Category: রাজ্য

Get West Bengal News, Bengali Breaking News, Latest News in Bengali only from মাধ্যম | Madhyom, Bengali News Portal for সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর

  • Municipal Election 2026: পুজোর পরই পুরভোটের বাদ্যি! নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে কলকাতা-হাওড়াসহ ৭ পুরসভায় ভোটের প্রস্তুতি

    Municipal Election 2026: পুজোর পরই পুরভোটের বাদ্যি! নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে কলকাতা-হাওড়াসহ ৭ পুরসভায় ভোটের প্রস্তুতি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দুর্গাপুজোর আবহ কাটতে না কাটতেই রাজ্যে ফের ভোটের প্রস্তুতি। কলকাতা ও হাওড়া পুরনিগম-সহ মোট সাতটি পুরসভায় নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে ভোট হতে পারে বলে প্রশাসনিক ও নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর। যদিও এখনও পর্যন্ত ভোটের দিন আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা হয়নি। কমিশনের প্রস্তুতি অনুযায়ী, অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে বিজ্ঞপ্তি জারি করে নভেম্বরের ২৭ থেকে ২৯ তারিখের মধ্যে ভোটগ্রহণ করা হতে পারে। ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই ফলপ্রকাশের লক্ষ্যে এগোচ্ছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন।

    কোন সাত পুরসভায় ভোট?

    প্রথম দফায় কলকাতা ও হাওড়া পুরনিগমের পাশাপাশি বালি, হলদিয়া, ধূপগুড়ি, কালিম্পং এবং কার্শিয়াং পুরসভায় ভোট হওয়ার কথা। এই সাতটি পুর এলাকায় প্রায় ৬,৩০০-৬,৪০০ বুথে ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি চলছে। কমিশনের সাম্প্রতিক পরিকল্পনায় ৬,৩০১টি বুথের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

    সম্ভাব্য সূচি অনুযায়ী, অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে নির্বাচনের বিজ্ঞপ্তি জারি হতে পারে। এরপর নভেম্বরের ২৭, ২৮ অথবা ২৯ তারিখের মধ্যে ভোটগ্রহণের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ভোটের ফল ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে। গোটা নির্বাচনী প্রক্রিয়া ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে বলে সূত্রের খবর।

    জেলাশাসকদের সঙ্গে কমিশনের বৈঠক

    ভোটের প্রস্তুতি নিয়ে শুক্রবার সংশ্লিষ্ট জেলার জেলাশাসকদের সঙ্গে ভিডিয়ো কনফারেন্সে বৈঠক করছেন রাজ্য নির্বাচন কমিশনার কৃষ্ণ গুপ্ত। ভোটকেন্দ্র, ভোটকর্মী, ইভিএম, ভোটার তালিকা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং অন্যান্য পরিকাঠামোগত প্রস্তুতি নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হওয়ার কথা। একই সঙ্গে ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস এবং আসন সংরক্ষণ সংক্রান্ত বিষয়ও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

    কমিশনের প্রস্তুতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে ইতিমধ্যেই ভোটকর্মী বাছাই ও প্রশিক্ষণের প্রক্রিয়াও এগোনোর কথা জানানো হয়েছে। সাতটি পুর এলাকায় কয়েক হাজার ভোটকর্মীর প্রয়োজন হবে। সামগ্রিকভাবে ভোট পরিচালনার জন্য বুথভিত্তিক কর্মী নিয়োগ, তাঁদের বর্তমান দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি এবং প্রশিক্ষণের মতো বিষয়গুলিও এখন কমিশনের অগ্রাধিকারে।

    রাজ্যে এল ২১ হাজারের বেশি ইভিএম

    পুরভোটের প্রস্তুতিতে বড় পদক্ষেপ হিসেবে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের হাতে পৌঁছেছে ২১ হাজারের বেশি ইভিএম। প্রথম দফায় ২১,১৮৪টি ব্যালট ইউনিট এবং ১৯,৫৬৪টি কন্ট্রোল ইউনিট পাঠানো হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

    এই ইভিএমের একটি অংশ নভেম্বরের সাত পুরসভার নির্বাচনে ব্যবহার করা হবে। বাকি ইভিএম পরবর্তী ধাপে রাজ্যের অন্যান্য পুরসভা ও পুরনিগমের নির্বাচনে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে। সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, সাতটি পুর এলাকার জন্য প্রায় ৬,৪০০ ইভিএম ব্যবহারের প্রস্তুতি রয়েছে।

    হাওড়ায় দীর্ঘ অপেক্ষার পর ভোট

    এই নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিশেষ নজরে রয়েছে হাওড়া পুরনিগম। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচিত পুরবোর্ড নেই। ২০১৩ সালে শেষবার পুরভোট হয়েছিল এবং ২০১৮ সালে নির্বাচিত বোর্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকে প্রশাসকের মাধ্যমে পুর পরিষেবা পরিচালিত হচ্ছে। বর্তমানে রাজ্যের ১২টি জেলার মোট ১৫টি পুরসভায় নির্বাচিত পুরবোর্ড নেই বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর।

    কলকাতা পুরনিগমের ক্ষেত্রেও ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস ও আসন সংরক্ষণের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ভোটের আগে এই সংক্রান্ত প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। সংরক্ষণ পদ্ধতি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলির একাংশ আপত্তি জানিয়েছে বলে সূত্রের খবর। কমিশনের বৈঠকে সেই বিষয়গুলিও গুরুত্ব পেতে পারে।

    ভোটার তালিকা নিয়েও নজর

    এবারের পুরভোটে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত ভোটার তালিকাকেই ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করবে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। অর্থাৎ বিধানসভা নির্বাচনের জন্য প্রকাশিত ভোটার তালিকাই পুরভোটের ক্ষেত্রেও কার্যকর হবে; মূল পরিবর্তন হবে সংশ্লিষ্ট ভোটারদের বুথ বিন্যাসে।

    এই পরিস্থিতিতে ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর ঘিরে যেহেতু একাধিক আবেদন ও আপত্তি এখনও প্রক্রিয়াধীন, তাই পুরভোটের আগে ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিষয়গুলির দিকে নজর রাখছে কমিশন। কলকাতা পুর এলাকার এসআইআর-সংক্রান্ত বহু আবেদন এখনও ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন রয়েছে বলে সাম্প্রতিক রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

    হীত

    ভোটের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি এখনও প্রকাশিত না হলেও রাজনৈতিক দলগুলির প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। তৃণমূল নেতা বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় জানান, বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে। ডিলিমিটেশন নিয়ে দলের বক্তব্য আগেই জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে নিয়ম মেনে নির্বাচন করার বিষয়েও দলের অবস্থান থাকবে বলে জানান বৈশ্বানর।

    বিজেপির প্রধান মুখপাত্র দেবজিত সরকার জানান, তাঁদের দল সবসময় নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত থাকে। পুরভোটকে রাজ্যের নগর প্রশাসন ও উন্নয়নের প্রশ্নের সঙ্গে যুক্ত করে তিনি বলেন, মানুষের কাছে দলের পরিকল্পনা তুলে ধরা হবে।

    তবে রাজনৈতিক দলগুলির প্রস্তুতির মধ্যেই এখন মূল নজর নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তির দিকে। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরই ভোটের দিন, মনোনয়ন, প্রচার, ভোটগ্রহণ ও গণনার চূড়ান্ত সময়সূচি স্পষ্ট হবে।

    সব মিলিয়ে, পুজোর পরেই রাজ্যে ফের ভোটের আবহ তৈরি হতে চলেছে। কলকাতা, হাওড়া-সহ সাত পুর এলাকায় নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে ভোট করানোর লক্ষ্যে প্রশাসনিক প্রস্তুতি যে ইতিমধ্যেই জোরকদমে শুরু হয়েছে, ইভিএম পাঠানো থেকে জেলাশাসকদের সঙ্গে বৈঠক—একাধিক পদক্ষেপেই তার ইঙ্গিত মিলছে।

  • Suvendu Adani Meeting: শুভেন্দু-আদানির ‘সৌজন্য’ বৈঠকে রাজ্যে শিল্প ভাবনা নিয়ে আলোচনা

    Suvendu Adani Meeting: শুভেন্দু-আদানির ‘সৌজন্য’ বৈঠকে রাজ্যে শিল্প ভাবনা নিয়ে আলোচনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলায় শিল্প ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে গৌতম আদানির ‘সৌজন্য’ বৈঠক (Suvendu Adani Meeting)। আদানি গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান গৌতম আদানি ও তাঁর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও শিল্প পরিকাঠামোকে পুনরায় মজবুত করতে আদানি শিল্পগোষ্ঠীর প্রধান গৌতম আদানির কাছে খোলাখুলি সাহায্যের আবেদন জানালেন মুখ্যমন্ত্রী। আদানিদের পাশে বসিয়ে তিনি বলেন, ‘আদানিজি আমাকে সাহায্য করুন।’ ভরসার হাত বাড়ালেন আদানিও। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) ভূয়সী প্রশংসা করে শিল্পপতি গৌতম আদানি (Gautam Adani) বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে শিল্প ও বিনিয়োগের ইতিবাচক আবহাওয়া তৈরি হয়েছে! ভারত এখন নতুন আশা নিয়ে পূর্ব ভারতের দিকে তাকাচ্ছে।”

    শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসায় আদানি

    মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) ভূয়সী প্রশংসা করলেন শিল্পপতি গৌতম আদানি (Gautam Adani)। বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে আদানি বলেন, “শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরে বাংলায় শিল্পের জন্য একটি সম্পূর্ণ ভয়মুক্ত পরিবেশ গড়ে উঠেছে। উন্নতির এক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করতে চলেছে বাংলা। কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিকাঠামোর সার্বিক উন্নয়নে আপনিই প্রমাণ করেছেন যে আপনিই প্রকৃত ভূমিপুত্র। আপনার নেতৃত্বেই রাজ্য নতুন করে গড়ে উঠবে।” বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গে শিল্প, নতুন বিনিয়োগ, পরিকাঠামো এবং কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় হয়েছে বলে মুখ্যমন্ত্রীর দফতর জানিয়েছে।

    কোথায় কোথায় বিনিয়োগের পরিকল্পনা

    বৃহস্পতিবারই নিউটাউনে ২ হাজার শয্যার ‘আদানি আরোগ্য মন্দির’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হয়েছে; প্রকল্পে ৪ হাজার কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগের কথা জানিয়েছে আদানি গোষ্ঠী। একই মঞ্চ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে ১ লক্ষ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন গৌতম আদানি। বন্দর, সড়ক, বিদ্যুৎ, লজিস্টিক্স এবং বৃহৎ ডেটা সেন্টার-সহ একাধিক ক্ষেত্রে এই বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। এদিন অনুষ্ঠান থেকে গৌতম আদানি বন্দর, পণ্য পরিবহণ, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বণ্টন, সড়ক, সেতু, সিমেন্ট কারখানা এবং হাইপারস্কেল ডেটা সেন্টার – একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে এই বিনিয়োগ করা হবে বলে জানিয়েছেন। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে পশ্চিমবঙ্গে বৃহৎ পরিকাঠামো তৈরির পাশাপাশি শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানে নতুন গতি আসতে পারে।

    ‘সৌজন্য’ বৈঠকের মূল লক্ষ্য

    সেই ঘোষণার পরেই মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এই বৈঠককে ঘিরে রাজ্যে আদানি গোষ্ঠীর আগামী দিনের বিনিয়োগ পরিকল্পনা বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর দফতরের বক্তব্য, বৈঠকের মূল লক্ষ্য ছিল বাংলায় শিল্পের প্রসার, পরিকাঠামোর উন্নয়ন এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা। পালাবদলের পরে থেকেই রাজ্যে শিল্পায়নের লক্ষ্যে জোরকদমে কাজ শুরু হয়েছে বলে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শিল্পই যে বিজেপি সরকারের পাখির চোখ, বারে বারে তা বুঝিয়ে দিয়েছেন শুভেন্দু। বাম ও তৃণমূল জমানাকে তীব্র আক্রমণ করে তিনি বলেন, ‘শিল্পের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জমি দেননি। শুধু নেগেটিভ রাজনীতি করেছেন। তাঁর জন্যই টাটাকে চলে যেতে হয়েছে।’ গোটা ভারত যখন আত্মনির্ভর ভারতের লক্ষ্যে এগোচ্ছে, তখন মমতা ৫০০ টাকা দিয়ে ভাতার রাজনীতি করছিলেন বলেও তোপ দাগেন তিনি। একই সুরে আক্রমণ শানান বাম আমলকেও। রাজ্যকে শিল্পের বধ্যভূমি করার পিছনে কমিউনিস্টদের অবদান রয়েছে বলে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, ‘কমিউনিস্টরা সব শেষ করে দিয়েছে। শুধু ইনকিলাব জিন্দাবাদ। হরতাল করে কারখানায় তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে।’ তাদের জন্যই আসানসোল, চিত্তরঞ্জনও ধ্বংস হয়ে গিয়েছে বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে ডবল ইঞ্জিন সরকারে ফের শিল্পের পুনরুদ্ধারে কাজ শুরু হয়েছে বলে জানান শুভেন্দু।

    মেয়ো ক্লিনিকের সঙ্গে যুক্ত হয়ে প্রকল্প

    নিউটাউনে ২,০০০ বেডের হাসপাতাল তৈরির প্রকল্পের ভূমিপুজো ও শিলান্যাস অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আদানি গ্রুপের চেয়ারম্যান গৌতম আদানি। ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী৷ এই প্রকল্পকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজ্যে স্বাস্থ্য পরিকাঠামোয় নতুন বিনিয়োগের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। প্রস্তাবিত হাসপাতালে মোট ২,০০০টি বেড থাকবে। তার মধ্যে ১,০০০টি বেড দরিদ্র রোগীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে বলে রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়েছে। এই বেডগুলিতে বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়েছে। বাকি ১,০০০টি বেড বাণিজ্যিক পরিষেবার আওতায় থাকবে। ৫২ একর জমির উপরে হাসপাতাল, ২৫০০ কোটির বিনিয়োগ, আমেরিকার মেয়ো ক্লিনিকের সঙ্গে যুক্ত হয়ে প্রকল্পের কথাও বলা হয় এদিন৷

     

     

     

     

     

  • Suvendu Adhikari: বাংলায় এক লাখ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগের কথা ঘোষণা গৌতম আদানির

    Suvendu Adhikari: বাংলায় এক লাখ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগের কথা ঘোষণা গৌতম আদানির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলা পা দিয়েই দু’-দু’টি মউ স্বাক্ষর করলেন শিল্পপতি গৌতম আদানি। বুধবার রাজ্যে পা রাখেন তিনি। বৃহস্পতিবার সাত সকালে কালীঘাটে পুজো দিয়ে নিউটাউনে দু’হাজার শয্যার অত্যাধুনিক হাসপাতাল ‘আদানি আরোগ্য মন্দিরে’র শিলান্যাস করতে ছোটেন আদানি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আদানি গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান গৌতম আদানি স্বয়ং, তাঁর স্ত্রী প্রীতি আদানি, পুত্র করণ আদানি এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর সম্প্রসারণের পাশাপাশি শিল্পক্ষেত্রেও বড় বিনিয়োগের পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেন আদানি। ২০৩৫ সালের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে এক লাখ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রার কথা জানান তিনি। আদানি গোষ্ঠীর সঙ্গে ইতিমধ্যেই দু’টি মউ স্বাক্ষরিত হয়েছে (Gautam Adani) বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। একটি ঐতিহাসিক রাইটার্স বিল্ডিংয়ের সংস্কার এবং অন্যটি দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে।

    নিউটাউনের অ্যাকশন এরিয়া-২-এ তৈরি হচ্ছে আদানি আরোগ্য মন্দির। প্রস্তাবিত এই হাসপাতাল রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবায় একটি বড় সংযোজন হতে চলেছে। হাসপাতালটির জন্য চার হাজার কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগের ঘোষণা করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দশ হাজারেরও বেশি কর্মসংস্থানের সম্ভাবনার কথাও জানানো হয়েছে। অলাভজনক এই চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের দু’হাজার শয্যার মধ্যে এক হাজার শয্যা আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা রোগীদের জন্য সংরক্ষিত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্পের আওতায় থাকা যোগ্য রোগীরা সেই সুবিধা পাবেন।

    শিল্পায়ন নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা (Suvendu Adhikari)

    হাসপাতালের শিলান্যাসের মঞ্চ থেকেই রাজ্যের শিল্পায়ন নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন আদানি। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে পশ্চিমবঙ্গের ভৌগোলিক অবস্থান, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং শিল্প স্থাপনের সম্ভাবনার কথা। আদানি জানান, ভারতের অল্প কয়েকটি রাজ্যেই পশ্চিমবঙ্গের মতো প্রাকৃতিক সম্পদ, যোগাযোগের সুবিধা এবং অর্থনৈতিক সম্ভাবনার সমন্বয় রয়েছে। সেই কারণেই দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের অন্যতম গন্তব্য হিসেবে বাংলাকে বেছে নিয়েছে তাঁর সংস্থা।

    শুধু স্বাস্থ্য পরিষেবাতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না আদানি গোষ্ঠীর পরিকল্পনা। বন্দর নির্মাণ ও উন্নয়ন, পণ্য পরিবহণ, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং বণ্টন, সড়ক ও সেতু নির্মাণ, সিমেন্ট কারখানা এবং হাইপারস্কেল ডেটা সেন্টারের মতো একাধিক ক্ষেত্রে বিনিয়োগের কথা জানিয়েছেন শিল্পপতি। তাঁর ঘোষণা অনুযায়ী, ২০৩৫ সালের মধ্যে রাজ্যে এক লাখ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগ করার পরিকল্পনা রয়েছে গোষ্ঠীর।

    আদানি মনে করেন, বৃহৎ পরিকাঠামো নির্মাণের সঙ্গে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিস্তার ও নয়া কর্মসংস্থানের সুযোগ ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তিনি বলেন, “পরিকাঠামো লাখ লাখ মানুষের সম্ভাবনাকে বদলে দিতে পারে। আদানি গোষ্ঠীতে আমরা যা করি, তার কেন্দ্রেই রয়েছে পরিকাঠামো।” প্রস্তাবিত বিনিয়োগগুলি বাস্তবায়িত হলে রাজ্যের পরিবহণ, বিদ্যুৎ ও শিল্প পরিকাঠামোর সম্প্রসারণের পাশাপাশি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে (Suvendu Adhikari)।

    বিনিয়োগের সিদ্ধান্তকে স্বাগত মুখ্যমন্ত্রীর

    এদিকে, আদানি গোষ্ঠীর বিনিয়োগের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, গোটা আদানি পরিবার পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে নানা সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে রাজ্য। পূর্ববর্তী সরকারের আমলে একের পর এক শিল্প বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাংলার শিল্পক্ষেত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমান সরকার সেই পরিস্থিতি বদলে রাজ্যের হারানো শিল্পসমৃদ্ধি ফিরিয়ে আনতে চায় (Writers Building Restoration)।

    নিজের বক্তব্যে পূর্বতন তৃণমূল কংগ্রেস সরকারকেও আক্রমণ করেন শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকার শিল্পায়নের পরিবর্তে ভাতা বিতরণ এবং তোষণের রাজনীতিকেই অগ্রাধিকার দিয়েছিল। তাজপুরে প্রস্তাবিত গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্পের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সেখানে বন্দর নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও পর্যাপ্ত জমির অভাবের কথা জানিয়েছিল আদানি গোষ্ঠী। তাঁর অভিযোগ, এই প্রকল্পকে ঘিরে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বাংলার মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে। তবে বর্তমান সরকারের আমলে সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে (Gautam Adani) না বলেও আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী।

    ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সংরক্ষণেও আদানি গোষ্ঠী

    শিল্পে বিনিয়োগের পাশাপাশি বাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সংরক্ষণেও আদানি গোষ্ঠীকে যুক্ত করার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর ঘোষণা অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই সংস্থাটির সঙ্গে দু’টি মউ স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর মধ্যে একটি কলকাতার ঐতিহাসিক মহাকরণ বা রাইটার্স বিল্ডিংয়ের সংস্কার সংক্রান্ত। অন্যটি দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে।

    শুভেন্দু বলেন, বাঙালির সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনে দুর্গাপুজোর গুরুত্ব অপরিসীম। এবার সেই উৎসবের সঙ্গেও যুক্ত হচ্ছে আদানি গোষ্ঠী। সংস্থার পরিকল্পনা অনুযায়ী, কলকাতার নির্বাচিত আটটি দুর্গাপুজো কমিটিকে ২৫ লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। বাংলার দুর্গাপুজোর শিল্পকলা ও ঐতিহ্যকে আন্তর্জাতিক স্তরে তুলে ধরতে দেশ-বিদেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ পুজো পরিদর্শনের আয়োজনও করা হচ্ছে (Suvendu Adhikari)।

    রাইটার্স বিল্ডিংয়ের সংস্কার প্রকল্পের মাধ্যমে শহরের ঐতিহাসিক স্থাপত্য সংরক্ষণের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। একসময় রাজ্য প্রশাসনের প্রধান কেন্দ্র ছিল মহাকরণ। সেই ভবনের ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ রেখে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য, শিল্প এবং পরিকাঠামোর পাশাপাশি ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও আদানি গোষ্ঠীর অংশগ্রহণ রাজ্যে সংস্থাটির কার্যক্রমের পরিধি বাড়াচ্ছে।

    প্রসঙ্গত, এদিন সকালে স্ত্রী প্রীতিকে সঙ্গে নিয়ে কালীঘাট মন্দিরে যান তিনি। সেখানে মা কালীর পুজো দিয়ে আশীর্বাদ প্রার্থনা করেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন শিল্পপতি। কলকাতায় বৃষ্টির মধ্যে কালীঘাটে পুজো দেওয়ার মুহূর্তটি তাঁর কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই জানান তিনি (Gautam Adani)। একই সঙ্গে বাংলার মানুষের শান্তি, সমৃদ্ধি ও মঙ্গল কামনা করেন। তার পরেই (Suvendu Adhikari) দিনের অন্যান্য কর্মসূচিতে যোগ দেন আদানি গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান।

     

  • Maoist Surrender Bankura: বন্দুক ধরার প্রয়োজন ফুরিয়েছে! বাঁকুড়ায় অস্ত্র-সহ ৩ মাওবাদী শীর্ষ নেতার আত্মসমর্পণ

    Maoist Surrender Bankura: বন্দুক ধরার প্রয়োজন ফুরিয়েছে! বাঁকুড়ায় অস্ত্র-সহ ৩ মাওবাদী শীর্ষ নেতার আত্মসমর্পণ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অস্ত্র ছেড়ে জীবনের মূল স্রোতে ফিরে এলেন নিষিদ্ধ সংগঠন সিপিআই মাওবাদীর তিন শীর্ষ কমান্ডার। রাজ্য সরকারের আত্মসমর্পণ তথা পুনর্বাসন নীতির ওপর আস্থা রেখে বাঁকুড়া জেলা পুলিশের ধারাবাহিক ও যৌথ অভিযানের মুখে অস্ত্র সংবরণ করলেন তাঁরা। তিন শীর্ষ মাওবাদী নেতা-নেত্রীর আত্মসমর্পণকে ঘিরে ইতিমধ্যেই নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে বাঁকুড়ায়। দীর্ঘদিন জঙ্গলে সক্রিয় থাকার পর অস্ত্র ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা। বাঁকুড়া (Bankura) পুলিশ লাইনের কনফারেন্স হলে রাজ্য পুলিশের এডিজি আনন্দ কুমারের কাছে নিজেদের অস্ত্র জমা দিয়ে আত্মসমর্পণ করেন।

    অস্ত্রসহ আত্মসমর্পণ করলেন কারা

    পুলিশ সূত্রে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে রয়েছেন রামপ্রসাদ মান্ডি ওরফে শচীন, নয়নতারা সাহু এবং জবা মাহাতো। তিনজনই দীর্ঘদিন ধরে ঝাড়খণ্ড-বাংলা সীমান্তবর্তী জঙ্গল এলাকায় সক্রিয় ছিলেন। রামপ্রসাদ মান্ডি ছিলেন আঞ্চলিক কমিটির সদস্য। নয়নতারা সাহু ছিলেন জোনাল কমিটির সদস্য। এ ছাড়াও জবা মাহাতোও ছিলেন জোনাল কমিটির সদস্য। তাঁদের বিরুদ্ধে পশ্চিমবঙ্গ ও সংলগ্ন রাজ্যগুলো মিলিয়ে মোট ৮০-এর বেশি মামলা রয়েছে। রামপ্রসাদ মান্ডি, নয়নতারা সাহু এবং জবা মাহাতো ১ টি একে ৪৭, ২ টি ইনসাস বন্দুক নিয়ে আত্মসমর্পণ করেন। এ ছাড়াও পুলিশের কাছে ১০ টি ম্যাগাজিন ও ১৫৪ রাউন্ড কার্তুজও জমা দেন ওই ৩ জন আত্মসমর্পণকারী মাওবাদী। তাঁরা জানিয়েছেন, একসময় জঙ্গলমহল ও সংশ্লিষ্ট এলাকার বঞ্চনা ও সমস্যার কারণে তাঁরা সশস্ত্র আন্দোলনের পথ বেছে নিয়েছিলেন। বর্তমানে তাঁরা তাঁদের ভুল বুঝতে পেরেছেন। আর সেই কারণেই এই দীর্ঘ সময় পর তাঁরা সেই পথ থেকে সরে স্বাভাবিক সামাজিক জীবনে ফিরতে চান বলে জানিয়েছেন।

    চলবে আইনি প্রক্রিয়া ও পুনর্বাসনের প্রয়াস

    ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ গোটা দেশ থেকে মাওবাদী মুক্ত করার ডাক দিয়েছেন। আর তারই প্রক্রিয়া হিসেবে সারা দেশেই ক্রমাগত অভিযান চলছে মাওবাদীদের বিরুদ্ধে। আর তাতে ক্রমশই কোনঠাসা হচ্ছে মাওবাদীরা। এবার সেই প্রক্রিয়াতেই এল বড় সাফল্য। এই আত্মসমর্পণের প্রক্রিয়ার পিছনে নিরাপত্তা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযান এবং মাওবাদীদের উপর বাড়তে থাকা চাপের কথা উঠে এসেছে। আত্মসমর্পণকারীদের সরকারি পুনর্বাসন ও আত্মসমর্পণ প্যাকেজের আওতায় আনার প্রক্রিয়া নিয়েও উদ্যোগী হয়েছে প্রশাসন। রাজ্য পুলিশের এডিজি বলেন, “আত্মসমর্পণের প্যাকেজের সুযোগ যাতে এই আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীরা পায় তার জন্য স্ক্রিনিং কমিটির কাছে আবেদন জানাবে রাজ্যের পুলিশ।” প্রশাসনিকভাবে নির্দিষ্ট যাচাই ও স্ক্রিনিংয়ের পর তাঁরা কী কী সুবিধা পাবেন, তা নির্ধারিত হবে। দীর্ঘদিনের সশস্ত্র কার্যকলাপের পর তিন মাওবাদী ক্যাডারের আত্মসমর্পণ জঙ্গলমহল ও ঝাড়খণ্ড-বাংলা সীমান্তের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। অস্ত্র ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সিদ্ধান্তের পাশাপাশি তাঁদের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলির আইনি প্রক্রিয়াও চলবে।

  • Gautam Adani: নিউটাউনে ২ হাজার শয্যার হাসপাতালের শিলান্যাস, বাংলায় আরও বিনিয়োগ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে গৌতম আদানি

    Gautam Adani: নিউটাউনে ২ হাজার শয্যার হাসপাতালের শিলান্যাস, বাংলায় আরও বিনিয়োগ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে গৌতম আদানি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নিউটাউনের অ্যাকশন এরিয়া-২-এ বৃহস্পতিবার প্রস্তাবিত ২,০০০ শয্যার মেগা হাসপাতাল ‘আদানি আরোগ্য মন্দিরে’র শিলান্যাস করলেন আদানি গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান গৌতম আদানি (Gautam Adani)। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। স্বাস্থ্য পরিকাঠামোয় এই প্রকল্পের পাশাপাশি রাজ্যে আরও কয়েকটি ক্ষেত্রে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে এ দিন একাধিক বৈঠক ও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। শিল্প, বিদ্যুৎ, বন্দর, সড়ক, পর্যটন এবং ঐতিহাসিক রাইটার্স বিল্ডিংয়ের সংস্কার—বিভিন্ন ক্ষেত্রেই আদানি গোষ্ঠীর সম্ভাব্য অংশগ্রহণ নিয়ে রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনা এগোচ্ছে বলে (Mega Hospital) নবান্ন সূত্রে খবর।

    নিউটাউনের ৫১.৭৫ একর জমির উপর গড়ে উঠছে প্রস্তাবিত স্বাস্থ্য পরিকাঠামোটি। প্রকল্পটির প্রাথমিক পরিকল্পনায় ১,০০০ শয্যার হাসপাতালের কথা থাকলেও, পরে শয্যা সংখ্যা বাড়িয়ে ২,০০০ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী আগেই জানিয়েছিলেন, আদানি গোষ্ঠী লিখিতভাবে ২,০০০ শয্যার হাসপাতাল তৈরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এর মধ্যে ১,০০০ শয্যা আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা মানুষের চিকিৎসার জন্য বিনামূল্যে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। বাকি ১,০০০ শয্যা বাণিজ্যিক পরিষেবার আওতায় থাকবে।

    ‘আদানি আরোগ্য মন্দির প্রকল্পে প্রায় ২,৫০০ কোটি টাকা বা তারও বেশি বিনিয়োগের কথা বলা হয়েছিল। নবান্ন সূত্রের হিসাবেও প্রকল্পে প্রাথমিকভাবে প্রায় ১,২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ এবং নির্মাণপর্বে আরও প্রায় ১,৮০০ কোটি টাকা লগ্নি করার কথাও উঠে এসেছে।

    আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা মানুষের জন্যও শয্যা (Gautam Adani)

    স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রে প্রকল্পটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হবে আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা মানুষের জন্য নির্দিষ্ট শয্যা। ২,০০০ শয্যার অর্ধেক বিনামূল্যে বা অত্যন্ত কম খরচে চিকিৎসার জন্য ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারের আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের সুবিধা হাসপাতালটিতে দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও শোনা গিয়েছে। আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসা পরিষেবা গড়ে তুলতে আমেরিকার মেয়ো ক্লিনিকের (Mayo Clinic) সঙ্গে প্রযুক্তি ও জ্ঞানভিত্তিক সহযোগিতার প্রস্তাব রয়েছে। নবান্ন-ঘনিষ্ঠ সূত্রের বক্তব্য, অত্যাধুনিক সুপার-স্পেশ্যালিটি পরিষেবা, রোবোটিক সার্জারি এবং প্রযুক্তিনির্ভর হাসপাতাল ব্যবস্থাপনার মতো পরিকাঠামোও প্রকল্পের অংশ হতে পারে।

    রাজ্য সরকারের তরফেও এই প্রকল্পে একাধিক আর্থিক ছাড় দেওয়ার কথা জানা গিয়েছে। নবান্নের হিসাবে জমির চরিত্র পরিবর্তন এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক ছাড় বাবদ প্রায় ১,৯৬৭ কোটি টাকার রাজস্ব ছাড় দেওয়ার খবর মিলেছে। একই সঙ্গে হাসপাতাল, সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য পরিষেবা, কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও গবেষণা এবং চিকিৎসা-পর্যটন মিলিয়ে বছরে প্রায় ৪,০৮৫ কোটি টাকার আর্থিক সুফল পাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া (Gautam Adani) হয়েছে।

    হাসপাতালের পর শিল্প-বিনিয়োগে নজর

    হাসপাতালের শিলান্যাসের পর গৌতম আদানির সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠক হওয়ার কথা। সরকারি অতিথি নিবাস ‘সৌজন্য’-তে এই বৈঠকে বাংলায় নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। শিল্প ও পরিকাঠামোর বিভিন্ন ক্ষেত্রে আদানি গোষ্ঠীর আগ্রহের বিষয়গুলি সেখানে উঠে আসতে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রের খবর।

    এর আগে একটি অভিজাত হোটেলে রাজ্যের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গেও আদানির বৈঠকের সম্ভাবনার কথা জানা গিয়েছে। একই সঙ্গে রাজ্যে কয়েকটি প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নেওয়া নিয়েও আলোচনা চলছে। এর মধ্যে রয়েছে কলকাতার ঐতিহাসিক রাইটার্স বিল্ডিংয়ের সংস্কার ও পুনরুদ্ধার এবং কুমোরটুলি ঘাটের পুনর্নির্মাণ। রাইটার্স বিল্ডিং সংস্কারে আদানি গোষ্ঠীর সম্ভাব্য অংশগ্রহণ নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা হয়েছে এবং সংস্থার প্রতিনিধিরা ভবনটি পরিদর্শনও করেছেন। সাম্প্রতিক রিপোর্টে এই পুনরুদ্ধার প্রকল্পে প্রায় ১২০ কোটি টাকার সম্ভাব্য ব্যয়ের কথাও উঠে এসেছে।

    বন্দর-বিদ্যুতেও লগ্নির সম্ভাবনা আদানির

    বন্দরের ক্ষেত্রেও আদানি গোষ্ঠীর সম্ভাব্য আগ্রহ নিয়ে আলোচনা রয়েছে। তাজপুরে গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্পে অতীতে আদানি গোষ্ঠীর নাম সামনে এসেছিল। পরবর্তী সময়ে সেই প্রক্রিয়া বাতিল করে নতুন দরপত্রের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বর্তমানে তাজপুরের পরিবর্তে পূর্ব মেদিনীপুরের দাদনপাত্রবারে গভীর সমুদ্রবন্দর গড়ে তোলার প্রস্তাব নিয়ে রাজ্য সরকার এগোচ্ছে। সেই প্রকল্পে আদানি গোষ্ঠী নতুন করে আগ্রহ দেখাতে পারে কি না, তা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। তবে বিনিয়োগের কাঠামো, অনুমোদন এবং অন্যান্য শর্ত এখনও চূড়ান্ত হয়নি (Gautam Adani)।

    বিদ্যুৎ ক্ষেত্রেও আদানি গোষ্ঠীর সম্ভাব্য বিনিয়োগ নিয়ে জল্পনা রয়েছে। পুরুলিয়ার সাঁওতালডিতে ১,৬০০ মেগাওয়াটের একটি তাপবিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে আগ্রহের কথা নবান্ন সূত্রে জানা গেলেও, আলোচনা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে বলেই খবর। সাঁওতালডিতে ১৬০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার নতুন তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য রাজ্য বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রক কমিশনের নথিতে ইতিমধ্যেই প্রক্রিয়া এগোনোর প্রমাণ মিলেছে (Mega Hospital)।

    কলকাতায় রিং রোড প্রকল্পে আদানি অংশগ্রহণ নিয়ে জোর চর্চা

    কলকাতাকে ঘিরে প্রস্তাবিত রিং রোড প্রকল্পেও আদানি গোষ্ঠীর সম্ভাব্য অংশগ্রহণ নিয়েও চর্চা চলছে। নতুন সরকারের পক্ষ থেকে কলকাতার যানজট কমানো এবং শহরতলি ও সংলগ্ন অঞ্চলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ানোর জন্য রিং রোডের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে। এই প্রকল্পে আদানিদের অংশগ্রহণ নিয়ে এখনও বিস্তারিত আলোচনা হয়নি বলেই খবর। উত্তরবঙ্গেও পর্যটন পরিকাঠামো তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে আদানি গোষ্ঠী সমীক্ষা করেছে বলে সরকারি সূত্রের খবর। দেউচা-পাচামি কয়লা ব্লক এবং বিদ্যুৎ ক্ষেত্রেও আদানি গোষ্ঠীর বিনিয়োগের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিউটাউনের যে জমিতে হাসপাতালটি তৈরি হচ্ছে, সেই জমিই আগে আদানি গোষ্ঠীকে ডেটা সেন্টার প্রকল্পের জন্য দেওয়া হয়েছিল। নবান্ন সূত্রের খবর, ডেটা সেন্টারের জন্য প্রয়োজনীয় যোগাযোগ ও অন্যান্য পরিকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণেই জমির ব্যবহার পরিবর্তনের পথে এগিয়েছে সংস্থা (Gautam Adani)।

    আইসিসি-র মঞ্চেও গৌতম আদানি

    এদিকে, বৃহস্পতিবার বিকেলে আইসিসির  বার্ষিক অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেওয়ার কথা গৌতম আদানির। তাজ বেঙ্গলের ক্রিস্টাল হলে শিল্পপতিদের সঙ্গে আলোচনায় রাজ্যের সম্ভাব্য নতুন বিনিয়োগের বিভিন্ন দিক উঠে আসবে। রাজ্য শিল্প দফতরের তরফে লজিস্টিকস হাব, এনার্জি বা বিদ্যুৎ এবং হেলথ সিটি নিয়ে প্রেজেন্টেশন দেওয়ার কথা রয়েছে। ফলে হাসপাতাল প্রকল্পের বাইরে বাংলায় আদানি গোষ্ঠীর সম্ভাব্য বিনিয়োগের পরিধি কতটা বিস্তৃত হতে পারে, সে বিষয়ে এ দিনের শিল্পমহলের বৈঠকটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

    কালীঘাটে পুজো দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু

    এদিন সকালে স্ত্রী প্রীতিকে সঙ্গে নিয়ে কালীঘাট মন্দিরে যান আদানি। সকাল সাড়ে ৭টা নাগাদ মন্দিরে পৌঁছে তিনি পুজো দেন। পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় কালীঘাট মন্দিরে পুজো দেওয়ার ছবি পোস্ট করেন আদানি। সেখানে বাংলার মানুষের শান্তি, সমৃদ্ধি ও মঙ্গলের জন্য প্রার্থনা করার কথা জানান তিনি। ভবিষ্যৎ কর্মসূচির জন্য আশীর্বাদ চাওয়ার কথাও ছিল তাঁর পোস্টে।

    বুধবার কলকাতায় পৌঁছনোর পর (Mega Hospital) বৃহস্পতিবার আদানির কর্মসূচির কেন্দ্রবিন্দু ছিল নিউটাউনের হাসপাতাল প্রকল্প। তবে দিনের বাকি কর্মসূচি দেখাচ্ছে, স্বাস্থ্য পরিষেবার পাশাপাশি বাংলায় আরও বৃহত্তর শিল্প ও পরিকাঠামোগত বিনিয়োগের সম্ভাবনাও আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। হাসপাতাল, বিদ্যুৎ, বন্দর, সড়ক, পর্যটন, তথ্যপ্রযুক্তি এবং ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্য—একাধিক ক্ষেত্রে আদানির লগ্নির প্রস্তাবগুলি কতদূর বাস্তবায়িত হয়, এখন তা-ই দেখার (Gautam Adani)।

     

  • Industrial Development in Bengal: পশ্চিমবঙ্গে পাঁচ-ছ’টি ক্ষেত্রে বিনিয়োগে আগ্রহী আম্বানিরা! রাজ্যে কর্মসংস্থান ও শিল্প-পরিবেশ নিয়ে বার্তা শুভেন্দুর

    Industrial Development in Bengal: পশ্চিমবঙ্গে পাঁচ-ছ’টি ক্ষেত্রে বিনিয়োগে আগ্রহী আম্বানিরা! রাজ্যে কর্মসংস্থান ও শিল্প-পরিবেশ নিয়ে বার্তা শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আদানির পর আম্বানি, রাজ্যে শিল্প ফেরাতে সক্রিয় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যে নতুন শিল্প এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে মরিয়া ডাবল ইঞ্জিন সরকার। বুধবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে শিল্পায়ন ও বিনিয়োগের রূপরেখা নিয়ে বিশদে জানালেন শুভেন্দু (Suvendu Adhikari)। রাজ্যে কত বিনিয়োগ আসছে, তার চেয়েও কর্মসংস্থানকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে অতীতে সিপিএম এবং গত পনেরো বছরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের আমলে জমে থাকা জট বা ‘ব্যাকলগ’ কাটিয়ে নতুন পথে হাঁটার বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

    রাজ্যে বিনিয়োগে আগ্রহী আম্বানি

    রাজ্যে পাঁচ-ছ’টি ক্ষেত্রে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন মুকেশ অম্বানির রিলায়্যান্স গোষ্ঠী। বুধবার কলকাতার মেলাপ্রাঙ্গণে শিল্পের জন্য জমি বিতরণ অনুষ্ঠানে এমনটাই জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘‘অম্বানিরা রাজ্যে পাঁচ-ছ’টি ক্ষেত্রে কাজ করার আগ্রহ দেখিয়েছে এবং শীঘ্রই তাদের একটি প্রতিনিধিদল রাজ্যে আসতে পারে।’’ উল্লেখ্য, সোমবার মুম্বইতে অম্বানিদের বাসভবন ‘অ্যান্টিলিয়া’য় গিয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। যোগ দেন তাঁদের বাড়ির গণেশপুজোয়। পরে মুকেশ অম্বানির সঙ্গে নৈশভোজও সারেন।

    রাজ্যে ৬০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ!

    বুধবার রাজ্যে শিল্পের পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে বার্তা দিয়ে শিল্পপতিদের পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘৩৩টি শিল্পসংস্থার হাতে শিল্পজমির বরাদ্দপত্র তুলে দেওয়া হয়েছে। সরকারের দাবি, এই প্রকল্পগুলিতে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ হতে পারে এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে প্রায় ৬২ হাজার কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।’’ বিনিয়োগ টানার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের ওপর যে বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে, সেকথা স্পষ্ট করে দিয়ে শুভেন্দু বলেন, “আমার ভাবনা হচ্ছে যে কত ইনভেস্টমেন্ট করলেন সেটা বড় কথা নয়, কত এমপ্লয়মেন্ট দিলেন তার উপরে আমরা গুরুত্ব দিতে চাই।”

    রাজ্যে শিল্পস্থাপনের সহায়ক পরিবেশ

    শুভেন্দু আরও বলেন, ‘‘রাজ্যে শিল্পস্থাপনের ক্ষেত্রে কোনওরকম হুমকি বা তোলাবাজির অভিযোগ উঠলে সরাসরি সরকারকে জানানো যাবে।’’ এ জন্য টোল-ফ্রি নম্বর চালু করা হয়েছে। কোথাও কেউ হুমকি দিলে বা তোলাবাজির চেষ্টা করলে ওই নম্বরে অভিযোগ জানালে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবে বলেও আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘‘রাজ্যে বিনিয়োগ টানতে প্রশাসনিক সহায়তার পাশাপাশি শিল্পবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।’’ নতুন শিল্প প্রকল্প এলে স্থানীয় স্তরে কর্মসংস্থানের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট পরিষেবা, পরিবহণ, সরবরাহ এবং ছোট ব্যবসার ক্ষেত্রেও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়তে পারে বলে প্রশাসনের তরফে আশা করা হচ্ছে।

    শিল্পক্ষেত্রের জন্য জমি বরাদ্দ

    এদিন সরকারের তরফে বিভিন্ন শিল্পক্ষেত্রের জন্য জমি বরাদ্দের কথা জানানো হয়। তার মধ্যে রয়েছে সেমিকন্ডাক্টর, প্রতিরক্ষা, সৌরবিদ্যুৎ, বৈদ্যুতিক গাড়ি, ইঞ্জিনিয়ারিং, ওষুধ, ইস্পাত, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, বস্ত্রশিল্প এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প। রাজ্যের বিভিন্ন শিল্প পার্কে এই জমি বরাদ্দ করা হয়েছে। হরিণঘাটা, খড়্গপুর, পানাগড়, রঘুনাথপুর, ফলতা, উলুবেড়িয়া, কল্যাণী, নৈহাটি, কোচবিহার, সল্টলেক এবং অঙ্কুরহাটি-সহ একাধিক শিল্পাঞ্চলের নামও অনুষ্ঠানের প্রচারপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, শিল্পায়নের লক্ষ্যেই ওয়েস্ট বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন এবং ওয়েস্ট বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশনের বিভিন্ন শিল্প পার্কে এই জমি দেওয়া হয়েছে। সরকারের বক্তব্য, জমি বরাদ্দের মাধ্যমে বিনিয়োগের প্রস্তাবগুলিকে দ্রুত বাস্তবায়নের পথে নিয়ে যাওয়া হবে।

    বাম ও তৃণমূল সরকারের সমালোচনা

    শিল্পনীতি নিয়ে এ দিন পূর্বতন বাম ও তৃণমূল সরকারের সমালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, বাম আমলে শিল্পায়নের চেষ্টা থাকলেও দলের অবস্থান ছিল নেতিবাচক। তাঁর আরও বক্তব্য, তৃণমূল সরকারের আমলে জমি নীতির কারণে শিল্পের ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হয়েছিল এবং সিঙ্গুর থেকে টাটাদের চলে যাওয়ার প্রসঙ্গও তিনি তোলেন। পূর্বতন সরকারের শিল্পনীতির সমালোচনা করে শুভেন্দু বলেন, ‘‘আগের সরকারে ‘ইনসেন্টিভ’ বা বিনিয়োগে উৎসাহ দেওয়ার ব্যবস্থা কার্যত গুরুত্ব পায়নি। বর্তমান সরকার শিল্পে উৎসাহ দিতে ৫ হাজার কোটি টাকার একটি তহবিল তৈরি করেছে।’’ রাজ্যের নতুন খসড়া শিল্প নীতি (Draft Industrial Policy) প্রসঙ্গে তিনি জানান, এই নীতিতে ইনসেন্টিভ বা উৎসাহভাতার বিশেষ সংস্থান রাখা হয়েছে। এই প্রস্তাবিত খসড়াটি ইতিমধ্যেই রাজ্যের মুখ্যসচিবের (CS) কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। মুখ্যসচিব নিজের দফতরের সমস্ত হেড অফ ডিপার্টমেন্টদের নিয়ে তা খুঁটিয়ে বিশ্লেষণ করে ক্যাবিনেটে পেশ করবেন। এরপর মন্ত্রিগোষ্ঠীর চূড়ান্ত অনুমোদনের পরেই তা কার্যকর হবে। তবে পূর্বের শাসনকালগুলির অর্থনৈতিক স্থবিরতা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিতেও ছাড়েননি তিনি। শুভেন্দু অধিকারীর কড়া মন্তব্য, অতীতে সিপিএম আমল এবং বিগত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের জমানায় অর্থনীতির বেহাল দশা হয়েছে। সেই পুরনো জমানার জঞ্জাল বা ব্যাকলগের বোঝা আর বর্তমান সরকার বহন করতে পারবে না। সম্পূর্ণ কর্মসংস্থানমুখী ইনসেন্টিভ এবং স্বচ্ছ নীতির হাত ধরেই বাংলা শিল্পচিত্রে নতুন যুগ দেখবে বলে বার্তা শুভেন্দুর।

    পরিকাঠামোগত সুবিধা

    মুখ্যমন্ত্রী শিল্পপতিদের উদ্দেশে বলেন, পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে সরকার পাশে থাকবে। রাজ্যের শিল্পাঞ্চলগুলিতে জমির ব্যবহার এবং পরিকাঠামোগত সুবিধা বাড়ানোর উপরও জোর দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। এর ফলে বিনিয়োগের গতি বাড়বে বলেই আশা সরকারের। আরও শিল্প আসবে। শিল্প সংক্রান্ত বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে শিল্পপতি গৌতম আদানির সঙ্গে সাম্প্রতিক বৈঠকের প্রসঙ্গ টানেন তিনি। সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি জানান, শিল্পপতি গৌতম আদানি এবং আম্বানি গোষ্ঠীর সঙ্গে তাঁদের অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। যদিও সেই আলোচনার সব কথা এখনই প্রকাশ্যে আনতে চাননি তিনি, তবে আদানি গোষ্ঠী যে বাংলার একাধিক সেক্টরে কাজ করতে চলেছে, সে বিষয়ে পূর্ণ আশ্বাস মিলেছে। সেই লক্ষ্যে আগামী ১০ দিনের মধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল বা টিম রাজ্যে পাঠাচ্ছে আদানি গোষ্ঠী। পাশাপাশি শিল্পপতি গৌতম আদানি আজ সকাল ১১ টায় নিউটাউনে প্রায় দু’হাজার শয্যাবিশিষ্ট ‘আদানি আরোগ্য মন্দির’ বা হাসপাতালের শিলান্যাস অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন বলেও জানান তিনি।

     

     

     

     

  • BJP: বাংলায় সুনীল বনসলই, তিন সহ-পর্যবেক্ষক নিয়ে নতুন পদ্ম-দল

    BJP: বাংলায় সুনীল বনসলই, তিন সহ-পর্যবেক্ষক নিয়ে নতুন পদ্ম-দল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের সংগঠন সামলানোর দায়িত্বে সুনীল বনসলকেই (Sunil Bansal) রেখে দিলেন বিজেপির (BJP) কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। বুধবার দলের সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন ২৮টি রাজ্য এবং ৮টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের জন্য নতুন পর্যবেক্ষক ও সহ-পর্যবেক্ষকদের নাম ঘোষণা করেন। সেই তালিকায় পশ্চিমবঙ্গের পর্যবেক্ষক হিসেবে নাম রয়েছে বনসলের। তাঁর সঙ্গে সহ-পর্যবেক্ষক করা হয়েছে লাল সিংহ আর্য, রাজেন্দ্র সিংহ এবং পিঙ্কি কুশওয়াহাকে। বিজেপির সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাসে একাধিক রাজ্যে নতুন দায়িত্ব বণ্টন করা হলেও পশ্চিমবঙ্গ এবং তেলঙ্গানায় বনসলের দায়িত্ব বহাল রাখা হয়েছে। তেলঙ্গানাতেও তাঁর সঙ্গে নতুন করে দুই সহ-পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে।

    তিন সহ-পর্যবেক্ষক নিয়ে বাংলায় বনসলের দল (BJP)

    পশ্চিমবঙ্গে সংগঠন পরিচালনায় বনসলকে সাহায্য করবেন লাল সিংহ আর্য, রাজেন্দ্র সিংহ এবং পিঙ্কি কুশওয়াহা। বিজেপির প্রকাশিত তালিকাতেও এই তিনজনের নাম পশ্চিমবঙ্গের সহ-পর্যবেক্ষক হিসেবে রয়েছে।

    বিজেপির সাংগঠনিক দায়িত্বে বনসলের সঙ্গে নতুন তিন নেতাকে যুক্ত করার মাধ্যমে রাজ্য সংগঠনের কাজ আরও ভাগ করে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং নির্বাচনী প্রস্তুতিতে এই দল কাজ করবে বলে বিজেপি সূত্রে খবর।

    পড়শি রাজ্য অসমের দায়িত্বেও বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। অসমের পর্যবেক্ষক করা হয়েছে মঙ্গল পাণ্ডেকে। তাঁর সঙ্গে সহ-পর্যবেক্ষক হিসেবে থাকছেন ফাংনন কোন্যাক এবং আলিপুরদুয়ারের সাংসদ মনোজ টিগ্গা।

    স্মৃতি ইরানি, রাম মাধবদেরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব

    সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাসে একাধিক প্রবীণ ও পরিচিত নেতাকে বিভিন্ন রাজ্যের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানিকে হরিয়ানা ও ছত্তিশগড়ের পর্যবেক্ষক করা হয়েছে। উত্তরপ্রদেশের দায়িত্ব পেয়েছেন দলের সাধারণ সম্পাদক বিনোদ তাওড়ে। তাঁর সঙ্গে সহ-পর্যবেক্ষক হিসেবে রয়েছেন জগদীশ পটেল, মেধা কুলকার্নি, প্রদীপ বর্মা এবং অনন্ত ওঝা।

    দিল্লির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিনয় সহস্রবুদ্ধেকে। তাঁর সঙ্গে সহ-পর্যবেক্ষক হয়েছেন জামিয়াং সেরিং নামগিয়াল এবং দর্শনা জারদোস। মহারাষ্ট্রের পর্যবেক্ষক হয়েছেন বৈজয়ন্ত জয় পাণ্ডা। তাঁর সঙ্গে সহ-পর্যবেক্ষক হিসেবে রয়েছেন অমিত মালব্য, সদানন্দ শেঠ তানাওয়াড়ে এবং কমলজিৎ সেহরাওয়াত।

    দক্ষিণ ভারতে তামিলনাড়ু ও উত্তরাখণ্ডের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রাম মাধবকে। তামিলনাড়ুতে তাঁর সঙ্গে সহ-পর্যবেক্ষক হিসেবে রয়েছেন নির্মল কুমার সুরানা এবং ডি কে অরুণা। উত্তরাখণ্ডে তাঁর সঙ্গে রয়েছেন অরবিন্দ মেনন ও বাঁসুরি স্বরাজ।

    সিকিমের দায়িত্বে দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্ত

    দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তকে সিকিমের পর্যবেক্ষক করা হয়েছে। বিজেপির এই সিদ্ধান্তের কথা সিকিমের দলীয় নেতৃত্বও জানিয়েছেন। মধ্যপ্রদেশের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেবকে। বিজেপির প্রকাশিত তালিকায় ওড়িশার দায়িত্বে ডি পুরন্দেশ্বরী এবং গুজরাতের দায়িত্বে তরুণ চুঘের নামও রয়েছে (BJP)।

    কেন্দ্রীয় প্রচার ও সংবাদমাধ্যমের দায়িত্বে রদবদল

    রাজ্যভিত্তিক সাংগঠনিক দায়িত্বের পাশাপাশি দলের সংবাদমাধ্যম ও যোগাযোগ ব্যবস্থাতেও পরিবর্তন করা হয়েছে। অনিল বালুনিকে দলের যোগাযোগ বিভাগের সমন্বয়কারী করা হয়েছে। এই বিভাগের অধীনে থাকবে জাতীয় সংবাদমাধ্যম এবং সোশ্যাল মিডিয়ার কাজ। আশিস ঊষা আগরওয়ালকে জাতীয় সংবাদমাধ্যম বিভাগের আহ্বায়ক করা হয়েছে।

    বিজেপির এই নতুন সাংগঠনিক কাঠামো ২০২৭ সালের একাধিক বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতির প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ বলেই দাবি পদ্ম শিবির সূত্রের। বিশেষ করে উত্তরপ্রদেশ, তামিলনাড়ু, উত্তরাখণ্ড-সহ একাধিক রাজ্যে আগামী নির্বাচনী প্রস্তুতিকে সামনে রেখেই দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে।

    পশ্চিমবঙ্গে বনসলকে (Sunil Bansal) বহাল রাখার সঙ্গে তিন নতুন সহ-পর্যবেক্ষক যুক্ত হওয়ায় রাজ্য সংগঠনের দায়িত্বে একটি সম্প্রসারিত কাঠামো তৈরি হল। ২০২২ সালে পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে বনসল রাজ্য সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। এবারও তাঁকেই দায়িত্বে রেখে নতুন তিন নেতাকে তাঁর সঙ্গে যুক্ত করলেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। এক বিজেপি (BJP) নেতার কথায়, “সুনীল বনসল জেলায় জেলায়, এমনকি ব্লক স্তর পর্যন্ত গিয়ে সংগঠনের সঙ্গে সমন্বয়ের কাজ করেছেন। তাই তাঁকে ফের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।”

     

  • Arrear DA: বকেয়া ডিএ মেটাতে বড় সিদ্ধান্ত নবান্নের, ২০০৮ থেকে ২০১৫ সালের টাকা এক কিস্তিতেই!

    Arrear DA: বকেয়া ডিএ মেটাতে বড় সিদ্ধান্ত নবান্নের, ২০০৮ থেকে ২০১৫ সালের টাকা এক কিস্তিতেই!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘদিনের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (Arrear DA) মেটানোর বিষয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার (West Bengal)। ২০০৮ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা এককালীন এক কিস্তিতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ২৩ সেপ্টেম্বর অর্থ দফতরের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।

    অর্থাৎ, নির্দিষ্ট সময়ের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা এবার ধাপে ধাপে নয়, একবারেই মেটানো হবে। তবে ওই সময়ের জন্য আগে যে টাকা দেওয়া হয়েছে, তা হিসেবের সঙ্গে ধরা হবে। ফলে একই সময়ের বকেয়া বাবদ যাতে দু’বার অর্থ প্রদান না হয়, সেই বিষয়টিও বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়েছে।

    বকেয়া মহার্ঘ ভাতা একবারেই (Arrear DA)

    ১ এপ্রিল ২০০৮ থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০১৫ পর্যন্ত সময়ের জন্য রাজ্য সরকারি কর্মীদের যে পরিমাণ মহার্ঘ ভাতা প্রাপ্য, তা এককালীন মেটানো হবে। হিসেব করা হবে সর্বভারতীয় ভোক্তা মূল্যসূচক এবং ১০০ শতাংশ নিরপেক্ষীকরণের ভিত্তিতে। তবে চলতি বছরের ১৩ মার্চ এবং ২৩ মার্চ জারি করা আগের নির্দেশ অনুযায়ী ওই সময়ের সঙ্গে সম্পর্কিত যে অর্থ ইতিমধ্যেই দেওয়া হয়েছে, তা নতুন করে নির্ধারিত বকেয়া থেকে বাদ দিয়ে হিসেব করা হবে।

    কার টাকা ভবিষ্যনিধিতে, কার টাকা সরাসরি ব্যাঙ্কে?

    বকেয়া মহার্ঘ ভাতা দেওয়ার ক্ষেত্রেও কর্মীদের শ্রেণি অনুযায়ী আলাদা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ‘ক’, ‘খ’ এবং ‘গ’ শ্রেণির কর্মীদের প্রাপ্য বকেয়া অর্থ তাঁদের সংশ্লিষ্ট সাধারণ ভবিষ্যনিধি হিসাবে জমা হবে। অন্যদিকে ‘ঘ’ শ্রেণির কর্মীদের বকেয়া অর্থ সরাসরি তাঁদের ব্যাঙ্ক হিসাবে দেওয়া হবে। তবে অবসরের তিন মাস আগে যাঁদের চূড়ান্ত সাধারণ ভবিষ্যনিধির অর্থ মেটানোর সময় এসে গিয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে বকেয়া মহার্ঘ ভাতা সাধারণ ভবিষ্যনিধিতে জমা হবে না। ওই অর্থ সরাসরি সংশ্লিষ্ট কর্মীর ব্যাঙ্ক হিসাবে দেওয়া হবে। সাধারণ ভবিষ্যনিধিতে বকেয়া মহার্ঘ ভাতার অর্থ জমা হলেও তা সঙ্গে সঙ্গে তোলা যাবে না। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ৩১ মার্চ ২০২৮ পর্যন্ত ওই অর্থ তোলার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা থাকবে। তবে তার আগেই সংশ্লিষ্ট কর্মীর অবসর, অবসরজনিত অবসান, মৃত্যু বা পদত্যাগ হলে, যে ঘটনা আগে ঘটবে, সেই অনুযায়ী নিয়ম প্রযোজ্য হবে (Arrear DA)।

    আয়কর কেটে দেওয়া হবে বকেয়া অর্থ

    বকেয়া মহার্ঘ ভাতা দেওয়ার সময় প্রযোজ্য আয়কর কেটে নেওয়া হবে। পাশাপাশি ১ জানুয়ারি ২০১৬ থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০১৯ পর্যন্ত সময়ের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা দেওয়ার ক্ষেত্রে আগে যে আয়কর কাটা হয়নি, প্রয়োজন অনুযায়ী তার হিসেবও করা হবে। প্রতিটি দফতরের বেতন ও কর্মীর চাকরিসংক্রান্ত নথি খতিয়ে দেখে সঠিক হিসেব করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে প্রাপ্য অর্থ নির্ধারণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দফতরগুলিকে সতর্কতার সঙ্গে নথি যাচাই করতে হবে। হিসেবের ভুল, যান্ত্রিক ত্রুটি অথবা অন্য কোনও কারণে কোনও কর্মী তাঁর প্রাপ্যের তুলনায় বেশি অর্থ পেয়ে গেলে সেই অতিরিক্ত অর্থ পরবর্তী সময়ে ফেরত নেওয়া হতে পারে। প্রয়োজনে ভবিষ্যতে কর্মীর প্রাপ্য অর্থের সঙ্গে তা অ্যাডজাস্টও করা হতে পারে।

    অনলাইন ব্যবস্থায় প্রযুক্তিগত পরিবর্তন

    বকেয়া মহার্ঘ ভাতা মেটানোর প্রক্রিয়া সহজ করতে রাজ্য সরকারের অনলাইন মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনাতেও প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত পরিবর্তন আনা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট দফতরের আধিকারিকদের মাধ্যমে বকেয়া অর্থের বিল তৈরি ও প্রক্রিয়াকরণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এই বিষয়ে পৃথক বিস্তারিত নির্দেশিকাও জারি করা হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

    উল্লেখ্য, চলতি বছরের মার্চে রাজ্য সরকার ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা দুই কিস্তিতে দেওয়ার (West Bengal) ব্যবস্থা করেছিল। ২০০৮ সালের এপ্রিল থেকে ২০১৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের বকেয়া মেটানোর পদ্ধতি পরে জানানো হবে বলে সেই সময়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল (Arrear DA)।

     

  • Cyclone Arnab: ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর প্রভাব তিন রাজ্যে, কোন কোন জেলার জন্য জারি ‘রেড অ্যালার্ট’?

    Cyclone Arnab: ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর প্রভাব তিন রাজ্যে, কোন কোন জেলার জন্য জারি ‘রেড অ্যালার্ট’?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বঙ্গোপসাগরে ঘনীভূত নিম্নচাপ আরও শক্তি বাড়িয়েছে। সম্ভাবনা রয়েছে ক্যাটেগরি-৩ ঘূর্ণিঝড়ে (Cyclone Arnab) পরিণত হওয়ারও। ভারতের আবহাওয়া বিভাগ (আইএমডি)-এর তথ্য় অনুযায়ী ইতিমধ্যেই বঙ্গোপসাগরে অ্যাক্টিভ হয়েছে নিম্নচাপ। আগামী কয়েক ঘণ্টার এটি আরও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে। আর শক্তি বাড়লেই এটি পরিণত হবে গভীর নিম্নচাপে। সকাল থেকেই মুখ ভারি আকাশের। ভোর রাত থেকে শুরু হয়েছে বৃষ্টিও। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে তৈরি হওয়া নিম্নচাপের কারণে, আজ থেকে ৪ দিন কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় প্রবল বৃষ্টির (Weather Update)সম্ভাবনা রয়েছে। ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের কারণে সৃষ্টি হওয়া নিম্নচাপ উপকূলীয় রাজ্যগুলির জন্য মারাত্মক ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    ঘূর্ণিঝড়ের ল্যান্ডফল কখন কোথায়

    ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগ (আইএমডি) অনুসারে, নিম্নচাপটি বর্তমানে ওড়িশার পুরী থেকে প্রায় ২১০ কিমি দক্ষিণ-দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনম থেকে ২২০ কিমি পূর্বে অবস্থিত। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে যে, সিস্টেমটি পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে থাকায়, ২৩শে সেপ্টেম্বর রাতের মধ্যে এটি বিশাখাপত্তনম এবং গোপালপুরের মধ্যবর্তী উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ-দক্ষিণ ওড়িশা উপকূল গভীর নিম্নচাপ রূপে অতিক্রম করার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। ২৩ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টা থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর ভোর ৫টার মধ্যে যেকোনও সময়ে স্থলভাগে প্রবেশের সম্ভাবনা। সম্ভাব্য ল্যান্ডফল এলাকা: ওড়িশার গোপালপুর থেকে অন্ধ্রপ্রদেশের কলিঙ্গপত্তনমের মধ্যবর্তী উপকূল। হাওয়া অফিস সূত্রে খবর, ২৩ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টা থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর ভোর ৫টার মধ্যে যেকোনও সময়ে গোপালপুর ও কলিঙ্গপত্তনমের মধ্যবর্তী উপকূল দিয়ে স্থলভাগে প্রবেশ করতে পারে এই সিস্টেম। ল্যান্ডফলের সময় ঝড়ের দাপট আরও বাড়ার আশঙ্কা।

    ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ

    আলিপুর আবহাওয়া দফতর ও ভারতীয় মৌসম ভবন সূত্রে খবর,ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর নাম দিয়েছে বাংলাদেশ। ঘূর্ণিঝড়ের নামের আঞ্চলিক তালিকা অনুসারে, উত্তর ভারত মহাসাগরে সৃষ্ট হতে যাওয়া পরবর্তী ঘূর্ণিঝড়টির নাম রাখা হয়েছে ‘অর্ণব’, যার বাংলা অর্থ মহাসাগর। এই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে তাণ্ডবের আশঙ্কা তিন রাজ্যে। অন্ধ্রপ্রদেশ, ওড়িশা এবং পশ্চিমবঙ্গের উপকূলে প্রবল ঝড়ের পাশাপাশি ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা। ইতিমধ্যেই মৎস্যজীবীদের জন্য জারি হয়েছে কড়া সতর্কতা। ২৩ সেপ্টেম্বর অর্থাৎ বুধবার থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা এবং বাংলাদেশের মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।

    দীঘায় সমুদ্রে নামতে মানা

    ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ আপাতত ‘রিজার্ভ’ বা প্রভাবহীন অবস্থায় রয়েছে, তবুও এর ফলে সৃষ্ট নিম্নচাপের ধাক্কায় পূর্ব মেদিনীপুর ও গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের উপকূল এলাকায় বুধবার পর্যন্ত হালকা থেকে মাঝারি এবং কিছু অঞ্চলে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া দফতর ও জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, দিঘা, শঙ্করপুর, জুনপুট ও পেটুয়াঘাটসহ আশপাশের এলাকায় মেঘলা আকাশের পাশাপাশি ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। ঝোড়ো হাওয়ার কারণে সমুদ্রের পরিস্থিতি বেশ বিপজ্জনক হয়ে ওঠার আশঙ্কা রয়েছে। সমুদ্র উত্তাল থাকার পূর্বাভাসের কারণে বুধবার পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যাওয়ার ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি, সমুদ্রে থাকা মাছ ধরার নৌকাগুলিকে অবিলম্বে নিরাপদ স্থানে ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। পর্যটকদের নিরাপত্তায় দিঘা, শঙ্করপুর, তাজপুর ও মন্দারমণি সৈকত এলাকায় মাইকিং চালিয়ে পুলিশ প্রশাসন সতর্কবার্তা দিচ্ছে। সমুদ্রের বেশি গভীরে না যেতে এবং প্রশাসনের সমস্ত নির্দেশ কঠোরভাবে মেনে চলতে বলা হচ্ছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড়ের সরাসরি প্রভাব না থাকলেও সমুদ্র উত্তাল হওয়ার পুরো আশঙ্কা রয়েছে। প্রশাসন প্রতিনিয়ত পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে এবং যেকোনো সম্ভাব্য বিপর্যয় মোকাবিলা করার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে যাবতীয় আপৎকালীন পরিকাঠামো।

    কলকাতায় দুর্যোগের প্রভাব

    ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর পরোক্ষ প্রভাবে কলকাতাতেও আবহাওয়ার দ্রুত অবনতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সকাল থেকেই কখনও হালকা আবার কখনও ঝেঁপে বৃষ্টি হচ্ছে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে। বিশেষ করে, দঃ ২৪ পরগনা, ২ মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামে হতে পারে ভারী বৃষ্টি। পুরুলিয়া, বীরভূম, হাওড়ার একাংশেও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে। দিনভর বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ভারী থেকে মাঝারি বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। পাশাপাশি ঝোড়ো হাওয়াও বইতে পারে।

    ওড়িশায় জারি রেড অ্যালার্ট

    ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় ওড়িশা সরকার প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। ওড়িশার রাজস্ব ও বিপর্যয় মোকাবিলা মন্ত্রী সুরেশ পূজারি জানিয়েছেন যে, পশ্চিম-মধ্য এবং সংলগ্ন উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপটি গত ৬ ঘণ্টা ধরে ঘণ্টায় ১৮ কিলোমিটার গতিতে পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। আইএমডি-র তথ্য অনুযায়ী, এই গভীর নিম্নচাপের কারণে ২৩-২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কোরাপুট, গজপতি এবং গঞ্জাম জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে এবং এই তিনটি জেলা রেড জোনের অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া, ২৪ ও ২৫ সেপ্টেম্বর কালাহান্ডি, নবরঙ্গপুর, কোরাপুট এবং মালকানগিরি ছাড়াও নিকটবর্তী জেলা যেমন বালেশ্বর এবং বৌধও রেড জোনের অন্তর্ভুক্ত থাকবে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত রাজ্যগুলোর মধ্যে ওড়িশা অন্যতম হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ, এর বিভিন্ন অংশে ইতিমধ্যেই ভারী বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এই আবহাওয়া পরিস্থিতির কারণে বেশ কয়েকটি জেলার কর্তৃপক্ষ স্কুল বন্ধ করে দিয়েছেন এবং সম্ভাব্য বন্যা ও অন্যান্য আবহাওয়াজনিত ঘটনার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। খুরদা, জগৎসিংহপুর, গঞ্জাম ও গজপতিতে স্কুল বন্ধের ঘোষণা করেছে সরকারের পক্ষ থেকে। অন্যদিকে মালকানগিরিতে ২৪শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলোও ২৪শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়েছে।

    অন্ধ্রপ্রদেশে প্রবল দুর্যোগের আশঙ্কা

    ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হলে এর প্রভাব পড়তে পারে পূর্ব উপকূলের বিস্তীর্ণ এলাকায়। ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাব্য গতিপথের অন্যতম প্রভাব পড়তে পারে অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলে। উপকূলবর্তী এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া থেকে প্রবল ঝড় হতে পারে। এর সঙ্গে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। সমুদ্রও উত্তাল হয়ে উঠতে পারে। অন্ধ্রের পাশাপাশি ওড়িশা উপকূলেও দুর্যোগের আশঙ্কা। প্রবল ঝড়ের সঙ্গে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে। ইতিমধ্যেই সমুদ্রের পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কতা জারি হয়েছে। আগামী কয়েকদিন মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে না যাওয়ার নির্দেশ রয়েছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে ২৫শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অন্ধ্রপ্রদেশের কিছু অংশে ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে এবং উপকূলীয় অন্ধ্রপ্রদেশ, ইয়ানাম ও রায়লসীমায় বিচ্ছিন্নভাবে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

  • Deep Depression Weather Update: ঘূর্ণিঝড় হচ্ছে না! বঙ্গোপসাগরে শক্তি বাড়াচ্ছে গভীর নিম্নচাপ, বাংলায় বাড়ছে বৃষ্টির শঙ্কা, কবে মেঘেদের ছুটি?

    Deep Depression Weather Update: ঘূর্ণিঝড় হচ্ছে না! বঙ্গোপসাগরে শক্তি বাড়াচ্ছে গভীর নিম্নচাপ, বাংলায় বাড়ছে বৃষ্টির শঙ্কা, কবে মেঘেদের ছুটি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপ ক্রমশ শক্তি বাড়াচ্ছে। এর প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় ইতিমধ্যেই আবহাওয়ার পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বেশ কিছু এলাকায় মঙ্গলবার সকাল থেকেই বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি শুরু হয়েছে। আগামী কয়েকদিন বৃষ্টির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। তব, হচ্ছে না ঘূর্ণিঝড়। কলকাতার আবহাওয়া ফের খারাপ হওয়ার আশঙ্কায় প্রস্তুতি বাড়িয়েছে কলকাতা পুরসভা (Kolkata Municipal Corporation)। জোরালো নিম্নচাপের প্রভাবে মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনার মধ্যে পুরসভার নিকাশি দফতরের কর্মীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। জল জমা ও নিকাশি পরিস্থিতি সামাল দিতে একাধিক পাম্পিং স্টেশনেও বাড়তি নজরদারি রাখা হচ্ছে।

    কোথায় রয়েছে নিম্নচাপ

    বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপ ২৩ সেপ্টেম্বর রাত থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর ভোরের মধ্যে গভীর নিম্নচাপ হিসেবে উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ ও দক্ষিণ ওড়িশা উপকূলের মাঝামাঝি, বিশাখাপত্তনম ও গোপালপুরের মধ্যে দিয়ে স্থলভাগে প্রবেশ করতে পারে। আর এই নিম্নচাপের প্রভাব ইতিমধ্যেই দেখা যেতে শুরু করেছে বাংলায়। দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে বজ্রবিদ্যুৎ সহ ভারী থেকে মাঝারি বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষত, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও ঝাড়গ্রামে ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।

    বাংলায় নিম্নচাপের প্রভাব

    সরাসরি বাংলার উপকূলে আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা না থাকলেও এই সিস্টেমের প্রভাব পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়ায় পড়বে। বিশেষ করে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ছে। আলিপুরের আঞ্চলিক আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, ২২ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎ ও দমকা হাওয়া হতে পারে। কলকাতাতেও বৃষ্টি এবং বজ্রবিদ্যুতের সতর্কতা রয়েছে।দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামের মতো জেলাগুলিতে বৃষ্টির সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি। নিম্নচাপের অবস্থান এবং গতিপথের উপর নির্ভর করে বৃষ্টির তীব্রতা একেক এলাকায় একেক রকম হতে পারে। শহর কলকাতাতেও মাঝেমধ্যে বৃষ্টি, মেঘলা আকাশ এবং দমকা হাওয়া দেখা যেতে পারে। ফলে বাইরে বেরোনোর ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

    কোন জেলায় কত বৃষ্টি

    বুধবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি অথবা বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টিও হতে পারে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং বীরভূমে দু’-এক জায়গায় ৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। শুধু বৃষ্টি নয়। সঙ্গে বজ্রপাত এবং ঝোড়ো হাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর ও পশ্চিম মেদিনীপুরে হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। অন্য জেলাগুলিতে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। ভিজবে কলকাতাও।

    বৃহস্পতিবার থেকে আরও বাড়বে

    আগামী বৃহস্পতিবারও দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। প্রায় সব জেলাতেই হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া এবং বাঁকুড়ায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা। এই জেলাগুলির এক-দু’টি জায়গায় ৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে।সঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎ এবং ঝোড়ো হাওয়াও থাকবে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর ও পশ্চিম মেদিনীপুরে বিশেষত ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৪ সেপ্টেম্বরও দক্ষিণবঙ্গের অধিকাংশ জেলায় বৃষ্টি হতে পারে। ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামে দু’-এক জায়গায় ৭ থেকে ২০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম এবং হাওড়াতেও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

    উত্তরবঙ্গেও নিম্নচাপের দাপট

    আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, এই নিম্নচাপের প্রভাব পড়তে পারে উত্তরবঙ্গে। মঙ্গলবার ভারী বৃষ্টি হতে পারে দার্জিলিং, কালিম্পং, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, উত্তর দিনাজপুরে। জলপাইগুড়িতে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে ৩০-৪০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইবার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া সিকিমেও বৃষ্টির সম্ভাবনা প্রবল। পাহাড়ি এলাকায় টানা বৃষ্টির কারণে কোথাও কোথাও ধস বা যোগাযোগে সমস্যা তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও থাকতে পারে।

    উত্তাল সমুদ্র, নিষেধাজ্ঞা

    সমুদ্রের পরিস্থিতিও ক্রমশ খারাপ হচ্ছে। গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগরে হাওয়া জোরালো হওয়ার পাশাপাশি সমুদ্র উত্তাল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই কারণে মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে না যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে প্রশাসনকেও পরিস্থিতির দিকে নজর রাখতে বলা হয়েছে। রবিবার ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে বৃষ্টির দাপট কিছুটা কমবে।

    সতর্ক কলকাতা পুরসভা

    এই পরিস্থিতিতে কলকাতা পুরসভার নিকাশি দফতরকে বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দফতরের কর্মীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে, যাতে ভারী বৃষ্টির সময় শহরের নিকাশি ব্যবস্থায় কোনও সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত পদক্ষেপ করা যায়। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, শহরের নিকাশি পাম্পিং স্টেশনগুলিতেও কর্মীদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জল জমার সম্ভাবনাময় এলাকাগুলিতে পরিস্থিতির উপর নজর রাখার পাশাপাশি পাম্প চালানো এবং জমা জল দ্রুত সরানোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কলকাতায় ভারী বৃষ্টি হলে সবচেয়ে বড় সমস্যা তৈরি হয় নিচু এলাকা ও জল জমার প্রবণ রাস্তাগুলিতে। কলকাতা পুরসভার নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, শহরের নিকাশি ব্যবস্থার বড় অংশ বহু পুরনো এবং ভারী বৃষ্টিতে নিকাশি ব্যবস্থার উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে।

     

     

     

     

     

LinkedIn
Share