Author: Susanta Das

  • Rath Yatra 2026: পুরীর রথযাত্রার ৩ রথের অজানা রহস্য! নন্দীঘোষ, তালধ্বজ ও দর্পদলনের বিশেষত্ব জানেন?

    Rath Yatra 2026: পুরীর রথযাত্রার ৩ রথের অজানা রহস্য! নন্দীঘোষ, তালধ্বজ ও দর্পদলনের বিশেষত্ব জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রথযাত্রা শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, কোটি কোটি ভক্তের কাছে এটি আস্থা, ভক্তি ও পুণ্যলাভের এক মহামুহূর্ত। ওড়িশার পুরীতে অনুষ্ঠিত শ্রীজগন্নাথদেবের রথযাত্রা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব হিসেবে পরিচিত। প্রতি বছর আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে শুরু হওয়া এই উৎসব ঘিরে দেশ-বিদেশ থেকে লক্ষ লক্ষ ভক্ত পুরীতে ভিড় জমান। সংস্কৃত ভাষায় ‘রথ’ শব্দের অর্থ গাড়ি এবং ‘যাত্রা’ অর্থ শোভাযাত্রা বা মিছিল। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, রথে আরোহী জগন্নাথদেবের এক ঝলক দর্শন করাও বহু জন্মের পুণ্যের ফল। একইসঙ্গে রথের রশি স্পর্শ করা বা রথ টানার সুযোগকে অত্যন্ত সৌভাগ্যের বলে মনে করা হয়।

    পুরীর রথযাত্রার বিশেষ ঐতিহ্য

    পুরীর রথযাত্রার অন্যতম আকর্ষণ হল শতাব্দীপ্রাচীন রাজপরম্পরা। আজ রাজতন্ত্র না থাকলেও পুরীর রাজপরিবারের উত্তরাধিকারীই প্রতি বছর এই উৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন। রথযাত্রা শুরুর আগে তিনি তিনটি রথের সামনে পুষ্পাঞ্জলি নিবেদন করেন এবং সোনার ঝাড়ু দিয়ে রথের চারপাশ পরিষ্কার করার বিশেষ আচার, ‘ছেরা পহরা’, সম্পন্ন করেন। এই আচার শেষ হওয়ার পরই শুরু হয় রথ টানার পর্ব।

    কেন তিনটি আলাদা রথ?

    পুরীর রথযাত্রা মূলত শ্রীজগন্নাথ, তাঁর বড় ভাই বলভদ্র (বলরাম) এবং বোন সুভদ্রার গুণ্ডিচা মন্দির যাত্রার স্মৃতিকে কেন্দ্র করে পালিত হয়। এই কারণে তিন দেবতার জন্য থাকে তিনটি পৃথক রথ। যাত্রার ক্রমও নির্দিষ্ট—

    • প্রথমে বলভদ্রের রথ
    • এরপর সুভদ্রার রথ
    • সব শেষে জগন্নাথদেবের রথ

    উল্টো রথ বা বাহুদা যাত্রা শেষে প্রতিবছর নতুন করে রথ নির্মাণ করা হয়। তবে রথের পার্শ্বদেব-দেবী, সারথি ও ঘোড়ার কাঠের মূর্তিগুলি সংরক্ষণ করে রাখা হয়।

    নন্দীঘোষ: জগন্নাথদেবের মহারথ

    জগন্নাথদেবের রথের নাম নন্দীঘোষ। প্রচলিত বিশ্বাস, দেবরাজ ইন্দ্র এই রথ জগন্নাথদেবকে প্রদান করেছিলেন। এই রথ নির্মাণে প্রায় ৮৩২টি কাঠের অংশ ব্যবহৃত হয়। উচ্চতা প্রায় ১৩.৫ মিটার (৪৪ ফুট ২ ইঞ্চি)। বর্তমানে এতে ১৬টি চাকা থাকে। রথটি লাল ও হলুদ কাপড়ে আবৃত। চারটি কালো ঘোড়ার নাম— শঙ্খ, বলাহক, শ্বেত ও হরিদাক্ষ। রথের ধ্বজার নাম ত্রৈলোক্যমোহিনী, রশির নাম শঙ্খচূড়, আর রক্ষক হিসেবে থাকেন গরুড়। রথের সারথি দারুক। নন্দীঘোষে বরাহ, নৃসিংহ, রাম, নারায়ণ, হনুমান, রুদ্র-সহ একাধিক পার্শ্বদেবতার পাশাপাশি নারদ, ব্যাসদেব, বিশ্বামিত্র, বশিষ্ঠ প্রমুখ ঋষিদের প্রতীকী উপস্থিতিও থাকে।

    তালধ্বজ: বলভদ্রের শক্তির প্রতীক

    বলভদ্রের রথের নাম তালধ্বজ। এটি তৈরি করতে প্রায় ৭৬৩টি কাঠের অংশ লাগে। উচ্চতা প্রায় ১৩.২ মিটার (৪৪ ফুট) এবং বর্তমানে এতে ১৪টি চাকা থাকে। সবুজ ও লাল কাপড়ে মোড়া এই রথের ধ্বজার নাম উন্মনী, আর রশির নাম বাসুকী নাগ। চারটি সাদা ঘোড়ার নাম— তীব্র, ঘোর, শ্রম (স্বর্ণনাভ) ও দীর্ঘ (দীর্ঘশর্মা)। রথের সারথি মাতলি এবং রক্ষক বাসুদেব। এই রথে গণেশ, কার্তিক, সর্বমঙ্গলা, মহেশ্বর, মৃত্যুঞ্জয়, শেষদেব-সহ ন’জন পার্শ্বদেবতার অবস্থান রয়েছে।

    দর্পদলন: সুভদ্রার রথের বিশেষত্ব

    দেবী সুভদ্রার রথের নাম দর্পদলন। এটি তিনটি রথের মধ্যে তুলনামূলকভাবে ছোট। নির্মাণে লাগে ৫৯৩টি কাঠের অংশ। উচ্চতা প্রায় ১২.৯ মিটার (৪২ ফুট ৩ ইঞ্চি) এবং এতে থাকে ১২টি চাকা। লাল ও কালো কাপড়ে ঢাকা এই রথের ধ্বজার নাম নাদম্বিক, আর রশির নাম স্বর্ণচূড় নাগ। চারটি লাল ঘোড়ার নাম— রচিকা, মোচিকা, জিতা ও অপরাজিতা। রথের সারথি অর্জুন এবং রক্ষক জয়দুর্গা। দর্পদলনে চণ্ডী, চামুণ্ডা, মঙ্গলা, উগ্রতারা, বনদুর্গা, শ্যামাকালী, বিমলা ও বরাহী-সহ ন’জন পার্শ্বদেবীর প্রতীকী উপস্থিতি দেখা যায়। দ্বারপালিকার দায়িত্বে থাকেন ভূদেবীশ্রীদেবী

    কেন আজও কোটি মানুষের আবেগের কেন্দ্র পুরীর রথযাত্রা?

    পুরীর রথযাত্রা শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি ভারতীয় ঐতিহ্য, কারুশিল্প, আচার-অনুষ্ঠান এবং ভক্তির এক অনন্য সমন্বয়। প্রতি বছর নতুন করে রথ নির্মাণ, শতাব্দীপ্রাচীন রাজপরম্পরা, তিন দেবতার পৃথক রথ এবং লক্ষ লক্ষ মানুষের একসঙ্গে রথ টানার দৃশ্য এই উৎসবকে বিশ্বের অন্যতম অনন্য ধর্মীয় আয়োজনে পরিণত করেছে। ভক্তদের বিশ্বাস, রথযাত্রার দিনে জগন্নাথদেবের দর্শন এবং রথের রশি স্পর্শ করার সৌভাগ্য অর্জন করলে জীবনে শুভফল ও পুণ্য লাভ হয়। সেই বিশ্বাসই প্রতিবছর পুরীর পথে লাখো মানুষের পদচারণাকে আরও অর্থবহ করে তোলে।

  • Rath Yatra 2026: রথযাত্রায় কেন জগন্নাথদেবকে দেওয়া হয় ৫৬ ভোগ? জানুন ছাপ্পান্ন ভোগের নেপথ্যের পুরাণকাহিনি

    Rath Yatra 2026: রথযাত্রায় কেন জগন্নাথদেবকে দেওয়া হয় ৫৬ ভোগ? জানুন ছাপ্পান্ন ভোগের নেপথ্যের পুরাণকাহিনি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রথযাত্রা মানেই শুধু জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রার মহারথ টানা নয়। এই মহোৎসবের আর এক বড় আকর্ষণ হল শ্রীজগন্নাথদেবের উদ্দেশে নিবেদন করা ছাপ্পান্ন ভোগ। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে চলে আসা এই ঐতিহ্য ধর্মীয় বিশ্বাস, পুরাণকথা এবং ভক্তির এক অনন্য মেলবন্ধন। কিন্তু প্রশ্ন হল, কেন ঠিক ৫৬টি পদই নিবেদন করা হয়? এর পেছনে কী রয়েছে পুরাণের ব্যাখ্যা?

    কৃষ্ণের সাত দিনের উপবাস থেকেই ৫৬ ভোগের সূচনা

    হিন্দু পুরাণে উল্লেখ রয়েছে, মা যশোদা বালক কৃষ্ণকে দিনে আট প্রহরে আটবার আহার করাতেন। সেই সময় দেবরাজ ইন্দ্রের ক্রোধে ব্রজভূমিতে ভয়াবহ বৃষ্টি ও প্রলয়ের পরিস্থিতি তৈরি হয়। ব্রজবাসীদের রক্ষা করতে কৃষ্ণ নিজের কনিষ্ঠ আঙুলে গোবর্ধন পর্বত তুলে ধরেন। টানা সাত দিন তিনি সেই অবস্থায় থাকায় কোনও খাবার বা জল গ্রহণ করেননি। প্রলয় থেমে যাওয়ার পর কৃষ্ণ যখন গোবর্ধন পর্বত নামিয়ে রাখেন, তখন মা যশোদা ও ব্রজবাসীরা তাঁর জন্য বিশেষ ভোজের আয়োজন করেন। সাত দিন × দিনে আটবার খাবার— এই হিসেবেই ৭ × ৮ = ৫৬। সেই থেকেই কৃষ্ণ তথা জগন্নাথদেবের উদ্দেশে ছাপ্পান্ন ভোগ নিবেদনের প্রথা চালু হয়েছে বলে পুরাণে বর্ণিত রয়েছে।

    বিষ্ণুর চার ধাম যাত্রার সঙ্গেও জড়িয়ে রয়েছে এই বিশ্বাস

    আরও একটি জনপ্রিয় ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসারে, ভগবান বিষ্ণু মর্ত্যে এসে চারটি পবিত্র ধামে পরিক্রমা করেন। প্রথমে বদ্রীনাথে স্নান, এরপর দ্বারিকায় বস্ত্র পরিধান, তারপর পুরীতে ভোজন এবং সবশেষে রামেশ্বরমে বিশ্রাম নেন। এই বিশ্বাস থেকেই পুরীধামে ভগবানকে রাজকীয় ভোজ নিবেদন করার রীতি প্রচলিত হয়েছে। পুরাণ মতে, জগন্নাথদেবকে ভগবান বিষ্ণুর অষ্টম অবতার শ্রীকৃষ্ণের রূপ হিসেবেও মানা হয়। তাই তাঁর উদ্দেশে ছাপ্পান্ন ভোগ নিবেদন বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।

    জগন্নাথের ৫৬ ভোগে কী কী পদ থাকে?

    পুরীর মন্দিরে নিবেদন করা ঐতিহ্যবাহী ছাপ্পান্ন ভোগে মিষ্টি, পিঠে, ভাত, ডাল, সবজি, ক্ষীর, ফল ও নানা ধরনের বিশেষ প্রস্তুত খাবার থাকে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হল—

    • উকখুড়া (মুড়ি)
    • নাড়িয়া কোড়া (নারকেল নাড়ু)
    • খুয়া (খোয়া ক্ষীর)
    • দই
    • পাকা কলা
    • কণিকা (সুগন্ধি ভাত)
    • শুকনো খিচুড়ি
    • এন্ডুরি
    • আদা চাটনি
    • শাক ভাজা
    • করলা ভাজা
    • আরিশা
    • বুন্দিয়া
    • পাখাল (পান্তা ভাত)
    • ক্ষীর বা পায়েস
    • কাদাম্বা
    • দলমা
    • কাকারা
    • আমালু
    • খাস্তা পুরি
    • কদলি বড়া
    • মিষ্টি চাটনি
    • পদ্ম পিঠে
    • দই পাখাল
    • সুজি ক্ষীর
    • মুগ সিজা
    • মাগাজা লাড্ডু
    • পানা
    • অন্ন
    • ঘি ভাত
    • ডাল
    • বেসর
    • মাহুর (লাবরা)
    • সাগা নাড়িয়া-সহ মোট ৫৬টি ঐতিহ্যবাহী পদ

    কেন আজও এত গুরুত্বপূর্ণ ছাপ্পান্ন ভোগ?

    শুধু ধর্মীয় আচার নয়, ছাপ্পান্ন ভোগ ভক্তদের কাছে কৃতজ্ঞতা, ভক্তি এবং সমৃদ্ধির প্রতীক। কৃষ্ণের প্রতি যশোদার মাতৃস্নেহ, ব্রজবাসীদের ভালোবাসা এবং ভগবান বিষ্ণুর পুরীধামে ভোজনের পুরাণকাহিনি— এই দুই বিশ্বাস মিলিয়েই গড়ে উঠেছে এই অনন্য প্রথা। তাই রথযাত্রার সময় পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে ছাপ্পান্ন ভোগ নিবেদন আজও কোটি কোটি ভক্তের কাছে অন্যতম পবিত্র এবং আকর্ষণীয় ধর্মীয় আচার।

  • Rath Yatra 2026: কেন অসম্পূর্ণ জগন্নাথদেবের মূর্তি? রথযাত্রার পবিত্র দিনে পৌরাণিক ইতিহাস জানুন

    Rath Yatra 2026: কেন অসম্পূর্ণ জগন্নাথদেবের মূর্তি? রথযাত্রার পবিত্র দিনে পৌরাণিক ইতিহাস জানুন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ, বৃহস্পতিবার ১৬ জুলাই, দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে রথযাত্রা ২০২৬ (Rath Yatra 2026)। হিন্দু ধর্মের অন্যতম প্রাচীন ও জনপ্রিয় এই উৎসবকে ঘিরে প্রতি বছর ভক্তদের মধ্যে তৈরি হয় বিশেষ উৎসাহ। হিন্দু পঞ্জিকা অনুযায়ী, আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতেই পালিত হয় রথযাত্রা বা রথদ্বিতীয়া। ওড়িশার পুরীর জগন্নাথধাম এই উৎসবের প্রধান কেন্দ্র হলেও পশ্চিমবঙ্গ-সহ ভারতের বহু রাজ্যে রথযাত্রা অত্যন্ত জাঁকজমকের সঙ্গে উদযাপিত হয়। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও এই উৎসবের জনপ্রিয়তা বেড়েছে। ডাবলিন, মস্কো, নিউ ইয়র্ক-সহ বিশ্বের বিভিন্ন শহরেও ভক্তরা রথযাত্রা পালন করেন।

    রথযাত্রার তাৎপর্য কী?

    ‘রথ’ শব্দের আক্ষরিক অর্থ চাকাযুক্ত যান বা যুদ্ধরথ। তবে সনাতন ধর্মে রথের ধর্মীয় তাৎপর্য সম্পূর্ণ আলাদা। ভক্তদের বিশ্বাস, কাঠের নির্মিত বিশাল রথে আরোহন করে ভগবান জগন্নাথ, তাঁর দাদা বলরাম এবং বোন সুভদ্রা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে গমন করেন। দেবতাদের এই ঐতিহ্যবাহী যাত্রাকেই বলা হয় রথযাত্রা

    রথযাত্রার ইতিহাস: কী বলছে পৌরাণিক কাহিনি?

    রথযাত্রার উৎপত্তি নিয়ে একাধিক পৌরাণিক কাহিনি প্রচলিত রয়েছে। ভগবান জগন্নাথকে শ্রীকৃষ্ণেরই এক বিশেষ রূপ হিসেবে মানা হয়। প্রাচীন গ্রন্থ ব্রহ্মাণ্ড পুরাণ-এর বর্ণনা অনুযায়ী, দ্বাদশ থেকে ত্রয়োদশ শতকের মধ্যে এই রথযাত্রার প্রচলন শুরু হয় বলে মনে করা হয়। সেই সময়ের রাজা ইন্দ্রদ্যুম্ন ছিলেন ভগবান বিষ্ণুর পরম ভক্ত। কিংবদন্তি অনুসারে, তিনি স্বপ্নাদেশ পান জগন্নাথরূপী বিষ্ণুমূর্তি প্রতিষ্ঠা করার এবং সেই সঙ্গে রথযাত্রার আয়োজন করার। লোককথা অনুযায়ী, রাজাকে নির্দেশ দেওয়া হয় পুরীর সমুদ্রতটে ভেসে আসা এক বিশেষ কাঠ দিয়ে জগন্নাথের মূর্তি নির্মাণ করতে। কিন্তু উপযুক্ত শিল্পীর সন্ধান না পেয়ে তিনি চিন্তিত হয়ে পড়েন। ঠিক সেই সময় এক বৃদ্ধ এসে নিজেই মূর্তি নির্মাণের দায়িত্ব নেন। তবে তিনি শর্ত দেন, কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত কেউ যেন তাঁর কাজে বাধা না দেন বা দরজা না খোলেন।

    কেন অসম্পূর্ণ জগন্নাথের মূর্তি?

    বৃদ্ধ শিল্পী একটি বন্ধ কক্ষে মূর্তি তৈরির কাজ শুরু করেন। প্রতিদিন ঘরের ভেতর থেকে হাতুড়ির শব্দ শোনা গেলেও একদিন আচমকাই সব শব্দ থেমে যায়। উদ্বিগ্ন হয়ে রানির অনুরোধে রাজা দরজা খুলে ফেলেন। দরজা খুলেই দেখা যায়, তিনটি মূর্তি এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। হাত-পা অসম্পূর্ণ অবস্থায় রয়েছে এবং রহস্যময় সেই শিল্পীও নিখোঁজ। পরে জানা যায়, তিনি আসলে দেবশিল্পী বিশ্বকর্মা ছিলেন। এই ঘটনায় রাজা ইন্দ্রদ্যুম্ন গভীর অনুতাপে ভেঙে পড়েন। পরে স্বপ্নে ভগবান জগন্নাথ তাঁকে দর্শন দিয়ে জানান, এই অসম্পূর্ণ রূপেই তিনি পূজিত হতে চান। সেই থেকেই হাত-পা অসম্পূর্ণ অবস্থাতেই জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার বিগ্রহ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং শুরু হয় তাঁদের আরাধনা। পরবর্তীকালে পুরীতে নির্মিত হয় জগন্নাথ মন্দির এবং রথযাত্রা পায় স্থায়ী রূপ।

    পুরীর তিন রথের বিশেষ পরিচয়

    পুরীর রথযাত্রার অন্যতম আকর্ষণ তিনটি পৃথক রথ, যেগুলির প্রত্যেকটির নাম, রঙ, উচ্চতা এবং চাকার সংখ্যা আলাদা।

    • জগন্নাথদেবের রথ: নান্দীঘোষ — ১৮টি চাকা
    • বলরামের রথ: তালধ্বজ — ১৬টি চাকা
    • সুভদ্রার রথ: দর্পদলন — ১২টি চাকা

    প্রতিবছর নতুন কাঠ দিয়ে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে এই রথগুলি নির্মাণ করা হয়। লক্ষ লক্ষ ভক্ত রশি টেনে রথ টানার মধ্য দিয়ে নিজেদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও ভক্তি প্রকাশ করেন।

    কেন এত গুরুত্বপূর্ণ রথযাত্রা?

    রথযাত্রা শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি ভারতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশেষ করে পুরীর শ্রীক্ষেত্রে এই সময় লাখো ভক্তের সমাগম ঘটে। দেশ-বিদেশ থেকে অসংখ্য মানুষ এই ঐতিহাসিক উৎসবের সাক্ষী হতে আসেন। সময়ের সঙ্গে রথযাত্রার জনপ্রিয়তা ভারতের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। আজও ভক্তদের কাছে এই উৎসব ভগবান জগন্নাথের আশীর্বাদ লাভের এক অনন্য উপলক্ষ হিসেবে বিবেচিত হয়।

  • Malaria New Drug: এক ডোজেই ম্যালেরিয়া নির্মূলের আশা! কলকাতায় শেষ পর্যায়ে নতুন ওষুধের ট্রায়াল

    Malaria New Drug: এক ডোজেই ম্যালেরিয়া নির্মূলের আশা! কলকাতায় শেষ পর্যায়ে নতুন ওষুধের ট্রায়াল

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    দেশ জুড়ে বাড়ছে ম্যালেরিয়ার প্রকোপ। তবে মশাবাহিত এই রোগে শুধু সংক্রমণের দাপটের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে না। উদ্বেগ বাড়াচ্ছে এই রোগের বদলে যাওয়া প্রকৃতি। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকেরা। তবে, রোগের চরিত্র বদলের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে কেন্দ্রের স্বাস্থ্য মন্ত্রক। ম্যালেরিয়ার দাপটকে কাবু করতে আরো সক্রিয় ওষুধ তৈরির প্রস্তুতিও চলছে। খোদ কলকাতাতেই পরীক্ষা চলছে। আক্রান্তের কাছে একটা ডোজ পৌঁছে গেলেই, ম্যালেরিয়ার দাপট কমবে। গবেষকেরা এমনটাই আশা করছেন।

    কেন ম্যালেরিয়ার চরিত্র বদল হচ্ছে?

    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, আবহাওয়ার বদল হচ্ছে। পৃথিবী জুড়েই জলবায়ুর পরিবর্তন দেখা দিচ্ছে। ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানির মতো ইউরোপের দেশগুলোর পাশপাশি ভারত সহ বিশ্বের একাধিক দেশে জলবায়ুর পরিবর্তনের বিশাল প্রভাব পড়ছে। আবহাওয়ার এই পরিবর্তনে সবচেয়ে বেশি প্রভাব দেখা যাচ্ছে স্বাস্থ্যে। একাধিক রোগের প্রকৃতি বদল হচ্ছে। নানান ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়ার চরিত্র ও বদলে যাচ্ছে। এই পরিবর্তনের জেরে বদলে গিয়েছে ম্যালেরিয়ার চরিত্র। মশাবাহিত এই রোগ আগের থেকেও বেশি ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে।

    বদলে যাওয়া রূপে কতখানি বিপদ বাড়াচ্ছে ম্যালেরিয়া?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ম্যালেরিয়ার ওষুধ রয়েছে। আপাতদৃষ্টিতে তাই ম্যালেরিয়া তুলনামূলক কম বিপজ্জনক বলেই মনে হয়। কিন্তু চরিত্র বদল করে ম্যালেরিয়া ভয়াবহ হয়ে উঠছে। সাধারণত দুই তিন দিন জ্বরের পরে পরীক্ষা করিয়ে আক্রান্ত সংক্রমণের বিষয়ে জানতে পারেন। তারপরে তাঁর চিকিৎসা শুরু হয়। কিন্তু নতুন চরিত্রের এই ম্যালেরিয়া মাত্র দুই-তিন দিনের মধ্যেই শরীরে গভীর প্রভাব ফেলছে। বিশেষত অন্ত্র, লিভার, মস্তিষ্কের উপরে গভীর ক্ষত তৈরি করছে। একাধিক অঙ্গের কার্যকারিতা নষ্ট করে দিচ্ছে। ফলে, শরীরের সক্রিয়তা কমছে। পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠছে। বাজার চলতি ওষুধে রোগ প্রতিরোধ করতে যে সময় নিচ্ছে, তাতে আক্রান্তের অবস্থা আরও সঙ্কটজনক হয়ে উঠছে। ফলে, মৃত্যু ঝুঁকি বাড়ছে। তাই ম্যালেরিয়া সংক্রমণ উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

    নয়া দাওয়াইয়ে কেন বাড়তি ভরসা?

    কলকাতার স্কুল অফ ট্রপিক্যাল মেডিসিনে ম্যালেরিয়া নিয়ে নতুন ওষুধের পরীক্ষা চলছে। প্রস্তুতি পর্ব প্রায় শেষের দিকে। কর্তৃপক্ষের একাংশ জানাচ্ছেন, নতুন ওষুধ ম্যালেরিয়ার বাড়তি সঙ্কটের বোঝা কমাতে পারবে। তাঁরা আশাবাদী, ম্যালেরিয়ার চরিত্র বদল হয়ে যাওয়ায়, যে ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে, তা মোকাবিলায় নতুন ওষুধ বাড়তি সাহায্য করবে। নতুন ওষুধের চতুর্থ পর্বের ট্রায়াল চলছে। কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, নতুন ওষুধ মাত্র একটা ডোজেই কাজ করবে। যে কোনও রকমের ম্যালেরিয়া মোকাবিলা করতে এক ডোজেই সাহায্য হবে। বাজার চলতি ম্যালেরিয়ার ওষুধ একাধিকবার খেতে হয়। ম্যালেরিয়া এখন আরও বেশি প্রাণঘাতী হয়ে উঠেছে। ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হলে দ্রুত নিরাময় জরুরি। না হলেই লিভার, অন্ত্র ও মস্তিষ্ক বিকল হয়ে যাওয়ার মতো ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। তাই ম্যালেরিয়া দ্রুত নিরাময় করতে সাহায্য করবে, এমন ওষুধ প্রয়োজন। নতুন ওষুধ সেই কাজে সক্ষম হবে বলেই আশা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    কলকাতা ও তার আশপাশে কেন বাড়ছে ম্যালেরিয়ার দাপট?

    স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রত্যেক বছরেই ম্যালেরিয়ার দাপট উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। আবহাওয়ার পরিবর্তনের জেরে একদিকে ম্যালেরিয়া আরও বেশি বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। আবার আরেকদিকে ম্যালেরিয়া সংক্রমণ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ জনসচেতনতার অভাব। এমনটাই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
    স্বাস্থ্য কর্তাদের একাংশ জানাচ্ছেন, ম্যালেরিয়া কলকাতা, উত্তর চব্বিশ পরগনা, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা, হাওড়া, হুগলি, নদিয়া সহ একাধিক জেলায় দাপট বাড়াচ্ছে। গত বছরেও জুন মাস থেকে ম্যালেরিয়া আক্রান্তের সংখ্যা কয়েক হাজার ছাড়িয়েছিল। চলতি বছরেও এই সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন, বর্ষায় অধিকাংশ জায়গায় নিকাশি ব্যবস্থা প্রায় ভেঙে পড়ে। কলকাতা সহ একাধিক জেলায় মারাত্মক জল জমে। একদিন বৃষ্টি হলেই কয়েক দিন ধরে জমা জলের ভোগান্তি থাকে। এগুলো মশার বংশবিস্তার করে। তাছাড়া পরিচ্ছন্ন বাগান, বাড়ির আশপাশের এলাকায় জল জমলেও মশাবাহিত রোগের দাপট বাড়তে থাকে। তাই ম্যালেরিয়ার দাপট ও বাড়ে।
    চিকিৎসকদের একাংশের পরামর্শ, প্রচন্ড জ্বর, তীব্র মাথার যন্ত্রণা, বমি ভাবের মতো উপসর্গ দেখা দিলে সময় নষ্ট করা উচিত নয়। দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ মতো শারীরিক পরীক্ষা করানো জরুরি। রোগ নির্ণয়ে দেরি হলে ম্যালেরিয়া মোকাবিলা আরও কঠিন হয়ে উঠছে।

  • Suvendu Adhikari: ‘২০৯’-এর টার্গেট! রেজিনগরে পদ্ম ফোটানোর ডাক শুভেন্দুর, বললেন ‘যা চাইবেন দু’হাত ভরে দেব’

    Suvendu Adhikari: ‘২০৯’-এর টার্গেট! রেজিনগরে পদ্ম ফোটানোর ডাক শুভেন্দুর, বললেন ‘যা চাইবেন দু’হাত ভরে দেব’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মুর্শিদাবাদের রেজিনগর উপনির্বাচনকে সামনে রেখেই রাজনৈতিক লড়াই আরও তীব্র করে তুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কর্মিসভা থেকে বিজেপির বিধায়ক সংখ্যা ২০৯-এ পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য ঘোষণা করার পাশাপাশি রেজিনগরের মানুষের জন্য একাধিক উন্নয়ন প্রতিশ্রুতিও দিলেন তিনি। একই সঙ্গে নাম না করেই নিশানা করলেন আমজনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান তথা বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে।

    ‘যা চাইবেন দু’হাত ভরে দেব’

    রেজিনগরের কর্মিসভা থেকেই কার্যত উপনির্বাচনের প্রচারের সূচনা করে দেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, নন্দীগ্রামে জয় নিয়ে তিনি একেবারেই আত্মবিশ্বাসী। কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “নন্দীগ্রামটা আমার উপর ছেড়ে দিন। ওখানে কত ভোটে জিতব আমি জানি। সীমা নেই, অনেক বড় ভোটে জিতব।” এরপরই রেজিনগরের মানুষের উদ্দেশে একের পর এক প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, “রেজিনগরটা দেবেন তো? একটা নয়, দুটো ব্রিজ দেব। পরিযায়ী শ্রমিকদের বাড়ি ফেরাব। যত আবাস লাগে দেব। যা চাইবেন দু’হাত ভরে দেব। নন্দীগ্রাম জিতে ২০৮ বিধায়ক হবে বিজেপির। এবার সংখ্যাটা ২০৯ হবে কিনা রেজিনগরের উপর নির্ভর করবে।”

    পদ্ম ফোটানোর লক্ষ্যে…

    রেজিনগর দীর্ঘদিন ধরেই সংখ্যালঘু অধ্যুষিত কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এখান থেকে আমজনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীর ১ লক্ষ ২৩ হাজারেরও বেশি ভোটে জয়ী হন। তাঁর প্রাপ্ত ভোট ছিল ৫১ শতাংশেরও বেশি। অন্যদিকে বিজেপি প্রার্থী বাপন ঘোষ পেয়েছিলেন প্রায় ৬৪ হাজার ভোট, যা মোট ভোটের প্রায় ২৭ শতাংশ। তৃণমূল কংগ্রেসের ঝুলিতে গিয়েছিল ১৭ শতাংশের কিছু বেশি ভোট। এই পরিসংখ্যান সত্ত্বেও উপনির্বাচনে রেজিনগর থেকেই পদ্ম ফোটানোর বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী বিজেপি নেতৃত্ব।

    হুমায়ুনকে নাম না করেই আক্রমণ

    সভা থেকে হুমায়ুন কবীরের নাম উচ্চারণ না করেই তীব্র আক্রমণ শানান শুভেন্দু। তিনি বলেন, “কাকে পাঠাবেন বিধানসভায়? যে ঝগড়া করবে, ধমকাবে, কমিউনিটির কথা বলবে, হিন্দু-মুসলমান করবে, মন্দির-মসজিদ করবে, না উন্নয়ন চাইবেন?” এরপর আরও কড়া সুরে তিনি বলেন, “দম্ভটা ভাঙতে হবে, অহঙ্কারটা ভাঙতে হবে। কার অহঙ্কার ভাঙতে হবে নামটা বললাম না। সামঝদারো কা ইশারা কাফি হ্যা। নাম বললে অনেকে হিরো হয়। তাই নাম বলার দরকার নেই।” উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি আরও বলেন, “উন্নয়ন যদি চান, হাতে কাজ, পেটে ভাত, মাথায় ছাদ, আরও স্কুল, আরও কলেজ, আরও রাস্তা, আরো ব্রিজ, ঘরে ঘরে জল, কৃষকের অধিকার, পরিযায়ী শ্রমিকরা বাড়ি ফিরবে– যদি চান তাহলে পদ্ম ফোটাতে হবে। ৮ বিধায়ক দিয়েছেন, ৯ জন চাই। রেজিনগরটা চাই।”

    আইনশৃঙ্খলা নিয়ে কড়া বার্তা

    বহরমপুরের রবীন্দ্র সদনে প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দেওয়ার আগে আইনশৃঙ্খলা প্রসঙ্গেও কড়া অবস্থান নেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “এখানে কিছু ভাষণবাজি হয়েছে। কিন্তু কোনও বড় ঘটনা হয়নি। কোথাও পুলিশ খারাপ কাজ করলে কিংবা প্রশাসন খারাপ কাজ করলে আমাকে জানান। আমি ব্যবস্থা নেব। (কিন্তু) থানার সামনে গিয়ে কেউ বলবে, ‘এই করব, ওই করব’, কেউ বলবে, ‘জেলে ৪৭০০ লোকের জায়গা হয়, আমি তার থেকে বেশি লোক নিয়ে যাব’, দয়া করে এই সব ভাষণবাজি আর করবেন না।” রাজনৈতিক মহলের মতে, এই মন্তব্যও ছিল হুমায়ুন কবীরের সাম্প্রতিক বক্তব্যের পাল্টা জবাব।

    পুলিশের উদ্দেশে ‘ডু ইট নাউ’ নির্দেশ

    পুলিশ প্রশাসনকে আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দিয়ে শুভেন্দু বলেন, “ধুলিয়ান, সামশেরগঞ্জ, বেলডাঙা, রেজিনগর, শক্তিপুরের মতো ঘটনা ঘটলে কাউকে ফোন করার দরকার নেই। ভারতীয় ন্যয় সংহিতাতে যা বলা আছে, আপনি যে শৃঙ্খলিত বাহিনীর ট্রেনিং নিয়ে এসেছে সেই অনুযায়ী ডু ইট নাউ। পরিষ্কার খোলা ছুট দেওয়া হয়েছে।” একই সঙ্গে তিনি ঘোষণা করেন, আগামী সোমবার থেকেই রাজ্যে গুন্ডাদমন আইন কার্যকর হবে। তাঁর কথায়, “ট্রেন, বাস জ্বালানো, পুলিশকে মারধর— এ সব এ বার অতীত। নারীসুরক্ষা, পাচার রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মামলার বিচার হবে দ্রুত। শমসেরগঞ্জ, ধুলিয়ানে যা হয়েছে, সে সব আর হবে না। হলেই কড়া ব্যবস্থা।”

    নারী সুরক্ষায় জোর

    নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়েও কড়া বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “নারী, শিশু কন্যাদের উপর অত্যাচার কার্যত ব্যধিতে পরিণত হয়েছে। এ ব্যধিকে কী করে মুক্ত করতে হয় আপনাদের বন্ধু শুভেন্দু জানে।” পুলিশের ভূমিকার প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, “থানায় থানায় মহিলা হেল্প ডেস্ক চালু হয়েছে, দুর্গা স্কোয়াড মাঠে নেমেছে। আপনারা বারুইপুরে পুলিশ মন্ত্রীর ভূমিকা দেখেছেন। আরও দেখতে পাবেন।” এরপর পুলিশকে নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, “আজই বলেছি নারী নির্যাতন, ধর্ষণ, শ্লীলতাহানির যত পুরনো কেস আছে সব বের করুন। চার্জশিট না হলে তা করুন, এফআইআর না হলে তা করুন। ছাড়া হবে না কাউকে।”

    ‘ফলতা মডেল’-এর উদাহরণ

    বক্তৃতার শেষদিকে একাধিকবার ‘ফলতা মডেল’-এর উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, ফলতার মানুষ যেমন পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছেন, তেমনই রেজিনগরেও উন্নয়নের পক্ষে মানুষ ভোট দেবেন। বারুইপুরের সাম্প্রতিক পুলিশি পদক্ষেপের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “ফলতার মানুষ কথা দিয়েছিল রেখেছে। বারুইপুরের ওই ছোট্ট মেয়েটির পরিবারের লোকেরাও সংখ্যালঘু। ওনারা আমার উপর আস্থা রেখেছেন। বাকিরাও রাখুন। ফল হাতেনাতে পাবেন।” রেজিনগরের উপনির্বাচনকে ঘিরে এখন থেকেই রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়তে শুরু করেছে। একদিকে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি, অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক বার্তা— দুইয়ের মিশেলেই বিজেপির প্রচারের সুর স্পষ্ট করে দিলেন শুভেন্দু অধিকারী।

  • Modi New Zealand Visit: ৪০ বছর পর ইতিহাস! নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করল ভারত, মোদির সফরে মিলল ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল

    Modi New Zealand Visit: ৪০ বছর পর ইতিহাস! নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করল ভারত, মোদির সফরে মিলল ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চার দশক পর কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর নিউজিল্যান্ড সফরে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হল। নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সনের (Christopher Luxon) সঙ্গে বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi) ঘোষণা করলেন, ভারত ও নিউজিল্যান্ড তাদের সম্পর্ককে ‘স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ’-এ উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি বাণিজ্য, প্রযুক্তি, বিনিয়োগ, কৃষি, প্রতিরক্ষা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সংস্কৃতি-সহ একাধিক ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার ব্যাপারেও ঐকমত্যে পৌঁছেছে দুই দেশ।

    কী বললেন প্রধানমন্ত্রী মোদি?

    বৈঠকের পর এক্স (আগের টুইটার)-এ প্রধানমন্ত্রী মোদি জানান, অকল্যান্ডে প্রধানমন্ত্রী লাক্সনের সঙ্গে তাঁর আলোচনা ছিল অত্যন্ত ফলপ্রসূ। তিনি বলেন, ‘গত বছর প্রধানমন্ত্রী লাক্সনের ভারত সফর আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন গতি দিয়েছিল। আর চার দশক পর কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর নিউজিল্যান্ড সফর হিসেবে আমার এই সফর ভারত-নিউজিল্যান্ড বন্ধুত্বকে আরও শক্তিশালী করল। আমরা সম্পর্ককে স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। প্রতিটি ক্ষেত্রে স্পষ্ট লক্ষ্য ও বাস্তব ফলাফলকে সামনে রেখে আমরা এগিয়ে যাব।’

    ২০৩০-এর মধ্যে ৩৫,০০০ কোটি টাকা বাণিজ্যের লক্ষ্যমাত্রা

    দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী ২০৩০ সালের মধ্যে পণ্য ও পরিষেবা খাতে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ দ্বিগুণ করে ৭০০ কোটি নিউজিল্যান্ড ডলার (প্রায় ৩৫,০০০ কোটি) করার উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণে একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে একমত হয়েছেন। পাশাপাশি, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) দ্রুত কার্যকর করতে যৌথভাবে উদ্যোগ নেওয়ারও সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা। এই বৈঠকে মোট ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল সামনে এসেছে, যার মধ্যে ১০টি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। উল্লেখযোগ্য চুক্তিগুলির মধ্যে রয়েছে আগামী চার বছরে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও বিস্তারের একটি রোডম্যাপ, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সামুদ্রিক সহযোগিতা জোরদারের একটি কাঠামো এবং ভারতীয় নৌবাহিনী ও নিউজিল্যান্ড ডিফেন্স ফোর্সের মধ্যে পারস্পরিক লজিস্টিক সহায়তা চুক্তি।

    বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষায় জোর

    প্রধানমন্ত্রী জানান, বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, প্রযুক্তি এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধি। পাশাপাশি কৃষি, দুগ্ধশিল্প এবং খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পে যৌথ সহযোগিতার একটি শক্তিশালী কাঠামো গড়ে তোলার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসা ব্যবস্থায় সহযোগিতার ওপরও সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে আমাদের ক্রমবর্ধমান সহযোগিতা দুই দেশের মধ্যে গভীর কৌশলগত আস্থার প্রতিফলন। ভবিষ্যতে এই সহযোগিতাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।’

    শিক্ষা, ক্রীড়া ও সংস্কৃতিতে আরও সহযোগিতা

    মোদির মতে, ভারত-নিউজিল্যান্ড সম্পর্কের সবচেয়ে বড় শক্তি দুই দেশের মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগ। সেই কারণেই শিক্ষা, ক্রীড়া, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং সৃজনশীল শিল্পক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, আমাদের সম্পর্কের সবচেয়ে বড় ভিত্তি মানুষে-মানুষে যোগাযোগ। সেই ভাবনা থেকেই শিক্ষা, ক্রীড়া, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং সৃজনশীল শিল্পে সহযোগিতা আরও জোরদার করা হবে।’

    একাধিক চুক্তি ও সমঝোতা

    দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সময় দুই দেশের প্রতিনিধিরা প্রতিরক্ষা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, পর্যটন, ক্রীড়া এবং পশুপালন-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে একাধিক চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক বিনিময় করেন। আলোচনায় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা, শিক্ষা, প্রযুক্তি এবং সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।

    পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত ও আন্তর্জাতিক জলপথ নিয়ে আলোচনা

    পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাত নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সন। যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তাঁরা অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শন, উত্তেজনা প্রশমিত করা এবং সাধারণ নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। যৌথ বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে অবাধ নৌ-চলাচল এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহনের স্বাভাবিক প্রবাহ সম্পূর্ণভাবে পুনঃস্থাপনের পক্ষে মত দিয়েছেন দুই নেতা। একই সঙ্গে, আন্তর্জাতিক জলপথে জাহাজ চলাচলের উপর যে কোনও ধরনের বাধার বিরোধিতা করেছেন তাঁরা।

    রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের সম্প্রসারণে জোর

    এছাড়া, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের স্থায়ী ও শান্তিপূর্ণ সমাধানে সংলাপ, কূটনীতি এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেছেন দুই প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি, রাষ্ট্রপুঞ্জে (ইউএন) সাহসী ও কার্যকর সংস্কারের পক্ষে সওয়াল করে নিরাপত্তা পরিষদের সম্প্রসারণের প্রতিও নিজেদের সমর্থন জানিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি ও ক্রিস্টোফার লাক্সন।

    নতুন গতি পাবে ভারত-নিউজিল্যান্ড সম্পর্ক

    কূটনৈতিক মহলের মতে, চার দশক পর ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর এই সফর ভারত-নিউজিল্যান্ড সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। দুই দেশই এখন অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানো, কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করা এবং জনগণের মধ্যে দীর্ঘদিনের সম্পর্ককে আরও গভীর করার লক্ষ্যে কাজ করবে। এই সফরের মাধ্যমে ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে দুই দেশের সহযোগিতাও নতুন মাত্রা পাবে।

  • BrahMos Missile Indonesia: ভারতের ব্রহ্মসে অস্বস্তিতে চিন! ইন্দোনেশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র চুক্তি ঘিরে বেজিংয়ের বড় স্বীকারোক্তি

    BrahMos Missile Indonesia: ভারতের ব্রহ্মসে অস্বস্তিতে চিন! ইন্দোনেশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র চুক্তি ঘিরে বেজিংয়ের বড় স্বীকারোক্তি

    সুশান্ত দাস

    ভারতের কাছ থেকে ‘ব্রহ্মস’ (BrahMos) সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ‘অ্যাস্ট্রা’ (Astra) বিয়ন্ড-ভিজুয়াল-রেঞ্জ এয়ার-টু-এয়ার মিসাইল (BVRAAM) ইন্দোনেশিয়ার কেনার সিদ্ধান্ত চিনের কপালেও ভাঁজ ফেলেছে। বেজিংয়ের মূল্যায়ন অনুযায়ী, এই চুক্তির প্রভাব পড়তে পারে গোটা ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল, বিশষ করে পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কৌশলগত ভারসাম্য ও ভূ-রাজনীতির ওপর। বিশেষ করে মালাক্কা-সহ গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুটে ভারতের প্রভাব বৃদ্ধি এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় নয়াদিল্লির প্রতিরক্ষা কূটনীতির বিস্তারকে দীর্ঘমেয়াদি চ্যালেঞ্জ হিসেবেই দেখছে চিন।

    চিনা সরকারি সংবাদমাধ্যমে ভারত-ইন্দোনেশিয়া সামরিক চুক্তি

    ভারতের তৈরি ‘ব্রহ্মস’ এবং ‘অ্যাস্ট্রা’ কেনার সিদ্ধান্তে ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে হওয়া প্রতিরক্ষা চুক্তি এবার প্রকাশ্যে স্বীকার করল চিন। আর সেই স্বীকৃতির পরই চিনা রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের প্রতিক্রিয়া স্পষ্ট করে দিল, বেজিং এই চুক্তিকে শুধু অস্ত্র রফতানি হিসেবে দেখছে না, বরং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ভারতের ক্রমবর্ধমান কৌশলগত প্রভাবের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবেই বিবেচনা করছে। চিনা বিশ্লেষকদের মতে, ফিলিপিন্সের পর ইন্দোনেশিয়াও যখন ব্রহ্মসের গ্রাহক হচ্ছে এবং একই সময়ে ভিয়েতনামের সঙ্গেও ভারত প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও গভীর করছে, তখন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় নয়াদিল্লির একটি শক্তিশালী নিরাপত্তা-অংশীদারিত্বের নেটওয়ার্ক তৈরি হচ্ছে। তাদের দাবি, ভারত এখন শুধু অস্ত্র রফতানি করছে না, বরং আসিয়ান (ASEAN) দেশগুলির সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত সম্পর্কও গড়ে তুলছে।

    ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র রফতানিকে ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার অংশ বলছে চিন

    চিনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ভারতের প্রতিরক্ষা রফতানির বিস্তার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতাকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে। বিশেষ করে সমুদ্রসীমা নিয়ে বিরোধে জড়িত দেশগুলির হাতে উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র পৌঁছে গেলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ হতে পারে বলেই মনে করছে বেজিং। চিনা বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের প্রতিরক্ষা উৎপাদন ক্ষমতা এখন শুধু বাণিজ্যিক সাফল্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি নয়াদিল্লির রাজনৈতিক ও সামরিক প্রভাবকে দক্ষিণ এশিয়ার বাইরেও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে প্রসারিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হয়ে উঠছে।

    ব্রহ্মসের মোকাবিলা কীভাবে? ভাবনা শুরু চিনের!

    তবে একই সঙ্গে ব্রহ্মসের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তোলার চেষ্টা করেছে চিনা প্রতিরক্ষা মহল। তাদের দাবি, রফতানিযোগ্য ব্রহ্মস সংস্করণের পাল্লা প্রায় ২৯০ কিলোমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ, যা মিসাইল টেকনোলজি কন্ট্রোল রেজিম (MTCR)-এর আগের রফতানি নির্দেশিকার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ফলে এই সংস্করণ মূলত উপকূলীয় প্রতিরক্ষার জন্য বেশি উপযোগী, দীর্ঘ-পাল্লার আক্রমণাত্মক অভিযানের জন্য নয়। এছাড়াও চিনা বিশ্লেষকদের দাবি, পিপলস লিবারেশন আর্মি নেভির ‘টাইপ ০৫৫’ এবং ‘টাইপ ০৫২ডি’ ডেস্ট্রয়ারে থাকা বহুস্তরীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা উচ্চগতির ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলায় সক্ষম। যদিও এই মূল্যায়ন সম্পূর্ণরূপে তাত্ত্বিক এবং বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রে তার কার্যকারিতা এখনও প্রমাণিত হয়নি।

    মালাক্কা প্রণালি ঘিরে বাড়ছে ভারতের কৌশলগত গুরুত্ব

    চিনা প্রতিবেদনে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে ইন্দোনেশিয়ার ভৌগোলিক অবস্থানকে। মালাক্কা, সুন্ডা এবং লম্বক প্রণালি—এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ ভারত মহাসাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরকে যুক্ত করেছে। বিশ্বের বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহণের বড় অংশ এই রুট দিয়েই সম্পন্ন হয়। চিনের আশঙ্কা, এই ধরনের কৌশলগত সমুদ্রপথের নিয়ন্ত্রণে থাকা দেশগুলির হাতে যদি স্থলভিত্তিক অ্যান্টি-শিপ ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করা হয়, তবে ভবিষ্যতের কোনও আঞ্চলিক সংঘাতে নৌ-অভিযান আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে চিনা বিশ্লেষকদের মতে, ফিলিপিন্স, ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়াকে ঘিরে ভারতের যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা গড়ে উঠছে, তা ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ভারতের প্রভাব বৃদ্ধির স্পষ্ট ইঙ্গিত।

    ইন্দোনেশিয়াকে সরাসরি আক্রমণ নয়, সতর্ক বার্তা বেজিংয়ের

    উল্লেখযোগ্যভাবে, ইন্দোনেশিয়ার সমালোচনা না করে তুলনামূলক সংযত অবস্থান নিয়েছে চিনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম। সম্পাদকীয়গুলিতে ইন্দোনেশিয়ার দীর্ঘদিনের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন ও নিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে একই সঙ্গে বলা হয়েছে, আঞ্চলিক শক্তির বাইরের দেশগুলির সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ালে নতুন ভূ-রাজনৈতিক জটিলতা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে, চিন এখনও ইন্দোনেশিয়ার সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার—এই বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরা হয়েছে।

    ভারতের জন্য বড় মাইলফলক

    ভারতের দৃষ্টিতে এই চুক্তি প্রতিরক্ষা রফতানির ক্ষেত্রে আরেকটি বড় সাফল্য। ইতিমধ্যেই ব্রহ্মস ভারতের সবচেয়ে সফল প্রতিরক্ষা রফতানি পণ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। অন্যদিকে, চুক্তি কার্যকর হলে অ্যাস্ট্রা হবে ভারতের প্রথম স্বদেশে তৈরি বিয়ন্ড-ভিজুয়াল-রেঞ্জ এয়ার-টু-এয়ার মিসাইল, যা বিদেশে রফতানি করা হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দুই ক্ষেপণাস্ত্রের রফতানি শুধু বাণিজ্যিক সাফল্য নয়, বরং ভারতের দেশীয় প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির পরিণত সক্ষমতারও প্রমাণ। একই সঙ্গে ঐতিহ্যগত অস্ত্র-রফতানিকারি দেশগুলির উপর নির্ভরতা কমাতে আগ্রহী রাষ্ট্রগুলির কাছে ভারতকে একটি নির্ভরযোগ্য প্রতিরক্ষা অংশিদার হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করছে।

    ‘স্ট্রিং অব পার্লস’-এর জবাব দিচ্ছে ভারত, বলছেন অবসরপ্রাপ্ত সেনা আধিকারিকরা

    ভারতীয় সেনার অবসরপ্রাপ্ত আধিকারিকরা এই চুক্তিকে কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ মেজর জেনারেল পিকে সেহগল (অবসরপ্রাপ্ত) বলেন, ‘‘ইন্দোনেশিয়ার ব্রহ্মস কেনার সিদ্ধান্ত ভারতের কৌশলগত অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে। পাশাপাশি এটি আত্মনির্ভর ভারত এবং মেক ইন ইন্ডিয়া উদ্যোগেরও বড় সাফল্য।’’ তিনি জানান, ২০১৪ সালের আগে ভারতের প্রতিরক্ষা রফতানির পরিমাণ ছিল প্রায় ১,৪০০ কোটি টাকা। বর্তমানে তা বেড়ে প্রায় ২৫,০০০ থেকে ২৬,০০০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে এবং আগামী তিন-চার বছরের মধ্যে তা ৫০,০০০ কোটির কাছাকাছি পৌঁছতে পারে। মেজর জেনারেল সেহগল আরও জানান, ভারতের সঙ্গে ফিলিপিন্স ও ভিয়েতনামের পর এবার ইন্দোনেশিয়ারও ব্রহ্মস চুক্তি প্রমাণ করছে যে, চিন যেভাবে পাকিস্তান ও বাংলাদেশে অস্ত্র সরবরাহের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেছে, ভারতও তার কৌশলগত জবাব দিচ্ছে। তিনি বলেন, ‘‘ইন্দোনেশিয়া শুধু ব্রহ্মসই নয়, ভারতের তৈরি অ্যাস্ট্রা ক্ষেপণাস্ত্রও নিচ্ছে, যা দেশটির বিমানবাহিনি ও উপকূলীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করবে। পাশাপাশি সাবাং বন্দর-সহ দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতাও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ভারতের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে তুলছে।’’

    ‘নেকলেস অব ডায়মন্ডস’ কৌশলের ইঙ্গিত

    মেজর জেনারেল সঞ্জয় সোই (অবসরপ্রাপ্ত) বলেন, ফিলিপিন্স, ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে ব্রহ্মস চুক্তি চিনের সম্প্রসারণবাদি নীতির কার্যকর জবাব। তাঁর মতে, চিন যেখানে ‘স্ট্রিং অব পার্লস’ কৌশলের মাধ্যমে ভারতকে ঘিরে ফেলার চেষ্টা করেছে, সেখানে ভারত ‘নেকলেস অব ডায়মন্ডস’ নীতির মাধ্যমে ইন্দো-প্যাসিফিকে কৌশলগত অংশিদারিত্ব আরও শক্তিশালী করছে। অন্যদিকে, মেজর জেনারেল ধ্রুব কাটোচ (অবসরপ্রাপ্ত) বলেন, ‘‘ব্রহ্মসের মতো কৌশলগত অ্যাস্ট্রা কোনও দেশের হাতে থাকলে সেটি শুধুমাত্র যুদ্ধের জন্য নয়, বরং শক্তিশালী প্রতিরোধ ক্ষমতা (Deterrence) তৈরি করে। এতে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ সামরিক আগ্রাসনের আগে বহুবার ভাবতে বাধ্য হয়।’’

    ইন্দো-প্যাসিফিকে ভারতের প্রতিরক্ষা কূটনীতির নতুন অধ্যায়

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে ব্রহ্মস ও অ্যাস্ট্রা ক্ষেপণাস্ত্র চুক্তি শুধু একটি প্রতিরক্ষা রফতানি নয়; এটি ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ভারতের প্রতিরক্ষা কূটনীতির নতুন অধ্যায়ের সূচনা। ফিলিপিন্স, ভিয়েতনামের পর ইন্দোনেশিয়াও যখন ভারতের উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার উপর আস্থা দেখাচ্ছে, তখন স্পষ্ট হচ্ছে যে ভারত ক্রমশ একটি নির্ভরযোগ্য প্রতিরক্ষা রফতানিকারি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা অংশিদার হিসেবে নিজের অবস্থান আরও মজবুত করছে। একই সঙ্গে চিনের তীব্র প্রতিক্রিয়াও এই চুক্তির কৌশলগত গুরুত্বকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।

  • UNICORN Mast: স্টেলথ প্রযুক্তিতে বড় লাফ ভারতের! জাপানের ইউনিকর্ন পাবে দেশের নৌসেনা, কেন এটা গুরুত্বপূর্ণ?

    UNICORN Mast: স্টেলথ প্রযুক্তিতে বড় লাফ ভারতের! জাপানের ইউনিকর্ন পাবে দেশের নৌসেনা, কেন এটা গুরুত্বপূর্ণ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও জাপানের কৌশলগত সম্পর্ক আরও এক ধাপ এগোল। দুই দেশ প্রথমবারের মতো যৌথভাবে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম (Defence Equipment) উন্নয়ন ও উৎপাদনের জন্য একটি ঐতিহাসিক দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তির আওতায় প্রথম প্রকল্প হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে ইউনিকর্ন শিপবোর্ন কমিউনিকেশনস্ মাস্ট (UNICORN Shipborne Communications Mast)-র যৌথ উন্নয়ন ও লাইসেন্সভিত্তিক উৎপাদন। জাপানের এনইসি কর্পোরেশনের (NEC Corporation) তৈরি এই অত্যাধুনিক সমন্বিত মাস্ট (মাস্তুল) ভবিষ্যতে ভারতীয় নৌবাহিনীর (Indian Navy) অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজে ব্যবহার করা হবে। ভারতে এই ব্যবস্থা উৎপাদনের দায়িত্ব পাবে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ভারত ইলেকট্রনিক্স লিমিটেড (BEL), যারা জাপানি অংশীদারদের সঙ্গে যৌথভাবে প্রযুক্তি স্থানান্তরের মাধ্যমে এটি তৈরি করবে।

    কী এই ভারত-জাপান চুক্তি?

    নতুন চুক্তি অনুযায়ী, জাপান অত্যাধুনিক নকশা, মূল প্রকৌশল প্রযুক্তি এবং সংবেদনশীল প্রযুক্তিগত তথ্য সরবরাহ করবে। অন্যদিকে, ভারত স্থানীয়ভাবে সিস্টেম ইন্টিগ্রেশন, উৎপাদন এবং নির্মাণের দায়িত্ব নেবে। এই প্রকল্পটি কেন্দ্রের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ (Make in India) উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করবে। একই সঙ্গে ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্পে উচ্চ প্রযুক্তির স্থানীয় উৎপাদন ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রযুক্তি ভারতীয় যুদ্ধজাহাজের তড়িৎ-চৌম্বকীয় দক্ষতা (Electromagnetic ) বাড়াবে এবং রেডারে ধরা পড়ার সম্ভাবনা (Low Radar Cross Section) কমাবে। ফলে ভারতীয় নৌবাহিনীর স্টেলথ ক্ষমতা ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সামুদ্রিক নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে।

    কীভাবে ব্যবহার করবে ভারত?

    যদিও ইউনিকর্ন ব্যবস্থা মূলত জাপানের এনইসি কর্পোরেশন তৈরি করেছে, ভারতীয় নৌবাহিনী এতে নিজেদের সেন্সর, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন অ্যান্টেনা সংযুক্ত করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ধাপে ধাপে ভারতীয় নৌবাহিনীর বিভিন্ন যুদ্ধজাহাজে বর্তমানে ব্যবহৃত প্রচলিত কমিউনিকেশন ও সেন্সর মাস্টের পরিবর্তে এই নতুন সমন্বিত মাস্তুল বসানো হবে। উল্লেখযোগ্যভাবে, এই প্রযুক্তি পাওয়ার বিষয়ে ভারতের আগ্রহ বহুদিনের। ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে ভারত ও জাপান ইউনিকর্ন মাল্টিফাংশনাল মাস্ট রফতানির বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি করেছিল। সেই চুক্তির ধারাবাহিকতাতেই এবার যৌথ উন্নয়ন ও উৎপাদনের পথ খুলে গেল।

    কী এই ইউনিকর্ন মাল্টিফাংশনাল মাস্ট?

    ইউনিকর্ন, যার আরেক নাম নোরা-৫০ (NORA-50), যৌথভাবে তৈরি করেছে এনইসি কর্পোরেশন, সাম্পা কোগিও কেকে এবং ইয়োকোহামা রাবার কোম্পানি। এটি মূলত জাপানের মোগামি শ্রেণির ফ্রিগেটের (Mogami-class Frigate) জন্য তৈরি করা হয়েছিল। এটি একটি ইন্টিগ্রেটেড মাস্ট সিস্টেম (Integrated Mast System), যেখানে যোগাযোগ, নজরদারি (Surveillance) এবং ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ারের (Electronic Warfare) একাধিক অ্যান্টেনাকে একটি কাঠামোর মধ্যে একত্রিত করা হয়েছে। ফলে যুদ্ধজাহাজের উপরের অংশে আলাদা আলাদা অ্যান্টেনার সংখ্যা অনেক কমে যায়, যা জাহাজের স্টেলথ বৈশিষ্ট্য বাড়ানোর পাশাপাশি রক্ষণাবেক্ষণও সহজ করে।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ এই চুক্তি?

    ভারত-জাপানের এই প্রথম প্রতিরক্ষা সহ-উন্নয়ন প্রকল্পকে দুই দেশের নিরাপত্তা সহযোগিতার নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে—

    • ● ভারতীয় নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ আরও আধুনিক ও স্টেলথ সক্ষম হবে।
    • ● ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’র আওতায় অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির দেশীয় উৎপাদন বাড়বে।
    • ● ভারত-জাপান কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও গভীর হবে।
    • ● ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নতুন মাত্রা পাবে।

    ভারতীয় নৌবাহিনীর আধুনিকীকরণ কর্মসূচিতে এই চুক্তি আগামী কয়েক বছরে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলেই মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।

  • Abhishek Banerjee: অভিষেককে হাই কোর্টের কড়া হুঁশিয়ারি! ১৫ জুলাই কণ্ঠস্বরের নমুনা না দিলে উঠতে পারে রক্ষাকবচ

    Abhishek Banerjee: অভিষেককে হাই কোর্টের কড়া হুঁশিয়ারি! ১৫ জুলাই কণ্ঠস্বরের নমুনা না দিলে উঠতে পারে রক্ষাকবচ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও বারবার কণ্ঠস্বরের নমুনা না দেওয়ায় তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কড়া ভর্ৎসনা করল কলকাতা হাই কোর্ট। বিচারপতি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তদন্তে সহযোগিতা না করলে তাঁর জন্য দেওয়া আদালতের রক্ষাকবচ প্রত্যাহার করা হতে পারে। সেক্ষেত্রে সিআইডি চাইলে আইন অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ বা গ্রেফতারির ক্ষেত্রেও আর কোনও আইনি বাধা থাকবে না। শুক্রবার মামলার শুনানিতে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চ অভিষেকের আইনজীবীর বক্তব্যে সন্তুষ্ট হয়নি। শেষ পর্যন্ত আদালতের নির্দেশ মেনে আগামী ১৫ জুলাই দুপুর ১২টায় ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে উপস্থিত হয়ে কণ্ঠস্বরের নমুনা দিতে সম্মত হন অভিষেক।

    তদন্তে সহযোগিতা না করলে রক্ষাকবচ থাকবে না

    শুনানির সময় বিচারপতি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “কখন কণ্ঠস্বরের নমুনা দেবেন? সব কিছুর একটা সীমা থাকা উচিত। তদন্তে সহযোগিতা না করলে আমি রক্ষাকবচ প্রত্যাহার করব। পুলিশের নোটিসে সাড়া দিয়ে তদন্তে সহযোগিতা করুন। না হলে মামলা খারিজ করে জরিমানা করব।” পরে অভিষেকের আইনজীবীর উদ্দেশে বিচারপতির আরও মন্তব্য, “রক্ষাকবচের নির্দেশ প্রত্যাহার করব? হ্যাঁ কি না, উত্তর দিন। না হলে কণ্ঠস্বরের নমুনা দিয়ে আসুন।”

    কেন কণ্ঠস্বরের নমুনা চাইছে সিআইডি?

    নির্বাচনী প্রচারের সময় ডিজে-সংক্রান্ত একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। সেই মামলার তদন্ত করছে সিআইডি। তদন্তের স্বার্থে অভিষেকের কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহ করতে চেয়েছে তদন্তকারী সংস্থা। আগেই আদালত জানিয়েছিল, তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে অভিষেককে। সেই সঙ্গে নির্দেশ ছিল, তদন্ত চলাকালীন তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কঠোর পদক্ষেপ করা যাবে না। তবে অভিষেকের দাবি ছিল, সংশ্লিষ্ট বক্তব্য তাঁরই— তা তিনি অস্বীকার করছেন না। তাই আলাদা করে কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহের প্রয়োজন নেই।

    দ্বিতীয়বারও হাজিরা এড়িয়ে যান

    গত বুধবার বিধাননগর আদালতে কণ্ঠস্বরের নমুনা দেওয়ার জন্য হাজির হওয়ার নির্দেশ ছিল অভিষেকের। কিন্তু তিনি দ্বিতীয়বারের মতো সেই হাজিরা এড়িয়ে যান। সিআইডি আধিকারিকেরা প্রায় দু’ঘণ্টা অপেক্ষা করলেও তিনি উপস্থিত হননি। এরপর তাঁকে আগামী ১৮ জুলাই ফের হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এই পরিস্থিতিতেই শুক্রবার হাইকোর্টে মামলার শুনানি হয় এবং আদালত তদন্তে দেরি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে।

    আইনজীবীর সওয়াল কী?

    শুনানিতে অভিষেকের আইনজীবী অয়ন ভট্টাচার্য আদালতে বলেন, “আমার মক্কেল স্বীকার করছেন সেটি তাঁর কণ্ঠস্বর। গত ২৩ জুন কণ্ঠস্বর নমুনা সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়। আমার মক্কেল মন্তব্যের দায়বদ্ধতা স্বীকার করছেন। আমি একবারও দাবি করিনি কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহের নির্দেশে রক্ষাকবচ রয়েছে। এই নির্দেশ নিয়ে আমার দু’টি বক্তব্য রয়েছে। এক, নির্দেশ দেওয়ার সময় আমার মক্কেলের বক্তব্য শোনা হয়নি। দুই, ওই নির্দেশ জারির সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।” পরবর্তীতে তিনি আদালতের কাছে স্বীকার করেন যে, আদালতের আগের নির্দেশ ব্যাখ্যা করতে তাঁর ভুল হয়েছিল। একই সঙ্গে মামলাটি প্রত্যাহারের অনুমতিও চান।

    বিচারপতির পর্যবেক্ষণ

    বিচারপতি জানান, সংবিধানের ২২৬ ধারার অধীনে অভিষেককে যে রক্ষাকবচ দেওয়া হয়েছিল, তার অন্যতম শর্ত ছিল তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করা। তাই তদন্তকারী সংস্থা কণ্ঠস্বরের নমুনা চাইলে সেটিও সেই নির্দেশের আওতার মধ্যেই পড়ে। একই বিষয়ে একাধিক মামলা দায়ের করার বিষয়েও আদালত অসন্তোষ প্রকাশ করে। বিচারপতির মন্তব্য, “একই বিষয়ে এই আদালত একটি নির্দেশ জারি করেছে। রক্ষাকবচ পেয়েছেন। অন্য দিকে, একই বিষয়ে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে নতুন মামলা করলেন। এটা কী ধরনের আচরণ? বিচার পদ্ধতির অপব্যবহার করছেন। আমার নির্দেশে স্পষ্ট বলা ছিল, তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে। ফলে তদন্তকারী সংস্থা যদি কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহ করতে চায়, সেটাও নির্দেশের মধ্যেই পড়ে।”

    অভিষেককে ভর্ৎসনা হাইকোর্টের

    রীতিমতো ভর্ৎসনা করে বিচারপতি বলেন, “আপনি ভয়েস দিন। ম্যাজিস্ট্রেট নির্দেশ দেওয়ার পরেও যাননি কেন? কোনও মামলাই শুনব না। সম্পূর্ণ প্রটেকশন দেওয়া হয়েছিল। আপনি মামলা তুলে নিন।” বিচারপতি উল্লেখ করেন, আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত রক্ষাকবচ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নমুনা দিতে যেতে হবে না, এ কথা বলা হয়নি। আগামী ১৫ জুলাই দুপুর ১২টায় কণ্ঠস্বরের নমুনা দিতে যেতে হবে বলে নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। শুনানির শেষে অভিষেকের আইনজীবী আদালতের কাছে আবেদন করেন, এই মামলার জন্য নেওয়া কণ্ঠস্বরের নমুনা যেন অন্য কোনও মামলায় ব্যবহার করা না হয়। তবে এই বিষয়ে আদালত কোনও নির্দেশ বা মন্তব্য করেনি।

    ডিম ছোড়ার আশঙ্কা, রাজ্যকে নির্দেশ

    এর পর ১৫ জুলাই কণ্ঠস্বরের নমুনা দিতে যাওয়ার সময় নিরাপত্তা নিয়েও আদালতে প্রশ্ন তোলেন অভিষেকের আইনজীবী। তাঁর দাবি, ওই সময়ে কেউ যেন অভিষেককে লক্ষ্য করে ডিম না ছোড়ে, তার নিশ্চয়তা দেওয়া হোক। এ বিষয়ে বিচারপতি রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দিয়ে বলেন, “ডিম ছোড়ার ঘটনা বন্ধ হওয়া উচিত। জনতাকে নিয়ন্ত্রণ করা উচিত যাতে এই ধরনের ঘটনা না ঘটে।” আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ১৫ জুলাই এমন কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাজ্যের।

  • West Bengal BJP: তৃণমূলের প্রাক্তন ৩ সাংসদের উপর বড় ভরসা বিজেপির, রাজ্যসভার উপনির্বাচনে প্রার্থী ঘোষণা

    West Bengal BJP: তৃণমূলের প্রাক্তন ৩ সাংসদের উপর বড় ভরসা বিজেপির, রাজ্যসভার উপনির্বাচনে প্রার্থী ঘোষণা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বড় রাজনৈতিক চমক। সদ্য প্রাক্তন তৃণমূল রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইককে পশ্চিমবঙ্গ থেকে রাজ্যসভার উপনির্বাচনের প্রার্থী ঘোষণা করল বিজেপি। বৃহস্পতিবার রাতেই বিজেপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির তরফে তিন জনের নাম অনুমোদনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।

    বিজেপির প্রার্থী তালিকায় সুখেন্দু-সুস্মিতা-প্রকাশ

    বিজেপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে ২০২৬ সালের রাজ্যসভার উপনির্বাচনের জন্য সুখেন্দু শেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইকের নাম অনুমোদন করা হয়েছে। দলের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক অরুণ সিংহের স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়। উল্লেখ্য, এই তিন নেতাই সম্প্রতি রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন। সেই শূন্য হওয়া তিনটি আসনেই এবার বিজেপির প্রার্থী হিসেবে লড়বেন তাঁরা। অর্থাৎ, প্রার্থী একই থাকলেও বদলে গিয়েছে রাজনৈতিক পরিচয়। এর কয়েক ঘণ্টা আগেই সল্টলেকে বিজেপির রাজ্য দফতরে গিয়ে রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের হাত থেকে দলীয় পতাকা তুলে নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগ দেন সুখেন্দু শেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইক।

    কেন নেওয়া হল তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদদের?

    তৃণমূলের প্রাক্তন তিন সাংসদকে বিজেপিতে অন্তর্ভুক্ত করার কারণ ব্যাখ্যা করেন রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে এমন এক রাজনৈতিক সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল যেখানে কেন্দ্রের সঙ্গে সহযোগিতার বদলে সংঘাতকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, এর ফলে রাজ্যের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়েছে। শমীক জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বের উপর আস্থা রেখেই এই তিন প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ নিজেদের পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন।

    ‘সাধুরও একটা অতীত থাকে’

    তৃণমূল থেকে আসা নেতাদের দলে নেওয়া নিয়ে প্রশ্নের জবাবে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “ব্যতিক্রম তো থাকবেই। ব্যতিক্রমী ঘটনা ব্যতিক্রমী চরিত্রের সঙ্গে দলও নিজেকে খাপ খাইয়ে নেয়। পার্টির সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।” তিনি আরও বলেন, যারা দুর্নীতি, চাকরি বিক্রি, সিন্ডিকেট রাজ বা সাধারণ মানুষের অধিকার খর্ব করার সঙ্গে যুক্ত নন, তাঁদের জন্য বিজেপির দরজা খোলা। পাশাপাশি তাঁর মন্তব্য, “এদের নামের আগে দলত্যাগী বা তৃণমূলী শব্দ ব্যবহার করবেন না। প্রত্যেকেরই একটা অতীত আছে। সাধুরও একটা অতীত থাকে। এই মুহূর্তে সুখেন্দু শেখর রায়, সুস্মিতা দেব ও প্রকাশ চিক বরাইকের একমাত্র পরিচয়, তারা বিজেপি করবে।”

    বিজেপিতে যোগ দিয়েই মমতাকে নিশানা সুখেন্দুর

    দলে যোগ দেওয়ার পরই তৃণমূল কংগ্রেস এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ করেন সুখেন্দু শেখর রায়। তিনি বলেন, “শি ইজ ফিনিশড, ওই দল শেষ। এখন বেকার চর্চার দরকার নেই।” একই সঙ্গে বামফ্রন্ট এবং তৃণমূল— দুই সরকারেরই সমালোচনা করে সুখেন্দু বলেন, “আগের সরকারগুলি, বিশেষ করে ৩৪ বছরের বাম সরকার এবং ১৫ বছরের তৃণমূল সরকার মিলে ৪৯ বছরে পশ্চিমবঙ্গকে মরুভূমি বানিয়ে গিয়েছে।” কেন্দ্রের সঙ্গে রাজ্যের সম্পর্ক নিয়েও তিনি কটাক্ষ করে বলেন, “কেন্দ্রবিরোধী জিহাদ মেন বসে গিয়েছিল। সেটাই রাজনীতিতে পরিণত হয়েছিল। যেন বিচ্ছিন্ন দ্বীপ, ভারতের মানচিত্র থেকে বাংলা বাইরে বলে মনে হচ্ছিল।”

    নবান্নে ইউসুফ পাঠান, শতাব্দী-সহ একাধিক নেতা

    অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করেন বহরমপুরের সাংসদ ইউসুফ পাঠান। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদ শতাব্দী রায়, খলিলুর রহমান এবং আবু তাহের খানও। এদিনই নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, কয়েক দিন আগেই তাঁর বাড়িতে গিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সেই সাক্ষাতের পর মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে প্রসেনজিতের বৈঠক ঘিরেও রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে।

LinkedIn
Share