Tag: মাধ্যম

  • Gaighata Encounter: আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে পুলিশকেই পরপর গুলি, আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলিতে মৃত্যু গাইঘাটায় স্কুলছাত্রী ধর্ষণ-খুনে ধৃতের

    Gaighata Encounter: আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে পুলিশকেই পরপর গুলি, আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলিতে মৃত্যু গাইঘাটায় স্কুলছাত্রী ধর্ষণ-খুনে ধৃতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নারী নির্যাতনের মতো ঘৃণ্য অপরাধে কোনও রকম আপস নয়, অপরাধীদের মনে আইনের ভয় থাকা জরুরি—এই বার্তাই কি আরও একবার সামনে এল গাইঘাটার ঘটনায়? একাদশ শ্রেণির স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগে ধৃত ২৩ বছরের প্রহ্লাদ দাসের মৃত্যু হয়েছে পুলিশের গুলিতে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পুনর্নির্মাণ শেষে ফেরার পথে এক পুলিশকর্মীর আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে গুলি চালায় অভিযুক্ত। আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালাতে বাধ্য হন পুলিশকর্মীরা।

    পুলিশের দাবি, আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে গুলি চালায় অভিযুক্ত

    গত রবিবার, কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর সকালে গাইঘাটা থানা এলাকায় একাদশ শ্রেণির ছাত্রীর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়। পরিবারের অভিযোগ, ওই কিশোরীকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ প্রহ্লাদ দাসকে গ্রেফতার করে। সে নির্যাতিতারই এক আত্মীয় বলে জানা গিয়েছে।

    সোমবার রাতে ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য অভিযুক্তকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পুলিশ সূত্রের দাবি, ফেরার পথে প্রস্রাব করার কথা বলে গাড়ি থামাতে বলে প্রহ্লাদ। গাড়ি থেকে নামার পর এক পুলিশকর্মীর হাত থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে তিন রাউন্ড গুলি চালায় সে। প্রাণ বাঁচাতে এক পুলিশকর্মী পাশের পুকুরে ঝাঁপ দেন। ঘটনায় এক পুলিশকর্মী আহত হন বলে খবর।

    এরপর আত্মরক্ষার্থে পুলিশ পাল্টা গুলি চালায় বলে দাবি। তাতে প্রহ্লাদের পায়ে ও শরীরের একাধিক জায়গায় গুলি লাগে। পরে চাঁদপাড়া গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তার মৃত্যু হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী।

    আগেই কড়া বার্তা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী

    নারী সুরক্ষার প্রশ্নে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই কড়া অবস্থানের কথা জানিয়েছিলেন। তাঁর বার্তা ছিল, ‘সকালে জমা, বিকেলে খরচ’। অর্থাৎ, অপরাধের ঘটনায় কঠোর পদক্ষেপের ক্ষেত্রে কোনও ঢিলেমি বরদাস্ত করা হবে না, এমনই বার্তা দিয়েছিলেন তিনি। নারী নির্যাতনের ঘটনায় দোষীদের রেয়াত করা হবে না এবং আইন ভাঙলে কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে হবে বলেও স্পষ্ট করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। গাইঘাটায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগে ধৃতের পুলিশের গুলিতে মৃত্যুর ঘটনা সেই বার্তাকেই ফের আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।

    ‘পুলিশকে কিছু অপ্রিয় কাজ করতে হবে’, বলছেন দিলীপ ঘোষ

    গাইঘাটার ঘটনা নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে দিলীপ ঘোষও অপরাধীদের মনে ভয় তৈরি করা এবং পুলিশের উপর মানুষের আস্থা ফেরানোর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন। তাঁর বক্তব্য, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। আইন অমান্য করলে তার পরিণতি ভোগ করতে হবে।

    দিলীপ ঘোষ বলেন, “এর আগেও ঘটনা ঘটেছে। খুনি পালাচ্ছিল। এনকাউন্টার হয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনাতে। এখানেও হয়েছে। বিচারের সামনে সবাইকে আনতে হবে। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। কেউ যদি আইন অমান্য করে, তাহলে তার সঙ্গে এরকমই হবে।”

    পুলিশের উপর সাধারণ মানুষের আস্থা ফেরানোর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “পুলিশকে মানুষকে ন্যায় দিতে হবে। মানুষ তাঁদের উপর ভরসা রাখতে ভুলে গিয়েছে। ভরসা ফিরিয়ে আনতে গেলে পুলিশকে কিছু অপ্রিয় কাজ করতে হবে।”

    তাঁর আরও বক্তব্য, অপরাধের পুনরাবৃত্তি রুখতে সমাজে সুবিচার প্রতিষ্ঠা এবং অপরাধীদের শাস্তির দৃষ্টান্ত তৈরি করা জরুরি। দিলীপ ঘোষ বলেন, “ভয় তো এত সহজে কেউ পায় না। কারণ আইন-কানুন ব্যবস্থা বহু বছর বাংলায় নেই। কিন্তু আইন-কানুনের রাজত্ব যদি প্রতিষ্ঠা হয়, তাহলে সবাই ভয় পাবে। সতর্ক হবে। দু’টো জিনিস করতে হবে। যেমন সমাজে সুবিচার আনা, পরিবেশ ঠিক করা। যাতে লোকে এই ধরনের কাজ না করে। আর করলে তার যে সাজা হবে, তা যেন উদাহরণ হিসেবে থাকে।”

    বারুইপুরের ঘটনারও পুনরাবৃত্তি?

    গাইঘাটার আগে বারুইপুরে এক নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের মামলাতেও পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয়েছিল অন্যতম অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের। পুলিশের দাবি ছিল, ঘটনার পুনর্নির্মাণের সময় আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টা করে সে। পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর অভিযোগও ওঠে। এরপর আত্মরক্ষার্থে পুলিশ পাল্টা গুলি চালালে মৃত্যু হয় প্রভাসের। গাইঘাটার ঘটনাতেও পুলিশের বক্তব্য, অভিযুক্তের গুলির মুখে আত্মরক্ষার্থেই পাল্টা গুলি চালানো হয়েছে।

  • India Polio-Free Status: পোলিওমুক্ত ভারত, তবুও কাটেনি বিপদ! কোন ৫টি সতর্কতা শিশুদের জন্য জরুরি?

    India Polio-Free Status: পোলিওমুক্ত ভারত, তবুও কাটেনি বিপদ! কোন ৫টি সতর্কতা শিশুদের জন্য জরুরি?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    পোলিও মুক্ত দেশ হিসাবে স্বীকৃতি পাওয়া গিয়েছে। কিন্তু তারপরেও পুরোপুরি বিপদ মুক্ত নয় বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকেরা। তাই সাবধানতা এবং সচেতনতা অবশ্যই নিতে হবে। ওয়ার্ল্ড পোলিও ডে উপলক্ষে দেশজুড়ে একাধিক সচেতনতা কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ভারত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের পোলিওমুক্ত দেশের স্বীকৃতি পেয়েছে। কিন্তু পোলিওমুক্ত হওয়া মানেই পোলিওর ঝুঁকি চিরতরে শেষ হয়ে যাওয়া নয়। যত দিন বিশ্বের অন্য কোথাও পোলিও ভাইরাসের সংক্রমণ থাকবে, তত দিন ভারতেও বিদেশ থেকে ভাইরাস প্রবেশের আশঙ্কা এবং টিকাবিহীন শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকবে।
    বিশেষ করে শিশুদের সম্পূর্ণ টিকাকরণ, নিয়মিত নজরদারি এবং পোলিও সম্পর্কে অভিভাবকদের সচেতনতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।

    ভারত পোলিওমুক্ত হলেও ঝুঁকি কোথায়?

    বিদেশ থেকে ভাইরাসের প্রবেশ!

    পোলিও মুক্ত হলেও পোলিও-র বিপদ কমেনি। কারণ বিদেশ থেকে পোলিও-র ভাইরাস সংক্রমণ হতেই পারে। আফগানিস্তান ও পাকিস্তানে প্রচুর পোলিও ভাইরাসের সংক্রমণ এখনও রয়েছে। আন্তর্জাতিক যাতায়াতের মাধ্যমে ভাইরাস অন্য দেশেও পৌঁছতে পারে।

    টিকাবিহীন শিশুদের ঝুঁকি

    কোনও এলাকায় পর্যাপ্ত সংখ্যক শিশু টিকা না পেলে ভাইরাস ছড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়। তাই শিশুদের ঠিকমতো টিকা দেওয়া হচ্ছে কিনা সেদিকে নজর দিতে হবে। বিশেষত সদ্যোজাতেরা যাতে কোনো টিকার ডোজ থেকে বাদ না পড়ে, সেদিকে নজর দিতে হবে।

    ওয়ার্ল্ড পোলিও ডে উপলক্ষে কী বিশেষ বার্তা?

    এ বছরে ওয়ার্ল্ড পোলিও ডে- উপলক্ষে বিশেষ ভাবে বলা হচ্ছে, পোলিও রুখতে একটি দিন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ! অর্থাৎ, টিকা করণের দিন সবচেয়ে জরুরি। একদিন পোলিও টিকা করণ পোলিও বিপদ অনেকটাই কমিয়ে দেবে। তাই এ বছরের বার্তা, “One day, one focus, ending polio for good: Together let us build a polio-free future.” অর্থাৎ, একটি দিন, একটি লক্ষ্য—চিরতরে পোলিও নির্মূল। এবছর প্রচারের মূল লক্ষ্য হলো, বিশ্ব থেকে পোলিও সম্পূর্ণ নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত টিকাকরণ, জনসচেতনতা ও নজরদারি অব্যাহত রাখা কতখানি প্রয়োজন, সেদিকে নজর দেওয়া।

    পোলিও রুখতে কোন কোন দিকে বাড়তি নজরদারি জরুরি?

    জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, পোলিও ভাইরাসের বিপদ কমাতে কয়েকটি দিকে বাড়তি সতর্কতা ও নজরদারি জরুরি।

    পালস পোলিও কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ!

    নিয়মিত টিকা নেওয়া থাকলেও সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী পালস পোলিও অভিযানে শিশুকে নিয়ে যেতে হবে। অভিযানের অতিরিক্ত ডোজ এবং নিয়মিত টিকাকরণ পরস্পরের বিকল্প নয়।

    প্রান্তিক গোষ্ঠী ও পরিযায়ী পরিবারের কাছে টিকাকরণ কর্মসূচি পৌঁছনো!

    পরিযায়ী শ্রমিকের পরিবার, বস্তি, দুর্গম এলাকা, নবজাতক এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরিষেবা থেকে বঞ্চিত শিশুদের টিকাকরণে বিশেষ নজর প্রয়োজন। বিশেষত পরিযায়ী শ্রমিকদের পরিবার দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বসবাস করেন। সেই শিশুদের নিয়মিত টিকাকরণ হচ্ছে কিনা, সেদিকে বাড়তি নজর রাখতে হবে। কোনো ভাবেই যাতে পোলিও-র ডোজ বাদ না পড়ে সেটা নিশ্চিত করতে হবে।

    সংক্রমণের দ্রুত শনাক্তকরণ

    স্বাস্থ্যকর্মীদের মাধ্যমে পোলিও-সদৃশ উপসর্গ, বিশেষত হঠাৎ হাত-পা দুর্বল বা অবশ হয়ে যাওয়ার ঘটনা দ্রুত রিপোর্ট করতে হবে। মল পরীক্ষার মাধ্যমে রোগ নির্ণয় এবং পরিবেশগত নজরদারিও গুরুত্বপূর্ণ।

    অভিভাবকদের জন্য কোন বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ?

    শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, কয়েকটি সহজ বিষয়ে নজর রাখলেই সন্তানের পোলিও সংক্রমণের ঝুঁকি নিশ্চিহ্ন করা যাবে। তাই পোলিও রুখতে চিকিৎসকদের কিছু বিশেষ পরামর্শ দেওয়া হয়েছে—

    • ● শিশুর টিকাকরণের কার্ড দেখে সমস্ত ডোজ সম্পূর্ণ হয়েছে কি না যাচাই করতে হবে।
    • ● সরকারি পালস পোলিও অভিযানের ঘোষণা অনুসরণ করতে হবে। তাহলে টিকার ডোজ বাদ পড়ার ঝুঁকি থাকবে না।
    • ● শিশুর টিকা বাদ পড়লে পরবর্তী সুযোগের জন্য অপেক্ষা না করে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করতে হবে।
    • ● পোলিওমুক্ত দেশ বলে টিকা বন্ধ করলে চলবে না বা ঝুঁকিকে হালকাভাবে নেওয়া যাবে না।
    • ● শিশুর হঠাৎ হাত-পা দুর্বল হয়ে যাওয়া বা অবশ হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। বিশেষত সন্তানের বয়স পাঁচ বছরের কম হলে বাড়তি নজরদারি প্রয়োজন।
  • Suvendu Adhikari: নতুন সরকারের প্রথম গঙ্গাসাগর মেলা, প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে শনিবার কাকদ্বীপে শুভেন্দু, কী কী পরিকল্পনা?

    Suvendu Adhikari: নতুন সরকারের প্রথম গঙ্গাসাগর মেলা, প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে শনিবার কাকদ্বীপে শুভেন্দু, কী কী পরিকল্পনা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গঙ্গাসাগর মেলা ২০২৭-এর প্রস্তুতি, সুন্দরবনের উন্নয়ন এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার প্রশাসনিক পরিকাঠামো—একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে সামনে রেখে শনিবার কাকদ্বীপ সফরে যাচ্ছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রীর সফর ঘিরে ইতিমধ্যেই তৎপরতা শুরু হয়েছে প্রশাসনিক মহলে। প্রশাসনিক বৈঠকের পাশাপাশি কাকদ্বীপ স্টেডিয়াম ময়দানে একটি জনসভায় বক্তব্য রাখার কথা রয়েছে তাঁর। রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর নতুন সরকারের অধীনে প্রথম গঙ্গাসাগর মেলা অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ২০২৭ সালে। তাই মেলার প্রস্তুতি থেকে শুরু করে সুন্দরবন এলাকার উন্নয়ন, একাধিক বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর এই সফর তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

    গঙ্গাসাগর মেলা ২০২৭: নিরাপত্তা ও পরিকাঠামোয় বিশেষ নজর

    প্রশাসনিক সূত্রে খবর, শনিবার কাকদ্বীপে জেলা প্রশাসনের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করবেন মুখ্যমন্ত্রী। দক্ষিণ ২৪ পরগনার সামগ্রিক পরিস্থিতি, চলতি উন্নয়নমূলক কাজ, প্রশাসনিক পরিকাঠামো এবং সুন্দরবনের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। পাশাপাশি, গঙ্গাসাগর মেলা ২০২৭-এর প্রস্তুতি বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

    প্রতিবছর মকর সংক্রান্তি উপলক্ষে গঙ্গাসাগরে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থীর সমাগম হয়। এই বিপুল জনসমাগম সামলাতে নিরাপত্তা, পরিবহণ, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার মতো একাধিক ক্ষেত্রে প্রশাসনকে প্রস্তুত থাকতে হয়। বিশেষ করে কচুবেড়িয়া থেকে গঙ্গাসাগর পর্যন্ত যাতায়াত, নদীপথে পারাপার, পানীয় জল, বিদ্যুৎ এবং চিকিৎসা পরিষেবা সুনিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    সেই কথা মাথায় রেখে আসন্ন মেলার জন্য আগাম পরিকল্পনা এবং প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো উন্নয়নের বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। নতুন সরকারের অধীনে গঙ্গাসাগর মেলাকে আরও সুশৃঙ্খল ও আকর্ষণীয় করে তোলার ক্ষেত্রে কী পদক্ষেপ করা হয়, সেদিকেও নজর থাকবে।

    মুখ্যমন্ত্রীর সফরের আগে প্রস্তুতি খতিয়ে দেখলেন মন্ত্রী ও প্রশাসনিক কর্তারা

    মুখ্যমন্ত্রীর কাকদ্বীপ সফরের আগে কাকদ্বীপ স্টেডিয়াম ময়দানে গিয়ে সভাস্থলের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখেন সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী দীপঙ্কর জানা, সাগরের বিধায়ক সুমন্ত মণ্ডল, দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসক, সুন্দরবন পুলিশ জেলার সুপার-সহ বিভিন্ন দফতরের আধিকারিকেরা। জনসভার আয়োজন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং অন্যান্য প্রশাসনিক প্রস্তুতি নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়।

    এরপর মহকুমা শাসকের দফতরে প্রশাসনিক বৈঠকও করেন তাঁরা। মুখ্যমন্ত্রীর সফর নির্বিঘ্ন করতে বিভিন্ন দফতরের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী দীপঙ্কর জানা বলেন, ‘শনিবার কাকদ্বীপে আসবেন মুখ্যমন্ত্রী। তার আগে সমস্ত প্রস্তুতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রশাসনের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকও করা হয়েছে।’

    জাতীয় মেলার স্বীকৃতি ও পৃথক সুন্দরবন জেলা নিয়ে জল্পনা

    গঙ্গাসাগর মেলাকে জাতীয় মেলার স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি দীর্ঘদিনের। ফলে আসন্ন প্রশাসনিক বৈঠকে এই বিষয়টি নিয়ে কোনও আলোচনা হয় কি না, তা নিয়েও আগ্রহ রয়েছে। তবে এ বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা এখনও জানা যায়নি।

    অন্যদিকে, সুন্দরবনের উন্নয়ন, প্রশাসনিক কাঠামোর পরিবর্তন এবং পৃথক সুন্দরবন জেলা গঠনের সম্ভাবনা নিয়েও বিভিন্ন মহলে জল্পনা তৈরি হয়েছে। ভৌগোলিক অবস্থান, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং সুন্দরবন এলাকার মানুষের বিভিন্ন সমস্যার প্রেক্ষিতে এই বিষয়গুলি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। তবে শনিবারের বৈঠকে এ নিয়ে নির্দিষ্ট কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। প্রশাসনিক বৈঠকে জেলা পরিষদের আধিকারিকদের পাশাপাশি পুলিশ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্তাদেরও উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

    সব মিলিয়ে, গঙ্গাসাগর মেলা ২০২৭-এর প্রস্তুতি, সুন্দরবনের উন্নয়ন এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার প্রশাসনিক পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাকদ্বীপ সফর ঘিরে প্রত্যাশা বাড়ছে। প্রশাসনিক বৈঠকে কী কী বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয় এবং জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী কী বার্তা দেন, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের।

  • MIB Advisory: টিভি চ্যানেলগুলিকে কেন্দ্রের কড়া বার্তা! জঙ্গিদমন অভিযান নিয়ে লাইভ সম্প্রচারে সতর্কতা, এআই ব্যবহারেও বিধি আরোপ

    MIB Advisory: টিভি চ্যানেলগুলিকে কেন্দ্রের কড়া বার্তা! জঙ্গিদমন অভিযান নিয়ে লাইভ সম্প্রচারে সতর্কতা, এআই ব্যবহারেও বিধি আরোপ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের বেসরকারি স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেলগুলির জন্য নতুন নির্দেশিকা জারি করল কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক। জঙ্গি দমন অভিযান চলাকালীন সরাসরি সম্প্রচার, হিংসাত্মক ঘটনার দৃশ্য দেখানো এবং সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়াতে পারে এমন বিতর্কমূলক অনুষ্ঠান নিয়ে সংবাদমাধ্যমগুলিকে সতর্ক করেছে মন্ত্রক। একইসঙ্গে টেলিভিশন সংবাদ পরিবেশনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর ব্যবহার নিয়েও নির্দিষ্ট সীমারেখা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। বুধবার, ২১ অক্টোবর এই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

    মন্ত্রকের বক্তব্য, টেলিভিশনে সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত আইন ও সম্প্রচারবিধি কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক ক্ষেত্রে নিয়ম না মানার অভিযোগ সামনে আসার পরেই এই পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে। কেন্দ্রের স্পষ্ট বার্তা, সংবাদ পরিবেশনের নামে এমন কোনও বিষয় প্রচার করা যাবে না, যা দেশের নিরাপত্তা, সামাজিক সম্প্রীতি কিংবা সংবেদনশীল পরিস্থিতির উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

    জঙ্গি দমন অভিযানের লাইভ সম্প্রচারে সতর্কতা

    নতুন নির্দেশিকায় সন্ত্রাসবাদবিরোধী অভিযান সংক্রান্ত খবর পরিবেশনের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের কথা বলা হয়েছে। অভিযান চলাকালীন সরাসরি সম্প্রচার এড়িয়ে চলতে হবে সংবাদমাধ্যমগুলিকে। এ ধরনের অভিযানের সময় টেলিভিশনে প্রচারিত তথ্য বা দৃশ্য নিরাপত্তা বাহিনীর কাজকে প্রভাবিত করতে পারে। সেই কারণে অভিযানের গতিবিধি, নিরাপত্তা সংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য কিংবা ঘটনাস্থলের এমন কোনও বিবরণ প্রচার করা উচিত নয়, যা অভিযানের স্বার্থের পরিপন্থী হতে পারে।

    পাশাপাশি, অপরাধ, প্রাকৃতিক বিপর্যয় এবং হিংসাত্মক ঘটনার খবর দেখানোর ক্ষেত্রেও সংযম বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনও ঘটনার ভয়াবহতা তুলে ধরতে গিয়ে অতিরিক্ত হিংসাত্মক বা বিভ্রান্তিকর দৃশ্য বারবার দেখানো থেকে বিরত থাকতে হবে।

    সংবাদ পরিবেশনের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত দর্শকদের নির্ভরযোগ্য তথ্য দেওয়া। উত্তেজনা তৈরি করা বা দর্শক টানার জন্য ঘটনার সংবেদনশীল দিকগুলিকে অতিরঞ্জিত করা কোনওভাবেই কাম্য নয়—নির্দেশিকার মূল বক্তব্য এমনটাই।

    সাম্প্রদায়িক ও দেশবিরোধী মনোভাব ছড়ায়, এমন বিতর্কে নিষেধাজ্ঞার বার্তা

    টেলিভিশনের বিতর্কমূলক অনুষ্ঠান নিয়েও কড়া অবস্থান নিয়েছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, এমন কোনও আলোচনা, বিতর্ক বা প্যানেল শো সম্প্রচার করা যাবে না, যা সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ কিংবা দেশবিরোধী মনোভাবকে উৎসাহিত করে।

    বর্তমানে বিভিন্ন সংবাদচ্যানেলে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিষয় নিয়ে সরাসরি বিতর্কের চল রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়, ব্যক্তিগত আক্রমণ এবং উস্কানিমূলক মন্তব্য আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে। এর ফলে প্রকৃত বিষয়টি আড়ালে চলে যাওয়ার পাশাপাশি সামাজিক বিভাজনও বাড়তে পারে।

    এই পরিস্থিতিতে আলোচনার বিষয়বস্তু, অতিথিদের বক্তব্য এবং সঞ্চালকের ভূমিকার উপর সম্পাদকীয় নজরদারি বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা মনে করিয়ে দিয়েছে মন্ত্রক। তবে নির্দেশিকার এই অংশের মূল লক্ষ্য কেবল বিতর্কের তীব্রতা নিয়ন্ত্রণ করা নয়, বরং সম্প্রচারের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক বা দেশবিরোধী মনোভাব ছড়িয়ে পড়া আটকানো।

    এআই দিয়ে সংবাদ পরিবেশনেও লাগাম

    টেলিভিশন সংবাদে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়তে থাকায় এই প্রযুক্তি নিয়েও সতর্ক করেছে কেন্দ্র। এআই-নির্ভর গ্রাফিক্স, ভার্চুয়াল সংবাদ উপস্থাপক এবং অন্যান্য কৃত্রিমভাবে তৈরি দৃশ্য ব্যবহারের ক্ষেত্রে সংবাদমাধ্যমগুলিকে নির্দিষ্ট নীতি মেনে চলতে বলা হয়েছে।

    মন্ত্রকের নির্দেশ, সংবাদ তৈরির ক্ষেত্রে এআই-কে সহায়ক প্রযুক্তি হিসেবেই ব্যবহার করতে হবে। এই প্রযুক্তির প্রয়োগ যেন খবরের নির্ভুলতা, সত্যতা এবং সংবেদনশীলতা নষ্ট না করে, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সম্প্রচারকারী সংস্থার।

    বিশেষ করে, কৃত্রিমভাবে তৈরি কোনও ছবি বা দৃশ্য যদি বাস্তব ঘটনার ছবি হিসেবে দর্শকদের সামনে তুলে ধরা হয়, তাহলে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। সংবেদনশীল ঘটনা, অপরাধ কিংবা সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার সঙ্গে সম্পর্কিত খবরের ক্ষেত্রে এ ধরনের ভুল আরও গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই এআই-নির্ভর উপাদান ব্যবহারের আগে তার যথার্থতা যাচাই এবং সম্পাদকীয় পর্যালোচনার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।

    ভারতের মানচিত্র থেকে যৌন নির্যাতনের শিকারদের পরিচয়—একাধিক বিষয়ে নির্দেশ

    নতুন নির্দেশিকায় আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। ভারতের মানচিত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য ও প্রামাণ্য মানচিত্র ব্যবহার করতে হবে। মানচিত্রের ভুল উপস্থাপনা যাতে বিভ্রান্তি তৈরি না করে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে সম্প্রচারকারী সংস্থাগুলিকে।

    যৌন নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের পরিচয় গোপন রাখার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সংবাদ পরিবেশনের সময় তাঁদের পরিচয় প্রকাশ পেতে পারে, এমন কোনও তথ্য বা দৃশ্য সম্প্রচার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

    এ ছাড়া সাম্প্রদায়িকভাবে সংবেদনশীল ঘটনা নিয়ে প্রতিবেদন তৈরির সময় তথ্য যাচাই, ভাষার ব্যবহার এবং দৃশ্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অপরাধ ও হিংসার খবরের ক্ষেত্রেও সংযত এবং দায়িত্বশীল উপস্থাপনার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।

    সম্প্রচারবিধি মানার ক্ষেত্রে আইডিসি-র পর্যবেক্ষণ

    মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, ইন্টার-ডিপার্টমেন্টাল কমিটি বা আন্তঃবিভাগীয় কমিটি (IDC) সম্প্রচার সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করে দেখেছে। কমিটির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, একাধিক টেলিভিশন চ্যানেলে একই বিষয় নিয়ে প্রায় একই ধরনের খবর এবং দৃশ্য সম্প্রচার করা হচ্ছিল।

    এই পরিস্থিতিতে আইন ও সম্প্রচারবিধি মেনে চলার ক্ষেত্রে আরও কঠোর হওয়ার সুপারিশ করেছে কমিটি। পাশাপাশি, টেলিভিশনের পর্দায় অনুপযুক্ত আচরণ এবং আপত্তিকর ভাষার ব্যবহার যেন ক্রমশ স্বাভাবিক বিষয় হয়ে না ওঠে, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    অর্থাৎ, কেবল খবরের বিষয়বস্তু নয়, সংবাদ পরিবেশনের ভাষা, উপস্থাপনার ধরন এবং সম্পাদকীয় সিদ্ধান্তের মানও এই নির্দেশিকার আওতায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    সম্পাদকীয় নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ, নিয়ম ভাঙলে আইনি পদক্ষেপ

    নির্দেশিকা কার্যকর করতে সংবাদমাধ্যমগুলির অভ্যন্তরীণ সম্পাদকীয় ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার কথা বলেছে মন্ত্রক। সংবাদ সংগ্রহ, সম্পাদনা, প্রযোজনা, সম্প্রচার এবং টেলিকাস্টের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা বৃদ্ধির উপরেও জোর দেওয়া হয়েছে।

    এর অর্থ, সম্প্রচারের আগে কোনও খবরের তথ্য, ভাষা, ছবি বা ভিডিও যথাযথভাবে যাচাই করা হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের। বিশেষত, সন্ত্রাসবাদবিরোধী অভিযান, হিংসাত্মক ঘটনা, সাম্প্রদায়িক সংঘাত এবং এআই-নির্ভর সংবাদ উপাদানের ক্ষেত্রে এই নজরদারি গুরুত্বপূর্ণ।

    মন্ত্রক সতর্ক করে জানিয়েছে, নির্দেশিকা লঙ্ঘন করলে কেবল সতর্কবার্তাতেই বিষয়টি সীমাবদ্ধ থাকবে না। প্রয়োজনে কেবল টেলিভিশন নেটওয়ার্কস (রেগুলেশন) অ্যাক্ট, ১৯৯৫-এর অধীনে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

    সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও দায়িত্বশীলতার প্রশ্ন

    কেন্দ্রের এই নির্দেশিকা সংবাদমাধ্যমের দায়িত্বশীলতা নিয়ে নতুন করে আলোচনার অবকাশ তৈরি করেছে। একদিকে, সন্ত্রাসবাদবিরোধী অভিযানের সময় সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ না করা এবং হিংসাত্মক ঘটনার ক্ষেত্রে সংযম বজায় রাখা জননিরাপত্তার স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে, সাম্প্রদায়িক বা দেশবিরোধী মনোভাবের সংজ্ঞা প্রয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা এবং নিরপেক্ষতার প্রশ্নও তাৎপর্যপূর্ণ।

    এআই-নির্ভর সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রেও তথ্যের সত্যতা যাচাই এবং দর্শকদের বিভ্রান্ত না করার বিষয়টি অত্যন্ত জরুরি। প্রযুক্তির ব্যবহার যত বাড়বে, সংবাদমাধ্যমের সম্পাদকীয় দায়বদ্ধতাও তত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

    সব মিলিয়ে, কেন্দ্রের নতুন নির্দেশিকার মূল লক্ষ্য হল টেলিভিশন সংবাদ পরিবেশনে আইন মেনে চলা, সংবেদনশীল বিষয়ে সংযম বজায় রাখা এবং এআই-সহ আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারকে দায়িত্বশীল কাঠামোর মধ্যে রাখা। তবে এই নির্দেশিকা বাস্তবে কীভাবে কার্যকর হয় এবং নিয়ম লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কী ধরনের পদক্ষেপ করা হয়, তার উপরেই এর প্রভাব অনেকাংশে নির্ভর করবে।

  • CJP Leaders Peace Bond: আইন অমান্যের অভিযোগে আদালতের কড়া অবস্থান! কঠোর কঠোর শর্তসাপেক্ষে মুক্তি সিজেপির দুই নেতার

    CJP Leaders Peace Bond: আইন অমান্যের অভিযোগে আদালতের কড়া অবস্থান! কঠোর কঠোর শর্তসাপেক্ষে মুক্তি সিজেপির দুই নেতার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বারবার আইন অমান্য, নিষিদ্ধ ঘোষিত স্থানে বিক্ষোভের ডাক এবং শান্তিশৃঙ্খলা ভঙ্গের আশঙ্কা—এই সমস্ত অভিযোগকে কেন্দ্র করে কড়া অবস্থান নিল দিল্লির আদালত। ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে বিচারবিভাগীয় হেফাজত থেকে মুক্তি দেওয়া হলেও, তার জন্য আদালতে লিখিত মুচলেকা দিতে হয়েছে তাঁদের। ভবিষ্যতে জনশান্তি বিঘ্নিত করবেন না, আইন মেনে চলবেন এবং আইন অনুযায়ী নিষিদ্ধ ঘোষিত থাকা পর্যন্ত যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক দেবেন না—এই মর্মে অঙ্গীকার করেছেন দুই নেতা। তাঁদের মুক্তির সিদ্ধান্তে শর্ত আরোপের মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার প্রশ্নে কোনও রকম ঝুঁকি নিতে নারাজ আদালত।

    যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ ঘিরে বিতর্ক, সাত দিন হেফাজতে থাকার পর মুক্তি

    গত ১৩ অক্টোবর যন্তর মন্তরে অনুমতি ছাড়া প্রবেশের অভিযোগে সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে আটক করা হয়েছিল। অভিযোগ, এর আগেও শান্তি বজায় রাখার মুচলেকা দেওয়ার পরেও তাঁরা ফের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ওই এলাকায় প্রবেশ করেছিলেন। সেই ঘটনার পর তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করা হয় এবং সাত দিন বিচারবিভাগীয় হেফাজতে থাকতে হয়।

    বুধবার, ২১ অক্টোবর, দিল্লির স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (SEM) আদালতে মুক্তির আবেদন নিয়ে শুনানি হয়। সেখানে দুই নেতা পৃথক লিখিত মুচলেকা জমা দেন। ভবিষ্যতে শান্তিভঙ্গ করবেন না এবং আদালতের প্রতি আস্থা বজায় রাখবেন বলে তাঁরা জানান। এরপরই তাঁদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ড এবং সমপরিমাণ জামিনদারের বন্ডে মুক্তির নির্দেশ দেন স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ঋতু রাজ, যিনি দিল্লি পুলিশের অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার পদেও রয়েছেন।

    লিখিত অঙ্গীকারে কী জানালেন সিজেপির দুই নেতা?

    আদালতে জমা দেওয়া পৃথক মুচলেকায় দুই নেতা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

    • ● শান্তি বজায় রাখার অঙ্গীকার: তাঁরা কোনও ধরনের শান্তিভঙ্গ করবেন না বলে জানিয়েছেন।

    • ● যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক নয়: আইন অনুযায়ী যন্তর মন্তর নিষিদ্ধ ঘোষিত থাকা পর্যন্ত সেখানে বিক্ষোভের ডাক দেবেন না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

    • ● সংবিধানের কাঠামো মেনে আন্দোলন: ভবিষ্যতে কোনও প্রতিবাদ বা বিক্ষোভ হলে তা সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন।

    • ● বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা: তাঁরা জানিয়েছেন, বিচারব্যবস্থা এবং তার সমস্ত অঙ্গ, এমনকী স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের প্রতিও তাঁদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে।

    এই অঙ্গীকারগুলির ভিত্তিতেই আদালত মনে করেছে, আপাতত তাঁদের আরও কিছু দিন হেফাজতে রাখার প্রয়োজন নেই। তবে মুক্তি মানেই যে তাঁদের বিরুদ্ধে চলা আইনি প্রক্রিয়া শেষ হয়ে গেল, তা নয়।

    আদালতের মর্যাদা নিয়ে প্রশ্ন, নিঃশর্ত ক্ষমা চাইলেন আইনজীবী

    শুনানির সময় দিল্লি পুলিশের আইনজীবী ১৯ অক্টোবর সংবাদমাধ্যমে দেওয়া দুই নেতার কিছু বক্তব্যের প্রসঙ্গ তোলেন। পুলিশের অভিযোগ ছিল, ওই বক্তব্যগুলি স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করেছে।

    এর পরিপ্রেক্ষিতে দুই নেতার হয়ে উপস্থিত আইনজীবী মৌখিকভাবে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের আচরণের পুনরাবৃত্তি হবে না বলেও আদালতকে আশ্বাস দেওয়া হয়।

    উল্লেখ্য, ১৯ অক্টোবরের নির্দেশে ম্যাজিস্ট্রেট দুই নেতার আচরণ নিয়ে গুরুতর আপত্তি জানিয়েছিলেন। তাঁর পর্যবেক্ষণ ছিল, তাঁদের কাজকর্মে আইনের প্রতি কোনও সম্মান দেখা যাচ্ছে না। নিষিদ্ধ ঘোষিত স্থানে বারবার বিক্ষোভের ডাক দেওয়ার বিষয়টিও আদালতের উদ্বেগ বাড়িয়েছিল।

    এই প্রেক্ষাপটে বুধবারের শুনানি তাৎপর্যপূর্ণ। একদিকে আদালত মুক্তির ক্ষেত্রে লিখিত অঙ্গীকারকে গুরুত্ব দিয়েছে, অন্যদিকে আইন অমান্য এবং শান্তিশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার অভিযোগকে উপেক্ষা করেনি।

    আরও তিন দিন হেফাজতে রাখার আর্জি খারিজ

    সিজেপির দুই নেতাকে আরও তিন দিন হেফাজতে রাখার আবেদন জানিয়েছিল দিল্লি পুলিশ। কিন্তু স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সেই আবেদন মঞ্জুর করেননি।

    ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (BNSS)-র ১৩৫(৩) ধারায় বিবেচিত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার উদ্দেশ্য নতুন করে দেওয়া শান্তির মুচলেকা এবং লিখিত অঙ্গীকারের মাধ্যমে পূরণ করা সম্ভব বলে মনে করেছে আদালত। সেই কারণে এই পর্যায়ে তাঁদের বিচারবিভাগীয় হেফাজত অব্যাহত রাখার প্রয়োজন নেই বলে নির্দেশ দেওয়া হয়।

    এখানে আদালতের অবস্থানটি গুরুত্বপূর্ণ। মুক্তির সিদ্ধান্তকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি হিসেবে দেখা যাবে না। বরং আদালত মনে করেছে, আপাতত শান্তি বজায় রাখার নিশ্চয়তা আদায়ের জন্য বন্ড ও লিখিত অঙ্গীকার যথেষ্ট হতে পারে। ভবিষ্যতে সেই অঙ্গীকার ভঙ্গ হলে পরিস্থিতি অনুযায়ী পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের প্রশ্ন উঠতে পারে।

    দিল্লি হাইকোর্টেও প্রশ্নের মুখে দুই নেতা

    এর আগে বুধবারই দিল্লি হাইকোর্টে বিচারপতি সুব্রামনিয়ম প্রসাদ দুই নেতার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। আগের শান্তির মুচলেকা ভঙ্গের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কেন তাঁরা ফের একই ধরনের পদক্ষেপ করলেন এবং প্রচলিত আইনি প্রতিকারের পথ অনুসরণ না করে সরাসরি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন করেন বিচারপতি।

    এর পরেই সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা তাঁদের আবেদন প্রত্যাহার করে নেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, হাইকোর্ট থেকে আবেদন প্রত্যাহারের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে লিখিত অঙ্গীকার জমা দিয়ে তাঁরা মুক্তি পান।

    এই ঘটনাপ্রবাহ থেকে স্পষ্ট, যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের অনুমতি এবং পূর্ববর্তী মুচলেকা মেনে চলার বিষয়টি দুই নেতার আইনি লড়াইয়ের কেন্দ্রে রয়েছে। তবে হাইকোর্টে আবেদন প্রত্যাহার করাকে আদালতের কোনও চূড়ান্ত রায় বা তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিষ্পত্তি হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।

    ২৩ অক্টোবর ফের শুনানি, জামিনদারদের যাচাই করবে পুলিশ

    মুক্তি পেলেও সিজেপির দুই নেতার বিরুদ্ধে চলা প্রক্রিয়া এখনও শেষ হয়নি। স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে। আগামী ২৩ অক্টোবর ফের শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।

    দুই নেতার জামিনদারদের পরিচয় ও নথিপত্র যাচাই করে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে দিল্লি পুলিশকে। ফলে তাঁদের মুক্তির পরবর্তী আইনি পরিস্থিতিও নজরে থাকবে।

    সব মিলিয়ে, এই ঘটনায় আদালতের বার্তা স্পষ্ট—প্রতিবাদ বা রাজনৈতিক কর্মসূচির অধিকার থাকলেও তা আইন ও জনশৃঙ্খলার সীমার মধ্যে থাকতে হবে। পূর্ববর্তী মুচলেকা, নিষিদ্ধ ঘোষিত স্থানে প্রবেশের অভিযোগ এবং আদালতের মর্যাদা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের প্রেক্ষিতে সিজেপির দুই নেতাকে কঠোর শর্তে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত সেই আইনি অবস্থানকেই সামনে এনেছে। এখন দেখার, আগামী শুনানিতে পুলিশ কী রিপোর্ট জমা দেয় এবং দুই নেতা তাঁদের দেওয়া অঙ্গীকার কতটা মেনে চলেন।

  • France Protests: ফ্রান্সে হিংসাত্মক বিক্ষোভ, ভারতীয়দের জন্য দূতাবাসের সতর্কবার্তা! প্যারিস-সহ একাধিক শহরে কার্ফু

    France Protests: ফ্রান্সে হিংসাত্মক বিক্ষোভ, ভারতীয়দের জন্য দূতাবাসের সতর্কবার্তা! প্যারিস-সহ একাধিক শহরে কার্ফু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়, সরকারি পরিষেবার অবনতি এবং শিক্ষাব্যবস্থার একাধিক সমস্যা ঘিরে উত্তপ্ত ফ্রান্স। রাজধানী প্যারিস-সহ মার্সেই ও লিয়ঁর মতো শহরে বিক্ষোভ ঘিরে হিংসা, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা সামনে এসেছে। পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে ফ্রান্সে বসবাসকারী ভারতীয় নাগরিক এবং দেশটিতে ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন, এমন ভারতীয়দের জন্য সতর্কবার্তা জারি করেছে প্যারিসে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস। বিক্ষোভের এলাকা এড়িয়ে চলা, জনবহুল স্থানে না যাওয়া এবং ফরাসি প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    ভারতীয় দূতাবাসের পরামর্শ, কী জানানো হয়েছে?

    বুধবার সন্ধ্যায় জারি করা পরামর্শে ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, ফ্রান্সের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় স্তরে কার্ফু জারির বিষয়টি বিবেচনা করে ভারতীয় নাগরিকদের সতর্ক থাকতে হবে। একই সঙ্গে যেকোনও ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে প্রয়োজনীয় সাবধানতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    দূতাবাসের তরফে আরও বলা হয়েছে, যেখানে বিক্ষোভ চলছে, সেই এলাকাগুলি থেকে দূরে থাকতে হবে। ফরাসি প্রশাসন এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষ যে নির্দেশিকা জারি করছে, তা যথাযথভাবে মেনে চলার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

    বিক্ষোভের কারণে ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে পরিবহণ পরিষেবা ব্যাহত হতে পারে। তাই যাতায়াতের পরিকল্পনা করার আগে সরকারি সূত্র থেকে সর্বশেষ পরিস্থিতি জেনে নেওয়ার কথা বলেছে দূতাবাস। বিশেষ করে পর্যটক, পড়ুয়া, কর্মসূত্রে ফ্রান্সে থাকা ভারতীয় এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের জন্য এই সতর্কবার্তা গুরুত্বপূর্ণ।

    জরুরি প্রয়োজনে ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগের নম্বর ও ইমেল:

    • ● ফোন: +33 6 48 34 00 63

    • ● ইমেল: cons.paris@mea.gov.in

    কেন অশান্ত ফ্রান্স? ক্ষোভের কেন্দ্রে জীবনযাত্রার ব্যয় ও শিক্ষা

    ফ্রান্সে সাম্প্রতিক অশান্তির পিছনে একাধিক সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণ রয়েছে। জীবনযাত্রার খরচ বৃদ্ধি, সরকারি পরিষেবার অবনতি এবং শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে। সেই অসন্তোষ থেকেই শুরু হওয়া বিক্ষোভের একাংশ হিংসাত্মক রূপ নিয়েছে বলে প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা যাচ্ছে।

    প্যারিস, মার্সেই ও লিয়ঁর মতো শহরে বিক্ষোভ চলাকালীন লুটপাট, অগ্নিসংযোগ এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের খবর সামনে এসেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসনকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে হয়েছে। কয়েকটি বড় শহরের নির্দিষ্ট এলাকায় এখনও কার্ফু জারি রয়েছে।

    এই অশান্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল ছাত্রছাত্রীদের ক্ষোভ। স্কুলগুলিতে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দের অভাব, পরিকাঠামোর দুর্বলতা এবং শিক্ষক ও অন্যান্য কর্মীর ঘাটতি নিয়ে অভিযোগ তুলেছে পড়ুয়াদের একাংশ। বিশেষত আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা এলাকাগুলির স্কুলে এই সমস্যাগুলি বেশি প্রকট বলে দাবি উঠেছে।

    পাশাপাশি, দীর্ঘক্ষণ স্কুলে থাকতে হওয়া নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে পড়ুয়াদের মধ্যে। অনেক ক্ষেত্রে সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত স্কুলের সময়সূচি ক্লান্তিকর হয়ে উঠছে বলে অভিযোগ। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পদ্ধতির জটিলতা এবং সেই ব্যবস্থার ন্যায্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ।

    অর্থাৎ, এই বিক্ষোভ শুধু আইনশৃঙ্খলার সমস্যা নয়। এর পিছনে রয়েছে জীবনযাত্রার ব্যয়, সরকারি পরিষেবার মান এবং শিক্ষার সুযোগ নিয়ে জমে থাকা অসন্তোষও।

    দু’রাত শান্তি, তবুও কাটেনি উদ্বেগ

    সপ্তাহান্তে অশান্তির পর পরপর দু’রাত ফ্রান্সে পরিস্থিতি তুলনামূলক শান্ত ছিল। তবে তাতে উদ্বেগ পুরোপুরি কাটেনি। একাধিক বড় শহরের কিছু অংশে কার্ফু এখনও বহাল রয়েছে। নতুন করে বিক্ষোভের ডাক দেওয়ায় পরিস্থিতি ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

    বৃহস্পতিবার ও শনিবার আরও বিক্ষোভের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ছাত্র সংগঠনগুলির পাশাপাশি ২০১৮ ও ২০১৯ সালে ফ্রান্সে বড়সড় আন্দোলনের জন্ম দেওয়া ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত গোষ্ঠীগুলির তরফেও বিক্ষোভের ডাক এসেছে।

    উল্লেখ্য, ২০১৮ ও ২০১৯ সালে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি ঘিরে ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলন ফ্রান্সজুড়ে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি করেছিল। সেই আন্দোলনের স্মৃতি এখনও ফরাসি প্রশাসনের কাছে উদ্বেগের কারণ। বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন করে বড় জমায়েত হলে অশান্তি আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

    বৃহস্পতিবারের বিক্ষোভে নিষেধাজ্ঞা, শনিবার বড় নিরাপত্তা অভিযান

    প্যারিসে বৃহস্পতিবারের জন্য পরিকল্পিত একটি বিক্ষোভ কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া হবে না বলে বুধবার জানিয়েছে শহরের পুলিশ। জননিরাপত্তার ঝুঁকি এবং সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    অন্যদিকে, ফ্রান্সের বিচারমন্ত্রী জেরাল্ড দারমানিন জানিয়েছেন, বিক্ষোভ চলাকালীন এবং তার পরে আটক হওয়া ২,৫০০ জনের মধ্যে ১৭৪ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আরও ৯১৭ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

    পরিস্থিতি সামাল দিতে বুধবার ইউনিয়ন প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু। শনিবার ব্যাপক নিরাপত্তা অভিযান চালানো হবে বলে তিনি জানিয়েছেন। বিক্ষোভের আড়ালে ছোট ছোট দুষ্কৃতী গোষ্ঠীর হিংসাত্মক কার্যকলাপ যাতে ফের বড় আকার না নেয়, তা নিশ্চিত করাই এই পদক্ষেপের লক্ষ্য।

    প্রশাসনের আশঙ্কা, অল্প কয়েকটি গোষ্ঠীর হিংসাত্মক কার্যকলাপও বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার কিছু দুর্বলতা সামনে এসেছে বলেও মনে করা হচ্ছে।

    ইতালিতেও ভারতীয়দের জন্য সতর্কবার্তা

    ফ্রান্সের আগে চলতি সপ্তাহেই ইতালিতে বসবাসকারী ভারতীয় নাগরিকদের জন্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত পরামর্শ জারি করেছিল সেখানকার ভারতীয় দূতাবাস। ইতালিতে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরকারি পরিষেবার মান নিয়ে বিক্ষোভের প্রেক্ষিতে ওই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়।

    সেখানেও ভারতীয় নাগরিকদের জনবহুল এলাকা এবং বিক্ষোভস্থল এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি, স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে পরিস্থিতির নিয়মিত খোঁজ রাখার কথা বলা হয়।

    ফ্রান্স ও ইতালি—দুই দেশেই বিক্ষোভের জেরে ভারতীয় দূতাবাসগুলির এই সতর্কবার্তা বিদেশে থাকা ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে গুরুত্ব বাড়িয়েছে।

    ফ্রান্সে যাওয়া ভারতীয়দের কী কী বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন?

    বর্তমান পরিস্থিতিতে ফ্রান্সে বসবাসকারী ভারতীয়দের পাশাপাশি পর্যটক ও পড়ুয়াদেরও কয়েকটি বিষয়ে বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন।

    • ● বিক্ষোভস্থল এড়িয়ে চলুন: মিছিল, জমায়েত বা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ চলছে, এমন এলাকায় যাবেন না।

    • ● কার্ফুর নিয়ম মানুন: স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশ অনুযায়ী চলাফেরা করুন।

    • ● যাতায়াতের খবর রাখুন: ট্রেন, বাস এবং অন্যান্য পরিবহণ পরিষেবার সম্ভাব্য পরিবর্তন সম্পর্কে সরকারি সূত্র থেকে জেনে নিন।

    • ● সরকারি নির্দেশিকা অনুসরণ করুন: স্থানীয় প্রশাসন ও ভারতীয় দূতাবাসের নতুন বিজ্ঞপ্তির দিকে নজর রাখুন।

    • ● জরুরি যোগাযোগের তথ্য সঙ্গে রাখুন: প্রয়োজন হলে দ্রুত ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

    সব মিলিয়ে, ফ্রান্সে আপাতত পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও নতুন করে বিক্ষোভের ডাক এবং কয়েকটি শহরে কার্ফু বহাল থাকায় উদ্বেগ রয়ে গিয়েছে। আগামী কয়েক দিনে প্রশাসন পরিস্থিতি কতটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে, তার উপরই নির্ভর করছে অশান্তি কত দ্রুত স্বাভাবিক হবে। ফ্রান্সে থাকা ভারতীয়দের ক্ষেত্রে তাই আপাতত সতর্কতা, সরকারি নির্দেশ মেনে চলা এবং পরিস্থিতির নিয়মিত খোঁজ রাখাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

  • Bharatiya Jan Sangh Foundation Day: শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্বপ্ন থেকে মোদির ভারত— জনসংঘের ৭৫ বছরের রাজনৈতিক যাত্রা

    Bharatiya Jan Sangh Foundation Day: শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্বপ্ন থেকে মোদির ভারত— জনসংঘের ৭৫ বছরের রাজনৈতিক যাত্রা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: স্বাধীনতার পরবর্তী ভারতের রাজনীতিতে কংগ্রেসের আধিপত্যের মধ্যেই একটি বিকল্প জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছিলেন ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। ১৯৫১ সালের ২১ অক্টোবর দিল্লিতে তাঁর হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত হয় ভারতীয় জনসংঘ। সেই সংগঠন পরবর্তী সময়ে জনতা পার্টির সঙ্গে মিশে যায় এবং ১৯৮০ সালে আত্মপ্রকাশ করে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। আজ নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে বিজেপি দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক শক্তি। জনসংঘের প্রতিষ্ঠাকালীন ‘নেশন ফার্স্ট’ বা ‘রাষ্ট্র আগে’ ভাবনা কীভাবে সময়ের সঙ্গে বদলে গিয়ে বর্তমান বিজেপির রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংগঠনিক কাঠামোর ভিত্তি তৈরি করেছে, সেই ইতিহাস তাৎপর্যপূর্ণ।

    শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও জনসংঘের প্রতিষ্ঠা

    ১৯৫০ সালে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে লিয়াকত-নেহরু চুক্তির বিরোধিতা করে কেন্দ্রীয় শিল্প ও সরবরাহমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। তাঁর লক্ষ্য ছিল, দেশের সাংস্কৃতিক পরিচয়, জাতীয় ঐক্য এবং ভারতীয় মূল্যবোধের ভিত্তিতে একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক বিকল্প তৈরি করা।

    রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (আরএসএস) সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও বৌদ্ধিক ব্যক্তিত্বের সহযোগিতায়, বিশেষত দীনদয়াল উপাধ্যায়ের মতো নেতাদের সঙ্গে নিয়ে, ১৯৫১ সালের ২১ অক্টোবর প্রতিষ্ঠা করেন ভারতীয় জনসংঘ। জম্মু-কাশ্মীরের পূর্ণ একীকরণের দাবিও সংগঠনটির রাজনৈতিক দর্শনের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হয়ে ওঠে। শ্যামাপ্রসাদের বক্তব্য ছিল, একটি দেশে দুটি সংবিধান, দুটি প্রধান এবং দুটি পতাকা থাকতে পারে না।

    ১৯৫৩ সালে কাশ্মীরে তাঁর মৃত্যুকে জনসংঘের রাজনৈতিক আন্দোলনে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে দেখা হয়। জাতীয় সংহতি, ভূখণ্ডের অখণ্ডতা এবং কাশ্মীরের সাংবিধানিক অবস্থান নিয়ে তাঁর অবস্থান পরবর্তী কয়েক দশক ধরে বিজেপির রাজনৈতিক কর্মসূচিতে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে থাকে।

    জনসংঘ থেকে বিজেপি: রাজনৈতিক বিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ

    ১৯৫১–১৯৬৭: জনসংঘের উত্থান

    প্রথম সাধারণ নির্বাচনে তিনটি আসন পায় জনসংঘ। পরে দীনদয়াল উপাধ্যায় ‘একাত্ম মানবদর্শন’-এর ধারণাকে দলের আদর্শগত ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরেন। ১৯৬৭ সালে একাধিক রাজ্যে কংগ্রেসবিরোধী জোট সরকারেও অংশ নেয় জনসংঘ।

    ১৯৭৫–১৯৭৭: জরুরি অবস্থার বিরুদ্ধে আন্দোলন

    ইন্দিরা গান্ধীর ঘোষিত জরুরি অবস্থার বিরোধিতায় জনসংঘ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। ১৯৭৭ সালে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে বৃহত্তর ঐক্য গড়তে জনতা পার্টিতে মিশে যায় জনসংঘ। অটলবিহারী বাজপেয়ী ও লালকৃষ্ণ আডবাণীর মতো নেতারা পরবর্তী সময়ে কেন্দ্রীয় সরকারে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পান।

    ১৯৮০–১৯৯৬: বিজেপির আত্মপ্রকাশ ও বিস্তার

    জনতা পার্টির অভ্যন্তরীণ মতবিরোধের পর প্রাক্তন জনসংঘ নেতারা ১৯৮০ সালে বিজেপি গঠন করেন। প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হন অটলবিহারী বাজপেয়ী। ১৯৮৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে মাত্র দুটি আসন পেলেও, আডবাণীর নেতৃত্বে রাম জন্মভূমি আন্দোলন ও সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদের প্রসারের সঙ্গে দলের রাজনৈতিক উত্থান ঘটে। ১৯৯৬ সালে বিজেপি লোকসভার বৃহত্তম একক দল হয়ে ওঠে।

    ১৯৯৮–২০০৪: এনডিএ সরকারের অধ্যায়

    বাজপেয়ীর নেতৃত্বে জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট (এনডিএ) সরকার দেখায়, কংগ্রেসের বাইরে থাকা একটি জোটও পূর্ণ পাঁচ বছরের মেয়াদ সম্পন্ন করতে পারে। পারমাণবিক সক্ষমতা, অর্থনৈতিক সংস্কার ও পরিকাঠামো উন্নয়ন এই সময়ের উল্লেখযোগ্য বিষয়।

    ২০১৪ থেকে বর্তমান: সংখ্যাগরিষ্ঠতা ও আদর্শগত কর্মসূচি

    নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ২০১৪ ও ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় বিজেপি। ২০১৯ সালে ৩৭০ অনুচ্ছেদ বিলোপ এবং ২০২৪ সালে রামমন্দিরের উদ্বোধন দলের দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হিসেবে তুলে ধরা হয়।

    অর্থনৈতিক দর্শন: স্বদেশি থেকে আত্মনির্ভর ভারত

    জনসংঘের অর্থনৈতিক দর্শন গড়ে উঠেছিল নেহরুর রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত পরিকল্পনা ও বৃহৎ সরকারি শিল্পকেন্দ্রিক মডেলের বিকল্প হিসেবে। ছোট ব্যবসা, কৃষি, গ্রামীণ শিল্প এবং স্থানীয় উৎপাদনের উপর জোর দিয়েছিল দলটি। অতিরিক্ত সরকারি নিয়ন্ত্রণ, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং বিদেশি সাহায্যের উপর নির্ভরতার বিরোধিতা করে স্বদেশি অর্থনীতির পক্ষে সওয়াল করা হয়েছিল।

    দীনদয়াল উপাধ্যায়ের ‘একাত্ম মানবদর্শন’-এর পাশাপাশি ‘অন্ত্যোদয়’—সমাজের প্রান্তিকতম মানুষের উন্নয়ন—এই রাজনৈতিক দর্শনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধারণা হয়ে ওঠে।

    তবে বর্তমান বিজেপির অর্থনৈতিক নীতি আগের জনসংঘের মডেলের হুবহু প্রতিরূপ নয়। বিশ্বায়ন, প্রযুক্তি ও বেসরকারি বিনিয়োগের বাস্তবতা মেনে নিয়ে সরকার একদিকে বাজারনির্ভর বৃদ্ধির উপর জোর দিয়েছে, অন্যদিকে মহাসড়ক, রেল, বন্দর এবং ডিজিটাল পরিকাঠামোয় সরকারি মূলধনী ব্যয় বাড়িয়েছে।

    এই পরিবর্তনের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য দিক হল:

    • ● আত্মনির্ভর ভারত: দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সরবরাহ-শৃঙ্খলে ভারতের অবস্থান শক্তিশালী করার লক্ষ্য।

    • ● প্রোডাকশন লিঙ্কড ইনসেনটিভ (PLI): নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে উৎপাদন ও বিনিয়োগ বাড়াতে আর্থিক প্রণোদনা।

    • ● ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার: আধার, ইউপিআই এবং ডিজিলকারের মতো ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিষেবা প্রদান ও আর্থিক লেনদেনের ডিজিটাল সম্প্রসারণ।

    • ● কর ও ব্যবসায়িক সংস্কার: জিএসটি, করব্যবস্থার পরিবর্তন এবং বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ।

    • ● অন্ত্যোদয় থেকে কল্যাণমূলক পরিষেবা: আবাসন, শৌচাগার, রান্নার গ্যাস, বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্যবিমা ও কৃষি সহায়তার মতো প্রকল্পের মাধ্যমে সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার উপর জোর।

    অর্থাৎ, জনসংঘের স্বদেশি ভাবনা বর্তমান বিজেপির কাছে কেবল আমদানি কমানো বা দেশীয় পণ্য ব্যবহারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বরং দেশীয় উৎপাদন, প্রযুক্তি, পরিকাঠামো এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বৃদ্ধির সঙ্গে তা যুক্ত হয়েছে।

    ‘লাভার্থী’ রাজনীতি ও বিজেপির সাংগঠনিক শক্তি

    ভারতের নির্বাচনী রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে জাতপাতভিত্তিক সমীকরণ, নির্দিষ্ট সামাজিক গোষ্ঠীর সমর্থন এবং আঞ্চলিক জোট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বিজেপি সেই পরিচিত সমীকরণের পাশাপাশি সরকারি প্রকল্পের সুবিধাপ্রাপকদের একটি বৃহত্তর ভোটার গোষ্ঠী হিসেবে সংগঠিত করার চেষ্টা করেছে। এই গোষ্ঠীকে রাজনৈতিক পরিভাষায় ‘লাভার্থী’ বলা হয়।

    প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, উজ্জ্বলা যোজনা, স্বচ্ছ ভারত অভিযান এবং পিএম-কিষান প্রকল্পের মতো কর্মসূচির সুবিধাপ্রাপকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে দলটি সামাজিক ভিত্তি বিস্তারের চেষ্টা করেছে। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি অর্থ পাঠানো বা ডিরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার (DBT), আধারভিত্তিক পরিষেবা এবং ডিজিটাল যোগাযোগ এই ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

    এর পাশাপাশি বুথস্তরে ‘পন্না প্রমুখ’ ব্যবস্থা—ভোটার তালিকার নির্দিষ্ট পৃষ্ঠার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মী—এবং ধারাবাহিক প্রচার বিজেপির সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে সাহায্য করেছে। নির্বাচনের সময়সীমার বাইরে গিয়েও ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখার এই কৌশল দলটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

    সরকারি প্রকল্পের সুবিধা সরাসরি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উপর জোর দিয়ে বিজেপি প্রশাসনিক পরিষেবা প্রদানকে রাজনৈতিক বার্তার অংশ করে তুলেছে। তবে প্রকল্পের বাস্তবায়ন, সুবিধার প্রকৃত বণ্টন এবং তার নির্বাচনী প্রভাবের মূল্যায়ন করতে হলে সরকারি তথ্য ও স্বাধীন পর্যালোচনাও গুরুত্বপূর্ণ।

    ৩৭০ অনুচ্ছেদ থেকে রামমন্দির: আদর্শগত প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন

    দীর্ঘদিন ধরে বিজেপির একাধিক আদর্শগত প্রতিশ্রুতি বিরোধীদের কাছে রাজনৈতিক স্লোগান হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার সরকার গঠনের পর দলটি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করে।

    • ● ৩৭০ অনুচ্ছেদ বিলোপ, ২০১৯: জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ সাংবিধানিক মর্যাদা প্রত্যাহার করা হয় এবং রাজ্যটিকে জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ—এই দুই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পুনর্গঠন করা হয়। বিজেপি একে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের পূর্ণ একীকরণের দাবির বাস্তবায়ন হিসেবে তুলে ধরে।

    • ● রামমন্দির, ২০২৪: অযোধ্যায় রামমন্দিরের উদ্বোধন দীর্ঘদিনের রাম জন্মভূমি আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিণতি। সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদের প্রশ্নে এটি বিজেপির রাজনৈতিক বক্তব্যে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

    • ● নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA): পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান থেকে আসা নির্দিষ্ট ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের, আইন নির্ধারিত শর্তপূরণকারী ব্যক্তিদের নাগরিকত্ব পাওয়ার পথ সহজ করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আইনটি নিয়ে রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক বিতর্কও রয়েছে।

    • ● পরিকাঠামো ও জাতীয় নিরাপত্তা: মহাসড়ক, বিমানবন্দর, রেল যোগাযোগ এবং ডিজিটাল পরিকাঠামোর উন্নয়নকে প্রশাসনিক কাজের পাশাপাশি নির্বাচনী প্রচারের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

    • ● বিদেশনীতি ও আন্তর্জাতিক অবস্থান: জি২০ সভাপতিত্ব, আন্তর্জাতিক কূটনীতি এবং জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে সরকারের পদক্ষেপকে ভারতের বিশ্বমঞ্চে প্রভাব বৃদ্ধির উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে বিজেপি।

    এই কর্মসূচিগুলি দলের মূল সমর্থকদের কাছে আদর্শগত ধারাবাহিকতার প্রতীক। অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলি এর বিভিন্ন দিক নিয়ে সাংবিধানিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রশ্ন তুলেছে। ফলে এই পদক্ষেপগুলির তাৎপর্য বুঝতে হলে রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও তার বাস্তব প্রভাব—দুই দিকই বিচার করা প্রয়োজন।

    বিজেপির সামনে পরবর্তী চ্যালেঞ্জ কী?

    উত্তর-পূর্ব ভারতের মতো অঞ্চলে সংগঠন বিস্তার, অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি (ওবিসি) এবং দলিত ভোটারদের মধ্যে সমর্থন বৃদ্ধির চেষ্টা বিজেপিকে জাতীয় স্তরে আরও বিস্তৃত রাজনৈতিক ভিত্তি গড়তে সাহায্য করেছে। একই সঙ্গে বিজেপির রাজনৈতিক প্রভাব মোকাবিলায় বিরোধী দলগুলিও বৃহত্তর জোট গঠনের পথে হেঁটেছে। ‘ইন্ডিয়া’ (I.N.D.I.A.) জোট তার অন্যতম উদাহরণ।

    তবে রাজনৈতিক সাফল্যকে দীর্ঘমেয়াদি শাসনগত সাফল্যে পরিণত করার জন্য কর্মসংস্থান, কৃষকের আয়, মূল্যবৃদ্ধি, বৈষম্য, ক্ষুদ্র ব্যবসার সমস্যা এবং সরকারি পরিষেবার গুণমানের মতো বিষয়গুলিও গুরুত্বপূর্ণ থাকবে। কল্যাণমূলক প্রকল্পের পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি তার কার্যকারিতা ও আর্থিক স্থায়িত্ব নিশ্চিত করাও বড় চ্যালেঞ্জ।

    শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্ম ১৯০১ সালের ৬ জুলাই। ২০২৬ সালে তাঁর ১২৫তম জন্মবার্ষিকী এবং জনসংঘের প্রতিষ্ঠার ৭৫ বছর পূর্তির প্রেক্ষাপট এই রাজনৈতিক যাত্রাকে নতুন করে পর্যালোচনার সুযোগ করে দিয়েছে।

    সব মিলিয়ে, জনসংঘ থেকে বিজেপির যাত্রা কেবল একটি রাজনৈতিক দলের উত্থানের ইতিহাস নয়। এটি জাতীয়তাবাদী আদর্শ, অর্থনৈতিক চিন্তা, সাংগঠনিক কৌশল এবং কল্যাণমূলক শাসনের পরিবর্তিত রূপেরও ইতিহাস। ১৯৫১ সালে যে ‘নেশন ফার্স্ট’ ভাবনাকে সামনে রেখে যাত্রা শুরু হয়েছিল, আজকের বিজেপির কাছে তার পরবর্তী পরীক্ষা হল—জাতীয় উন্নয়নের লক্ষ্যকে কর্মসংস্থান, সমৃদ্ধি, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি এবং নাগরিক পরিষেবার বাস্তব ফলাফলে কতটা রূপান্তরিত করা যায়।

  • Tiger Shroff Firing Case: টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলি, অস্ত্র আসে ‘ডেড লেটার বক্সে’! তদন্তে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের যোগ

    Tiger Shroff Firing Case: টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলি, অস্ত্র আসে ‘ডেড লেটার বক্সে’! তদন্তে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের যোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনায় তদন্তে উঠে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। মুম্বই পুলিশের দাবি, এই হামলার নেপথ্যে রয়েছে পরিকল্পিত অস্ত্র সরবরাহের নেটওয়ার্ক। অমৃতসর থেকে ‘ডেড লেটার বক্স’ পদ্ধতিতে আগ্নেয়াস্ত্র সংগ্রহ করে মুম্বইয়ে পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে। তদন্তে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সঙ্গে যুক্ত বলে সন্দেহভাজন অনিল পণ্ডিতের নামও উঠে এসেছে।

    এই ঘটনায় রাজস্থানের কোটা থেকে ধৃত তিন অভিযুক্তকে বুধবার, ২১ অক্টোবর সকালে মুম্বইয়ে নিয়ে এসেছে পুলিশ। অন্যদিকে, দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল এই মামলায় আরও চারজনকে গ্রেফতার করেছে। তাঁদের মধ্যে দু’জন মহিলা রয়েছেন।

    কী এই ‘ডেড লেটার বক্স’ পদ্ধতি?

    পুলিশ সূত্রে খবর, অস্ত্র পাচারের ক্ষেত্রে ‘ডেড লেটার বক্স’ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছিল। এই পদ্ধতিতে আগে থেকেই নির্দিষ্ট কোনও জায়গায় অস্ত্র রেখে দেওয়া হয়। যাঁদের অস্ত্র সংগ্রহ করার দায়িত্ব দেওয়া হয়, তাঁদের সেই জায়গার ঠিকানা জানিয়ে দেওয়া হয়। ফলে অস্ত্র কোথা থেকে এসেছে, তা সরাসরি জানা কঠিন হয়ে পড়ে।

    তদন্তকারীদের দাবি, অনিল পণ্ডিতের নির্দেশে কুণাল ও সুমিত অমৃতসরে গিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র সংগ্রহ করেন। অস্ত্র কোথায় রাখা হয়েছিল, সেই তথ্য তাঁদের আগেই দেওয়া হয়েছিল। তবে অস্ত্রগুলি ঠিক কে সেখানে রেখে গিয়েছিল, তা কুণাল ও সুমিত জানেন না বলে দাবি।

    এই কাজের জন্য কুণাল ও সুমিতকে ৭০-৮০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছিল বলে পুলিশ সূত্রের খবর। ওই টাকা থেকে ১০-১২ হাজার টাকা দেওয়া হয় রাধা ও বাবিতাকে। অভিযোগ, এই দুই মহিলা অস্ত্রগুলি মুম্বইয়ে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব পালন করেন।

    কীভাবে অস্ত্র পৌঁছেছিল মুম্বইয়ে?

    তদন্তে জানা গিয়েছে, কুণাল চলতি বছরের জুলাই মাসে সোনিপতের জেল থেকে মুক্তি পান। এরপর এক বন্ধুর মাধ্যমে তাঁর সঙ্গে অনিল পণ্ডিতের পরিচয় হয়। পরে একটি এনক্রিপ্টেড অ্যাপের মাধ্যমে তাঁদের মধ্যে যোগাযোগ শুরু হয় বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

    প্রায় দু’সপ্তাহ আগে কুণালকে অমৃতসর থেকে অস্ত্র সংগ্রহ করে মুম্বইয়ে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। সেই কাজে নিজের বান্ধবী রাধাকে ব্যবহার করেন কুণাল। রাধার সঙ্গে বাবিতাও মুম্বইয়ে যান।

    পুলিশের দাবি, রাধা ও বাবিতা সোনিপতের একটি কারখানায় কাজ করতেন। তাঁদের উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা বলেও জানা গিয়েছে। অভিযোগ, তাঁরা মুম্বইয়ের দাদরে গিয়ে তিনজনের হাতে অস্ত্রের একটি বড় চালান তুলে দেন। এই অস্ত্র সরবরাহের সঙ্গে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের নেটওয়ার্কের যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

    কোটা থেকে মুম্বইয়ে তিন অভিযুক্ত

    টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলি চালানোর ঘটনায় ধৃত তিন অভিযুক্ত হল রেহান ওরফে সুক্কা, হরিয়ানার বাসিন্দা ফুল সিং এবং বিহারের বেগুসরাইয়ের বাসিন্দা ঋত্বিক কুর্মি ওরফে রোশন, যিনি মুম্বইয়ে থাকতেন।

    কোটা পুলিশ তাঁদের মুম্বই পুলিশের হাতে তুলে দেয়। এরপর সংশ্লিষ্ট আদালতে হাজির করানো হলে অভিযুক্তদের মুম্বইয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য ট্রানজিট রিমান্ড মঞ্জুর হয়। বুধবার সকালে সড়কপথে মুম্বইয়ে পৌঁছনোর পর তাঁদের জিটি হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে বাধ্যতামূলক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো হয়। পরে মুম্বই ক্রাইম ব্রাঞ্চের অ্যান্টি-এক্সটরশন সেলের দফতরে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

    শুধু টাইগার নয়, টার্গেটে ছিলেন সলমন-আমির-অক্ষয়ও!

    প্রায় ১৬ ঘণ্টার সড়কযাত্রার সময় জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তরা কয়েকজন বলিউড অভিনেতাকে নিশানা করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। সেই তালিকায় সলমন খান, অক্ষয় কুমার ও আমির খানের নাম রয়েছে বলে খবর। তবে এই দাবির স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    পুলিশ সূত্রের দাবি, সলমন খানের কড়া নিরাপত্তার কারণে তাঁকে নিশানা করা কঠিন বলে মনে হয়েছিল অভিযুক্তদের। এরপর তুলনামূলক কম নিরাপত্তা রয়েছে বলে মনে করে টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করার পরিকল্পনা করা হয়। জুহুতে একটি ফুটবল ম্যাচ খেলতে টাইগার আসবেন বলে কেউ তাঁদের জানিয়েছিল বলে অভিযোগ।

    এমনকী, গত ১১ অক্টোবর অভিযুক্তরা ওই ফুটবল মাঠে গিয়েছিল বলেও তদন্তে উঠে এসেছে। তবে সেদিন অভিনেতা সেখানে উপস্থিত ছিলেন না বলে জানা গিয়েছে।

    জুহুতে কী ঘটেছিল?

    রবিবার সন্ধ্যায় মুম্বইয়ের জুহু এলাকায় টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে অন্তত দু’জন বাইক আরোহী গুলি চালায় বলে অভিযোগ। হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ছেড়ে পালিয়ে যায়। পুলিশ সূত্রে খবর, গাড়িটি লক্ষ্য করে পাঁচ থেকে ছ’টি গুলি চালানো হয়েছিল। অভিনেতা বড়সড় আঘাত এড়ালেও তাঁর গাড়ির চালক এবং এক পথচারী আহত হন।

    ঘটনার পর অন্ধেরিতে একটি পরিত্যক্ত মোটরবাইক উদ্ধার করে পুলিশ। সেটি হামলায় ব্যবহৃত হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, হামলার পর অভিযুক্তরা প্রথমে সুরাটে পালিয়ে যায়। সেখান থেকে জয়পুরগামী ট্রেনে ওঠে। পরে বাসে দিল্লি হয়ে নেপালে পালানোর পরিকল্পনা ছিল বলে অভিযোগ।

    এই ঘটনায় খুনের চেষ্টা এবং অস্ত্র আইনের বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের করেছে মুম্বই পুলিশ।

    দিল্লি থেকে আরও চারজন গ্রেফতার

    মঙ্গলবার দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল এই ঘটনায় কুণাল (২১), সুমিত (১৯), রাধা (২৩) এবং বাবিতা (২৩) নামে চারজনকে গ্রেফতার করে। তাঁদের দিল্লি ও হরিয়ানার বিভিন্ন জায়গা থেকে আটক করা হয় বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

    অভিযোগ, অনিল পণ্ডিতের নির্দেশেই কুণাল ও সুমিত অস্ত্র সংগ্রহ করেছিলেন এবং রাধা ও বাবিতা তা মুম্বইয়ে পৌঁছে দিয়েছিলেন। অনিল পণ্ডিত বিদেশে বসে অপরাধচক্র পরিচালনা করেন বলে পুলিশের সন্দেহ। তবে এই অভিযোগগুলির চূড়ান্ত সত্যতা তদন্ত ও আদালতের প্রক্রিয়াতেই নির্ধারিত হবে।

    চারজনকে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (BNSS) ৩৫(১)(বি) ধারার অধীনে আদালতে পেশ করা হয় বলে সূত্রের খবর। পরে মহারাষ্ট্র পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), মুম্বই, তাঁদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ এবং আনুষ্ঠানিক গ্রেফতারের অনুমতি চায়। আদালত সেই অনুমতি দেয়। এরপর মুম্বই পুলিশ তাঁদের তিন দিনের ট্রানজিট রিমান্ড পায়।

    তদন্তে কোন দিকগুলি গুরুত্বপূর্ণ?

    এই ঘটনায় তদন্তকারীদের মূল নজর তিনটি বিষয়ে—গুলি চালানোর সরাসরি নির্দেশদাতা কে, অস্ত্র সরবরাহের গোটা নেটওয়ার্কে আর কারা যুক্ত এবং হামলার পিছনে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের প্রকৃত ভূমিকা কী।

    রেহান ও অনিল পণ্ডিতের মধ্যে যোগাযোগ ছিল বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। অনিল পণ্ডিতকে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের এক সহযোগী হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছে। অন্যদিকে, সমাজমাধ্যমে একটি অযাচাইকৃত পোস্টে ওই গ্যাং হামলার দায় স্বীকার করেছে বলে খবর। তবে পোস্টটির সত্যতা এবং হামলার সঙ্গে গ্যাংয়ের প্রত্যক্ষ যোগ এখনও তদন্তসাপেক্ষ।

    টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলি চালানোর ঘটনা যে শুধু একটি বিচ্ছিন্ন হামলা নয়, বরং এর পিছনে অস্ত্র সংগ্রহ, পরিবহণ এবং সম্ভাব্য নির্দেশদাতাদের নিয়ে একটি সংগঠিত নেটওয়ার্ক কাজ করেছে কি না, এখন সেই দিকেই নজর মুম্বই ও দিল্লি পুলিশের।

  • Calcutta High Court: কলকাতা হাইকোর্টের ছাদে তালাবন্ধ ঘরে মিলল ইসলামিক বই, চাবি আইনজীবীর কাছে! কী নির্দেশ আদালতের?

    Calcutta High Court: কলকাতা হাইকোর্টের ছাদে তালাবন্ধ ঘরে মিলল ইসলামিক বই, চাবি আইনজীবীর কাছে! কী নির্দেশ আদালতের?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতা হাইকোর্টের ছাদে একটি তালাবন্ধ ঘরের ভিতর থেকে ইসলাম ধর্ম সংক্রান্ত বইপত্র, পড়ার সামগ্রী, গদি, চেয়ার-সহ একাধিক জিনিসপত্র উদ্ধারকে কেন্দ্র করে প্রশ্ন উঠল আদালতেই। আরও তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, ঘরটির তালার চাবি ছিল এজাজ হোসেন নামের এক আইনজীবী কাছে। হাইকোর্টের প্রশাসনের পরিবর্তে একজন আইনজীবীর হাতে ওই ঘরের চাবি কীভাবে এল, তা জানতে চেয়েছে আদালত। পাশাপাশি, আদালত চত্বরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন ঘরের চাবি সংরক্ষণের পদ্ধতি পর্যালোচনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সিকিউরিটি কমিটিকে।

    তবে পরিদর্শন রিপোর্টে ছাদের ওই ঘরকে মসজিদ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি। সেখানে নিয়মিত নামাজ পড়া হত কি না, সে বিষয়েও নিশ্চিত কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে আপাতত আদালতের নজর ঘরটির ব্যবহার, সেখানে থাকা সামগ্রী এবং চাবির নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিয়ে।

    ছাদে নামাজ পড়া হত কি না, জানতে চেয়েছিল আদালত

    সঞ্জয় ঘোষের দায়ের করা একটি জনস্বার্থ মামলার শুনানি চলাকালীন বিষয়টি ওঠে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি. ঘুগে এবং বিচারপতি ওম নারায়ণ রাইয়ের ডিভিশন বেঞ্চে।

    গত ৩০ সেপ্টেম্বরের নির্দেশে হাইকোর্টের রেজিস্ট্রিকে আদালত ভবনের ছাদ পরিদর্শন করে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছিল। ছাদে ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা নামাজ পড়তেন কি না এবং পড়লে দিনের বেলায় কত ঘনঘন তা হত, তা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছিল আদালত।

    সেই নির্দেশ মেনে পরিদর্শন চালায় রেজিস্ট্রি। রঙিন ছবিসহ রিপোর্ট জমা পড়ার পর জানা যায়, ছাদে একটি ছোট ঘর রয়েছে। সেখানে ইসলাম ধর্ম সংক্রান্ত বইপত্র ও অন্যান্য সামগ্রী রাখা ছিল।

    ঘরে কী কী পাওয়া গেল?

    পরিদর্শন রিপোর্ট অনুযায়ী, ঘরটিতে কাঠের তৈরি দু’টি দরজা ছিল। দু’টিই তালাবন্ধ অবস্থায় ছিল। চাবির খোঁজ করতে গিয়ে আধিকারিকরা জানতে পারেন, সেই চাবি রয়েছে আইনজীবী এজাজ হোসেনের কাছে। তিনি হাইকোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের ১২ নম্বর ঘর ব্যবহার করেন। পরে এজাজ হোসেন আরও তিন আইনজীবীকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে পৌঁছন। এরপর তালা খুলে ঘরটি পরিদর্শন করা হয়।

    ঘরের ভিতর থেকে পাওয়া সামগ্রীর মধ্যে ছিল—

    • ● ইসলাম ধর্ম সংক্রান্ত বই ও ধর্মীয় পাঠ্যসামগ্রী

    • ● গদি ও প্লাস্টিকের চেয়ার

    • ● স্ট্যান্ড ফ্যান ও একটি আলমারি

    • ● বালতি, গামলা ও জলের পাত্র

    • ● চটি রাখার একটি ঝুড়ি এবং অন্যান্য ব্যক্তিগত সামগ্রী

    এই সামগ্রীগুলি ঘরটির ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তুললেও, পরিদর্শন রিপোর্টে সেখানে মসজিদ থাকার কথা নিশ্চিত করা হয়নি। একইভাবে, নিয়মিত নামাজ পড়া হত কি না, তা-ও প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

    আইনজীবীর কাছে চাবি কেন? প্রশ্ন আদালতের

    ঘটনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, হাইকোর্টের ছাদের একটি তালাবন্ধ ঘরের চাবি প্রশাসনের পরিবর্তে একজন আইনজীবীর কাছে থাকা। বিষয়টি নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছে ডিভিশন বেঞ্চ।

    আদালতের পর্যবেক্ষণ, ঘর, দরজা, এজলাস, সিঁড়ি এবং আদালত ভবনের অন্যান্য অংশের চাবি হাইকোর্ট প্রশাসনের হেফাজতে থাকা উচিত। আদালত চত্বর, ভবন ও টাওয়ারের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও প্রশাসনের তত্ত্বাবধান ও নির্দেশে পরিচালিত হয়।

    এই প্রেক্ষিতে এজাজ হোসেনের কাছে দু’টি তালার চাবি কীভাবে এল, তা ব্যাখ্যা করতে বলা হয়েছে। মামলাকারীকে আদালতের নির্দেশের একটি কপি ওই আইনজীবীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

    নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখবে সিকিউরিটি কমিটি

    শুধু ওই ঘরের চাবি নয়, আদালত ভবনের সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাও পর্যালোচনার আওতায় আনতে চায় হাইকোর্ট। সেই কারণে রেজিস্ট্রিকে সাম্প্রতিক নির্দেশ এবং ৩০ সেপ্টেম্বরের আগের নির্দেশের কপি হাইকোর্টের সিকিউরিটি কমিটির কাছে পাঠাতে বলা হয়েছে।

    কর্মরত হাইকোর্টের বিচারপতিদের নিয়ে গঠিত ওই কমিটিকে আদালত চত্বরের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে পরামর্শ দিতে বলা হয়েছে। বিশেষ করে, ছাদের ওই ঘর এবং ভবনের অন্যান্য অংশের চাবি কার হেফাজতে থাকবে, তা খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে।

    তদন্তের মূল প্রশ্ন কী?

    এই ঘটনায় আপাতত তিনটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—ছাদের ঘরটি কী কাজে ব্যবহার করা হত, সেখানে পাওয়া ধর্মীয় বই ও অন্যান্য সামগ্রী কীসের জন্য রাখা হয়েছিল এবং ঘরটির চাবি একজন আইনজীবীর কাছে থাকার কারণ কী।

    উল্লেখযোগ্য, ঘরে ইসলাম ধর্ম সংক্রান্ত বইপত্র পাওয়া যাওয়াই সেখানে মসজিদ ছিল বা নিয়মিত নামাজ হত—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর জন্য যথেষ্ট নয়। আদালতের নির্দেশে হওয়া পরিদর্শন থেকে এখনও সেই দাবির নিশ্চিত প্রমাণ মেলেনি।

    এখন নজর আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। আইনজীবীর ব্যাখ্যা এবং সিকিউরিটি কমিটির পর্যালোচনার ভিত্তিতে ঘরটির ব্যবহার ও চাবি সংরক্ষণের ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে আরও স্পষ্ট তথ্য সামনে আসতে পারে।

  • Census 2026: জনগণনার কাজে বেসরকারি স্কুলের শিক্ষক, ব্যাঙ্ককর্মীরাও! নিয়মে বড় বদল কেন্দ্রের

    Census 2026: জনগণনার কাজে বেসরকারি স্কুলের শিক্ষক, ব্যাঙ্ককর্মীরাও! নিয়মে বড় বদল কেন্দ্রের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের চলতি জনগণনা প্রক্রিয়ায় এনুমারেটর বা তথ্য সংগ্রহকারী হিসেবে নিয়োগের পরিধি বাড়াল কেন্দ্রীয় সরকার। এবার শুধু সরকারি স্কুলের শিক্ষক বা স্থানীয় প্রশাসনের কর্মীরাই নন, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, ব্যাঙ্ককর্মী, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের করণিক এবং অন্যান্য উপযুক্ত ব্যক্তিকেও জনগণনার কাজে নিয়োগ করা যাবে। শুক্রবার বিজ্ঞপ্তি জারি করে জনগণনা সংক্রান্ত নিয়মে এই সংশোধনের কথা জানিয়েছে কেন্দ্র। এর ফলে জনগণনার মতো বৃহৎ প্রশাসনিক কর্মসূচিতে কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে আরও বেশি বিকল্প তৈরি হল।

    জনগণনার নিয়মে কী বদল আনল কেন্দ্র?

    রেজিস্ট্রার জেনারেল অফ ইন্ডিয়া (RGI) মৃত্যুঞ্জয় কুমার নারায়ণের জারি করা গেজেট বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, Census Rules, 1990 সংশোধন করা হয়েছে। সংশোধিত নিয়মে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের প্রশাসনকে জনগণনার কাজে বিভিন্ন শ্রেণির কর্মী নিয়োগের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

    নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এনুমারেটর হিসেবে নিয়োগ করা যেতে পারে—

    • ● সরকারি, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ পরিচালিত, সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত এবং বেসরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত বা সাহায্যহীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক।

    • ● কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের কর্মী, স্থানীয় প্রশাসনের কর্মী এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের করণিক ও আধিকারিক।

    • ● রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা, ব্যাঙ্ক, সংবিধিবদ্ধ সংস্থা, কোম্পানি, প্রতিষ্ঠান, সমিতি ও ট্রাস্টের কর্মী।

    • ● রাজ্য সরকার বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের প্রশাসনের বিবেচনায় উপযুক্ত বলে গণ্য যে কোনও ব্যক্তি।

    আগে সাধারণত সরকারি স্কুলের শিক্ষক এবং স্থানীয় প্রশাসনের কর্মীদের উপরই জনগণনার দায়িত্ব দেওয়ার প্রবণতা ছিল। সংশোধিত নিয়মে সেই পরিধি আরও বিস্তৃত করা হল।

    বেসরকারি স্কুলের শিক্ষকদের নিয়োগ ঘিরে বিতর্ক

    কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের আগে হরিয়ানায় বেসরকারি স্কুলের শিক্ষকদের জনগণনার কাজে নিয়োগ নিয়ে আইনি বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। হরিয়ানা প্রোগ্রেসিভ স্কুলস কনফারেন্স (Haryana Progressive Schools Conference) পঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টে মামলা করে। তাদের আপত্তি ছিল, সরকারি সাহায্য না-পাওয়া বেসরকারি স্কুলের শিক্ষকদের জনগণনার কাজে বাধ্যতামূলকভাবে নিয়োগ করার জন্য প্রশাসনিক নির্দেশ জারি করা যায় কি না।

    সংগঠনটির যুক্তি ছিল, Census Act, 1948-এর ৪এ ধারা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের আধিকারিক ও কর্মীদের নিয়ে প্রযোজ্য। তাদের দাবি, সরকারি সাহায্যহীন বেসরকারি স্কুল সেই শ্রেণির মধ্যে পড়ে না। ফলে প্রশাসনিক নির্দেশের মাধ্যমে আইনের পরিধি বাড়ানো যায় না।

    গত ৮ অক্টোবর বিচারপতি হরপ্রীত সিং ব্রার হরিয়ানা সরকারের এমন দুটি নির্দেশের কার্যকারিতায় স্থগিতাদেশ দেন, যেখানে জনগণনার কাজে নিয়োগের জন্য শিক্ষকদের সম্পর্কে তথ্য চাওয়া হয়েছিল। মামলাটি আগামী বছরের ২৯ এপ্রিল শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত রয়েছে।

    এই পরিস্থিতির মধ্যেই কেন্দ্রের সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি সামনে এল। তবে সংশোধিত নিয়মের ফলে সংশ্লিষ্ট মামলার আইনি প্রশ্নগুলির নিষ্পত্তি কীভাবে হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

    কবে শুরু হবে জনগণনার পরবর্তী পর্যায়?

    স্বাধীনতার পর দেশের অষ্টম জনগণনা দু’টি পর্যায়ে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

    প্রথম পর্যায়ে বাড়ির তালিকাভুক্তি ও আবাসন সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের কাজ চলতি বছরের এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে হয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে হবে জনসংখ্যা গণনা বা Population Enumeration। এই পর্যায়ে জাতিভিত্তিক জনগণনার তথ্যও সংগ্রহ করা হবে।

    গোয়া, উত্তরপ্রদেশ, পঞ্জাব এবং উত্তরাখণ্ডের তুষারাবৃত অঞ্চল বাদে অন্যান্য অংশে ১ ডিসেম্বর থেকে আগামী ৪ জানুয়ারির মধ্যে জনসংখ্যা গণনার কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলির বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    দেশের বাকি অংশে আগামী ফেব্রুয়ারি থেকে জনসংখ্যা গণনার কাজ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এই সময়সূচি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক পরিকল্পনার উপর নির্ভরশীল।

    কোন কোন তথ্য সংগ্রহ করা হবে?

    জনসংখ্যা গণনার সময় প্রতিটি পরিবারের কাছ থেকে বিভিন্ন জনতাত্ত্বিক, সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও আর্থসামাজিক তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এর মধ্যে থাকবে অভিবাসন এবং প্রজনন সংক্রান্ত তথ্যও।

    এই তথ্য দেশের জনসংখ্যার গঠন, মানুষের স্থানান্তর, পরিবার ও সামাজিক বৈশিষ্ট্য এবং আর্থসামাজিক পরিস্থিতি বুঝতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ভবিষ্যতের সরকারি পরিকল্পনা, পরিষেবা প্রদান এবং উন্নয়নমূলক নীতি নির্ধারণেও জনগণনার তথ্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

    মণিপুর, লাদাখ ও তুষারাবৃত অঞ্চলের পরিস্থিতি

    মণিপুরে ২০২৩ সালের মে মাস থেকে চলা জাতিগত হিংসার পরিস্থিতির কারণে সেখানে বাড়ির তালিকাভুক্তির কাজ পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। গত মাসে রেজিস্ট্রার জেনারেল অফ ইন্ডিয়ার বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

    অন্যদিকে, লাদাখ এবং জম্মু-কাশ্মীর, হিমাচল প্রদেশ ও উত্তরাখণ্ডের তুষারাবৃত অঞ্চলগুলিতে বাড়ির তালিকাভুক্তির কাজ ১ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

    কোভিডের কারণে পিছিয়েছিল জনগণনা

    প্রতি দশ বছর অন্তর জনগণনা পরিচালনার নিয়ম থাকলেও ২০২১ সালে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। কোভিড অতিমারির কারণে তা স্থগিত হয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে এই বৃহৎ কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য কেন্দ্র ১১,৭১৮ কোটি টাকা অনুমোদন করেছে।

    প্রশাসনিক গুরুত্ব কোথায়?

    জনগণনার মতো বিশাল কর্মসূচিতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিপুল সংখ্যক পরিবারের কাছে পৌঁছনো এবং নির্ভুল তথ্য সংগ্রহ করা বড় চ্যালেঞ্জ। এনুমারেটর নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারি কর্মীদের পাশাপাশি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যাঙ্ক এবং অন্যান্য সংস্থার কর্মীদের অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহায়ক হতে পারে।

    তবে নিয়োগের পরিধি বাড়লেই যে মাঠপর্যায়ে কাজের সমস্ত সমস্যা মিটবে, তা নিশ্চিত নয়। সংশ্লিষ্ট কর্মীদের প্রশিক্ষণ, দায়িত্বের স্পষ্ট বণ্টন, তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা এবং নিয়োগ সংক্রান্ত আইনি প্রশ্নের সমাধানও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষত, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালনের শর্ত ও প্রশাসনিক নির্দেশের বৈধতা কীভাবে কার্যকর হয়, সেদিকেও নজর থাকবে।

    সব মিলিয়ে, জনগণনার কর্মী নিয়োগে কেন্দ্রের এই সংশোধন প্রশাসনিক প্রস্তুতির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এখন নজর থাকবে, সংশোধিত নিয়মের ভিত্তিতে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলি কীভাবে কর্মী নিয়োগ করে এবং নির্ধারিত সময়ে জনসংখ্যা গণনার কাজ কতটা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়।

LinkedIn
Share