Tag: মাধ্যম

  • WB Pollution Control Board: মাইক নয়, কম ক্ষমতার সাউন্ড বক্স! ধর্মীয় স্থানে মাইকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে কড়া রাজ্য, জেলায় জেলায় প্রশাসনিক তৎপরতা

    WB Pollution Control Board: মাইক নয়, কম ক্ষমতার সাউন্ড বক্স! ধর্মীয় স্থানে মাইকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে কড়া রাজ্য, জেলায় জেলায় প্রশাসনিক তৎপরতা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শব্দদূষণ (Noise Pollution) রুখতে এবার কড়া অবস্থান নিল পশ্চিমবঙ্গের নবগঠিত বিজেপি সরকার (WB Govt)। মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে এবার মাঠে নেমেছে পুলিশ প্রশাসন। রাজ্যজুড়ে সমস্ত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে শব্দদূষণ (Noise Pollution) সংক্রান্ত বিধি (Loudspeaker Rules) কঠোরভাবে কার্যকর করতে শুরু হয়েছে অভিযান। ইতিমধ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় মসজিদ কর্তৃপক্ষকে ছাদের লাউডস্পিকার সরিয়ে কম ক্ষমতার সাউন্ড বক্স ব্যবহারের অনুরোধ জানানো হয়েছে। প্রশাসনের এই উদ্যোগের পর ইতিমধ্যেই একাধিক জায়গায় মসজিদ থেকে উচ্চ ক্ষমতার মাইক খুলে ফেলার কাজ শুরু হয়েছে। প্রশাসনের বক্তব্য, এতে ধর্মীয় কার্যক্রমে কোনও বাধা তৈরি হবে না, একই সঙ্গে শব্দদূষণও (Noise Pollution) নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।

    কী নির্দেশ দিয়েছে সরকার?

    রাজ্য সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গ দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের (WB Pollution Control Board) নির্ধারিত শব্দসীমা কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। সেই নিয়ম অনুযায়ী- আবাসিক এলাকায় দিনের বেলা সর্বোচ্চ ৫৫ ডেসিবেল পর্যন্ত শব্দ করা যাবে। রাতের বেলা শব্দের মাত্রা ৪৫ ডেসিবেলের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। এই নির্দেশ বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন জেলার পুলিশ প্রশাসন মসজিদ কমিটিগুলির সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছে। সেখানে ছাদের উচ্চ ক্ষমতার লাউডস্পিকারের পরিবর্তে কম মাত্রার সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    বিরোধীদের অভিযোগ, সরকারের জবাব

    সরকারের এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে সংখ্যালঘু সংগঠন এবং বিরোধী রাজনৈতিক মহলের একাংশ প্রশ্ন তুলেছে। ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্ট (ISF) এবং কয়েকটি সংখ্যালঘু সংগঠনের অভিযোগ, শুধুমাত্র মসজিদগুলিকেই লক্ষ্য করে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তবে সরকারের বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। প্রশাসনের দাবি, এই নির্দেশ কোনও নির্দিষ্ট ধর্ম বা সম্প্রদায়ের জন্য নয়। রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের (WB Pollution Control Board)  নিয়ম অনুযায়ী মন্দির, মসজিদ-সহ সমস্ত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকেই একই আইন মেনে চলতে হবে।

    কী বললেন মন্ত্রীরা?

    পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul) জানিয়েছেন, মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাজ্যের প্রতিটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে শব্দবিধি মেনে চলতেই হবে। আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কোনও ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। অন্যদিকে শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় (Tapash Roy)-ও সমস্ত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে সরকারের নির্দেশিকা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, “আইন সবার জন্য সমান এবং ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে কোনও ভেদাভেদ করা হবে না।”

    মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা

    মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) আগেই জানিয়েছেন, “ধর্মীয় প্রার্থনা নিজ নিজ উপাসনালয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত। রাস্তা দখল করে বা সাধারণ মানুষের অসুবিধা তৈরি করে কোনও ধর্মীয় কর্মসূচি গ্রহণ করা হলে প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা নেবে।”

    শমীক ভট্টাচার্যের মন্তব্য

    এই প্রসঙ্গে রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya) বলেন, “মসজিদে নামাজ পড়ুন, মন্দিরে মন্ত্রপাঠ করুন। মাইক বাজানোর দরকারটাই বা কী?  ধর্ম করুন বাড়িতে। কোনও আপত্তি নেই।” শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে এই অভিযান ভবিষ্যতেও চলবে এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নির্বিশেষে রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের নিয়ম কঠোরভাবে কার্যকর করা হবে। রাজ্য সরকারের দাবি, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য কোনও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে হস্তক্ষেপ করা নয়, বরং আদালতের নির্দেশ ও দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের বিধি মেনে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ করা। প্রশাসনের বক্তব্য, আইন সবার জন্য সমান- মন্দির, মসজিদ, গির্জা বা অন্য যে কোনও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, প্রত্যেককেই একই নিয়ম মেনে চলতে হবে। সরকারের আশা, এই পদক্ষেপের ফলে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের শব্দদূষণজনিত ভোগান্তি কমবে, তেমনই পরিবেশ রক্ষায়ও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

  • Caste Certificate Reverification: ভুয়ো কাস্ট সার্টিফিকেটে বড় পদক্ষেপ! প্রশাসনের নজর ৪৫ হাজারের বেশি শংসাপত্রে

    Caste Certificate Reverification: ভুয়ো কাস্ট সার্টিফিকেটে বড় পদক্ষেপ! প্রশাসনের নজর ৪৫ হাজারের বেশি শংসাপত্রে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে ভুয়ো জাতিগত শংসাপত্রের বিরুদ্ধে বড় অভিযান শুরু হয়েছে। গত ১৫ বছরে ইস্যু হওয়া কাস্ট সার্টিফিকেট খতিয়ে দেখে একের পর এক অসঙ্গতি সামনে আসছে বলে নবান্ন (Nabanna) সূত্রে খবর। এবার তৃণমূল আমলে গত প্রায় ১৫ বছরে ইস্যু হওয়া জাতিগত শংসাপত্র (কাস্ট সার্টিফিকেট) নিয়ে বড় পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) নির্দেশে শুরু হয়েছে ব্যাপক পুনর্যাচাই (Caste Certificate Reverification)। ইতিমধ্যেই বহু শংসাপত্র বাতিল হয়েছে, আর সন্দেহের তালিকায় রয়েছে ৪৫ হাজারেরও বেশি কাস্ট সার্টিফিকেট। শুনানির পর প্রমাণ দিতে না পারলে সেগুলিও বাতিল হতে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।

    ১ লক্ষের বেশি কাস্ট সার্টিফিকেটের পুনর্যাচাই

    অনগ্রসর শ্রেণী কল্যাণ দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত মোট ১,২২,১১৭টি জাতিগত শংসাপত্র পুনর্যাচাই (Caste Certificate Reverification) করা হয়েছে। এর মধ্যে ৭৬,৭৫০টি (প্রায় ৬২.৮ শতাংশ) শংসাপত্র বৈধ বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে যাচাই চলাকালীন একের পর এক অসঙ্গতি সামনে এসেছে বলেই প্রশাসনিক সূত্রের দাবি।

    ইতিমধ্যেই বাতিল ১৩৫টি শংসাপত্র

    যাচাইয়ের পর এখনও পর্যন্ত ১৩৫টি কাস্ট সার্টিফিকেট বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে-  ৮৩টি তফসিলি জাতি (SC), ৪১টি তফসিলি জনজাতি (ST) ও ১১টি অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি (OBC)। এছাড়াও আরও ২৯টি শংসাপত্রকে অবৈধ বলে ঘোষণা করা হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।

    কোন কোন জেলায় সবচেয়ে বেশি বাতিল?

    বাতিল হওয়া শংসাপত্রের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি পাওয়া গিয়েছে- উত্তর ২৪ পরগনা, কোচবিহার, হুগলি, পূর্ব বর্ধমান। এই জেলাগুলিতেই সবচেয়ে বেশি অনিয়ম ধরা পড়েছে বলে নবান্ন (Nabanna) সূত্রের দাবি। বর্তমানে প্রশাসনের সবচেয়ে বড় নজর ৪৫,৩৬৭টি কাস্ট সার্টিফিকেটের উপর। এগুলিকে সন্দেহজনক তালিকায় রাখা হয়েছে। জানা গিয়েছে, সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীদের একে একে শুনানিতে ডাকা হবে। সেখানে তাঁদের সমস্ত প্রয়োজনীয় নথি ও প্রমাণপত্র জমা দিতে হবে। যদি কেউ বৈধ নথি দেখাতে না পারেন, তাহলে সেই কাস্ট সার্টিফিকেটও অবৈধ ঘোষণা করে বাতিল করা হবে। এই প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে।

    কোন জেলায় সবচেয়ে বেশি সন্দেহজনক শংসাপত্র?

    সন্দেহের তালিকায় থাকা শংসাপত্র সবচেয়ে বেশি পাওয়া গিয়েছে— উত্তর দিনাজপুর, মুর্শিদাবাদ, দক্ষিণ দিনাজপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, ঝাড়গ্রাম, হুগলি, মালদহ, বাঁকুড়া, পূর্ব মেদিনীপুর, উত্তর ২৪ পরগনা। এই জেলাগুলির শংসাপত্র বিশেষভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।

    মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশেই শুরু হয় অভিযান

    নবান্ন (Nabanna) সূত্রে খবর, গত কয়েক বছরে ইস্যু হওয়া কাস্ট সার্টিফিকেট নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পুনর্যাচাইয়ের (Caste Certificate Reverification) নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশের ভিত্তিতেই অনগ্রসর শ্রেণী কল্যাণ দফতর রাজ্যজুড়ে এই বিশেষ যাচাই অভিযান শুরু করে। প্রশাসনের দাবি, প্রকৃত উপভোক্তাদের অধিকার সুরক্ষিত রাখতেই এই পুনর্যাচাই করা হচ্ছে। অন্যদিকে, যাঁরা ভুয়ো বা অবৈধভাবে জাতিগত শংসাপত্র সংগ্রহ করেছেন বলে প্রমাণিত হবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • Tata Motors: টাটার সঙ্গে বরফ গলছে! ৭৬৬ কোটি ক্ষতিপূরণ মেটাতে উদ্যোগ, বিনিয়োগেও জোর শুভেন্দু সরকারের

    Tata Motors: টাটার সঙ্গে বরফ গলছে! ৭৬৬ কোটি ক্ষতিপূরণ মেটাতে উদ্যোগ, বিনিয়োগেও জোর শুভেন্দু সরকারের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সিঙ্গুরের পরিত্যক্ত কারখানার জমি, রাজনৈতিক আন্দোলন আর দীর্ঘ দেড় দশকের তিক্ত আইনি যুদ্ধ- সবকিছু পিছনে ফেলে অবশেষে বরফ গলতে শুরু করেছে কলকাতা থেকে মুম্বইয়ের অন্দরে। রাজ্য সরকারের সঙ্গে টাটা গোষ্ঠীর (Tata Motors) সাম্প্রতিক উচ্চপর্যায়ের আলোচনার পর রাজ্য শিল্প মহলে এখন এক নতুন আশার আলো। অতীত সংঘাতের তিক্ততা ভুলে গিয়ে ফের কি বাংলায় বড় বিনিয়োগের পথে হাঁটবে টাটা গোষ্ঠী? শিল্প মহলে এখন এটাই সবচেয়ে বড় চর্চার বিষয়।

    মুম্বইয়ে বৈঠক, আলোচনায় ক্ষতিপূরণ ও বিনিয়োগ

    সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ শিল্প উন্নয়ন নিগম (WBIDC)-এর প্রতিনিধিরা এবং রাজ্যের শিল্প দপ্তরের সচিব বন্দনা যাদব মুম্বইতে টাটা গোষ্ঠীর (Tata Motors) সদর দফতরে গিয়ে এক দফায় দীর্ঘ বৈঠক সেরে এসেছেন। নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, এই আলোচনার পিছনে মূলত দুটি বড় উদ্দেশ্য ছিল- প্রথমত, আর্বিট্রেশন ট্রাইবুনালের নির্দেশ মেনে টাটাদের প্রাপ্য ক্ষতিপূরণ মেটানোর প্রশাসনিক রূপরেখা তৈরি করা। দ্বিতীয়ত, অতীতের জটিলতা দূরে সরিয়ে নতুন করে পশ্চিমবঙ্গে টাটাদের (Tata Motors) শিল্প বিনিয়োগের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা।

    সিঙ্গুর (Singur) আন্দোলন থেকে সুপ্রিম কোর্ট

    সিঙ্গুর (Singur) ও টাটাদের (Tata Motors) এই আইনি লড়াইয়ের মূল শিকড় লুকিয়ে রয়েছে দেড় দশক আগের রাজনৈতিক ও আইনি টানাপোড়েনে-

    ২০০৬-এর অধিগ্রহণ ও ২০০৮-এর প্রস্থান: ২০০৬ সালে তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার সিঙ্গুরে  (Singur) অত্যন্ত সুলভ মূল্যের ১ লাখ টাকার ‘ন্যানো’ গাড়ি কারখানার জন্য কৃষিজমি অধিগ্রহণ করে টাটা মোটর্সকে (Tata Motors) হস্তান্তর করে। তবে জমি অধিগ্রহণের পদ্ধতি ও অনিচ্ছুক চাষিদের স্বার্থ নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রবল আন্দোলন গড়ে তোলেন তৎকালীন বিরোধী নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। আন্দোলনের চাপে পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে ২০০৮ সালের পুজোর ঠিক আগে বাংলা ছেড়ে গুজরাতে কারখানা স্থানান্তরের ঐতিহাসিক ঘোষণা দেন টাটার তৎকালীন প্রধান রতন টাটা (Ratan Tata)।

    ২০১১-র রাজ্য রাজনীতিতে বদল ও জমি ফেরত: ২০১১ সালে রাজ্যে রাজনৈতিক ক্ষমতা বদল হয় এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন। সরকার গড়েই প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে সিঙ্গুরের (Singur) জমি চাষিদের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। চাষিরা জমি ফেরত পেলেও কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করে কারখানা গড়তে না পারায় চরম ব্যবসায়িক ক্ষতির মুখে পড়ে টাটা গোষ্ঠী (Tata Motors)।

    আইনি লড়াই ও ২০২৩-এর আইনি নির্দেশ: এই ক্ষতির প্রতিকার চেয়ে আইনি লড়াইয়ে নামে টাটা মোটর্স (Tata Motors)। আইনি প্রক্রিয়া গড়ায় আর্বিট্রেশন ট্রাইব্যুনালে। সেখানে রাজ্যের বিরুদ্ধে রায় দেওয়া হলে রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টে আপিল করে, কিন্তু সর্বোচ্চ আদালত তা খারিজ করে দেয়। শেষ পর্যন্ত ২০২৩ সালের অক্টোবরে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল নির্দেশ দেয়- সিঙ্গুরের ন্যানো গাড়ি প্রকল্পের ক্ষতিপূরণ হিসেবে রাজ্য সরকারকে টাটা মোটর্সকে মেটাতে হবে ৭৬৫ কোটি ৭৮ লক্ষ টাকা। ২০১৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে সম্পূর্ণ অর্থ পরিশোধ না করা পর্যন্ত বার্ষিক ১১ শতাংশ হারে সুদ গুণতে হবে পশ্চিমবঙ্গ শিল্পোন্নয়ন নিগমকে। এর পাশাপাশি নিগমকে আরও ১ কোটি টাকা মামলার আইনি খরচ হিসেবে টাটাদের মেটাতে হবে।

    তৃণমূল আমলের আইনি স্থগিতাদেশ: তৎকালীন তৃণমূল সরকার আলোচনার মাধ্যমে এই সঙ্কট নিষ্পত্তির পথে না গিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়। শিল্পোন্নয়ন নিগমকে সামনে রেখে কলকাতা হাইকোর্টে আপিল পিটিশন করা হলে বিচারপতি অনিরুদ্ধ রায়ের সিঙ্গল বেঞ্চ ট্রাইব্যুনালের রায়ের উপর ৮ সপ্তাহের স্থগিতাদেশ দিয়েছিলেন। ফলে ক্ষতিপূরণের পাওনা নিয়ে দীর্ঘ জটিলতা তৈরি হয়।

    নতুন সরকারের গতিশীল কূটনীতি

    চলতি বছরের মে মাসে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর পুরো আইনি অচলাবস্থা কাটানোর জন্য অত্যন্ত দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করে নতুন সরকার। পুরনো তিক্ততা ধরে না রেখে আলোচনার টেবিলে বসে জটিলতা কাটানোর উদ্যোগ নেয় নবান্ন।

    প্রায় ৭৬৬ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ নিয়ে কী আলোচনা? কলকাতা হাইকোর্টে চলতে থাকা মামলার বিষয়টি নিয়ে আলোচনার লক্ষ্যেই মুম্বইতে টাটাদের সদর দফতরে যান রাজ্যের শিল্প সচিব বন্দনা যাদব (Bandana Yadav)। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, টাটাকে সিঙ্গুরের (Singur) জমির ক্ষতিপূরণ মেটাতে ট্রাইব্যুনালের নির্দেশ মানতে রাজি রাজ্য সরকার। নবান্ন (Nabanna) সূত্রের খবর, টাটার পাওনা এই বিশাল অঙ্কের অর্থ কীভাবে এবং কতদিনের মধ্যে মেটানো হবে, সে বিষয়ে ইতিমধ্যেই একটি বিশেষ ‘গাইডলাইন’ বা নীতিমালা প্রস্তুত করেছে নবান্ন।

    সমঝোতার পথে দুই পক্ষ? সম্পর্কের এই সুবাতাসকে আরও এগিয়ে নিতে রাজ্য সরকার পূর্ণ প্রস্তুত। টাটা (Tata Motors) কর্তৃপক্ষ সম্মত হলেই রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত (Swapan Dasgupta) এবং শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় (Tapash Roy) সরকারি শীর্ষ আধিকারিকদের একটি উচ্চপর্যায়ের দল নিয়ে নিজে মুম্বই গিয়ে টাটাদের নীতি-নির্ধারকদের সঙ্গে মুখোমুখি বৈঠকে বসতে রাজি আছেন।

    পাখির চোখ বাংলায় নতুন বিনিয়োগ

    নবান্নের (Nabanna) একাংশের মতে, শুধুই পুরানো একটি প্রকল্পের বকেয়া অর্থ মিটিয়ে দেওয়া এই উদ্যোগের শেষ কথা নয়। রাজ্যের নতুন সরকারের মূল লক্ষ্য হলো বৃহৎ শিল্প বিনিয়োগ টানতে বড় বড় কর্পোরেট হাউসের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে নিবিড় সম্পর্ক বজায় রাখা। মুম্বইয়ের বৈঠকে টাটাদের সামনে পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান শিল্পনীতি, উন্নত অবকাঠামো, সুসংহত লজিস্টিক সুবিধা এবং আগামী দিনের বিনিয়োগের নানা সুযোগ বিশদে তুলে ধরা হয়েছে। পুরোনো সমস্ত জটিলতা দূর করে নতুন কোনো মেগা প্রজেক্টে অংশ নেওয়ার জন্য টাটাদের ইতিবাচক আহ্বান জানানো হয়েছে। যদিও এই বৈঠক বা আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে রাজ্য সরকার কিংবা টাটা গোষ্ঠীর (Tata Motors) পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও পর্যন্ত কোনও মন্তব্য বা স্পষ্ট বিবৃতি জারি করা হয়নি, তবে সরকারি সূত্রের দাবি- উভয় পক্ষই পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে দীর্ঘদিনের মামলা নিষ্পত্তি করতে এবং শিল্পায়নের স্বার্থে ভবিষ্যতে একসঙ্গে কাজ করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নিতে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

  • Paid Content Boost: মেটা-র বিরাট স্বীকারোক্তি! টাকা নিয়ে করা হয় ‘কনটেন্ট বুস্ট’, বেআইনি পোস্ট প্রচার নিয়ে আরও বড় চাপে সংস্থা

    Paid Content Boost: মেটা-র বিরাট স্বীকারোক্তি! টাকা নিয়ে করা হয় ‘কনটেন্ট বুস্ট’, বেআইনি পোস্ট প্রচার নিয়ে আরও বড় চাপে সংস্থা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি ভিডিও সাময়িকভাবে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম থেকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিতর্ক এবার অনেক বড় আকার নিয়েছে। কেন্দ্রীয় ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক (MeitY)-এর শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে মেটা নাকি স্বীকার করেছে, নির্দিষ্ট ধরনের কনটেন্টের প্রচার (Boost) বাড়াতে বিপুল পরিমাণ অর্থ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, সংস্থাটি এ-ও মেনে নিয়েছে যে তাদের প্ল্যাটফর্মে অবৈধ কনটেন্টও প্রচার পেয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মেটা-র সিইও মার্ক জুকেরবার্গ শিশু যৌন নির্যাতন-সংক্রান্ত কনটেন্ট (CSAM), ডিপফেক এবং কিছু অপারেশনাল ত্রুটির জন্য দুঃখপ্রকাশও করেছেন। যদিও এই তথ্যগুলির বেশিরভাগই বৈঠক-সংক্রান্ত সূত্রের দাবি, এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনও বিচারিক সিদ্ধান্ত বা আনুষ্ঠানিক আইনি রায় হয়নি।

    শুধু প্রযুক্তিগত ভুল নয়, সামনে এল আরও বড় প্রশ্ন

    প্রথমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি ভিডিও। মেটা জানায়, প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণেই ভিডিওটি সাময়িকভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। পরে সেটি পুনরায় প্রকাশ করা হয় এবং সংস্থার পক্ষ থেকে ক্ষমাও চাওয়া হয়। কিন্তু সরকারি সূত্রের দাবি, তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের সঙ্গে বৈঠকে আলোচনার মূল বিষয় ছিল শুধু ওই ভিডিও নয়। বরং মেটা-র কনটেন্ট প্রচার (Content Amplification), ‘অ্যালগরিদম’ এবং ‘পেড বুস্টিং’ ব্যবস্থা নিয়েই সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন তোলা হয়। সূত্রের দাবি, মেটা-র প্রতিনিধিরা স্বীকার করেন যে নির্দিষ্ট ধরনের কনটেন্টকে বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। একই সঙ্গে কিছু বেআইনি কনটেন্টও প্ল্যাটফর্মে প্রচার পেয়েছে বলে তাঁরা মেনে নেন। যদিও কোন ধরনের কনটেন্টের কথা বলা হয়েছে, তা প্রকাশ্যে জানানো হয়নি।

    ‘কনটেন্ট বুস্ট’ বলতে আসলে কী বোঝায়?

    ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামে প্রতিটি পোস্ট সমান সংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছায় না। জটিল অ্যালগরিদম ঠিক করে দেয়, কোন ব্যবহারকারী কোন পোস্ট দেখবেন, কতবার দেখবেন এবং কোন ক্রমে দেখবেন। ‘বুস্টিং’ বলতে বোঝায় কোনও পোস্টের স্বাভাবিক নাগালের বাইরে তার পৌঁছনোর ক্ষমতা বাড়িয়ে দেওয়া। এটি হতে পারে—

    • ● পেড প্রোমোশনের মাধ্যমে,
    • ● রেকমেন্ডেশন অ্যালগরিদমের সাহায্যে,
    • ● অথবা অন্যান্য অ্যালগরিদমিক অ্যাম্পলিফিকেশন টুলের মাধ্যমে।

    ফলে যে পোস্ট স্বাভাবিকভাবে কয়েক হাজার মানুষের কাছে পৌঁছনোর কথা, সেটি কয়েক লক্ষ বা কোটি মানুষের কাছেও পৌঁছে যেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি অর্থের বিনিময়ে নির্দিষ্ট ধরনের কনটেন্টকে বেশি মানুষের সামনে তুলে ধরা হয়, তাহলে সেই প্ল্যাটফর্মকে আর শুধু নিরপেক্ষ প্রযুক্তিগত মধ্যস্থতাকারী (Intermediary) বলা কঠিন হয়ে পড়ে। কারণ তখন প্ল্যাটফর্ম নিজেই তথ্যপ্রবাহকে প্রভাবিত করছে।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী বা মধ্যস্থতাকারীর মর্যাদা?

    ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি আইন, ২০০০ (Information Technology Act, 2000)-এর আওতায় সোশ্যাল মিডিয়া সংস্থাগুলি সাধারণত মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আইনি সুরক্ষা পেয়ে থাকে। এই আইনি সুরক্ষার মূল ভিত্তি হল—প্ল্যাটফর্মটি কেবল ব্যবহারকারীদের তৈরি করা কনটেন্ট হোস্ট করবে, নিজে সেই কনটেন্ট তৈরি বা নির্বাচন করবে না। সরকারি সূত্রের দাবি, মধ্যস্থতাকারীর আধিকারিকরা মেটা-কে জানিয়েছেন যে, যদি প্ল্যাটফর্ম নিজেই অ্যালগরিদমের মাধ্যমে ঠিক করে দেয় কোন কনটেন্ট কার কাছে পৌঁছবে এবং বাণিজ্যিক স্বার্থে সেই দৃশ্যমানতা বাড়ায়, তাহলে ‘ইন্টারমেডিয়ারি সেফ হারবার’ (Intermediary Safe Harbour)-এর দাবি স্বয়ংক্রিয়ভাবে করা যায় না। যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও আদালত মেটা-র বিরুদ্ধে এমন সিদ্ধান্ত দেয়নি।

    কনটেন্ট হোস্ট করা আর কনটেন্ট প্রচার করা এক নয়

    আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনও প্ল্যাটফর্মে ব্যবহারকারীর পোস্ট সংরক্ষণ করা এবং সেই পোস্টকে সক্রিয়ভাবে আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া—দুটি সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। একটি নিরপেক্ষ প্ল্যাটফর্ম শুধু অবকাঠামো দেয়। কিন্তু যখন কোনও সংস্থা—

    • ● রেকমেন্ডেশন অ্যালগরিদম ব্যবহার করে,
    • ● ট্রেন্ডিং তালিকা তৈরি করে,
    • ● ব্যক্তিগতকৃত ফিড সাজায়,
    • ● অথবা পেড বুস্টিংয়ের মাধ্যমে নির্দিষ্ট পোস্টকে আরও বেশি মানুষের সামনে তুলে ধরে,

    তখন সেটি কার্যত তথ্যের দৃশ্যমানতা নিয়ন্ত্রণ করছে। মেটা-র কথিত স্বীকারোক্তি সেই বিতর্ককেই নতুন করে উসকে দিয়েছে।

    ভারতে কেন এত গুরুত্বপূর্ণ এই বিতর্ক?

    মেটা-র সবচেয়ে বড় ব্যবহারকারীভিত্তিক বাজারগুলির অন্যতম ভারত। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম এবং হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করেন কয়েকশো মিলিয়ন ভারতীয়। এই পরিস্থিতিতে অ্যালগরিদম কোন কনটেন্টকে সামনে আনছে, তা জনমত, রাজনৈতিক আলোচনা, সংবাদ গ্রহণ এবং সামাজিক প্রবণতার উপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। অনেক ব্যবহারকারী মনে করেন কোনও পোস্ট ভাইরাল হয়েছে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত আগ্রহের কারণে। কিন্তু বাস্তবে অ্যালগরিদমিক অ্যাম্পলিফিকেশন বা পেড বুস্টিংয়ের ফলে সেই ধারণা বদলে যেতে পারে।

    মোদির ভিডিও থেকেই শুরু বিতর্ক

    সূত্রের দাবি, ২৩ জুলাই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি একটি ভার্টিক্যাল ভিডিও পোস্ট করার পর সেটি কিছু সময়ের জন্য ফেসবুক (Facebook) এবং ইনস্টাগ্রাম (Instagram) থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। পরে ভিডিওটি ফের প্রকাশ করা হয়। মেটা এই ঘটনাকে প্রযুক্তিগত ত্রুটি বলে ব্যাখ্যা করলেও, সেই ব্যাখ্যায় পুরোপুরি সন্তুষ্ট হয়নি কেন্দ্রীয় সরকার। এরপরই তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক মেটা-র গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স প্রধান জোয়েল কাপলান-সহ শীর্ষ প্রতিনিধিদের তলব করে। বৈঠকে শুধু মোদির ভিডিও নয়, শিশু যৌন নির্যাতন-সংক্রান্ত কনটেন্ট (CSAM), ডিপফেক, কনটেন্ট মডারেশন এবং প্ল্যাটফর্মের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও আলোচনায় উঠে আসে বলে সূত্রের দাবি।

    মেটা-র কনটেন্ট মডারেশন নিয়ে নতুন প্রশ্ন

    মেটা দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছে যে তারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ ব্যবস্থা এবং মানব মডারেটরের মাধ্যমে ক্ষতিকর কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণে বিপুল বিনিয়োগ করছে।

    তবুও বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সময়ে সংস্থাটি সমালোচনার মুখে পড়েছে—

    • ● শিশু যৌন নির্যাতন-সংক্রান্ত কনটেন্ট,
    • ● ডিপফেক,
    • ● ভুয়ো তথ্য,
    • ● আর্থিক প্রতারণা,
    • ● ঘৃণামূলক বক্তব্য,
    • ● অন্যান্য বেআইনি কনটেন্ট ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগে।

    যদি সত্যিই বেআইনি কনটেন্ট অ্যালগরিদম বা পেড প্রোমোশনের মাধ্যমে আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে থাকে, তাহলে মেটা-র নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতেই পারে।

    শুধু ভারত নয়, বিশ্বজুড়েই বাড়ছে নজরদারি

    ভারতের মতো ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়াসহ একাধিক দেশ এখন শুধু কনটেন্ট অপসারণ নয়, অ্যালগরিদমিক স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতার উপর জোর দিচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডিজিটাল সার্ভিসেস অ্যাক্ট (DSA)-এ বড় অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলিকে তাদের রেকমেন্ডেশন অ্যালগরিদমের ঝুঁকি মূল্যায়ন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশ্বজুড়েই এখন প্রশ্ন উঠছে—সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম কি শুধু তথ্য সাজিয়ে দেয়, নাকি তারা ঠিক করে দেয় মানুষ কী দেখবে?

    আবারও ডাকা হতে পারে মেটা-কে

    সূত্রের খবর, বিষয়টি নিয়ে মেটা-কে আরও এক দফা আলোচনার জন্য ডাকা হতে পারে। তবে এখনও পর্যন্ত কোনও আদালত এই মর্মে রায় দেয়নি যে মেটা তার ইন্টারমেডিয়ারি (Intermediary) বা মধ্যস্থতাকারীর মর্যাদা হারিয়েছে বা ভারতীয় আইন ভঙ্গ করেছে। নির্দিষ্ট কনটেন্ট বুস্ট করা বা বেআইনি কনটেন্ট প্রচারের অভিযোগও এখনও আনুষ্ঠানিক আইনি পরীক্ষার মুখোমুখি হয়নি। তবুও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারতের ডিজিটাল নীতিনির্ধারণে একটি মৌলিক প্রশ্ন সামনে এসেছে—যে প্ল্যাটফর্ম অ্যালগরিদম ও অর্থের বিনিময়ে কনটেন্টের দৃশ্যমানতা নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে কি এখনও সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দেখা উচিত? আগামী দিনে এই প্রশ্নের উত্তরই ভারতের ডিজিটাল নিয়ন্ত্রণ নীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে।

  • Bangladeshi Detained: নথি যাচাইয়ে বড় সাফল্য! জম্মু-কাশ্মীরে ২১, দিল্লিতে ৬ সন্দেহভাজন বাংলাদেশি আটক

    Bangladeshi Detained: নথি যাচাইয়ে বড় সাফল্য! জম্মু-কাশ্মীরে ২১, দিল্লিতে ৬ সন্দেহভাজন বাংলাদেশি আটক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: একদিকে জম্মু-কাশ্মীর (Jammu Kashmir), অন্যদিকে রাজধানী দিল্লি (Delhi)- দুই জায়গাতেই নথি যাচাই অভিযানে ধরা পড়লেন মোট ২৭ জন সন্দেহভাজন বাংলাদেশি নাগরিক (Bangladeshi Detained)। জম্মু-কাশ্মীরের রামবান জেলার বানিহাল এলাকায় কাশ্মীর উপত্যকার উদ্দেশে যাওয়ার পথে ২১ জনকে আটক করে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। বৈধ ভ্রমণ বা অভিবাসন সংক্রান্ত নথি দেখাতে না পারায় তাঁদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে। একই সময়ে দিল্লির একটি হোটেল থেকে আরও ৬ জন বাংলাদেশি নাগরিককে (Bangladeshi Detained) আটক করা হয়েছে। অভিযোগ, তাঁরা ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও ভারতে অবস্থান করছিলেন। দুই ঘটনাকেই গুরুত্ব দিয়ে দেখছে প্রশাসন।

    নথি যাচাইয়েই ধরা পড়েন ২১ জন

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রামবান জেলার বানিহাল এলাকায় নিয়মিত নথি যাচাই অভিযানের সময় দুটি গাড়িকে থামানো হয়। গাড়ি দুটি জম্মু থেকে কাশ্মীর (Jammu Kashmir) উপত্যকার দিকে যাচ্ছিল। অভিযোগ, যাত্রীদের পরিচয় ও ভ্রমণ সংক্রান্ত নথি পরীক্ষা করতে গিয়ে দেখা যায়, ২১ জনের কেউই ভারতে বৈধভাবে অবস্থানের উপযুক্ত নথি বা অভিবাসন সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। এরপর তাঁদের সকলকে আটক (Bangladeshi Detained) করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে প্রত্যেকের পরিচয়, যাতায়াতের উদ্দেশ্য এবং ভারতে প্রবেশের পথ সম্পর্কে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

    বাংলাদেশ-যোগ!

    আটক ব্যক্তিরা বাংলাদেশের (Bangladeshi Detained) সিলেট জেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে এমনটাই উঠে এসেছে। পাশাপাশি তদন্তকারীদের অনুমান, তাঁরা প্রথমে অসম সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন। এরপর রেলপথে জম্মু (Jammu) পৌঁছে সেখান থেকে সড়কপথে কাশ্মীর (Kashmir) উপত্যকার দিকে রওনা দিয়েছিলেন। তবে এই তথ্য এখনও তদন্তাধীন এবং সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেই পুলিশ সূত্রের খবর।

    অনুপ্রবেশে কোনও সক্রিয় চক্র রয়েছে?

    কীভাবে ওই ব্যক্তিরা সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে প্রবেশ করলেন? তাঁদের যাতায়াতে কোনও দালালচক্র বা আন্তঃরাজ্য নেটওয়ার্ক জড়িত ছিল কি না? এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে তাঁদের চলাচলের জন্য কোনও ব্যক্তি বা সংগঠন সাহায্য করেছে কি না? সমস্তটাই খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। প্রয়োজনে বিভিন্ন রাজ্যের তদন্তকারী সংস্থার সঙ্গেও তথ্য আদানপ্রদান করা হবে বলেও জানা গিয়েছে।

    বিদেশি নাগরিকদের শনাক্ত করতেই অভিযান!

    গোটা ঘটনায় ইতিমধ্যেই মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। সূত্রের খবর, তদন্তে যা তথ্য উঠে আসবে, তার ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনি ও অভিবাসন সংক্রান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বৈধ নথি ছাড়া ভারতে অবস্থানকারী বিদেশি নাগরিকদের শনাক্ত করতে যে বিশেষ যাচাই অভিযান চলছে, এই ঘটনাও তারই অংশ। ভবিষ্যতেও এই ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলে প্রশাসন সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে।

    দিল্লির হোটেল থেকেও আটক বাংলাদেশি

    অন্যদিকে, রাজধানী দিল্লিতে (Delhi) মধ্য জেলার বিভিন্ন হোটেল ও অতিথিশালায় পুলিশের বিশেষ নথি যাচাই অভিযান চালানো হয়। সেই সময় নবী করিম এলাকার আরাকাশান রোডের একটি হোটেল থেকে ৬ জন বাংলাদেশি নাগরিককে আটক (Bangladeshi Detained) করা হয়। তদন্তে জানা যায়, তাঁরা দ্বৈত-প্রবেশ ভিসা নিয়ে ভারতে এসেছিলেন। তবে নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার পরও তাঁরা দেশে অবস্থান করছিলেন বলে অভিযোগ।

    শুরু বহিষ্কারের প্রক্রিয়া

    আটক ছয়জনকে পরে বিদেশি নাগরিক নিবন্ধন কর্তৃপক্ষের (FRRO) সামনে হাজির করা হয়। সেখান থেকে প্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ জারি করে তাঁদের একটি আটক কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পর তাঁদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে বলেই জানিয়েছে প্রশাসন। যদিও আটক ছয়জনের বিরুদ্ধে এখনও পর্যন্ত কোনও অপরাধমূলক রেকর্ড পাওয়া যায়নি। তবে ভিসার শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিবাসন সংক্রান্ত আইন অনুযায়ী তাঁদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা বলেই সূত্রের খবর। একইসঙ্গে তাঁদের ভারতে আসার উদ্দেশ্য এবং অবস্থানের সম্পূর্ণ তথ্যও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

  • Hemant Soren: চাকরির আন্দোলনে টালমাটাল ঝাড়খণ্ড! জোটের অন্দরে বাড়ছে অস্বস্তি, হেমন্ত সরকারের উপর চাপ বাড়াচ্ছে কংগ্রেস?

    Hemant Soren: চাকরির আন্দোলনে টালমাটাল ঝাড়খণ্ড! জোটের অন্দরে বাড়ছে অস্বস্তি, হেমন্ত সরকারের উপর চাপ বাড়াচ্ছে কংগ্রেস?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সরকারি চাকরির আশায় দীর্ঘদিন ধরে প্রস্তুতি নেওয়া হাজার হাজার যুবক-যুবতীর ক্ষোভ এখন রাজপথে। যত দিন গড়াচ্ছে রাঁচিতে ততই সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগের দাবি আরও জোরালো হচ্ছে। ক্রমশ ঝাঁঝ বাড়ছে চাকরিপ্রার্থীদের আন্দোলনের (Jharkhand Job Protest)। আর সেই আন্দোলনের রাজনৈতিক অভিঘাত এবার পড়তে শুরু করেছে ঝাড়খণ্ডের শাসক জোটের অন্দরেও। একদিকে প্রশ্নপত্র ফাঁস ও নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রকে লাগাতার আক্রমণ করছে কংগ্রেস, অন্যদিকে ঝাড়খণ্ডে তাদেরই জোট সরকারের বিরুদ্ধে উঠেছে একই ধরনের অভিযোগ। ফলে অস্বস্তিতে পড়েছে কংগ্রেসও। আন্দোলনকারীদের পাশে থাকার বার্তা দিতেই এবার মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের (Hemant Soren) সঙ্গে বৈঠকে ঝাড়খণ্ড কংগ্রেসের একটি প্রতিনিধি দল।

    মুখ্যমন্ত্রী সোরেনের সঙ্গে বৈঠক

    চাকরিপ্রার্থীদের আন্দোলনের (Jharkhand Job Protest) ঝাঁঝ বাড়ার সঙ্গেই বেড়েছে দলের অন্দরে ফাটলও। সূত্রের খবর, বুধবার মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের (Hemant Soren) সঙ্গে বৈঠকে অল ইন্ডিয়া কংগ্রেস কমিটির ঝাড়খণ্ড দায়িত্বপ্রাপ্ত কে রাজুর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল। প্রতিনিধি দলে ঝাড়খণ্ড রাজ্য সরকারের কংগ্রেসের মন্ত্রীরাও। কংগ্রেসের লক্ষ্য এখন আন্দোলনকারীদের ‘যৌক্তিক উদ্বেগ’ দ্রুত সমাধানের জন্য সরকারকে পদক্ষেপ করতে অনুরোধ করা। তাঁরা চাইছে ছাত্র-যুব সমাজের কাছে এই বার্তা পৌঁছাক যে চাকরিপ্রার্থীদের দাবিকে তারা গুরুত্ব দিচ্ছে।

    কী নিয়ে আন্দোলন?

    রাজধানী রাঁচির জয়পাল সিং মুন্ডা স্টেডিয়ামে অনির্দিষ্টকালের অবস্থান বিক্ষোভ (Jharkhand Job Protest) চালিয়ে যাচ্ছেন চাকরিপ্রার্থীরা। তাঁদের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সরকারি নিয়োগ পরীক্ষাগুলিতে একাধিক অনিয়ম হয়েছে এবং পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। প্রথমে আন্দোলনকারীদের দাবি ছিল, ঘটনার তদন্ত কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইকে দিয়ে করানো হোক। তবে পরে তাঁরা সেই দাবি পরিবর্তন করে ঝাড়খণ্ডের বাইরের অবসরপ্রাপ্ত হাইকোর্টের বিচারপতিদের নিয়ে গঠিত একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটির মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।

    কেন চাপে কংগ্রেস (Congress)?

    এই আন্দোলনের সময়টাই কংগ্রেসের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ, প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগকে সামনে রেখে গত কয়েক মাস ধরেই কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সরব বিরোধী শিবির। দিল্লির যন্তর মন্তরে ছাত্র-যুবদের আন্দোলন, পুলিশের পদক্ষেপ এবং সেই ইস্যুতে সংসদে বিরোধীদের বিক্ষোভ- সব মিলিয়ে বিষয়টি জাতীয় রাজনীতির অন্যতম আলোচিত ইস্যু ছিল। এমন পরিস্থিতিতে ঝাড়খণ্ডে নিজেদের জোট সরকারের বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ উঠলেও যদি কংগ্রেস নীরব থাকে, তাহলে রাজনৈতিকভাবে বিরূপ বার্তা যেতে পারে বলে মনে করছে দলের নেতৃত্ব। সেই কারণেই জাতীয় নেতৃত্ব যুব কংগ্রেস ও ছাত্র সংগঠনের নেতাদেরও আন্দোলনস্থলে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে দেখা করার নির্দেশ দিয়েছে বলে দলীয় সূত্রের দাবি। দলের এক শীর্ষ নেতার বক্তব্য, বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী দীর্ঘদিন ধরেই নিয়োগে স্বচ্ছতা এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে সরব। আগামী দিনেও তিনি এই ইস্যুতে ছাত্র-যুবদের সঙ্গে কর্মসূচি করবেন। তাই ঝাড়খণ্ডে আন্দোলনকারীদের প্রতি সহানুভূতি না দেখালে দলের রাজনৈতিক অবস্থান দুর্বল হতে পারে।

    নীরবতা ভেঙে আশ্বাস হেমন্ত সোরেনের (Hemant Soren)

    আন্দোলন শুরু হওয়ার পর প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে মুখ খুললেন সেরাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন (Hemant Soren)। তিনি জানান, “আন্দোলনকারীদের সব দাবি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে সব বিষয় পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং উপযুক্ত সময়ে সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হবে।” সেই সিদ্ধান্তে আন্দোলনকারীরা আশ্বস্ত হবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন (Hemant Soren)।

    আগেও ছিল জোটে টানাপোড়েন

    তবে, জোটের অন্দরে ফাটলের বর্তমান পরিস্থিতি হঠাৎ তৈরি হয়নি। ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা (JMM) এবং কংগ্রেসের সম্পর্ক গত এক বছর ধরেই নানা কারণে চাপে রয়েছে। বিহার বিধানসভা নির্বাচনের আগে আসন বণ্টন নিয়ে দুই দলের মধ্যে মতবিরোধ প্রকাশ্যে আসে। পরে ঝাড়খণ্ডের রাজ্যসভা নির্বাচনেও প্রার্থী ঘোষণা নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়। জেএমএম চাইছিল জোটের দুই আসনেই তাদের প্রার্থী লড়ুক। কিন্তু কংগ্রেস আলাদা করে নিজেদের প্রার্থী ঘোষণা করে। শেষ পর্যন্ত সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও ক্রস ভোটিংয়ের কারণে কংগ্রেসের প্রার্থী পরাজিত হন। সেই ঘটনার পর থেকেই দুই শরিকের সম্পর্কে দূরত্ব বেড়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত।

    রাজনৈতিক গুরুত্ব 

    ঝাড়খণ্ডে সরকারি চাকরির বিষয়টি বরাবরই সংবেদনশীল। সেরাজ্যে বেকারত্ব, নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিলম্ব এবং পরীক্ষা নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। তাই বর্তমান আন্দোলনকে শুধুমাত্র একটি নিয়োগ পরীক্ষার বিতর্ক হিসেবে দেখছে না রাজনৈতিক মহল। অনেকের মতে, এই আন্দোলন সরকারের স্বচ্ছতা, প্রশাসনিক বিশ্বাসযোগ্যতা এবং শাসক জোটের ঐক্যেরও বড় পরীক্ষা। এখন দেখার, আন্দোলনকারীদের দাবি মেনে সরকার কী সিদ্ধান্ত নেয়? কারণ, এই ইস্যুতে সরকারের পদক্ষেপ শুধু চাকরিপ্রার্থীদের ভবিষ্যৎ নয়, ঝাড়খণ্ডের রাজনীতির সমীকরণেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

  • DA Hike: পুজোর উপহার নবান্নর, বাড়ছে ডিএ-ডিআর, অতিরিক্ত সুবিধা দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মীদেরও!

    DA Hike: পুজোর উপহার নবান্নর, বাড়ছে ডিএ-ডিআর, অতিরিক্ত সুবিধা দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মীদেরও!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পুজোর আগেই এবার সুখবর। রাজ্য সরকারি কর্মী পেনশনভোগীদের জন্য বড় সুখবর রাজ্যের। আগামী ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে মহার্ঘ ভাতা (DA) এবং ডিয়ারনেস রিলিফ (DR)-এর হার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হচ্ছে। এমনই নির্দেশিকা জারি নবান্নের (Nabanna) তরফে। ফলে পুজোর মাসেই সরকারি কর্মী, পেনশনভোগী এবং নির্দিষ্ট শ্রেণির দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মীরা বাড়তি আর্থিক সুবিধা পাবেন।

    ডিএ বাড়ল (DA Hike) প্রি-রিভাইজড বেতনভোগীদের

    নবান্নের (Nabanna) নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রি-রিভাইজড পে স্কেলে থাকা রাজ্য সরকারি কর্মীদের ডিএ (DA Hike) ১৭১ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২২৩ শতাংশ করা হয়েছে। এই বর্ধিত ডিএ আগামী ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকেই কার্যকর হবে।

    পেনশনভোগীদের জন্যও বড় স্বস্তি

    নবান্নের (Nabanna) নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, ROPA ২০০৯ অনুযায়ী প্রি-রিভাইজড পেনশন বা ফ্যামিলি পেনশন প্রাপকদের ক্ষেত্রেও ২২৩ শতাংশ হারে ডিয়ারনেস রিলিফ (DR) দেওয়া হবে। এছাড়াও, রিভাইজড পেনশন বা ফ্যামিলি পেনশন প্রাপকদের ক্ষেত্রে ৩৮ শতাংশ হারে ডিয়ারনেস রিলিফ দেওয়ার কথাও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

    দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মীদের জন্য অতিরিক্ত সুবিধা

    শুধু সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীরাই নন, নবান্নের ঘোষণায় সুবিধা পাচ্ছেন নির্দিষ্ট শ্রেণির দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মীরাও। নির্দেশিকা অনুযায়ী, ন্যূনতম মজুরি আইনের আওতার বাইরে থাকা দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মীদের দৈনিক মজুরিতে অতিরিক্ত ১১০ টাকা বিশেষ ভাতা (অ্যাড-হক) দেওয়া হবে। এই সিদ্ধান্তও ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে।

    আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী

    উল্লেখযোগ্যভাবে, কয়েকদিন আগে ভবানী ভবনে রাজ্য পুলিশের একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) ঘোষণা করেছিলেন, সরকারি কর্মীদের জন্য অতিরিক্ত ২০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা দেওয়া হবে। পাশাপাশি, পুজোর আগে কর্মীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে অক্টোবর মাসের বেতন আগাম দেওয়ার সিদ্ধান্তও জানানো হয়েছিল। পরবর্তীতে রাজ্যের তরফে জানানো হয়, অক্টোবর মাস থেকেই বর্ধিত ডিএ কার্যকর হবে। সেই ঘোষণার পর এবার নবান্নের (Nabanna) আনুষ্ঠানিক নির্দেশিকা জারির মাধ্যমে বিষয়টি কার্যকর করার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হল।

    পুজোর মুখে বাড়বে হাতে পাওয়া টাকা

    দুর্গাপুজোর ঠিক আগে এই সিদ্ধান্তকে রাজ্য সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীদের জন্য বড় স্বস্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। বর্ধিত ডিএ (DA Hike) ও ডিআরের (DR) পাশাপাশি দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মীদের অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধার ফলে অক্টোবর মাস থেকেই বহু কর্মীর হাতে আগের তুলনায় বেশি টাকা পৌঁছবে। পুজোর কেনাকাটা ও পারিবারিক খরচের সময় এই সিদ্ধান্ত উল্লেখযোগ্য স্বস্তি এনে দেবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

  • Howrah Terror Module: হাওড়ায় জঙ্গি-যোগ! হামিম-আদিত্যদের মতো আরও অনেকেই চিহ্নিত, দাবি নিশানায় থাকা মন্ত্রীর

    Howrah Terror Module: হাওড়ায় জঙ্গি-যোগ! হামিম-আদিত্যদের মতো আরও অনেকেই চিহ্নিত, দাবি নিশানায় থাকা মন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হাওড়ায় জঙ্গি-যোগের (Howrah Terror Module) তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে আরও নতুন তথ্য। জঙ্গি সন্দেহে রবিবারই ধৃত হামিম মণ্ডলের সহযোগী আদিত্য সিংকে হাওড়া থেকে গ্রেফতার (Aditya Singh Arrest) করেছে রাজ্য পুলিশের এসটিএফ (STF)। এবার তদন্তকারীদের রাডারে উত্তর হাওড়ায় বিদেশি যোগাযোগ থাকা আরও একাধিক সন্দেহভাজন। তদন্তকারীদের দাবি, তাঁদের উপরও নজরদারি চালানো হচ্ছে। একইসঙ্গে এই বিষয়ে পুলিশকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও দেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই (Umesh Rai)। তিনিও না কি জঙ্গি-নিশানায় ছিলেন বলেই অভিযোগ।

    তদন্তে নতুন দিক (Howrah Terror Module)

    গত বৃহস্পতিবার রাতে বর্ধমান থেকে হামিম মণ্ডলকে (Hamim Mondal) গ্রেফতার করে তদন্তকারীরা। পরে ধরা পড়ে তার বান্ধবী অর্পিতা সরকার। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, দু’জনেই পাকিস্তানি গ্যাংস্টার শাহজাদ ভাট্টির নেটওয়ার্কের (Pakistan Link) সঙ্গে যুক্ত ছিল। তাঁদের জেরার ভিত্তিতেই রবিবার রাতে হাওড়ার বেলিলিয়াস রোড থেকে আদিত্য সিংকে গ্রেফতার (Aditya Singh Arrest) করে রাজ্য পুলিশের এসটিএফ (STF)। সূত্রের খবর, বর্ধমানে যাওয়ার আগে হামিম দীর্ঘদিন হাওড়ার পিলখানায় থাকত। সেই এলাকারই বাসিন্দা আদিত্য। তদন্তকারীদের অনুমান, উমেশ রাই ও তাঁর পরিবারের বিভিন্ন ব্যক্তিগত তথ্য, ছবি এবং গতিবিধির খবর হামিমের কাছে পৌঁছে দিয়েছিল আদিত্যই। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই অপহরণের ছক তৈরি হয়েছিল বলে সন্দেহ।

    ‘আমিই ছিলাম টার্গেট’

    পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই (Umesh Rai) বলেন, “অনেক কড়া পদক্ষেপ করেছিলাম। তাতে অনেকেরই অসুবিধা হয়েছিল। সেই কারণেই হয়তো আমাকে টার্গেট করা হয়েছে। তবে আমি ভয় পাইনি। আমার কাছে পাঁচ কোটি টাকা চাওয়া হয়েছিল। পাকিস্তান থেকে ফোনও এসেছিল। প্রথমে বিষয়টিকে গুরুত্ব দিইনি। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর নাম জড়িয়ে পড়ার পরই পুলিশকে সব জানানো হয়।”

    ‘হাওড়ায় আরও অনেক আদিত্য রয়েছে’

    উমেশ রাইয়ের (Umesh Rai) আরও অভিযোগ, উত্তর হাওড়ায় আদিত্যের মতো আরও অনেক ব্যক্তি সক্রিয় রয়েছেন, যাঁদের বিদেশি যোগাযোগ রয়েছে। তাদের ইতিমধ্যেই চিহ্নিত করা হয়েছে। এই ব্যক্তিদের গ্রেফতার করা গেলে বিপুল পরিমাণ বেআইনি অস্ত্র উদ্ধার হতে পারে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলিও তাঁদের গতিবিধির উপরও নজর রাখছে বলে জানা গিয়েছে।

    কলেজ পড়ুয়ার অ্যাকাউন্টে লক্ষ লক্ষ টাকা! 

    আদিত্য সিংকে ঘিরে আর্থিক লেনদেন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন উমেশ রাই (Umesh Rai)। একজন কলেজ ছাত্রের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা রয়েছে? যা অত্যন্ত সন্দেহজনক। মন্ত্রী বলেন, “এরা টাকার বিনিময়ে মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা, দেশের নিরাপত্তা বিক্রি করে দিচ্ছে। এটাই সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়। তাই সাধারণ মানুষকেও সতর্ক থাকতে হবে।”

    তদন্তে আরও বড় চক্রের ইঙ্গিত

    হামিম, অর্পিতা ও আদিত্যকে ঘিরে তদন্তে একটি বৃহত্তর নেটওয়ার্কের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী সংস্থাগুলি। বিদেশি যোগাযোগ, অর্থের লেনদেন, সম্ভাব্য অপহরণচক্র এবং বেআইনি অস্ত্রের যোগ- সব দিকেই সমান্তরালভাবে তদন্ত চলছে। তদন্তকারীদের লক্ষ্য, এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেককে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা।

  • Nivedita Menon: ‘ভারত মনহুস দেশ’! প্রাক্তন জেএনইউ অধ্যাপিকা নিবেদিতা মেননের মন্তব্যে তীব্র বিতর্ক, দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড়

    Nivedita Menon: ‘ভারত মনহুস দেশ’! প্রাক্তন জেএনইউ অধ্যাপিকা নিবেদিতা মেননের মন্তব্যে তীব্র বিতর্ক, দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতকে ‘মনহুস দেশ’ বলে উল্লেখ। জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন অধ্যাপিকা নিবেদিতা মেননের (Nivedita Menon) একটি সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে তীব্র বিতর্কের (India Controversy) সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, “সাম্প্রতিক আন্দোলনের ফলে দেশের মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে কিছুটা স্বস্তির পরিবেশ তৈরি হয়েছে। গত বারো বছরে তাঁদের মধ্যে এমন একটি ধারণা তৈরি হয়েছিল যে তাঁরা সবসময় অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কের মধ্যে থাকতেন।” সাক্ষাৎকারটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই রাজনৈতিক মহল, শিক্ষাজগত, প্রাক্তন ক্রীড়াবিদ, লেখক, সমাজকর্মী-সহ বিভিন্ন স্তরের মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। বহু মানুষ সমাজমাধ্যমে তাঁর মন্তব্যের বিরোধিতা করেন। সমালোচকদের একাংশের দাবি, এই ধরনের মন্তব্য দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে এবং দেশের প্রতি অসম্মান প্রদর্শন করে।

    অজয় জাদেজার কড়া প্রতিক্রিয়া

    প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার অজয় জাদেজা নিবেদিতা মেননের (Nivedita Menon) মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “ভারতকে ‘মনহুস দেশ’ বলা অত্যন্ত লজ্জাজনক। তাঁর মতে, এমন মন্তব্য দেশের কোটি কোটি মানুষের অনুভূতিতে আঘাত হানে এবং একজন শিক্ষাবিদের কাছ থেকে এ ধরনের বক্তব্য প্রত্যাশিত নয়।”

    সুনীল দেওধরের মন্তব্য

    ভারতীয় জনতা পার্টির প্রাক্তন জাতীয় সম্পাদক সুনীল দেওধরও এই ঘটনায় সরব হন। তিনি ভগিনী নিবেদিতার (Nivedita Menon) প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “ভগিনী নিবেদিতা নিজের জন্মভূমি ছেড়ে ভারতকে নিজের দেশ হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। ভারতীয় সংস্কৃতি, দর্শন ও আধ্যাত্মিক ভাবধারাকে বিশ্বজুড়ে তুলে ধরেছিলেন। একই নাম বহন করলেও নিবেদিতা মেননের বক্তব্য সম্পূর্ণ বিপরীত। ধরনের মন্তব্য ভগিনী নিবেদিতার আদর্শেরও অবমাননা করে।” পাশাপাশি দেশভাগের ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে নিজের রাজনৈতিক অবস্থানও তুলে ধরেন বিজেপির প্রাক্তন জাতীয় সম্পাদক।

    নিবেদিতা মেননকে (Nivedita Menon) কটাক্ষ নিরঞ্জন কুমারের

    দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবীণ অধ্যাপক নিরঞ্জন কুমার বলেন, “নিবেদিতা মেননের (Nivedita Menon) মতো ব্যক্তিরা এই দেশের মাটি, জল, বাতাসে বড় হয়েছেন এবং জনগণের করের অর্থে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন কর্মরত ছিলেন। তাই দেশের প্রতি তাঁদের নৈতিক দায়িত্ব রয়েছে। নিজের দেশকে ‘অভিশপ্ত’ বলে উল্লেখ করা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অনেকেই ভারতকে ছোট করে দেখিয়ে অন্য দেশের প্রশংসা করেন, অথচ ভারতের উন্নয়ন, গণতান্ত্রিক কাঠামো এবং মানবিক ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন না।”

    মেননের মন্তব্যের সমালোচনা লেখক রতন শারদারের

    লেখক ও বিশ্লেষক রতন শারদাও সমাজমাধ্যমে নিবেদিতা মেননের মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, “যখন নিজেদের মতামতের একচেটিয়া প্রভাব থাকে না, তখনই কিছু মানুষ দেশ সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্য করতে শুরু করেন।”

    সমালোচকেরা মুখে ভারতের সাফল্যের কথা

    নিবেদিতা মেননের (Nivedita Menon) বক্তব্যের বিরোধিতায় অনেকেই ভারতের সাম্প্রতিক বিভিন্ন সাফল্যের কথা তুলে ধরেছেন। সমালোচকদের মতে, আন্তর্জাতিক কূটনীতি, অর্থনীতি, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, মহাকাশ গবেষণা, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং ক্রীড়াক্ষেত্রে ভারত গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। তাঁরা স্মরণ করিয়ে দেন, অতিমারির সময় ভারত শুধু নিজেদের নাগরিকদের জন্য নয়, বিশ্বের বহু দেশের কাছেও টিকা পৌঁছে দিয়েছিল। এছাড়াও বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে আক্রান্ত দেশেও ভারত দ্রুত ত্রাণ ও উদ্ধারকারী দল পাঠিয়েছে। সমালোচকদের বক্তব্য, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে মানবিক ভূমিকা পালনকারী একটি দেশকে ‘মনহুস’ বলে আখ্যা দেওয়া বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

    নতুন করে আলোচনায় অতীতের বিতর্কও

    নিবেদিতা মেননের (Nivedita Menon) অতীতের একাধিক বক্তব্যও নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে। সমালোচকদের দাবি, কাশ্মীর প্রসঙ্গে তাঁর মন্তব্য, ভারতীয় সেনাবাহিনী সম্পর্কে বক্তব্য এবং বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়ে তাঁর অবস্থান অতীতেও বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল। এছাড়াও একটি আলোচনায় তথাকথিত ‘লাভ জিহাদ’ প্রসঙ্গে তাঁর মন্তব্য নিয়েও রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। বিরোধীদের অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে তাঁর বক্তব্য জাতীয়তাবাদী মতের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়েছে।

    তীব্র মতভেদ, জারি বিতর্ক (India Controversy)

    নিবেদিতা মেননের (Nivedita Menon) সাম্প্রতিক মন্তব্যকে ঘিরে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, দেশের ভাবমূর্তি এবং জনবুদ্ধিজীবীদের সামাজিক দায়িত্ব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। একদিকে তাঁর সমর্থকদের দাবি, প্রত্যেক নাগরিকের নিজের মত প্রকাশের অধিকার রয়েছে। অন্যদিকে সমালোচকদের বক্তব্য, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার নামে দেশের সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করা উচিত নয়। সব মিলিয়ে নিবেদিতা মেননের মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। সমাজমাধ্যম থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও বুদ্ধিজীবী মহলেও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

  • Exclusive Breastfeeding: শুধু শিশুই নয়, মায়েরও বড় সুরক্ষা! প্রথম ছ’মাস শুধু মাতৃদুগ্ধ কেন জরুরি?

    Exclusive Breastfeeding: শুধু শিশুই নয়, মায়েরও বড় সুরক্ষা! প্রথম ছ’মাস শুধু মাতৃদুগ্ধ কেন জরুরি?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    সন্তান জন্মের পরে প্রথম ছ’মাস শুধুই মায়ের দুধ! বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এই পরামর্শ পৃথিবী জুড়ে চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কিন্তু সম্প্রতি ভারতে এই সচেতনতায় বেশ কিছুটা ঘাটতি দেখা গিয়েছে। যা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, শিশুর জন্মের পরের মুহূর্ত থেকে পরবর্তী ছ’মাস স্তন্যপান না করালে, পরবর্তী জীবনে একাধিক স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। কিন্তু ভারতে সম্প্রতি এই প্রবণতা দেখা গিয়েছে। যা যথেষ্ট উদ্বেগের। অগাস্ট মাসে স্তন্যপান নিয়ে সচেতনতা কর্মশালা পালন হয়। এ বছরে তাই সুস্থ ও মজবুত আগামী প্রজন্ম গড়ে তুলতে স্তন্যপান করানো কতখানি জরুরি, সে নিয়েই লাগাতার সচেতনতা শিবির এবং কর্মশালার আয়োজন করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

    কী বলছে সাম্প্রতিক রিপোর্ট? কেন উদ্বিগ্ন বিশেষজ্ঞরা?

    সম্প্রতি এক সর্বভারতীয় সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, শহুরে ভারতীয়দের একাংশ, সন্তান জন্মের পরে প্রথম ছ’মাস শুধুমাত্র স্তন্যপান করান না। গত পাঁচ বছরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশ মাফিক জন্মের প্রথম ছ’মাস শুধুই স্তন্যপান করা শিশুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য ভাবে কমেছে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, এর প্রভাব আগামী কয়েক বছরে গভীর ভাবে পড়বে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতে স্তন্যপান নিয়ে সচেতনতার হার এখনো পর্যাপ্ত নয়। আবার অনেকক্ষেত্রেই চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে মায়ের পেশাগত জীবনের ব্যস্ততা। তাঁরা, জানাচ্ছেন, জন্মের পরে মধু বা মিছরির জল নয়, শিশুকে প্রথমেই স্তন্যপান করানো প্রয়োজন। সদ্যোজাতের শরীরে প্রথমেই, মায়ের প্রথম দুধের পৌঁছলে একাধিক দীর্ঘমেয়াদি উপকার হয়। কিন্তু এখনো অনেকক্ষেত্রে শিশুকে প্রথমে মধু, মিছরির জল দেওয়া হয়। সচেতনতার ঘাটতি রয়েছে!

    মাতৃত্বকালীন ছুটির অভাব বড় চ্যালেঞ্জ!

    তবে, জন্মের পরের প্রথম ছ’মাস টানা স্তন্যপান করানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে মায়ের ছুটির অভাব। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, একাধিক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, নতুন মায়ের ছুটি নিয়ে নানান জটিলতা তৈরি করা হয়। মাতৃত্বকালীন ছুটি দেওয়া হয় না।‌ এর ফলে মা বাধ্য হয়ে কর্মজীবনে ফিরে যান। কিন্তু সন্তান জন্মের পরের ছ’মাস মায়ের সদ্যোজাতের সঙ্গে কাটানো‌ জরুরি। এই সময়ে শিশু সম্পূর্ণ স্তন্যপান করবে। জল বা অন্য কোনো খাবার খাবে না। তাতেই তার শরীরে একাধিক উপকার হবে। ভারতের আইন মহিলাদের মাতৃত্বকালীন ছুটির অধিকার দিয়েছে। কিন্তু অনেকক্ষেত্রেই অভিযোগ ওঠে, সেই ছুটি মঞ্জুর করা হয় না। ফলে মা কাজের জায়গায় যেতে বাধ্য হন। অনেক সময়েই মা একসঙ্গে সারাদিনের দুধ পাম্প করে রেখে যেতে পারেন না। ফলে শিশু প্রয়োজনীয় পর্যাপ্ত মাতৃদুগ্ধ পায় না। শিশু ঠিকমতো মায়ের দুধ না পেলে আগামী প্রজন্ম একাধিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগবে বলেই আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকেরা। তাই উদ্বেগ বাড়ছে!

    কেন আগামী মজবুত করতে স্তন্যপান জরুরি?

    চলতি বছরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, পৃথিবী জুড়ে চলবে প্রচার কর্মসূচি! যার মূল কথা হলো, আগামী প্রজন্মকে সুস্থ ও মজবুত গড়ে তুলতে স্তন্যপান জরুরি। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন, শিশুর শরীরে সম্পূর্ণ পুষ্টি এবং অ্যান্টিবডি গড়ে তুলতে স্তন্যপান সবচেয়ে জরুরি। শিশুকে ঠিকমতো স্তন্যপান করালে তবেই ডায়ারিয়া, নিউমোনিয়া সহ একাধিক সংক্রমণের ঝুঁকি কমবে।
    শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশে স্তন্যপানের কোনো বিকল্প নেই। জন্মের পরের প্রথম ছ’মাস শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। মায়ের দুধে এমন একাধিক উপাদান থাকে, যা শিশুর মস্তিষ্কের‌‌ বিকাশে বিশেষ সাহায্য করে। তাই আগামী দিনে শিশুর সুন্দর জীবনের জন্য স্তন্যপান অত্যন্ত জরুরি। মা ও শিশুর সম্পর্ক গভীর করতেও স্তন্যপান জরুরি বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকেরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, স্তন্যপান করালে মা ও শিশুর মানসিক সম্পর্ক গভীর ও দৃঢ় হয়। তাই স্তন্যপান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    সন্তানকে স্তন্যপান করালে মায়ের স্বাস্থ্য লাভ কতখানি?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শিশু জন্মের পরের প্রথম ছ’মাস শুধুমাত্র মায়ের দুধ খেলে দীর্ঘমেয়াদি উপকার হয়। তেমনি, মায়ের শরীরেও দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতার চাবিকাঠি স্তন্যপান করানো। তাঁরা জানাচ্ছেন, স্তন্যপান করালে শুধু শিশুর শরীর সুস্থ থাকে এমন নয়, মায়ের শরীর ও ভালো থাকে। স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, সন্তানকে পর্যাপ্ত স্তন্যপান করালে মায়ের আগামী দিনে স্তন ক্যান্সার এবং ডিম্বাশয়, জরায়ুর ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে। স্তন্যপান করালে শরীরে হরমোনের ভারসাম্য বজায় থাকে। ফলে, এই সমস্ত অঙ্গে ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, নিয়মিত পর্যাপ্ত স্তন্যপান করালে মায়ের প্রসব পরবর্তী রক্তক্ষরণ সহজেই বন্ধ হয়ে যায়। তাঁরা জানাচ্ছেন, বহু মায়ের প্রসব পরবর্তী কালে প্রচন্ড রক্তক্ষরণ শুরু হয়। কিন্তু ঠিকমতো স্তন্যপান করালে সেই রক্তক্ষরণ বন্ধ হয়। প্রসব পরবর্তী কালে মায়ের মানসিক অবসাদ হয়। সেই অবসাদ কমাতে স্তন্যপান সাহায্য করে বলেও জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, মায়ের শরীরে নানান হরমোনের পরিবর্তন হয়। ফলে, মানসিক অবসাদ‌ তৈরি হয়। সেই অবসাদ কাটাতে বাড়তি সাহায্য করে স্তন্যপান। তবে, সন্তানকে স্তন্যপান করানোর সময়ে মায়ের যত্ন জরুরি। মায়ের নিয়মিত পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবার খাওয়া জরুরি।‌ মায়ের পর্যাপ্ত জল খাওয়া দরকার। পাশপাশি মায়ের প্রয়োজন পর্যাপ্ত বিশ্রাম। সেই দিকে পরিবারের খেয়াল রাখার দায়িত্ব রয়েছে। নতুন মা এবং সন্তানের যত্ন যাতে ঠিকমতো হয়, আগামী প্রজন্ম যাতে সুস্থ ও মজবুত হতে পারে, সে নিয়ে সব মহলে সচেতনতা জরুরি।

LinkedIn
Share