Author: Susanta Das

  • Kolkata Illegal Construction: শহরে বেআইনি বহুতলের আড়ালে কোটি কোটি কালো টাকা? সরাসরি সিবিআই তদন্তের নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের

    Kolkata Illegal Construction: শহরে বেআইনি বহুতলের আড়ালে কোটি কোটি কালো টাকা? সরাসরি সিবিআই তদন্তের নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতায় একের পর এক বেআইনি বহুতল নির্মাণের নেপথ্যে কি কোটি কোটি টাকার কালো টাকা সাদা করার কারবার চলেছে? এই বিস্ফোরক অভিযোগের তদন্তে এবার সরাসরি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইকে (CBI) নামাল কলকাতা হাই কোর্ট। শহরের একাধিক এলাকায় বেআইনিভাবে গড়ে ওঠা অন্তত ৫০টি বহুতল নির্মাণের বিষয়টি সামনে আসার পর জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে এই নির্দেশ দিয়েছে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ। আগামী ১৪ অক্টোবরের মধ্যে প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট আদালতে জমা দিতে হবে সিবিআইকে।

    ৫০টি বেআইনি বহুতল আদালতের নজরে

    কলকাতার রাজাবাজার, মানিকতলা, বেলেঘাটা-সহ একাধিক এলাকায় বেআইনি নির্মাণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ উঠছিল। সেই তালিকায় ক্যানাল স্ট্রিট সংলগ্ন এলাকাও রয়েছে। আদালতের নজরে আসা তথ্য অনুযায়ী, এই সমস্ত এলাকায় অন্তত ৫০টি বেআইনি বহুতল নির্মাণের অভিযোগ রয়েছে।

    জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে বিষয়টি সামনে আসতেই নির্মাণের ধরন এবং তার পিছনে থাকা আর্থিক লেনদেন নিয়ে প্রশ্ন তোলে হাই কোর্ট। আদালতের পর্যবেক্ষণ, বিষয়টি শুধু পুরসভার বিল্ডিং রুল বা নির্মাণবিধি লঙ্ঘনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর পিছনে বিপুল অঙ্কের বেআইনি অর্থের লেনদেন এবং সেই অর্থকে বৈধ করার চেষ্টা রয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।

    রিয়েল এস্টেটের আড়ালে কালো টাকা সাদা?

    শুনানিতে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে আরও গুরুতর অভিযোগ। বেআইনি ভাবে বহুতল নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত রিয়েল এস্টেট কারবারকে ব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ কালো টাকা সাদা করা হয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়।

    এই অভিযোগের সত্যতা কতটা, কোথা থেকে টাকা এসেছে, কারা সেই অর্থ বিনিয়োগ করেছে এবং নির্মাণ ব্যবসার মাধ্যমে কীভাবে সেই অর্থের লেনদেন হয়েছে—সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখবে সিবিআই। একইসঙ্গে এই বেআইনি নির্মাণের পিছনে কোনও সংগঠিত চক্র কাজ করছে কি না, তাও তদন্তের আওতায় আসছে।

    কাঠগড়ায় কলকাতা পুরসভাও

    বেআইনি নির্মাণ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কলকাতা পুরসভা কেন কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে আদালত। অভিযোগ সম্পর্কে পুরসভার আধিকারিকরা অবগত ছিলেন কি না এবং জানার পরেও কেন নির্মাণ বন্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি, তা তদন্ত করে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    এর পাশাপাশি, বেআইনি নির্মাণের সঙ্গে কলকাতা পুরসভার কোনও আধিকারিকের প্রত্যক্ষ যোগসাজশ ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখবে সিবিআই। অর্থাৎ শুধু নির্মাণকারী বা রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ীদের ভূমিকা নয়, সরকারি স্তরে কোনও সহযোগিতা বা মদত ছিল কি না, তদন্তে সেই প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    টাস্ক ফোর্সের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন

    বেআইনি নির্মাণ বন্ধ করতে রাজ্য সরকারের তরফে আগে একটি ‘টাস্ক ফোর্স’ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই টাস্ক ফোর্স বাস্তবে কতটা কাজ করেছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে হাই কোর্ট।

    প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ জানতে চায়, বেআইনি নির্মাণ রুখতে টাস্ক ফোর্স গঠনের নির্দেশ দেওয়ার পর এখনও পর্যন্ত কী কী পদক্ষেপ করা হয়েছে। শুধু কমিটি বা টাস্ক ফোর্স গঠন করলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না—মাঠে তার কার্যকরী ভূমিকা কতটা ছিল, সেই প্রশ্নও শুনানিতে উঠে আসে।

    অনুমতি না মেলায় তদন্ত করতে পারেনি সিবিআই

    শুনানির সময় সিবিআইয়ের তরফেও তাদের অবস্থান আদালতকে জানানো হয়। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার বক্তব্য, মামলাকারীর তরফে আগেই সিবিআইকে সরাসরি চিঠি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তৎকালীন রাজ্য সরকারের তরফে তদন্তের প্রয়োজনীয় অনুমতি না মেলায় তারা সেই সময় কোনও পদক্ষেপ করতে পারেনি।

    তবে বর্তমান মামলার প্রেক্ষিতে হাই কোর্ট স্পষ্ট করে দিয়েছে, অভিযোগের সঙ্গে যদি বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেন এবং সংগঠিত অপরাধের যোগ থাকে, তাহলে আদালতের নির্দেশে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা তদন্তে নামতে পারে। সেই অনুযায়ী সিবিআইকে প্রাথমিক তদন্তের জন্য পূর্ণ আইনি এক্তিয়ার দেওয়া হয়েছে।

    ১৪ অক্টোবরের মধ্যে রিপোর্ট

    এখন সিবিআইয়ের প্রাথমিক তদন্তের দিকেই নজর। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ১৪ অক্টোবরের মধ্যে প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট জমা দিতে হবে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে। বেআইনি বহুতল নির্মাণ, তার সঙ্গে যুক্ত আর্থিক লেনদেন, কালো টাকা সাদা করার অভিযোগ এবং কলকাতা পুরসভার কোনও আধিকারিকের ভূমিকা—সবকটি বিষয়ই তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে চলেছে। ফলে কলকাতার বেআইনি নির্মাণ নিয়ে এই মামলায় আগামী দিনে আরও একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।

  • India France Space Cooperation: ভারত-ফ্রান্স মহাকাশ সহযোগিতা, ৫২ উপগ্রহের নজরদারি কনস্টিলেশন নিয়ে বড় চুক্তি

    India France Space Cooperation: ভারত-ফ্রান্স মহাকাশ সহযোগিতা, ৫২ উপগ্রহের নজরদারি কনস্টিলেশন নিয়ে বড় চুক্তি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মহাকাশ ক্ষেত্রে আরও এক ধাপ এগোল ভারত-ফ্রান্স সহযোগিতা। উপগ্রহ উৎক্ষেপণ, মহাকাশ নজরদারি এবং মাইক্রোস্যাটেলাইট প্রযুক্তি—এই তিন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে নতুন বাণিজ্যিক চুক্তি স্বাক্ষর করল দুই দেশের সংস্থাগুলি। প্যারিসে আয়োজিত প্রথম ইন্টারন্যাশনাল স্পেস সামিট-এ এই চুক্তিগুলি ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ হল ফ্রান্সের সাফরান স্পেস এবং ভারতের ধ্রুব স্পেস-এর মধ্যে ৫ মিলিয়ন ইউরোর (প্রায় ৫০ কোটি টাকা) বেশি মূল্যের চুক্তি। ভারতের পরিকল্পিত ৫২টি উপগ্রহের স্পেস-সার্ভেইলেন্স কনস্টিলেশন তৈরিতে এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।

    ৯ ও ১০ সেপ্টেম্বর প্যারিসে আয়োজিত এই আন্তর্জাতিক মহাকাশ সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের সরকার, মহাকাশ গবেষণা সংস্থা, শিল্পক্ষেত্র এবং বিজ্ঞানীরা অংশ নেন। সম্মেলনে মোট ৫১টি ঘোষণা করা হয়েছে, যার আর্থিক মূল্য প্রায় ২০ বিলিয়ন ইউরো (প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকা)। সেই মঞ্চেই ভারতীয় মহাকাশ সংস্থাগুলির সঙ্গে ফরাসি সংস্থাগুলির একাধিক নতুন অংশীদারিত্ব সামনে এসেছে।

    ৫২ উপগ্রহের নজরদারি ব্যবস্থা

    সাফরান স্পেস এবং ধ্রুব স্পেস-এর চুক্তিটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভারতের এসবিএস-৩ স্পেস-সার্ভেইলেন্স কনস্টিলেশন-এর জন্য। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে মোট ৫২টি উপগ্রহের এই কনস্টিলেশন গড়ে তোলা হবে।

    চুক্তির আওতায় ভারতীয় সংস্থাকে যোগাযোগ ব্যবস্থা, ইনারশিয়াল ন্যাভিগেশন ইউনিট, অপটিক্যাল পেলোড এবং গ্রাউন্ড স্টেশন-সংক্রান্ত প্রযুক্তি সরবরাহ করবে সাফরান স্পেস। এর ফলে কক্ষপথে থাকা বিভিন্ন মহাকাশযান ও অন্যান্য বস্তুর উপর নজরদারি এবং পরিস্থিতি সম্পর্কে দ্রুত তথ্য সংগ্রহের সক্ষমতা বাড়বে ভারতের।

    বিশ্লেষকদের মতে, মহাকাশে উপগ্রহের সংখ্যা দ্রুত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্পেস সিচুয়েশনাল অ্যাওয়ারনেস বা মহাকাশ পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতনতা এখন জাতীয় নিরাপত্তারও গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে। পৃথিবীর কক্ষপথে কোন উপগ্রহ কোথায় রয়েছে, কোনও মহাকাশযানের গতিপথে পরিবর্তন হচ্ছে কি না, কিংবা কোনও বস্তু সংঘর্ষের ঝুঁকি তৈরি করছে কি না—এসব বিষয়ে নির্ভুল তথ্য পাওয়ার জন্য শক্তিশালী স্পেস-সার্ভেইলেন্স পরিকাঠামো প্রয়োজন। ৫২টি উপগ্রহের পরিকল্পিত কনস্টিলেশন সেই সক্ষমতা বাড়ানোর দিকেই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

    সরকারি কর্মসূচির বাইরে বেসরকারি মহাকাশ শিল্প

    এই চুক্তির আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, ভারত-ফ্রান্স মহাকাশ সহযোগিতা ক্রমশ সরকারি মহাকাশ সংস্থার গণ্ডি ছাড়িয়ে নিউ স্পেস বা বেসরকারি মহাকাশ শিল্পের ক্ষেত্রেও বিস্তৃত হচ্ছে।

    দীর্ঘদিন ধরে ভারত ও ফ্রান্সের মহাকাশ সহযোগিতার মূল স্তম্ভ ছিল ভারতের ইসরো এবং ফ্রান্সের সিএনইএস। কিন্তু সাম্প্রতিক চুক্তিগুলি দেখাচ্ছে, এখন ভারতীয় বেসরকারি সংস্থাগুলিও আন্তর্জাতিক মহাকাশ সরবরাহ-শৃঙ্খলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে।

    ধ্রুব স্পেস-এর সঙ্গে সাফরানের চুক্তি সেই পরিবর্তনের অন্যতম উদাহরণ। পাশাপাশি ভারতের মেক ইন ইন্ডিয়া নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিদেশি প্রযুক্তি এবং ভারতীয় শিল্প-উৎপাদন সক্ষমতার সমন্বয় ঘটানোর সুযোগও তৈরি হচ্ছে।

    ভারতীয় সংস্থার সঙ্গে আরও দুই চুক্তি

    প্যারিস সম্মেলনে আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি হয়েছে। ফরাসি লঞ্চ-সার্ভিস সংস্থা রাইড এবং ভারতীয় সংস্থা টেকমিটুস্পেস-এর সঙ্গে একটি চুক্তি করেছে। এর আওতায় টেকমিটুস্পেস-এর দুটি উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করা হবে। টেকমিটুস্পেস-কে ভারতের প্রথম অরবিটাল ডেটা সেন্টার-এর নকশাকারী সংস্থা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

    এই অংশীদারিত্ব ভারতীয় বেসরকারি মহাকাশ সংস্থাগুলির জন্য আন্তর্জাতিক উৎক্ষেপণ পরিষেবার বাজারে নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। এর আগে রাইড এবং ভারতীয় মহাকাশ সংস্থাগুলির মধ্যে সহযোগিতার নজির রয়েছে। সম্প্রতি একটি ইউরোপীয় অ্যাটমস্ফেরিক রি-এন্ট্রি ক্যাপসুল ভারতের পিএসএলভি-র মাধ্যমে উৎক্ষেপণ, কক্ষপথে সংযুক্তি এবং পরে পৃথিবীতে ফেরানোর কাজে দুই পক্ষের সহযোগিতা হয়েছে।

    অন্যদিকে ফরাসি মহাকাশ সংস্থা ইউ-স্পেস এবং ভারতীয় প্রযুক্তি সংস্থা অ্যাক্সিসকেডস একটি বাণিজ্যিক সহযোগিতা চুক্তি করেছে। লক্ষ্য ভারতের দ্রুত বাড়তে থাকা মাইক্রোস্যাটেলাইট মার্কেট-এ একসঙ্গে কাজ করা। পরিকল্পনাটি ধাপে ধাপে এগোনোর কথা, যার অন্যতম ভিত্তি ভারতের মেক ইন ইন্ডিয়া নীতি। ফরাসি মহাকাশ প্রযুক্তির সঙ্গে ভারতীয় শিল্প ও ইঞ্জিনিয়ারিং সক্ষমতাকে যুক্ত করাই এই অংশীদারিত্বের মূল লক্ষ্য।

    পাঁচ দশকেরও বেশি পুরনো সম্পর্ক

    ভারত ও ফ্রান্সের মহাকাশ সহযোগিতা অবশ্য নতুন নয়। পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে দুই দেশ মহাকাশ গবেষণা ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে একসঙ্গে কাজ করছে। ইসরো এবং সিএনইএস-এর দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্ব সেই সম্পর্কের অন্যতম ভিত্তি। পৃথিবী পর্যবেক্ষণ, স্পেস জিওডেসি, মানব মহাকাশ অভিযান, পরবর্তী প্রজন্মের লঞ্চ-ভেহিকল প্রযুক্তি এবং গ্রহ অনুসন্ধান—একাধিক ক্ষেত্রে দুই দেশ সহযোগিতা করেছে।

    দুই দেশের মধ্যে স্ট্র্যাটেজিক স্পেস ডায়ালগ বা কৌশলগত মহাকাশ সংলাপও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে অসামরিক এবং প্রতিরক্ষা—দুই ধরনের মহাকাশ সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়। প্রথম বৈঠক হয় ২০২৩ সালের জুনে প্যারিসে। দ্বিতীয় বৈঠক হয় ২০২৪ সালের মার্চে নয়াদিল্লিতে।

    ইসরো-সিএনইএস সহযোগিতায় ত্রিশনা-সহ একাধিক প্রকল্প

    ইসরো এবং সিএনইএস ইতিমধ্যেই ভবিষ্যৎ লঞ্চ-ভেহিকল প্রযুক্তি, যৌথ ত্রিশনা আর্থ অবজারভেশন মিশন, সামুদ্রিক ক্ষেত্র সম্পর্কে নজরদারি এবং স্পেস সিচুয়েশনাল অ্যাওয়ারনেস-এর মতো বিষয়ে চুক্তি করেছে।

    দুই দেশের লঞ্চ-সার্ভিস সংস্থাগুলির মধ্যেও বহু বছরের সহযোগিতা রয়েছে। ভারতীয় পিএসএলভি বাণিজ্যিকভাবে ফরাসি উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করেছে। আবার ফ্রান্সের এরিয়ানস্পেস ভারতীয় জিওস্টেশনারি উপগ্রহ উৎক্ষেপণে পরিষেবা দিয়েছে।

    ফলে মহাকাশ ক্ষেত্রে ভারত-ফ্রান্স সম্পর্ক শুধু গবেষণা বা সরকারি প্রকল্পের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। উৎক্ষেপণ, উপগ্রহ নির্মাণ, পৃথিবী পর্যবেক্ষণ, মহাকাশ নজরদারি এবং বেসরকারি মহাকাশ ব্যবসা—প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রেই সহযোগিতার পরিধি বাড়ছে।

    চন্দ্রযান-৩ থেকে নতুন প্রজন্মের মহাকাশ সহযোগিতা

    ভারতের মহাকাশ কর্মসূচিতে ফরাসি শিল্পের অংশগ্রহণও দীর্ঘদিনের। সাফরানের ভারতের মহাকাশ কর্মসূচিতে যুক্ত থাকার পাশাপাশি চন্দ্রযান-৩ চন্দ্র অভিযানে তাদের অবদান ছিল। একই সঙ্গে ভারতে তাদের শিল্প পরিকাঠামোও সম্প্রসারিত হয়েছে।

    ফলে সাফরান-ধ্রুব স্পেস-এর নতুন চুক্তিকে বিচ্ছিন্ন কোনও বাণিজ্যিক চুক্তি হিসেবে দেখলে পুরো ছবিটি ধরা পড়বে না। বরং এটি ভারতীয় মহাকাশ পরিকাঠামো এবং ফরাসি মহাকাশ প্রযুক্তির মধ্যে ক্রমশ গভীরতর শিল্প-সহযোগিতার পরবর্তী ধাপ।

    প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত ক্ষেত্রেও কেন গুরুত্বপূর্ণ?

    মহাকাশ এখন আর শুধুমাত্র বিজ্ঞান গবেষণার ক্ষেত্র নয়। যোগাযোগ, ন্যাভিগেশন, আবহাওয়া, গোয়েন্দা তথ্য, সীমান্ত নজরদারি, ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কীকরণ এবং সামরিক যোগাযোগ—আধুনিক রাষ্ট্রের নিরাপত্তা কাঠামোর সঙ্গে মহাকাশ পরিকাঠামো সরাসরি যুক্ত।

    এই কারণেই ভারতের জন্য স্পেস সিচুয়েশনাল অ্যাওয়ারনেস এবং মহাকাশে নিজস্ব নজরদারি সক্ষমতা বৃদ্ধি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বিদেশি প্রযুক্তির সঙ্গে ভারতীয় সংস্থার দক্ষতার সমন্বয়ে ৫২টি উপগ্রহের পরিকল্পিত কনস্টিলেশন সেই সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।

    একই সঙ্গে বেসরকারি সংস্থাগুলিকে এই ধরনের প্রকল্পে যুক্ত করার ফলে ভারতের মহাকাশ শিল্পে প্রযুক্তি, উৎপাদন এবং গবেষণার পরিসরও বাড়বে। আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের মাধ্যমে ভারতীয় নিউ স্পেস সংস্থাগুলি বিশ্ববাজারে প্রবেশের আরও সুযোগ পাবে।

    মাক্রঁর ভারত সফরের পর আরও গতি

    ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রঁর ফেব্রুয়ারি মাসে ভারত সফরের সময়ও দুই দেশ অসামরিক উপগ্রহ নির্মাণ এবং মানব মহাকাশ অভিযান-সহ একাধিক ক্ষেত্রে সহযোগিতার পক্ষে সওয়াল করেছিল। তার পরেই প্যারিসের আন্তর্জাতিক মহাকাশ সম্মেলনে একসঙ্গে তিনটি নতুন বাণিজ্যিক চুক্তি সামনে আসা দুই দেশের মহাকাশ অংশীদারিত্বে নতুন গতি নির্দেশ করছে।

    সব মিলিয়ে, ভারত-ফ্রান্সের মহাকাশ সম্পর্ক এখন ইসরো-সিএনইএস-এর ঐতিহ্যবাহী সহযোগিতা থেকে বেরিয়ে সরকারি কর্মসূচি + প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত মহাকাশ সক্ষমতা + বেসরকারি শিল্প + আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক উৎক্ষেপণ—এই চারটি স্তম্ভের উপর দাঁড়াচ্ছে। ২০২৭ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে ৫২টি উপগ্রহের পরিকল্পিত নজরদারি কনস্টিলেশন এবং নতুন বেসরকারি অংশীদারিত্বগুলি সেই পরিবর্তনেরই গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত।

  • Chinese Tank Explodes: চিনা যুদ্ধাস্ত্রের অন্ধ মোহ! শত্রু নিধনের ট্যাঙ্ক যেভাবে নিজের সেনার জন্যই কাল হল বাংলাদেশের

    Chinese Tank Explodes: চিনা যুদ্ধাস্ত্রের অন্ধ মোহ! শত্রু নিধনের ট্যাঙ্ক যেভাবে নিজের সেনার জন্যই কাল হল বাংলাদেশের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রচলিত প্রবাদ রয়েছে— ‘সস্তার তিন অবস্থা’। প্রতিরক্ষার মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল ক্ষেত্রে এই প্রবাদের নির্মম খেসারত যে কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তার এক রক্তাক্ত উদাহরণ হয়ে থাকল চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জের দুর্ঘটনা। গত ৯ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি সামরিক মহড়া চলাকালীন আচমকাই একটি চিনা প্রযুক্তির ট্যাঙ্ক বিস্ফোরিত হয়। বাংলাদেশের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (ISPR) অত্যন্ত সংযতভাবে ঘটনাটি নিশ্চিত করলেও, ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজ স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, বিস্ফোরণের শিকার হওয়া যুদ্ধযানটি চিনের তৈরি ‘টাইপ ৫৯’ (Type 59) বা ‘টাইপ ৬৯-আইআইজি’ (Type 69-IIG) গোত্রের যুদ্ধট্যাঙ্ক। শত্রুর মোকাবিলা করা তো দূরের কথা, মহড়ার মাঠেই নিজের ট্যাঙ্কের কামানের ভেতরের গোলা ফেটে প্রাণ হারিয়েছেন ২ জন বাংলাদেশি সেনা জওয়ান এবং গুরুতর আহত হয়েছেন ১ জন পদস্থ কর্মকর্তা। এই মর্মান্তিক ঘটনাটি কেবল একটি দুর্ঘটনা মাত্র নয়, বরং এটি প্রতিবেশি দেশটির চিনা মরণফাঁদে পা দেওয়ার এক চরম ভূ-রাজনৈতিক সতর্কতা।

    বাংলাদেশ সেনার মূল ভরসা চিনা সামরাস্ত্র

    বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাঁজোয়া বহরের (Armoured Inventory) দিকে তাকালে দেখা যায়, তাদের মূল শক্তিই দাঁড়িয়ে আছে চিনা প্রযুক্তির ওপর। ‘টাইপ ৫৯’, ‘টাইপ ৬৯’ থেকে শুরু করে ‘এমবিটি-২০০০’ বা ‘ভিটি-৫’—বাংলাদেশের প্রধান সবকটি ট্যাঙ্কই চিনের তৈরি বা চিনের সাথে যৌথভাবে উন্নত করা। সোভিয়েত আমলের পুরনো সোভিয়েত টি-৫৪ ট্যাঙ্কের চিনা সংস্করণ এই ‘টাইপ ৫৯’, যা দশকের পর দশক ধরে বাংলাদেশ ব্যবহার করছে। আন্তর্জাতিক সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের অতি-পুরনো ও মেয়াদোত্তীর্ণ চিনা সরঞ্জামগুলোকে অবসরে পাঠানোর পরিবর্তে বারবার আধুনিকীকরণ (Upgrade) করে ব্যবহার করার যে অন্ধ মোহ, তারই চড়া মূল্য দিতে হল সেনাবাহিনীর তাজা দুটি প্রাণকে। চিনা যুদ্ধাস্ত্রের এই ‘ফাঁকিবাজি’ ও নিম্নমানের রক্ষণাবেক্ষণ প্রযুক্তি যে আসলে সুরক্ষার নামে এক একটি ‘টাইম বোম’, তা এই বিস্ফোরণ আবারও বিশ্বমঞ্চে প্রমাণ করে দিল।

    বাংলাদেশের আত্মোপলব্ধির সময়

    এই ঘটনা বাংলাদেশের নীতিনির্ধারকদের জন্য এক বড় আত্মোপলব্ধির সময়। ভারত সর্বদা তার ‘নেইবারহুড ফার্স্ট’ (Neighbourhood First) নীতির মাধ্যমে প্রতিবেশিদের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং টেকসই, নির্ভরযোগ্য প্রতিরক্ষা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। অথচ, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ নানাবিধ ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ এবং অন্ধ ভারত-বিরোধিতার স্রোতে ভেসে সস্তা চিনা ঋণের ফাঁদে ও নিম্নমানের প্রতিরক্ষা সামগ্রীর দিকে ঝুঁকছেপাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার পর বাংলাদেশও এখন হাড়েনহাড়ে টের পাচ্ছে যে চিনা পণ্যের বাহ্যিক জাঁকজমক যতটা, কার্যকারিতা ততটাই শূন্য। প্রতিরক্ষার মতো সার্বভৌম বিষয়ে সস্তার চিনা অস্ত্র-সরঞ্জামের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা দীর্ঘমেয়াদে নিজেদের দেশের সার্বভৌমত্ব এবং জওয়ানদের জীবনকেই চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেবে। হাটহাজারীর এই ছাই হয়ে যাওয়া ট্যাঙ্কটি যেন বাংলাদেশের চিনা সামরিক মোহেরই এক জলজ্যান্ত উদাহরণ। ছবিটা কি দেখতে পাচ্ছেন তারেক রহমান!
  • Swami Vivekananda Chicago Speech: ‘সিস্টার্স অ্যান্ড ব্রাদার্স অফ আমেরিকা’ ১৩৩ বছর পরও কেন প্রাসঙ্গিক স্বামী বিবেকানন্দের শিকাগো ভাষণ?

    Swami Vivekananda Chicago Speech: ‘সিস্টার্স অ্যান্ড ব্রাদার্স অফ আমেরিকা’ ১৩৩ বছর পরও কেন প্রাসঙ্গিক স্বামী বিবেকানন্দের শিকাগো ভাষণ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ ১১ সেপ্টেম্বর। স্বামী বিবেকানন্দের (Swami Vivekananda) ঐতিহাসিক শিকাগো ভাষণের ১৩৩তম বর্ষপূর্তি। ১৮৯৩ সালের এই দিনেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে বিশ্বধর্ম সম্মেলনে হিন্দু ধর্মের প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন শ্রী রামকৃষ্ণের শিষ্য স্বামী বিবেকানন্দ। তাঁর সেই ঐতিহাসিক ভাষণ শুধু বিশ্বধর্ম সম্মেলনেই আলোড়ন তৈরি করেনি, বিশ্বমঞ্চে ভারতীয় সভ্যতা, সনাতন সংস্কৃতি এবং ধর্মীয় সহিষ্ণুতার এক শক্তিশালী পরিচয়ও তুলে ধরেছিল।

    নিজের ভাষণের শুরুতেই স্বামীজি বলেছিলেন, ‘‘সিস্টার্স অ্যান্ড ব্রাদার্স অফ আমেরিকা…’’। যার অর্থ, ‘আমেরিকাবাসী ভগিনী ও ভ্রাতৃবৃন্দ’। তাঁর এই সম্বোধনের পরেই প্রায় পাঁচ মিনিট ধরে করতালি চলেছিল বলে জানা যায়। কারণ, বিশ্বধর্ম সম্মেলনের মঞ্চে তার আগে বক্তারা সাধারণত ‘লেডিস অ্যান্ড জেন্টলম্যান’ বলেই শ্রোতাদের সম্বোধন করেছিলেন। সেখানে স্বামী বিবেকানন্দ আমেরিকাবাসীকে ‘ভাই ও বোন’ বলে সম্বোধন করেন।

    তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছিল ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’-এর ভাবনা, ভারতের সুপ্রাচীন সভ্যতা, সনাতন সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও পরম্পরা। একই সঙ্গে তিনি তুলে ধরেছিলেন ধর্মীয় সহিষ্ণুতার ভারতীয় আদর্শ। তাঁর বক্তব্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল—ভারতবর্ষ কখনও অন্য ধর্মের ওপর আঘাত হানার পথ অনুসরণ করেনি; বরং বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষকে আশ্রয় দিয়েছে।

    বিশ্বমঞ্চে স্বামীজির সেই ভাষণ সেদিন ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করেছিল। তাঁর বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ভারতীয় সভ্যতা ও সনাতন ধর্মের উদারতার একটি শক্তিশালী পরিচয় বিশ্বের সামনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তাঁর ঐতিহাসিক শিকাগো ভাষণের নির্বাচিত কিছু অংশ ও তার তাৎপর্য দেখে নেওয়া যাক।

    পৃথিবীর মধ্যে সর্বাপেক্ষা প্রাচীন সন্ন্যাসী-সমাজের পক্ষ হইতে আমি আপনাদিগকে ধন্যবাদ জানাইতেছি

    ‘‘হে আমার আমেরিকাবাসী ভগিনী ও ভ্রাতৃবৃন্দ, আজ আপনারা আমাদিগকে যে আন্তরিক ও সাদর অভ্যর্থনা করিয়াছেন, তাহার উত্তর দিবার জন্য উঠিতে গিয়া আমার হৃদয় অনির্বচনীয় আনন্দে পরিপূর্ণ হইয়া গিয়াছে। পৃথিবীর মধ্যে সর্বাপেক্ষা প্রাচীন সন্ন্যাসী-সমাজের পক্ষ হইতে আমি আপনাদিগকে ধন্যবাদ জানাইতেছি। সর্বধর্মের যিনি প্রসূতি-স্বরূপ, তাঁহার নামে আমি আপনাদিগকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করিতেছি। সকল জাতি ও সম্প্রদায়ের অন্তর্গত কোটি কোটি হিন্দু নরনারীর হইয়া আমি (Swami Vivekananda) আপনাদিগকে ধন্যবাদ দিতেছি।’’

    আমরা শুধু সকল ধর্মকেই সহ্য করি না, সকল ধর্মকেই আমরা সত্য বলিয়া বিশ্বাস করি

    ‘‘এই সভামঞ্চে সেই কয়েকজন বক্তাকেও আমি ধন্যবাদ জানাই, যাঁহারা প্রাচ্যদেশীয় প্রতিনিধিদের সম্বন্ধে এরূপ মন্তব্য প্রকাশ করিলেন যে, অতি দূরদেশবাসী জাতিসমূহের মধ্য হইতে যাঁহারা এখানে সমাগত হইয়াছেন, তাঁহারাও বিভিন্ন দেশে পরধর্মসহিষ্ণুতার ভাব প্রচারের গৌরব দাবি করিতে পারেন। যে ধর্ম জগৎকে চিরকাল পরমতসহিষ্ণুতা ও সর্বাধিক মত স্বীকার করার শিক্ষা দিয়া আসিতেছে, আমি সেই ধর্মভুক্ত বলিয়া নিজেকে গৌরবান্বিত মনে করি। আমরা শুধু সকল ধর্মকেই সহ্য করি না, সকল ধর্মকেই আমরা সত্য বলিয়া বিশ্বাস করি। যে ধর্মের পবিত্র সংস্কৃত ভাষায় ইংরেজি ‘এক্সক্লুশন’ (ভাবার্থঃ বহিষ্কার, পরিবর্জন) শব্দটি অনুবাদ করা যায় না, আমি সেই ধর্মভুক্ত বলিয়া গর্ব অনুভব করি। যে জাতি পৃথিবীর সকল ধর্মের ও সকল জাতির নিপীড়িত ও আশ্রয়প্রার্থী জনগণকে চিরকাল আশ্রয় দিয়া আসিয়াছে, আমি (Swami Vivekananda) সেই জাতির অন্তর্ভুক্ত বলিয়া নিজেকে গৌরবান্বিত মনে করি।’’

    আমরাই ইহুদিদের খাঁটি বংশধরগণের অবশিষ্ট অংশকে সাদরে হৃদয়ে ধারণ করিয়া রাখিয়াছি

    ‘‘আমি আপনাদের এ কথা বলিতে গর্ব অনুভব করিতেছি যে, আমরাই ইহুদিদের খাঁটি বংশধরগণের অবশিষ্ট অংশকে সাদরে হৃদয়ে ধারণ করিয়া রাখিয়াছি; যে বৎসর রোমানদের ভয়ঙ্কর উৎপীড়নে তাহাদের পবিত্র মন্দির বিধ্বস্ত হয়, সেই বৎসরই তাহারা দক্ষিণভারতে আমাদের মধ্যে আশ্রয়লাভের জন্য আসিয়াছিলেন। জরাথুষ্ট্রের অনুগামী মহান পারসিক জাতির অবশিষ্টাংশকে যে ধর্মাবলম্বীগণ আশ্রয় দান করিয়াছিল এবং আজ পর্যন্ত যাহারা তাঁহাদিগকে প্রতিপালন করিতেছেন, আমি তাঁহাদেরই অন্তর্ভুক্ত।’’

    ‘যত মত তত পথ’-এর ভাবনা

    স্বামী বিবেকানন্দের শিকাগো ভাষণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল বিভিন্ন ধর্ম ও মতের প্রতি তাঁর উদার দৃষ্টিভঙ্গি। বিভিন্ন পথ অনুসরণ করেও মানুষ যে একই পরম লক্ষ্যে পৌঁছতে পারে, সেই ভাবনাই তিনি তুলে ধরেছিলেন।

    ‘‘বিভিন্ন নদীর উৎস বিভিন্ন স্থানে, কিন্তু তাহারা সকলে যেমন এক সমুদ্রে তাহাদের জলরাশি ঢালিয়া মিলাইয়া দেয়, তেমনই হে ভগবান, নিজ নিজ রুচির বৈচিত্র্যবশতঃ সরল ও কুটিল নানা পথে যাহারা চলিয়াছে, তুমিই তাহাদের সকলের একমাত্র লক্ষ্য। পৃথিবীতে এযাবৎ অনুষ্ঠিত সম্মেলনগুলির মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ মহাসম্মেলনে গীতা-প্রচারিত সেই অপূর্ব মতেরই সত্যতা প্রতিপন্ন করিতেছি, সেই বাণীই ঘোষণা করিতেছিঃ ‘যে যথা মাং প্রপদ্যন্তে তাংস্তথৈব ভজাম্যহম্। মম বর্ত্মানুবর্তন্তে মনুষ্যাঃ পার্থ সর্বশঃ।।’ (যে কোনও ব্যক্তি যে ভাব আশ্রয় করিয়া আসুক না কেন, আমি তাহাকে সেই ভাবেই অনুগ্রহ করিয়া থাকি। হে অর্জুন মনুষ্যগণ সর্বতোভাবে আমার পথেই চলিয়া থাকে)।’’

    সাম্প্রদায়িকতা, গোঁড়ামি ও ধর্মোন্মত্ততার বিরুদ্ধে স্বামীজির বার্তা

    স্বামী বিবেকানন্দের শিকাগো ভাষণের শেষাংশে ছিল সাম্প্রদায়িকতা, গোঁড়ামি ও ধর্মোন্মত্ততার বিরুদ্ধে স্পষ্ট বার্তা। মানবসভ্যতার অগ্রগতির পথে ধর্মের নামে হিংসা ও বিভাজন যে কতটা ভয়ঙ্কর, তা তিনি সেদিন বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেছিলেন।

    ‘‘সাম্প্রদায়িকতা, গোঁড়ামি ও এগুলির ভয়াবহ ফলস্বরূপ ধর্মোন্মত্ততা এই সুন্দর পৃথিবীকে বহুকাল অধিকার করিয়া রাখিয়াছে। ইহারা পৃথিবীকে হিংসায় পূর্ণ করিয়াছে, বরাবর ইহাকে নরশোণিতে সিক্ত করিয়াছে, সভ্যতা ধ্বংস করিয়াছে এবং সমগ্র জাতিকে হতাশায় মগ্ন করিয়াছে। এই-সকল ভীষণ পিশাচগুলি যদি না থাকিত, তাহা হইলে মানবসমাজ আজ পূর্বাপেক্ষা অনেক উন্নত হইত। তবে ইহাদের মৃত্যুকাল উপস্থিত; এবং আমি সর্বতোভাবে আশা করি, এই ধর্ম-মহাসমিতির সম্মানার্থ আজ যে ঘণ্টাধ্বনি নিনাদিত হইয়াছে, তাহাই সর্ববিধ ধর্মোন্মত্ততা, তরবারি অথবা লিখনীমুখে অনুষ্ঠিত সর্বপ্রকার নির্যাতন এবং একই লক্ষ্যের দিকে অগ্রসর ব্যক্তিগণের মধ্যে সর্ববিধ অসদ্ভাবের সম্পূর্ণ অবসানের বার্তা ঘোষণা করুক।’’

    খেতড়ির রাজা অজিত সিংহের সাহায্যে স্বামীজি পৌঁছান আমেরিকা

    তবে স্বামী বিবেকানন্দের আমেরিকা সফরের পথ মোটেই সহজ ছিল না। উত্তর-পূর্ব রাজস্থানের খেতড়ির রাজা অজিত সিংহ তাঁকে শিকাগো যাওয়ার জন্য ‘ওরিয়েন্ট’ জাহাজের ফার্স্ট ক্লাসের টিকিট কিনে দিয়েছিলেন বলে জানা যায়। আমেরিকায় পৌঁছেও অবশ্য স্বামীজিকে নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছিল। এমনকী বর্ণবিদ্বেষেরও শিকার হয়েছিলেন তিনি।

    তৎকালীন আমেরিকার একাংশের মানুষের কাছে ভারত ছিল অত্যন্ত পিছিয়ে থাকা একটি দেশ। সেই পরিস্থিতিতেই শিকাগো পৌঁছে স্বামী বিবেকানন্দ বিশ্বধর্ম সম্মেলনে বক্তব্য রাখার সুযোগ পান। শেষ পর্যন্ত হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জন হেনরি রাইটের ব্যক্তিগত পরিচিতি ও সুপারিশের মাধ্যমে সম্মেলনে তাঁর বক্তৃতা দেওয়ার পথ খুলে যায়।

    ১৮৯৩ সালের সেই ভাষণ আজও ভারতীয় ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ধর্মীয় সহিষ্ণুতা, মানবিকতা, বহুত্ববাদ এবং বিশ্বভ্রাতৃত্বের যে বার্তা স্বামী বিবেকানন্দ সেদিন দিয়েছিলেন, ১৩৩ বছর পরেও তার প্রাসঙ্গিকতা অটুট।

  • Modi Putin Meeting: এস-৪০০, এসইউ-৫৭ থেকে ব্রহ্মোস— শুক্রবার মোদি-পুতিন বৈঠকে প্রতিরক্ষায় হতে পারে বড় সিদ্ধান্ত

    Modi Putin Meeting: এস-৪০০, এসইউ-৫৭ থেকে ব্রহ্মোস— শুক্রবার মোদি-পুতিন বৈঠকে প্রতিরক্ষায় হতে পারে বড় সিদ্ধান্ত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দিল্লিতে মুখোমুখি বৈঠকে বসতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এই বৈঠক হতে চলেছে ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আগে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পর্ব। প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য, জ্বালানি, পরমাণু সহযোগিতা থেকে শুরু করে পরিবর্তিত আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি—একাধিক বিষয়ে আলোচনা হতে পারে দুই রাষ্ট্রনেতার মধ্যে।

    মোদি-পুতিন বৈঠকে বড় অংশ জুড়ে থাকবে প্রতিরক্ষা

    তবে মোদি-পুতিন বৈঠকে প্রতিরক্ষা সহযোগিতাই বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে দীর্ঘদিনের ভারত-রাশিয়া প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গিয়ে যৌথ উৎপাদন, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং যৌথ উন্নয়নের দিকে যাওয়ার বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে আলোচনার কেন্দ্রে থাকতে পারে এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাশিয়ার এসইউ-৫৭ পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান এবং ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির পরবর্তী পর্যায়।

    এস-৪০০-এর শেষ ইউনিট কবে? বড় প্রশ্ন বৈঠকে

    মোদি-পুতিন আলোচনায় সবচেয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিরক্ষা-সংক্রান্ত বিষয়গুলির মধ্যে অন্যতম হতে পারে এস-৪০০ ট্রায়াম্ফ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বাকি থাকা শেষ ইউনিটের সরবরাহ। ২০১৮ সালে প্রায় ৫.৪৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের চুক্তিতে রাশিয়ার কাছ থেকে পাঁচটি এস-৪০০ ব্যবস্থা কেনার সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। এর মধ্যে চারটি ব্যবস্থা ইতিমধ্যেই ভারতে এসে পৌঁছেছে। কিন্তু রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে পঞ্চম এবং শেষ ইউনিটের সরবরাহে বিলম্ব হয়েছে।

    তবে মস্কো যে চুক্তির প্রতিশ্রুতি পূরণে এখনও দায়বদ্ধ, তা স্পষ্ট করেছে ক্রেমলিন। সম্প্রতি ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভও জানিয়েছেন, রাশিয়া চুক্তি অনুযায়ী নিজেদের দায়িত্ব পালন করবে। ভারতের জন্য এস-৪০০-এর গুরুত্বও যথেষ্ট বেশি। দীর্ঘ পাল্লায় বিমান এবং বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রের মতো আকাশপথের হুমকি শনাক্ত ও প্রতিহত করার ক্ষমতার কারণে এটি ভারতের বহুস্তরীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ফলে শেষ এস-৪০০ ইউনিটের সরবরাহের সময়সূচি নিয়ে দুই নেতার মধ্যে আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

    এসইউ-৫৭: শুধু যুদ্ধবিমান কেনা নয়, প্রযুক্তি হস্তান্তরেও নজর ভারতের

    মোদি-পুতিন বৈঠকে আরেকটি বড় বিষয় হতে পারে রাশিয়ার এসইউ-৫৭ পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ যুদ্ধবিমান। ভারতের বাজারে এসইউ-৫৭-কে দীর্ঘদিন ধরেই তুলে ধরছে মস্কো। কিন্তু ভারতের আগ্রহ শুধু সরাসরি যুদ্ধবিমান কেনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। বরং প্রযুক্তি হস্তান্তর, দেশে উৎপাদন এবং ভারতীয় অস্ত্র ও প্রযুক্তির সঙ্গে রুশ যুদ্ধবিমানের সংযুক্তি—এই বিষয়গুলি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

    ভারত গত কয়েক বছরে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর উপর জোর দিয়েছে। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে এসইউ-৫৭ নিয়ে কোনও সম্ভাব্য চুক্তি হলে তার মূল্যায়ন শুধু কতগুলি বিমান কেনা হবে, সেই প্রশ্নে আটকে থাকবে না। ভারতের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে—কতটা প্রযুক্তি দেশে আসবে, উৎপাদনে ভারতীয় সংস্থাগুলির ভূমিকা কতটা থাকবে এবং ভবিষ্যতে এই যুদ্ধবিমানের রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়নে ভারত কতটা স্বাধীনতা পাবে। অর্থাৎ, এসইউ-৫৭ নিয়ে আলোচনা হলে তা ভারত-রাশিয়া প্রতিরক্ষা সম্পর্ককে ক্রেতা-বিক্রেতা সম্পর্ক থেকে প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্বের দিকে নিয়ে যাওয়ার একটি সম্ভাব্য পদক্ষেপ হতে পারে।

    ব্রহ্মোসে এবার নতুন ক্ষমতা, নতুন বাজারের লক্ষ্য

    ভারত ও রাশিয়ার প্রতিরক্ষা সহযোগিতার সবচেয়ে সফল উদাহরণগুলির একটি হল ব্রহ্মোস সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র। দুই দেশ যৌথভাবে তৈরি করা এই ক্ষেপণাস্ত্র ইতিমধ্যেই ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র হয়ে উঠেছে। এবার ব্রহ্মোসের সক্ষমতা আরও বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।

    ক্রেমলিনের তরফে ইতিমধ্যেই ব্রহ্মোসের উন্নয়ন এবং নতুন ক্ষমতা যুক্ত করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে সামনে আসছে ব্রহ্মোস-এনজি—বর্তমান ব্রহ্মোসের তুলনায় ছোট ও হালকা সংস্করণ।এই কমপ্যাক্ট সংস্করণের অন্যতম সুবিধা হতে পারে আরও বেশি সংখ্যক যুদ্ধবিমানে এটিকে সংযুক্ত করার সুযোগ। ভারতের দেশীয় তেজস-এর মতো তুলনামূলক হালকা যুদ্ধবিমানেও এর ব্যবহার সম্ভব হলে ভারতীয় বিমানবাহিনীর আকাশভিত্তিক আক্রমণক্ষমতায় নতুন মাত্রা যোগ হতে পারে।

    শুধু ভারতীয় বাহিনীর প্রয়োজন নয়, আন্তর্জাতিক বাজারেও ব্রহ্মোসের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার দিকে নজর রয়েছে দুই দেশের। যৌথ উৎপাদন, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং তৃতীয় দেশে রফতানি—এই মডেল ভবিষ্যতে ভারত-রাশিয়া প্রতিরক্ষা সহযোগিতার আরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠতে পারে।

    ভারত-রাশিয়া সম্পর্কের নতুন মডেল: অস্ত্র কেনা থেকে যৌথ উৎপাদন

    ভারত-রাশিয়া প্রতিরক্ষা সম্পর্ক ঐতিহাসিকভাবে অত্যন্ত শক্তিশালী। ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর বিপুল সংখ্যক প্ল্যাটফর্ম ও অস্ত্র ব্যবস্থার সঙ্গে রুশ প্রযুক্তির দীর্ঘ সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সেই সম্পর্কের চরিত্রও বদলাচ্ছে। ভারত এখন চায় প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম আমদানির পাশাপাশি দেশের মাটিতে উৎপাদন, প্রযুক্তি অর্জন, গবেষণা ও উন্নয়ন এবং রফতানি সক্ষমতা বাড়াতে।

    অন্যদিকে, রাশিয়াও শুধুমাত্র অস্ত্র বিক্রির পরিবর্তে যৌথ গবেষণা, প্রযুক্তি ভাগাভাগি, উৎপাদন এবং তৃতীয় দেশের বাজারে প্রবেশের মাধ্যমে সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহী।  ব্রহ্মোস এই পরিবর্তিত মডেলের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। বিশেষ করে ফিলিপিন্স ব্রহ্মোসের প্রথম বিদেশি ক্রেতা হওয়ার পর ভারতীয় প্রতিরক্ষা রফতানির ক্ষেত্রেও এই প্রকল্পের গুরুত্ব বেড়েছে।

    ইউক্রেন যুদ্ধের পরও কেন গুরুত্বপূর্ণ রাশিয়া?

    রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে মস্কোর সঙ্গে ভারতের প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় সরবরাহ এবং রসদ সংক্রান্ত নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। একই সময়ে ভারত তার প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের উৎস আরও বৈচিত্র্যময় করার চেষ্টা করছে। তারপরও রাশিয়া ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা অংশীদার।

    এই বাস্তবতায় মোদি-পুতিন বৈঠকের গুরুত্ব শুধু নতুন কোনও অস্ত্র চুক্তির সম্ভাবনায় সীমাবদ্ধ নয়। বরং পুরনো চুক্তিগুলির বাস্তবায়ন, সরবরাহ ব্যবস্থার স্থায়িত্ব এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার কাঠামো—সবই আলোচনায় আসতে পারে। বিশেষ করে এস-৪০০-এর শেষ ইউনিটের সরবরাহ এবং ভবিষ্যতের যৌথ উৎপাদন প্রকল্পগুলি নিয়ে স্পষ্টতা দুই দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্কের পরবর্তী দিক নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

    ব্রিকসের আগে মোদি-পুতিন বৈঠক, নজরে ভূ-রাজনীতিও

    ১১ সেপ্টেম্বর মোদি-পুতিন বৈঠকের পরই ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে বসবে ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন। সেখানে বিশ্বের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রনেতার উপস্থিতি প্রত্যাশিত। তাঁদের মধ্যে থাকবেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংও। ফলে মোদি-পুতিন বৈঠককে শুধু দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা আলোচনার দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে ছবির একটি বড় অংশ বাদ পড়বে।

    প্রতিরক্ষার পাশাপাশি বাণিজ্য, জ্বালানি, পরমাণু সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হতে পারে। বর্তমান বিশ্ব রাজনীতিতে দ্রুত পরিবর্তনের মধ্যে ভারত ও রাশিয়ার সম্পর্ক কোন পথে এগোবে, তারও একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা আসতে পারে এই বৈঠক থেকে।

    প্রতিরক্ষায় দ্বিপাক্ষিক প্রযুক্তি ও শিল্প সহযোগিতায় জোর

    এস-৪০০-এর বাকি সরবরাহ, এসইউ-৫৭-এর প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং ব্রহ্মোসের নতুন সংস্করণ ও রফতানি—তিনটি বিষয়ই আলাদা হলেও এর মধ্যে একটি অভিন্ন সূত্র রয়েছে। সেটি হল—ভারত-রাশিয়া প্রতিরক্ষা সম্পর্ককে শুধুমাত্র অস্ত্র কেনাবেচার সম্পর্ক থেকে আরও গভীর প্রযুক্তিগত ও শিল্প সহযোগিতার দিকে নিয়ে যাওয়া। মোদি-পুতিন বৈঠকে সেই পরিবর্তনের কতটা স্পষ্ট রূপরেখা সামনে আসে, এখন সেদিকেই নজর প্রতিরক্ষা মহলের।

  • Kaushiki Amavasya: আজ কৌশিকী অমাবস্যার নিশিপালন, কেন এই রাত এত গুরুত্বপূর্ণ? জানুন দেবী কৌশিকীর আবির্ভাব থেকে বামাক্ষ্যাপার সিদ্ধিলাভের কাহিনি

    Kaushiki Amavasya: আজ কৌশিকী অমাবস্যার নিশিপালন, কেন এই রাত এত গুরুত্বপূর্ণ? জানুন দেবী কৌশিকীর আবির্ভাব থেকে বামাক্ষ্যাপার সিদ্ধিলাভের কাহিনি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভাদ্র মাসের শুরুতেই যে অমাবস্যা, সেটাই কৌশিকী অমাবস্যা (Kaushiki Amavasya) নামে পরিচিত। আজ, বৃহস্পতিবার ১০ সেপ্টেম্বর (বাংলা ১৪৩৩ সালের ২৩ ভাদ্র) কৌশিকী অমাবস্যা। এদিন তিথি শুরু হচ্ছে সকাল ১০টা ১০ মিনিট থেকে। সেই হিসেবে বৃহস্পতিবারই অমাবস্যার নিশিপালন। অমাবস্যা তিথি শেষ হবে শুক্রবার ১১ সেপ্টেম্বর। সেদিন সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে অমাবস্যা ছাড়ছে। কথিত আছে, এই কৌশিকী আমাবস্যার রাতে তারাপীঠের মহাশ্মশানের শ্বেতশিমূল গাছের নীচে সাধনা করে মা তারার দর্শন পেয়ে সাধনায় সিদ্ধিলাভ করেছিলেন সাধক বামাক্ষ্যাপা। সেই উপলক্ষে প্রতি বছর এই দিনটিতে কয়েক লক্ষ পুণ্যার্থীর ভিড় হয় তারাপীঠে। কৌশিকী অমাবস্যা উপলক্ষে তারাপীঠে লক্ষাধিক ভক্তের সমাগম হয়। উৎসব উপলক্ষে গোটা তারাপীঠ সেজে উঠেছে ফুল ও আলোর মালায়। অপ্রীতিকর ঘটনা আটকাতে প্রচুর পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। গোটা মন্দির চত্বর মুড়ে ফেলা হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে।

    পৌরাণিক কাহিনি

    এই পুজোর সঙ্গে জড়িত আছে নানা পৌরাণিক কাহিনি। মার্কণ্ডেয় পুরাণ সূত্র থেকে জানা যায়, মহাপরাক্রমী দৈত্য ভ্রাতৃদ্বয় শুম্ভ ও নিশুম্ভ ব্রহ্মাদেবের পরম ভক্ত ছিলেন। সাধনায় তুষ্ট ভগবান ব্রহ্মা ওদের বর দিয়ে বলেন, তোমরা ত্রিভুবনে অবধ্য হবে। তবে কখনও যদি কোনও অযোনিসম্ভবা নারীর সঙ্গে তোমাদের সংঘাত ঘটে তবে ওই নারীর দ্বারাই তোমরা নিহত হবে। এই কথাগুলি স্মরণে রেখো। ব্রহ্মার বরে বলীয়ান শুম্ভ নিশুম্ভ ভাবল ত্রিভুবনে এমন কোনও নারীই জন্মাতে পারে না যে মাতৃগর্ভজাত নয়। অতএব তারা অমর, এই বিষয়ে কোনও সন্দেহের অবকাশ নেই। এরপর দানব ভ্রাতৃদ্বয় প্রথমেই স্বর্গরাজ্য আক্রমণ করল। ভীত দেবকুল তখন শুম্ভ-নিশুম্ভর হাত থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য দেবাদিদেব মহাদেবের শরণাপন্ন হয়।

    দেবী কৌশিকীর জন্ম…

    মহাদেব (Lord Shiva) ঠাট্টার ছলে ঘোর কৃষ্ণবর্ণা পার্বতীকে (Goddess Parvati) ডেকে বলেন, ‘হে কালিকে, তুমি এই বিপদ থেকে দেবতাদের রক্ষা করো।’ জনসমক্ষে পতিমুখে কালিকে সম্বোধন শুনে দেবী পার্বতী অত্যন্ত মর্মাহত হন। তৎক্ষণাৎ মানস সরোবরে গিয়ে নিজেকে অভিষিক্ত করে নিজ গাত্রের সকল কৃষ্ণবর্ণ কোষগুলিকে পরিত্যাগ করে এক অসামান্যা সুবর্ণ রূপ ধারণ করে পুনঃপ্রকটিতা হন। অন্যদিকে, পার্বতীর ফেলা শরীরকোষ থেকে আর এক দেবী আবির্ভুত হন। সেই দেবী কৌশিকী নামে পরিচিত। দেবী কৌশিকীর আবির্ভাবের পর দেবী ভগবতী কৃষ্ণবর্ণ ধারণ করেন এবং দেবী কালিকা বা কালী নামে পরিচয় লাভ করেন। দেবী কৌশিকী অযোনিসম্ভবা ছিলেন, সেই কারণে কৌশিকী দেবীই শুম্ভ ও নিশুম্ভকে বধ করেন। যুদ্ধকালীন সময়ে দেবী কৌশিকীর শরীর থেকে হাজারও যোদ্ধা সৃষ্ট হয় এবং তারাই সমগ্র অসুরকুলকে বিনাশ করে দেয়। এই ঘটনাটি ভাদ্র অমাবস্যায় ঘটায়, পরবর্তীকালে এটি কৌশিকী অমাবস্যা নামে ধরাধামে খ্যাত হয়।

    বিশ্বাস, তন্ত্রমত ও শাস্ত্র মতে পুজো

    ভাদ্র মাসের এই কৌশিকী অমাবস্যা তিথি যে সকল মানুষ ধর্ম, তন্ত্র, মন্ত্র, সাধনা এবং ঈশ্বর বিশ্বাসী তাদের কাছে বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ। কৌশিকী অমাবস্যার সঙ্গে তারাপীঠের অঙ্গাঅঙ্গি সম্পর্ক। বিশ্বাস, তন্ত্রমতে ও শাস্ত্র মতে ভাদ্রমাসের এই বিশেষ তিথিতে নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে দেবীর পুজো করলে মেলে সুফল। তন্ত্রশাস্ত্র মতে গুপ্ত সাধনা ও কঠিন সাধনার বলে অনেকেই এই বিশেষ দিনে কাঙ্খিত ফল পান। কৌশিকী অমাবস্যার পবিত্র লগ্নে তারাপীঠ মন্দিরে, বিশেষ উপাচারে পুজো করা হয় তারা মায়ের৷ তন্ত্র মতে, এই রাতকে ‘তারা রাত্রি’ও বলা হয়। বিশ্বাস, এক বিশেষ মুহূর্তে স্বর্গ ও নরক দুইয়ের দরজা মুহূর্তের জন্য খোলে ও সাধক নিজের ইচ্ছা মতো ধনাত্মক অথবা ঋণাত্মক শক্তি সাধনার মধ্যে আত্মস্থ করেন ও সিদ্ধিলাভ করেন।

    বামাক্ষ্যাপাকে দর্শন দিয়েছিলেন মা তারা

    আবার কৌশিকী অমাবস্যার এই তিথিতে তন্ত্র সাধনার এক বিশেষ রাতে। কথিত আছে, ওই অমাবস্যা তিথিতেই সাধক বামাক্ষ্যাপাকে দেবী কৌশিকী ‘তারা’ নামে তারাপীঠ (Tarapith) মহাশ্মশানে দর্শন দিয়েছিলেন। অমাবস্যার এই বিশেষ তিথিতে সাধক বামাক্ষ্যাপা (Sadhak Byamakhyapa) তারাপীঠের মহাশ্মশানের শ্বেতশিমূল গাছের তলায় মা তারার (Tara Maa) আরাধনা করে সিদ্ধিলাভ করেছিলেন। লোকমুখে প্রচলিত কাহিনি সূত্রে শোনা যায়, দেবী কৌশিকী ‘তারা’ নামে ওই বিশেষ অমাবস্যায় তারাপীঠ মহাশ্মশানে বিরাজিতা থাকেন। সেই কারণে তারাপীঠ মহাশ্মশানে ওই দিন লক্ষ লক্ষ ভক্তের সমাবেশ ঘটে। ভক্তগণের বিশ্বাস, ওই দিন মাকে পুজো করলে মা ভক্তগণের মনোবাঞ্ছা পূর্ণ করে দেন।

    দ্বারকা নদীতে স্নান করলে পুণ্যলাভ হয়

    দেবী কৌশিকী এবং তারা মা অভিন্ন বলে বিশ্বাস ভক্তদের। অনেকেই বিশ্বাস করেন, এই দিন মা তারার পুজো দিলে এবং দ্বারকা নদীতে স্নান করলে পুণ্যলাভ হয় এবং কুম্ভস্নান করা হয়। বিশেষ এই তিথিতে তারাপীঠে তারা মায়ের পুজো করলে সকল মনের ইচ্ছে পূরণ হয়। এই বিশ্বাসে আজও ভারতবর্ষের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ ওই দিনটিতে তারাপীঠে ছুটে আসেন। কৌশিকী অমাবস্যার দিন বাড়ি রাখুন পরিচ্ছন্ন। পুরনো ছেঁড়া কোনও জামাকাপড় থাকলে তা ফেলে দিন। সন্ধ্যের পর বাড়ির তুলসী মঞ্চে তিলের প্রদীপ জ্বালালে তা সংসারে কোনও নেতিবাচক শক্তি প্রবেশ করতে দেয় না। এই তিথি কেবলমাত্র হিন্দুশাস্ত্রে নয়, বৌদ্ধ শাস্ত্রেও বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

    তারাপীঠে বিশেষ ভোগ

    তারাপীঠে মা তারাকে এদিন (Kaushiki Amavasya) বিশেষ ভোগ নিবেদন করা হয়। যার মধ্যে থাকে পোলাও, খিচুড়ি, অন্ন, পাঁচ রকম ভাজা, একাধিক সবজি তরকারি, শোল মাছ পোড়া, আরও ৫ রকম মাছের পদ, বলির পাঁঠার মাংস, পায়েস, মিষ্টি, চাটনি ইত্যাদি। সন্ধ্যার ভোগে মা তারাকে লুচি, সুজি, ভাজা ও নানান রকমের মিষ্টি অর্পণ করা হয়। কৌশিকী অমাবস্যার রাতের ভোগে মা তারাকে অর্পণ করা হবে খিচুড়ি, মাছ ভাজা ও বলি দেওয়া পাঁঠা মাংস।

  • Gen Z Suicide Trend: অনলাইনে হাজার বন্ধু, বাস্তবে নিঃসঙ্গ! কেন জেন জি-র মধ্যে বাড়ছে আত্মহত্যার প্রবণতা?

    Gen Z Suicide Trend: অনলাইনে হাজার বন্ধু, বাস্তবে নিঃসঙ্গ! কেন জেন জি-র মধ্যে বাড়ছে আত্মহত্যার প্রবণতা?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    আশপাশের পরিচিত মহলেই এখন আর জীবনের গন্ডি আটকে থাকছে না! মুখোমুখি যোগাযোগ না থাকলেও, মুঠোফোনের দৌলতে এখন বহু দূর দেশে, কখনো না দেখা মানুষ ও সহজেই জেনে যান জীবনের খুঁটিনাটি! তাঁদের মতামত, তার প্রত্যাশাও সহজেই চাপিয়ে দেওয়া যায়। সোশ্যাল মিডিয়ার ভার্চুয়াল জগত এখন জীবনের অনেক ওঠা-পড়া আর সফল-অসফলের মানদণ্ড নির্ধারণ করে। আর এতেই বাড়ছে বিপদ! এমনটাই মনে করছেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞেরা।

    ১০ সেপ্টেম্বর ওয়ার্ল্ড সুইসাইড প্রিভেনশন ডে! বিশ্ব জুড়ে আত্মহত্যার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। বাদ নেই ভারত। ভারতের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এই প্রবণতা বিপজ্জনক হারে বেড়েছে। তাই আগাম সচেতনতা জরুরি। প্রথম থেকেই জীবন যাপনের কিছু বদল প্রয়োজন। তবেই সুস্থ ও সুন্দর দীর্ঘ জীবন কাটানো যাবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    কী বলছে পরিসংখ্যান?

    ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ১ লাখ ৭০ হাজারের বেশি মানুষ আত্মহত্যা করেছেন। ২০১৯ সালের তুলনায় প্রায় ২২ শতাংশ বেশি মানুষ আত্মহত্যা করেছেন। ওই পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মোট আত্মহত্যার ঘটনায় দুই তৃতীয়াংশের বয়স ১৮ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। অর্থাৎ দেশের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়ছে। যা যথেষ্ট বিপজ্জনক।

    ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরো সূত্রে জানা গিয়েছে, তরুণ প্রজন্মের আত্মহত্যার কারণ বিশ্লেষণ করে দেখা গিয়েছে, ৩৩.৫ শতাংশ পারিবারিক কারণে আত্মহত্যা করেছেন। অসুস্থতার কারণে ১৮% আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। এই অসুস্থতা শারীরিক এবং মানসিক। মাদক আসক্তির জেরে ৮ শতাংশ আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে।

    কেন জেন জি-দের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়ছে?

    সামাজিক প্রত্যাশার চাপ!

    মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, সামাজিক প্রত্যাশার তীব্র চাপের জেরেই তরুণ প্রজন্মের মধ্যে মানসিক অবসাদ‌ তৈরি হচ্ছে। হতাশার জন্ম নিচ্ছে। এর জেরেই আত্মহত্যার ঘটনা বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে পড়াশোনার চাপ, চাকরির চাপ , পেশাগত জীবনে সফল হওয়ার চাপ থাকে। অনেক সময়েই এগুলো মানসিক অবসাদের কারণ হয়ে ওঠে। আশপাশের মানুষের প্রত্যাশার মাপকাঠিতে উত্তীর্ণ হওয়া কঠিন হয়ে যায়। তার উপরে এখন ভার্চুয়াল জগতের চাপ, বাড়তি হতাশা তৈরি করছে। ব্যক্তিগত সম্পর্কেও সেই চাপ দেখা যায়।

    মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, সামাজিক মাধ্যমে সবকিছুই সুন্দর আর সফল দেখানোর প্রবণতা বাড়ছে। সেগুলোই জীবনে বেঁচে থাকার একমাত্র চাবিকাঠি হয়ে উঠছে। কিন্তু বাস্তবে সব সময় সেটা সম্ভব হয় না। তখন ধাক্কা লাগছে। অনেক সময়েই সোশ্যাল মিডিয়ায় অপরিচিত মানুষদের সীমাহীন মন্তব্য জীবন যাপনের দিক নির্ধারণ করছে। এগুলো একেবারেই স্বাস্থ্যকর নয়। এর ফলে অনেক সময়েই হতাশা, উদ্বেগ এবং অবসাদ তৈরি হচ্ছে। ফলে, আত্মহত্যার মতো ঘটনা ঘটছে।

    পারিবারিক ও ব্যক্তিগত সম্পর্কে টানাপড়েন!

    মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, ১৮-৩০ বছর বয়সে মানুষ একাধিক নতুন সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। এই সময়ে জীবনের নানান নতুন সম্পর্কের সমীকরণ তৈরি হয়। পারিবারিক সম্পর্কও জটিল হয়ে যায়। অনেকের ব্যক্তিগত জীবনে জটিলতা তৈরি হয়। সবটা সহজে ভারসাম্য বজায় থাকে না। পরিসংখ্যান জানাচ্ছে, পারিবারিক ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের জটিলতার কারণেই জেন জি-র আত্মহত্যার ঘটনা সবচেয়ে বেশি।

    বাস্তবে একাকিত্ব!

    জেন জি প্রজন্মের অন্যতম সমস্যা বাস্তবে একাকিত্ব! এমনটাই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় অনলাইনে হাজার হাজার বন্ধু থাকলেও বিপদে পাশে থাকার মতো বন্ধুর অভাব দেখা দিচ্ছে। গল্প করা, সময় কাটানো, নিজেদের অনুভূতি ভাগ করে নেওয়া মানুষের অভাব মানসিক জটিলতা তৈরি করে। ফলে, কোনো সমস্যা দেখা দিলে সেটা ভাগ করে নেওয়া যায় না। আত্মহত্যার মতো ঘটনা বাড়ে।

    মদ্যপান ও আসক্তি!

    ভারতে তরুণ প্রজন্মের আত্মহত্যার অন্যতম কারণ মাদক ও মদে আসক্তি। এমনটিই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, আসক্তি থাকলে হঠকারিতা বাড়ে। সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কমে। আর তার ফলেই আত্মহত্যার মতো ঘটনা বাড়ে।

    কীভাবে আত্মহত্যার ঘটনা কমতে পারে?

    মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, আত্মহত্যার ঘটনা ঠেকাতে জীবন যাপন স্বাস্থ্যকর করা জরুরি।‌ কারণ, প্রথম থেকেই শরীর ও মনের স্বাস্থ্যের দিকে নজর দিলে আত্মহত্যার মতো দূর্ঘটনা এড়ানো সহজ‌ হবে।

    পারিবারিক সম্পর্কে বাড়তি নজর!

    মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, পারিবারিক সম্পর্ক নিয়ে বাড়তি নজরদারি জরুরি।‌ যেকোনো সমস্যার কথা পরিবারের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া যাবে, এই পরিবেশ আর নিশ্চয়তা জরুরি। তবেই যেকোনো সঙ্কটে পরিবারের সঙ্গে সমস্যা ভাগ করে নেওয়া যাবে। হঠকারি সিদ্ধান্ত নিতে হবে না।‌ ছোট থেকেই শিশু মনে পরিবার নিয়ে এই নিশ্চয়তা দিতে হবে। যাতে সে বড় হলেও যেকোনো সমস্যা পরিবারের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, পরিবারের মধ্যে যেকোনো একজনকে তরুণ প্রজন্মের কাছে এমন বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠতে হবে, যাতে সে সহজ‌ ভাবে মনের কথা প্রকাশ করতে পারে।

    ভার্চুয়াল জগতের আসক্তি কমানো!

    মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভার্চুয়াল জগতের আসক্তি কমলে মানসিক চাপ ও হতাশা কমবে। সোশ্যাল মিডিয়া জীবন মাপকাঠি ঠিক করে দেবে না। বরং, জীবনের সব ঠিক-ভুলের খুঁটিনাটির হিসাব সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাগ করে নেওয়ার প্রয়োজন নেই। ভার্চুয়াল জগতের আসক্তি কমালে, ভার্চুয়াল জগতের প্রত্যাশার চাপ সহজেই এড়ানো যাবে।

    পর্যাপ্ত ঘুম জরুরি!

    সুস্থ জীবন যাপনের জন্য পর্যাপ্ত ঘুম জরুরি। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকেরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম হলে মস্তিষ্ক ও স্নায়ুর বিশ্রাম হয়। শরীরের পাশপাশি মন ভালো থাকে। হঠকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় না। যেকোনো বিষয়ে গভীর ভাবে ভাবার ক্ষমতা থাকে। তাই সুস্থ শরীর ও মনের জন্য নিয়মিত রাতে পর্যাপ্ত ঘুম জরুরি।

    প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ!

    ভারত সরকার মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে যথেষ্ট সক্রিয়। দেশে আত্মহত্যার ঘটনা কমাতে মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা প্রসারের পাশাপাশি চিকিৎসা নিয়েও সক্রিয়। তাই যেকোনো মানসিক চাপ ও উদ্বেগ ভাগ করে নেওয়ার জন্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়ার জন্য দিনের যেকোনো সময়ে ‘টেলি মানস’-এ যোগাযোগ করা যাবে। নিজের সমস্যা ভাগ করে নেওয়া যাবে। আবার বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ পাওয়া যাবে। মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতিতে সেগুলো সাহায্য করবে। ফলে আত্মহত্যার মতো বিপদ কমবে।

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
  • Bageshwar Baba: দুর্গাপুজোয় আমিষ খাওয়া নিয়ে বাগেশ্বর বাবার মন্তব্য, ‘বাঙালি যা খাচ্ছে, তাই খাবে’ বললেন শমীক

    Bageshwar Baba: দুর্গাপুজোয় আমিষ খাওয়া নিয়ে বাগেশ্বর বাবার মন্তব্য, ‘বাঙালি যা খাচ্ছে, তাই খাবে’ বললেন শমীক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দুর্গাপুজোর সময় বাঙালির আমিষ খাওয়ার রীতি নিয়ে বাগেশ্বর বাবা ওরফে ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রীর মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে বাংলায়। হাওড়ার লিলুয়ায় একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে এসে দুর্গাপুজোর সময় বাঙালিদের মাছ-মাংস খাওয়ার রীতির সমালোচনা করেছিলেন তিনি। আমিষভোজীদের ‘পাখণ্ডী’ বলেও মন্তব্য করেন বাগেশ্বর বাবা। তাঁর সেই মন্তব্যের পরেই বাঙালি সংস্কৃতি ও খাদ্যাভ্যাস নিয়ে শুরু হয় রাজনৈতিক তরজা।

    বিরোধীদের আক্রমণের মুখে এবার কার্যত নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল বঙ্গ বিজেপি। সরাসরি বাগেশ্বর বাবার বক্তব্যের বিরোধিতা না করলেও একের পর এক বিজেপি নেতা জানিয়ে দিয়েছেন, দুর্গাপুজোয় বাঙালির মাছ-মাংস খাওয়ার ঐতিহ্য নিয়ে তাঁদের কোনও আপত্তি নেই। বরং তাঁরা নিজেরাও আমিষভোজী এবং বাঙালির নিজস্ব সংস্কৃতি ও খাদ্যাভ্যাসে বাইরের কোনও ‘প্রেসক্রিপশন’ চলবে না বলেই বার্তা দিয়েছেন।

    ‘বাঙালি মাছ খাবে না? মাংস খাবে না?’: শমীক

    রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য ইতিমধ্যেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন তাঁর অবস্থান। তাঁর কথায়, দুর্গাপুজোর সময় বাঙালির খাদ্যাভ্যাস নিয়ে কেউ নির্দেশ দিতে পারেন না। শমীক বলেন, “আমাকে আমার মতো থাকতে দাও! বাঙালি যা খাচ্ছে, তাই খাবে। বাঙালি মাছ খাবে না? মাংস খাবে না? স্বামী বিবেকানন্দ বলে গেছেন, তাঁর ওপরে আবার কে আছে? মা কালী এখানে পাঁঠা খাবেন!”

    তাঁর সংযোজন, “অষ্টমীর দিন লুচি আর নবমীর দিন কচি পাঁঠার মাংস খাওয়া বাঙালির খাঁটি রীতিনীতি, আর বাঙালি সেই ঐতিহ্যই লালন করবে। কোনও সন্ত বা চিকিৎসকের নিরামিষাশী হওয়ার আহ্বান বা পরামর্শ দেওয়ার অধিকার থাকতেই পারে, কিন্তু বাংলায় বসে কে কী খাবে আর কে কী পরবে, তা বাইরে থেকে এসে কেউ ঠিক করে দেবে না।” ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীর প্রতি ব্যক্তিগত শ্রদ্ধা ও সৌজন্য বজায় রেখেই শমীক বলেন, “স্বামী বিবেকানন্দের ধর্মদর্শনের ওপরে অন্য কোনও মত চাপিয়ে দেওয়ার কোনও সুযোগ নেই। বাংলায় মা কালীকে পাঁঠার মাংস নিবেদন করার যে সুপ্রাচীন প্রথা রয়েছে, তাকে অস্বীকার করার কোনও কারণ নেই।”

    তবে আমিষভোজীদের ‘পাষণ্ড’ বা ভণ্ড বলে উল্লেখ করার বিষয়টি সমর্থন করেননি বিজেপির রাজ্য সভাপতি। তাঁর বক্তব্য, এটি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বক্তব্য নয়, একজন সন্তের ব্যক্তিগত মতামত। তাই বিষয়টি নিয়ে অপ্রয়োজনীয় সংঘাতেও যেতে চান না তিনি। শমীকের কথায়, “যার ধুতি পরার ইচ্ছে সে ধুতি পরবে, যে লুঙ্গি পরে সে লুঙ্গি পরবে—বাঙালির নিজস্ব জীবনযাত্রা ও রুচিবোধের ওপর রাজনীতি বা অন্য কোনও প্রেসক্রিপশন খাটবে না।”

    ‘রাজ্যের সংস্কৃতি আলাদা’, বললেন অগ্নিমিত্রা

    বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পালও বাগেশ্বর বাবার মন্তব্যের প্রেক্ষিতে বাংলার নিজস্ব সংস্কৃতির কথা তুলে ধরেছেন। তাঁর বক্তব্য, দেশের অন্য রাজ্যের সঙ্গে বাংলার দুর্গাপুজোর খাদ্যসংস্কৃতির পার্থক্য রয়েছে।

    অগ্নিমিত্রা বলেন, “অন্য রাজ্যে এই দুর্গাপুজোর সময় এই দশ দিন যে পুজো হয়, সেখানে অন্য রাজ্যের সবাই মিলে নিরামিষ খায়। এখন তিনি যদি মনে করে থাকেন যে এখানেও সেই কালচার, এখানে তো সেই কালচারটা নয়। আমরা সারা বছর টাকা পয়সা জমাই দিয়ে আমরা পুজোর চার দিন রেস্টুরেন্টে গিয়ে কবজি ডুবিয়ে মাংস খাব, ইলিশ মাছ খাব। সুতরাং রাজ্যে রাজ্যে কালচারটা আলাদা। উনি ওনার মতো করে বলেছেন, যেটা উনি জানেন। উনি হয়ত জানেন না যে, এখানে কালচারটা ওইটা নয়।” অগ্নিমিত্রা আরও বলেন, “আমরা কী খাবো, কী পোশাক করবো, কখন বেরবো, কখন বাড়ি ঢুকবো এটা কেউ বলে দেবে না। যারা রাজনীতি করছেন… রাজনীতি করবেন না। রাজনীতির আগুনে আবার রুটি সেঁকবেন না।”

    ‘আমার নিয়মিত মাছ দরকার’: দিলীপ ঘোষ

    বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষও একই সুরে বাঙালির আমিষ খাওয়ার রীতিকে সমর্থন করেছেন। তাঁর বক্তব্য, কে কী খাবেন, সেটা ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয়। দিলীপ ঘোষ বলেন, “আমার নিয়মিত মাছ দরকার। তবে সেটা বড় কথা নয়। যাঁরা যা খেতে চান, তাঁরা তাই খাবেন। দুর্গাপুজোয় পাঁঠা বলি হয়। পাঁঠার মাংস প্রসাদ হিসেবে খাওয়া হয়।” তাঁর সংযোজন, “কোনও কোনও সাধুসন্ত নিরামিষ খেতে বলেন, কিন্তু সেটা বাধ্যতামূলক হতে পারে না।”

    বাগেশ্বর বাবার উদ্দেশেও প্রশ্ন ছুড়ে দেন দিলীপ। তাঁর প্রশ্ন, “বাগেশ্বর বাবার কাছে যে ভক্তরা যান, তাঁরা কেউ আমিষ খান না, সেটা উনি হলফ করে বলতে পারবেন?” দিলীপের বক্তব্য, “বিবেকানন্দ বলেছিলেন, যতদিন দেশ থাকবে, ততদিন শিব ডমরু বাজাবেন আর মা কালী পাঁঠা খাবেন। এটাই বাংলার সংস্কৃতি।” তাঁর আরও অভিযোগ, খাদ্যাভ্যাস নিয়ে ‘ফতোয়া’র রাজনীতি তৃণমূলই শুরু করেছিল।

    ‘কবজি ডুবিয়ে মাছ-মাংস খাব’, বার্তা লকেটের

    বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায় অবশ্য গোটা বিষয়টিকে রাজনৈতিক বিতর্কে না টেনে বাঙালির দীর্ঘদিনের পরম্পরার সঙ্গে দেখার আবেদন জানিয়েছেন। লকেট বলেন, “বাগেশ্বর বাবা তাঁর মতো বলেছেন, এটার সঙ্গে রাজনীতির কোনও কারণ নেই। বাঙালিরা যেভাবে পুজো করে আসছেন সেভাবেই পুজো করবে।”

    তাঁর কথায়, “বিরোধীরা সবকিছুতেই বলতে চায় বিজেপি এলে নিরামিষ করে দেবে রাজ্যকে, পুজোয় অনুদান দেবে না কিন্তু পুরোটাই ভুল ব্যাখ্যা দিয়েছে। সেটা প্রমাণিত পুজোতেও অনুদান হবে এবং বাঙালিরা কব্জি ডুবিয়ে মাছ মাংস সব কিছুই খাবে।”

    লকেট আরও বলেন, “আমরা আমাদের পরম্পরাকে ভাঙতে পারি না। মা আসছেন তার বাপের বাড়ি চার দিনের ছুটিতে। মা সবার সঙ্গে সিঁদুর খেলে। আমরা অষ্টমীতে অঞ্জলি দিই। খিচুড়ি খাই। নবমীতে নন ভেজ খাই। এটা আমাদের পরম্পরাতেই আছে। এটাকে ওনার বক্তব্যের সঙ্গে জুড়ে দেওয়ার কোন দরকার নেই।”

    ‘ইনি বাংলার বাবা নন’, সজল ঘোষের কটাক্ষ

    বিজেপি নেতা সজল ঘোষ অবশ্য বাগেশ্বর বাবাকে সরাসরি নিশানা করেছেন। তাঁর বক্তব্য, বাংলার সংস্কৃতি সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার বাঙালিরই। সজল বলেন, “বাগেশ্বর বাবার কথা ছাড়ুন। ইনি বাংলার বাবা নন। আমার বাবা আমি যা শিখিয়েছে, সেটাই পালন করব। আমরা বাঙালিরা জানি পুজোর নিয়ম কী। ওঁরা উত্তর ভারতের মানুষ। তাই উনি এ কথা বলেছেন। বাগেশ্বর বাবা বিজেপি নয়। আমাদের দল পরিষ্কার করে বলেছে।”

    ‘আমরা আমিষ খাব, ১০০ শতাংশ খাব’: সুকান্ত

    এই বিতর্কে নিজের অবস্থান একেবারে স্পষ্ট করে দিয়েছেন বিজেপি নেতা সুকান্ত মজুমদারও। তাঁর কথায়, বাঙালির আমিষ খাওয়ার অভ্যাস নিয়ে কোনও প্রশ্নই ওঠে না। সুকান্ত বলেন, “তৃণমূল কংগ্রেস সবকিছুতে রাজনীতি খোঁজে। আমরা আমিষ খাব। আমরা আমিষ খাব, ১০০% খাব। আমি আজ দু’পিস ইলিশ মাছ খেয়ে এসেছি। আমরা নিজেরা আমিষভোজী। আমরা আমিষ বন্ধ করে দিলে খাব কী?”

    ফলে বাগেশ্বর বাবার মন্তব্যকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কে বঙ্গ বিজেপির একাধিক নেতার বক্তব্যে কার্যত একটি বিষয়ই স্পষ্ট—বাঙালির দুর্গাপুজোর খাদ্যসংস্কৃতি নিয়ে কোনও বাধ্যবাধকতা বা ‘ফতোয়া’ তাঁরা মানতে নারাজ। রাজনৈতিক মহলের নজর এখন এই বিতর্ককে ঘিরে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে তরজা কতটা বাড়ে, সেদিকেই।

  • Defence Acquisition Council: ১.১০ লক্ষ কোটি টাকার প্রতিরক্ষা কেনাকাটায় সায়! ৯৮% সরঞ্জামই তৈরি হবে ভারতে, বড় সিদ্ধান্ত ডিএসির

    Defence Acquisition Council: ১.১০ লক্ষ কোটি টাকার প্রতিরক্ষা কেনাকাটায় সায়! ৯৮% সরঞ্জামই তৈরি হবে ভারতে, বড় সিদ্ধান্ত ডিএসির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের প্রতিরক্ষা উৎপাদন ও আত্মনির্ভরতার লক্ষ্যে আরও বড় পদক্ষেপ কেন্দ্রের। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের নেতৃত্বে সোমবার বৈঠকে বসে ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল (ডিএসি)। সেই বৈঠকেই ভারতীয় সেনা, নৌসেনা ও বায়ুসেনার জন্য প্রায় ১.১০ লক্ষ কোটি টাকার বিভিন্ন প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও সামরিক ব্যবস্থা কেনার প্রস্তাবে অ্যাকসেপ্ট্যান্স অব নেসেসিটি (এওএন) অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, অনুমোদিত ক্রয়ের প্রায় ৯৮ শতাংশই ভারতীয় শিল্পের কাছ থেকে সংগ্রহ করার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে একদিকে যেমন তিন বাহিনীর যুদ্ধক্ষমতা ও অপারেশনাল সক্ষমতা বাড়বে, অন্যদিকে দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পও বড় অর্ডার পাবে।

    সেনাবাহিনীর জন্য একাধিক অত্যাধুনিক সরঞ্জাম

    ভারতীয় সেনাবাহিনীর জন্য একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম কেনার প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে ডিএসি। এর মধ্যে রয়েছে কেমিক্যাল, বায়োলজিক্যাল, রেডিওলজিক্যাল অ্যান্ড নিউক্লিয়ার (সিবিআরএন) রিকনেসান্স ভেহিকল, হাই মোবিলিটি ভেহিকল, সেল্ফ-প্রোপেলড মেকানিক্যাল মাইন লেয়ার, অ্যাডভান্সড লাইট হেলিকপ্টার (এএলএইচ), ট্রল ট্যাঙ্ক এবং সর্বত্র ব্রিজ সিস্টেম।

    সিবিআরএন রিকনেসান্স ভেহিকলের সাহায্যে রাসায়নিক, জৈবিক, তেজস্ক্রিয় এবং পরমাণু উপাদানে দূষিত এলাকা দ্রুত শনাক্ত, চিহ্নিত, পর্যবেক্ষণ ও নির্দিষ্ট করে দেওয়া সম্ভব হবে। যুদ্ধক্ষেত্রে কোনও অঞ্চল সিবিআরএন উপাদানে আক্রান্ত হলে সেনার জন্য নিরাপদ পথ নির্ধারণ এবং পরিস্থিতি মূল্যায়নে এই যানগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

    অন্যদিকে, হাই মোবিলিটি ভেহিকল কঠিন ও দুর্গম ভূখণ্ডে সেনার দ্রুত গতিশীলতা এবং রসদ সরবরাহ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করবে। পাহাড়ি এলাকা থেকে শুরু করে প্রতিকূল সীমান্ত অঞ্চলে সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম দ্রুত সরানোর ক্ষেত্রে এই ধরনের যান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    সেল্ফ-প্রোপেলড মেকানিক্যাল মাইন লেয়ার সেনাবাহিনীকে দ্রুত এবং তুলনামূলকভাবে বেশি কার্যকরভাবে মাইন পাতা বা মাইনফিল্ড তৈরি করার সক্ষমতা দেবে। বিশেষ করে দুর্গম ভূখণ্ডে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এই ব্যবস্থা সেনার প্রতিরক্ষা পরিকল্পনাকে আরও নমনীয় করবে।

    এএলএইচ থেকে সর্বত্র ব্রিজ—যুদ্ধক্ষেত্রে বাড়বে সক্ষমতা

    ডিএসির অনুমোদিত তালিকায় রয়েছে অ্যাডভান্সড লাইট হেলিকপ্টার বা এএলএইচ-ও। বিভিন্ন ভূপ্রকৃতি এবং জটিল অপারেশনাল পরিস্থিতিতে সেনা ও বায়ুসেনার গুরুত্বপূর্ণ মিশনে এই হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হবে। দুর্গম এলাকায় সেনা মোতায়েন, সরঞ্জাম পরিবহণ এবং বিভিন্ন ধরনের অভিযানে এএলএইচ-এর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

    এছাড়া ট্রল ট্যাঙ্ক এবং সর্বত্র ব্রিজ সিস্টেম-এর অনুমোদনও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। যুদ্ধক্ষেত্রে নদী, খাল বা অন্যান্য জলপথ এবং দুর্গম ভূখণ্ড অতিক্রম করে সেনার যুদ্ধবিন্যাসকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থাগুলি সাহায্য করবে। অর্থাৎ, শুধু অস্ত্রশক্তি নয়, যুদ্ধক্ষেত্রে দ্রুত গতিশীলতা এবং বাধা অতিক্রমের সক্ষমতা বাড়ানোর দিকেও জোর দিয়েছে ডিএসি।

    নৌসেনায় অরুধ্র রেডার, দেশীয় মেরিন গ্যাস টারবাইন

    ভারতীয় নৌসেনার জন্যও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অনুমোদন দিয়েছে ডিএসি। এর মধ্যে রয়েছে অরুধ্র রেডার সংগ্রহ এবং মেরিন গ্যাস টারবাইন (এমজিটি)-এর নকশা, উন্নয়ন ও পরবর্তী পর্যায়ে সংগ্রহের প্রস্তাব।নৌসেনার বিভিন্ন নেভাল এয়ার স্টেশনে বর্তমানে ব্যবহৃত এয়ার রুট সার্ভেল্যান্স রেডার-এর পরিবর্তে অরুধ্র রেডার বসানো হবে। দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই রেডার নৌসেনার বিমান চলাচল পর্যবেক্ষণ ও নজরদারি সক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করবে।

    আরও গুরুত্বপূর্ণ হল মেরিন গ্যাস টারবাইন। যুদ্ধজাহাজের প্রোপালশন সিস্টেম বা চালনা ব্যবস্থায় ব্যবহৃত এই প্রযুক্তির ক্ষেত্রে বিদেশি সরবরাহকারীদের উপর নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্য নিয়েছে ভারত। দেশেই মেরিন গ্যাস টারবাইন তৈরি ও উন্নয়নের উদ্যোগ ভবিষ্যতে যুদ্ধজাহাজের প্রপালশন প্রযুক্তিতে আত্মনির্ভরতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে।

    বায়ুসেনার যুদ্ধক্ষমতা বাড়াতে একাধিক অনুমোদন

    ভারতীয় বায়ুসেনার ক্ষেত্রেও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবে ছাড়পত্র দিয়েছে ডিএসি। ফাইটার এয়ারক্রাফ্ট, ট্রান্সপোর্ট এয়ারক্রাফ্ট এবং হেলিকপ্টার-এর যুদ্ধক্ষমতা আরও বাড়ানোর লক্ষ্যে বিভিন্ন সরঞ্জাম ও ব্যবস্থা সংগ্রহের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

    এর পাশাপাশি বায়ুসেনার জন্য গ্রাউন্ড-বেসড মাল্টি-পারপাস জ্যামার (জিবিএমপিজে) সংগ্রহের প্রস্তাবও অনুমোদিত হয়েছে। আধুনিক যুদ্ধে ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার বা বৈদ্যুতিন যুদ্ধব্যবস্থার গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে। শত্রুপক্ষের রেডার ও অন্যান্য বৈদ্যুতিন ব্যবস্থার কার্যকারিতা ব্যাহত করতে জিবিএমপিজে ব্যবহার করা যাবে। কার্যকর জ্যামিংয়ের মাধ্যমে প্রতিপক্ষের নজরদারি ও লক্ষ্য শনাক্তকরণের ক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ করার ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

    কাগজের পরিচয়পত্রের বদলে স্মার্ট কার্ড

    প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকীকরণের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল ডিফেন্স ফোর্সেস সিকিওর অ্যাকসেস কার্ড (ডিইএফএসিএসি) ব্যবস্থা। ডিএসি এই ব্যবস্থাও অনুমোদন করেছে। বর্তমানে ব্যবহৃত কাগজের পরিচয়পত্র, প্রবেশপত্র এবং অনুমতিপত্রের পরিবর্তে ইন্টারঅপারেবল রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি আইডেন্টিফিকেশন (আরএফআইডি)-ভিত্তিক স্মার্ট কার্ড চালু করা হবে। এর ফলে প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ আরও আধুনিক, দ্রুত এবং প্রযুক্তিনির্ভর হবে। একই সঙ্গে বিভিন্ন প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অ্যাকসেস-কন্ট্রোল ব্যবস্থাকে আরও সমন্বিত করার সুযোগ তৈরি হবে।

    ৯৮ শতাংশ দেশীয় ক্রয়—কেন গুরুত্বপূর্ণ?

    এই ডিএসি বৈঠকের সবচেয়ে বড় বার্তা সম্ভবত প্রায় ৯৮ শতাংশ ক্রয় ভারতীয় শিল্পের কাছ থেকে করার পরিকল্পনা। অর্থাৎ, ১.১০ লক্ষ কোটি টাকার এই বিপুল প্রতিরক্ষা বরাদ্দের বড় অংশই দেশের প্রতিরক্ষা উৎপাদন শিল্পে প্রবাহিত হবে।

    এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে দেশীয় প্রতিরক্ষা নির্মাতা সংস্থা, প্রযুক্তি সংস্থা, গবেষণা ও উন্নয়ন ক্ষেত্র এবং সরবরাহ-শৃঙ্খলের উপর। দীর্ঘমেয়াদে এর ফলে ভারতীয় সংস্থাগুলির উৎপাদন ক্ষমতা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়ার পাশাপাশি বিদেশি প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের উপর নির্ভরতা কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।

    বিশেষ করে মেরিন গ্যাস টারবাইনের মতো জটিল প্রযুক্তি দেশেই তৈরি করার উদ্যোগ দেখাচ্ছে, ভারত শুধু অস্ত্র বা সামরিক সরঞ্জাম আমদানি কমানোর দিকেই নয়, গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির মূল ভিত্তি দেশেই গড়ে তুলতে চাইছে।

    সব মিলিয়ে, প্রায় ১.১০ লক্ষ কোটি টাকার ডিএসি অনুমোদনকে শুধু একটি বড় প্রতিরক্ষা ক্রয় হিসেবে দেখলে বিষয়টির পূর্ণ তাৎপর্য ধরা পড়বে না। সেনা, নৌসেনা ও বায়ুসেনার যুদ্ধক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশীয় প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা উৎপাদন এবং ‘আত্মনির্ভর ভারত’-এর লক্ষ্যকে একই সঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কৌশল হিসেবেই এই সিদ্ধান্তকে দেখা হচ্ছে।

  • Touchscreen Typing Nerve Problems: মোবাইলে লাগাতার টাইপ করছেন? বুড়ো আঙুল-কবজির এই অসাড়তা হতে পারে বিপদের ইঙ্গিত

    Touchscreen Typing Nerve Problems: মোবাইলে লাগাতার টাইপ করছেন? বুড়ো আঙুল-কবজির এই অসাড়তা হতে পারে বিপদের ইঙ্গিত

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    অফিসের কাজ হোক কিংবা সংসারের প্রয়োজনীয় জিনিস, ইলেকট্রিক বিল থেকে বন্ধুর সঙ্গে গপ্প-আড্ডা, সবকিছুই এখন হাতের মুঠোয়! কয়েকটি ক্লিক আর টাইপের যাবতীয় কাজ চলছে। কিন্তু লাগাতার টাচ স্ক্রিনের ব্যবহার, টাইপ করে যাওয়ার জেরেই স্বাস্থ্য সঙ্কট বাড়তে চলেছে। সাম্প্রতিক একাধিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, নিয়মিত দিনের দীর্ঘ সময় টাচ স্ক্রিনে একনাগাড়ে কাজ করলে হাতের আঙুল এবং কবজির স্নায়ুতে একধরনের সমস্যা তৈরি হচ্ছে। অনেকেই হাতের কিছু অংশে অসাড়তার সমস্যায় ভুগছেন। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, দীর্ঘসময় অতিরিক্ত টাচ স্ক্রিনের ব্যবহার এই ধরনের সমস্যা তৈরি করছে।

    কেন এই অসাড়তা হতে পারে?

    স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, হাতের কব্জি মধ্যে একটি স্নায়ু রয়েছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় যার নাম মিডিয়ান নার্ভ। টাচ স্ক্রিনের লেখার সময় কবজি একটি নির্দিষ্ট ভাবে বাঁকানো থাকে। এর ফলে ওই স্নায়ু এবং কবজির কোষগুলো ফুলে যায়। এর জেরেই এক ধরনের অসাড়তা তৈরি হয়। তাছাড়া হাতে বুড়ো আঙুলের সাহায্যে দীর্ঘসময় টাইপ চালিয়ে গেলে, এক কাজ করার জন্য হাতের আঙুলের স্নায়ু্র কার্যক্ষমতাও কমতে থাকে। ফলে অসাড় হয়ে যায়।

    কীভাবে বুঝবেন এই অসাড়তার সমস্যা প্রকট হচ্ছে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, অনেক সময়েই স্নায়ু অসাড় হয়ে যাওয়া প্রাথমিক পর্বে বোঝা যায় না। অনেকেই সমস্যাকে এড়িয়ে যান। কিন্তু কয়েকটি উপসর্গে নজর দিলেই পরিস্থিতি আগাম সামাল দেওয়া সহজ হয়‌।
    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, হাতের বুড়ো আঙুল, তর্জনী ও মধ্যমায় ঝিনঝিন ব্যথা করলে কখনোই অবহেলা করা উচিৎ নয়। কারণ, এই তিনটে আঙ্গুল টাইপ করতে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হয়। লাগাতার টাচ স্ক্রিনে টাইপ করার জেরে এই তিন আঙুলেই প্রথম প্রভাব পড়ে।
    হাত অবশ হয়ে যাওয়ার জেরে রাতে ঘুম ভেঙে যাওয়ার সমস্যা দেখা দিলে বুঝতে হবে স্নায়ুর অসাড়তার রোগ জটিল হচ্ছে। এমনটাই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
    পাশপাশি হাত থেকে জিনিস বারবার পড়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিলে স্নায়ুর অসাড়তা বাড়ছে।

    কাদের এই ধরনের সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি?

    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, প্রতিদিন অনেকক্ষণ মোবাইলে টাইপ করেন বা একই আঙুল দিয়ে বারবার স্ক্রল করেন তাঁদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি।
    যাঁরা দিনের অধিকাংশ সময় ফোন শক্ত করে ধরে রাখেন, কিংবা কবজি দীর্ঘক্ষণ বাঁকানো অবস্থায় রাখেন তাঁদের স্নায়ুর অসাড়তার সমস্যা হতে পারে। পাশপাশি, একই ধরনের হাতের কাজ বারবার করলে স্নায়ুর অসাড়তা বাড়তে পারে। তবে, ডায়াবেটিস, থাইরয়েডের সমস্যা বা রিউমাটয়েড আর্থারাইটিস আছে তাঁদের এই ধরনের স্নায়ুর সমস্যা তৈরি হতে পারে।

    কীভাবে এই রোগের ঝুঁকি কমাবেন?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, কয়েকটি দিকে নজর দিলে এই রোগের ঝুঁকি কমানো যেতে পারে।

    • ১. চিকিৎসকদের পরামর্শ, একটানা টাইপ করা উচিৎ নয়। দীর্ঘ সময়ের কাজকে ছোট ছোট ভাগে ভাগ করতে হবে। মাঝেমধ্যে হাত-কবজিকে বিশ্রাম দিতে হবে।
    • ২. বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, কব্জি সোজা রাখতে হবে। দীর্ঘসময় কবজি বাঁকিয়ে রাখার জন্য স্নায়ুর অসাড়তা সমস্যা আরও বাড়ছে। তাঁদের পরামর্শ, ফোন ব্যবহার করার সময় কবজি অতিরিক্ত সামনে বা পিছনে বাঁকিয়ে রাখা যাবে না।
    • ৩. স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, একই বুড়ো আঙুল দিয়ে দীর্ঘক্ষণ টাইপ না করে দুই হাতের আঙুল ব্যবহার করলে বা ভয়েস টাইপিং ব্যবহার করা যেতে পারে।
    • ৪. ব্যথা বা ঝিনঝিনি শুরু হলে জোর করে কাজ চালিয়ে যাওয়া উচিৎ নয় এমনটাই পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের। তাঁরা জানাচ্ছেন, একনাগাড়ে কাজ চালিয়ে গেলে স্নায়ুর উপরে অতিরিক্ত চাপ পড়ে। এর ফলেই নানান সমস্যা তৈরি হয়।
LinkedIn
Share