Author: Susanta Das

  • Vishwakarma Puja: বিশ্বকর্মা পুজোয় কেন ওড়ে ঘুড়ি? ‘ভোক্কাট্টা’র নেপথ্যে রয়েছে চমকপ্রদ ইতিহাস

    Vishwakarma Puja: বিশ্বকর্মা পুজোয় কেন ওড়ে ঘুড়ি? ‘ভোক্কাট্টা’র নেপথ্যে রয়েছে চমকপ্রদ ইতিহাস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ বিশ্বকর্মা পুজো (Vishwakarma Puja)। আর বিশ্বকর্মা তথা দেবশিল্পীর পুজো মানেই দুর্গাপুজোর ফাইনাল কাউন্টডাউন শুরু। এই দিনটির আরও এক বিশেষ আকর্ষণ ঘুড়ি ওড়ানো (Kite Flying)। নীল আকাশের বুকে রং-বেরঙের ঘুড়ির মেলা—একসময় বিশ্বকর্মা পুজোর সঙ্গে যা ছিল অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত।

    একটা সময় ছিল, যখন মানুষের ব্যস্ততা এত বিরামহীন ছিল না। সেই সময় কলকাতা তথা বাংলার আকাশে বিশ্বকর্মা পুজোর কয়েক দিন আগে থেকেই দখল নিতে শুরু করত ঘুড়ি। পুজোর দিন ভোর থেকেই বাচ্চা থেকে বয়স্ক—নাটাই, মাঞ্জাসুতো হাতে সকলে মেতে উঠতেন ঘুড়ির প্যাঁচের প্রতিযোগিতায়। সকাল থেকে বিকেল আকাশজুড়ে দেখা যেত ঘয়লা, পেটকাটি, চাপরাস, চাঁদিয়াল, মোমবাতি, ময়ূরপঙ্খী, বগ্গা-সহ নানা ধরনের ঘুড়ি। বাতাস মুখরিত হত একটাই শব্দে—‘ভোক্কাট্টা!’

    এখন অবশ্য সেই দিন অনেকটাই অতীত। ব্যস্ততার আড়ালে হারিয়ে গিয়েছে সেই উন্মাদনা ও আমেজ। শহরের আকাশে আগের মতো ঘুড়ির মেলাও আর দেখা যায় না। ইতিউতি কোথাও, এদিক-ওদিক ছড়িয়ে ছিটিয়ে ঘুড়ি ওড়ে (Kite Flying)। তবু বিশ্বকর্মা পুজোর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এই ঐতিহ্য আজও বাঙালির নস্টালজিয়ার অন্যতম অংশ।

    পুরাণ মতে কেন বিশ্বকর্মা পুজোয় ঘুড়ি ওড়ানো হয়?

    পুরাণ মতে, বিশ্বকর্মা হলেন দেবতাদের শিল্পী। স্বর্গে দেবতাদের যে কোনও ধরনের কারিগরি সহায়তার প্রয়োজন পড়লেই মুশকিল আসান একমাত্র বিশ্বকর্মা। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এই বিশ্বকর্মাই দেবতাদের জন্য উড়ন্ত রথ তৈরি করেছিলেন। সেই উড়ন্ত রথের স্মৃতিকে ঘিরেই বিশ্বকর্মা পুজোর দিনে আকাশে ঘুড়ি ওড়ানোর রীতি তৈরি হয়েছে বলে মনে করা হয়।

    ঋগ্বেদের সঙ্গে যুক্ত ব্যাখ্যায় বিশ্বকর্মাকে সৃষ্টিশীলতা, নির্মাণ ও কারিগরি বিদ্যার সঙ্গে যুক্ত করা হয়। পুরাণের কাহিনিতে কৃষ্ণের বাসস্থান দ্বারকা নগরী নির্মাণের সঙ্গেও বিশ্বকর্মার নাম জড়িয়ে রয়েছে। সেই কারণেই শ্রমিক থেকে ইঞ্জিনিয়ার—কারিগরি ও নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত মানুষের কাছে বিশ্বকর্মা পুজোর গুরুত্ব বরাবরই বিশেষ।

    বাংলায় কবে থেকে ঘুড়ি ওড়ানোর চল?

    ইতিহাসের বিভিন্ন বর্ণনা অনুযায়ী, বাংলায় ঘুড়ি ওড়ানোর প্রচলন ঊনবিংশ শতকের মাঝামাঝি সময় থেকে জোরালো হয়ে ওঠে। প্রায় ১৮৫০ সাল নাগাদ কলকাতা ও গ্রাম বাংলার কিছু বিত্তশালী জমিদার ঘুড়িতে টাকা বেঁধে ওড়াতেন বলে উল্লেখ পাওয়া যায়। সেই সময় সাধারণ মানুষের মধ্যে ঘুড়ি ওড়ানোর চল ততটা জনপ্রিয় ছিল না; মূলত ধনী ও অভিজাতদের মধ্যেই এই শখ সীমাবদ্ধ ছিল।

    তবে কলকাতায় ঘুড়ি ওড়ানোর সংস্কৃতির বিস্তারের সঙ্গে নবাব ওয়াজেদ আলি শাহের নামও জড়িয়ে রয়েছে। ১৮৫৬ সালে অওধের সিংহাসন হারিয়ে কলকাতায় আসেন তিনি। পরে মেটিয়াবুরুজে নিজের আবাস গড়ে তোলেন। তাঁর সঙ্গে কলকাতায় আসে লখনউয়ের নানা সাংস্কৃতিক রীতি ও বিনোদনের ধারা। তারই অন্যতম ছিল ঘুড়ি ওড়ানো ও ঘুড়ির লড়াই।

    ওয়াজেদ আলি শাহের মেটিয়াবুরুজের ‘ছোটা লখনউ’-এ ঘুড়ি ওড়ানো ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। পরে সেই সংস্কৃতি কলকাতার রাজা, জমিদার ও অভিজাত সমাজেও ছড়িয়ে পড়ে। ঐতিহাসিক সূত্রে এমনও উল্লেখ রয়েছে যে, সেই সময় ঘুড়ি ওড়ানো শুধু বিনোদন ছিল না, বরং আভিজাত্য ও ঐশ্বর্য প্রদর্শনেরও একটি মাধ্যম হয়ে উঠেছিল।

    আজ অবশ্য শহরের আকাশে সেই পুরনো দিনের মতো ঘুড়ির ভিড় নেই। উঁচু বহুতল, খোলা জায়গার অভাব, মানুষের ব্যস্ততা এবং মোবাইল-নির্ভর বিনোদনের কারণে কলকাতায় ঘুড়ি ওড়ানোর ঐতিহ্য অনেকটাই ফিকে হয়েছে বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনগুলিতেও উঠে এসেছে।

    তবু বিশ্বকর্মা পুজোর দিনে নীল আকাশে হঠাৎ কোনও রঙিন ঘুড়ি ভেসে উঠলে আজও যেন ফিরে আসে পুরনো কলকাতার সেই দিনগুলি। নাটাই হাতে ছাদে দাঁড়ানো ছোট-বড় সকলের চোখে তখন একটাই অপেক্ষা—কখন প্রতিপক্ষের ঘুড়ি কাটা যাবে, আর চারপাশে শোনা যাবে সেই চেনা ডাক—‘ভোক্কাট্টা!’

  • India Pakistan Navy Ship Collision: আরব সাগরে ভারতীয় যুদ্ধজাহাজকে ধাক্কা পাকিস্তানের নৌযানের! পাক কূটনীতিককে ডেকে কড়া প্রতিবাদ দিল্লির

    India Pakistan Navy Ship Collision: আরব সাগরে ভারতীয় যুদ্ধজাহাজকে ধাক্কা পাকিস্তানের নৌযানের! পাক কূটনীতিককে ডেকে কড়া প্রতিবাদ দিল্লির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরব সাগরে ভারত ও পাকিস্তানের নৌবাহিনীর দুই জাহাজের সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে ফের কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হল। মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় উত্তর আরব সাগরে আন্তর্জাতিক জলসীমায় ঘটনাটি ঘটে। বুধবার নয়াদিল্লিতে পাকিস্তানের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকে তলব করে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ভারত।

    ভারতীয় সরকারি সূত্রের দাবি, ওই সময় ভারতীয় নৌবাহিনীর একটি যুদ্ধজাহাজ নিয়মিত নজরদারি মিশনে ছিল। সেই সময় পাকিস্তানি নৌবাহিনীর একটি জাহাজ দ্রুত গতিতে ভারতীয় জাহাজটির কাছে চলে আসে এবং ‘অপেশাদার ও অনিরাপদ’ পদ্ধতিতে গতিপথ পরিবর্তন করে। এর জেরেই দুই জাহাজের মধ্যে সংঘর্ষ হয় বলে ভারতীয় সূত্রের দাবি। তবে ঘটনায় কোনও প্রাণহানি বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর নেই।

    পাকিস্তানের শীর্ষ কূটনীতিককে তলব

    ঘটনার পর বুধবার পাকিস্তান হাইকমিশনের চার্জ দ্যা’ফেয়ার্সকে বিদেশ মন্ত্রকে তলব করে ভারত। পাকিস্তানি নৌ-ইউনিটের আচরণকে ‘অগ্রহণযোগ্য ও অপেশাদার’ বলে উল্লেখ করে শক্ত প্রতিবাদ জানানো হয়। একইসঙ্গে ইসলামাবাদে নিযুক্ত ভারতের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকেও পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রকের কাছে একই বিষয় উত্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    ১৯৯১ সালের চুক্তির প্রসঙ্গ কেন?

    ঘটনাটিকে শুধু নৌ-দুর্ঘটনা হিসেবে দেখছে না নয়াদিল্লি। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্য অনুযায়ী, পাকিস্তানি নৌ-জাহাজের আচরণ ১৯৯১ সালের ভারত-পাকিস্তান ‘অ্যাডভান্স নোটিশ অন মিলিটারি এক্সারসাইজেস, ম্যানুভার্স অ্যান্ড ট্রুপস মুভমেন্টস’ চুক্তির ১০ নম্বর অনুচ্ছেদের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে বিপজ্জনক পরিস্থিতি এড়ানো এবং আস্থা তৈরির ব্যবস্থার অংশ হিসেবেই ওই চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ। উল্লেখযোগ্যভাবে, এর আগে ২০১১ সালেও পাকিস্তানি নৌজাহাজের ঝুঁকিপূর্ণ গতিবিধি নিয়ে ভারত একই ১৯৯১ সালের চুক্তির ১০ নম্বর অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে প্রতিবাদ জানিয়েছিল।

    আন্তর্জাতিক জলসীমায় সংঘর্ষ, তদন্তের অপেক্ষা

    এবারের ঘটনাটি কোনও দেশের territorial waters-এ নয়, আন্তর্জাতিক জলসীমায় ঘটেছে। এখনও পর্যন্ত দুই নৌযানের নাম বা সংঘর্ষের ঠিক আগের পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত সরকারি তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি। পাকিস্তানের পক্ষ থেকেও বুধবার পর্যন্ত ঘটনার কোনও বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। ফলে সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ এবং দুই পক্ষের গতিবিধি নিয়ে আরও তথ্য ও তদন্তের অপেক্ষা রয়েছে।

    প্রাণহানি বা বড় ক্ষয়ক্ষতি না হলেও ভারত-পাকিস্তানের মতো সংবেদনশীল সামরিক সম্পর্কে আন্তর্জাতিক জলসীমায় দুই দেশের যুদ্ধজাহাজের এমন সংঘর্ষকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে সমুদ্রে সামরিক ইউনিটগুলির নিরাপদ দূরত্ব, যোগাযোগ এবং নির্ধারিত প্রোটোকল মেনে চলার বিষয়টি ফের সামনে এসেছে।

  • Nandigram-Reginagar By Election: নন্দীগ্রাম-রেজিনগরে উপনির্বাচন, নামছে ৭১ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী! ১০০% বুথে ওয়েব কাস্টিং

    Nandigram-Reginagar By Election: নন্দীগ্রাম-রেজিনগরে উপনির্বাচন, নামছে ৭১ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী! ১০০% বুথে ওয়েব কাস্টিং

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের দুই নজরকাড়া বিধানসভা কেন্দ্র নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচন ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করল নির্বাচন কমিশন। আগামী ৬ অক্টোবর এই দুই কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ। তার আগে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে মোট ৭১ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে নন্দীগ্রামে থাকবে ৩৭ কোম্পানি এবং রেজিনগরে ৩৪ কোম্পানি বাহিনী।

    নির্বাচন কমিশনের তরফে মঙ্গলবার রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরকে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের বিস্তারিত হিসাব জানানো হয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, শুধু কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনই নয়, নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের ১০০ শতাংশ বুথেই ওয়েব কাস্টিং করা হবে। ফলে ভোটগ্রহণের সময় বুথগুলির পরিস্থিতির উপর সরাসরি নজরদারির ব্যবস্থাও থাকছে।

    নন্দীগ্রামে ৩৭, রেজিনগরে ৩৪ কোম্পানি

    কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে মোতায়েন করা হবে ৩৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। রেজিনগরে থাকবে ৩৪ কোম্পানি। অর্থাৎ দুই কেন্দ্রে সব মিলিয়ে ৭১ কোম্পানি বাহিনী মোতায়েন থাকছে। সাধারণত এক কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনীতে প্রায় ১০০ জন অফিসার ও জওয়ান থাকেন। সেই হিসেবে দুই কেন্দ্রে কয়েক হাজার কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন।

    বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনী প্রস্তুতির অংশ হিসেবে প্রায় ১০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী আগে থেকেই রয়েছে বলে কমিশন সূত্রে খবর। সেই বাহিনীর মধ্য থেকেই নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের জন্য ৭১ কোম্পানি নির্দিষ্ট করা হয়েছে।

    ১০০ শতাংশ বুথে ওয়েব কাস্টিং

    নিরাপত্তার পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারিতেও জোর দিচ্ছে কমিশন। নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের প্রতিটি বুথে ওয়েব কাস্টিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে। নন্দীগ্রামে মোট বুথ রয়েছে ২৮২টি এবং রেজিনগরে বুথের সংখ্যা ৩১৫টি। কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যরা বুথের পাশাপাশি সংলগ্ন স্পর্শকাতর এলাকাতেও নজরদারি চালাবেন। ভোটের আগে এলাকায় রুট মার্চ এবং এরিয়া ডমিনেশনের মাধ্যমে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে নিরাপত্তার বার্তা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।

    কেন উপনির্বাচন নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে?

    এ বারের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুর—দুই কেন্দ্র থেকেই জয় পেয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। পরে ভবানীপুরের বিধায়ক হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেওয়ার পর নন্দীগ্রাম আসনটি ছেড়ে দেন তিনি। ফলে নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন প্রয়োজন হয়।

    অন্যদিকে, রেজিনগর আসনটি খালি হয়েছে আম জনতা উন্নয়ন পার্টি (এজেইউপি)-র প্রধান হুমায়ুন কবীরের পদত্যাগের পর। তিনিও রেজিনগরের পাশাপাশি নওদা কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন। পরে নওদা আসনটি রেখে রেজিনগর ছেড়ে দেন তিনি।

    তৃণমূলের প্রতীক-জটিলতায় নজর

    নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচনে রাজনৈতিক লড়াইয়ের পাশাপাশি তৃণমূলের প্রতীক নিয়েও তৈরি হয়েছে নতুন জটিলতা। জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে কালীঘাট ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়—দুই শিবিরের দাবির প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন উভয় পক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেছে। তবে প্রতীক নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি।

    এই পরিস্থিতিতেই দুই শিবির আলাদা করে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। কালীঘাট তৃণমূলের তরফে নন্দীগ্রামে সঞ্চিতা প্রধান (দে) এবং রেজিনগরে রবিউল আলম চৌধুরীকে প্রার্থী করা হয়েছে। অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবির নন্দীগ্রামে মহম্মদ এতেশামুল হক এবং রেজিনগরে সফিউদ্দিন শেখকে প্রার্থী করেছে।

    ফলে প্রতীক সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের দিকে যেমন রাজনৈতিক মহলের নজর রয়েছে, তেমনই দুই কেন্দ্রের নিরাপত্তা ও ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়াও কমিশনের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    ৬ অক্টোবর ভোট, ৯ অক্টোবর গণনা

    নির্বাচন কমিশনের নির্ঘণ্ট অনুযায়ী, নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর-সহ চার রাজ্য ও একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মোট ছয়টি বিধানসভা কেন্দ্রে আগামী ৬ অক্টোবর উপনির্বাচন হবে। ভোটগণনা হবে ৯ অক্টোবর

    নির্ঘণ্ট অনুযায়ী, আজ, ১৬ সেপ্টেম্বর মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন। ১৭ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র পরীক্ষা হবে এবং ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রার্থীরা মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে পারবেন। এরপরই দুই কেন্দ্রের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা স্পষ্ট হবে।

    নন্দীগ্রামে পুলিশ পর্যবেক্ষকের দায়িত্বে রয়েছেন হরি লাল চৌহান এবং সাধারণ পর্যবেক্ষক সন্তোষ দাস। রেজিনগরে পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসেবে রয়েছেন এম বি বোরলিঙ্গাইয়া এবং সাধারণ পর্যবেক্ষক হর্ষল পঞ্চোলী।

    নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের রাজনৈতিক গুরুত্ব এবং আসন্ন উপনির্বাচনকে ঘিরে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আবহে কমিশনের এই বিপুল নিরাপত্তা আয়োজনের ফলে ভোটের প্রস্তুতি এখন আরও তুঙ্গে।

  • Kidney disease in India: ভারতে ১৬ শতাংশ মানুষ কিডনির রোগে আক্রান্ত! কোন ৪ অভ্যাসে বাড়ছে অসুখের ঝুঁকি?

    Kidney disease in India: ভারতে ১৬ শতাংশ মানুষ কিডনির রোগে আক্রান্ত! কোন ৪ অভ্যাসে বাড়ছে অসুখের ঝুঁকি?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    ভারতে বাড়ছে কিডনির রোগ! ভারতীয়দের একাংশ ক্রনিক কিডনি ডিজিজে আক্রান্ত হচ্ছেন। কিডনির সমস্যা বয়সের সীমানায় আটকে থাকছে না। তরুণ প্রজন্মের মধ্যেও কিডনির রোগের প্রকোপ দেখা দিচ্ছে। যা নিয়ে উদ্বিগ্ন স্বাস্থ্য মহল। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, আগাম সতর্কতা না নিলে দীর্ঘ সুস্থ জীবনযাপন সম্ভব নয়। এমনকি সংসদীয় কমিটিতেও সম্প্রতি এই নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

    কেন উদ্বিগ্ন চিকিৎসক মহল?

    বিশ্বের একাধিক পরিসংখ্যান জানাচ্ছে, বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত দেশে কিডনির রোগের প্রকোপ বাড়ছে। বাদ নেই ভারতও। আধুনিক ব্যস্ত জীবনের সঙ্গী হয়ে আসছে নানান রোগ। তেমনি একটি জটিল শারীরিক সমস্যা হল কিডনির রোগ।

    কিডনির ক্রনিক অসুখে আক্রান্ত হচ্ছেন ৩০ থেকে ৮০—যেকোনও বয়সের মানুষ। কম বয়সিদের মধ্যে উদ্বেগজনক হারে কিডনির অসুখ বাড়ছে। আর তার ফলেই জটিলতা আরও বাড়ছে।

    সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান বিষয়ক পত্রিকা ‘নেফ্রোলজি’-তে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ১৬ শতাংশ ভারতীয় কিডনির অসুখে ভুগছেন। বিশ্বের মোট কিডনির অসুখে আক্রান্তের একটি বড় অংশ ভারতীয়।

    শহরের পাশাপাশি গ্রামীণ ভারতেও কিডনির অসুখের প্রকোপ মারাত্মক। গত কয়েক বছরে গ্রামে কিডনির অসুখে আক্রান্তের সংখ্যা শহুরে পরিসংখ্যানকে ছাপিয়ে গিয়েছে।

    কেন ভারতীয়দের মধ্যে কিডনির অসুখ বাড়ছে?

    ডায়াবেটিসের প্রকোপ বাড়ছে!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতীয়দের মধ্যে ডায়াবেটিসের প্রকোপ মারাত্মক। খুব কম বয়সে, এমনকি স্কুল পড়ুয়াদের মধ্যেও ডায়াবেটিসের প্রকোপ দেখা দিচ্ছে।

    ১৫ বছরের কম বয়সিদের মধ্যেও টাইপ-২ ডায়াবেটিসের দাপট উদ্বেগজনক। আর তার জেরেই কিডনির অসুখের প্রকোপও বাড়ছে।

    রক্তে শর্করার পরিমাণ বেশি থাকলে কিডনির উপর চাপ বাড়ে। কিডনির কার্যকারিতাও কমে। তাই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে কিডনির অসুখের বোঝা কমানো যাবে না।

    উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা!

    ভারতীয়দের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপের সমস্যাও বাড়ছে। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এই সমস্যা আরও বেশি।

    অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং লাগাতার মানসিক চাপের জেরেই তরুণ ভারতীয়দের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা বাড়ছে বলে চিকিৎসকদের একাংশের মত।

    উচ্চ রক্তচাপ কিডনির কার্যক্ষমতা নষ্ট করে। তাই ভারতীয়দের কিডনির রোগ বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টিও উঠে আসছে।

    অতিরিক্ত ধূমপান!

    ধূমপান একাধিক রোগের কারণ। মুখ ও গলার ক্যান্সার, ফুসফুসের একাধিক সংক্রমণ এবং ক্যান্সারের নেপথ্যে থাকে ধূমপানের মতো অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস।

    তেমনি কিডনির অসুখের কারণ হিসাবেও ধূমপানের অভ্যাসের কথা জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁদের বক্তব্য, ধূমপান স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকারক।

    বয়ঃসন্ধিকাল থেকেই অনেকের মধ্যে ধূমপানের অভ্যাস তৈরি হচ্ছে। যার ফলে পরবর্তী জীবনে একাধিক রোগ দেখা দিচ্ছে। ধূমপান কিডনির একাধিক জটিল অসুখের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

    চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অতিরিক্ত ওষুধ সেবন!

    ভারতে অন্যতম বড় অসচেতনতা হল, ইচ্ছেমতো ওষুধ খাওয়ার অভ্যাস। জ্বর, গায়ে ব্যথা, মাথা যন্ত্রণা বা হজমের গোলমাল—যে কোনও সমস্যায় অনেকে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়াই ওষুধ কিনে খান।

    দীর্ঘমেয়াদি এই অভ্যাস অত্যন্ত বিপজ্জনক বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁদের বক্তব্য, ইচ্ছেমতো ওষুধ খাওয়ার জেরে শরীরে মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে।

    বিশেষত ব্যথা কমানোর ওষুধ বা পেনকিলারের অতিরিক্ত ব্যবহারের প্রভাব কিডনির উপর পড়তে পারে। লাগামছাড়া ভাবে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়া পেনকিলারের মতো ওষুধ খেলে কিডনির অসুখের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

    কিডনির অসুখ নিয়ে কী নয়া সুপারিশ সংসদীয় কমিটির?

    সম্প্রতি সংসদীয় কমিটিতে ভারতে কিডনির অসুখের প্রকোপ বৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সেখানে কমিটির সদস্যেরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

    তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এই রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি হওয়ায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক বলেই তাঁরা জানিয়েছেন। তাঁদের পরামর্শ, কিডনির অসুখ রুখতে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা জরুরি।

    ২০ বছর বয়স থেকেই বছরে নিয়ম মেনে কিডনির পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কিডনির রোগ রয়েছে কি না, তা প্রথম পর্বেই জানা গেলে জটিলতা কমানোর সুযোগ থাকবে।

    বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, নির্দিষ্ট কিছু রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে কিডনির অসুখের প্রাথমিক ইঙ্গিত পাওয়া যায়। কিডনি ঠিকমতো ফিল্টার করতে পারছে কি না, নির্দিষ্ট কিছু শারীরিক পরীক্ষার মাধ্যমে সেটাও বোঝা সম্ভব।

    তাই কিডনির অসুখের জটিলতা রুখতে প্রতি বছর শারীরিক পরীক্ষা করানো জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    কম বয়সিদের মধ্যে কিডনির অসুখ নিয়ে বাড়তি সচেতনতা প্রয়োজন বলেই জানিয়েছে সংসদীয় কমিটি। তাঁদের বক্তব্য, ভবিষ্যতের ভারতের উন্নতির জন্য তরুণ প্রজন্মের দীর্ঘ ও সুস্থ জীবন নিশ্চিত করতে হবে।

    একদিকে রোগ নিয়ে সচেতনতা প্রয়োজন। তাহলে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমানো সম্ভব। আবার রোগ হয়েছে কি না, সেটাও যাচাই করা জরুরি। তবেই প্রাথমিক পর্ব থেকেই রোগের মোকাবিলা করা যাবে।

  • Child Nutrition: ভাত-রুটিতে পেট ভরানো নয়, চাই ‘রামধনু খাবার’! শিশুর পাতে কী কী থাকা জরুরি?

    Child Nutrition: ভাত-রুটিতে পেট ভরানো নয়, চাই ‘রামধনু খাবার’! শিশুর পাতে কী কী থাকা জরুরি?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    পুষ্টিকর খাবার সরাবরাহতেই দায়িত্ব শেষ নয়। বরং পুষ্টির সামগ্রিক দায়িত্ব অঙ্গনওয়ারি কেন্দ্রের। বিশেষত শিশু এবং মহিলাদের পুষ্টির ঘাটতির দিক বিশ্লেষণ করা, স্থানীয় খাদ্যাভ্যাস বুঝে, প্রয়োজনীয় খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া এবং স্বাস্থ্যের উন্নতির উপরে নজরদারি, এই সবকিছুই অঙ্গনওয়ারি কেন্দ্রের হাত ধরেই হবে।
    সেপ্টেম্বর মাস জাতীয় পুষ্টি মাস।‌ দেশজুড়ে স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সম্পর্কে সচেতনতা কর্মসূচি চালানো হবে। আর কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, পুষ্টি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে এবং পুষ্টি সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে সবচেয়ে অগ্রনী ভূমিকায় থাকবে অঙ্গনওয়ারি কেন্দ্র!

    কেন অঙ্গনওয়ারি কেন্দ্রগুলোকে বাড়তি গুরুত্ব?

    স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দেশ জুড়ে ১৪ লাখের বেশি অঙ্গনওয়ারি কেন্দ্র রয়েছে। এই কেন্দ্রগুলো নিয়মিত প্রায় ৮ কোটি শিশুর কাছে নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার পৌঁছে দেয়। তাই ভারতীয় শিশুদের পুষ্টির সমস্যা কমাতে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হতে পারে অঙ্গনওয়ারি কেন্দ্র। শুধু খাবার সরাবরাহের দায়িত্বেই বিষয়টি সীমাবদ্ধ না রেখে, তাই আরও বড় দায়িত্বের পথে হাঁটার পরিকল্পনা রয়েছে।
    স্বাস্থ্য প্রশাসনের একাংশ জানাচ্ছেন, পুষ্টিকর খাবার কী, কোন ধরনের খাবার খাওয়া উচিৎ, কোনটা এড়িয়ে চলা দরকার, বিশেষত, তাজা খাবার গরম রান্না করে খেলে কী ধরনের বাড়তি পুষ্টি পাওয়া যায়, এই সম্পর্কে একেবারে তৃণমূল স্তর থেকে সচেতনতা বাড়াতে সাহায্য করবে অঙ্গনওয়ারি কেন্দ্র। পাশপাশি, শিশুদের স্বাস্থ্যের উন্নতি হচ্ছে কিনা, পুষ্টি পাচ্ছে কিনা, বিকাশ সময়োপযুক্ত কিনা, সেগুলো নিয়মিত যাচাই করবে অঙ্গনওয়ারি কেন্দ্র। কারণ, তাঁদের স্থানীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ সহজ। নিয়মিত দেখা হওয়ার সুযোগ বেশি।‌
    শিশুদের পাশপাশি অঙ্গনওয়ারি কেন্দ্র থেকেই গর্ভবতী মায়েদের পুষ্টির সচেতনতা পাঠ দেওয়া হবে। মা ও গর্ভস্থ শিশুর সুস্থ জীবনের জন্য কোন ধরনের খাদ্যাভ্যাস জরুরি, সেটা বোঝানো ও সেদিকে নজরদারির দায়িত্ব থাকবে।

    শিশুর পুষ্টিতে অঙ্গনওয়ারির গুরুত্ব কতখানি?

    স্বাস্থ্য মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, সদ্যোজাত থেকে শিশুর ছ’বছর বয়স পর্যন্ত পুষ্টির অনেকটাই দায়িত্ব অঙ্গনওয়ারি কেন্দ্রের উপরে থাকছে। একবেলা খাবার দেওয়ার পাশপাশি, বিকাশের পর্যবেক্ষণ করা, অভিভাবকদের পুষ্টি সম্পর্কে সচেতন করা এবং প্রাক প্রাথমিক পর্বে শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশ কতখানি হচ্ছে, সেদিকে খেয়াল রাখার দায়িত্ব অঙ্গনওয়ারি কেন্দ্রের।
    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, শিশুর বিকাশের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ছ’মাস থেকে ছয় বছর বয়স। এই সময়ে শারীরিক বিকাশের পাশপাশি মানসিক বিকাশ হয়। যার প্রভাব সারা জীবন থাকে। পুষ্টি শুধু শরীরের জন্য নয়। মস্তিষ্কের বিকাশের জন্য পুষ্টির গুরুত্ব অপরিসীম। কারণ পর্যাপ্ত পুষ্টি না পেলে শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশ ঠিকমতো হবে না। তার বৌদ্ধিক শক্তি বিকশিত হবে না।
    তাই শিশুদের নিয়মিত কোন ধরনের খাবার দেওয়া হচ্ছে, কোথায় ঘাটতি থাকছে, কীভাবে সেই ঘাটতি কমানো যাবে, এই সবকিছুই অঙ্গনওয়ারি কেন্দ্র নজরে রাখবে। নিয়মিত প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পরামর্শ করে স্থানীয় স্তরের পুষ্টির সমস্যা সমাধান করবে।
    ভারতে শিশু পুষ্টির সবচেয়ে বড় সমস্যা সুষম খাবার দেওয়া হয় না। কার্বোহাইড্রেটের পাশাপাশি প্রোটিন, ভিটামিন এবং মিনারেল নিয়মিত শিশু শরীরে পৌঁছনো জরুরি। যা অঙ্গনওয়ারি কেন্দ্রের মাধ্যমে শিশুর কাছে সহজেই নিয়মিত পৌঁছে যায়।

    ভারতীয় শিশুর পুষ্টিতে ঘাটতি কোথায়?

    স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয় শিশুদের খাবারে পুষ্টির ঘাটতি রয়েছে। মন্ত্রকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারতের ১২ শতাংশ শিশু পেট ভরা খাবার পেলেও, পুষ্টিকর খাবার পাচ্ছে না। অর্থাৎ প্রয়োজনীয় প্রোটিন, ভিটামিন এবং মিনারেলের ঘাটতি থাকছে। সুষম খাবারের অভাব হচ্ছে। ওই পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারতের ৩৫ শতাংশ শিশুর বয়সের তুলনায় উচ্চতা কম। ভারতের ১৯ শতাংশ শিশুর উচ্চতার অনুপাতে ওজন কম। ভারতের ৩২ শতাংশ শিশু প্রয়োজনের তুলনায় কম ওজন থাকছে। এগুলো স্বাস্থ্যে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলছে। ফলে, ঠিকমতো শারীরিক ও মানসিক বিকাশ হচ্ছে না।

    পেট ভরানো নয়, পুষ্টিতে ভরপুর খাবারেই বাড়তি গুরুত্ব!

    শিশুর শরীর ও মস্তিষ্কের বিকাশের জন্য পেট ভরানো খাবারে নয়, বরং পুষ্টিকর খাবারেই বাড়তি গুরুত্ব দিতে হবে। এমনটাই পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, ভারতের খাদ্যাভ্যাস বৈচিত্র্যময়। উত্তর থেকে দক্ষিণ, পূর্ব থেকে পশ্চিম, একেকটি রাজ্যে, খাবারের ধরণ আলাদা। তাই অঙ্গনওয়ারি কেন্দ্রের দায়িত্ব, স্থানীয় খাদ্যাভ্যাসের ধরণ বুঝে, শিশুদের পুষ্টিকর খাবার নজর দেওয়া।

    ভাত কিংবা রুটির মতো খাবার বেশি দিয়ে পেট ভরিয়ে রাখলে শিশুর পুষ্টিতে ঘাটতি দেখা দেবে। এমনটাই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের পরামর্শ, শিশুকে পরিমিত পরিমাণে ভাত বা রুটি দিতে হবে। তার সঙ্গে পেট ভরানোর মতো নানান রকমের সবজি, বাদাম বা দানাশস্য জাতীয় খাবার দিতে হবে যাতে ভিটামিন ও মিনারেলের চাহিদা পূরণ হয়। আর শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান হলো প্রোটিন। তাই নিয়মিত শিশুকে প্রোটিন দিতে হবে। শিশু যাতে প্রত্যেক দিন ডিম, মাংস, মাছ, মাশরুম, পনীর কিংবা সোয়াবিনের মতো প্রোটিন জাতীয় খাবার খায়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। তবেই শিশুর বিকাশ ঠিকমতো হবে।

    পুষ্টিবিদদের পরামর্শ, শিশুর পাতে পড়বে রামধনু খাবার। অর্থাৎ, ভাত কিংবা রুটির সঙ্গে গাজর, পালং শাক, বেগুনের মতো নানান রকমের সবজি থাকবে, তার সঙ্গে ডাল থাকবে, আর থাকবে ডিম, মাংস বা পনীরের মতো প্রোটিন। নানান রকমের খাবার খেলে তবেই পুষ্টিতে ভরপুর খাবার হবে। বিকাশ ঠিকমতো হবে।

  • DRDO Junput Project: চাঁদিপুরের পাশে এবার জুনপুট! বাংলায় ডিআরডিও-র ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাকেন্দ্র ঘিরে খুলছে সম্ভাবনার নতুন দরজা

    DRDO Junput Project: চাঁদিপুরের পাশে এবার জুনপুট! বাংলায় ডিআরডিও-র ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাকেন্দ্র ঘিরে খুলছে সম্ভাবনার নতুন দরজা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পূর্ব মেদিনীপুরের উপকূলবর্তী জুনপুটে ডিআরডিও-র (DRDO) নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ও অস্ত্র পরীক্ষাকেন্দ্র তৈরির উদ্যোগ এবার বাস্তবায়নের পথে। রাজ্য সরকারের অনুমোদন মেলার পর এই প্রকল্প ঘিরে নতুন করে তৈরি হয়েছে প্রত্যাশা। প্রতিরক্ষা গবেষণা ও পরীক্ষার ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গের গুরুত্ব বাড়ানোর পাশাপাশি পূর্ব মেদিনীপুরের শিল্প, পরিকাঠামো, কর্মসংস্থান এবং স্থানীয় অর্থনীতিতেও এই প্রকল্প দীর্ঘমেয়াদে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে প্রশাসনিক মহলের একাংশের মত।

    চাঁদিপুরের বিকল্প নয়, পরিপূরক পরিকাঠামো

    ওড়িশার চাঁদিপুরে থাকা ডিআরডিও-র ইন্টিগ্রেটেড টেস্ট রেঞ্জ (ITR)-এর পরিপূরক হিসেবে জুনপুটে এই নতুন পরীক্ষাকেন্দ্র গড়ে তোলার প্রস্তাব করা হয়েছিল। ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে ডিআরডিও এই প্রকল্পের জন্য উদ্যোগ নেয় বলে জানা গিয়েছে। বঙ্গোপসাগরের উপকূলবর্তী এলাকায় পরীক্ষাকেন্দ্রটি তৈরি হলে ক্ষেপণাস্ত্র, রাডার এবং বিভিন্ন আধুনিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির পরীক্ষা চালানোর ক্ষেত্রে দেশের পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী হবে।

    বর্তমানে দেশের অন্যতম প্রধান ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষণ পরিকাঠামো রয়েছে ওড়িশার ইন্টিগ্রেটেড টেস্ট রেঞ্জে। চাঁদিপুর-অন-সি এলাকায় লঞ্চ কমপ্লেক্স-III এবং ওড়িশা উপকূলের কাছে লঞ্চ কমপ্লেক্স-IV-এর মাধ্যমে বিভিন্ন পরীক্ষা পরিচালিত হয়। সেই ব্যবস্থার পাশাপাশি জুনপুটে নতুন পরিকাঠামো তৈরি হলে পরীক্ষার পরিধি বাড়ানো এবং বিদ্যমান পরিকাঠামোর উপর চাপ কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

    দিঘা থেকে জুনপুটের দূরত্ব প্রায় ৪০-৪৫ কিলোমিটার। কৌশলগত অবস্থানের দিক থেকেও বঙ্গোপসাগরের উপকূলবর্তী এই এলাকা প্রতিরক্ষা পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

    জমি-জট কাটিয়ে মিলল অনুমোদন

    এই প্রকল্প নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক জটিলতার অভিযোগ ছিল। সূত্রের দাবি, প্রয়োজনীয় জমি সংক্রান্ত জটিলতার কারণে প্রকল্পের কাজ এগোয়নি। বর্তমানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রকল্পটিতে অনুমোদন দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। একটি অনুষ্ঠানে তিনি জানান, ডিআরডিও-র তরফে প্রকল্প নিয়ে চিঠি এলেও আগের সরকারের সময়ে তার জবাব দেওয়া হয়নি। তাঁর কথায়, “আমি অনুমোদন দিয়েছি। পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়নের জন্য এটি একটি বড় প্রকল্প হবে।”

    অন্যদিকে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও প্রকল্পটি নিয়ে সরব হয়েছেন। তাঁর দাবি, আগে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিকিরণ ও অসুস্থতার আশঙ্কা তৈরি করে পরিকল্পিতভাবে প্রকল্পে বাধা দেওয়া হয়েছিল। তিনি জানিয়েছেন, জুনপুট প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের বিষয়টি তিনি রাজ্যসভাতেও তুলেছিলেন এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন।

    পাশাপাশি পূর্বতন তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্প আটকে রাখার অভিযোগও করেছেন শমীক ভট্টাচার্য। যদিও এই রাজনৈতিক অভিযোগ নিয়ে তৃণমূলের বক্তব্য এখানে পাওয়া যায়নি।

    শুধু ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা নয়, বদলাতে পারে শিল্পের ছবিও

    জুনপুটে ডিআরডিও-র পরীক্ষাকেন্দ্র তৈরি হলে এর প্রভাব শুধু প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ থাকবে না বলেই মনে করা হচ্ছে। সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে স্থানীয় ও সহযোগী শিল্পের ক্ষেত্রে।

    ডিআরডিও-র মতো কৌশলগত জাতীয় সংস্থার পরিকাঠামোকে কেন্দ্র করে যন্ত্রাংশ নির্মাণ, ধাতব কাঠামো, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ছোট ও মাঝারি শিল্প সংস্থার জন্য নতুন বাজার তৈরি হতে পারে। প্রতিরক্ষা সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে স্থানীয় শিল্পের সংযোগ তৈরি হলে পূর্ব মেদিনীপুরে শিল্পভিত্তিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও বাড়তে পারে।

    এর সঙ্গে যুক্ত হতে পারে হলদিয়া শিল্পাঞ্চল ও বন্দর। জুনপুট-হলদিয়া অঞ্চলের ভৌগোলিক নৈকট্য কাজে লাগিয়ে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম, যন্ত্রাংশ ও প্রয়োজনীয় উপকরণের উৎপাদন, পরিবহণ এবং সরবরাহের জন্য ভবিষ্যতে একটি সমন্বিত শিল্পভিত্তি গড়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে।

    বাড়তে পারে কর্মসংস্থান, পরিকাঠামোয় বিনিয়োগ

    প্রস্তাবিত কেন্দ্রকে ঘিরে প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থানের পাশাপাশি পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হতে পারে। প্রযুক্তিবিদ, দক্ষ কারিগর, তথ্যপ্রযুক্তি ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞের পাশাপাশি নির্মাণ, পরিবহণ, নিরাপত্তা এবং বিভিন্ন পরিষেবা ক্ষেত্রে কাজের সুযোগ বাড়তে পারে।

    কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই ধরনের পরিকাঠামো গড়ে উঠলে রাস্তা, বিদ্যুৎ, যোগাযোগ এবং পরিবহণ ব্যবস্থার উন্নয়নেও বিনিয়োগ বাড়ার সম্ভাবনা থাকে। স্থানীয় ব্যবসা, আবাসন, পরিষেবা এবং অন্যান্য সহযোগী ক্ষেত্রেও তার প্রভাব পড়তে পারে।

    গবেষণায় নতুন দরজা

    জুনপুট প্রকল্পের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাব্য দিক হল উচ্চপ্রযুক্তি গবেষণা। ভবিষ্যতে রাজ্যের প্রযুক্তি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয় এবং গবেষণা কেন্দ্রগুলির সঙ্গে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, সেন্সর, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও উন্নত উপকরণ নিয়ে গবেষণার সহযোগিতা তৈরি হতে পারে।

    সব মিলিয়ে, জুনপুটের ডিআরডিও পরীক্ষাকেন্দ্রকে শুধুমাত্র একটি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার পরিকাঠামো হিসেবে দেখলে এর সম্ভাব্য প্রভাবের পরিধি ছোট করে দেখা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পশ্চিমবঙ্গের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে কৌশলগত গুরুত্ব বাড়ার পাশাপাশি জুনপুট-হলদিয়া করিডরকে ঘিরে নতুন শিল্প ও বিনিয়োগের সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে। আগামী কয়েক বছরে প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি এবং তার সঙ্গে যুক্ত শিল্পনীতিই ঠিক করবে, এই সম্ভাবনা কতটা বাস্তবে রূপ নেয়।

  • Operation Sindoor: ৩১৪ কিমি দূর থেকে নিখুঁত আঘাত! কীভাবে সম্ভব হয়েছিল এস-৪০০-এর ‘লংগেস্ট কিল’? অপারেশন সিঁদুরের অজানা তথ্য প্রকাশ কেন্দ্রের

    Operation Sindoor: ৩১৪ কিমি দূর থেকে নিখুঁত আঘাত! কীভাবে সম্ভব হয়েছিল এস-৪০০-এর ‘লংগেস্ট কিল’? অপারেশন সিঁদুরের অজানা তথ্য প্রকাশ কেন্দ্রের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার জবাব দিতে শুরু হয়েছিল ‘অপারেশন সিঁদুর’। প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল ভারতে হামলার সঙ্গে যুক্ত জঙ্গি পরিকাঠামো ধ্বংস করা। কিন্তু পাকিস্তান পাল্টা সামরিক আক্রমণ শুরু করতেই সংঘাতের পরিধি বাড়ে। এরপর পাকিস্তানের সামরিক পরিকাঠামোকেই নিশানা করে অভিযান চালায় ভারতীয় বায়ুসেনা (আইএএফ)। এবার প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের ২০২৫-২৬ সালের বার্ষিক রিপোর্টে সেই অভিযানের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ্যে এল।

    ২২ এপ্রিল ২০২৫ পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলায় ২৬ জনের মৃত্যু হয়। তার পর ৭ মে পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীরে ৯টি জঙ্গি ঘাঁটিতে নির্ভুল হামলা চালায় ভারত। পাকিস্তান পাল্টা ভারতীয় সামরিক ও অসামরিক পরিকাঠামোয় হামলা চালালে শুরু হয় তীব্র চার দিনের সামরিক সংঘাত। ১০ মে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়।

    ফাইটার জেট, এডব্লিউঅ্যান্ডসি ও ড্রোন ঘাঁটিতে হামলা

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের রিপোর্ট অনুযায়ী, ১০ মে পাকিস্তানের চারটি বিমান হ্যাঙ্গারকে নিশানা করে আইএএফ। সেখানে যুদ্ধবিমান, এডব্লিউঅ্যান্ডসি (এয়ারবোর্ন আর্লি ওয়ার্নিং অ্যান্ড কন্ট্রোল) প্ল্যাটফর্ম এবং আনম্যানড কমব্যাট এরিয়াল ভেহিকল (ইউসিএভি) রাখা ছিল।

    রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, জ্যাকোবাবাদে একাধিক এফ-১৬, একটি এডব্লিউঅ্যান্ডসি বিমান এবং আকিঞ্চি ও টিবি-২ শ্রেণির একাধিক ইউসিএভি ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পাক বায়ুসেনার কয়েকজন কর্মীর মৃত্যুর কথাও রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। জ্যাকোবাবাদ ছাড়াও ভোলারি, সুক্কুর ও মুরিদে থাকা হ্যাঙ্গারও হামলার নিশানায় ছিল।

    রানওয়েতেও নির্ভুল আঘাত

    পাকিস্তানের সারগোধা এবং রহিম ইয়ার খান সামরিক বিমানঘাঁটির রানওয়েতেও হামলা চালায় আইএএফ। লক্ষ্য ছিল রানওয়ের কার্যক্ষমতা ব্যাহত করে ওই ঘাঁটিগুলিকে লাগাতার সামরিক অভিযানের জন্য ব্যবহার করা কঠিন করে দেওয়া। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের রিপোর্টে এই হামলার নির্ভুলতাকে ১৯৭১ সালের যুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানের বিমানঘাঁটি নিষ্ক্রিয় করার আইএএফের অভিযানের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।

    পাকিস্তানের এয়ার ডিফেন্স কমান্ডেও আঘাত

    শুধু বিমান বা রানওয়ে নয়, পাকিস্তানের কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল পরিকাঠামোকেও নিশানা করা হয়। রিপোর্ট অনুযায়ী, চক্লালা এবং মুরিদে থাকা কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার ধ্বংস করা হয়। বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ ছিল চক্লালার পরিকাঠামো, কারণ সেখানে পাকিস্তান বায়ুসেনার এয়ার ডিফেন্স কমান্ডের সদর দফতর ছিল।অর্থাৎ, ভারতীয় হামলার লক্ষ্য ছিল শুধু পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান ধ্বংস করা নয়; বরং শত্রুপক্ষের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পরিচালনা ও সমন্বয়ের পরিকাঠামোকেও দুর্বল করে দেওয়া।

    আকাশ প্রতিরক্ষায় আইএসিসিএস-এর বড় ভূমিকা

    অপারেশন সিঁদুরে ভারতের নিজস্ব ইন্টিগ্রেটেড এয়ার কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম (আইএসিসিএস) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের দাবি, সামরিক ও অসামরিক সমস্ত নজরদারি সেন্সরকে এই ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করে একটি ‘কমন রিকগনাইজড এয়ার সিচুয়েশন পিকচার’ তৈরি করা হয়েছিল। একাধিক আইএএফ নেটওয়ার্কড ট্যাকটিক্যাল নোডের মাধ্যমে আকাশপথের লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত ও শ্রেণিবদ্ধ করা হয়।

    ৩১৪ কিলোমিটার দূর থেকে ‘এস-৪০০ কিল’!

    অপারেশন সিঁদুর সংক্রান্ত রিপোর্টের সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য সম্ভবত এই ঘটনাটিই। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, একটি এস-৪০০ ইউনিট ৩১৪ কিলোমিটার দূর থেকে পাকিস্তানের একটি স্পেশাল-মিশন বিমানকে ধ্বংস করেরিপোর্টে এটিকে ‘লংগেস্ট সারফেস-টু-এয়ার কিল’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

    এই ঘটনা ভারতের দীর্ঘপাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রদর্শন বলে দাবি করেছে মন্ত্রক। রিপোর্টের ভাষ্য অনুযায়ী, ভারতীয় রেডার নীরবে লক্ষ্যবস্তুটি ট্র্যাক করে এবং এস-৪০০-এর দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রকে তার ‘ফার বাউন্ডারি’ পর্যন্ত পরিচালিত করা হয়। অর্থাৎ, নজরদারি, ট্র্যাকিং, কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল এবং দীর্ঘপাল্লার ইন্টারসেপশন—এই গোটা ব্যবস্থার সমন্বয়েই ওই হামলা সম্ভব হয়।

    বায়ুসেনার সদস্যদের সম্মান

    অপারেশন সিঁদুরের পর ১২ মে ২০২৫ এয়ারফোর্স স্টেশন আদমপুরে গিয়ে বায়ুসেনার জওয়ানদের সঙ্গে দেখা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁদের সাহস ও ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি। পরে ১৫ অগস্ট ২০২৫ অপারেশন সিঁদুরে সাহসিকতা ও দৃঢ়তার জন্য ভারতীয় বায়ুসেনার ২১৯ জন সদস্যকে প্রেসিডেন্টস গ্যালান্ট্রি অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়।

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের এই রিপোর্ট থেকে স্পষ্ট, অপারেশন সিঁদুর শুধু জঙ্গি ঘাঁটিতে সীমাবদ্ধ ছিল না। সংঘাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাকিস্তানের বিমানঘাঁটি, রানওয়ে, যুদ্ধবিমান, ড্রোন পরিকাঠামো এবং এয়ার ডিফেন্স কমান্ড—সমগ্র সামরিক নেটওয়ার্ককেই চাপে ফেলার কৌশল নিয়েছিল ভারত।

  • West Bengal Dengue: জ্বর কমলেই সাবধান! ডেঙ্গির ‘বিপজ্জনক সময়’ কখন, কী কী লক্ষণে সতর্ক হবেন? জানুন

    West Bengal Dengue: জ্বর কমলেই সাবধান! ডেঙ্গির ‘বিপজ্জনক সময়’ কখন, কী কী লক্ষণে সতর্ক হবেন? জানুন

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    অগাস্ট মাসেই বিপদের ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিলো। সেপ্টেম্বরে পরিস্থিতি যথেষ্ট উদ্বেগজনক। এলাকার অবস্থা বিশ্লেষণ করে, রোগ মোকাবিলা করতে না পারলে, বিপদ আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। রাজ্য জুড়ে ডেঙ্গির দাপট অব্যাহত। বিশেষত কয়েকটি জেলায় ডেঙ্গি সংক্রমণের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। তাই স্বাস্থ্য দফতরের তরফে বাড়তি সক্রিয়তা নেওয়া হয়েছে। নিয়মিত বুলেটিন প্রকাশ করে রাজ্যের ডেঙ্গি পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য দেওয়া হচ্ছে। রাজ্যবাসীকে ডেঙ্গি মোকাবিলায় প্রস্তুত করাও হচ্ছে।

    কোথায় বাড়তি বিপদ?

    স্বাস্থ্য দফতরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে সেপ্টেম্বরের প্রথম ১২ দিনে পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন। যা যথেষ্ট উদ্বেগের বলেই মনে করছেন স্বাস্থ্য কর্তারা।
    স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে জানা গিয়েছে, মুর্শিদাবাদ, কলকাতা, উত্তর চব্বিশ পরগনা এবং নদিয়া জেলায় ডেঙ্গি পরিস্থিতি সবচেয়ে উদ্বেগজনক। পাশপাশি মালদা, হাওড়া, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা এবং হুগলি জেলাতেও ডেঙ্গি ক্রমশ বাড়ছে।
    স্বাস্থ্য কর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গি আক্রান্ত জেলা হল মুর্শিদাবাদ। এই জেলায় গত বারো দিনে এক হাজারের বেশি মানুষ ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন। মুর্শিদাবাদের পরেই ডেঙ্গিপ্রবণ এলাকা হিসাবে রাজ্যে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে কলকাতা। কলকাতায় সেপ্টেম্বর মাসে প্রায় ৬০০ মানুষ ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন। তৃতীয় স্থানে রয়েছে উত্তর চব্বিশ পরগনা। এই জেলায় চলতি মাসে প্রায় ৫৫০ জন ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন। এরপরেই উদ্বেগ বাড়াচ্ছে নদিয়া। এই জেলাতেও ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। সেপ্টেম্বর মাসে নদিয়া জেলায় ৪৫০ জন ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন।
    বিপদ বাড়ছে মালদা, হাওড়া, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা এবং হুগলি জেলাতেও। স্বাস্থ্য ভবনের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়েই এই চার জেলাতেও আক্রান্তের সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে। যার জেরে উদ্বিগ্ন স্বাস্থ্য প্রশাসন।

    পরিস্থিতি কখন বাড়তি বিপজ্জনক হয়ে উঠছে?

    ডেঙ্গি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পারলে রাজ্য জুড়ে বিপদ আরও বাড়বে বলেই আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকেরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, ডেঙ্গি প্রতিরোধ ছাড়া আর কোনও উপায় নেই।
    তাঁরা জানাচ্ছেন, জ্বর কমার পরেই ডেঙ্গি বাড়তি বিপদ তৈরি করে। ডেঙ্গি শক সিন্ড্রোম সবচেয়ে বেশি গুরুতর হয়ে যায় ডেঙ্গি আক্রান্তের শরীরের তাপ স্বাভাবিক হওয়ার পরে। তাই ডেঙ্গি নিয়ে বাড়তি নজরদারি না রাখলেই, মৃত্যুর আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।
    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, যে সব এলাকায় ডেঙ্গি সংক্রমণ বেশি হচ্ছে, সেখানে জনসচেতনতা আরও বেশি জরুরি। মশাবাহিত রোগ রুখতে সমস্ত রকমের প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। আশপাশ পরিষ্কার রাখা যেমন জরুরি, তেমনি সামান্য জ্বর হলেও দ্রুত বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মতো রক্ত পরীক্ষা করিয়ে, রোগ নির্ণয় প্রয়োজন।
    দ্বিতীয় বার ডেঙ্গি আক্রান্ত হলে তাঁর বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, প্রথমের তুলনায় দ্বিতীয় বার আক্রান্ত হলে ডেঙ্গি বেশি বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। তাই যাদের একবার ডেঙ্গি সংক্রমণ হয়েছে, এই মরশুমে, তাদের বাড়তি সাবধানতা অবলম্বন জরুরি। সংক্রমণ হলে, জ্বর কমলে তারপরে পেটে ব্যথা করছে কিনা, মল-মূত্র ত্যাগ স্বাভাবিক হচ্ছে কিনা, বমি পাচ্ছে কিনা, এই দিনগুলোতে নজর দেওয়া জরুরি। তাঁরা জানাচ্ছেন, ডেঙ্গি একাধিক অঙ্গের ক্ষতি করে। এই উপসর্গগুলো জানান দেয়, শরীরে ডেঙ্গি কতখানি প্রভাব ফেলেছে। আগাম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে, প্রাণ সংশয়ও তৈরি হতে পারে।

    কীভাবে এই পরিস্থিতি সামলাবেন?

    চিকিৎসকদের পরামর্শ, ডেঙ্গি পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রথমেই সচেতনতা জরুরি। মশার বংশবিস্তার আটকাতে পারলে, তবেই ডেঙ্গির প্রকোপ কমবে। তাই জমা জল পরিষ্কার করতেই হবে। চৌবাচ্চায় জল জমিয়ে রাখা যাবে না। বাড়ির ছাদ এবং বাগানে আবর্জনা রাখা চলবে না। টবে জল জমেছে কিনা সেটা দেখতে হবে। নিয়মিত বাড়ির আশপাশের এলাকা পরিষ্কারে নজর দিতে হবে। এর পাশপাশি এলাকায় ডেঙ্গি সংক্রমণ বাড়লে, প্রশাসনকে সবরকম সাহায্য করতে হবে। তথ্য জানাতে হবে। যাতে প্রশাসনের কাজে সুবিধা হয়।
    তবে একাধিকবার ডেঙ্গি আক্রান্ত হলে আরও বেশি সতর্ক থাকতে হবে। যাতে পরিস্থিতি কখনওই বিপজ্জনক হয়ে না‌ ওঠে। সেদিকে নজর দিতে হবে। শিশুদের জন্য বাড়তি সচেতনতা জরুরি। কারণ স্কুল থেকে অধিকাংশ সময়ে শিশুরা ডেঙ্গি আক্রান্ত হচ্ছে। তাই স্কুল কর্তৃপক্ষকেও ডেঙ্গি নিয়ে নজরদারি বাড়াতে হবে।

  • Mohsin Naqvi: এশিয়া কাপ জিতেও ট্রফি নিল না ভারতীয় মহিলা দল! কেন এমন সিদ্ধান্ত, মুখ খুলল বিসিসিআই

    Mohsin Naqvi: এশিয়া কাপ জিতেও ট্রফি নিল না ভারতীয় মহিলা দল! কেন এমন সিদ্ধান্ত, মুখ খুলল বিসিসিআই

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শ্রীলঙ্কাকে ৭২ রানে হারিয়ে রেকর্ড অষ্টমবার মহিলা এশিয়া কাপ জিতেছে ভারত। কিন্তু দুবাইয়ে ট্রফি হাতে নিয়ে উদযাপনের বদলে তৈরি হল অন্য ছবি। এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল (ACC)-এর সভাপতি তথা পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (PCB) প্রধান মোহসিন নাকভির কাছ থেকে ট্রফি নেননি হরমনপ্রীত কৌরের দল। এবার সেই সিদ্ধান্তের কারণ স্পষ্ট করল বিসিসিআই।

    বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া জানিয়েছেন, পুরুষদের এশিয়া কাপের ট্রফি নিয়ে তৈরি হওয়া অমীমাংসিত পরিস্থিতির সঙ্গে মহিলা দলের সিদ্ধান্তের সরাসরি যোগ রয়েছে। ২০২৫ সালে এশিয়া কাপ জিতেও এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে সেই ট্রফি হাতে পায়নি ভারতীয় পুরুষ দল। সেই অবস্থানে কোনও পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত মহিলা দলও একই অবস্থান বজায় রাখার সিদ্ধান্ত নেয়।

    সাইকিয়ার বক্তব্য, ২০২৫ সালের এপ্রিলের পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার পর ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের পরিস্থিতি বদলে গিয়েছে। সরকারি নীতির কারণে বহুদেশীয় প্রতিযোগিতায় পাকিস্তানের বিরুদ্ধে খেললেও, তার অর্থ এই নয় যে প্রতিপক্ষের সমস্ত শর্ত মেনে নিতে হবে। তাঁর কথায়, দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করা কোনও ব্যক্তির কাছ থেকে ভারত ট্রফি গ্রহণ করতে পারে না। মহিলা দলও পুরুষ দলের গত বছরের অবস্থানের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

    নাকভির বদলে অন্য কাউকে চেয়েছিল বিসিসিআই

    বিসিসিআই অবশ্য সরাসরি ট্রফি বিতর্কে যেতে চায়নি। পরিস্থিতি এড়াতে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের ডেপুটি চেয়ারম্যান খালিদ আল জারুনিকে দিয়ে ট্রফি তুলে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছেন সাইকিয়া। কিন্তু সেই প্রস্তাব কার্যকর হয়নি।

    এরপর মূল মঞ্চের পরিবর্তে আলাদা জায়গায় ভারতীয় দলের পদক বিতরণ হয়। সেখানে বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া এবং সহ-সভাপতি রাজীব শুক্ল উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে, মোহসিন নাকভি শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক চামারি আতাপাত্থুকে রানার্স-আপের চেক দেওয়ার পর মঞ্চ ছেড়ে চলে যান।

    ট্রফির থেকেও বড় ছিল ভারতের অবস্থান?

    ঘটনাটি নিছক একটি ট্রফি গ্রহণ না করার বিষয় নয়। বিসিসিআইয়ের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, পুরুষ ও মহিলা—দুই দলের ক্ষেত্রেই একই অবস্থান বজায় রেখে ভারত একটি কূটনৈতিক বার্তা দিতে চেয়েছে। একই সঙ্গে সাইকিয়া জোর দিয়ে বলেছেন, এর সঙ্গে ভারতীয় মহিলা দলের ঐতিহাসিক সাফল্যের কোনও সম্পর্ক নেই।

    ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে ৭২ রানে হারিয়ে ভারত অপরাজিতভাবেই শিরোপা জিতেছে। ফলে ট্রফি বিতর্কের আড়ালে দলের পারফরম্যান্স যেন ঢাকা না পড়ে, সেটিও স্পষ্ট করেছেন বিসিসিআই সচিব। তাঁর দাবি, মহিলা ক্রিকেটের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা এবং ভারতের আধিপত্যের সবচেয়ে বড় প্রমাণ এই এশিয়া কাপ জয়।

    সাইকিয়ার কথায়, “এটা আমাদের দলের পারফরম্যান্সকে কোনওভাবেই ছোট করে না।” একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, পুরুষদের এশিয়া কাপের ট্রফিও ভারত পাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। দুই ট্রফিই শেষ পর্যন্ত ভারতের হাতে ফিরবে—এমন আশাও প্রকাশ করেছেন তিনি।

    অর্থাৎ, মহিলা এশিয়া কাপের ট্রফি গ্রহণ না করার সিদ্ধান্তটি তাৎক্ষণিক আবেগের নয়; বরং গত বছর থেকে চলে আসা বিসিসিআইয়ের অবস্থানের ধারাবাহিকতা এবং পুরুষ দলের সঙ্গে সংহতির প্রকাশ।

  • Ganesh Chaturthi 2026: আজ গণেশ চতুর্থী! সঙ্কটমোচকের পুজোয় এই নিয়মগুলি মানুন, দূর্বা নিবেদনের বিশেষ বিধি জানুন

    Ganesh Chaturthi 2026: আজ গণেশ চতুর্থী! সঙ্কটমোচকের পুজোয় এই নিয়মগুলি মানুন, দূর্বা নিবেদনের বিশেষ বিধি জানুন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সিদ্ধিদাতা গণেশকে বলা হয় সঙ্কটমোচক। জীবনের নানা বাধা-বিঘ্ন দূর করে সুখ, সমৃদ্ধি ও শান্তির পথ প্রশস্ত করেন গণপতি বাপ্পা—এমনই বিশ্বাস ভক্তদের। আজ, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর গণেশ চতুর্থী (Ganesh Chaturthi 2026)। ভাদ্রপদ মাসের শুক্লপক্ষের চতুর্থী তিথিতে দেশজুড়ে সাড়ম্বরে পালিত হচ্ছে গণেশ উৎসব। বাড়ি থেকে শুরু করে মণ্ডপ—সর্বত্রই আজ গণপতির আরাধনায় মেতে উঠেছেন ভক্তরা।

    হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে গণেশ চতুর্থীর বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। বিশ্বাস করা হয়, এদিন নিষ্ঠাভরে গণপতির পুজো করলে জীবনের বাধা-বিপত্তি দূর হয়, মানসিক শান্তি আসে এবং সংসারে সুখ-সমৃদ্ধি বৃদ্ধি পায়। অনেকেই সিদ্ধিদাতা গণেশের কাছে নিজেদের কষ্ট ও সমস্যার কথা জানিয়ে তাঁর আশীর্বাদ প্রার্থনা করেন।

    ২০২৬ গণেশ পুজোর তিথি

    ২০২৬ সালে গণেশ চতুর্থী পালিত হচ্ছে ১৪ সেপ্টেম্বর, সোমবার। পঞ্জিকা অনুযায়ী, চতুর্থী তিথি শুরু হয়েছে ১৪ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টা ৬ মিনিটে এবং শেষ হবে ১৫ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টা ৪৪ মিনিটে। কলকাতায় গণেশ পুজোর মধ্যাহ্নকালীন শুভ সময় সকাল ১০টা ১৮ মিনিট থেকে দুপুর ১২টা ৪৬ মিনিট। গণেশ চতুর্থী থেকেই শুরু হয় গণেশোৎসব। সাধারণভাবে এই উৎসব চলে ১০ দিন ধরে এবং অনন্ত চতুর্দশীর দিন গণেশ বিসর্জনের মাধ্যমে উৎসবের সমাপ্তি হয়। ২০২৬ সালে অনন্ত চতুর্দশী ও গণেশ বিসর্জন হবে ২৫ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার। অবশ্য বিভিন্ন পরিবার ও পুজো কমিটির রীতি অনুযায়ী একদিন, তিনদিন, পাঁচদিন বা সাতদিন পরেও গণেশ বিসর্জন করা হয়। এই কয়েক দিন ভক্তরা পুজো, উপবাস, প্রার্থনা, আরতি, ভজন, সঙ্গীত ও নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে গণপতির আরাধনা করেন।

    গণেশ উৎসবের সঙ্গে জাতীয়তাবোধের যোগ

    ভারতের সামাজিক ও জাতীয়তাবাদী ইতিহাসের সঙ্গেও গণেশ উৎসবের একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগ রয়েছে। মহারাষ্ট্রে লোকমান্য বাল গঙ্গাধর তিলক ঔপনিবেশিক ভারতে গণেশ উৎসবকে বৃহত্তর জনসমাবেশ ও সামাজিক ঐক্যের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে জনপ্রিয় করে তুলেছিলেন। ব্যক্তিগত পরিসরের পুজোকে তিনি সর্বজনীন উৎসবের রূপ দেন। এর ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে সামাজিক ও জাতীয় চেতনা জাগরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র তৈরি হয়। মহারাষ্ট্রের গণেশোৎসবের ঐতিহাসিক ধারায় ছত্রপতি শিবাজি মহারাজের সময়ের গণেশ আরাধনার কথাও বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সূত্রে উল্লেখ করা হয়। তবে সর্বজনীন গণেশোৎসবকে ব্যাপক জনপ্রিয় করে তোলার ক্ষেত্রে তিলকের ভূমিকা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

    গণেশ চতুর্থীর তাৎপর্য কী?

    পুরাণকথা অনুযায়ী, ভাদ্রপদ মাসের শুক্লপক্ষের চতুর্থী তিথিতেই দেবী পার্বতীর পুত্র গণেশের আবির্ভাব। দেবতাদের মধ্যে গণেশকে প্রথম পূজিত হওয়ার বর দেওয়া হয়েছিল বলে বিশ্বাস। সেই কারণেই কোনও শুভ কাজ, পুজো বা ধর্মীয় আচার শুরু করার আগে প্রথমে গণেশের পুজো করার রীতি রয়েছে।

    গণেশকে জ্ঞান, বুদ্ধি, সিদ্ধি, সমৃদ্ধি ও সৌভাগ্যের দেবতা হিসেবে মানা হয়। তাই গণেশ চতুর্থী শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, ভক্তদের কাছে নতুন কাজের সূচনা, বাধা কাটানো এবং শুভ শক্তির আহ্বানের দিনও।গণেশ চতুর্থী বিনায়ক চতুর্থী নামেও পরিচিত। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, চতুর্থী থেকে অনন্ত চতুর্দশী পর্যন্ত গণপতির আরাধনা করা হয়। বাড়ি ও প্যান্ডেলে গণেশের মূর্তি প্রতিষ্ঠা করে চলে বিশেষ পুজো ও নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠান।

    গণেশ চতুর্থীর পুজো-বিধি

    গণেশ চতুর্থীর দিন সকালে স্নান সেরে পরিষ্কার পোশাক পরে বাড়ির মন্দিরে প্রদীপ জ্বালিয়ে পুজো ও ব্রতের সঙ্কল্প নেওয়া হয়। শুভ সময়ে গণেশের মূর্তি প্রতিষ্ঠা করা হয়। এরপর গণেশের মূর্তিতে জল বা গঙ্গাজল দিয়ে অভিষেক করে ফুল, দূর্বা, সিঁদুর ও অন্যান্য পুজোর সামগ্রী নিবেদন করা হয়। গণেশের অত্যন্ত প্রিয় বলে মনে করা হয় দূর্বা ঘাসকে। পুজোয় মোদক বা লাড্ডুও নিবেদন করা হয়। শেষে গণেশের আরতি করে প্রণাম ও প্রার্থনা করা হয় এবং প্রসাদ বিতরণ করা হয়।

    গণেশ পুজোয় দূর্বা কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

    শাস্ত্রীয় ও লোকাচারগত বিশ্বাস অনুযায়ী, দূর্বা ছাড়া গণেশের পুজো অসম্পূর্ণ বলে মনে করা হয়। সিদ্ধিদাতাকে দূর্বা নিবেদন করলে তিনি দ্রুত প্রসন্ন হন এবং ভক্তের বাধা-বিপত্তি দূর করেন—এমন বিশ্বাস প্রচলিত। প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, দূর্বা সাধারণত জোড়ায় জোড়ায় নিবেদন করা হয়। দুটি দূর্বা একসঙ্গে নিয়ে একটি গাঁট তৈরি করে গণপতিকে অর্পণ করা হয়। ২২টি দূর্বা দিয়ে ১১ জোড়া তৈরি করে নিবেদন করার রীতিও রয়েছে। তা সম্ভব না হলে ৩ বা ৫ গাঁট দূর্বাও নিবেদন করা যায় বলে প্রচলিত বিশ্বাস।

    গণেশ পুজোয় তুলসী পাতা দেওয়া হয় না কেন?

    গণেশ পুজোর অন্যতম প্রচলিত নিয়ম হল তুলসী পাতা ব্যবহার না করা। পুরাণকথার সঙ্গে যুক্ত একটি প্রচলিত কাহিনির কারণে গণেশকে তুলসী নিবেদন না করার রীতি রয়েছে। অন্যদিকে দূর্বা, ফুল, সিঁদুর এবং মোদক গণপতির পুজোয় বিশেষ গুরুত্ব পায়। পুজোর সময় সাদা বা হলুদ পোশাক পরার রীতিও অনেক জায়গায় প্রচলিত। কালো পোশাক এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়।

    গণেশ চতুর্থীতে চাঁদ দেখা নিষেধ কেন?

    গণেশ চতুর্থীর সঙ্গে চাঁদ না দেখার একটি প্রচলিত ধর্মীয় বিশ্বাস জড়িয়ে রয়েছে। পুরাণকথা অনুযায়ী, চন্দ্রদেব গণেশের রূপ নিয়ে উপহাস করেছিলেন। সেই ঘটনার পর গণেশের অভিশাপের সঙ্গে চাঁদ দেখার বিষয়টি যুক্ত হয়েছে বলে লোকবিশ্বাস। এই কারণেই গণেশ চতুর্থীর দিন বিশেষ করে সন্ধ্যার সময়ে চাঁদ না দেখার রীতি রয়েছে। ২০২৬ সালে কলকাতার ক্ষেত্রে সকাল ১০টা ১৮ মিনিট থেকে রাত ৮টা ৩৩ মিনিট পর্যন্ত চাঁদ দেখা এড়িয়ে চলার সময় হিসেবে পঞ্জিকায় উল্লেখ করা হয়েছে।

    গণেশ চতুর্থীর ব্রত কীভাবে করবেন?

    গণেশ চতুর্থীর দিন সকালে স্নান করে শুদ্ধ মনে ব্রতের সঙ্কল্প নেওয়া হয়। গণেশের মূর্তিতে সিঁদুর অর্পণ করে লাড্ডু বা মোদক নিবেদন করার রীতি রয়েছে। প্রচলিত একটি রীতিতে ২১টি লাড্ডু নিবেদনের কথা বলা হয়। এর মধ্যে কয়েকটি গণেশের সামনে রেখে বাকি লাড্ডু ব্রাহ্মণ বা ভক্তদের মধ্যে দান করার কথাও বলা হয়েছে।

    যাঁরা গণেশ চতুর্থীর উপবাস রাখেন, তাঁরা সারাদিন ভক্তিভরে গণেশের নাম স্মরণ করেন, পুজো করেন এবং গণেশ চতুর্থীর ব্রতকথা শোনেন। প্রচলিত বিশ্বাস, নিষ্ঠাভরে ব্রত ও পুজো করলে গণপতি বাপ্পার কৃপায় সংসারে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি আসে এবং জীবনের বাধা-বিপত্তি দূর হয়।

    তবে ব্রত বা পুজোর নিয়ম অঞ্চল, পরিবার ও সম্প্রদায়ের রীতি অনুযায়ী কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। তাই নির্দিষ্ট কোনও আচার পালনের ক্ষেত্রে স্থানীয় পুরোহিত বা প্রচলিত পারিবারিক বিধি অনুসরণ করাই শ্রেয়। গণপতি বাপ্পা মোরিয়া! গণেশ চতুর্থীর পুণ্যতিথিতে সিদ্ধিদাতার আশীর্বাদে সকলের জীবন সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি ও মঙ্গলময় হয়ে উঠুক—এই প্রার্থনাই রইল।

LinkedIn
Share