Tag: মাধ্যম বাংলা

  • Nadimul Haque ED Raid: তৃণমূলের রাজ্যসভা সাংসদ নাদিমুল হকের ৭ ঠিকানায় ইডি, তদন্তের কেন্দ্রে বেআইনি লেনদেন

    Nadimul Haque ED Raid: তৃণমূলের রাজ্যসভা সাংসদ নাদিমুল হকের ৭ ঠিকানায় ইডি, তদন্তের কেন্দ্রে বেআইনি লেনদেন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সোমবার সকালেই কলকাতা থেকে দিল্লি, এমনকী রাঁচিতেও একযোগে তল্লাশি অভিযান চালাল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি। অভিযানের কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ নাদিমুল হক। ইডি সূত্রে খবর, বেআইনি আর্থিক লেনদেন, হিসাব-বহির্ভূত টাকা লেনদেন এবং সন্দেহজনক উৎস থেকে অর্থের জোগানের অভিযোগের তদন্তেই এই অভিযান।

    কলকাতা, দিল্লি ও রাঁচিতে একযোগে অভিযান

    তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, নাদিমুল হকের সঙ্গে যুক্ত মোট সাতটি ঠিকানায় এদিন তল্লাশি চালানো হয়। কলকাতার পার্ক সার্কাস, দিল্লির একাধিক ঠিকানা এবং রাঁচির একটি ঠিকানাও রয়েছে এই তালিকায়। তাঁর সঙ্গে যুক্ত উর্দু সংবাদপত্রের দফতর এবং তাঁর ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক কাজকর্মের সঙ্গে সম্পর্কিত কয়েকটি জায়গাতেও ইডির আধিকারিকরা পৌঁছন।

    কলকাতায় পার্ক সার্কাসের ১২, দরগা রোডে অবস্থিত ‘আখবার-এ-মাশরিক প্রাইভেট লিমিটেড’-এর দফতরে সকালে ইডির একটি দল যায়। দফতরটি তালাবন্ধ থাকলেও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের সঙ্গে নিয়ে তদন্তকারীরা সেখানে প্রবেশ করেন বলে জানা গিয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে অফিসের বিভিন্ন নথি, আর্থিক কাগজপত্র এবং লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য খতিয়ে দেখা হয়।

    সংবাদপত্রের আর্থিক লেনদেন নিয়ে নজর

    ইডি সূত্রের দাবি, ওই উর্দু সংবাদপত্রের দফতর থেকে একাধিক আর্থিক লেনদেন হয়েছে। তার মধ্যে কিছু লেনদেনের সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের যোগ রয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার সূত্রে খবর।

    কোন উৎস থেকে টাকা এসেছে, কার সঙ্গে কী উদ্দেশ্যে আর্থিক লেনদেন হয়েছে এবং প্রতিটি লেনদেনের পক্ষে যথাযথ নথি রয়েছে কি না—মূলত এই বিষয়গুলিই তদন্তকারীদের নজরে বলে জানা গিয়েছে। বেনামি বা সন্দেহজনক উৎস থেকে কোনও বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেন হয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    দিল্লিতেও নাদিমুল হকের একাধিক ঠিকানায় তল্লাশি

    কলকাতার পাশাপাশি দিল্লিতেও তল্লাশি চালায় ইডি। রাজধানীর ৬১, সাউথ অ্যাভিনিউয়ে নাদিমুল হকের একটি অফিস রয়েছে। ওই দফতর তৃণমূল কংগ্রেসের দিল্লিকেন্দ্রিক সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক কাজকর্মে ব্যবহৃত হয় বলে জানা যায়। সোমবার সকাল থেকেই সেখানে ইডির আধিকারিকরা নথিপত্র পরীক্ষা করেন।

    এর পাশাপাশি দিল্লিতে তৃণমূল সাংসদের সরকারি বাংলোতেও তদন্তকারীরা পৌঁছন বলে সূত্রের খবর। তাঁর বিভিন্ন দফতর ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার মাধ্যমে সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন হয়েছে কি না, সেই বিষয়টিই তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে জানা গিয়েছে।

    তল্লাশির সময় বেশ কিছু নথি এবং আর্থিক রেকর্ড পরীক্ষা করা হয়েছে বলে জানা গেলেও, অভিযানের শেষে ঠিক কী কী নথি বা তথ্য উদ্ধার হয়েছে, সে বিষয়ে এখনও ইডির তরফে বিস্তারিত কোনও তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

    বিধাননগর থানার মামলার সূত্রেই তদন্ত?

    ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, বিধাননগর থানায় দায়ের হওয়া একটি মামলার ভিত্তিতেই এই তদন্তের সূত্রপাত। বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের দায়ের করা এফআইআরের ভিত্তিতে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট একটি এনফোর্সমেন্ট কেস ইনফরমেশন রিপোর্ট বা ECIR দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে বলে খবর।

    অভিযোগের মধ্যে রয়েছে বেআইনি আর্থিক লেনদেন, হিসাব-বহির্ভূত লেনদেন এবং সন্দেহজনক উৎস থেকে অর্থের জোগান। সেই সূত্র ধরে নাদিমুল হকের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন ব্যক্তি, সংস্থা ও সম্পত্তির আর্থিক লেনদেনের তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে তদন্তকারী সূত্রের দাবি।

    ফের সক্রিয় ইডি, নজরে একাধিক আর্থিক মামলা

    সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিমবঙ্গে একাধিক আর্থিক অনিয়ম এবং অর্থপাচারের অভিযোগের তদন্তে ফের সক্রিয় হয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। তারই মধ্যে নাদিমুল হকের একাধিক ঠিকানায় এই তল্লাশি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি করেছে।

    এর আগে রবিবার সকালে উত্তর কলকাতায় স্টক ট্রেডিং এবং মানি মার্কেট ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত একটি ব্যবসায়ী পরিবারের বাড়িতেও তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি। ওই অভিযানে কেন্দ্রীয় বাহিনীর পরিবর্তে কলকাতা পুলিশের কর্মীরা ইডির আধিকারিকদের সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। ইডির পূর্বাঞ্চলীয় দফতরের একটি দল প্রথমে ফুলবাগান থানায় যায়। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ করে তদন্তকারীরা ফুলবাগান থানার পুলিশকর্মীদের সঙ্গে কাঁকুড়গাছির ‘শিবম’ ভবনে পৌঁছে তল্লাশি শুরু করেন।

    ২৯০ কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতির মামলাতেও তল্লাশি

    অন্যদিকে, প্রায় ২৯০ কোটি টাকার ব্যাঙ্ক ঋণ জালিয়াতির অভিযোগের তদন্তেও গত ৩ সেপ্টেম্বর কলকাতার একাধিক জায়গায় অভিযান চালিয়েছিল ইডি। অভিযোগ রয়েছে, ঝাড়খণ্ডে ৬৬ মেগাওয়াটের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য একটি বেসরকারি সংস্থা বিভিন্ন ব্যাঙ্ক থেকে বিপুল পরিমাণ ঋণ নিয়েছিল।

    তদন্তকারীদের অভিযোগ, ঋণের একটি অংশ নির্দিষ্ট প্রকল্পে ব্যবহার না করে অন্য গ্রুপ সংস্থা এবং ব্যক্তিগত কাজে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেই আর্থিক লেনদেনের সূত্র ধরেই অর্থপাচারের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে।

    রাজনৈতিক মহলে বাড়ছে কৌতূহল

    নাদিমুল হকের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিগত ঠিকানা, সংবাদপত্রের দফতর এবং তৃণমূলের রাজনৈতিক কাজকর্মে ব্যবহৃত অফিস—একাধিক জায়গা এই তদন্তের আওতায় আসায় স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সংবাদপত্রের দফতর থেকে হওয়া আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে রাজনৈতিক কোনও যোগ রয়েছে কি না, সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে।

    তবে এখনও পর্যন্ত ইডির তল্লাশি থেকে কী কী তথ্য বা নথি পাওয়া গিয়েছে, সে বিষয়ে সরকারি ভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। একইভাবে, তদন্তের ভিত্তিতে নাদিমুল হক বা অন্য কোনও ব্যক্তি কিংবা সংস্থার বিরুদ্ধে পরবর্তী সময়ে কী পদক্ষেপ করা হবে, সেটিও স্পষ্ট নয়।

    এ বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। নাদিমুল হকও প্রকাশ্যে কোনও বক্তব্য দেননি। ফলে ইডির অভিযোগ, তল্লাশিতে পাওয়া তথ্য এবং তদন্তের পরবর্তী গতিপথ সম্পর্কে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর অবকাশ নেই। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার পরবর্তী পদক্ষেপ এবং আনুষ্ঠানিক বিবৃতির দিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।

  • India Belgium Defence Deal: ডাঙায় ট্যাঙ্ক, আকাশে ড্রোন থেকে সামুদ্রিক মাইন, ১০ বড় চুক্তি ভারত-বেলজিয়ামের! বদলে যেতে পারে দেশের প্রতিরক্ষা উৎপাদন

    India Belgium Defence Deal: ডাঙায় ট্যাঙ্ক, আকাশে ড্রোন থেকে সামুদ্রিক মাইন, ১০ বড় চুক্তি ভারত-বেলজিয়ামের! বদলে যেতে পারে দেশের প্রতিরক্ষা উৎপাদন

    সুশান্ত দাস

    প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ভারত ও বেলজিয়ামের মধ্যে সহযোগিতা আরও গভীর হতে চলেছে। বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী বার্ট ডে ওয়েভারের ভারত সফরকে কেন্দ্র করে দুই দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পের মধ্যে প্রায় ১০টি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। তাঁর সফরসঙ্গী ছিলেন বেলজিয়ামের ১৫টি প্রতিরক্ষা সংস্থার প্রতিনিধিরা। অস্ত্র, গোলাবারুদ, ড্রোন, কাউন্টার-ড্রোন ব্যবস্থা, রাডার, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, মাইন প্রতিরোধ প্রযুক্তি এবং উন্নত প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি—একাধিক ক্ষেত্রে এই অংশীদারিত্ব গড়ে উঠছে।

    সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ভারত শুধুমাত্র বিদেশ থেকে তৈরি অস্ত্র কেনার পথে হাঁটছে না। বরং যৌথভাবে প্রযুক্তি তৈরি, ভারতে উৎপাদন এবং ভবিষ্যতে রফতানির সুযোগ তৈরি করার দিকেই জোর দেওয়া হচ্ছে। ফলে ভারত-বেলজিয়াম প্রতিরক্ষা সহযোগিতা দেশের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ এবং ‘আত্মনির্ভর ভারত’ উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।

    জোর জোরাওয়ার ট্যাঙ্কে বেলজিয়ামের ৩১০৫ টারেট

    ভারতীয় সেনার হালকা ট্যাঙ্ক জোরাওয়ার প্রকল্পে ইতিমধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বেলজিয়াম-ভিত্তিক জন ককেরিল ডিফেন্স-এর ৩১০৫ টারেটের। এই টারেটে রয়েছে ১০৫ মিলিমিটার কামান। জোরাওয়ারের প্রাথমিক প্রোটোটাইপেও এই টারেট ব্যবহার করা হয়েছে।

    উচ্চ পার্বত্য ও দুর্গম এলাকায় যুদ্ধের কথা মাথায় রেখেই জোরাওয়ার ট্যাঙ্ক তৈরি করা হচ্ছে। বিশেষ করে ভারত-চিন সীমান্তের মতো উচ্চ উচ্চতার অঞ্চলে দ্রুত মোতায়েনের জন্য এই হালকা ট্যাঙ্ক গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

    এই প্রকল্পে বেলজিয়ামের সংস্থাগুলির অংশগ্রহণ ভারতের স্থলযুদ্ধের সক্ষমতা আধুনিকীকরণের ক্ষেত্রেও তাৎপর্যপূর্ণ। ওআইপি সেন্সর সিস্টেম ভারতীয় অংশীদারদের সঙ্গে সাঁজোয়া যানের জন্য উন্নত ইলেক্ট্রো-অপটিক্যাল ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করছে।

    অন্যদিকে, জন ককেরিল ডিফেন্স উচ্চ পার্বত্য এলাকায় ব্যবহারের উপযোগী উন্নত ট্যাঙ্ক টারেট প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। টারেটের পরীক্ষা ও সংযুক্তিকরণের কাজ এগোচ্ছে। ভবিষ্যতে ভারতে উৎপাদনের লক্ষ্যে জন ককেরিল ভারতীয় সংস্থা ইলেক্ট্রো নিউম্যাটিক্স অ্যান্ড হাইড্রলিক্স-এর সঙ্গে অংশীদারিত্ব করেছে।

    ভারতে তৈরি হবে ৭০ মিলিমিটার রকেট

    ভারত-বেলজিয়াম প্রতিরক্ষা সহযোগিতার আরেকটি বড় ক্ষেত্র হল ৭০ মিলিমিটার রকেট। বেলজিয়ামের থ্যালেস এবং ভারতের কল্যাণী স্ট্র্যাটেজিক সিস্টেমস লিমিটেড এই বিষয়ে চুক্তি করেছে।

    এই অংশীদারিত্বের আওতায় আনগাইডেড এবং লেজার-গাইডেড—দুই ধরনের রকেট তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। থ্যালেস প্রযুক্তিগত জ্ঞান সরবরাহ করবে এবং ভারতে উৎপাদন, পরীক্ষা ও সিস্টেম সংযুক্তিকরণের দায়িত্ব নেবে কল্যাণী স্ট্র্যাটেজিক সিস্টেমস। লক্ষ্য হল ২০২৭ সালের গোড়ার দিকে প্রথম সম্পূর্ণ ভারতীয় প্রযুক্তিতে তৈরি রকেট প্রস্তুত করা।

    থ্যালেসের প্রযুক্তি অনুযায়ী, এই ধরনের রকেট আকাশ, স্থল এবং সমুদ্র—তিন ধরনের অভিযানে ব্যবহার করা সম্ভব। ফলে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে এর ব্যবহারযোগ্যতা রয়েছে। দেশেই উৎপাদন বাড়লে আমদানির উপর নির্ভরতা কমার পাশাপাশি ভবিষ্যতে রফতানির সুযোগও তৈরি হতে পারে।

    সমুদ্রের মাইন শনাক্ত করবে রোবোটিক ব্যবস্থা

    ভারত-বেলজিয়াম প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় সামুদ্রিক নিরাপত্তাও গুরুত্বপূর্ণ জায়গা করে নিয়েছে। লার্সেন অ্যান্ড টুব্রো এবং বেলজিয়ামের এক্সাইল রোবোটিক্স জলের নিচে থাকা মাইন শনাক্ত, চিহ্নিত এবং নিষ্ক্রিয় করার প্রযুক্তি নিয়ে একসঙ্গে কাজ করবে।

    আধুনিক নৌযুদ্ধে সামুদ্রিক মাইন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হুমকি। তুলনামূলক কম খরচে সমুদ্রপথ, বন্দর এবং নৌঘাঁটির প্রবেশপথ বিপজ্জনক করে তুলতে পারে এই ধরনের মাইন। তাই সেগুলি শনাক্ত ও সরিয়ে ফেলার ক্ষমতা একটি আধুনিক নৌবাহিনীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    ভারতের ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তির গুরুত্ব আরও বেশি। ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সামুদ্রিক নিরাপত্তার গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে। তাই আন্ডারওয়াটার রোবোটিক্স, স্বয়ংক্রিয় সামুদ্রিক ব্যবস্থা, বন্দর সুরক্ষা, জলের নিচের পরিকাঠামোর নিরাপত্তা এবং মেরিন ডিজেল ইঞ্জিন—বিভিন্ন ক্ষেত্রেও দুই দেশ সহযোগিতার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে।

    বছরে ১০ কোটি রাউন্ড গোলাবারুদ তৈরির পরিকল্পনা

    প্রতিরক্ষা উৎপাদনে আরও বড় পদক্ষেপ হতে পারে বেলজিয়ামের লাক্রোয়া এবং ভারতের টেম্বো ক্লাসিক ইঞ্জিনিয়ারিং-এর চুক্তি। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভারতে একটি নতুন উৎপাদন লাইন তৈরি করা হবে। সেখানে বছরে প্রায় ১০ কোটি রাউন্ড গোলাবারুদ তৈরির প্রস্তাব রয়েছে।

    প্রকল্পটির আনুমানিক মূল্য প্রায় ৫ কোটি ইউরো, অর্থাৎ প্রায় ৪৫০ কোটি টাকা। প্রস্তাবিত কারখানায় দুই ধরনের গোলাবারুদের জন্য সম্পূর্ণ উৎপাদন লাইন থাকবে। পাশাপাশি আরও দুই ধরনের ক্যালিবারের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও টুলিংয়ের ব্যবস্থাও থাকবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ ও কারখানা স্থাপনের কাজ ২০২৮ ও ২০২৯ সালে করা হবে।

    এই প্রকল্প সফল হলে ভারতে সামরিক গোলাবারুদের বৃহৎ পরিসরে উৎপাদন ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। একই সঙ্গে দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পে বিদেশি প্রযুক্তি ও ভারতীয় উৎপাদন পরিকাঠামোর সমন্বয়ের একটি বড় উদাহরণ তৈরি হবে।

    ড্রোন ও কাউন্টার-ড্রোনেও নজর

    আধুনিক যুদ্ধে ড্রোনের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে মধ্যপ্রাচ্য—বিভিন্ন সংঘাতে সস্তা ও ছোট ড্রোন থেকে শুরু করে উন্নত স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা যুদ্ধক্ষেত্রে বড় প্রভাব ফেলেছে। ফলে ভারতও ড্রোন এবং কাউন্টার-ড্রোন প্রযুক্তিকে প্রতিরক্ষা আধুনিকীকরণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখছে। এই ক্ষেত্রেও বেলজিয়ামের এফএন হার্স্টাল এবং কল্যাণী স্ট্র্যাটেজিক সিস্টেমস ভারতে যৌথ উৎপাদন কেন্দ্র তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করছে।

    প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় থাকতে পারে—

    • ● নজরদারি ড্রোন
    • ● কাউন্টার-ড্রোন প্রযুক্তি
    • ● স্বয়ংক্রিয় প্রতিরক্ষা প্ল্যাটফর্ম
    • ● উন্নত সেন্সর ও ইলেক্ট্রো-অপটিক্যাল ব্যবস্থা

    অর্থাৎ, দুই দেশের সহযোগিতা শুধু প্রচলিত অস্ত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না; বরং নতুন প্রজন্মের স্বয়ংক্রিয় ও মানবহীন যুদ্ধপ্রযুক্তির দিকেও বিস্তৃত হচ্ছে।

    শুধু অস্ত্র কেনা নয়, প্রযুক্তি তৈরি ও উৎপাদনেও জোর

    ভারত-বেলজিয়াম প্রতিরক্ষা সহযোগিতার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক সম্ভবত এখানেই। ভারত এখন বিদেশি সংস্থার কাছ থেকে শুধু প্রস্তুত অস্ত্র বা সরঞ্জাম কেনার পরিবর্তে প্রযুক্তি হস্তান্তর, যৌথ উন্নয়ন এবং দেশীয় উৎপাদনকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

    জোরাওয়ারের টারেট, ৭০ মিলিমিটার রকেট, গোলাবারুদ উৎপাদন, মাইন প্রতিরোধ প্রযুক্তি এবং ড্রোন-কাউন্টার-ড্রোন ব্যবস্থা—প্রতিটি ক্ষেত্রেই ভারতীয় সংস্থাগুলিকে অংশীদার করা হচ্ছে।

    এর ফলে একদিকে বিদেশি সংস্থার উন্নত প্রযুক্তি ভারতে আসবে, অন্যদিকে ভারতীয় সংস্থাগুলি উৎপাদন, পরীক্ষা, সংযুক্তিকরণ এবং ভবিষ্যতে প্রযুক্তির আরও উন্নয়নে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবে।

    সামরিক সহযোগিতার জন্য সরকারি কাঠামোও তৈরি

    শুধু শিল্পক্ষেত্রেই নয়, দুই দেশের সরকারও প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে একটি লেটার অব ইনটেন্ট স্বাক্ষর করেছে।

    এর আওতায় রয়েছে—

    • ● সামরিক পর্যায়ে পারস্পরিক আদানপ্রদান
    • ● আধিকারিকদের প্রশিক্ষণ
    • ● যৌথ সামরিক মহড়া
    • ● প্রতিরক্ষা গবেষণায় সহযোগিতা
    • ● সামুদ্রিক নিরাপত্তায় সমন্বয়

    পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও বেশি শিল্প সংস্থাকে এই অংশীদারিত্বে যুক্ত করা এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও দুই দেশ আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ এই ভারত-বেলজিয়াম প্রতিরক্ষা চুক্তি?

    ভারতের জন্য এই সহযোগিতার গুরুত্ব তিনটি স্তরে দেখা যায়। প্রথমত, প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের দেশীয় উৎপাদন বাড়বে। দ্বিতীয়ত, বিদেশি প্রযুক্তির সঙ্গে ভারতীয় শিল্পের সংযোগ আরও শক্তিশালী হবে। তৃতীয়ত, দেশীয় উৎপাদন বাড়লে ভবিষ্যতে ভারতীয় প্রতিরক্ষা পণ্য বিদেশে রফতানির সম্ভাবনাও তৈরি হবে।

    বিশেষ করে ড্রোন, কাউন্টার-ড্রোন, আন্ডারওয়াটার রোবোটিক্স এবং উন্নত সেন্সরের মতো প্রযুক্তি ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রে ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। সেই জায়গায় বেলজিয়ামের প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং ভারতের বৃহৎ উৎপাদন পরিকাঠামো একসঙ্গে কাজ করলে দীর্ঘমেয়াদে একটি শক্তিশালী প্রতিরক্ষা শিল্প-ইকোসিস্টেম তৈরি হতে পারে।

    অর্থাৎ, ভারত-বেলজিয়াম প্রতিরক্ষা সহযোগিতার বার্তা শুধু নতুন অস্ত্র কেনা নয়—‘বিদেশি প্রযুক্তি + ভারতীয় উৎপাদন + যৌথ উন্নয়ন’-এর মাধ্যমে আগামী দিনের দেশীয় প্রতিরক্ষা শক্তি গড়ে তোলা।

  • Teachers Day 2026: কেন ৫ সেপ্টেম্বরই শিক্ষক দিবস? জানুন ড. রাধাকৃষ্ণণের জীবনের অজানা কাহিনি

    Teachers Day 2026: কেন ৫ সেপ্টেম্বরই শিক্ষক দিবস? জানুন ড. রাধাকৃষ্ণণের জীবনের অজানা কাহিনি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ, ৫ সেপ্টেম্বর দেশজুড়ে পালিত হয় শিক্ষক দিবস (Teacher’s Day)। দিনটি যাঁর জন্মদিনের স্মরণে পালিত হয়, তিনি হলেন ড. সর্বপল্লি রাধাকৃষ্ণণ (Dr Sarvepalli Radhakrishnan)। শিক্ষা, উন্নয়ন এবং মানব কল্যাণকেই তিনি করে নিয়েছিলেন জীবনের ব্রত। কারণ শিক্ষার জগতে তাঁর অবদান অপরিসীম। তিনি একজন অত্যন্ত দক্ষ শিক্ষাবিদ, রাজনীতিবিদ, দার্শনিক ছিলেন। শুধু তাই নয়, তিনি ভারতের প্রথম উপরাষ্ট্রপতি, দ্বিতীয় রাষ্ট্রপতি ছিলেন।

    রাধাকৃষ্ণণের শিক্ষাজীবন (Teacher’s Day)

    ১৮৮৮ সালের ৫ সেপ্টেম্বর সর্বপল্লি রাধাকৃষ্ণণ (Dr Sarvepalli Radhakrishnan) তামিলনাড়ুর তিরুত্তানিতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। বাবা সর্বপল্লি বীরস্বামী এবং মা সীতাম্মা। লুথার্ন মিশনারি স্কুল, তিরুপতি এবং ভেলোরে প্রাথমিক শিক্ষা (Teacher’s Day)। ছোট থেকেই পড়াশোনায় তাঁর তেমন মন ছিল না। এদিক ওদিক ঘুরে বেড়ানোই ছিল পয়লা পছন্দের। ছেলের এমন মতিগতি দেখে চিন্তায় পড়ে যান বাবা। তাই তাঁকে ভর্তি করিয়ে দেন ভেলোরের একটি মিশনারি স্কুলে। মন পড়াশোনায় না বসলে কী হবে, স্কুলজীবন থেকেই পড়াশুনায় অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন তিনি। বরাবরই সে জন্য তিনি বৃত্তি পেয়ে এসেছেন। এরপর মাদ্রাজ খ্রিস্টান কলেজ থেকে দর্শনশাস্ত্রে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেছিলেন। ১৯১৬ সাল থেকে মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সি কলেজে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কাজ করেন।

    বিবেচিত হয়েছিলেন নোবেল পুরস্কারের জন্যও

    জীবনের বড় সময় শিক্ষকতার পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। ছিলেন ছাত্র সমাজের কাছে বিশেষ জনপ্রিয়। একবার তাঁকে ফুলসজ্জিত কার্ট নিয়ে স্টেশন থেকে আনার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এরই মধ্যে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে তিনি যে সব বক্তৃতা দিয়েছিলেন, তা নিয়ে আলোড়ন পড়ে যায়। তাঁর হাতে সৃষ্টি হয়েছে একাধিক দার্শনিক গ্রন্থ, যা নিয়েও হইচই পড়ে গিয়েছিল। তাঁর ‘অ্যান আইডিয়ালিস্ট ভিউ অফ লাইফ’ বিবেচিত হয়েছিল নোবেল প্রাইজের জন্যও। ১৯৭৫ সালে ‘প্রগতিতে ধর্মের অবদান’ রচনা তাঁকে এনে দিয়েছিল ‘টেম্পলটন’ পুরস্কার। তাঁর উল্লেখযোগ্য কিছু কাজের মধ্যে রয়েছে— Reign of Religion in Contemporary Philosophy, Philosophy of Rabindranath Tagore, The Hindu View of Life, Kalki or the Future of Civilisation, An Idealist View of Life, The Religion We Need, India and China, and Gautama the Buddha.

    প্রশাসনিক জীবন

    সর্বপল্লি রাধাকৃষ্ণণ (Teacher’s Day) ১৯৩১ থেকে ১৯৩৬ সাল পর্যন্ত অন্ধ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন। এরপর ১৯৩৯ থেকে ১৯৪৮ সাল পর্যন্ত বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিযুক্ত হয়েছিলেন। ১৯৫৩ সাল থেকে ১৯৬২ সাল পর্যন্ত ছিলেন দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। এর মধ্যে, ১৯৪৯ থেকে ১৯৫২ সাল পর্যন্ত সোভিয়েত ইউনিয়নে ভারতের রাষ্ট্রদূত ছিলেন। ১৯৫২ সালে তিনি ভারতের প্রথম উপরাষ্ট্রপতি এবং ১৯৬২ সালে দ্বিতীয় রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৮৪ সালে, তিনি মরণোত্তর ভারতরত্ন পেয়েছিলেন।

    কেন পালিত হয় শিক্ষক দিবস? (Teacher’s Day)

    রাধাকৃষ্ণণ (Dr Sarvepalli Radhakrishnan) একজন মহান শিক্ষাবিদ। শিক্ষার প্রসারে তাঁর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। শিক্ষাকে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে নিরন্তর ভূমিকা পালন করেছিলেন তিনি। দেশে শিক্ষার প্রসারের জন্য ১৯৬২ সালের ৫ সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষক দিবস পালন শুরু হয়। সেটা ছিল তাঁর ৭৭তম জন্মদিন। এই দিনে প্রথমবার শিক্ষক দিবস পালন করা হয়। ১৯৬৩ সাল থেকে আজ পর্যন্ত এই দিনকে বিশেষ মর্যাদা দিয়ে অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে স্কুল-কলেজে শিক্ষক দিবস হিসেবে পালন করা হয়। ছাত্রছাত্রীরা নাচ, গান, আবৃত্তি সহ নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সম্মান জানিয়ে থাকেন।

    আন্তর্জাতিক শিক্ষক দিবস

    ৫ সেপ্টেম্বর দিনটিকে সম্মান জানিয়ে ১৯৯৪ সাল থেকে আন্তর্জাতিক শিক্ষক দিবস (Teacher’s Day) পালন করা হয়ে থাকে। রাষ্ট্রসংঘের একটি বিশেষ সংগঠন ইউনেস্কো (ইউনাইটেড নেশনস এডুকেশনাল, সায়েন্টিফিক অ্যান্ড কালচারাল অর্গানাইজেশন) এবং ইন্টারন্যাশনাল লেবার অর্গানাইজেশনের যৌথ উদ্যোগে এই দিনটি স্মরণ করা হয়ে থাকে। আন্তর্জাতিক শিক্ষক দিবস উদযাপন করার পিছনে একটি বড় কারণ হল, শিক্ষকদের শ্রমকে আন্তর্জাতিক স্তরে স্বীকৃতি দেওয়া। সমাজ গঠনে শিক্ষকের বিশেষ ভূমিকা থাকে। তাই মানুষ গড়ার এই কারিগরদের শ্রমের মর্যাদা দেওয়ার জন্যই আন্তর্জাতিক শিক্ষক দিবস পালন করা হয়ে থাকে।

  • EOS-05: জিস্যাট-১ ব্যর্থতার ৫ বছর পর বড় কামব্যাক! ইসরোর ইওএস-০৫ কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

    EOS-05: জিস্যাট-১ ব্যর্থতার ৫ বছর পর বড় কামব্যাক! ইসরোর ইওএস-০৫ কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মহাকাশ থেকে পৃথিবীর উপর নজরদারির ক্ষেত্রে আরও এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ এগিয়ে গেল ভারত। শুক্রবার ভোরে সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হল ভারতের নতুন প্রজন্মের আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইট বা ইওএস-০৫। ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো-র জিএসএলভি-এফ১৭ রকেটে চেপে শ্রীহরিকোটা থেকে মহাকাশে পাড়ি দিল প্রায় ২,৩৬৭ কেজি ওজনের এই উপগ্রহ। সবচেয়ে বড় বিষয়, ইওএস-০৫-কে সাধারণ নিম্ন কক্ষপথে নয়, সাব-জিটিও বা সাব-জিওসিনক্রোনাস ট্রান্সফার অরবিটে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী ধাপে নিজস্ব প্রপালশন সিস্টেম ব্যবহার করে নির্দিষ্ট জিওসিনক্রোনাস কক্ষপথে পৌঁছবে উপগ্রহটি।

    ভোররাতে শ্রীহরিকোটা থেকে সফল উৎক্ষেপণ

    শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ভোর ২টা ৫৫ মিনিটে শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টারের সেকেন্ড লঞ্চ প্যাড থেকে জিএসএলভি-এফ১৭-এর সফল উৎক্ষেপণ হয়। প্রায় ৫১.৭ মিটার লম্বা রকেটটি নির্ধারিত সময়েই আকাশে উড়ে যায়। উৎক্ষেপণের প্রায় ১৮-১৯ মিনিট পর রকেট থেকে বিচ্ছিন্ন হয় ইওএস-০৫। এরপর উপগ্রহটিকে নির্ধারিত সাব-জিটিও-তে স্থাপন করা হয়। অর্থাৎ, এই মুহূর্তে ইওএস-০৫ এখনও তার চূড়ান্ত ৩৬ হাজার কিলোমিটার উচ্চতার অপারেশনাল জিওসিনক্রোনাস অবস্থানে পৌঁছয়নি। সেটি হবে পরবর্তী অরবিট-রেইজিং ম্যানুভারের মাধ্যমে। এই পার্থক্যটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ উপগ্রহটি সফলভাবে মহাকাশে পৌঁছে গেলেও তার পূর্ণাঙ্গ অপারেশনাল মিশন শুরু হতে এখনও কয়েকটি ধাপ বাকি।

    ইওএস-০৫ কেন অন্য আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইটের থেকে আলাদা?

    ইওএস-০৫-এর সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হল জিওসিনক্রোনাস অরবিট থেকে ইমেজিং করার ক্ষমতা। সাধারণ আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইটের বড় অংশই লো আর্থ অরবিট (এলইও) বা সান-সিনক্রোনাস অরবিটে (এসএসও) কাজ করে। এই উপগ্রহগুলি পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করার সময় বিভিন্ন অঞ্চলের ছবি তোলে। ফলে কোনও নির্দিষ্ট এলাকার ছবি পাওয়ার জন্য পরবর্তী অরবিটাল পাসের অপেক্ষা করতে হয়।

    ইওএস-০৫-এর ধারণাটি সম্পূর্ণ আলাদা। প্রায় ৩৬ হাজার কিলোমিটার উচ্চতায় জিওসিনক্রোনাস অরবিটে অবস্থান করলে উপগ্রহটি পৃথিবীর ঘূর্ণনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রদক্ষিণ করবে। ফলে ভারতের মতো একটি বড় ভৌগোলিক অঞ্চলের দিকে প্রায় একই অবস্থান থেকে ক্রমাগত নজর রাখা সম্ভব হবে। অর্থাৎ, ইওএস-০৫-এর মূল শক্তি শুধু অত্যন্ত উচ্চ রেজোলিউশনের ছবি তোলা নয়। এর আসল সুবিধা হল একই বিস্তীর্ণ অঞ্চলের ঘন ঘন আপডেটেড ছবি পাওয়া।

    ৩৬ হাজার কিলোমিটার দূরে গিয়েও কেন সুবিধা?

    সাধারণভাবে মনে হতে পারে, পৃথিবীর যত কাছাকাছি থাকা যায়, তত বেশি স্পষ্ট ছবি তোলা সম্ভব। সেই যুক্তিতে লো আর্থ অরবিটের উপগ্রহ অনেক ক্ষেত্রে উচ্চ রেজোলিউশনের ছবি তুলতে সুবিধাজনক। কিন্তু ইওএস-০৫-এর লক্ষ্য আলাদা। ধরা যাক, বঙ্গোপসাগরে দ্রুত শক্তিশালী হচ্ছে একটি ঘূর্ণিঝড়। লো আর্থ অরবিটের কোনও স্যাটেলাইট সেই সময় অন্য জায়গার উপর দিয়ে উড়ে গেলে, নির্দিষ্ট অঞ্চলের পরবর্তী ছবি পেতে পরবর্তী পাসের অপেক্ষা করতে হতে পারে।

    ইওএস-০৫ অপারেশনাল হলে একই বিস্তীর্ণ অঞ্চলকে অনেক বেশি ঘন ঘন পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে।ফলে ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথ, মেঘের গঠন, বন্যার বিস্তার কিংবা আগুনের মতো দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির উপর নজরদারিতে এই ব্যবস্থা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। আগের জিস্যাট কর্মসূচি সংক্রান্ত সরকারি তথ্যেও নির্দিষ্ট সেক্টরের ছবি ঘন ঘন সংগ্রহ এবং উপযুক্ত পরিস্থিতিতে প্রায় ৩০ মিনিটের মধ্যে সমগ্র ভারতীয় ভূখণ্ডের ছবি পাওয়ার লক্ষ্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।

    দুর্যোগ মোকাবিলায় বড় হাতিয়ার হতে পারে ইওএস-০৫

    ইওএস-০৫-এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহারগুলির মধ্যে অন্যতম হতে পারে ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা। ভারতের মতো দেশে প্রতি বছর ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, ভূমিধস, দাবানল-সহ একাধিক প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা যায়। এই ধরনের পরিস্থিতিতে কয়েক ঘণ্টা আগের তথ্য অনেক সময় যথেষ্ট হয় না। কোথায় জল ঢুকছে, কোন এলাকায় ক্ষয়ক্ষতি বেশি, ঘূর্ণিঝড়ের মেঘ কোথায় তৈরি হচ্ছে—এসব তথ্য যত দ্রুত পাওয়া যায়, প্রশাসনের পক্ষে তত দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব। জিওসিনক্রোনাস ইমেজিং স্যাটেলাইট সেই জায়গাতেই বড় সুবিধা দিতে পারে।

    উপগ্রহের ছবি ব্যবহার করে—

    • ● ঘূর্ণিঝড়ের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ,
    • ● মেঘের বিকাশ ও আবহাওয়ার পরিবর্তন শনাক্ত,
    • ● বন্যাকবলিত এলাকা চিহ্নিত,
    • ● বনাঞ্চলে আগুনের বিস্তার পর্যবেক্ষণ,
    • ● দুর্যোগের পর ভূমি ও উদ্ভিদের পরিবর্তন বিশ্লেষণ করা সম্ভব হতে পারে।

    তবে ইওএস-০৫ ভারতের অন্যান্য আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইটকে প্রতিস্থাপন করবে না। বরং এটি দেশের বর্তমান উপগ্রহ ব্যবস্থার সঙ্গে একটি সম্পূর্ণ নতুন ধরনের অবজারভেশন সক্ষমতা যোগ করবে।

    কৃষি থেকে পরিবেশ—বহু ক্ষেত্রে ব্যবহার

    ইওএস-০৫-এর গুরুত্ব শুধু দুর্যোগ মোকাবিলাতেই সীমাবদ্ধ নয়। আর্থ অবজারভেশন ডেটা কৃষি, বন, পরিবেশ এবং ভূমি ব্যবস্থাপনাতেও গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন স্পেকট্রাল ব্যান্ডে ইমেজিংয়ের মাধ্যমে শুধুমাত্র কোনও এলাকার ছবি নয়, সেই এলাকার উদ্ভিদ, ফসল, মাটি এবং পরিবেশের পরিবর্তন সম্পর্কেও তথ্য পাওয়া যায়। ভিজিবল ও নিয়ার-ইনফ্রারেডের মতো বিভিন্ন স্পেকট্রাল ব্যান্ড ব্যবহার করে কোনও অঞ্চলের উদ্ভিদের স্বাস্থ্য বা পরিবেশগত পরিবর্তন বিশ্লেষণ করা সম্ভব।

    অর্থাৎ প্রশ্নটা শুধু নয় যে—“এই জায়গাটা দেখতে কেমন?” বরং স্যাটেলাইট ডেটা থেকে আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায়—“এই জায়গায় কী পরিবর্তন হচ্ছে?” কৃষিক্ষেত্রে ফসলের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, পরিবেশগত পরিবর্তন বিশ্লেষণ এবং দীর্ঘমেয়াদি ল্যান্ড-ইউজ মনিটরিংয়ের ক্ষেত্রে এই তথ্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

    কৌশলগত দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ ইওএস-০৫

    ইওএস-০৫-কে সরাসরি কোনও ডেডিকেটেড মিলিটারি স্পাই স্যাটেলাইট হিসেবে চিহ্নিত করা ঠিক হবে না। এটি মূলত একটি আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইট, যার অসামরিক এবং কৌশলগত—দুই ধরনের ব্যবহারই থাকতে পারে।  তবে জিওসিনক্রোনাস অরবিট থেকে ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চল ও আশপাশের জলভাগকে ঘন ঘন পর্যবেক্ষণের সক্ষমতা কৌশলগত দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ।

    বিশেষ করে দেশের সংবেদনশীল সীমান্ত অঞ্চল, উপকূলীয় এলাকা এবং সামুদ্রিক অঞ্চলের উপর নিয়মিত নজরদারির ক্ষেত্রে এই ধরনের হাই-ফ্রিকোয়েন্সি স্যাটেলাইট ইমেজারি সহায়ক হতে পারে। এখানেই ইওএস-০৫-এর কৌশলগত গুরুত্ব। এটি কোনও একটি সামরিক লক্ষ্যকে কেন্দ্র করে তৈরি নয়, বরং একটি বিস্তীর্ণ অঞ্চলের উপর নিয়মিত ও দ্রুত আপডেটেড নজরদারি সক্ষমতা তৈরি করছে।

    জিস্যাট-১ ব্যর্থতার পাঁচ বছর পর নতুন সাফল্য

    ইওএস-০৫-এর এই সাফল্যের পিছনে রয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ অতীত। উপগ্রহটির সঙ্গে জিস্যাট কর্মসূচির সরাসরি যোগ রয়েছে। মূল পরিকল্পনায় জিওস্টেশনারি অরবিটে ইমেজিং স্যাটেলাইট পাঠিয়ে ভারতীয় উপমহাদেশের উপর প্রায় রিয়েল-টাইম অবজারভেশন সক্ষমতা তৈরি করার লক্ষ্য ছিল।

    কিন্তু ২০২১ সালের অগাস্টে জিএসএলভি-এফ১০ মিশন ব্যর্থ হয়। সেই মিশনে জিস্যাট-১-কে কক্ষপথে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। ক্রায়োজেনিক আপার স্টেজের অপারেশনের সময় সমস্যার কারণে উপগ্রহটি নির্ধারিত কক্ষপথে পৌঁছতে পারেনি। প্রায় পাঁচ বছর পর ইওএস-০৫-এর সফল উৎক্ষেপণ সেই বৃহত্তর পরিকল্পনাকেই নতুন করে এগিয়ে দিল।

    জিএসএলভি-এফ১৭-এর সফল মিশন শুধু একটি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ নয়; এটি জিওসিনক্রোনাস ইমেজিং সক্ষমতা তৈরির ক্ষেত্রে ইসরো-র জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যাবর্তনও।

    জিএসএলভি-এফ১৭-ও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়

    এই মিশনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল জিএসএলভি-এফ১৭। এটি ভারতের জিওসিনক্রোনাস স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকলের ১৯তম উড়ান। রকেটটিতে রয়েছে সলিড কোর, চারটি লিকুইড স্ট্র্যাপ-অন মোটর, লিকুইড সেকেন্ড স্টেজ এবং ভারতের নিজস্ব ক্রায়োজেনিক আপার স্টেজ। তুলনামূলকভাবে ভারী স্পেসক্রাফ্টকে জিওসিনক্রোনাস অরবিটের দিকে পাঠানোর ক্ষেত্রে জিএসএলভি ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লঞ্চ ভেহিকল। ইওএস-০৫-কে সাব-জিটিও-তে সফলভাবে স্থাপন করে জিএসএলভি-এফ১৭ সেই সক্ষমতারই আরও একটি প্রমাণ দিল।

    এখন কী হবে ইওএস-০৫-এর?

    এখনও ইওএস-০৫-এর কাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি। সাব-জিটিও-তে পৌঁছনোর পর উপগ্রহটি নিজস্ব অনবোর্ড প্রপালশন সিস্টেম ব্যবহার করে ধাপে ধাপে কক্ষপথের উচ্চতা বাড়াবে। একাধিক অরবিট-রেইজিং ম্যানুভার-এর পর সেটি তার নির্দিষ্ট জিওসিনক্রোনাস অবস্থানে পৌঁছবে। এরপর প্রয়োজনীয় পরীক্ষা, ক্যালিব্রেশন এবং কমিশনিং সম্পন্ন হলে শুরু হবে অপারেশনাল ইমেজিং। তাই ইওএস-০৫ ইতিমধ্যেই ৩৬ হাজার কিলোমিটার উচ্চতার ফাইনাল জিওসিনক্রোনাস অরবিটে পৌঁছে গিয়েছে—এমন দাবি করা প্রযুক্তিগতভাবে সঠিক হবে না। লঞ্চ এবং অরবিটাল ইনজেকশন সফল হয়েছে; ফাইনাল অপারেশনাল অরবিটে পৌঁছনোর যাত্রা এখনও বাকি।

    ভারতের স্পেস অবজারভেশনে নতুন যুগের সূচনা?

    ভারতের আর্থ অবজারভেশন কর্মসূচি ইতিমধ্যেই যথেষ্ট শক্তিশালী। বিভিন্ন রিমোট সেন্সিং স্যাটেলাইট পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের উচ্চমানের ছবি এবং তথ্য সংগ্রহ করছে। কিন্তু ইওএস-০৫ সেই ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। লো আর্থ অরবিট স্যাটেলাইটের বড় সুবিধা হল ডিটেল বা স্পেশিয়াল রেজোলিউশন। অন্যদিকে জিওসিনক্রোনাস ইমেজিং প্ল্যাটফর্মের বড় শক্তি হল ফ্রিকোয়েন্সি এবং পারসিস্টেন্স—একই বিস্তীর্ণ অঞ্চলের পরিবর্তনকে আরও ঘন ঘন পর্যবেক্ষণ করা।

    দুর্যোগের সময় এই পার্থক্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। একটি ঘূর্ণিঝড়, বন্যা কিংবা দাবানলের ক্ষেত্রে কয়েক ঘণ্টা আগের ছবি এবং সদ্য পাওয়া ছবির মধ্যে ব্যবধানই কখনও কখনও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে বড় পার্থক্য তৈরি করে। সেই জায়গায় ইওএস-০৫ ভারতের জন্য শুধুমাত্র আরও একটি স্যাটেলাইট নয়। এটি বড় অঞ্চলের উপর দ্রুত, ঘন ঘন এবং ধারাবাহিক আর্থ অবজারভেশনের নতুন সক্ষমতা তৈরি করতে পারে।

    মহাকাশে ভারতের নতুন চোখ

    জিএসএলভি-এফ১৭-এর সফল উৎক্ষেপণ এবং ইওএস-০৫-এর সাব-জিটিও-তে সঠিকভাবে পৌঁছে যাওয়া ভারতের মহাকাশ কর্মসূচির জন্য নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য। এখন নজর থাকবে উপগ্রহটির অরবিট-রেইজিং, কমিশনিং এবং অপারেশনাল ইমেজিংয়ের দিকে। চূড়ান্তভাবে কাজ শুরু করলে ইওএস-০৫-এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি দেখা যেতে পারে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ, কৃষি, পরিবেশ এবং কৌশলগত নজরদারি—এই একাধিক ক্ষেত্রে। অর্থাৎ, মহাকাশ থেকে ভারতকে দেখার ক্ষমতা শুধু আরও শক্তিশালী হচ্ছে তাই নয়—কত দ্রুত সেই ছবি পাওয়া যাচ্ছে, সেই ক্ষমতাতেও বড় পরিবর্তন আনতে পারে ইওএস-০৫।

  • Janmashtami 2026: আজ জন্মাষ্টমী, গোপালকে এই জিনিসগুলি অর্পণ করুন, রইল পুজোর নিয়ম, উপকরণের তালিকা

    Janmashtami 2026: আজ জন্মাষ্টমী, গোপালকে এই জিনিসগুলি অর্পণ করুন, রইল পুজোর নিয়ম, উপকরণের তালিকা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এখন ঘরে ঘরে পালিত হচ্ছে জন্মাষ্টমী। দৃক সিদ্ধান্ত বা বিশুদ্ধ সিদ্ধান্তমতে জন্মাষ্টমীর অষ্টমী তিথি আরম্ভ হচ্ছে আজ, শুক্রবার ৪ সেপ্টেম্বর। বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা অনুসারে অষ্টমী তিথি আরম্ভ হয়েছে ৪ সেপ্টেম্বর (বাংলায় ১৬ ভাদ্র) বৃহস্পতিবার মধ্যরাত ২টো ২৭ মিনিটে। অষ্টমী তিথি শেষ হচ্ছে ৫ সেপ্টেম্বর (১৭ ভাদ্র), শুক্রবার মধ্যরাত ১২টা ১৪ মিনিটে। অন্যদিকে, গুপ্তপ্রেস পঞ্জিকা অনুসারে অষ্টমী তিথি আরম্ভ হয়েছে ৪ সেপ্টেম্বর (বাংলায় ১৬ ভাদ্র) মধ্যরাত ১টা ৪৪ মিনিট ১৪ সেকেন্ডে। শেষ হচ্ছে ৫ সেপ্টেম্বর (১৭ ভাদ্র) গভীর রাত ১১টা ৫৯ মিনিট ৫২ সেকেন্ডে।

    জন্মাষ্টমী পুজোর উপকরণ—

    ধূপকাঠি, কর্পূর, জাফরান, চন্দন, সিঁদুর, সুপারি, পান, পদ্ম, তুলসীর মালা, ধনে, যজ্ঞবেত ৫, কুমকুম, ধান, আবির, কাঁচা হলুদ, গোপালের গয়না, সপ্তমৃত্তিকা, সপ্তধন, কুশ ও দূর্বা, শুকনো ফল, গঙ্গাজল, মধু, চিনি, মিছরি, তুলসী ডাল, খাঁটি ঘি, দই, দুধ, মৌসুমি ফল, নৈবেদ্য বা মিষ্টান্ন, ছোট এলাচ, লবঙ্গ, সুগন্ধি, সিংহাসন, ঝুলা।

    এই পুজোতে লাগে— আমপল্লব, পঞ্চামৃত, কলা পাতা, ওষুধ, শ্রী কৃষ্ণের মূর্তি বা ছবি, গণেশের ছবি, অম্বিকার ছবি, ভগবানের পোশাক, গণেশকে নিবেদনের পোশাক, অম্বিকাকে নিবেদনের পোশাক, সাদা কাপড়, লাল কাপড়, পঞ্চ রত্ন, প্রদীপ, পান, নারকেল, চাল, গম, গোলাপ ও লাল পদ্মফুল, দূর্বা, অর্ঘ্য পাত্র, পঞ্চগব্য, পঞ্চগুড়ি, পাট, বালি, পঞ্চবর্ণের গুড়ো, মধুপর্কের বাটি।

    জন্মাষ্টমীর পুজোয় ময়ূরের পালক ও বাঁশির মাহাত্ম্য

    ময়ুর পালক

    ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মবার্ষিকীতে ময়ূরের পালক দেওয়া ভগবান কৃষ্ণের আরাধনায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটা বিশ্বাস করা হয় যে ভগবান কৃষ্ণ বাঁশির মতো ময়ূরের পালক অত্যন্ত পছন্দ করেন। তাই তিনি এটিকে মুকুট হিসাবে ব্যবহার করতেন। জন্মাষ্টমীর পুজো সফল করতে ময়ূরের পালক ও একটি মুকুট অর্পণ করুন গোপালকে। ঘরের সমস্ত নেতিবাচক শক্তি দূরে সরিয়ে সমৃদ্ধি পেতে চাইলে বাড়িতে রাখুন ময়ূরের পালক। জন্মাষ্টমীর পুজোতেও ময়ূরের পালক রাখা প্রয়োজন। এতে ঘরে সুখ শান্তি আসে।

    বাঁশি

    ময়ূরের পালকের মতো বাঁশি ছাড়াও পুজো করা অসম্পূর্ণ বলে মনে করা হয়। বিশ্বাস করা হয় যে বাঁশি ভগবান শ্রীকৃষ্ণের খুব প্রিয়। আপনি যদি চান যে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আশীর্বাদ আপনার উপর বর্ষিত হোক, তা হলে আপনাকে অবশ্যই গোপালকে জন্মবার্ষিকীতে বাঁশি নিবেদন করতে হবে। বলা হয়, কৃষ্ণ জন্মাষ্টমীর দিন বাড়িতে বাঁশি রাখলে খুবই উপকার হয়। এতে ঘরে ধন-সম্পত্তির পরিমাণ বৃদ্ধির সঙ্গে বাড়ে সুখ ও শান্তি। ফলে পুজোর বেদীতে শ্রীকৃষ্ণের বাঁশি রেখে দিতে পারেন।

    শঙ্খ ও তুলসীর তাৎপর্য

    শঙ্খ

    জন্মাষ্টমীর পুজোতে শঙ্খ ব্যবহার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। শঙ্খকে সনাতন ঐতিহ্যে শুভর প্রতীক হিসাবে বিবেচনা করা হয়। জন্মাষ্টমীর উৎসবে গোপালকে স্নান করাতে এবং পুজোর সময় শঙ্খ ব্যবহার করা হয়। জন্মাষ্টমীর পুজোর সময় সঙ্গে রাখুন একটি শঙ্খ।

    তুলসী

    জন্মাষ্টমীর পুজোয় তুলসী পাতা অবশ্যই নিবেদন করতে হয় গোপালকে। কারণ তুলসী ভগবান শ্রীকৃষ্ণের খুব প্রিয়। এটা বিশ্বাস করা হয় যে জন্মাষ্টমীর পুজোয় তুলসী নিবেদন করলে শীঘ্রই ভগবান শ্রীকৃষ্ণ প্রসন্ন হন এবং কাঙ্খিত বরদান করেন।

    জন্মাষ্টমীর বিশেষ ভোগ-

    জন্মাষ্টমীর ভোগের মধ্যে ৫৬ ভোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ৫৬ রকমের নৈবেদ্যর সঙ্গে জড়িয়ে আছে নানা পৌরাণিক কাহিনি। নিয়ম অনুসারে ৫৬ ভোগে থাকে ১৬ ধরনের জলখাবার, ২০টি মিষ্টি এবং ২০ ধরণের শুকনো ফল। যার মধ্যে দুধের তৈরি খাবার সবার আগে পরিবেশন করতে হয়। তবে, যদি বাড়িতে ৫৬ ভোগ করা সম্ভব না হয়, তাহলে লুচি, ছোলার ডাল এবং সুজি প্রস্তুত করুন। গোপাল পুজোয় ঘরে ঘরে তৈরি হয় তালের বড়া ও তালের ক্ষীর, মালপোয়া, মোহনভোগ, নারকেল নাড়ু, মাখন, ক্ষীর, মিষ্টি, পায়েস, বাসন্তী পোলাও। এর পাশাপাশি আপনাকে অবশ্যই দুধ-দই, কাঁচা মাখন বা ননীর ব্যবস্থা করতে হবে, কারণ গোপাল দুধ-দই এবং মাখন খুব পছন্দ করেন। পঞ্চামৃত তৈরি করুন এবং সব ধরনের ফল রাখুন।

    জন্মাষ্টমী পুজোর পদ্ধতি

    জন্মাষ্টমীর আগের দিন নিরমিষ অন্ন খেয়ে সংযম পালন করতে হবে এবং রাত ১২টার মধ্যে খেয়ে নিতে হবে। ঘুমনোর আগে অবশ্যই ভাল করে মুখ ধুয়ে ঘুমতে হবে। পুজোর দিন ভোরে ঘুম থেকে উঠে স্নান করে নিন। ঘর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করুন। বাড়ির মন্দিরে প্রদীপ জ্বালান। সমস্ত দেবতার জলাভিষেক করুন।

    এই দিনে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শিশু-রূপের পুজো করা হয়। এই শিশু রূপের অনেক নাম রয়েছে। যেমন— নন্দগোপাল, ননীগোপাল, নাড়ুগোপাল ইত্যাদি। নাড়ুগোপালকে ছেলের মতো যত্ন করে ভোগ নিবেদন করুন। নাড়ুগোপালের জলাভিষেক করে তাকে দোলনায় রাখুন। এরপর আপনার ইচ্ছা অনুযায়ী নাড়ুগোপালকে ভোগ নিবেদন করুন। মনে রাখবেন যে শুধুমাত্র সাত্ত্বিক জিনিস ঈশ্বরের কাছে নিবেদন করা হয়।

    এই দিনে রাতের পুজোর তাৎপর্য রয়েছে, কারণ ভগবান শ্রীকৃষ্ণ রাতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। রাতে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের বিশেষ পুজো করুন। সেই সময় নাড়ুগোপালকে চিনি, মিছরি এবং শুকনো ফল নিবেদন করুন। নাড়ুগোপালকে ভোগ নিবেদন করুন। নাড়ুগোপালের আরতি করুন।

  • Kolkata Swine Flu: ১৯ জন হাসপাতালে! কলকাতায় বাড়ছে সোয়াইন ফ্লু, শিশুদের মধ্যে ভাইরাস সংক্রমণ নিয়ে বড় সতর্কতা

    Kolkata Swine Flu: ১৯ জন হাসপাতালে! কলকাতায় বাড়ছে সোয়াইন ফ্লু, শিশুদের মধ্যে ভাইরাস সংক্রমণ নিয়ে বড় সতর্কতা

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    ডেঙ্গি, ম্যালেরিয়ার মতো মশাবাহিত রোগের দাপট রয়েছে! কিন্তু তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে একাধিক ভাইরাস ঘটিত অসুখ। কলকাতায় বাড়ছে সোয়াইন ফ্লু রোগের দাপট। ফলে উদ্বেগ আরও বাড়ছে‌।
    সোয়াইন ফ্লু সহ স্কুল পড়ুয়াদের মধ্যে নানান রোগের দাপট বাড়ছে। অনেক সময়েই ভাইরাস চরিত্র বদল করছে। ফলে অবস্থা আরও জটিল হয়ে যাচ্ছে।

    কী বলছে স্বাস্থ্য দফতরের রিপোর্ট?

    স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যে বাড়ছে সোয়াইন ফ্লু রোগের প্রকোপ। কলকাতার একাধিক হাসপাতালে ১৯ জন সোয়াইন ফ্লু আক্রান্তের চিকিৎসা চলছে। আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেই আশঙ্কা করছেন চিকিৎসক মহল। তবে স্বাস্থ্য কর্তারা জানাচ্ছেন, আক্রান্তদের চিকিৎসা চলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। সোয়াইন ফ্লু আক্রান্ত হলেও অবস্থা আশঙ্কাজনক নয়। রোগ যাতে আরও ছড়িয়ে পড়তে না পারে সেদিকে বাড়তি নজর দেওয়া হচ্ছে। বিশেষত শিশুদের মধ্যে যাতে রোগের প্রকোপ না বাড়ে সেদিকে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

    কোন বিপদ নিয়ে উদ্বিগ্ন চিকিৎসকেরা?

    শিশুরোগ বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন, গত পনেরো দিনে রাজ্য জুড়ে একাধিক ভাইরাস ঘটিত অসুখের দাপট উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে।‌ বর্ষার মরশুমে ভাইরাসের দাপট বাড়ে। তার সঙ্গে ডেঙ্গি, ম্যালেরিয়ার মতো মশাবাহিত অসুখের দাপট ও বাড়ে। তবে চলতি বছরে বাড়তি উদ্বেগ বাড়াচ্ছে ভাইরাসের চরিত্র বদল। মরশুমের চেনা ভাইরাস ঘটিত অসুখ হঠাৎ করেই জটিল হয়ে উঠছে। সংক্রমণের শক্তি বাড়িয়ে দিচ্ছে। ফলে ভোগান্তি আরও বাড়ছে। রোগ নির্ণয় করে চিকিৎসা শুরু করতেই অনেকটা সময় চলে যাচ্ছে। যার জেরে শিশুদের ভোগান্তি বাড়ছে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ডেঙ্গি-ম্যালেরিয়ার মতো সোয়াইন ফ্লু-তেও শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে। তাঁরা জানাচ্ছেন, আগাম সতর্ক না থাকলে পরিস্থিতি বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।

    স্কুল থেকেই কি সংক্রমণ বেশি ছড়াচ্ছে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শিশুদের মধ্যে সহজেই যেকোন ভাইরাস ঘটিত রোগের সংক্রমণ ঘটে। কারণ শিশুদের রোগ প্রতিরোধ শক্তি প্রাপ্ত বয়স্কদের তুলনায় কম থাকে। ফলে, শিশুরা সহজেই আক্রান্ত হয়। শিশুদের স্কুল থেকেই রোগ সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি‌ ঝুঁকি থাকে। এমনটাই মনে করছেন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, দিনভর পাশপাশি বসে থাকা, হাতে স্পর্শ, খাবার ভাগ করে নেওয়া হয়। অনেক সময়েই শিশুরা হাঁচি-কাশির সময়ে ঠিকমতো স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে না। আবার অনেক সময়েই খাবার খাওয়ার আগে বা পরে ঠিকমতো হাত ধোয়া হয় না। যার জেরেই আরও বেশি সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হয়। তাই স্কুল থেকে সহজেই শিশুরা ভাইরাস ঘটিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন, ডেঙ্গি, ম্যালেরিয়া কিংবা সোয়াইন ফ্লু-র মতো ভাইরাসের পাশপাশি মরশুমের নানান ভাইরাস ও সংক্রমণের ক্ষমতা বাড়াচ্ছে। নিজেদের চরিত্র বদল করছে। এর জেরে পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে।

    কীভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করবেন?

    জ্বর হলেই বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন!

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, জ্বর হলেই বাড়তি সজাগ থাকতে হবে। কোনো রকম অবহেলা করা চলবে না। ডেঙ্গি-ম্যালেরিয়া-সোয়াইন ফ্লু হোক কিংবা বর্ষার মরশুমের সাধারণ ভাইরাস ঘটিত সংক্রমণ, প্রধান উপসর্গ হলো জ্বর। তাই রোগ নির্ণয়ের জন্য জ্বর হলেই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ জরুরি। নির্দিষ্ট শারীরিক পরীক্ষার মাধ্যমে সহজেই রোগ নির্ণয় সম্ভব হয়। তাই কেন জ্বর হয়েছে, সেটা জানা জরুরি।
    পাশপাশি, বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, মাথা ব্যথা, অতিরিক্ত ক্লান্তি, শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে। কারণ, পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটতে পারে। যেকোনো সময়েই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের কাজ কার্যক্ষমতা কমে যেতে পারে। তাই শ্বাসকষ্ট হলে হাসপাতালে ভর্তি করা জরুরি।

    আক্রান্তের থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকা!

    পরিবারের কেউ জ্বর বা অন্য কোনো ভাইরাস ঘটিত রোগে আক্রান্ত হলে শিশুদের আলাদা থাকার ব্যবস্থা করতে হবে। কারণ শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ সহজেই ছড়িয়ে পড়ে। আবার শিশুদের শিশুদের শরীরে ঢুকে ভাইরাস চরিত্র বদল করতে পারে। তাই আক্রান্তের থেকে শিশুকে নিরাপদ দূরত্বে রাখা জরুরি।

    স্কুল যাওয়ার বিধি-নিষেধ!

    শিশুর সর্দি-কাশি হলে স্কুলে না পাঠানোর পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, যেকোনো ভাইরাসে আক্রান্ত শিশু স্কুল বা যেকোনো ভিড় জায়গায় গেলে, সংক্রমণ যেমন ছড়াবে, তেমনি আক্রান্ত শিশুর ও শারীরিক পরিস্থিতি জটিল হতে পারে। ভাইরাস আরও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে। ক্লান্তি বাড়তে পারে। ফলে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটতে পারে।

    ভিড় এড়িয়ে চলা!

    যেকোনো ভাইরাস ঘটিত সংক্রমণ থেকে বাঁচতে ভিড় এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, পার্ক, মেলা বা এমন যেসব জায়গায় ভিড় হয়, সেখানে গেলে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। তাই কয়েক দিন সেই সব জায়গা এড়িয়ে চলা প্রয়োজন।

    মাস্ক পরা জরুরি!

    বাইরে মাস্ক পরে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, সোয়াইন ফ্লু সহ একাধিক ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি কমবে। তাই মাস্ক ব্যবহার জরুরি।

    স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা!

    খাবার খাওয়ার আগে ও পরে ভালোভাবে সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে এই মরশুমের একাধিক ভাইরাসের সংক্রমণের ঝুঁকি কমবে।

  • Uttam Kumar Tollygunge Tribute: জন্মশতবর্ষে মহানায়ককে শ্রদ্ধা জানাতে তারকার মেলা টালিগঞ্জে! শুভেন্দুর আবেদনে উত্তম কুমারকে প্রথম মাল্যদান রঞ্জিত মল্লিকের

    Uttam Kumar Tollygunge Tribute: জন্মশতবর্ষে মহানায়ককে শ্রদ্ধা জানাতে তারকার মেলা টালিগঞ্জে! শুভেন্দুর আবেদনে উত্তম কুমারকে প্রথম মাল্যদান রঞ্জিত মল্লিকের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মহানায়ক উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষে বৃহস্পতিবার আবেগ ও স্মৃতিতে ভাসল কলকাতা। টালিগঞ্জে মহানায়কের মূর্তিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁকে শ্রদ্ধা জানাতে এদিন টালিগঞ্জে কার্যত বসেছিল চাঁদের হাট। বাংলা চলচ্চিত্র জগতের একের পর এক তারকা, পরিচালক, শিল্পী ও কলাকুশলীর উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে গোটা এলাকা।

    রঞ্জিত মল্লিক, প্রসেনজিৎ, ঋতুপর্ণা, দেব, জিৎ থেকে শুরু করে পরিচালক গৌতম ঘোষ—মহানায়ককে শ্রদ্ধা জানাতে হাজির ছিলেন টলিউডের বহু পরিচিত মুখ। উপস্থিত ছিলেন এলাকার বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী, অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ-সহ আরও অনেকে। উত্তম কুমারের সঙ্গে কাজ করা প্রবীণ শিল্পীদের পাশাপাশি বর্তমান প্রজন্মের অভিনেতা-অভিনেত্রীদের উপস্থিতিও এদিনের অনুষ্ঠানে বিশেষ মাত্রা যোগ করে।

    রঞ্জিত মল্লিকের হাতেই প্রথম মাল্যদান

    বাংলা চলচ্চিত্র জগতের প্রবীণ অভিনেতা এবং উত্তম কুমারের সহকর্মী হিসেবে রঞ্জিত মল্লিকের হাতেই প্রথম মাল্যদানের আবেদন করেন শুভেন্দু। সেই মতো নিজের সহকর্মী ও বাংলার মহানায়ক উত্তম কুমারের মূর্তিতে প্রথমে মাল্যদান করে শ্রদ্ধা জানান রঞ্জিত মল্লিক। এরপর মুখ্যমন্ত্রী নিজে মহানায়ককে শ্রদ্ধা জানান। এই প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘আমি বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাব রঞ্জিত মল্লিককে। প্রথা অনুযায়ী আমাকে বলা হয়েছিল মালা দিতে কিন্তু আমার মনে হয় ওঁর হাত দিয়েই সূচনা হওয়া উচিত।’এরপর অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষের মতো একটি বিশেষ বছরে তাঁকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার জন্য সাধারণ মানুষের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

    উত্তম কুমারের ব্যাপ্তি বাংলা ছাড়িয়ে দেশ-বিদেশে

    মহানায়ককে স্মরণ করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রসঙ্গও তুলে ধরেন শুভেন্দু। মুখ্যমন্ত্রী জানান, তিনি শ্রদ্ধা জানানোর আগেই প্রধানমন্ত্রী উত্তম কুমারকে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, মহানায়কের জনপ্রিয়তা ও সাংস্কৃতিক প্রভাব বাংলা কিংবা ভারতের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়, তা ছড়িয়ে রয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে। শুভেন্দু বলেন, ‘মহানায়ক সম্পর্কে আমি পোস্ট করার আগে, একদম সকালে মহানায়ককে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।’

    ‘গোটা দেশের জন্য অত্যন্ত গর্বের দিন’, মহানায়ককে শ্রদ্ধা মুখ্যমন্ত্রীর

    জন্মশতবর্ষে উত্তম কুমারকে স্মরণ করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘‘আজ শুধু বাংলার নয়, গোটা দেশের জন্যই অত্যন্ত গর্বের দিন। বাংলার মাটিতে জন্ম নেওয়া মহানায়কের শিল্পসৃষ্টি এখনও কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে অমলিন হয়ে রয়েছে।’’ উত্তম কুমারের জনপ্রিয়তা ও অবদান নিয়ে নতুন করে মূল্যায়নের প্রয়োজন নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘‘প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বাঙালির সাংস্কৃতিক স্মৃতিতে অমর হয়ে রয়েছেন উত্তম কুমার। সমস্ত বাঙালি গর্বিত।’’

    মহানায়কের জন্মশতবর্ষ বিশেষভাবে উদ্‌যাপন

    উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে রাজ্য সরকারের নেওয়া বিভিন্ন কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, যেমন শ্যামাপ্রসাদের জন্মবার্ষিকীকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে পালন করা হয়েছে, তেমনই মহানায়কের জন্মশতবর্ষও বিশেষভাবে উদ্‌যাপন করা হচ্ছে। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘আমরা যেমন শ্যামাপ্রসাদের জন্মবার্ষিকীকে গুরুত্ব দিয়েছি, মহানায়কের ক্ষেত্রেও তাই। আগামিকাল উত্তমকুমার নামাঙ্কিত প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে। তার ভূমি পুজো আছে, আমরা অনুষ্ঠান করব। অনেকগুলো প্রোগ্রাম নিয়েছি,  চারদিন ব্যাপী প্রোগ্রাম আছে।’

    একাধিক উদ্যোগের ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

    জন্মশতবর্ষকে স্মরণীয় করে রাখতে রাজ্য সরকারের তরফে একাধিক উদ্যোগের কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, ৩ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর চার দিনের অনুষ্ঠানেই আয়োজন সীমাবদ্ধ থাকছে না। বছরভর মহানায়ককে কেন্দ্র করে নানা কর্মসূচি চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। উত্তম মঞ্চের সংস্কার, মহানায়কের বিভিন্ন মূর্তি সাজানো এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে উত্তম কুমারের জীবন ও কর্মকে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

    আহিরীটোলা থেকে টালিগঞ্জ, জন্মদিনে শ্রদ্ধার্ঘ্য

    উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে ৩ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে একাধিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। জন্মদিনের সকালে তাঁর জন্মস্থান আহিরীটোলা এবং দীর্ঘ কর্মজীবনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা টালিগঞ্জে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। বিজলী সিনেমা হলের সামনেও মহানায়ককে স্মরণ করে বিশেষ আয়োজন রয়েছে। তাঁর জনপ্রিয় ছবির দৃশ্য ও চরিত্রকে সামনে রেখে সাজানো হচ্ছে এলাকা। পাশাপাশি কলকাতার বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরবে পাঁচটি বিশেষ এলইডি ভ্যান। সেখানে প্রদর্শিত হবে উত্তম কুমারের অভিনীত জনপ্রিয় ছবির নানা দৃশ্য এবং তাঁর দীর্ঘ অভিনয় জীবনের স্মরণীয় মুহূর্ত।

    নন্দন থেকে বিড়লা তারামণ্ডল, ‘ট্রিবিউট ওয়াক’

    জন্মশতবর্ষ উদ্‌যাপনের অন্যতম আকর্ষণ ‘ট্রিবিউট ওয়াক’। নন্দন চত্বর থেকে শুরু হয়ে এসএসকেএম, অ্যাকাডেমি, সেন্ট পলস ক্যাথিড্রাল এবং বিড়লা তারামণ্ডল হয়ে গগনেন্দ্র প্রদর্শনশালা পর্যন্ত এই পদযাত্রার আয়োজন করা হয়েছে। রবীন্দ্রসদন প্রাঙ্গণ ও সংলগ্ন এলাকাতেও এদিন বিশেষ কর্মসূচি রয়েছে। বাংলা চলচ্চিত্র জগতের তারকা ও কলাকুশলীদের পাশাপাশি লোকশিল্পী এবং উত্তম কুমারের সঙ্গে কাজ করা অভিনেতা, অভিনেত্রী ও প্রযুক্তিবিদরাও এই আয়োজনে অংশ নেবেন। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি মহানায়কের পরিবারের সদস্যরাও এই পদযাত্রায় পা মেলাবেন বলে জানা গিয়েছে।

    প্রদীপ প্রজ্জ্বলন, কেক-পায়েস, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

    সন্ধ্যায় একতারা মুক্তমঞ্চে প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে জন্মশতবর্ষ উদ্‌যাপনের আনুষ্ঠানিক সূচনা হবে। থাকবে কেক কাটা ও পায়েস খাওয়ার আয়োজনও। এরপর শুরু হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। মহানায়ক উত্তম কুমারের জীবন ও কর্মকে কেন্দ্র করে একটি বিশেষ প্রদর্শনীরও উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিনয়জীবনের বিভিন্ন দিক, জনপ্রিয় ছবি এবং বাংলা চলচ্চিত্রে তাঁর অবদান তুলে ধরা হবে সেই প্রদর্শনীতে।

    নিউ টাউনে তৈরি হবে ‘উত্তমকুমার ফিল্ম সেন্টার’

    জন্মশতবর্ষ উদ্‌যাপনের অন্যতম বড় ঘোষণা নিউ টাউনে প্রস্তাবিত ‘উত্তমকুমার ফিল্ম সেন্টার’। আধুনিক চলচ্চিত্র পরিকাঠামোকে সামনে রেখে এই কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রস্তাবিত ফিল্ম সেন্টারে প্রায় এক হাজার আসনের অডিটোরিয়াম, ওপেন-এয়ার থিয়েটার-সহ একাধিক আধুনিক পরিকাঠামো তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। মহানায়কের নামে এই কেন্দ্র ভবিষ্যতে বাংলা চলচ্চিত্রের গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক পরিসর হয়ে উঠবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

    নন্দন থেকে রাধা স্টুডিও, পর্দায় ফিরবেন মহানায়ক

    চার দিনের জন্মশতবর্ষ উদ্‌যাপনে বিশেষ চলচ্চিত্র উৎসবেরও আয়োজন করা হয়েছে। নন্দন-১, নন্দন-২ এবং রাধা স্টুডিওতে প্রদর্শিত হবে উত্তম কুমারের একাধিক জনপ্রিয় ও নির্বাচিত ছবি। সত্যজিৎ রায়ের কালজয়ী ‘নায়ক’ দিয়ে এই বিশেষ চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর সূচনা হওয়ার কথা। পাশাপাশি নন্দন, রাধা স্টুডিও-সহ বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে মহানায়কের আরও একাধিক ছবি দেখানো হবে। বিজলী সিনেমা হলের সামনেও উত্তম কুমারের ছবি দিয়ে তৈরি বিশেষ কাটআউট বসানো হবে। সিনেমা, গান, নৃত্য, আলোচনা এবং প্রদর্শনীর মাধ্যমে মহানায়কের শিল্পজীবনকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরাই এই আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য।

    উত্তমের সহশিল্পীদের বিশেষ সম্মান

    জন্মশতবর্ষে উত্তম কুমারের সঙ্গে কাজ করা প্রবীণ শিল্পীদেরও বিশেষভাবে সম্মান জানানোর পরিকল্পনা রয়েছে। সেই তালিকায় রয়েছেন সবিত্রী চট্টোপাধ্যায়, মাধবী মুখোপাধ্যায়, লিলি চক্রবর্তী, বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়, রঞ্জিত মল্লিক, দীপঙ্কর দে, শকুন্তলা বড়ুয়া এবং মিঠুন চক্রবর্তী-সহ একাধিক বিশিষ্ট শিল্পী।এছাড়াও ইন্ডিয়া পোস্টের উদ্যোগে মহানায়ককে উৎসর্গ করে প্রকাশ করা হবে বিশেষ স্মারক খাম ও ডাকটিকিট।

    ‘নায়িকাদের চোখে উত্তমকুমার’ থেকে ‘অভিনেতা উত্তমকুমার’

    ৬ সেপ্টেম্বর শিশির মঞ্চে হবে দুটি বিশেষ আলোচনা সভা। একটি ‘নায়িকাদের চোখে উত্তমকুমার’, অন্যটি ‘অভিনেতা উত্তমকুমার’। মহানায়কের সমসাময়িক শিল্পীদের পাশাপাশি বর্তমান প্রজন্মের অভিনেতা-অভিনেত্রীরাও এই আলোচনায় অংশ নেবেন। চার দিনের এই বিশেষ উদ্‌যাপনের শেষ হবে রবীন্দ্রসদনে। সেখানে আয়োজিত হবে বিশেষ সঙ্গীত ও নৃত্যানুষ্ঠান।

  • Uttam Kumar Birth Centenary: জন্মশতবর্ষে মহানায়ক উত্তম কুমারকে শ্রদ্ধা মোদি-শুভেন্দুর, আবেগঘন বার্তায় স্মরণ কিংবদন্তি অভিনেতাকে

    Uttam Kumar Birth Centenary: জন্মশতবর্ষে মহানায়ক উত্তম কুমারকে শ্রদ্ধা মোদি-শুভেন্দুর, আবেগঘন বার্তায় স্মরণ কিংবদন্তি অভিনেতাকে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে তিনি এক অনন্য অধ্যায়। কোটি কোটি বাঙালির কাছে আজও তিনি শুধু একজন অভিনেতা নন, তিনি চিরকালের ‘মহানায়ক’। ১৯২৬ সালের ৩ সেপ্টেম্বর কলকাতার ভবানীপুরে জন্ম নেওয়া অরুণকুমার চট্টোপাধ্যায় পরবর্তীকালে উত্তম কুমার নামে রুপোলি পর্দায় এমন এক জাদু সৃষ্টি করেছিলেন, যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে সমান উজ্জ্বল। তাঁর জন্মের ১০০ বছর পূর্তিতে শ্রদ্ধা জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

    জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে বিশেষ ভিডিও পোস্ট প্রধানমন্ত্রীর

    মহানায়ক উত্তম কুমারের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে সমাজমাধ্যমে একটি বিশেষ ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেই ভিডিওতে মহানায়কের জীবনের নানা মুহূর্ত, চলচ্চিত্রের বিভিন্ন স্থিরচিত্রের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নিজের কণ্ঠে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

    ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমার প্রিয় দেশবাসী, ৩ সেপ্টেম্বর আমরা মহানায়ক উত্তম কুমারজির জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করব। বন্ধুরা, উত্তম কুমারজি ছিলেন একজন বহুমুখী অভিনেতা, যিনি তাঁর অভিনয়ের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ মানুষের হৃদয় জয় করেছিলেন। চলচ্চিত্র প্রেমীদের বিশ্বাস যে, সত্যজিৎ রায়জি ‘নায়ক – দ্য হিরো’ চলচ্চিত্রের পুরো চিত্রনাট্য মহানায়ক উত্তম কুমারজি-কে মনে রেখেই লিখেছিলেন। শ্রীমান সত্যজিৎ রায় একবার বলেছিলেন যে, উত্তম কুমারের মধ্যে সংযম ও নীতিবোধের পাশাপাশি এক অদ্ভুত আবেগ ছিল। চরিত্রগুলোকে জীবন্ত করে তুলতে তিনি অত্যন্ত পরিশ্রম করতেন।”

    ‘কখনও হাল না ছাড়া’— উত্তমের জীবন থেকে শিক্ষার কথা মোদির

    শুধু অভিনয় প্রতিভাই নয়, উত্তম কুমারের ব্যক্তিত্ব এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতার কথাও নিজের বক্তব্যে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, মহানায়কের জীবন নতুন প্রজন্মের কাছেও অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

    মোদির কথায়, “উত্তম কুমারজি শুধু তাঁর সহজ-স্বাভাবিক অভিনয়ের জন্যই পরিচিত ছিলেন না, বরং তাঁর জনকল্যাণমূলক কাজের জন্যও পরিচিত ছিলেন। তাঁর জীবন আমাদের এক গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাও দেয় — তা হল কখনও হাল না ছাড়া। তাঁর শুরুর দিকের চলচ্চিত্রগুলো খুব একটা সফল হয়নি, কিন্তু তিনি নিজের কাজে মনোযোগ বজায় রেখেছিলেন। আর সেই উৎসর্গই তাঁকে এত উচ্চতায় পৌঁছাতে সাহায্য করেছিল।”

    ব্যক্তিগত স্মৃতি ভাগ করলেন মোদি

    প্রধানমন্ত্রী তাঁর কলকাতা সফরের একটি ব্যক্তিগত স্মৃতিও ভাগ করে নেন। তিনি বলেন, “বন্ধুরা, আমার মনে আছে যখন আমি কলকাতায় রোড শো করছিলাম, তখন আমি উত্তম কুমারজির বাড়ির সামনে দিয়েও গিয়েছিলাম। সেখানে একজন ব্যক্তি আমাকে তাঁর একটি ছবি উপহার দিয়েছিলেন। আমি আরও একবার মহানায়ক উত্তম কুমারজির প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করছি। তিনি সর্বদাই আমাদের সবার হৃদয়ে রাজত্ব করবেন। মহানায়ক উত্তম কুমার চিরদিন মানুষের হৃদয়ে রাজ করবেন।”

    ভিডিওটির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী যে ক্যাপশনটি পোস্ট করেন, সেখানে লেখা হয়— “মহানায়ক উত্তম কুমার… এক কিংবদন্তি যাঁর কালজয়ী পরিবেশনা প্রজন্মান্তরের মানুষের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে চলেছে। তাঁর জন্মশতবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি। গত রবিবার মন কি বাত অনুষ্ঠানে আমি তাঁর সম্পর্কে যা বলেছিলাম, তাও শেয়ার করছি।”

    মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর শ্রদ্ধার্ঘ্য

    মহানায়ক উত্তম কুমারের শতবর্ষ জন্মজয়ন্তীতে সমাজমাধ্যমে শ্রদ্ধা জানান পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও। নিজের পোস্টে তিনি মহানায়কের অভিনয় প্রতিভা, ব্যক্তিত্ব এবং বাংলা চলচ্চিত্রে তাঁর অবিস্মরণীয় অবদানের কথা স্মরণ করেন। মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, “তাঁর অনন্য অভিনয়, ব্যক্তিত্ব ও চিরস্মরণীয় উপস্থিতি বাংলা তথা ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অমর হয়ে থাকবে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম বাঙালির হৃদয়ে তিনি চিরকাল মহানায়ক হয়েই বেঁচে থাকবেন।”

    ভবানীপুরের অরুণ থেকে বাংলা সিনেমার চিরন্তন মহানায়ক

    ১৯২৬ সালের এই দিনে কলকাতার ভবানীপুরের এক মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম হয়েছিল অরুণকুমার চট্টোপাধ্যায়ের। পরবর্তীকালে ‘উত্তম কুমার’ নামেই তিনি হয়ে ওঠেন বাংলা সিনেমার সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং প্রভাবশালী অভিনেতাদের অন্যতম। তাঁর স্বাভাবিক অভিনয়, সংযত অভিব্যক্তি, পর্দার ব্যক্তিত্ব এবং দর্শকের সঙ্গে গভীর আবেগের সংযোগ তাঁকে অন্য উচ্চতায় পৌঁছে দেয়।

    বাংলা চলচ্চিত্রের সোনালি যুগের প্রতীক উত্তম কুমার আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। তাঁর অভিনীত অসংখ্য কালজয়ী চরিত্র এখনও বাঙালির সংস্কৃতি, আবেগ এবং স্মৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। জন্মশতবর্ষে প্রধানমন্ত্রী থেকে মুখ্যমন্ত্রী— সকলের শ্রদ্ধার্ঘ্য যেন আরও একবার স্মরণ করিয়ে দিল, মহানায়ক কেবল রুপোলি পর্দাতেই নন, মানুষের হৃদয়েও আজীবন অমর।

  • Nepal Flood: নেপালের বন্যায় মৃত্যু ১১০০ পার, এবার হিমালয়জুড়ে নতুন বিপদের আশঙ্কা! পঞ্চম বিমান পাঠাল ভারত

    Nepal Flood: নেপালের বন্যায় মৃত্যু ১১০০ পার, এবার হিমালয়জুড়ে নতুন বিপদের আশঙ্কা! পঞ্চম বিমান পাঠাল ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নেপালের ভয়াবহ ভোটেকোশি বন্যায় মৃত্যুমিছিল আরও দীর্ঘ হচ্ছে। বুধবার পর্যন্ত নেপাল পুলিশের হিসাব অনুযায়ী মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১১২৭। নিখোঁজ প্রায় ৪ হাজার। ভয়াবহ এই বিপর্যয়ের পর শুধু নেপাল নয়, গোটা হিমালয়জুড়ে বাড়ছে হিমবাহ-উদ্ভূত বন্যা বা গ্লেসিয়াল ফ্লাডের আশঙ্কা। বিশেষজ্ঞ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির সতর্কবার্তা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে হিমালয়ের হিমবাহ ও হিমবাহ-সংলগ্ন হ্রদগুলির অস্থিতিশীলতা ভবিষ্যতে আরও বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

    ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ১৬ লক্ষ!

    প্রায় ১৬ লক্ষ মানুষ নেপালের ভয়াবহ ভোটেকোশি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে প্রাথমিক পরিস্থিতি রিপোর্টে জানানো হয়েছে। নেপাল পুলিশের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, রাসুয়া, নুয়াকোট, ধাদিং, চিতওয়ান, গোরখা, তানাহুন, নাওয়ালপরাসি ইস্ট ও নাওয়ালপরাসি ওয়েস্ট-সহ বিভিন্ন এলাকায় বিপুল সংখ্যক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এমনকী ভারতের মাটিতেও ৯টি দেহ উদ্ধারের খবর মিলেছে। উদ্ধার হওয়া দেহগুলির মধ্যে এখনও পর্যন্ত মাত্র ৯৫টি দেহ শনাক্ত করে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। ফলে নিখোঁজদের সন্ধান এবং মৃতদের পরিচয় শনাক্ত করা—দুই ক্ষেত্রেই বড় চ্যালেঞ্জের মুখে নেপাল প্রশাসন।

    হিমালয়জুড়ে বাড়ছে হিমবাহ বিপর্যয়ের আশঙ্কা

    নেপালের সাম্প্রতিক বিপর্যয় নতুন করে সামনে এনেছে হিমালয়ের দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিবেশের ঝুঁকি। রাষ্ট্রপুঞ্জের এক শীর্ষ আধিকারিক সতর্ক করেছেন, হিমালয় অঞ্চলে ভয়াবহ হিমবাহ-উদ্ভূত বন্যার ঝুঁকি ক্রমশ বাড়ছে। এই ধরনের বিপর্যয়ের সম্ভাব্য শিকার হতে পারেন লক্ষ লক্ষ মানুষ। ২০২০ সালে গবেষকরা নেপাল, চিন ও ভারতের হিমালয় অঞ্চলে ৪৭টি সম্ভাব্য বিপজ্জনক হিমবাহ-হ্রদ চিহ্নিত করেছিলেন। তবে বর্তমানে সেই সংখ্যা আরও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    হিমবাহ গলে তৈরি হওয়া জলাধার বা হ্রদের প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে গেলে অল্প সময়ের মধ্যে বিপুল পরিমাণ জল নেমে আসতে পারে নিচের উপত্যকায়। এর ফলে নদীর জলস্তর দ্রুত বেড়ে গিয়ে ভেসে যেতে পারে সেতু, রাস্তা, বসতি এবং বিদ্যুৎকেন্দ্র। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ভবিষ্যতের বড় হিমবাহ-উদ্ভূত বন্যা নেপালের জলবিদ্যুৎ পরিকাঠামোকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এবং নদীর তীরবর্তী বহু বসতিকে বসবাসের অযোগ্য করে তুলতে পারে।

    চিনেও নতুন বিপদের সতর্কতা

    এদিকে চিনের তিব্বত অঞ্চলেও পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। ছোচেন নদীর ক্রেটার সংলগ্ন বরফের গঠনগুলি এখনও ভেঙে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে বলে সতর্ক করেছে চিনা কর্তৃপক্ষ। সেগুলি ভেঙে গেলে ফের বড় ধরনের জলপ্রবাহ বা বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    তবে জিরং বন্দরের কাছে ভূমিধসের জেরে তৈরি হওয়া একটি ব্যারিয়ার লেক আপাতত স্বাভাবিকভাবে জল ছাড়ছে বলে খবর। বাধার বড় অংশ সরে যাওয়ায় হ্রদটির জলস্তর ও আয়তন কমেছে। শনিবার সকালে এর জলাধারের পৃষ্ঠের আয়তন প্রায় ৯৯ হাজার বর্গমিটার-এ নেমে এসেছে বলে জানা গিয়েছে।

    নেপাল থেকে বন্যার জল নেমে আসার পর ভারতের বিহারেও সতর্কতা জারি হয়েছে। বন্যার জলের সঙ্গে অচেনা প্রজাতির মাছ ভেসে আসায় প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

    বিপর্যস্ত নেপালের বিদ্যুৎ পরিকাঠামো

    বন্যার ধাক্কা পড়েছে নেপালের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থাতেও। প্রায় ৪৩১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। এর ফলে নেপালের জলবিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিদ্যুৎ রফতানিতেও প্রভাব পড়তে পারে। একইসঙ্গে বিভিন্ন দুর্গম এলাকায় এখনও বহু মানুষ আটকে রয়েছেন। প্রায় ৩০০ জন শ্রমিককে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে বলে জানা গিয়েছে। পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি, যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া এবং নতুন করে বন্যা বা ভূমিধসের আশঙ্কার কারণে উদ্ধার অভিযান আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।

    ১০০ কোটি নেপালি টাকা ত্রাণে

    বিপর্যয় মোকাবিলায় নেপাল সরকার ১০০ কোটি নেপালি টাকা ত্রাণ ও পুনর্বাসনের জন্য বরাদ্দ করেছে। নিখোঁজ ও মৃতদের পরিচয় শনাক্ত করার কাজও চলছে। এই কাজে নেপালকে সাহায্য করছে ভারতের একটি ১৯ সদস্যের ফরেনসিক দল। ভারতীয় বিশেষজ্ঞরা নেপালি ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সমন্বয় করে ডিএনএ নমুনা পরীক্ষা করছেন। বিপুল সংখ্যক দেহ শনাক্ত করার ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    নেপালে পঞ্চম বিমান পাঠাল ভারত

    এদিকে, নেপালের ভয়াবহ পরিস্থিতিতে উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা আরও বাড়িয়েছে ভারত। বুধবার নেপালের উদ্দেশে পঞ্চম বিমান পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। এই বিমানে রয়েছে ১১ সদস্যের বিশেষায়িত উদ্ধারকারী দল, উদ্ধারকাজে ব্যবহারের জন্য বিশেষ সরঞ্জাম এবং ৫.৫ টন অত্যাবশ্যক ওষুধ। জয়শঙ্কর জানান, নেপালের ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা মোকাবিলায় চলমান উদ্ধার ও ত্রাণ অভিযানে এই সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

    এর আগে ভারত নেপালে ৬৮ টনেরও বেশি জরুরি ত্রাণসামগ্রী পাঠিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কম্বল, স্লিপিং ব্যাগ, ভারী ত্রিপল, প্লাস্টিক শিট, স্বাস্থ্যবিধি সামগ্রী, ওষুধ, খাবারের প্যাকেট, সৌরবিদ্যুৎচালিত বাতি, জল পরিশোধন ট্যাবলেট এবং পোর্টেবল জেনারেটর। এখনও পর্যন্ত ১৬৩ জন ভারতীয়কে নেপাল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

    ভারতের নদীতেও মিলছে বন্যার শিকারদের দেহ

    নেপালের বন্যার ভয়াবহতার প্রভাব সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের নদীগুলিতেও দেখা যাচ্ছে। উত্তরপ্রদেশের গণ্ডক নদী থেকে উদ্ধার করা পাঁচ নেপালি বন্যার্তের দেহ নেপাল পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে প্রায় ৭৫ জন মার্কিন নাগরিক এখনও নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে। ফলে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও এই বিপর্যয়ের প্রভাব ছড়িয়েছে।

    শুধু নেপালের বিপর্যয় নয়, হিমালয়ের জন্য বড় সতর্কবার্তা

    নেপালের বর্তমান পরিস্থিতি তাই শুধুমাত্র একটি ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঘটনা হিসেবে দেখলে পুরো ছবিটা ধরা পড়বে না। হিমবাহের দ্রুত পরিবর্তন, হিমবাহ-হ্রদের জল বৃদ্ধি, বরফ ও পাথরের স্তরের অস্থিতিশীলতা এবং পাহাড়ি নদীগুলির আকস্মিক জলপ্রবাহ—সব মিলিয়ে হিমালয় অঞ্চলে নতুন ধরনের জলবায়ুজনিত ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

    বিশেষ করে ভারত, নেপাল, ভুটান ও চিনের বিস্তীর্ণ হিমালয় অঞ্চলজুড়ে নদীর অববাহিকায় বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা বিপুল। ফলে একটি হিমবাহ-হ্রদের বাঁধ ভেঙে গেলে তার প্রভাব কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আন্তর্জাতিক সীমান্ত পেরিয়ে বহু দূরে পৌঁছে যেতে পারে।

    নেপালের সাম্প্রতিক বিপর্যয় সেই সম্ভাব্য ভবিষ্যতেরই একটি ভয়াবহ ছবি দেখাল। এখন নজর তাই শুধু উদ্ধার ও পুনর্বাসনে নয়—হিমবাহ পর্যবেক্ষণ, আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা এবং হিমালয়জুড়ে আন্তঃদেশীয় দুর্যোগ মোকাবিলার পরিকাঠামো কত দ্রুত শক্তিশালী করা যায়, সেদিকেও।

  • Typhoid Cases Rise: একটানা বৃষ্টিতে এবার টাইফয়েডের চোখরাঙানি! কলকাতা-সহ ৫ জেলায় উদ্বেগ, বেশি ঝুঁকিতে শিশুরা, সতর্কবার্তা স্বাস্থ্য দফতরের

    Typhoid Cases Rise: একটানা বৃষ্টিতে এবার টাইফয়েডের চোখরাঙানি! কলকাতা-সহ ৫ জেলায় উদ্বেগ, বেশি ঝুঁকিতে শিশুরা, সতর্কবার্তা স্বাস্থ্য দফতরের

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    বৃষ্টির দাপট অব্যাহত! উত্তর থেকে দক্ষিণ একটানা বৃষ্টি চলছে। কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ও দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা, পশ্চিম বর্ধমান, পশ্চিম মেদিনীপুরের মতো দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলোর পাশাপাশি দার্জিলিং, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার সহ উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতেও একনাগাড়ে বৃষ্টি চলছে। এই পরিস্থিতিতে টাইফয়েডের দাপট বাড়ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলেই জনস্বাস্থ্যে বড় সঙ্কট তৈরি হতে পারে বলেই আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    কোথায় টাইফয়েডের দাপট বাড়ছে?

    স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, কলকাতা, হাওড়া, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা, নদিয়া, মুর্শিদাবাদের মতো জেলাগুলোতে গত এক মাসে টাইফয়েড আক্রান্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে। আক্রান্তের তালিকায় শিশুদের সংখ্যা বেশি। তাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে প্রশাসন বাড়তি সক্রিয়। এক স্বাস্থ্য কর্তা জানান, আগষ্ট মাসে রাজ্যে ডেঙ্গি ও ম্যালেরিয়ার দাপট বেড়েছে। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে টাইফয়েড। আর এই রোগে সবচেয়ে বেশি শিশুরাই আক্রান্ত হচ্ছেন। তাই ডেঙ্গি ও ম্যালেরিয়ার পাশাপাশি টাইফয়েড রুখতেও প্রশাসন বাড়তি সতর্ক ও সক্রিয় থাকছে।

    কী বলছে আইসিএমআর?

    দেশের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হেল্‌থ ও ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চের (আইসিএমআর) সমীক্ষা বলছে, গত কয়েক বছরে দেশ জুড়ে টাইফয়েডের দাপট অব্যাহত। গত বছরেও দেশে ৪৭ হাজার মানুষ টাইফয়েডে আক্রান্ত হয়েছিলেন। তারমধ্যে সাড়ে সাত হাজার মানুষ এই রোগে মারা যান। তাই টাইফয়েড নিয়ে সচেতনতা জরুরি। দ্রুত রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসা প্রয়োজন। তবেই বড় বিপদ আটকানো যাবে।

    কেন টাইফয়েডের দাপট বাড়ছে?

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, সালমোনেলা টাইফি ব্যাকটেরিয়া নামে এক ব্যাকটেরিয়ার জেরেই টাইফয়েড হয়। এই ব্যাকটেরিয়া বারবার প্রকৃতি বদল করছে। এর ফলে আরও বেশি শক্তিশালী হয়ে যাচ্ছে। আবার চিকিৎসা করাও বেশ কঠিন হয়ে উঠছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, বর্ষার মরশুমে এই ধরনের ব্যাকটেরিয়া বেশি সক্রিয় হয়ে যায়। তাঁরা জানাচ্ছেন, বৃষ্টির জল জমে আবার নিকাশি ব্যবস্থাও পর্যাপ্ত কাজ করে না। সব মিলিয়ে চারপাশে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। আর তার জেরেই টাইফয়েড রোগের প্রকোপ বাড়ছে। টাইফয়েড মূলত জলবাহিত অসুখ। অপরিচ্ছন্ন জল থেকেই এই রোগ শরীরে বাসা বাঁধছে। তারপরে জটিল রোগ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

    কী কী দাওয়াই স্বাস্থ্য দফতরের ?

    স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে জানা গিয়েছে, টাইফয়েড রুখতে রাজ্য জুড়ে একাধিক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। বর্ষার মরশুমে এ রাজ্যে টাইফয়েডের প্রকোপ বাড়ে। কিন্তু পরিস্থিতি যাতে নিয়ন্ত্রণে থাকে, তাই রাজ্য জুড়ে সচেতনতা কর্মসূচি নেওয়া হবে।

    জনসচেতনতায় বাড়তি গুরুত্ব!

    স্বাস্থ্য কর্তারা জানাচ্ছেন, টাইফয়েডের মতো রোগ রুখতে জনসচেতনতা খুবই জরুরি।‌ পচা ও বাসি খাবার, অপরিশ্রুত জল থেকেই টাইফয়েডের ব্যাকটেরিয়া সক্রিয় হয়। তাই এই মরশুমে খাবার ও জল নিয়ে বাড়তি সচেতনতা প্রয়োজন। প্রত্যেক এলাকায় এই নিয়ে সচেতনতা চালাবেন স্বাস্থ্য কর্মীরা। শিশুদের খাওয়ার আগে হাত পরিষ্কার করা, পরিশ্রুত জল খাওয়ার দিকে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হবে। প্রয়োজনে জল ফুটিয়ে খাওয়ানোর পরামর্শ দেওয়া হবে। খাবারের পাশপাশি শৌচালয়ের পরিচ্ছন্নতা নিয়েও সচেতনতা চলবে। শৌচালয় থেকে একাধিক সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। তাই বাড়ির শৌচালয় যাতে নিয়মিত পরিষ্কার করা হয়, সে নিয়েও প্রচার কর্মসূচি চলবে। টাইফয়েডের ব্যাকটেরিয়ার দাপট কমানো যায়।

    এলাকা পরিচ্ছন্নতায় বাড়তি নজরদারি!

    বর্ষার মরশুমে যেকোনো রোগ প্রতিরোধে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার এলাকার পরিচ্ছন্নতা। স্বাস্থ্য দফতরের এক কর্তা জানান, ডেঙ্গি, ম্যালেরিয়ার মতো মশাবাহিত রোগ হোক কিংবা টাইফয়েডের মতো ব্যাকটেরিয়া ঘটিত অসুখ, যেকোনো রোগের নেপথ্যে থাকছে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ‌। তাই পরিবেশের পরিচ্ছন্নতার দিকে বাড়তি নজর দেওয়া হচ্ছে। পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের সঙ্গে একযোগে সমন্বয় রেখে স্বাস্থ্য দফতর এই কাজ চালিয়ে যাবে। যাতে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের জন্য সংক্রমণের দাপট না বাড়ে, সে দিকে বাড়তি নজরদারি থাকবে।

    স্কুল স্তর থেকেই স্বাস্থ্য বিধি নিয়ে সচেতনতা!

    স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে জানা গিয়েছে, স্কুলস্তর থেকেই এবার স্বাস্থ্য বিধি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হবে। একাধিক কর্মশালার আয়োজন করা হবে। শৌচালয়ে ঠিকমতো জলের ব্যবহার, খাওয়ার আগে ও পরে হাত ধোয়ার প্রয়োজনীয়তা, স্বাস্থ্যবিধির নানান দিক সম্পর্কে শিশুরা অবগত হলে টাইফয়েডের দাপট কমানো সহজ হবে‌ বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    দ্রুত রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসায় বাড়তি গুরুত্ব!

    টাইফয়েডে বড় বিপদ রুখতে দ্রুত রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসা করানোয় বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছে স্বাস্থ্য দফতর।‌ স্বাস্থ্য কর্তারা জানাচ্ছেন, অনেক সময়েই আক্রান্ত দেরিতে হাসপাতালে পৌঁছয়। ফলে পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক হয়ে যায়। তাই টানা তিন‌দিন জ্বর হলেই চিকিৎসকদের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। রোগ নির্ণয় করে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করতে হবে। রোগীর হয়রানি কমাতে সমস্ত হাসপাতালের মধ্যে সমন্বয়ে আরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

LinkedIn
Share