Tag: মাধ্যম

  • Dhanteras 2026: সোনা কেনার সামর্থ্য নেই? ধনতেরাসে এই সামান্য কয়েকটি জিনিস কিনলেও মিলতে পারে লক্ষ্মীর আশীর্বাদ!

    Dhanteras 2026: সোনা কেনার সামর্থ্য নেই? ধনতেরাসে এই সামান্য কয়েকটি জিনিস কিনলেও মিলতে পারে লক্ষ্মীর আশীর্বাদ!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দুর্গাপুজোর রেশ কাটতে না কাটতেই শুরু হয়ে গিয়েছে দীপাবলি ও কালীপুজোর প্রস্তুতি। আর এই উৎসবের সূচনা হয় ধনতেরাসের (Dhanteras) মধ্য দিয়ে। কার্তিক মাসের কৃষ্ণপক্ষের ত্রয়োদশী তিথিতে পালিত হয় ধনতেরাস, যা ধনত্রয়োদশী নামেও পরিচিত। এই দিন দেবী লক্ষ্মী, ভগবান কুবের এবং ধন্বন্তরীর আরাধনা করা হয়। প্রচলিত বিশ্বাস, ধনতেরাসে শুভ সময়ে সোনা, রুপো কিংবা অন্যান্য ধাতব সামগ্রী কিনলে সংসারে সুখ, সমৃদ্ধি ও সৌভাগ্য আসে।

    তবে ধনতেরাস মানেই শুধু কেনাকাটা নয়। এই দিন কোন জিনিস কেনা শুভ, কোন সামগ্রী কেনা এড়িয়ে চলা উচিত, কীভাবে পুজো করবেন এবং সন্ধ্যায় কেন জ্বালানো হয় যম প্রদীপ—এসব নিয়েও রয়েছে নানা ধর্মীয় বিশ্বাস ও প্রচলিত রীতি। জেনে নিন ধনতেরাসে কী করবেন, কী করবেন না এবং কেনাকাটার তালিকায় কোন কোন জিনিস রাখবেন।

    ধনতেরাসে কী কী কেনা শুভ?

    ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসারে, ধনতেরাসের দিনে কয়েকটি বিশেষ সামগ্রী কেনা অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়। আর্থিক সামর্থ্য অনুযায়ী সোনা-রুপো থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় কিছু জিনিসও কেনা যেতে পারে।

    • ১. সোনা ও রুপো: ধনতেরাসে সোনা ও রুপো কেনার বিশেষ প্রচলন রয়েছে। বিশ্বাস করা হয়, এই দিনে মূল্যবান ধাতু কিনলে সংসারে ধনসম্পত্তি ও সমৃদ্ধি বৃদ্ধি পায়। সোনার গয়না, রুপোর কয়েন কিংবা রুপোর সামগ্রী কেনা যেতে পারে।
    • ২. কাঁসা ও পিতলের বাসন: সোনা বা রুপো কেনা সম্ভব না হলে কাঁসা কিংবা পিতলের বাসন কেনাও শুভ বলে মনে করা হয়। তবে একটি বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি। নতুন বাসন খালি অবস্থায় বাড়িতে না এনে তার মধ্যে জল, চাল, দুধ কিংবা মধু ভরে নিয়ে আসার রীতি রয়েছে। অনেকে সাত ধরনের শস্য ভরে বাসন বাড়িতে আনাকেও শুভ মনে করেন।
    • ৩. ঝাড়ু: ধনতেরাসে ঝাড়ু কেনার বিশেষ মাহাত্ম্য রয়েছে। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, ঝাড়ুকে দেবী লক্ষ্মীর প্রতীক হিসেবে গণ্য করা হয়। এই দিনে নতুন ঝাড়ু কিনলে সংসার থেকে দারিদ্র্য ও আর্থিক সমস্যা দূর হয়।
    • ৪. জমি, বাড়ি ও গাড়ি: অনেকেই ধনতেরাসকে নতুন সম্পত্তি কেনার শুভ দিন হিসেবে বেছে নেন। এই দিনে জমি, বাড়ি কিংবা গাড়ি কেনাও শুভ বলে মনে করা হয়।
    • ৫. লক্ষ্মী-গণেশের মূর্তি: ধনতেরাসে দেবী লক্ষ্মী ও ভগবান গণেশের মূর্তি কেনার প্রচলন রয়েছে। দীপাবলির পুজোয় এই মূর্তি ব্যবহার করা হয়।
    • ৬. অন্যান্য শুভ সামগ্রী: ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসারে, ধনতেরাসে নুন, গুড়ের বাতাসা, গাঁট হলুদ, কড়ি, গোমতীচক্র, জায়ফল, হরিতকি, সুপুরি ও ধান কেনাও শুভ। অনেকে এই দিন বাড়িতে নতুন নুন নিয়ে আসেন এবং সেই নুন দিয়েই রান্না করেন।

    ধনতেরাসে কোন কোন জিনিস কেনা উচিত নয়?

    যেমন কিছু জিনিস কেনাকে শুভ মনে করা হয়, তেমনই কিছু সামগ্রী কেনা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেন অনেকে। প্রচলিত ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, ধনতেরাসে কেনাকাটার সময় কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখা উচিত।

    • ● লোহার সামগ্রী: এই দিনে লোহার জিনিস কেনা এড়িয়ে চলার রীতি রয়েছে।

    • ● কাচের জিনিস: কাচের তৈরি সামগ্রী কেনাও অনেকে অশুভ বলে মনে করেন।

    • ● অ্যালুমিনিয়ামের বাসন: ধনতেরাসে অ্যালুমিনিয়ামের তৈরি জিনিস না কেনার প্রচলিত বিশ্বাস রয়েছে।

    • ● প্লাস্টিকের সামগ্রী: প্লাস্টিকের তৈরি জিনিস কেনাও এড়িয়ে চলতে বলা হয়।

    • ● ধারালো জিনিস: ছুরি, কাঁচি, ব্লেডের মতো ধারালো সামগ্রী এই দিনে না কেনাই ভাল বলে মনে করা হয়।

    • ● নকল সোনার গয়না: আসল সোনার পরিবর্তে নকল সোনার গয়না কেনা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়।

    • ● কালো পোশাক: এই দিনে পোশাক কিনলে কালো রং এড়িয়ে চলার রীতি রয়েছে।

    • ● মিশ্র ধাতুর সামগ্রী: অনেকে ধনতেরাসে মিশ্র ধাতুর বদলে বিশুদ্ধ ধাতুর জিনিস কেনাকেই বেশি গুরুত্ব দেন।

    এছাড়া প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, ধনতেরাসের দিনে কাউকে টাকা ধার দেওয়া কিংবা অন্যের কাছ থেকে টাকা ধার নেওয়া উচিত নয়। তেল ও ঘি পুজোয় প্রয়োজন হলেও এই দিনে না কিনে আগে থেকেই কিনে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।

    সন্ধ্যায় কেনাকাটার তালিকায় কী রাখবেন?

    ধনতেরাসের সন্ধ্যায় কেনাকাটার পাশাপাশি পুজোর প্রস্তুতিও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষত লক্ষ্মী-কুবেরের আরাধনার জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী আগে থেকেই গুছিয়ে রাখা উচিত। সোনা, রুপো কিংবা পিতল-কাঁসার বাসন কেনার পাশাপাশি নুন, ধান, হলুদ, কড়ি ও গোমতীচক্রের মতো সামগ্রীও কেনাকাটার তালিকায় রাখতে পারেন। তবে কেনাকাটার ক্ষেত্রে নিজের আর্থিক সামর্থ্যকে গুরুত্ব দেওয়াই সবচেয়ে জরুরি। ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে অপ্রয়োজনীয় খরচ বা ঋণ করে কেনাকাটা করার কোনও প্রয়োজন নেই।

    ধনতেরাসে কেন জ্বালানো হয় যম প্রদীপ?

    ধনতেরাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রীতি হল যম প্রদীপ বা যম দীপদান। এই দিন সন্ধ্যায় বাড়ির দক্ষিণ দিকে মৃত্যুর দেবতা যমরাজের উদ্দেশ্যে একটি চারমুখী প্রদীপ জ্বালানোর প্রচলন রয়েছে।

    পৌরাণিক বিশ্বাস অনুযায়ী, বাড়ির দক্ষিণ দিকের অধিপতি যমরাজ। ধনতেরাসের সন্ধ্যায় তাঁর উদ্দেশ্যে প্রদীপ জ্বালালে অকালমৃত্যুর আশঙ্কা দূর হয় এবং পরিবারের সদস্যদের দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য বজায় থাকে।

    প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, আটার তৈরি চারমুখী প্রদীপে সর্ষের তেল দিয়ে তা বাড়ির বাইরে দক্ষিণ দিকে মুখ করে জ্বালানো হয়। অনেকে বাড়ির বাইরে আবর্জনা ফেলার স্থানের কাছেও এই প্রদীপ রাখেন। বিশ্বাস করা হয়, যমরাজের উদ্দেশ্যে এই দীপদান করলে পরিবারকে অকালমৃত্যুর ভয় থেকে রক্ষা করা যায়।

    কিছু পরিবারে ধনতেরাস থেকে ভাইফোঁটা পর্যন্ত টানা পাঁচ দিন যম প্রদীপ জ্বালানোর রীতিও রয়েছে। প্রদীপ জ্বালানোর সময় পরিবারের সদস্যদের দীর্ঘায়ু, সুস্বাস্থ্য ও মঙ্গল কামনা করে প্রার্থনা করা হয়।

    ধনতেরাসে কোথায় কোথায় প্রদীপ জ্বালাবেন?

    ধনতেরাসের সন্ধ্যায় ১৩টি প্রদীপ জ্বালানো শুভ বলে প্রচলিত বিশ্বাস রয়েছে। যম প্রদীপ ছাড়াও বাড়ির বিভিন্ন জায়গায় প্রদীপ জ্বালানোর রীতি রয়েছে।

    • ● বাড়ির প্রধান প্রবেশদ্বারে।

    • ● তুলসী গাছের কাছে।

    • ● বাড়ির ছাদে।

    • ● পিপল (অশ্বত্থ বা বোধি) গাছের নীচে।

    • ● বাড়ির বাথরুম ও জানলার কাছে।

    • ● কাছাকাছি কোনও মন্দিরে।

    এছাড়া বাড়ির মূল প্রবেশদ্বারে গরুর ঘিয়ের প্রদীপ জ্বালানোও শুভ বলে মনে করা হয়। বিশ্বাস করা হয়, এতে দেবী লক্ষ্মীর আশীর্বাদ লাভ হয় এবং সংসারে সুখ-সমৃদ্ধি বৃদ্ধি পায়।

    ধনতেরাসের পৌরাণিক তাৎপর্য কী?

    ধনতেরাসের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ভগবান ধন্বন্তরীর আবির্ভাবের কাহিনি। পৌরাণিক কাহিনি অনুযায়ী, সমুদ্র মন্থনের সময় অমৃতের কলস হাতে আবির্ভূত হয়েছিলেন ধন্বন্তরী। তাঁকে আয়ুর্বেদ ও চিকিৎসাশাস্ত্রের দেবতা হিসেবেও মানা হয়। তাই এই দিন ধনসম্পদের পাশাপাশি সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনাও বিশেষ গুরুত্ব পায়।

    সব মিলিয়ে ধনতেরাস শুধু সোনা-রুপো বা নতুন সামগ্রী কেনার উৎসব নয়। এই দিন লক্ষ্মী-কুবেরের আরাধনা, ধন্বন্তরীর পুজো, যম প্রদীপ জ্বালানো এবং পরিবারের মঙ্গল কামনার মধ্য দিয়ে দীপাবলির উৎসবের সূচনা হয়। প্রচলিত রীতি ও বিশ্বাস মেনে উৎসবে সামিল হওয়ার পাশাপাশি নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী কেনাকাটা করাই হতে পারে ধনতেরাস উদযাপনের সবচেয়ে বাস্তবসম্মত পথ।

  • West Bengal Investment: তালিকায় প্রতিরক্ষা থেকে মহাকাশ শিল্প, বাংলায় ৬,০০০ কোটির বিনিয়োগের প্রস্তাব জয় বালাজি গ্রুপের!

    West Bengal Investment: তালিকায় প্রতিরক্ষা থেকে মহাকাশ শিল্প, বাংলায় ৬,০০০ কোটির বিনিয়োগের প্রস্তাব জয় বালাজি গ্রুপের!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলার শিল্পক্ষেত্রে বড় বিনিয়োগের প্রস্তাব দিল জয় বালাজি গ্রুপ (Jai Balaji Group)। আগামী কয়েক বছরে পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৬,০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে সংস্থাটি। বিশেষ ইস্পাত উৎপাদন, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম, মহাকাশ গবেষণার উপযোগী যন্ত্রাংশ, প্রিসিশন ইঞ্জিনিয়ারিং এবং পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি—মূলত এই পাঁচটি ক্ষেত্রকে সামনে রেখেই বিনিয়োগের পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে। সংস্থার দাবি, এই সম্প্রসারণ বাস্তবায়িত হলে রাজ্যে অতিরিক্ত ২০ হাজারেরও বেশি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

    প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ শিল্পে বিশেষ নজর

    • ● জয় বালাজি গ্রুপের প্রস্তাবিত বিনিয়োগ পরিকল্পনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় উন্নতমানের কাঁচামাল এবং যন্ত্রাংশ উৎপাদন। এই প্রকল্পের আওতায় প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য বিশেষ অ্যালয় এবং উচ্চমানের ইস্পাত তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে।
    • ● পাশাপাশি রেল এবং মহাকাশ শিল্পের জন্য উচ্চ-নির্ভুলতাসম্পন্ন (High-Precision) উপাদান ও যন্ত্রাংশ উৎপাদনেও জোর দিতে চায় সংস্থাটি। বিশেষ ধরনের তামা ও অ্যালুমিনিয়াম অ্যালয়, স্টিল কাস্টিং এবং ফোরজিংস উৎপাদনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
    • ● এছাড়া রেল, প্রতিরক্ষা, অটোমোবাইল, মহাকাশ এবং অন্যান্য ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পের চাহিদা মেটাতে প্রিসিশন ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য ও তার পরবর্তী উৎপাদনশৃঙ্খল বা ডাউনস্ট্রিম প্রোডাক্টের ক্ষেত্রেও ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে চায় গোষ্ঠীটি।

    ২০ হাজারের বেশি কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা

    • ● এই বিনিয়োগের অন্যতম বড় ইতিবাচক দিক কর্মসংস্থান। জয় বালাজি গ্রুপের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত সম্প্রসারণের ফলে রাজ্যে অতিরিক্ত ২০ হাজারেরও বেশি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। অর্থাৎ, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থানের পাশাপাশি শিল্পের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সহযোগী ক্ষেত্রেও কাজের সুযোগ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    উল্লেখ্য, বর্তমানে জয় বালাজি গ্রুপের বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ২৫ হাজারেরও বেশি মানুষ জীবিকা নির্বাহ করেন। জাজোদিয়া পরিবারের প্রতিষ্ঠিত এই শিল্পগোষ্ঠীর ইস্পাত ও উৎপাদন শিল্পে চার প্রজন্মের অভিজ্ঞতা রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা এবং ছত্তিশগড় মিলিয়ে তাদের মোট ১০টি উৎপাদন কেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে আটটিই পশ্চিমবঙ্গে অবস্থিত।

    সবুজ শক্তি ও পরিবেশবান্ধব উৎপাদনেও জোর

    • ● শুধু উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি নয়, শিল্পের শক্তির চাহিদা মেটাতে সৌরবিদ্যুৎ এবং গ্রিন পাওয়ার জেনারেশনের ক্ষেত্রেও বিনিয়োগ করতে চায় জয় বালাজি গ্রুপ। এর লক্ষ্য, উৎপাদন প্রক্রিয়ায় শক্তির দক্ষতা বৃদ্ধি, বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ এবং কার্বন নিঃসরণের পরিমাণ কমানো।

    সংস্থার বর্তমান সমন্বিত উৎপাদন পরিকাঠামোয় প্রায় ১০০ মেগাওয়াট নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা রয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, উৎপাদন প্রক্রিয়ায় তৈরি হওয়া বর্জ্য তাপ (Waste Heat) এবং কঠিন শিল্পবর্জ্য ব্যবহার করেও বিদ্যুৎ উৎপাদন করে গোষ্ঠীটি। নতুন বিনিয়োগের মাধ্যমে এই ধরনের পরিবেশবান্ধব শক্তি ব্যবস্থাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

    বাংলার শিল্পায়নে কতটা তাৎপর্যপূর্ণ এই বিনিয়োগ?

    পশ্চিমবঙ্গের শিল্পক্ষেত্রে নতুন বিনিয়োগ টানতে রাজ্য সরকারের উদ্যোগের মধ্যেই জয় বালাজি গ্রুপের এই ঘোষণা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে প্রতিরক্ষা, মহাকাশ, রেল এবং উন্নত ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পের মতো উচ্চ প্রযুক্তিনির্ভর ক্ষেত্রে বিনিয়োগের পরিকল্পনা রাজ্যের শিল্প পরিকাঠামোর বহুমুখীকরণে সাহায্য করতে পারে।

    এর পাশাপাশি বিশেষ ইস্পাত, অ্যালয়, কাস্টিং এবং ফোরজিংসের মতো শিল্পে উৎপাদন বাড়লে সংশ্লিষ্ট ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, যন্ত্রাংশ সরবরাহকারী সংস্থা এবং পরিবহণ ক্ষেত্রেও নতুন ব্যবসার সুযোগ তৈরি হতে পারে। অর্থাৎ, সম্ভাব্য ২০ হাজার কর্মসংস্থানের বাইরেও বৃহত্তর শিল্প অর্থনীতিতে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    সংস্থার বিবৃতি অনুযায়ী, রাজ্যের শিল্প সম্ভাবনা এবং নতুন সরকারের অধীনে গড়ে ওঠা ব্যবসায়িক পরিবেশের উপর আস্থা রেখেই এই বিনিয়োগের পরিকল্পনা করা হয়েছে। আগামী দিনে রাজ্যের শিল্পনীতি ও বিনিয়োগবান্ধব উদ্যোগের সঙ্গে এই পরিকল্পনা কতটা সামঞ্জস্য রেখে বাস্তবায়িত হয়, সেদিকেই নজর থাকবে।

  • COPD Awareness: সিওপিডি রুখতে সচেতনতার রং গেরুয়া! কেন এই রংকে প্রচারের হাতিয়ার করা হচ্ছে?

    COPD Awareness: সিওপিডি রুখতে সচেতনতার রং গেরুয়া! কেন এই রংকে প্রচারের হাতিয়ার করা হচ্ছে?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    ক্রমশ বাড়ছে রোগের দাপট! বিশেষত আক্রান্তের তালিকায় শিশুদের সংখ্যা বাড়ছে। তাই উদ্বেগও বাড়ছে।
    ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ (সিওপিডি) ভারতের অন্যতম বড় জনস্বাস্থ্য সঙ্কট হতে চলেছে! ইতিমধ্যেই ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনের তরফে জানানো হয়েছে, গোটা বিশ্বের মোট সিওপিডি আক্রান্তদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছেন ভারতে! চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, ভারতে এই নিয়ে সচেতনতা না বাড়লে, ভবিষ্যতে আরও বেশি বিপদ হতে পারে।

    সিওপিডি কী? কেন এই রোগ নিয়ে বাড়তি দুশ্চিন্তা?

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, সিওপিডি হল ফুসফুসের একটি দীর্ঘমেয়াদি রোগ। এই রোগে আক্রান্ত হলে ফুসফুসের সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এই রোগ ফুসফুসের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়। ফলে ফুসফুসের নানান রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। সিওপিডি আক্রান্ত হলে হাঁপানি বা শ্বাসকষ্টের সমস্যা দেখা দেয়। তাছাড়া সিওপিডি আক্রান্তের নিউমোনিয়ার মতো রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারতে ক্রমশ সিওপিডি আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। শিশু থেকে বয়স্ক, সমস্ত বয়সেই এই রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে। পাশপাশি সিওপিডি-র কারণে মৃত্যুর ঘটনাও বাড়ছে। তাই এই রোগ নিয়ে বাড়তি সচেতনতা জরুরি।

    সচেতনতা বাড়াতে কেন গেরুয়া রঙে ভরসা?

    নভেম্বর মাস সিওপিডি সচেতনতার মাস। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, এই রোগ সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। পাশপাশি রোগের দাপট কমাতে সামগ্রিক সচেতনতা প্রয়োজন। কারণ, পরিবেশ এই রোগে একটা গুরুত্ব বিষয়। দূষণ মুক্ত সুস্থ পরিবেশ থাকলে সিওপিডি-র মতো রোগের প্রকোপ কমবে। তাই এই মাস জুড়ে একাধিক কর্মশালা ও সচেতনতা কর্মসূচির আয়োজন করা হবে।
    চলতি বছরে প্রচারের মূল বিষয়— ‘‘অরেঞ্জ ইস পাওয়ার!’’ অর্থাৎ, গেরুয়া রঙকে হাতিয়ার করেই এই রোগ সম্পর্কে সচেতন করা হবে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, গেরুয়া রং উজ্জ্বল। তাছাড়া গেরুয়া রং শুদ্ধতার বার্তা ছড়িয়ে দেয়। তাই এই রোগ প্রতিরোধে গেরুয়া রং বেছে নেওয়া হয়েছে।
    সিওপিডি -র মতো রোগ বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ পরিবেশের দূষণ এবং ক্ষতিকারক অভ্যাস। গেরুয়া বার্তা জানান দেবে শুদ্ধ পরিবেশের গুরুত্ব। তাছাড়া উজ্বল রঙের স্পর্শে সচেতনতা কর্মসূচিকে‌‌ বাড়তি আকর্ষণীয় করে তুলবে। শিশুদের কাছেও এই রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বার্তা পৌঁছনো সহজ হবে। আগামী প্রজন্মের কাছে সবচেয়ে বড় রোগের বোঝা হতে চলেছে সিওপিডি। তাই আগাম সচেতনতা জরুরি।

    ভারতীয় শিশুরা কেন এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছে?

    একাধিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারতীয় শিশুদের মধ্যে ফুসফুসের রোগের প্রকোপ বাড়ছে। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ আক্রান্তের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে।
    বক্ষঃরোগ বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, বায়ুদূষণের জেরে গর্ভস্থ শিশুদের ফুসফুসের গঠনে নানান জটিলতা দেখা দিচ্ছে। জন্মের পরেও দূষিত পরিবেশ শিশুর ফুসফুসের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে। এর জেরেই ভারতীয় শিশুদের মধ্যে সিওপিডি-র মতো রোগের দাপট ক্রমশ বাড়ছে।
    ভারতীয় শিশুদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ, ধূমপান নিয়ে অসচেতনতা। এই অভ্যাস শুধু ধূমপান কারীর শরীরেই ক্ষতিকারক প্রভাব ফেলে না। বরং তার আশপাশের মানুষের শরীরেও মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। ফলে, গর্ভস্থ মহিলার সামনে ধূমপান করলে সেই গর্ভস্থ শিশুর শরীরে প্রভাব পড়ে। আবার শিশুদের সামনে ধূমপান করলে শিশুর শরীরে ক্ষতিকারক প্রভাব পড়ে। তাই তাদের সিওপিডি আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

    এই রোগের প্রকোপ কমাতে কী পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা?

    ধূমপান বন্ধ!

    চিকিৎসকদের পরামর্শ, ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বজায় রাখতে এবং সিওপিডি-র মতো রোগের দাপট কমাতে ধূমপানের অভ্যাস ছাড়তে হবে। ভারতে কম বয়সীদের মধ্যেও ধূমপানের অভ্যাস রয়েছে। স্কুল পড়ুয়াদের মধ্যেও এই অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস ক্রমশ বাড়ছে। তাই সে নিয়ে সচেতনতা জরুরি।

    বায়ুদূষণ নিয়ে সচেতনতা!

    পরিবেশ সম্পর্কে আরও বেশি সচেতনতা জরুরি। বায়ু দূষণ যাতে না বাড়ে, সেটা নিয়ে সব মহলে সতর্কতা জরুরি। পাশপাশি বাইরে বেরলে মাস্কের ব্যবহার প্রয়োজন। ঠিকমতো নাক ও মুখ ঢাকা মাস্ক পরলে ফুসফুসের সংক্রমণের ঝুঁকি কমে।

    রোগ নির্ণয় জরুরি!

    ভারতে সিওপিডি চিকিৎসায় অন্যতম সমস্যা হল রোগ নির্ণয় হয় দেরিতে। ভারতীয়দের মধ্যে এই রোগ নিয়ে সচেতনতার অভাব রয়েছে। অনেক সময়েই লাগাতার কাশি হলেও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া হয় না।‌ সিওপিডি-র অন্যতম প্রাথমিক উপসর্গ হল দীর্ঘদিন কাশির ভোগান্তি। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন , রোগ দ্রুত নির্ণয় হলে জটিলতা কমে।

    স্বাস্থ্যকর জীবন যাপন জরুরি!

    রোগ থেকে বাঁচতে স্বাস্থ্যকর জীবন যাপন জরুরি। ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বাড়াতে নিয়মিত যোগাভ্যাস প্রয়োজন। রক্ত সঞ্চালন ঠিকমতো হলে ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বাড়বে। আবার শরীরে রোগ প্রতিরোধ শক্তিও বাড়বে। ফলে যেকোনো সংক্রামক রোগে সহজে কাবু হবে না।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
  • West Bengal Industrial Policy: বাংলার শিল্পের পুনরুত্থানে বড় পদক্ষেপ শুভেন্দু সরকারের! বিনিয়োগ টানতে নয়া শিল্পনীতিতে একগুচ্ছ সুবিধা

    West Bengal Industrial Policy: বাংলার শিল্পের পুনরুত্থানে বড় পদক্ষেপ শুভেন্দু সরকারের! বিনিয়োগ টানতে নয়া শিল্পনীতিতে একগুচ্ছ সুবিধা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে এবং বাংলাকে নতুন করে শিল্প বিনিয়োগের অন্যতম গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে উদ্যোগী হল শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকার। নতুন সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই বৃহস্পতিবার লক্ষ্ণী বারে পশ্চিমবঙ্গের নয়া শিল্পনীতি (West Bengal Industrial Policy) ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। শুধু নতুন শিল্প স্থাপন নয়, দীর্ঘদিনের শিল্প সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো, বন্ধ ও রুগ্‌ণ কারখানার পুনরুজ্জীবন, কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি এবং পিছিয়ে থাকা এলাকায় শিল্পের প্রসার—সবকিছুকেই এই নীতির আওতায় আনার চেষ্টা হয়েছে।

    রাজ্যের শিল্পায়নের ক্ষেত্রে এই নীতি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে শুধু করছাড় বা আর্থিক অনুদানের ঘোষণা যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন স্থায়ী নীতিগত সহায়তা, পরিকাঠামোগত সুবিধা, দ্রুত প্রশাসনিক অনুমোদন এবং দক্ষ কর্মী পাওয়ার নিশ্চয়তা। নয়া শিল্পনীতিতে এই বিষয়গুলির উপরেই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে কর্মসংস্থান তৈরির সঙ্গে আর্থিক সুবিধাকে যুক্ত করা, মহিলা কর্মীদের নিয়োগে বাড়তি উৎসাহ এবং ভবিষ্যৎমুখী শিল্পক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধার সংস্থান রাজ্যের শিল্প অর্থনীতিকে নতুন দিশা দেখাতে পারে।

    বিনিয়োগকারীদের কাছে ইতিবাচক বার্তা, কর্মসংস্থানই অগ্রাধিকার

    • ● নয়া শিল্পনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল নতুন কর্মসংস্থান তৈরিতে শিল্প সংস্থাগুলিকে সরাসরি আর্থিক সহায়তা দেওয়া। যোগ্য কর্মীদের ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তার ইপিএফ (EPF) অবদানের একটি অংশ ফেরত দেবে রাজ্য সরকার। এর ফলে নতুন কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে শিল্পোদ্যোগীদের আর্থিক চাপ কিছুটা কমবে।
    • ● ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প (MSME) ক্ষেত্রে মহিলা ও রূপান্তরকামী কর্মীদের জন্য নিয়োগকর্তার ইপিএফ অবদানের ১০০ শতাংশ এবং পুরুষ কর্মীদের ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত প্রতিপূরণের ব্যবস্থা রয়েছে। এই সুবিধা সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত পাওয়া যেতে পারে।
    • ● পরিষেবা ক্ষেত্রের যোগ্য সংস্থাগুলির ক্ষেত্রেও মহিলা কর্মীদের নিয়োগে ৭৫ শতাংশ এবং পুরুষ কর্মীদের ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ ইপিএফ সহায়তার সংস্থান রাখা হয়েছে। ২০০-র বেশি কর্মী থাকা যোগ্য পরিষেবা ইউনিটগুলি পাঁচ বছর পর্যন্ত এই সুবিধা পেতে পারে।
    • ● বৃহৎ শিল্প ও মেগা প্রকল্পের ক্ষেত্রেও রয়েছে পিএফ সহায়তা। অগ্রাধিকার এলাকায় অন্তত ২০০ জন এবং অন্যত্র অন্তত ৪০০ জন কর্মী থাকা যোগ্য শিল্প ইউনিট পাঁচ বছর পর্যন্ত নিয়োগকর্তার ইপিএফ অবদানের ৫০ শতাংশ সহায়তা পেতে পারে।
    • ● এই ব্যবস্থার মাধ্যমে একদিকে যেমন নতুন নিয়োগে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে মহিলা কর্মসংস্থান এবং শিল্পক্ষেত্রে অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মসংস্থানের উপরেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    নতুন শিল্পের পাশাপাশি পুরনো শিল্পের পুনরুজ্জীবনেও নজর

    বাংলার শিল্পের পুনরুত্থান বলতে শুধু নতুন কারখানা তৈরি বোঝায় না। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ বা রুগ্‌ণ অবস্থায় থাকা শিল্প ইউনিটগুলিকে পুনরায় উৎপাদনের উপযোগী করে তোলাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। নয়া শিল্পনীতিতে সেই বাস্তবতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    • ● অনুমোদিত পুনরুজ্জীবন পরিকল্পনার আওতায় রুগ্‌ণ ও বন্ধ শিল্পের জন্য বিশেষ বিদ্যুৎ সহায়তা, জমির ঊর্ধ্বসীমায় ছাড় এবং জমির বিকল্প ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি, নির্দিষ্ট পুনরুজ্জীবন সেলের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থাও রয়েছে।

    এর ফলে রাজ্যের বিদ্যমান শিল্প সম্পদকে নতুন করে কাজে লাগানোর সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। নতুন করে বিপুল পরিমাণ জমি ও পরিকাঠামো তৈরি করার পাশাপাশি আগে থেকেই থাকা শিল্প পরিকাঠামোর পুনর্ব্যবহারও অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

    • ● শুধু তাই নয়, পুরনো শিল্প ইউনিট সম্প্রসারণ করেও সরকারি সুবিধা পাওয়া যাবে। তবে সেক্ষেত্রে নতুন কর্মসংস্থান তৈরির শর্ত পূরণ করতে হবে। কর্মী ছাঁটাইয়ের ক্ষেত্রেও রাজ্য সরকারের অনুমতির শর্ত রাখা হয়েছে। অর্থাৎ, উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি কর্মসংস্থান ধরে রাখার বিষয়টিও নীতিতে গুরুত্ব পেয়েছে।

    পিছিয়ে থাকা এলাকাতেও শিল্পের প্রসারের পরিকল্পনা

    • ● শিল্পায়নের সুফল যাতে শুধু কয়েকটি পরিচিত শিল্পাঞ্চলের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, সেদিকেও নজর দেওয়া হয়েছে। শিল্প ও পরিকাঠামোর বিভিন্ন সূচকের ভিত্তিতে রাজ্যের নির্দিষ্ট মহকুমাগুলিকে অগ্রাধিকার এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হবে। এই সমস্ত এলাকায় বিনিয়োগ করলে তুলনামূলক বেশি আর্থিক সহায়তা পাওয়ার সুযোগ থাকবে। পাশাপাশি, কিছু সুবিধার ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের ন্যূনতম শর্তও কম রাখা হবে।

    এই উদ্যোগের গুরুত্ব যথেষ্ট। কারণ, পিছিয়ে থাকা এলাকায় শিল্প স্থাপিত হলে শুধু প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থানই তৈরি হয় না, স্থানীয় পরিবহণ, আবাসন, বাজার, ক্ষুদ্র ব্যবসা এবং পরিষেবা ক্ষেত্রেও নতুন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ তৈরি হয়।

    • ● অগ্রাধিকার এলাকার তালিকা প্রতি তিন বছর অন্তর পর্যালোচনা করার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। ফলে সময়ের সঙ্গে এলাকার শিল্প ও পরিকাঠামোগত পরিস্থিতির পরিবর্তন বিবেচনা করে নীতিতে প্রয়োজনীয় সংশোধনের সুযোগ থাকবে।

    বিনিয়োগের পরিমাণ অনুযায়ী সর্বোচ্চ ১২০ শতাংশ পর্যন্ত সহায়তার সুযোগ

    শিল্পোদ্যোগীদের কাছে আর্থিক নিশ্চয়তা একটি বড় বিষয়। সেই দিকটি বিবেচনা করেই প্ল্যান্ট ও যন্ত্রপাতিতে অনুমোদিত বিনিয়োগের ভিত্তিতে সরকারি সহায়তার সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    • ● সাধারণ শিল্প ইউনিটের ক্ষেত্রে অনুমোদিত বিনিয়োগের ১০০ শতাংশ পর্যন্ত, থ্রাস্ট সেক্টর অথবা অগ্রাধিকার এলাকার শিল্প ইউনিটের ক্ষেত্রে ১১০ শতাংশ পর্যন্ত এবং অগ্রাধিকার এলাকায় অবস্থিত থ্রাস্ট সেক্টরের ইউনিটের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১২০ শতাংশ পর্যন্ত সহায়তার সীমা রাখা হয়েছে।

    তবে এই সহায়তা এককালীন নগদ অনুদান নয়। উৎপাদন শুরু হওয়ার পর নির্দিষ্ট নিয়মে ধাপে ধাপে তা পাওয়া যাবে। বার্ষিক সীমা এবং অন্যান্য যোগ্যতার শর্তও প্রযোজ্য। নির্ধারিত ঊর্ধ্বসীমায় পৌঁছলে অথবা ১০ বছর পূর্ণ হলে, যেটি আগে হবে, সেই অনুযায়ী সহায়তা বন্ধ হবে।

    ভবিষ্যতের শিল্পে বাংলাকে এগিয়ে রাখার পরিকল্পনা

    • ● বিশ্বজুড়ে শিল্প ও প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের কথা মাথায় রেখে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে রাজ্যের নয়া শিল্পনীতি। সেমিকন্ডাক্টর, বৈদ্যুতিক গাড়ি, ব্যাটারি, গ্রিন হাইড্রোজেন, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, বস্ত্রশিল্প, ওষুধ এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম উৎপাদনের মতো ক্ষেত্রগুলিতে বাড়তি সুবিধার সুযোগ রাখা হয়েছে।

    এই শিল্পগুলি আগামী দিনে বিনিয়োগ, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং কর্মসংস্থানের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে। ফলে এই ধরনের শিল্পে বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে পারলে বাংলার শিল্প অর্থনীতির বহুমুখীকরণের সুযোগ তৈরি হবে।

    বিশেষ করে সেমিকন্ডাক্টর ও বৈদ্যুতিক গাড়ির মতো প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পে বিনিয়োগ এলে তার সঙ্গে যুক্ত আনুষঙ্গিক শিল্প, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং দক্ষ কর্মীর চাহিদাও বাড়তে পারে। অর্থাৎ, একটি বড় শিল্প প্রকল্পকে কেন্দ্র করে বিস্তৃত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

    মেগা প্রকল্পের জন্য বিশেষ প্যাকেজ, পরিকাঠামোতেও সহায়তা

    • ● বড় বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য কৌশলগত ও মেগা প্রকল্পের ক্ষেত্রে পৃথক বিশেষ প্যাকেজের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বিনিয়োগের পরিমাণ, শিল্পক্ষেত্র এবং একসঙ্গে অন্তত ৫০০ জনের কর্মসংস্থানের মতো নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে প্রকল্পভিত্তিক বিশেষ সুবিধার আবেদন করা যাবে।
    • ● বড় শিল্প প্রকল্পের ক্ষেত্রে রাস্তা, জল সরবরাহ এবং বিদ্যুৎ সংযোগের মতো পরিকাঠামো তৈরিতেও সহায়তার সুযোগ রয়েছে।

    এই সংস্থান বিনিয়োগকারীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কারণ, একটি বড় শিল্প প্রকল্পের ক্ষেত্রে জমি ও মূলধনের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো তৈরি করাও বড় চ্যালেঞ্জ। সেই ক্ষেত্রে সরকারের সহযোগিতা প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রাথমিক বাধা কমাতে পারে।

    উৎপাদন ও পরিষেবা—দুই ক্ষেত্রেই পৃথক সুবিধা

    • ● উৎপাদনকারী শিল্পের জন্য এসজিএসটি-সংযুক্ত আর্থিক সহায়তা, পাঁচ বছর পর্যন্ত বিদ্যুৎ শুল্ক প্রতিপূরণ, প্রকল্পের জমিতে স্ট্যাম্প ডিউটি ফেরত এবং গবেষণা ও উদ্ভাবনে সহায়তার ব্যবস্থা রয়েছে।
    • ● পরিষেবা ক্ষেত্রের জন্যও পৃথক প্যাকেজ রাখা হয়েছে। পাঁচ বছর পর্যন্ত এসজিএসটি-সংযুক্ত সহায়তা, ইপিএফ প্রতিপূরণ, বিদ্যুৎ শুল্কে সুবিধা এবং লিজে নেওয়া জায়গার ভাড়ায় সহায়তা দেওয়া হতে পারে।
    • ● এছাড়া, হাসপাতাল, মেডিক্যাল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মতো পরিকাঠামো ক্ষেত্রকেও নির্দিষ্ট শর্তে শিল্পনীতির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। অন্তত ১০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ এবং নির্ধারিত পরিষেবা দেওয়ার শর্ত পূরণ করলে এই প্রতিষ্ঠানগুলিও সুবিধা পেতে পারে। পিএম-শ্রী মডেলে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলির ক্ষেত্রেও সুযোগ রাখা হয়েছে।

    সবুজ শিল্প ও প্রশাসনিক সরলীকরণে বিশেষ গুরুত্ব

    • ● আধুনিক শিল্পায়নের অন্যতম শর্ত পরিবেশবান্ধব উৎপাদন। সেই বিষয়টিও নয়া শিল্পনীতিতে গুরুত্ব পেয়েছে। পুনর্নবীকরণযোগ্য বিদ্যুতের ওপেন অ্যাক্সেসের ক্ষেত্রে মার্চ ২০৩০ পর্যন্ত সারচার্জ মকুবের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এর ফলে শিল্প সংস্থাগুলি বিকল্প ও পরিচ্ছন্ন শক্তি ব্যবহারে উৎসাহিত হতে পারে।
    • ● অন্যদিকে, বিনিয়োগকারীদের প্রশাসনিক জটিলতা কমাতে সিঙ্গল উইন্ডো পোর্টালের মাধ্যমে একটিমাত্র আবেদনে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
    • ● নীতিতে নির্দিষ্ট সময়সীমাও বেঁধে দেওয়া হয়েছে। বিনিয়োগ স্থির হওয়ার পর ৩০ দিনের মধ্যে সার্টিফিকেট অব ইনটেন্ট এবং উৎপাদন শুরু হওয়ার পর ৪৫ দিনের মধ্যে সার্টিফিকেট অব এলিজিবিলিটি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। আর্থিক সহায়তার দাবি মঞ্জুর এবং সংশ্লিষ্ট শিল্প ইউনিটের অ্যাকাউন্টে অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রেও ৩০ দিনের সময়সীমা রাখা হয়েছে।

    প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় গতি আনা গেলে বিনিয়োগকারীদের কাছে রাজ্যের গ্রহণযোগ্যতা বাড়তে পারে। বিশেষ করে যে সংস্থাগুলি একাধিক রাজ্যে বিনিয়োগের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখে, তাদের কাছে দ্রুত অনুমোদন ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়।

    শিল্পের পুনরুত্থানে নীতিগত পদক্ষেপ, এবার নজর বাস্তবায়নে

    সামগ্রিকভাবে পশ্চিমবঙ্গের নয়া শিল্পনীতি রাজ্যের শিল্প অর্থনীতিকে নতুন করে গতিশীল করার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রচেষ্টা। নতুন বিনিয়োগের পাশাপাশি পুরনো শিল্পের পুনরুজ্জীবন, মহিলা কর্মসংস্থান, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের প্রসার, পিছিয়ে থাকা এলাকার উন্নয়ন এবং প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যৎ শিল্পে বিনিয়োগ—একাধিক দিককে একই ছাতার তলায় আনার চেষ্টা হয়েছে।

    এই নীতির ইতিবাচক দিক হল, শিল্প সংস্থাকে শুধু আর্থিক সুবিধা দেওয়ার কথা বলা হয়নি, বরং কর্মসংস্থান তৈরি, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের সঙ্গে সরকারি সহায়তাকে যুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের প্রশাসনিক সুবিধা দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার উদ্যোগও উল্লেখযোগ্য।

    অবশ্যই, কোনও শিল্পনীতি ঘোষণার পরই রাতারাতি শিল্পের চেহারা বদলে যায় না। বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জন, জমি ও পরিকাঠামোর জোগান, দক্ষ শ্রমশক্তি, বিদ্যুৎ এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার বাস্তব প্রয়োগ—প্রতিটি ক্ষেত্রেই ধারাবাহিক কাজ প্রয়োজন। সেই সঙ্গে ঘোষিত সুবিধা যাতে যোগ্য শিল্প সংস্থার কাছে সময়মতো পৌঁছয়, তা নিশ্চিত করাও জরুরি।

    তবে নীতিগতভাবে শিল্পের জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরির যে বার্তা এই নয়া শিল্পনীতিতে দেওয়া হয়েছে, তা তাৎপর্যপূর্ণ। বাংলার শিল্পের পুনরুত্থান এবং কর্মসংস্থানের নতুন সম্ভাবনা তৈরির লক্ষ্যে সরকারের এই উদ্যোগ কতটা সফল হয়, এবার তার প্রমাণ মিলবে বাস্তব বিনিয়োগ ও নতুন শিল্প প্রকল্পের হাত ধরে।

  • Dhanteras 2026: শুক্রবার বিরল যোগে ধনতেরাস ২০২৬! কখন পুজো, কখন কেনাকাটার শুভ সময়?

    Dhanteras 2026: শুক্রবার বিরল যোগে ধনতেরাস ২০২৬! কখন পুজো, কখন কেনাকাটার শুভ সময়?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। বিশেষ করে শরৎ থেকে হেমন্ত—এই দুই ঋতু যেন উৎসবের আবহে মোড়া। মহালয়ার হাত ধরে শুরু হয় উৎসবের মরশুম। তারপর একে একে দুর্গাপুজো, লক্ষ্মীপুজো, কালীপুজো। আলোর উৎসব দীপাবলির ঠিক দু’দিন আগে পালিত হয় ধনতেরাস। ধনসম্পদ, সমৃদ্ধি ও সুস্বাস্থ্যের কামনায় এই দিনটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, ধনতেরাসে সোনা, রুপো, বাসনপত্র কিংবা নতুন কোনও সামগ্রী কেনা শুভ। তবে ২০২৬ সালের ধনতেরাসে রয়েছে বিশেষ জ্যোতিষ সংযোগও। শুক্রবারে এই উৎসব পালনের পাশাপাশি তৈরি হচ্ছে মালব্য রাজযোগ। ফলে এবারের ধনতেরাসের মাহাত্ম্য আরও বেড়েছে বলে মনে করছেন জ্যোতিষশাস্ত্রের অনুরাগীরা।

    কেন পালন করা হয় ধনতেরাস?

    ধনতেরাস শব্দটি এসেছে দুটি শব্দের সংমিশ্রণে—‘ধন’ অর্থাৎ সম্পদ এবং ‘তেরাস’ অর্থাৎ ত্রয়োদশী। হিন্দু পঞ্জিকা অনুসারে, কার্তিক মাসের কৃষ্ণপক্ষের ত্রয়োদশী তিথিতে এই উৎসব পালিত হয়। ধনত্রয়োদশী নামেও পরিচিত এই দিনটি।

    ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, ধনতেরাসে ভগবান ধন্বন্তরী, দেবী লক্ষ্মী এবং ধনদেবতা কুবেরের আরাধনা করা হয়। ধনসম্পদ ও আর্থিক সমৃদ্ধির পাশাপাশি সুস্বাস্থ্য এবং পরিবারের মঙ্গল কামনাও এই উৎসবের অন্যতম উদ্দেশ্য। প্রচলিত রীতি অনুসারে, এদিন মূল্যবান ধাতু, সোনা-রুপোর গয়না, বাসনপত্র কিংবা গৃহস্থালির প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনাকে শুভ বলে মনে করা হয়। বিশ্বাস, এর মাধ্যমে সংসারে সুখ-সমৃদ্ধির আগমন ঘটে।

    ২০২৬ সালের ধনতেরাসে কেন বিশেষ শুক্রবারের যোগ?

    এবারের ধনতেরাস পালিত হবে ৬ নভেম্বর, শুক্রবার। হিন্দুধর্মীয় বিশ্বাসে শুক্রবার দেবী লক্ষ্মীর উদ্দেশ্যে নিবেদিত। লক্ষ্মী হলেন ধন, ঐশ্বর্য, সমৃদ্ধি ও সৌভাগ্যের প্রতীক। ফলে লক্ষ্মীপুজোর বিশেষ দিন শুক্রবারে ধনতেরাস পড়ায় এই তিথির ধর্মীয় গুরুত্ব আরও বেড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

    এই দিনে ভক্তরা দেবী লক্ষ্মীর আরাধনা, প্রদীপ প্রজ্বলন এবং দান-ধ্যানের মাধ্যমে তাঁর আশীর্বাদ প্রার্থনা করেন। পাশাপাশি ধনদেবতা কুবের ও ভগবান ধন্বন্তরীর পুজোরও বিশেষ রীতি রয়েছে।

    ধনতেরাসে তৈরি হচ্ছে মালব্য রাজযোগ, কী এর তাৎপর্য?

    ২০২৬ সালের ধনতেরাসের অন্যতম আকর্ষণ জ্যোতিষশাস্ত্রের একটি বিশেষ যোগ—মালব্য রাজযোগ। পঞ্জিকা ও জ্যোতিষীয় গণনা অনুযায়ী, এই সময়ে শুক্র নিজের রাশি তুলাতে অবস্থান করবে।

    জ্যোতিষশাস্ত্রে শুক্রকে সৌন্দর্য, বিলাসিতা, সুখ, ঐশ্বর্য এবং পার্থিব সমৃদ্ধির কারক গ্রহ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। শুক্র নিজের রাশিতে অবস্থান করলে মালব্য রাজযোগ তৈরি হয় বলে প্রচলিত বিশ্বাস। এটি পঞ্চ মহাপুরুষ যোগের অন্যতম।

    জ্যোতিষশাস্ত্র অনুসারে, এই যোগ সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য, আর্থিক সমৃদ্ধি ও বিলাসবহুল জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত। সেই কারণেই ধনতেরাসের মতো সম্পদ ও সমৃদ্ধির উৎসবে মালব্য রাজযোগের উপস্থিতিকে বিশেষ শুভ বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও এগুলি জ্যোতিষশাস্ত্রীয় বিশ্বাস, এর কোনও বৈজ্ঞানিক নিশ্চয়তা নেই।

    কবে ধনতেরাস ২০২৬? ত্রয়োদশী তিথির সময়

    এ বছর ৬ নভেম্বর, শুক্রবার ধনতেরাস পালিত হবে। কলকাতার স্থানীয় সময় অনুযায়ী, ত্রয়োদশী তিথি শুরু হবে ৬ নভেম্বর সকাল ১০টা ৩১ মিনিটে। তিথি শেষ হবে ৭ নভেম্বর সকাল ১০টা ৪৮ মিনিটে। অর্থাৎ, ৬ নভেম্বর সন্ধ্যায় পুজোর সময়ও ত্রয়োদশী তিথি বজায় থাকবে।

    ধনতেরাস ২০২৬: পুজোর শুভ সময় কখন?

    ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী, ধনতেরাসের সন্ধ্যায় প্রদোষ কালে পুজো করা বিশেষ শুভ বলে মনে করা হয়। ২০২৬ সালে প্রদোষ কাল থাকবে বিকেল ৫টা ৪৯ মিনিট থেকে রাত ৮টা ২৩ মিনিট পর্যন্ত। এই সময়ের মধ্যে ভগবান ধন্বন্তরী ও দেবী লক্ষ্মীর আরাধনা করতে পারেন ভক্তরা। সন্ধ্যায় প্রদীপ জ্বালিয়ে প্রার্থনা নিবেদনেরও প্রচলন রয়েছে।

    ধনতেরাসে কেনাকাটার তিনটি শুভ মুহূর্ত

    ধনতেরাসে সোনা, রুপো, বাসনপত্র কিংবা নতুন গৃহস্থালির সামগ্রী কেনার পরিকল্পনা থাকলে নজরে রাখতে পারেন এই তিনটি সময়।

    • ● ১. চৌঘরিয়া মুহূর্ত: কেনাকাটার প্রথম শুভ সময় সকাল ৮টা ১৬ মিনিট থেকে সকাল ৯টা ৪৮ মিনিট পর্যন্ত। এই সময়ে সোনা, রুপো, বাসনপত্র এবং অন্যান্য গৃহস্থালির সামগ্রী কেনার রীতি রয়েছে।
    • ● ২. অভিজিৎ মুহূর্ত: দ্বিতীয় শুভ সময় বেলা ১১টা ৪৮ মিনিট থেকে দুপুর ১২টা ৫৬ মিনিট পর্যন্ত। এই সময়েও সোনা-রুপোর গয়না, বাসনপত্র এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনা যেতে পারে বলে প্রচলিত বিশ্বাস।
    • ● ৩. সন্ধ্যার প্রদোষ কাল: কেনাকাটার তৃতীয় শুভ সময় বিকেল ৫টা ৪৯ মিনিট থেকে রাত ৮টা ২৩ মিনিট পর্যন্ত। এই সময়টি পুজোর জন্যও বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। ফলে সন্ধ্যায় পুজো ও কেনাকাটা—দুই-ই করতে পারেন।

    সব মিলিয়ে, ২০২৬ সালের ধনতেরাসে শুক্রবারের বিশেষ তাৎপর্য, মালব্য রাজযোগ এবং কেনাকাটার একাধিক শুভ মুহূর্ত উৎসবের আকর্ষণ বাড়িয়েছে। ধনসম্পদ ও সমৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবারের সুস্বাস্থ্য ও মঙ্গল কামনায় এই দিনটি পালন করবেন বহু মানুষ।

    DISCLAIMER: পঞ্জিকা অনুযায়ী তিথি, প্রদোষ কাল এবং তিনটি কেনাকাটার মুহূর্ত একবার যাচাই করে নেওয়া ভালো। বিশেষত চৌঘরিয়া ও অভিজিৎ মুহূর্তের সময় স্থানভেদে পরিবর্তিত হতে পারে।
  • Indian Men Mental Health: প্রতি চারটি আত্মহত্যার ঘটনায় তিনজন পুরুষ! ভারতীয় পুরুষদের শরীর ও মনের স্বাস্থ্য নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

    Indian Men Mental Health: প্রতি চারটি আত্মহত্যার ঘটনায় তিনজন পুরুষ! ভারতীয় পুরুষদের শরীর ও মনের স্বাস্থ্য নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    প্রতি চারটি আত্মহত্যার ঘটনায় তিনজন পুরুষ! শরীরের পাশপাশি মনের ক্ষত বাড়ছে! ভারতীয় পুরুষদের জীবন যাপনের ধরনের জেরেই ক্রমশ উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। তৈরি হচ্ছে স্বাস্থ্য সঙ্কট। তাই শরীর ও মনের সমান খেয়াল রাখা এবং সচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি। নভেম্বর মাস জুড়ে পু্রুষদের স্বাস্থ্যের সঙ্কট নিয়ে একাধিক কর্মশালার পরিকল্পনা করছেন চিকিৎসকদের সংগঠন‌।

    কোন স্বাস্থ্য সমস্যা বাড়ছে?

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, ভারতীয় পুরুষদের মধ্যে গত কয়েক দশকে মূলত দুটো স্বাস্থ্য সমস্যা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। এক, অসংক্রামক রোগের প্রকোপ। দুই, মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যা! এই দুই রোগের বৃদ্ধির অন্যতম কারণ অসচেতনতা এবং অস্বাস্থ্যকর জীবন যাপন। সমস্যা সম্পর্কে না জানা এবং তাকে অবহেলা করার জেরেই দিনের পর দিন পরিস্থিতি জটিল হয়। বড় বিপদ তৈরি হয়।

    কোন অসংক্রামক রোগের দাপট বাড়ছে?

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, ভারতীয় পুরুষদের মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য হারে অসংক্রামক রোগের দাপট বাড়ছে। আর এই অসংক্রামক রোগের তালিকায় রয়েছে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ,‌ লিভারের অসুখের মতো একাধিক জটিল সমস্যা। তাঁরা জানাচ্ছেন, অস্বাস্থ্যকর জীবন যাপনের জন্য এই ধরনের সমস্যা বাড়ছে।
    ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের একাধিক পরিসংখ্যানে জানা গিয়েছে, ভারতীয় পুরুষদের মৃত্যুর কারণ হিসাবে সবচেয়ে বেশি হলোৎঅসংক্রামক রোগ। আর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঘটনা সবচেয়ে বেশি।
    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, খুব কম বয়সি ভারতীয় তরুণদের মধ্যেও উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, স্থুলতার মতো নানান শারীরিক সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এই ধরনের সমস্যা হৃদরোগ, কিডনির অসুখ, লিভারের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে। এর জেরেই নানান শারীরিক জটিলতা দেখা দিচ্ছে।

    কেন অসংক্রামক রোগে ভারতীয় পুরুষেরা আক্রান্ত হচ্ছেন?

    অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস!

    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, খুব কম বয়স থেকেই ভারতীয়দের মধ্যে অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে উঠছে। যা একাধিক অসংক্রামক রোগের কারণ হয়ে উঠছে। চটজলদি প্যাকেটজাত খাবারের অভ্যাস, শরীরে পুষ্টির ঘাটতি তৈরি করছে। আবার অতিরিক্ত অপ্রয়োজনীয় মেদ বাড়াচ্ছে। ফলে, স্থুলতার মতো সমস্যা তৈরি করছে। যা পরবর্তীতে হৃদরোগ, কিডনির সমস্যা, লিভারের অসুখের মতো জটিল স্বাস্থ্য সমস্যার কারণ হয়ে উঠছে।

    অনিয়মিত খাবারের অভ্যাস!

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, ভারতীয় পুরুষদের মধ্যে অনিয়মিত খাবার খাওয়ার অভ্যাস নানান স্বাস্থ্য সঙ্কট তৈরি করে। দিনের অধিকাংশ সময় বাড়ির বাইরে থাকার কারণ অনেক সময়েই ভারতীয় পুরুষদের খাবারে নির্দিষ্ট সময় থাকে না। খাবার খাওয়ার সময়ের ব্যবধান অনেক সময়েই বেশি হয়ে যায়। দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে খাওয়ার জেরে হজমের সমস্যা সহ একাধিক সমস্যা তৈরি হয়। যা পরবর্তীতে নানান রোগের কারণ হয়ে ওঠে।

    শারীরিক কসরতের জন্য কম সময় বরাদ্দ!

    ভারতীয় পুরুষদের মধ্যে শারীরিক কসরতের প্রতি অনীহা বাড়ছে। এমনটাই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, দিনে অন্তত আধ ঘণ্টাও শারীরিক কসরত বা হাঁটাহাঁটির জন্য বরাদ্দ করা হচ্ছে না। দিনের অধিকাংশ সময় নির্দিষ্ট জায়গায় বসে কাজ হচ্ছে। অধিকাংশ সময় ল্যাপটপে চোখ রেখেই চলে যাচ্ছে।‌ এর ফলেই ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপের মতো রোগের প্রকোপ বাড়ছে।

    অপর্যাপ্ত বিশ্রাম!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতীয় পুরুষদের মধ্যে ঘুমের ঘাটতি রয়েছে। নিয়মিত আট ঘণ্টা ঘুম অধিকাংশের হয় না। এখন গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থাকা, অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইমের জেরে মস্তিষ্ক ও স্নায়ুর উপরে আরও বেশি চাপ পড়ে। যার ফলে মস্তিষ্ক ও স্নায়ু আরও ক্লান্ত হয়ে যায়। ফলে একাধিক শারীরিক ও মানসিক জটিলতা তৈরি হয়‌।

    কেন ভারতীয় পুরুষদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে বাড়তি উদ্বেগ?

    ভারতীয় পুরুষদের শরীরের পাশপাশি উদ্বেগ বাড়াচ্ছে মানসিক স্বাস্থ্য। এমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, একাধিক পরিসংখ্যান জানান দিচ্ছে, ভারতীয় পুরুষদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষন্নতা, হতাশা এবং অবসাদের মতো নানান মানসিক সমস্যা ক্রমশ বাড়ছে। মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতির জেরেই অনেকে চরম সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। ভারতে আত্মহত্যার ঘটনা যে হারে বাড়ছে, সেটা অন্যতম বড় জনস্বাস্থ্য সঙ্কট হতে চলেছে বলেই আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    কী বলছে এনসিআরবি-র তথ্য?

    ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরোর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৯ সালে ভারতে পুরুষদের আত্মহত্যার সংখ্যা ছিলো প্রায় ৯৭ হাজার। কিন্তু ২০২৪ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২৫ হাজারের বেশি।‌ প্রত্যেক বছর উদ্বেগজনক হারে আত্মহত্যার সংখ্যা বাড়ছে। প্রতি চারটি আত্মহত্যার ঘটনায় তিনজন পুরুষ!
    পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, ভারতীয় কম বয়সি পুরুষদের মধ্যেই শুধু নয়। মধ্যবয়সি ও প্রৌঢ়দের মধ্যেও ক্রমশ আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়ছে। মানসিক স্বাস্থ্যকে অবহেলা করার জেরেই এই বিপদ ক্রমশ বাড়ছে বলে আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকেরা।

    কেন বাড়ছে মানসিক সঙ্কট?

    মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, সামাজিক চাপ ভারতীয় পুরুষদের মানসিক সঙ্কট তৈরির অন্যতম কারণ। তাঁরা জানাচ্ছেন, অধিকাংশ পুরুষদের সফল হওয়ার বাড়তি বোঝা নিয়ে চলতে হয়। কর্মজীবনের ধরণ বদলে যাচ্ছে। সুনিশ্চিত দীর্ঘ চাকরির পরিবর্তে প্রতি নিয়ত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে টিকে থাকার পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। এর ফলে অনিশ্চিয়তা দেখা দিচ্ছে। লাগাতার পারিবারিক, সামাজিক এবং কর্মজীবনের চাপের ফলেই ভারতীয় পুরুষদের মধ্যে আরও বেশি উদ্বেগ, হতাশা, অবসাদ তৈরি হচ্ছে।
    তবে, ভারতীয় পুরুষদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে অসচেতনতাও চিন্তার অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।‌ তাঁরা জানাচ্ছেন, অধিকাংশ ভারতীয় পুরুষেরা হতাশা, দুশ্চিন্তা, উদ্বেগ নিয়ে আলোচনা করতে চান না।‌ এই ধরনের সমস্যায় প্রথম থেকেই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিলে, একাধিক বড় বিপদ আটকানো সম্ভব, সে সম্পর্কেও স্পষ্ট ধারণা নেই। ফলে আত্মহত্যার মতো বিপদ ক্রমশ বাড়ছে।

    সুস্থ থাকতে কী পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা?

    ভারতীয় পুরুষদের দীর্ঘ সুস্থ জীবন যাপনের জন্য চিকিৎসকদের পরামর্শ, খাদ্যাভ্যাস এবং জীবন যাপনের ধরনে বদল জরুরি। অতিরিক্ত তেল মশলা জাতীয় খাবার এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলা দরকার।‌ আবার বিশ্রাম যাতে পর্যাপ্ত হয় সেটাও নিশ্চিত জরুরি। নিয়মিত সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। পাশপাশি শারীরিক কসরত নিয়মিত করতে হবে। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে হবে। দিনের কিছুটা সময় নিজের পছন্দের কাজের জন্য রাখতে হবে। সেটা গান গাওয়া, বাদ্যযন্ত্র বাজানো, ছবি আঁকা বা বই পড়া এমনকি বাগান তৈরি, যেকোনো কাজ হতে পারে। এতে মানসিক চাপ, উদ্বেগ কমবে।‌ একঘেয়েমি আসবে না। ফলে শরীর ও মন ভালো থাকবে।

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
  • Indian Navy Rescue Operation: আরব সাগরে জলদস্যুদের কবলে ইরানি জাহাজ, ৪৮ ঘণ্টার দুর্ধর্ষ অভিযানে ২০ নাবিককে উদ্ধার ভারতীয় নৌসেনার

    Indian Navy Rescue Operation: আরব সাগরে জলদস্যুদের কবলে ইরানি জাহাজ, ৪৮ ঘণ্টার দুর্ধর্ষ অভিযানে ২০ নাবিককে উদ্ধার ভারতীয় নৌসেনার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরব সাগরে সশস্ত্র জলদস্যুদের কবলে পড়া একটি ইরানি মাছ ধরার জাহাজ থেকে ২০ জন নাবিককে নিরাপদে উদ্ধার করল ভারতীয় নৌসেনা। ২ নভেম্বর, সোমবার, টানা ৪৮ ঘণ্টার এক জটিল অভিযানের পর এই সাফল্য আসে। মুম্বই উপকূল থেকে প্রায় ৩,০০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরে এই অভিযান চালানো হয়। জলদস্যুদের হাতে থাকা জাহাজটির অবস্থান শনাক্ত করা থেকে শুরু করে সেটিকে আটকানো এবং সমস্ত নাবিককে নিরাপদে মুক্ত করা—প্রতিটি পর্যায়েই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে ভারতীয় নৌসেনা। অভিযানে ভারতীয় বায়ুসেনার (IAF) সহযোগিতাও ছিল।

    ৪৮ ঘণ্টার অভিযানে উদ্ধার ২০ নাবিক, সক্রিয় ভূমিকা বায়ুসেনারও

    প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং ভারতীয় নৌসেনার এই সাফল্যের কথা প্রকাশ্যে জানান। একইসঙ্গে অভিযানে যুক্ত নৌসেনার সমস্ত কর্মীকে অভিনন্দন জানান তিনি। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ রাজনাথ লেখেন, ২ নভেম্বর আরব সাগরে মুম্বই থেকে ৩,০০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরে ছিনতাই হওয়া মাছ ধরার জাহাজ ‘আজ়িনি’ (Azini)-র ২০ জন নাবিককে উদ্ধারে ভারতীয় নৌসেনা অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে ৪৮ ঘণ্টার অভিযান চালিয়েছে।

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, অভিযানটি কয়েকটি পর্যায়ে সম্পন্ন হয়। প্রথমে জলদস্যুদের দখলে থাকা জাহাজটির অবস্থান শনাক্ত করে ভারতীয় নৌসেনা। এরপর সেটিকে মাঝসমুদ্রে আটকানো হয়। শেষ পর্যন্ত সশস্ত্র জলদস্যুদের কবল থেকে জাহাজের ২০ জন নাবিককে নিরাপদে মুক্ত করা সম্ভব হয়।

    এই অভিযানে ভারতীয় বায়ুসেনার সময়োপযোগী সহযোগিতা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। রাজনাথ সিং জানান, জলদস্যুদের হাতে থাকা জাহাজটির দ্রুত অবস্থান নির্ণয়, সেটিকে আটকানো এবং নাবিক ও জাহাজকে নিরাপদে মুক্ত করার ক্ষেত্রে নৌসেনার দক্ষতার পাশাপাশি বায়ুসেনার সহযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। তাঁর মতে, এই অভিযান আঞ্চলিক সামুদ্রিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ভারতের প্রতিরক্ষা বাহিনীগুলির সমন্বয় এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতার পরিচয়।

    সোমালিয়ার উপকূলের কাছে ছিনতাই হয়েছিল ‘আজ়িনি’

    প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৯ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার, উত্তর-পূর্ব সোমালিয়ার উপকূলবর্তী বান্দর বায়লা (Bandar Bayla) এবং হাফুন (Hafun) শহরের মধ্যবর্তী এলাকায় জাহাজটি জলদস্যুদের কবলে পড়ে। পুন্তল্যান্ড মেরিটাইম পুলিশ ফোর্সের এক সামুদ্রিক নিরাপত্তা আধিকারিক সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (AP) এই তথ্য জানিয়েছিলেন।

    সোমালিয়ার উপকূল দীর্ঘদিন ধরেই জলদস্যুদের তৎপরতার কারণে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে উদ্বেগের জায়গা। বিশেষত, বাণিজ্যিক জাহাজ এবং মাছ ধরার ট্রলারগুলিকে লক্ষ্য করে ছিনতাইয়ের ঘটনা আন্তর্জাতিক জলপথে নিরাপত্তার প্রশ্নকে বারবার সামনে এনেছে।

    সেই প্রেক্ষাপটে ‘আজ়িনি’ উদ্ধারের অভিযান বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, ঘটনাস্থল ভারতের পশ্চিম উপকূল থেকে অনেক দূরে হলেও দ্রুত পদক্ষেপ করে ভারতীয় নৌসেনা ২০ জনের প্রাণ রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছে।

    ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারতের বার্তা

    অভিযানের সাফল্যকে শুধু একটি উদ্ধার অভিযান হিসেবে দেখছে না প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ভারতের সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বৃহত্তর কৌশলগত অবস্থানও। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ এই ভারত মহাসাগর। এই অঞ্চলে জলদস্যুতা, জাহাজ ছিনতাই এবং অন্যান্য সামুদ্রিক নিরাপত্তার হুমকি মোকাবিলা করা ভারতের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    রাজনাথ সিং স্পষ্ট জানিয়েছেন, মানবজীবন রক্ষা এবং ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা বজায় রাখার প্রশ্নে ভারত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাঁর কথায়, অবাধ, উন্মুক্ত ও নিরাপদ ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চল নিশ্চিত করতে ভারত দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। ‘সেফ সিজ’ (SAFE SEAS) বা নিরাপদ সমুদ্রের বার্তাও পুনরায় তুলে ধরেছেন তিনি।

    বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিতে, এই অভিযানের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দিক রয়েছে। প্রথমত, ভারতের উপকূল থেকে ৩,০০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরে অভিযান চালানোর সক্ষমতা। দ্বিতীয়ত, নৌসেনা ও বায়ুসেনার মধ্যে কার্যকর সমন্বয়। তৃতীয়ত, আন্তর্জাতিক জলপথে বিপদে পড়া নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারতের দ্রুত হস্তক্ষেপ।

    সব মিলিয়ে, ‘আজ়িনি’ উদ্ধারের অভিযান ভারতীয় নৌসেনার দূরপাল্লার অভিযান পরিচালনা, সামুদ্রিক নজরদারি এবং জলদস্যুতা মোকাবিলার সক্ষমতার একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত। ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপদ জলপথ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ভারতের সক্রিয় ভূমিকার বার্তাও পৌঁছে দিল এই অভিযান।

  • 800 Km BrahMos: ৪৫০ থেকে বেড়ে ৮০০ কিমি পাল্লা! আরও বিধ্বংসী হচ্ছে ব্রহ্মস, ২০২৭ সালেই পরীক্ষা?

    800 Km BrahMos: ৪৫০ থেকে বেড়ে ৮০০ কিমি পাল্লা! আরও বিধ্বংসী হচ্ছে ব্রহ্মস, ২০২৭ সালেই পরীক্ষা?

    সুশান্ত দাস

    ভারতের প্রতিরক্ষা শক্তিতে আরও বড়সড় সংযোজন হতে চলেছে ব্রহ্মস (BrahMos) সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল। ভারত ও রাশিয়ার যৌথ উদ্যোগে তৈরি এই ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা বাড়িয়ে ৪৫০ কিলোমিটার থেকে ৮০০ কিলোমিটার করার লক্ষ্যে দ্রুত কাজ করছে প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (DRDO)। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে সমুদ্র ও স্থলপথে শত্রুপক্ষের কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে আরও অনেক দূর থেকে নিখুঁত আঘাত হানতে পারবে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী। শুধু পাল্লা বৃদ্ধি নয়, নতুন সংস্করণে র‌্যামজেট ইঞ্জিনের উন্নয়ন এবং একাধিক প্রযুক্তিগত পরিবর্তনও আনা হচ্ছে। সবকিছু পরিকল্পনামাফিক এগোলে ২০২৭ সালের মাঝামাঝি বা শেষের দিকে শুরু হতে পারে নতুন সংস্করণের ডেভেলপমেন্ট টেস্টিং। ২০২৭ সালের শেষ অথবা ২০২৮ সালের গোড়ায় পরীক্ষার পর্ব সম্পূর্ণ করার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

    কীভাবে বাড়বে ব্রহ্মসের পাল্লা?

    ব্রহ্মস একটি সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল, যা র‌্যামজেট ইঞ্জিন প্রযুক্তির সাহায্যে পরিচালিত হয়। নতুন সংস্করণে ক্ষেপণাস্ত্রটির পাল্লা ৮০০ কিলোমিটারে নিয়ে যেতে ইঞ্জিনের কার্যক্ষমতা ও জ্বালানি ব্যবহারের দক্ষতা বাড়ানোর উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

    র‌্যামজেট ইঞ্জিনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল, এটি বায়ুমণ্ডল থেকে অক্সিজেন সংগ্রহ করে জ্বালানি দহনের কাজে ব্যবহার করে। ফলে ক্ষেপণাস্ত্রকে জ্বালানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে আরও কার্যকর করে তোলা সম্ভব। এই প্রযুক্তির উন্নত সংস্করণ এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের মাধ্যমে ব্রহ্মসের উড়ানপথ ও পাল্লা বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

    নতুন সংস্করণে ওজন নিয়ন্ত্রণ, উন্নত নেভিগেশন ব্যবস্থা এবং ওয়ারহেডের সক্ষমতা নিয়েও কাজ হতে পারে। এর ফলে দীর্ঘ দূরত্বে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার পাশাপাশি নির্ভুলতা ও সামগ্রিক যুদ্ধক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।

    পুরনো লঞ্চারেই ব্যবহার করা যাবে নতুন ব্রহ্মস!

    এই প্রকল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, পাল্লা বাড়লেও ক্ষেপণাস্ত্রটির লঞ্চার এবং সংশ্লিষ্ট সহায়ক ব্যবস্থায় বড়সড় পরিবর্তনের প্রয়োজন হবে না বলে পরিকল্পনা করা হচ্ছে। অর্থাৎ, ভারতীয় নৌসেনার যে যুদ্ধজাহাজগুলিতে বর্তমানে ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন রয়েছে, সেগুলিতে নতুন সংস্করণ যুক্ত করার জন্য বড় ধরনের পরিকাঠামোগত পরিবর্তন করতে হবে না।

    এর ফলে নতুন ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের ক্ষেত্রে সময় ও খরচ, দু’দিক থেকেই সুবিধা পাওয়া যাবে। বিদ্যমান যুদ্ধজাহাজের পরিকাঠামো ব্যবহার করেই উন্নত সংস্করণকে কার্যকর করার সুযোগ তৈরি হবে।

    প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে এর তাৎপর্য যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, নতুন কোনও অস্ত্রব্যবস্থা তৈরি করলেই শুধু হয় না, সেটিকে বিদ্যমান সামরিক পরিকাঠামোর সঙ্গে দ্রুত সংযুক্ত করাও সমান জরুরি। সেই জায়গায় ব্রহ্মসের নতুন সংস্করণ ভারতীয় নৌসেনার জন্য বিশেষ সুবিধা এনে দিতে পারে।

    ২০২৭ সালেই শুরু হতে পারে পরীক্ষামূলক উড়ান

    নতুন ব্রহ্মস তৈরির ক্ষেত্রে প্রথমে উন্নত র‌্যামজেট ইঞ্জিন এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের দেশীয় স্তরে পরীক্ষা চালানো হবে। সেই পরীক্ষায় সাফল্য মিললে পরবর্তী পর্যায়ে ক্ষেপণাস্ত্রটির ডেভেলপমেন্ট টেস্টিং শুরু হবে।

    প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের মাঝামাঝি থেকে শেষের দিকে এই পরীক্ষা শুরু হতে পারে। ২০২৭ সালের শেষ অথবা ২০২৮ সালের গোড়ার মধ্যে পরীক্ষার পর্ব শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

    পরীক্ষার সময় ক্ষেপণাস্ত্রটির গতি, পাল্লা, নেভিগেশন এবং লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার নির্ভুলতা খতিয়ে দেখা হবে। সমস্ত পরীক্ষায় সন্তোষজনক ফল মিললে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর ব্যবহারের জন্য উৎপাদন শুরু করার উপর জোর দেওয়া হবে। সম্ভাব্য সময়সীমা ২০২৮ সাল।

    রফতানির জন্য ২৯০ কিমি, ভারতের হাতে ৮০০ কিমির সংস্করণ

    ব্রহ্মসের নতুন সংস্করণের কৌশলগত গুরুত্বের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারের বিষয়টিও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। রফতানির ক্ষেত্রে ভারত ২৯০ কিলোমিটার পাল্লার ব্রহ্মস সংস্করণের উৎপাদন অব্যাহত রাখবে। অন্যদিকে, ৮০০ কিলোমিটার পাল্লার উন্নত সংস্করণ মূলত ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর প্রয়োজন মেটানোর জন্য তৈরি করা হবে।

    এর পিছনে রয়েছে আন্তর্জাতিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (MTCR)-এর বিধিনিষেধ। এই ব্যবস্থার আওতায় ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম রফতানির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ফলে দেশীয় সামরিক প্রয়োজন এবং আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা—দুই ক্ষেত্রেই আলাদা কৌশল বজায় রাখার সুযোগ পাবে ভারত।

    চিন ও পাকিস্তানের মোকাবিলায় বাড়বে কৌশলগত সুবিধা

    ব্রহ্মসের পাল্লা ৮০০ কিলোমিটারে পৌঁছলে ভারতের সামরিক সক্ষমতায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারে। সমুদ্রপথে শত্রুপক্ষের যুদ্ধজাহাজকে অনেক বেশি দূর থেকে নিশানা করার সুযোগ তৈরি হবে। একইভাবে স্থলভাগে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক পরিকাঠামো ও কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার ক্ষেত্রেও বাড়বে সক্ষমতা।

    বিশেষ করে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নৌসেনার উপস্থিতি এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার করার ক্ষেত্রে এই ক্ষেপণাস্ত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। পাশাপাশি চিন ও পাকিস্তানের মতো প্রতিবেশী দেশগুলির সামরিক সক্ষমতার মোকাবিলায় ভারতের প্রতিরোধমূলক শক্তি (Deterrence Capability) আরও মজবুত হবে।

    স্থল, জল এবং আকাশ—তিন ক্ষেত্রেই ব্রহ্মসের ব্যবহারযোগ্যতা ভারতের সামরিক পরিকল্পনায় বাড়তি সুবিধা এনে দিতে পারে। তবে নতুন সংস্করণের প্রকৃত কার্যকারিতা নির্ভর করবে পরীক্ষার ফলাফল এবং বাহিনীতে অন্তর্ভুক্তির পর তার বাস্তব প্রয়োগের উপর।

    আত্মনির্ভর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পথে আরও এক ধাপ

    ভারত ও রাশিয়ার যৌথ সহযোগিতায় ব্রহ্মস প্রকল্পের সূচনা হলেও এর উন্নত সংস্করণ তৈরির ক্ষেত্রে দেশীয় প্রযুক্তি ও গবেষণার ভূমিকা ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। উন্নত ইঞ্জিন, নেভিগেশন এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার পরীক্ষায় সাফল্য এলে ভারতের নিজস্ব প্রতিরক্ষা উৎপাদন ব্যবস্থাও উপকৃত হবে।

    তবে এই প্রকল্পের সামনে প্রযুক্তিগত জটিলতা, দীর্ঘ পাল্লায় নির্ভুলতা বজায় রাখা এবং উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণের মতো চ্যালেঞ্জ রয়েছে। নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সমস্ত পরীক্ষা শেষ করে উৎপাদন শুরু করাও বড় বিষয়।

    সব মিলিয়ে, ৪৫০ কিলোমিটার থেকে ৮০০ কিলোমিটার পাল্লার ব্রহ্মস তৈরির উদ্যোগ ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে চলেছে। পরিকল্পনা সফল হলে ভারতীয় নৌসেনা, স্থলসেনা ও বায়ুসেনার আক্রমণাত্মক সক্ষমতা আরও বাড়বে। একই সঙ্গে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার সমীকরণেও নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে এই উন্নত সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র।

  • Next Generation Corvettes Deal: বাড়ছে ভারতের নৌসেনার শক্তি, ৫৩,৮৬৬ কোটি টাকায় তৈরি হবে ৮টি যুদ্ধজাহাজ! গার্ডেনরিচ পেল ৫টির বরাত

    Next Generation Corvettes Deal: বাড়ছে ভারতের নৌসেনার শক্তি, ৫৩,৮৬৬ কোটি টাকায় তৈরি হবে ৮টি যুদ্ধজাহাজ! গার্ডেনরিচ পেল ৫টির বরাত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় নৌসেনার সামুদ্রিক শক্তি আরও বাড়াতে বড়সড় পদক্ষেপ করল প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। দেশের প্রতিরক্ষা উৎপাদন ও যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ শিল্পকে নতুন গতি দিতে গার্ডেন রিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড (GRSE) এবং গোয়া শিপইয়ার্ড লিমিটেডের (GSL) সঙ্গে মোট ৫৩,৮৬৬.৫০ কোটি টাকার চুক্তি স্বাক্ষর করল কেন্দ্র। এই চুক্তির আওতায় ভারতীয় নৌসেনার জন্য তৈরি হবে ৮টি নেক্সট জেনারেশন করভেট (Next Generation Corvettes বা NGC)। সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬, নয়াদিল্লির কর্তব্য ভবন-২-এ প্রতিরক্ষা সচিব রাজেশ কুমার সিংয়ের উপস্থিতিতে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

    কোন সংস্থা কতগুলি যুদ্ধজাহাজ তৈরি করবে?

    চুক্তি অনুযায়ী, কলকাতার রাষ্ট্রায়ত্ত যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ সংস্থা জিআরএসই তৈরি করবে ৫টি নেক্সট জেনারেশন করভেট। অন্যদিকে, বাকি ৩টি যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের দায়িত্ব পেয়েছে গোয়ার জিএসএল। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই প্রকল্পে প্রথমবার ভারতীয় নৌসেনার নিজস্ব নকশায় যুদ্ধজাহাজ তৈরি করা হবে এবং প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিরক্ষা রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলি (DPSUs) সেগুলি নির্মাণ করবে। ভারতের নিজস্ব যুদ্ধজাহাজের নকশা তৈরি এবং নির্মাণের সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এই উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    কী কী বিশেষ ক্ষমতা থাকবে নেক্সট জেনারেশন করভেটে?

    আধুনিক যুদ্ধের প্রয়োজনীয়তার কথা মাথায় রেখেই তৈরি করা হবে এই ৮টি যুদ্ধজাহাজ। অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, উন্নত অস্ত্রশস্ত্র এবং আধুনিক সেন্সর স্যুটে সজ্জিত থাকবে নেক্সট জেনারেশন করভেটগুলি। ফলে আকাশপথ, সমুদ্রপৃষ্ঠ এবং সমুদ্রের গভীরে—তিনটি ক্ষেত্রেই সামরিক অভিযান চালানোর সক্ষমতা থাকবে এই যুদ্ধজাহাজগুলির।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক নৌযুদ্ধে শুধুমাত্র শক্তিশালী অস্ত্র থাকাই যথেষ্ট নয়। শত্রুপক্ষের গতিবিধি শনাক্ত করা, দ্রুত তথ্য সংগ্রহ, নজরদারি এবং বিভিন্ন সামরিক ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উন্নত সেন্সর ও অস্ত্র ব্যবস্থার সমন্বয় এই করভেটগুলিকে বহুমুখী সামুদ্রিক অভিযানে কার্যকর করে তুলবে।

    ভারতীয় নৌসেনার শক্তি কতটা বাড়বে?

    নতুন করভেটগুলি অন্তর্ভুক্ত হলে ভারতীয় নৌসেনার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে অভিযান চালানোর ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। বিশেষ করে—

    • ● সামুদ্রিক বাণিজ্যপথের সুরক্ষা: আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে নজরদারি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

    • ● অ্যান্টি-সারফেস ওয়ারফেয়ার: শত্রুপক্ষের জলযান ও যুদ্ধজাহাজের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো।

    • ● অ্যান্টি-সাবমেরিন ওয়ারফেয়ার: শত্রু ডুবোজাহাজ শনাক্ত করা এবং প্রয়োজনে সেগুলির বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান।

    • ● উপকূলীয় প্রতিরক্ষা: ভারতের দীর্ঘ উপকূলরেখার নিরাপত্তা আরও মজবুত করা।

    • ● অগভীর জলে যুদ্ধ: উপকূল সংলগ্ন অগভীর জলসীমায় সামরিক অভিযান পরিচালনা।

    • ● সামুদ্রিক নজরদারি: গুরুত্বপূর্ণ জলসীমায় নিয়মিত উপস্থিতি বজায় রাখা এবং সন্দেহজনক গতিবিধির উপর নজর রাখা।

    ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চিনের ক্রমবর্ধমান নৌ-তৎপরতা এবং সামুদ্রিক বাণিজ্যপথের কৌশলগত গুরুত্বের প্রেক্ষাপটে এই যুদ্ধজাহাজগুলি ভারতের সামুদ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। বিশেষ করে উপকূলীয় জলসীমা থেকে শুরু করে বিস্তৃত সমুদ্রাঞ্চলে নজরদারি ও প্রতিরোধমূলক অভিযান চালানোর ক্ষেত্রে নতুন সক্ষমতা তৈরি হবে।

    ১০ বছরে বিপুল কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা

    এই প্রকল্পের গুরুত্ব শুধু প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়। ভারতের দেশীয় জাহাজ নির্মাণ শিল্প, বেসরকারি শিপইয়ার্ড, শিল্প সহযোগী সংস্থা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পক্ষেত্রের (MSMEs) জন্যও বড় সুযোগ তৈরি হতে চলেছে।

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ১০ বছরে এই প্রকল্পের মাধ্যমে—

    • ● জাহাজ নির্মাণ সংস্থাগুলিতে প্রায় ৭২ লক্ষ কর্মদিবস কর্মসংস্থান তৈরি হবে।

    • ● সহযোগী শিল্প এবং এমএসএমই ক্ষেত্রগুলিতে প্রায় ৪৬০ লক্ষ কর্মদিবস কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

    অর্থাৎ, প্রত্যক্ষভাবে শিপইয়ার্ডের পাশাপাশি যন্ত্রাংশ উৎপাদন, ইলেকট্রনিক্স, বিশেষায়িত সরঞ্জাম, প্রযুক্তি ও বিভিন্ন সহায়ক শিল্পের সঙ্গেও যুক্ত হবে বিপুল সংখ্যক কর্মী ও সংস্থা। ফলে দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পের সরবরাহ শৃঙ্খল আরও বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    আত্মনির্ভর প্রতিরক্ষা উৎপাদনে বড় পদক্ষেপ

    এই প্রকল্পে দেশীয় উপকরণ, ভারতীয় প্রযুক্তি, সরঞ্জাম এবং দক্ষ মানবসম্পদের ব্যবহারকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। এর ফলে বিদেশি প্রযুক্তি ও আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি হবে।

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ এবং ‘আত্মনির্ভর ভারত’ উদ্যোগের সঙ্গেও এই প্রকল্পের সরাসরি যোগ রয়েছে। বিশেষ করে ভারতীয় নৌসেনার নিজস্ব নকশায় যুদ্ধজাহাজ তৈরি এবং দেশীয় শিল্প সংস্থাগুলির মাধ্যমে তার নির্মাণ—প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতার পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।

    সব মিলিয়ে, ৫৩,৮৬৬.৫০ কোটি টাকার এই চুক্তি শুধুমাত্র ৮টি যুদ্ধজাহাজ কেনার প্রকল্প নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ভারতের সামুদ্রিক নিরাপত্তা, দেশীয় যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা শিল্পের বিকাশ এবং দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা। বিশেষ করে কলকাতার জিআরএসই-র হাতে ৫টি করভেট নির্মাণের দায়িত্ব আসায় বাংলার প্রতিরক্ষা শিল্পের কাছেও এই প্রকল্পের গুরুত্ব যথেষ্ট।

  • Diwali 2026: দীপাবলিতে বাজি পোড়ানোর আনন্দেই লুকিয়ে বিপদ! অগ্নিদগ্ধ থেকে শ্বাসকষ্ট, সুস্থ থাকতে মানুন চিকিৎসকদের পরামর্শ

    Diwali 2026: দীপাবলিতে বাজি পোড়ানোর আনন্দেই লুকিয়ে বিপদ! অগ্নিদগ্ধ থেকে শ্বাসকষ্ট, সুস্থ থাকতে মানুন চিকিৎসকদের পরামর্শ

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    আর মাত্র কয়েক দিন! শহর থেকে জেলা, বহুতল থেকে পাড়া সেজে উঠবে আলোর উৎসবে! প্রদীপের আলো আর বাজির উৎসবে মাতবেন আট থেকে আশি, সকলেই। কিন্তু দীপাবলির এই আনন্দে বাধা হতে পারে অসাবধানতা! সামান্য অসতর্কতাও আনন্দের তাল কাটতে পারে। তাই কয়েকটি দিকে বাড়তি নজরদারির পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

    কোন বিপদের ইঙ্গিত করছেন বিশেষজ্ঞরা?

    অগ্নিদগ্ধের ঝুঁকি!

    সামান্য অসতর্কতাও বড় বিপদ তৈরি করে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, দীপাবলির পরেই প্রত্যেক বছর উল্লেখযোগ্য ভাবে অগ্নিদগ্ধ রোগীর সংখ্যা বাড়ে। শিশু থেকে প্রৌঢ়, সব‌ বয়সেই এই বিপদ দেখা দিতে পারে। তাই আগাম সতর্কতা জরুরি।

    শ্বাসকষ্টের রোগীর জটিলতা!

    দীপাবলির পরে অনেকেই হাঁপানি বা শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যায় ভোগেন। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, বাজি পোড়ানোর ফলে এক ধরনের ধোঁয়া হয়। সেই ধোঁয়া থেকেই শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ শিশু ও বয়স্কদের এই সমস্যা নিয়ে বাড়তি সতর্কতা জরুরি।

    শ্রবণশক্তি সংক্রান্ত সমস্যা!

    শব্দবাজির দাপটে শ্রবণশক্তি সংক্রান্ত সমস্যা দেখা দিতে পারে। এমনটাই আশঙ্কা প্রকাশ করছেন চিকিৎসকেরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, অতিরিক্ত তীব্র শব্দ কানের ভিতরে গভীর ক্ষত তৈরি করে। এর ফলে শ্রবণশক্তি হারিয়ে যেতে পারে। তাই এই নিয়ে সচেতনতা জরুরি।

    ত্বক ও চোখের সংক্রমণ!

    বাজির মধ্যে থাকে নানান রাসায়নিক পদার্থ। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, অনেকের সেই রাসায়নিক পদার্থ সংস্পর্শে এসে নানান ধরনের অ্যালার্জি হয়। আবার, চোখের সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা ও বছরের এই সময়ে উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়ে যায় বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন বাজির ধোঁয়ায় চোখ জ্বালা করে। সেখান থেকেই সংক্রমণ ঘটতে থাকে।

    কীভাবে সুস্থ থেকে উৎসব উদযাপন সম্ভব?

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, কয়েকটি বিষয়ে খেয়াল রাখলেই দীপাবলির উৎসব নিশ্চিন্তে উদযাপন সম্ভব। এড়ানো যেতে পারে হয়রানি।

    খোলা জায়গায় বাজি পোড়ানো!

    বাজির উৎসবে সবচেয়ে বেশি চিন্তা বাড়ায় আগুন। অসাবধানতা বড় বিপদ‌ তৈরি করে। তাই খোলা জায়গায় বাজি পোড়ানোর পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, বাজি পোড়ানোর সময় হালকা সুতির কাপড় পরা জরুরি। পা ঢাকা জুতো পরতে হয়। এতে আগুন লাগার ঝুঁকি কমে।
    আবার বাজি পোড়ানোর সময় আশপাশে জলের ব্যবস্থা রাখা জরুরি। যাতে বিপদ হলেও সামাল দেওয়া সহজ হয়‌।
    শিশুদের একেবারেই একা ছাড়া চলবে না। বাজি পোড়ানোর সময় অবশ্যই অভিভাবকদের সঙ্গে থাকতে হবে। ফুলবাজি, রং মশালের মতো বাজি তুলনামূলক নিরাপদ মনে হলেও এই বাজি আগুন ধরাতে পারে। বিপদের ঝুঁকি রয়েছে।

    সিওপিডি আক্রান্তদের বাড়তি সতর্কতা!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, অনেকেই ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ বা সিওপিডি আক্রান্ত। এই সময়ে তাঁদের বাড়তি শারীরিক জটিলতা তৈরি হতে পারে। বাজির ধোঁয়ায় শ্বাসকষ্ট শুরু হতে পারে। আবার নতুন করে সংক্রমণ দেখা দিতে পারে। তাই চিকিৎসকদের একাংশের পরামর্শ, এই সময়ে বাড়ির বাইরে গেলেই মাস্ক পরা জরুরি। অস্বাস্থ্যকর ধোঁয়া আটকাবে। আবার সংক্রমণের ঝুঁকিও কমবে। তাছাড়া প্রয়োজন হলে বিশেষজ্ঞর পরামর্শ মতো ইনহেলার ব্যবহার করতে হবে।

    বাজি পোড়ানোর পরে হাত ও চোখ জল দিয়ে পরিষ্কার করা!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, বাজি পোড়ানোর পরে ভালোভাবে হাত ও চোখ পরিষ্কার করা জরুরি। জল দিয়ে ভালোভাবে পরিষ্কার করলে বাজির রাসায়নিক থেকে ত্বক ও চোখের সংক্রমণের ঝুঁকি কমে।

    শব্দবাজির ব্যবহারে হ্রাস!

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, শব্দবাজি নিয়ে সচেতনতা জরুরি। আইন মেনে বাজির উৎসব উদযাপন করলে স্বাস্থ্যের ক্ষতি এড়ানো সহজ হয়। পরিবেশবান্ধব বাজি পোড়ালে নানান ক্ষতির ঝুঁকি কমে। শব্দ বাজি এড়িয়ে চললে শুধু কানের ক্ষতি নয়। পাশপাশি হৃদরোগের ঝুঁকি কমানো যায়। মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতিও এড়ানো যেতে পারে। তাই উৎসবের উদযাপনে সচেতন ও সতর্ক থাকলে যেকোনো বড় বিপদ আটকানো সহজ হবে বলেই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা!

LinkedIn
Share