Category: রাজ্য

Get West Bengal News, Bengali Breaking News, Latest News in Bengali only from মাধ্যম | Madhyom, Bengali News Portal for সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর

  • Suvendu Adhikari: রাজ্যে জরুরি পরিষেবায় সাড়া দিতে সময় কমানোর লক্ষ্যমাত্রা শুভেন্দুর, ৯০০ গাড়ি নামাল পুলিশ

    Suvendu Adhikari: রাজ্যে জরুরি পরিষেবায় সাড়া দিতে সময় কমানোর লক্ষ্যমাত্রা শুভেন্দুর, ৯০০ গাড়ি নামাল পুলিশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছতে হবে রাজ্যের পুলিশকে। বর্তমানে জরুরি পরিষেবায় সাড়া দিতে পুলিশের গড়ে প্রায় ৯০ মিনিট সময় লাগে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। সেই সময় কমিয়ে আনার লক্ষ্যে নতুন জরুরি সহায়তা ব্যবস্থা চালু করল রাজ্য সরকার। শনিবার কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে এক অনুষ্ঠানে জরুরি সাড়া প্রদান সহায়তা ব্যবস্থা চালু করেন মুখ্যমন্ত্রী। এই ব্যবস্থার অধীনে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে ৯০০টি যানবাহন (Police Reform)। তার মধ্যে রয়েছে ৪৫০টি চারচাকার গাড়ি এবং সমসংখ্যক মোটরবাইক।

    পুলিশের কর্মদক্ষতা (Suvendu Adhikari)

    অনুষ্ঠানে কলকাতা পুলিশ ও রাজ্য পুলিশের কর্মদক্ষতার তুলনা টেনে শুভেন্দু বলেন, কলকাতা পুলিশের হাতে বেশি সংখ্যক কর্মী ও যানবাহন থাকায় তারা ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যে জরুরি পরিস্থিতিতে সাড়া দিতে পারে। রাজ্য পুলিশের ক্ষেত্রেও একই রকম দ্রুত পরিষেবা নিশ্চিত করার উপর জোর দেন তিনি।

    পুলিশ আধিকারিকদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র ও গুজরাট ছয় থেকে ১০ মিনিটের মধ্যে জরুরি পরিস্থিতিতে সাড়া দেয়। বাংলা কেন তা করতে পারবে না?” দ্রুত পরিষেবা দেওয়ার জন্য পুলিশকর্মীদের আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

    মুখ্যমন্ত্রী জানান, ৯০০টি যানবাহন দিয়ে এই উদ্যোগের সূচনা হল মাত্র। আগামী এক বছরের মধ্যে রাজ্যের প্রতিটি থানায় চারটি করে মোটরবাইক এবং চারটি করে গাড়ি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এই যানবাহন চালানোর জন্য ১,৫০০ জন চালক নিয়োগের প্রস্তাবেও রাজ্য মন্ত্রিসভা অনুমোদন দিয়েছে বলে জানান তিনি।

    থানার পরিকাঠামো উন্নয়নেও জোর

    রাজ্যের একাধিক থানার বেহাল পরিকাঠামো নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, অনেক থানায় ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধার অভাব রয়েছে। রক্ষণাবেক্ষণের অবস্থাও সন্তোষজনক নয়। কলকাতার ওয়াটগঞ্জ ও একবালপুর থানা পরিদর্শনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, ওই থানাগুলির ভবন প্রায় একশো বছরের পুরনো বলে মনে হয়েছে। পাশাপাশি, সেখানে পর্যাপ্ত নজরদারি ক্যামেরা এবং অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রেরও অভাব রয়েছে। এ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এই সমস্ত কিছুরই পরিবর্তন করতে হবে।”

    উপনির্বাচনে শান্তি বজায় রাখায় পুলিশের প্রশংসা

    সম্প্রতি রাজ্যের দু’টি বিধানসভা আসনে উপনির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়ায় পুলিশকর্তাদের প্রশংসা করেন মুখ্যমন্ত্রী। রক্তপাত ছাড়া ভোটপর্ব শেষ করার জন্য পুলিশকর্তাদের কৃতিত্ব দেন তিনি। রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তা এবং ভারতীয় পুলিশ পরিষেবার আধিকারিক জাভেদ শামিম-সহ একাধিক পদস্থ আধিকারিকের ভূমিকার প্রশংসা করেন শুভেন্দু (Suvendu Adhikari)।

    জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশের সঙ্গে অসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ এবং বিপর্যয় মোকাবিলা কর্তৃপক্ষের আরও ভালো সমন্বয়ের উপরেও জোর দেন তিনি। তাঁর মতে, বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো গেলে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ করা সম্ভব হবে।

    ১১ হাজারেরও বেশি কনস্টেবল নিয়োগ

    পুলিশে নিয়োগ প্রসঙ্গেও বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, আগের সরকারের তুলনায় বর্তমান সরকার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এনেছে। দুর্গাপুজোর আগেই রাজ্যে ১১ হাজারেরও বেশি পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ করা হবে।

    মাদকাসক্তি এবং মহিলাদের উপর হামলার ঘটনায় রাজ্য সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা ফের স্পষ্ট করেন শুভেন্দু। এই ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে কোনওরকম আপস করা হবে না বলে জানান (Police Reform) তিনি।

    আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ধর্ষণ ও খুনের শিকার চিকিৎসকের পরিবারের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেন রাজ্যের প্রথম পদ্ম সরকারের মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)।

     

  • Suvendu Adhikari: মহালয়ায় দুর্গাপুজোর বর্ণাঢ্য সূচনা মুখ্যমন্ত্রীর হাতে, ড্রোনের আলোয় দেবী বন্দনা

    Suvendu Adhikari: মহালয়ায় দুর্গাপুজোর বর্ণাঢ্য সূচনা মুখ্যমন্ত্রীর হাতে, ড্রোনের আলোয় দেবী বন্দনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দুর্গাপুজোকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে আরও উজ্জ্বল করে তুলে ধরতে মহালয়ার দিন বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার (Suvendu Adhikari)। শনিবার কলকাতার রেড রোড থেকে ইডেন গার্ডেন্স পর্যন্ত খোলা জিপে শোভাযাত্রায় অংশ নেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তার আগে রেড রোডে আয়োজিত পদযাত্রায় অংশ নেন তিনি। বাংলার লোকসংস্কৃতি, নাচ-গান, কয়েক হাজার ঢাকির বাদ্যি, শঙ্খধ্বনি এবং প্রায় তিন হাজার ড্রোনের বিশেষ আলোক প্রদর্শনীতে উঠে আসে দেবী দুর্গার আগমনের ছবি (Mahalaya 2026)। ইডেন গার্ডেন্সে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠান থেকেই পুজো কমিটিগুলিকে আর্থিক অনুদান দেওয়ার দিনক্ষণ ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, রবিবার থেকেই পুজো কমিটিগুলি অনুদান বাবদ এক লাখ টাকা করে পেতে শুরু করবে।

    এদিন বিকেল সাড়ে চারটে নাগাদ রেড রোড থেকে শুরু হয় মুখ্যমন্ত্রীর খোলা জিপে শোভাযাত্রা। রেড রোড থেকে ইডেন গার্ডেন্স পর্যন্ত রাস্তার দু’পাশে বাংলার বিভিন্ন জেলার শিল্পীরা নিজেদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরেন। ছৌ নাচ, বাউল গান, ভাওয়াইয়া-সহ নানা লোকসংগীত ও লোকনৃত্যের পরিবেশনায় উৎসবের আবহ তৈরি হয়। বিকেল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ ইডেন গার্ডেন্সে শুরু হয় মূল অনুষ্ঠান।

    ড্রোনের আলোয় দেবীর আগমনী (Suvendu Adhikari)

    ইডেন গার্ডেন্সে কয়েক হাজার ঢাকির একযোগে ঢাক বাজানো এবং শঙ্খধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। এরপর আকাশে প্রায় তিন হাজার ড্রোনের বিশেষ প্রদর্শনীতে ফুটিয়ে তোলা হয় দেবী দুর্গার আগমনের নানান দৃশ্য। রাজ্য প্রশাসনের দাবি, বাংলায় এই ধরনের ড্রোন প্রদর্শনী নজিরবিহীন। অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট শিল্পীদের পুজোর গান পরিবেশনেরও আয়োজন করা হয়।

    রাজ্য সরকারের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের অন্যতম লক্ষ্য দুর্গাপুজোর ঐতিহ্য, বাংলার সংস্কৃতি এবং শিল্পকলাকে দেশ-বিদেশের মানুষের সামনে আরও ব্যাপকভাবে তুলে ধরা। সেই লক্ষ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

    পুজো কমিটিগুলিকে অনুদান

    ইডেন গার্ডেন্সের মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, রবিবার থেকেই দুর্গাপুজো কমিটিগুলির জন্য রাজ্য সরকারের আর্থিক অনুদান দেওয়ার কাজ শুরু হবে। প্রতিটি পুজো কমিটি এক লাখ টাকা করে অনুদান পাবে। নতুন পুজো কমিটিগুলিকেও অনুদান দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।

    মুখ্যমন্ত্রী জানান, এবার রাজ্যে মোট ১২ হাজার ৪০০-রও বেশি দুর্গাপুজো হচ্ছে। তবে তাঁর আবেদনে সাড়া দিয়ে কলকাতার ২০০-রও বেশি পুজো কমিটি সরকারি অনুদান না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানান তিনি (Suvendu Adhikari)।

    দুর্গাপুজোকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরার উদ্যোগ

    মহালয়া উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “দুর্গাপুজো বাংলার সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। এই উৎসব আজ বিশ্বের মানচিত্রে জায়গা করে নিয়েছে।” দুর্গাপুজোকে আন্তর্জাতিক স্তরে পরিচিত করে তোলার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

    মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, বাংলার ঐতিহ্য ও পরম্পরার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই এই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করা হয়েছে। রাজ্য মন্ত্রিসভায় সিদ্ধান্ত হয়েছিল, পিতৃপক্ষের পরিবর্তে মাতৃপক্ষের সূচনাকে কেন্দ্র করেই এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। মহালয়ার সকালে গঙ্গার বিভিন্ন ঘাটে তর্পণের পাশাপাশি মহিষাসুরমর্দিনী শোনানোর ব্যবস্থাও করা হয়েছিল। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে উদ্বোধন করার জন্য রাজ্যপালকেও ধন্যবাদ জানান মুখ্যমন্ত্রী।

    আগামী চার দিন ধরে মালদহ, দিঘা, দুর্গাপুর, কোচবিহার, বিষ্ণুপুর-সহ রাজ্যের একাধিক জায়গায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলবে। ষষ্ঠীর আগে পর্যন্ত এই আয়োজনের মাধ্যমে বাংলার লোকসংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে তুলে ধরা হবে। অনুষ্ঠানে প্রায় ৪০ হাজার মানুষকে আমন্ত্রণ জানানোর কথাও উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী।

    বিসর্জনেও বাংলার ঐতিহ্য বজায় রাখার আবেদন

    দুর্গাপুজোর বিসর্জন প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ২৪ তারিখের মধ্যে প্রতিমা নিরঞ্জন সম্পন্ন করার জন্য তিনি আবেদন জানিয়েছেন। বাংলার ঐতিহ্য ও পরম্পরা মেনে বিভিন্ন ঘাটে বিসর্জনের ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানান তিনি। পুজো কমিটিগুলিকে পুরস্কৃত করার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

    বক্তব্যের শেষে সকলকে দুর্গাপুজোর শুভেচ্ছা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari) বলেন, “এবারের দুর্গাপুজো সকলের কাছে মধুময় হয়ে উঠুক।” একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ভারতবিরোধী শক্তিকে পরাস্ত করে বিকশিত ভারত গড়ে তোলার লক্ষ্যের কথাও তুলে (Mahalaya 2026) ধরেন তিনি।

     

  • Mahalaya 2026: ঢাকের বাদ্যি, ড্রোন শো, আতশবাজি! মহালয়ায় ইডেনে ৪৫হাজার দর্শকের সমাগম, কড়া নিরাপত্তা

    Mahalaya 2026: ঢাকের বাদ্যি, ড্রোন শো, আতশবাজি! মহালয়ায় ইডেনে ৪৫হাজার দর্শকের সমাগম, কড়া নিরাপত্তা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আশ্বিনের শারদ প্রাতে রেডিওয় বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠে মহিষাসুরমর্দিনীর স্তোত্রর। জানান দেয় পুজো এসেছে। শরতের শিউলি ফোটা ভোর শোনায় মহালয়ার সুর। বেজে ওঠে পুজোর দামামা। গঙ্গায় পিতৃতর্পণ সেরে সারাদিন চলে পুজোর কেনাকাটা। তবে, এবার মহালয়ার দিনটা একটু অন্যভাবে কাটতে চলেছে তিলোত্তমার। মহালয়ার সন্ধ্যা আরও মোহময় হয়ে উঠতে চলেছে ইডেন উদ্যানে রাজ্য সরকারের আয়োজিত মা দুর্গার আবাহনের অনুষ্ঠানে। সেখানে একছন্দে বাজবে তিন হাজার ঢাক। এক হাজার উলুধ্বনিতে মুখরিত হবে বাংলার আকাশ-বাতাস। শঙ্খধ্বনির আওয়াজ জানান দেবে, মা আসছে বাংলার ঘরে ঘরে। নাচে-গানে তিন হাজার ড্রোনের রঙিন আলোয় মাতৃ আবাহনের অভাবনীয় অভিনব দৃশ্যের সাক্ষী থাকবে গোটা বিশ্ব। ঢাকের বোল এবং শঙ্খের মিলিত ধ্বনি বিশ্বরেকর্ড গড়বে।

    ৪৫ হাজার দর্শকের সমাগম

    ১০ অক্টোবর ইডেন গার্ডেন্সে মহালয়া উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে রাজ্য সরকারের তরফে। দুর্গাপুজোর সূচনা উদ্‌যাপনে এই অনুষ্ঠানে প্রায় ৪৫ হাজার দর্শকের সমাগম হতে পারে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পাশাপাশি রেড রোডে শোভাযাত্রায় অংশ নিতে পারেন ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ। ভিড় সামলাতে টি-২০ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের সময়কার নিরাপত্তা ব্যবস্থার ধাঁচেই প্রস্তুতি নিচ্ছে কলকাতা পুলিশ। স্টেডিয়াম চত্বরে দুই স্তরের নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হচ্ছে। পাশাপাশি রেড রোডে শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে আরও প্রায় ১৫ হাজার মানুষের জমায়েত হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। সেখানেও পৃথক নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের সচিবের নেতৃত্বে একটি সমন্বয় বৈঠক হয়। সেখানে কলকাতা পুলিশ, কলকাতা পুরসভা, রাজ্যের পূর্ত দফতর-সহ একাধিক বিভাগের আধিকারিকেরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে বিভিন্ন দফতরের মধ্যে সমন্বয় এবং দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, স্টেডিয়ামের আশপাশে বিশেষ বাহিনী ও কুইক রেসপন্স টিম মোতায়েন থাকবে। দর্শকদের প্রবেশ, বেরিয়ে আসা এবং গোটা সন্ধ্যায় ভিড়ের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণে বিশেষ নজর রাখা হবে।

    অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ

    বাংলার সবচেয়ে বড় সাংস্কৃতিক উৎসব দুর্গাপুজোর সূচনা উপলক্ষে মহালয়ার দিন ইডেন গার্ডেন্সে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। ঐতিহ্য ও আধুনিক প্রযুক্তির মেলবন্ধনে সাজানো হবে এই অনুষ্ঠান। ঢাকের বাদ্যি, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, থ্রিডি প্রজেকশন ম্যাপিং, ড্রোন শো এবং আতশবাজির প্রদর্শনী অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ হতে চলেছে। প্রায় চার ঘণ্টার এই অনুষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক দর্শকের সমাগমের সম্ভাবনা রয়েছে। রাজ্য সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রায় ১০ হাজার ঢাকি এবং এক হাজার মহিলা এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারেন। বাংলার বিভিন্ন জেলার নিজস্ব নৃত্য ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনাও তুলে ধরা হবে।

    রেড রোডে বিকেল ৪টেয় শোভাযাত্রা

    প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, রেড রোডে অনুষ্ঠান বিকেল ৪টে নাগাদ শুরু হবে। অনুষ্ঠানটি প্রায় ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট চলার কথা। এরপর ইডেন গার্ডেন্সে মূল অনুষ্ঠান চলবে প্রায় তিন থেকে চার ঘণ্টা। শনিবার আলোকোজ্জ্বল রেড রোড ধরে খোলা জিপে ইডেনের উদ্দেশে রওনা হবেন মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্যপাল আর এন রবি। রাস্তার পাশে একেকটি জেলার সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য, শিল্পকলা ও সেখানকার সংগীত-নৃত্য তুলে ধরতে সাজানো হয়েছে স্টেজ। রেড রোড হয়ে সেই শোভাযাত্রা যাবে ইডেনে। সেখানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি থাকবে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ড্রোন শো থেকে থ্রি ডি প্রজেকশন ম্যাপিং শো। তাতে ফুটে উঠবে মা দুর্গার আবাহন।

    ইডেন থেকে বুর্জ খলিফায়

    এই অনুষ্ঠান ইডেন থেকে পৌঁছে যাবে প্রবাসেও। দুবাইয়ের বুর্জ খলিফা, আমেরিকার বস্টন এবং নিউ ইয়র্কের টাইমস স্কোয়ারের একসঙ্গে এই অনুষ্ঠান দেখতে পাবেন সেখানকার মানুষও। কলকাতার মূল অনুষ্ঠানের সঙ্গেই জেলায় জেলায় শুরু হয়ে যাবে উৎসব। শুক্রবার পর্যন্ত যে তালিকা রয়েছে তাতে ঠিক আছে, ইডেনে আজকের অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করবেন শান, লগ্নজিতা, কৌশিকী চক্রবর্তী, অন্তরা মিত্র। থাকবে বাংলা ব্যান্ড দোহার এবং শান্তনু মৈত্র ও তাঁর গ্রুপ। এছাড়াও যন্ত্রসঙ্গীতে দেবর্ষি ভট্টাচার্য-সহ অন্যরা।

    যান চলাচলে বিধিনিষেধ

    ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ময়দান এলাকায় একাধিক বিধিনিষেধ জারি করা হতে পারে। কিংসওয়ে দিয়ে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। রেড রোডেও একই ধরনের নিয়ন্ত্রণ থাকবে। শহরের বাস পরিষেবার ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি করা হবে। ট্রাফিক পুলিশ চৌরঙ্গি রোড দিয়ে বাসের গতিপথ ঘুরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করবে। অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসা ব্যক্তিগত গাড়ি ও ভাড়া করা গাড়ির পার্কিংয়ের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। আইপিএলের ম্যাচের দিনের পার্কিং ব্যবস্থার ধাঁচে পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর। স্ট্র্যান্ড রোড সংলগ্ন এলাকাতেও গাড়ি রাখার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

    আমন্ত্রণপত্র থাকলেই ইডেনে প্রবেশ

    মহালয়া উপলক্ষে কলকাতার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ জায়গা আলোকসজ্জায় সাজিয়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে রাজ্য সরকারের। রেড রোডের শোভাযাত্রায় বাংলার বিভিন্ন জেলার নিজস্ব নৃত্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরা হবে। এই শোভাযাত্রা সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। তবে ইডেন গার্ডেন্সের মূল অনুষ্ঠানে প্রবেশের ক্ষেত্রে আমন্ত্রণপত্র বাধ্যতামূলক থাকবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগমের কথা মাথায় রেখে নিরাপত্তা, যান নিয়ন্ত্রণ, পানীয় জল, শৌচাগার এবং পরিচ্ছন্নতার মতো একাধিক বিষয়ে আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রশাসন।

    ড্রোন দিয়ে আকাশপথে নজরদারি

    গঙ্গার দুই পাড়কেও উৎসবের রঙে সাজিয়ে তোলার উদ্যোগ রয়েছে। থাকছে বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বিভিন্ন শিল্পী ও ব্যান্ডের পরিবেশনার পাশাপাশি থাকছে গঙ্গা আরতি। এদিকে, ইডেনের এই মেগা অনুষ্ঠানের জন্য স্ট্যান্ড রোড-সহ একাধিক রাস্তায় পণ্যবাহী যান চলাচল বন্ধ। কলকাতা ট্র্যাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্ট্র্যান্ড রোড, সেন্ট জর্জেস গেট রোডে রাজা উডমন্ট স্ট্রিট ও হেস্টিংস ক্রসিংয়ের মধ্যে কোনও পণ্যবাহী গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকছে। শনিবার ভোর চারটে থেকে বিকেল চারটে পর্যন্ত এই বিধিনিষেধ জারি থাকছে। তবে জরুরি পরিষেবা দেওয়া পণ্যবাহী যানগুলিকে ছাড় দেওয়া হয়েছে। বিটি রোড, খগেন চ্যাটার্জি রোড, কাশীপুর রোড, স্ট্র্যান্ড ব্যাঙ্ক রোড, রবীন্দ্র সরণি (কেভিভি অ্যাভিনিউ থেকে বি কে পাল অ্যাভিনিউ পর্যন্ত), শোভাবাজার স্ট্রিট, নিমতলা ঘাট স্ট্রিটও বন্ধ রাখা হচ্ছে। বাবুঘাট রুটের বাসগুলি হেয়ার স্ট্রিট এবং স্ট্র্যান্ড রোডের ক্রসিংয়ে ঘুরিয়ে দেওয়া হবে। মহালয়া উপলক্ষে শহরে ১৫০০ পুলিশ মোতায়েন থাকছে। জলপথ, সড়কপথে নজরদারি চলছে। ড্রোন দিয়ে আকাশপথেও নজরদারি চলছে।

     

     

     

     

     

  • Rain in Durga Puja: মহালয়াতেও ঝড়বৃষ্টি কলকাতা-সহ গোটা রাজ্যে! পুজোয় বৃষ্টির সম্ভাবনা, কী বলছে হাওয়া-অফিস?

    Rain in Durga Puja: মহালয়াতেও ঝড়বৃষ্টি কলকাতা-সহ গোটা রাজ্যে! পুজোয় বৃষ্টির সম্ভাবনা, কী বলছে হাওয়া-অফিস?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পুজোর আমেজে মেতে উঠছে বাংলা। এর মধ্যেই আবহাওয়ার মতি গতি নিয়ে তৈরি হয়েছে প্রশ্ন। ভোরের দিকে হালকা শীতের আমেজ থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বদলাতে পারে পরিস্থিতি। আকাশ আংশিক মেঘলা থাকার পাশাপাশি রাজ্যের একাধিক জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির (Rain in Durga Puja) সম্ভাবনা রয়েছে। কলকাতাতেও বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর।

    দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া

    আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শনিবার দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হতে পারে। হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, পশ্চিম বর্ধমান, নদিয়া, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, কলকাতা এবং পূর্ব মেদিনীপুরে। কয়েকটি জায়গায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে। ফলে মহালয়ার দিন বাইরে বেরোনোর পরিকল্পনা থাকলে আবহাওয়ার দিকে নজর রাখা জরুরি।

    বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের সম্ভাবনা

    আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, থাইল্যান্ড উপসাগর ও সংলগ্ন অঞ্চলে একটি ঘূর্ণাবর্ত অবস্থান করছে। আগামী ১১ অক্টোবর নাগাদ আন্দামান সাগরের উপর আরও একটি ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই দুই ঘূর্ণাবর্তের প্রভাবে দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে আগামী ১৩ অক্টোবর নাগাদ একটি নিম্নচাপ এলাকা তৈরি হতে পারে। এর জেরে পরবর্তী সময়ে বাংলার আবহাওয়ায় পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, উত্তর বাংলাদেশ ও সংলগ্ন অঞ্চলে একটি ঘূর্ণাবর্ত অবস্থান করছে। পাশাপাশি পশ্চিম অসম থেকে উত্তর বাংলাদেশ, উপ-হিমালয় পশ্চিমবঙ্গ, সিকিম, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা ও ছত্তিশগড়ের উপর দিয়ে তেলঙ্গানা পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে একটি নিম্নচাপ অক্ষরেখা। এই আবহাওয়াগত পরিস্থিতির জেরে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বৃষ্টির অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে। যদিও আপাতত দক্ষিণবঙ্গে ভারী বৃষ্টির কোনও উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনার কথা জানানো হয়নি।

    দুর্গাপুজোতেও বৃষ্টির সম্ভাবনা

    দুর্গাপুজোতেও (Durga Puja 2026) বৃষ্টির হাত থেকে রেহাই মিলছে না। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়ে দিল, অষ্টমী পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ অংশে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি চলবে। ভিজবে কলকাতাও। নবমী থেকে আবহাওয়ার পরিবর্তন হতে পারে। উত্তরবঙ্গে বৃষ্টির সম্ভাবনা তুলনামূলক কম। দুর্গাপুজোর বিশেষ বুলেটিন শুক্রবার বিকেলে প্রকাশ করেছে হাওয়া অফিস। মহালয়া থেকে একাদশী পর্যন্ত কবে আবহাওয়া কেমন থাকবে, কোথায় কোথায় বৃষ্টি হতে পারে, বিশদ জানানো হয়েছে ওই বুলেটিনে। এ বার পুজোয় সপ্তমী দু’দিন।

    পঞ্চমী, ষষ্ঠী, প্রথম সপ্তমী (১৫ থেকে ১৭ অক্টোবর)— কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। দক্ষিণের বাকি জেলাগুলিতেও বিক্ষিপ্ত বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে।

    দ্বিতীয় সপ্তমী, অষ্টমী (১৮ এবং ১৯ অক্টোবর)— দক্ষিণবঙ্গের সব জেলায় বিক্ষিপ্ত ভাবে হালকা বৃষ্টি এবং বজ্রপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

    নবমী, দশমী, একাদশী (২০ থেকে ২২ অক্টোবর)— দক্ষিণবঙ্গে মোটের উপর শুকনো আবহাওয়া। বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই।

     

     

     

     

     

  • Mahalaya 2026: মহালয়ার দিন পিতৃ তর্পণ করেছিলেন শ্রীরাম! জানেন দুর্গাপুজোর আগে কী মাহাত্ম্য এই বিশেষ দিনের?

    Mahalaya 2026: মহালয়ার দিন পিতৃ তর্পণ করেছিলেন শ্রীরাম! জানেন দুর্গাপুজোর আগে কী মাহাত্ম্য এই বিশেষ দিনের?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পুজোর ঢাকে কাঠি পড়ে গেল। মহালয়ার ভোর থেকেই চলে উমার মর্তে আগমনের প্রতীক্ষা। হিন্দু ধর্মে এই দিনটি অত্যন্ত তাত্‍পর্যপূর্ণ। মহালয়াতে পিতৃপক্ষের অবসানে দেবীপক্ষের সূচনা হয়। মহালয়ার পরের দিন প্রতিপদ তিথি থেকে শুরু হয় শারদীয়া নবরাত্রি পালন। নয় রাত ধরে দেবীর নয়টি আলাদা আলাদা রূপের পুজো চলে। বাঙালিদের কাছে মহালয়ার (Mahalaya) বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। মনে করা হয়, মহালয়াতেই মহিষাসুরকে বধ করার জন্য পার্বতীর কাছে প্রার্থনা করা হয়। দেবীপক্ষের সূচনার এই দিনের ভোরে রেডিয়োতে বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্রের (Birendra Krishna Bhadra) মহিষাসুরমর্দিনী শোনা বাঙালি সমাজের একটি প্রচলিত রেওয়াজ। মহিষাসুরমর্দিনী শুনেই যেন শুরু হয়ে যায় বাঙালির দুর্গোত্‍সব।

    সর্বপিতৃ অমাবস্যা, পিতৃপুরুষের উদ্দেশ্যে তর্পণ

    পিতৃপক্ষের অমাবস্যায় পালিত হয় মহালয়া। এদিন প্রয়াত পিতৃপুরুষের উদ্দেশ্যে তর্পণ শ্রাদ্ধ করা হয় বলে একে সর্বপিতৃ অমাবস্যাও বলা হয়। এদিন সেই সমস্ত পূর্বপুরুষদের উদ্দেশে শ্রাদ্ধ করা হয় যাঁদের মৃত্যুর তিথি জানা নেই বা কোনও কারণে কোনও পূর্ব পুরুষের শ্রাদ্ধ না-করলে এই তিথিতে তাঁদের শ্রাদ্ধ করবেন। মহালয়ার দিনে শ্রাদ্ধ করলে পূর্বপুরুষরা মুক্তি লাভ করেন। বিশ্বাস করা হয় যে পিতৃপক্ষে শ্রাদ্ধ শান্তি ও তর্পণ করলে পূর্ব পুরুষেরা খুশি হন এবং আশীর্বাদ করেন। তাঁদের কৃপায় জীবনের অনেক বাধা দূর হয়। জীবনের বিভিন্ন ধরনের সমস্যা থেকেও মুক্তি মেলে। পিতৃপক্ষের শ্রাদ্ধ ও তর্পণের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। এজন্যেই দেবীপক্ষ শুরুর আগে পূর্ব পুরুষদের উদ্দেশ্যে তর্পণ করা হয়।

    মহালয়ার নানা আখ্যান

    দেবরাজ ইন্দ্রের অনুসারে মহালয়া: পুরাণ মতে, দেবরাজ ইন্দ্রকে ১৬ দিনের জন্য মর্তে গিয়ে তর্পণ করতে পাঠান যমরাজ। আর এই ১৬ দিনই পিতৃপক্ষ নামে পরিচিত হয় এবং সেই সময় থেকেই মহালয়ার দিন এবং তার আগে ১৫ দিন পিতৃপুরুষদের জলদান করা হয়।

    রামায়ণ অনুসারে মহালয়া: শাস্ত্রের নিয়মানুসারে, অকালে কোনও পুজো করলে ইষ্ট দেবতা ও প্রয়াত পিতা -মাতার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তর্পণ করতে হয়। শ্রী রামচন্দ্র, দেবী দুর্গার অকাল বোধন করেছিলেন। আর নিয়ম মেনে তাঁকেও পুজোর আগে পিতৃপুরুষকে জলদান করতে হয়েছিল। কথিত আছে রামচন্দ্র, মহালয়ার দিন পিতৃ তর্পণ করেছিলেন। আর সেই থেকেই শুরু হয় এই রীতির।

    মহাভারত অনুসারে মহালয়া : কথিত আছে, স্বর্গে বসবাস করার সময় কর্ণের আত্মাকে খাবার হিসাবে শুধু সোনা ও রত্ন দেওয়া হয়। কারণ দাতা হিসাবে তিনি কখনও পিতৃপুরুষকে জল -খাবার দেননি, সকলকে সোনা -রত্ন দান করেছেন। আসলে কর্ণ, প্রথমে তাঁর পিতৃ পরিচয় জানতেন না। যুদ্ধের আগের রাতে কুন্তীর থেকে সে জানতে পারে সকল সত্যি। এরপরই ভুল সংশোধন করতে তর্পণের পরামর্শ আসে।

    প্রকৃতিতে আগমনীর সুর

    দুর্গাপুজো যেমন সব বাঙালির প্রাণের উত্‍সব, তেমনই বাঙালি সংস্কৃতির সঙ্গে অঙ্গাঙ্গী ভাবে জড়িয়ে আছে মহালয়া। কারণ বাঙালিদের কাছে মহালয়া প্রয়াত পিতৃপুরুষকে জল দিয়ে তুষ্ট করার পাশাপাশি দেবীকে আবাহন করার দিন। সাধারণত মহালয়ার দিনই প্রতিমাশিল্পীরা দেবী দুর্গার চক্ষুদান করে থাকেন। এখানে উমা বাঙালির ঘরের মেয়ে, এক বছর পর তিনি বাপের বাড়ি ফিরছেন। সেই আনন্দে মেতে ওঠে সবাই। আগমনীর সুর বেজে ওঠে প্রকৃতিতেও। মহালয়া থেকে যে দেবীপক্ষের সূচনা হয়, কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর মাধ্যমে তার অবসান হয়।

     

     

     

     

     

  • Nandigram-Rejinagar By-Election: রেকর্ড গড়ে নন্দীগ্রামে ১,২২, ৭৫৩ ভোটে জয়ী হাসিরানি রথ, ৭৪ শতাংশ মুসলিম অধ্যুষিত রেজিনগরেও জিতল বিজেপি

    Nandigram-Rejinagar By-Election: রেকর্ড গড়ে নন্দীগ্রামে ১,২২, ৭৫৩ ভোটে জয়ী হাসিরানি রথ, ৭৪ শতাংশ মুসলিম অধ্যুষিত রেজিনগরেও জিতল বিজেপি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে বিধানসভা উপ নির্বাচনে গেরুয়া ঝড়। নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে (Nandigram-Rejinagar By-Election) রেকর্ড মার্জিনে জয় বিজেপির। ১৫ রাউন্ড গণনার শেষে নন্দীগ্রামে ১,২২৭৫৩ ভোটে জয়ী হলেন বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ। ১৫ রাউন্ডের শেষে রেজিনগরের বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার ৭৫,৭৪৮ ভোটে জয়ী হয়েছেন। উপনির্বাচনের ফল নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “দুই কেন্দ্রেই রাষ্ট্রবাদী শক্তি জিতেছে। সংখ্যালঘুরাও সরকারের সঙ্গে বন্ধুত্ব করে নিয়েছেন।” নন্দীগ্রাম এবং মুর্শিদাবাদের রেজিনগর, উভয় কেন্দ্রেই নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীদের বহু যোজন পেছনে ফেলে দিয়ে ইতিহাসের পাতায় নাম লেখালেন গেরুয়া শিবিরের প্রার্থীরা।

    নন্দীগ্রামে শুভেন্দুকেও পিছনে ফেললেন হাসিরানি

    নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর রেকর্ড ভাঙলেন বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ। উপ নির্বাচনে ১ লক্ষ ২০ হাজার ভোটের মার্জিনে জয়ী হলেন হাসিরানি। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে ৮১ হাজারের বেশি ভোটের মার্জিনে জিতেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ভবানীপুরের পাশাপাশি নন্দীগ্রাম থেকেও ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন। দু’টি কেন্দ্রেই জেতেন তিনি। পরে ভবানীপুর রেখে নন্দীগ্রাম আসনটি ছেড়ে দেন তিনি। রেজিনগরেও অনুরূপ ঘটনা ঘটে। আম জনতা উন্নয়ন পার্টি (এজেইউপি) বিধায়ক হুমায়ুন কবীর ওই কেন্দ্রের পাশাপাশি লড়েছিলেন নওদা থেকেও। নওদা নিজের হাতে রেখে তিনি রেজিনগর আসনটি ছেড়ে দেন । ফলে নির্বাচন কমিশনকে এই দুই কেন্দ্রে উপনির্বাচনের আয়োজন করতে হয়।

    রেজিনগরেও রেকর্ড

    ৭৪ শতাংশ মুসলিম অধ্যুষিত রেজিনগরেও জিতল বিজেপি, ব্যবধান ৭৫ হাজার। গত ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর দুই কেন্দ্রে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ভোটগ্রহণ হয়েছিল। নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এবার উপনির্বাচনে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা গেছে। এর মধ্যে নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে প্রায় ৭৯.৩৯ শতাংশ এবং রেজিনগর কেন্দ্রে প্রায় ৭৮.৪২ শতাংশ ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছিলেন। রেজিনগরের ফল ঘোষণার পরই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নবান্ন থেকে বললেন, ”রেজিনগরে এত বড় জয় আসত না, যদি সংখ্যালঘুরা আমাদের সঙ্গে না থাকতেন । সংখ্যালঘুদের নামে যে মিথ্যাচার করা হয়েছিল, তাকে আমল না দিয়ে সঙ্গে থেকেছেন সংখ্যালঘুরা । বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন তাঁরা”। তিনি আরও বলেন, ১৯৭২ সালে কংগ্রেসের সময়ে নির্বাচনে যে দৃশ্য দেখা গেছিল , তার কোনওটাই এই নির্বাচনে দেখা যায়নি। এখন রাজ্যে এখন ভয়মুক্ত, ভরসার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, সংখ্যালঘুরা সরকারের সঙ্গে থাকতে চায়। তাই তাঁরা বিজেপিতে ভোট দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সংখ্যালঘুদের ডিটেনশন সেন্টারের যে ভয় দেখানো হয়েছিল। তা মিথ্যে প্রমাণিত হয়েছে। তাঁর কথায়, ”বাংলার মানুষ আর পচা শামুকে পা কাটতে চান না”। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রেজিনগরের সংখ্যালঘুরা বিজেপির সঙ্গে আছেন।

    সংখ্যালঘুরা সাড়া দিয়েছেন,বললেন শুভেন্দু

    আজ যখন নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের ফলাফল প্রকাশ হচ্ছে, তখন কলকাতায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘ফ্রেন্ডশিপ বানালিয়া’। এবিভিপি-র একটি অনুষ্ঠানে এদিন আরজি কর হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রবেশ করার সময় দুই আঙুলে জয়ের চিহ্ন দেখান তিনি। নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে যেভাবে সংখ্যালঘু ভোট বিজেপির দিকে এসেছে, সেই প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, ‘ফ্রেন্ডশিপ বানালিয়া’, সংখ্যালঘুদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করে ফেলেছি। উপনির্বাচনের ভোটপ্রচারে গিয়ে সংখ্যালঘুদের বন্ধুত্বের বার্তা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ভোটের ফল প্রকাশ হতেই সেই বন্ধুত্বের ছবি স্পষ্ট। সংখ্যালঘুরা আবেদনে সাড়া দিয়েছেন। নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক থেকে এমনটাই দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী। করজোড়ে সংখ্যালঘুদের ধন্যবাদ জানালেন তিনি। বলেন, “সরকারের বন্ধুত্বের হাত ধরেছেন সংখ্যালঘুরা, সরকারের সঙ্গে কাঁধে কাঁধে মিলিয়ে বন্ধুত্ব করতে চান, আমি খুশি”।

    সংখ্যালঘু ফ্যাক্টর

    উপনির্বাচনের ফলাফল নিয়ে শুভেন্দু বলেন, ” ভারতীয় জনতা পার্টিকে জিতিয়েছিলেন ফলতার মানুষ। তারপর দুই কেন্দ্রে উপনির্বাচন ছিল। এই উপনির্বাচনে রেকর্ড সংখ্যক ভোটে নন্দীগ্রাম থেকে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে হাসিরানি রথ বিপুল সংখ্যক ভোটে জয়যুক্ত হয়েছেন।” সংখ্যালঘু ভোট প্রসঙ্গে বলেন, “২০২১ সালের পর প্রথম নন্দীগ্রামের সংখ্যালঘু অধ্যুষিত ৬০টি বুথে ভারতীয় জনতা পার্টি লিড নিয়েছে। আমরা সরকারের সঙ্গে থেকে থেকে উন্নয়নের কর্মযজ্ঞে সামিল হওয়ার যে আবেদন করেছিলাম, তা গ্রহণ করেছেন। রেজিনগর কেন্দ্রেও ঠিক একইভাবে চূড়ান্ত ফল প্রায় এসে গিয়েছে। শাখারভ সরকারকে জনতা আশীর্বাদ করেছেন। আমার যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু, নির্বাচন বিধি প্রত্যাহার হয়নি, তাই যেতে পারিনি। কারণ নির্বাচনী বিধি থাকলে হেলিকপ্টার ব্যবহার করতে পারি না। তাই এখান থেকে রেজিনগরের ভোটারদের প্রণাম করছি।” বাংলার যে কোনও নির্বাচনেই সংখ্যালঘু ভোট একটা বড় ফ্যাক্টর। ২০২৬ সালের মে মাসে অনুষ্ঠিত পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি বড় জয় পেয়ে রাজ্যে সরকার গঠন করে, যেখানে তাদের ভোটব্যাংকে বড় ধরনের মেরুকরণ ও পরিবর্তন লক্ষ্য করা গিয়েছিল। উপনির্বাচনের আগে খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রামে দাঁড়িয়ে বার্তা দিয়ে তিনি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে সরকারের সঙ্গে থাকার এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উন্নয়ন তথা ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের পক্ষ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি স্পষ্ট বলেছিলেন, “সংখ্যালঘু ভোটারদের জন্য এটি একটি বড় সুযোগ এবং তাদের প্রধানমন্ত্রী মোদীর উন্নয়নের ধারায় সামিল হতে হবে।” তাতে সাড়াও মিলল।

     

     

     

     

  • Ganga Underwater Road Tunnel: গঙ্গার নীচে ট্রাক টানেল তৈরিতে আগ্রহী আদানি! ১১ হাজার কোটির প্রকল্প ঘিরে বড় সম্ভাবনা

    Ganga Underwater Road Tunnel: গঙ্গার নীচে ট্রাক টানেল তৈরিতে আগ্রহী আদানি! ১১ হাজার কোটির প্রকল্প ঘিরে বড় সম্ভাবনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আগামী ২০৩৫ সালের মধ্যে বাংলায় ১ লক্ষ কোটি টাকা বিনিয়োগের আশ্বাস দিয়েছেন গৌতম আদানি। দার্জিলিংয়ের পাহাড়ে রোপওয়ে নির্মাণ থেকে নিউটাউনে হাসপাতাল, বাংলায় বিনিয়োগের পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে আদানি গোষ্ঠী। এবার কলকাতা ও হাওড়ার মধ্যে গঙ্গার নীচ দিয়ে পণ্যবাহী গাড়ি চলাচলের জন্য প্রস্তাবিত সড়ক টানেল প্রকল্পেও আগ্রহ দেখাল শিল্পগোষ্ঠীটি। নবান্ন সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সাম্প্রতিক বৈঠকে এই প্রকল্পে অংশ নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন আদানি গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান গৌতম আদানি। প্রকল্পের দরপত্র আহ্বান করা হলে তাতে অংশ নিতে প্রস্তুত গোষ্ঠী। তবে এখনও নির্মাণের বরাত বা বিনিয়োগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

    মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে টানেল প্রকল্প নিয়ে আলোচনা

    সূত্রের দাবি, কলকাতা সফরে এসে ‘সৌজন্য’ ভবনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠক করেন গৌতম আদানি ও তাঁর প্রতিনিধিরা। সেখানে কলকাতা বন্দর থেকে হাওড়ার দিকে পণ্য পরিবহণের বিকল্প পথ হিসেবে প্রস্তাবিত তারাতলা–সাঁকরাইল আন্ডারওয়াটার সড়ক টানেল প্রকল্পের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। প্রকল্পের পরিকল্পনা ও প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে অবহিত হওয়ার পরে আদানি গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা দরপত্রে অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন বলে নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে।

    সূত্রের আরও দাবি, এই প্রকল্প নিয়ে আগাম প্রস্তুতি নিয়েই বৈঠকে এসেছিলেন আদানি গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা। যদিও সম্ভাব্য বিনিয়োগের অঙ্ক, প্রকল্পে অংশগ্রহণের ধরন কিংবা নির্মাণের সময়সীমা নিয়ে এখনও নির্দিষ্ট কোনও তথ্য সামনে আসেনি।

    ২০৩৫ সালের মধ্যে বাংলায় এক লক্ষ কোটি টাকার বিনিয়োগের পরিকল্পনা

    আদানিদের এই আগ্রহের পিছনে রয়েছে বাংলায় দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের বৃহত্তর পরিকল্পনা। গত ২৪ সেপ্টেম্বর নিউটাউনে আদানি আরোগ্য মন্দিরের শিলান্যাস অনুষ্ঠানে গৌতম আদানি জানিয়েছিলেন, ২০৩৫ সালের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে এক লক্ষ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগ করতে চায় তাঁর গোষ্ঠী।

    সেই ঘোষণায় বন্দর, পণ্য পরিবহণ, সড়ক, সেতু-সহ একাধিক পরিকাঠামো ক্ষেত্রকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বণ্টন, সিমেন্ট, রোপওয়ে এবং হাইপারস্কেল ডেটা সেন্টারের মতো ক্ষেত্রেও সম্ভাব্য বিনিয়োগের কথা উঠে এসেছিল।

    নিউটাউনে হাসপাতাল নির্মাণের পাশাপাশি মহাকরণ সংস্কার ও দার্জিলিংয়ে রোপওয়ে তৈরির সম্ভাবনা নিয়েও আদানি গোষ্ঠীর আগ্রহের কথা সামনে এসেছে। এবার সেই তালিকায় গঙ্গার নীচ দিয়ে সড়ক যোগাযোগের প্রস্তাব যুক্ত হওয়ায় রাজ্যে গোষ্ঠীটির সম্ভাব্য বিনিয়োগের পরিধি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

    কেন প্রয়োজন গঙ্গার নীচে সড়ক টানেল?

    কলকাতা বন্দরের পণ্য পরিবহণ ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল করাই প্রস্তাবিত টানেল প্রকল্পের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। বর্তমানে বন্দরে আসা এবং বন্দর থেকে বেরিয়ে যাওয়া ট্রাক ও কন্টেনারবাহী গাড়িকে শহরের একাধিক ব্যস্ত রাস্তা ব্যবহার করতে হয়। গার্ডেনরিচ, খিদিরপুর, হেস্টিংস এবং বিদ্যাসাগর সেতুর মতো গুরুত্বপূর্ণ পথ দিয়ে চলাচলের ফলে অনেক সময় যানজটের মুখে পড়ে পণ্যবাহী গাড়ি।

    এর সঙ্গে রয়েছে ভারী যানবাহন চলাচলের সময়সীমা সংক্রান্ত বিধিনিষেধ। ফলে বন্দরের পণ্য নির্দিষ্ট সময়ে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া অনেক ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।

    এই পরিস্থিতিতে গঙ্গার নীচ দিয়ে বিকল্প সড়কপথ তৈরি করা গেলে কলকাতা বন্দরের সঙ্গে হাওড়ার দিকের জাতীয় সড়ক ব্যবস্থার যোগাযোগ আরও সহজ হতে পারে। শহরের ব্যস্ত রাস্তার উপর নির্ভরতা কমার পাশাপাশি ভারী যানবাহনের চলাচলও আরও মসৃণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে যানজট কতটা কমবে এবং প্রকল্পটি বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে চূড়ান্ত নকশা ও পরিবহণ পরিকল্পনার উপর।

    ১১ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প, কী ছিল প্রাথমিক পরিকল্পনা?

    গঙ্গার নীচ দিয়ে সড়ক টানেল তৈরির ভাবনা নতুন নয়। কয়েক বছর ধরেই কলকাতা বন্দরকে নদীর পশ্চিম পাড়ের জাতীয় সড়ক ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পিএম গতিশক্তি পরিকল্পনার আওতায় এই যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের বিষয়টিও বিবেচনায় ছিল।

    প্রায় দু’বছর আগে করা সমীক্ষায় প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা। সেই সময়ে রাজ্যসভায় কেন্দ্রীয় বন্দর, জাহাজ ও জলপথ মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনওয়াল জানিয়েছিলেন, সম্ভাব্য রুটের খসড়া রিপোর্ট বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে জমা পড়েছে। প্রযুক্তিগত ও আর্থিক সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজও শুরু করার পরিকল্পনা ছিল।

    প্রাথমিক সমীক্ষা অনুযায়ী, টানেল এবং তার সঙ্গে যুক্ত সড়ক মিলিয়ে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রস্তাব ছিল। অর্থাৎ, সম্পূর্ণ ১৫ কিলোমিটার পথ নদীর তলা দিয়ে যাওয়ার কথা নয়। কলকাতার দিকে মেটিয়াবুরুজ এবং হাওড়ার দিকে বোটানিক্যাল গার্ডেন সংলগ্ন এলাকায় সংযোগ তৈরির সম্ভাবনার কথাও উঠে এসেছিল।

    তবে বর্তমানে আলোচনায় থাকা তারাতলা–সাঁকরাইল প্রকল্পের চূড়ান্ত রুট, প্রবেশ ও প্রস্থানপথ এবং মোট দৈর্ঘ্য সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য এখনও সামনে আসেনি। অনুমোদিত নকশা ও বিস্তারিত প্রকল্প রিপোর্ট তৈরি হলে এই বিষয়গুলি স্পষ্ট হবে। একইভাবে, আগের সমীক্ষায় উল্লেখ করা ১১ হাজার কোটি টাকার ব্যয়ই চূড়ান্ত প্রকল্পমূল্য হবে কি না, তা-ও এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

    আদানির বিনিয়োগ পরিকল্পনায় কেন গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্প?

    গৌতম আদানির ঘোষিত বিনিয়োগ পরিকল্পনার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু পরিকাঠামো। উন্নত বন্দর, সড়ক ও সেতুর সঙ্গে পণ্য পরিবহণ এবং বিদ্যুৎ ব্যবস্থার সমন্বয় ঘটিয়ে শিল্পের বিকাশ ঘটানোই এই পরিকল্পনার মূল ভাবনা।

    নিউটাউনের অনুষ্ঠানে গৌতম আদানি বলেছিলেন, “পরিকাঠামো লক্ষ লক্ষ মানুষের সম্ভাবনাকে বদলে দিতে পারে। আদানি গোষ্ঠীতে আমরা যা করি, তার কেন্দ্রেই রয়েছে পরিকাঠামো।”

    তাঁর বক্তব্যের ব্যাখ্যা ছিল, উন্নত বন্দর পণ্য পরিবহণকে শক্তিশালী করে। সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা শিল্পকে আকর্ষণ করে এবং শিল্পের বিকাশের সঙ্গে বাড়ে উৎপাদন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ। এর জন্য প্রয়োজন নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং উন্নত ডিজিটাল পরিকাঠামোও।

    ভৌগোলিক অবস্থানের দিক থেকেও পশ্চিমবঙ্গের গুরুত্ব তুলে ধরেছিলেন আদানি। তাঁর মতে, ভারতের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলের শিল্পাঞ্চলের সঙ্গে উত্তর-পূর্ব ভারতের যোগাযোগ এবং বঙ্গোপসাগরের মাধ্যমে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাজারে পৌঁছনোর সুযোগ রাজ্যকে বাড়তি সুবিধা দেয়।

    সেই দৃষ্টিকোণ থেকে কলকাতা বন্দর ও হাওড়ার দিকের জাতীয় সড়কের মধ্যে দ্রুত পণ্য পরিবহণের ব্যবস্থা গড়ে উঠলে তা বন্দরনির্ভর শিল্প, লজিস্টিক পরিষেবা এবং বাণিজ্যিক পরিবহণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে এই সম্ভাবনার বাস্তবায়ন নির্ভর করবে প্রকল্পের অনুমোদন, অর্থের জোগান এবং নির্মাণের অগ্রগতির উপর।

    আগ্রহ প্রকাশ, কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও বাকি

    নবান্ন সূত্রের খবর অনুযায়ী, আপাতত গঙ্গার নীচে প্রস্তাবিত সড়ক টানেলের দরপত্রে অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে আদানি গোষ্ঠী। কিন্তু এই আগ্রহকে প্রকল্পের বরাত পাওয়া বা নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

    প্রকল্পের বিস্তারিত পরিকল্পনা, প্রযুক্তিগত ও আর্থিক সম্ভাব্যতা, সরকারি অনুমোদন এবং দরপত্রের শর্ত চূড়ান্ত হওয়ার পরেই পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। আদানি গোষ্ঠী শেষ পর্যন্ত দরপত্রে অংশ নেয় কি না, অংশ নিলে কী ধরনের প্রস্তাব দেয়, সেদিকেও নজর থাকবে।

    একদিকে নিউটাউনে হাসপাতাল, অন্যদিকে দার্জিলিংয়ে রোপওয়ে এবং এবার গঙ্গার নীচে সড়ক টানেল—পরিকাঠামো ক্ষেত্রে আদানি গোষ্ঠীর আগ্রহের তালিকা ক্রমশ দীর্ঘ হচ্ছে। ২০৩৫ সালের মধ্যে বাংলায় এক লক্ষ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগের ঘোষণার পর এখন বড় প্রশ্ন, এই সম্ভাব্য প্রকল্পগুলির মধ্যে কোনগুলি বাস্তবে রূপ পায় এবং রাজ্যের পরিকাঠামো ও কর্মসংস্থানে কতটা প্রভাব ফেলে।

  • Durga Puja 2026: ষষ্ঠী থেকে দশমী শিয়ালদা-হাওড়া ডিভিশনে সারা রাত ট্রেন, বড় সিদ্ধান্ত রেলের

    Durga Puja 2026: ষষ্ঠী থেকে দশমী শিয়ালদা-হাওড়া ডিভিশনে সারা রাত ট্রেন, বড় সিদ্ধান্ত রেলের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দুর্গাপুজোয় (Durga Puja 2026) যাঁরা রাত জেগে মণ্ডপে মণ্ডপে প্রতিমা দর্শনের কথা ভাবছেন, তাঁদের জন্য ভাল খবর নিয়ে এল পূর্ব রেল (Eastern Railway)। ষষ্ঠী থেকে বিজয়া দশমী পর্যন্ত দর্শনার্থীদের অনায়াস যাতায়াত সুনিশ্চিত করতে এবং স্টেশনগুলির উপচে পড়া ভিড় সামাল দিতে একগুচ্ছ বাড়তি ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে হাওড়া ডিভিশন। শুধু দিনে বা সন্ধ্যায় নয়, রাতে ঠাকুর দেখে নিরাপদে বাড়ি ফেরার সুবিধার্থে বিশেষ নাইট লোকাল ট্রেনের পরিষেবাও রাখা হচ্ছে। এর পাশাপাশি যাত্রীদের সুরক্ষার স্বার্থে স্টেশন প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা জোরদার করা, অতিরিক্ত টিকিট কাউন্টার চালু করা এবং তাৎক্ষণিক চিকিৎসা পরিষেবা সুনিশ্চিত করার মতো একাধিক প্রশংসনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছে রেল কর্তৃপক্ষ।

    নাইট লোকাল পরিষেবা ও যাত্রী নিরাপত্তা

    রেল সূত্রে খবর, পুজোর দিনগুলিতে রাত ১১টা থেকে ভোর পাঁচটা পর্যন্ত লোকাল ট্রেন পরিষেবা পাওয়া যাবে। পুজোর দিনগুলিতে একাধিক স্পেশাল ট্রেনের ঘোষণাও করা হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এ বার শিয়ালদা ডিভিশনে স্পেশাল ট্রেনের সংখ্যা বেড়েছে। পুজোর আগে লালগোলা ডিভিশনের জন্য স্পেশাল ট্রেন দেওয়া হয়েছে। রয়েছে আরও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা। শিয়ালদা স্টেশনে প্রফুল্ল দ্বার, নর্থ, মেন, সেন্ট্রাল ও সাউথ গেট দিয়ে ঢোকার ও বেরনোর নির্দিষ্ট ব্যবস্থা হয়েছে। একটি বিশেষ ২৪ ঘণ্টা ওয়ার রুম চালু থাকবে। সিসিটিভি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ চলবে। গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলিতে স্ট্যান্ডবাই ট্রেন রেক, রিজার্ভ লোকো ক্রু, মেডিক্যাল বুথ, হেল্প ডেস্ক এবং মোবাইল মেইনটেন্যান্স টিম থাকছে। শিয়ালদা, বালিগঞ্জ ও দমদম স্টেশনে অতিরিক্ত শৌচাগার ব্লক তৈরি হয়েছে। শিয়ালদা ডিভিশনের ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার (DRM) রাজীব সাক্সেনা বলেন, ‘দুর্গাপুজো বাংলার সবচেয়ে বড় উৎসব। প্রত্যেক দর্শনার্থীর জন্য নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিত করাই অগ্রাধিকার। পুজোর সময়ে যাত্রীদের যাতে কোনওরকম অসুবিধা না হয়, তার জন্য আমাদের সব ফ্রন্টলাইন টিম ২৪ ঘণ্টা প্রস্তুত রয়েছে।’

    কখন কখন চলবে বিশেষ ট্রেন

    ১৬-২১ অক্টোবর: মোট ৫১টি স্পেশাল ট্রেন চলবে। গত বছর চলেছিল ৩১টি স্পেশাল ট্রেন। এগুলির মধ্যে যাত্রীদের সুবিধার জন্য মেন, নর্থ ও সাউথ সেকশনে ৩৮টি ওভারনাইট স্পেশাল এমু পরিষেবা চলবে। সন্ধ্যার সময়ে ১৩টি স্পেশাল ট্রেন চলবে।

    ১০-১৫ অক্টোবর: শিয়ালদা–লালগোলা সেকশনে প্রি-পুজো স্পেশাল ট্রেন চালানো হবে। এক্ষেত্রে চারটি স্পেশাল এমু ট্রেন চালানো হবে। পুজোর দিনে দুপুর ২টোর পর শহরতলির সব মেমু ও এমু ট্রেন সব স্টেশনে দাঁড়াবে। অর্থাৎ গ্যালোপিং ট্রেন থাকছে না।

    হাওড়া ডিভিশনেও বাড়তি নাইট পরিষেবা

    পুজো চলাকালীন হাওড়া স্টেশনে প্রতিদিন গড়ে ৭ থেকে ৮ লক্ষ মানুষের সমাগম হতে পারে বলে আগাম আঁচ করছেন আধিকারিকরা। ইতিমধ্যেই হাওড়া ডিভিশনের ওপর দিয়ে মোট ২৫ জোড়া পুজো স্পেশাল ট্রেন চলাচল করছে। ১৭ অক্টোবর থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত মোট সাত জোড়া বিশেষ দূরপাল্লার ট্রেন যাতায়াত করবে। এর পাশাপাশি স্থানীয় যাত্রীদের কথা ভেবে সাত জোড়া বিশেষ ইএমইউ (EMU) লোকাল ট্রেন চালুর বন্দোবস্ত করা হয়েছে। বিশেষ নাইট লোকাল ট্রেনের পরিষেবাও রাখা হচ্ছে। রেল কর্তৃপক্ষের আশা, এই সমস্ত অতিরিক্ত ট্রেনের দৌলতে উৎসবের দিনগুলিতে যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছানো অনেক বেশি মসৃণ ও আরামদায়ক হবে। এছাড়া, যাত্রীদের সুরক্ষার স্বার্থে স্টেশন প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা জোরদার করা, অতিরিক্ত টিকিট কাউন্টার চালু করা এবং তাৎক্ষণিক চিকিৎসা পরিষেবা সুনিশ্চিত করার মতো একাধিক প্রশংসনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছে রেল কর্তৃপক্ষ।

  • Suvendu Adhikari: ভয়ঙ্কর অবস্থা ভুতনির! বন্যা-ভাঙন রোধে কেন্দ্রের কাছে ৩৩০০ কোটির প্রকল্পের প্রস্তাব শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: ভয়ঙ্কর অবস্থা ভুতনির! বন্যা-ভাঙন রোধে কেন্দ্রের কাছে ৩৩০০ কোটির প্রকল্পের প্রস্তাব শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মালদার মানিকচকের ভুতনি ও সংলগ্ন এলাকার ভয়ংকর বন্যা (Malda flood)এবং নদী ভাঙন পরিস্থিতি পরিদর্শন করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। আশ্বাস দিলেন আর এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না। ভাঙন ও বন্যা রোধে ৩৩০০ কোটি টাকার প্রকল্প কেন্দ্রকে পাঠানো হয়েছে বলে জানান শুভেন্দু। বৃহস্পতিবার কপ্টারে ভুতনি এবং রতুয়ার গঙ্গার ভাঙ্গন ও বন্যা পরিস্থিতির খতিয়ে দেখেন মুখ্যমন্ত্রী। এরপরে মানিকচক ব্লকের মথুরাপুর বিএসএস হাইস্কুল মাঠে এক অনুষ্ঠানে ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে চেক তুলে দেন। প্রথম কোনও মুখ্যমন্ত্রী এই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করলেন।

    ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক সহায়তা

    ভুতনির এই ধংসলীলা দেখে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রায় ১,৪০০ মিটার বাঁধ গঙ্গা গর্ভে তলিয়ে গিয়েছে। বিগত দিনে বাম ও তৃণমূল সরকার ভুতনিকে বাঁচাতে কোনো উদ্যোগ নেয়নি বলে তীব্র আক্রমণ শানান তিনি। তবে এবার দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ কাটাতে স্থায়ী সমাধানের পূর্ণ আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। মথুরাপুর বিএসএস হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত এক সরকারি অনুষ্ঠানে সভা মঞ্চ থেকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, বন্যা ও ভাঙনে সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির মালিকদের ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা এবং আংশিক ক্ষতিগ্রস্তদের ৯০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। এই আর্থিক অনুদানের পাশাপাশি আসন্ন দুর্গোৎসব উপলক্ষে দুর্গতদের নতুন পোশাক, মশারি, ত্রিপল ও ৫ দিনের রেশন সামগ্রী প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য প্রায় ২৪২ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণের প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। এদিন মানিকচক ব্লকের ভুতনি, ইংরেজবাজার ব্লকের মিল্কি, খাসকোল এবং রতুয়া ১ ব্লকের বিলাইমারি ও মহানন্দাটোলা এলাকার প্রায় ২৪,৫৯৫টি বানভাসি পরিবারকে আর্থিকভাবে সহায়তা করা হয়। এদিনের এই অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সেচ দফতরের প্রতিমন্ত্রী জোয়েল মুর্মু, জেলাশাসক রাজনবীর সিং কাপুর, পুলিশ সুপার অনুপম সিং সহ প্রশাসনের পদস্থ কর্তারা।

    ভুতনি বন্যা ও ভাঙন ঠেকাতে পদক্ষেপ

    এ দিন শুভেন্দু বলেন, ‘ভুতনির প্রায় ১,৪০০ মিটার বাঁধ উড়ে গিয়েছে। যার ফলে লক্ষাধিক মানুষকে ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে। ইতিমধ্যে কানপুরের আইআইটি বিশেষজ্ঞরা ভুতনির বন্যা ও ভাঙন ঠেকাতে স্থায়ী সমাধানের জন্য তদারকি করে গিয়েছেন। আশা করছি এই সমস্যা আগামী দিনে আর হবে না।’ তিনি জানান, কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে ৩৩০০ কোটি টাকার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। ইতিমধ্যে কেন্দ্র ৫০০ কোটি টাকার অনুমোদন করেছে। এর পাশাপাশি রাজ্যে ১২৪৮ কিলোমিটার রাস্তা সংস্কারের কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যে নতুন করে এক লক্ষ কোটি টাকার বিনিয়োগের বার্তাও দিয়েছেন তিনি।

  • Bhagwat-Suvendu Meeting: বর্ধমানে মোহন ভাগবতের সঙ্গে বৈঠক শুভেন্দুর, এক ঘণ্টায় নানা বিষয়ে আলোচনা

    Bhagwat-Suvendu Meeting: বর্ধমানে মোহন ভাগবতের সঙ্গে বৈঠক শুভেন্দুর, এক ঘণ্টায় নানা বিষয়ে আলোচনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat)-এর সঙ্গে বিশেষ বৈঠক করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। পশ্চিমবঙ্গে সংগঠনকে মজবুত করতে তিন দিনের রাজ্য সফরে এসেছেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবত। বৃহস্পতিবার থেকে বর্ধমানের উল্লাসের মধ্যবঙ্গ প্রান্ত কার্যালয়ে শুরু হয়েছে সাংগঠনিক ‘একত্রীকরণ’ কর্মসূচি ও সাংগঠনিক বৈঠক। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পশ্চিমবঙ্গে আরএসএসের বিস্তার কেমন, শাখার সংখ্যা বাড়ছে কি না, মূলত সেটাই বুঝতে চাইছেন ভাগবত।

    নানা বিষয়ে আলোচনা ভাগবত-শুভেন্দুর

    বৃহস্পতিবার, রাতে বর্ধমানের আরএসএস কার্যালয়ে গিয়ে মোহন ভাগবতের সঙ্গে বৈঠক করেন শুভেন্দু। প্রায় এক ঘণ্টা রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয় দু’জনের। সূত্রের খবর, রাজ্য সরকারের গত পাঁচ মাসের কাজকর্ম থেকে শুরু করে সাংগঠনিক বিষয়, একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গে আলোচনা হয়েছে। সূত্রের খবর, রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর গত পাঁচ মাসে কী কী গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করা হয়েছে, তার বিস্তারিত তথ্য মোহন ভাগবতের সামনে তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত এবং উন্নয়নমূলক কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে পাশাপাশি, রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর আরএসএস-এর প্রতি সাধারণ মানুষের আগ্রহ বাড়ছে বলেও বৈঠকে আলোচনা হয়। যাঁরা সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হতে আগ্রহী, তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয় কীভাবে আরও বাড়ানো যায়, তা নিয়েও কথা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। তাঁর সঙ্গে বৈঠক সেরে রাত ৯টার পর বর্ধমান থেকে কলকাতার উদ্দেশে রওনা দেন মুখ্যমন্ত্রী।

    গীতা পাঠের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ, দুর্গাপুজো থেকে সংখ্যালঘু প্রসঙ্গ

    শুধু সাংগঠনিক বিষয় নয়, রাজ্যের বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। কলকাতার পাশাপাশি জেলার দুর্গাপুজোগুলিকেও আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়ে কথা হয়েছে। এছাড়া, রাজ্যের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উন্নয়নের দিকে বিশেষ নজর দেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় উঠে এসেছে বলে সূত্রের খবর। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো এবং সামাজিক উন্নয়নমূলক উদ্যোগের প্রসঙ্গেও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। আগামী ২৯ ডিসেম্বর কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে গীতা পাঠের কর্মসূচি রয়েছে। সেই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার জন্য মোহন ভাগবতকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

    সেবামূলক কর্মসূচির উপর জোর

    এদিন সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের দায়িত্বপ্রাপ্তদের সঙ্গেও মত বিনিময় করেন ভাগবত। সূত্রের দাবি, রাজ্যে সেবামূলক কর্মসূচির সংখ্যা আরও বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন মোহন ভাগবত। সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছতে সমাজসেবামূলক কাজের উপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন তিনি। বৃহস্পতিবার উল্লাসের প্রান্ত কার্যালয়ে কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার পরে বিকেলে বর্ধমান মডেল স্কুলেও একটি সাংগঠনিক কর্মসূচিতে অংশ নেন ভাগবত। সেখানে আরএসএসের মুখ্য শিক্ষক ও কার্যবাহীদের নিয়ে কিছু সময় শরীরচর্চা করেন এবং তাঁদের সঙ্গে সঙ্ঘের বিস্তার নিয়ে আলোচনা করেন। এখানে মূলত একত্রীকরণ কর্মসূচি’ ছিল সঙ্ঘ প্রধানের।

    ১০২তম প্রতিষ্ঠা দিবসের আগেই রাজ্যে ভাগবত

    আরএসএস সূত্রে খবর, বৈঠকে সংঘের প্রতিনিধিদের আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ভাগবত। আরও দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে বলেছেন। ১৯২৫ সালের বিজয়া দশমীতে সংঘের প্রতিষ্ঠা। ২০২৫ সাল জুড়ে গোটা দেশে ‘শতাব্দী বর্ষ’ পালন করছিল সংঘ। তার অঙ্গ হিসেবে সামাজিক কর্মসূচি এবং জনসংযোগ বৃদ্ধিতে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছিল। সে সব কর্মসূচির বেশ কয়েকটি ২০২৬ সালেও চলছিল। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তেও সংঘের নানা জনসংযোগ কর্মসূচি হয়েছিল গত এক বছরে। তাতে লাভ কতটা হল, তৃণমূল স্তরে সংগঠনের কী অবস্থা, রাজ্যে সংঘের শাখা কতটা বিস্তার পেল, তার হিসাবও নিয়েছেন ভাগবত। সংঘের ১০২তম প্রতিষ্ঠা দিবসের সপ্তাহ দুয়েক আগেই তিনি রাজ্যে এসেছেন। শুক্রবার বর্ধমানের সংঘ কার্যালয়েই থাকবেন। সেখানে একাধিক সাংগঠনিক বৈঠক হওয়ার কথা।

    শাখার সংখ্যা ৫ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার

    জানা গিয়েছে, আজ শুক্রবারও একাধিক কর্মসূচি রয়েছে মোহন ভাগবতের। তাঁর সঙ্গে দেখা করতে পারেন বিজেপি নেতা ও রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। থাকতে পারেন বিজেপি নেতা অমিতাভ চক্রবর্তীও। তাঁদের সঙ্গে সংগঠন সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হতে পারে বলে খবর। রাজ্যে আরএসএসের শাখার সংখ্যা ৫ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছিল। ১০ অক্টোবরের মধ্যে তা করার কথা। সেই কাজ কতটা হয়েছে, সেই সব বিষয়ে বর্ধমানে সঙ্ঘের বৈঠকে আলোচনা হবে বলে জানা গিয়েছে। সঙ্ঘের আগামী দিনের সাংগঠনিক পরিকল্পনা, সমাজের বিভিন্ন স্তরে জনসংযোগ বৃদ্ধি এবং শতবর্ষ উদযাপনকে কেন্দ্র করে চলা কর্মসূচির অগ্রগতি— ভাগবতের সফরে মূলত এই বিষয়গুলিই গুরুত্ব পাচ্ছে।

    সদস্য সংখ্যা বাড়ানোর লক্ষ্যে ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ কাজের হিসেব পেশ 

    এ রাজ্যে আরএসএস-এর তিনটি সাংগঠনিক প্রান্তই দশ দিনের বিশেষ কর্মসূচি হাতে নিয়েছিল শাখার সংখ্যা বাড়ানোর লক্ষ্যে। মধ্যবঙ্গে শুরু হয়েছিল ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে। উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গে শুরু হয়েছিল ১ অক্টোবর থেকে। ১০ অক্টোবর মহালয়া। তার পর দিন থেকে দেবীপক্ষ শুরু, উৎসবের ঢাকে কাঠি। তাই মহালয়ার মধ্যেই শাখার বৃদ্ধির অভিযান শেষ করা হচ্ছে। অভিযান শেষ হওয়ার দু’দিন আগেই ভাগবত বর্ধমানে বৈঠক বসছেন। ফলে শাখা বৃদ্ধির চূড়ান্ত হিসাব তাঁর সামনে পেশ করা সম্ভব হবে না। তবে শাখা বৃদ্ধি অভিযানের ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ কাজের হিসেব হাতে নিয়েই পশ্চিমবঙ্গের আরএসএস পদাধিকারীরা সরসঙ্ঘচালকের মুখোমুখি হয়েছেন। দক্ষিণবঙ্গ আরএসএস-এর প্রচার প্রমুখ বিপ্লব রায় জানিয়েছেন, শতাব্দী বর্ষে পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে ‘প্রবুদ্ধ নাগরিক সম্পর্ক’ অভিযান করেছে সংঘ। কোথাও বিশিষ্ট নাগরিকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে দেখা করা হয়েছে। কোথাও তাঁদের অনেককে একসঙ্গে কোনও কর্মসূচিতে আমন্ত্রণ করে আনা হয়েছে। বিভিন্ন মঠ ও মিশন বছরভর রাজ্যের নানা প্রান্তে ‘হিন্দু সম্মেলন’ আয়োজন করেছে। সবশেষে রাজ্য জুড়ে ৮০০-রও বেশি জায়গায় হয়েছে ‘যুব সম্মেলন’। বিপ্লবের কথায়, ‘‘এত মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ হল,  সঙ্ঘ সম্পর্কে তাঁদের উৎসাহ বাড়ল। সে উৎসাহকে এ বার কাজে লাগানোর সময় এসেছে। যাঁদের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ স্থাপন হয়েছে, তাঁদের শাখায় আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। অনেক জায়গায় সঙ্ঘের সংস্পর্শে আসা মানুষজন নিজেরাই শাখা শুরু করার আগ্রহ দেখিয়েছেন।’’ আগামিকাল, শনিবার সকালে বর্ধমানে শেষ দফার কর্মসূচি সেরে কলকাতা বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা দেবেন মোহন ভাগবত।

     

     

     

     

LinkedIn
Share