Author: Susanta Das

  • PM Narendra Modi: ‘ছাত্রদের ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনীতি করবেন না’, নিট বিতর্কে কড়া বার্তা প্রধানমন্ত্রী মোদির

    PM Narendra Modi: ‘ছাত্রদের ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনীতি করবেন না’, নিট বিতর্কে কড়া বার্তা প্রধানমন্ত্রী মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নিট প্রশ্নফাঁস বিতর্কের আবহে ছাত্রদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনও ধরনের রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Narendra Modi)। মঙ্গলবার সংসদ ভবনের লাইব্রেরি ভবনের জিএমসি বালাযোগী অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এনডিএ সংসদীয় দলের ‘মঙ্গল মিলন’ বৈঠকে (NDA Parliamentary Party Meet) তিনি বলেন, ‘‘দেশের ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। পরীক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করতে কেন্দ্র প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’’ প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, ছাত্রদের ভবিষ্যৎ কোনওভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হতে দেওয়া যাবে না। নিট ইস্যুকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দলগুলিকে অযথা রাজনীতি না করারও আহ্বান জানান তিনি।

    ছাত্রদের স্বার্থ রক্ষার বার্তা

    বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু জানান, প্রধানমন্ত্রী নিট বিতর্কের কারণে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। রিজিজু বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, কোনও পরিস্থিতিতেই ছাত্রদের ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া উচিত নয়। পাশাপাশি নিট ইস্যুকে রাজনৈতিক হাতিয়ার না বানানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি সরকারের অবস্থানও পুনর্ব্যক্ত করেছেন। সরকারের লক্ষ্য পরীক্ষা ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখা এবং ছাত্রদের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখা।’’

    কেন ডাকা হয়েছিল ‘মঙ্গল মিলন’ বৈঠক?

    এদিনের ‘মঙ্গল মিলন’ (Mangal Milan) বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে অভিনন্দন জানানো। সম্প্রতি তিনি ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনকারী নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। পাশাপাশি সদ্য নির্বাচিত রাজ্যসভার সদস্যদেরও স্বাগত জানানো হয়। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং, কিরেন রিজিজু ও অর্জুন রাম মেঘওয়াল। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান, জি. কিষাণ রেড্ডি এবং বিজেপির জাতীয় সভাপতি রাহুল সিনহা। প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের আগে এনডিএ-র সহযোগী দলগুলি মোদির এই ঐতিহাসিক মাইলফলককে স্বীকৃতি জানিয়ে একটি অভিনন্দন প্রস্তাবও গ্রহণ করে।

    প্রথম বৈঠক নিয়ে উচ্ছ্বসিত অশোক মিত্তল

    প্রথমবার এনডিএ–বিজেপির সংসদীয় দলের বৈঠকে যোগ দিয়ে বিজেপি সাংসদ অশোক মিত্তল বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও দলের নেতৃত্বের বক্তব্য শোনার সুযোগ পাওয়াকে তিনি বড় সম্মান বলে মনে করছেন। তিনি জানান, দেশের উন্নয়নে কীভাবে আরও কার্যকরভাবে কাজ করা যায় এবং একজন সাংসদ হিসেবে নিজের দায়িত্ব কীভাবে পালন করতে হবে, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছেন।

    এনডিএ বৈঠকে অনুপস্থিত এনসিপিআই

    অন্যদিকে, সদ্য গঠিত ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অব ইন্ডিয়া (NCPI)-র ২০ জন সাংসদ এদিনের বৈঠকে যোগ দেননি। প্রাক্তন তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদদের নিয়ে গঠিত এই দলটি বর্তমানে এনডিএ-কে সমর্থন করছে। তবে লোকসভার স্পিকার এখনও পর্যন্ত এনসিপিআই-এর একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়াকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি না দেওয়ায় তারা যৌথ বৈঠক থেকে দূরে থাকে। এর আগে রবিবার বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে এনসিপিআই তাদের প্রথম পৃথক সংসদীয় দলের বৈঠক করে। বৈঠক শেষে তিনি জানান, সংসদে দলের বসার ব্যবস্থা, ডিভিশন নম্বর এবং পৃথক আইনসভার ব্লক অনুমোদিত হয়েছে। পাশাপাশি তিনি বলেন, সংসদে এনডিএ সরকারকে সমর্থন করলেও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন কেন্দ্রের সমস্যা নিয়ে তাঁরা রাজ্য সরকারের কাছেই বিষয়গুলি তুলবেন।

    ১৩ অগাস্ট পর্যন্ত চলবে বর্ষাকালীন অধিবেশন

    উল্লেখ্য, সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন সোমবার শুরু হয়েছে এবং আগামী ১৩ অগাস্ট পর্যন্ত চলবে। এই অধিবেশনে নিট বিতর্ক-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যুতে সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে তীব্র আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

  • School Bullying: হঠাৎ বদলে যাচ্ছে সন্তানের আচরণ! স্কুলে বুলিংয়ের শিকার হচ্ছে না তো? চিনে নিন লক্ষণগুলি

    School Bullying: হঠাৎ বদলে যাচ্ছে সন্তানের আচরণ! স্কুলে বুলিংয়ের শিকার হচ্ছে না তো? চিনে নিন লক্ষণগুলি

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    সামান্য অবসর পেলেও খেলাধুলাতেই বিশ্রাম খুঁজে পেত! বাড়িতে অতিথি এলে, তার কাছ ছাড়তেই ছাড়তো না। বন্ধুদের সঙ্গে গল্প করা, সময় কাটানো ছিলো খুবই পছন্দের। কিন্তু হঠাৎ করেই বদলে গেল তার প্রকৃতি! পরিবারের একরত্তির হঠাৎ আচরণ বদলে চিন্তিত অভিভাবকেরা। পড়াশোনার প্রতি অনীহা, অতিরিক্ত জেদ তৈরি হলো! বকাবকির জেরে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠলো। এমন অবস্থার মুখোমুখি বহু বাবা-মা হচ্ছেন। পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দেবেন, সেটাও বুঝতে সমস্যা হচ্ছে। অনেকক্ষেত্রেই সমস্যার সমাধান করতে না পারার জন্য সন্তানের জীবনে নানান জটিলতাও তৈরি হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, আগাম সচেতনতা জরুরি। কয়েকটি দিকে খেয়াল রাখলেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যাবে।

    কী বলছে আন্তর্জাতিক গবেষণা?

    সম্প্রতি স্কুল পড়ুয়াদের মানসিক পরিস্থিতি নিয়ে এক আন্তর্জাতিক গবেষণায় জানা গিয়েছে, বিশ্ব জুড়ে স্কুল পড়ুয়াদের নিগ্রহের ঘটনা বাড়ছে। শারীরিক বা যৌন নির্যাতনের পাশপাশি, তারা নানান রকমের মৌখিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। এর প্রভাব দীর্ঘমেয়াদি। তাদের ভবিষ্যতে একাধিক সমস্যার কারণ হচ্ছে, শৈশবের এই মানসিক যন্ত্রণা। শারীরিক নির্যাতনের স্পষ্ট প্রমাণ দ্রুত পাওয়া গেলেও, মানসিক নির্যাতনের প্রমাণ পাওয়া মুশকিল হয়। আর সেখানেই জটিলতা বাড়ছে! তবে কয়েকটি দিকে নজর দিলে এই সমস্যা কিছুটা আয়ত্ত করা যেতে পারে বলেই জানাচ্ছেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

    কীভাবে বুঝবেন সন্তান বুলিং-য়ের শিকার হচ্ছে কি না?

    মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে কয়েকটি আচরণগত পরিবর্তনে নজর দিলেই সমস্যা রয়েছে কিনা, সে সম্পর্কে জানা সহজ হয়ে যায়। তাঁরা জানাচ্ছেন, প্রত্যেক বাচ্চার যেমন কিছু আলাদা প্রকৃতি থাকে, আবার কিছু কিছু পছন্দ এক রকম হয়। হঠাৎ এমন কিছু স্বভাব পরিবর্তনে নজর দিলেই সমস্যা রয়েছে কিনা আন্দাজ করা যেতে পারে।

    সন্তান হঠাৎ বন্ধুহীন হয়ে পড়েছে!

    সাধারণত শিশুরা বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাতে পছন্দ করে। কিন্তু কোনো স্কুল পড়ুয়া যদি একদম মেলামেশা করতে পছন্দ না করে, তার যদি কোনও বন্ধু না থাকে, খুব গুটিয়ে থাকে তাহলে সেদিকে নজর দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, হয়তো বন্ধুদের সঙ্গে সে নিজের সমস্যা ভাগ করে নিতে পারছে না। আবার হয়তো বন্ধুমহলেই সে মানসিক ভাবে নিগ্রহের শিকার হচ্ছে, তাই তাদের সঙ্গে মেলামেশা করতে চাইছে না। বন্ধুদের কথায় সে নিগ্রহের শিকার হলে, তার মধ্যে একাকিত্বের সমস্যা বাড়বে। তাই সন্তানের বন্ধু না থাকলে, সেদিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।

    হঠাৎ করেই সামাজিক যোগাযোগে অনীহা!

    পরিবারে অতিথি আসলে কিংবা কোথাও নেমতন্ন থাকলে, সাধারণত শিশুরা উচ্ছ্বসিত থাকে। অধিকাংশ সময়েই তারা অতিথির সঙ্গে কথা বলতে পছন্দ করে। কিন্তু হঠাৎ যদি সন্তান সম্পূর্ণ নিজেকে গুটিয়ে রাখে, কোনো কারণ ছাড়াই সে নিজের ঘর থেকে বাইরে যাচ্ছে না, মেলামেশা করতে চাইছে না। আবার কোথাও নেমতন্ন থাকলেও যেতে নারাজ, তাহলে বুঝতে হবে, তার সামাজিক যোগাযোগের উপরে অনীহা তৈরি হয়েছে। যা একেবারেই স্বাভাবিক নয়। তাই সেই আচরণে গুরুত্বপূর্ণ দিয়ে, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা জরুরি।

    অতিরিক্ত জেদ ও খিটখিটে মেজাজ!

    মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, সন্তানের যেকোনো বিষয়ে অতিরিক্ত জেদ ও খিটখিটে মেজাজ দেখা দিলে বাড়তি‌ নজরদারি প্রয়োজন। অনেক সময়েই খুব সামান্য বিষয়, যেমন খাবার খাওয়া, ঘুম থেকে ওঠা নিয়েও সন্তান অতিরিক্ত জেদ করতে থাকে। পরিবারের সকলের সঙ্গেই খিটখিটে মেজাজে কথা বলে। এই আচরণে নজর দেওয়া প্রয়োজন।

    পড়াশোনা ও স্কুল যাওয়ার প্রতি অনীহা!

    পড়াশোনার প্রতি অতিরিক্ত অনীহা তৈরি এবং স্কুলের প্রতি অনাগ্রহ তৈরি হলে, অভিভাবকদের উচিত সেদিকে নজর দেওয়া। মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, লাগাতার বুলিং-য়ের শিকার হলে সেই জায়গার প্রতি ভয় তৈরি হয়। সেখান থেকেই অনীহার জন্ম হয়। সন্তান যদি হঠাৎ স্কুল যেতে না চায়, কিংবা পড়াশোনার প্রতি একেবারেই আগ্রহ হারিয়ে ফেলে, তাহলে সেখানে মানসিক নিগ্রহের ঘটনা ঘটছে কিনা, সেটা যাচাই করা জরুরি।

    কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেবেন?

    মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, সচেতনতা এবং সতর্কতাকে হাতিয়ার করেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যেতে পারে। অভিভাবকদের পরিস্থিতি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকতে হবে। প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিতে হবে, তবেই বড় সঙ্কট আটকানো সহজ হবে। মনোরোগ চিকিৎসকদের একাংশের পরামর্শ, নিয়মিত কিছুটা সময় সন্তানের সঙ্গে গল্প করে কাটাতে হবে। পরিবারের একজনের সঙ্গে যেকোনো সমস্যার কথা সে প্রকাশ করতে পারে, এই বিশ্বাস শিশুর মনে থাকা জরুরি। যাতে সে যেকোনো সমস্যা সহজেই বলতে পারে। প্রথম থেকেই যেকোনো সমস্যা ভাগ করে নিতে পারলে সমাধান সহজ হয়। বন্ধুরা কী বললো, স্কুলে কী হলো, খেলার মাঠে কেমন সময় কাটলো, এই সবকিছুই ভাগ করে নিতে পারলে বড় বিপদ আটকানো যাবে। প্রথম থেকেই সমস্যা সম্পর্কে বোঝা যাবে। সেই মতো পরিস্থিতি সামলানোর পথ ও খোঁজা সহজ হবে। কিন্তু অধিকাংশ সময়েই ব্যস্ত আধুনিক জীবনে সন্তান একাকিত্বে ভোগে। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ বড্ড কম থাকে। ফলে তারা কোনো রকম সমস্যার মুখোমুখি হলেও কীভাবে সেটা সমাধান করবে, বুঝতে পারে না। অধিকাংশ সময়েই পরিস্থিতি জটিল হয়ে যায়।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
  • India China Border Surveillance: গালওয়ানের পর বড় প্রস্তুতি! লাদাখ থেকে অরুণাচল— চিন-সীমান্ত জুড়ে নজরদারির বিশাল জাল গড়ছে ভারত

    India China Border Surveillance: গালওয়ানের পর বড় প্রস্তুতি! লাদাখ থেকে অরুণাচল— চিন-সীমান্ত জুড়ে নজরদারির বিশাল জাল গড়ছে ভারত

    ভারত-চিন সীমান্তে (LAC) শক্তি প্রদর্শনের প্রসঙ্গ উঠলেই সাধারণত সেনা মোতায়েন, যুদ্ধবিমান কিংবা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কথাই সামনে আসে। কিন্তু এর আড়ালেই নীরবে গড়ে উঠছে আরও বড় একটি প্রতিরক্ষা অবকাঠামো। লাদাখ থেকে অরুণাচল প্রদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত হিমালয় জুড়ে অত্যাধুনিক সেন্সর, রেডার, সামরিক স্যাটেলাইট এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)-নির্ভর একটি সমন্বিত নজরদারি ব্যবস্থা তৈরি করছে ভারত। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতের সীমান্ত সংঘাতে শুধু অস্ত্রের শক্তি নয়, বরং কে আগে শত্রুকে শনাক্ত করতে পারবে, সেটাই নির্ধারণ করবে যুদ্ধের ফলাফল। সেই লক্ষ্যেই ভারত ধাপে ধাপে গড়ে তুলছে একটি বহুস্তরীয় নজরদারি নেটওয়ার্ক।

    গালওয়ান সংঘর্ষের পর বদলে যায় কৌশল

    ২০২০ সালের গালওয়ান সংঘর্ষের পর থেকেই সীমান্তে নজরদারি ব্যবস্থাকে আমূল বদলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। একই সময়ে চিনের পশ্চিমাঞ্চলীয় থিয়েটার কমান্ড তিব্বত ও জিনজিয়াং অঞ্চলে নতুন বিমানঘাঁটি, ড্রোন বেস, শক্তিশালী সামরিক বাঙ্কার এবং অবকাঠামো নির্মাণ দ্রুত বাড়ায়। এই পরিস্থিতিতে ভারত শুধু টহল বা যুদ্ধবিমানের উপর নির্ভর না করে ‘সেন্সর ডমিন্যান্স’ বা সর্বব্যাপী নজরদারির কৌশল গ্রহণ করেছে। লক্ষ্য একটাই— চিনের স্টেলথ যুদ্ধবিমান, ড্রোন, হেলিকপ্টার কিংবা ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র সীমান্তের দিকে এগোনোর আগেই তা শনাক্ত করা।

    হিমালয়ের চ্যালেঞ্জ: পর্বতই সবচেয়ে বড় বাধা

    হিমালয়ের বিশাল পাহাড়, গভীর উপত্যকা এবং দুর্গম ভূপ্রকৃতি রেডারের জন্য বড় সমস্যা তৈরি করে। পর্বতের আড়ালে নিচু উচ্চতায় উড়ে আসা বিমান বা ড্রোন অনেক সময় প্রচলিত রেডারের চোখ এড়িয়ে যায়। অর্থাৎ, একটি ব্লাইন্ডস্পট তৈরি হয়। একে বলা হয় ‘রেডার শ্যাডো’। এই সমস্যা কাটাতে ভারত বহুস্তরীয় সেন্সর নেটওয়ার্ক তৈরি করছে, যেখানে একটি ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা অন্য ব্যবস্থা পূরণ করবে।

    প্রথম স্তর: মহাকাশ থেকেই নজরদারি

    ভারতের নজরদারি ব্যবস্থার সর্বোচ্চ স্তরে রয়েছে সামরিক ও দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য স্যাটেলাইট—

    • ● কার্টোস্যাট (CARTOSAT) শত্রুপক্ষের বিমানঘাঁটি, রাস্তা ও সামরিক অবকাঠামোর পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করে।
    • ● রিস্যাট (RISAT) রেডার ইমেজিং প্রযুক্তির সাহায্যে মেঘ, বৃষ্টি কিংবা খারাপ আবহাওয়ার মধ্যেও স্পষ্ট ছবি তুলতে সক্ষম।
    • ● আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইট (EOS) সিরিজের স্যাটেলাইট নিয়মিত সীমান্ত পর্যবেক্ষণ চালায়।
    • ● এমিস্যাট (EMISAT) শত্রুপক্ষের ইলেকট্রনিক সিগন্যাল ও যোগাযোগ ব্যবস্থা শনাক্ত করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

    আগামী দিনে আরও উন্নত ইলেকট্রনিক ও সিগন্যাল ইন্টেলিজেন্স স্যাটেলাইট যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার, বিমানে জ্বালানি ভরার প্রস্তুতি কিংবা সন্দেহজনক সামরিক কার্যকলাপও আগে থেকেই শনাক্ত করতে পারবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই তথ্য শুধু গোয়েন্দা প্রতিবেদনে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা সরাসরি ইন্টিগ্রেটেড এয়ার কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম বা সংক্ষেপে আইএসিসিএস (IACCS)-এ পৌঁছবে, ফলে সীমান্তের পরিস্থিতির প্রায় রিয়েল-টাইম ছবি পাবে ভারতীয় সেনা।

    আকাশে ‘চোখ: এইডব্লিউ অ্যান্ড সি ও অ্যাওয়াক্স

    চিনের তিব্বতের উচ্চভূমিতে অবস্থিত বিমানঘাঁটিগুলি তাদের একটি কৌশলগত সুবিধা দেয়। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ভারত আকাশে মোতায়েন করেছে এয়ারবোর্ন আর্লি ওয়ার্নিং অ্যান্ড কন্ট্রোল (AEW&C) বিমান।

    বর্তমানে ভারতীয় বায়ুসেনার হাতে রয়েছে—

    • ● নেত্র মার্ক ১ এইডব্লিউ অ্যান্ড সি (Netra Mk1 AEW&C)
    • ● ফ্যালকন অ্যাওয়াক্স (Phalcon AWACS)

    নেত্র মার্ক ১ সম্প্রতি ২০২৬ সালের জুন মাসে চূড়ান্ত অপারেশনাল ক্লিয়ারেন্স (FOC) অর্জন করেছে। অর্থাৎ, মোতােনের জন্য প্রস্তুত।এছাড়া, ২০২৫ সালের জুলাই মাসে প্রায় ১৯,০০০ কোটি টাকার নেত্র মার্ক ২ (Netra Mk2) প্রকল্প অনুমোদন করা হয়। পরিবর্তিত এয়ারবাস এ৩২১ (Airbus A321) বিমানে তৈরি এই প্ল্যাটফর্মে থাকবে ৩০০ ডিগ্রি কভারেজযুক্ত শক্তিশালী ডরসাল রেডার এবং বিশেষ নোজ অ্যান্টেনা।

    এর প্রধান কাজ হবে—

    • ● স্টেলথ বিমান শনাক্ত করা
    • ● পাহাড়ি উপত্যকার ভিতর নজরদারি চালানো
    • ● স্থলভিত্তিক রেডারের অদেখা এলাকা পর্যবেক্ষণ করা

    সীমান্তে শক্তিশালী রেডার চেইন

    স্থলভাগে ভারতের নজরদারির ভিত্তি তৈরি করছে মাউন্টেন রেডার নেটওয়ার্ক (Mountain Radar Network)। সম্প্রতি গুলমার্গ এবং নাগাল্যান্ডে বিশেষ মাউন্টেন রেডার স্থাপনের মাধ্যমে পশ্চিম ও পূর্ব—দুই দিকেই নজরদারি আরও শক্তিশালী হয়েছে।

    • ● গুলমার্গ রেডার লাদাখ ও উত্তর কাশ্মীরের আকাশপথ পর্যবেক্ষণ করে।
    • ● নাগাল্যান্ডের রেডার অরুণাচলমুখী আকাশপথ নজরে রাখে।

    ভবিষ্যতে হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, সিকিম এবং অরুণাচল প্রদেশেও একই ধরনের রেডার বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

    আরূদ্রা ও অশ্বিনী: নজরদারির নতুন ভরসা

    Mountain Radar-এর পাশাপাশি ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রেডার ব্যবস্থা আরূদ্রা মিডিয়াম পাওয়ার রেডার (Arudhra Medium Power Radar)। আরূদ্রা বা আর্দ্রা হল হিন্দু জ্যোতিষশাস্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ নক্ষত্র এবং এটি ভগবান শিবের একটি অন্যতম পবিত্র নাম।

    এই রেডার—

    • ● একসঙ্গে একাধিক যুদ্ধবিমান ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ট্র্যাক করতে পারে।
    • ● সরাসরি আইএসিসিএস-এর সঙ্গে যুক্ত।
    • ● সীমান্তে ওভারল্যাপিং নজরদারি নিশ্চিত করে।

    অন্যদিকে, অশ্বিনী এইএসএ রেডার (Ashwini AESA Radar) অত্যন্ত মোবাইল। সীমান্তে উত্তেজনা তৈরি হলে দ্রুত এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় নিয়ে গিয়ে মোতায়েন করা যায়।

    ড্রোন ও নিচু উচ্চতার হুমকির বিরুদ্ধে বিশেষ নজর

    আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন, হেলিকপ্টার এবং নিচু উচ্চতায় উড়ে আসা ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র বড় হুমকি হয়ে উঠছে।

    এজন্য ভারত ব্যবহার করছে—

    • ● ভরনী রেডার (Bharani Radar)
    • ● লো-লেভেল লাইটওয়েট রেডার মার্ক-২ (Low-Level Lightweight Radar Mk-II)

    এগুলির সঙ্গে নতুন প্রজন্মের অ্যান্টি-ড্রোন প্রযুক্তিও যুক্ত করা হচ্ছে, যাতে পাহাড়ি গিরিপথ দিয়ে ঢোকার চেষ্টা করা যে কোনও লক্ষ্যবস্তুকে দ্রুত শনাক্ত করা যায়।

    স্টেলথ যুদ্ধবিমানের বিরুদ্ধে ‘নিঃশব্দ’ নজরদারি

    সক্রিয় রেডারের পাশাপাশি ভারত গড়ে তুলছে প্যাসিভ সার্ভেল্যান্স নেটওয়ার্ক (Passive Surveillance Network)। এই স্টেশনগুলি কোনও সিগন্যাল পাঠায় না। বরং শত্রুপক্ষের যোগাযোগ ব্যবস্থা, রেডার সিগন্যাল ও ইলেকট্রনিক কার্যকলাপ নীরবে পর্যবেক্ষণ করে।এই প্রযুক্তি চিনের জে-২০ (J-20), ভবিষ্যতের জে-৩৫ (J-35) স্টেলথ যুদ্ধবিমান এবং উন্নত ড্রোন শনাক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। এছাড়া ভেরি হাই ফ্রিকোয়েন্সি (VHF) ও মাল্টি-ব্যান্ড রেডারের সাহায্যে স্টেলথ বিমানের উপস্থিতির আভাস পেলেই আরও নির্ভুল সেন্সরকে সেই লক্ষ্যবস্তুর দিকে নির্দেশ করা সম্ভব হবে।

    আইএসিসিএস: পুরো ব্যবস্থার ‘মস্তিষ্ক

    এই বিশাল নজরদারি ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দু হল ইন্টিগ্রেটেড এয়ার কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম (Integrated Air Command and Control System)। স্যাটেলাইট, রেডার, এইডব্লিউ অ্যান্ড সি বিমান এবং অন্যান্য সেন্সর থেকে আসা সমস্ত তথ্য একত্রিত করে আইএসিসিএস (IACCS) কমান্ডারদের সামনে সীমান্তের একটি একক, লাইভ এবং সমন্বিত ছবি তুলে ধরে।

    এর ফলে—

    • ● দ্রুত হুমকি বিশ্লেষণ সম্ভব হয়।
    • ● মুহূর্তের মধ্যে ইন্টারসেপ্টর বিমান পাঠানো যায়।
    • ● বিভিন্ন বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় আরও শক্তিশালী হয়।

    ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাই হবে সবচেয়ে বড় অস্ত্র

    প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী কয়েক বছরে এই বিপুল পরিমাণ তথ্য বিশ্লেষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)।

    এআই-ভিত্তিক সিস্টেম—

    • ● সন্দেহজনক উড়ানপথ স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করবে।
    • ● অস্বাভাবিক সেনা মোতায়েন চিহ্নিত করবে।
    • ● সম্ভাব্য হুমকি সম্পর্কে আগে থেকেই সতর্ক করবে।
    • ● দ্রুততম প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেবে।

    ভারতের লক্ষ্য কী?

    চিন তিব্বতের হোতান, লাসা-গংগারসহ একাধিক বিমানঘাঁটিকে শক্তিশালী করে সেখানে স্টেলথ যুদ্ধবিমান, উন্নত ড্রোন এবং আধুনিক অস্ত্র মোতায়েন করছে। এর জবাবে ভারত বিচ্ছিন্ন রেডারের উপর নির্ভর না করে মহাকাশ, আকাশ, স্থল এবং ইলেকট্রোম্যাগনেটিক স্পেকট্রাম—সব স্তরকে একসঙ্গে যুক্ত করে একটি সমন্বিত নজরদারি ব্যবস্থা তৈরি করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতের সীমান্ত নিরাপত্তায় এই ‘সেন্সর ওয়েব’ই ভারতের সবচেয়ে বড় কৌশলগত শক্তি হয়ে উঠতে পারে।

  • Shravan Somvar 2026: আজ শ্রাবণের প্রথম সোমবার, এই ১২টি নিয়ম মানলেই প্রসন্ন হবেন মহাদেব!

    Shravan Somvar 2026: আজ শ্রাবণের প্রথম সোমবার, এই ১২টি নিয়ম মানলেই প্রসন্ন হবেন মহাদেব!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পবিত্র শ্রাবণ মাস শুরু হয়ে গিয়েছে। আজ, শ্রাবণ মাসের প্রথম সোমবার। শ্রাবণ মাস হিন্দু ধর্মে ভগবান শিবের আরাধনার অন্যতম পবিত্র সময় হিসেবে বিবেচিত। এই মাসের প্রতিটি সোমবার বা শ্রাবণ সোমবার (Shravan Somvar) বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। বিশ্বাস করা হয়, নিষ্ঠা ও ভক্তিভরে এই দিনে মহাদেবের পুজো করলে জীবনের নানা বাধা-বিপত্তি দূর হয়, পূরণ হতে পারে মনের ইচ্ছাও। তাই প্রতি বছরই অসংখ্য শিবভক্ত উপবাস রেখে শিবলিঙ্গে জল ও বিভিন্ন উপাচার নিবেদন করেন। তবে শুধুমাত্র জল ঢাললেই নয়, শাস্ত্র ও প্রচলিত ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী কিছু নিয়ম মেনে শিবপুজো করলে তার শুভ ফল আরও বৃদ্ধি পায় বলে মনে করা হয়। একই সঙ্গে এমন কিছু কাজও রয়েছে, যা শ্রাবণ সোমবারে এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন শাস্ত্রবিশারদরা।

    শ্রাবণ সোমবার শিবপুজোর গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম

    ১. সকালে স্নান করে শিবমন্দিরে যান

    শ্রাবণ সোমবার ভোরে স্নান সেরে পরিষ্কার পোশাক পরে শিবমন্দিরে যাওয়া শুভ বলে মনে করা হয়। সম্ভব হলে খালি পায়ে মন্দিরে যান এবং বাড়ি থেকে জল নিয়ে গিয়ে শিবলিঙ্গে অর্পণ করুন। এরপর ১০৮ বার শিবমন্ত্র জপ করুন। অনেকেই এদিন অন্নগ্রহণ না করে ফলাহার করেন।

    ২. শিবলিঙ্গে নিবেদন করুন প্রিয় উপাচার

    মহাদেবের পুজোয় গঙ্গাজল, বেলপাতা, ধুতুরা, ভাঙ, কর্পূর, দুধ, রুদ্রাক্ষ ও ভস্ম নিবেদন করা বিশেষ শুভ বলে মনে করা হয়। জ্যোতিষশাস্ত্র মতে, এই উপাচার সৌভাগ্য বৃদ্ধিতে সহায়ক।

    ৩. আরতি করে শেষ করুন পুজো

    শিবলিঙ্গে জল অর্পণের পর প্রদীপ জ্বালিয়ে আরতি করুন। এরপর ভক্তিভরে প্রার্থনা করে ফল খেয়ে উপবাস ভঙ্গ করা যেতে পারে।

    ৪. চন্দন ও গঙ্গাজলের অভিষেক

    চন্দন, আতপ চাল, ধুতুরা, আকন্দ ফুল, বেলপাতা, দুধ ও গঙ্গাজল দিয়ে শিবের অভিষেক করলে মহাদেব সন্তুষ্ট হন বলে বিশ্বাস।

    ৫. ঠাকুরঘর পরিষ্কার রাখুন

    পুজোর আগে ও চলাকালীন ঠাকুরঘর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা জরুরি। পাশাপাশি ঘর অন্ধকার না রেখে আলো জ্বালিয়ে পুজো করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

    ৬. সকালে পুজো করাই শ্রেয়

    ধর্মীয় মতে, সন্ধ্যার তুলনায় সকালে শিবপুজো করলে বেশি শুভ ফল লাভ করা যায়।

    ৭. ফলাহার করুন

    অনেকে এদিন নির্জলা বা ফলাহার ব্রত পালন করেন। ফলের পাশাপাশি আলু, লাউ ও কুমড়ো খাদ্যতালিকায় রাখা শুভ বলে মনে করা হয়।

    ৮. সৎ জীবনযাপন করুন

    ব্রতের দিন সংযম, সততা ও শান্ত মন বজায় রাখার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

    ৯. পঞ্চামৃত দিয়ে অভিষেক

    ঘি, মধু, দুধ, সিদ্ধি ও গঙ্গাজল দিয়ে শিবলিঙ্গের অভিষেক করলে তা বিশেষ ফলদায়ক বলে মনে করা হয়।

    ১০. বেলপাতা ও ধুতুরা অর্পণ করতে ভুলবেন না

    বেলপাতা, ধুতুরা ও আকন্দ ফুল মহাদেবের অত্যন্ত প্রিয় উপাচার হিসেবে বিবেচিত। তাই পুজোয় এগুলি রাখার চেষ্টা করুন।

    ১১. আতপ চাল ও যব নিবেদন

    শিবলিঙ্গে আতপ চাল ও যব অর্পণ করলে শুভ ফল প্রাপ্তির বিশ্বাস রয়েছে।

    ১২. সূর্যদেবকে জল অর্পণ

    শিবপুজো শুরুর আগে সূর্যদেবকে জল নিবেদন করাও অত্যন্ত শুভ বলে শাস্ত্রে উল্লেখ রয়েছে।

    শ্রাবণ সোমবার শিবপুজোয় যেসব ভুল করবেন না

    • শিবপুজোয় কখনও কেতকী ফুল নিবেদন করবেন না।
    • তুলসীপাতা শিবের পুজোয় ব্যবহার করা উচিত নয়।
    • পুজোয় যতটা সম্ভব সাদা রঙের উপাচার ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
    • শিবলিঙ্গে হলুদ, সিঁদুর, কুমকুম, তিল, ডাল, লাল ফুল বা শঙ্খ অর্পণ করা থেকে বিরত থাকার কথা বলেন শাস্ত্রবিশারদরা।
    • শিবলিঙ্গ সম্পূর্ণ প্রদক্ষিণ না করাই প্রচলিত ধর্মীয় রীতি।
    • সোমবার বেলপাতা না ছিঁড়ে আগের দিন সংগ্রহ করে রাখাই শ্রেয়।
    • শিবলিঙ্গে অভিষেকের জন্য পেতলের পাত্র ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
    • উপবাসের সময় দুধ পান না করে তা মহাদেবকে নিবেদন করাই ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী শুভ বলে মনে করা হয়।

    শ্রাবণ সোমবারের মূল বার্তা

    শ্রাবণ মাসের সোমবার শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় আচার নয়, ভক্তদের কাছে এটি আত্মশুদ্ধি, সংযম ও ঈশ্বরচিন্তারও একটি বিশেষ উপলক্ষ। ভক্তিভরে শিবের আরাধনা, নিয়ম মেনে ব্রত পালন এবং নিষ্ঠার সঙ্গে পুজো করলে জীবনে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি আসতে পারে— এমনটাই বিশ্বাস বহু শিবভক্তের।

  • Chicken Neck Security: বাংলাদেশ সীমান্তে ভারতের বড় পদক্ষেপ! চিকেনস নেকে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা, মহানন্দা নদীপথেও কড়া নজরদারি

    Chicken Neck Security: বাংলাদেশ সীমান্তে ভারতের বড় পদক্ষেপ! চিকেনস নেকে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা, মহানন্দা নদীপথেও কড়া নজরদারি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের একমাত্র স্থল সংযোগ হিসেবে পরিচিত শিলিগুড়ি করিডর বা ‘চিকেনস নেক’-এর নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে বড়সড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্র। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন জলপাইগুড়ির ফুলবাড়ি এলাকায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে সঙ্গে নিয়ে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সীমান্তে অনুপ্রবেশ, চোরাচালান এবং কৌশলগত ঝুঁকি মোকাবিলায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    ফুলবাড়ির জুমাগছে সরেজমিন পরিদর্শন

    শুক্রবার রাতে বাগডোগরা বিমানবন্দরে পৌঁছনোর পর থেকেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কর্মসূচিকে ঘিরে প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু হয়। শনিবার সকালে অমিত শাহ ও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যৌথভাবে জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জ থানার অন্তর্গত ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের স্পর্শকাতর গ্রাম জুমাগছ পরিদর্শন করেন। সীমান্তের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, মহানন্দা নদীর উন্মুক্ত অংশ এবং অনুপ্রবেশের সম্ভাব্য রুটগুলি খতিয়ে দেখা হয়।

    রাজ্যে ১০টি নতুন বর্ডার আউটপোস্ট, উত্তরবঙ্গে বাড়ছে নজরদারি

    উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর রাজ্যে ১০টি নতুন বর্ডার আউটপোস্ট (BOP) চালুর ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আউটপোস্ট উত্তরবঙ্গ ফ্রন্টিয়ারে তৈরি হবে। প্রশাসনের মতে, নতুন এই পরিকাঠামো চালু হলে বাংলাদেশ সীমান্তে বিএসএফ-এর নজরদারি ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানোর সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে।

    স্মার্ট ফেন্সিং ও থার্মাল নজরদারিতে জোর

    বৈঠকে সীমান্তে আধুনিক ত্রিস্তরীয় স্মার্ট ফেন্সিং দ্রুত সম্পূর্ণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে মহানন্দা নদীর যেসব অংশ এখনও কাঁটাতারবিহীন এবং উন্মুক্ত রয়েছে, সেখানে ভার্চুয়াল স্মার্ট ফেন্সিং, উন্নত থার্মাল ইমেজিং সিস্টেম এবং প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, জলপথ ব্যবহার করে কোনও ধরনের অনুপ্রবেশের সুযোগ রাখা হবে না।

    কেন এত গুরুত্বপূর্ণ জুমাগছ?

    প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, ফুলবাড়ি থেকে নারায়ণজোত পর্যন্ত প্রায় ৮ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকা গত এক সপ্তাহ ধরে বিএসএফ এবং রাজ্য পুলিশের যৌথ নিরাপত্তা বলয়ে রাখা হয়েছে। জুমাগছ থেকে রাবভিটার দূরত্ব মাত্র আড়াই কিলোমিটার। এই অঞ্চলের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ মহানন্দা নদীর বিস্তীর্ণ উন্মুক্ত অংশ, যেখানে বর্ষাকালে নদীপথ ব্যবহার করে সীমান্ত পেরিয়ে অনুপ্রবেশের আশঙ্কা থেকেই যায়।

    বাংলাদেশের তিস্তা প্রকল্প ও চিনা উপস্থিতি ঘিরে বাড়ছে সতর্কতা

    নিরাপত্তা মহলের নজরে রয়েছে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে তিস্তা নদীকে ঘিরে চলা বৃহৎ পরিকাঠামো প্রকল্পও। সীমান্তের ওপারে ওই এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে চিনা ইঞ্জিনিয়ার ও কারিগরি কর্মীদের উপস্থিতি বেড়েছে বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। সংশ্লিষ্ট অঞ্চলটি ভারতীয় সীমান্ত থেকে মাত্র ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে হওয়ায় পরিস্থিতিকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে কেন্দ্র। এই প্রেক্ষাপটে শিলিগুড়ি করিডর ও উত্তরবঙ্গের সীমান্ত নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

    ছয় জেলার প্রশাসনের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক

    এই বৈঠকে উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর এবং মালদা জেলার জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদের ডাকা হয়। বিএসএফ উত্তরবঙ্গ ফ্রন্টিয়ারের আইজির উপস্থিতিতে সীমান্তে জমি-সংক্রান্ত জট দ্রুত মিটিয়ে ফেন্সিংয়ের কাজ শেষ করার রূপরেখাও চূড়ান্ত করা হয়েছে।

    শিলিগুড়ি করিডর কেন ভারতের ‘লাইফলাইন?

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সূত্রে জানানো হয়েছে, শিলিগুড়ি করিডরই ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আটটি রাজ্যের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের স্থল যোগাযোগের অন্যতম প্রধান সংযোগ। ফলে এই অঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়ে কোনও ধরনের আপসের প্রশ্নই নেই। নতুন বর্ডার আউটপোস্ট, ত্রিস্তরীয় স্মার্ট ফেন্সিং, ভার্চুয়াল নজরদারি এবং প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাধ্যমে সীমান্তকে আরও অভেদ্য করে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, সীমান্তের ওপারে দ্রুত বদলে যাওয়া কৌশলগত পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে ভারতের এই পরিকাঠামোগত ও নিরাপত্তা জোরদারের উদ্যোগ ভবিষ্যতের নিরাপত্তা কৌশলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

  • Enforcement Directorate: ২০০ সাক্ষী, ৩৮ কোটি টাকার অভিযোগ— সোনা পাপ্পু মামলায় ১০০ পাতার চার্জশিট ইডির

    Enforcement Directorate: ২০০ সাক্ষী, ৩৮ কোটি টাকার অভিযোগ— সোনা পাপ্পু মামলায় ১০০ পাতার চার্জশিট ইডির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জমি দখল, আর্থিক তছরূপ এবং বেআইনি নির্মাণ ব্যবসার অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পুর বিরুদ্ধে প্রথম চার্জশিট পেশ করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। প্রায় ১০০ পাতার এই অভিযোগপত্র শুক্রবার কলকাতার নগর দায়রা আদালতের ইডির বিশেষ আদালতে জমা দিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। গত ১৮ মে গ্রেফতারের প্রায় দুই মাসের মধ্যেই এই চার্জশিট দাখিল করা হল।

    ইডির অভিযোগ, সোনা পাপ্পু দীর্ঘদিন ধরে কসবা ও আশপাশের এলাকায় প্রভাব খাটিয়ে প্রবীণ ও অসহায় জমির মালিকদের ভয় দেখিয়ে কম দামে জমি কিনে নিত। পরে সেই জমিতে বেআইনি নির্মাণ করে বিপুল আর্থিক লাভ করা হতো। অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে, এই পুরো চক্রে ভয়ভীতি প্রদর্শন, হুমকি এবং মাসল পাওয়ার ব্যবহার ছিল নিয়মিত কৌশল। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, প্রায় ৩৮ কোটি টাকার বেআইনি আর্থিক লেনদেন ও দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন সোনা পাপ্পু। এই মামলায় প্রায় ২০০ জনকে সাক্ষী হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে।

    চার্জশিটে আরও দাবি করা হয়েছে, এই চক্র পরিচালনায় কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন আধিকারিক শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের মদত ছিল। তদন্তে সোনা পাপ্পু, শান্তনু সিনহা বিশ্বাস এবং অপর অভিযুক্ত জয় কামদারের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের তথ্য উঠে এসেছে বলে ইডি জানায়। অভিযোগ অনুযায়ী, জয় কামদারের সহযোগিতায় সোনা পাপ্পুর স্ত্রীর নামে অস্ত্রের লাইসেন্স সংগ্রহ করা হয় এবং একটি আগ্নেয়াস্ত্র কেনা হয়েছিল। পরে ইডির তল্লাশিতে সেই পিস্তল উদ্ধার হয়। তদন্তে আরও দাবি করা হয়েছে, অস্ত্র কেনার মাত্র ১৫ দিনের মধ্যেই রবীন্দ্র সরোবরের কাকুলিয়া রোড এলাকায় সংঘর্ষের একটি ঘটনা ঘটে। এরপর থেকেই সোনা পাপ্পু আত্মগোপনে চলে যায়।

    ইডির অভিযোগ, পলাতক থাকার সময় একাধিকবার তলব করা হলেও সোনা পাপ্পু তদন্তে সহযোগিতা করেননি। পরে তাঁর একাধিক ঠিকানায় তল্লাশি চালায় তদন্তকারী সংস্থা। চলতি বছরের মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে প্রায় ১০ ঘণ্টার ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের পর সোনা পাপ্পুকে গ্রেফতার করে ইডি। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, জেরার সময় তাঁর বক্তব্যে একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়ে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করার চেষ্টারও অভিযোগ ওঠে। এরপরই তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার করা হয়।

    ইডির দাবি, জমি দখল, প্রতারণা, বেআইনি আর্থিক লেনদেন এবং সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র পরিচালনার মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে এই কর্মকাণ্ড চলছিল। তদন্ত এখনও চলছে। ইতিমধ্যেই সোনা পাপ্পুর বিরুদ্ধে জমি সংক্রান্ত প্রতারণা-সহ একাধিক ফৌজদারি মামলার তদন্তও চলছে।

  • Bipadtarini Puja 2026: বিপদ থেকে রক্ষা, সংসারে সুখ-সমৃদ্ধি! আজ বিপত্তারিণী ব্রত, জানুন ব্রতের মাহাত্ম্য

    Bipadtarini Puja 2026: বিপদ থেকে রক্ষা, সংসারে সুখ-সমৃদ্ধি! আজ বিপত্তারিণী ব্রত, জানুন ব্রতের মাহাত্ম্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ, ১৮ জুলাই শনিবার, বিপত্তারিণী পুজো। প্রত্যেক বছর আষাঢ় মাসে রথযাত্রা এবং উল্টোরথের মধ্যে যে শনি এবং মঙ্গলবার পড়ে সেই দুই দিনেই পালিত হয় বিপত্তারিণী ব্রত উত্‍সব। কথিত আছে, এই ব্রত পালন করার সময় দেবীর চরণে উৎসর্গকৃত ‘লাল তাগা’ বা লাল সুতো হাতে বাঁধা থাকলে বিপদ ধারকাছেও ঘেঁষতে পারবে না। এবছর, আজ এবং ২১ জুলাই, মঙ্গলবার পালিত হবে বিপত্তারিণী ব্রত।

    যিনি বিপদকে তারণ করেন তিনিই বিপত্তারিণী

    দেবাদিদেব মহাদেবের অর্ধাঙ্গিনী, আদি শক্তি হলেন দেবী দুর্গা। অন্যান্য দেবী তাঁরই অবতার বা ভিন্ন রূপ। দেবী দুর্গার ১০৮ রূপের মধ্যে এক রূপ, দেবী বিপত্তারিণী। সঠিক অর্থে বিশ্লেষণ করলে ‘বিপত্তারিণী’ বা ‘সঙ্কটনাশিনী’ দেবীর নাম নয়, উপাধি। যিনি বিপদ তারণ করেন, তিনিই বিপত্তারিণী। আবার সব রকমের সঙ্কটকে বিনাশ করেন, তাই তিনিই সঙ্কটনাশিনী। আসলে, মহামায়ার আলাদা করে কোনও নাম হয় কি? ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ ইনিই। আবার ‘দশমহাবিদ্যা’ও তাঁরই রূপের প্রকাশ।

    স্বামী-সন্তান-পরিবারের মঙ্গল কামনায় বিপত্তারিণী

    বাংলায় ঘরে ঘরে বিবাহিত মহিলারা স্বামী-সন্তান-পরিবারের মঙ্গল কামনায় মা বিপত্তারিণী পুজো করেন। গ্রামাঞ্চলে বিপত্তারিণী পুজো চারদিন ধরে চলে। প্রথম দিনে দেবীর আরাধনা করা হয়। মহিলারা গঙ্গা বা কোনও নদীতে স্নান করে দণ্ডী কাটেন। তারপর দুই রাত্রি ধরে রাতে বাংলা লোকগান, ভজন ও কীর্তন চলে। চতুর্থ দিনে বিসর্জন হয়। বিপত্তারিণী পুজো উপলক্ষে মেয়েরা উপবাস করেন। কিন্তু জানেন কি এই পুজোর মাহাত্ম্য? দেবীর মাহাত্ম্য নিয়ে একাধিক বৃত্তান্ত রয়েছে। দেবীর বিপত্তারিণী রূপ নিয়ে ‘মার্কণ্ডেয় পুরাণে’ কাহিনীটি বেশ জনপ্রিয়—

    ‘মার্কণ্ডেয় পুরাণে’ কী বলা হয়েছে?

    কথিত আছে, শুম্ভ-নিশুম্ভ, অসুর ভ্রাতৃদ্বয়ের হাত থেকে নিষ্কৃতি পেতে দেবগণ একবার মহামায়ার স্তব করছেন, এমন সময় শিবজায়া পার্বতী সেখানে হাজির হয়ে শুধালেন, “তোমরা কার স্তব করছ গো?” যাঁর স্তব, তিনি স্বয়ংই এ প্রশ্ন করছেন। কিন্তু দেবতারা তাঁকে চিনতে পারলেন না। তখন পার্বতী নিজের স্বরূপ দেখিয়ে বললেন, “তোমরা আমারই স্তব করছ।” এর পরবর্তীতে দেবী শুম্ভ-নিশুম্ভকে বধ করেন। দেবতাদের বিপদ থেকে উদ্ধার করলেন। সেই থেকে বিপত্তারিণী পুজোর উৎস।

    দেবীর মাহাত্ম্য নিয়ে একাধিক বৃত্তান্ত

    এই পুজোর একটি কাহিনি রয়েছে। ব্রতকথা অনুযায়ী, বিষ্ণুপুরের মল্ল রাজবংশের এক রানির এক নিম্নবর্ণের সখী ছিলেন। তিনি জাতে মুচি। এই মহিলা নিয়মিত গোমাংস খেতেন। রানিও একদিন কৌতূহলী হয়ে গোমাংস খাওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেন। প্রথমে তিনি নিমরাজি হন। পরে তিনি রানির আদেশ রক্ষার্থ গোমাংস আনেন। অন্তঃপুরে গোমাংস প্রবেশ করেছে— এই খবর রাজার কাছে পৌঁছে যায়। তিনি ক্রুদ্ধ হয়ে রানিকে শাস্তি দিতে উদ্যত হন। রানি গোমাংস তাঁর বস্ত্রের আড়ালে লুকিয়ে রেখে বিপত্তারিণী মা দুর্গাকে স্মরণ করতে থাকেন। রানিকে তল্লাশি করে রাজা দেখতে পান তাঁর বস্ত্র আড়ালে গোমাংস নয়, রয়েছে একটি লাল জবা ফুল। লাল জবা কালী পুজোর অন্যতম উপকরণ। মায়ের এই পুষ্প দেখে রাজা তাঁর ভুল বুঝতে পারেন। রানিকে ক্ষমা করে দেন। মা বিপত্তারিণী দুর্গার কৃপায় রানির বিপদ কেটে গেল। এরপর থেকে রানি নিষ্ঠা-সহকারে বিপত্তারিণীর ব্রত করতে থাকলেন। সেই থেকেই বিপত্তরিণীর পুজো প্রচলিত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

    ব্রত পালনে কী কী লাগে?

    ঘট, আম্র পল্লব, শীষ সহ ডাব, একটি নৈবেদ্য, ১৩টি গিঁট দেওয়া লাল সুতো (সঙ্গে ১ত টি দূর্বা বাঁধা), ১৩ রকম ফুল, ১৩ রকম ফল, ১৩ গাছি লাল সুতো, ১৩টি দূর্বা, ১৩টি পান ও ১৩টি সুপুরি।

    এই পুজোয় তেরো সংখ্যার তাৎপর্য

    এই পুজোর একটা বিশেষ নিয়ম হল সবকিছু ১৩টা করে উৎসর্গ করতে হয় দেবীকে। ব্রতর আচার হিসেবে সব কিছু দিতে হয় তেরোটি করে। যেমন— তেরোটি নৈবেদ্য সাজাতে হয়। ব্রত পালনে লাগে তেরো রকম ফুল, তেরো রকম ফল, তেরোটি পান, তেরোটি সুপুরি, তেরোটি এলাচ। এছাড়া, বিপত্তারিণী ব্রতপালনের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হিসেবে হাতে বাঁধতে হয় লাল ডুরি বা ডোর বা তাগা। এই ডোর তৈরির ক্ষেত্রেও তেরো সংখ্যা গুরুত্বপূর্ণ। তেরো গাছা লাল সুতোর সঙ্গে তেরোটি দূর্বা রেখে তেরোটি গিঁট বেঁধে তৈরি হয় এই পবিত্র তাগা বা ডোর। বিশ্বাস করা হয় যে, এই তাগা হাতে পরলে তাঁকে কোনও বিপদ স্পর্শ করতে পরে না৷

    লাল রঙের তাগা কেন বাঁধা হয়

    বিপত্তারিণীর পুজো শেষে হাতে লাল তাগা বাঁধার চল রয়েছে। মেয়েরা এই তাগা বাঁ হাতে পরেন আর ছেলেরা ডান হাতে পরেন। সেই তাগাতেও ১৩টি গিঁট বাঁধা হয়। সেই ১৩টি গিঁটে দেবী দুর্গার ১৩টি রূপে বিরাজ করেন বলে বিশ্বাস করা হয়। ১৩টি গিঁট ছাড়াও তাতে ১৩টি দূর্বাঘাস বাঁধা হয়। এই তাগা অনেকে সারা বছর ধরে পরে থাকেন, অনেকে আবার তিন দিন পরার পর নদী বা পুকুরের জলে ভাসিয়ে দেন। বিশ্বাস করা হয় যে, এই তাগা হাতে পরলে বিপদ কোনও দিন আপনাকে স্পর্শ করতে পারবে না।

    খাবারেও ১৩ সংখ্যা আবশ্যিক

    বিপত্তারিণী পুজোর শেষে সকলেই হাতে ওই ডোর বেঁধে দেওয়া হয়৷ মেয়েরা বাম হাতে ও ছেলেরা ডান হাতে এটি পরেন৷ এটি শুধু ব্রত পালন যিনি করছেন তিনিই যে বাঁধেন তা নয়, পরিবারের অন্য সদস্যরাও বাঁধেন বিপন্মুক্তির জন্য৷ ব্রতপালনের পর খাবার যা খেতে হয়, সেখানেও ১৩ সংখ্যা রাখা আবশ্যিক৷ মায়েরা প্রসাদ হিসেবে খান, তেরোটি লুচি বা পরটা সঙ্গে তেরো রকমের ফল। চাল-চিঁড়ে-মুড়ি এসব খাওয়া যায় না৷ ফল বা ময়দার রান্না যাই খাওয়া হোক না কেন সেটা ১৩ সংখ্যায় গ্রহণ করার কথাই ব্রতে বলা হয়৷ তবে যদি সেটা না হয় তাহলে পুজো মিটে যাওয়ার পর বিজোড় সংখ্যাতেও খাদ্যগ্রহণ করা যায়৷

    বিশ্বাস করা হয়, বিপত্তারিণী পুজো (Bipadtarini Puja) করলে শুধু বিপদই নয় অর্থ সঙ্কট থেকেও মুক্তি পাওয়া যায়। এবং ঘরে সুখ ও সমৃদ্ধি লাভ হয়। তবে, বিপত্তারিণী পুজোর বিশেষ কিছু নিয়ম রয়েছে, যা নিয়ম নিষ্ঠা করে পালন করতে হয়। তবে না জেনে এই বিপত্তারিণী পুজো করলেই হতে পারে চরম বিপদ।

  • Haroa Madrasa ED Raid: হাড়োয়ার মাদ্রাসা থেকে উদ্ধার ৪০ লক্ষ টাকা ও বহু সোনার কয়েন! রোহিঙ্গা-বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ তদন্তে হানা দিয়েছিল ইডি

    Haroa Madrasa ED Raid: হাড়োয়ার মাদ্রাসা থেকে উদ্ধার ৪০ লক্ষ টাকা ও বহু সোনার কয়েন! রোহিঙ্গা-বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ তদন্তে হানা দিয়েছিল ইডি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উত্তর ২৪ পরগনার হাড়োয়ায় একটি মাদ্রাসায় তল্লাশি চালিয়ে ৪০ লক্ষ টাকা নগদ এবং ১৮০ গ্রাম ওজনের সোনার কয়েন উদ্ধার করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দাবি, এই অভিযান একটি বৃহত্তর আর্থিক তছরুপ তদন্তের অংশ, যেখানে রোহিঙ্গা ও অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশকারী বাংলাদেশি নাগরিকদের অনুপ্রবেশ এবং ভুয়ো পরিচয়পত্র তৈরির সঙ্গে জড়িত একটি চক্রের আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    হাড়োয়ার মাদ্রাসায় কী উদ্ধার করল ইডি?

    ইডি জানিয়েছে, উত্তর ২৪ পরগনার হাড়োয়ার আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া দারুল উলুম খলিলকাপুর মাদ্রাসায় তল্লাশি চালিয়ে ৪০ লক্ষ টাকা নগদ এবং ১৮০ গ্রাম সোনার কয়েন উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট কর্মীরা উদ্ধার হওয়া নগদ অর্থ এবং সোনার বৈধ উৎস সম্পর্কে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। সেই কারণেই নগদ অর্থ ও সোনার কয়েন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এছাড়াও ওই স্থান থেকে বিভিন্ন ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত নথি, আর্থিক রেকর্ড এবং ডিজিটাল ডিভাইসও উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে সেগুলি খতিয়ে দেখে আর্থিক লেনদেন এবং সম্ভাব্য নেটওয়ার্কের যোগসূত্র অনুসন্ধান করা হচ্ছে।

    ১৬টি জায়গায় একযোগে অভিযান

    ইডির এই অভিযান শুধু পশ্চিমবঙ্গেই সীমাবদ্ধ ছিল না। পশ্চিমবঙ্গ, উত্তরপ্রদেশ, দিল্লি এবং হরিয়ানার মোট ১৬টি স্থানে একযোগে তল্লাশি চালানো হয়। এই তল্লাশি প্রিভেনশন অব মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট (PMLA)-এর আওতায় পরিচালিত হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, কয়েকটি ট্রাস্ট, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ বিদেশি অনুদান ভারতে আসে। পরে সেই অর্থ একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, ‘মিউল অ্যাকাউন্ট’, স্তরভিত্তিক লেনদেন এবং হাওলা চ্যানেলের মাধ্যমে অন্যত্র সরিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।

    কী অভিযোগ তদন্তকারীদের?

    ইডির অভিযোগ, এই অর্থ ব্যবহার করা হত—

    • ● রোহিঙ্গা ও অবৈধ বাংলাদেশি নাগরিকদের ভারতে অনুপ্রবেশে সহায়তা করতে।
    • ● ভুয়ো আধার, প্যান-সহ বিভিন্ন ভারতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করতে।
    • ● বিভিন্ন রাজ্যে তাদের বসবাসের ব্যবস্থা করতে।
    • ● চাকরি ও ব্যবসা গড়ে তুলতে সাহায্য করতে।
    • ● চক্রের অন্যান্য বেআইনি কার্যকলাপ পরিচালনা করতে।

    তদন্তকারীদের আরও দাবি, নজর এড়াতে অভিযুক্তরা নগদ টাকা উত্তোলন এবং ছোট ছোট অঙ্কে ব্যাঙ্ক ট্রান্সফারের মাধ্যমে অর্থ বণ্টন করত।

    ২০২৩ সালের এটিএস মামলার সূত্রেই শুরু তদন্ত

    এই মানি লন্ডারিং মামলার সূত্রপাত উত্তরপ্রদেশ অ্যান্টি-টেররিস্ট স্কোয়াড (ATS)-এর দায়ের করা একটি এফআইআর থেকে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে দায়ের হওয়া ওই মামলার ভিত্তিতে ২০২৪ সালে ইডি তদন্ত শুরু করে। এটিএসের দাবি, প্রায় চার বছর আগে বারাণসী থেকে মহম্মদ ওরফে আদিল-উর-রহমান নামে এক সন্দেহভাজন বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তদন্তে জানা যায়, তিনি অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করে ভুয়ো পরিচয়পত্র সংগ্রহ করেছিলেন বলে অভিযোগ। জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি আরও দুই সন্দেহভাজন বাংলাদেশি নাগরিক শেখ নাজিব-উল-হক এবং আবু হুরাইরা-র নাম জানান, যাঁরা উত্তরপ্রদেশের দেওবন্দে একই চক্রের সহায়তায় বসবাস করছিলেন বলে এটিএসের দাবি।

    একাধিক রাজ্যে সক্রিয় ছিল চক্র, দাবি এটিএসের

    এটিএসের অভিযোগ, এই চক্রের কার্যকলাপ পশ্চিমবঙ্গ, দিল্লি, হরিয়ানা, মধ্যপ্রদেশ এবং উত্তরপ্রদেশের একাধিক জেলায় বিস্তৃত ছিল। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, দিল্লি ও হরিয়ানার কিছু এনজিও এবং পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তরপ্রদেশের কয়েকটি মাদ্রাসা এই বৃহত্তর নেটওয়ার্কের অংশ হিসেবে কাজ করত। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে মানবপাচার, সরকারি নথি জাল করা এবং অবৈধ অনুপ্রবেশে সহায়তা করার মতো অপরাধ। এই মামলায় ইতিমধ্যেই এটিএস সাতটি চার্জশিট জমা দিয়েছে। মামলায় মানবপাচার, প্রতারণার উদ্দেশ্যে জালিয়াতি, ফৌজদারি ষড়যন্ত্র, বিদেশি নাগরিক আইন এবং পাসপোর্ট আইনের বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

    প্রায় ২০ কোটি টাকার লেনদেনের অভিযোগ

    তদন্তকারীদের দাবি, এই চক্রের মাধ্যমে প্রায় ২০ কোটি টাকার আর্থিক লেনদেন হয়েছে। অভিযোগ, বিদেশি অর্থ হাওলা এবং বিভিন্ন মিউল ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ভারতে পৌঁছেছিল। অভিযুক্তদের মধ্যে দিল্লির বাসিন্দা ডা. আবদুল গফ্ফার-এর জামিনের বিরোধিতা করতে গিয়ে প্রসিকিউশন আদালতে জানায়, ২০২১ সালের অক্টোবর থেকেই গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এটিএস এবং জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA) এই নেটওয়ার্কের উপর নজরদারি চালাচ্ছিল। প্রসিকিউশনের দাবি, কিছু ব্যক্তি সমাজসেবামূলক কাজের আড়ালে রোহিঙ্গা এবং অবৈধ বাংলাদেশি নাগরিকদের ভারতে বসতি স্থাপনে সাহায্য করার চেষ্টা করছিলেন, যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের বিষয় বলে তদন্তকারীরা মনে করছেন।

    তদন্ত এখনও চলছে

    এটিএসের কাছ থেকে সম্ভাব্য মানি লন্ডারিং সংক্রান্ত তথ্য পাওয়ার পর ইডির লখনউ জোনাল অফিস পিএমএলএ-এর আওতায় তদন্ত শুরু করে। ইডি জানিয়েছে, বাকি ১৫টি স্থানে তল্লাশি ১৬ জুলাই গভীর রাত পর্যন্ত চলেছে। সেখান থেকে উদ্ধার হওয়া নথি, ডিজিটাল ডিভাইস এবং আর্থিক তথ্য এখনও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। তদন্তকারী সংস্থার আশা, বাজেয়াপ্ত নথি ও ইলেকট্রনিক তথ্য বিশ্লেষণ করে অভিযুক্ত নেটওয়ার্কের অর্থের উৎস, লেনদেনের পদ্ধতি এবং এর সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা সম্পর্কে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসবে।

  • RBI Gold Reserves: ডলার ছেড়ে সোনার পথে ভারত! ৬ বছরে সর্বনিম্ন মার্কিন ট্রেজারি, বড় কৌশলগত বদল আরবিআই-এর

    RBI Gold Reserves: ডলার ছেড়ে সোনার পথে ভারত! ৬ বছরে সর্বনিম্ন মার্কিন ট্রেজারি, বড় কৌশলগত বদল আরবিআই-এর

    সুশান্ত দাস

    ভারত কি ধীরে ধীরে মার্কিন ডলারের উপর নির্ভরতা কমাচ্ছে? কেন এক বছরে ২২.৫ শতাংশ কমিয়ে দেওয়া হল মার্কিন ট্রেজারিতে বিনিয়োগ? আবার কেনই বা বিদেশে রাখা শত শত টন সোনা দেশে ফিরিয়ে আনছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI)? প্রথম নজরে এই ঘটনাগুলি আলাদা মনে হলেও, অর্থনীতিবিদদের মতে এগুলি আসলে একই কৌশলের অংশ। বিশ্বের দ্রুত বদলে যাওয়া ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্যে ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে আরও নিরাপদ, ভারসাম্যপূর্ণ এবং ঝুঁকিমুক্ত করে তোলাই এখন রিজার্ভ ব্যাঙ্কের অন্যতম অগ্রাধিকার।

    কী ঘটেছে?

    ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিলের মধ্যে ভারতের মার্কিন ট্রেজারি হোল্ডিংসের পরিমাণ ২৩২ বিলিয়ন ডলার থেকে কমে ১৮১ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। অর্থাৎ এক বছরে প্রায় ২২.৫ শতাংশ কমেছে মার্কিন সরকারি বন্ডে ভারতের বিনিয়োগ। এটি গত ছয় বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। একই সময়ে ভারতের সোনার রিজার্ভ ৬৫৮ মেট্রিক টন থেকে বেড়ে প্রায় ৮৮১ মেট্রিক টনে পৌঁছেছে। শুধু তাই নয়, ২০২৩ সাল থেকে ধাপে ধাপে ৩৮০ টনেরও বেশি সোনা বিদেশের ভল্ট থেকে দেশে ফিরিয়ে এনেছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক।এই দুটি পদক্ষেপকে একসঙ্গে দেখলেই ভারতের নতুন রিজার্ভ কৌশল স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

    কেন মার্কিন ট্রেজারিতে বিনিয়োগ কমাচ্ছে ভারত?

    এই প্রশ্নের সহজ উত্তর— ঝুঁকি কমানো। দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন ট্রেজারি বিশ্বের সবচেয়ে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। কারণ, মার্কিন অর্থনীতি এবং ডলারের উপর আন্তর্জাতিক আস্থা অত্যন্ত শক্তিশালী। কিন্তু গত কয়েক বছরে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি বদলেছে।রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, পশ্চিমা দেশগুলির অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, সম্পদ জব্দ হওয়ার নজির এবং বড় শক্তিগুলির মধ্যে ক্রমবর্ধমান কৌশলগত প্রতিযোগিতা দেখিয়ে দিয়েছে, কোনও একটি দেশের আর্থিক ব্যবস্থার উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা ভবিষ্যতে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এই কারণেই এখন অনেক কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক একই ঝুড়িতে সব ডিম না রেখে বিভিন্ন ধরনের সম্পদে বিনিয়োগ বাড়ানোর নীতি নিচ্ছে।

    কেন সোনা এত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে?

    সোনা এমন একটি সম্পদ, যার মূল্য কোনও একক দেশের সরকার বা কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের নীতির উপর নির্ভরশীল নয়। যুদ্ধ, অর্থনৈতিক মন্দা, মূল্যস্ফীতি কিংবা মুদ্রার অস্থিরতার সময়ও সোনা সাধারণত তার গ্রহণযোগ্যতা ধরে রাখে। তাই একে ‘সেফ হেভেন অ্যাসেট’ বলা হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলির কাছে সোনা শুধু একটি বিনিয়োগ নয়, বরং আর্থিক নিরাপত্তার প্রতীক। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রয়োজনে এটি সহজেই নগদে রূপান্তর করা যায় এবং কোনও বিদেশি সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের উপর এর অস্তিত্ব নির্ভর করে না।

    বিদেশে সোনা রেখে ঝুঁকি কোথায়?

    অনেক দেশ ঐতিহাসিক কারণে লন্ডন, নিউ ইয়র্ক বা অন্যান্য আন্তর্জাতিক আর্থিক কেন্দ্রে তাদের সোনা সংরক্ষণ করে। কিন্তু সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক ঘটনাবলি দেখিয়েছে, আন্তর্জাতিক সংঘাত বা নিষেধাজ্ঞার পরিস্থিতিতে বিদেশে রাখা সম্পদের উপর প্রবেশাধিকার সীমিত হয়ে যেতে পারে। এই কারণেই রিজার্ভ ব্যাঙ্ক ধীরে ধীরে দেশের ভল্টে সোনা ফিরিয়ে আনছে। এতে ভারতের সম্পদের উপর সরাসরি নিয়ন্ত্রণ বাড়ছে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে তা ব্যবহারের স্বাধীনতাও নিশ্চিত হচ্ছে।

    শুধু ভারত নয়, বিশ্বও একই পথে…

    ভারতের পাশাপাশি, চিন গত এক বছরে তাদের মার্কিন ট্রেজারি হোল্ডিংস ৭৪৩.৬ বিলিয়ন ডলার থেকে কমিয়ে ৬৫১.১ বিলিয়ন ডলারে এনেছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সমীক্ষা বলছে, বিশ্বের অধিকাংশ কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক আগামী বছরেও সোনার রিজার্ভ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। অর্থাৎ এটি কোনও একক দেশের সিদ্ধান্ত নয়; বরং বিশ্বজুড়ে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলির রিজার্ভ ব্যবস্থাপনায় একটি বড় প্রবণতা তৈরি হচ্ছে।

    তাহলে কি ডলারের যুগ শেষ?

    এর মানে একেবারেই নয় যে, ডলারের যুগ শেষ। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, তেল লেনদেন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এবং বিশ্ব অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে এখনও মার্কিন ডলারই রয়েছে। ভারতও এখনও ১৮১ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন ট্রেজারি ধরে রেখেছে। অর্থাৎ রিজার্ভ ব্যাঙ্ক ডলার ছেড়ে দিচ্ছে না; বরং ডলারের পাশাপাশি সোনা ও অন্যান্য সম্পদের ভারসাম্য বাড়াচ্ছে। এটিকে ডি-রিস্কিং বলা যায়, ডি-ডলারাইজেশন নয়।

    ভারতের জন্য এর অর্থ কী?

    এই কৌশলের মাধ্যমে ভারত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা পেতে পারে—

    • বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও বৈচিত্র্যময় হবে।
    • আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা বা ভূরাজনৈতিক সংকটের ঝুঁকি কিছুটা কমবে।
    • মূল্যস্ফীতির সময় রিজার্ভের স্থিতিশীলতা বাড়বে।
    • বিদেশে রাখা সম্পদের উপর নির্ভরতা কমবে।
    • দীর্ঘমেয়াদে রিজার্ভ ব্যবস্থাপনা আরও নমনীয় হবে।

    আগামী দিনে কী নজরে রাখবেন?

    এখন নজর থাকবে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের পরবর্তী বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংক্রান্ত তথ্যের দিকে। পাশাপাশি বিশ্বের অন্যান্য বড় অর্থনীতি—বিশেষ করে চিন, জাপান, ইউরোপের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক এবং ব্রিকস (BRICS) দেশগুলিও একই পথে এগোয় কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হবে। যদি এই প্রবণতা আরও জোরদার হয়, তাহলে আগামী দশকে বিশ্বের বৈদেশিক রিজার্ভ ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। যদিও মার্কিন ডলারের আধিপত্য রাতারাতি শেষ হওয়ার সম্ভাবনা নেই, তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—বিশ্বের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলি এখন আর একটিমাত্র সম্পদের উপর নির্ভর করে থাকতে চাইছে না।

    রিজার্ভ ব্যাঙ্কের কৌশল কী?

    রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সাম্প্রতিক পদক্ষেপকে শুধু মার্কিন ট্রেজারি বিক্রি বা সোনা কেনার ঘটনা হিসেবে দেখলে পুরো ছবিটা ধরা পড়বে না। এটি এমন এক দীর্ঘমেয়াদি কৌশল, যার মূল লক্ষ্য ‘নিরাপত্তা, বৈচিত্র্য এবং সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণ’। অর্থাৎ ভবিষ্যতের অনিশ্চিত বিশ্বে ভারতের বৈদেশিক রিজার্ভকে এমনভাবে সাজানো, যাতে কোনও একটি দেশের নীতি, নিষেধাজ্ঞা বা ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েন ভারতের আর্থিক স্থিতিশীলতাকে বড় ধাক্কা দিতে না পারে। এই কারণেই অর্থনীতিবিদদের একাংশ মনে করছেন, ভারতের এই পদক্ষেপ কেবল রিজার্ভ ব্যবস্থাপনার পরিবর্তন নয়, বরং আগামী দশকের বৈশ্বিক আর্থিক বাস্তবতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে নেওয়ার একটি সুস্পষ্ট কৌশলগত প্রস্তুতি।

  • Self Medication Side Effects: জ্বর-কাশিতে নিজের মতো ওষুধ খাচ্ছেন? হতে পারে কিডনি-লিভারের মারাত্মক ক্ষতি! বড় সতর্কবার্তা চিকিৎসকদের

    Self Medication Side Effects: জ্বর-কাশিতে নিজের মতো ওষুধ খাচ্ছেন? হতে পারে কিডনি-লিভারের মারাত্মক ক্ষতি! বড় সতর্কবার্তা চিকিৎসকদের

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    জ্বর-কাশির মতো সাধারণ সমস্যা হোক কিংবা বৃষ্টিতে ভেজার জেরে মাথা ধরা, যেকোনো সামান্য ভোগান্তিতে অনেকেই নিজেই নিজের চিকিৎসক হয়ে ওঠেন। কেউ হঠাৎ একখানা ব্যথা কমার ওষুধ খেয়ে নেন, আবার কেউ ইচ্ছে মতো দোকান থেকে অ্যান্টিবায়োটিক কিনে নেন। আর এগুলোই বড় জটিলতা তৈরি করে। আগামী দিনে সমস্যা তৈরি হয়। যথেচ্ছ ওষুধ খাওয়া এবং তার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, ভারতে অন্যতম বড় জনস্বাস্থ্য বিপর্যয় হতে চলেছে।

    কোন ওষুধে বিপদ বাড়াতে পারে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, যেকোনো ওষুধ ইচ্ছে মতো, যখন তখন খেলে শরীরে প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। অনেক সময়েই দ্রুত প্রতিক্রিয়া বোঝা যায় না। কিন্তু পরে শরীরের উপরে গভীর প্রভাব পড়ে। তাই যেকোনো ওষুধ খাওয়ার আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ জরুরি। বিশেষত অ্যান্টিবায়োটিক, পেইন কিলার কিংবা অ্যান্টি অ্যালার্জির ওষুধ খাওয়ার আগে, উপযুক্ত পরামর্শ প্রয়োজন। কতদিন ওষুধ খাওয়া প্রয়োজন, কতটা মাপের ওষুধ খেতে হবে, এগুলো একমাত্র বিশেষজ্ঞরা ঠিকমতো পরামর্শ দিতে পারে। তা না হলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে যাবে।

    কোন দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকেরা?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, যথেচ্ছ ওষুধ খাওয়ার ফলে শরীরে একাধিক দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে। তাঁরা জানাচ্ছেন, অনেকেই সামান্য মাথা ব্যথা, হাত-পায়ে ব্যথা হলে খুব শক্তিশালী পেইন কিলার বা ব্যথা কমানোর ওষুধ খাচ্ছেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়াই এই ওষুধ খাওয়া হয়। এর ফলে ডোজ সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট ধারণা থাকে না। রোগীর ব্যথা কমার জন্য কতখানি মাপের ব্যথা কমার ওষুধ প্রয়োজন, সেটা জানা জরুরি। নিয়মিত প্রয়োজনের অতিরিক্ত উচ্চমাত্রার ব্যথা কমার ওষুধ খেলে, কিডনিতে গভীর ক্ষত তৈরি হয়। রক্তচাপের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। তাছাড়া, স্নায়ুর উপরেও গভীর প্রভাব ফেলে। স্নায়ুর কার্যক্ষমতা কমে। তাই যথেচ্ছ পেইন কিলার খাওয়ার প্রবণতা বিপজ্জনক।

    অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার প্রবণতা বাড়ছে ভারতে

    ভারতে মারাত্মক হারে বেড়েছে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার প্রবণতা। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, সামান্য জ্বর, সর্দি-কাশি কিংবা সাধারণ পেটের গোলমাল হলেও ইচ্ছেমতো অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। এর ফল মারাত্মক। তাঁরা জানাচ্ছেন, ভারতে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সের সমস্যা ক্রমশ বাড়ছে। যেকোনো বড় অপারেশন কিংবা সংক্রামক রোগে চিকিৎসা করাই কঠিন হয়ে উঠছে। তাঁরা জানাচ্ছেন, রোগী যথেচ্ছ অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার ফলে, অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী শক্তি শরীরে সক্রিয় হয়ে উঠছে। এর ফলে কোনো বড় অসুখ হলে, সংক্রমণ রুখতে অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করছে না। এর ফলে নিউমোনিয়া, লিভারের অসুখ কিংবা বড় কোনো অপারেশনের পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটছে। সুস্থ হতে সময় লাগছে।

    অ্যালার্জির সমস্যা ভারতে বাড়ছে

    অ্যালার্জির সমস্যা ভারতে বাড়ছে। দূষণ ও নানান অভ্যাস পরিবর্তনের জেরে ভারতীয়দের মধ্যে নানান অ্যালার্জি দেখা দিচ্ছে। অনেকেই অ্যালার্জি কমাতে ইচ্ছেমতো অ্যান্টি অ্যালার্জির ওষুধ খাচ্ছেন। এর ফলে শরীরে অন্যান্য পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া তৈরির ঝুঁকি বাড়ছে। আদৌও অ্যান্টি অ্যালার্জির প্রয়োজন রয়েছে কিনা, উপসর্গগুলো অ্যালার্জির কিনা, সেটা ঠিকমতো যাচাই হচ্ছে না। তার আগেই ওষুধ খাওয়া হয়ে যাচ্ছে। অনেকেই দীর্ঘমেয়াদি ওষুধে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছেন। এর ফলে শরীরে গভীর ক্ষত তৈরি হচ্ছে। যা পরবর্তীতে নানান রোগের কারণ হয়ে ওঠে।

    কেন যথেচ্ছ ওষুধ খাওয়ার প্রবণতা বাড়ছে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, অধিকাংশ ভারতীয়ের কাছেই এখন নানান তথ্য সংগ্রহ খুবই সহজ। কারণ, ইন্টারনেটের ব্যবহার সুলভ। এর ফলে অনেকেই কোনো শারীরিক সমস্যা হলে, ইন্টারনেটে উপসর্গ দেখেন।‌ সেখানে থাকা ওষুধের নাম দেখেই নিজের মতো সেগুলো খেয়ে নেন। কিন্তু এক উপসর্গে নানান রোগের হতে পারে। তথ্য কখনোই রোগ নির্ণয় করতে পারে না। বরং, রোগ সম্পর্কে একটা ধারণা দিতে পারে। এই সচেতনতার অভাবের জেরেই ভারতে বড় স্বাস্থ্য বিপর্যয় হতে পারে। যথেচ্ছ ওষুধ খাওয়ার অভ্যাস শরীরের রোগ প্রতিরোধ শক্তি কমাবে। আবার অন্যান্য বড় অসুখে ভোগার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই ওষুধ খাওয়ার আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ জরুরি।

LinkedIn
Share