাশয় বুঝিয়ে হওয়া নির্মাণগুলি আপাতত ৩১ জুলাই পর্যন্ত কাজ বন্ধ থাকবে।”

    নিয়মের আওতা থেকে বাদ

    এই নিয়মের আওতায় পড়বে না হাসপাতাল, দমকল, মেট্রো, সেনার মতো জরুরি পরিষেবা ক্ষেত্রের নির্মাণ কাজ। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু জানান, চলতি বছরের ১৭ জানুয়ারি তারাতলায় ওই বহুতলের নকশার অনুমোদন দেয় পুরসভা। মাত্র ৫ মাসের মাথায় বুধবার ১২টা ৭ মিনিটে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়েছে তারাতলার তিনতলাক গুদাম। ধ্বংসাবশেষের নিচে চাপা পড়ে যান বহু শ্রমিক। খবর পাওয়া মাত্রই একের পর এক মন্ত্রী ঘটনাস্থলে যান। ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ, স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়, পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল ঘটনাস্থলে পৌঁছন। উদ্ধারকাজের প্রতি মুহূর্তের আপডেট নিচ্ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তারপরই তৃণমূল জমানায় পাশ হওয়া প্ল্যান নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে বিশেষ দল গঠনের কথা জানান শুভেন্দু।

    কারা থাকবেন রাজ্যের গঠিত দলে

    মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, কলকাতা পুরসভার তত্বাবধানে একটি বিশেষ কমিটি প্ল্যান খতিয়ে দেখবে। এই প্রতিনিধিদলে থাকবেন রাজ্যের পূর্ত, অসামরিক প্রতিরক্ষা দফতর, দমকল, কলকাতা পুলিশ এবং কলকাতা পুরসভার আধিকারিকেরা। তাঁরা বাড়ির নকশা খতিয়ে দেখে রিপোর্ট দেবেন। যাঁরা নিয়ম মেনে কাজ করছেন, তাঁরা ১ আগস্ট থেকে আবার কাজ শুরু করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন সময় নষ্ট না করে দ্রুত সেনা এবং এনডিআরএফকে ডাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য। এবিষয়ে পুর্বতন সরকারের সেনার সাহায্য নেওয়া নিয়ে সংশয় থাকার ঘটনা নিয়েও কটাক্ষ শোনা গিয়েছে শুভেন্দুর গলায়।

    হাওড়া-বিধাননগরেও এক নিয়ম!

    আপাতত কলকাতার ক্ষেত্রে এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পরবর্তীতে হাওড়া এবং বিধাননগরের ক্ষেত্রেও একই সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে সেই সিদ্ধান্ত তিনি পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের উপর ছেড়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, তারাতলায় যে গুদামের কাঠামো ভেঙে পড়েছে, সেটি পোর্ট ট্রাস্টের জমি। সেই জমি লিজ নিয়েছিলেন বেহরা ব্রাদার্স নামক সংস্থার মালিক শম্ভুনাথ বেহরা। তারাতলার ঘটনায় সরকার কী কী আইনি পদক্ষেপ করব‌ে, হতাহতদের পরিবার কতটা ক্ষতিপূরণ পাবে, তা বিধানসভায় জানাবেন বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে তিনি বলেন, “প্রাথমিক ভাবে কলকাতা পুরসভার ইঞ্জিনিয়ারেরা জানিয়েছেন (গুদামের) ত্রুটিযুক্ত নকশা (প্ল্যান) ছিল। প্রযুক্তিগত বিষয় সম্পর্কে অবহিত মানুষেরা কাজ করছেন।”

    আজ, বৃহস্পতিবার বিধানসভায় বিবৃতি

    তারাতলার ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৫ জনের মারা যাওয়ার খবর মিলেছে। জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে মোট ১৮ জনকে। মোট ২০টি অ্যাম্বুল্যান্স উদ্ধার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। তারাতলা থেকে আহতদের উদ্ধারের পর গ্রিন করিডর করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এসএসকেএম হাসপাতালে। সেখানে আপাতত চিকিৎসাধীন মোট ৮ জন। তাঁরা হলেন দুর্বাশা মাল্লান, মণিচাঁদ কুমার, শাহিদ কুমার, রাজেশ রুইদাস, বিশ্ব প্রকাশ, বোদন মুণ্ডা, রাজেন্দ্র রাও, রামপ্রসাদ চৌধুরী। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী সুমনা সরকার এসএসকেএমে জখমদের চিকিৎসার দিকে নজর রেখেছেন। বিপর্যয়স্থলেও খোলা হয়েছে একটি মেডিক্যাল ক্যাম্প। আজ, বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার সময় বিধানসভায় এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বিবৃতি দেবেন বলে জানান।

  • Bowbazar Blast: বউবাজার বিস্ফোরণ মামলার ‘মাস্টারমাইন্ড’ রশিদের আগাম মুক্তির আবেদন করেছিল মমতার সরকার?

    Bowbazar Blast: বউবাজার বিস্ফোরণ মামলার ‘মাস্টারমাইন্ড’ রশিদের আগাম মুক্তির আবেদন করেছিল মমতার সরকার?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ১৯৯৩ সালের কলকাতার বউবাজার বিস্ফোরণ (Bowbazar Blast) মামলায় দোষী সাব্যস্ত মহম্মদ রশিদ খানের মুক্তির নির্দেশে স্থগিতাদেশ জারি সুপ্রিম কোর্টের। দিল্লি হাইকোর্ট গত ৫ জুন রশিদের সাজা মকুব করে অবিলম্বে মুক্তির নির্দেশ দিলেও, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আবেদনের ভিত্তিতে সেই নির্দেশে অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ দিয়েছে দেশের শীর্ষ আদালত। বিচারপতি পিকে মিশ্র এবং বিচারপতি সঞ্জীব সচদেবার ডিভিশন বেঞ্চ পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে, মামলাটি বিচারাধীন অবস্থায় রশিদ খানকে মুক্তি দিলে রাজ্য সরকারের আপিল কার্যত অর্থহীন হয়ে পড়তে পারে। তাই পরবর্তী শুনানি না হওয়া পর্যন্ত তিনি জেলেই থাকবেন। আগামী ২৮ জুলাই হবে এই মামলার পরবর্তী শুনানি।

    কে এই রশিদ খান?

    পশ্চিমবঙ্গ সরকারের দাবি, রশিদ খান ছিলেন ১৯৯৩ সালের ভয়াবহ বউবাজার বিস্ফোরণের ‘মাস্টারমাইন্ড’। তদন্তে উঠে আসে, বাবরি মসজিদ ভাঙার পর দেশজুড়ে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার আবহে কলকাতায় হিন্দুদের লক্ষ্য করে বিস্ফোরক হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। অভিযোগ অনুযায়ী, মুসলিম যুবকদের দিয়ে বোমা তৈরি করিয়ে কলকাতায় ধারাবাহিক বিস্ফোরণ ঘটানোর পরিকল্পনা ছিল তার। কিন্তু সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হওয়ার আগেই বোমা তৈরির গোপন কারখানায় দুর্ঘটনাবশত বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ৬৯ জনের মৃত্যু হয় এবং জখম হন অন্তত ৪৬ জন। কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় মধ্য কলকাতার একাধিক বহুতল।

    সুপ্রিম কোর্টে রাজ্যের যুক্তি

    পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এসভি রাজু আদালতে যুক্তি দেন, এত বড় মাপের বিস্ফোরণ এবং ব্যাপক প্রাণহানির মামলায় শুধুমাত্র ‘সংশোধনমূলক বিচারব্যবস্থা’র ভিত্তিতে মুক্তি দেওয়া উচিত নয়। তিনি আরও জানান, রাজ্যের সেনটেন্স রিভিউ বোর্ড শেষ পর্যন্ত রশিদ খানের অকালমুক্তির বিরোধিতা করেছিল। এদিকে, রশিদের আইনজীবী এমআর শামশাদ জানান, তার মক্কেল ৩৩ বছরেরও বেশি সময় ধরে কারাবন্দি। বর্তমানে তাঁর বয়স প্রায় ৭৭। তিনি বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন এবং জেলে তাঁর আচরণও ছিল অত্যন্ত ভালো। সুপ্রিম কোর্ট অবশ্য মন্তব্য করে, রশিদ খান সাধারণ কোনও অভিযুক্ত নন, বরং গোটা ষড়যন্ত্রের ‘মাস্টারমাইন্ড’। আদালতের আরও পর্যবেক্ষণ, তাঁর অপরাধের চরিত্র ছিল ‘প্রায় সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের সমতুল’।

    কেন মুক্তির নির্দেশ দিয়েছিল দিল্লি হাইকোর্ট?

    গত ৫ জুন বিচারপতি নীনা বনসল কৃষ্ণার একক বেঞ্চ রশিদের আবেদন মঞ্জুর করে তাঁকে অবিলম্বে মুক্তির নির্দেশ দেয়। দিল্লি হাইকোর্ট স্বীকার করেছিল, বউবাজার বিস্ফোরণ সমাজকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল, এবং এটি কোনও ব্যক্তিগত অপরাধ ছিল না। আদালতের মতে, অবশ্য অপরাধের গুরুত্বই একমাত্র ভিত্তি হতে পারে না যার কারণে কোনও বন্দিকে রিমিশন থেকে বঞ্চিত করা হবে (Rashid Khan)।আদালত উল্লেখ করে, রশিদ খানের বিরুদ্ধে জেলের ভেতরে কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার রেকর্ড নেই। প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারের সুপারিন্টেনডেন্টের দেওয়া চরিত্রগত শংসাপত্রে তাঁর আচরণকে ‘অত্যন্ত ভালো’ বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। তিনি ৯৩ দিন প্যারোলে বাইরে থেকেও নির্ধারিত সময়ে জেলে ফিরে এসেছিলেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ ওঠেনি (Bowbazar Blast)।

    স্বাস্থ্যগত কারণও বিবেচনায়

    দিল্লি হাইকোর্টের রায়ে উল্লেখ করা হয়, রশিদ খান ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, দীর্ঘস্থায়ী বিপাকীয় রোগ, প্রস্টেটের সমস্যা, ছানি-সহ একাধিক বার্ধক্যজনিত রোগে আক্রান্ত। আদালতের মতে, এত দীর্ঘ সময় কারাবাসের পর তাঁর পুনরায় অপরাধে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম। তাই ৩৩ বছরের বেশি সময় ধরে জেলে রাখার আর কোনও যুক্তিসঙ্গত কারণ নেই।

    রশিদের মুক্তির সুপারিশ করেছিল মমতার সরকার!

    রশিদের মুক্তি নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। ২০০৭ সালেই তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার তাঁর অকালমুক্তির প্রক্রিয়া শুরু করেছিল। ২০১৫ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের আমলে পশ্চিমবঙ্গ স্টেট সেনটেন্স রিভিউ বোর্ডও তাঁর মুক্তির সুপারিশ করে। সেই সময় বোর্ড বন্দির বয়স, স্বাস্থ্য, জেলের আচরণ, পুনর্বাসনের সম্ভাবনা, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা এবং পুনরায় অপরাধ করার ঝুঁকি-সহ একাধিক বিষয় বিবেচনা করেছিল। তবে সুপ্রিম কোর্টে চলা ভি শ্রীহরণ মামলার কারণে রাজ্য সরকার সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে পারেনি। কারণ তখন কেন্দ্রীয় আইনে দণ্ডিত বন্দিদের রিমিশন (সাজা মকুব) দেওয়ার ক্ষমতা নিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছিল (Bowbazar Blast)।

    কেন বদলে গেল মমতা সরকারের অবস্থান?

    ২০১৭ এবং ২০১৮ সালে পশ্চিমবঙ্গ স্টেট সেনটেন্স রিভিউ বোর্ড ফের রশিদের রিমিশনের আবেদন খারিজ করে দেয়। কলকাতা পুলিশের আপত্তির ভিত্তিতে বোর্ড জানায়, অপরাধের গুরুত্ব, সামাজিক প্রভাব এবং বিস্ফোরণে রশিদের ভূমিকাকে উপেক্ষা করা সম্ভব নয়। ২০১৯ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রককে নেতিবাচক সুপারিশ পাঠায়। কেন্দ্রও জাতীয় নিরাপত্তা এবং টাডা আইনে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে তাঁর মুক্তির আবেদন প্রত্যাখ্যান করে (Rashid Khan)। তবে দিল্লি হাইকোর্ট পরে পর্যবেক্ষণে জানায়, ২০১৫ সালে মুক্তির সুপারিশ করার পর রশিদের বিরুদ্ধে নতুন কোনও নেতিবাচক তথ্য বা অসদাচরণের অভিযোগ ওঠেনি। ফলে পরবর্তী সিদ্ধান্তকে আদালত ‘পরিবর্তিত অবস্থান’ বলে উল্লেখ করে।

    বউবাজার বিস্ফোরণ

    ১৯৯৩ সালের ১৬ মার্চের রাত। মধ্য কলকাতার বউবাজার এলাকার বিবি গাঙ্গুলি স্ট্রিটের একটি ভবনে আচমকা ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। প্রথমে একে দুর্ঘটনা বলে মনে হলেও, পরে তদন্তে জানা যায়, বিস্ফোরক তৈরির একটি গোপন কারখানার অস্তিত্ব (Bowbazar Blast)।তদন্তকারীদের দাবি, রশিদের নির্দেশেই তাঁর সহযোগী মহম্মদ খালিদ নাইট্রোগ্লিসারিন-সহ বিভিন্ন রাসায়নিক সংগ্রহ করতেন। সেই উপকরণ দিয়ে বোমা ও গ্রেনেড তৈরি করা হচ্ছিল। রশিদ পরিচালিত অবৈধ সাট্টার আড্ডাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হত। গভীর রাত পর্যন্ত চলা কার্যকলাপের সুযোগে বিস্ফোরক আনা-নেওয়া এবং বোমা তৈরির কাজ চলত। অভিযোগ, এগুলি ভবিষ্যতে সাম্প্রদায়িক উদ্দেশ্যে সন্ত্রাসমূলক হামলায় ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হচ্ছিল। কিন্তু বিস্ফোরক মজুত এবং বোমা তৈরির সময় অসাবধানতাবশত পুরো কারখানাটিই উড়ে যায় (Rashid Khan)।

    হতাহত, ধ্বংস একাধিক ভবন

    বিস্ফোরণের অভিঘাতে কেঁপে ওঠে গোটা তল্লাট। দুটি বহুতল ভবন হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে, নিদারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় আশপাশের আরও বেশ কয়েকটি বাড়ি। সরকারি হিসেব অনুযায়ী, ঘটনায় ৬৯ জনের মৃত্যু হয়, জখম হন অন্তত ৪৬ জন। উদ্ধারকাজে নেমেছিল পুলিশ, দমকল এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। সরু রাস্তা ও ধ্বংসস্তূপের কারণে উদ্ধার অভিযান হয়ে পড়েছিল অত্যন্ত কঠিন (Bowbazar Blast)।

    বোমা কারখানা

    ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরকের অবশিষ্টাংশ, তার, রাসায়নিক উপাদান এবং বোমা তৈরির সরঞ্জাম তদন্তকারীদের সন্দেহ আরও জোরালো করে। পরে মামলায় ভারতীয় দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারা, বিস্ফোরক আইন এবং টাডা (TADA)-এর একাধিক ধারা যুক্ত করা হয়।প্রসিকিউশনের দাবি ছিল, রশিদ খান প্রকাশ্যে বলেছিলেন যে তিনি মুসলিম সহযোগীদের মাধ্যমে কলকাতার হিন্দুদের লক্ষ্য করে হামলা চালাতে চান। বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পর সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই বক্তব্যকে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে আদালতে তুলে ধরা হয়। শেষমেশ ২০০১ সালে বিশেষ টাডা আদালত রশিদ ও তাঁর সহযোগীদের দোষী সাব্যস্ত করে। পরবর্তী কালে সুপ্রিম কোর্টও সেই সাজাই বহাল রাখে।

    অতঃকিম?

    বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের সামনে মূল প্রশ্ন হল, ৬৯ জনের মৃত্যুর জন্য দায়ী বলে বিবেচিত এবং বিস্ফোরণ চক্রের ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে চিহ্নিত একজন টাডা দণ্ডিতকে ৩৩ বছরের কারাবাসের পর রিমিশন দেওয়া কতটা আইনসঙ্গত এবং যুক্তিযুক্ত। সুপ্রিম কোর্টের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত কারাগারেই থাকবেন (Rashid Khan) রশিদ। আগামী ২৮ জুলাইয়ের শুনানির দিকে নজর থাকবে আইনজ্ঞ, রাজনৈতিক মহল এবং বউবাজার বিস্ফোরণের নিহতদের পরিবারগুলির (Bowbazar Blast)।

     

  • West Bengal: সিভিক ভলান্টিয়ারদের নিয়ে বড়সড় পর্যালোচনা, ৯০ দিনের মধ্যে যোগ্যতা-নিয়োগ প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখার নির্দেশ

    West Bengal: সিভিক ভলান্টিয়ারদের নিয়ে বড়সড় পর্যালোচনা, ৯০ দিনের মধ্যে যোগ্যতা-নিয়োগ প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখার নির্দেশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের সিভিক ভলান্টিয়ারদের নিয়োগ (Civic Volunteer Recruitment), যোগ্যতা এবং কর্মদক্ষতা নিয়ে বড়সড় পর্যালোচনার পথে রাজ্য সরকার (West Bengal)। স্বরাষ্ট্র দফতরের তরফে জারি করা হয়েছে নয়া নির্দেশিকা। আগামী ৯০ দিনের মধ্যে রাজ্যের সমস্ত সিভিক ভলান্টিয়ারের নিয়োগ প্রক্রিয়া, যোগ্যতা এবং গত দু’বছরের কাজের রেকর্ড খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    ঝাড়াই বাছাই শুরু (West Bengal)

    জানা গিয়েছে, নিয়োগের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম মেনে প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছিল কি না, তা বিস্তারিতভাবে যাচাই করা হবে। পাশাপাশি, নিয়োগ বা বদলির ক্ষেত্রে কোনও রাজনৈতিক সুপারিশ প্রভাব ফেলেছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হবে। ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে নিয়োগ বা বদলি করা হয়েছে কি না, সেই বিষয়েও বিশেষ নজর দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুধু নিয়োগ প্রক্রিয়াই নয়, গত দু’বছরে সংশ্লিষ্ট সিভিক ভলান্টিয়ারদের কর্মদক্ষতা, উপস্থিতি, দায়িত্ব পালনের মান এবং শারীরিক সক্ষমতাও মূল্যায়ন করা হবে। দীর্ঘদিন কাজে অনুপস্থিত থাকা কর্মীদেরও চিহ্নিত করা হবে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর। এ প্রসঙ্গে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, “সিভিক ভলান্টিয়ারদের নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্যতা, কর্মক্ষমতা এবং শারীরিক সক্ষমতা যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি।” তাঁর অভিযোগ, অতীতে বহু ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নিয়োগ হয়েছে।

    ‘বিট সিস্টেমে’র মাধ্যমে কর্মী নিয়োগ

    মন্ত্রীর দাবি, বিভিন্ন সরকারি দফতরে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি কর্মী নিয়োগ করা হয়েছে। তাঁর কথায়, “একটি কাজের জন্য যেখানে পাঁচজন কর্মী প্রয়োজন, সেখানে কয়েকশো লোককে নিয়োগ করা হয়েছে। অনেকেই নিয়মিত দফতরে আসেন না, অথচ সরকারি অর্থ ব্যয় হচ্ছে।” তিনি আরও জানান (West Bengal), ইতিমধ্যেই ‘বিট সিস্টেমে’র মাধ্যমে কর্মী নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত কর্মী রাখা যাবে না এবং যারা দীর্ঘদিন কাজে অনুপস্থিত, তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রসঙ্গত, বাজেট পেশের পর সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও সিভিক ভলান্টিয়ারদের নিয়ে ‘ঝাড়াই-বাছাইে’র ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, এই ব্যবস্থায় বহু অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে, এবং সেই কারণেই পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনার প্রয়োজন। স্বরাষ্ট্র দফতরের নয়া নির্দেশিকার জেরে রাজ্যের সিভিক ভলান্টিয়ারদের নিয়োগ (Civic Volunteer Recruitment) ও কর্মপদ্ধতি নিয়ে প্রশাসনিক স্তরে বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলেই ধারণা সংশ্লিষ্ট মহলের (West Bengal)।

     

  • Taratala Godown Collapse: ধ্বংসস্তূপের নীচ থেকে ভেসে আসছে আর্তনাদ! তারাতলায় একটি কারখানার লোহার ছাদ ভেঙে ভয়াবহ দুর্ঘটনা

    Taratala Godown Collapse: ধ্বংসস্তূপের নীচ থেকে ভেসে আসছে আর্তনাদ! তারাতলায় একটি কারখানার লোহার ছাদ ভেঙে ভয়াবহ দুর্ঘটনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তারাতলায় একটি কারখানার (Taratala Godown Collapse) শেড ভেঙে বিপত্তি। ভেঙে পড়ে লোহার বিম, টিন। আহত হয়েছেন একাধিক। আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কারোর হাত থেঁতলে গিয়েছে, কারোর মাথা। অনেকেরই অবস্থা আশঙ্কাজনক। অসমর্থিত সূত্রে খবর, এখনও পর্যন্ত ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। ৪০-৪৫ জন ভিতরে আটকে রয়েছেন বলে খবর। সূত্রের দাবি, লোহার কাঠামোর উপর কংক্রিটের স্তর চাপানো হয়েছিল। স্থানীয়েরা জানাচ্ছেন, সকাল থেকেই কাঠামোটি নড়ছিল। তা পরখ করতে গিয়েছিলেন কয়েক জন শ্রমিক। তখনই আচমকা ছাদ ধসে পড়ে। নীচে সকলে চাপা পড়ে যান।

    কেন ভেঙে পড়ল এই গোডাউন?

    প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে, লোহার বীম বা পিলারের ধারণ ক্ষমতা ছিল না। বিপুল পরিমাণ কংক্রিটের ঢালাই ধরে রাখা বিপজ্জনক হয়ে পড়ে। টিনের উপর কংক্রিটের ঢালাই করে তৈরি হচ্ছিল এই গোডাউনের ছাদ। সেটি উপরে থেকে সরাসরি নেমে দুমড়ে ভিতরে ঢুকে গিয়েছে। লোহার বীমের উপর এই ঢালাই চাপানো হয়েছিল, তা ভার বহন করতে পারেনি। তাই দুমড়ে নীচে ঢুকে এসেছে। যাঁরা নীচে ছিলেন, তাঁদের চাপা দিয়ে দিয়েছে সেটি। ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন রাকেশ সিং। তিনি বলেন, “পোর্ট ট্রাস্ট চেয়ারম্যান থেকে লিজ নিয়েছিলেন শম্ভু বেরা বলে একজন। কী বানানো হচ্ছিল, কী সিকিউরিটি ছিল, সেটা জানি না। তবে ৫০-৬০ জন শ্রমিক এর মধ্যে রয়েছেন।”

    কাদের অনুমতিতে বেআইনি নির্মাণ?

    স্থানীয় সূত্রে খবর, তারাতলার গুদামটিতে নির্মাণের কাজ চলছিল গত দেড় বছর ধরে। প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, এটি বন্দর কর্তৃপক্ষের জমি। তা একটি চা সংস্থাকে লিজে দেওয়া হয়েছে। গুদামের ঠিকাদারও ভিতরে আটকে পড়েছেন বলে খবর। কয়েক হাজার বর্গফুট জুড়ে বিস্তৃত এই গুদামের ভিতরে একটি জায়গায় ছিল শ্রমিকদের থাকার ব্যবস্থা। এদিকে, ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিজেপি নেতা রাকেশ সিং অভিযোগ করেন, দিনের পর দিন এলাকায় বেআইনি নির্মাণ চলেছে। অবিলম্বে ঠিকাদার সংস্থার কর্তাকে গ্রেফতার করার দাবিও জানিয়েছেন তিনি। ইঞ্জিনিয়াররাও জানাচ্ছেন, এভাবে নির্মাণ করার ক্ষেত্রে কার অনুমোদন ছিল, সেটাও খতিয়ে দেখা উচিত।

    তৃণমূল কাউন্সিলরকে ঘাড়ধাক্কা

    দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন অগ্নিমিত্রা পাল, ইন্দ্রনীল খাঁ, রয়েছেন কলকাতা পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও ঘটনাস্থলে যাচ্ছেন। কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ, পুলিশের ডিসি-সহ একাধিক উচ্চপদস্থ আধিকারিক ঘটনাস্থলে রয়েছেন। তৃণমূল কাউন্সিলর সেখানে পৌঁছতেই তাঁকে ধাক্কা মেরে বের করে দেওয়া হয়। জানা যাচ্ছে, দেড় বছর ধরে নির্মাণকাজ চলছিল। আর তাতে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ। অভিযুক্ত ৮০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আনোয়ার খান ফিরহাদ হাকিমের ঘনিষ্ঠ বলে একাংশের দাবি।

    কাঠামোর নীচ থেকে মানুষের আর্তনাদ

    তারাতলায় (Taratala Godown Collapse) ভেঙে পড়া গুদামের ভিতর আটকে রয়েছেন এখনও বেশ কয়েক জন। তাঁরা সংখ্যায় কত, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে গুদামের লোহা এবং কংক্রিটের কাঠামোর নীচ থেকে এখনও মানুষের আর্তনাদ শোনা যাচ্ছে। ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে সেনা। উদ্ধারকাজে হাত লাগিয়েছে তারা। আগে থেকেই ঘটনাস্থলে রয়েছেন দমকল এবং জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলাকারী দল বা এনডিআরএফ-এর সদস্যেরা। উদ্ধারকাজে গতি আনতে একাধিক ক্রেন নিয়ে যাওয়া হয়েছে ঘটনাস্থলে। ৫০ টন পর্যন্ত ওজন তুলতে পারে, এমন হাইড্রোলিক ক্রেনও নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ওই ক্রেনের সাহায্যে ভেঙে পড়া কাঠামোটিকে আটকে রাখা হয়েছে, যাতে সেটি নতুন করে আর ধসে যেতে না পারে। ড্রোন উড়িয়ে চলছে উদ্ধারকাজ।

    দ্রুতগতিতে চলছে উদ্ধার

    প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে, গুদামটি প্রায় ২০ হাজার বর্গফুট এলাকার উপর ছিল। মূল কাঠামোটির ভিতর কোনও দেওয়াল বা আলাদা কক্ষ না-থাকায় গোটা অংশটাই এক সঙ্গে ভেঙে পড়ে। প্রথমে ভেঙে পড়া কাঠামোর পিছন দিকে একটি জায়গা দিয়ে মাটি কেটে ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করেছিলেন উদ্ধারকারীরা। কিন্তু সেই চেষ্টা সফল হয়নি। তার পর হাইড্রলিক মই বেয়ে উপরে উঠেও ভিতরে আটকে পড়া মানুষজনকে উদ্ধারের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু ঢালাইয়ের পুরু স্তর এবং লোহার বিম ভেদ করতে গিয়ে বেগ পেতে হয়। তবে কিছু অংশ ছিদ্র করে ভিতরে হাওয়া চলাচলের বন্দোবস্ত করা হয়। ভিতরে আটকদের চিহ্নিত করতেও কিছুটা সুবিধা হয়।

    নবান্নের তরফে খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম 

    এখনও পর্যন্ত ভেঙে পড়া গুদামের ভিতর থেকে ১৪ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের গুরুতর জখম অবস্থায় পাঠানো হয়েছে এসএসকেএম হাসপাতালে। বাকিদের সন্ধানে স্নিফার ডগ নিয়ে গিয়েছে পুলিশ। ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলে বড় জেনারেটর নিয়ে যাওয়া হয়েছে। রাতেও উদ্ধারকাজ চলতে পারে, এমনটা ধরে নিয়েই বিদ্যুতের জোগানের বন্দোবস্ত করে রাখছেন উদ্ধারকারীরা। ঘটনাস্থলে তৈরি করা হচ্ছে অস্থায়ী মেডিক্যাল ক্যাম্প। রয়েছে একাধিক অ্যাম্বুল্যান্স। আহতদের উদ্ধারের সঙ্গে সঙ্গেই যাতে হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া যায়, সময় যাতে নষ্ট না হয়, তার জন্য অ্যাম্বুল্যান্স প্রস্তুত। নবান্নের তরফে একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। চালু করা হয়েছে হেল্পলাইন নম্বরও (1070, 8697981070, 033 22143526 এবং 033 22535185)। মুখ্যমন্ত্রী গোটা ঘটনার উপর নজর রাখছেন।

  • Suvendu Adhikari: ‘বছরে ১১০০ কোটি ক্যামাক স্ট্রিট হয়ে দুবাই’! বিধানসভায় বিস্ফোরক শুভেন্দু

    Suvendu Adhikari: ‘বছরে ১১০০ কোটি ক্যামাক স্ট্রিট হয়ে দুবাই’! বিধানসভায় বিস্ফোরক শুভেন্দু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কথা মতোই কাজ করছেন রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি মেনেই বাংলাকে দুর্নীতি মুক্ত করতে বদ্ধপরিকর বিজেপিও। দায়িত্ব নেওয়ার পর শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, দুর্নীতি থেকে অপরাধ, সবকিছুর ফাইল খুলবেন তিনি। সেই মোতাবেক কাজও হচ্ছে। খুলছে একের পর এক দুর্নীতির ফাইল। গ্রেফতরাও হয়েছেন তৃণমূলের বহু নেতা, কাউন্সিলর ও প্রাক্তন বিধায়ক। আর মঙ্গলবার বিধানসভায় দাঁড়িয়ে তৎকালীন তৃণমূল সরকার কোন কোন প্রকল্পে দুর্নীতি করেছে, তার তথ্য তুলে ধরলেন মুখ্যমন্ত্রী।

    বীরভূমের পাথর খাদান কেলেঙ্কারি

    বীরভূমের পাথর খাদান থেকে বেআইনিভাবে পাথর পাচার করে কীভাবে বছরে প্রায় ১১০০ থেকে ১২০০ কোটি টাকা লুট হয়ে ‘ক্যামাক স্ট্রিট’ হয়ে সরাসরি দুবাইয়ে চলে গেছে, এদিন বিধানসভায় তার পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসেব দেন শুভেন্দু অধিকারী। নিজের দাবির সপক্ষে তথ্য দিয়ে তিনি বলেন, বীরভূমের পাথর খাদান থেকে আগের জমানায় বছরে যেখানে মাত্র ৬০ কোটি টাকা রাজস্ব আসত, সেখানে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার মাত্র দেড় মাসের মধ্যেই তা বেড়ে ৮৩ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। এই রাজস্ব ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ছুঁয়ে ফেলবে। আর এই হিসেব কষেই মুখ্যমন্ত্রী প্রমাণ করতে চান যে, প্রতি বছর বাকি ১১০০ কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে সোজা পৌঁছে যেত ক্যামাক স্ট্রিট ও দুবাইয়ে।

    লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে দুর্নীতি

    সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি হয়েছে তৃণমূলের জনপ্রিয় প্রকল্প লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকায়। শুধু মহিলা নয়, পুরুষরাও পেয়েছেন টাকা। তিনি জানান, লক্ষ্ণীর ভাণ্ডার প্রকল্পে প্রায় ৩০ লক্ষ ভুয়ো উপভোক্তা পাওয়া গেছে। অর্থাৎ, ভুয়ো নামের আড়ালে বছরে ৫৪০০ কোটি টাকা শুধু এই একটি প্রকল্প থেকেই লুট করা হয়েছে। নবান্নের চোদ্দ তলা সব জেনেবুঝেই এই বিপুল পরিমাণ গরিবের টাকা ও সাধারণ মানুষের করের টাকা লুট হতে দিয়েছে বলে তোপ দাগেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী জানান, সেই সরকার যে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার চালু করেছে, কাদের জন্য চালু করেছেন? পুরুষদের পাওয়ার কথা? আপনি কতজন পুরুষকে দিয়েছেন? জঙ্গিপুর ব্লক, মুর্শিদাবাদ ও বহরমপুর ব্লক, ডোমকল ব্লক, এখানে ভুয়ো কত দেখুন। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ৫৬৮টি অ্যাকাউন্ট। যার মধ্যে ডোমকলে ৫৩৭ আর ৩১ বহরমপুরে।

    আই-প্যাক-এও কোটি কোটি টাকার ‘লুট’

    এদিন আই-প্যাক (I-PAC)-এর প্রসঙ্গও টেনে আনেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি অভিযোগ করেন, পূর্বতন সরকারের সব দফতর থেকেই চুরি হয়েছে। জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতরের এক ঠিকাদার কাকদ্বীপের স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার অ্যাকাউন্ট থেকে সরাসরি আই-প্যাকের অ্যাকাউন্টে ১০ কোটি টাকা ট্রান্সফার করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, এই সব কিছুরই তদন্ত হবে।

    স্কলারশিপ-এও দুর্নীতি

    মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, ‘মাইনোরিটি স্কলারশিপ’-এও দুর্নীতি হয়েছে। ৩০৭৬ ভুয়ো অ্যাকাউন্ট-এর মাধ্যমে হয়েছে। এলপিজি বেনিফিট – প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনা ২৯৮ টি অ্যাকাউন্ট ভুয়ো। এখানেও দুর্নীতি করেছে তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, বার্ধক্যভাতার টাকাতেও দুর্নীতি করেছে তৃণমূল। ৪৮ ভুয়ো অ্যাকাউন্টে ঢুকত টাকা। শিক্ষাশ্রী এসসি, এসটি-তে ৭১৫ টি ভুয়ো অ্যাকাউন্টে ঢুকত টাকা। মেধাশ্রী ওবিসি-তে ২০৪ অ্যাকাউন্টে ঢুকত টাকা। ‘তপশিলি বন্ধু’ প্রকল্পের ৬৫৩০ অ্যাকাউন্টে ঢুকত টাকা। ‘জয় জোহর’ (Jai Johar) প্রকল্পে, আদিবাসীদের টাকাও তুলে নিয়েছে এরা। ২২৩৫ অ্যাকাউন্টে ঢুকত টাকা। ন্যাশনাল স্কলারশিপ এসসি, এসটি ও ওবিসি-তে ৭৯টি অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকত।

    পূর্বতন সরকারের আচরণ

    মুখ্যমন্ত্রীর ভাষণের বড় অংশ জুড়ে ছিল, বিগত সরকার তাঁর সঙ্গে কী আচরণ করেছে। ২০২১ সালের ভোট পরবর্তী হিংসার কথা মনে করিয়ে তিনি বলেন, সেই সময় মৃত্যু হয়েছিল ৫৭ জনের। এফআইআর হয়েছিল ২০০০-এর বেশি। সেখানে এ বছর পুলিশের করা স্বতপ্রবৃত্ত এফআইআর মিলিয়ে অভিযোগের সংখ্যা ২৬২। দিনের পর দিন বিরোধী দলনেতা হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে কত মামলা হয়েছিল, কত রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বাধা দেওয়া হয়েছিল, সেই প্রসঙ্গও উঠে আসে তাঁর ভাষণে। পাল্টা ক্ষমতায় এসে সদ্য প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতার ওয়াই চ্যানেলে ধর্নায় বসা নিয়ে তিনি যে কোনও বাধা দেননি, সেই কথাও মনে করিয়ে দেন।

    বণিকসভাতেও দুর্নীতি

    মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেছেন যে, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে বাণিজ্য সম্মেলনের জন্য ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান চেম্বার্স অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি বা সংক্ষেপে ফিকিকে (FICCI) নিয়ম বহির্ভূতভাবে ৩২৪.৭৩ কোটি টাকা প্রদান করা হয়েছিল। তাঁর দাবি, ‘‘বিজিবিএসের নথি দেখলেই বোঝা যাবে, সরকার ফিকিকে ৩২৪.৭৩ কোটি টাকা দিয়েছে। প্রয়োজনে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর স্বাক্ষরও দেখা যেতে পারে। তবে এটি পুরো ঘটনার কেবলমাত্র হিমশৈলের চূড়া মাত্র।’’ একইসঙ্গে তিনি জানান, অভিযোগগুলির তদন্তে একটি কমিশন গঠন করা হয়েছে। এই কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু এবং সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এডিজি পদমর্যাদার আইপিএস কে জয়রামন। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, মনরেগা, আবাস যোজনা, জল জীবন মিশন এবং লক্ষ্মীর ভান্ডার-সহ বিভিন্ন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ এই কমিশনের সামনে জমা পড়বে। তাঁর কথায়, ‘‘যাঁরা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে।’’

    অনু্প্রবেশ নিয়ে ফের সরব শুভেন্দু

    মঙ্গলবার ফের অনুপ্রবেশ রোধে নিজের সরকারের কড়া অবস্থানের কথা জানান শুভেন্দু। বিএসএফ-কে কত জমি তুলে দেওয়া হয়েছে, সেই খতিয়ান তুলে ধরেন। এখনও পর্যন্ত ১০ হাজার অনুপ্রবেশকারীকে চিহ্নিত করে পুশব্যাক করা হয়েছে বা ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে বিধানসভায় জানান শুভেন্দু। তাঁর কথায়, ‘‘সিএএ-র আওতায় যাঁরা আসেননি, বাকি যাঁরা ঢুকে পড়েছেন, এখনও অবধি আমি ১০ হাজার জনকে বার করেছি। আমার কাছে ১২টা হোল্ডিং সেন্টারে আরও ১৮০০ জন অপেক্ষা করছেন। রোজ ও পারে পাঠাচ্ছি। থাকবে না কেউ।’’ তিনি আরও জানান যে, সীমান্তে বেড়া তৈরির কাজের জন্য ইতিমধ্যেই বিএসএফ-কে ১৪২.৭৯ একর জমি হস্তান্তর করা হয়েছে এবং আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই ৬০০ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকার কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কাজ সম্পন্ন হবে। নির্বাচনের প্রচারপর্বে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মুখে যে স্লোগান শোনা গিয়েছিল যে, মঙ্গলবার শুভেন্দুর মুখেও শোনা গেল সেই কথা, ‘সবকা সাথ, সব কা বিকাশ’।

  • Rashid Khan: বউবাজার বিস্ফোরণ মামলায় সাজাপ্রাপ্ত রশিদ খানের মুক্তিতে স্থগিতাদেশ সুপ্রিম কোর্টের

    Rashid Khan: বউবাজার বিস্ফোরণ মামলায় সাজাপ্রাপ্ত রশিদ খানের মুক্তিতে স্থগিতাদেশ সুপ্রিম কোর্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ১৯৯৩ সালের কলকাতার বউবাজার বিস্ফোরণ (Bowbazar Blast) মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ৭৭ বছর বয়সি মহম্মদ রশিদ খানের (Rashid Khan) আগাম মুক্তির নির্দেশে স্থগিতাদেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আবেদনের ভিত্তিতে বিচারপতি পিকে মিশ্র এবং বিচারপতি সঞ্জীব সচদেবের ডিভিশন বেঞ্চ অন্তর্বর্তীকালীন এই নির্দেশ জারি করে দিয়েছে। গত ৫ জুন রশিদ খানের দীর্ঘ ৩৩ বছরেরও বেশি কারাবাস, জেলে তাঁর আচরণ এবং সংশোধনমূলক বিচারব্যবস্থার নীতিকে গুরুত্ব দিয়ে আগাম মুক্তির পক্ষে রায় দিয়েছিল দিল্লি হাইকোর্ট। সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় পশ্চিমবঙ্গ সরকার।

    বউবাজার বিস্ফোরণ মামলা (Rashid Khan)

    মামলার শুনানিতে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এসভি রাজু প্রশ্ন তোলেন, যে বিস্ফোরণে ৭০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু, শতাধিক মানুষ জখম এবং বহু ভবন ধ্বংস হয়েছিল, সেই মামলায় কীভাবে শুধুমাত্র সংশোধনমূলক তত্ত্বের ভিত্তিতে মুক্তির নির্দেশ দেওয়া যায়? তিনি জানান, রাজ্যের স্টেট সেনটেন্স রিভিউ বোর্ড (SSRB) রশিদ খানের মুক্তির বিরুদ্ধেই মত দিয়েছিল। রশিদের পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী এমআর শামশাদ জানান, তাঁর মক্কেল দীর্ঘদিন ধরে কারাবন্দি এবং সহ-অভিযুক্ত পন্নালাল জয়সওয়ারা ২০১৪ সালেই রেমিশন পেয়েছিলেন। এর পাশাপাশি তিনি আদালতের নজরে আনেন রশিদের বার্ধক্য ও শারীরিক অসুস্থতার বিষয়টিও (Rashid Khan)।

    রশিদ খানই মাস্টারমাইন্ড

    সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ, রশিদ খান ওই ঘটনার মাস্টারমাইন্ড ছিলেন। আদালত আরও জানিয়েছে, তাঁকে যদি মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তির আগে মুক্তি দেওয়া হয়, তাহলে পরবর্তী শুনানি অর্থহীন হয়ে পড়তে পারে। প্রসঙ্গত, ২০০১ সালে বিশেষ টাডা আদালত রশিদ খান-সহ পাঁচজনকে দোষী সাব্যস্ত করে। ভারতীয় দণ্ডবিধি (IPC), অস্ত্র আইন এবং টাডা আইনের অধীনে তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয় (Bowbazar Blast)। পরবর্তীকালে কলকাতা হাইকোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্ট উভয় আদালতই বহাল রাখে সেই সাজা (Rashid Khan)।

     

  • Swami Pradiptananda: পশ্চিমবঙ্গে রাস্তা-গুরুত্বপূর্ণ জায়গার নামবদল খতিয়ে দেখতে বিশেষ কমিটি, নেতৃত্বে কার্তিক মহারাজ

    Swami Pradiptananda: পশ্চিমবঙ্গে রাস্তা-গুরুত্বপূর্ণ জায়গার নামবদল খতিয়ে দেখতে বিশেষ কমিটি, নেতৃত্বে কার্তিক মহারাজ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন রাস্তা, এলাকা এবং গুরুত্বপূর্ণ জায়গার নামবদল সংক্রান্ত প্রস্তাব পর্যালোচনার জন্য বিশেষ কমিটি গঠনের কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। মঙ্গলবার (Swami Pradiptananda) বিধানসভায় রাজ্যপালের ভাষণের ওপর ধন্যবাদজ্ঞাপক প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে (Place Renaming) তিনি জানান, পদ্মশ্রী প্রাপক স্বামী প্রদীপ্তানন্দ মহারাজ (কার্তিক মহারাজ) এই কমিটির নেতৃত্ব দেবেন।

    কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী?

    মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আপনার প্রস্তাব গ্রহণ করে পদ্মশ্রী স্বামী প্রদীপ্তানন্দ মহারাজের নেতৃত্বে নতুন করে নামকরণ মূল্যায়নের জন্য একটি কমিটি আমি ঘোষণা করছি। আপনারাই বলেছেন মূল্যায়ন।” তিনি জানান, ভবিষ্যতে কোনও রাস্তা, এলাকা বা গুরুত্বপূর্ণ জায়গার নাম পরিবর্তন কিংবা নয়া নামকরণের প্রস্তাব থাকলে তা এই কমিটির কাছেই জমা দেওয়া যাবে। পালাবদলের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “পদ্মশ্রী স্বামী প্রদীপ্তানন্দ মহারাজ একটি কমিটির নেতৃত্ব দেবেন। যাঁর যা প্রস্তাব আছে সেখানে জমা দেবেন।” বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বাংলার ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের প্রসঙ্গ টানেন। সেই সূত্রেই তিনি সুরাবর্দি অ্যাভেনিউয়ের নাম পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, “আমি যখন সেভেন পয়েন্ট দিয়ে যাতায়াত করেছি, তখন দেখতাম সুরাবর্দি অ্যাভেনিউ লেখা ছিল। সুরাবর্দির নাম থাকবে না।”

    কালামের প্রসঙ্গ টানলেন মুখ্যমন্ত্রী

    মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দেন, স্বাধীন ভারতে অত্যাচার, হিংসা বা ঔপনিবেশিক শাসনের সঙ্গে যুক্ত বিতর্কিত ব্যক্তিদের নামে কোনও রাস্তা বা গুরুত্বপূর্ণ জায়গার নাম থাকা উচিত নয়। প্রকৃত দেশভক্ত ও রাষ্ট্রনেতাদের যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের পক্ষেও সওয়াল (Swami Pradiptananda) করেন তিনি। উদাহরণ হিসেবে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি এপিজে আবদুল কালামের নাম উল্লেখ করে শুভেন্দু বলেন, “যদি মনে করেন এপিজে আবদুল কালামের মতো কোনও প্রকৃত দেশভক্তকে সম্মান জানানোর প্রয়োজন আছে, তাহলে তথ্য দেবেন, মর্যাদা দেওয়া হবে।” রাজ্য সরকারের এহেন উদ্যোগের ফলে ভবিষ্যতে (Place Renaming) পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জায়গার নামকরণ ও নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট মূল্যায়ন প্রক্রিয়া চালু হতে পারে (Swami Pradiptananda) বলেই অনুমান প্রশাসনিক মহলের।

     

LinkedIn
Share