Category: রাজ্য

Get West Bengal News, Bengali Breaking News, Latest News in Bengali only from মাধ্যম | Madhyom, Bengali News Portal for সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর

  • Suvendu Adhikari: পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন, মেদিনীপুর থেকে মহাকরণ— ফিরে দেখা শুভেন্দুর রাজনৈতিক যাত্রা

    Suvendu Adhikari: পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন, মেদিনীপুর থেকে মহাকরণ— ফিরে দেখা শুভেন্দুর রাজনৈতিক যাত্রা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে (West Bengal CM) এক নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হতে চলেছে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির অভাবনীয় সাফল্যের পর, পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মনোনীত হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তৃণমূল কংগ্রেসের দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে রাজ্যের রাজনৈতিক মানচিত্র পরিবর্তনের অন্যতম কারিগর হিসেবে তাঁর এই উত্থান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আগামীকাল ২৫ বৈশাখ রবীন্দ্র জয়ন্তীর দিনে শপথ নেবেন।

    সূচনা ও তৃণমূল পর্ব (Suvendu Adhikari)

    শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়েছিল নব্বইয়ের দশকে জাতীয় কংগ্রেসের হাত ধরে। পরবর্তীতে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত সেনাপতি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। ২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম আন্দোলনে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকারের পতন ঘটিয়েছিল। কিন্তু এরপর ২০২১ সালের বিধানসভার নির্বাচনের আগে নিজের মন্ত্রীসভার পদ আর দায়িত্ব ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান করেছিলেন। এরপর  নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিরোধী দলনেতার ভূমিকায় কাজ করেন। অবশেষে দুই বার মমতাকে হারিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর পদে শপথ নেবেন বিজেপির এই বিধায়ক (West Bengal CM)।

    সাংসদ থেকে মন্ত্রী

    আসুন এক নজরে দেখে নিই তাঁর রাজনৈতিক জীবন –

    ১৯৯৫: রাজনৈতিক সূচনা

    পারিবারিক ঐতিহ্যের হাত ধরে রাজনীতিতে অভিষেক। কাঁথি পৌরসভার কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত হয়ে সংসদীয় রাজনীতির আঙিনায় প্রথম পদার্পণ করেন।

    ১৯৯৯: তৃণমূলের সংগঠক হিসেবে উত্থান

    কংগ্রেস ত্যাগ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান। সে বছর লোকসভা নির্বাচনে তমলুক কেন্দ্রে দলের জয়ের নেপথ্য কারিগরের ভূমিকা পালন করেন শুভেন্দু।

    ২০০১ – ২০০৪: প্রাথমিক চড়াই-উতরাই

    ২০০১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মুগবেড়িয়া এবং ২০০৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তমলুক কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও বামফ্রন্ট প্রার্থীদের কাছে পরাজিত হন।

    ২০০৬: প্রথম বিধানসভা জয়

    দক্ষিণ কাঁথি কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে প্রথমবারের মতো পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার সদস্য নির্বাচিত হন।

    ২০০৭ – ২০০৮: নন্দীগ্রাম আন্দোলন ও সাংগঠনিক ম্যাজিক

    ২০০৭ সালে নন্দীগ্রামের ভূমি রক্ষা আন্দোলনে তাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্ব তাঁকে রাজ্য রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসে। এর সুফল মেলে ২০০৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে, যেখানে তাঁর নেতৃত্বে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদ বামমুক্ত হয়। ওই বছরই তিনি যুব তৃণমূলের সভাপতির দায়িত্ব পান।

    ২০০৯: লোকসভায় জয় ও দিল্লি যাত্রা

    তমলুক লোকসভা কেন্দ্রে বাম দুর্গ ধসিয়ে দিয়ে বিপুল ভোটে সাংসদ নির্বাচিত হন। পাশাপাশি কাঁথি পৌরসভার চেয়ারম্যান পদের দায়িত্বও গ্রহণ করেন।

    ২০১১ – ২০১৪: ক্ষমতার কেন্দ্রে পদার্পণ

    রাজ্যে ঐতিহাসিক পরিবর্তনের পর মেদিনীপুর অঞ্চলে তাঁর রাজনৈতিক আধিপত্য আরও বৃদ্ধি পায়। ২০১৪ সালে পুনরায় তমলুক থেকে সাংসদ নির্বাচিত হন। তবে এই সময়েই দলের মধ্যে সাংগঠনিক রদবদল নিয়ে তাঁর কিছুটা অসন্তোষ তৈরি হয়।

    ২০১৬: মন্ত্রী হিসেবে অভিষেক

    নন্দীগ্রাম থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভায় যোগ দেন। পরিবহণ এবং সেচ দফতরের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রিত্বের দায়িত্বভার সফলভাবে সামলান।

    ২০১৯ – ২০২০: দূরত্ব ও ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত

    দলের অভ্যন্তরীণ রদবদল এবং পর্যবেক্ষকের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বাড়তে থাকে। অবশেষে ২০২০ সালের ১৯ ডিসেম্বর মেদিনীপুরে অমিত শাহের উপস্থিতিতে তৃণমূল ত্যাগ করে ভারতীয় জনতা পার্টিতে (BJP) যোগদান করেন।

    ২০২১: নন্দীগ্রামের যুদ্ধ ও বিরোধী দলনেতা

    বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করে এক অভাবনীয় জয় হাসিল করেন। ফলস্বরূপ, বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার গুরুদায়িত্ব তাঁর কাঁধে বর্তায়।

    ২০২৬: বাংলার প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী

    ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তাঁর নেতৃত্বে বিজেপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। বাংলার রাজনীতির ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় সূচনা করে তিনি পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মনোনীত হন।

    ২০২৬-এর ঐতিহাসিক জয়

    ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দু নিজের কেন্দ্র নন্দীগ্রাম থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে লড়েন। জিতেছিলেন ১৯৫৬ ভোটে। নিজের ঘরের মাঠে মমতাকে হারানোর পর এ বার মমতার পাড়ায় এসে তাঁকে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন শুভেন্দু। নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুর, দু’টি কেন্দ্র থেকে তিনি ভোটে (West Bengal CM) লড়েছেন। মমতার বিরুদ্ধে শুধু জয়ই পাননি, আগের চেয়ে সেই জয়ের ব্যবধানও অনেক বাড়িয়েছেন। ভবানীপুরে মমতাকে তিনি হারিয়েছেন ১৫ হাজারের বেশি ভোটে।

    বিজেপির প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে লক্ষ্য

    শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) বলেন, “আমাদের সরকারের মূল মন্ত্র হবে ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ এবং সবকা বিশ্বাস’। নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বেকারত্ব দূরীকরণ এবং বাংলাকে পুনরায় সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক প্রাণকেন্দ্রে পরিণত করাই  প্রশাসনের অগ্রাধিকার হবে। বাংলায় প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি যারা করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কমিশন গঠন করা হবে। যারা সরকারি অর্থ নয়ছয় করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেব। আগামী দিনে সংকল্পপত্রের প্রত্যেকটা সংকল্প সময়ের মধ্যে পূরণ করা হবে।”

    তৃণমূল নেত্রীর একসময়ের প্রধান সহযোগী থেকে আজ তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী এবং শেষ পর্যন্ত রাজ্যের মসনদে আসীন হওয়া— শুভেন্দু অধিকারীর এই রাজনৈতিক বিবর্তন বাংলার ইতিহাসে এক দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলবে।

  • Suvendu Adhikari: “আরজি কর থেকে সন্দেশখালি, সব ফাইল খুলব” মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আর কী কী বললেন শুভেন্দু?

    Suvendu Adhikari: “আরজি কর থেকে সন্দেশখালি, সব ফাইল খুলব” মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আর কী কী বললেন শুভেন্দু?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘কথা কম, কাজ বেশি’- পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বিজেপি তাঁর নামে সিলমোহর দেওয়ার পরই সেই বার্তা দিলেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নেতৃত্বে বিজেপির নব-নির্বাচিত বিধায়কদের বৈঠকের পরে বাংলার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী বলেন যে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের জন্য় বিজেপির সংকল্পপত্রে যা যা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, সেগুলি পূরণ করা হবে। বন্ধ করা হবে অনুপ্রবেশ। নিশ্চিত করা হবে মহিলাদের সুরক্ষা। সেইসঙ্গে শুভেন্দু দাবি করেন, ২০৩১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ৬০ শতাংশ ভোট পেতে হবে বিজেপিকে। শুক্রবার সন্ধ্যায় লোকভবনে গিয়ে রাজ্যপাল রবীন্দ্র নারায়ন রবির কাছে সরকার গঠনের দাবি জানালেন শুভেন্দু অধিকারী।

    দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর, নারী নিরাপত্তা নিয়ে সরব

    রাজ্যে সরকার গঠনের আগে থেকেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া অবস্থানের ইঙ্গিত দিলেন ভাবী মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার এক অনুষ্ঠানে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আরজি কর থেকে সন্দেশখালি, সব ফাইল খুলব। সব দুর্নীতির তদন্ত হবে।” তিনি জানান, এই সব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য বিশেষ কমিশন গঠন করা হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শুধু অপরাধ বা নারী নিরাপত্তার প্রশ্নই নয়, প্রশাসনিক স্তরে হওয়া দুর্নীতির বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থান নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন শুভেন্দু। তাঁর কথায়, “যাঁরা সরকারি অর্থ নয়ছয় করেছেন এবং প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে কমিশন গঠন করা হবে। কেউ ছাড় পাবে না।”

    বিজেপির নিহত কর্মীদের স্মরণ

    এদিন বক্তব্যের শুরুতেই বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে ধন্যবাদ জানান শুভেন্দু। তিনি বলেন, “সুনীল বনসল, ভূপেন্দ্র যাদব, অমিত মালব্য, মঙ্গল সিং সকলকে ধন্যবাদ। মোদিজি জিন্দাবাদ।” এরপরই আবেগঘন সুরে বিজেপির নিহত কর্মীদের স্মরণ করেন তিনি। শুভেন্দু বলেন, “আমি স্মরণ করতে চাই ৩২১ জন বিজেপি কর্মীকে, যাঁরা প্রাণ দিয়েছেন। যাঁরা ক্ষতবিক্ষত হয়েছেন, তাঁদের সব স্বপ্ন পূরণ হবে।” রাজনৈতিক সংঘর্ষে নিহত বিজেপি কর্মীদের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাসও দেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে বারবার উঠে আসে ‘পরিবর্তন’ এবং ‘ন্যায়বিচার’-এর প্রসঙ্গ। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর একাধিক পুরনো অভিযোগ ও মামলার তদন্তে গতি আসতে পারে বলেই রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের ধারণা।

    রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষে

    মুখ্যমন্ত্রী যে শুভেন্দুই হচ্ছেন, তা নিয়ে কৌতূহল থাকলেও খুব একটা সংশয় ছিল না পদ্মশিবিরে। ভোটের ফল ঘোষণার পর থেকে মুখ্যমন্ত্রীর পদে তাঁকেই সবচেয়ে জোরালো দাবিদার বলে মনে করা হচ্ছিল। কারণ, তিনি পর পর দু’বার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে ভোটের লড়াইয়ে পরাস্ত করেছেন। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দু নিজের কেন্দ্র নন্দীগ্রাম থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে লড়েন। জিতেছিলেন ১৯৫৬ ভোটে। নিজের ঘরের মাঠে মমতাকে হারানোর পর এ বার মমতার পাড়ায় এসে তাঁকে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন শুভেন্দু। নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুর, দু’টি কেন্দ্র থেকে তিনি ভোটে লড়েছেন। মমতার বিরুদ্ধে শুধু জয়ই পাননি, আগের চেয়ে সেই জয়ের ব্যবধানও অনেক বাড়িয়েছেন। ভবানীপুরে মমতাকে শুভেন্দু হারিয়েছেন ১৫ হাজারের বেশি ভোটে। এবার তাঁর রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষে বসার পালা।

  • Suvendu Adhikari: শুভেন্দুর মাথাতেই বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর মুকুট, শনিবার ব্রিগেডে শপথ নতুন মন্ত্রিসভার

    Suvendu Adhikari: শুভেন্দুর মাথাতেই বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর মুকুট, শনিবার ব্রিগেডে শপথ নতুন মন্ত্রিসভার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। শুক্রবার বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে বিজেপি বিধায়কদের সঙ্গে অমিত শাহের বৈঠকের পরই শুভেন্দু অধিকারীর নাম বিজেপির পরিষদীয় দলনেতা হিসেবে ঘোষণা করা হল। স্বাভাবিকভাবেই বিজেপির পরিষদীয় দলনেতাই মুখ্যমন্ত্রী হবেন। ভবানীপুর আসনে ১৫ হাজারের বেশি ভোটে রাজ্যের বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারান কাঁথির ছেলে শুভেন্দু। বর্তমানে তাঁর কাছে রয়েছে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর দুই বিধানসভা আসনই। তবে বিধায়ক হিসেবে তাঁকে একটি আসন ছাড়তে হবে।

    শুভেন্দুতেই স্বীকৃতি

    বিজেপির বাংলা জয়ে মোদী-শাহ জুটির ক্যারিশ্মা যেমন ম্যাজিক দেখিয়েছে, তেমনই কামাল করেছেন বাংলার ঘরের ছেলে শুভেন্দু অধিকারীও। পরপর দু’বার দুটি বিধানসভা ভোটে মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়কে হারিয়ে তিনি এখন ‘জায়ান্ট কিলার’। শুক্রবার সকালেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কলকাতায় পৌঁছে জরুরি বৈঠক করেন। সেখানে শুভেন্দুর নামই আগে রেখেছেন রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও। কলকাতায় আসার আগে দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গেও বৈঠক করেন শাহ। সূত্রের খবর, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠন এবং মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন নিয়েই মূলত আলোচনা হয়েছে ওই বৈঠকে। এরপর এদিন পরিষদীয় দলের বৈঠকে সর্সম্মতিক্রমে শুভেন্দুকে নেতা হিসেবে বেছে নেওয়া হয়।

    শুভেন্দুর বিপরীতে কোনও নামই ওঠেনি

    জল্পনা ছিলই। শুক্রবার বিজেপির ২০৭ জন জয়ী প্রার্থীর সঙ্গে বৈঠক করে শুভেন্দু অধিকারীকেই পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার পরিষদীয় দলনেতা বেছে নিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বিধায়কদলের বৈঠকের পর শাহ বলেন, ‘‘পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। আটটি প্রস্তাব এসেছিল। সব প্রস্তাবে একটিই নাম ছিল। দ্বিতীয় নামের জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কোনও দ্বিতীয় নাম আসেনি। তাই শুভেন্দু অধিকারীকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে ঘোষণা করছি।’’ শুভেন্দুর নেতৃত্বেই আগামী পাঁচ বছর রাজ্য চালাবে নির্বাচিত বিজেপি সরকার। শুভেন্দুর নাম ঘোষণার পর তাঁর হাত পদ্মফুল তুলে দিয়েও সংবর্ধনা জানান অমিত শাহ৷

    কীভাবে বাছা হল পরিষদীয় দলনেতা

    যে কোনও রাজ্যে নির্বাচনের পর বিধানসভার পরিষদীয় দলনেতা বাছাইয়ের সময় কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকদের সেই রাজ্যে পাঠান বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। এবার পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে প্রধান পর্যবেক্ষক করা হয়েছিল শাহকে। তাঁর সঙ্গে সহকারী পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছিলেন পড়শি রাজ্য ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি। তাঁদের তত্ত্বাবধানে শুক্রবার বিকেলে নিউ টাউনের বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে হবু বিধায়কদের বৈঠক হয়। সেখানেই সর্বসম্মতিক্রমে পরিষদীয় দলনেতা তথা মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দুর নাম স্থির হয়েছে। বৈঠকের পর নতুন মুখ্যমন্ত্রীর নাম ঘোষণা করেন বিজেপি নেতৃত্ব। বিধায়কদের সমর্থন নিয়ে শুভেন্দু এ বার লোক ভবনে যাবেন এবং রাজ্যপাল আরএন রবির কাছে সরকার গঠনের আর্জি জানাবেন।

    বাংলার মানুষের বিশ্বাস ভঙ্গ হবে না

    শুভেন্দুর নাম ঘোষণার পর শাহ বলেন, ‘‘গঙ্গোত্রী থেকে গঙ্গাসাগর পর্যন্ত সর্বত্র বিজেপি-র সরকার গঠিত হল। শ‍্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মভূমিতে শ‍্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আদর্শের অনুসারী সরকার তৈরি হয়েছে।’’ বাংলার নবম মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুকে শুভ কামনা জানিয়ে শাহ বলেন, ‘‘শুভেন্দুকে অনেকদিন চিনি, তিনি খুব লড়াকু ব্যক্তি। প্রশাসনিক দায়িত্বও সামলেছেন। আশা করি তাঁর নেতৃত্বে সোনার বাংলা গঠিত হবে।’’ নয়া মুখ্যমন্ত্রী ও বিধায়কদের অভিনন্দন জানিয়ে শাহ বলেন, ‘‘কমিউনিস্টরা যা পরিস্থিতি করে গিয়েছিল, মমতা আরও ভয় বাড়িয়ে দিয়েছিল তার মধ্যে বিজেপি আর আমাদের নেতা নরেন্দ্র মোদির ওপর ভরসা করে বাংলার মানুষ যে বিপুল বিজয় দিয়েছে সেজন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ। আমরা পুরো চেষ্টা করব আপনাদের বিশ্বাস ভঙ্গ না হয়। সব বিজেপি কার্যকর্তার দায়িত্ব সোনার বাংলার লক্ষ্য নিয়ে চলুক। সমস্ত দায়িত্ব পালন করুক।’’

    সুরক্ষিত বাংলা গড়ার আশ্বাস শাহ-এর

    দেশের সুরক্ষা প্রসঙ্গে শাহ বলেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গের সীমানা সুরক্ষিত করে পুরো দেশকে সুরক্ষিত করব।’’ দেশে থাকা সব অনুপ্রবেশকারীদের বের করা হবে বলে দাবি করেন তিনি। এও বলেন, গণতন্ত্রে হিংসাকে জায়গা দেওয়া হবে না। পানিহাটির বিধায়ক রত্না দেবনাথ প্রসঙ্গে শাহের মন্তব্য,‘‘বাংলা জুড়ে মা-বোনদের অত্যাচারের প্রতীক হয়ে উঠেছেন।’’ কলিতা মাঝি বাংলার সমস্ত আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া সকলের প্রতিনিধি বলে অভিহিত করেন। অঙ্গ-বঙ্গ-কলিঙ্গ-অসম আজ বিজেপির ছাতার তলায় এসে গেল। গুন্ডাগিরি, ভ্রষ্টাচার, দুর্নীতি বন্ধ হবে। ডবল ইঞ্জিন সরকার সুরক্ষিত বাংলা গড়বে। কলা-সাহিত্য-সংস্কৃতি আর শিক্ষার নেতৃত্ব করবে বাংলা। এখানে থিয়েটারে ট্রেনিং ইন্সটিটিউট তৈরি হবে।

    শান্তিকুঞ্জের বাড়িতে কড়া নিরাপত্তা

    শনিবার সকাল ১০টায় ব্রিগেড ময়দানে বাংলার প্রথম বিজেপি সরকারের শপথ অনুষ্ঠান হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শপথ অনুষ্ঠানে থাকবেন। থাকবেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ মন্ত্রী নিতিন গড়কড়ি, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান-সহ এক ডজনের বেশি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। দেশের ২০টি রাজ্যের বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারের মুখ্যমন্ত্রীরাও থাকবেন। সমস্ত দলকে শপথ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এককথায় জাঁকজমকপূর্ণ শপথ অনুষ্ঠান। আর আগামিকাল সেই শপথ অনুষ্ঠানেই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে চলেছেন শুভেন্দু। ইতিমধ্যে পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথিতে তাঁর শান্তিকুঞ্জের বাড়িতে নিরাপত্তা আঁটোসাঁটো করা হয়েছে।

  • Newtown BJP Worker: নিউটাউনে বিজেপি কর্মী খুন! নির্বাচন-পরবর্তী হিংসার অভিযোগে গ্রেফতার তৃণমূল নেতা সহ ৪

    Newtown BJP Worker: নিউটাউনে বিজেপি কর্মী খুন! নির্বাচন-পরবর্তী হিংসার অভিযোগে গ্রেফতার তৃণমূল নেতা সহ ৪

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে নির্বাচন-পরবর্তী (West Bengal Election 2026) রেশ কাটতে না কাটতেই নিউটাউনের (Newtown BJP Worker) এক বিজেপি কর্মীর অস্বাভাবিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে স্থানীয় এক তৃণমূল কংগ্রেস নেতা সহ ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অপরদিকে মালাদায় বিজেপি কর্মী খুনে এবার ২ জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। ঘটনার পর থেকেই এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। বিজেপির অভিযোগ দুই ক্ষেত্রেই তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা খুন করেছে বিজেপি কর্মীদের।

    ঘটনার প্রেক্ষাপট (Newtown BJP Worker)

    ৫ মে নিউটাউন থানা এলাকায় এক বিজেপি কর্মী মধু মণ্ডলকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠে। পরিবারের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়েই তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়েছিল। রাজারহাট-নিউটাউন বিধানসভার জয়ী বিজেপি প্রার্থীর সমর্থনে বিজয় মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন মধু। সেই সময় আচমকা ওই মিছিলে তৃণমূল আশ্রিত গুন্ডারা হামলা চালায়।  অভিযোগ, তৃণমূল নেতা কমল মণ্ডল এবং তার অনুগামীরা ওই বিজেপি কর্মীকে বেধড়ক মারধর করে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। মৃত বিজেপি কর্মীর পরিবারের পক্ষ থেকে স্থানীয় কয়েকজন তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। সেই অভিযোগের (West Bengal Election 2026) ভিত্তিতে তদন্তে নেমে পুলিশ সংশ্লিষ্ট তৃণমূল নেতাকে গ্রেফতার করেছে। ধৃত তৃণমূল নেতার নাম কমল মণ্ডল। টেকনো সিটি থানার পুলিশ বুধবার ভোরে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে। ধৃত ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এই ঘটনার নেপথ্যে আর কারা জড়িত, তা জানার চেষ্টা চলছে। রাজারহাট-নিউটাউন বিধানসভার জয়ী বিজেপি প্রার্থীর সমর্থনে বিজয় মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন মধু। সেই সময় আচমকা ওই মিছিলে তৃণমূল আশ্রিত গুন্ডারা হামলা চালায় বলে অভিযোগ। মহিলাদের উপর মারধরও করা হয়। তবে ব্যাপক মারধরের কারণেই মধু মণ্ডলের মতো বিজেপি কর্মীর মৃত্যু হয়েছে।

    রাজনৈতিক তরজা

    নির্বাচনের (West Bengal Election 2026) পর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বাকযুদ্ধ। বিজেপির (Newtown BJP Worker) অভিযোগ, জয়লাভের পর তৃণমূল কর্মীরা সুপরিকল্পিতভাবে বিরোধীদের ওপর আক্রমণ চালাচ্ছে। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে এবং জানানো হয়েছে যে, এটি একটি ব্যক্তিগত বিবাদের ফল এবং আইন তার নিজস্ব পথেই চলবে।

    পুলিশি পদক্ষেপ

    এলাকা শান্ত রাখতে এবং আর কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশি টহলদারি বাড়ানো হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ (West Bengal Election 2026) এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান সংগ্রহ করে ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত চালাচ্ছে নিউটাউন (Newtown BJP Worker) থানার পুলিশ। এলাকায় থমথমে পরিবেশ বজায় থাকলেও পরিস্থিতি বর্তমানে প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছে বিরোধী পক্ষ।

    ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা

    অন্যদিকে, মালদা জেলায় এক বিজেপি সমর্থককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই বর্বরোচিত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে দুজনকে গ্রেফতার করেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে চাপা উত্তেজনা রয়েছে। প্রাথমিক সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রাতে বাড়ি ফেরার পথে ওই ব্যক্তির ওপর অতর্কিতে হামলা চালায় একদল দুষ্কৃতী। ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর ওপর আঘাত করা হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

    ফোন করে ডেকে নিয়ে যায়

    বুধবার গভীর রাতে ইংরেজ বাজার পুরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের গাদুয়া মোড় এলাকায় হত্যা করা হয়। পরিবারের অভিযোগ, বুধবার রাতে কয়েকজন যুবক প্রথমে কিশানকে ফোন করে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। পরে মহেশপুরের বাগানপাড়া এলাকা থেকে, কিশানের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়। দেহের পাশ থেকে একটি বড় ছুরিও উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনার পরপরই তদন্তে নামে জেলা পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে উঠে আসা তথ্যের ভিত্তিতে তল্লাশি চালিয়ে দুই সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত মোটিভ বা উদ্দেশ্য জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। এটি রাজনৈতিক শত্রুতা নাকি ব্যক্তিগত বিবাদের জেরে ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা।

  • CM Oath Ceremony: থাকবেন মোদি-শাহ, তৈরি হচ্ছে হ্যালিপ্যাড, নতুন মুখ্যমন্ত্রীর ব্রিগেডের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে তারকা সমাবেশ

    CM Oath Ceremony: থাকবেন মোদি-শাহ, তৈরি হচ্ছে হ্যালিপ্যাড, নতুন মুখ্যমন্ত্রীর ব্রিগেডের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে তারকা সমাবেশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। বিশেষ সূত্রের খবর অনুযায়ী জানা গিয়েছে, রাজ্যের আসন্ন নতুন মুখ্যমন্ত্রীর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান (Cm Oath Ceremony) হবে ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে। এই অনুষ্ঠানকে এক অনন্য রূপ দিতে এবং জাতীয় স্তরে বার্তা পাঠাতে বিশাল আয়োজনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। থাকবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বিজেপি (Bengal BJP) শাসিত একাধিক রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং এনডিএ জোটের একাধিক নেতাদের উপস্থিতি থাকবে। সভাস্থলে তৈরি হচ্ছে হ্যালিপ্যাড থাকছে এলাহি আয়োজন। ২৫ শে বৈশাখ, শনিবার হবে শপথ গ্রহণ।

    রাজকীয় শপথ অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা (Cm Oath Ceremony)

    সচরাচর রাজভবনের লন বা প্রেক্ষাগৃহে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান হলেও, এবার তা জনসমক্ষে বিশাল আয়োজনে করার চিন্তাভাবনা চলছে। ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডকে এই বিশেষ মুহূর্তের (Cm Oath Ceremony) সাক্ষী হিসেবে বেছে নেওয়া হবে। বিজেপি স্বাধীনতার পর এই প্রথম সরকার গড়বে বঙ্গে। ফলে নেতা কর্মী সমর্থক এবং রাজ্যবাসীর জন্য বিশেষ চমক রেখেছে বিজেপি (Bengal BJP)। শনিবার সকাল ১০.৩০টায় কলকাতায় নামবেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান থাকবেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন। শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকার কথা বিজেপি শাসিত বা এনডিএ জোটের ২০টি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা।

    তারকা সমাবেশ ও ভিভিআইপি উপস্থিতি

    এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিত থাকার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়াও বিজেপির শীর্ষ কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এবং বিভিন্ন রাজ্যের বিজেপি শাসিত মুখ্যমন্ত্রীদেরও (Cm Oath Ceremony) আমন্ত্রণ জানানো হতে পারে। একই সঙ্গে এনডিএ শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং নেতারাও বঙ্গ বিজেপির নতুন মুখ্যমন্ত্রীর শপথ গ্রহণে থাকবেন বলে সূত্রের খবর।

    রাজ্যের মন্ত্রীসাভায় জায়গা পেতে পারেন বেশ কিছু বিজেপি নেতা। তাঁদের মধ্যে রিয়েছেন, অগ্নিমিত্রা পাল, রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, শঙ্কর ঘোষ, স্বপন দাশগুপ্ত, অজিত কুমার জানা, নিশীথ প্রামাণিক, সৌরভ শিকদার, দিলীপ ঘোষ, শারদ্বত মুখোপাধ্যায়, ইন্দ্রনীল খাঁ, দীপাঞ্জন চক্রবর্তী, জুয়েল মুর্মু, বঙ্কিম ঘোষ, নমন রাই, সজল ঘোষ, রুদ্রনীল ঘোষ, সুব্রত ঠাকুর।

    ব্রিগেডে প্রস্তুতি সম্পর্কে দেবজিৎ সরকার বলেন, “ব্যবস্থা আশা করি ভালোই হবে। পশ্চিমবঙ্গে প্রথম বাঙালির সরকার, জনতার সরকার, পশ্চিমবঙ্গবাসীর সরকার। বিজেপি বিধায়করা সরকার নিশ্চয়ই চালালেও, এটা মানুষের সরকার। টাইট সিকিওরিটি। কারণ সেদিনের জন্য সারা ভারতের পাওয়ার সেন্টার এখানে।”

    রাজনৈতিক গুরুত্ব

    কলকাতায় ব্রিগেডের ময়দান রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সেখানে শপথ গ্রহণ (Cm Oath Ceremony) অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হলে তা যেমন শাসক শিবিরের শক্তি প্রদর্শন হবে, তেমনই সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপনের একটি বিশেষ প্রয়াস হিসেবেও গণ্য হবে। উল্লেখ্য এই ২৫ বৈশাখ এবং শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠানকে বড় করে দেখছে বিজেপি (Bengal BJP)। রবীন্দ্রনাথের জন্ম দিনের দিনে বাঙালির আবেগকে কাজে লাগাবে বঙ্গের নতুন সরকার।

    নিরাপত্তা ও প্রস্তুতি

    প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতির কথা মাথায় রেখে ইতিমধ্যেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশাল জনসমাগমের কথা চিন্তা করে প্রয়োজনীয় পরিকাঠামোগত প্রস্তুতির (Cm Oath Ceremony) রূপরেখা তৈরি করা হচ্ছে। যদিও এই বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত কোনও সরকারি ঘোষণা আসেনি, তবে রাজনৈতিক মহলে কান পাতলে এই রাজকীয় শপথ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিয়ে জোর চর্চা শোনা যাচ্ছে। নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর এই পরিকল্পনার বিস্তারিত রূপরেখা স্পষ্ট হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

  • Suvendu Adhikari PA: শুভেন্দুর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ হত্যা মামলায় উদ্ধার দ্বিতীয় বাইক, চিহ্নিত একটি লাল গাড়ি

    Suvendu Adhikari PA: শুভেন্দুর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ হত্যা মামলায় উদ্ধার দ্বিতীয় বাইক, চিহ্নিত একটি লাল গাড়ি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari PA) আপ্তসহায়ক এগজিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট চন্দ্রনাথ রথের (Chandranath Rath) হত্যার তদন্তে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসছে। পুলিশি তদন্তে এবার একটি লাল রঙের গাড়ি এবং আরও একটি মোটরসাইকেলের যোগসূত্র পাওয়া গিয়েছে, যা এই মৃত্যুকে ঘিরে রহস্য আরও ঘনীভূত করেছে।

    তদন্তের বর্তমান পরিস্থিতি (Suvendu Adhikari PA)

    চন্দ্রনাথ হত্যার (Chandranath Rath) তদন্তকারী আধিকারিকরা ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ এবং স্থানীয় সূত্রে জানতে পেরেছেন যে, ঘটনার সময় ওই এলাকায় একটি লাল রঙের গাড়িকে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে যাতায়াত করতে দেখা গিয়েছিল। পাশাপাশি, পুলিশ আরও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে, যা এই ঘটনার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত বলে ধারণা করা হচ্ছে। বারাসতে ১১ নম্বর রেলগেটের ধারে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল ওই বাইক। চন্দ্রনাথের খুনের সঙ্গে এই বাইকের যোগ রয়েছে কি না, খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশের অনুমান, এটি নিছক কোনও হত্যা নয়। এর পেছনে বড় কারণ রয়েছে। শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়কের (Suvendu Adhikari PA) হত্যা কোন উদ্দেশ্যে করা হয়েছে, তাই এখন সন্ধান করছে বিশেষ তদন্তকারী দল।

    খুনের মামলা রুজু

    বুধবার (৬ মে) রাতে মধ্যমগ্রামে চন্দ্রনাথের গাড়ি আটকে তাঁকে পর পর গুলি করে হত্যা করে একদল দুষ্কৃতী। ঘটনার পর থেকেই পরিবারের সদস্যরা দাবি করে আসছিলেন যে, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তাঁদের অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ খুনের মামলা রুজু (Suvendu Adhikari PA) করে তদন্ত শুরু করে। সেদিন রাতে মধ্যমগ্রামের বাড়িতে ফিরছিলেন শুভেন্দুর আপ্ত-সহায়ক চন্দ্রনাথ রথ। রাত ১০ টা থেকে ১০টা ১৫ মিনিটের মধ্যে মধ্যমগ্রামে তাঁর গাড়ি থামিয়ে নির্বিচারে গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা। ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হন চন্দ্রনাথ এবং গাড়ির চালক বুদ্ধদেব বেরা। দ্রুত তাঁদের উদ্ধার করে মধ্যমগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চন্দ্রনাথকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। সঙ্কটজনক অবস্থায় আইসিইউতে ভর্তি গাড়ির চালক।

    তদন্তে যা পাওয়া গেছে

    • সন্দেহভাজন লাল গাড়ি: প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, দুর্ঘটনার ঠিক পরেই একটি লাল রঙের গাড়িকে দ্রুতবেগে এলাকা ছেড়ে চলে যেতে দেখা যায়। পুলিশ গাড়িটিকে শনাক্ত করার চেষ্টা করছে। ওই লাল গাড়ির কোনও হদিশ এখনও পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
    • বাইক উদ্ধার: প্রথম থেকেই একটি মোটরসাইকেলের কথা জানা থাকলেও, বর্তমানে উদ্ধার হওয়া দ্বিতীয় বাইকটি তদন্তে নতুন দিক উন্মোচন করেছে। ওই বাইকটি কার এবং কেন সেখানে ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
    • নিসান গাড়ি কারা কিনতে চেয়েছিল: ঘটনাস্থলে পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া মাইক্রা গাড়িটিকে বেচতে দেওয়া বিজ্ঞাপন দেখে যোগাযোগ করা হয়েছিল উত্তরপ্রদেশ থেকে, খবর পুলিশ সূত্রে। কারা যোগাযোগ করেছিল গাড়ির মালিকের সঙ্গে, তাঁদের সঙ্গে কি যোগাযোগ ছিল খুনিদের?

    তদন্তে ভিনরাজ্যে পাড়ি পুলিশের একটি দলের

    বৃহস্পতিবার চন্দ্রনাথ খুনের তদন্তের জন্য রাজ্য পুলিশ সিট গঠন করা হয়। সাত সদস্যের সিট-এর মাথায় রয়েছেন সিআইডি-র ডিআইজি পদমর্যাদার আধিকারিক। সেই সঙ্গে রয়েছেন বারাসত পুলিশের সদস্যেরা। তদন্তকারী টিমে রয়েছেন এসটিএফ, সিআইডি-র আধিকারিকদেরও। তদন্তে কোনও ফাঁক না রাখতে মধ্যমগ্রাম থানার আগের আইসি সতীনাথ চট্টরাজকে এলাকায় নিয়ে আসা হয়েছে। তাঁর কাছ থেকেও প্রয়োজনীয় ইনপুট নিচ্ছেন তদন্তকারীরা, খবর পুলিশ সূত্রে। আততায়ীদের খোঁজে একটি দল ভিনরাজ্যে পাড়ি দিয়েছে।

    কল রেকর্ড ও সিসিটিভি

    চন্দ্রনাথবাবুর (Chandranath Rath) মোবাইল ফোনের শেষ কয়েক ঘণ্টার কল রেকর্ড এবং রাস্তার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ গুরুত্বপূর্ণ কিছু সূত্র পেয়েছে। বিজেপি নেতৃত্বের (Suvendu Adhikari PA) পক্ষ থেকেও এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে এবং একটি নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ফরেন্সিক পরীক্ষার রিপোর্ট এবং পারিপার্শ্বিক তথ্যপ্রমাণ হাতে এলে এই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে। বর্তমানে তদন্ত প্রক্রিয়া অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এগোচ্ছে। মূল অপরাধীদের ধরতে সবরকম চেষ্টা করা হচ্ছে।

    একমাস আগেই কি খুনের পরিকল্পনা?

    সূত্রের খবর, সুপারি কিলার নিয়োগ করেই করা হয়েছে চন্দ্রনাথকে খুন। আনুমানিক এক থেকে দেড় মাস আগে এই খুনের ছক কষা হয়েছে। খুব ঠান্ডা মাথায় সুপরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয়েছে চন্দ্রনাথকে। আর তাই মাসখানেক আগে থেকেই কার কার সঙ্গে চন্দ্রনাথের (Chandranath Rath) বচসা হয়েছিল, এমন কোনও ঘটনা কিছু ঘটেছিল কি না, যাতে তাঁকে খুন করার প্রয়োজন হতে পারে, এই দিকগুলিও সন্ধান করে দেখা হচ্ছে। এক থেকে দেড় মাস আগে কার বা কাদের চন্দ্রনাথকে খুনের প্রয়োজন পড়ে থাকতে পারে, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    ভবানীপুরে হারের বদলার জেরে খুন চন্দ্রকান্ত?

    চন্দ্রনাথকে (Chandranath Rath) খুনের পর বৃহস্পতিবার মধ্যমগ্রাম থেকেই উদ্ধার করা হয় নিসান মাইক্রা গাড়ি। তাতে যে নম্বরপ্লেটটি ছিল, তা ভুয়ো। গাড়ির মালিক শিলিগুড়িতে থাকেন। বিক্রি করার জন্য গাড়ির নম্বর দিয়েছিলেন অনলাইনে। গাড়িটিতে মেলেনি কোনও ফিঙ্গারপ্রিন্ট। আততায়ীরা গ্লাভস পরে ছিল বলে সন্দেহ তদন্তকারীদের। হত্যাকারীরা বাইকের ইঞ্জিন নম্বরও ঘষে তুলে দিয়েছিল। দ্বিতীয় বাইকের ক্ষেত্রেও একই ভাবে ওই নম্বরের ঘষা রয়েছে বলে খবর। এখন বাইকটির মালিকানা যাচাই করা হচ্ছে। তবে এই হত্যাকাণ্ড ভবানীপুর হারের বদলা বলে মনে করছে বিজেপি। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই খুনের পিছনে রয়েছে বলে রাজনীতির একাংশের মানুষের দাবি।

  • Central Welfare Schemes: সরকার গড়ছে বিজেপি, বঙ্গে দ্রুত চালু হতে পারে আটকে থাকা বহু কেন্দ্রীয় প্রকল্প

    Central Welfare Schemes: সরকার গড়ছে বিজেপি, বঙ্গে দ্রুত চালু হতে পারে আটকে থাকা বহু কেন্দ্রীয় প্রকল্প

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বঙ্গের ২০৬টি আসনে জয়ী হয়েছে বিজেপি (BJP Bengal Win)। তৃণমূলের ঝুলিতে গিয়েছে প্রায় ৮০টি আসন। বিজেপির (BJP) এই বিপুল জয় এখন কেন্দ্রীয় সরকারের বহু গুরুত্বপূর্ণ কল্যাণমূলক প্রকল্পের (Central Welfare Schemes) অর্থ বরাদ্দ ও বাস্তবায়নের পথ খুলে দিতে পারে। এই প্রকল্পগুলি দীর্ঘদিন ধরে আটকে ছিল নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকারের রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের কারণে। জানা গিয়েছে, বিজেপির ঐতিহাসিক জয়ের পর অন্তত সাতটি কেন্দ্রীয় প্রকল্প পশ্চিমবঙ্গে আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হতে পারে।

    আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প (Ayushman Bharat)

    এই তালিকায় প্রথমেই রয়েছে কেন্দ্রের স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্প আয়ুষ্মান ভারত-প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা (AB-PMJAY)। এবার পশ্চিমবঙ্গে চালু হতে চলেছে এই যোজনা। এই প্রকল্পে পরিবার পিছু বছরে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ক্যাশলেস চিকিৎসার সুবিধা মিলবে। দিল্লিতে বিজেপি সদর দফতরে বিজয় ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পশ্চিমবঙ্গে এই প্রকল্প চালুর (Central Welfare Schemes) কথা ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, “বাংলায় মহিলারা নিরাপত্তার পরিবেশ পাবেন, যুবসমাজ কর্মসংস্থান পাবে। রাজ্য থেকে কাজের খোঁজে ভিন রাজ্যে যাওয়া বন্ধ হবে। প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পকে অনুমোদন দেওয়া হবে।” পশ্চিমবঙ্গ ছাড়া দেশের ৩৫টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এই সরকারি স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্প চালু রয়েছে। যদিও এটি কেন্দ্রীয়ভাবে পৃষ্ঠপোষকতাপ্রাপ্ত প্রকল্প, এর ব্যয় কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার যৌথভাবে বহন করে। পশ্চিমবঙ্গে এই প্রকল্পের প্রায় ৭৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং কেন্দ্রের ৪.৫৬ মিলিয়ন বাড়ি নির্মাণের লক্ষ্যের কাছাকাছি পৌঁছেছে। তবে উপভোক্তা নির্বাচনে অনিয়ম ও প্রকল্পের নাম পরিবর্তনের অভিযোগে বারবার বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে, কেন্দ্রীয় সংস্থার তরফে তদন্তও হয়েছে। গ্রামীণ ও শহুরে আবাসন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়িত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে (BJP)।

    প্রসঙ্গত, সারা দেশে প্রকল্পটির নাম ‘আয়ুষ্মান ভারত’। যদিও পশ্চিমবঙ্গে ‘স্বাস্থ্যসাথী’ নামেই চলেছে প্রধানমন্ত্রীর জন আরোগ্য যোজনার কাজ। ২০১৮ সালে কেন্দ্রের এই প্রকল্পে যোগ দিয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের সরকার। সেই সময় স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে জানা গিয়েছিল,  ‘আয়ুষ্মান ভারত’ (Ayushman Bharat) প্রকল্পে সারা দেশে যে দশ কোটি পরিবারকে চিকিৎসা ভাতার অধীনে আনা হচ্ছিল, তার মধ্যে ছিল পশ্চিমবঙ্গের এক কোটি ১২ লক্ষ পরিবারও। আর্থ-সামাজিক জাতি গণনা অনুযায়ী এই এক কোটি ১২ লাখ পরিবারকে চিহ্নিত করেছিল কেন্দ্রীয় সরকার। রাজ্যে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে দেড় লাখ টাকার বিমার সুবিধা পায় লাখ চল্লিশেক পরিবার। ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্পটি ‘স্বাস্থ্যসাথী’র সঙ্গে মিলিয়ে দেওয়ায় রাজ্যে দেড় কোটিরও বেশি পরিবার চিকিৎসা বিমার সুবিধা পাবে বলে সেই সময় (BJP) জানিয়েছিল রাজ্য।

    স্বাস্থ্য দফতরের এক কর্তা জানিয়েছিলেন, মূলত ‘হাইব্রিড’ পদ্ধতিতে এই প্রকল্পটি পরিচালনা করা হবে। স্বাস্থ্য দফতর নিজেরাই ট্রাস্ট তৈরি করে চিকিৎসা বিমার খরচ মেটাবে (Central Welfare Schemes)। বেসরকারি বিমা কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি শেষ হওয়ার আগে পর্যন্ত তাদের মাধ্যমেও একাংশের বিমার প্রিমিয়াম মেটানো হবে। পরে সকলের চিকিৎসা খরচই মেটানো হবে রাজ্যের ট্রাস্ট থেকে। এত দিন ৪০ লাখের কিছু বেশি পরিবারের বার্ষিক প্রিমিয়ামের পুরো টাকাটাই রাজ্য সরকারকে মেটাতে হত। গড়ে এক-এক জনের প্রিমিয়াম বাবদ দিতে হত ৫৮০ টাকা। কেন্দ্রীয় প্রকল্পে যোগ দেওয়ায় প্রায় সওয়া কোটি পরিবারের স্বাস্থ্য বিমার ৬০ শতাংশ টাকা (Central Welfare Schemes) দেবে কেন্দ্র। রাজ্য সরকার দেবে বাকি ৪০ শতাংশ। ফলে রাজ্যেও অনেক কম খরচে জেলা হাসপাতাল থেকে মেডিক্যাল কলেজগুলিতে বেশি মানুষকে চিকিৎসা বিমার সুবিধা দেওয়া যাবে। বেসরকারি ক্ষেত্রেও এই সুবিধা মিলবে। যদিও বাংলায় এই প্রকল্পের নাম ছিল স্বাস্থ্যসাথী। সর্বত্র সুবিধা মিলত না বলেও অভিযোগ। বিজেপি (BJP) জমানায় এবার ফের শুরু হবে থমকে থাকা আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের কাজ।

    প্রধানমন্ত্রী মৎস্য সম্পদ যোজনা

    পশ্চিমবঙ্গের মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের জন্য কার্যকর হতে পারে প্রধানমন্ত্রী মৎস্য সম্পদ যোজনা। এর মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা, বিমা এবং আধুনিক সরঞ্জাম দেওয়া হবে (Central Welfare Schemes)। পশ্চিমবঙ্গে জল জীবন মিশনের অগ্রগতি উল্লেখযোগ্য নয়। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত গ্রামীণ এলাকার ৫৬.৪৬ শতাংশ পরিবার পাইপলাইনের পানীয় জলের সংযোগ পেয়েছে। সংসদে দেওয়া এক প্রশ্নের উত্তরে কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, ২০১৯-২০ থেকে ২০২৩-২৪ পর্যন্ত কেন্দ্রের বরাদ্দ ২৪,৬৪৫ কোটি টাকার মধ্যে রাজ্য মাত্র ৫৩ শতাংশ ব্যবহার করতে পেরেছে। কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে প্রস্তাব জমা ও নথিপত্র সংক্রান্ত দেরিকে।

    পিএম শ্রী স্কুল প্রকল্প

    পশ্চিমবঙ্গে স্থগিত রয়েছে পিএম শ্রী স্কুল প্রকল্পের কাজ। কেন্দ্রের পয়সায় চলা এই মডেল স্কুলগুলি এবার চালু হতে পারে। এতে উন্নত হবে শিক্ষার পরিকাঠামো। পশ্চিমবঙ্গ কেন্দ্রীয় ফসল বিমা প্রকল্প থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল। এখন প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনার মাধ্যমে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসলের ক্ষতির বিরুদ্ধে কৃষকরা সুরক্ষা পাবেন এবং সময়মতো ক্ষতিপূরণও পাবেন (Central Welfare Schemes)। প্রথাগত কারিগর ও শিল্পীদের সাহায্যের উদ্দেশ্যে চালু হয়েছে পিএম বিশ্বকর্মা যোজনা। এই প্রকল্পের মাধ্যমে তাঁতি, কুমোর, কামার-সহ দক্ষ শ্রমিকরা প্রশিক্ষণ, আধুনিক সরঞ্জাম এবং জিরো ব্যালেন্স অ্যাকাউন্টেও ঋণের সুবিধা পাবেন, যা তাঁরা আগে পেতেন না (BJP)।

    প্রসঙ্গত, সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছে বিজেপি (BJP Bengal Win)। রাজ্যের ২০৬টি আসন জিতে দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে পদ্মশিবির। উৎখাত করেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনকে। যে শাসনের গেরোয় (Central Welfare Schemes) গত ১৫ বছর ধরে হাঁসফাঁস করছিলেন বঙ্গবাসী!

     

  • West Bengal Assembly: নতুন করে সাজছে বিধানসভা! মন্ত্রীদের ঘর থেকে খুলে ফেলা হল মমতার ছবি

    West Bengal Assembly: নতুন করে সাজছে বিধানসভা! মন্ত্রীদের ঘর থেকে খুলে ফেলা হল মমতার ছবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলায় ভোটপর্ব মিটেছে। ১৫ বছর পর ফের একবার ক্ষমতার পালাবদলের সাক্ষী রইল বঙ্গভূমি। শনিবারই নতুন সরকার গড়বে বিজেপি। ইস্তফা না-দিলেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর মন্ত্রিসভা এখন ‘প্রাক্তন’। বিধানসভার (West Bengal Assembly) স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, চিফ হুইপ বা মুখ্য সচেতক, এবং ডেপুটি চিফ হুইপের ঘরগুলি আপাতত বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেখানে ঢুকতে পারবেন না কেউই। বিধানসভা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্তর থেকে। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার মূলত এই নির্দেশ বহাল থাকছে। নতুন সরকার শপথ নেওয়ার পরে আবার পুনরায় কাজ কর্ম শুরু হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

    সরল মমতার ছবি

    ইতিমধ্যেই বিধানসভার মন্ত্রীদের ঘর থেকে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমস্ত ছবি খুলে ফেলা হয়েছে। এখনও মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেননি মমতা। এরইমধ্যে দেশের সংবিধান মেনে আগের সরকার ভেঙে দিয়েছেন রাজ্যপাল আরএন রবি। করেছেন ভারতীয় সংবিধানের ১৭৪ নম্বর অনুচ্ছেদের (২) নম্বর দফার (খ) উপ-দফা মারফত প্রাপ্ত ক্ষমতার প্রয়োগ। ইতিমধ্যে বিবৃতি জারি করে পুরনো বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিয়ালা। তবে, সরকার ভেঙে দিলেও মুখ্যমন্ত্রী মমতাকে বরখাস্ত করেননি রাজ্যপাল আরএন রবি। আসলে কোনও মুখ্যমন্ত্রী ভোটে পরাজিত হয়েও যে রীতি এবং রেওয়াজ মেনে রাজ্যপালের কাছে ইস্তফা না-দিতে পারেন, তেমন ‘অভিনব’ পরিস্থিতির কথা সংবিধান প্রণেতাদেরও মাথায় আসেনি। সংবিধান বিশেষজ্ঞদের একাংশ বলছেন, এই পরিস্থিতিকে একটা ‘ফ্রিকিশ ইনসিডেন্ট’ (খামখেয়াল) হিসেবে দেখা যেতে পারে। কারণ, রাজ‍্যের বিধানসভা ভেঙে দেওয়া হল মানে মন্ত্রিসভার আর অস্তিত্ব রইল না। স্বাভাবিকভাবেই মুখ্যমন্ত্রীও হয়ে গেলেন প্রাক্তন।

    সাজছে বিধানসভা

    ইতিমধ্যে বিধানসভায় বিভিন্ন মন্ত্রীদের ঘরে বা অন্যত্র কোথাও কোনও সমস্যা থাকলে সেখানে মেরামতির কাজ চলছে। যেমন কোনও সুইচ বোর্ডের সমস্যা থাকলে, কোথাও শীততাপ যন্ত্রের সমস্যা থাকলে মেরামত করার কাজ চলছে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার কাজ চলছে গোটা বিধানসভাজুড়েই। একইভাবে বিধানসভার অ্যানেক্স বিল্ডিংয়ে বারবার প্রয়োজনীয় পরিদর্শন করছেন পূর্ত দফতরের আধিকারিকরা। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপও করছেন। নতুন নতুন নির্দেশও দেওয়া হচ্ছে কর্মীদের। সূত্রের খবর, ওখানেই তৈরি হচ্ছে মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয়। গোটা বিধানসভায় বাড়ানো হয়েছে পুলিশি বন্দোবস্ত। এমনকি, মুখ্যমন্ত্রীর ঘরের করিডরের সামনে বসানো হয়েছে পুলিশ প্রহরা।

  • Jamaat Video Row: “দিল্লির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করুন”, মমতাকে ‘পরামর্শ’ বাংলাদেশের জামাত নেতার, ভাইরাল ভিডিওয় ব্যাপক চাঞ্চল্য

    Jamaat Video Row: “দিল্লির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করুন”, মমতাকে ‘পরামর্শ’ বাংলাদেশের জামাত নেতার, ভাইরাল ভিডিওয় ব্যাপক চাঞ্চল্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী তৃণমূলের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) নির্বাচনী পরাজয়ের পর পদত্যাগ না করার আহ্বান জানান বাংলাদেশের জামাত নেতা মহম্মদ নুরুল হুদা (Jamaat Video Row)। মমতাকে তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সংঘাত আরও তীব্র করার পরামর্শও দেন। হুদার এই ভিডিও বার্তার জেরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

    দিল্লির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করুন (Jamaat Video Row)

    হুদার ভিডিওটি দ্রুত সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিও ফুটেজটির ভাষা ও প্রকাশের সময়কাল দ্রুতই একে একটি রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে পরিণত করে। ওই ভিডিও বার্তায় হুদা সরাসরি মমতার উদ্দেশে বলেন, “পদত্যাগ করবেন না, দিল্লির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করুন।” বাংলাদেশি এক মুসলমান নেতার এহেন মন্তব্য এবং পরামর্শই হয়ে উঠেছে বিতর্কের মূল বিষয়। হুদা পশ্চিমবঙ্গকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করার কথাও বলেন। এতে আরও চড়ে যায় বিতর্কের পারা।ভারতের রাজনৈতিক দলের নেতারা হুদার এই মন্তব্যকে অত্যন্ত উসকানিমূলক আখ্যা দেন। হুদার দাবি, বাংলাদেশের ১৭ কোটি মুসলমান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সমর্থন করবে। তাঁর এই বক্তব্য বিতর্কে আন্তর্জাতিক মাত্রা যোগ করেছে, বাড়িয়ে দিয়েছে রাজনৈতিক নজরদারি।

    মন্তব্যের তীব্র নিন্দা বিজেপির

    বিজেপির তরফে হুদার এই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা করা হয়েছে। বিজেপি নেতারা এসব মন্তব্যকে বিপজ্জনক এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁদের প্রশ্ন, “কেন একটি বিদেশি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে মন্তব্য করছেন?” বিজেপি-বিরোধী শিবিরের একাধিক নেতাও হুদার এই মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন। তাঁদের মতে, এই ধরনের মন্তব্য উসকানিমূলক এবং যথোপযুক্ত নয়। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এই ধরনের রাজনৈতিক বার্তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়া নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। এদিকে, তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল এই বিতর্ককে গুরুত্বহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তাদের বক্তব্য, বাইরের রাজনৈতিক মন্তব্য পশ্চিমবঙ্গের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় কোনও প্রভাব ফেলে না (Mamata Banerjee)।

    মুখ্যমন্ত্রী পদে ইস্তফা দেননি মমতা

    সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে গোহারা হেরেছে তৃণমূল। দলের কান্ডারি মমতা স্বয়ং নিজের কেন্দ্র ভবানীপুরে বিজেপির শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ধরাশায়ী হয়েছেন। ২৯৩টি আসনে নির্বাচন হয়েছিল (Jamaat Video Row)। তার মধ্যে বিজেপি জয়ী হয় ২০৭টি আসনে। নির্বাচনে দলের করুণ ফলের পরেও মুখ্যমন্ত্রী পদে ইস্তফা দেননি মমতা। তার জেরে বঙ্গে বেড়েছে রাজনৈতিক উত্তেজনা। নির্বাচনের ফল এবং ভোট-পরবর্তী রাজনৈতিক বয়ান এখনও রাজ্য-রাজনীতির চর্চার প্রধান বিষয়। এহেন আবহে হুদার ভাইরাল হওয়া ভিডিও ফুটেজটি রাজ্যের রাজনৈতিক সংঘাতকে আরও তীব্র করেছে। প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলগুলি এই বিতর্ককে একে অপরের বিরুদ্ধে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।

    আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য

    ভিডিওটির সত্যতা নিয়ে অবশ্য প্রশ্ন তোলা হয়নি। তা সত্ত্বেও এর রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে অব্যাহত বিতর্ক। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের একটা অংশের মতে, এই ধরনের ভাষা উত্তেজনা বাড়াতে পারে, পরিস্থিতিকে আরও ঘোরালো এবং অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। কারও কারও মতে, এই জাতীয় মন্তব্য অতিরঞ্জিতভাবে প্রচার করা হয়েছে। ভিডিওটি অনলাইনে ভাইরাল হওয়ায় এই বিতর্ক এখন রাজনৈতিক ভাষা, ডিজিটাল প্রচার (Mamata Banerjee) এবং ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে সীমান্তপারের মন্তব্য নিয়ে ব্যাপক চর্চার বিষয়ে পরিণত হয়েছে (Jamaat Video Row)।

  • Mamata Banerjee: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পদত্যাগে অস্বীকার করায় বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আর.এন. রবি

    Mamata Banerjee: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পদত্যাগে অস্বীকার করায় বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আর.এন. রবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর এক নজিরবিহীন সাংবিধানিক সংকটের সাক্ষী থাকল রাজ্য। নির্বাচনী বিপর্যয়ের পরেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) পদত্যাগে অস্বীকার করায় শেষ পর্যন্ত বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল আর.এন. রবি (R N Ravi)।

    ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২০৭টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের আসন সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৮০-তে। এমনকি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং ভবানীপুর কেন্দ্রে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ১৫ হাজারেরও বেশি ভোটে পরাজিত হয়েছেন।

    অচলাবস্থার মূল কারণ (Mamata Banerjee)

    সাধারণত পরাজয়ের পর বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যপালের (R N Ravi) কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে তিনি পদত্যাগ করবেন না। তাঁর অভিযোগ:

    • নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী মিলে ‘ভোট লুট’ করেছে।
    • নির্বাচনী ফলাফলকে তিনি ‘চক্রান্ত’ এবং ‘জালিয়াতি’ বলে অভিহিত করেছেন।
    • তাঁর দাবি, জনমতকে জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে, তাই নৈতিকভাবে তিনি পদত্যাগ করতে বাধ্য নন।রাজ্যপালের কড়া পদক্ষেপ

    রাজ্য সরকারের বর্তমান মেয়াদের শেষ দিন ছিল ৭ মে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) মুখ্যমন্ত্রী স্বেচ্ছায় পদ না ছাড়ায় এবং নতুন সরকার গঠনের পথ প্রশস্ত না হওয়ায় সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগ করেন রাজ্যপাল আর.এন. রবি (R N Ravi)। বৃহস্পতিবার দুপুর নাগাদ তিনি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার নির্দেশ দেন। রাজ্যপালের এই পদক্ষেপের ফলে বিদায়ী মন্ত্রিসভার আইনি বৈধতা আর রইল না।

    আইনি বিশেষজ্ঞদের মত

    প্রবীণ আইনজীবীদের মতে, যখন কোনও সরকার নির্বাচনে গরিষ্ঠতা হারায় এবং মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerjee) পদত্যাগ করতে অস্বীকার করেন, তখন রাজ্যপালের হাতে বিধানসভা ভেঙে দেওয়া ছাড়া আর কোনও বিকল্প থাকে না। পরিস্থিতি জটিল হলে পুলিশি সহায়তায় প্রশাসনিক ভবন খালি করার মতো কঠোর পদক্ষেপও নেওয়া হতে পারে।

    রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

    বিজেপি শিবির এই ঘটনাকে ‘গণতন্ত্রের জয়’ হিসেবে দেখছে এবং দ্রুত শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি শুরু করেছে। অন্যদিকে, অখিলেশ যাদবের মতো বিরোধী নেতারা কলকাতায় এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) সঙ্গে দেখা করেছেন। রাজ্য রাজনীতির এই উত্তাল পরিস্থিতিতে এখন সবার নজর নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়ার দিকে।

LinkedIn
Share