Tag: dengue prevention

dengue prevention

  • West Bengal Dengue: জ্বর কমলেই সাবধান! ডেঙ্গির ‘বিপজ্জনক সময়’ কখন, কী কী লক্ষণে সতর্ক হবেন? জানুন

    West Bengal Dengue: জ্বর কমলেই সাবধান! ডেঙ্গির ‘বিপজ্জনক সময়’ কখন, কী কী লক্ষণে সতর্ক হবেন? জানুন

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    অগাস্ট মাসেই বিপদের ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিলো। সেপ্টেম্বরে পরিস্থিতি যথেষ্ট উদ্বেগজনক। এলাকার অবস্থা বিশ্লেষণ করে, রোগ মোকাবিলা করতে না পারলে, বিপদ আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। রাজ্য জুড়ে ডেঙ্গির দাপট অব্যাহত। বিশেষত কয়েকটি জেলায় ডেঙ্গি সংক্রমণের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। তাই স্বাস্থ্য দফতরের তরফে বাড়তি সক্রিয়তা নেওয়া হয়েছে। নিয়মিত বুলেটিন প্রকাশ করে রাজ্যের ডেঙ্গি পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য দেওয়া হচ্ছে। রাজ্যবাসীকে ডেঙ্গি মোকাবিলায় প্রস্তুত করাও হচ্ছে।

    কোথায় বাড়তি বিপদ?

    স্বাস্থ্য দফতরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে সেপ্টেম্বরের প্রথম ১২ দিনে পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন। যা যথেষ্ট উদ্বেগের বলেই মনে করছেন স্বাস্থ্য কর্তারা।
    স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে জানা গিয়েছে, মুর্শিদাবাদ, কলকাতা, উত্তর চব্বিশ পরগনা এবং নদিয়া জেলায় ডেঙ্গি পরিস্থিতি সবচেয়ে উদ্বেগজনক। পাশপাশি মালদা, হাওড়া, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা এবং হুগলি জেলাতেও ডেঙ্গি ক্রমশ বাড়ছে।
    স্বাস্থ্য কর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গি আক্রান্ত জেলা হল মুর্শিদাবাদ। এই জেলায় গত বারো দিনে এক হাজারের বেশি মানুষ ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন। মুর্শিদাবাদের পরেই ডেঙ্গিপ্রবণ এলাকা হিসাবে রাজ্যে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে কলকাতা। কলকাতায় সেপ্টেম্বর মাসে প্রায় ৬০০ মানুষ ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন। তৃতীয় স্থানে রয়েছে উত্তর চব্বিশ পরগনা। এই জেলায় চলতি মাসে প্রায় ৫৫০ জন ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন। এরপরেই উদ্বেগ বাড়াচ্ছে নদিয়া। এই জেলাতেও ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। সেপ্টেম্বর মাসে নদিয়া জেলায় ৪৫০ জন ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন।
    বিপদ বাড়ছে মালদা, হাওড়া, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা এবং হুগলি জেলাতেও। স্বাস্থ্য ভবনের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়েই এই চার জেলাতেও আক্রান্তের সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে। যার জেরে উদ্বিগ্ন স্বাস্থ্য প্রশাসন।

    পরিস্থিতি কখন বাড়তি বিপজ্জনক হয়ে উঠছে?

    ডেঙ্গি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পারলে রাজ্য জুড়ে বিপদ আরও বাড়বে বলেই আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকেরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, ডেঙ্গি প্রতিরোধ ছাড়া আর কোনও উপায় নেই।
    তাঁরা জানাচ্ছেন, জ্বর কমার পরেই ডেঙ্গি বাড়তি বিপদ তৈরি করে। ডেঙ্গি শক সিন্ড্রোম সবচেয়ে বেশি গুরুতর হয়ে যায় ডেঙ্গি আক্রান্তের শরীরের তাপ স্বাভাবিক হওয়ার পরে। তাই ডেঙ্গি নিয়ে বাড়তি নজরদারি না রাখলেই, মৃত্যুর আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।
    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, যে সব এলাকায় ডেঙ্গি সংক্রমণ বেশি হচ্ছে, সেখানে জনসচেতনতা আরও বেশি জরুরি। মশাবাহিত রোগ রুখতে সমস্ত রকমের প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। আশপাশ পরিষ্কার রাখা যেমন জরুরি, তেমনি সামান্য জ্বর হলেও দ্রুত বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মতো রক্ত পরীক্ষা করিয়ে, রোগ নির্ণয় প্রয়োজন।
    দ্বিতীয় বার ডেঙ্গি আক্রান্ত হলে তাঁর বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, প্রথমের তুলনায় দ্বিতীয় বার আক্রান্ত হলে ডেঙ্গি বেশি বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। তাই যাদের একবার ডেঙ্গি সংক্রমণ হয়েছে, এই মরশুমে, তাদের বাড়তি সাবধানতা অবলম্বন জরুরি। সংক্রমণ হলে, জ্বর কমলে তারপরে পেটে ব্যথা করছে কিনা, মল-মূত্র ত্যাগ স্বাভাবিক হচ্ছে কিনা, বমি পাচ্ছে কিনা, এই দিনগুলোতে নজর দেওয়া জরুরি। তাঁরা জানাচ্ছেন, ডেঙ্গি একাধিক অঙ্গের ক্ষতি করে। এই উপসর্গগুলো জানান দেয়, শরীরে ডেঙ্গি কতখানি প্রভাব ফেলেছে। আগাম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে, প্রাণ সংশয়ও তৈরি হতে পারে।

    কীভাবে এই পরিস্থিতি সামলাবেন?

    চিকিৎসকদের পরামর্শ, ডেঙ্গি পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রথমেই সচেতনতা জরুরি। মশার বংশবিস্তার আটকাতে পারলে, তবেই ডেঙ্গির প্রকোপ কমবে। তাই জমা জল পরিষ্কার করতেই হবে। চৌবাচ্চায় জল জমিয়ে রাখা যাবে না। বাড়ির ছাদ এবং বাগানে আবর্জনা রাখা চলবে না। টবে জল জমেছে কিনা সেটা দেখতে হবে। নিয়মিত বাড়ির আশপাশের এলাকা পরিষ্কারে নজর দিতে হবে। এর পাশপাশি এলাকায় ডেঙ্গি সংক্রমণ বাড়লে, প্রশাসনকে সবরকম সাহায্য করতে হবে। তথ্য জানাতে হবে। যাতে প্রশাসনের কাজে সুবিধা হয়।
    তবে একাধিকবার ডেঙ্গি আক্রান্ত হলে আরও বেশি সতর্ক থাকতে হবে। যাতে পরিস্থিতি কখনওই বিপজ্জনক হয়ে না‌ ওঠে। সেদিকে নজর দিতে হবে। শিশুদের জন্য বাড়তি সচেতনতা জরুরি। কারণ স্কুল থেকে অধিকাংশ সময়ে শিশুরা ডেঙ্গি আক্রান্ত হচ্ছে। তাই স্কুল কর্তৃপক্ষকেও ডেঙ্গি নিয়ে নজরদারি বাড়াতে হবে।

  • Dengue in September: সেপ্টেম্বর মাসেই সাবধান! ডেঙ্গি ঠেকাতে আজ থেকেই অভ্যাস করুন এই ৫টি কাজ, দাবি বিশেষজ্ঞদের

    Dengue in September: সেপ্টেম্বর মাসেই সাবধান! ডেঙ্গি ঠেকাতে আজ থেকেই অভ্যাস করুন এই ৫টি কাজ, দাবি বিশেষজ্ঞদের

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    চোখ রাঙাচ্ছে ডেঙ্গি। সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই আক্রান্ত বাড়ছে। প্রশাসন সক্রিয়। স্বচ্ছ ভাবেই ডেঙ্গি মোকাবিলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তবে, প্রশাসনের পাশাপাশি ডেঙ্গির মতো মশাবাহিত রোগ রুখতে সাধারণ মানুষের সাহায্য সমান ভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তাই সেপ্টেম্বর মাস জুড়ে কয়েকটি অভ্যাস রপ্ত করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

    কেন সেপ্টেম্বর মাসে বাড়তি গুরুত্ব?

    জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, গত কয়েক বছরের ডেঙ্গি আক্রান্তের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে স্পষ্ট, সেপ্টেম্বর মাস খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই মাসে আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি হয়। তবে অক্টোবরেও ডেঙ্গি সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে। তবে, ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করে মৃত্যু মিছিল কমাতে হলে, সেপ্টেম্বর মাসে বাড়তি গুরুত্ব দিতে হবে। বর্ষার মরশুমে জল জমে। রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বছরের এই সময়ে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়। আবার পরিবেশ অপরিচ্ছন্ন হয়ে যায়। সব মিলিয়ে মশার বংশবিস্তার এই সময়ে সবচেয়ে বেশি‌ হয়। তাই মশাবাহিত রোগের দাপট বছরের এই সময়ে বাড়ে। সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়লে, তার প্রকোপ বাড়ে। তাই সেপ্টেম্বরে বাড়তি গুরুত্ব।

    সেপ্টেম্বরে মশার বংশবিস্তার কমাতে পারলে ডেঙ্গি, ম্যালেরিয়ার মতো মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি কমবে। পাশপাশি সংক্রমণ আটকানোর দিকেও নজর দিতে হবে। ডেঙ্গি মোকাবিলার দুই অস্ত্র জরুরি। একদিকে মশার বংশবিস্তার কমাতে হবে, আরেকদিকে, রোগের সংক্রমণ ছড়ানো বন্ধ, এই দুই করতে পারলেই ডেঙ্গি প্রতিরোধ সহজ হবে। এই মাসে সেই দুই দিকেই প্রশাসন সমান গুরুত্ব দিচ্ছে। তাহলে, রোগ ছড়াতে পারবে না। ফলে আক্রান্তের সংখ্যা কমবে এবং মৃত্যু মিছিল আটকানো‌ যাবে।

    কোন পাঁচ অভ্যাস রপ্ত করার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের?

    জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন, ডেঙ্গির মতো মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে জল জমা কিংবা এলাকার অপরিচ্ছন্নতা নিয়ে যেমন সচেতনতা জরুরি, তেমনি আরও কয়েকটি অভ্যাসে নজর দিতে হবে।

    পোশাকে বাড়তি নজরদারি!

    ডেঙ্গি রুখতে পোশাক খুব গুরুত্বপূর্ণ বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, মশার কামড়ের জেরেই ডেঙ্গির ভাইরাস মানুষের শরীরে প্রবেশ করে। তাই হাত ও পা সম্পূর্ণ ঢাকা পোশাক এই সময়ে পরে থাকা জরুরি। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশের পরামর্শ, ডেঙ্গি রুখতে শিশুদের পোশাক নিয়ে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। তাঁরা জানাচ্ছেন, শিশুরা ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হলে পরিস্থিতি বেশি জটিল হয়। তাই শিশুরা যাতে, ডেঙ্গির কবল থেকে বাঁচে, সেদিকে বাড়তি নজর দিতে হবে। বিশেষত বিকেলে পার্কে বা বাগানে খেলতে যাওয়ার সময় হাত ও পা সম্পূর্ণ ঢাকা পোশাক পরাতে হবে। যাতে মশা কামড়ানোর সুযোগ কমে। রাতে ঘুমোনোর সময়েও হাত-পা ঢাকা‌ পোশাক পরার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

    মশারি টাঙানোর অভ্যাস!

    আধুনিক শহুরে বাঙালির অনেকেই মশারি টাঙানোর অভ্যাস ছেড়ে দিয়েছেন। কিন্তু জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, ডেঙ্গির মতো রোগ থেকে বাঁচতে মশারি টাঙিয়ে ঘুমোনোর অভ্যাস থাকা জরুরি। ঘুমের মধ্যে যাতে মশা না কামড়ায়, সেই জন্য নিয়মিত রাতে মশারি টাঙিয়ে ঘুমোনোর পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। পাশপাশি বাড়িতে সদ্যোজাত থাকলে, নবজাতক শিশুকে দিনের অধিকাংশ সময় মশারির‌ ভিতরে রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, ডেঙ্গির মশা দিনের বেলায় দাপট বেশি দেখায়। তাই নবজাতক শিশুদের দিনের বেলাতেও মশারির ভিতরে রাখতে পারলে ভালো হয়।

    জানলা খোলা ও বন্ধের সময়ে নজরদারি!

    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ডেঙ্গি রুখতে ঘরের জানলা কখন খোলা আর বন্ধ করা হবে, সেদিকে সতর্ক থাকা জরুরি। বাড়ির আশপাশে পুকুর বা বাগান থাকলে জানলা খোলা নিয়ে বাড়তি সচেতনতা প্রয়োজন। দিনের বেলা, সূর্যের আলোয় ঘরের জানলা খোলা রাখা যেতেই পারে। কিন্তু বিকেলের পরে জানলা বন্ধ রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাহলে ঘরের ভিতরে মশার দাপট কমবে।

    বাড়ির শৌচলায় এবং ছাদ নিয়ে বাড়তি সতর্কতা!

    জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, প্রশাসন বাড়ির ভিতরের পরিবেশ সুস্থ রাখতে পারবে না। সে নিয়ে নাগরিকদের সচেতন হতে হবে। তাই নিজের বাড়ির ছাদ, বারান্দা এবং শৌচালয় নিয়ে সজাগ থাকতে হবে। অনেকেই বাড়ির চৌবাচ্চায় জল জমিয়ে রাখেন। এই মাসে সেই কাজ করলে বিপদ বাড়বে। মশার বংশবিস্তার কমাতে নিয়মিত চৌবাচ্চা পরিষ্কার করতে হবে। অতিরিক্ত বৃষ্টির পরে ছাদে জল জমে থাকছে কিনা, সে দিকে নজর রাখতে হবে। প্রয়োজনে প্রত্যেক সপ্তাহে ছাদ পরিষ্কার করতে হবে। অনেকেই বাড়ির সংলগ্ন এলাকায় বাগান করেন। আবার কলকাতা সহ একাধিক শহরে ছাদে বাগান করার রেওয়াজ রয়েছে। সেই বাগানের পরিচ্ছন্নতা নিয়ে বাড়তি সক্রিয় থাকতে হবে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের পরামর্শ, টবে জমা জল থাকছে কিনা দেখতে হবে। আগাছার জন্য মশার বংশবিস্তার হচ্ছে কিনা সেদিকে নজর দিতে হবে। বাগানে নিয়মিত মশানিধন তেল ও স্প্রে দিতে হবে।

    আক্রান্তের সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনের যোগাযোগ!

    ডেঙ্গি সংক্রমণ রুখতে সবচেয়ে জরুরি আক্রান্তকে চিহ্নিত করা এবং তাঁর আলাদা রাখার ব্যবস্থা করা। পাশপাশি তাঁর পরিবারের কেউ আক্রান্ত হয়েছেন কিনা সেটা দ্রুত নিশ্চিত করা। আর এই সব কিছুতেই সাধারণ নাগরিকদের প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতা করা জরুরি। তবেই কোথায় ডেঙ্গি সংক্রমণ কতখানি গুরুতর, সেটা স্পষ্ট হবে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, পরিবারের কেউ টানা তিন দিন জ্বরে আক্রান্ত থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ মতো রক্ত পরীক্ষা জরুরি। আবার রোগ নিশ্চিত হলে তাঁকে আলাদা রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। ডেঙ্গি আক্রান্তকে আলাদা ঘরে মশারি টাঙিয়ে রাখতে হবে। যাতে তাঁর থেকে অন্যদের শরীরে সহজে সংক্রমণ না ছড়াতে পারে। ডেঙ্গি আক্রান্তের তথ্য প্রশাসনকেও জানানো জরুরি। যাতে এলাকার পরিচ্ছন্নতা ও মশানিধন নিয়ে প্রশাসন বাড়তি সক্রিয় হতে পারে।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
  • Dengue Vaccine: ডেঙ্গি ভ্যাকসিন প্রস্তুত, কিন্তু চলতি বছরেই নয়! বর্ষায় রোগ ঠেকাতে কী করবেন?

    Dengue Vaccine: ডেঙ্গি ভ্যাকসিন প্রস্তুত, কিন্তু চলতি বছরেই নয়! বর্ষায় রোগ ঠেকাতে কী করবেন?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    ডেঙ্গি মোকাবিলায় টিকা প্রস্তুত। কিন্তু এখনই সহজলভ্য হবে না। তাই রোগের মোকাবিলায় চলতি বছরে এখনও ডেঙ্গি ভ্যাকসিনকে হাতিয়ার করতে পারছে না স্বাস্থ্য দফতর। কিন্তু রাজ্য জুড়ে বর্ষার দাপট রয়েছে। তাই মশাবাহিত রোগের প্রকোপও বাড়ছে। শহর থেকে জেলা, সর্বত্র ডেঙ্গি মোকাবিলা প্রয়োজন! তাই চলতি বছরেও আগাম সচেতনতা না থাকলে, ডেঙ্গি মোকাবিলা আগের মতোই কঠিন হতে পারে বলেই আশঙ্কা করছেন স্বাস্থ্য মহলের একাংশ।

    ডেঙ্গি কি উদ্বেগ বাড়াচ্ছে?

    স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে মশাবাহিত রোগের দাপট রয়েছে। ম্যালেরিয়া এবং ডেঙ্গির মতো মশাবাহিত রোগ মোকাবিলায় তৎপর স্বাস্থ্য দফতর। তবে, পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক নয়। স্বাস্থ্য কর্তাদের একাংশ জানাচ্ছেন, দেশ জুড়েই বর্ষার মরশুমে ডেঙ্গি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। মুম্বাই থেকে দিল্লি, দেশের একাধিক বড় শহরে মশাবাহিত এই রোগের প্রকোপ বেড়েছে। ডেঙ্গি আক্রান্তের তালিকায় রয়েছেন বলিউডের অভিনেতা-অভিনেত্রীরাও। কলকাতাতেও এই মরশুমে ডেঙ্গির প্রকোপ দেখা দিচ্ছে। বিশেষত নদীয়া, বর্ধমান, মুর্শিদাবাদ, উত্তর এবং দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা, হাওড়ার মতো একাধিক জেলায় চলতি বছরে ইতিমধ্যেই ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা কয়েক হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছে। বাদ নেই কলকাতা। কলকাতার একাধিক জায়গায় বিশেষত শোভাবাজার, বেলগাছিয়া, গিরিশ পার্ক, যাদবপুর, কসবার মতো জনবহুল এলাকায় ডেঙ্গির প্রকোপ রয়েছে। তবে, স্বাস্থ্য কর্তাদের একাংশ জানাচ্ছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এখন অযথা আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং, সতর্ক থাকা জরুরি। যাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেই থাকে।

    ডেঙ্গি রুখতে কোন পথে হাঁটতে চায় রাজ্য?

    রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ডেঙ্গি ভ্যাকসিন তৈরি হলেও, সেই টিকাকরণ প্রক্রিয়া এখনি শুরু করা যাবে না। কারণ, এখনও কয়েকটি ধাপ রয়েছে। নিয়ম মাফিক সেগুলো পার করলে তবেই ডেঙ্গি মোকাবিলায় টিকা করণ শুরু হবে। তাই চলতি বছরে সাবেকি পদ্ধতিতেই ডেঙ্গি মোকাবিলা হবে বলে জানিয়েছেন। স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্য জুড়ে বাড়ি বাড়ি প্রচার কর্মসূচিতে জোর দেওয়া হচ্ছে। প্রত্যেক বাড়িতে কেউ জ্বরে আক্রান্ত কিনা, সেটার খবর নেওয়া হচ্ছে। এলাকার কোথায় জল জমে রয়েছে, সে সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। যাতে সংক্রমণ দাপট বাড়াতে না পারে। পরিবারের কেউ ডেঙ্গি আক্রান্ত হলে, বাকিদের বাড়তি সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। যাতে সংক্রমণ বেশি ছড়িয়ে পড়তে না পারে, সেদিকে খেয়াল রাখা প্রয়োজন। তাছাড়া, ডেঙ্গি রুখতে এলাকা পরিষ্কারে বাড়তি নজরদারির পরামর্শ দিচ্ছেন স্বাস্থ্য দফতরের বিশেষজ্ঞরা। প্রশাসনের একাংশ জানাচ্ছেন, জমা জল ডেঙ্গি মোকাবিলায় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু বর্ষার মরশুমে দ্রুত সমস্ত নিকাশি ব্যবস্থা ঠিক করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে, জনসচেতনতাও প্রয়োজন। বাড়ি ও এলাকার আশপাশে নোংরা ফেলা চলবে না। জল যাতে না জমে সেদিকে নজর দিতে হবে। গাছ লাগালে বাগান পরিষ্কার রাখার দিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। টব বা চৌবাচ্চায় যাতে জল জমে না থাকে, সেটা নজর দেওয়া জরুরি। কারণ, পরিষ্কার বদ্ধ জমা জলে ডেঙ্গির মশার দাপট বাড়ে। তাই সেদিকে বাড়তি নজরদারি জরুরি‌।

    সুস্থ থাকতে কী পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের?

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, সুস্থ থাকতে সতর্ক থাকা জরুরি। মশার কামড় রুখতে হাত ও পা ঢাকা পোশাক পরার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, অনেক সময়েই মাঠে বা বাগানে খেলার সময়ে শিশুদের মশা কামড়ায়। এর থেকে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। তাই খেলতে যাওয়ার সময় বিশেষত শরীর ভালোভাবে ঢাকা দেওয়া পোশাক পরা জরুরি। তাছাড়া নিয়মিত মশারি টাঙিয়ে ঘুমোনো প্রয়োজন। তাতে মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি কমে। তাঁদের পরামর্শ, তিন দিন একটানা জ্বর থাকলে একেবারেই অবহেলা করা যাবে না। বরং, দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ মতো রক্ত পরীক্ষা জরুরি। রোগ নির্ণয় হলে চিকিৎসা দ্রুত শুরু করা যায়‌। এতে রোগীর শারীরিক জটিলতা কমে। আবার সংক্রমণ আটকানোও সহজ হয়। পরিবারের কেউ ডেঙ্গি আক্রান্ত হলে, তাকে আলাদা ঘরে মশারি টাঙিয়ে রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।‌ তাহলে রোগ ছড়ানোর ঝুঁকি কমবে। পাশাপাশি, নিজের বাড়ি এবং এলাকার পরিচ্ছন্নতা নিয়েও সচেতন থাকা প্রয়োজন।

  • India Gets First Dengue Vaccine: ভারতে প্রথম ডেঙ্গির টিকার অনুমোদন, বড় পদক্ষেপ কেন্দ্রের! কারা নিতে পারবেন?

    India Gets First Dengue Vaccine: ভারতে প্রথম ডেঙ্গির টিকার অনুমোদন, বড় পদক্ষেপ কেন্দ্রের! কারা নিতে পারবেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এবার ডেঙ্গির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বড় পদক্ষেপ ভারতের। প্রথমবারের মতো দেশে ডেঙ্গির টিকা ‘কিউডেঙ্গা’ (QDENGA)-কে অনুমোদন দিল ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেল অব ইন্ডিয়া (DCGI)। জাপানের ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থা তাকেদা বায়োফার্মাসিউটিক্যালস-এর তৈরি এই টিকা ৪ থেকে ৬০ বছর বয়সি ব্যক্তিদের জন্য অনুমোদিত হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে ডেঙ্গির বাড়তে থাকা প্রকোপের মধ্যে এই অনুমোদন জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ?

    ভারতে প্রতি বছর বর্ষা এলেই বাড়তে থাকে ডেঙ্গির প্রকোপ। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, বিশ্বে ডেঙ্গিতে আক্রান্ত মোট মানুষের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই ভারতের বাসিন্দা। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশে প্রায় ১ লক্ষ ১৩ হাজার জন ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন। ডেঙ্গির কারণে মৃত্যুর সংখ্যাও উদ্বেগজনক। এতদিন পর্যন্ত ভারতে ডেঙ্গির কোনও অনুমোদিত টিকা ছিল না। ফলে মশা নিয়ন্ত্রণ, জমা জল পরিষ্কার রাখা এবং সচেতনতাই ছিল সংক্রমণ রুখতে প্রধান ভরসা। সেই জায়গায় কিউডেঙ্গার অনুমোদনকে ডেঙ্গির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বড় অগ্রগতি বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    কী এই কিউডেঙ্গা (QDENGA)?

    কিউডেঙ্গা (QDENGA) একটি টেট্রাভ্যালেন্ট ডেঙ্গির টিকা। অর্থাৎ এটি ডেঙ্গি ভাইরাসের চারটি ধরন- ডেন-১, ডেন-২, ডেন-৩ এবং ডেন-৪ সবকটির বিরুদ্ধেই সুরক্ষা দিতে পারে। এই টিকার আরও একটি বড় সুবিধা হল, টিকা নেওয়ার আগে কোনও ব্যক্তির আগে ডেঙ্গি হয়েছিল কি না? তার পরীক্ষার প্রয়োজন হয় না।

    কারা তৈরি করেছে?

    কিউডেঙ্গা (QDENGA) তৈরি করেছে জাপানের ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থা তাকেদা বায়োফার্মাসিউটিক্যালস। ২০২২ সালে আন্তর্জাতিক বাজারে আসার পর থেকে এই টিকা ৪৩টি দেশে অনুমোদন পেয়েছে। সংস্থার দাবি, ইতিমধ্যেই ৩ কোটি ২০ লক্ষেরও বেশি ডোজ বিতরণ করা হয়েছে। ব্রাজিল, আর্জেন্টিনাসহ একাধিক দেশে সরকারি ও বেসরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবার মাধ্যমে এই টিকা দেওয়া হচ্ছে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হল ভারতও।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কী মত?

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা ‘হু’ (WHO) কিউডেঙ্গাকে প্রি-কোয়ালিফায়েড ভ্যাকসিন হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। যেসব দেশে ডেঙ্গির প্রকোপ বেশি বা নিয়মিত সংক্রমণ দেখা যায়, সেখানে এই টিকা ব্যবহারের সুপারিশ করেছে ‘হু’। কিউডেঙ্গার মান, নিরাপত্তা এবং কার্যকারিতা সন্তোষজনক বলে বিবেচিত হয়েছে। এরপর ২০১৯ সালের নিউ ড্রাগস অ্যান্ড ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালস রুলস অনুযায়ী টিকাটির ব্যবহারে অনুমোদন দেয় ভারতের ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিসিজিআই (DCGI)।

    ট্রায়ালে কী ফল মিলেছে?

    টাকেডার ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে ২৮ হাজারেরও বেশি স্বেচ্ছাসেবী অংশ নেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় ফেজ-৩ ‘টাইডস (DEN-301)’ ট্রায়ালটি আটটি দেশে ২০ হাজারেরও বেশি মানুষের উপর চালানো হয়। ট্রায়ালের ফলাফলে দেখা গিয়েছে- দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার এক বছর পর ডেঙ্গি সংক্রমণ প্রতিরোধে কার্যকারিতা ছিল ৮০.২ শতাংশ। টিকা নেওয়ার ১৮ মাস পর ডেঙ্গির কারণে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঝুঁকি কমাতে কার্যকারিতা ছিল ৯০.৪ শতাংশ।

    কীভাবে দেওয়া হবে টিকা?

    কিউডেঙ্গার দুটি ডোজে দেওয়া হবে। প্রতিটি ডোজের পরিমাণ ০.৫ মিলিলিটার। প্রথম ডোজ নেওয়ার তিন মাস পরে দ্বিতীয় ডোজ নিতে হবে।

    ভারতে কবে পাওয়া যাবে?

    অনুমোদন মিললেও এখনই বাজারে পাওয়া যাবে না কিউডেঙ্গা। টাকেডা জানিয়েছে, ২০২৭ সালের প্রথমার্ধে ভারতের বেসরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবার মাধ্যমে টিকাটি বাজারে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে উৎপাদনও বাড়ানো হচ্ছে। ২০৩০ সালের মধ্যে বছরে ১০ কোটি ডোজ উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়েছে সংস্থাটি।

    শুধু টিকা নয়, সচেতনতাও জরুরি

    বিশেষজ্ঞদের মতে, কিউডেঙ্গা ডেঙ্গির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র হলেও এটি কোনও একমাত্র সমাধান নয়। টিকাকরণের পাশাপাশি মশার বংশবিস্তার রোধ, জমা জল পরিষ্কার রাখা, মশারি বা রিপেলেন্ট ব্যবহার এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াও সমান জরুরি। তবে ভারতের মতো ডেঙ্গি-প্রবণ দেশে এই প্রথম অনুমোদিত টিকা ভবিষ্যতে সংক্রমণ ও গুরুতর অসুস্থতার ঝুঁকি অনেকটাই কমাতে পারে বলেই আশাবাদী বিশেষজ্ঞরা।

  • Dengue Outbreak: চলতি সপ্তাহে ৬৭৫ জন ডেঙ্গি আক্রান্ত! আজ উত্তাল হতে পারে বিধানসভা

    Dengue Outbreak: চলতি সপ্তাহে ৬৭৫ জন ডেঙ্গি আক্রান্ত! আজ উত্তাল হতে পারে বিধানসভা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ডেঙ্গি পরিস্থিতি নিয়ে রাজ্যে উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে। চলতি সপ্তাহে এই মশাবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়েছেন ৬৭৫জন। আজ, ডেঙ্গি (Dengue Outbreak) পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা চাইতে পারেন বিরোধীরা। দুপুর ১২টা নাগাদ প্রশ্নোত্তর পর্বের পরে ডেঙ্গি নিয়ে আলোচনা প্রস্তাব পড়তে চাইতে পারেন বিজেপি বিধায়করা। সূত্রের দাবি, বিজেপির তরফে এ নিয়ে আলোচনাপর্ব চাওয়া হতে পারে। কিন্তু তাতে যদি অনুমতি না পাওয়া যায় তা হলে প্রতিবাদে সরব হবেন তাঁরা।

    জেলায় জেলায় ডেঙ্গির প্রকোপ

    জুলাইয়েই দাঁত, নখ দেখাতে শুরু করে দিয়েছে ডেঙ্গি (Dengue Outbreak)। কলকাতার সঙ্গে দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় ডেঙ্গির প্রকোপ বাড়ছে। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই ৭ জন মারা গিয়েছেন ডেঙ্গিতে। যদিও সরকারিভাবে এই সংখ্যা কত, তা এখনও স্পষ্ট নয়। জেলার স্বাস্থ্য দফতরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী এ বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত হাওড়ায় ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছে ১৩৩জন। নদিয়ায় ডেঙ্গি আক্রান্ত হয়ে ৬জনের মৃত্যু হয়েছে। পুরসভা সূত্রে খবর, রানাঘাটে আক্রান্তের সংখ্যা ৪০০ ছাড়িয়েছে। দুর্গাপুরের পুরসভার পলাশডিহায় গত এক সপ্তাহে ৬১জন আক্রান্ত হয়েছেন। জেলা স্বাস্থ্য দফতরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হুগলিতে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ৩৫৮। এর মধ্যে গ্রামীণ এলাকায় ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ২২৭ জন। জেলার শহরাঞ্চলে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ১৩১ জন। তুলামূলক ভাবে মালদহে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা কম। এই মরসুমে মালদহে ৭২ জন ডেঙ্গি আক্রান্তের খোঁজ মিলেছে। বাঁকুড়া পুরসভা সূত্রে খবর, এ বছর বাঁকুড়া শহরে ১৪ জন ডেঙ্গি আক্রান্তের খোঁজ পাওয়া গিয়েছে। জেলা স্বাস্থ্য দফতরের তথ্য অনুযায়ী, কোচবিহারে জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত মোট ৫৯ জন ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় এখনও পর্যন্ত মোট ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ৪৪। 

    আরও পড়ুন: লোকসভা ভোটের প্রস্তুতি! আজ সন্ধ্যায় মোদির ক্লাসে সুকান্ত–দিলীপরা

    ডেঙ্গি নিয়ে বিরোধীদের তোপ

    এই পরিস্থিতিতে ডেঙ্গি (Dengue Outbreak) নিয়ে সরকারের কাছে জবাব চাইতে পারে বিরোধীরা। অধিবেশনের পর বিধানসভার মূল গেটের বাইরে রাস্তাতে মশারি বিতরণ করবেন শুভেন্দু অধিকারীরা। গাড়ি চালক, পথ চলতি মানুষদের সেই মশারি দেওয়ার কথা। রবিবারই বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঘুমোচ্ছেন। তাই এই অবস্থা। ফেব্রুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর অবধি ডেঙ্গি মোকাবিলায় প্রস্তুতি চলে। এবার কোনও প্রস্তুতিই নেই।” বিজেপির পরিষদীয় দল সূত্রে খবর, এখনও অবধি যা পরিকল্পনা তাতে অধিবেশনে বিজেপির বক্তা হিসাবে চার মহিলা বিধায়ক থাকবেন। থাকবেন শুভেন্দু অধিকারী এবং হিরণও।

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook, Twitter এবং Google News পেজ।

LinkedIn
Share