Category: রাজ্য

Get West Bengal News, Bengali Breaking News, Latest News in Bengali only from মাধ্যম | Madhyom, Bengali News Portal for সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর

  • Paschim Banga Awas: ‘বাংলার বাড়ি’র নাম বদলে ‘পশ্চিমবঙ্গ আবাস’, আজ থেকেই ১৮ লক্ষ উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা

    Paschim Banga Awas: ‘বাংলার বাড়ি’র নাম বদলে ‘পশ্চিমবঙ্গ আবাস’, আজ থেকেই ১৮ লক্ষ উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নামের বদল, টাকাও পৌঁছতে শুরু করেছে উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে। একসময় কেন্দ্রের ‘প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা’ বাংলায় বদলে হয়েছিল ‘বাংলার বাড়ি’। এবার সেই প্রকল্পই ফের নতুন পরিচয় পেল। শুভেন্দু অধিকারীর সরকার ‘বাংলার বাড়ি’র নাম বদলে রাখল ‘পশ্চিমবঙ্গ আবাস’ (Paschim Banga Awas)। একইসঙ্গে শুরু হয়ে গেল দ্বিতীয় কিস্তির অর্থ প্রদান। সরকারের দাবি, ১৮ লক্ষ যোগ্য উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বৃহস্পতিবার থেকেই ৬০ হাজার টাকা করে পাঠানো হচ্ছে।

    নবান্ন (Nabanna) থেকে বড় ঘোষণা

    বৃহস্পতিবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে এই ঘোষণা করেন পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। তিনি জানান, প্রকল্পের দ্বিতীয় কিস্তির টাকা আজ থেকেই উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো শুরু হয়েছে। মোট ১৮ লক্ষ মানুষ পাবেন ৬০ হাজার টাকা করে। তৃণমূল সরকারের তৈরি প্রায় ৩০ লক্ষ উপভোক্তার তালিকার মধ্যে সাড়ে ১২ লক্ষই অযোগ্য। সেইসব নাম বাদ দিয়েই যোগ্য উপভোক্তাদের দ্বিতীয় কিস্তির টাকা দেওয়া হচ্ছে।

    ‘রং-ধর্ম নয়, যোগ্যতাই হবে একমাত্র মাপকাঠি’

    এদিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন, “যোগ্যরা সবাই এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। উপভোক্তাদের রং দেখব না, ধর্ম দেখব না।” সরকারের এই ঘোষণায় স্বাভাবিকভাবেই খুশি দারিদ্রসীমার নিচে থাকা বহু উপভোক্তা। দ্বিতীয় কিস্তির টাকা হাতে পেয়ে অসমাপ্ত বাড়ির নির্মাণকাজ শেষ করার আশা দেখছেন তাঁরা।

    কীভাবে বদলেছে প্রকল্পের নাম?

    মূলত এটি কেন্দ্র-রাজ্য যৌথ প্রকল্প প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা। কিন্তু তৃণমূল সরকারের আমলে এই প্রকল্পের নাম নিয়ে আপত্তি ওঠে। সেই সময় রাজ্য সরকারের অভিযোগ ছিল, কেন্দ্র প্রয়োজনীয় অর্থ দিচ্ছে না। এরপর তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) ঘোষণা করেন, রাজ্য সরকার নিজস্ব উদ্যোগেই প্রকল্প চালাবে। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রকল্পের নাম বদলে রাখা হয় বাংলার বাড়ি। উপভোক্তাদের তালিকা তৈরি হয় এবং প্রতিটি বাড়ি তৈরির জন্য ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রথম কিস্তির টাকা আগেই দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তন হয় এবং বিজেপি সরকার গঠিত হয়। নতুন সরকারের দাবি, বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্পের মতো আবাস প্রকল্পেও দ্রুততার সঙ্গে অনুদান পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

    কেন বদল হল নাম?

    এপ্রসঙ্গে এদিন নবান্নের সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) বলেন, “এতদিন তৃণমূল সরকারের আপত্তি ছিল মোদিজির প্রকল্পের নাম নিয়ে। গোটা দেশে যে প্রকল্পের সুবিধা দরিদ্র মানুষ পান, সেটা পশ্চিমবঙ্গে এতদিন সেই নামে চলত না। আমাদের স্পষ্ট কথা, এখন থেকে গোটা দেশের মতোই পশ্চিমবঙ্গেও কাজ হবে। তাই বাংলার বাড়ির নাম বদলে পশ্চিমবঙ্গ আবাস (Paschim Banga Awas) রাখা হচ্ছে। এদিন থেকেই দ্বিতীয় কিস্তির ৬০ হাজার টাকা উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো শুরু হয়েছে। তৃণমূল সরকারের সময় তৈরি তালিকায় বহু অযোগ্য ব্যক্তির নাম ছিল। সেইসব নাম যাচাই করে বাদ দেওয়ার পরই বর্তমান সরকার দ্বিতীয় কিস্তির অর্থ প্রদান করছে।” নামের বদলের সঙ্গে শুরু হল দ্বিতীয় কিস্তির টাকাও বিতরণ। একদিকে প্রকল্পের নতুন পরিচয় পশ্চিমবঙ্গ আবাস, অন্যদিকে ১৮ লক্ষ উপভোক্তার হাতে ৬০ হাজার টাকা- এই দুই ঘোষণাকেই বড় প্রশাসনিক পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরছে রাজ্য সরকার।

  • Suvendu Adhikari: শিল্পে পিছিয়ে বাংলা, বদলের বার্তা সরকারের, বস্ত্রশিল্পে বিনিয়োগ টানতে গুচ্ছের সংস্কারের ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

    Suvendu Adhikari: শিল্পে পিছিয়ে বাংলা, বদলের বার্তা সরকারের, বস্ত্রশিল্পে বিনিয়োগ টানতে গুচ্ছের সংস্কারের ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের শিল্পক্ষেত্রে গত পাঁচ দশকে যে পিছিয়ে পড়ার ছবি তৈরি হয়েছে, তা বদলে রাজ্যকে নতুন শিল্পায়নের পথে নিয়ে যাওয়ার বার্তা দিলেন পালাবদলের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। বুধবার কলকাতার মিলন মেলা প্রাঙ্গণে ‘টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রি কনফারেন্সে’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি দাবি করেন, দীর্ঘ সময় ধরে রাজ্যে শিল্পের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তবে বর্তমান সরকারের লক্ষ্য সেই পরিস্থিতি বদলে পশ্চিমবঙ্গকে বিনিয়োগের অন্যতম প্রধান গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলা (Industrial Investment)। ‘ডাবল ইঞ্জিন সরকারে’র হাত ধরে রাজ্য উন্নয়নের নতুন পর্বে প্রবেশ করেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

    বিনিয়োগের আহ্বান মুখ্যমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari)

    শিল্পপতি, উদ্যোক্তা এবং ব্যবসায়ী মহলের কাছে বাংলায় বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, গত ৩৪ বছরের বাম শাসন এবং পরবর্তী ১৫ বছরের তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের সময় রাজ্যে শিল্পের গতি কার্যত থমকে গিয়েছিল। এর জেরে অর্থনৈতিক অগ্রগতির একাধিক সম্ভাবনা হাতছাড়া হয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ। তবে সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসে নতুন করে শিল্পবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে সরকার কাজ করছে বলে জানান শুভেন্দু। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “বিগত ৫০ বছরে বাংলা অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে। এখন ‘অমৃত কাল’ ও ডাবল ইঞ্জিন সরকারের নেতৃত্বে আমরা শিল্পবান্ধব পরিবেশ তৈরি করছি। তোলাবাজি ও মাফিয়ারাজের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নেওয়া হয়েছে। বাংলা এখন এগোতে প্রস্তুত, তাই নির্ভয়ে এখানে বিনিয়োগ করুন।”

    অর্থনীতিতে চোখে পড়ার মতো পরিবর্তন

    শিল্পায়নের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলার সম্পর্কের বিষয়টিও এদিন গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, রাজ্যে গুন্ডাগিরি, তোলাবাজি এবং অপরাধমূলক কার্যকলাপ বন্ধ করা গেলে শিল্পপতিদের মধ্যে আস্থা আরও বাড়বে। সেই আস্থা থেকেই নতুন বিনিয়োগ আসবে এবং রাজ্যে শিল্পের প্রসার ঘটবে। শিল্পবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আমূল উন্নতি ঘটানো সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য বলেও জানান তিনি। আগামী এক থেকে দু’বছরের মধ্যেই রাজ্যের অর্থনীতিতে চোখে পড়ার মতো পরিবর্তন আসবে বলেও আশা প্রকাশ করেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, সেই সময়ের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ অর্থনৈতিকভাবে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে এবং বিনিয়োগকারীদের কাছে রাজ্যের আকর্ষণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। বর্তমান সরকার মানুষের সরকার এবং নির্বাচনের আগে প্রকাশিত সংকল্পপত্রে যে প্রতিশ্রুতিগুলি দেওয়া হয়েছিল, সেগুলি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।

    বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ

    কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয়ের প্রসঙ্গও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গে বস্ত্র ও চা শিল্পের প্রসার এবং নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নির্দেশে রাজ্যের সর্বাঙ্গীন উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে বলেও দাবি করেন তিনি। আগামী ২৪ থেকে ২৮ অগাস্ট কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর রাজ্য সফরের সময় বস্ত্রশিল্পের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একটি বৈঠকের আয়োজন করা হবে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। ওই বৈঠকে শিল্পের সমস্যা, সম্ভাবনা এবং বিনিয়োগের সুযোগ নিয়ে সরাসরি আলোচনা হতে পারে বলেও জানান তিনি। বস্ত্রশিল্পকে কেন্দ্র করে রাজ্যে নতুন শিল্পায়নের পরিকল্পনার কথাও এদিন স্পষ্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, এই শিল্পে বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী তাঁত, পোশাক এবং বস্ত্রশিল্পকে আধুনিক বাজারের সঙ্গে যুক্ত করে বৃহত্তর শিল্পক্ষেত্র তৈরি করাই সরকারের লক্ষ্য। সেই লক্ষ্যে প্রশাসনিক জটিলতা কমানো, দ্রুত অনুমোদন এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য সহজতর ব্যবস্থা চালু করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে (Industrial Investment)।

    ‘সিঙ্গেল উইন্ডো সিস্টেম’

    বিশেষ করে ১০০ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগের প্রকল্পগুলির ক্ষেত্রে দ্রুত অনুমোদনের ব্যবস্থা করার কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। বড় শিল্প প্রকল্পের জন্য বিনিয়োগকারীদের যাতে একাধিক দফতর, পুরসভা বা পঞ্চায়েতের বিভিন্ন স্তরে অনুমোদনের জন্য ঘুরতে না হয়, সেই ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। রাজ্য সরকারের ‘সিঙ্গেল উইন্ডো সিস্টেমে’র মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র দেওয়ার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, শিল্পপতিদের জন্য প্রক্রিয়াটি আরও সহজ এবং সময়সাশ্রয়ী করা হবে (Suvendu Adhikari)। জমি সংক্রান্ত নীতিতেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। জমি ক্রয় নীতি ইতিমধ্যেই কার্যকর হয়েছে বলেও জানান রাজ্যে বিজেপি সরকারের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। খুব শীঘ্রই নতুন ভূমি উন্নয়ন নীতি আনার পরিকল্পনার কথাও জানান শুভেন্দু। শিল্প স্থাপনের প্রক্রিয়া আরও সরল করতে প্রয়োজনে বিধানসভায় আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি। অর্থাৎ বিনিয়োগকারীদের জন্য জমি, অনুমোদন এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার জটিলতা কমিয়ে দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিবেশ তৈরি করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।

    একাধিক বড় শিল্পগোষ্ঠীর বিনিয়োগ

    রাজ্যে ইতিমধ্যেই একাধিক বড় শিল্পগোষ্ঠী বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলেও দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, লাক্স কোজি, আমূল, শ্যাম স্টিল এবং অমিত মেটালিক্স-সহ একাধিক সংস্থা পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে বা সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ক্যাবিনেট বৈঠকের পর আগামী এক মাসের মধ্যে অন্তত ২৫ জন শিল্পপতির হাতে নতুন শিল্প প্রকল্পের জন্য জমি তুলে দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও ঘোষণা করেন তিনি (Suvendu Adhikari)। শিল্পায়নের পাশাপাশি কর্মসংস্থান তৈরির বিষয়টিকেও সরকারের অগ্রাধিকারের তালিকায় রেখেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর মতে, নতুন শিল্প হলে একদিকে যেমন বিনিয়োগ বাড়বে, তেমনই সরাসরি ও পরোক্ষভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হবে। এর ফলে রাজ্যের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতি পাবে এবং পশ্চিমবঙ্গ আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হওয়ার পথে এগিয়ে যাবে (Industrial Investment)।

    বৃহত্তর শিল্পক্ষেত্র তৈরির আশ্বাস

    তাঁত ও বস্ত্রশিল্পের ক্ষেত্রে বাংলার ঐতিহ্যকে কাজে লাগিয়ে আধুনিক শিল্প কাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। রাজ্যের দীর্ঘদিনের তাঁতশিল্প ও পোশাক উৎপাদনকে আধুনিক প্রযুক্তি, বাজার এবং বিনিয়োগের সঙ্গে যুক্ত করে বৃহত্তর শিল্পক্ষেত্র তৈরি করা হবে বলে জানান তিনি। প্রশাসনিক সংস্কার, দ্রুত অনুমোদন, জমি নীতির পরিবর্তন এবং শিল্পবান্ধব পরিবেশ—এই চারটি বিষয়কে সামনে রেখে বস্ত্রশিল্পে নতুন বিনিয়োগের দরজা খুলতে চাইছে রাজ্য সরকার। মিলন মেলা প্রাঙ্গণে টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রি কনফারেন্সের মঞ্চ থেকে তাই একই সঙ্গে তিনটি বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেন মুখ্যমন্ত্রী—শিল্পে বিনিয়োগ বাড়ানো, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং প্রশাসনিক জটিলতা কমানো। তাঁর দাবি, এই তিন ক্ষেত্রেই পরিবর্তন আনতে পারলে পশ্চিমবঙ্গ আগামী দিনে দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় শিল্প ও বিনিয়োগকেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে। আগামী এক থেকে দু’বছরের মধ্যে সেই (Industrial Investment) পরিবর্তনের প্রতিফলন রাজ্যের অর্থনীতিতে দেখা যাবে বলেও আশা প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)।

     

  • Kolkata High Court: ‘আর কতদিন বিচারাধীন থাকবে?’ আরজি কর মামলায় সিবিআইকে তীব্র ভর্ৎসনা হাইকোর্টের

    Kolkata High Court: ‘আর কতদিন বিচারাধীন থাকবে?’ আরজি কর মামলায় সিবিআইকে তীব্র ভর্ৎসনা হাইকোর্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের (RG Kar Medical College) তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের মামলার (RG Kar Case) তদন্তে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই (CBI)-এর ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করল কলকাতা হাইকোর্ট (Kolkata High Court)। তদন্তের ধীরগতি, একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দিক উপেক্ষা এবং বিচারপ্রক্রিয়ায় বিলম্ব নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন বিচারপতি শম্পা সরকার ও বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের বিশেষ ডিভিশন বেঞ্চ। আদালতের প্রশ্ন, “আর কতদিন বিচারাধীন থাকবে এই মামলা? সবাই বিচার চাইছে, আর কতদিন অপেক্ষা করবে?”

    তদন্ত নিয়ে কড়া প্রশ্ন হাইকোর্টের (Kolkata High Court)

    শুনানির সময় বিচারপতিরা সিবিআই (CBI)-এর তদন্তের গতিপ্রকৃতি নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলেন। আদালতের (Kolkata High Court) পর্যবেক্ষণ, “ঘটনার এতদিন পরেও তদন্তে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। এতে শুধু নির্যাতিতার পরিবার নয়, সাধারণ মানুষের মধ্যেও বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে।”

    বিচারপতি শম্পা সরকারের বক্তব্য

    বিচারপতি শম্পা সরকার বলেন, “সিবিআই (CBI)-এর জমা দেওয়া রিপোর্ট থেকেই স্পষ্ট যে ঘটনাস্থলে তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা হয়েছে এবং মৃতদেহ সরানোর মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। অথচ সেই বিষয়গুলিতে তদন্তে এখনও সন্তোষজনক অগ্রগতি নেই।”

    ‘আর কতদিন বিচারাধীন থাকবে এই মামলা?

    আদালত সিবিআই (CBI)-কে নির্দেশ দিয়েছে, ঘটনার দিন ঠিক কী কী ঘটেছিল? তার পূর্ণ পুনর্নির্মাণ (রিকনস্ট্রাকশন) করতে হবে। আগের তদন্তের ত্রুটি সংশোধন করে নতুন করে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের নির্দেশও দেয় ডিভিশন বেঞ্চ। এ সময় বিচারপতি শম্পা সরকার সিবিআই-এর উদ্দেশে প্রশ্ন তোলেন, “আগের নির্দেশই যদি বুঝতে না পারেন, তাহলে তদন্ত এগোবে কীভাবে? এইভাবে কতদিন একটি মামলাকে বিচারাধীন রেখে দেব?”

    সিবিআই-এর ভূমিকায় প্রশ্ন

    এদিন সওয়াল জবাবে নির্যাতিতার পরিবারের পক্ষে আইনজীবী জয়ন্ত নারায়ণ চট্টোপাধ্যায় আদালতে অভিযোগ করেন, “সিবিআই (CBI)-এর তদন্তে কোনও স্পষ্ট রূপরেখা নেই। সিবিআই যদি নিজেদের অতিরিক্ত হলফনামায় উল্লেখ করা বিষয়গুলি যথাযথভাবে অনুসরণ করত, তাহলে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারত। ঘটনার রাতে নির্যাতিতার সঙ্গে আরও চারজন চিকিৎসক রাতের খাবার খেয়েছিলেন এবং গভীর রাতে ঘটনাস্থলের আশপাশে অন্তত ১৬ জন ছিলেন। তাঁদের প্রত্যেকের ভূমিকা এবং আরজি করের তৎকালীন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের সঙ্গে কোনও যোগসূত্র ছিল কি না? তা এখনও স্পষ্ট নয়। কেন এখনও কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি?” সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

    সিবিআই-এর সাফাই

    সিবিআই (CBI)-এর পক্ষে বর্ষীয়ান আইনজীবী ধীরজ ত্রিবেদী আদালতে জানান, “নির্যাতিতার সঙ্গে শেষবার যিনি নৈশভোজ করেছিলেন, সেই জুনিয়র চিকিৎসকের এখনও বয়ান নেওয়া হয়নি। তবে সমস্ত অভিযোগ গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং কোথাও ত্রুটি থাকলে তা সংশোধন করা হবে।” আশ্বাস আইনজীবী ধীরজ ত্রিবেদীর। পাশাপাশি তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যেতে আদালতের কাছে আরও সময় চান তিনি।

    ‘এটা কি পোস্টকার্ড পাঠানোর মতো সহজ?’

    সিবিআই (CBI)-এর বক্তব্যে সন্তুষ্ট হয়নি আদালত। সিবিআইয়ের আইনজীবীর জবাবের চরম কটাক্ষ বিচারপতি শম্পা সরকারের। ব্যঙ্গাত্মক সুরে তিনি বলেন, “একরাতের মধ্যে হঠাৎ করে একটা পরিকাঠামো ভেঙে পড়ল আর আপনারা বিষয়টি খতিয়ে দেখার নাম করে ঢুকে পড়েছেন? তদন্তটা কি জলপাইগুড়ি জেলা থেকে একটা পোস্টকার্ড পাঠিয়ে দেওয়ার মতো সহজ বিষয়?” মৃত্যুর প্রকৃত সময় কখন ছিল? সিবিআই কি তা সঠিকভাবে নির্ধারণ করতে পেরেছে? সে বিষয়েও প্রশ্ন তোলে বেঞ্চ। আদালতের মতে, এত গুরুত্বপূর্ণ মামলায় তদন্তে কোনওরকম গাফিলতি বা শিথিলতা মেনে নেওয়া যায় না।

    ‘এটা নিম্ন আদালত নয়’

    শুনানির সময় সিবিআই (CBI) জানায়, তারা গত ৭ জুলাই বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)-এর কাছ থেকে মামলার নথি ও তদন্তভার গ্রহণ করেছে। এর জবাবে বিচারপতি শম্পা সরকার স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “মনে রাখবেন, এটা নিম্ন আদালত নয়। আমরা পুরো বিষয়টির উপর সরাসরি নজরদারি করছি।” আদালতের এই মন্তব্যে স্পষ্ট, তদন্তের প্রতিটি ধাপের উপর কড়া নজর রাখবে হাইকোর্ট।

    পরবর্তী শুনানি ২৮ অগাস্ট

    দীর্ঘ সওয়াল-জবাবের শেষে ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, এই মামলায় আর কোনও গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। আদালতের (Kolkata High Court) নির্দেশ অনুযায়ী নতুন তদন্তে কী অগ্রগতি হয়েছে? কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে? তার বিস্তারিত রিপোর্ট আগামী ২৮ অগাস্ট জমা দিতে হবে সিবিআই (CBI)-কে। ওই দিনই মামলার (RG Kar Case) পরবর্তী শুনানি হবে।

  • WB Pollution Control Board: মাইক নয়, কম ক্ষমতার সাউন্ড বক্স! ধর্মীয় স্থানে মাইকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে কড়া রাজ্য, জেলায় জেলায় প্রশাসনিক তৎপরতা

    WB Pollution Control Board: মাইক নয়, কম ক্ষমতার সাউন্ড বক্স! ধর্মীয় স্থানে মাইকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে কড়া রাজ্য, জেলায় জেলায় প্রশাসনিক তৎপরতা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শব্দদূষণ (Noise Pollution) রুখতে এবার কড়া অবস্থান নিল পশ্চিমবঙ্গের নবগঠিত বিজেপি সরকার (WB Govt)। মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে এবার মাঠে নেমেছে পুলিশ প্রশাসন। রাজ্যজুড়ে সমস্ত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে শব্দদূষণ (Noise Pollution) সংক্রান্ত বিধি (Loudspeaker Rules) কঠোরভাবে কার্যকর করতে শুরু হয়েছে অভিযান। ইতিমধ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় মসজিদ কর্তৃপক্ষকে ছাদের লাউডস্পিকার সরিয়ে কম ক্ষমতার সাউন্ড বক্স ব্যবহারের অনুরোধ জানানো হয়েছে। প্রশাসনের এই উদ্যোগের পর ইতিমধ্যেই একাধিক জায়গায় মসজিদ থেকে উচ্চ ক্ষমতার মাইক খুলে ফেলার কাজ শুরু হয়েছে। প্রশাসনের বক্তব্য, এতে ধর্মীয় কার্যক্রমে কোনও বাধা তৈরি হবে না, একই সঙ্গে শব্দদূষণও (Noise Pollution) নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।

    কী নির্দেশ দিয়েছে সরকার?

    রাজ্য সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গ দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের (WB Pollution Control Board) নির্ধারিত শব্দসীমা কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। সেই নিয়ম অনুযায়ী- আবাসিক এলাকায় দিনের বেলা সর্বোচ্চ ৫৫ ডেসিবেল পর্যন্ত শব্দ করা যাবে। রাতের বেলা শব্দের মাত্রা ৪৫ ডেসিবেলের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। এই নির্দেশ বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন জেলার পুলিশ প্রশাসন মসজিদ কমিটিগুলির সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছে। সেখানে ছাদের উচ্চ ক্ষমতার লাউডস্পিকারের পরিবর্তে কম মাত্রার সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    বিরোধীদের অভিযোগ, সরকারের জবাব

    সরকারের এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে সংখ্যালঘু সংগঠন এবং বিরোধী রাজনৈতিক মহলের একাংশ প্রশ্ন তুলেছে। ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্ট (ISF) এবং কয়েকটি সংখ্যালঘু সংগঠনের অভিযোগ, শুধুমাত্র মসজিদগুলিকেই লক্ষ্য করে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তবে সরকারের বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। প্রশাসনের দাবি, এই নির্দেশ কোনও নির্দিষ্ট ধর্ম বা সম্প্রদায়ের জন্য নয়। রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের (WB Pollution Control Board)  নিয়ম অনুযায়ী মন্দির, মসজিদ-সহ সমস্ত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকেই একই আইন মেনে চলতে হবে।

    কী বললেন মন্ত্রীরা?

    পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul) জানিয়েছেন, মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাজ্যের প্রতিটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে শব্দবিধি মেনে চলতেই হবে। আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কোনও ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। অন্যদিকে শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় (Tapash Roy)-ও সমস্ত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে সরকারের নির্দেশিকা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, “আইন সবার জন্য সমান এবং ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে কোনও ভেদাভেদ করা হবে না।”

    মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা

    মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) আগেই জানিয়েছেন, “ধর্মীয় প্রার্থনা নিজ নিজ উপাসনালয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত। রাস্তা দখল করে বা সাধারণ মানুষের অসুবিধা তৈরি করে কোনও ধর্মীয় কর্মসূচি গ্রহণ করা হলে প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা নেবে।”

    শমীক ভট্টাচার্যের মন্তব্য

    এই প্রসঙ্গে রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya) বলেন, “মসজিদে নামাজ পড়ুন, মন্দিরে মন্ত্রপাঠ করুন। মাইক বাজানোর দরকারটাই বা কী?  ধর্ম করুন বাড়িতে। কোনও আপত্তি নেই।” শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে এই অভিযান ভবিষ্যতেও চলবে এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নির্বিশেষে রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের নিয়ম কঠোরভাবে কার্যকর করা হবে। রাজ্য সরকারের দাবি, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য কোনও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে হস্তক্ষেপ করা নয়, বরং আদালতের নির্দেশ ও দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের বিধি মেনে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ করা। প্রশাসনের বক্তব্য, আইন সবার জন্য সমান- মন্দির, মসজিদ, গির্জা বা অন্য যে কোনও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, প্রত্যেককেই একই নিয়ম মেনে চলতে হবে। সরকারের আশা, এই পদক্ষেপের ফলে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের শব্দদূষণজনিত ভোগান্তি কমবে, তেমনই পরিবেশ রক্ষায়ও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

  • Caste Certificate Reverification: ভুয়ো কাস্ট সার্টিফিকেটে বড় পদক্ষেপ! প্রশাসনের নজর ৪৫ হাজারের বেশি শংসাপত্রে

    Caste Certificate Reverification: ভুয়ো কাস্ট সার্টিফিকেটে বড় পদক্ষেপ! প্রশাসনের নজর ৪৫ হাজারের বেশি শংসাপত্রে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে ভুয়ো জাতিগত শংসাপত্রের বিরুদ্ধে বড় অভিযান শুরু হয়েছে। গত ১৫ বছরে ইস্যু হওয়া কাস্ট সার্টিফিকেট খতিয়ে দেখে একের পর এক অসঙ্গতি সামনে আসছে বলে নবান্ন (Nabanna) সূত্রে খবর। এবার তৃণমূল আমলে গত প্রায় ১৫ বছরে ইস্যু হওয়া জাতিগত শংসাপত্র (কাস্ট সার্টিফিকেট) নিয়ে বড় পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) নির্দেশে শুরু হয়েছে ব্যাপক পুনর্যাচাই (Caste Certificate Reverification)। ইতিমধ্যেই বহু শংসাপত্র বাতিল হয়েছে, আর সন্দেহের তালিকায় রয়েছে ৪৫ হাজারেরও বেশি কাস্ট সার্টিফিকেট। শুনানির পর প্রমাণ দিতে না পারলে সেগুলিও বাতিল হতে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।

    ১ লক্ষের বেশি কাস্ট সার্টিফিকেটের পুনর্যাচাই

    অনগ্রসর শ্রেণী কল্যাণ দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত মোট ১,২২,১১৭টি জাতিগত শংসাপত্র পুনর্যাচাই (Caste Certificate Reverification) করা হয়েছে। এর মধ্যে ৭৬,৭৫০টি (প্রায় ৬২.৮ শতাংশ) শংসাপত্র বৈধ বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে যাচাই চলাকালীন একের পর এক অসঙ্গতি সামনে এসেছে বলেই প্রশাসনিক সূত্রের দাবি।

    ইতিমধ্যেই বাতিল ১৩৫টি শংসাপত্র

    যাচাইয়ের পর এখনও পর্যন্ত ১৩৫টি কাস্ট সার্টিফিকেট বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে-  ৮৩টি তফসিলি জাতি (SC), ৪১টি তফসিলি জনজাতি (ST) ও ১১টি অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি (OBC)। এছাড়াও আরও ২৯টি শংসাপত্রকে অবৈধ বলে ঘোষণা করা হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।

    কোন কোন জেলায় সবচেয়ে বেশি বাতিল?

    বাতিল হওয়া শংসাপত্রের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি পাওয়া গিয়েছে- উত্তর ২৪ পরগনা, কোচবিহার, হুগলি, পূর্ব বর্ধমান। এই জেলাগুলিতেই সবচেয়ে বেশি অনিয়ম ধরা পড়েছে বলে নবান্ন (Nabanna) সূত্রের দাবি। বর্তমানে প্রশাসনের সবচেয়ে বড় নজর ৪৫,৩৬৭টি কাস্ট সার্টিফিকেটের উপর। এগুলিকে সন্দেহজনক তালিকায় রাখা হয়েছে। জানা গিয়েছে, সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীদের একে একে শুনানিতে ডাকা হবে। সেখানে তাঁদের সমস্ত প্রয়োজনীয় নথি ও প্রমাণপত্র জমা দিতে হবে। যদি কেউ বৈধ নথি দেখাতে না পারেন, তাহলে সেই কাস্ট সার্টিফিকেটও অবৈধ ঘোষণা করে বাতিল করা হবে। এই প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে।

    কোন জেলায় সবচেয়ে বেশি সন্দেহজনক শংসাপত্র?

    সন্দেহের তালিকায় থাকা শংসাপত্র সবচেয়ে বেশি পাওয়া গিয়েছে— উত্তর দিনাজপুর, মুর্শিদাবাদ, দক্ষিণ দিনাজপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, ঝাড়গ্রাম, হুগলি, মালদহ, বাঁকুড়া, পূর্ব মেদিনীপুর, উত্তর ২৪ পরগনা। এই জেলাগুলির শংসাপত্র বিশেষভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।

    মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশেই শুরু হয় অভিযান

    নবান্ন (Nabanna) সূত্রে খবর, গত কয়েক বছরে ইস্যু হওয়া কাস্ট সার্টিফিকেট নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পুনর্যাচাইয়ের (Caste Certificate Reverification) নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশের ভিত্তিতেই অনগ্রসর শ্রেণী কল্যাণ দফতর রাজ্যজুড়ে এই বিশেষ যাচাই অভিযান শুরু করে। প্রশাসনের দাবি, প্রকৃত উপভোক্তাদের অধিকার সুরক্ষিত রাখতেই এই পুনর্যাচাই করা হচ্ছে। অন্যদিকে, যাঁরা ভুয়ো বা অবৈধভাবে জাতিগত শংসাপত্র সংগ্রহ করেছেন বলে প্রমাণিত হবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • Tata Motors: টাটার সঙ্গে বরফ গলছে! ৭৬৬ কোটি ক্ষতিপূরণ মেটাতে উদ্যোগ, বিনিয়োগেও জোর শুভেন্দু সরকারের

    Tata Motors: টাটার সঙ্গে বরফ গলছে! ৭৬৬ কোটি ক্ষতিপূরণ মেটাতে উদ্যোগ, বিনিয়োগেও জোর শুভেন্দু সরকারের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সিঙ্গুরের পরিত্যক্ত কারখানার জমি, রাজনৈতিক আন্দোলন আর দীর্ঘ দেড় দশকের তিক্ত আইনি যুদ্ধ- সবকিছু পিছনে ফেলে অবশেষে বরফ গলতে শুরু করেছে কলকাতা থেকে মুম্বইয়ের অন্দরে। রাজ্য সরকারের সঙ্গে টাটা গোষ্ঠীর (Tata Motors) সাম্প্রতিক উচ্চপর্যায়ের আলোচনার পর রাজ্য শিল্প মহলে এখন এক নতুন আশার আলো। অতীত সংঘাতের তিক্ততা ভুলে গিয়ে ফের কি বাংলায় বড় বিনিয়োগের পথে হাঁটবে টাটা গোষ্ঠী? শিল্প মহলে এখন এটাই সবচেয়ে বড় চর্চার বিষয়।

    মুম্বইয়ে বৈঠক, আলোচনায় ক্ষতিপূরণ ও বিনিয়োগ

    সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ শিল্প উন্নয়ন নিগম (WBIDC)-এর প্রতিনিধিরা এবং রাজ্যের শিল্প দপ্তরের সচিব বন্দনা যাদব মুম্বইতে টাটা গোষ্ঠীর (Tata Motors) সদর দফতরে গিয়ে এক দফায় দীর্ঘ বৈঠক সেরে এসেছেন। নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, এই আলোচনার পিছনে মূলত দুটি বড় উদ্দেশ্য ছিল- প্রথমত, আর্বিট্রেশন ট্রাইবুনালের নির্দেশ মেনে টাটাদের প্রাপ্য ক্ষতিপূরণ মেটানোর প্রশাসনিক রূপরেখা তৈরি করা। দ্বিতীয়ত, অতীতের জটিলতা দূরে সরিয়ে নতুন করে পশ্চিমবঙ্গে টাটাদের (Tata Motors) শিল্প বিনিয়োগের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা।

    সিঙ্গুর (Singur) আন্দোলন থেকে সুপ্রিম কোর্ট

    সিঙ্গুর (Singur) ও টাটাদের (Tata Motors) এই আইনি লড়াইয়ের মূল শিকড় লুকিয়ে রয়েছে দেড় দশক আগের রাজনৈতিক ও আইনি টানাপোড়েনে-

    ২০০৬-এর অধিগ্রহণ ও ২০০৮-এর প্রস্থান: ২০০৬ সালে তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার সিঙ্গুরে  (Singur) অত্যন্ত সুলভ মূল্যের ১ লাখ টাকার ‘ন্যানো’ গাড়ি কারখানার জন্য কৃষিজমি অধিগ্রহণ করে টাটা মোটর্সকে (Tata Motors) হস্তান্তর করে। তবে জমি অধিগ্রহণের পদ্ধতি ও অনিচ্ছুক চাষিদের স্বার্থ নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রবল আন্দোলন গড়ে তোলেন তৎকালীন বিরোধী নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। আন্দোলনের চাপে পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে ২০০৮ সালের পুজোর ঠিক আগে বাংলা ছেড়ে গুজরাতে কারখানা স্থানান্তরের ঐতিহাসিক ঘোষণা দেন টাটার তৎকালীন প্রধান রতন টাটা (Ratan Tata)।

    ২০১১-র রাজ্য রাজনীতিতে বদল ও জমি ফেরত: ২০১১ সালে রাজ্যে রাজনৈতিক ক্ষমতা বদল হয় এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন। সরকার গড়েই প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে সিঙ্গুরের (Singur) জমি চাষিদের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। চাষিরা জমি ফেরত পেলেও কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করে কারখানা গড়তে না পারায় চরম ব্যবসায়িক ক্ষতির মুখে পড়ে টাটা গোষ্ঠী (Tata Motors)।

    আইনি লড়াই ও ২০২৩-এর আইনি নির্দেশ: এই ক্ষতির প্রতিকার চেয়ে আইনি লড়াইয়ে নামে টাটা মোটর্স (Tata Motors)। আইনি প্রক্রিয়া গড়ায় আর্বিট্রেশন ট্রাইব্যুনালে। সেখানে রাজ্যের বিরুদ্ধে রায় দেওয়া হলে রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টে আপিল করে, কিন্তু সর্বোচ্চ আদালত তা খারিজ করে দেয়। শেষ পর্যন্ত ২০২৩ সালের অক্টোবরে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল নির্দেশ দেয়- সিঙ্গুরের ন্যানো গাড়ি প্রকল্পের ক্ষতিপূরণ হিসেবে রাজ্য সরকারকে টাটা মোটর্সকে মেটাতে হবে ৭৬৫ কোটি ৭৮ লক্ষ টাকা। ২০১৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে সম্পূর্ণ অর্থ পরিশোধ না করা পর্যন্ত বার্ষিক ১১ শতাংশ হারে সুদ গুণতে হবে পশ্চিমবঙ্গ শিল্পোন্নয়ন নিগমকে। এর পাশাপাশি নিগমকে আরও ১ কোটি টাকা মামলার আইনি খরচ হিসেবে টাটাদের মেটাতে হবে।

    তৃণমূল আমলের আইনি স্থগিতাদেশ: তৎকালীন তৃণমূল সরকার আলোচনার মাধ্যমে এই সঙ্কট নিষ্পত্তির পথে না গিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়। শিল্পোন্নয়ন নিগমকে সামনে রেখে কলকাতা হাইকোর্টে আপিল পিটিশন করা হলে বিচারপতি অনিরুদ্ধ রায়ের সিঙ্গল বেঞ্চ ট্রাইব্যুনালের রায়ের উপর ৮ সপ্তাহের স্থগিতাদেশ দিয়েছিলেন। ফলে ক্ষতিপূরণের পাওনা নিয়ে দীর্ঘ জটিলতা তৈরি হয়।

    নতুন সরকারের গতিশীল কূটনীতি

    চলতি বছরের মে মাসে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর পুরো আইনি অচলাবস্থা কাটানোর জন্য অত্যন্ত দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করে নতুন সরকার। পুরনো তিক্ততা ধরে না রেখে আলোচনার টেবিলে বসে জটিলতা কাটানোর উদ্যোগ নেয় নবান্ন।

    প্রায় ৭৬৬ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ নিয়ে কী আলোচনা? কলকাতা হাইকোর্টে চলতে থাকা মামলার বিষয়টি নিয়ে আলোচনার লক্ষ্যেই মুম্বইতে টাটাদের সদর দফতরে যান রাজ্যের শিল্প সচিব বন্দনা যাদব (Bandana Yadav)। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, টাটাকে সিঙ্গুরের (Singur) জমির ক্ষতিপূরণ মেটাতে ট্রাইব্যুনালের নির্দেশ মানতে রাজি রাজ্য সরকার। নবান্ন (Nabanna) সূত্রের খবর, টাটার পাওনা এই বিশাল অঙ্কের অর্থ কীভাবে এবং কতদিনের মধ্যে মেটানো হবে, সে বিষয়ে ইতিমধ্যেই একটি বিশেষ ‘গাইডলাইন’ বা নীতিমালা প্রস্তুত করেছে নবান্ন।

    সমঝোতার পথে দুই পক্ষ? সম্পর্কের এই সুবাতাসকে আরও এগিয়ে নিতে রাজ্য সরকার পূর্ণ প্রস্তুত। টাটা (Tata Motors) কর্তৃপক্ষ সম্মত হলেই রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত (Swapan Dasgupta) এবং শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় (Tapash Roy) সরকারি শীর্ষ আধিকারিকদের একটি উচ্চপর্যায়ের দল নিয়ে নিজে মুম্বই গিয়ে টাটাদের নীতি-নির্ধারকদের সঙ্গে মুখোমুখি বৈঠকে বসতে রাজি আছেন।

    পাখির চোখ বাংলায় নতুন বিনিয়োগ

    নবান্নের (Nabanna) একাংশের মতে, শুধুই পুরানো একটি প্রকল্পের বকেয়া অর্থ মিটিয়ে দেওয়া এই উদ্যোগের শেষ কথা নয়। রাজ্যের নতুন সরকারের মূল লক্ষ্য হলো বৃহৎ শিল্প বিনিয়োগ টানতে বড় বড় কর্পোরেট হাউসের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে নিবিড় সম্পর্ক বজায় রাখা। মুম্বইয়ের বৈঠকে টাটাদের সামনে পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান শিল্পনীতি, উন্নত অবকাঠামো, সুসংহত লজিস্টিক সুবিধা এবং আগামী দিনের বিনিয়োগের নানা সুযোগ বিশদে তুলে ধরা হয়েছে। পুরোনো সমস্ত জটিলতা দূর করে নতুন কোনো মেগা প্রজেক্টে অংশ নেওয়ার জন্য টাটাদের ইতিবাচক আহ্বান জানানো হয়েছে। যদিও এই বৈঠক বা আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে রাজ্য সরকার কিংবা টাটা গোষ্ঠীর (Tata Motors) পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও পর্যন্ত কোনও মন্তব্য বা স্পষ্ট বিবৃতি জারি করা হয়নি, তবে সরকারি সূত্রের দাবি- উভয় পক্ষই পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে দীর্ঘদিনের মামলা নিষ্পত্তি করতে এবং শিল্পায়নের স্বার্থে ভবিষ্যতে একসঙ্গে কাজ করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নিতে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

  • DA Hike: পুজোর উপহার নবান্নর, বাড়ছে ডিএ-ডিআর, অতিরিক্ত সুবিধা দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মীদেরও!

    DA Hike: পুজোর উপহার নবান্নর, বাড়ছে ডিএ-ডিআর, অতিরিক্ত সুবিধা দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মীদেরও!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পুজোর আগেই এবার সুখবর। রাজ্য সরকারি কর্মী পেনশনভোগীদের জন্য বড় সুখবর রাজ্যের। আগামী ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে মহার্ঘ ভাতা (DA) এবং ডিয়ারনেস রিলিফ (DR)-এর হার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হচ্ছে। এমনই নির্দেশিকা জারি নবান্নের (Nabanna) তরফে। ফলে পুজোর মাসেই সরকারি কর্মী, পেনশনভোগী এবং নির্দিষ্ট শ্রেণির দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মীরা বাড়তি আর্থিক সুবিধা পাবেন।

    ডিএ বাড়ল (DA Hike) প্রি-রিভাইজড বেতনভোগীদের

    নবান্নের (Nabanna) নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রি-রিভাইজড পে স্কেলে থাকা রাজ্য সরকারি কর্মীদের ডিএ (DA Hike) ১৭১ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২২৩ শতাংশ করা হয়েছে। এই বর্ধিত ডিএ আগামী ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকেই কার্যকর হবে।

    পেনশনভোগীদের জন্যও বড় স্বস্তি

    নবান্নের (Nabanna) নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, ROPA ২০০৯ অনুযায়ী প্রি-রিভাইজড পেনশন বা ফ্যামিলি পেনশন প্রাপকদের ক্ষেত্রেও ২২৩ শতাংশ হারে ডিয়ারনেস রিলিফ (DR) দেওয়া হবে। এছাড়াও, রিভাইজড পেনশন বা ফ্যামিলি পেনশন প্রাপকদের ক্ষেত্রে ৩৮ শতাংশ হারে ডিয়ারনেস রিলিফ দেওয়ার কথাও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

    দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মীদের জন্য অতিরিক্ত সুবিধা

    শুধু সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীরাই নন, নবান্নের ঘোষণায় সুবিধা পাচ্ছেন নির্দিষ্ট শ্রেণির দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মীরাও। নির্দেশিকা অনুযায়ী, ন্যূনতম মজুরি আইনের আওতার বাইরে থাকা দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মীদের দৈনিক মজুরিতে অতিরিক্ত ১১০ টাকা বিশেষ ভাতা (অ্যাড-হক) দেওয়া হবে। এই সিদ্ধান্তও ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে।

    আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী

    উল্লেখযোগ্যভাবে, কয়েকদিন আগে ভবানী ভবনে রাজ্য পুলিশের একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) ঘোষণা করেছিলেন, সরকারি কর্মীদের জন্য অতিরিক্ত ২০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা দেওয়া হবে। পাশাপাশি, পুজোর আগে কর্মীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে অক্টোবর মাসের বেতন আগাম দেওয়ার সিদ্ধান্তও জানানো হয়েছিল। পরবর্তীতে রাজ্যের তরফে জানানো হয়, অক্টোবর মাস থেকেই বর্ধিত ডিএ কার্যকর হবে। সেই ঘোষণার পর এবার নবান্নের (Nabanna) আনুষ্ঠানিক নির্দেশিকা জারির মাধ্যমে বিষয়টি কার্যকর করার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হল।

    পুজোর মুখে বাড়বে হাতে পাওয়া টাকা

    দুর্গাপুজোর ঠিক আগে এই সিদ্ধান্তকে রাজ্য সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীদের জন্য বড় স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। বর্ধিত ডিএ (DA Hike) ও ডিআরের (DR) পাশাপাশি দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মীদের অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধার ফলে অক্টোবর মাস থেকেই বহু কর্মীর হাতে আগের তুলনায় বেশি টাকা পৌঁছবে। পুজোর কেনাকাটা ও পারিবারিক খরচের সময় এই সিদ্ধান্ত উল্লেখযোগ্য স্বস্তি এনে দেবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

  • Howrah Terror Module: হাওড়ায় জঙ্গি-যোগ! হামিম-আদিত্যদের মতো আরও অনেকেই চিহ্নিত, দাবি নিশানায় থাকা মন্ত্রীর

    Howrah Terror Module: হাওড়ায় জঙ্গি-যোগ! হামিম-আদিত্যদের মতো আরও অনেকেই চিহ্নিত, দাবি নিশানায় থাকা মন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হাওড়ায় জঙ্গি-যোগের (Howrah Terror Module) তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে আরও নতুন তথ্য। জঙ্গি সন্দেহে রবিবারই ধৃত হামিম মণ্ডলের সহযোগী আদিত্য সিংকে হাওড়া থেকে গ্রেফতার (Aditya Singh Arrest) করেছে রাজ্য পুলিশের এসটিএফ (STF)। এবার তদন্তকারীদের রাডারে উত্তর হাওড়ায় বিদেশি যোগাযোগ থাকা আরও একাধিক সন্দেহভাজন। তদন্তকারীদের দাবি, তাঁদের উপরও নজরদারি চালানো হচ্ছে। একইসঙ্গে এই বিষয়ে পুলিশকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও দেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই (Umesh Rai)। তিনিও না কি জঙ্গি-নিশানায় ছিলেন বলেই অভিযোগ।

    তদন্তে নতুন দিক (Howrah Terror Module)

    গত বৃহস্পতিবার রাতে বর্ধমান থেকে হামিম মণ্ডলকে (Hamim Mondal) গ্রেফতার করে তদন্তকারীরা। পরে ধরা পড়ে তার বান্ধবী অর্পিতা সরকার। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, দু’জনেই পাকিস্তানি গ্যাংস্টার শাহজাদ ভাট্টির নেটওয়ার্কের (Pakistan Link) সঙ্গে যুক্ত ছিল। তাঁদের জেরার ভিত্তিতেই রবিবার রাতে হাওড়ার বেলিলিয়াস রোড থেকে আদিত্য সিংকে গ্রেফতার (Aditya Singh Arrest) করে রাজ্য পুলিশের এসটিএফ (STF)। সূত্রের খবর, বর্ধমানে যাওয়ার আগে হামিম দীর্ঘদিন হাওড়ার পিলখানায় থাকত। সেই এলাকারই বাসিন্দা আদিত্য। তদন্তকারীদের অনুমান, উমেশ রাই ও তাঁর পরিবারের বিভিন্ন ব্যক্তিগত তথ্য, ছবি এবং গতিবিধির খবর হামিমের কাছে পৌঁছে দিয়েছিল আদিত্যই। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই অপহরণের ছক তৈরি হয়েছিল বলে সন্দেহ।

    ‘আমিই ছিলাম টার্গেট’

    পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই (Umesh Rai) বলেন, “অনেক কড়া পদক্ষেপ করেছিলাম। তাতে অনেকেরই অসুবিধা হয়েছিল। সেই কারণেই হয়তো আমাকে টার্গেট করা হয়েছে। তবে আমি ভয় পাইনি। আমার কাছে পাঁচ কোটি টাকা চাওয়া হয়েছিল। পাকিস্তান থেকে ফোনও এসেছিল। প্রথমে বিষয়টিকে গুরুত্ব দিইনি। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর নাম জড়িয়ে পড়ার পরই পুলিশকে সব জানানো হয়।”

    ‘হাওড়ায় আরও অনেক আদিত্য রয়েছে’

    উমেশ রাইয়ের (Umesh Rai) আরও অভিযোগ, উত্তর হাওড়ায় আদিত্যের মতো আরও অনেক ব্যক্তি সক্রিয় রয়েছেন, যাঁদের বিদেশি যোগাযোগ রয়েছে। তাদের ইতিমধ্যেই চিহ্নিত করা হয়েছে। এই ব্যক্তিদের গ্রেফতার করা গেলে বিপুল পরিমাণ বেআইনি অস্ত্র উদ্ধার হতে পারে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলিও তাঁদের গতিবিধির উপরও নজর রাখছে বলে জানা গিয়েছে।

    কলেজ পড়ুয়ার অ্যাকাউন্টে লক্ষ লক্ষ টাকা! 

    আদিত্য সিংকে ঘিরে আর্থিক লেনদেন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন উমেশ রাই (Umesh Rai)। একজন কলেজ ছাত্রের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা রয়েছে? যা অত্যন্ত সন্দেহজনক। মন্ত্রী বলেন, “এরা টাকার বিনিময়ে মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা, দেশের নিরাপত্তা বিক্রি করে দিচ্ছে। এটাই সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়। তাই সাধারণ মানুষকেও সতর্ক থাকতে হবে।”

    তদন্তে আরও বড় চক্রের ইঙ্গিত

    হামিম, অর্পিতা ও আদিত্যকে ঘিরে তদন্তে একটি বৃহত্তর নেটওয়ার্কের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী সংস্থাগুলি। বিদেশি যোগাযোগ, অর্থের লেনদেন, সম্ভাব্য অপহরণচক্র এবং বেআইনি অস্ত্রের যোগ- সব দিকেই সমান্তরালভাবে তদন্ত চলছে। তদন্তকারীদের লক্ষ্য, এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেককে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা।

  • Bengal Missionary Activities: আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় ধর্মান্তর করছেন মিশনারিরা! অভিযোগে সরগরম উত্তর ২৪ পরগনা

    Bengal Missionary Activities: আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় ধর্মান্তর করছেন মিশনারিরা! অভিযোগে সরগরম উত্তর ২৪ পরগনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আদিবাসী ও আর্থিকভাবে দুর্বল হিন্দু পরিবারগুলির ধর্মান্তরকরণ ঘিরে অভিযোগকে কেন্দ্র করে ফের বিতর্কের কেন্দ্রে পশ্চিমবঙ্গের খ্রিস্টান মিশনারি কার্যকলাপ (Bengal Missionary Activities)। উত্তর ২৪ পরগনার ন্যাজাট এলাকায় ধর্মান্তরকরণ এবং বিদেশি অর্থের ব্যবহার নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের সঙ্গে ক্ল্যারেটিয়ান মিশনারিদের বচসা ও উত্তেজনার অভিযোগ সামনে এসেছে (Foreign Funding Row)। পাল্টা মিশনারিদের পক্ষ থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের বিরুদ্ধে ভয় দেখানো ও হুমকির অভিযোগ জানানো হয়েছে পুলিশের কাছে।

    অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ (Bengal Missionary Activities)

    ঘটনাটি ঘটেছে বারুইপুর ডাওসিসের অধীনস্থ ন্যাজাটের ক্ল্যারেট প্রেমালয় মিশন কেন্দ্রে। মিশন কর্তৃপক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে, সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য নথিভুক্ত করে এবং পরিস্থিতির উপর নজর রাখার আশ্বাস দেয়। অভিযোগ দায়েরের সময় পর্যন্ত ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। এই ঘটনাকে ঘিরে পশ্চিমবঙ্গের গ্রামীণ ও আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় মিশনারি কার্যকলাপ, ধর্মান্তর এবং বিদেশি অর্থের ব্যবহার নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক ফের সামনে এসেছে। বিভিন্ন সময়ে রাজ্যের একাধিক এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দা এবং হিন্দু সংগঠনগুলির পক্ষ থেকে ধর্মান্তরকরণের অভিযোগ করা হলেও মিশনারি সংগঠনগুলি বরাবরই তা অস্বীকার করে এসেছে। তাদের দাবি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য পরিষেবা, ধর্মীয় সেবা এবং মানবিক সহায়তার মধ্যেই তাদের কাজ সীমাবদ্ধ।

    মিশন কেন্দ্রে গিয়ে কার্যকলাপ নিয়ে প্রশ্ন

    মিশনারিদের দায়ের করা অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৩১ জুলাই প্রায় আটজন স্থানীয় ব্যক্তি ন্যজটের ওই মিশন চত্বরে যান। সেখানে তাঁরা মিশনের সঙ্গে যুক্ত ধর্মযাজকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং এলাকায় তাঁদের কার্যকলাপ সম্পর্কে বিভিন্ন প্রশ্ন তোলেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাসিন্দারা জানতে চান, ওই এলাকায় কতগুলি ক্যাথলিক পরিবার বসবাস করে, মিশনের মূল কাজ কী এবং কী ধরনের কার্যকলাপ সেখানে পরিচালিত হয়। কথাবার্তার এক পর্যায়ে মিশনের বিরুদ্ধে দরিদ্র আদিবাসী ও হিন্দু পরিবারগুলিকে ধর্মান্তরিত করার অভিযোগও তোলা হয়। মিশনের পরিকাঠামো সম্প্রসারণের জন্য ব্যবহৃত অর্থের উৎস নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। অভিযোগকারীদের দাবি ছিল, বিদেশ থেকে পাওয়া অর্থ মিশনারি কার্যকলাপে ব্যবহার করা হচ্ছে। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা এখনও মেলেনি। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের মধ্যে ধর্মপ্রচার ও ধর্মান্তরকরণ নিয়ে যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে, এই ঘটনায় তারই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তে এর আগেও একই ধরনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দা ও মিশনারি সংগঠনগুলির মধ্যে বিরোধের ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে।

    সাত দিনের মধ্যে মিশন ছাড়ার হুমকির অভিযোগ

    মিশনারিদের অভিযোগ অনুযায়ী, ওই দলের এক সদস্য নিজেকে স্থানীয় কাউন্সিলর পরিচয় দিয়ে মিশন কর্তৃপক্ষকে সাত দিনের মধ্যে জায়গা খালি করে দেওয়ার নির্দেশ দেন। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মিশনারিরা সেখান থেকে চলে না গেলে বাইরে থেকে মিশনের দরজায় তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়। যদিও ঘটনাস্থলে কোনও অস্ত্র প্রদর্শনের অভিযোগ পাওয়া যায়নি, মিশনারিদের দাবি, চলে যাওয়ার আগে ওই ব্যক্তিরা মিশন চত্বরের ভবন এবং সেখানে থাকা যানবাহনের ছবি তোলেন। পরিস্থিতি নিয়ে বারুইপুরের বিশপ এবং আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করার পর ক্ল্যারেটিয়ান মিশনারিদের পক্ষ থেকে স্থানীয় থানায় এফআইআর দায়ের করা হয়। অভিযোগ পেয়ে মিশনে যায় পুলিশ। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য শোনা হয়েছে। নজর রাখা হচ্ছে পরিস্থিতির ওপর। গ্রেফতারির কোনও খবর এখনও নেই। অভিযোগের বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

    সন্দেশখালিতেও একই ধরনের ঘটনার অভিযোগ

    ন্যাজাটের ঘটনার এক দিন আগে সন্দেশখালিতেও এক খ্রিস্টান ধর্মযাজককে ঘিরে একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল বলে দাবি করেছে বিভিন্ন খ্রিস্টান সংগঠন। তাদের বক্তব্য, সেখানেও এক স্থানীয় মিশনারিকে বিদেশি অর্থে পরিচালিত কার্যকলাপ এবং ধর্মপ্রচারের কাজ নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল। খ্রিস্টান সংগঠনগুলির দাবি, দুই ঘটনায়ই একই ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। তাদের প্রকাশ করা কয়েকটি ভিডিয়োয় এক ব্যক্তিকে এক ধর্মযাজকের সঙ্গে বিদেশি অর্থের ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন করতে এবং এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বলতে দেখা গিয়েছে বলে সংগঠনগুলির দাবি। যদিও ভিডিয়োগুলির সত্যতা যাচাই করা হয়নি। ফলে ভিডিয়োয় দেখা ব্যক্তি বা উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে (Bengal Missionary Activities) নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায়নি।

    ধর্মান্তর নিয়ে পুরনো বিতর্ক ফের সামনে

    ন্যাজাটের সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গে মিশনারি প্রতিষ্ঠানগুলির কার্যকলাপ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক আবারও আলোচনায় এসেছে। বেশ কয়েকটি হিন্দু সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, কিছু মিশনারি প্রতিষ্ঠান শিক্ষা, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের আড়ালে আদিবাসী ও আর্থিকভাবে দুর্বল পরিবারগুলির মধ্যে ধর্মান্তরকরণের কাজ চালাচ্ছে। যদিও মিশনারি সংগঠনগুলি এই অভিযোগ প্রথম থেকেই অস্বীকার করে এসেছে। তাদের বক্তব্য, দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের পাশে দাঁড়ানো, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবা দেওয়া, ধর্মীয় দায়িত্ব পালন এবং মানবিক সহায়তা প্রদানই তাদের মূল উদ্দেশ্য। ধর্মান্তরকরণের অভিযোগকে তারা ভিত্তিহীন বলেই এবারও দাবি করেছে। ফলে ধর্মান্তর নিয়ে অভিযোগ এবং মিশনারি সংগঠনগুলির পাল্টা বক্তব্য—দু’পক্ষের দাবির মধ্যেই দীর্ঘদিন ধরে টানাপোড়েন চলছে। বিশেষ করে আদিবাসী ও গ্রামীণ এলাকায় এই প্রশ্নটি সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে (Bengal Missionary Activities)।

    বিদেশি অর্থের ব্যবহার নিয়েও প্রশ্ন

    ধর্মান্তরের পাশাপাশি বিদেশ থেকে পাওয়া অর্থ কীভাবে খরচ করা হচ্ছে, তা নিয়েও বিভিন্ন সময়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে সংবেদনশীল আদিবাসী ও গ্রামীণ এলাকায় কাজ করা মিশনারি প্রতিষ্ঠানগুলির আর্থিক লেনদেন এবং কার্যকলাপে আরও স্বচ্ছতার দাবি জানানো হয়েছে। ন্যাজাটের ঘটনায়ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগের অন্যতম বিষয় ছিল বিদেশি অর্থের ব্যবহার। তবে কোনও বেআইনি আর্থিক লেনদেন হয়েছে কি না, কিংবা বিদেশি অর্থ আদৌ ধর্মান্তরকরণের কাজে ব্যবহার করা হয়েছে কি না, তা এখনও জানা যায়নি। পুলিশ অভিযোগের অন্যান্য দিকের পাশাপাশি এই বিষয়টিও খতিয়ে দেখতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে (Foreign Funding Row)।

    তদন্তের দিকেই নজর

    ন্যাজাটের ঘটনায় পুলিশ ইতিমধ্যেই মিশনারিদের অভিযোগ নিয়েছে, এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যও নথিভুক্ত করা হয়েছে। এখন তদন্তে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ এবং মিশনারিদের পাল্টা অভিযোগ—দুই দিকই কতটা সত্য, তা স্পষ্ট হওয়ার অপেক্ষা। ধর্মান্তরকরণের অভিযোগের আদৌ বাস্তব ভিত্তি রয়েছে কি না, বিদেশি অর্থ কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে মিশনারিদের বিরোধের প্রকৃত কারণ কী এবং মিশন খালি করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছিল কি না—এই বিষয়গুলিই তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। প্রসঙ্গত, ঘটনাটি এমন একটি সময়ে সামনে এসেছে, যখন ধর্মান্তর এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রশ্ন নিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তেই চলছে (Foreign Funding Row) বিতর্ক। ফলে উত্তর ২৪ পরগনার ন্যাজাটের এই ঘটনা আগামী দিনে আরও রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিক্রিয়া তৈরি (Bengal Missionary Activities) করে কি না, সেটাই দেখার।

     

LinkedIn
Share