Author: Susanta Das

  • Ganga Underwater Road Tunnel: গঙ্গার নীচে ট্রাক টানেল তৈরিতে আগ্রহী আদানি! ১১ হাজার কোটির প্রকল্প ঘিরে বড় সম্ভাবনা

    Ganga Underwater Road Tunnel: গঙ্গার নীচে ট্রাক টানেল তৈরিতে আগ্রহী আদানি! ১১ হাজার কোটির প্রকল্প ঘিরে বড় সম্ভাবনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আগামী ২০৩৫ সালের মধ্যে বাংলায় ১ লক্ষ কোটি টাকা বিনিয়োগের আশ্বাস দিয়েছেন গৌতম আদানি। দার্জিলিংয়ের পাহাড়ে রোপওয়ে নির্মাণ থেকে নিউটাউনে হাসপাতাল, বাংলায় বিনিয়োগের পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে আদানি গোষ্ঠী। এবার কলকাতা ও হাওড়ার মধ্যে গঙ্গার নীচ দিয়ে পণ্যবাহী গাড়ি চলাচলের জন্য প্রস্তাবিত সড়ক টানেল প্রকল্পেও আগ্রহ দেখাল শিল্পগোষ্ঠীটি। নবান্ন সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সাম্প্রতিক বৈঠকে এই প্রকল্পে অংশ নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন আদানি গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান গৌতম আদানি। প্রকল্পের দরপত্র আহ্বান করা হলে তাতে অংশ নিতে প্রস্তুত গোষ্ঠী। তবে এখনও নির্মাণের বরাত বা বিনিয়োগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

    মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে টানেল প্রকল্প নিয়ে আলোচনা

    সূত্রের দাবি, কলকাতা সফরে এসে ‘সৌজন্য’ ভবনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠক করেন গৌতম আদানি ও তাঁর প্রতিনিধিরা। সেখানে কলকাতা বন্দর থেকে হাওড়ার দিকে পণ্য পরিবহণের বিকল্প পথ হিসেবে প্রস্তাবিত তারাতলা–সাঁকরাইল আন্ডারওয়াটার সড়ক টানেল প্রকল্পের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। প্রকল্পের পরিকল্পনা ও প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে অবহিত হওয়ার পরে আদানি গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা দরপত্রে অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন বলে নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে।

    সূত্রের আরও দাবি, এই প্রকল্প নিয়ে আগাম প্রস্তুতি নিয়েই বৈঠকে এসেছিলেন আদানি গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা। যদিও সম্ভাব্য বিনিয়োগের অঙ্ক, প্রকল্পে অংশগ্রহণের ধরন কিংবা নির্মাণের সময়সীমা নিয়ে এখনও নির্দিষ্ট কোনও তথ্য সামনে আসেনি।

    ২০৩৫ সালের মধ্যে বাংলায় এক লক্ষ কোটি টাকার বিনিয়োগের পরিকল্পনা

    আদানিদের এই আগ্রহের পিছনে রয়েছে বাংলায় দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের বৃহত্তর পরিকল্পনা। গত ২৪ সেপ্টেম্বর নিউটাউনে আদানি আরোগ্য মন্দিরের শিলান্যাস অনুষ্ঠানে গৌতম আদানি জানিয়েছিলেন, ২০৩৫ সালের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে এক লক্ষ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগ করতে চায় তাঁর গোষ্ঠী।

    সেই ঘোষণায় বন্দর, পণ্য পরিবহণ, সড়ক, সেতু-সহ একাধিক পরিকাঠামো ক্ষেত্রকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বণ্টন, সিমেন্ট, রোপওয়ে এবং হাইপারস্কেল ডেটা সেন্টারের মতো ক্ষেত্রেও সম্ভাব্য বিনিয়োগের কথা উঠে এসেছিল।

    নিউটাউনে হাসপাতাল নির্মাণের পাশাপাশি মহাকরণ সংস্কার ও দার্জিলিংয়ে রোপওয়ে তৈরির সম্ভাবনা নিয়েও আদানি গোষ্ঠীর আগ্রহের কথা সামনে এসেছে। এবার সেই তালিকায় গঙ্গার নীচ দিয়ে সড়ক যোগাযোগের প্রস্তাব যুক্ত হওয়ায় রাজ্যে গোষ্ঠীটির সম্ভাব্য বিনিয়োগের পরিধি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

    কেন প্রয়োজন গঙ্গার নীচে সড়ক টানেল?

    কলকাতা বন্দরের পণ্য পরিবহণ ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল করাই প্রস্তাবিত টানেল প্রকল্পের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। বর্তমানে বন্দরে আসা এবং বন্দর থেকে বেরিয়ে যাওয়া ট্রাক ও কন্টেনারবাহী গাড়িকে শহরের একাধিক ব্যস্ত রাস্তা ব্যবহার করতে হয়। গার্ডেনরিচ, খিদিরপুর, হেস্টিংস এবং বিদ্যাসাগর সেতুর মতো গুরুত্বপূর্ণ পথ দিয়ে চলাচলের ফলে অনেক সময় যানজটের মুখে পড়ে পণ্যবাহী গাড়ি।

    এর সঙ্গে রয়েছে ভারী যানবাহন চলাচলের সময়সীমা সংক্রান্ত বিধিনিষেধ। ফলে বন্দরের পণ্য নির্দিষ্ট সময়ে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া অনেক ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।

    এই পরিস্থিতিতে গঙ্গার নীচ দিয়ে বিকল্প সড়কপথ তৈরি করা গেলে কলকাতা বন্দরের সঙ্গে হাওড়ার দিকের জাতীয় সড়ক ব্যবস্থার যোগাযোগ আরও সহজ হতে পারে। শহরের ব্যস্ত রাস্তার উপর নির্ভরতা কমার পাশাপাশি ভারী যানবাহনের চলাচলও আরও মসৃণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে যানজট কতটা কমবে এবং প্রকল্পটি বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে চূড়ান্ত নকশা ও পরিবহণ পরিকল্পনার উপর।

    ১১ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প, কী ছিল প্রাথমিক পরিকল্পনা?

    গঙ্গার নীচ দিয়ে সড়ক টানেল তৈরির ভাবনা নতুন নয়। কয়েক বছর ধরেই কলকাতা বন্দরকে নদীর পশ্চিম পাড়ের জাতীয় সড়ক ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পিএম গতিশক্তি পরিকল্পনার আওতায় এই যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের বিষয়টিও বিবেচনায় ছিল।

    প্রায় দু’বছর আগে করা সমীক্ষায় প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা। সেই সময়ে রাজ্যসভায় কেন্দ্রীয় বন্দর, জাহাজ ও জলপথ মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনওয়াল জানিয়েছিলেন, সম্ভাব্য রুটের খসড়া রিপোর্ট বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে জমা পড়েছে। প্রযুক্তিগত ও আর্থিক সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজও শুরু করার পরিকল্পনা ছিল।

    প্রাথমিক সমীক্ষা অনুযায়ী, টানেল এবং তার সঙ্গে যুক্ত সড়ক মিলিয়ে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রস্তাব ছিল। অর্থাৎ, সম্পূর্ণ ১৫ কিলোমিটার পথ নদীর তলা দিয়ে যাওয়ার কথা নয়। কলকাতার দিকে মেটিয়াবুরুজ এবং হাওড়ার দিকে বোটানিক্যাল গার্ডেন সংলগ্ন এলাকায় সংযোগ তৈরির সম্ভাবনার কথাও উঠে এসেছিল।

    তবে বর্তমানে আলোচনায় থাকা তারাতলা–সাঁকরাইল প্রকল্পের চূড়ান্ত রুট, প্রবেশ ও প্রস্থানপথ এবং মোট দৈর্ঘ্য সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য এখনও সামনে আসেনি। অনুমোদিত নকশা ও বিস্তারিত প্রকল্প রিপোর্ট তৈরি হলে এই বিষয়গুলি স্পষ্ট হবে। একইভাবে, আগের সমীক্ষায় উল্লেখ করা ১১ হাজার কোটি টাকার ব্যয়ই চূড়ান্ত প্রকল্পমূল্য হবে কি না, তা-ও এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

    আদানির বিনিয়োগ পরিকল্পনায় কেন গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্প?

    গৌতম আদানির ঘোষিত বিনিয়োগ পরিকল্পনার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু পরিকাঠামো। উন্নত বন্দর, সড়ক ও সেতুর সঙ্গে পণ্য পরিবহণ এবং বিদ্যুৎ ব্যবস্থার সমন্বয় ঘটিয়ে শিল্পের বিকাশ ঘটানোই এই পরিকল্পনার মূল ভাবনা।

    নিউটাউনের অনুষ্ঠানে গৌতম আদানি বলেছিলেন, “পরিকাঠামো লক্ষ লক্ষ মানুষের সম্ভাবনাকে বদলে দিতে পারে। আদানি গোষ্ঠীতে আমরা যা করি, তার কেন্দ্রেই রয়েছে পরিকাঠামো।”

    তাঁর বক্তব্যের ব্যাখ্যা ছিল, উন্নত বন্দর পণ্য পরিবহণকে শক্তিশালী করে। সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা শিল্পকে আকর্ষণ করে এবং শিল্পের বিকাশের সঙ্গে বাড়ে উৎপাদন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ। এর জন্য প্রয়োজন নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং উন্নত ডিজিটাল পরিকাঠামোও।

    ভৌগোলিক অবস্থানের দিক থেকেও পশ্চিমবঙ্গের গুরুত্ব তুলে ধরেছিলেন আদানি। তাঁর মতে, ভারতের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলের শিল্পাঞ্চলের সঙ্গে উত্তর-পূর্ব ভারতের যোগাযোগ এবং বঙ্গোপসাগরের মাধ্যমে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাজারে পৌঁছনোর সুযোগ রাজ্যকে বাড়তি সুবিধা দেয়।

    সেই দৃষ্টিকোণ থেকে কলকাতা বন্দর ও হাওড়ার দিকের জাতীয় সড়কের মধ্যে দ্রুত পণ্য পরিবহণের ব্যবস্থা গড়ে উঠলে তা বন্দরনির্ভর শিল্প, লজিস্টিক পরিষেবা এবং বাণিজ্যিক পরিবহণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে এই সম্ভাবনার বাস্তবায়ন নির্ভর করবে প্রকল্পের অনুমোদন, অর্থের জোগান এবং নির্মাণের অগ্রগতির উপর।

    আগ্রহ প্রকাশ, কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও বাকি

    নবান্ন সূত্রের খবর অনুযায়ী, আপাতত গঙ্গার নীচে প্রস্তাবিত সড়ক টানেলের দরপত্রে অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে আদানি গোষ্ঠী। কিন্তু এই আগ্রহকে প্রকল্পের বরাত পাওয়া বা নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

    প্রকল্পের বিস্তারিত পরিকল্পনা, প্রযুক্তিগত ও আর্থিক সম্ভাব্যতা, সরকারি অনুমোদন এবং দরপত্রের শর্ত চূড়ান্ত হওয়ার পরেই পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। আদানি গোষ্ঠী শেষ পর্যন্ত দরপত্রে অংশ নেয় কি না, অংশ নিলে কী ধরনের প্রস্তাব দেয়, সেদিকেও নজর থাকবে।

    একদিকে নিউটাউনে হাসপাতাল, অন্যদিকে দার্জিলিংয়ে রোপওয়ে এবং এবার গঙ্গার নীচে সড়ক টানেল—পরিকাঠামো ক্ষেত্রে আদানি গোষ্ঠীর আগ্রহের তালিকা ক্রমশ দীর্ঘ হচ্ছে। ২০৩৫ সালের মধ্যে বাংলায় এক লক্ষ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগের ঘোষণার পর এখন বড় প্রশ্ন, এই সম্ভাব্য প্রকল্পগুলির মধ্যে কোনগুলি বাস্তবে রূপ পায় এবং রাজ্যের পরিকাঠামো ও কর্মসংস্থানে কতটা প্রভাব ফেলে।

  • Elderly Health Care: বাড়িতে বয়স্ক বাবা-মা? পুজোর সময় বিপদ এড়াতে আগাম এই ৮টি প্রস্তুতি নিন

    Elderly Health Care: বাড়িতে বয়স্ক বাবা-মা? পুজোর সময় বিপদ এড়াতে আগাম এই ৮টি প্রস্তুতি নিন

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    বাতাসে এখন পুজোর গন্ধ! ফুটে ওঠা পদ্ম আর মাঠের কাশফুল জানান দিচ্ছে মা আসছেন! আর মাত্র কয়েক দিন। শহর থেকে গ্রাম, উৎসবের আনন্দে সেজে উঠেছে‌। কিন্তু সব আনন্দের মাঝেও উদ্বেগ রয়েছে! বিশেষত বাড়িতে বয়স্ক বাবা-মায়ের স্বাস্থ্য নিয়ে অনেকেই উদ্বিগ্ন। পুজোর মরশুমে এলাকার পরিচিত চিকিৎসক, এমনকি নানান হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্য কর্মীদের অনেকেই ছুটিতে থাকেন। ফলে, সহজেই স্বাস্থ্য পরিষেবা পাওয়া কঠিন হয়ে যায়। এমনকি পুজোর সময় বিশেষ দিনে ওষুধের দোকান ও বন্ধ রাখা হয়। কিন্তু স্বাস্থ্য সঙ্কট তো যেকোনো সময় হতে পারে! তখন? এই প্রশ্ন ভাবিয়ে তোলে!
    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, আগাম কিছু পরিকল্পনা করে রাখলে এবং কয়েকটি ব্যাপারে বাড়তি নজরদারি ও সচেতনতা বজায় রাখলে, পুজোর দিনগুলোতে বড় বিপদ আটকানো যেতে পারে। পরিবারের বয়স্ক সদস্যেরাও যাতে নির্বিঘ্নে পুজোর দিনগুলোতে আনন্দ উপভোগ করতে পারেন, তার জন্য প্রয়োজন বাড়তি একটু সচেতনতা।

    পুজোর আগে কী পরিকল্পনা করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা?

    চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা!

    অধিকাংশ পরিবারের বয়স্ক সদস্যকে কোনো একজন নির্দিষ্ট চিকিৎসক দেখেন। তাঁর পরামর্শ মেনেই তিনি নিয়মিত ওষুধ খান। তাঁর সঙ্গে আগাম আলোচনা জরুরি। রোগীর শারীরিক অবস্থা কেমন,‌ কোন ধরনের বিপদ ঘটতে পারে, কোন দিকে বাড়তি নজর রাখতে হবে, সেগুলো চিকিৎসক সবচেয়ে ভালো পরামর্শ দিতে পারবেন। রোগীর শারীরিক পরিস্থিতির নিরিখে, সেগুলো বুঝতে পারলে বড় সঙ্কট এড়ানো সহজ হয়‌।

    ওষুধের তালিকা স্পষ্ট থাকা জরুরি!

    বহু পরিবারেই বয়স্কেরা উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ কিংবা কিডনির অসুখে ভুগছেন। তাঁদের নিয়মিত ওষুধ খেতে হয়। এই ওষুধ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা জরুরি। কোন ওষুধ কতটা পরিমাণে কখন খেতে হবে, সে ব্যাপারে চিকিৎসকের কাছে পরিষ্কার জেনে নেওয়া দরকার। ওষুধের তালিকা স্পষ্ট থাকা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ পর্যাপ্ত পরিমাণে বাড়িতে রাখা দরকার। কারণ, পুজোর সময়ে অনেকক্ষেত্রে ওষুধের দোকান বন্ধ রাখা হয়। ফলে, হঠাৎ যাতে সমস্যা না হয়, সেটা দেখা জরুরি।

    জরুরি পরিস্থিতিতে কী করবেন, সে সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা!

    রোগীর কোন ধরনের সমস্যা রয়েছে, কিডনি হোক বা হৃদরোগ, কখন বাড়তি সতর্কতা নিতে হবে, কোন পরিস্থিতিতে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে, সে সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা জরুরি। কারণ, সেই অসচেতনতা অনেক সময় বড় বিপদ ঘটায়। তাই চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি সম্পর্কে জানা প্রয়োজন। তাহলে বাড়তি উদ্বেগ কমবে আবার বিপদ ঘটলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সহজ হবে‌।

    প্রয়োজনীয় শারীরিক পরীক্ষা করিয়ে নিতে হবে!

    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, কিডনি, হার্টের সমস্যা বা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হলে পুজোর আগে চিকিৎসকের পরামর্শ মতো শারীরিক পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া জরুরি। কারণ, শারীরিক পরীক্ষা করালে বিপদ সম্পর্কে আন্দাজ পাওয়া সহজ হয়। ফলে পরিকল্পনা সেই মতো করা যায়। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রয়েছে কিনা, উচ্চ রক্তচাপ বাড়তি বিপদ তৈরি করছে কিনা কিংবা কিডনির সমস্যা থাকলে কতখানি সঙ্কট হতে পারে, সে সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা প্রয়োজন। তাই আগাম আন্দাজ পেতে কিছু শারীরিক পরীক্ষা বাড়তি সাহায্য করবে।

    হাসপাতাল এবং অ্যাম্বুলেন্সের যোগাযোগ নম্বর এবং বিকল্প চিকিৎসকের খোঁজ রাখা জরুরি!

    দুর্গাপুজোর সময় অনেকেই ছুটিতে থাকেন। আবার কেউ কেউ কর্মরত থাকেন। এলাকায় বিকল্প কোন চিকিৎসকদের পুজোর মরশুমে সহজে পাওয়া যেতে পারে, সেই যোগাযোগ নম্বর রাখা জরুরি। তাহলে বড় সমস্যা হলে সহজেই পরামর্শ নেওয়া যাবে। আবার স্থানীয় কয়েকটি হাসপাতাল এবং অ্যাম্বুলেন্সের নম্বর রাখা জরুরি। কারণ গভীর রাতে বা এমন কোনো সময় হঠাৎ সমস্যা হলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য এগুলো অত‌্যন্ত জরুরি। পুজোর দিনে সেগুলোর পরিষেবা পাওয়া যাবে কিনা, সেটা আগাম যাচাই করে রাখতে হবে।

    প্রস্তুত রাখতে হবে চেক লিস্ট!

    • বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, বাড়িতে বয়স্কেরা থাকলে পুজোর সময় একটা চেক লিস্ট রাখা জরুরি। অর্থাৎ, হঠাৎ বড় বিপদ হলে যাতে সহজেই সামলে দেওয়া যায়, তাই আগাম কয়েকটি জিনিস তৈরি করে রাখতে হবে।
      তাঁদের পরামর্শ,
      ● ১. প্রেসক্রিপশন ও ওষুধের তালিকা এমন জায়গায় রাখতে হবে, যাতে সহজেই পাওয়া যায়।
      ● ২. বয়স্ক সদস্য ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের মতো সমস্যায় আক্রান্ত হলে গ্লুকোমিটার, রক্তচাপ মাপার যন্ত্র বাড়িতে রাখতে হবে। যাতে আচমকা শর্করা বা রক্তচাপ ওঠানামা করছে কিনা সেটা যাচাই করতে হবে।
      ● ৩. পরিচয় পত্র ও স্বাস্থ্য বিমার কার্ড নির্দিষ্ট জায়গায় রাখতে হবে, যাতে বড় বিপদ হলেও পরিস্থিতি সামলানো সহজ হয়।
      ● ৪. হাসপাতাল ও ব্লাড ব্যাঙ্কের মতো জরুরি পরিষেবা পাওয়া যায়, এমন জায়গায় নম্বর ঠিকমতো জেনে রাখা দরকার। যাতে আপদকালীন সময়ে সাহায্য পাওয়া সহজ হয়।

    উৎসবের দিনগুলোতেও জীবন যাপনে বাড়তি নজর!

    উৎসবের দিনে অনিয়ম হয়ে যায়। কিন্তু বাড়ির বয়স্কদের সুস্থ রাখতে জীবন যাপনে নজরদারি প্রয়োজন। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, উৎসব বা আনন্দের দিনে অতিরিক্ত খাবার খাওয়া, বিশেষত অনিয়মিতভাবে অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া যাতে না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি। বয়স্কদের অতিরিক্ত তেল মশলা জাতীয় খাবার না দেওয়া বা মিষ্টি জাতীয় খাবার খাওয়া থেকে বিরত রাখতে হবে।
    বয়স্কদের পর্যাপ্ত ঘুম হচ্ছে কিনা সেদিকে নজর রাখতে হবে। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, পর্যাপ্ত বিশ্রাম না হলে বয়স্কদের অনিয়মিতভাবে রক্তচাপ ওঠানামা করতে পারে। ফলে, নানান শারীরিক সমস্যা হতে পারে। তাই আনন্দ উদযাপনের মধ্যেও বয়স্কদের পর্যাপ্ত বিশ্রামের দিকটি নজরে রাখতে হবে।
    জল খাওয়ার দিকে নজর দিতে হবে। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকেরা ‌ তাঁরা জানাচ্ছেন, বহু অসুখ বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ পর্যাপ্ত পরিমাণে জল না খাওয়া। তাই পরিবারের বয়স্কেরা ঠিকমতো জল পান করছেন কিনা সেটাও নজরে রাখা জরুরি।

    পড়ে যাওয়া আটকাতে বাড়তি সতর্কতা!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, বয়স্কদের বিপদ বাড়িয়ে দেয় হঠাৎ পড়ে যাওয়া। তাই বাড়িতে বয়স্ক বাবা-মা থাকলে অ্যান্টি স্কিপ ম্যাট লাগিয়ে রাখা দরকার। তাছাড়া মাথা ঘোরা বা এমন ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে কখনোই একা ছাড়া উচিত নয়। বিছানা থেকে শৌচালয় যাওয়ার পথে পর্যাপ্ত আলো রাখতে হবে। আবার বাথরুম যাতে শুকনো থাকে সেদিকেও নজর দিতে হবে। রাতের দিকে একা শৌচালয়ে যাওয়া চলবে না। বরং পরিবারের কেউ সঙ্গে থাকা দরকার। যাতে বড় বিপদ না হয়।

    কখন বাড়তি গুরুত্ব দিতে হবে?

    পরিবারের বয়স্ক সদস্য হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে গেলে কিংবা শ্বাসকষ্টের‌ মতো উপসর্গ দেখা দিলে বাড়তি সতর্ক হতে হবে। বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট বা বারবার বমির মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেয়ে হবে। অপেক্ষা করা উচিত নয়। বরং দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
  • Siliguri Corridor: মাটির নিচে রেল, বাঙ্কার, নতুন হাইওয়ে: শিলিগুড়ি করিডরকে দুর্ভেদ্য করতে ভারতের সাত স্তরের মাস্টারপ্ল্যান

    Siliguri Corridor: মাটির নিচে রেল, বাঙ্কার, নতুন হাইওয়ে: শিলিগুড়ি করিডরকে দুর্ভেদ্য করতে ভারতের সাত স্তরের মাস্টারপ্ল্যান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের একমাত্র স্থলপথের যোগসূত্র শিলিগুড়ি করিডর। এই সংকীর্ণ পথটিকে আরও মজবুত করতে বহুস্তরীয় কৌশলগত পরিকাঠামো গড়ে তুলছে কেন্দ্র। বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান ভারত-বিরোধী মনোভাব ও নিরাপত্তা অস্থিরতা এবং চিনের আগ্রাসী সামরিক তৎপরতার মধ্যে এই উদ্যোগ বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছে। ভূগর্ভস্থ সামরিক পরিকাঠামো, অতিরিক্ত রেললাইন, বিকল্প হাইওয়ে, সীমান্ত সড়ক ও নতুন সেনা স্থাপনা— সব মিলিয়ে ‘চিকেন নেক’ বলে পরিচিত শিলিগুড়ি করিডরকে ‘‘ফর্টেস’’ বা দুর্গে পরিণত করার পরিকল্পনা করছে কেন্দ্রের মোদি সরকার। মূল লক্ষ্য একটাই: কোনও একটি রুট বন্ধ হয়ে গেলেও যেন উত্তর-পূর্বের সঙ্গে দেশের বাকি অংশের যোগাযোগ অচল না হয়।

    কেন এত গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডর?

    • ● সবচেয়ে সংকীর্ণ জায়গায় করিডরের প্রস্থ মাত্র ২২ কিলোমিটার
    • ● নেপাল, বাংলাদেশ ও ভুটান সীমান্তের খুব কাছে, পাশেই চিনের চুম্বি উপত্যকা
    • ● রেললাইন, হাইওয়ে, সামরিক ঘাঁটি ও লজিস্টিক রুট ঘনীভূত থাকায় একটি রুটে বিঘ্ন ঘটলেই বড় ঝুঁকি তৈরি হতে পারে

    তাই এখন একটি রাস্তা, রেলপথ বা স্থাপনার ওপর নির্ভর না করে একাধিক সমান্তরাল রুট ও সুরক্ষিত স্থাপনা গড়ে তোলা হচ্ছে। এর ফলেই তৈরি হচ্ছে সাত স্তরের নিরাপত্তা কাঠামো।

    সাত স্তরের নিরাপত্তা কাঠামো

    ১. ভূগর্ভে গোলাবারুদ ও সামরিক সম্পদের সুরক্ষা

    বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী, ২৯৭ কোটি টাকার সেনা পরিকাঠামো প্যাকেজে রয়েছে:

    • ● ১২টি ভূগর্ভস্থ আর্মি ও এয়ার ডিফেন্স গোলাবারুদ মজুত কেন্দ্র
    • ● ১টি ভূগর্ভস্থ লং রেঞ্জ গোলাবারুদ মজুত কেন্দ্র
    • ● ২১টি ওভারগ্রাউন্ড লং রেঞ্জ ভূপৃষ্ঠস্থ ফায়ারিং পজিশন
    • ● ১২টি বোমা আশ্রয়কেন্দ্র (বাঙ্কার)
    • ● দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্টোরেজ স্পেস

    করিডরে জায়গা কম বলে মাটির নিচের স্থাপনা একইসঙ্গে সুরক্ষিত ও জায়গা-সাশ্রয়ী।

    ২. সুরক্ষিত কমান্ড-অ্যান্ড-কন্ট্রোল নেটওয়ার্ক

    সংকটকালেও সামরিক সিদ্ধান্ত ও যোগাযোগ যাতে বজায় থাকে, সেটাই এই স্তরের উদ্দেশ্য। এর জন্য তৈরি হয়েছে বা হচ্ছে:

    • ● ৫টি ভূগর্ভস্থ কমান্ড-অ্যান্ড-কন্ট্রোল সেন্টার
    • ● ৬টি ভূগর্ভস্থ কমিউনিকেশন সেন্টার
    • ● আরও কয়েকটি ভূগর্ভস্থ লং রেঞ্জ গোলাবারুদ মজুত কেন্দ্র

    আকাশপথে হামলা, ড্রোন বা ইলেকট্রনিক যুদ্ধের মতো পরিস্থিতিতেও অপারেশনাল ধারাবাহিকতা রক্ষাই লক্ষ্য।

    ৩. ছ’লেনের রেলপথ: করিডরের নিচে ‘দ্বিতীয় লাইফলাইন’

    এই পরিকল্পনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ ভূগর্ভস্থ রেলপথ।

    • ● ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানান, এই কৌশলগত করিডরের জন্য বিশেষ পরিকল্পনা চলছে, যাতে থাকছে ভূগর্ভস্থ ট্র্যাক ও বিদ্যমান রেল পরিকাঠামোর সম্প্রসারণ
    • ● রুট: টিন মাইল হাট (দুমদুমি) থেকে রাঙ্গাপানি হয়ে বাগডোগরা
    • ● ট্র্যাক থাকবে মাটির ২০ থেকে ২৪ মিটার নিচে
    • ● প্রকল্পটি ‘স্পেশাল রেলওয়ে প্রজেক্ট’ হিসেবে বিজ্ঞপ্তিভুক্ত। ২০২৬ সালের জুলাইয়ের বিজ্ঞপ্তিতে দুমদুমি (টিন মাইল হাট)–রাঙ্গাপানি–বাগডোগরা অংশের দৈর্ঘ্য ৩৫.৭৬ কিলোমিটার
    • ● বর্তমান ডাবল লাইনকে চার লাইনে উন্নীত করার পাশাপাশি যোগ হবে দুটি ভূগর্ভস্থ লাইন, অর্থাৎ মোট ছ’টি লাইন (চারটি ওপরে, দুটি নিচে)

    ওপরের কোনও অংশ জটিলতা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা নিরাপত্তাজনিত কারণে বিঘ্নিত হলে সুরক্ষিত বিকল্প রেলপথ কাজে লাগবে। এতে সামরিক রসদ চলাচলও নির্বিঘ্ন থাকবে।

    ৪. হাইওয়ের জাল: এক রুটের ওপর নির্ভরতা কমানো

    • ● প্রস্তাবিত গোরক্ষপুর–শিলিগুড়ি এক্সপ্রেসওয়ের বিস্তারিত প্রকল্প রিপোর্ট (DPR) তৈরির কাজ চলছে। ২০২৪ সালের নভেম্বরে সংসদে এ কথা জানায় কেন্দ্র
    • ● শিলিগুড়ির সঙ্গে গুয়াহাটি ও শিলং সংযোগকারী বড় হাইওয়ে উদ্যোগেরও ঘোষণা হয়েছে

    একাধিক হাইওয়ে ও সেতু থাকলে সাধারণ ট্রাফিক, লজিস্টিক্স, জরুরি চলাচল ও সামরিক সরঞ্জাম পরিবহণ ভাগ হয়ে যেতে পারবে।

    ৫. সিকিমমুখী এনএইচ-১০ ও পার্শ্ববর্তী সংযোগ সড়ক

    • ● সেবক থেকে রংপো পর্যন্ত এনএইচ-১০ উন্নয়নের পরিকল্পনা
    • ● প্রধান হাইওয়েগুলির মধ্যে অতিরিক্ত সংযোগ সড়ক, যাতে সিকিম সেক্টরে যাওয়ার বিকল্প পথ মেলে

    শিলিগুড়ি শুধু উত্তর-পূর্বের প্রবেশদ্বার নয়, উত্তর ও উত্তর-পূর্ব সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক কেন্দ্রও। ভারী যান চলার মতো বিকল্প রাস্তা তাই সামরিক সরঞ্জাম ও রসদ পাঠানোয় বাড়তি নমনীয়তা দেবে।

    ৬. সীমান্ত সড়কে নিরাপত্তার জাল

    • ● ইন্দো-নেপাল বর্ডার রোড কর্মসূচির আওতায় ফতেপুর–গালগালিয়া সড়ক (৭৯.৫ কিলোমিটার)
    • ● ইন্দো-নেপাল সীমান্তে আরও সড়কের প্রস্তাব, যা টহলদারি ও সংযোগ বাড়াবে
    • ● ভুটান সীমান্ত বরাবর সংযোগ উন্নয়নেরও পরিকল্পনা

    দুর্গম সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনী দ্রুত পৌঁছতে পারবে, সীমান্ত-পারের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জে প্রতিক্রিয়াও দ্রুততর হবে।

    ৭. ভারত-ভুটান-চিন ত্রিসংযোগস্থল ঘিরে কৌশলগত সংযোগ

    সিকিম ও ভুটান সীমান্তের সংবেদনশীল পথে দ্রুত পৌঁছনো ও সাড়া দেওয়ার ক্ষমতা বাড়াতে অতিরিক্ত সামরিক স্থাপনার পরিকল্পনা রয়েছে। শিলিগুড়ি করিডর সিকিম-ভুটান-চিন ত্রিসংযোগের কাছেই, আর চুম্বি উপত্যকা ভারত ও ভুটান সীমান্তের নিকটে। তাই শিলিগুড়ির সুরক্ষাকে বিচ্ছিন্ন পরিকাঠামো প্রকল্প হিসেবে দেখার সুযোগ নেই, সিকিম, ভুটান ও পূর্ব হিমালয় অঞ্চলের নিরাপত্তা সমীকরণ একই সূত্রে বাঁধা।

    কেন এই ‘রেজিলিয়েন্স’ কৌশল?

    এই পরিকল্পনার মূল ভাবনা একটি বিশাল দুর্গ গড়া নয়, বরং এমন ব্যবস্থা তৈরি করা যেখানে কোনও একটি রাস্তা, রেললাইন, সেতু বা সামরিক স্থাপনা দুর্বলতম বিন্দু হয়ে উঠবে না।

    • ● একটি হাইওয়ে বন্ধ হলে অন্য রুট দিয়ে যান চলবে
    • ● ওপরের রেলপথ বিঘ্নিত হলে ভূগর্ভস্থ লাইন বিকল্প হবে
    • ● ভূপৃষ্ঠের সামরিক স্থাপনা হুমকির মুখে পড়লেও ভূগর্ভস্থ কমান্ড, যোগাযোগ ও গোলাবারুদ কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ কাজ চালিয়ে যাবে

    সব মিলিয়ে বার্তা স্পষ্ট: একাধিক স্তরের সুরক্ষা ও একাধিক পথ থাকলে চোকপয়েন্টকে ‘চোক’ করা অনেক কঠিন।

  • Myopia in Children: চার বছর বয়স থেকেই চোখে সমস্যা! ভারতের শিশুদের দৃষ্টিশক্তি নিয়ে বিপদঘণ্টা, কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?

    Myopia in Children: চার বছর বয়স থেকেই চোখে সমস্যা! ভারতের শিশুদের দৃষ্টিশক্তি নিয়ে বিপদঘণ্টা, কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    চোখ স্বাস্থ্য নিয়ে অসচেতনতা বাড়ছে। অন্ধত্বই একমাত্র সমস্যা নয়। বরং দৃষ্টিশক্তি কমছে কিনা সেদিকেও নজর দেওয়া জরুরি। দৃষ্টিশক্তি হ্রাস পেলে কতখানি সতর্ক হতে হবে, এ সম্পর্কেও স্পষ্ট ধারণা নেই। বিশেষত ভারতীয় শিশুদের দৃষ্টিশক্তি সংক্রান্ত সমস্যা ক্রমশ বাড়ছে। তাই ওয়ার্ল্ড সাইট ডে উপলক্ষে বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, চোখের যত্ন নিতে হবে। পাশপাশি ছোটো থেকেই চোখের স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। চোখের যত্ন নেওয়া প্রতিদিনের অভ্যাসে পরিণত করতে হবে। তবেই ভারতে চোখের সমস্যা কমবে।

    কেন শিশুদের নিয়ে বাড়তি উদ্বেগ?

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক রিপোর্ট অনুযায়ী, দেশ জুড়ে চোখের সমস্যা বাড়ছে। ভারতে অন্ধত্ব আটকানোর কাজ যথেষ্ট ভালোভাবে হচ্ছে। কিন্তু দৃষ্টিশক্তি হ্রাসের সমস্যা ক্রমশ বাড়ছে। বিশেষত খুব কম বয়স থেকেই দূরের জিনিস দেখার ক্ষমতা কমছে। স্কুল পড়ুয়াদের মধ্যে এই সমস্যা ক্রমশ বাড়ছে। যা যথেষ্ট উদ্বেগের। ওই রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতে চার বছর বয়স থেকেই দৃষ্টিশক্তি হ্রাসের সমস্যা দেখা দিচ্ছে। খুব কম বয়স থেকেই এই ধরনের সমস্যা দেখা দিলে পরবর্তীতে আরও নানান সমস্যা দেখা দেয়। বিশেষত খুব কম বয়সে চোখে ছানি কিংবা ড্রাই আই-য়ের মতো সমস্যাও দেখা দেয়। যার জেরে পরবর্তীতে স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হয়‌।

    কেন ভারতীয়দের দৃষ্টিশক্তি হ্রাসের সমস্যা বাড়ছে?

    শিশু ও কিশোরদের মধ্যে দেখা দিচ্ছে!

    ভারতে শিশু ও কিশোরদের মধ্যে চোখের সমস্যা সবচেয়ে বেশি হচ্ছে। মায়োপিয়া অর্থাৎ দূরের জিনিস অস্পষ্ট দেখার সমস্যা সবচেয়ে দেখা যাচ্ছে। স্কুল স্তর থেকেই শিশুরা এই ধরনের সমস্যায় ভুগছে।

    ডায়াবেটিস আক্রান্ত বৃদ্ধির কারণে!

    ভারতীয়দের মধ্যে চোখের সমস্যা বাড়ার নেপথ্যে অন্যতম কারণ, ডায়াবেটিস! এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকেরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় চোখের উপরেও তার প্রভাব পড়ে। যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় ডায়বেটিক রেটিনোপ্যাথি বলা হয়। প্রাথমিক পর্বে উপসর্গ দেখা না দিলেও, দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করে। তাই ডায়াবেটিস আক্রান্তদের চোখের স্বাস্থ্য নিয়ে বাড়তি নজর দিতে হবে।
    ভারতে শিশু ও কিশোরদের মধ্যেও ডায়াবেটিসের দাপট বাড়ছে। তাই তারাও চোখের সমস্যায় ভুগছে।

    উচ্চ রক্তচাপ চোখের বিপদ বাড়ায়!

    ভারতীয়দের অন্যতম বড় স্বাস্থ্য ঝুঁকি উচ্চ রক্তচাপ। এই সমস্যা শুধু হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয় এমন নয়। বরং শরীরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের ক্ষতি করে। এমনি হলো চোখ। দীর্ঘদিন উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় ভুগলে চোখের উপরেও বাড়তি চাপ পড়ে। শরীরে রক্তচাপ বারবার ওঠানামা করলে দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকেরা।

    নিয়মিত চোখ পরীক্ষায় অনীহা!

    বছরে অন্তত একবার চোখের পরীক্ষা করানো জরুরি। কিন্তু অধিকাংশ ভারতীয়দের মধ্যেই সেই সচেতনতা নেই। এমনটাই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করালে তবেই চোখে কোনো সমস্যা রয়েছে কিনা সেটা বোঝা যাবে। বিশেষত যারা ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপের মতো সমস্যায় ভোগেন কিংবা যাদের দিনের অধিকাংশ সময় মোবাইল বা ল্যাপটপের স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকতে হয়, তাঁদের নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করানো‌ জরুরি। তবেই চোখের বড় সমস্যা আটকানো যাবে।

    দৃষ্টিশক্তি হ্রাসের ঝুঁকি কমাতে কী পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা?

    দৃষ্টিশক্তি হ্রাসের ঝুঁকি কমাতে সচেতনতা ও সতর্কতাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ মহল।

    স্ক্রিন টাইম সম্পর্কে সচেতনতা!

    শিশুদের চোখের স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন করতে হবে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ছোটো থেকেই এখন অধিকাংশ শিশু স্ক্রিন টাইমে অভ্যস্ত। কিন্তু একঘণ্টার বেশি একটানা স্ক্রিন টাইম কখনোই স্বাস্থ্যকর নয়। এতে চোখের উপরে মারাত্মক চাপ পড়ে। এই ব্যাপারে শিশুদের বোঝানো প্রয়োজন। নানান কাজে তাদের সময় ভাগ করে দিতে হবে। নূন্যতম সময় স্ক্রিন টাইম হিসাবে রাখতে হবে। এতে চোখে চাপ কম পড়বে।

    প্রকৃতির মাঝে সময় কাটানো!

    চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, চোখ ভালো রাখতে বিশেষত দৃষ্টিশক্তি হ্রাসের সমস্যা কমাতে প্রকৃতির মাঝে সময় কাটানো জরুরি। অধিকাংশ ভারতীয় শিশু ও কিশোরদের আধুনিক জীবনে প্রকৃতির মাঝে সময় কাটানোর সুযোগ খুব কম। কিন্তু দিনে অন্তত আধঘণ্টা কোনো বাগান, পার্ক বা খোলা মাঠে কাটানো দরকার। প্রাকৃতিক সবুজ পরিবেশ দৃষ্টিশক্তি হ্রাসের ঝুঁকি কমিয়ে দেয়।

    পঞ্চাশ পেরোলেই বাড়তি নজর!

    বয়স পঞ্চাশ পেরোলেই চোখে ছানি পড়েছে কিনা, তা যাচাই করা প্রয়োজন। নিয়মিত চোখের পরীক্ষা করিয়ে সমস্যা চিহ্নিত করা জরুরি। চিকিৎসকের পরামর্শ মতো প্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচার করা দরকার। তবেই প্রৌঢ় কালের অন্ধত্বের মতো সমস্যা আটকানো যাবে।

    স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস!

    শিশু হোক বা বয়স্ক, দৃষ্টিশক্তি হ্রাসের ঝুঁকি কমাতে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস জরুরি। গাজর, কুমড়ো, টমেটোর মতো ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার নিয়মিত খেলে চোখের দৃষ্টিশক্তি হ্রাসের ঝুঁকি কমে। রেটিনা ভালো থাকে।

    ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা থাকলে বাড়তি গুরুত্ব!

    ডায়াবেটিস কিংবা উচ্চ রক্তচাপের মতো সমস্যা থাকলে বাড়তি নজরদারি জরুরি। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। বিশেষত কম বয়সীদের মধ্যে এই সমস্যার প্রকোপ মারাত্মক। তাই প্রথম থেকেই চোখের স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা থাকা জরুরি।‌ তবেই এই ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যা থাকলেও চোখের ক্ষতির ঝুঁকি কমবে।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
  • West Bengal Dengue: পুজোর আনন্দে ডেঙ্গির থাবা! ৪ দিনে ১৩০০ আক্রান্ত, ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জারি হলুদ সতর্কতা

    West Bengal Dengue: পুজোর আনন্দে ডেঙ্গির থাবা! ৪ দিনে ১৩০০ আক্রান্ত, ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জারি হলুদ সতর্কতা

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    হাতে আর মাত্র কয়েক দিন। আর তারপরেই বাঙালির সবচেয়ে বড় উৎসব শুরু! কিন্তু দুর্গাপুজোর মুখে ক্রমশ শক্তি বাড়াচ্ছে ডেঙ্গি। উৎসবমুখর পশ্চিমবঙ্গে ডেঙ্গির আতঙ্ক কিছুতেই কমছে না। বরং পরিস্থিতি ক্রমশ উদ্বেগ বাড়াচ্ছে‌। রাজ্যের স্বাস্থ্য প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, জরুরি ভিত্তিতে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার কাজ চলছে। তবে উৎসবের মরশুমেও সাধারণ মানুষকে সচেতন এবং সতর্ক থাকতে হবে। তবেই বড় বিপদ আটকানো যাবে‌।

    কেন উদ্বিগ্ন স্বাস্থ্য প্রশাসন?

    রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর থেকে পাওয়া খবর অনুযায়ী, অক্টোবরের প্রথমে রাজ্যে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ৯ হাজারের কাছাকাছি। গত চার দিনে নতুন করে ১৩০০ মানুষ ডেঙ্গি আক্রান্ত হয়েছেন। সেপ্টেম্বর মাসেই ডেঙ্গি সংক্রমণ বেড়েছিল। প্রশাসনের শীর্ষ মহলে সে নিয়ে বৈঠক হয়েছিল। সেখানে আগাম সতর্কতা ছিল, আগামী কয়েক সপ্তাহ বিপদ বাড়তে পারে। কার্যত সেই আশঙ্কাই সত্যি হচ্ছে।

    কোন কোন জেলায় বাড়তি উদ্বেগ?

    স্বাস্থ্য ভবন থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ডেঙ্গি আক্রান্তের তালিকায় প্রথমেই রয়েছে মুর্শিদাবাদ। গত কয়েক দিনে এই জেলা থেকেই সবচেয়ে বেশি নতুন করে ডেঙ্গি সংক্রমণের তথ্য পাওয়া গিয়েছে। তারপরেই রয়েছে কলকাতা। চলতি বছরে এখনো পর্যন্ত কলকাতায় ২৮০০-র বেশি মানুষ ডেঙ্গি আক্রান্ত হয়েছেন। এরপরে তালিকায় রয়েছে নদিয়া, উত্তর চব্বিশ পরগনা এবং দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা, হাওড়া। এই জেলাগুলোতেও ডেঙ্গি উদ্বেগজনক হারে ক্রমশ বাড়ছে।

    কেন ডেঙ্গির পারদ ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী?

    জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, বর্ষার পরেই ডেঙ্গির প্রকোপ সবচেয়ে বেশি হয়। বর্ষা কমার পরেই জমা জলে মশা সহজেই বংশবিস্তার করে। তার জেরেই মশাবাহিত রোগের দাপট ক্রমশ বাড়ে।
    প্রত্যেক বছর সেপ্টেম্বর এবং অক্টোবর মাসে দেশ জুড়ে ডেঙ্গির প্রকোপ দেখা যায়। তবে পশ্চিমবঙ্গে এ বছর গত বছরের তুলনায় ডেঙ্গির প্রকোপ কম। স্বাস্থ্য দফতরের রিপোর্ট অনুযায়ী, গত বছর এই সময়ে রাজ্যে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ১৩ হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছিল। চলতি বছরে আক্রান্তের সংখ্যা ৯ হাজারের কাছাকাছি। যদিও স্বাস্থ্য দফতর রোগ নিয়ন্ত্রণে কোনও ফাঁক রাখতে চাইছেন না।
    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, ডেঙ্গির প্রকোপ বাড়ার অন্যতম কারণ আবহাওয়া। তাঁরা জানাচ্ছেন, বর্ষা কমার পরেই বাড়ির আশপাশের জায়গা, ছাদ কিংবা বাগানের টবে জল জমে থাকে। ফলে পরিষ্কার জমা জলে সহজেই ডেঙ্গির ভাইরাস বহনকারী মশা জন্মায়। তাই ডেঙ্গির প্রকোপ বাড়ে।

    ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কেন হলুদ সতর্কতা?

    স্বাস্থ্য কর্তারা জানাচ্ছেন, রাজ্যে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত ডেঙ্গির জন্য হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। শীতে ডেঙ্গির প্রকোপ কমে। কিন্তু তারপরেও ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত হলুদ সতর্কতা জারি হয়েছে। কারণ, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গি নিধনের সবচেয়ে ভালো সময় শীতকাল। এলাকা পরিষ্কার, জমা জল যাতে না থাকে, তার পাকাপাকি বন্দোবস্ত করা, লাগাতার সচেতনতা কর্মসূচি চালানো, জারি থাকলে আগামী বছরে বর্ষার মরশুমে ডেঙ্গির প্রকোপ কমবে। তাই ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সমান ভাবেই ডেঙ্গির প্রকোপ আটকানোর কাজ চলবে। যাতে প্রশাসনিক সক্রিয়তায় কোনও ত্রুটি না থাকে, তাই হলুদ সতর্কতা জারি থাকছে।
    পাশপাশি, গত কয়েক বছরের সংক্রমণের প্রবণতা বিশ্লেষণ করে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, শীতেও এই রাজ্যে ডেঙ্গি সংক্রমণ জারি থাকে। কলকাতা ও তার আশপাশের জেলাগুলোতে ডেঙ্গি আক্রান্তের তথ্য পাওয়া যায়। তাই শীতেও যাতে ডেঙ্গি শক্তি বাড়াতে না পারে, তাই ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত হলুদ সতর্কতা জারি হয়েছে।

    পুজোয় ডেঙ্গির দাপট রুখতে কী বার্তা?

    জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, দুর্গাপুজোর সময় ডেঙ্গির বিপদ রুখতে জনসচেতনতা জরুরি।‌ ডেঙ্গি রুখতে এলাকা পরিষ্কারে বাড়তি নজর জরুরি। বিশেষত নিজের বাড়ির ছাদ, বাগান কিংবা নর্দমায় যাতে জল না জমে থাকে, সেদিকে নজর রাখতে হবে।
    ডেঙ্গি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সব সময় সহযোগিতা করতে হবে। কারণ, স্থানীয় প্রশাসনের কাছে ডেঙ্গি সংক্রান্ত স্পষ্ট তথ্য না থাকলে ডেঙ্গি আটকানো মু্শকিল। তাই এলাকার কেউ ডেঙ্গি আক্রান্ত হলে সেই তথ্য স্থানীয় প্রশাসনকে জানানোর পাশপাশি কোনও জায়গায় জল জমে থাকলে, অপরিচ্ছন্ন থাকলেও প্রশাসনকে জানাতে হবে।
    জ্বর হলেই খেয়ালখুশি মতো ওষুধ খাওয়া নয়। বরং চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, জ্বর হলেই নিয়মিত সেটা পর্যবেক্ষণ করা দরকার। জ্বরের সঙ্গে বমি, গায়ে লাল দাগ বা তীব্র মাথা যন্ত্রণার মতো উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকদের পরামর্শ মতো রক্ত পরীক্ষা করানো জরুরি। রোগ চিহ্নিত করে চিকিৎসা করাতে হবে। কারণ, তাহলেই সংক্রমণ ঠেকানো সহজ হবে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, অযথা আতঙ্ক নয়। তবে উৎসবের দিনগুলোতে আনন্দ করার পাশপাশি স্বাস্থ্য সচেতনতাকে কখনোই অবহেলা করা যাবে না।

  • ADHD in children: বকুনি দিয়েও ‘দুষ্টু’ সন্তানকে সামলাতে পারছেন না? এই লক্ষণগুলি দেখলে সতর্ক হোন অভিভাবকরা

    ADHD in children: বকুনি দিয়েও ‘দুষ্টু’ সন্তানকে সামলাতে পারছেন না? এই লক্ষণগুলি দেখলে সতর্ক হোন অভিভাবকরা

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    দিনভর শুধুই দৌড়াদৌড়ি, পড়তে বসতে চায় না! যদিও বা ছবি আঁকতে বসে, অতিরিক্ত চঞ্চলতার জন্য রঙ করতেও শিখতে পারছে না! নিত্যদিন স্কুল থেকেও নানান অভিযোগ, বন্ধুদের সঙ্গে খেলার সময় হঠাৎ রেগে যায়, এমনকি মারামারি শুরু হয়ে যায়! এমনি ‘দুষ্টু’ সন্তানকে নিয়ে নাজেহাল হন বহু বাবা-মা! বকুনি দিয়েও তাদের কাবু করা যায় না! আবার পড়াশোনায় মনোযোগ না থাকায় ‘অলস’ তকমাও জোটে। কিন্তু চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, সন্তানকে কি সত্যিই অলস বা নিছক দুষ্টু! নাকি সন্তানের এমন আচরণের নেপথ্যে রয়েছে নিউরোডেভালপমেন্টাল ইস্যু! সচেতনতা আর সতর্কতা না বাড়ালে আসলে সন্তানের ভয়ঙ্কর ক্ষতিও হতে পারে।

    কোন সমস্যার ইঙ্গিত দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা?

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, শিশুর একাধিক মস্তিষ্কের বিকাশজনিত জটিলতা তৈরি হতে পারে। সেরকম একধরনের সমস্যা হলো এডিএইচডি। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় যার পুরো নাম, Attention-Deficit/Hyperactivity Disorder. যা একধরনের স্নায়বিক বিকাশজনিত সমস্যা।‌ অর্থাৎ, মস্তিষ্কের বিকাশের সমস্যা থাকলে শিশুর আচরণে সেটা প্রকাশ পায়। অতিরিক্ত চঞ্চলতা, মনোযোগের অভাব, হঠাৎ করেই মারামারি করা, বন্ধু বা শিক্ষকদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করার মতো সমস্যা দেখা যায়। যা নিছক দুষ্টুমি বা অলসতা নয়।

    কীভাবে বুঝবেন সন্তান এই সমস্যায় আক্রান্ত?

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন সন্তান অতিরিক্ত চঞ্চল বা মনযোগের অভাব রয়েছে মানেই কিন্তু এডিএইচডি আক্রান্ত নয়। বরং এই সমস্যার কিছু স্পষ্ট দিক রয়েছে। অভিভাবকদের সে সম্পর্কে সতর্ক থাকা জরুরি। তবেই এই সমস্যা সহজে চিহ্নিত হবে এবং শিশুর সুন্দর জীবন যাপন সম্ভব হবে।

    বয়সের সঙ্গে সঙ্গে আচরণ কেমন!

    মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, দুই-তিন বছরের শিশু পড়তে বসতে চাইছে না। খেলাধূলো করতে চাইছে, এগুলো খুব স্বাভাবিক ব্যবহার। ভারতে বর্তমানে অধিকাংশ শিশুদের আড়াই থেকে তিন বছর বয়সের মধ্যে প্রাক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করানো‌ হয়। ওই বয়সীরা অনেকেই লিখতে চায় না, কিংবা মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করতে পারে না। তাদের সেই আচরণ স্বাভাবিক। তবে, পাঁচ-ছ বছর বয়সেও যদি পড়াশোনার প্রতি তীব্র অনীহা , অমনোযোগীভাব স্পষ্ট হয়, তাহলে অভিভাবকদের সতর্ক হতে হবে।

    কখনওই একজায়গায় বসতে না চাওয়া!

    মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, কখনোই একজায়গায় বসতে না চাওয়া, যেকোনো ছোটো ছোটো কাজ যেমন রঙ করা, ছবি আঁকা কিংবা বসে গল্প শোনার সময়েও যদি সন্তান লাগতার ঘোরাঘুরি করে, একদম বসতে না চায়, তাহলে বুঝতে হবে তার স্নায়বিক জটিলতা থাকতে পারে।

    দৈনন্দিন সহজ কাজেও অনীহা!

    প্রতিদিনের কোনো কাজ সন্তান করতে চায় না। বারবার বলার পরেও স্নান করা, পোশাক পরিবর্তনের কাজেও দীর্ঘ সময় লাগলে বুঝতে হবে, তার কোনো সমস্যা রয়েছে।

    হঠকারী আচরণের নেপথ্যে নজর!

    তবে, যে আচরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, সেটা হল, হঠাৎ করেই হঠকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া। অর্থাৎ, হঠাৎ একজন শিশু আরেকজনকে মারতে শুরু করলো, কামড়ে দিতে যাচ্ছে কিংবা একটা সুন্দর জিনিস ভেঙে ফেলে দিলো, এই ধরনের আচরণ করলে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া দরকার।

    প্রয়োজনীয় পরীক্ষা জরুরি!

    তবে, শিশুর এই আচরণের নেপথ্যে এডিএইচডি সমস্যা রয়েছে কিনা সেটা নিশ্চিত করতে কিছু নির্দিষ্ট পরীক্ষা জরুরি। বিশেষজ্ঞের পরামর্শ মতো, নির্দিষ্ট কিছু স্নায়বিক এবং মনস্তাত্ত্বিক পরীক্ষার মাধ্যমে শিশুর এই সমস্যা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়।

    অসচেতনতা কেন বিপদ বাড়াচ্ছে?

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, সন্তানের আচরণের নেপথ্যে আসল কারণ কী এই সম্পর্কে জানতে না পারলে, শিশুর আচরণ দিনের পর দিন আরও খারাপ হবে। এতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে যাবে। অতিরিক্ত বকাবকির ফলে তার মানসিক চাপ তৈরি হবে। এতে আচরণে আরও নানান সমস্যা দেখা দেবে‌।

    কীভাবে এই সমস্যা মোকাবিলা করবেন?

    অক্টোবর মাস এডিএইচডি সচেতনতা মাস। এ বছরের সচেতনতার মূল বিষয়, পরিবারের পাশপাশি সমাজের সব মহলেই এডিএইচডি আক্রান্তের পাশে থাকতে হবে। তবেই তারা সুস্থ জীবন যাপন করতে হবে।‌

    প্রয়োজনীয় থেরাপি করানো দরকার!

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, সন্তান এই সমস্যায় আক্রান্ত নিশ্চিত হওয়ার পরে মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মতো প্রয়োজনীয় থেরাপি করাতে হবে। যাতে শিশুর এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণে থাকে।

    দায়িত্ব সম্পর্কে ধারণা তৈরি!

    নিয়মিত তাকে বিভিন্ন কাজের সঙ্গে যুক্ত রাখতে হবে। পড়াশোনার পাশাপাশি তাকে বাড়ির ছোটো ছোটো কাজ ও দায়িত্ব দিতে হবে। যেমন জল ভরা, গাছে জল দেওয়ার মতো নানান কাজের দায়িত্ব দিতে হবে, যাতে সে দায়িত্ব সম্পর্কে ধারণা করতে পারে আবার নিয়মিত কাজ সময় মতো করতেও শেখে।

    রুটিনমাফিক জীবন যাপনে অভ্যস্ত করা!

    তাকে দৈনন্দিন জীবন যাপনে নিয়মানুবর্তিতা শেখানো জরুরি। তাই নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম থেকে ওঠা, ঘুমোতে যাওয়া এবং খাওয়া এগুলো করতে হবে। তাহলে সে সময় মতো কাজ করা সম্পর্কেও ধারণা তৈরি করতে পারবে।

    একসঙ্গে অতিরিক্ত পড়ার চাপ না দেওয়া!

    একসঙ্গে অনেক পড়ার চাপ নয়। বরং এক ঘণ্টা পড়া এবং আধঘণ্টা খেলাধুলা এই ভাবে পড়াতে হবে। তাহলে মনোযোগের সমস্যা ধীরে ধীরে কমবে।

    খেলাধুলার জন্য সময় বরাদ্দ করা!

    প্রতিদিন কিছু এমন খেলার সঙ্গে যুক্ত করতে হবে, যাতে শারীরিক কসরত হয়। যেমন সাঁতার কাটা, সাইকেল চালানো, ফুটবল খেলা! তাহলে এই শিশুদের উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়‌। আবার ঘুম ভালো হয়। স্নায়বিক জটিলতা কমানোর জন্য নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম জরুরি।

    স্কুলের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ!

    তবে, অভিভাবকদের স্কুল কর্তৃপক্ষকে সন্তানের সমস্যা সম্পর্কে জানানো জরুরি। নিয়মিত স্কুলের সঙ্গে ও যোগাযোগ রাখতে হবে। কারণ, শিশু দিনের একটা বড় সময় স্কুলে কাটায়। তাকে ভয় দেখানো বা শাস্তি দেওয়া বা সকলের সামনে অবহেলা করা নয়। বরং, তার সমস্যা বুঝে, ধীরে ধীরে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেই এডিএইচডি আক্রান্তের জীবন যাপন সহজ হবে।

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
  • India at Asian Games: একদিনে জোড়া সোনা! প্রথম ভারতীয় মহিলা গল্ফার হিসেবে ইতিহাস প্রণবীর, তিরন্দাজিতে বাজিমাত কুমকুমের

    India at Asian Games: একদিনে জোড়া সোনা! প্রথম ভারতীয় মহিলা গল্ফার হিসেবে ইতিহাস প্রণবীর, তিরন্দাজিতে বাজিমাত কুমকুমের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এশিয়ান গেমসে ভারতের সোনালি শনিবার। একই দিনে ইতিহাস গড়লেন দুই তরুণী—গল্ফে প্রণবী উর্স এবং তিরন্দাজিতে কুমকুম মহোদ। প্রণবী হলেন এশিয়ান গেমসে ব্যক্তিগত গল্ফে সোনা জেতা প্রথম ভারতীয় মহিলা। আর রুদ্ধশ্বাস শুট-অফে দক্ষিণ কোরিয়ার ও ই-জিনকে হারিয়ে রিকার্ভে সোনা ছিনিয়ে নিলেন কুমকুম। দু’জনের হাত ধরেই এদিন ভারত পেল জোড়া সোনা।

    গল্ফে ইতিহাস প্রণবীর

    ২৩ বছরের মাইসোরের গল্ফার প্রণবী উর্সকে শেষ দিন কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হয়েছিল। তৃতীয় হোলে ট্রিপল বোগি করে তিন শটের লিড হারান তিনি। কিন্তু দ্রুত ঘুরে দাঁড়ান। পরপর তিনটি বার্ডি করে ফের লড়াইয়ে ফেরেন।

    শেষ রাউন্ডে ৭০, অর্থাৎ ইভেন-পার স্কোর করেন প্রণবী। চার রাউন্ড শেষে তাঁর মোট স্কোর ১৫-আন্ডার ২৬৫। এক শটের ব্যবধানে সোনা নিশ্চিত করেন তিনি।

    এই সাফল্যের সঙ্গে ভারতীয় গল্ফে নতুন অধ্যায় তৈরি হল। ২০০২ সালে শিব কাপুরের পর এশিয়ান গেমসে ব্যক্তিগত গল্ফে ভারতের সোনা এসেছিল পুরুষ বিভাগে। এবার প্রথমবার সেই কীর্তি গড়লেন কোনও ভারতীয় মহিলা গল্ফার।

    দলগত বিভাগেও রুপো

    প্রণবীর পাশাপাশি অদিতি অশোক ও দীক্ষা ডাগরের পারফরম্যান্সে দলগত গল্ফেও পদক জিতেছে ভারত।

    শেষ রাউন্ডে অদিতি করেন ৬৭, দীক্ষার স্কোর ৭৭। দুই সেরা স্কোর ধরেই দলগত ফল নির্ধারিত হয়। ভারতের মোট স্কোর ১৪-আন্ডার ৫৪৬। তাতে রুপো নিশ্চিত হয়। ২২-আন্ডার ৫৩৮ নিয়ে সোনা জেতে চিন।

    তিরন্দাজিতে কুমকুমের নাটকীয় জয়

    এরপরই আসে কুমকুম মহোদের সোনা। মহিলাদের ব্যক্তিগত রিকার্ভের ফাইনালে দক্ষিণ কোরিয়ার ও ই-জিনের বিরুদ্ধে শুরুটা মোটেই ভাল হয়নি তাঁর। প্রথম দুই সেট হেরে ১-৩ পিছিয়ে পড়েন।

    সেখান থেকেই ম্যাচের মোড় ঘোরান কুমকুম। পরের দুই সেট জিতে স্কোর করেন ৩-৩। পঞ্চম সেটে ৩০-২৮ জিতলেও নিষ্পত্তি হয়নি লড়াইয়ের। ম্যাচ গড়ায় শুট-অফে।

    সেখানেই বাজিমাত। কুমকুমের তির গিয়ে লাগে ১০-এর ঘরে, বিপক্ষের স্কোর ৮। আর সেই নিখুঁত শটে নিশ্চিত হয় ভারতের আরও একটি সোনা।

    ফাইনালের আগে বিশ্বচ্যাম্পিয়নকে হারিয়েছিলেন

    কুমকুমের ফাইনালে ওঠার পথও ছিল কঠিন। কোয়ার্টার ফাইনালে তিনি ৬-৪ ব্যবধানে হারান বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন কাং চে-ইয়ংকে। সেমিফাইনালে চিনের জিংই ঝুকে হারান ৬-২ ব্যবধানে।

    সেমিফাইনালে ওঠার সঙ্গেই ভারত ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকের একটি কোটা স্থান নিশ্চিত করে। অর্থাৎ সোনা জয়ের আগেই কুমকুমের পারফরম্যান্স ভারতীয় তিরন্দাজির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল।

    এক আসরেই তৃতীয় পদক

    কুমকুমের এশিয়ান গেমসে এটি তৃতীয় পদক। অঙ্কিতা ভকত ও কীর্তি শর্মার সঙ্গে দলগত রিকার্ভে সোনা এবং ধীরজ বোম্মাদেভারার সঙ্গে মিক্সড পেয়ার ইভেন্টে রুপো জিতেছেন তিনি।

    ফলে একই আসরে দলগত, মিক্সড এবং ব্যক্তিগত—তিন বিভাগেই পদক পেলেন কুমকুম।

    একই দিনে দুই ইতিহাস

    প্রণবীর সাফল্যে ভারতীয় মহিলা গল্ফ পেল নতুন মাইলফলক। কুমকুমের সোনায় তিরন্দাজিতে যোগ হল আরও একটি উজ্জ্বল অধ্যায়। একজন তিন শটের ধাক্কা সামলে শেষ পর্যন্ত এক শটে সোনা জিতলেন, অন্যজন ১-৩ পিছিয়ে থেকেও শুট-অফে নিখুঁত ১০ মেরে ম্যাচ শেষ করলেন। এশিয়ান গেমসের মঞ্চে ভারতের জন্য তাই শনিবার হয়ে রইল জোড়া সোনা এবং দুই তরুণীর ইতিহাস গড়ার দিন।

  • PM Modi Smit Machchhar Talk: ‘এটা না ঘটলে ভারতীয় পাইলটদের কী সহ্য করতে হত কে জানে’, মচ্ছরকে তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা মোদির

    PM Modi Smit Machchhar Talk: ‘এটা না ঘটলে ভারতীয় পাইলটদের কী সহ্য করতে হত কে জানে’, মচ্ছরকে তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মাঝআকাশে সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলা রুখে দেওয়া ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের সঙ্গে কথা বলার সময় গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে চিকিৎসাধীন মচ্ছরের সঙ্গে ফোনে কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই ঘটনায় পরিস্থিতি অন্যরকম হলে শুধু বিমানে থাকা যাত্রীদের জীবনই বিপন্ন হত না, ভারতীয় পাইলটদের নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারত। তাঁর মতে, মচ্ছরের সাহসিকতা কার্যত বহু মানুষের জীবন বাঁচানোর পাশাপাশি ভারতীয় পাইলটদের ভাবমূর্তিও রক্ষা করেছে।

    ‘কীভাবে দেখা হত ভারতীয় পাইলটদের, কে জানে’

    মচ্ছরের সঙ্গে কথোপকথনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘যদি এটা না ঘটত, কে জানে ভারতকে কী কী পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হত, ভারতীয় পাইলটদের কী কী সহ্য করতে হত এবং ভারতীয় পাইলটদের কীভাবে দেখা হত। আপনি সবাইকে বাঁচিয়েছেন। আপনি অত্যন্ত বড় কাজ করেছেন।’’

    প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যের তাৎপর্য যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যমে একটি অংশের তরফে এমন প্রশ্ন উঠেছিল—বিমানটি যদি শেষ পর্যন্ত দুর্ঘটনার শিকার হত, তাহলে কি পুরো ঘটনার দায় ভারতীয় ক্যাপ্টেনের উপর চাপত? প্রধানমন্ত্রী সরাসরি ওই সামাজিক মাধ্যমের পোস্টগুলির উল্লেখ করেননি। তবে তাঁর বক্তব্যে ভারতীয় পাইলটদের ভাবমূর্তি নিয়ে যে আশঙ্কার কথা উঠে এসেছে, তা সেই বিতর্কের সঙ্গেই সম্পর্কিত বলে মনে করা হচ্ছে।

    ‘ভারতীয়রা প্রাণ নেয় না, প্রাণ বাঁচাতে নিজের জীবন বাজি রাখে’

    মোদির কথায়, ‘‘দেশ গর্ব করে বলতে পারে, ভারতীয়রা এমন মানুষ নয় যারা প্রাণ নেয়। বরং অন্যদের বাঁচাতে নিজেদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলতে প্রস্তুত।’’ এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী মচ্ছরের ভূমিকার বৃহত্তর তাৎপর্য তুলে ধরেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনাটি কেবল একটি বিমানের ভিতরে হামলা প্রতিহত করার ঘটনা ছিল না। একজন ভারতীয় পাইলট হিসেবে মচ্ছর এমন পরিস্থিতিতে নিজের জীবন বিপন্ন করে যাত্রীদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন।

    কী হয়েছিল সেই বিমানে?

    ইজরায়েলের তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাই বিমানে মাঝআকাশে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। অভিযোগ, ওমানি কো-পাইলট আচমকাই ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের উপর ছুরি নিয়ে হামলা চালান। গুরুতর আঘাত পেয়েও মচ্ছর প্রতিরোধ চালিয়ে যান।

    পরিস্থিতি সামলাতে তিনি ককপিটের দরজা খুলে দেন। এরপর যাত্রীরা ককপিটে ঢুকে হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সাহায্য করেন। এই পদক্ষেপের ফলে সম্ভাব্য বিমান ছিনতাই বা আরও বড় বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয় বলে জানা গিয়েছে।

    বিমানে ১৭০-রও বেশি যাত্রী ছিলেন। এই পরিস্থিতিতে মচ্ছরের দ্রুত সিদ্ধান্ত এবং আত্মসংযমই বড় বিপর্যয় ঠেকানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয় বলে তাঁর প্রশংসা করা হচ্ছে।

    ‘আমি হনুমান চালিসা পাঠ করছিলাম’

    প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথোপকথনে ৩৯ বছর বয়সি দুই সন্তানের বাবা মচ্ছর জানান, হামলার সময় তিনি হনুমান চালিসা পাঠ করছিলেন। গুরুতর আহত হওয়ার পরেও তিনি নিজেকে সামলে নিয়ে ফের পরিস্থিতির মোকাবিলা করার সিদ্ধান্ত নেন।

    মচ্ছর প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, ‘‘আমি এত আঘাত পেয়েছিলাম। কিন্তু নিজেকে বলেছিলাম, আমাকে উঠতেই হবে এবং ব্যবস্থা নিতেই হবে। তা না হলে আমি মারা যেতাম।’’

    তাঁর এই বক্তব্য থেকেই বোঝা যায়, হামলার মুহূর্তে পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ ছিল এবং নিজের জীবন বাঁচানোর পাশাপাশি বিমানে থাকা অন্যদের নিরাপত্তার দায়িত্বও তাঁকে একই সঙ্গে সামলাতে হয়েছিল।

    কেন মোদির মন্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ?

    মচ্ছরের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কথোপকথনের পর নতুন করে সামনে এসেছে সামাজিক মাধ্যমের সেই বিতর্ক। ঘটনার পর একাংশের পোস্টে দাবি করা হয়েছিল, বিমানটি যদি তেল আভিভে পৌঁছনোর আগেই ভেঙে পড়ত, তাহলে ভারতীয় ক্যাপ্টেনের দক্ষতা নিয়েই প্রশ্ন উঠতে পারত।

    কিছু পোস্টে এমনও দাবি করা হয়, কো-পাইলটের হামলা সফল হলে শেষ পর্যন্ত ক্যাপ্টেনকেই বিমানটির পরিণতির জন্য দায়ী করা হত। তবে এগুলি সামাজিক মাধ্যমের ব্যবহারকারীদের বক্তব্য; এগুলিকে কোনও সরকারি তদন্তের সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা যায় না।

    প্রধানমন্ত্রীও তাঁর বক্তব্যে এই পোস্টগুলির সত্যতা বা কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তির অভিযোগকে সমর্থন করেননি। বরং তিনি সম্ভাব্য পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে বলেন, ঘটনাটি অন্যভাবে ঘটলে ভারতীয় পাইলটদের কীভাবে দেখা হত, তা বলা কঠিন।

    এয়ার ইন্ডিয়া এআই১৭১ দুর্ঘটনার প্রসঙ্গও কেন উঠছে?

    মোদির মন্তব্যের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট রয়েছে। ২০২৫ সালের ১২ জুন আহমেদাবাদ থেকে লন্ডনগামী এয়ার ইন্ডিয়ার এআই১৭১ বিমান দুর্ঘটনার তদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রকাশের বিষয়টি নিয়ে তখন আলোচনা চলছিল।

    বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনারটি উড্ডয়নের কিছুক্ষণের মধ্যেই দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। বিমানে থাকা ২৪২ জনের মধ্যে ২৪১ জনের মৃত্যু হয়। মাটিতে থাকা আরও ১৯ জন প্রাণ হারান।

    দুর্ঘটনার প্রায় এক মাস পরে প্রকাশিত প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্টে বলা হয়েছিল, উড্ডয়নের পর বিমানের দুই ইঞ্জিনের জ্বালানি নিয়ন্ত্রণকারী সুইচ প্রায় একই সময়ে অন্য অবস্থানে চলে গিয়েছিল। সেই রিপোর্টে পাইলটদের উপর কোনও দায় চাপানো হয়নি।

    তবে ককপিট ভয়েস রেকর্ডারের একটি সংক্ষিপ্ত অংশকে কেন্দ্র করে কিছু আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে পাইলটদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। কেন্দ্রের তরফে একাধিকবার স্পষ্ট করা হয়েছিল যে, প্রাথমিক রিপোর্টে পাইলটদের দায়ী করা হয়নি।

    দুই ঘটনার মধ্যে পার্থক্য কী?

    এআই১৭১ দুর্ঘটনা এবং ফ্লাইদুবাইয়ের ঘটনাটি এক নয়। একটি হল দুর্ঘটনা, অন্যটি হল বিমানের ভিতরে সম্ভাব্য হামলা ও ছিনতাইয়ের চেষ্টা প্রতিহত করার ঘটনা। তাই দুটির তদন্ত, পরিস্থিতি এবং দায় নির্ধারণের বিষয়ও আলাদা।

    তবে দুটির মধ্যে একটি বিষয় নিয়ে জনপরিসরে আলোচনা তৈরি হয়েছে—বিমান দুর্ঘটনা বা মাঝআকাশে গুরুতর বিপদের ক্ষেত্রে পাইলটের ভূমিকা কীভাবে মূল্যায়ন করা হয় এবং তদন্তের আগে সামাজিক মাধ্যমে কীভাবে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়ে।

    এই প্রেক্ষাপটেই মচ্ছরের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কথোপকথনে ভারতীয় পাইলটদের ভাবমূর্তির প্রসঙ্গ বিশেষভাবে নজর কেড়েছে।

    ‘শুধু বিমান নয়, আরও বড় কিছু বাঁচিয়েছেন’

    মচ্ছর বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে চিকিৎসাধীন। হামলার সময় গুরুতর আহত হওয়ার পরেও তিনি যে ভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন, তা আন্তর্জাতিক স্তরেও প্রশংসিত হয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রী মোদির বক্তব্যে সেই সাহসিকতার পাশাপাশি আরও একটি দিক সামনে এসেছে—বিপদের মুহূর্তে একজন ভারতীয় পাইলটের সিদ্ধান্ত শুধু বিমানে থাকা যাত্রীদের জীবনই নির্ধারণ করতে পারে না, সেই সিদ্ধান্তের সঙ্গে তাঁর পেশাগত পরিচয় এবং বৃহত্তরভাবে ভারতীয় বিমানচালকদের ভাবমূর্তিও জড়িয়ে থাকতে পারে।

    মচ্ছরের ক্ষেত্রে সেই সিদ্ধান্তের ফল হয়েছে জীবনরক্ষা। আর সেই কারণেই প্রধানমন্ত্রী তাঁর সঙ্গে কথোপকথনে বলেছেন, ‘‘আপনি সবাইকে বাঁচিয়েছেন। আপনি অত্যন্ত বড় কাজ করেছেন।’’

    মচ্ছরের সাহসিকতা তাই এখন শুধু একটি বিমানকে সম্ভাব্য বিপর্যয় থেকে রক্ষা করার ঘটনা নয়; মাঝআকাশের সংকটময় মুহূর্তে পাইলটের তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত, যাত্রীদের নিরাপত্তা এবং সেই সিদ্ধান্তকে ঘিরে জনপরিসরে তৈরি হওয়া বয়ান—সবকিছুকেই নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।

  • ED Investigation: ইন্দ্রনীলের সংস্থা থেকে মমতার অ্যাকাউন্টে ‘ট্রান্সফার’ ৩০ লক্ষ টাকা! বড় দাবি ইডির, ইউনেস্কো-কাণ্ডের তদন্তে চাঞ্চল্যকর মোড়

    ED Investigation: ইন্দ্রনীলের সংস্থা থেকে মমতার অ্যাকাউন্টে ‘ট্রান্সফার’ ৩০ লক্ষ টাকা! বড় দাবি ইডির, ইউনেস্কো-কাণ্ডের তদন্তে চাঞ্চল্যকর মোড়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতার দুর্গাপুজোর ‘প্রিভিউ শো’ ঘিরে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের তদন্তে একের পর এক তথ্য সামনে আনছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। তদন্তের কেন্দ্রে রয়েছেন প্রাক্তন মন্ত্রী তথা গায়ক-নেতা ইন্দ্রনীল সেন এবং তাঁর সঙ্গে যুক্ত কয়েকটি সংস্থা ও ব্যক্তির আর্থিক লেনদেন। ১ অক্টোবর প্রকাশিত ইডির প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়েছে, মাসআর্ট সোসাইটির মাধ্যমে টিকিট বিক্রি, সরকারি টেন্ডার এবং ইন্দ্রনীলের সঙ্গে যুক্ত ‘অক্টেভ রেকর্ডস’-এর ব্যাঙ্ক লেনদেন—এই তিনটি সূত্রে আর্থিক অনিয়মের একাধিক দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    এই প্রেস বিজ্ঞপ্তিতেই প্রথমবার প্রকাশ্যে আসে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর তথ্য। ইডির দাবি, অক্টেভ রেকর্ডসের অ্যাকাউন্ট থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অ্যাকাউন্টে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা পাঠানো হয়েছিল। তদন্তকারীদের জিজ্ঞাসাবাদে ইন্দ্রনীল ওই অর্থকে গানের রয়্যালটি বাবদ দেওয়া টাকা বলে দাবি করেছেন বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্থা। তবে ওই অর্থের প্রকৃতি নিয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ইডির প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়নি।

    কলকাতার ১৫টি জায়গায় তল্লাশি

    ইডি জানিয়েছে, গত ২৯ সেপ্টেম্বর কলকাতার ১৫টি জায়গায় তল্লাশি ও বাজেয়াপ্তের অভিযান চালানো হয়। প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্টের (PMLA) ১৭ নম্বর ধারায় এই অভিযান চালানো হয়েছিল। তল্লাশির আওতায় ছিল মাসআর্ট সোসাইটির অফিস ও আবাসিক ঠিকানা, সংস্থার পদাধিকারীদের জায়গা এবং ইন্দ্রনীল সেন ও তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের সঙ্গে যুক্ত একাধিক স্থান।

    বৌবাজার থানায় কলকাতা পুলিশের দায়ের করা একটি এফআইআরের ভিত্তিতে এই তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে ইডি। ওই এফআইআরে ইন্দ্রনীল সেন ছাড়াও মাসআর্টের সভাপতি মধুছন্দা সেন, সম্পাদক ধ্রুবজ্যোতি বসু, সহ-সভাপতি সায়ন্তন মৈত্র এবং কোষাধ্যক্ষ রঞ্জন চট্টোপাধ্যায়ের নাম রয়েছে। আরও কয়েক জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধেও অভিযোগের কথা জানানো হয়েছে।

    ইউনেস্কোর নাম-লোগো ব্যবহার করে টিকিট বিক্রির অভিযোগ

    ইডির তদন্তের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু মাসআর্ট সোসাইটির দুর্গাপুজোর ‘প্রিভিউ শো’। তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে কলকাতার ২৪টি নির্বাচিত পুজোমণ্ডপে এই অনুষ্ঠানের জন্য সাধারণ মানুষের কাছে টিকিট বিক্রি করা হয়েছিল।

    টিকিটের দাম ছিল ১,৭৪৯ টাকা থেকে ৫,৪৯৯ টাকা পর্যন্ত। ইডির দাবি, ২০২৩ ও ২০২৪ সালেই এক লক্ষের বেশি টিকিট ইস্যু করা হয়েছিল। তদন্তকারীদের অভিযোগ, মাসআর্ট নিজেদের ইউনেস্কোর পৃষ্ঠপোষকতাপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে তুলে ধরে এবং ইউনেস্কোর নাম ও লোগো ব্যবহার করে মানুষের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করেছিল। এই ধরনের বাণিজ্যিক ব্যবহারের প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছিল কি না, সেটিও তদন্তের অংশ।

    এখানে কলকাতার দুর্গাপুজোর ইউনেস্কো স্বীকৃতি এবং কোনও নির্দিষ্ট বাণিজ্যিক অনুষ্ঠানের জন্য ইউনেস্কোর অনুমোদন—এই দুই বিষয়কে আলাদা করে দেখছে তদন্ত। ইডির অভিযোগ মূলত ইউনেস্কোর নাম ও লোগো ব্যবহার করে অর্থ সংগ্রহের বিষয়কে ঘিরে।

    টিকিটের টাকা কোথায় গেল?

    ইডির বক্তব্য অনুযায়ী, মাসআর্টের মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থের একটি অংশ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে নগদে তোলা হয়েছিল। অন্য অংশ বিভিন্ন খরচের নামে সরিয়ে নেওয়া হয় বলে তদন্তকারীদের দাবি। এর মধ্যে ‘বিবিধ খরচ’-এর উল্লেখও রয়েছে।

    তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, সংগৃহীত অর্থের একাংশ ব্যক্তিগত লাভের জন্য ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে। তবে এখনও পর্যন্ত মোট কত টাকার টিকিট বিক্রি হয়েছিল, তার মধ্যে কত টাকা নগদে তোলা হয়েছিল এবং নির্দিষ্ট ভাবে কার কাছে কত টাকা পৌঁছেছিল—তার পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ করেনি ইডি। ফলে এই আর্থিক লেনদেনের চূড়ান্ত চরিত্র তদন্তের পরেই স্পষ্ট হবে।

    ইন্দ্রনীলের মন্ত্রিত্বকালে ৮৫ কোটির বেশি টেন্ডার

    মাসআর্টের আর্থিক লেনদেনের তদন্ত করতে গিয়ে ইন্দ্রনীল সেনের মন্ত্রিত্বকালের সরকারি টেন্ডারের বিষয়টিও সামনে এসেছে বলে জানিয়েছে ইডি।

    তদন্তকারী সংস্থার দাবি, ইন্দ্রনীল সেন মন্ত্রী থাকাকালীন পর্যটন ও সংস্কৃতি দফতরের একাধিক টেন্ডার ধ্রুবজ্যোতি বসু এবং দীপেশ রায়ের মালিকানাধীন সংস্থাগুলি পেয়েছিল। ইডির হিসাব অনুযায়ী, ওই টেন্ডারগুলির সম্মিলিত মূল্য ৮৫ কোটি টাকারও বেশি। তদন্তকারীরা দু’জনকেই ইন্দ্রনীলের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

    ইডির আরও দাবি, টেন্ডার পাওয়া সংস্থাগুলি থেকে পরবর্তী সময়ে ইন্দ্রনীলের আত্মীয়দের নিয়ন্ত্রণাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে উল্লেখযোগ্য অঙ্কের অর্থ স্থানান্তর করা হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে বড় অঙ্কের নগদ টাকা তোলার তথ্যও তদন্তে পাওয়া গিয়েছে বলে দাবি করেছে কেন্দ্রীয় সংস্থা।

    তবে সরকারি টেন্ডারের মোট মূল্য ৮৫ কোটির বেশি হওয়া এবং সেই পুরো অর্থ বেআইনি ভাবে আত্মসাৎ করা হয়েছে—এই দুই বিষয় এক নয়। টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কোনও অনিয়ম হয়েছিল কি না এবং পরবর্তী অর্থ স্থানান্তরের সঙ্গে তার কোনও বেআইনি যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটিই তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

    অক্টেভ রেকর্ডসের অ্যাকাউন্টে ৩.৮ কোটি টাকার বেশি নগদ জমা

    ইডির প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ইন্দ্রনীল সেনের সঙ্গে যুক্ত ‘অক্টেভ রেকর্ডস’-এর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেওয়া হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, ইন্দ্রনীলের মন্ত্রিত্বকালে ওই সংস্থার অ্যাকাউন্টে ৩ কোটি ৮০ লক্ষ টাকারও বেশি নগদ অর্থ জমা পড়েছিল।

    এই অর্থের উৎস কী ছিল, কারা ওই টাকা জমা করেছিলেন এবং কোন ধরনের ব্যবসায়িক কার্যকলাপ থেকে তা এসেছিল—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে ইডির তদন্তের সূত্রে জানা যাচ্ছে। তবে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ওই নগদ জমার প্রতিটি লেনদেনের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ প্রকাশ করা হয়নি।

    মমতার অ্যাকাউন্টে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা

    তদন্তের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য তথ্যগুলির একটি হল অক্টেভ রেকর্ডস থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর দাবি।

    ইডির প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, অক্টেভ রেকর্ডসের অ্যাকাউন্ট থেকে ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার মাধ্যমে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অ্যাকাউন্টে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা পাঠানো হয়েছিল। জিজ্ঞাসাবাদে ইন্দ্রনীল সেন ওই অর্থকে গানের রয়্যালটি হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন বলে জানিয়েছে ইডি।

    তবে কোন গান বা কোন কাজের জন্য এই রয়্যালটি দেওয়া হয়েছিল, কোন সময়কালের হিসাবের ভিত্তিতে অর্থ নির্ধারণ করা হয়েছিল কিংবা সংশ্লিষ্ট চুক্তি ও হিসাবপত্রে কী রয়েছে—এই প্রশ্নগুলির উত্তর এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।

    একই সঙ্গে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর তথ্য উল্লেখ করলেও ওই প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ইডি এই লেনদেনকে বেআইনি বলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেনি। লেনদেনটির প্রকৃতি এবং এর সঙ্গে তদন্তাধীন অন্য আর্থিক সূত্রগুলির কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তদন্তেই নির্ধারিত হবে।

    প্রায় ১০ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ ইন্দ্রনীলকে

    ২৯ সেপ্টেম্বরের তল্লাশির পরের দিন ইডির সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে হাজির হন ইন্দ্রনীল সেন। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তাঁকে প্রায় ১০ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

    মাসআর্টের টিকিট বিক্রি, সংগৃহীত অর্থের ব্যবহার, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও সংস্থাগুলির ভূমিকা এবং বিভিন্ন ব্যাঙ্ক লেনদেন নিয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা হয় বলে তদন্ত সূত্রের খবর। এর আগে ইন্দ্রনীল সেন তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন।

    তল্লাশি অভিযানে একাধিক ডিজিটাল ডিভাইস ও গুরুত্বপূর্ণ নথি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে ইডি। তদন্তকারীদের মতে, ওই নথি ও ডিজিটাল তথ্য আর্থিক লেনদেনের গতিপথ খতিয়ে দেখতে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

    এখন তদন্তের নজরে তিন আর্থিক সূত্র

    ইডির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই তদন্তে আপাতত তিনটি বড় আর্থিক সূত্র সামনে এসেছে—মাসআর্টের ‘প্রিভিউ শো’-এর টিকিট বিক্রি, ইন্দ্রনীলের মন্ত্রিত্বকালে ৮৫ কোটির বেশি মূল্যের সরকারি টেন্ডার এবং অক্টেভ রেকর্ডসের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে নগদ জমা ও সেখান থেকে বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে অর্থ স্থানান্তর।

    এই তিনটি সূত্রের মধ্যে কোনও বেআইনি যোগসূত্র রয়েছে কি না, অর্থের প্রকৃত ব্যবহার কী ছিল এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা কতটা—তা তদন্তের পরবর্তী ধাপে স্পষ্ট হওয়ার কথা। ইডি জানিয়েছে, তদন্ত এখনও চলছে। ফলে আরও নথি, ব্যাঙ্ক লেনদেন এবং জিজ্ঞাসাবাদ থেকে নতুন তথ্য সামনে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

  • Seva Setu Abhiyan: সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাননি! রাজ্যজুড়ে চলছে ‘সেবা সেতু অভিযান’ শিবির, কী কী মিলছে?

    Seva Setu Abhiyan: সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাননি! রাজ্যজুড়ে চলছে ‘সেবা সেতু অভিযান’ শিবির, কী কী মিলছে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পেতে আবেদন করেছেন, কিন্তু এখনও মেলেনি পরিষেবা? কোথায় আবেদন করবেন বা আবেদনের পর নিজের নামের স্ট্যাটাস কী, তা নিয়ে সমস্যায় রয়েছেন? এবার সেই সমস্যা মেটাতেই রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে সেবা সেতু অভিযান শিবির (Seva Setu Abhiyan)। আজ, শুক্রবার, ২ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই বিশেষ শিবির চলবে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত।

    রাজ্য প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এই তিন দিনের শিবিরে একই জায়গা থেকে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের একাধিক জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের জন্য আবেদন করার সুযোগ মিলছে। পাশাপাশি বেশ কিছু প্রকল্পের আবেদনের স্ট্যাটাসও জানা যাচ্ছে। ফলে সরকারি পরিষেবা পেতে সাধারণ মানুষকে বিভিন্ন দফতরে ঘুরতে হবে না।

    রাজ্যজুড়ে ৩৩০০টি শিবির

    প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ব্লক, পুরসভা, কর্পোরেশন-সহ বিভিন্ন স্তরে রাজ্যজুড়ে মোট ৩৩০০টি সেবা সেতু অভিযান শিবির চালু হয়েছে। এই শিবিরগুলিতে এক ছাদের নিচে প্রায় ৬০টি সরকারি প্রকল্পের পরিষেবা পাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। শিবিরে গিয়ে সরকারি প্রকল্পের জন্য আবেদন করা যাবে। একইসঙ্গে যাঁরা ইতিমধ্যে কোনও প্রকল্পে আবেদন করেছেন, তাঁরাও নির্দিষ্ট পরিষেবার ক্ষেত্রে আবেদনের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে পারবেন।

    কোন কোন প্রকল্পের সুবিধা মিলছে?

    সেবা সেতু অভিযান শিবিরে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের একাধিক প্রকল্পের পরিষেবা পাওয়া যাচ্ছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য—

    • ● অন্নপূর্ণা যোজনা
    • ● আয়ুষ্মান ভারত
    • ● প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা
    • ● শিক্ষাশ্রী
    • ● জয় জোহার
    • ● পিএম কিষান ক্রেডিট কার্ড
    • ● পিএম কিষান স্বনিধি
    • ● বিধবা ভাতা
    • ● বয়স্ক ভাতা
    • ● বিশেষভাবে সক্ষমদের ভাতা

    এছাড়াও কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের জন্যও প্রয়োজনীয় পরিষেবা ও আবেদনপত্রের ব্যবস্থা থাকছে।

    অন্নপূর্ণা যোজনায় নতুন করে আবেদন

    এই শিবিরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হল অন্নপূর্ণা যোজনায় নতুন করে আবেদন করার সুযোগ। যাঁরা এখনও এই প্রকল্পের সুবিধা পাননি, তাঁরা শিবির থেকে আবেদনের ফর্ম সংগ্রহ করে আবেদন করতে পারবেন। অন্নপূর্ণা যোজনায় ইতিমধ্যে আবেদন করে থাকলে তার স্ট্যাটাস সম্পর্কেও খোঁজ নেওয়া যাবে। একইভাবে আয়ুষ্মান ভারত কার্ডের স্ট্যাটাস জানার ব্যবস্থাও থাকছে।

    বিধবা ও বয়স্ক ভাতার জন্যও আবেদন

    শুধু অন্নপূর্ণা বা আয়ুষ্মান নয়, সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের ক্ষেত্রেও এই শিবির গুরুত্বপূর্ণ। বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা এবং বিশেষভাবে সক্ষমদের ভাতার জন্য নতুন আবেদনপত্র বিলি করা হচ্ছে। ফলে যোগ্য ব্যক্তিরা প্রয়োজনীয় নথি নিয়ে শিবিরে গিয়ে আবেদন সংক্রান্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন।

    থাকছে ব্যাঙ্কের বিশেষ ক্যাম্পও

    সরকারি প্রকল্পের পাশাপাশি সেবা সেতু অভিযান শিবিরে ব্যাঙ্কের বিশেষ ক্যাম্পেরও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সেখানে ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত বিভিন্ন পরিষেবা পাওয়ার সুযোগ থাকছে। এর ফলে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা নেওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কিং পরিষেবার প্রয়োজন থাকলেও একই জায়গায় তার সমাধান করার সুযোগ মিলবে।

    কলকাতা ও হাওড়ায় কোথায় শিবির?

    কলকাতা পুরনিগম এলাকায় দুটি ওয়ার্ড পিছু একটি করে সেবা সেতু অভিযান শিবির চালু করা হয়েছে। ফলে শহরের বিভিন্ন প্রান্তের বাসিন্দারা নিজেদের এলাকার নির্দিষ্ট শিবিরে গিয়ে পরিষেবা নিতে পারবেন।অন্যদিকে হাওড়া পুরনিগমের ৫০টি ওয়ার্ডের জন্য ২৬টি জায়গায় সেবা সেতু অভিযান শিবিরের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

    আপনার এলাকার শিবির কোথায়, জানবেন কীভাবে?

    নিজের এলাকার সেবা সেতু অভিযান শিবির কোথায় হয়েছে, তা নিয়ে কোনও সংশয় থাকলে ফোন করেই তথ্য জানা যাবে। প্রশাসনের তরফে দেওয়া নম্বরে যোগাযোগ করে নিকটবর্তী শিবিরের ঠিকানা সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া যাবে।

    হেল্পলাইন নম্বর:
    ● ১৮০০ ৩৪৫ ০১১৭
    ● ০৩৩-২২১৪ ০১৫২

    তাই অন্নপূর্ণা যোজনা, আয়ুষ্মান ভারত, পিএম কিষান, বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা কিংবা অন্য কোনও সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পেতে যাঁরা আবেদন করতে চাইছেন, তাঁরা ২ থেকে ৪ অক্টোবরের মধ্যে সেবা সেতু অভিযান শিবিরে গিয়ে প্রয়োজনীয় পরিষেবা নিতে পারেন।

LinkedIn
Share