Tag: মাধ্যম

  • ISRO NVS-03: আমজনতা থেকে সেনাবাহিনী, উপকৃত হবে কারা? এনভিএস-০৩ কেন ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ?

    ISRO NVS-03: আমজনতা থেকে সেনাবাহিনী, উপকৃত হবে কারা? এনভিএস-০৩ কেন ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ?

    সুশান্ত দাস

    মহাকাশ গবেষণায় আরও এক গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য ভারতের। দীর্ঘদিন ধরে কার্যত অকেজো হয়ে পড়া দেশের নিজস্ব স্যাটেলাইটভিত্তিক নেভিগেশন ব্যবস্থা নেভিগেশন উইথ ইন্ডিয়ান কনস্টেলেশন বা সংক্ষেপে ‘নাবিক’-কে (NavIC) পুনরুজ্জীবিত করার পথে বড় পদক্ষেপ করল ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো (ISRO)। শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর রাত ১১টা ৫১ মিনিটে শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টার থেকে সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হল এনভিএস-০৩ (NVS-03) স্যাটেলাইট।

    ইসরোর দ্বিতীয় প্রজন্মের নেভিগেশন স্যাটেলাইট সিরিজের এই তৃতীয় উপগ্রহের সফল উৎক্ষেপণ দেশের নিজস্ব স্যাটেলাইট-নির্ভর পজিশনিং, নেভিগেশন এবং টাইমিং (PNT) পরিষেবা— অর্থাৎ ব্যক্তি বা বস্তুর অবস্থান নির্ণয়, নেভিগেশন ও সময় নির্ধারণের পরিষেবা ফের চালু করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

    চলতি বছরে এটি ইসরোর তৃতীয় মহাকাশ অভিযান। ইসরোর চেয়ারম্যান ভি নারায়ণন উৎক্ষেপণের পর সাংবাদিক বৈঠকে জানান, বর্তমানে ভারতের কাছে তিনটি কার্যকর নেভিগেশন স্যাটেলাইট রয়েছে। এনভিএস-০৩ সফলভাবে যুক্ত হওয়ায় ‘নাবিক’-এর পজিশনিং, নেভিগেশন এবং টাইমিং পরিষেবা পুনরায় চালু করার জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম সংখ্যক কার্যকর স্যাটেলাইট পাওয়া সম্ভব হবে।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ ভারতের নিজস্ব ‘নাবিক’ ব্যবস্থা?

    ভারতের নিজস্ব নেভিগেশন ব্যবস্থা তৈরির ভাবনার পিছনে রয়েছে ১৯৯৯ সালের কার্গিল যুদ্ধের অভিজ্ঞতা। সেই সময় পাকিস্তানি সেনার গতিবিধি সম্পর্কে তথ্য পেতে সংঘর্ষপ্রবণ এলাকার মার্কিন জিপিএস (Global Positioning System) তথ্য ব্যবহারের চেষ্টা করেছিল ভারত। কিন্তু আমেরিকা সেই তথ্য দিতে অস্বীকার করে। এর ফলে যুদ্ধের মতো জরুরি পরিস্থিতিতে বিদেশি নিয়ন্ত্রণাধীন নেভিগেশন ব্যবস্থার উপর নির্ভরশীল থাকার ঝুঁকি স্পষ্ট হয়ে যায়।

    এই অভিজ্ঞতা থেকেই ভারত নিজস্ব আঞ্চলিক স্যাটেলাইট নেভিগেশন ব্যবস্থা তৈরির প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে। ২০০৬ সালে সরকার ইন্ডিয়ান রিজিওনাল নেভিগেশন স্যাটেলাইট সিস্টেম (IRNSS) প্রকল্পে অনুমোদন দেয়। প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল সাতটি স্যাটেলাইট নিয়ে একটি নক্ষত্রমণ্ডল তৈরি করা। এর মধ্যে তিনটি স্যাটেলাইট থাকবে জিওস্টেশনারি অরবিটে এবং চারটি থাকবে ইনক্লাইন্ড জিওস্টেশনারি অরবিটে।

    ভূ-পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩৫ হাজার কিলোমিটার উচ্চতায় পৃথিবীর বিষুবরেখার উপরে স্থির অবস্থানে থাকা কক্ষপথকে বলা হয় জিওস্টেশনারি অরবিট। অন্যদিকে, ইনক্লাইন্ড জিওস্টেশনারি অরবিটে হল এমন একটি কক্ষপথ, যা পৃথিবীর ঘূর্ণনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আবর্তিত হলেও নিরক্ষরেখার তুলনায় কিছুটা হেলানো অবস্থায় থাকে।

    ২০১৩ সালের জুলাই মাসে আইআরএনএসএস-১এ উৎক্ষেপণের মাধ্যমে এই প্রকল্পের যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তী ২০১৪ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে আরও ছয়টি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করে প্রাথমিক সাতটি উপগ্রহের নক্ষত্রমণ্ডল সম্পূর্ণ করে ইসরো। পরবর্তীকালে এই ব্যবস্থারই নামকরণ করা হয় ‘নাবিক’।

    কী কী কাজে ব্যবহার করা যায় ‘নাবিক’?

    ‘নাবিক’ শুধুমাত্র সাধারণ জিপিএস-এর বিকল্প নয়, এর রয়েছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অসামরিক ও কৌশলগত ব্যবহার। এর মাধ্যমে যানবাহনের অবস্থান নির্ণয় ও ট্র্যাকিং, সামুদ্রিক নেভিগেশন, বিপর্যয় মোকাবিলা এবং সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া মৎস্যজীবীদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।

    এই ব্যবস্থায় মূলত দু’ধরনের পরিষেবা রয়েছে—

    • ● স্ট্যান্ডার্ড পজিশনিং সার্ভিস (এসপিএস): সাধারণ নাগরিক এবং অসামরিক ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত নেভিগেশন পরিষেবা।

    • ● রেসট্রিক্টেড সার্ভিস (আরএস): নির্দিষ্ট অনুমোদিত ব্যবহারকারীদের জন্য এনক্রিপ্টেড পরিষেবা। ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী-সহ কৌশলগত ক্ষেত্রে এই পরিষেবা ব্যবহার করা যায়।

    অর্থাৎ, দেশের সাধারণ নাগরিকের দৈনন্দিন নেভিগেশন থেকে শুরু করে সামরিক ক্ষেত্রে নির্ভুল অবস্থান নির্ণয়—দু’ক্ষেত্রেই ‘নাবিক’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    কেন প্রয়োজন হল দ্বিতীয় প্রজন্মের এনভিএস স্যাটেলাইট?

    প্রাথমিক আইআরএনএসএস স্যাটেলাইটগুলির উৎক্ষেপণ ২০১৬ সালের মধ্যেই সম্পূর্ণ হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেগুলির কার্যক্ষমতা কমতে শুরু করে। মহাকাশে থাকা স্যাটেলাইটগুলির মেয়াদ শেষ হওয়া এবং গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশে ত্রুটি দেখা দেওয়ার কারণে ‘নাবিক’-এর পরিষেবা ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ে।

    এই পরিস্থিতিতে পুরনো স্যাটেলাইটগুলির পরিবর্তে আরও উন্নত উপগ্রহ পাঠানোর পরিকল্পনা নেয় ইসরো। সেই পরিকল্পনার ভিত্তিতেই তৈরি হয় দ্বিতীয় প্রজন্মের নেভিগেশন স্যাটেলাইট বা এনভিএস (NVS) সিরিজ।

    নতুন প্রজন্মের স্যাটেলাইটগুলির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি অ্যাটমিক ক্লক। পাশাপাশি, পুরনো এল৫ এবং এস ব্যান্ডের সঙ্গে নতুন করে যুক্ত করা হয়েছে এল১ ফ্রিকোয়েন্সি ব্যান্ড। এই এল১ ব্যান্ডের সংযোজন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, বিশ্বের অধিকাংশ সাধারণ নেভিগেশন ব্যবস্থা এবং স্মার্টফোনে এই ফ্রিকোয়েন্সি বহুল ব্যবহৃত হয়।

    ফলে এল১ সিগন্যাল যুক্ত হওয়ার কারণে ‘নাবিক’-এর সঙ্গে স্মার্টফোন এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক নেভিগেশন ডিভাইসের সামঞ্জস্য বাড়তে পারে। সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ব্যবহারে দেশের নিজস্ব নেভিগেশন ব্যবস্থাকে আরও সহজলভ্য করে তোলার ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

    কেন কার্যত অকেজো হয়ে পড়েছিল ‘নাবিক’?

    দ্বিতীয় প্রজন্মের স্যাটেলাইট পাঠানোর কাজ শুরু হলেও পুরনো স্যাটেলাইটগুলির একের পর এক যান্ত্রিক সমস্যার কারণে ‘নাবিক’-এর স্বাধীন পজিশনিং পরিষেবা কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।

    ২০১৬ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে আইআরএনএসএস-১এ স্যাটেলাইটের তিনটি রুবিডিয়াম অ্যাটমিক ক্লক-ই বিকল হয়ে যায়। এর ফলে স্যাটেলাইটটি দিয়ে নির্ভুল অবস্থান নির্ণয়ের কাজ করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীকালে সেটিকে মূলত মেসেজিং পরিষেবার জন্য ব্যবহার করা হয়।

    অন্যদিকে, ২০২৬ সালের ১৩ মার্চ ইসরো জানায়, আইআরএনএসএস-১এফ স্যাটেলাইটের অনবোর্ড অ্যাটমিক ক্লক কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, তার মাত্র তিন দিন আগেই স্যাটেলাইটটি তার নির্ধারিত ১০ বছরের কার্যক্ষমতার মেয়াদ সম্পূর্ণ করেছিল।

    একের পর এক স্যাটেলাইটে সমস্যা দেখা দেওয়ায় ‘নাবিক’-এর পিএনটি পরিষেবা দেওয়ার মতো কার্যকর উপগ্রহের সংখ্যা কমে দাঁড়ায় মাত্র তিনটিতে। সেগুলি হল আইআরএনএসএস-১বি, আইআরএনএসএস-১আই এবং এনভিএস-০১।

    কেন চারটি স্যাটেলাইট ছাড়া সম্ভব নয় নির্ভুল অবস্থান নির্ণয়?

    স্যাটেলাইট নেভিগেশন ব্যবস্থায় কোনও গ্রাহকের ত্রিমাত্রিক অবস্থান অর্থাৎ অক্ষাংশ, দ্রাঘিমাংশ ও উচ্চতা নির্ণয়ের জন্য অন্তত চারটি কার্যকর স্যাটেলাইটের সিগন্যাল প্রয়োজন। এর পাশাপাশি, নেভিগেশন রিসিভারের নিজস্ব ঘড়ির ত্রুটিও সংশোধন করতে হয়।

    সাধারণভাবে চারটি স্যাটেলাইটের সিগন্যাল ব্যবহার করে রিসিভার তার অবস্থান এবং সময় সংক্রান্ত ভুল হিসাব সংশোধন করতে পারে। কিন্তু ‘নাবিক’-এর ক্ষেত্রে পিএনটি পরিষেবা দেওয়ার মতো কার্যকর স্যাটেলাইটের সংখ্যা চারটির নীচে নেমে যাওয়ায় স্বাধীনভাবে অবস্থান নির্ণয়ের পরিষেবা ব্যাহত হয়।

    সেই জায়গাতেই এনভিএস-০৩-এর গুরুত্ব। ৩০ অক্টোবর জিএসএলভি-এফ১৮ (GSLV-F18) রকেটের মাধ্যমে সফল উৎক্ষেপণের পর এই স্যাটেলাইটটি কার্যকর হলে ‘নাবিক’-এর পিএনটি পরিষেবা পুনরুদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম চারটি কার্যকর স্যাটেলাইটের সংখ্যা পূরণ হতে পারে।

    এরপর কী? প্রস্তুত এনভিএস-০৪ এবং এনভিএস-০৫

    এনভিএস-০৩-এর সফল উৎক্ষেপণই অবশ্য ‘নাবিক’-এর সম্পূর্ণ সক্ষমতা ফিরে পাওয়ার শেষ ধাপ নয়। ইসরোর পরিকল্পনায় রয়েছে আরও দুটি উন্নত নেভিগেশন স্যাটেলাইট—এনভিএস-০৪ এবং এনভিএস-০৫। ইসরো সূত্রে জানা গিয়েছে, এই দুটি স্যাটেলাইটও উৎক্ষেপণের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং শীঘ্রই মহাকাশে পাঠানো হবে। এই স্যাটেলাইটগুলি যুক্ত হলে ‘নাবিক’-এর পরিষেবার নির্ভরযোগ্যতা ও কার্যক্ষমতা আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

    সব মিলিয়ে, এনভিএস-০৩-এর সফল উৎক্ষেপণ ভারতের মহাকাশ গবেষণার পাশাপাশি দেশের প্রযুক্তিগত ও কৌশলগত স্বনির্ভরতার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। কার্গিল যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে যে নিজস্ব নেভিগেশন ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয়েছিল, প্রায় আড়াই দশক পর সেই ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করে তোলার পথে এগোল ভারত। এবার নজর এনভিএস-০৩-এর কার্যকর হয়ে ওঠা এবং পরবর্তী দুই স্যাটেলাইটের উৎক্ষেপণের দিকে।

  • Sardar Patel 151st Birth Anniversary: ১৫১তম জন্মবার্ষিকীতে সর্দার প্যাটেলকে শ্রদ্ধা রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর, ‘রান ফর ইউনিটি’র সূচনা অমিত শাহের

    Sardar Patel 151st Birth Anniversary: ১৫১তম জন্মবার্ষিকীতে সর্দার প্যাটেলকে শ্রদ্ধা রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর, ‘রান ফর ইউনিটি’র সূচনা অমিত শাহের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের ঐক্য ও অখণ্ডতা রক্ষার ইতিহাসে যাঁর অবদান চিরস্মরণীয়, সেই সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের ১৫১তম জন্মবার্ষিকীতে শ্রদ্ধায় স্মরণ করছে গোটা দেশ। শনিবার, ৩১ অক্টোবর পালিত হচ্ছে রাষ্ট্রীয় একতা দিবস (Rashtriya Ekta Diwas) বা জাতীয় ঐক্য দিবস। স্বাধীনতার পর ৫৬০টিরও বেশি দেশীয় রাজ্যকে ভারতীয় ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত করে ঐক্যবদ্ধ রাষ্ট্র গঠনে তাঁর ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা এদিন বিশেষভাবে স্মরণ করা হচ্ছে। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, উপরাষ্ট্রপতি সি পি রাধাকৃষ্ণন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সর্দার প্যাটেলের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পাশাপাশি, দেশজুড়ে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে পালিত হচ্ছে জাতীয় ঐক্য দিবস।

    রাষ্ট্রপতি ও উপরাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা নিবেদন

    নয়াদিল্লির প্যাটেল চকে সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের মূর্তিতে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন করেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এবং উপরাষ্ট্রপতি সি পি রাধাকৃষ্ণন। স্বাধীন ভারতের প্রথম উপপ্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁরা তাঁর ঐতিহাসিক অবদানকে স্মরণ করেন। দেশের রাজনৈতিক সংহতি ও অখণ্ডতা প্রতিষ্ঠায় প্যাটেলের ভূমিকা জাতীয় ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।

    ‘অখণ্ড ভারতের স্থপতি’, সর্দার প্যাটেলকে শ্রদ্ধা মোদির

    সর্দার প্যাটেলের জন্মবার্ষিকীতে সমাজমাধ্যমে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁকে ‘অখণ্ড ভারতের স্থপতি’ এবং ‘জাতির লৌহমানব’ হিসেবে অভিহিত করেন প্রধানমন্ত্রী। মোদি লেখেন, শক্তিশালী, সমৃদ্ধ ও সক্ষম ভারত গড়ার লক্ষ্যে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন সর্দার প্যাটেল। মাতৃভূমির সেবায় তাঁর আত্মত্যাগ ও নিষ্ঠা আজও বিকশিত ও আত্মনির্ভর ভারত গড়ার পথে গভীর অনুপ্রেরণা জোগায়।

    প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য, দেশের ঐক্য ও সংহতি প্রতিষ্ঠায় প্যাটেলের অবদান কখনও ভোলার নয়। তাঁর দূরদর্শিতা, নেতৃত্ব এবং দেশ গঠনের প্রতি নিষ্ঠা আগামী প্রজন্মকেও অনুপ্রাণিত করবে। এদিন গুজরাটের একতা নগরে ‘স্ট্যাচু অফ ইউনিটি’-তেও শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী।

    ‘আধুনিক ভারতের স্থপতি’, প্যাটেলকে কুর্নিশ অমিত শাহের

    সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলকে আধুনিক ভারতের স্থপতি হিসেবে উল্লেখ করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সমাজমাধ্যমে দেওয়া বার্তায় তিনি লেখেন, জাতীয় ঐক্য ও অখণ্ডতার প্রতীক সর্দার প্যাটেলের জন্মবার্ষিকীতে তাঁকে কোটি কোটি প্রণাম। দেশবাসীকেও রাষ্ট্রীয় একতা দিবসের শুভেচ্ছা জানান তিনি।

    শাহের বক্তব্য, স্বাধীনতার পর দেশীয় রাজ্যগুলিকে একত্রিত করে একটি ঐক্যবদ্ধ রাষ্ট্র গঠনের ক্ষেত্রে প্যাটেলের সাহস, দূরদর্শিতা ও নেতৃত্ব ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর ঐতিহাসিক উদ্যোগের ফলেই ভারতের রাজনৈতিক ও ভৌগোলিক সংহতি সুদৃঢ় হয়েছিল।

    দিল্লিতে ‘রান ফর ইউনিটি’র সূচনা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

    রাষ্ট্রীয় একতা দিবস উপলক্ষে দিল্লির মেজর ধ্যানচাঁদ জাতীয় স্টেডিয়াম থেকে ‘রান ফর ইউনিটি’ (Run for Unity)-র সূচনা করেন অমিত শাহ। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, সর্দার প্যাটেল এমন এক ব্যক্তিত্ব, যিনি শুধু ভারতের ইতিহাসই বদলাননি, দেশের ভৌগোলিক মানচিত্র গঠনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন।

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কথায়, স্বাধীনতার পর ভারতকে ঐক্যবদ্ধ করার কাজ ছিল অত্যন্ত কঠিন। কিন্তু প্যাটেলের নেতৃত্ব ও দূরদর্শিতায় সেই অসম্ভব কাজ সম্ভব হয়েছিল। তাঁর তৈরি শক্তিশালী ভিত্তির উপর দাঁড়িয়েই আজ বিশ্বমঞ্চে গর্বের সঙ্গে নিজের অবস্থান তুলে ধরছে ভারত।

    ৫৬০টিরও বেশি দেশীয় রাজ্যের সংযুক্তিকরণে ঐতিহাসিক ভূমিকা

    ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল স্বাধীন ভারতের প্রথম উপপ্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন। ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতার পর দেশীয় রাজ্যগুলিকে ভারতীয় ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা ছিল ঐতিহাসিক। ৫৬০টিরও বেশি দেশীয় রাজ্যকে একত্রিত করে একটি শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ ভারত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তিনি। এই অসামান্য অবদানের জন্যই ইতিহাসে তিনি ‘ভারতের লৌহমানব’ (Iron Man of India) হিসেবে পরিচিত।

    তাঁর স্মৃতিতে গুজরাটের একতা নগরে নির্মিত হয়েছে বিশ্বের উচ্চতম মূর্তি ‘স্ট্যাচু অফ ইউনিটি’। সর্দার প্যাটেলের রাষ্ট্রগঠন, জাতীয় সংহতি ও ঐক্যের ভাবনাকে সম্মান জানাতেই প্রতি বছর তাঁর জন্মদিনে পালিত হয় রাষ্ট্রীয় একতা দিবস।

    দেশজুড়ে ঐক্যের শপথ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

    শুধু দিল্লি বা গুজরাট নয়, রাষ্ট্রীয় একতা দিবস উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আয়োজন করা হয়েছে নানা কর্মসূচির। সরকারি প্রতিষ্ঠান, স্কুল ও কলেজে নেওয়া হচ্ছে জাতীয় ঐক্য ও সংহতি রক্ষার শপথ। পাশাপাশি, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সচেতনতামূলক কর্মসূচি এবং ‘রান ফর ইউনিটি’র আয়োজন করা হচ্ছে বিভিন্ন জায়গায়।

    দেশের বৈচিত্র্যময় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিসরে ঐক্য, সম্প্রীতি, শান্তি ও ভ্রাতৃত্বের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। সর্দার প্যাটেলের জন্মবার্ষিকী তাই কেবল একজন মহান স্বাধীনতা সংগ্রামীকে স্মরণ করার দিন নয়, বরং দেশের অখণ্ডতা, নিরাপত্তা ও জাতীয় সংহতির প্রতি দায়বদ্ধতা পুনর্ব্যক্ত করারও উপলক্ষ।

  • Operation Fortress Siliguri: চিনের মোকাবিলায় শিলিগুড়ি করিডরে মহাপরিকল্পনা! ১২ ঘণ্টার পথ পাড়ি হবে মাত্র ৩ ঘণ্টায়, তৈরি হচ্ছে ৩৬ কিমির সুড়ঙ্গ

    Operation Fortress Siliguri: চিনের মোকাবিলায় শিলিগুড়ি করিডরে মহাপরিকল্পনা! ১২ ঘণ্টার পথ পাড়ি হবে মাত্র ৩ ঘণ্টায়, তৈরি হচ্ছে ৩৬ কিমির সুড়ঙ্গ

    সুশান্ত দাস

    উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে দেশের মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগ অক্ষুণ্ণ রাখতে শিলিগুড়ি করিডরকে (Siliguri Corridor) আরও সুরক্ষিত করার বড়সড় পরিকল্পনা নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। আগামী চার বছরের মধ্যে এই গুরুত্বপূর্ণ সামরিক পথকে দেশের অন্যতম নিরাপদ প্রতিরক্ষা করিডরে পরিণত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। চিনের সামরিক তৎপরতা, ডোকলাম সংঘাতের অভিজ্ঞতা এবং বাংলাদেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে এই উদ্যোগকে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দুর্গম পাহাড়ি রাস্তা ও একমুখী যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে সীমান্তে ভারী কামান ও সেনা পৌঁছতে যেখানে বর্তমানে ১২ থেকে ১৮ ঘণ্টা সময় লাগে, সেখানে তা কমে মাত্র ৩ ঘণ্টা হতে পারে।

    কেন এত গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডর?

    পশ্চিমবঙ্গের উত্তরাংশে অবস্থিত মাত্র ২২ কিলোমিটার চওড়া এই ভূখণ্ডটি পরিচিত ‘চিকেনস নেক’ (Chicken’s Neck) নামে। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আটটি রাজ্যের সঙ্গে দেশের বাকি অংশের স্থলপথে যোগাযোগের প্রধান সংযোগস্থল এটি। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর থেকেই এই করিডরের কৌশলগত গুরুত্ব অপরিসীম। এর দক্ষিণে বাংলাদেশ, পশ্চিমে নেপাল, উত্তরে ভুটান এবং উত্তর-পূর্বে চিনের চুম্বি উপত্যকা (Chumbi Valley)। ফলে চারটি প্রতিবেশী দেশের ভৌগোলিক অবস্থানের মাঝে অত্যন্ত সংবেদনশীল এই ভূখণ্ডের নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে প্রতিরক্ষা মহলে।

    বিশেষ করে চিনের চুম্বি উপত্যকা থেকে এই করিডরের উপর কৌশলগত নজরদারি সম্ভব। ২০১৭ সালের জুন মাসে ডোকলাম সংঘাতের সময় এই আশঙ্কা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। সেই ঘটনার পর থেকেই সিকিম ও শিলিগুড়ি করিডর সংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা পরিকাঠামো শক্তিশালী করার জন্য একাধিক প্রকল্প হাতে নেয় কেন্দ্র।

    ৩৬ কিলোমিটারের ভূগর্ভস্থ রেল সুড়ঙ্গ, শত্রুর আকাশপথের হামলাতেও সচল থাকবে যোগাযোগ

    এই সামরিক পরিকাঠামো উন্নয়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল ৩৬ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি ভূগর্ভস্থ রেল সুড়ঙ্গ নির্মাণের পরিকল্পনা। প্রস্তাবিত সুড়ঙ্গটি মাটির প্রায় ২০ মিটার গভীর দিয়ে তৈরি করা হবে। উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের খসড়া পরিকল্পনা অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের উত্তর দিনাজপুর জেলার তিন মাইল হাট থেকে শিলিগুড়ির কাছে রাঙাপানি পর্যন্ত বিস্তৃত হবে এই রেলপথ।

    ভারত, নেপাল ও বাংলাদেশের সীমান্তের কাছাকাছি এই রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরি হলে সামরিক পরিবহণে বড়সড় পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে শত্রুপক্ষের বিমান বা ড্রোন হামলার কারণে যাতে রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন না হয়, সেই লক্ষ্যেই ভূগর্ভস্থ পরিকাঠামোর উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে ভারী কামান, সামরিক সরঞ্জাম, গোলাবারুদ এবং প্রয়োজনীয় রসদ দ্রুত সীমান্তবর্তী সেনা ছাউনিতে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। অর্থাৎ, আকাশপথে হামলার আশঙ্কা থাকলেও সেনাবাহিনীর রসদ সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখার বিকল্প তৈরি হবে।

    ‘অপারেশন ফোর্ট্রেস শিলিগুড়ি’, ৫৩৪ কোটি টাকায় সাত স্তরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা

    শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থা নয়, শিলিগুড়ি করিডরের সামগ্রিক প্রতিরক্ষা বলয়কেও নতুন করে সাজানো হচ্ছে। ‘অপারেশন ফোর্ট্রেস শিলিগুড়ি’ (Operation Fortress Siliguri) পরিকল্পনার অধীনে প্রায় ৫৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে সাত স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে।

    এই পরিকল্পনায় রয়েছে পাঁচটি ভূগর্ভস্থ কমান্ড ও কন্ট্রোল সেন্টার, ছয়টি যোগাযোগ কেন্দ্র, ১২টি আকাশ প্রতিরক্ষা ও গোলাবারুদ সংরক্ষণ কেন্দ্র এবং ১২টি বাঙ্কার বা বোমা আশ্রয়স্থল। প্রস্তাবিত পরিকাঠামোর একটি বড় অংশ মাটির ২০ থেকে ২৪ মিটার গভীরে তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে।

    উত্তর সিকিমের ১৯ হাজার ফুট উচ্চতায় নাথু লা গিরিপথের কাছে চিনা সেনার উপস্থিতি এবং তিব্বত সীমান্ত বরাবর চিনের নতুন পরিকাঠামো ও বসতি নির্মাণের প্রেক্ষিতে এই নিরাপত্তা বলয়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। লক্ষ্য, ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন কিংবা আকাশপথে সম্ভাব্য হামলার মুখেও সেনাবাহিনীর কমান্ড ব্যবস্থা, যোগাযোগ এবং রসদ সরবরাহ যাতে অক্ষত থাকে।

    বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে চিনের ঘনিষ্ঠতা, বাড়ছে কৌশলগত উদ্বেগ

    শিলিগুড়ি করিডরের নিরাপত্তা নিয়ে ভারতের উদ্বেগের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ বাংলাদেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতি। অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল হিমালয় সিংয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, নেপাল, বাংলাদেশ, চিন ও ভুটান দ্বারা পরিবেষ্টিত হওয়ায় এই করিডর ভারতের অত্যন্ত স্পর্শকাতর একটি ‘সফট স্পট’ বা দুর্বল কৌশলগত অবস্থান। বিশেষ করে চিনের চুম্বি উপত্যকা থেকে এই অঞ্চলের উপর নজর রাখা সম্ভব।

    তাঁর মতে, বাংলাদেশে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর আঞ্চলিক নিরাপত্তার সমীকরণে কিছু পরিবর্তন ঘটেছে। তিস্তা নদীকে কেন্দ্র করে চিন ও বাংলাদেশের যৌথ সমীক্ষা এবং লালমনিরহাটের পুরনো বিমানবন্দর পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগও ভারতের নিরাপত্তা মহলে নজরে রয়েছে।

    এই পরিস্থিতিতে শিলিগুড়ি করিডর ও সিকিম সংলগ্ন এলাকায় ভূগর্ভস্থ সামরিক পরিকাঠামো এবং একাধিক স্তরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।

    ‘চিকেনস নেক’ থেকে ‘এলিফ্যান্টস ট্রাঙ্ক’, বদলাচ্ছে সেনার প্রতিরক্ষা কৌশল

    শিলিগুড়ি করিডরকে ঘিরে ভারতীয় সেনার প্রতিরক্ষা কৌশলেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। সামরিক মহলের একাংশের আলোচনায় ‘চিকেনস নেক’-এর পরিবর্তে ‘এলিফ্যান্টস ট্রাঙ্ক’ (Elephant’s Trunk) নামটিও উঠে আসছে। এর পিছনে রয়েছে করিডর সংলগ্ন এলাকায় একাধিক নতুন সামরিক ঘাঁটি এবং নজরদারি পরিকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা।

    অসমের লাচিত বোরফুকন মিলিটারি স্টেশন পূর্বাঞ্চলীয় সামরিক পরিকাঠামোর রসদ ও লজিস্টিক ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বিহারের কিশানগঞ্জে নতুন সামরিক উপস্থিতি পশ্চিম দিকের যোগাযোগপথের উপর নজরদারি বাড়াতে পারে। অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গের চোপড়া সীমান্তবর্তী এলাকায় সেনার উপস্থিতি করিডরের নিরাপত্তা বলয়কে আরও শক্তিশালী করার কৌশলের অংশ।

    এর পাশাপাশি সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনীর (BSF) বিদ্যমান নজরদারি ব্যবস্থাও রয়েছে। ফলে আগে যেখানে করিডরের নিরাপত্তা অনেকটাই একটি সরু ভূখণ্ডের উপর নির্ভরশীল ছিল, সেখানে এখন একাধিক দিক থেকে নজরদারি ও প্রতিরোধের ব্যবস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে।

    এস-৪০০, ব্রহ্মস ও রাফাল, চিনের চুম্বি উপত্যকাকে নিশানায় রেখে প্রস্তুতি

    শিলিগুড়ি করিডরের নিরাপত্তা শুধু স্থলপথে সেনা মোতায়েনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। আকাশ প্রতিরক্ষা ও আক্রমণাত্মক সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির উপরও জোর দেওয়া হচ্ছে। পূর্বাঞ্চলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্রের রেজিমেন্ট এবং হাসিমারা বিমানঘাঁটিতে রাফাল যুদ্ধবিমানের উপস্থিতি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

    এই সামরিক সক্ষমতার অন্যতম কৌশলগত লক্ষ্য চিনের চুম্বি উপত্যকা সংলগ্ন অঞ্চল। ২০১৭ সালের ডোকলাম সংঘাতের সময় যে ভৌগোলিক অবস্থানকে কেন্দ্র করে ভারত ও চিনের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল, সেই অঞ্চলকে মাথায় রেখেই প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে।

    সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, কোনও সড়ক বা রেলপথ অবরুদ্ধ করা তুলনামূলকভাবে সহজ হলেও উন্নত রেডার, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং যুদ্ধবিমানের সমন্বিত উপস্থিতি প্রতিপক্ষের সামরিক পরিকল্পনাকে অনেক বেশি জটিল করে তুলতে পারে।

    বিকল্প যোগাযোগপথ হিসেবে কালাদান প্রকল্প, গুরুত্বপূর্ণ থিয়েটার কমান্ড

    শিলিগুড়ি করিডরের উপর নির্ভরতা কমানোর জন্য বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থার দিকেও নজর দিচ্ছে ভারত। মায়ানমারের মধ্য দিয়ে কালাদান মাল্টিমোডাল ট্রানজিট ট্রান্সপোর্ট প্রকল্প (Kaladan Multi-Modal Transit Transport Project) এবং নতুন রেল ও সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা সেই পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

    এর ফলে কোনও সংঘাতের পরিস্থিতিতে শিলিগুড়ি করিডর সাময়িকভাবে বিপর্যস্ত হলেও উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ ও রসদ সরবরাহের বিকল্প পথ ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হতে পারে। যদিও কালাদান প্রকল্পের সম্পূর্ণ কার্যকর হয়ে ওঠার বিষয়টি এখনও গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।

    অন্যদিকে, ভারতের প্রস্তাবিত থিয়েটার কমান্ড ব্যবস্থা কার্যকর হলে এই অঞ্চলের সামরিক পরিচালনাতেও পরিবর্তন আসতে পারে। বর্তমানে করিডরের উত্তর ও দক্ষিণ অংশের নিরাপত্তা এবং সামরিক পরিচালনার দায়িত্ব পৃথক কমান্ড কাঠামোর অধীনে রয়েছে। ভবিষ্যতে চিনকে সামনে রেখে একটি সমন্বিত উত্তরাঞ্চলীয় কমান্ড গঠিত হলে সেনা, বিমানবাহিনী এবং অন্যান্য প্রতিরক্ষা বাহিনীর মধ্যে দ্রুত সমন্বয় সম্ভব হবে। তবে এই থিয়েটার কমান্ড সংস্কারের জন্য এখনও কেন্দ্রীয় স্তরে চূড়ান্ত অনুমোদন প্রয়োজন।

    কেন ২০২৯ ভারতের কাছে গুরুত্বপূর্ণ?

    সব মিলিয়ে, শিলিগুড়ি করিডরকে ঘিরে ভারতের পরিকল্পনা শুধুমাত্র একটি রেল সুড়ঙ্গ বা কয়েকটি সামরিক ঘাঁটি তৈরির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর মূল উদ্দেশ্য হল উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রায় চার কোটি মানুষের সঙ্গে দেশের মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগ সুরক্ষিত রাখা এবং সম্ভাব্য যুদ্ধ পরিস্থিতিতে দ্রুত সেনা মোতায়েনের সক্ষমতা তৈরি করা।

    ৩৬ কিলোমিটারের ভূগর্ভস্থ রেলপথ, সাত স্তরের প্রতিরক্ষা বলয়, নতুন সামরিক ঘাঁটি, উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং বিকল্প যোগাযোগপথ—সব মিলিয়ে পূর্ব সীমান্তে একটি সমন্বিত প্রতিরক্ষা কাঠামো গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে।

    তবে এই পরিকল্পনার সাফল্য নির্ভর করবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পগুলির বাস্তবায়ন, বিভিন্ন বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় এবং বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থার কার্যকারিতার উপর। ২০২৯ সালের মধ্যে লক্ষ্য পূরণ হলে ভারতের উত্তর-পূর্ব সীমান্তের সামরিক প্রস্তুতিতে তা নিঃসন্দেহে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।

  • Indian Navy: ৪০ হাজার কোটির স্টেলথ করভেট প্রকল্পে সিলমোহর কেন্দ্রের! নৌবাহিনীর জন্য তৈরি হবে ৮টি অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ

    Indian Navy: ৪০ হাজার কোটির স্টেলথ করভেট প্রকল্পে সিলমোহর কেন্দ্রের! নৌবাহিনীর জন্য তৈরি হবে ৮টি অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় নৌবাহিনীর শক্তি আরও বাড়াতে বড় পদক্ষেপ কেন্দ্রের। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন ক্যাবিনেট কমিটি অন সিকিউরিটি (CCS) ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য ৮টি নেক্সট জেনারেশন করভেট (Next Generation Corvettes) তৈরির প্রকল্পে অনুমোদন দিয়েছে। প্রকল্পের আনুমানিক ব্যয় ৪০ হাজার কোটি টাকারও বেশি। কলকাতার গার্ডেনরিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স (GRSE) এবং গোয়া শিপইয়ার্ড লিমিটেড (GSL) এই যুদ্ধজাহাজগুলি তৈরি করবে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই দুই রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে।

    এই প্রকল্প শুধু ভারতীয় নৌবাহিনীর যুদ্ধক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নয়, দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদন, অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ এবং ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে (IOR) ভারতের কৌশলগত উপস্থিতি জোরদার করার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

    কী বিশেষত্ব এই নেক্সট জেনারেশন করভেটগুলির?

    প্রস্তাবিত আটটি করভেট হবে প্রায় ২,০০০ টন ওজনের উচ্চগতিসম্পন্ন যুদ্ধজাহাজ। ঘণ্টায় নয়, নৌবাহিনীর প্রচলিত গতির একক নট অনুযায়ী, এগুলির সর্বোচ্চ গতি হতে পারে প্রায় ৩০ নট। ভারতীয় নৌবাহিনীর নিজস্ব নকশায় তৈরি এই যুদ্ধজাহাজগুলিতে ব্যবহার করা হবে অত্যাধুনিক জাহাজ নির্মাণ প্রযুক্তি এবং স্টেলথ প্রযুক্তি। ফলে শত্রুপক্ষের নজরদারি ব্যবস্থাকে ফাঁকি দেওয়ার সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের সামরিক অভিযানে এগুলিকে ব্যবহার করা সম্ভব হবে।

    নকশার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল বহুমুখী অভিযানে অংশ নেওয়ার ক্ষমতা। সমুদ্রপৃষ্ঠে শত্রুর যুদ্ধজাহাজের বিরুদ্ধে অভিযান, সাবমেরিন শনাক্ত ও মোকাবিলা এবং আকাশপথ থেকে আসা হুমকি প্রতিহত করার মতো কাজে ব্যবহার করা যাবে এই করভেটগুলি। পাশাপাশি নজরদারি, যুদ্ধজাহাজকে এসকর্ট করা, উপকূলীয় প্রতিরক্ষা, অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা বজায় রাখার মতো দায়িত্বও পালন করতে পারবে এগুলি।

    উন্নত সেন্সর, অস্ত্রব্যবস্থা, স্টেলথ নকশা এবং উচ্চ চালনক্ষমতার সমন্বয়ে ভারতীয় নৌবাহিনীর অভিযানের পরিধি বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষত উপকূলবর্তী জলসীমা থেকে শুরু করে ভারত মহাসাগরের বিস্তৃত এলাকায় দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানো এবং একাধিক ধরনের সামরিক অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে এই যুদ্ধজাহাজগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

    ৫টি যুদ্ধজাহাজ তৈরি করবে জিআরএসই, বাকি ৩টি জিএসএল

    প্রকল্পটির দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে দুই রাষ্ট্রায়ত্ত জাহাজ নির্মাণ সংস্থার মধ্যে। বাণিজ্যিক দরপত্র খোলার পর ২০২৫ সালের মে মাসে জিআরএসই সর্বনিম্ন দরদাতা বা L1 হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিল। পরিকল্পনা অনুযায়ী, কলকাতার জিআরএসই তৈরি করবে পাঁচটি করভেট। বাকি তিনটি তৈরি করবে গোয়া শিপইয়ার্ড লিমিটেড। দুই সংস্থার ক্ষেত্রেই প্রতি যুদ্ধজাহাজের নির্মাণমূল্য একই রাখার কথা।

    কলকাতার জিআরএসই-র জন্য এই প্রকল্প বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। বড় অঙ্কের এই বরাত সংস্থাটির দীর্ঘমেয়াদি কাজের নিশ্চয়তা বাড়াবে। পাশাপাশি গোয়া শিপইয়ার্ডের উৎপাদন ও নির্মাণ পরিকাঠামোও উপকৃত হবে। যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প (MSME), যন্ত্রাংশ সরবরাহকারী এবং অন্যান্য সহযোগী সংস্থার কাছেও নতুন কাজের সুযোগ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে হাজার হাজার কর্মসংস্থান তৈরির আশা করা হচ্ছে।

    ৭০ শতাংশের বেশি দেশীয় প্রযুক্তি ও উপকরণ

    প্রকল্পটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল দেশীয় উপাদানের ব্যবহার। আটটি যুদ্ধজাহাজ নির্মাণে ৭০ শতাংশের বেশি দেশীয় সামগ্রী ও প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতা বাড়ানোর পাশাপাশি দেশীয় জাহাজ নির্মাণ শিল্প, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং সরবরাহ শৃঙ্খল আরও শক্তিশালী হতে পারে।

    কেন্দ্রের আত্মনির্ভর ভারত (Atmanirbhar Bharat) উদ্যোগের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে। বিদেশি প্রযুক্তি ও সরঞ্জামের উপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় নকশা, উৎপাদন এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়ানোই এর অন্যতম লক্ষ্য।

    একই সঙ্গে প্রকল্পটি ভারতের SAGAR—Security and Growth for All in the Region—ভাবনার সঙ্গেও সম্পর্কিত। ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সামুদ্রিক নিরাপত্তা, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং ভারতের উপস্থিতি জোরদার করার ক্ষেত্রে আধুনিক যুদ্ধজাহাজের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

    ২০৩০ সালের মধ্যে প্রথম যুদ্ধজাহাজ হাতে পাওয়ার লক্ষ্য

    প্রকল্পের অনুমোদন মিললেও এবার মূল নজর নির্মাণের সময়সীমার দিকে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আগামী এক বছরের মধ্যে প্রথম করভেটের নির্মাণকাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে প্রথম যুদ্ধজাহাজটি নৌবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে নির্মাণের সময় আরও কমিয়ে আনা যায় কি না, তা নিয়েও দুই শিপইয়ার্ডের তরফে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

    পরবর্তী যুদ্ধজাহাজগুলির সরবরাহ ধাপে ধাপে সম্পন্ন হবে। প্রকল্পের বাস্তবায়ন কত দ্রুত এগোয়, তার উপর নির্ভর করবে নৌবাহিনী কত তাড়াতাড়ি নতুন করভেটগুলিকে সক্রিয় পরিষেবায় অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে।

    ২০২২ সালে শুরু, এবার চূড়ান্ত অনুমোদন

    নেক্সট জেনারেশন করভেট তৈরির পরিকল্পনা বেশ কয়েক বছর ধরেই বিবেচনাধীন ছিল। ২০২২ সালের জুন মাসে প্রতিরক্ষা অধিগ্রহণ পরিষদ (Defence Acquisition Council) আটটি করভেট নির্মাণের জন্য Acceptance of Necessity বা প্রাথমিক প্রয়োজনীয়তার অনুমোদন দেয়। সেই সময় প্রকল্পের আনুমানিক ব্যয় ছিল প্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকা।

    এরপর দরপত্র প্রক্রিয়া, ২০২৫ সালের মে মাসে জিআরএসই-র সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে নির্বাচিত হওয়া এবং ২০২৬ সালে মূল্য নিয়ে আলোচনা-সহ একাধিক ধাপ অতিক্রম করে প্রকল্পটি। এদিকে নৌবাহিনীর ওয়ারশিপ ডিজাইন ব্যুরোর সহযোগিতায় নেভাল সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিক্যাল ল্যাবরেটরি (NSTL) সফলভাবে হাইড্রোডাইনামিক মডেল পরীক্ষাও সম্পন্ন করেছে। এবার CCS-এর অনুমোদনের ফলে চুক্তি স্বাক্ষর এবং নির্মাণকাজ শুরুর পথ আরও প্রশস্ত হল।

    চিনের উপস্থিতির মধ্যে কেন গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্প?

    ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চিনের ক্রমবর্ধমান সামুদ্রিক উপস্থিতি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার পরিবর্তিত পরিস্থিতির মধ্যে ভারতীয় নৌবাহিনীর আধুনিকীকরণ বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে শুধু বড় যুদ্ধজাহাজ নয়, দ্রুতগতিসম্পন্ন এবং বিভিন্ন ধরনের অভিযানে সক্ষম করভেটও নৌবাহিনীর কৌশলগত পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ।

    প্রস্তাবিত করভেটগুলি ভারতীয় নৌবাহিনীর পুরনো খুখরি-শ্রেণি ও কোরা-শ্রেণির করভেটগুলির জায়গা নিতে পারে বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে নতুন যুদ্ধজাহাজগুলির কার্যকরী সক্ষমতা শুধু পুরনো জাহাজের বিকল্প হিসেবেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। নজরদারি, এসকর্ট, উপকূলীয় প্রতিরক্ষা এবং সমুদ্রপথে দ্রুত সামরিক প্রতিক্রিয়ার ক্ষেত্রেও এগুলি নৌবাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে পারে।

    বর্তমানে নৌবাহিনীর আধুনিকীকরণ কর্মসূচিতে নীলগিরি-শ্রেণির ফ্রিগেট, পরবর্তী প্রজন্মের ডেস্ট্রয়ার এবং ফ্লিট সাপোর্ট শিপের মতো বিভিন্ন ধরনের প্ল্যাটফর্ম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সেই বৃহত্তর পরিকল্পনার সঙ্গে আটটি নেক্সট জেনারেশন করভেট যুক্ত হলে ভারতীয় নৌবাহিনীর হাতে আরও আধুনিক ও বহুমুখী যুদ্ধজাহাজের সমন্বয় তৈরি হবে।

    সব মিলিয়ে, ৪০ হাজার কোটি টাকারও বেশি মূল্যের এই প্রকল্প প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি ভারতীয় নৌবাহিনীর সামুদ্রিক অভিযান পরিচালনার সক্ষমতা বৃদ্ধির একটি বড় পদক্ষেপ। এখন চুক্তি স্বাক্ষর, নির্মাণের অগ্রগতি এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যুদ্ধজাহাজ সরবরাহ—এই তিনটি বিষয়ই প্রকল্পের সাফল্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

  • Down Syndrome: একটি ক্রোমোজোমের হেরফেরেই বদলে যায় জীবন! কী এই ডাউন সিনড্রোম?

    Down Syndrome: একটি ক্রোমোজোমের হেরফেরেই বদলে যায় জীবন! কী এই ডাউন সিনড্রোম?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    একটি ক্রোমোজোমের হেরফের! বদলে যায় জীবন! যাপনের ভঙ্গি! এমনকি বোঝার ও শেখার ক্ষমতাতেও পরিবর্তন আনে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় যাকে বলে ডাউন সিনড্রোম। জন্মের সময় থেকেই শিশু এই সমস্যায় আক্রান্ত থাকে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ঠিকমতো যত্ন না নিলে, পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে যায়। অক্টোবর মাস ডাউন সিনড্রোম সচেতনতা মাস হিসাবে পালন করা হয়। এই সমস্যা সম্পর্কে সমাজের সর্বস্তরে জানানো এবং সচেতন করা অত্যন্ত জরুরি বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, পরিবার ও সমাজ সচেতন ও সংবেদনশীল হলে তবেই ডাউন সিনড্রোম আক্রান্তের জীবন যাপন সহজ হবে। সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে পারবেন।

    ডাউন সিনড্রোম কী?

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, ডাউন সিনড্রোম এমন একটি জিনগত অবস্থা, যা শিশুর শারীরিক বিকাশ, শেখার ক্ষমতা এবং বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশকে প্রভাবিত করতে পারে। তবে ডাউন সিনড্রোম নিয়ে জন্মানো মানেই যে শিশু স্বাভাবিক পারিবারিক জীবন, পড়াশোনা, খেলাধুলো কিংবা সামাজিক জীবনে অংশ নিতে পারবে না, তা নয়। সঠিক সময়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, বিশেষ শিক্ষার ব্যবস্থা, পরিবারের সহযোগিতা এবং উপযুক্ত সরকারি সহায়তা পেলে অনেক শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ যথেষ্ট স্বনির্ভর জীবন কাটাতে পারেন।

    কেন হয় ডাউন সিনড্রোম?

    মানুষের শরীরের কোষে সাধারণত ৪৬টি ক্রোমোজোম থাকে, যা ২৩ জোড়ায় সাজানো। ক্রোমোজোমের মধ্যে থাকা জিন শরীরের বৃদ্ধি ও বিকাশ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ডাউন সিনড্রোমে সাধারণত ২১ নম্বর ক্রোমোজোমের দুটি কপির বদলে তিনটি কপি থাকে। একে ট্রাইসোমি ২১ বলা হয়। এর ফলে শিশুর বিকাশের ধরনে কিছু পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটি কোষ বিভাজনের সময় আকস্মিকভাবে ঘটে। সাধারণত এটি প্রতিরোধ করার কোনও নির্দিষ্ট উপায় নেই। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, গর্ভধারণের সময় মায়ের বয়স ৩৫ বা তার বেশি হলে ডাউন সিনড্রোমের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

    প্রথম থেকে নেওয়া কোন পদক্ষেপ সহজ করবে ডাউন সিনড্রোম আক্রান্তের জীবন যাপন?

    প্রত্যেক শিশুর চাহিদা, বোঝার ক্ষমতা এবং মানিয়ে নেওয়ার শক্তি আলাদা! ডাউন সিনড্রোম আক্রান্তের ক্ষেত্রেও তাই। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, সন্তান ডাউন সিনড্রোম আক্রান্ত হলে প্রথম থেকেই অভিভাবকদের কয়েকটি পদক্ষেপ ভাবনা চিন্তা করে নেওয়া জরুরি। তাহলে ছোটো থেকেই তাদের জীবন যাপন অনেকটাই স্বাভাবিক হবে।

    স্কুল নির্বাচনে বাড়তি নজরদারি!

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, এলাকার ভালো স্কুল বা নামী স্কুল হলেই চলবে না। ডাউন সিনড্রোম আক্রান্ত সন্তানের জন্য তার উপযুক্ত স্কুল নির্বাচন করতে হবে। স্কুলে ভর্তির সময়ে খেয়াল রাখতে হবে, বিশেষ শিশুকে দেখভাল করা এবং শেখানোর মতো উপযুক্ত প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত শিক্ষক রয়েছেন কিনা!
    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শিশুর শেখার ক্ষমতা ও প্রয়োজন অনুযায়ী অন্তর্ভুক্তিমূলক স্কুল, বিশেষ শিক্ষকের সাহায্য এবং ব্যক্তিগত শিক্ষণ পরিকল্পনা ডাউন সিনড্রোম আক্রান্তের জীবনের বিকাশের কাজে বিশেষ সাহায্য করতে পারে। ছবি, খেলা, ছড়া, পুনরাবৃত্তি এবং ছোট ছোট নির্দেশের সাহায্যে শেখানো অনেক শিশুর ক্ষেত্রে বিশেষ কার্যকর হয়। সন্তানের কোন দিকে শেখার আগ্রহ হচ্ছে, কীভাবে সেটা কার্যকর হয়, সেদিকে বাড়তি খেয়াল রাখতে হবে। তবেই আক্রান্ত শিশুর মানসিক বিকাশ সম্ভব।

    নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা জরুরি!

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, ডাউন সিনড্রোম আক্রান্ত শিশুর মানসিক ও বৌদ্ধিক বিকাশের সমস্যা ছাড়াও নানান শারীরিক জটিলতা থাকতে পারে। তাই ভোগান্তি রুখতে ও জীবন যাপন সহজ করতে নিয়মিত শারীরিক পরীক্ষা করানো জরুরি। তাঁদের পরামর্শ, ডাউন সিনড্রোম আক্রান্ত শিশুর জন্মগত হৃদ্‌যন্ত্রের সমস্যা, শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তি, থাইরয়েড, দাঁত, বৃদ্ধি এবং ঘুমের সমস্যা আছে কি না, সেটা নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষজ্ঞর পরামর্শে পরীক্ষা করাতে হবে। সমস্যা দ্রুত শনাক্ত হলে উপযুক্ত চিকিৎসাও করতে হবে। পাশাপাশি জীবন যাপন সহজ করতে কিছু থেরাপিও প্রয়োজন। ছোটো থেকেই এই থেরাপিগুলো ধারাবাহিকভাবে করতে পারলে শিশুদের নানান সমস্যা কমে। পেশি ও স্নায়ুর সক্রিয়তা বাড়ে। এমনকি বৌদ্ধিক জটিলতাও কমতে পারে।

    খেলাধুলো ও সামাজিক মেলামেশার সুযোগ প্রয়োজন!

    মনস্তাত্ত্বিকদের একাংশ জানাচ্ছেন, বয়স ও শারীরিক ক্ষমতা অনুযায়ী ডাউন সিনড্রোম আক্রান্ত শিশুকে নানান সৃজনশীল কাজের সঙ্গে যুক্ত করা জরুরি। পাশপাশি নিয়মিত খেলাধুলোর অভ্যাস তৈরি করাও প্রয়োজন। এতে একাধিক শারীরিক ও মানসিক জটিলতা কমবে। মস্তিষ্কের বিকাশের কাজ সহজ হবে। অভিভাবকদের জন্য তাঁদের পরামর্শ, খেলাধুলো, গান, নাচ, আঁকা, সাঁতার বা অন্য পছন্দের কাজে অংশ নিতে উৎসাহিত করতে হবে। ডাউন সিনড্রোম আক্রান্তকে অন্য শিশুদের সঙ্গে মেলামেশার সুযোগ গড়ে দিতে হবে। যাতে তাদের আত্মবিশ্বাস ও সামাজিক যোগাযোগের দক্ষতা বাড়ে।

    ডাউন সিনড্রোম আক্রান্তের জন্য সরকারি সহযোগিতা কি রয়েছে?

    স্বাস্থ্য প্রশাসনের কর্তারা জানাচ্ছেন, সন্তান ডাউন সিনড্রোম আক্রান্ত হলে, রোগ নির্ণয়ের উপযুক্ত তথ্য সহ নিজের জেলার সরকারি মেডিক্যাল কলেজ বা জেলা হাসপাতালের প্রতিবন্ধকতা মূল্যায়ন বিভাগে অভিভাবকদের যোগাযোগ করতে হবে। তাহলে প্রয়োজনীয় নথি পরীক্ষার পরে জেলা সমাজকল্যাণ দফতর বা District Disability Rehabilitation Centre (DDRC) থেকে যোগাযোগ করা হবে। প্রয়োজনীয় শংসাপত্র দেওয়া হবে। যা থেকে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষ হিসাবে ডাউন সিনড্রোম আক্রান্ত নানান সামাজিক প্রকল্পের সুযোগ ও সুবিধা পাবেন‌। সরকারের তরফে নানান প্রকল্প রয়েছে। যেখানে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষদের সম্মানের সঙ্গে বাঁচার পথ সহজ হয়।

     

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
  • Malaria in West Bengal: অক্টোবরের শেষেও বৃষ্টি! বাড়ছে ম্যালেরিয়ার ঝুঁকি, শীতেও কি বাড়বে সংক্রমণ? উদ্বেগে স্বাস্থ্য মহল

    Malaria in West Bengal: অক্টোবরের শেষেও বৃষ্টি! বাড়ছে ম্যালেরিয়ার ঝুঁকি, শীতেও কি বাড়বে সংক্রমণ? উদ্বেগে স্বাস্থ্য মহল

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    বর্ষার মরশুম শেষ হলেও বৃষ্টি পিছু ছাড়ছে না। নিম্নচাপের জেরে আকাশে কালো মেঘ জমাট বাঁধছে। হেমন্তের শুরুতেও রাজ্যজুড়ে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির উপস্থিতি টের পাওয়া যাচ্ছে। আর তার মাঝেই বিপদ বাড়াচ্ছে ম‌্যালেরিয়া। ডেঙ্গির প্রকোপ নিয়ে চিন্তিত স্বাস্থ্য দফতর। রাজ্যের একাধিক জেলায় ডেঙ্গি রুখতে সক্রিয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আর তার মাঝেই ক্রমশ শক্তি বাড়াচ্ছে ম্যালেরিয়া। বিশেষজ্ঞদের একাংশের আশঙ্কা, শীতেও রেহাই পাওয়া যাবে না। বরং, সতর্ক না হলেই বড় বিপদ ঘটতে পারে।

    শীতেও কি দাপট দেখাতে পারে ম্যালেরিয়া?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শীতের মরশুম এলেই মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি কমে যাবে, এমনটা একেবারেই নয়। বছরভর মশাবাহিত রোগের দাপট রয়েছে। শীতে কিছুটা কমলেও, একেবারে হবে না, একথা বলা যায় না। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, চলতি বছরে শীতকালেও রাজ্যের একাধিক জেলায় ম্যালেরিয়ার দাপট চলবে। এই বছরে কলকাতা, উত্তর চব্বিশ পরগনা, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা, নদীয়া এবং মুর্শিদাবাদে ম্যালেরিয়া আক্রান্তের সংখ্যা যথেষ্ট উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। অতিরিক্ত বৃষ্টির জেরে বিভিন্ন এলাকায় জল জমছে। ফলে মশাবাহিত রোগের দাপট ও জারি রয়েছে। মশার বংশবিস্তারের জেরেই ম্যালেরিয়ার দাপট বেড়েছে বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাই শীতকালেও মশাবাহিত এই রোগের প্রকোপ থাকবে।

    রাজ্যে ম্যালেরিয়ার প্রকোপ কতখানি?

    স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে এখনো পর্যন্ত ৫ হাজারের বেশি মানুষ এই রাজ্যে ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। কলকাতা, উত্তর চব্বিশ পরগনা, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা, হাওড়া, নদীয়া, মুর্শিদাবাদ জেলায় ম্যালেরিয়ার প্রকোপ যথেষ্ট উদ্বেগজনক। পাশপাশি মালদা, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ারের মতো জেলাগুলোতেও ম্যালেরিয়ার প্রকোপ দেখা দিচ্ছে। বর্ষার মরশুমে ডেঙ্গির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ম্যালেরিয়ার দাপট বেড়েছে।‌ তাই সেই এলাকাগুলোয় শীতকালেও মশাবাহিত রোগ সংক্রমণের ঝুঁকি থাকবে।

    আবহাওয়ার পরিবর্তনের জেরেই কি ম্যালেরিয়ার প্রকোপ বাড়ছে?

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, আবহাওয়ার পরিবর্তন ম্যালেরিয়ার মতো রোগের দাপট বাড়ানোর অন্যতম কারণ। বিশেষত, ভাইরাস ঘটিত একাধিক রোগের চরিত্র বদল হচ্ছে। ম‌্যালেরিয়ারও চরিত্র বদল হয়েছে। সংক্রমণের পরেও চরিত্র বদল করছে। অনেক সময়েই তাই আক্রান্তের শরীরে নতুন ধরনের জটিলতা দেখা দিচ্ছে।
    তাছাড়া শীতের মরশুমেও ম্যালেরিয়া সংক্রমণ অব্যহত থাকছে। তার অন্যতম কারণ মশার বংশবিস্তার ক্রমশ হচ্ছে। লাগাতার বৃষ্টির জেরে জমা জলের সমস্যা থাকছে। রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় অক্টোবরের শেষ সপ্তাহেও জমা জলের সমস্যা থাকছে। এর জেরে মশার বংশবিস্তার হচ্ছে। তাই শীতেও মশা বাহিত রোগের প্রকোপ দেখা দিচ্ছে।

    শিশুদের কি ম্যালেরিয়ার টিকা দেওয়া যাবে?

    শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, ম্যালেরিয়া রুখতে শিশুদের টিকা দেওয়া যেতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ মতো শিশুদের ম্যালেরিয়ার টিকা দেওয়া যেতে পারে। সে সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য ও সুপারিশ রয়েছে। শিশুর পাঁচ বছর বয়সের পরে এই টিকাকরণ করা সম্ভব। তবে কতগুলো ডোজ দিতে হবে, সে নিয়েও নির্দিষ্ট তথ্য রয়েছে। তাঁরা জানাচ্ছেন, চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে প্রয়োজন অনুযায়ী, শিশুকে ম্যালেরিয়ার টিকা দেওয়া যেতে পারে।
    শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, স্থানীয় সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করলেই শিশুর ম্যালেরিয়ার টিকাকরণ সম্পর্কে সমস্ত তথ্য পাওয়া যাবে। ভারতে এই টিকা করণের ব্যবস্থা কেমন সে সম্পর্কেও তথ্য পাওয়া সহজ হবে।

    শীতের মরশুমে ম্যালেরিয়ার দাপট কমাতে কী পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা?

    জমা জল পরিষ্কারে বাড়তি নজর!

    বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, ম্যালেরিয়ার দাপট কমাতে বাড়ির আশপাশের এলাকা পরিষ্কার করা জরুরি।‌ প্রত্যেকের মধ্যে এই নিয়ে সচেতনতা তৈরি করা প্রয়োজন। কারণ, বাগান, ছাদ কিংবা বাড়ির আশপাশের এলাকা পরিষ্কার না হলে মশার বংশবিস্তার সহজ হয়। তখন মশাবাহিত রোগের দাপট ও বাড়ে। তাই শীতের মরশুমে ম্যালেরিয়ার দাপট কমাতে আশপাশ পরিষ্কারের দিকে বাড়তি নজর দিতে হবে। আগাছা পরিষ্কার ও অপ্রয়োজনীয় জল জমতে না দেওয়ার দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। বাগান থাকলে অবশ্যই সেটা পরিচ্ছন্ন করার দিকে গুরুত্ব দিতে হবে।

    সন্ধ্যার পরে হাত-পা ঢাকা পোশাক পরা জরুরি!

    মশার কামড় এড়াতে হাত-পা ঢাকা পোশাক পরতে হবে। বিশেষত সন্ধ্যার পরে বাইরে গেলে হাত-পা ঢাকা পোশাক পরার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

    দ্রুত রোগ নির্ণয়, না হলেই সংক্রমণের দাপট বৃদ্ধি!

    জ্বর হলে একেবারেই অবহেলা করা চলবে না।‌ চিকিৎসকদের পরামর্শ মতো রক্ত পরীক্ষা করিয়ে জ্বরের কারণ জানতে হবে। তবেই রোগ চিহ্নিত হবে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করা যাবে। ম্যালেরিয়ার মতো রোগ প্রথম ধাপে চিহ্নিত না হলে, এলাকায় ক্রমশ সংক্রমণ বাড়বে। এর ফলে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠবে। তাছাড়া রোগ নির্ণয় দেরিতে হলেও, চিকিৎসা শুরু করলেও দেরি হয়ে যায়। তার জেরে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটতে পারে।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
  • Suvendu Adhikari: ‘এ তো সবে ব্রেকফাস্ট, লাঞ্চ এখনও বাকি’, বিধানসভায় দাঁড়িয়ে বিরোধীদের কড়া বার্তা শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: ‘এ তো সবে ব্রেকফাস্ট, লাঞ্চ এখনও বাকি’, বিধানসভায় দাঁড়িয়ে বিরোধীদের কড়া বার্তা শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনে জয়ের পর বুধবার বিধানসভায় আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নিলেন বিজেপির দুই নবনির্বাচিত বিধায়ক হাসিরানি রথ ও শাখারভ সরকার। স্পিকার রথীন্দ্র বসুর উপস্থিতিতে বেলা ১১টায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে শপথবাক্য পাঠ করেন তাঁরা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দুই বিধায়ককে অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি উপনির্বাচনের ফলাফল, বিরোধী শিবিরের রাজনৈতিক অবস্থান এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে একাধিক মন্তব্য করেন তিনি। চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত নিয়েও বিস্ফোরক দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী।

    ‘এ তো সবে ব্রেকফাস্ট’, বিরোধীদের উদ্দেশে বার্তা

    শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে দুই নবনির্বাচিত বিধায়কের কাঁধে উত্তরীয় পরিয়ে তাঁদের নতুন দায়িত্ব পালনের জন্য শুভেচ্ছা জানান শুভেন্দু অধিকারী। উপনির্বাচনে বিজেপির সাফল্যকে সরকারের প্রতি মানুষের আস্থার প্রতিফলন বলে ব্যাখ্যা করেন তিনি। তাঁর দাবি, ফলতায় দেবাংশু পণ্ডা ১ লক্ষ ৯ হাজার ভোটে জয়ী হয়েছেন। অন্যদিকে, রেজিনগরে শাখারভ সরকারের ৭৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ও তাৎপর্যপূর্ণ।

    উপনির্বাচনের ফলাফল নিয়ে বিরোধীদের কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এ তো সবে ব্রেকফাস্ট হচ্ছে। যা দেখছেন, তা সকালের চা-বিস্কুট। এখনও লাঞ্চ হয়নি। দেখতে থাকুন।” নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে বিজেপির জয়ের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও দাবি করেন, নন্দীগ্রামে বিরোধীরা ভোটের আগেই ময়দান ছেড়ে পালিয়েছিল। রেজিনগরে বিরোধীরা জামানতের টাকাও বাঁচাতে পারেনি বলে কটাক্ষ করেন তিনি।

    চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ড নিয়ে বিস্ফোরক দাবি

    এদিনের অনুষ্ঠানে চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন শুভেন্দু অধিকারী। হাসিরানি রথের ছেলে চন্দ্রনাথ একসময় তাঁর সহযোগী ছিলেন। সেই প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, তাঁর সহযোগী হওয়ার কারণেই চন্দ্রনাথকে অত্যন্ত নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছিল।

    শুভেন্দুর বক্তব্য, এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে হত্যাকাণ্ডের জন্য ২ কোটি টাকার সুপারি কে দিয়েছিল, তদন্তে সেই বিষয়টি এখনও স্পষ্ট হওয়া বাকি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সেই সুপারি কি ক্যামাক স্ট্রিট থেকে দেওয়া হয়েছিল, নাকি ডায়মন্ড হারবার কিংবা কালীঘাট থেকে—সেটা স্পষ্ট হলেই গোটা তদন্তের বৃত্ত সম্পূর্ণ হবে।”

    মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে সুপারি দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল এখনও সামনে আসেনি।

    মমতাকে নিশানা, নন্দীগ্রাম বেছে নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা

    কেন ভবানীপুরের পরিবর্তে নন্দীগ্রাম আসনটি বেছে নিয়েছিলেন, সেই প্রসঙ্গও এদিন ফের সামনে আনেন শুভেন্দু অধিকারী। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “আমি যদি ওই আসন ছেড়ে আসতাম, তবে উনি ফের উপনির্বাচনে দাঁড়ানোর সুযোগ পেয়ে যেতেন। কিন্তু এই বয়সে আর ওসব করা উচিত নয়, অনেক বয়স হয়েছে, ওঁর এখন বিশ্রাম নেওয়া উচিত।”

    নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের ফলাফলকে সামনে রেখে বিরোধীদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও আত্মবিশ্বাসী বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, উপনির্বাচনের ফলকে আগামী দিনের রাজনীতিতে বিজেপির শক্তি প্রদর্শনের হাতিয়ার হিসেবেই তুলে ধরতে চাইছে শাসক শিবির।

    ‘সাম্প্রদায়িক’ তকমা খারিজে রেজিনগরের উদাহরণ

    বিজেপিকে সাম্প্রদায়িক দল বলে আক্রমণ করার বিরোধী প্রচারকেও এদিন চ্যালেঞ্জ করেন শুভেন্দু অধিকারী। রেজিনগরের উপনির্বাচনের ফলাফলকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে তাঁর দাবি, সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাতেও বিজেপির প্রতি সমর্থন বেড়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “সেখানকার সংখ্যালঘু মুসলিম বোনেরা যারা অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের সরকারি সুবিধা পেয়েছেন, তাঁরাও আমাদের ভোট দিয়েছেন।”

    রেজিনগরের বুথভিত্তিক ফলাফলের প্রসঙ্গ তুলে শুভেন্দুর দাবি, প্রায় ৩০০টি বুথের মধ্যে মাত্র ১০০টি বুথ সনাতনী অধ্যুষিত। বাকি সংখ্যালঘু অধ্যুষিত বুথগুলিতেও বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর কথায়, “আমরা সনাতনী, আমরা হিন্দু, আমরা মাথায় টিকা লাগাই। কিন্তু সরকার চালাতে গেলে আমরা দলের সংকীর্ণতা পেরিয়ে সমস্ত মানুষের উন্নয়কেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিই।”

    দুই বিধায়কের শপথগ্রহণকে কেন্দ্র করে এদিন বিধানসভায় যেমন নতুন জনপ্রতিনিধিদের আনুষ্ঠানিক দায়িত্বগ্রহণ সম্পন্ন হল, তেমনই উপনির্বাচনের ফলাফলকে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক তরজাও আরও তীব্র হল। বিজেপির জয়ের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী উন্নয়ন, সংখ্যালঘু সমর্থন এবং বিরোধীদের রাজনৈতিক অবস্থান—এই তিনটি বিষয়কেই বিশেষ গুরুত্ব দিলেন।

  • Suvendu Adhikari: ‘এক বছরের মধ্যে সুফল’, গঙ্গাভাঙন রুখতে বড় আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর, মালদা-মুর্শিদাবাদে কী পরিকল্পনা?

    Suvendu Adhikari: ‘এক বছরের মধ্যে সুফল’, গঙ্গাভাঙন রুখতে বড় আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর, মালদা-মুর্শিদাবাদে কী পরিকল্পনা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মালদা ও মুর্শিদাবাদে গঙ্গার ভাঙন সমস্যা মোকাবিলায় স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে এবার যৌথভাবে কাজ করার পথে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার। মঙ্গলবার দিল্লিতে কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রকের এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যালোচনা বৈঠকে গঙ্গার ভাঙন, নদীর গতিপথ পরিবর্তন এবং ফরাক্কা ব্যারেজের সুরক্ষা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, আগামী এক বছরের মধ্যেই এই উদ্যোগের সুফল পেতে শুরু করবেন সাধারণ মানুষ। তবে নদীভাঙন পরিস্থিতির ভয়াবহতা এবং সম্ভাব্য বিপর্যয়ের আশঙ্কার মধ্যে প্রকল্পের বাস্তবায়ন ও কাজের গতি এখন বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

    ড্রেজিংয়ে জোর, ঝাড়খণ্ডের সঙ্গে সমন্বয়ের নির্দেশ

    প্রশাসনিক সূত্রে খবর, গঙ্গা অববাহিকার ভাঙন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঝাড়খণ্ড, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গের নদী এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে ড্রেজিং বা নদীখাত থেকে পলি তোলার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। নদীর গতিপথ ও জলপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় চ্যানেল তৈরির বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে। প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যেতে ঝাড়খণ্ড সরকারকে পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রী সিআর পাতিল।

    সূত্রের খবর, ঝাড়খণ্ড সীমানায় ড্রেজিং ও চ্যানেল তৈরির ক্ষেত্রে আগে যে প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হয়েছিল, তা মেটাতেও উদ্যোগী হয়েছে কেন্দ্র। একই সঙ্গে ফরাক্কা ব্যারেজের গেট পরিবর্তন এবং নদীর পাড় বাঁধানোর কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ শেষ করতে সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলির মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখার উপর গুরুত্ব দিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।

    গঙ্গা ও ফুলহারের দূরত্ব মাত্র ৭৫০ মিটার, বাড়ছে বিপর্যয়ের আশঙ্কা

    মালদা ও মুর্শিদাবাদে গঙ্গাভাঙনের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের অন্যতম কারণ গঙ্গা ও ফুলহার নদীর ক্রমশ কাছাকাছি চলে আসা। প্রশাসনিক সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ দশকে গঙ্গা তার গতিপথ পরিবর্তন করে প্রায় ছ’কিলোমিটার সরে এসেছে। গত ১৫-২০ বছরে ফুলহার নদীর গতিপথও প্রায় দু’কিলোমিটার সরে গিয়েছে বলে জানানো হয়েছে। বর্তমানে দুই নদীর মধ্যবর্তী দূরত্ব কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৭৫০ মিটারে।

    বিশেষজ্ঞদের একাংশের আশঙ্কা, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আগামী ছ’-সাত বছরের মধ্যে গঙ্গা ও ফুলহার পরস্পরের সঙ্গে মিশে যেতে পারে। অন্যদিকে, রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল এর আগে আরও কম সময়ের মধ্যে বিপর্যয়ের আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। তাঁর সতর্কবার্তা অনুযায়ী, অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ করা না হলে আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যেও দুই নদীর মিলিত হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

    দুই নদী মিশে গেলে তার প্রভাব শুধু মালদার নদীতীরবর্তী এলাকাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। আশঙ্কা, এর ফলে ফরাক্কা ব্যারেজের কার্যকারিতা গুরুতরভাবে ব্যাহত হতে পারে। বিপদের মুখে পড়তে পারে কলকাতার শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বন্দরও। পাশাপাশি মালদহ শহর ও সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকায় বন্যা এবং ব্যাপক ভাঙনের আশঙ্কা রয়েছে। পরিস্থিতি আরও জটিল হলে জাতীয় সড়ক ও রেল যোগাযোগ ব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, যার প্রভাব পড়তে পারে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের যোগাযোগে।

    রতুয়া-মানিকচক বাঁচাতে ১৫৫০ কোটির প্রকল্প

    এই বিপর্যয়ের আশঙ্কা মোকাবিলায় মালদার রতুয়া ও মানিকচক এলাকার নদীভাঙন রোধে প্রায় ১৫৫০ কোটি টাকার একটি বিস্তারিত প্রকল্পের প্রস্তাব আগেই কেন্দ্রের কাছে পাঠিয়েছে নবান্ন। প্রস্তাবিত প্রকল্পে রাজ্য সরকারের আর্থিক অংশ প্রায় ৬১০ কোটি টাকা। অর্থাৎ, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে কেন্দ্র ও রাজ্য—দুই পক্ষকেই উল্লেখযোগ্য আর্থিক দায়িত্ব নিতে হবে।

    প্রকল্পের পরিকল্পনা ও প্রযুক্তিগত দিক খতিয়ে দেখতে আইআইটি রুরকি এবং আইআইটি কানপুরের বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অন্তত ৪৫ কিলোমিটার নদীতীরবর্তী এলাকায় ভাঙন প্রতিরোধের কাজ দ্রুত শুরু করা জরুরি। নদীর গতিপথ পরিবর্তন, পলি জমা এবং জলপ্রবাহের চরিত্র বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পিতভাবে কাজ না করলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হতে পারে।

    তবে প্রস্তাবিত প্রকল্পের কাজ কবে থেকে পুরোদমে শুরু হবে এবং কোন পর্যায়ে কতটা কাজ করা হবে, তা নিয়ে বিস্তারিত সময়সীমা এখনও স্পষ্ট নয়। ফলে কেন্দ্র-রাজ্যের সমন্বয়ের পাশাপাশি অর্থ বরাদ্দ, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং মাঠপর্যায়ে দ্রুত কাজ শুরু করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

    ‘এক বছরের মধ্যে সুফল পেতে শুরু করবেন’, দাবি মুখ্যমন্ত্রীর

    দিল্লির বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। আপনারা হাতেনাতে ফল পেতে শুরু করবেন এক বছর পর থেকে। এখন ছ’মাস হয়েছে। দু’বছরের মধ্যে চোখে দেখতে পাবেন। আর পাঁচ বছরের মধ্যে প্রকৃত অর্থে সোনার বাংলা দেখতে পাবেন।”

    এরপর রাজ্যের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সম্ভাবনা প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, “আবার দ্বিতীয় টার্মে যখন বিজেপি আসবে, তখন বিকশিত ভারতের লক্ষ্যে গোটা ভারতবর্ষের জিডিপি থেকে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ-সহ সব ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে বড় অবদান থাকবে, যেটা স্বাধীনতার আগে ছিল।”

    সব মিলিয়ে, গঙ্গা ও ফুলহার নদীর ক্রমবর্ধমান ভাঙন রুখতে কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে মালদা ও মুর্শিদাবাদের বিস্তীর্ণ জনপদ, গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং ফরাক্কা ব্যারেজের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ঘোষিত উদ্যোগ কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয়, তার উপরই নির্ভর করবে আগামী দিনের পরিস্থিতি।

  • World Stroke Day 2026: হঠাৎ স্ট্রোক, নাকি আগাম ইঙ্গিত? বিপদ চিনতে জেনে রাখুন BEFAST-এর ৬টি সঙ্কেত

    World Stroke Day 2026: হঠাৎ স্ট্রোক, নাকি আগাম ইঙ্গিত? বিপদ চিনতে জেনে রাখুন BEFAST-এর ৬টি সঙ্কেত

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    হঠাৎ করেই কি বিপদ হয়! নাকি ইঙ্গিত আগে থেকেই পাওয়া যায়? প্রয়োজনীয় সচেতনতা এবং সতর্কতার অভাব বিপদ ক্রমশ বাড়িয়ে দেয়!
    ২৯ অক্টোবর বিশ্ব স্ট্রোক দিবস! সেই উপলক্ষে দেশ জুড়ে একাধিক কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, ভারতে ক্রমশ স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ছে। আর স্ট্রোকের চিকিৎসায় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো চিকিৎসা শুরু করতে দেরি হয়ে যাওয়া। ২০২৬ সালে স্ট্রোক দিবসে মূল থিম হলো প্রত্যেক মিনিট গুরুত্বপূর্ণ । কিন্তু এই প্রতি মিনিটের গুরুত্ব বোঝার জন্য ‘BEFAST’ সম্পর্কে ধারণা থাকা জরুরি বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ।

    স্ট্রোক কী? কেন প্রতি মিনিট গুরুত্বপূর্ণ?

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, মস্তিষ্কের কোনও নির্দিষ্ট অংশে হঠাৎ রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায় কিংবা মস্তিষ্কের রক্তনালী হঠাৎ ফেটে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ হতে শুরু হয়। এই শারীরিক পরিস্থিতিকেই স্ট্রোক বলা হয়।
    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে কিংবা হঠাৎ রক্তক্ষরণ শুরু হলে মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দেহের সমস্ত স্নায়ুর উপরেই তার প্রভাব পড়তে থাকে। মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমতে থাকে। প্রত্যেক মুহূর্তে শরীরের একেকটা অঙ্গের কার্যশক্তি হ্রাস পায়। গভীর ক্ষত তৈরি হয়‌। পেশি এবং স্নায়ুর উপরে এমন প্রভাব পড়ে, যার জেরে দীর্ঘমেয়াদি একাধিক সমস্যা তৈরি হয়। তাই স্ট্রোকের চিকিৎসায় প্রত্যেক মিনিট খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, প্রতি মুহূর্তে রক্তক্ষরণ বাড়লে শারীরিক অবস্থার অবনতির ঝুঁকি বাড়ে। আবার মস্তিষ্কে রক্তসঞ্চালন না হলেও আজীবন শরীরে অসাড়তা আসতে পারে। যত দেরি হবে, তত ক্ষতির ঝুঁকি বাড়বে। তাই স্ট্রোকের চিকিৎসায় দ্রুত চিকিৎসা শুরুর দিকে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হয়।

    স্ট্রোক রুখতে কেন BEFAST ধারণায় বাড়তি গুরুত্ব?

    স্ট্রোকের বড় বিপদ রুখতে চিকিৎসকেরা BEFAST ধারণায় বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাঁরা জানাচ্ছেন, এই সম্পর্কে যত সচেতনতা বাড়বে, প্রাণনাশের আশঙ্কা কমবে। এমনকি যে কোনও বড় দীর্ঘমেয়াদি বিপদ আটকানোও সহজ হবে। তাই দেশ জুড়ে এই বছরে BEFAST ধারণাকে আরও বেশি তুলে ধরা হচ্ছে। যাতে সময় মতো বিপদ আটকানো যায়।

    BEFAST কী?

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, BEFAST হলো স্ট্রোকের লক্ষণ বোঝার একটি সহজ পদ্ধতি। পরিবার কিংবা পরিচিতদের এই উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া জরুরি বলেই মনে করছেন চিকিৎসকদের একাংশ।

    B হলো ব্যালেন্স বা ভারসাম্য!

    হঠাৎ মাথা ঘোরা, হাঁটাচলার অসুবিধা হতে থাকা কিংবা শরীরের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে মনে হলে একেবারেই অবহেলা করা উচিত নয়। বরং দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। কারণ এটা স্ট্রোকের অন্যতম লক্ষণ।

    E হলো আইজ বা চোখের সমস্যা!

    স্ট্রোকের বিপদ প্রথম জানান দেয় দৃষ্টিশক্তি। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, হঠাৎ দেখতে অসুবিধা হলে কিংবা ঝাপসা হয়ে গেলে একেবারেই অবহেলা করা উচিত নয়। হঠাৎ কোনও একটি চোখে সমস্যা দেখা দিলে বাড়তি গুরুত্ব দিতে হবে। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হলে এই ধরনের উপসর্গ দেখা দেয়।

    F হলো ফেস বা মুখ বেঁকে যাওয়া!

    হঠাৎ ঠোঁটের পাশ হালকা বেঁকে যাওয়া কিংবা মুখে হঠাৎ আকৃতিগত পরিবর্তন দেখা দিলে‌ সচেতন হতে হবে। সামান্য পরিবর্তন ও আসলে স্ট্রোকের ইঙ্গিত বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, তাই দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে যাওয়া জরুরি।

    A হলো আর্মস বা হাতের দূর্বলতা!

    স্ট্রোক শরীরের স্নায়ু এবং পেশির উপরে গভীর প্রভাব ফেলে। দীর্ঘমেয়াদি ক্ষত তৈরি করে। তাই পেশি জানান দেয়। হঠাৎ করেই হাতের পেশির দূর্বলতা, শিথিল হয়ে যাওয়া, দুই হাত সমানভাবে কাজ করতে না পারার উপসর্গ আসলে স্ট্রোকের ইঙ্গিত।

    S হলো স্পিচ বা কথা বলার সমস্যা!

    ঠোঁট বা জিভের জড়তা স্ট্রোকের অন্যতম লক্ষণ বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, হঠাৎ কথা বলায় আড়ষ্টতা দেখা দিলে বুঝতে হবে মস্তিষ্কের স্নায়ুতে সমস্যা হয়েছে। তাই সময় নষ্ট করা একেবারেই চলবে না।

    T হলো টাইম বা সময়!

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন স্ট্রোকের বড় বিপদ রুখতে সময় সবচেয়ে বেশি জরুরি। তাই সময় নিয়ে সচেতনতা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। উচ্চ রক্তচাপ কিংবা ডায়াবেটিসের সমস্যায় আক্রান্তদের স্ট্রোকের যে কোনও একটা উপসর্গ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। কারণ সময় মতো চিকিৎসা শুরু করতে পারলে তবেই বড় বিপদ আটকানো সম্ভব হবে।

    ভারতে স্ট্রোকের চিকিৎসায় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী?

    ভারতে ক্রমশ স্ট্রোকের প্রকোপ বাড়ছে। কম বয়সীদের মধ্যেও এই সমস্যা দেখা দিচ্ছে। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, অস্বাস্থ্যকর জীবন যাপনের জেরেই ভারতে স্ট্রোকের প্রকোপ উর্ধ্বমুখী। কারণ, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভাস এবং জীবন যাপন এ দেশে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিসের মতো সমস্যা বাড়িয়ে দিচ্ছে। তাছাড়া আধুনিক জীবনে বাড়ছে উদ্বেগ, অবসাদের মতো মানসিক সমস্যা। তাই সবমিলিয়ে স্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে গিয়েছে। তবে স্ট্রোকের চিকিৎসায় এ দেশে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ মূলত তিনটি!

    ১. দেরিতে হাসপাতালে পৌঁছনো!

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, ভারতে স্ট্রোকের চিকিৎসায় সবচেয়ে বড় দেরিতে হাসপাতালে পৌঁছনো। অর্থাৎ চিকিৎসা শুরু হতেই অনেক দেরি হয়ে যাওয়া। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ভারতে ৫৩ শতাংশ বেশি স্ট্রোকে আক্রান্ত রোগীর আক্রান্ত হওয়ার ৪ ঘণ্টা পরে চিকিৎসা শুরু হয়। যেখানে স্ট্রোক পরবর্তী প্রথম এক ঘণ্টা সবচেয়ে জরুরি বলেই মনে করছেন চিকিৎসক মহল। দেরিতে চিকিৎসা শুরু হওয়ার জেরে অনেক বেশি ক্ষতি হয়। প্রাণ সংশয় দেখা দেয়।

    ২. পুর্নবাসন চিকিৎসায় অবহেলা!

    স্ট্রোকের চিকিৎসায় পুর্নবাসন বা রিহ্যাবিলিটেশন খুব গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ পুনরায় স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার জন্য সাময়িক চিকিৎসার পরে একটি দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা থাকে। নানান ওষুধের পাশপাশি রোগীকে নানান রকমের থেরাপি করতে হয়। যেগুলো আক্রান্তের পেশি, স্নায়ুর সক্রিয়তা বাড়িয়ে দেবে। আবার মস্তিষ্কের ক্ষত সারিয়ে তুলবে। কিন্তু ভারতে এই পুনর্বাসন চিকিৎসা নিয়ে অসচেতনতা রয়েছে। স্ট্রোক পরবর্তী এই চিকিৎসা অধিকাংশ আক্রান্ত করেন না। এর জেরে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারেন না। অনেক সময়েই তাঁদের নিয়মিত কাজের জন্য অন্যের উপরে নির্ভর করতে হয়। কিন্তু এই দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা সম্পর্কে আরও বেশি সচেতনতা জরুরি। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, শুধুমাত্র প্রাণ বাঁচিয়ে দিলেই চিকিৎসা পর্ব শেষ হয়ে যায় না। রোগীকে সুস্থ জীবন যাপনের উপযুক্ত করে তুলতে হবে। আর সেই পর্বে এই রিহ্যাবিলিটেশন অত‌্যন্ত প্রয়োজনীয়।

    ৩. উপসর্গ সম্পর্কে অবহেলা!

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, ভারতে স্ট্রোকের উপসর্গ সম্পর্কে এখনো সচেতনতার অভাব রয়েছে। কেমন জীবন যাপন করলে স্ট্রোকের ঝুকি কমবে সেই সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি স্ট্রোকের প্রাথমিক উপসর্গ সম্পর্কেও জানতে হবে। তবেই বড় বিপদ আটকানো সম্ভব হবে।

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
  • Rajnath Singh: প্রতিরক্ষা খাতে ২.১২ লক্ষ কোটি টাকার অনুমোদন কেন্দ্রের! ৮২% কেনাকাটা দেশীয় সংস্থার কাছ থেকে

    Rajnath Singh: প্রতিরক্ষা খাতে ২.১২ লক্ষ কোটি টাকার অনুমোদন কেন্দ্রের! ৮২% কেনাকাটা দেশীয় সংস্থার কাছ থেকে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতার লক্ষ্যে আরও এক বড় পদক্ষেপ করল কেন্দ্রীয় সরকার। তিন বাহিনীর আধুনিকীকরণ ও যুদ্ধক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য প্রায় ২.১২ লক্ষ কোটি টাকার মূলধনী সামরিক সরঞ্জাম কেনার প্রস্তাবে প্রাথমিক অনুমোদন দিল প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই বিপুল অঙ্কের কেনাকাটার প্রায় ৮২ শতাংশই করা হবে ভারতীয় শিল্পসংস্থাগুলির কাছ থেকে। এর ফলে একদিকে যেমন ভারতীয় সেনা, নৌসেনা ও বায়ুসেনার সামরিক সক্ষমতা বাড়বে, অন্যদিকে দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পও বড়সড় উৎসাহ পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

    সোমবার প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সভাপতিত্বে বসে ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল বা ডিএসি-র (DAC) বৈঠক। সেখানেই তিন বাহিনীর একাধিক সামরিক সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি কেনার প্রস্তাবে Acceptance of Necessity (AoN) বা প্রয়োজনীয়তার প্রাথমিক প্রশাসনিক অনুমোদন দেওয়া হয়। অনুমোদিত প্রস্তাবগুলির আনুমানিক আর্থিক মূল্য প্রায় ২,১২,০০০ কোটি টাকা।

    স্থলসেনার জন্য আধুনিক কামান, হেলিকপ্টার ও আত্মঘাতী ড্রোন

    স্থলসীমান্তে অভিযান, দুর্গম এলাকায় সেনা চলাচল, নজরদারি এবং শত্রুপক্ষের আকাশপথে হামলা মোকাবিলার ক্ষমতা বাড়াতে ভারতীয় সেনার জন্য একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ব্যবস্থা কেনার প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

    অনুমোদিত সরঞ্জামগুলির মধ্যে রয়েছে হাই মোবিলিটি ভেহিকল (HMV), স্বচালিত ট্র্যাকড গান সিস্টেম, গান শট রেসপন্স সিস্টেম (GSRS), লাইট মাল্টি-রোল হেলিকপ্টার (LMRH), ভেরি শর্ট-রেঞ্জ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম (VSHORADS), প্ল্যাটফর্ম-ভিত্তিক কাউন্টার-আনম্যানড এরিয়াল সিস্টেম (C-UAS), দূরপাল্লার আনম্যানড এরিয়াল সিস্টেম, নজরদারি ড্রোন, সমন্বিত নজরদারি ও আঘাত হানার ব্যবস্থা এবং দূরপাল্লার কামিকাজে ড্রোন সিস্টেম।

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের বক্তব্য অনুযায়ী, উচ্চ গতিশীলতাসম্পন্ন যানগুলি দুর্গম ভূখণ্ডে সেনার চলাচল, রসদ সরবরাহ এবং অভিযানের সক্ষমতা বাড়াবে। অন্যদিকে, স্বচালিত ট্র্যাকড গান সিস্টেম যান্ত্রিক বাহিনীর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কামানের গতিশীলতা ও গোলাবর্ষণের ক্ষমতা বাড়াবে। গান শট রেসপন্স সিস্টেমের মাধ্যমে সেনা আরও দ্রুত পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য পাবে। যুদ্ধক্ষেত্রে কোথা থেকে গুলি চালানো হচ্ছে, সেই সংক্রান্ত তথ্য শনাক্ত করতে ও তাৎক্ষণিক পরিস্থিতি বুঝতে এই ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

    ড্রোন হামলা মোকাবিলা ও নজরদারিতে বাড়তি জোর

    আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে ছোট ড্রোন, মনুষ্যবিহীন আকাশযান এবং নির্ভুল নিশানায় আঘাত হানতে সক্ষম প্রযুক্তির গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে। সেই বাস্তবতা মাথায় রেখেই সেনার জন্য একাধিক ড্রোন ও ড্রোন-বিরোধী ব্যবস্থা কেনার প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

    ভেরি শর্ট-রেঞ্জ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম (VSHORADS) নতুন প্রজন্মের ছোট আকারের আকাশপথের হুমকি মোকাবিলায় সাহায্য করবে। অন্যদিকে, কাউন্টার-আনম্যানড এরিয়াল সিস্টেম (C-UAS) আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে ট্যাঙ্কের সুরক্ষা ও টিকে থাকার ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক হবে।

    এছাড়া নজরদারি ইউএভি, সমন্বিত নজরদারি ও আঘাত হানার ব্যবস্থা এবং দূরপাল্লার কামিকাজে ড্রোন সেনার শত্রুপক্ষের গতিবিধি শনাক্ত করা, লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিত করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আঘাত হানার ক্ষমতা বাড়াবে।

    বিশেষত, দূরপাল্লার ড্রোন ও সমন্বিত নজরদারি ব্যবস্থার সংযোজনের ফলে দূরবর্তী এলাকায় পরিস্থিতির উপর নজর রাখা এবং প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত সামরিক সিদ্ধান্ত নেওয়া আরও কার্যকর হতে পারে।

    সেনা ও বায়ুসেনার জন্য একসঙ্গে হেলিকপ্টার

    লাইট মাল্টি-রোল হেলিকপ্টার (LMRH) কেনার প্রস্তাবের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, এই হেলিকপ্টার ব্যবহার করবে ভারতীয় সেনা এবং ভারতীয় বায়ুসেনা—দুই বাহিনীই।

    পুনরীক্ষণ ও নজরদারি, যুদ্ধকালীন অভিযান, বিপদে পড়া সেনাকর্মীদের অনুসন্ধান ও উদ্ধার এবং মানবিক সহায়তা ও বিপর্যয় মোকাবিলার মতো একাধিক কাজে এই হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হবে।

    দুর্গম পার্বত্য অঞ্চল কিংবা যোগাযোগ ব্যবস্থা সীমিত এমন এলাকায় সেনার কাছে দ্রুত পৌঁছনো, আহতদের উদ্ধার এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এই ধরনের হেলিকপ্টার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

    নৌসেনার জন্য ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা

    ভারতীয় নৌসেনার জন্য অ্যাক্টিভ অফবোর্ড ডিকয় সিস্টেম (AODS) এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নৌ-সামরিক প্ল্যাটফর্ম কেনার প্রস্তাবেও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

    AODS-এর প্রধান উদ্দেশ্য হল শত্রুপক্ষের জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের বিরুদ্ধে নৌসেনার প্রতিরক্ষাব্যবস্থার কার্যকারিতা বাড়ানো। এই ধরনের ডিকয় সিস্টেম শত্রুর ক্ষেপণাস্ত্রকে আসল জাহাজ থেকে সরিয়ে অন্যদিকে আকৃষ্ট করার কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে। ফলে জাহাজের উপর সরাসরি আঘাতের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে এই প্রযুক্তি।

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের বক্তব্য, দেশীয় প্রযুক্তিতে নকশা ও নির্মাণ করা গুরুত্বপূর্ণ নৌ-সামরিক প্ল্যাটফর্মগুলি আধুনিক যুদ্ধের প্রয়োজনীয়তা পূরণ করবে এবং ভারতীয় নৌসেনার সামগ্রিক যুদ্ধক্ষমতা বাড়াবে।

    ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সামুদ্রিক নিরাপত্তা, গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথের সুরক্ষা এবং সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবিলার ক্ষেত্রে এই ধরনের প্রযুক্তির গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে।

    বায়ুসেনার জন্য হেলিকপ্টার, এয়ার ডিফেন্স ও আবহাওয়া রেডার

    ভারতীয় বায়ুসেনার জন্য হেলিকপ্টার, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, অস্ত্রশস্ত্র এবং মোবাইল এক্স-ব্যান্ড ডপলার আবহাওয়া রেডার সিস্টেম কেনার প্রস্তাবেও প্রাথমিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

    বিশেষ উপযোগিতার হেলিকপ্টারগুলি বায়ুসেনার গুরুত্বপূর্ণ বিমান পরিবহণের চাহিদা পূরণে সাহায্য করবে। সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম পরিবহণ, দুর্গম এলাকায় প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়া এবং বিভিন্ন অভিযানে দ্রুত সাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে এই ধরনের হেলিকপ্টার কার্যকর হতে পারে।

    অন্যদিকে, মোবাইল এক্স-ব্যান্ড ডপলার আবহাওয়া রেডার সামনের সারির সামরিক এলাকাগুলিতে স্থানীয় আবহাওয়ার উচ্চ রেজোলিউশনের তথ্য সরবরাহ করবে। এর সাহায্যে সংশ্লিষ্ট এলাকার আবহাওয়ার পরিস্থিতি আরও নির্ভুলভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে।

    সামরিক অভিযানে দৃশ্যমানতা, বৃষ্টিপাত, ঝড় এবং অন্যান্য আবহাওয়াজনিত পরিস্থিতি সম্পর্কে সঠিক তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে এই রেডার ব্যবস্থা বিমান অভিযান ও সামরিক পরিকল্পনায় সহায়ক হতে পারে।

    দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পে বড় সুযোগ

    এই অনুমোদনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলির একটি হল, মোট প্রস্তাবিত কেনাকাটার প্রায় ৮২ শতাংশ ভারতীয় শিল্পসংস্থাগুলির কাছ থেকে করা হবে। অর্থাৎ, প্রায় ২.১২ লক্ষ কোটি টাকার মোট প্রস্তাবিত ব্যয়ের বড় অংশ দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।

    এর সম্ভাব্য প্রভাব একাধিক ক্ষেত্রে পড়তে পারে। প্রথমত, দেশীয় সংস্থাগুলির জন্য সামরিক সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি উৎপাদনের বাজার সম্প্রসারিত হবে। দ্বিতীয়ত, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে গবেষণা, প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং উৎপাদন পরিকাঠামোয় বিনিয়োগের সুযোগ বাড়তে পারে। তৃতীয়ত, দেশীয় সরবরাহকারী ও সংশ্লিষ্ট শিল্পের জন্য নতুন ব্যবসায়িক সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

    তবে মনে রাখতে হবে, AoN বা Acceptance of Necessity চূড়ান্ত বরাত কিংবা সরঞ্জাম সরবরাহের সমান নয়। এটি কেনাকাটার প্রয়োজনীয়তার প্রাথমিক অনুমোদন। এর পরে সংশ্লিষ্ট প্রস্তাব অনুযায়ী দরপত্র, চুক্তি, উৎপাদন এবং সরবরাহের মতো একাধিক ধাপ সম্পন্ন করতে হবে।

    সব মিলিয়ে, তিন বাহিনীর জন্য এই বিপুল অঙ্কের প্রস্তাবিত সামরিক কেনাকাটা ভারতের প্রতিরক্ষা আধুনিকীকরণে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। দেশীয় শিল্পের অংশগ্রহণের উপর জোর দেওয়ার ফলে সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রতিরক্ষা উৎপাদনে স্বনির্ভরতার লক্ষ্যও আরও গতি পেতে পারে। তবে বাস্তব সাফল্য নির্ভর করবে অনুমোদিত প্রস্তাবগুলি কত দ্রুত চুক্তি, উৎপাদন ও কার্যকর সামরিক ব্যবহারের পর্যায়ে পৌঁছয়, তার উপর।

LinkedIn
Share