Author: Susanta Das

  • PM Modi in Indonesia: ‘সোনালি অধ্যায়ের’ সূচনা! সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান পেলেন মোদি, ভারত-ইন্দোনেশিয়া সম্পর্কে নতুন দিগন্ত

    PM Modi in Indonesia: ‘সোনালি অধ্যায়ের’ সূচনা! সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান পেলেন মোদি, ভারত-ইন্দোনেশিয়া সম্পর্কে নতুন দিগন্ত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করতে প্রতিরক্ষা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য, বাণিজ্য, ব্লু ইকোনমি এবং প্রযুক্তি-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিল নয়াদিল্লি ও জাকার্তা। ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবয়ো সুবিয়ান্তোর সঙ্গে যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, ভারত-ইন্দোনেশিয়া সম্পর্কের ক্ষেত্রে ‘সোনালি অধ্যায়’-এর সূচনা হল। তাঁর দাবি, এই নতুন অধ্যায় শুধু দুই দেশের জন্যই নয়, ২১ শতকের বিশ্ব ও মানবতার জন্যও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। মোদির কথায়, দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস যত বাড়ছে, ততই প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা ও সামুদ্রিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত খুলে যাচ্ছে।

    প্রতিরক্ষা ও সামুদ্রিক নিরাপত্তায় জোর

    বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী জানান, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে বিনিময় কর্মসূচি, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা আরও বাড়ানো হবে। পাশাপাশি ভারত মহাসাগরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দুই দেশের কোস্ট গার্ড যৌথভাবে কাজ করবে। এর পাশাপাশি ব্লু ইকোনমি, বন্দর উন্নয়ন এবং সামুদ্রিক বাণিজ্য সম্প্রসারণেও একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানান তিনি।

    মোদিকে ইন্দোনেশিয়ার সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান

    এই সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ইন্দোনেশিয়ার সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মান ‘বিনতাং আদিপূর্ণা মেডেল অব অনার’ প্রদান। সম্মান গ্রহণের পর মোদি বলেন, এই স্বীকৃতি তাঁর ব্যক্তিগত নয়, ১৪০ কোটিরও বেশি ভারতীয়র সম্মান। একই সঙ্গে এটি দুই দেশের দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রতিফলন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো, ইন্দোনেশিয়া সরকার এবং সে দেশের জনগণের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।

    ২০১৮ সালের অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী

    মোদি জানান, ২০১৮ সালে গঠিত ভারত-ইন্দোনেশিয়ার কমপ্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ এখন আরও শক্ত ভিতের উপর দাঁড়িয়েছে। উন্নয়ন, নিরাপত্তা, প্রযুক্তি, শিক্ষা ও সংস্কৃতির মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে।

    স্বাস্থ্যক্ষেত্রেও নতুন সহযোগিতা

    দুই দেশের আলোচনায় স্বাস্থ্য পরিষেবাও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জানান, ভারতের সাশ্রয়ী ও উন্নত মানের ওষুধ ইন্দোনেশিয়ার নাগরিকদের কাছে আরও সহজলভ্য করা হবে। শুধু তাই নয়, ইন্দোনেশিয়ার চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতেও ভারত সহযোগিতা করবে। পাশাপাশি জনকল্যাণমূলক প্রকল্প, মিড-ডে মিল এবং গণবণ্টন ব্যবস্থার অভিজ্ঞতাও ভাগ করে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।

    একাধিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর অঙ্গীকার

    দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব বৈঠকের শেষে প্রতিরক্ষা, দুর্যোগ মোকাবিলা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, ব্লু ইকোনমি, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি, শিক্ষা ও বাণিজ্য-সহ একাধিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সফর ভারত-ইন্দোনেশিয়া সম্পর্ককে আরও কৌশলগত গুরুত্ব দেবে এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে দুই দেশের সমন্বয়কে নতুন মাত্রা দেবে।

  • Magnesium Deficiency Symptoms: প্রয়োজন সামান্য পরিমাণই, তবে ঘাটতিতে হতে পারে একাধিক বিপদ! এই খনিজের চাহিদা পূরণে বাড়তি গুরুত্ব বিশেষজ্ঞদের

    Magnesium Deficiency Symptoms: প্রয়োজন সামান্য পরিমাণই, তবে ঘাটতিতে হতে পারে একাধিক বিপদ! এই খনিজের চাহিদা পূরণে বাড়তি গুরুত্ব বিশেষজ্ঞদের

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    ভিটামিন, ফাইবারের মতোই সমান জরুরি খনিজ! শরীর সুস্থ রাখতে ও দীর্ঘ জীবন যাপনের জন্য শরীরের প্রয়োজন, পর্যাপ্ত পরিমাণ খনিজ পদার্থের জোগান। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শরীরে খনিজ পদার্থের সামান্য চাহিদা থাকে। তবে এই সামান্য পরিমাণের ঘাটতি হলেই একাধিক সমস্যা তৈরি হতে পারে। চোখের নীচে কালো দাগ, অতিরিক্ত ক্লান্তি, হৃদরোগের সমস্যা, এমন একাধিক শারীরিক জটিলতার পাশপাশি মানসিক চাপ, বিষন্নতার মতো নানান মানসিক সমস্যাও তৈরি একটি একটি খনিজের ঘাটতি! চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শরীরে ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি দেখা দিলে একাধিক সমস্যা তৈরি হতে পারে। শরীরে প্রতিদিন ম্যাগনেশিয়ামের চাহিদা সামান্য। কিন্তু সেই সামান্য পরিমাণের ঘাটতি হলেও একাধিক বিপদ হতে পারে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শরীরে প্রতিদিন মাত্র ৩১০-৪২০ মিলিগ্রাম ম্যাগনেশিয়াম প্রয়োজন হয়। কিন্তু এই চাহিদা পূরণ হচ্ছে কিনা, সেদিকে নজর দেওয়া জরুরি।

    ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতিতে কী ধরনের সমস্যা হতে পারে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ম্যাগনেশিয়ামের ঝুঁকি শরীরে একাধিক সমস্যা তৈরি করে‌। পেশিতে টান ধরে। বারবার খিঁচুনির মতো সমস্যা তৈরি হয়। ফলে পেশির সক্রিয়তা কমে। আবার হাত-পায়ে দূর্বলতা বোধ হয়। তাই ক্লান্তি গ্রাস করে। যেকোনো কাজ করার ক্ষেত্রে বাড়তি সমস্যা তৈরি হয়। ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতি হাড়ের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করে। হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়। তাই মহিলাদের ম্যাগনেশিয়ামের চাহিদা পূরণ হচ্ছে কিনা সেদিকে বাড়তি খেয়াল রাখা জরুরি বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, মহিলারা অস্টিওপোরোসিসের মতো সমস্যায় বেশি ভোগেন। তাই তাঁদের হাড়ের বিশেষ যত্ন নেওয়া জরুরি। ম্যাগনেশিয়াম হাড় মজবুত করতে সাহায্য করে। হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতেও ম্যাগনেশিয়াম বিশেষ সাহায্য করে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতি হলে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি তৈরি হয়। অনিয়মিত হৃদস্পন্দন দেখা দিতে পারে। এগুলো হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। শরীরের পাশপাশি ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি মানসিক স্বাস্থ্যের পক্ষেও ক্ষতিকারক বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, ম্যাগনেশিয়ামের অভাব হলে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে। অনিদ্রার সমস্যা তৈরি হয়। মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়। উদ্বেগ, বিষন্নতার মতো সমস্যা দেখা যায়। ফলে যেকোনো কাজে মনোসংযোগ করা কঠিন হয়ে ওঠে।

    কাদের ঝুঁকি বেশি?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ঠিকমতো পুষ্টির অভাবে যেকেউ ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতিতে ভুগতে পারেন। কিন্তু ডায়াবেটিস আক্রান্তদের এই ধরনের খনিজের ঘাটতি বেশি দেখা যায়। তাছাড়া, দীর্ঘদিন অন্ত্রের সমস্যায় ভুগলে ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতি হয় বলেও জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। বয়স্কদের শরীরে ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতি হতে পারে। আবার মদ্যপানে আসক্তদের শরীরেও এই খনিজের ঘাটতি হয় বলেই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

    কীভাবে এই খনিজের চাহিদা সহজেই পূরণ হবে?

    পালংশাক

    আয়রন, ভিটামিন এ-র পাশাপাশি ম্যাগনেশিয়ামের জোগান দিতে পারে পালংশাকও। অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট, ফাইবার সমৃদ্ধ এই শাকটি স্বাস্থ্যের জন্য ভাল। পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, এক কাপ বা ১৮০ গ্রাম সেদ্ধ বা রান্না করা পালংশাকে প্রায় ১৫৭ মিলিগ্রাম ম্যাগনেশিয়াম পাওয়া যায়।

    কাঠবাদাম

    ম্যাগনেশিয়ামের চাহিদাপূরণে সকালে উঠে কাঠবাদাম ভেজানো খেতে পারেন। এমনটাই পরামর্শ দিচ্ছেন পুষ্টিবিদদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, সকালে ভেজানো কাঠবাদাম বা সন্ধ্যের জলখাবারে শুকনো খোলায় নেড়ে নেওয়া কাঠবাদামও খাওয়া যায়। মোটামুটি ২০-২২টি কাঠবাদামে ৭৬-৮১ মিলিগ্রাম ম্যাগনেশিয়াম পাওয়া যাবে।

    ডার্ক চকোলেট

    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ম্যাগনেশিয়াম কোকো থেকে তৈরি হওয়া ডার্ক চকোলেট থেকেও পাওয়া যায়। কতটা পরিমাণ কোকোর ব্যবহার হচ্ছে তার উপর নির্ভর করে ম্যাগনেশিয়ামের মাত্রা।

    কাজুবাদাম

    সপ্তাহে অন্তত তিন দিন খাবারের তালিকায় থাকুক কাজুবাদামও। এমনটাই পরামর্শ পুষ্টিবিদদের। তাঁরা জানাচ্ছেন, ১ আউন্স অর্থাৎ ১৭-১৮টি কাজুবাদামে প্রায় ৮৩ মিলিগ্রামের মতো ম্যাগনেশিয়াম থাকে। তাই প্রতিদিনে অন্তত ৮-১০টি করে কাজু খেলে শুধু ম্যাগনেশিয়াম নয়, স্বাস্থ্যকর ফ্যাটও পাবে শরীর। হৃদ্‌যন্ত্র ভাল রাখার জন্য স্বাস্থ্যকর ফ্যাট জরুরি।

    কুমড়োর বীজ

    কুমড়ো বীজে থাকে ম্যাগনেশিয়াম। হৃদ্‌যন্ত্র ঠিক রাখার জন্য, ম্যাগনেশিয়াম জরুরি উপাদান। উচ্চরক্তচাপ কমাতে, রক্তবাহী নালিকার স্থিতিস্থাপকতা বজায় রাখতে খনিজটি সাহায্য করে। ২০ গ্রাম কুমড়ো বীজে ১০০-১১০ মিলিগ্রাম ম্যাগনেশিয়াম থাকে। দৈনন্দিন চাহিদার অনেকটাই পূরণ হতে পারে, দিনে অল্প কিছু কুমড়োবীজ খেলে। তাই সপ্তাহে অন্তত দুদিন কুমড়োর বীজ খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
  • Baruipur Minor Murder: বারুইপুরে নাবালিকা-হত্যা, তদন্তে গতি, মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস, একের পর এক পদক্ষেপ পুলিশের

    Baruipur Minor Murder: বারুইপুরে নাবালিকা-হত্যা, তদন্তে গতি, মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস, একের পর এক পদক্ষেপ পুলিশের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে ১২ বছরের এক নাবালিকার যৌন নির্যাতন ও খুনের ঘটনায় তদন্তে আরও গতি আনল পুলিশ। ইতিমধ্যেই ৬ সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করা হয়েছে। দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতারের পর রবিবার গভীর রাত থেকে সোমবার ভোর পর্যন্ত ধারাবাহিক তল্লাশি চালিয়ে আরও তিনজনকে আটক করেছে তদন্তকারী দল। একই সঙ্গে পলাতক অভিযুক্তদের খোঁজে একাধিক জায়গায় অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পুলিশ সূত্রের দাবি, ঘটনাস্থল থেকে ফরেন্সিক নমুনা সংগ্রহের পাশাপাশি ডিজিটাল প্রমাণও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের প্রতিটি দিক অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করছে সিট।

    অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে তদন্ত

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বারুইপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পিনাকী দত্তের নেতৃত্বে গঠিত সিট ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে। গ্রেফতার হওয়া দুই অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি নতুন করে আটক হওয়া তিনজনের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীরা জানতে চাইছেন, ঘটনাস্থলে তাঁদের উপস্থিতি ছিল কি না, অপরাধ সংঘটনে তাঁরা কোনওভাবে সহযোগিতা করেছিলেন কি না অথবা গোটা ঘটনার নেপথ্যে কোনও ষড়যন্ত্রে যুক্ত ছিলেন কি না। প্রয়োজনে আরও জিজ্ঞাসাবাদ ও তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

    তিনটি পৃথক মামলা দায়ের

    বারুইপুর থানার পুলিশ এই ঘটনায় মোট তিনটি পৃথক মামলা রুজু করেছে। প্রথম মামলাটি নাবালিকার যৌন নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে। এছাড়া আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া, পুলিশের উপর হামলা, সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর, পথ ও রেল অবরোধ এবং গণপিটুনিতে এক অভিযুক্তের মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে আরও দুটি স্বতঃপ্রণোদিত মামলা করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ, স্থানীয়দের মোবাইলে তোলা ভিডিও এবং অন্যান্য ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণ করে অশান্তি ও ভাঙচুরে জড়িতদের শনাক্ত করার কাজ চলছে।

    এলাকায় জারি বিএনএসের ১৬৩ ধারা

    রবিবারের উত্তেজনার পর সোমবারও বারুইপুরের সংশ্লিষ্ট এলাকায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) ১৬৩ ধারা বলবৎ রয়েছে। কার্যত থমথমে পরিস্থিতি গোটা এলাকায়। অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ রয়েছে এবং রাস্তায় সাধারণ মানুষের উপস্থিতিও খুবই কম। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জেলা পুলিশের পাশাপাশি র‍্যাফ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা টহল দিচ্ছেন। নতুন করে যাতে কোনও অশান্তি না ছড়ায়, সে বিষয়ে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে।

    ভবানী ভবনেরও নজরে তদন্ত

    শুধু জেলা পুলিশ নয়, রাজ্য পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকরাও ঘটনার উপর নজর রাখছেন। রবিবারই ভবানী ভবন থেকে উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান। অশান্তি ছড়ানো, পুলিশের উপর হামলা এবং পরিকল্পিতভাবে উত্তেজনা তৈরির অভিযোগগুলিও পৃথকভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। বর্তমানে গ্রেফতার ও আটক ব্যক্তিদের দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার সম্পূর্ণ চিত্র সামনে আনার চেষ্টা চলছে।

    নাবালিকার পরিবারের সঙ্গে কথা মুখ্যমন্ত্রীর

    ঘটনার পর প্রশাসনিক তৎপরতাও বেড়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিহত নাবালিকার বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বলে গভীর শোকপ্রকাশ করেন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার নির্যাতিতার পরিবারকে কলকাতার ভবানী ভবনে ডেকে পাঠানো হয়েছে। সেখানে তদন্তের অগ্রগতি এবং পরিবারের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

    কী ঘটেছিল বারুইপুরে?

    পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শনিবার বিকেল থেকে নিখোঁজ ছিল ১২ বছরের ওই নাবালিকা। পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘক্ষণ খোঁজাখুঁজির পরও তার সন্ধান পাননি। রবিবার ভোরে বাড়ির পাশের একটি পুকুর থেকে উদ্ধার হয় তার দেহ। পরিবারের অভিযোগ, নাবালিকাকে যৌন নির্যাতনের পর হত্যা করে প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে দেহটি পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়। এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের একাংশ কুলপি রোড অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান। টায়ার জ্বালিয়ে পথ অবরোধের পাশাপাশি শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখার নামখানা লাইনে ট্রেন চলাচলও সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ হস্তক্ষেপ করলে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশের গাড়িতে ভাঙচুরের অভিযোগও ওঠে। এই উত্তেজনার মধ্যেই এক অভিযুক্তকে গণপিটুনি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ, পরে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

    তদন্তের দিকে নজর

    বারুইপুরের এই নৃশংস ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা, নারী ও শিশু নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তদন্ত দ্রুত শেষ করে আদালতে শক্তিশালী প্রমাণ পেশ করতে পারবে কি না এবং প্রকৃত দোষীরা কত দ্রুত আইনের আওতায় আসবে, এখন সেদিকেই নজর রাজ্যবাসীর।

  • Shyama Prasad Mookerjee: শিক্ষাবিদ থেকে জনসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা— ১২৫ বছর পরও কেন প্রাসঙ্গিক শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়?

    Shyama Prasad Mookerjee: শিক্ষাবিদ থেকে জনসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা— ১২৫ বছর পরও কেন প্রাসঙ্গিক শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় জনসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠা, পশ্চিমবঙ্গের জন্ম, স্বাধীন ভারতের শিল্পায়নের ভিত্তি নির্মাণ কিংবা কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা নিয়ে দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াই—এই প্রতিটি অধ্যায়ে বারবার ফিরে আসে একটি নাম। তিনি ‘ভারত কেশরী’ ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। আজ, ৬ জুলাই, তাঁর ১২৫তম জন্মবার্ষিকী। এক শতাব্দীরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও কেন তিনি ভারতীয় রাজনীতির অন্যতম প্রাসঙ্গিক ব্যক্তিত্ব, সেই প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে রয়েছে তাঁর জীবন, দর্শন ও রাজনৈতিক উত্তরাধিকারে।

    কলকাতার এক মেধাবী ছাত্র থেকে জাতীয় নেতা

    ১৯০১ সালের ৬ জুলাই কলকাতার ভবানীপুরে জন্মগ্রহণ করেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। তাঁর বাবা ছিলেন ‘বাংলার বাঘ’ স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায় এবং মা যোগমায়া দেবী। ছাত্রজীবন থেকেই তাঁর অসামান্য মেধার পরিচয় মিলেছিল। মিত্র ইনস্টিটিউশন থেকে মেধাবৃত্তিসহ ম্যাট্রিক, প্রেসিডেন্সি কলেজে ইংরেজি অনার্সে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম, এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে এমএ-তেও প্রথম স্থান—প্রতিটি ধাপেই তিনি নিজেকে অনন্য উচ্চতায় প্রতিষ্ঠিত করেন। মাত্র ২৩ বছর বয়সে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেলো নির্বাচিত হওয়া ছিল সেই সময়ের এক বিরল নজির।

    শিক্ষাক্ষেত্রে যে সংস্কার আজও স্মরণীয়

    আইনশাস্ত্রে উচ্চশিক্ষা নিয়ে দেশে ফিরে তিনি কেবল আইনজীবী হয়ে থেমে থাকেননি। মাত্র ৩৩ বছর বয়সে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৩৪ থেকে ১৯৩৮—এই চার বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ে যে পরিবর্তনগুলি তিনি আনেন, তা সময়ের তুলনায় অনেকটাই এগিয়ে ছিল। কৃষিবিজ্ঞান বিষয়ে ডিপ্লোমা কোর্স, চীনা ও তিব্বতি ভাষা শিক্ষা, আধুনিক কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সম্প্রসারণ, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা দিবস পালনের সূচনা—সবই তাঁর উদ্যোগে। তাঁর আমলেই প্রথমবার কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে বক্তৃতা দেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। শিক্ষাকে কেবল ডিগ্রি অর্জনের মাধ্যম নয়, জাতি গঠনের ভিত্তি হিসেবে দেখতেন তিনি।

    বাংলার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা

    ত্রিশ ও চল্লিশের দশকের ভারত ছিল রাজনৈতিক টানাপোড়েনের সময়। এই সময়েই শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় জাতীয় রাজনীতির অন্যতম প্রভাবশালী মুখ হয়ে ওঠেন। ১৯৪১ সালে ফজলুল হকের নেতৃত্বাধীন শ্যামা-হক মন্ত্রিসভায় অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৪৬ সালের কলকাতা ও নোয়াখালির দাঙ্গার সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ান। উদ্বাস্তুদের পুনর্বাসন, খাদ্য ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা এবং ত্রাণ কার্যক্রমে তাঁর সক্রিয় ভূমিকার কথা সেই সময়ের নানা বিবরণে উল্লেখ রয়েছে। দেশভাগের আগে অবিভক্ত বাংলার হিন্দু-অধ্যুষিত অঞ্চলকে ভারতের অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে তিনি অন্যতম প্রধান কণ্ঠস্বর হয়ে ওঠেন। ১৯৪৭ সালের ২০ জুনের ঐতিহাসিক ভোটাভুটি পরবর্তী পশ্চিমবঙ্গ গঠনের প্রক্রিয়ায় তাঁর রাজনৈতিক ভূমিকা আজও আলোচিত।

    স্বাধীন ভারতের শিল্পায়নের প্রথম রূপরেখা

    স্বাধীনতার পর জওহরলাল নেহরুর মন্ত্রিসভায় দেশের প্রথম শিল্পমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। তাঁর সময়েই ভারতের প্রথম শিল্পনীতি প্রণয়ন, চিত্তরঞ্জন লোকোমোটিভ কারখানা, সিন্ধ্রি সার কারখানা এবং একাধিক শিল্পপ্রকল্পের ভিত্তি স্থাপিত হয়। খড়্গপুরে দেশের প্রথম আইআইটি প্রতিষ্ঠার ভাবনা এবং কলকাতায় ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও তাঁর দূরদর্শিতার পরিচায়ক। আজ ‘আত্মনির্ভর ভারত’ বা দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধির যে আলোচনা হয়, তার প্রাথমিক শিল্পভিত্তি নির্মাণের ইতিহাসে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

    মতাদর্শের প্রশ্নে মন্ত্রিসভা ছেড়ে বেরিয়ে আসা

    ১৯৫০ সালে পূর্ব পাকিস্তানে হিন্দুদের ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদে তিনি নেহরু মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন। এটি ছিল কেবল রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়; তাঁর আদর্শগত অবস্থানেরও প্রকাশ। এরপরই তিনি বিকল্প জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলার উদ্যোগ নেন।

    ভারতীয় জনসঙ্ঘ: যে বীজ থেকে বিজেপির উত্থান

    ১৯৫১ সালের ২১ অক্টোবর দিল্লিতে প্রতিষ্ঠিত হয় ভারতীয় জনসঙ্ঘ। প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের সমর্থনে গড়ে ওঠা এই দলেই পরবর্তীকালে যুক্ত হন দীনদয়াল উপাধ্যায়, অটল বিহারী বাজপেয়ী, লালকৃষ্ণ আডবাণী-সহ বহু নেতা। সময়ের সঙ্গে রাজনৈতিক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে এই জনসঙ্ঘই পরবর্তীকালে ভারতীয় জনতা পার্টির ভিত্তি হয়ে ওঠে। ফলে বর্তমান ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের গুরুত্ব কেবল একজন নেতা হিসেবে নয়, একটি রাজনৈতিক ধারার স্থপতি হিসেবেও মূল্যায়িত হয়।

    ৩৭০ ধারা নিয়ে যে আন্দোলন ইতিহাস হয়ে রয়েছে

    শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে আলোচিত অধ্যায় ছিল জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ সাংবিধানিক মর্যাদার বিরোধিতা। ‘এক দেশে দুই বিধান, দুই নিশান, দুই প্রধান চলবে না’— এই স্লোগান তাঁর রাজনৈতিক দর্শনের প্রতীক হয়ে ওঠে। পারমিট ব্যবস্থা অমান্য করে কাশ্মীরে প্রবেশের চেষ্টা করলে ১৯৫৩ সালের ১১ মে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর ২৩ জুন বন্দি অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়, যা আজও নানা প্রশ্ন ও বিতর্কের বিষয়। ২০১৯ সালে ৩৭০ ধারা বিলোপের পর তাঁর এই আন্দোলন নতুন করে জাতীয় রাজনীতির আলোচনায় ফিরে আসে।

    ১২৫ বছর পরও কেন প্রাসঙ্গিক?

    সময়ের সঙ্গে রাজনীতি বদলেছে, দল বদলেছে, কিন্তু শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে ঘিরে আলোচনা থামেনি। কারণ, তাঁর জীবনকে একমাত্র রাজনৈতিক পরিচয়ে সীমাবদ্ধ করা যায় না। তিনি ছিলেন একজন অসাধারণ শিক্ষাবিদ, সফল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসক, স্বাধীন ভারতের শিল্পনীতির অন্যতম স্থপতি, সংসদীয় রাজনীতির প্রভাবশালী বক্তা এবং জাতীয়তাবাদী রাজনীতির অন্যতম সংগঠক। একই সঙ্গে তিনি এমন একজন নেতা, যাঁর রাজনৈতিক দর্শন আজও ভারতের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দলের আদর্শগত ভিত্তির অংশ।

    ইতিহাসের মূল্যায়ন কখনও একরৈখিক নয়

    শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবন ও রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে ইতিহাসবিদ, রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন মূল্যায়ন রয়েছে। তাঁর সমর্থকেরা তাঁকে জাতীয়তাবাদের অন্যতম প্রধান স্থপতি হিসেবে দেখেন, অন্যদিকে সমালোচকেরা তাঁর রাজনীতির বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তবে একটি বিষয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে বিস্তর ঐকমত্য রয়েছে— স্বাধীনতা-উত্তর ভারতের রাজনীতি, পশ্চিমবঙ্গের গঠন, জনসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠা এবং কাশ্মীর প্রশ্নের ইতিহাসে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে বাদ দিয়ে পূর্ণাঙ্গ আলোচনা সম্ভব নয়। ১২৫তম জন্মবার্ষিকীতে তাই তাঁকে স্মরণ করা মানে শুধু একজন নেতাকে স্মরণ করা নয়; বরং স্বাধীন ভারতের রাষ্ট্রগঠন, শিক্ষাব্যবস্থা, শিল্পায়ন এবং রাজনৈতিক মতাদর্শের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়কে নতুন করে ফিরে দেখা।

  • VB-G RAM-G: পশ্চিমবঙ্গে ১২৫ দিনের কাজের জন্য ১,২৬৪ কোটি টাকা বরাদ্দ, বড় ঘোষণা কেন্দ্রের

    VB-G RAM-G: পশ্চিমবঙ্গে ১২৫ দিনের কাজের জন্য ১,২৬৪ কোটি টাকা বরাদ্দ, বড় ঘোষণা কেন্দ্রের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে সরকার পরিবর্তনের মাত্র দু’মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই রাজ্যের জন্য ১২৫ দিনের গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্পে প্রথম কিস্তির অর্থ বরাদ্দ করল কেন্দ্রীয় সরকার। কেন্দ্রীয় পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকের ঘোষণা অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের জন্য ১,২৬৪.৪৯ কোটি টাকা অনুমোদন করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই ১ জুলাই থেকে রাজ্যে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। গত ৯ মে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে নতুন বিজেপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি কেন্দ্রের তরফে রাজ্যের জন্য অন্যতম বড় আর্থিক বরাদ্দ হিসেবে দেখা হচ্ছে। রবিবার কেন্দ্রীয় পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়নমন্ত্রী শিবরাজ সিংহ চৌহান দেশজুড়ে বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের জন্য ‘বিকশিত ভারত-গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ)’ প্রকল্পের প্রথম কিস্তির অর্থ ছাড়ার ঘোষণা করেন।

    দেশজুড়ে ২৫,৮৬৩ কোটি টাকার বরাদ্দ

    কেন্দ্রীয় সরকারের তথ্য অনুযায়ী, এদিন গোটা দেশের বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের জন্য মোট ২৫,৮৬৩ কোটিরও বেশি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। বরাদ্দের নিরিখে সবচেয়ে বেশি অর্থ পেয়েছে উত্তরপ্রদেশ, যেখানে দেওয়া হয়েছে ৩,২১০.৭৬ কোটি টাকা। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, আগামী বছর উত্তরপ্রদেশে বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখেই ওই রাজ্যে বরাদ্দের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি রাখা হয়েছে।

    দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল কেন্দ্রীয় অর্থপ্রবাহ

    বিগত সরকারের আমলে পশ্চিমবঙ্গে একশো দিনের কাজের প্রকল্পে কেন্দ্রীয় বরাদ্দ দীর্ঘ সময় ধরে আটকে ছিল। কেন্দ্রের অভিযোগ ছিল, প্রকল্পের উপভোক্তা তালিকায় ব্যাপক অনিয়ম, ভুয়ো নাম অন্তর্ভুক্তি এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত অসঙ্গতির কারণে প্রকৃত শ্রমিকদের কাছে মজুরি পৌঁছাতে সমস্যা তৈরি হয়েছিল। এই অভিযোগের ভিত্তিতে একাধিক কেন্দ্রীয় তদন্তকারী দল রাজ্যে পরিদর্শন করে। পরে বিভিন্ন সুপারিশের ভিত্তিতে উপভোক্তা তালিকা সংশোধন ও তথ্য যাচাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল।

    এবার জোর স্বচ্ছতা ও সময়মতো মজুরি প্রদানে

    কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রক স্পষ্ট জানিয়েছে, শুধু অর্থ বরাদ্দ নয়, প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও এবার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শ্রমিকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি মজুরি পৌঁছে দেওয়ার উপর। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শিবরাজ সিংহ চৌহান জানিয়েছেন, প্রকল্পের প্রতিটি স্তরে নজরদারি আরও কঠোর করা হবে যাতে সরকারি অর্থের অপব্যবহার রোধ করা যায় এবং প্রকৃত উপভোক্তারাই এর সুবিধা পান।

    ১০০ দিনের বদলে এখন ১২৫ দিনের কর্মসংস্থান

    একসময় মনরেগা (MGNREGA) নামে পরিচিত এই গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্পের নতুন নাম হয়েছে ‘বিকশিত ভারত-গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ)’ বা ভিবি-জিরাম-জি। নতুন কাঠামোয় বছরে কর্মসংস্থানের সীমা ১০০ দিন থেকে বাড়িয়ে ১২৫ দিন করা হয়েছে। কেন্দ্রের দাবি, এর ফলে গ্রামীণ পরিবারের আয় বৃদ্ধি, কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য পূরণ হবে। পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর এই প্রথম বড় আর্থিক বরাদ্দকে ঘিরে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আগামী দিনে প্রকল্পের বাস্তবায়ন, শ্রমিকদের সময়মতো মজুরি প্রদান এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখার বিষয়গুলিই সবচেয়ে বেশি নজরে থাকবে।

  • Defence Acquisition Council: স্থল, নৌ ও বায়ুসেনার জন্য মেগা ঘোষণা কেন্দ্রের, ৫২ হাজার কোটি টাকার প্রতিরক্ষা কেনাকাটায় সবুজ সংকেত

    Defence Acquisition Council: স্থল, নৌ ও বায়ুসেনার জন্য মেগা ঘোষণা কেন্দ্রের, ৫২ হাজার কোটি টাকার প্রতিরক্ষা কেনাকাটায় সবুজ সংকেত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের সশস্ত্র বাহিনীর যুদ্ধক্ষমতা এবং অপারেশনাল প্রস্তুতি আরও শক্তিশালী করতে বড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্র। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের নেতৃত্বাধীন ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল বা সংক্ষেপে ডিএসি (DAC) প্রায় ৫২ হাজার কোটি টাকার অত্যাধুনিক অস্ত্র, গোলাবারুদ ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনার একাধিক প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। এই অনুমোদনের আওতায় ভারতীয় সামরিক বাহিনীর তিন বাহু— স্থল, নৌ এবং বায়ুসেনার জন্য উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, অ্যান্টি-ড্রোন প্রযুক্তি, কামিকাজে ড্রোন, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, নজরদারি প্ল্যাটফর্ম এবং নৌ-যুদ্ধ সক্ষমতা বৃদ্ধির একাধিক প্রকল্প রয়েছে। ডিএসি-র অনুমোদন মূলত ক্রয় প্রক্রিয়ার প্রথম প্রশাসনিক ধাপ। এরপর ধাপে ধাপে টেন্ডার ও চুক্তি সম্পন্ন হবে।

    সেনাবাহিনীর জন্য অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম, ক্ষেপণাস্ত্র ও কামিকাজে ড্রোন

    ভারতীয় সেনার জন্য অনুমোদিত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলির মধ্যে রয়েছে—

    • ● ‘আকাশ তরঙ্গ’ (Akash Tarang) অ্যান্টি-UAV ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম
    • ● ম্যান-পোর্টেবল অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক গাইডেড মিসাইল (MPATGM)
    • ● মিডিয়াম-রেঞ্জ সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল (MRSAM)
    • ● ভেরি শর্ট-রেঞ্জ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম (V-SHORADS)
    • ● ট্যাঙ্কের জন্য অ্যাক্টিভ প্রোটেকশন সিস্টেম
    • ● জেটচালিত কামিকাজে ড্রোন

    স্থলসেনার শক্তিবৃদ্ধিতে ‘আকাশ তরঙ্গ’

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মতে, ‘আকাশ তরঙ্গ’ শত্রুপক্ষের ড্রোন ও অন্যান্য মানববিহীন আকাশযান মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা নেবে। সাম্প্রতিক যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোনের ব্যবহার দ্রুত বাড়তে থাকায় এই প্রযুক্তির গুরুত্বও বহুগুণ বেড়েছে। অন্যদিকে, দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ‘ম্যান-পোর্টেবল এটিজিএম’ শত্রুপক্ষের ট্যাঙ্ক ও সাঁজোয়া বাহিনীর বিরুদ্ধে ভারতীয় পদাতিক বাহিনীর আক্রমণক্ষমতা বাড়াবে। ‘এমআরস্যাম’ ভারতের বহুস্তরীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে এবং দূরপাল্লার আকাশ হামলা বা স্ট্যান্ড-অফ অস্ত্রের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেবে।

    ‘ভি-শোরাডস্’-এর প্রয়োজনীয়তা

    এছাড়া ‘ভি-শোরাডস্’-এ মাল্টি-স্পেকট্রাল সেন্সিং প্রযুক্তি থাকায় এটি শত্রুর ইলেকট্রনিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাকেও কার্যকরভাবে মোকাবিলা করতে পারবে। ট্যাঙ্কের জন্য অনুমোদিত অ্যাক্টিভ প্রোটেকশন সিস্টেম শত্রুর অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক ক্ষেপণাস্ত্র বা অন্যান্য আক্রমণকারী অস্ত্রকে লক্ষ্যভেদ করার আগেই শনাক্ত করে ধ্বংস করার সক্ষমতা দেবে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সংযোজন হিসেবে রয়েছে জেটচালিত কামিকাজে ড্রোন, যা নির্ভুল লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। একই সঙ্গে উন্নত ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার ক্ষমতা, বেশি টিকে থাকার সক্ষমতা এবং তুলনামূলক কম খরচে আক্রমণ পরিচালনার সুবিধাও মিলবে।

    নৌবাহিনীর নজরদারি ও মাইন ওয়ারফেয়ার আরও শক্তিশালী

    • ● ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য ডিএসি অনুমোদন দিয়েছে—
    • ● মাল্টি-ইনফ্লুয়েন্স গ্রাউন্ড মাইন (MIGM)
    • ● নেভাল শিপবোর্ন আনম্যানড এরিয়াল সিস্টেম (NSUAS)
    • ● ইলেকট্রিক প্রোপালশন প্রযুক্তির জন্য ল্যান্ড-বেসড টেস্টিং ফ্যাসিলিটি (LBTF)

    সামুদ্রিক নজরদারি বৃদ্ধি

    এমআইজিএম ব্যবস্থার মাধ্যমে কৌশলগত সমুদ্র অঞ্চলে শত্রুপক্ষের যুদ্ধজাহাজের চলাচল ও মোতায়েন সীমিত করা সম্ভব হবে। অন্যদিকে, অত্যাধুনিক সেন্সরযুক্ত ‘নেভাল ইউএএস’ নৌবাহিনীর সামুদ্রিক নজরদারি ও মেরিটাইম ডোমেন অ্যাওয়ারনেস আরও বাড়াবে। এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে রিয়েল-টাইম নজরদারি সহজ হবে। নতুন ল্যান্ড-বেসড টেস্টিং ফ্যাসিলিটি ভবিষ্যতের বৈদ্যুতিক প্রপালশন প্রযুক্তি পরীক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে এবং পরবর্তী প্রজন্মের যুদ্ধজাহাজ তৈরিতে সহায়ক হবে।

    বায়ুসেনার জন্য উচ্চ-উচ্চতায় দীর্ঘক্ষণ নজরদারি প্ল্যাটফর্ম

    ভারতীয় বায়ুসেনার জন্য অনুমোদিত হয়েছে ‘ফিক্সড-উইং হাই অল্টিটিউড পসুডো স্যাটেলাইট’ (FW-HAPS)। এই প্ল্যাটফর্ম দীর্ঘ সময় ধরে অত্যন্ত উচ্চতায় অবস্থান করে ইন্টেলিজেন্স, সার্ভেল্যান্স এবং রিকনাইস্যান্স (ISR) পরিচালনা করতে সক্ষম। পাশাপাশি টেলিকমিউনিকেশন ও রিমোট সেন্সিংয়ের কাজেও এটি ব্যবহার করা যাবে। ফলে বিস্তীর্ণ এলাকা দীর্ঘ সময় ধরে পর্যবেক্ষণের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

    আত্মনির্ভর ভারতের লক্ষ্যেই জোর আধুনিকীকরণে

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মতে, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং দ্রুত বদলে যাওয়া যুদ্ধ প্রযুক্তির প্রেক্ষাপটে ভারতীয় সেনাবাহিনীকে আরও আধুনিক করে তোলাই এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য। ড্রোন, স্বয়ংক্রিয় যুদ্ধ ব্যবস্থা, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার এবং উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ‘আত্মনির্ভর ভারত’ কর্মসূচির আওতায় দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদনকে উৎসাহ দেওয়া এবং বিদেশি আমদানির উপর নির্ভরতা কমানোর দিকেও জোর দিচ্ছে কেন্দ্র। ডিএসি-র নীতিগত অনুমোদনের পর এবার এই সমস্ত প্রকল্প ক্রয় প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপে যাবে। প্রয়োজনীয় মূল্যায়ন ও টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষর করা হবে।

  • Ishaq Dar Grandson Arrested: পাক উপপ্রধানমন্ত্রী ইশাক দারের নাতি গ্রেফতার! দুই বিদেশিনীকে অপহরণ, গণধর্ষণ ও ১৫ লক্ষ ডলার মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ

    Ishaq Dar Grandson Arrested: পাক উপপ্রধানমন্ত্রী ইশাক দারের নাতি গ্রেফতার! দুই বিদেশিনীকে অপহরণ, গণধর্ষণ ও ১৫ লক্ষ ডলার মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও বিদেশমন্ত্রী ইশাক দারের নাতি মুহাম্মদ রেজা দারকে গ্রেফতার করেছে লাহোর পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, আরও চার সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে দুই বিদেশি নারীকে অপহরণ, গণধর্ষণ, শারীরিক নির্যাতন এবং ১৫ লক্ষ মার্কিন ডলার মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

    কী অভিযোগ উঠেছে?

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২৯ জুন লাহোরে নেদারল্যান্ডস এবং ভেনেজুয়েলার দুই তরুণীকে অপহরণ করা হয়। অভিযোগ, অভিযুক্তরা তাঁদের একটি বাড়িতে আটকে রেখে একাধিকবার যৌন নির্যাতন করে। শুধু তাই নয়, তাঁদের ওপর নির্মম শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় এবং মুক্তির জন্য ১৫ লক্ষ মার্কিন ডলার দাবি করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, টাকা না দিলে দুই নারীকে হত্যা করা হবে এবং তাঁদের শরীরের অঙ্গ বিক্রি করে দেওয়ারও হুমকি দেওয়া হয়।

    কীভাবে উদ্ধার হলেন দুই বিদেশিনী?

    পুলিশের দাবি, বন্দিদশায় থাকা অবস্থায় এক নারী কোনওভাবে তাঁর বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করতে সক্ষম হন। ওই ব্যক্তি নেদারল্যান্ডস থেকে জরুরি ভিত্তিতে লাহোর পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে দুই বিদেশিনীকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়ার পর নির্যাতিতারা অভিযোগ করেন, লাহোরে পৌঁছানোর পরই রেজা দার ও তাঁর সহযোগীরা তাঁদের অপহরণ করে একটি বাড়িতে নিয়ে যায়, যেখানে তাঁদের ওপর গণধর্ষণ চালানো হয় এবং মুক্তিপণ দাবি করা হয়।

    গ্রেফতার চার, পলাতক এক

    এই ঘটনায় লাহোর পুলিশ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। অভিযুক্তদের মধ্যে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁরা হলেন— মহম্মদ রেজা দার, হাসান রেজা, সিকান্দার খান, ও সাজিদ আলি। অন্য এক অভিযুক্ত এখনও পলাতক। তাকে ধরতে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে। আদালত ধৃত চার অভিযুক্তকে পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠিয়েছে।

    কীভাবে পরিচয় হয়েছিল?

    নির্যাতিতাদের বয়ান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে সিঙ্গাপুরে তাঁদের সঙ্গে রেজা দারের পরিচয় হয়। তাঁরা একটি ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবসায়িক উদ্যোগে অংশীদার ছিলেন। পরে রেজা দার তাঁদের পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণ জানান। সেই আমন্ত্রণেই তাঁরা লাহোরে যান বলে অভিযোগ।

    গোপনে ভিডিও করে ব্ল্যাকমেলের অভিযোগ

    দুই বিদেশিনী আরও অভিযোগ করেছেন, নির্যাতনের সময় তাঁদের গোপনে ভিডিও করা হয়। পরে সেই ভিডিও প্রকাশের হুমকি দিয়ে তাঁদের ব্ল্যাকমেল করা হচ্ছিল। আদালত সূত্রের দাবি, ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে অভিযুক্তদের হাজির করা হলে নির্যাতিতারা সরাসরি রেজা দারকেই এই ঘটনার মূল অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করেন।

    সংবেদনশীল মামলায় পুলিশের বক্তব্য

    এক পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, যেহেতু পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ইশাক দারের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় এই মামলায় অভিযুক্ত, তাই বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে তদন্ত চালানো হচ্ছে।

    নাটকীয় মোড়, থানার ওসি-সহ তিন পুলিশকর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

    এদিকে, ঘটনার একদিন পর মামলাটি নতুন মোড় নেয়। অভিযোগ, এই মামলার তদন্ত ও প্রাথমিক এফআইআর নথিভুক্ত করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে লাহোরের ডিফেন্স সি থানার স্টেশন হাউস অফিসার (এসএইচও) ফারিয়াদ আশরাফ-কে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, তাঁকে আরও দুই পুলিশকর্মীর সঙ্গে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমের দাবি, এই পদক্ষেপের নির্দেশ পাঞ্জাব পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেলের দফতর থেকে জারি করা হয় এবং এর পেছনে পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজের কার্যালয়ের নির্দেশও ছিল বলে প্রশাসনিক সূত্রের দাবি। তবে এই পুলিশি পদক্ষেপের কারণ সম্পর্কে এখনও সরকারিভাবে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। ফলে ঘটনাটি ঘিরে পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

  • Suvendu at Uttarkanya: আসতে হবে না কলকাতায়! উত্তরবঙ্গেই মিলবে সরকারি পরিষেবা, উত্তরকন্যায় নতুন যুগ্ম সচিব, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর

    Suvendu at Uttarkanya: আসতে হবে না কলকাতায়! উত্তরবঙ্গেই মিলবে সরকারি পরিষেবা, উত্তরকন্যায় নতুন যুগ্ম সচিব, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উত্তরবঙ্গকে প্রশাসনিকভাবে আরও শক্তিশালী ও স্বনির্ভর করে তোলার লক্ষ্যে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার উত্তরকন্যায় দীর্ঘ প্রশাসনিক বৈঠকে তিনি যেমন পূর্বতন তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে উত্তরবঙ্গকে বঞ্চিত করার অভিযোগ তুলেছেন, তেমনই বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে প্রশাসনিক পরিকাঠামো, স্বাস্থ্য, বিমান পরিষেবা, কর্মসংস্থান এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের বার্তাও দিয়েছেন। প্রায় তিন ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা এই বৈঠকে প্রশাসনিক আধিকারিক, বিভিন্ন দফতরের প্রতিনিধি এবং উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলার সঙ্গে ভার্চুয়াল সংযোগে বিস্তৃত পর্যালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠকের পর উত্তরবঙ্গের জন্য একাধিক নতুন সিদ্ধান্তের কথা সামনে আসে।

    উত্তরকন্যা নিয়ে ক্ষোভ, কলকাতা নির্ভরতা কমানোর নির্দেশ

    বৈঠকের শুরুতেই উত্তরকন্যার বর্তমান কার্যকারিতা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, উত্তরবঙ্গের মানুষকে যাতে ছোটখাটো প্রশাসনিক কাজের জন্য কলকাতায় ছুটতে না হয়, সেই লক্ষ্যেই উত্তরকন্যা গড়ে তোলা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে সেখানে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতর (NBDD) ছাড়া কার্যত অন্য কোনও গুরুত্বপূর্ণ দফতরের উপস্থিতি নেই। এই পরিস্থিতি বদলাতে তিনি মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়ালের কাছে জানতে চান, বর্তমানে কোন কোন দফতরের আধিকারিক উত্তরকন্যায় বসেন এবং সাধারণ মানুষ কী ধরনের পরিষেবা পান। একইসঙ্গে নির্দেশ দেন, গুরুত্বপূর্ণ দফতরগুলির যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার আধিকারিকদের দ্রুত উত্তরকন্যায় নিয়োগ করতে হবে, যাতে উত্তরবঙ্গের বাসিন্দাদের প্রশাসনিক কাজে আর কলকাতা যেতে না হয়।

    উত্তরকন্যায় চালু হবে পাবলিক গ্রিভ্যান্স সেল

    উত্তরবঙ্গের মানুষের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য উত্তরকন্যায় একটি পাবলিক গ্রিভ্যান্স সেল চালুরও নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। এই সেলের মাধ্যমে উত্তরবঙ্গের আটটি জেলার সাধারণ মানুষ সরাসরি নিজেদের সমস্যা ও অভিযোগ জানাতে পারবেন। প্রশাসনিক বৈঠক শেষে পর্যটন ও পরিষদীয় মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ জানান, খুব শিগগিরই যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার আধিকারিকদের নিয়োগের পাশাপাশি গ্রিভ্যান্স সেল চালুর কাজও শুরু হবে।

    প্রশাসনের গড়হাজিরা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ

    প্রশাসনিক বৈঠকে জনপ্রতিনিধিদের একাংশের ভূমিকা নিয়েও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, উত্তরবঙ্গের প্রায় ৮০ শতাংশ গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি, জেলা পরিষদ, পুরসভা এবং জিটিএ-র বহু জনপ্রতিনিধি নিয়মিত অফিস করছেন না। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, সরকার সপ্তাহে পাঁচ দিন নয়, ২৪ ঘণ্টা, সপ্তাহে সাত দিন কাজ করে। কোনও জনপ্রতিনিধির অনুপস্থিতির কারণে সরকারি পরিষেবা ব্যাহত হওয়া চলবে না। যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে অফিসে অনুপস্থিত বা কার্যত পলাতক, তাঁদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে শোকজ নোটিস জারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া বার্তা

    দুর্নীতি এবং কাটমানি প্রসঙ্গেও এদিন কঠোর অবস্থান নেন মুখ্যমন্ত্রী। পঞ্চায়েত, পুরসভা, কর্পোরেশন এবং জিটিএ-র দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যারা চুরি-চামারি করেছেন, তাঁরা থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করুন। তিনি আরও বলেন, যদি কাটমানির টাকা ফেরত দেওয়ার ভয়ে এলাকায় ফিরতে না পারেন, তবে প্রয়োজন হলে পদত্যাগ করুন। কিন্তু দায়িত্বে থেকে জনগণের কাজ ফেলে রেখে আত্মগোপন করা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

    উত্তরবঙ্গের উন্নয়নে বরাদ্দ দ্বিগুণ

    বৈঠকে উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন সংক্রান্ত একাধিক বড় ঘোষণাও করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, পূর্ববর্তী সরকার উত্তরবঙ্গকে যথাযথ গুরুত্ব দেয়নি। বর্তমান সরকার সেই পরিস্থিতি বদলাতে বদ্ধপরিকর। তিনি জানান—

    • ● উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরের বাজেট ১,০০০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ২,০০০ কোটি টাকা করা হয়েছে।
    • ● জিটিএ-র বরাদ্দ ১৮০ কোটি থেকে বাড়িয়ে ৩৬০ কোটি টাকা করা হয়েছে।
    • ● উত্তরবঙ্গে একটি এমস্, ক্যান্সার হাসপাতাল এবং কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার ও বালুরঘাটে নতুন মেডিক্যাল কলেজ গড়ে তোলার কাজ চলছে।
    • ● হাসিমারা সেনা এয়ারপোর্টকে বাণিজ্যিক বিমানবন্দর হিসেবে গড়ে তুলতে অতিরিক্ত জমি দেওয়া হচ্ছে।
    • ● মালদা ও বালুরঘাট বিমানবন্দর চালু করা এবং কোচবিহার বিমানবন্দর আধুনিকীকরণের পরিকল্পনাও ঘোষণা করা হয়েছে।

    মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, উত্তরবঙ্গের প্রতিনিধিত্ব বাড়াতেই বর্তমান সরকার এই অঞ্চল থেকে ১০ জন মন্ত্রীকে দায়িত্ব দিয়েছে, যার মধ্যে একাধিক ক্যাবিনেট মন্ত্রী রয়েছেন।

    কর্মসংস্থানে নতুন প্রকল্প

    উত্তরবঙ্গের পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য চালু হওয়া ‘বিকশিত ভারত জিরামজি’ প্রকল্প নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, এই প্রকল্পে বছরে ১২৫ দিনের কর্মসংস্থানের সুযোগ থাকবে। মজুরি নির্ধারণ করা হয়েছে—

    • ● অদক্ষ শ্রমিক: প্রতিদিন ৩০০ টাকা
    • ● আধা-দক্ষ শ্রমিক: প্রতিদিন ৪৫০ টাকা
    • ● দক্ষ শ্রমিক: প্রতিদিন ৬০০ টাকা

    এই প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য পঞ্চায়েত স্তরে ইঞ্জিনিয়ারিং সেল সক্রিয় করা এবং গ্রাম সংসদের মাধ্যমে প্রকল্প নির্বাচন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারের দাবি, প্রায় ২ কোটি ৫৬ লক্ষ জবকার্ডধারী এই প্রকল্পের আওতায় উপকৃত হতে পারেন।

    লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে নতুন নিয়মের ইঙ্গিত

    মহিলাদের আর্থিক সহায়তা প্রকল্প নিয়েও এদিন বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, ইতিমধ্যেই প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ মহিলা সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে অর্থ পেয়েছেন। যদিও পোর্টালে তথ্য আপলোডে ত্রুটির কারণে প্রায় ২৬ হাজার আবেদন আপাতত আটকে রয়েছে। একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দেন, নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে এই প্রকল্পের সুবিধা দেওয়া হবে না। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অভারতীয় ব্যক্তি, নির্দিষ্ট শর্তভঙ্গকারী আবেদনকারী এবং সরকারের নির্ধারিত কিছু মানদণ্ড পূরণ না করলে সংশ্লিষ্টরা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না।

    বর্ষা মোকাবিলায় পাহাড়ে অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মী

    বর্ষাকালে পাহাড়ি এলাকায় সম্ভাব্য প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ জানান, পাহাড়ি এলাকায় ৫০ জন অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মীকে মোতায়েন করা হবে। ভূমিধস, বন্যা বা অন্য কোনও দুর্যোগ দেখা দিলে তাঁরা দ্রুত উদ্ধারকাজে অংশ নেবেন। এছাড়া মুখ্যমন্ত্রী নিজেও প্রতি ১৫ দিনে অন্তত একবার শিলিগুড়ি সফর করে উত্তরবঙ্গের উন্নয়নমূলক কাজ পর্যালোচনা করবেন বলে জানানো হয়েছে।

    ময়নাগুড়ি বাস দুর্ঘটনায় মৃতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ

    প্রশাসনিক বৈঠকের পাশাপাশি উত্তরকন্যায় ২১ জুন ময়নাগুড়িতে ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনায় নিহত ছয়জনের পরিবারের হাতে ক্ষতিপূরণের চেক তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী। স্বজনহারাদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, এই ক্ষতি কোনওভাবেই পূরণ করা সম্ভব নয়। তবে রাজ্য সরকার প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।

    উত্তরবঙ্গকে কেন্দ্র করে সরকারের নতুন রোডম্যাপ

    সামগ্রিকভাবে এদিনের প্রশাসনিক বৈঠক থেকে স্পষ্ট হয়েছে যে উত্তরবঙ্গকে আলাদা প্রশাসনিক গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সরকারি পরিষেবা বিকেন্দ্রীকরণ, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং অবকাঠামো উন্নয়ন—এই পাঁচটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দিচ্ছে রাজ্য সরকার। প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য, বিমান পরিষেবা, দুর্যোগ মোকাবিলা, কর্মসংস্থান এবং জনপরিষেবা—সব ক্ষেত্রেই উত্তরবঙ্গকে নতুন করে গড়ে তোলার বার্তাই তুলে ধরেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

  • Nabanna: পেনশনভোগীদের জন্য বড় সুখবর! চলতি মাসেই ২০০৮-২০১৫ সালের বকেয়ার ৫০% মেটাবে রাজ্য সরকার

    Nabanna: পেনশনভোগীদের জন্য বড় সুখবর! চলতি মাসেই ২০০৮-২০১৫ সালের বকেয়ার ৫০% মেটাবে রাজ্য সরকার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ডিএ সংক্রান্ত পদক্ষেপের পর এবার রাজ্য সরকারের অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের জন্য এল আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা পেনশনের এরিয়ার (Arrear) মেটাতে বড় পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছে রাজ্য সরকার। প্রাথমিকভাবে ২০০৮ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত সাত বছরের বকেয়া অর্থের আনুমানিক হিসেব করে তার ৫০ শতাংশ পরিশোধ করা হবে। পরবর্তী সময়ে ধাপে ধাপে সম্পূর্ণ বকেয়া মিটিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

    নবান্নর ঘোষণা…

    শুক্রবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর মুখ্য উপদেষ্টা সুব্রত গুপ্ত এবং অর্থদপ্তরের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকের পর এই তথ্য জানান সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ। দীর্ঘদিন ধরে সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের বকেয়া সংক্রান্ত আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ভাস্কর ঘোষের এই বক্তব্য সামনে আসতেই অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মীদের মধ্যে আশাবাদের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

    পেনশনভোগীদের পাশাপাশি আরও বহু কর্মী উপকৃত হতে পারেন

    ভাস্কর ঘোষ জানান, শুধু অবসরপ্রাপ্ত কর্মীরাই নন, শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী, পঞ্চায়েত ও পুরসভার কর্মী, বিভিন্ন বোর্ড ও কর্পোরেশনের কর্মচারী, কলকাতার বিভিন্ন ব্যাঙ্কের মাধ্যমে পেনশনপ্রাপক, ওয়ার্ক চার্জ কর্মী এবং হোমগার্ডদের বকেয়া সংক্রান্ত বিষয়ও আলোচনায় উঠে এসেছে। পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের আর্থিক দাবি ও অন্যান্য সমস্যার সমাধানের দিকেও সরকার ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

    কেন দেরি হচ্ছে বকেয়া মেটাতে?

    বৈঠকে সরকারি আধিকারিকরা জানিয়েছেন, পুরনো তথ্য সংগ্রহ ও যাচাইয়ের ক্ষেত্রে কিছু প্রশাসনিক জটিলতার কারণে প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ হয়ে উঠেছে। ভাস্কর ঘোষের বক্তব্য অনুযায়ী, আইএসএমওএস (ISMOS) পোর্টালে যাঁদের বেতন সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষিত রয়েছে, তাঁদের অনেকের এমপ্লয়ি আইডি বিভিন্ন সময়ে পরিবর্তিত হয়েছে বলে সরকারি দফতরের দাবি। এছাড়া ২০১৫ সালের আগে ব্যাঙ্কগুলিতে ডিজিটাল তথ্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় পুরনো নথি সংগ্রহ করতেও সময় লাগছে। এই সমস্যা কাটাতে নতুন পোর্টালের মাধ্যমে তথ্য একত্রিত করার কাজ চলছে। তবে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে প্রয়োজনীয় নথি জমা দিয়ে জানানো হয়েছে যে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কর্মীদের মূল পরিচয় অপরিবর্তিত রয়েছে। ফলে দ্রুত যাচাই শেষ করে বকেয়া মেটানোর প্রক্রিয়া শুরু করার দাবি জানানো হয়েছে।

    কবে মিলবে ৫০ শতাংশ এরিয়ার?

    এখনও পর্যন্ত সরকার কোনও নির্দিষ্ট দিনক্ষণ ঘোষণা করেনি। তবে বৈঠকে উপস্থিত প্রতিনিধিদের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে, এরিয়রের ৫০ শতাংশ টাকা চলতি মাসেই মিটিয়ে দেবে রাজ্য সরকার। জানা গিয়েছে, প্রক্রিয়া শেষ হলে চলতি মাসেই সম্ভবত প্রথম ধাপে ২০০৮-২০১৫ সময়কালের আনুমানিক বকেয়ার ৫০ শতাংশ প্রদান করা হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে বাকি অর্থও পরিশোধ করা হবে।

    সরকারের পদক্ষেপকে স্বাগত সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের

    বৈঠকের পর ভাস্কর ঘোষ জানান, সরকারি কর্মীদের দীর্ঘদিনের দাবি নিয়ে সরকারের সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমান প্রশাসন সরকারি কর্মীদের মতামত ও ফিডব্যাককে গুরুত্ব দিচ্ছে, যা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। তাঁর কথায়, কোনও কর্মী যেমন প্রাপ্যের বাইরে অতিরিক্ত অর্থ চান না, তেমনই আইনসঙ্গত ও ন্যায্য প্রাপ্য থেকেও কেউ যেন বঞ্চিত না হন, সেই বিষয়টিই তাঁদের মূল দাবি। সরকারের সাম্প্রতিক উদ্যোগ সেই লক্ষ্য পূরণের দিকেই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

LinkedIn
Share