Tag: মাধ্যম বাংলা

  • IAF IL-76MD Historic Landing: বিশ্বরেকর্ড গড়ল ভারতীয় বায়ুসেনা! ১৩,৬২৯ ফুট উচ্চতায় লাদাখের নিয়োমায় অবতরণ করল ‘গজরাজ’

    IAF IL-76MD Historic Landing: বিশ্বরেকর্ড গড়ল ভারতীয় বায়ুসেনা! ১৩,৬২৯ ফুট উচ্চতায় লাদাখের নিয়োমায় অবতরণ করল ‘গজরাজ’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চিন সীমান্তের কাছে সামরিক পরিকাঠামো শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে আরও এক বড় মাইলফলক স্পর্শ করল ভারতীয় বায়ুসেনা (Indian Air Force)। লাদাখের মুধ-নিয়োমা (Mudh-Nyoma) বিমানঘাঁটিতে সফলভাবে অবতরণ করল ভারতীয় বায়ুসেনার অত্যাধুনিক ভারী পরিবহণ বিমান আইএল-৭৬এমডি (IL-76MD)। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৩,৬২৯ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এই বিমানঘাঁটিতে রুশ নির্মিত ‘গজরাজ’ নামে পরিচিত বিমানটির অবতরণ শুধু ভারতের সামরিক পরিবহণ সক্ষমতারই পরিচয় নয়, বরং চিন সীমান্তে কৌশলগত অবস্থান আরও মজবুত করার ক্ষেত্রেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ভারতীয় বায়ুসেনার দাবি, বিশ্বে এই প্রথম এত উচ্চতায় অবতরণ করল আইএল-৭৬এমডি বিমান। শনিবার (৭ নভেম্বর, ২০২৬) এই ঐতিহাসিক সাফল্যের কথা ঘোষণা করে বায়ুসেনা।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ গজরাজের এই অবতরণ?

    আইএল-৭৬এমডি একটি চার ইঞ্জিনবিশিষ্ট ভারী সামরিক পরিবহণ বিমান। সেনা জওয়ান, সামরিক সরঞ্জাম, ভারী যন্ত্রপাতি এবং প্রয়োজনীয় পণ্য এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় দ্রুত পৌঁছে দিতে এই বিমানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বিশেষত দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় যেখানে সড়কপথে যোগাযোগ কঠিন, সেখানে এই ধরনের ভারী পরিবহণ বিমানের সক্ষমতা সামরিক অভিযানের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    নিয়োমা বিমানঘাঁটিতে বিমানটির অবতরণের গুরুত্ব আরও বেড়েছে চিনের সঙ্গে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (LAC)-র নৈকট্যের কারণে। এই বিমানঘাঁটি প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা থেকে মাত্র ২৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ফলে সীমান্তবর্তী এলাকায় সেনা মোতায়েন, ভারী সামরিক সরঞ্জাম পরিবহণ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত রসদ পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হল।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এত উচ্চতায় ভারী পরিবহণ বিমানের অবতরণ প্রমাণ করে যে প্রতিকূল ভৌগোলিক পরিস্থিতিতেও ভারতীয় বায়ুসেনা তাদের পরিবহণ সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে এগোচ্ছে। তবে শুধু বিমান অবতরণ নয়, এই ধরনের বিমান নিয়মিত পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো, আবহাওয়া এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

    ১৯৬২ সালের যুদ্ধের পর থেকে কীভাবে বদলাল নিয়োমার ছবি?

    নিয়োমার ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ভারত-চিন সংঘাতের স্মৃতি। ১৯৬২ সালের ভারত-চিন যুদ্ধের পর দীর্ঘদিন এই বিমানপথটি কার্যত অচল ছিল। ২০০৯ সালের সেপ্টেম্বরে প্রথমবার এএন-৩২ (AN-32) পরিবহণ বিমান অবতরণের মাধ্যমে পুনরায় চালু হয় নিয়োমা বিমানপথ।

    এরও এক বছর আগে, ২০০৮ সালে লাদাখের আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানপথ পুনরায় সক্রিয় করে ভারতীয় বায়ুসেনা। সেগুলি হল দৌলত বেগ ওল্ডি (১৬,৬১৪ ফুট) এবং ফুকচে (১৩,০০০ ফুট)। দুর্গম সীমান্তবর্তী অঞ্চলে এই বিমানপথগুলির পুনরুজ্জীবন ভারতের সামরিক পরিবহণ ব্যবস্থাকে নতুন মাত্রা দিয়েছিল।

    ২১৮ কোটি টাকায় তৈরি পূর্ণাঙ্গ বিমানঘাঁটি

    ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে নিয়োমা বিমানঘাঁটির উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। সেই সময় তিনি এই প্রকল্পকে সশস্ত্র বাহিনীর জন্য ‘গেম-চেঞ্জার’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।

    প্রায় ২১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নিয়োমার পুরনো বিমানপথকে পূর্ণাঙ্গ বিমানঘাঁটিতে রূপান্তরিত করা হয়েছে। এই প্রকল্পের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক হল, মহিলা আধিকারিকদের নেতৃত্বাধীন একটি দল এই উন্নয়নকাজ সম্পন্ন করেছে।

    নিয়োমা বিমানঘাঁটিতে রয়েছে ২.৭ কিলোমিটার দীর্ঘ রানওয়ে। পাশাপাশি তৈরি করা হয়েছে বিমান রাখার হ্যাঙ্গার, এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল ভবন এবং বিমান ও সামরিক যানবাহন রাখার জন্য শক্ত পাকা জায়গা বা হার্ড স্ট্যান্ডিং। এই পরিকাঠামোর ফলে এখানে যুদ্ধবিমান, পরিবহণ বিমান এবং হেলিকপ্টার পরিচালনার উপযোগী পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

    প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিমানঘাঁটির উন্নয়ন শুধু সেনা ও রসদ পরিবহণের জন্য নয়, প্রয়োজনে সীমান্তবর্তী এলাকায় দ্রুত সামরিক শক্তি বৃদ্ধি এবং প্রতিরক্ষামূলক ও আক্রমণাত্মক অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

    চিন সীমান্তে পরিকাঠামো উন্নয়নে বাড়তি গুরুত্ব ভারতের

    ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর ভারত ও চিনের মধ্যে দীর্ঘ সামরিক অচলাবস্থা চলেছিল। সেই অভিজ্ঞতার পর সীমান্তবর্তী এলাকায় সামরিক পরিকাঠামো উন্নয়নে আরও বেশি গুরুত্ব দিয়েছে নয়াদিল্লি।

    সড়ক, সেতু, সুড়ঙ্গ, বিমানঘাঁটি এবং হেলিপ্যাড নির্মাণের মাধ্যমে দুর্গম সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে যোগাযোগ ও সেনা চলাচলের সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। দীর্ঘদিন ধরে চিনও সীমান্তের ওপারে উন্নত সড়ক, বিমানঘাঁটি এবং অন্যান্য সামরিক পরিকাঠামো গড়ে তুলেছে। ফলে কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রাখতে ভারতের পরিকাঠামোগত প্রস্তুতি অত্যন্ত জরুরি।

    এই প্রেক্ষাপটে ১৩,৬২৯ ফুট উচ্চতায় আইএল-৭৬এমডি-র অবতরণ নিছক একটি বিমান চালনার কৃতিত্ব নয়। বরং সীমান্তে দ্রুত সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে ভারতের সক্ষমতা বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। লাদাখের মতো দুর্গম ও সংবেদনশীল অঞ্চলে সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করার ক্ষেত্রে নিয়োমা বিমানঘাঁটি আগামী দিনে কতটা কার্যকর হয়ে ওঠে, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।

  • Kali Puja: কালীপুজোয় কোন মন্দিরে মাকে কী ভোগ দেওয়া হয়? কালীঘাট থেকে তারাপীঠ, জানুন বিশেষ পদগুলি

    Kali Puja: কালীপুজোয় কোন মন্দিরে মাকে কী ভোগ দেওয়া হয়? কালীঘাট থেকে তারাপীঠ, জানুন বিশেষ পদগুলি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কার্তিক মাসের অমাবস্যা তিথিতে বিশেষ জাঁকজমক সহকারে পালিত হয় দীপান্বিতা কালীপুজো (Kali Puja)। আজ কালীপুজো। দুর্গাপুজোর পাশাপাশি কালীপুজোতেও রয়েছে নানা আচার-নিয়ম। আর এই পুজোর অন্যতম বিশেষ আকর্ষণ হল মায়ের ভোগ। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে শ্যামামায়ের অসংখ্য মন্দির। প্রতিটি মন্দিরেই নিজস্ব রীতি মেনে দেবীকে নিবেদন করা হয় নানা ধরনের ভোগ। কলকাতার সবচেয়ে বিখ্যাত কালীমন্দির হল কালীঘাট মন্দির। এটি অন্যতম সতীপীঠ। এছাড়া দক্ষিণেশ্বর কালীবাড়ি, আদ্যাপীঠ, ঠনঠনিয়া কালীবাড়ি, ফিরিঙ্গি কালীবাড়ি-সহ কলকাতার একাধিক কালীমন্দির বিশেষভাবে পরিচিত। অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গের সেবকেশ্বরী কালীমন্দিরও বেশ বিখ্যাত।

    কোন মন্দিরে মাকে কী কী ভোগ নিবেদন করা হয়?

    কালীপুজোর সময় মায়ের ভোগের আয়োজন অন্যান্য পুজোর তুলনায় বেশ কিছুটা আলাদা। মন্দিরভেদে ভোগের পদেও রয়েছে বৈচিত্র্য। এক নজরে দেখে নিন, রাজ্যের কয়েকটি বিখ্যাত কালীমন্দিরে দেবীকে কী কী ভোগ নিবেদন করা হয়।

    • কালীঘাট মন্দির: সতীর একান্ন পীঠের অন্যতম হল কালীঘাট (Kalighat)। এখানে সকালে মাকে আমিষ পদ দিয়ে ভোগ নিবেদন করা হয়। সেই ভোগের তালিকায় রয়েছে বেগুনভাজা, পটলভাজা, কপি, আলু ও কাঁচকলাভাজা, ঘিয়ের পোলাও, ঘি-ডাল, শুক্তো, শাকভাজা, মাছের কালিয়া, পাঁঠার মাংস এবং চালের পায়েস। তবে রাতে মাকে নিরামিষ ভোগ নিবেদন করা হয়। লুচি, বেগুনভাজা, আলুভাজা, দুধ, ছানার সন্দেশ ও রাজভোগ থাকে কালীঘাটের রাতের ভোগে।
    • সিদ্ধেশ্বরী কালীমন্দির: কথিত আছে, আনুমানিক ১৭০৩ সালে উদয়ননারায়ণ ব্রহ্মচারী নামে এক তান্ত্রিক সন্ন্যাসী সেই সময় জঙ্গলের মধ্যে পঞ্চমুণ্ডির আসনে ও ঘটে পুজো শুরু করেন। কালীপুজোর রাতে এখানে মাকে ভোগ হিসেবে নিবেদন করা হয় লুচি, পটলভাজা, ধোঁকা বা আলুভাজা, আলুর দম এবং মিষ্টি।
    • দক্ষিণেশ্বর কালীমন্দির: ভোরে দেবী ভবতারিণীর বিশেষ আরতি দক্ষিণেশ্বরের কালীপুজোর অন্যতম আকর্ষণ। আর মায়ের ভোগে নিবেদন করা হয় সাদা ভাত, ঘি, পাঁচ রকমের ভাজা, শুক্তো, তরকারি, পাঁচ রকমের মাছের পদ, চাটনি, পায়েস ও মিষ্টি।
    • তারাপীঠ মন্দির: কালীপুজোর দিন খুব সকালে ডাবের জল দিয়ে শুরু হয় মায়ের ভোগের আয়োজন। সকালের ভোগে থাকে পাঁচ বা ন’রকমের ভাজা, সাদা অন্ন, পায়েস ও মিষ্টি। এখানকার আমিষ ভোগের অন্যতম প্রধান উপাদান শোল মাছ। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, ভোগের পাতে এই মাছ না থাকলে মা তারা ভোগ গ্রহণ করেন না। কালীপুজোর দিন তারা মায়ের ভোগে থাকে পোলাও, খিচুড়ি, সাদা ভাত, পাঁচ রকমের ভাজা, পাঁচমিশালি তরকারি, মাছ, চাটনি, পায়েস এবং মিষ্টি। এখানকার অন্নভোগের বিশেষত্ব হল পোড়া শোলমাছ মাখা।
    • সেবকেশ্বরী কালীমন্দির: শিলিগুড়ি থেকে গ্যাংটক যাওয়ার পথে ৩১ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে অবস্থিত এই কালীমন্দির। কালীপুজোর দিনগুলিতে সেবকেশ্বরী কালীমন্দিরে ভক্তদের ঢল নামে। সেবক পাহাড়ের নির্জন পরিবেশে হয় মা কালীর আরাধনা। অনেকেরই বিশ্বাস, দেবী অত্যন্ত জাগ্রত। এখানে মায়ের ভোগে থাকে সাদা ভাত, পাঁচ রকমের ভাজা, তরকারি, পায়েস, লুচি, দই ও মিষ্টি। তবে এখানকার ভোগের অন্যতম আকর্ষণ বোয়াল মাছ। কালীপুজোর দিন এই মাছ দেবীকে ভোগ হিসেবে নিবেদন করা হয়।
  • Kali Puja: দক্ষিণাকালী থেকে শ্মশানকালী, দেবী কালীর ১১ রূপের মাহাত্ম্য জানেন কি?

    Kali Puja: দক্ষিণাকালী থেকে শ্মশানকালী, দেবী কালীর ১১ রূপের মাহাত্ম্য জানেন কি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রামপ্রসাদের কন্যা, রামকৃষ্ণের মা ভবতারিণী, সাধক কমলাকান্তের সাধনার ধন। তিনি দশমহাবিদ্যার প্রথম দেবী, দেবী কালিকা। বাংলা জুড়ে কালীপুজোর (Kali Puja) মাহাত্ম্য অপরিসীম। শ্মশানবাসিনী থেকে ঘরে ঘরে পূজিত হওয়ার পিছনে রয়েছে নানা আখ্যান। কঠোর নিয়ম মেনে আরাধনা করা হয় দেবী কালিকার। কোথাও তিনি পূজিত হন চামুণ্ডা মতে, কোথাও আবার তন্ত্রমতে। কোথাও কোথাও দেবীকে কেন্দ্র করেই চলে তন্ত্রসাধনা। কোনও রূপে তিনি শ্যামবর্ণা, কোথাও তাঁর গায়ের রং নীল। মূলত ১১টি রূপে বিনাশকারী শক্তি হিসেবে দেবী কালীর আরাধনা করেন ভক্তরা।

    মায়ের নানা রূপের কথা (Maa Kali)

    • দক্ষিণা কালী: বাংলায় সবচেয়ে বেশি আরাধনা হয় দক্ষিণা কালীর। কালীর এই রূপ জায়গাভেদে শ্যামাকালী নামেও পরিচিত। তাঁর সারা শরীর নীল বর্ণের। মূর্তি ক্রুদ্ধ, ত্রিনয়নী ও মুক্তকেশী। দেবীর চারটি হাত এবং গলায় থাকে মুণ্ডমালা। বাম দিকের দুই হাতে থাকে নরমুণ্ড ও খড়্গ। ডান হাত দু’টিতে রয়েছে আশীর্বাদ ও অভয় মুদ্রা। দেবী মহাদেবের বুকে দণ্ডায়মানা।
    • শ্মশান কালী: মূলত প্রাচীনকালে ডাকাতেরা দেবীর এই রূপের আরাধনা করত। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘দেবী চৌধুরানী’ উপন্যাসেও এই দেবীর উল্লেখ পাওয়া যায়। গৃহস্থের বাড়িতে সাধারণত কালীর এই রূপের পুজো হয় না। মূলত শ্মশানেই তাঁর আরাধনা করা হয়ে থাকে।
    • সিদ্ধ কালী: কালীপুজোর দিনে বহু জায়গায় সিদ্ধ কালীর আরাধনা করা হয়। কালীর এই রূপ ভুবনেশ্বরী নামেও পরিচিত। সাধারণত গৃহস্থের বাড়িতে এই রূপের পুজো হয় না। কালীমায়ের সাধকেরাই মূলত এই পুজো করে থাকেন। সিদ্ধকালীর দু’টি হাত এবং শরীর গয়নায় আবৃত। দেবীর ডান পা থাকে শিবের বুকে এবং বাঁ পা তাঁর দুই পায়ের মাঝখানে। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এই দেবী রক্ত নয়, বরং অমৃত পানে সন্তুষ্ট হন।
    • ফলহারিণী কালী: ফলহারিণী কালীপুজো একটি বাৎসরিক পুজো। মূলত গৃহস্থের বাড়িতে সুখ-শান্তি বজায় রাখা এবং সংসারের কল্যাণ কামনায় কালীর এই রূপের আরাধনা করা হয়। জ্যৈষ্ঠ মাসের অমাবস্যা তিথিতে ফলহারিণী কালীপুজো অনুষ্ঠিত হয়।
    • মহাকালী: দেবীর এই রূপের দশটি মাথা, দশটি হাত এবং দশটি পা রয়েছে। প্রতিমার সঙ্গে শিবের কোনও অস্তিত্ব নেই। দশ হাতে থাকে নানা অস্ত্র। দেবীর পায়ের তলায় থাকে অসুরের কাটা মুণ্ড। বিশেষ তান্ত্রিক আচার অনুযায়ী ভূত চতুর্দশীর সময় মহাকালীর সাধনা করা হয়। তবে সাধারণত গৃহস্থের বাড়িতে এই পুজো প্রচলিত নয়।
    • কাম্যা কালী: বিশেষ মনস্কামনা পূরণের উদ্দেশ্যে কালীর এই রূপের আরাধনা করা হয়। পুজোর নিয়মবিধি অনেকটাই দক্ষিণা কালীর মতো। সাধারণত অষ্টমী, চতুর্দশী, অমাবস্যা, পূর্ণিমা ও সংক্রান্তির মতো বিশেষ তিথিতে কাম্যা কালীর পুজো করা হয়ে থাকে।
    • গুহ্যকালী: এই দেবীর গায়ের রং গাঢ় কালো। গলায় থাকে ৫০টি নরমুণ্ডের হার এবং কানে শবদেহের আকৃতির অলঙ্কার। শাস্ত্রে কালীর এই রূপকে ভয়ঙ্করী হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। মূলত তন্ত্রসাধনার সঙ্গে এই দেবীর আরাধনা বিশেষভাবে যুক্ত।
    • ভদ্রকালী: কালীর এই রূপ সাধারণত বিভিন্ন মন্দিরে এবং বারোয়ারি পুজোয় আরাধিত হন। ভদ্রকালী নামের ‘ভদ্র’ শব্দটি কল্যাণ বা মঙ্গল অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। অন্যদিকে, ‘কালী’ শব্দটি জীবনের অন্তিম পরিণতির ইঙ্গিত বহন করে। দেবীর এই রূপের মধ্যে সংহার ও কল্যাণ—দুই শক্তিরই প্রকাশ দেখা যায়।
    • চামুণ্ডা কালী: চামুণ্ডা হলেন আদিশক্তির এক ভয়ঙ্করী রূপ। তিনি ভগবতী দুর্গারও এক বিশেষ প্রকাশ। চণ্ড ও মুণ্ড নামে দুই অসুরকে বধ করার পর দেবী ‘চামুণ্ডা’ নামে পরিচিত হন। পৌরাণিক বিশ্বাস অনুযায়ী, পার্বতী, চণ্ডী, দুর্গা, চামুণ্ডা ও কালী—সবই আদিশক্তির বিভিন্ন প্রকাশ।
    • শ্রীকালী: দেবী দুর্গা বা পার্বতীর একটি বিশেষ রূপ হলেন শ্রীকালী। অনেকে মনে করেন, এই রূপ ধারণ করেই দেবী দারুক নামে এক অসুরকে বধ করেছিলেন। পুরাণের একটি আখ্যান অনুযায়ী, কালীর এই রূপ মহাদেবের কণ্ঠে প্রবেশ করে তাঁর কণ্ঠের বিষের সংস্পর্শে কৃষ্ণবর্ণা হন। পরবর্তীকালে মহাদেব শিশুরূপ ধারণ করে স্তন্যপান করেন এবং দেবীর শরীর থেকে বিষের প্রভাব গ্রহণ করেন।
    • রক্ষাকালী: দক্ষিণা কালীরই একটি বিশেষ রূপ হল রক্ষাকালী। কথিত রয়েছে, প্রাচীনকালে লোকালয়কে বিপদ-আপদ ও অশুভ শক্তির হাত থেকে রক্ষা করার উদ্দেশ্যে এই দেবীর পুজো করা হত। দেবীর বাহন সিংহ। মূলত মানুষের এবং জনপদের নিরাপত্তা ও মঙ্গল কামনায় রক্ষাকালীর আরাধনা করা হয়।
  • Bhoot Chaturdashi 14 Diya: আজ ভূত চতুর্দশী! কেন সন্ধ্যায় জ্বালানো হয় ১৪ বাতি? জানুন ধর্মীয় তাৎপর্য

    Bhoot Chaturdashi 14 Diya: আজ ভূত চতুর্দশী! কেন সন্ধ্যায় জ্বালানো হয় ১৪ বাতি? জানুন ধর্মীয় তাৎপর্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কালীপুজোর (Kali Puja) ঠিক আগের দিন পালিত হয় ভূত চতুর্দশী (Bhoot Chaturdashi) বা নরক চতুর্দশী (Naraka Chaturdashi)। বাঙালির ঘরে ঘরে এই বিশেষ দিনে দুপুরে ১৪ শাক খাওয়ার এবং সন্ধ্যায় ১৪ প্রদীপ জ্বালানোর রীতি প্রচলিত রয়েছে। কিন্তু কেন এই প্রথা? এর পিছনে রয়েছে একাধিক পৌরাণিক কাহিনি, ধর্মীয় বিশ্বাস ও লোকাচার।

    দুপুরে ১৪ শাক, সন্ধ্যায় ১৪ বাতি

    ভূত চতুর্দশীর দিনে যে ১৪টি শাক খাওয়ার রীতি রয়েছে, সেগুলি হল— জয়ন্তী, শাঞ্চে, হিলঞ্চ, ওল, পুঁই, বেতো, সর্ষে, কালকাসুন্দে, নিম, পলতা, শুলকা, গুলঞ্চ, ভাঁটপাতা ও শুষণী। এই শাক খাওয়ার পাশাপাশি সন্ধ্যায় ১৪টি প্রদীপ জ্বালিয়ে অশুভ শক্তি ও অন্ধকার দূর করার প্রথাও প্রচলিত রয়েছে।

    শাস্ত্রীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, মৃত্যুর পর মানুষের শরীর পঞ্চভূতে বিলীন হয়ে যায়। এই পঞ্চভূত হল মাটি, জল, বায়ু, অগ্নি ও আকাশ। প্রচলিত লোকবিশ্বাস অনুসারে, মাটি থেকে তুলে আনা ১৪ রকমের শাক খেলে অতৃপ্ত আত্মারা শান্তি পায়। যে জল দিয়ে এই শাক ধোয়া হয়, সেই জল অনেকে বাড়িতেও ছিটিয়ে দেন। তাঁদের বিশ্বাস, এর ফলে অশুভ শক্তির প্রভাব দূর হয় এবং জীবনের বাধা-বিঘ্ন কেটে যায়।

    ১৪ ভুবনের উদ্দেশ্যে ১৪ প্রদীপ!

    দুপুরে ১৪ শাক খাওয়ার পর ভূত চতুর্দশীর সন্ধ্যায় জ্বালানো হয় ১৪টি প্রদীপ। পুরাণে ১৪টি ভুবন বা লোকের উল্লেখ রয়েছে। এর মধ্যে সাতটি ঊর্ধ্বলোক এবং সাতটি অধোলোক।

    ঊর্ধ্বলোকগুলি হল— ভূঃ, ভুবঃ, স্বঃ, মহঃ, জনঃ, তপঃ ও সত্য। অন্যদিকে অধোলোকগুলি হল— অতল, বিতল, সুতল, তলাতল, মহাতল, রসাতল ও পাতাল। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এই ১৪ লোকের অধিবাসীদের স্মরণ ও সম্মান জানাতেই ভূত চতুর্দশীতে ১৪টি প্রদীপ জ্বালানো হয়।

    আরও একটি লোকবিশ্বাস রয়েছে। মনে করা হয়, ভূত চতুর্দশীর রাতে কিছু সময়ের জন্য স্বর্গ ও নরকের দ্বার উন্মুক্ত হয় এবং অতৃপ্ত আত্মারা মর্ত্যে নেমে আসে। রাজা বলি ও তাঁর অনুচরেরাও এই সময়ে মর্ত্যে আসেন বলে প্রচলিত ধারণা। এই রাতে অশুভ শক্তির প্রভাব বৃদ্ধি পায় বলে অনেকে বিশ্বাস করেন। সেই অশুভ শক্তিকে বাড়ি থেকে দূরে রাখতেই সন্ধ্যায় ১৪ প্রদীপ জ্বালানোর রীতি রয়েছে।

    ১৪ পূর্বপুরুষের উদ্দেশ্যে জ্বালানো হয় প্রদীপ

    ভূত চতুর্দশীতে ১৪ প্রদীপ জ্বালানোর পিছনে আরও একটি প্রচলিত বিশ্বাস রয়েছে। অনেকে মনে করেন, পরিবারের ১৪ পুরুষ বা পূর্বপুরুষদের উদ্দেশ্যেই এই প্রদীপ জ্বালানো হয়। এই তালিকায় রয়েছেন পিতা, পিতামহ, প্রপিতামহ, বৃদ্ধপ্রপিতামহ, পিতামহী, প্রপিতামহী, বৃদ্ধপ্রপিতামহী, মাতা, মাতামহ, প্রমাতামহ, বৃদ্ধপ্রমাতামহ, মাতামহী, প্রমাতামহী ও বৃদ্ধপ্রমাতামহী।

    অশুভ আত্মার ভয় দূর করতে ভূত চতুর্দশীর দিনে একটি মন্ত্র পাঠের প্রথাও রয়েছে। মন্ত্রটি হল—

    ‘শীতলঞ্চ সমাযুক্ত সকণ্টক দলান্বিত। হরপাপ সপামার্গে ভ্রাম্যমাণঃ পুনঃ পুনঃ।’

    প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এই মন্ত্র পাঠ করলে অশুভ আত্মার ভয় ও অশুভ শক্তির প্রভাব থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

    রাজা বলির মর্ত্যে আগমনের বিশ্বাসও রয়েছে

    হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, ভূত চতুর্দশীর রাতে শিবভক্ত রাজা বলি ও তাঁর অনুচরেরা পুজো নিতে মর্ত্যে আসেন। চতুর্দশী তিথির অমাবস্যার ঘন অন্ধকারে রাজা বলির অনুচরেরা যাতে পথ ভুল করে মানুষের বাড়িতে প্রবেশ না করেন, সেই উদ্দেশ্যেও প্রদীপ জ্বালানোর প্রথা রয়েছে বলে মনে করা হয়।

    অন্য একটি প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, পিতৃপক্ষের সময়ে পিতৃপুরুষেরা মর্ত্যে আসেন এবং ভূত চতুর্দশীর তিথিতেই তাঁদের ফিরে যাওয়ার সময় হয়। সেই অন্ধকার পথে তাঁদের যাত্রা সুগম করতেই ১৪টি প্রদীপ জ্বালানো হয়।

    ভূত চতুর্দশীর সন্ধ্যায় কোথায় কোথায় জ্বালবেন ১৪ প্রদীপ?

    ভূত চতুর্দশীর সন্ধ্যায় প্রদীপ জ্বালানোর ক্ষেত্রে বাড়ির কয়েকটি বিশেষ জায়গাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রচলিত রীতি অনুযায়ী—

    • ● ঠাকুরঘর: বাড়ির ঠাকুরঘরে অবশ্যই একটি প্রদীপ জ্বালানো হয়।
    • ● তুলসীমঞ্চ: বাড়িতে তুলসীমঞ্চ থাকলে সেখানেও একটি প্রদীপ দিতে হয়।
    • ● সদর দরজা: বাড়ির প্রধান দরজার দু’পাশে দুটি প্রদীপ জ্বালানোর রীতি রয়েছে। অনেকে প্রতিটি প্রদীপে একটি করে লবঙ্গও রাখেন।
    • ● কলতলা বা জলের জায়গা: বাড়িতে যেখানে জল ব্যবহারের ব্যবস্থা রয়েছে, অর্থাৎ কলতলায় একটি প্রদীপ দেওয়া হয়।
    • ● বাড়ির দক্ষিণ দিক: দক্ষিণ দিকে একটি প্রদীপ জ্বালানোর প্রথা রয়েছে।
    • ● মাটির উনুন: বাড়িতে মাটির উনুন থাকলে সেখানেও একটি প্রদীপ জ্বালানো হয়।

    প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এই প্রদীপগুলি পূর্বপুরুষদের স্মরণে জ্বালানো হয়। তাই ভূত চতুর্দশীর সন্ধ্যায় ১৪টি প্রদীপ জ্বালানোর মধ্য দিয়ে একদিকে যেমন অশুভ শক্তিকে দূরে রাখার প্রার্থনা করা হয়, অন্যদিকে তেমনই শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয় পরিবারের প্রয়াত পূর্বপুরুষদের।

  • Bhoot Chaturdashi 14 Saag: ভূত চতুর্দশীতে কেন খাওয়া হয় চোদ্দ শাক? জানুন ধর্মীয় বিশ্বাস ও প্রচলিত রীতি

    Bhoot Chaturdashi 14 Saag: ভূত চতুর্দশীতে কেন খাওয়া হয় চোদ্দ শাক? জানুন ধর্মীয় বিশ্বাস ও প্রচলিত রীতি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ ভূত চতুর্দশী। কালীপুজোর ঠিক আগের দিন পালিত হয় এই বিশেষ তিথি। বাংলার ঘরে ঘরে ভূত চতুর্দশী মানেই কয়েকটি চিরাচরিত আচার। দুপুরে চোদ্দ রকমের শাক খাওয়া এবং সন্ধ্যায় বাড়িতে চোদ্দটি প্রদীপ জ্বালানো—এই দুই প্রথা বহু বছর ধরে বাঙালির সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, এই রাতে প্রয়াত পূর্বপুরুষদের আত্মারা মর্ত্যলোকে ফিরে আসেন। তাঁদের স্মরণ এবং অশুভ শক্তির বিনাশ কামনায় পালিত হয় নানা রীতি। পরদিন অমাবস্যা তিথিতে উদযাপিত হয় দীপান্বিতা কালীপুজো।

    কেন ভূত চতুর্দশীতে চোদ্দ শাক খাওয়ার রীতি?

    ভূত চতুর্দশীতে বাঙালি পরিবারগুলিতে মূলত দুটি বিশেষ প্রথা প্রচলিত—চোদ্দ রকমের শাক খাওয়া এবং চোদ্দটি প্রদীপ জ্বালানো। লোকাচার ও ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, চোদ্দ ভুবনের সঙ্গে এই চোদ্দ শাক ও চোদ্দ প্রদীপের একটি প্রতীকী সম্পর্ক রয়েছে বলে মনে করা হয়। তবে এই প্রথার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে আরও নানা ব্যাখ্যা ও বিশ্বাস।

    বাঙালির সংস্কৃতিতে বিভিন্ন তিথি ও পার্বণকে কেন্দ্র করে বিশেষ খাবার খাওয়ার রীতি রয়েছে। যেমন, সরস্বতী পুজোর পরদিন গোটা সেদ্ধ খাওয়ার প্রচলন রয়েছে বহু পরিবারে। তেমনই ভূত চতুর্দশীতে চোদ্দ রকমের শাক খাওয়ার প্রথাও দীর্ঘদিনের। আশ্বিন মাসের কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশী তিথিতে, অর্থাৎ কালীপুজোর আগের দিন, এই বিশেষ খাবার খাওয়ার রীতি পালন করেন অনেকে। কিন্তু কেন এই চোদ্দ শাক? এর পিছনে কোন ধর্মীয় বিশ্বাস কাজ করে?

    পূর্বপুরুষদের আগমন ঘটে মর্ত্যলোকে, কী বলে লোকবিশ্বাস?

    প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, মৃত্যুর পর মানুষের দেহ পঞ্চভূতে বিলীন হয়ে যায়। আকাশ, জল, বায়ু, অগ্নি ও মাটি—প্রকৃতির এই পাঁচ উপাদানের সঙ্গে মানুষের অস্তিত্ব জড়িয়ে রয়েছে। লোককথা অনুসারে, ভূত চতুর্দশীর রাতে প্রয়াত পূর্বপুরুষদের আত্মারা মর্ত্যলোকে ফিরে আসেন। তাঁদের স্মরণ করতেই এই তিথিতে চোদ্দ শাক খাওয়ার রীতি চালু হয়েছে বলে মনে করা হয়।

    আরও একটি প্রচলিত ধারণা হল, চোদ্দ রকমের শাক জলে ধুয়ে সেই জল বাড়ির চারপাশে ছিটিয়ে দিলে অশুভ শক্তির প্রভাব থেকে পরিবার সুরক্ষিত থাকে। পূর্বপুরুষদের স্মরণে তাঁদের উদ্দেশে এই আচার পালন করা হয়। কথিত আছে, পূর্ববর্তী সাত পুরুষ এবং পরবর্তী সাত পুরুষের সঙ্গে সম্পর্কিত বিশ্বাস থেকেই মোট চোদ্দ রকমের শাক খাওয়ার প্রথার প্রচলন।

    ভূত চতুর্দশীতে কোন কোন শাক খাওয়া হয়?

    ভূত চতুর্দশীর চোদ্দ শাকের তালিকায় রয়েছে—

    • ১. জয়ন্তী
    • ২. শাঞ্চে
    • ৩. হিলঞ্চ
    • ৪. ওল
    • ৫. পুঁই
    • ৬. বেতো
    • ৭. সর্ষে
    • ৮. কালকাসুন্দে
    • ৯. নিম
    • ১০. পলতা
    • ১১. শুলকা
    • ১২. গুলঞ্চ
    • ১৩. ভাঁটপাতা
    • ১৪. শুষণী

    অবশ্য অঞ্চল ও পারিবারিক প্রথা অনুযায়ী এই তালিকায় কিছুটা পার্থক্য দেখা যায়। কোথাও কোথাও কয়েকটি শাকের নাম বা বিকল্প শাকের ব্যবহারও আলাদা হতে পারে।

    কোন শাকে কী কী ভেষজ গুণ রয়েছে?

    চোদ্দ শাকের প্রতিটিরই কিছু না কিছু ভেষজ গুণ রয়েছে বলে লোকাচার ও প্রচলিত আয়ুর্বেদীয় ধারণায় উল্লেখ পাওয়া যায়। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক—

    • ● জয়ন্তী: লোকজ চিকিৎসায় জ্বর ও পেটের সমস্যায় এর ব্যবহারের উল্লেখ রয়েছে।

    • ● শাঞ্চে: পুষ্টিগুণের জন্য পরিচিত।

    • ● হিলঞ্চ: প্রচলিত ধারণায় পিত্তের সমস্যা প্রশমনে ব্যবহৃত হয়।

    • ● ওল: আঁশসমৃদ্ধ এই সবজি হজমে সাহায্য করে।

    • ● পুঁই: খাদ্যআঁশ ও বিভিন্ন ভিটামিনের উৎস। হজমের জন্য উপকারী।

    • ● বেতো: লোকজ চিকিৎসায় কৃমিনাশক হিসেবে ব্যবহারের প্রচলন রয়েছে।

    • ● সর্ষে: ভিটামিন ও খনিজ উপাদানে সমৃদ্ধ। চোখ ও যকৃতের সুস্থতায় পুষ্টিগত ভূমিকা রয়েছে।

    • ● কালকাসুন্দে: লোকজ চিকিৎসায় কাশি ও ত্বকের কিছু সমস্যায় ব্যবহারের উল্লেখ পাওয়া যায়।

    • ● নিম: ত্বকের পরিচর্যায় ঐতিহ্যগতভাবে ব্যবহৃত হয়।

    • ● পলতা: শ্বাসযন্ত্রের বিভিন্ন সমস্যায় লোকজ চিকিৎসায় ব্যবহারের প্রচলন রয়েছে।

    • ● শুলকা: এর ভেষজ ব্যবহার সম্পর্কে স্থানীয় লোকাচারে নানা ধারণা প্রচলিত।

    • ● গুলঞ্চ: আয়ুর্বেদীয় চিকিৎসায় বিভিন্ন ভেষজ প্রয়োজনে ব্যবহৃত হয়।

    • ● ভাঁটপাতা: লোকজ চিকিৎসায় বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় এর ব্যবহারের উল্লেখ রয়েছে।

    • ● শুষণী: আয়ুর্বেদীয় ও লোকজ চিকিৎসায় স্মৃতিশক্তি এবং স্নায়ুর পরিচর্যায় ব্যবহারের কথা বলা হয়।

    তবে মনে রাখতে হবে, এই শাকগুলির কোনওটি খেলেই নির্দিষ্ট রোগ সেরে যায় কিংবা ক্যান্সার, উচ্চ রক্তচাপ বা অন্য কোনও জটিল রোগ প্রতিরোধ করা যায়—এমন দাবির পক্ষে পর্যাপ্ত আধুনিক বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। শাকসবজি সুষম খাদ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও এগুলিকে কোনও রোগের চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে দেখা উচিত নয়।

    ধর্মীয় বিশ্বাসের পাশাপাশি রয়েছে প্রকৃতির সঙ্গে যোগসূত্র

    ভূত চতুর্দশীতে চোদ্দ শাক খাওয়ার প্রথার সঙ্গে বাংলার ঋতুচক্র ও প্রকৃতির সম্পর্কও লক্ষ করা যায়। শরৎ থেকে হেমন্তে আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি খাদ্যতালিকায় রাখার একটি স্বাভাবিক গুরুত্ব রয়েছে। মরশুমি শাক থেকে শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি পেতে পারে।

    তাই এই প্রাচীন রীতির মধ্যে একদিকে যেমন পূর্বপুরুষদের স্মরণ ও ধর্মীয় বিশ্বাস জড়িয়ে রয়েছে, অন্যদিকে রয়েছে মরশুমি খাদ্যাভ্যাসের ঐতিহ্য। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা এই প্রথা আজও বাঙালির উৎসব-সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ।

    চোদ্দ শাকের স্বাদ, চোদ্দ প্রদীপের আলো আর পূর্বপুরুষদের স্মরণ—সব মিলিয়ে ভূত চতুর্দশী বাঙালির কাছে শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় আচার নয়, বরং ঐতিহ্য ও পারিবারিক সংস্কৃতির এক বিশেষ উদযাপন।

  • Dhanteras 2026: সোনা কেনার সামর্থ্য নেই? ধনতেরাসে এই সামান্য কয়েকটি জিনিস কিনলেও মিলতে পারে লক্ষ্মীর আশীর্বাদ!

    Dhanteras 2026: সোনা কেনার সামর্থ্য নেই? ধনতেরাসে এই সামান্য কয়েকটি জিনিস কিনলেও মিলতে পারে লক্ষ্মীর আশীর্বাদ!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দুর্গাপুজোর রেশ কাটতে না কাটতেই শুরু হয়ে গিয়েছে দীপাবলি ও কালীপুজোর প্রস্তুতি। আর এই উৎসবের সূচনা হয় ধনতেরাসের (Dhanteras) মধ্য দিয়ে। কার্তিক মাসের কৃষ্ণপক্ষের ত্রয়োদশী তিথিতে পালিত হয় ধনতেরাস, যা ধনত্রয়োদশী নামেও পরিচিত। এই দিন দেবী লক্ষ্মী, ভগবান কুবের এবং ধন্বন্তরীর আরাধনা করা হয়। প্রচলিত বিশ্বাস, ধনতেরাসে শুভ সময়ে সোনা, রুপো কিংবা অন্যান্য ধাতব সামগ্রী কিনলে সংসারে সুখ, সমৃদ্ধি ও সৌভাগ্য আসে।

    তবে ধনতেরাস মানেই শুধু কেনাকাটা নয়। এই দিন কোন জিনিস কেনা শুভ, কোন সামগ্রী কেনা এড়িয়ে চলা উচিত, কীভাবে পুজো করবেন এবং সন্ধ্যায় কেন জ্বালানো হয় যম প্রদীপ—এসব নিয়েও রয়েছে নানা ধর্মীয় বিশ্বাস ও প্রচলিত রীতি। জেনে নিন ধনতেরাসে কী করবেন, কী করবেন না এবং কেনাকাটার তালিকায় কোন কোন জিনিস রাখবেন।

    ধনতেরাসে কী কী কেনা শুভ?

    ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসারে, ধনতেরাসের দিনে কয়েকটি বিশেষ সামগ্রী কেনা অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়। আর্থিক সামর্থ্য অনুযায়ী সোনা-রুপো থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় কিছু জিনিসও কেনা যেতে পারে।

    • ১. সোনা ও রুপো: ধনতেরাসে সোনা ও রুপো কেনার বিশেষ প্রচলন রয়েছে। বিশ্বাস করা হয়, এই দিনে মূল্যবান ধাতু কিনলে সংসারে ধনসম্পত্তি ও সমৃদ্ধি বৃদ্ধি পায়। সোনার গয়না, রুপোর কয়েন কিংবা রুপোর সামগ্রী কেনা যেতে পারে।
    • ২. কাঁসা ও পিতলের বাসন: সোনা বা রুপো কেনা সম্ভব না হলে কাঁসা কিংবা পিতলের বাসন কেনাও শুভ বলে মনে করা হয়। তবে একটি বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি। নতুন বাসন খালি অবস্থায় বাড়িতে না এনে তার মধ্যে জল, চাল, দুধ কিংবা মধু ভরে নিয়ে আসার রীতি রয়েছে। অনেকে সাত ধরনের শস্য ভরে বাসন বাড়িতে আনাকেও শুভ মনে করেন।
    • ৩. ঝাড়ু: ধনতেরাসে ঝাড়ু কেনার বিশেষ মাহাত্ম্য রয়েছে। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, ঝাড়ুকে দেবী লক্ষ্মীর প্রতীক হিসেবে গণ্য করা হয়। এই দিনে নতুন ঝাড়ু কিনলে সংসার থেকে দারিদ্র্য ও আর্থিক সমস্যা দূর হয়।
    • ৪. জমি, বাড়ি ও গাড়ি: অনেকেই ধনতেরাসকে নতুন সম্পত্তি কেনার শুভ দিন হিসেবে বেছে নেন। এই দিনে জমি, বাড়ি কিংবা গাড়ি কেনাও শুভ বলে মনে করা হয়।
    • ৫. লক্ষ্মী-গণেশের মূর্তি: ধনতেরাসে দেবী লক্ষ্মী ও ভগবান গণেশের মূর্তি কেনার প্রচলন রয়েছে। দীপাবলির পুজোয় এই মূর্তি ব্যবহার করা হয়।
    • ৬. অন্যান্য শুভ সামগ্রী: ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসারে, ধনতেরাসে নুন, গুড়ের বাতাসা, গাঁট হলুদ, কড়ি, গোমতীচক্র, জায়ফল, হরিতকি, সুপুরি ও ধান কেনাও শুভ। অনেকে এই দিন বাড়িতে নতুন নুন নিয়ে আসেন এবং সেই নুন দিয়েই রান্না করেন।

    ধনতেরাসে কোন কোন জিনিস কেনা উচিত নয়?

    যেমন কিছু জিনিস কেনাকে শুভ মনে করা হয়, তেমনই কিছু সামগ্রী কেনা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেন অনেকে। প্রচলিত ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, ধনতেরাসে কেনাকাটার সময় কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখা উচিত।

    • ● লোহার সামগ্রী: এই দিনে লোহার জিনিস কেনা এড়িয়ে চলার রীতি রয়েছে।

    • ● কাচের জিনিস: কাচের তৈরি সামগ্রী কেনাও অনেকে অশুভ বলে মনে করেন।

    • ● অ্যালুমিনিয়ামের বাসন: ধনতেরাসে অ্যালুমিনিয়ামের তৈরি জিনিস না কেনার প্রচলিত বিশ্বাস রয়েছে।

    • ● প্লাস্টিকের সামগ্রী: প্লাস্টিকের তৈরি জিনিস কেনাও এড়িয়ে চলতে বলা হয়।

    • ● ধারালো জিনিস: ছুরি, কাঁচি, ব্লেডের মতো ধারালো সামগ্রী এই দিনে না কেনাই ভাল বলে মনে করা হয়।

    • ● নকল সোনার গয়না: আসল সোনার পরিবর্তে নকল সোনার গয়না কেনা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়।

    • ● কালো পোশাক: এই দিনে পোশাক কিনলে কালো রং এড়িয়ে চলার রীতি রয়েছে।

    • ● মিশ্র ধাতুর সামগ্রী: অনেকে ধনতেরাসে মিশ্র ধাতুর বদলে বিশুদ্ধ ধাতুর জিনিস কেনাকেই বেশি গুরুত্ব দেন।

    এছাড়া প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, ধনতেরাসের দিনে কাউকে টাকা ধার দেওয়া কিংবা অন্যের কাছ থেকে টাকা ধার নেওয়া উচিত নয়। তেল ও ঘি পুজোয় প্রয়োজন হলেও এই দিনে না কিনে আগে থেকেই কিনে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।

    সন্ধ্যায় কেনাকাটার তালিকায় কী রাখবেন?

    ধনতেরাসের সন্ধ্যায় কেনাকাটার পাশাপাশি পুজোর প্রস্তুতিও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষত লক্ষ্মী-কুবেরের আরাধনার জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী আগে থেকেই গুছিয়ে রাখা উচিত। সোনা, রুপো কিংবা পিতল-কাঁসার বাসন কেনার পাশাপাশি নুন, ধান, হলুদ, কড়ি ও গোমতীচক্রের মতো সামগ্রীও কেনাকাটার তালিকায় রাখতে পারেন। তবে কেনাকাটার ক্ষেত্রে নিজের আর্থিক সামর্থ্যকে গুরুত্ব দেওয়াই সবচেয়ে জরুরি। ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে অপ্রয়োজনীয় খরচ বা ঋণ করে কেনাকাটা করার কোনও প্রয়োজন নেই।

    ধনতেরাসে কেন জ্বালানো হয় যম প্রদীপ?

    ধনতেরাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রীতি হল যম প্রদীপ বা যম দীপদান। এই দিন সন্ধ্যায় বাড়ির দক্ষিণ দিকে মৃত্যুর দেবতা যমরাজের উদ্দেশ্যে একটি চারমুখী প্রদীপ জ্বালানোর প্রচলন রয়েছে।

    পৌরাণিক বিশ্বাস অনুযায়ী, বাড়ির দক্ষিণ দিকের অধিপতি যমরাজ। ধনতেরাসের সন্ধ্যায় তাঁর উদ্দেশ্যে প্রদীপ জ্বালালে অকালমৃত্যুর আশঙ্কা দূর হয় এবং পরিবারের সদস্যদের দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য বজায় থাকে।

    প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, আটার তৈরি চারমুখী প্রদীপে সর্ষের তেল দিয়ে তা বাড়ির বাইরে দক্ষিণ দিকে মুখ করে জ্বালানো হয়। অনেকে বাড়ির বাইরে আবর্জনা ফেলার স্থানের কাছেও এই প্রদীপ রাখেন। বিশ্বাস করা হয়, যমরাজের উদ্দেশ্যে এই দীপদান করলে পরিবারকে অকালমৃত্যুর ভয় থেকে রক্ষা করা যায়।

    কিছু পরিবারে ধনতেরাস থেকে ভাইফোঁটা পর্যন্ত টানা পাঁচ দিন যম প্রদীপ জ্বালানোর রীতিও রয়েছে। প্রদীপ জ্বালানোর সময় পরিবারের সদস্যদের দীর্ঘায়ু, সুস্বাস্থ্য ও মঙ্গল কামনা করে প্রার্থনা করা হয়।

    ধনতেরাসে কোথায় কোথায় প্রদীপ জ্বালাবেন?

    ধনতেরাসের সন্ধ্যায় ১৩টি প্রদীপ জ্বালানো শুভ বলে প্রচলিত বিশ্বাস রয়েছে। যম প্রদীপ ছাড়াও বাড়ির বিভিন্ন জায়গায় প্রদীপ জ্বালানোর রীতি রয়েছে।

    • ● বাড়ির প্রধান প্রবেশদ্বারে।

    • ● তুলসী গাছের কাছে।

    • ● বাড়ির ছাদে।

    • ● পিপল (অশ্বত্থ বা বোধি) গাছের নীচে।

    • ● বাড়ির বাথরুম ও জানলার কাছে।

    • ● কাছাকাছি কোনও মন্দিরে।

    এছাড়া বাড়ির মূল প্রবেশদ্বারে গরুর ঘিয়ের প্রদীপ জ্বালানোও শুভ বলে মনে করা হয়। বিশ্বাস করা হয়, এতে দেবী লক্ষ্মীর আশীর্বাদ লাভ হয় এবং সংসারে সুখ-সমৃদ্ধি বৃদ্ধি পায়।

    ধনতেরাসের পৌরাণিক তাৎপর্য কী?

    ধনতেরাসের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ভগবান ধন্বন্তরীর আবির্ভাবের কাহিনি। পৌরাণিক কাহিনি অনুযায়ী, সমুদ্র মন্থনের সময় অমৃতের কলস হাতে আবির্ভূত হয়েছিলেন ধন্বন্তরী। তাঁকে আয়ুর্বেদ ও চিকিৎসাশাস্ত্রের দেবতা হিসেবেও মানা হয়। তাই এই দিন ধনসম্পদের পাশাপাশি সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনাও বিশেষ গুরুত্ব পায়।

    সব মিলিয়ে ধনতেরাস শুধু সোনা-রুপো বা নতুন সামগ্রী কেনার উৎসব নয়। এই দিন লক্ষ্মী-কুবেরের আরাধনা, ধন্বন্তরীর পুজো, যম প্রদীপ জ্বালানো এবং পরিবারের মঙ্গল কামনার মধ্য দিয়ে দীপাবলির উৎসবের সূচনা হয়। প্রচলিত রীতি ও বিশ্বাস মেনে উৎসবে সামিল হওয়ার পাশাপাশি নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী কেনাকাটা করাই হতে পারে ধনতেরাস উদযাপনের সবচেয়ে বাস্তবসম্মত পথ।

  • West Bengal Investment: তালিকায় প্রতিরক্ষা থেকে মহাকাশ শিল্প, বাংলায় ৬,০০০ কোটির বিনিয়োগের প্রস্তাব জয় বালাজি গ্রুপের!

    West Bengal Investment: তালিকায় প্রতিরক্ষা থেকে মহাকাশ শিল্প, বাংলায় ৬,০০০ কোটির বিনিয়োগের প্রস্তাব জয় বালাজি গ্রুপের!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলার শিল্পক্ষেত্রে বড় বিনিয়োগের প্রস্তাব দিল জয় বালাজি গ্রুপ (Jai Balaji Group)। আগামী কয়েক বছরে পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৬,০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে সংস্থাটি। বিশেষ ইস্পাত উৎপাদন, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম, মহাকাশ গবেষণার উপযোগী যন্ত্রাংশ, প্রিসিশন ইঞ্জিনিয়ারিং এবং পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি—মূলত এই পাঁচটি ক্ষেত্রকে সামনে রেখেই বিনিয়োগের পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে। সংস্থার দাবি, এই সম্প্রসারণ বাস্তবায়িত হলে রাজ্যে অতিরিক্ত ২০ হাজারেরও বেশি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

    প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ শিল্পে বিশেষ নজর

    • ● জয় বালাজি গ্রুপের প্রস্তাবিত বিনিয়োগ পরিকল্পনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় উন্নতমানের কাঁচামাল এবং যন্ত্রাংশ উৎপাদন। এই প্রকল্পের আওতায় প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য বিশেষ অ্যালয় এবং উচ্চমানের ইস্পাত তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে।
    • ● পাশাপাশি রেল এবং মহাকাশ শিল্পের জন্য উচ্চ-নির্ভুলতাসম্পন্ন (High-Precision) উপাদান ও যন্ত্রাংশ উৎপাদনেও জোর দিতে চায় সংস্থাটি। বিশেষ ধরনের তামা ও অ্যালুমিনিয়াম অ্যালয়, স্টিল কাস্টিং এবং ফোরজিংস উৎপাদনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
    • ● এছাড়া রেল, প্রতিরক্ষা, অটোমোবাইল, মহাকাশ এবং অন্যান্য ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পের চাহিদা মেটাতে প্রিসিশন ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য ও তার পরবর্তী উৎপাদনশৃঙ্খল বা ডাউনস্ট্রিম প্রোডাক্টের ক্ষেত্রেও ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে চায় গোষ্ঠীটি।

    ২০ হাজারের বেশি কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা

    • ● এই বিনিয়োগের অন্যতম বড় ইতিবাচক দিক কর্মসংস্থান। জয় বালাজি গ্রুপের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত সম্প্রসারণের ফলে রাজ্যে অতিরিক্ত ২০ হাজারেরও বেশি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। অর্থাৎ, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থানের পাশাপাশি শিল্পের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সহযোগী ক্ষেত্রেও কাজের সুযোগ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    উল্লেখ্য, বর্তমানে জয় বালাজি গ্রুপের বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ২৫ হাজারেরও বেশি মানুষ জীবিকা নির্বাহ করেন। জাজোদিয়া পরিবারের প্রতিষ্ঠিত এই শিল্পগোষ্ঠীর ইস্পাত ও উৎপাদন শিল্পে চার প্রজন্মের অভিজ্ঞতা রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা এবং ছত্তিশগড় মিলিয়ে তাদের মোট ১০টি উৎপাদন কেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে আটটিই পশ্চিমবঙ্গে অবস্থিত।

    সবুজ শক্তি ও পরিবেশবান্ধব উৎপাদনেও জোর

    • ● শুধু উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি নয়, শিল্পের শক্তির চাহিদা মেটাতে সৌরবিদ্যুৎ এবং গ্রিন পাওয়ার জেনারেশনের ক্ষেত্রেও বিনিয়োগ করতে চায় জয় বালাজি গ্রুপ। এর লক্ষ্য, উৎপাদন প্রক্রিয়ায় শক্তির দক্ষতা বৃদ্ধি, বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ এবং কার্বন নিঃসরণের পরিমাণ কমানো।

    সংস্থার বর্তমান সমন্বিত উৎপাদন পরিকাঠামোয় প্রায় ১০০ মেগাওয়াট নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা রয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, উৎপাদন প্রক্রিয়ায় তৈরি হওয়া বর্জ্য তাপ (Waste Heat) এবং কঠিন শিল্পবর্জ্য ব্যবহার করেও বিদ্যুৎ উৎপাদন করে গোষ্ঠীটি। নতুন বিনিয়োগের মাধ্যমে এই ধরনের পরিবেশবান্ধব শক্তি ব্যবস্থাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

    বাংলার শিল্পায়নে কতটা তাৎপর্যপূর্ণ এই বিনিয়োগ?

    পশ্চিমবঙ্গের শিল্পক্ষেত্রে নতুন বিনিয়োগ টানতে রাজ্য সরকারের উদ্যোগের মধ্যেই জয় বালাজি গ্রুপের এই ঘোষণা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে প্রতিরক্ষা, মহাকাশ, রেল এবং উন্নত ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পের মতো উচ্চ প্রযুক্তিনির্ভর ক্ষেত্রে বিনিয়োগের পরিকল্পনা রাজ্যের শিল্প পরিকাঠামোর বহুমুখীকরণে সাহায্য করতে পারে।

    এর পাশাপাশি বিশেষ ইস্পাত, অ্যালয়, কাস্টিং এবং ফোরজিংসের মতো শিল্পে উৎপাদন বাড়লে সংশ্লিষ্ট ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, যন্ত্রাংশ সরবরাহকারী সংস্থা এবং পরিবহণ ক্ষেত্রেও নতুন ব্যবসার সুযোগ তৈরি হতে পারে। অর্থাৎ, সম্ভাব্য ২০ হাজার কর্মসংস্থানের বাইরেও বৃহত্তর শিল্প অর্থনীতিতে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    সংস্থার বিবৃতি অনুযায়ী, রাজ্যের শিল্প সম্ভাবনা এবং নতুন সরকারের অধীনে গড়ে ওঠা ব্যবসায়িক পরিবেশের উপর আস্থা রেখেই এই বিনিয়োগের পরিকল্পনা করা হয়েছে। আগামী দিনে রাজ্যের শিল্পনীতি ও বিনিয়োগবান্ধব উদ্যোগের সঙ্গে এই পরিকল্পনা কতটা সামঞ্জস্য রেখে বাস্তবায়িত হয়, সেদিকেই নজর থাকবে।

  • COPD Awareness: সিওপিডি রুখতে সচেতনতার রং গেরুয়া! কেন এই রংকে প্রচারের হাতিয়ার করা হচ্ছে?

    COPD Awareness: সিওপিডি রুখতে সচেতনতার রং গেরুয়া! কেন এই রংকে প্রচারের হাতিয়ার করা হচ্ছে?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    ক্রমশ বাড়ছে রোগের দাপট! বিশেষত আক্রান্তের তালিকায় শিশুদের সংখ্যা বাড়ছে। তাই উদ্বেগও বাড়ছে।
    ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ (সিওপিডি) ভারতের অন্যতম বড় জনস্বাস্থ্য সঙ্কট হতে চলেছে! ইতিমধ্যেই ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনের তরফে জানানো হয়েছে, গোটা বিশ্বের মোট সিওপিডি আক্রান্তদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছেন ভারতে! চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, ভারতে এই নিয়ে সচেতনতা না বাড়লে, ভবিষ্যতে আরও বেশি বিপদ হতে পারে।

    সিওপিডি কী? কেন এই রোগ নিয়ে বাড়তি দুশ্চিন্তা?

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, সিওপিডি হল ফুসফুসের একটি দীর্ঘমেয়াদি রোগ। এই রোগে আক্রান্ত হলে ফুসফুসের সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এই রোগ ফুসফুসের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়। ফলে ফুসফুসের নানান রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। সিওপিডি আক্রান্ত হলে হাঁপানি বা শ্বাসকষ্টের সমস্যা দেখা দেয়। তাছাড়া সিওপিডি আক্রান্তের নিউমোনিয়ার মতো রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারতে ক্রমশ সিওপিডি আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। শিশু থেকে বয়স্ক, সমস্ত বয়সেই এই রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে। পাশপাশি সিওপিডি-র কারণে মৃত্যুর ঘটনাও বাড়ছে। তাই এই রোগ নিয়ে বাড়তি সচেতনতা জরুরি।

    সচেতনতা বাড়াতে কেন গেরুয়া রঙে ভরসা?

    নভেম্বর মাস সিওপিডি সচেতনতার মাস। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, এই রোগ সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। পাশপাশি রোগের দাপট কমাতে সামগ্রিক সচেতনতা প্রয়োজন। কারণ, পরিবেশ এই রোগে একটা গুরুত্ব বিষয়। দূষণ মুক্ত সুস্থ পরিবেশ থাকলে সিওপিডি-র মতো রোগের প্রকোপ কমবে। তাই এই মাস জুড়ে একাধিক কর্মশালা ও সচেতনতা কর্মসূচির আয়োজন করা হবে।
    চলতি বছরে প্রচারের মূল বিষয়— ‘‘অরেঞ্জ ইস পাওয়ার!’’ অর্থাৎ, গেরুয়া রঙকে হাতিয়ার করেই এই রোগ সম্পর্কে সচেতন করা হবে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, গেরুয়া রং উজ্জ্বল। তাছাড়া গেরুয়া রং শুদ্ধতার বার্তা ছড়িয়ে দেয়। তাই এই রোগ প্রতিরোধে গেরুয়া রং বেছে নেওয়া হয়েছে।
    সিওপিডি -র মতো রোগ বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ পরিবেশের দূষণ এবং ক্ষতিকারক অভ্যাস। গেরুয়া বার্তা জানান দেবে শুদ্ধ পরিবেশের গুরুত্ব। তাছাড়া উজ্বল রঙের স্পর্শে সচেতনতা কর্মসূচিকে‌‌ বাড়তি আকর্ষণীয় করে তুলবে। শিশুদের কাছেও এই রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বার্তা পৌঁছনো সহজ হবে। আগামী প্রজন্মের কাছে সবচেয়ে বড় রোগের বোঝা হতে চলেছে সিওপিডি। তাই আগাম সচেতনতা জরুরি।

    ভারতীয় শিশুরা কেন এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছে?

    একাধিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারতীয় শিশুদের মধ্যে ফুসফুসের রোগের প্রকোপ বাড়ছে। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ আক্রান্তের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে।
    বক্ষঃরোগ বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, বায়ুদূষণের জেরে গর্ভস্থ শিশুদের ফুসফুসের গঠনে নানান জটিলতা দেখা দিচ্ছে। জন্মের পরেও দূষিত পরিবেশ শিশুর ফুসফুসের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে। এর জেরেই ভারতীয় শিশুদের মধ্যে সিওপিডি-র মতো রোগের দাপট ক্রমশ বাড়ছে।
    ভারতীয় শিশুদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ, ধূমপান নিয়ে অসচেতনতা। এই অভ্যাস শুধু ধূমপান কারীর শরীরেই ক্ষতিকারক প্রভাব ফেলে না। বরং তার আশপাশের মানুষের শরীরেও মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। ফলে, গর্ভস্থ মহিলার সামনে ধূমপান করলে সেই গর্ভস্থ শিশুর শরীরে প্রভাব পড়ে। আবার শিশুদের সামনে ধূমপান করলে শিশুর শরীরে ক্ষতিকারক প্রভাব পড়ে। তাই তাদের সিওপিডি আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

    এই রোগের প্রকোপ কমাতে কী পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা?

    ধূমপান বন্ধ!

    চিকিৎসকদের পরামর্শ, ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বজায় রাখতে এবং সিওপিডি-র মতো রোগের দাপট কমাতে ধূমপানের অভ্যাস ছাড়তে হবে। ভারতে কম বয়সীদের মধ্যেও ধূমপানের অভ্যাস রয়েছে। স্কুল পড়ুয়াদের মধ্যেও এই অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস ক্রমশ বাড়ছে। তাই সে নিয়ে সচেতনতা জরুরি।

    বায়ুদূষণ নিয়ে সচেতনতা!

    পরিবেশ সম্পর্কে আরও বেশি সচেতনতা জরুরি। বায়ু দূষণ যাতে না বাড়ে, সেটা নিয়ে সব মহলে সতর্কতা জরুরি। পাশপাশি বাইরে বেরলে মাস্কের ব্যবহার প্রয়োজন। ঠিকমতো নাক ও মুখ ঢাকা মাস্ক পরলে ফুসফুসের সংক্রমণের ঝুঁকি কমে।

    রোগ নির্ণয় জরুরি!

    ভারতে সিওপিডি চিকিৎসায় অন্যতম সমস্যা হল রোগ নির্ণয় হয় দেরিতে। ভারতীয়দের মধ্যে এই রোগ নিয়ে সচেতনতার অভাব রয়েছে। অনেক সময়েই লাগাতার কাশি হলেও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া হয় না।‌ সিওপিডি-র অন্যতম প্রাথমিক উপসর্গ হল দীর্ঘদিন কাশির ভোগান্তি। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন , রোগ দ্রুত নির্ণয় হলে জটিলতা কমে।

    স্বাস্থ্যকর জীবন যাপন জরুরি!

    রোগ থেকে বাঁচতে স্বাস্থ্যকর জীবন যাপন জরুরি। ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বাড়াতে নিয়মিত যোগাভ্যাস প্রয়োজন। রক্ত সঞ্চালন ঠিকমতো হলে ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বাড়বে। আবার শরীরে রোগ প্রতিরোধ শক্তিও বাড়বে। ফলে যেকোনো সংক্রামক রোগে সহজে কাবু হবে না।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
  • West Bengal Industrial Policy: বাংলার শিল্পের পুনরুত্থানে বড় পদক্ষেপ শুভেন্দু সরকারের! বিনিয়োগ টানতে নয়া শিল্পনীতিতে একগুচ্ছ সুবিধা

    West Bengal Industrial Policy: বাংলার শিল্পের পুনরুত্থানে বড় পদক্ষেপ শুভেন্দু সরকারের! বিনিয়োগ টানতে নয়া শিল্পনীতিতে একগুচ্ছ সুবিধা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে এবং বাংলাকে নতুন করে শিল্প বিনিয়োগের অন্যতম গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে উদ্যোগী হল শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকার। নতুন সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই বৃহস্পতিবার লক্ষ্ণী বারে পশ্চিমবঙ্গের নয়া শিল্পনীতি (West Bengal Industrial Policy) ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। শুধু নতুন শিল্প স্থাপন নয়, দীর্ঘদিনের শিল্প সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো, বন্ধ ও রুগ্‌ণ কারখানার পুনরুজ্জীবন, কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি এবং পিছিয়ে থাকা এলাকায় শিল্পের প্রসার—সবকিছুকেই এই নীতির আওতায় আনার চেষ্টা হয়েছে।

    রাজ্যের শিল্পায়নের ক্ষেত্রে এই নীতি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে শুধু করছাড় বা আর্থিক অনুদানের ঘোষণা যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন স্থায়ী নীতিগত সহায়তা, পরিকাঠামোগত সুবিধা, দ্রুত প্রশাসনিক অনুমোদন এবং দক্ষ কর্মী পাওয়ার নিশ্চয়তা। নয়া শিল্পনীতিতে এই বিষয়গুলির উপরেই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে কর্মসংস্থান তৈরির সঙ্গে আর্থিক সুবিধাকে যুক্ত করা, মহিলা কর্মীদের নিয়োগে বাড়তি উৎসাহ এবং ভবিষ্যৎমুখী শিল্পক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধার সংস্থান রাজ্যের শিল্প অর্থনীতিকে নতুন দিশা দেখাতে পারে।

    বিনিয়োগকারীদের কাছে ইতিবাচক বার্তা, কর্মসংস্থানই অগ্রাধিকার

    • ● নয়া শিল্পনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল নতুন কর্মসংস্থান তৈরিতে শিল্প সংস্থাগুলিকে সরাসরি আর্থিক সহায়তা দেওয়া। যোগ্য কর্মীদের ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তার ইপিএফ (EPF) অবদানের একটি অংশ ফেরত দেবে রাজ্য সরকার। এর ফলে নতুন কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে শিল্পোদ্যোগীদের আর্থিক চাপ কিছুটা কমবে।
    • ● ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প (MSME) ক্ষেত্রে মহিলা ও রূপান্তরকামী কর্মীদের জন্য নিয়োগকর্তার ইপিএফ অবদানের ১০০ শতাংশ এবং পুরুষ কর্মীদের ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত প্রতিপূরণের ব্যবস্থা রয়েছে। এই সুবিধা সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত পাওয়া যেতে পারে।
    • ● পরিষেবা ক্ষেত্রের যোগ্য সংস্থাগুলির ক্ষেত্রেও মহিলা কর্মীদের নিয়োগে ৭৫ শতাংশ এবং পুরুষ কর্মীদের ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ ইপিএফ সহায়তার সংস্থান রাখা হয়েছে। ২০০-র বেশি কর্মী থাকা যোগ্য পরিষেবা ইউনিটগুলি পাঁচ বছর পর্যন্ত এই সুবিধা পেতে পারে।
    • ● বৃহৎ শিল্প ও মেগা প্রকল্পের ক্ষেত্রেও রয়েছে পিএফ সহায়তা। অগ্রাধিকার এলাকায় অন্তত ২০০ জন এবং অন্যত্র অন্তত ৪০০ জন কর্মী থাকা যোগ্য শিল্প ইউনিট পাঁচ বছর পর্যন্ত নিয়োগকর্তার ইপিএফ অবদানের ৫০ শতাংশ সহায়তা পেতে পারে।
    • ● এই ব্যবস্থার মাধ্যমে একদিকে যেমন নতুন নিয়োগে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে মহিলা কর্মসংস্থান এবং শিল্পক্ষেত্রে অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মসংস্থানের উপরেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    নতুন শিল্পের পাশাপাশি পুরনো শিল্পের পুনরুজ্জীবনেও নজর

    বাংলার শিল্পের পুনরুত্থান বলতে শুধু নতুন কারখানা তৈরি বোঝায় না। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ বা রুগ্‌ণ অবস্থায় থাকা শিল্প ইউনিটগুলিকে পুনরায় উৎপাদনের উপযোগী করে তোলাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। নয়া শিল্পনীতিতে সেই বাস্তবতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    • ● অনুমোদিত পুনরুজ্জীবন পরিকল্পনার আওতায় রুগ্‌ণ ও বন্ধ শিল্পের জন্য বিশেষ বিদ্যুৎ সহায়তা, জমির ঊর্ধ্বসীমায় ছাড় এবং জমির বিকল্প ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি, নির্দিষ্ট পুনরুজ্জীবন সেলের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থাও রয়েছে।

    এর ফলে রাজ্যের বিদ্যমান শিল্প সম্পদকে নতুন করে কাজে লাগানোর সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। নতুন করে বিপুল পরিমাণ জমি ও পরিকাঠামো তৈরি করার পাশাপাশি আগে থেকেই থাকা শিল্প পরিকাঠামোর পুনর্ব্যবহারও অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

    • ● শুধু তাই নয়, পুরনো শিল্প ইউনিট সম্প্রসারণ করেও সরকারি সুবিধা পাওয়া যাবে। তবে সেক্ষেত্রে নতুন কর্মসংস্থান তৈরির শর্ত পূরণ করতে হবে। কর্মী ছাঁটাইয়ের ক্ষেত্রেও রাজ্য সরকারের অনুমতির শর্ত রাখা হয়েছে। অর্থাৎ, উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি কর্মসংস্থান ধরে রাখার বিষয়টিও নীতিতে গুরুত্ব পেয়েছে।

    পিছিয়ে থাকা এলাকাতেও শিল্পের প্রসারের পরিকল্পনা

    • ● শিল্পায়নের সুফল যাতে শুধু কয়েকটি পরিচিত শিল্পাঞ্চলের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, সেদিকেও নজর দেওয়া হয়েছে। শিল্প ও পরিকাঠামোর বিভিন্ন সূচকের ভিত্তিতে রাজ্যের নির্দিষ্ট মহকুমাগুলিকে অগ্রাধিকার এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হবে। এই সমস্ত এলাকায় বিনিয়োগ করলে তুলনামূলক বেশি আর্থিক সহায়তা পাওয়ার সুযোগ থাকবে। পাশাপাশি, কিছু সুবিধার ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের ন্যূনতম শর্তও কম রাখা হবে।

    এই উদ্যোগের গুরুত্ব যথেষ্ট। কারণ, পিছিয়ে থাকা এলাকায় শিল্প স্থাপিত হলে শুধু প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থানই তৈরি হয় না, স্থানীয় পরিবহণ, আবাসন, বাজার, ক্ষুদ্র ব্যবসা এবং পরিষেবা ক্ষেত্রেও নতুন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ তৈরি হয়।

    • ● অগ্রাধিকার এলাকার তালিকা প্রতি তিন বছর অন্তর পর্যালোচনা করার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। ফলে সময়ের সঙ্গে এলাকার শিল্প ও পরিকাঠামোগত পরিস্থিতির পরিবর্তন বিবেচনা করে নীতিতে প্রয়োজনীয় সংশোধনের সুযোগ থাকবে।

    বিনিয়োগের পরিমাণ অনুযায়ী সর্বোচ্চ ১২০ শতাংশ পর্যন্ত সহায়তার সুযোগ

    শিল্পোদ্যোগীদের কাছে আর্থিক নিশ্চয়তা একটি বড় বিষয়। সেই দিকটি বিবেচনা করেই প্ল্যান্ট ও যন্ত্রপাতিতে অনুমোদিত বিনিয়োগের ভিত্তিতে সরকারি সহায়তার সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    • ● সাধারণ শিল্প ইউনিটের ক্ষেত্রে অনুমোদিত বিনিয়োগের ১০০ শতাংশ পর্যন্ত, থ্রাস্ট সেক্টর অথবা অগ্রাধিকার এলাকার শিল্প ইউনিটের ক্ষেত্রে ১১০ শতাংশ পর্যন্ত এবং অগ্রাধিকার এলাকায় অবস্থিত থ্রাস্ট সেক্টরের ইউনিটের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১২০ শতাংশ পর্যন্ত সহায়তার সীমা রাখা হয়েছে।

    তবে এই সহায়তা এককালীন নগদ অনুদান নয়। উৎপাদন শুরু হওয়ার পর নির্দিষ্ট নিয়মে ধাপে ধাপে তা পাওয়া যাবে। বার্ষিক সীমা এবং অন্যান্য যোগ্যতার শর্তও প্রযোজ্য। নির্ধারিত ঊর্ধ্বসীমায় পৌঁছলে অথবা ১০ বছর পূর্ণ হলে, যেটি আগে হবে, সেই অনুযায়ী সহায়তা বন্ধ হবে।

    ভবিষ্যতের শিল্পে বাংলাকে এগিয়ে রাখার পরিকল্পনা

    • ● বিশ্বজুড়ে শিল্প ও প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের কথা মাথায় রেখে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে রাজ্যের নয়া শিল্পনীতি। সেমিকন্ডাক্টর, বৈদ্যুতিক গাড়ি, ব্যাটারি, গ্রিন হাইড্রোজেন, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, বস্ত্রশিল্প, ওষুধ এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম উৎপাদনের মতো ক্ষেত্রগুলিতে বাড়তি সুবিধার সুযোগ রাখা হয়েছে।

    এই শিল্পগুলি আগামী দিনে বিনিয়োগ, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং কর্মসংস্থানের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে। ফলে এই ধরনের শিল্পে বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে পারলে বাংলার শিল্প অর্থনীতির বহুমুখীকরণের সুযোগ তৈরি হবে।

    বিশেষ করে সেমিকন্ডাক্টর ও বৈদ্যুতিক গাড়ির মতো প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পে বিনিয়োগ এলে তার সঙ্গে যুক্ত আনুষঙ্গিক শিল্প, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং দক্ষ কর্মীর চাহিদাও বাড়তে পারে। অর্থাৎ, একটি বড় শিল্প প্রকল্পকে কেন্দ্র করে বিস্তৃত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

    মেগা প্রকল্পের জন্য বিশেষ প্যাকেজ, পরিকাঠামোতেও সহায়তা

    • ● বড় বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য কৌশলগত ও মেগা প্রকল্পের ক্ষেত্রে পৃথক বিশেষ প্যাকেজের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বিনিয়োগের পরিমাণ, শিল্পক্ষেত্র এবং একসঙ্গে অন্তত ৫০০ জনের কর্মসংস্থানের মতো নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে প্রকল্পভিত্তিক বিশেষ সুবিধার আবেদন করা যাবে।
    • ● বড় শিল্প প্রকল্পের ক্ষেত্রে রাস্তা, জল সরবরাহ এবং বিদ্যুৎ সংযোগের মতো পরিকাঠামো তৈরিতেও সহায়তার সুযোগ রয়েছে।

    এই সংস্থান বিনিয়োগকারীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কারণ, একটি বড় শিল্প প্রকল্পের ক্ষেত্রে জমি ও মূলধনের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো তৈরি করাও বড় চ্যালেঞ্জ। সেই ক্ষেত্রে সরকারের সহযোগিতা প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রাথমিক বাধা কমাতে পারে।

    উৎপাদন ও পরিষেবা—দুই ক্ষেত্রেই পৃথক সুবিধা

    • ● উৎপাদনকারী শিল্পের জন্য এসজিএসটি-সংযুক্ত আর্থিক সহায়তা, পাঁচ বছর পর্যন্ত বিদ্যুৎ শুল্ক প্রতিপূরণ, প্রকল্পের জমিতে স্ট্যাম্প ডিউটি ফেরত এবং গবেষণা ও উদ্ভাবনে সহায়তার ব্যবস্থা রয়েছে।
    • ● পরিষেবা ক্ষেত্রের জন্যও পৃথক প্যাকেজ রাখা হয়েছে। পাঁচ বছর পর্যন্ত এসজিএসটি-সংযুক্ত সহায়তা, ইপিএফ প্রতিপূরণ, বিদ্যুৎ শুল্কে সুবিধা এবং লিজে নেওয়া জায়গার ভাড়ায় সহায়তা দেওয়া হতে পারে।
    • ● এছাড়া, হাসপাতাল, মেডিক্যাল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মতো পরিকাঠামো ক্ষেত্রকেও নির্দিষ্ট শর্তে শিল্পনীতির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। অন্তত ১০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ এবং নির্ধারিত পরিষেবা দেওয়ার শর্ত পূরণ করলে এই প্রতিষ্ঠানগুলিও সুবিধা পেতে পারে। পিএম-শ্রী মডেলে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলির ক্ষেত্রেও সুযোগ রাখা হয়েছে।

    সবুজ শিল্প ও প্রশাসনিক সরলীকরণে বিশেষ গুরুত্ব

    • ● আধুনিক শিল্পায়নের অন্যতম শর্ত পরিবেশবান্ধব উৎপাদন। সেই বিষয়টিও নয়া শিল্পনীতিতে গুরুত্ব পেয়েছে। পুনর্নবীকরণযোগ্য বিদ্যুতের ওপেন অ্যাক্সেসের ক্ষেত্রে মার্চ ২০৩০ পর্যন্ত সারচার্জ মকুবের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এর ফলে শিল্প সংস্থাগুলি বিকল্প ও পরিচ্ছন্ন শক্তি ব্যবহারে উৎসাহিত হতে পারে।
    • ● অন্যদিকে, বিনিয়োগকারীদের প্রশাসনিক জটিলতা কমাতে সিঙ্গল উইন্ডো পোর্টালের মাধ্যমে একটিমাত্র আবেদনে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
    • ● নীতিতে নির্দিষ্ট সময়সীমাও বেঁধে দেওয়া হয়েছে। বিনিয়োগ স্থির হওয়ার পর ৩০ দিনের মধ্যে সার্টিফিকেট অব ইনটেন্ট এবং উৎপাদন শুরু হওয়ার পর ৪৫ দিনের মধ্যে সার্টিফিকেট অব এলিজিবিলিটি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। আর্থিক সহায়তার দাবি মঞ্জুর এবং সংশ্লিষ্ট শিল্প ইউনিটের অ্যাকাউন্টে অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রেও ৩০ দিনের সময়সীমা রাখা হয়েছে।

    প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় গতি আনা গেলে বিনিয়োগকারীদের কাছে রাজ্যের গ্রহণযোগ্যতা বাড়তে পারে। বিশেষ করে যে সংস্থাগুলি একাধিক রাজ্যে বিনিয়োগের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখে, তাদের কাছে দ্রুত অনুমোদন ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়।

    শিল্পের পুনরুত্থানে নীতিগত পদক্ষেপ, এবার নজর বাস্তবায়নে

    সামগ্রিকভাবে পশ্চিমবঙ্গের নয়া শিল্পনীতি রাজ্যের শিল্প অর্থনীতিকে নতুন করে গতিশীল করার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রচেষ্টা। নতুন বিনিয়োগের পাশাপাশি পুরনো শিল্পের পুনরুজ্জীবন, মহিলা কর্মসংস্থান, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের প্রসার, পিছিয়ে থাকা এলাকার উন্নয়ন এবং প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যৎ শিল্পে বিনিয়োগ—একাধিক দিককে একই ছাতার তলায় আনার চেষ্টা হয়েছে।

    এই নীতির ইতিবাচক দিক হল, শিল্প সংস্থাকে শুধু আর্থিক সুবিধা দেওয়ার কথা বলা হয়নি, বরং কর্মসংস্থান তৈরি, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের সঙ্গে সরকারি সহায়তাকে যুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের প্রশাসনিক সুবিধা দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার উদ্যোগও উল্লেখযোগ্য।

    অবশ্যই, কোনও শিল্পনীতি ঘোষণার পরই রাতারাতি শিল্পের চেহারা বদলে যায় না। বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জন, জমি ও পরিকাঠামোর জোগান, দক্ষ শ্রমশক্তি, বিদ্যুৎ এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার বাস্তব প্রয়োগ—প্রতিটি ক্ষেত্রেই ধারাবাহিক কাজ প্রয়োজন। সেই সঙ্গে ঘোষিত সুবিধা যাতে যোগ্য শিল্প সংস্থার কাছে সময়মতো পৌঁছয়, তা নিশ্চিত করাও জরুরি।

    তবে নীতিগতভাবে শিল্পের জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরির যে বার্তা এই নয়া শিল্পনীতিতে দেওয়া হয়েছে, তা তাৎপর্যপূর্ণ। বাংলার শিল্পের পুনরুত্থান এবং কর্মসংস্থানের নতুন সম্ভাবনা তৈরির লক্ষ্যে সরকারের এই উদ্যোগ কতটা সফল হয়, এবার তার প্রমাণ মিলবে বাস্তব বিনিয়োগ ও নতুন শিল্প প্রকল্পের হাত ধরে।

  • Dhanteras 2026: শুক্রবার বিরল যোগে ধনতেরাস ২০২৬! কখন পুজো, কখন কেনাকাটার শুভ সময়?

    Dhanteras 2026: শুক্রবার বিরল যোগে ধনতেরাস ২০২৬! কখন পুজো, কখন কেনাকাটার শুভ সময়?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। বিশেষ করে শরৎ থেকে হেমন্ত—এই দুই ঋতু যেন উৎসবের আবহে মোড়া। মহালয়ার হাত ধরে শুরু হয় উৎসবের মরশুম। তারপর একে একে দুর্গাপুজো, লক্ষ্মীপুজো, কালীপুজো। আলোর উৎসব দীপাবলির ঠিক দু’দিন আগে পালিত হয় ধনতেরাস। ধনসম্পদ, সমৃদ্ধি ও সুস্বাস্থ্যের কামনায় এই দিনটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, ধনতেরাসে সোনা, রুপো, বাসনপত্র কিংবা নতুন কোনও সামগ্রী কেনা শুভ। তবে ২০২৬ সালের ধনতেরাসে রয়েছে বিশেষ জ্যোতিষ সংযোগও। শুক্রবারে এই উৎসব পালনের পাশাপাশি তৈরি হচ্ছে মালব্য রাজযোগ। ফলে এবারের ধনতেরাসের মাহাত্ম্য আরও বেড়েছে বলে মনে করছেন জ্যোতিষশাস্ত্রের অনুরাগীরা।

    কেন পালন করা হয় ধনতেরাস?

    ধনতেরাস শব্দটি এসেছে দুটি শব্দের সংমিশ্রণে—‘ধন’ অর্থাৎ সম্পদ এবং ‘তেরাস’ অর্থাৎ ত্রয়োদশী। হিন্দু পঞ্জিকা অনুসারে, কার্তিক মাসের কৃষ্ণপক্ষের ত্রয়োদশী তিথিতে এই উৎসব পালিত হয়। ধনত্রয়োদশী নামেও পরিচিত এই দিনটি।

    ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, ধনতেরাসে ভগবান ধন্বন্তরী, দেবী লক্ষ্মী এবং ধনদেবতা কুবেরের আরাধনা করা হয়। ধনসম্পদ ও আর্থিক সমৃদ্ধির পাশাপাশি সুস্বাস্থ্য এবং পরিবারের মঙ্গল কামনাও এই উৎসবের অন্যতম উদ্দেশ্য। প্রচলিত রীতি অনুসারে, এদিন মূল্যবান ধাতু, সোনা-রুপোর গয়না, বাসনপত্র কিংবা গৃহস্থালির প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনাকে শুভ বলে মনে করা হয়। বিশ্বাস, এর মাধ্যমে সংসারে সুখ-সমৃদ্ধির আগমন ঘটে।

    ২০২৬ সালের ধনতেরাসে কেন বিশেষ শুক্রবারের যোগ?

    এবারের ধনতেরাস পালিত হবে ৬ নভেম্বর, শুক্রবার। হিন্দুধর্মীয় বিশ্বাসে শুক্রবার দেবী লক্ষ্মীর উদ্দেশ্যে নিবেদিত। লক্ষ্মী হলেন ধন, ঐশ্বর্য, সমৃদ্ধি ও সৌভাগ্যের প্রতীক। ফলে লক্ষ্মীপুজোর বিশেষ দিন শুক্রবারে ধনতেরাস পড়ায় এই তিথির ধর্মীয় গুরুত্ব আরও বেড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

    এই দিনে ভক্তরা দেবী লক্ষ্মীর আরাধনা, প্রদীপ প্রজ্বলন এবং দান-ধ্যানের মাধ্যমে তাঁর আশীর্বাদ প্রার্থনা করেন। পাশাপাশি ধনদেবতা কুবের ও ভগবান ধন্বন্তরীর পুজোরও বিশেষ রীতি রয়েছে।

    ধনতেরাসে তৈরি হচ্ছে মালব্য রাজযোগ, কী এর তাৎপর্য?

    ২০২৬ সালের ধনতেরাসের অন্যতম আকর্ষণ জ্যোতিষশাস্ত্রের একটি বিশেষ যোগ—মালব্য রাজযোগ। পঞ্জিকা ও জ্যোতিষীয় গণনা অনুযায়ী, এই সময়ে শুক্র নিজের রাশি তুলাতে অবস্থান করবে।

    জ্যোতিষশাস্ত্রে শুক্রকে সৌন্দর্য, বিলাসিতা, সুখ, ঐশ্বর্য এবং পার্থিব সমৃদ্ধির কারক গ্রহ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। শুক্র নিজের রাশিতে অবস্থান করলে মালব্য রাজযোগ তৈরি হয় বলে প্রচলিত বিশ্বাস। এটি পঞ্চ মহাপুরুষ যোগের অন্যতম।

    জ্যোতিষশাস্ত্র অনুসারে, এই যোগ সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য, আর্থিক সমৃদ্ধি ও বিলাসবহুল জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত। সেই কারণেই ধনতেরাসের মতো সম্পদ ও সমৃদ্ধির উৎসবে মালব্য রাজযোগের উপস্থিতিকে বিশেষ শুভ বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও এগুলি জ্যোতিষশাস্ত্রীয় বিশ্বাস, এর কোনও বৈজ্ঞানিক নিশ্চয়তা নেই।

    কবে ধনতেরাস ২০২৬? ত্রয়োদশী তিথির সময়

    এ বছর ৬ নভেম্বর, শুক্রবার ধনতেরাস পালিত হবে। কলকাতার স্থানীয় সময় অনুযায়ী, ত্রয়োদশী তিথি শুরু হবে ৬ নভেম্বর সকাল ১০টা ৩১ মিনিটে। তিথি শেষ হবে ৭ নভেম্বর সকাল ১০টা ৪৮ মিনিটে। অর্থাৎ, ৬ নভেম্বর সন্ধ্যায় পুজোর সময়ও ত্রয়োদশী তিথি বজায় থাকবে।

    ধনতেরাস ২০২৬: পুজোর শুভ সময় কখন?

    ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী, ধনতেরাসের সন্ধ্যায় প্রদোষ কালে পুজো করা বিশেষ শুভ বলে মনে করা হয়। ২০২৬ সালে প্রদোষ কাল থাকবে বিকেল ৫টা ৪৯ মিনিট থেকে রাত ৮টা ২৩ মিনিট পর্যন্ত। এই সময়ের মধ্যে ভগবান ধন্বন্তরী ও দেবী লক্ষ্মীর আরাধনা করতে পারেন ভক্তরা। সন্ধ্যায় প্রদীপ জ্বালিয়ে প্রার্থনা নিবেদনেরও প্রচলন রয়েছে।

    ধনতেরাসে কেনাকাটার তিনটি শুভ মুহূর্ত

    ধনতেরাসে সোনা, রুপো, বাসনপত্র কিংবা নতুন গৃহস্থালির সামগ্রী কেনার পরিকল্পনা থাকলে নজরে রাখতে পারেন এই তিনটি সময়।

    • ● ১. চৌঘরিয়া মুহূর্ত: কেনাকাটার প্রথম শুভ সময় সকাল ৮টা ১৬ মিনিট থেকে সকাল ৯টা ৪৮ মিনিট পর্যন্ত। এই সময়ে সোনা, রুপো, বাসনপত্র এবং অন্যান্য গৃহস্থালির সামগ্রী কেনার রীতি রয়েছে।
    • ● ২. অভিজিৎ মুহূর্ত: দ্বিতীয় শুভ সময় বেলা ১১টা ৪৮ মিনিট থেকে দুপুর ১২টা ৫৬ মিনিট পর্যন্ত। এই সময়েও সোনা-রুপোর গয়না, বাসনপত্র এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনা যেতে পারে বলে প্রচলিত বিশ্বাস।
    • ● ৩. সন্ধ্যার প্রদোষ কাল: কেনাকাটার তৃতীয় শুভ সময় বিকেল ৫টা ৪৯ মিনিট থেকে রাত ৮টা ২৩ মিনিট পর্যন্ত। এই সময়টি পুজোর জন্যও বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। ফলে সন্ধ্যায় পুজো ও কেনাকাটা—দুই-ই করতে পারেন।

    সব মিলিয়ে, ২০২৬ সালের ধনতেরাসে শুক্রবারের বিশেষ তাৎপর্য, মালব্য রাজযোগ এবং কেনাকাটার একাধিক শুভ মুহূর্ত উৎসবের আকর্ষণ বাড়িয়েছে। ধনসম্পদ ও সমৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবারের সুস্বাস্থ্য ও মঙ্গল কামনায় এই দিনটি পালন করবেন বহু মানুষ।

    DISCLAIMER: পঞ্জিকা অনুযায়ী তিথি, প্রদোষ কাল এবং তিনটি কেনাকাটার মুহূর্ত একবার যাচাই করে নেওয়া ভালো। বিশেষত চৌঘরিয়া ও অভিজিৎ মুহূর্তের সময় স্থানভেদে পরিবর্তিত হতে পারে।
LinkedIn
Share