Author: Susanta Das

  • Independence Day 2025: স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করবেন ভাবছেন, সঠিক নিয়ম জানেন তো?

    Independence Day 2025: স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করবেন ভাবছেন, সঠিক নিয়ম জানেন তো?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাত পোহালেই স্বাধীনতা দিবস (Independence Day)। ২০২৫ সালে ভারত তার ৭৯তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করতে চলেছে। বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকেই উদযাপন শুরু হবে দেশজুড়ে। শুক্রবার, সকাল থেকে চলবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন সহ বিভিন্ন দেশাত্মবোধক কর্মসূচি পালন। স্বাধীনতা দিবস মানে অনুষ্ঠান-উৎসব, নাচ-গানের মাধ্যমে দেশের বীর যোদ্ধাদের স্মরণ করা। দেশাত্মবোধ ও জাতীয়তাবাদের এক আলাদা পরিবেশ দেখা যায় শহক থেকে প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে প্রান্তিক জনপদগুলিতেও। বাড়ি থেকে ক্লাব, সর্বত্র দেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন নাগরিকরা। বিগত কয়েক বছর ধরে কেন্দ্রীয় সরকারও ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ কর্মসূচি নিয়েছে, যার মাধ্যমে নাগরিকদের কাছে খোদ প্রধানমন্ত্রী আহ্বান জানিয়েছেন পতাকা উত্তোলন করার।

    দ্য ব্যুরো অফ ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্স এবং দ্য ফ্ল্যাগ কোড অফ ইন্ডিয়ার নির্দেশিকা

    পতাকা উত্তোলন (Independence Day) তো সর্বত্রই হবে, কিন্তু জাতীয় পতাকা উত্তোলন করার সময় কী করা যাবে আর কী করা যাবে না, রয়েছে সেই ব্যাপারে কয়েকটি নিয়মাবলি ও নির্দেশিকাও (National Flag Hoisting Rules)। দ্য ব্যুরো অফ ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্স এবং দ্য ফ্ল্যাগ কোড অফ ইন্ডিয়া বেশ কিছু নিয়মাবলী বেঁধে দিয়েছে এবিষয়ে। এই দুই বিধিতেই শ্রদ্ধা ও মর্যাদার সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের কথা বলা হয়েছে। এমন ভাবে তা তুলতে হবে যেন তা কোনওভাবেই মাটিতে স্পর্শ না করে বা কখনও জাতীয় পতাকাকে কেউ যেন পোশাক হিসেবে ব্যবহার না করেন।

    কী কী করতে হবে?

    – ফ্ল্যাগ কোড অফ ইন্ডিয়ার (Independence Day) ২ নং ধারা অনুযায়ী, প্রত্যেক স্বাধীন নাগরিকের অধিকার রয়েছে তাঁর বাড়ি, ব্যবসায়িক জায়গায় অথবা কর্মস্থানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করার।

    – যে কোনও সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও প্রতিদিন জাতীয় পতাকা উত্তোলন করতে পারে।

    – জাতীয় পতাকা উত্তোলন করার সময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে ছাত্রদের শপথ বাক্য পাঠ করানোরও কথা বলা হয়েছে।

    – জাতীয় পতাকা উত্তোলন করার সময় মনে রাখতে হবে যে এই পতাকা আমাদের দেশের গর্ব ও মর্যাদার প্রতীক।

    – জাতীয় পতাকা কোনওভাবেই উল্টো করে উত্তোলন করা যাবে না, সর্বদাই গেরুয়া অংশ ওপরে থাকবে এবং সবুজ অংশ নীচে থাকবে।

    – জাতীয় পতাকা উত্তোলন করার সময় অথবা নামিয়ে নেওয়ার সময় সর্বদাই স্যালুট করতে হবে।

    – জাতীয় পতাকা সর্বোচ্চ স্থানে থাকবে।

    কী কী করা যাবে না (National Flag Hoisting Rules)

    – কোনও সাম্প্রদায়িক উদ্দেশ্যে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা যাবে না, কাপড় হিসেবে জাতীয় পতাকাকে ব্যবহার করা যাবে না। টেবিল ক্লথ, রুমাল হিসেবেও ব্যবহার করা যাবে না।

    – সূর্যাস্তের পরে তিরঙ্গা নামিয়ে নিতে হবে।

    – জাতীয় পতাকার প্রতি কোনও অবস্থাতেই অসম্মান প্রদর্শন করা যাবে না, এতে পা দেওয়া যাবে না, ইচ্ছাকৃতভাবে মাটিতে বা মেঝেতে স্পর্শ করানো যাবে না।

    – ফুল-মালা বা অন্য কোন বস্তু জাতীয় পতাকার ওপরে রাখা যাবে না।

    – জাতীয় পতাকা ফেস্টুন হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।

    – নষ্ট হয়ে যাওয়া জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা যাবে না।

    – জাতীয় পতাকার ওপর কোনও ধরনের স্লোগান বা নকশা আঁকা যাবে না।

  • West Bengal Weather Update: বঙ্গোপসাগরে দানা বেঁধেছে নিম্নচাপ, দক্ষিণবঙ্গের ১৫ জেলায় জারি হলুদ সতর্কতা

    West Bengal Weather Update: বঙ্গোপসাগরে দানা বেঁধেছে নিম্নচাপ, দক্ষিণবঙ্গের ১৫ জেলায় জারি হলুদ সতর্কতা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বঙ্গোপসাগরে দানা বেঁধেছে নিম্নচাপ। তার জেরে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের সব জেলাতেই হচ্ছে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই আকাশের মুখ ভার। কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় হচ্ছে বিক্ষিপ্ত মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি। এই পরিস্থিতিতে, আগামী কয়েকদিনের পূর্বাভাস (West Bengal Weather Update) জানাল আলিপুর আবহওয়া দফতর।

    প্রচুর জলীয় বাষ্প ঢুকছে বাংলায়, তাতেই বৃষ্টি

    বঙ্গোপাসাগরে নিম্নচাপ তৈরি হবে সেই পূর্বাভাস আগেই দিয়েছিল আলিপুর আবহাওয়া অফিস। সেই পূর্বাভাস মিলে গেছে। আলিপুর আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ তৈরি হয়েছে। এরপর সেটি শক্তি বাড়িয়ে সুস্পষ্ট নিম্নচাপে পরিণত হবে। আগামী দু’দিনের মধ্যে উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ এবং দক্ষিণ ওড়িশা উপকূলের স্থলভাগে প্রবেশ করবে এটি। এর সরাসরি প্রভাব বাংলায় না পড়লেও, প্রচুর জলীয় বাষ্প ঢুকছে বাংলায়। তার জেরেই আগামী কয়েকদিন বৃষ্টি হবে (Rain Alert)।

    দক্ষিণবঙ্গের ১৫টি জেলায় হলুদ সতর্কতা

    আলিপুর আবহাওয়া অফিসের রিপোর্ট অনুয়ায়ী, আগামী ২৪ ঘণ্টা হলুদ সতর্কতা জারি হয়েছে দক্ষিণবঙ্গের ১৫টি জেলায়। সেগুলি হল— কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, দুই ২৪ পরগনা, দুই মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, দুই বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া। বৃহস্পতিবার দক্ষিণের সব জেলায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি ও শুক্রবার উপকূল ও পশ্চিমের জেলায় বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে হাওয়া অফিস। শুক্রবার উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামের কিছু অংশে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা। সঙ্গে ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার গতিবেগে দমকা ঝোড়ো বাতাস বইবে। তবে সপ্তাহান্তে দক্ষিণবঙ্গে হলুদ সতর্কতা জারি থাকলেও, তা সীমাবদ্ধ রয়েছে কেবল ৭ জেলায়।

    উত্তরের ৫ জেলায় হলুদ সতর্কতা

    অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গের উপরের ৫ জেলায় আগামী ৫ দিন হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহারে ভারী বর্ষণের আশঙ্কা রয়েছে। যেখানে ৭০ থেকে ২০০ মিলিমিটার পর্যন্ত ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর ও মালদায় হলুদ সতর্কতা রয়েছে।

  • Janmashtami 2025: ১৫ না ১৬ তারিখ, এ বছর ঠিক কবে পড়েছে জন্মাষ্টমী? কী বলছে পঞ্জিকা?

    Janmashtami 2025: ১৫ না ১৬ তারিখ, এ বছর ঠিক কবে পড়েছে জন্মাষ্টমী? কী বলছে পঞ্জিকা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হিন্দু ধর্মে পালিত উৎসবগুলির মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হল জন্মাষ্টমী। শ্রীকৃষ্ণের জন্ম তিথিতেই দেশজুড়ে পালন করা হয় জন্মাষ্টমী (Janmashtami)। এটি হিন্দু ধর্মের কাছে খুবই পূণ্যের তিথি। এই শুভ তিথিতে শ্রীবিষ্ণুর অষ্টম অবতার হিসাবে শ্রীকৃষ্ণকে পুজো করা হয়। বাসুদেব ও দেবকীর অষ্টম সন্তান এবং বিষ্ণুর অষ্টম অবতার কৃষ্ণ কংসের কারাগৃহে জন্ম হয়। ভাদ্রপদ মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে (Janmashtami 2025 Tithi) ও রোহিণী নক্ষত্রে শ্রীকৃষ্ণের জন্ম হয়েছিল। প্রতি বছর এই তিথিতে কৃষ্ণের ছোটবেলার রূপ, ননীগোপালের পুজো করা হয়। জন্মাষ্টমীর অপর নাম কৃষ্ণাষ্টমী, গোকুলাষ্টমী, অষ্টমী রোহিণী, শ্রীকৃষ্ণজয়ন্তী। হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী, এ বছরটি শ্রীকৃষ্ণের ৫২৫১তম জন্মদিন।

    কবে কখন পড়ছে তিথি? কী বলছে বিভিন্ন মত?

    চলতি বছর, জন্মাষ্টমী ১৬ অগাস্ট। বিশুদ্ধ সিদ্ধান্তমতে জন্মাষ্টমীর অষ্টমী তিথি আরম্ভ হচ্ছে শুক্রবার ১৫ অগাস্ট। সেদিন রাত ১১টা ৫১ মিনিটে এই তিথি শুরু হবে। আর অষ্টমী তিথি শেষ হবে শনিবার ১৬ অগাস্ট। সেদিন রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে তিথি শেষ হবে। অন্যদিকে, গুপ্তপ্রেস পঞ্জিকামতে শ্রীকৃষ্ণ জন্মাষ্টমীর অষ্টমী তিথি আরম্ভ হচ্ছে, শুক্রবার ১৫ অগাস্ট। সেদিন (গভীর) রাত ১টা ১৬ মিনিট ৯ সেকেন্ডে জন্মাষ্টমীর অষ্টমী তিথি শুরু হবে। অষ্টমী তিথি শেষ হবে শনিবার। পঞ্জিকা বলছে, সেদিন রাত ১০টা ৪৮ মিনিট ৩ সেকেন্ডে অষ্টমী তিথি শেষ হচ্ছে।

    তবে, উপবাস তিথিটি পড়েছে ১৫ থেকে ১৬ অগাস্টের মধ্যে। নিশীথপুজোর সময়টা হল– ১৬ অগাস্ট রাত ১২টা ০১ মিনিট থেকে ১২টা ৪৬ মিনিট। রোহিণী নক্ষত্রে অষ্টমী তিথি শেষ হলে তবেই উপবাসভঙ্গ করার বিধি। ব্রহ্ম মুহূর্ত পড়ছে ভোর ৪টে ২৪ মিনিট থেকে ভোর ৫টা ০৭ মিনিট পর্যন্ত। স্মার্ত ও বৈষ্ণব ঐতিহ্যে জন্মাষ্টমী দুদিন মানা হয়। ইসকন-ই এখন বলতে গেলে বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্বে। তারা ১৬ অগাস্ট দিনটিকেই জন্মাষ্টমীর মূলতিথি হিসেবে ধরছে। অন্যদিকে, ১৫ অগাস্ট স্মার্ত সম্প্রদায় পালন করবে জন্মাষ্টমী। এই সম্প্রদায় রোহিনী নক্ষত্র অনুসারে তাঁদের জন্মাষ্টমী তিথি পালন করে থাকে। এই সম্প্রদায় নিশীথকালকেই অগ্রাধিকার দেয়। অষ্টমীতিথিটা কতক্ষণ থাকছে– এটাই তাঁদের কাছে সব জরুরি। জ্যোতিষশাস্ত্রের গ্রহনক্ষত্র দিন-তিথি অনুযায়ী কখন এই মহাপুণ্যমুহূর্ত আসছে, সেটা দেখেই তারা জন্মাষ্টমী পালন করে।

    ১৭ তারিখ পালিত হবে নন্দোৎসব

    জন্মাষ্টমীর পরের দিন, অর্থাৎ ১৭ অগাস্ট পালিত হবে নন্দোৎসব। এটি ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মোৎসবের আনন্দ উদযাপন করে, যেখানে নন্দ মহারাজ (কৃষ্ণের পালক পিতা) তার পুত্রের জন্ম উপলক্ষে এই উৎসব পালন করেন। নন্দোৎসব, যা নন্দনন্দন উৎসব নামেও পরিচিত, ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের নবমী তিথিতে অনুষ্ঠিত হয়। এদিন, ভক্তরা নন্দ মহারাজ এবং ভগবান শ্রীকৃষ্ণের পুজো করে এবং তাদের প্রতি ভক্তি জানায়। নন্দোৎসব ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মোৎসবের আনন্দ ও উল্লাসের উদযাপন। এই দিনে, ভক্তরা নন্দ মহারাজ এবং শ্রীকৃষ্ণের প্রতি শ্রদ্ধা জানায়। এটি ভক্তদের মধ্যে আনন্দ, প্রেম এবং ভক্তির বার্তা ছড়িয়ে দেয়। এই উৎসবটি বৃন্দাবনের সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই বিশেষ দিনে কৃষ্ণের প্রিয় ভোগ নিবেদন করা হয়। অনেক বাড়িতে জন্মাষ্টমীর থেকেও বেশি বড় করে নন্দোৎসব পালন করা হয়।

  • Parathas: সকালে প্লেটে পরোটা মানেই কি ‘অস্বাস্থ্যকর’? মিথ ভাঙছেন পুষ্টিবিদরা!

    Parathas: সকালে প্লেটে পরোটা মানেই কি ‘অস্বাস্থ্যকর’? মিথ ভাঙছেন পুষ্টিবিদরা!

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    সুস্থ জীবন যাপনের চাবিকাঠি খাবারেই লুকিয়ে রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, দিনভরের কাজের শক্তি সকালের জলখাবারে থাকে। শরীর কতখানি সক্রিয় থাকবে, ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকবে, হৃদরোগ থেকে কিডনির রোগের ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করবে। তাই প্রাতঃরাশে কোন খাবার খাওয়া হবে, সে নিয়ে বাড়তি সতর্কতা জরুরি। তাঁরা জানাচ্ছেন, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং রোগের ঝুঁকি কমাতে অনেকেই ভারতীয় খাবার এড়িয়ে চলেন। ভরসা রাখছেন পশ্চিমী খাবারে। কিন্তু পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, এই ধারণা সবসময় ঠিক হয় না। অনেক সময়েই দেখা যাচ্ছে, একাধিক ভারতীয় খাবারের পুষ্টিগুণ অনেক বেশি। তাই সেগুলো শরীরের জন্য খুবই উপকারি।

    জলখাবারে পরোটায় ভরসায় রাখছেন পুষ্টিবিদরা?

    সকালে স্বাস্থ্যকর খাবার হিসাবে পরোটা শুনে অনেকেই নাক কুঁচকে দেন। তরুণ প্রজন্মের একাংশ ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে, হৃদরোগ, কোলেস্টেরল, ডায়াবেটিসের মতো রোগের ঝুঁকি কমাতে পরোটার মতো খাবার প্রাতঃরাশের মেনুতে রাখতে একেবারেই নারাজ। কিন্তু পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, পরোটাতেই ভরসা রাখছেন।

    পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, ময়দা দিয়ে তৈরি একেবারেই স্বাস্থ্যকর নয়। কিন্তু ভারতীয় খাবারে বৈচিত্র্য অনেক। তাই পরোটাও নানান রকমের হয়। আটা, মিলেট, রাগি, বাজরার মতো একাধিক দানাশস্য দিয়ে পরোটা তৈরি করা যায়। শুধুই দানাশস্যের তৈরি নয়। পরোটার ভিতরে নানান সব্জির পুর দেওয়া যায়। এমনকি মাংস কিংবা পনিরের পুর দিয়েও পরোটা তৈরি করা যায়। তাঁরা জানাচ্ছেন, মিলেট, বাজরা কিংবা রাগির মতো দানাশস্যের সঙ্গে টক দই মিশিয়ে অল্প পরিমাণ বাটারে পরোটা তৈরি করলে শরীরের জন্য খুবই উপকারি হবে। বিশেষত ভিতরে পালং শাক, গাজর, বিনস্, বিট, মাংসের পেস্ট কিংবা পনিরের টুকরোর পুর ঢুকিয়ে দিলে এই পরোটার পুষ্টিগুণ আরও বেড়ে যায়।

    সব্জির পুর ভরা পরোটা খেলে…

    বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এই ধরনের জলখাবারে সপ্তাহে অন্তত তিন থেকে চারদিন খেলে শরীরের জন্য খুবই উপকারি হবে। তাঁরা জানাচ্ছেন, এই ধরনের খাবার থেকে একদিকে শরীর পর্যাপ্ত ফাইবার পাবে। কারণ, মিলেট, বাজরা, রাগির মতো দানাশস্যে থাকে পর্যাপ্ত ফাইবার। এই উপাদান কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখবে, অতিরিক্ত মেদ বাড়তে দেবে না। কোষ্ঠকাঠিন্যের ঝুঁকিও কমাবে। এর ফলে অন্ত্র ভালো থাকবে। সব্জির পুর ভরা পরোটা খেলে ফাইবারের সঙ্গে শরীরে ভিটামিন, আয়রন, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়ামের মতো প্রয়োজনীয় উপাদানের চাহিদা পূরণ হবে। পনীর কিংবা মাংসের টুকরো মেশানো পরোটা থাকলে প্রোটিনের জোগান ও থাকবে। ফলে সারাদিনের প্রয়োজনীয় এনার্জি সহজেই পাওয়া যাবে। এই ধরনের খাবারে স্বল্প পরিমাণ বাটার জাতীয় উপকরণ ব্যবহার করতে হয়। এর ফলে শরীরে ফ্যাটের চাহিদাও পূরণ হবে। আবার বাড়তি মেদ তৈরির ঝুঁকিও থাকবে না।

    তাই জলখাবারে পরোটাতে ভরসা রাখছেন বিশেষজ্ঞ মহল। তবে অবশ্যই অতিরিক্ত তেলে ভাজা ময়দার পরোটা নয়। বরং স্বাস্থ‌কর উপাদানে তৈরি পরোটা। যাতে সকালেই শরীর প্রয়োজনীয় প্রোটিন, ভিটামিন এবং ফাইবারের মতো উপাদান পায়। তাতে সারাদিনের কাজের এনার্জি সহজেই পাওয়া যাবে। আবার একাধিক রোগের ঝুঁকিও কমানো যাবে।

     

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • Death During Exercise: জিমে গেলেও বিপত্তি! শরীর চর্চা কখন বিপজ্জনক হতে পারে?

    Death During Exercise: জিমে গেলেও বিপত্তি! শরীর চর্চা কখন বিপজ্জনক হতে পারে?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    শরীর চর্চাও হয়ে উঠতে পারে বিপজ্জনক। এমনকি প্রাণঘাতী! সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনায় আবার প্রশ্নের মুখে জিমের সময় কাটানো! গত কয়েক সপ্তাহে সেলিব্রেটি থেকে সাধারণ শরীর সচেতন মানুষের জিম করার সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়া এবং মৃত্যুর ঘটনা পরপর প্রকাশ্যে এসেছে। আর তারপরেই জোরালো হচ্ছে প্রশ্ন। জিম নিয়ে নানান ধোঁয়াশাও তৈরি হয়েছে। শরীর চর্চার মাঝেই কি রয়েছে নানান ফাঁদ! এমন প্রশ্ন ও উঠছে। তবে বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, অযথা উদ্বিগ্ন হওয়ার দরকার নেই। বরং সচেতনতা জরুরি। সতর্কতা ও সচেতনতা হাতিয়ার হলেই বড় বিপদ এড়ানো‌ যেতে পারে।

    কখন জিম বিপজ্জনক হতে পারে?

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, জিমে শারীরিক কসরত হয়‌। অধিকাংশ সময় জিম নিয়মিত করলে, ক্যালোরি ক্ষয় হয়। এর পাশপাশি পেশি মজবুত করতেও সাহায্য করে‌। দীর্ঘ সময় ধরে জিম করলে তাই রক্ত সঞ্চালনে এবং স্নায়ুর ওপরে এর প্রভাব পড়ে‌। আর সেখানেই জটিলতা তৈরির আশঙ্কা থাকে।

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, বয়স ও শারীরিক পরিস্থিতি জিম করার আগে জানা জরুরি। তাঁরা জানাচ্ছেন, জটিল হৃদরোগের সমস্যা থাকলে, হাড়ের ক্ষয় রোগ থাকলে কিংবা স্নায়ুর সমস্যা থাকলে দিনের কতখানি জিম করা যাবে সে সম্পর্কে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। তাঁরা জানাচ্ছেন, জিমের একাধিক জিনিস থাকে, নানান পেশি মজবুতবের জন্য, নানান রকমের কসরত করা হয়। কিন্তু হৃদরোগ কিংবা উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা থাকলে কোন ধরনের জিমের কৌশল রপ্ত করা যাবে, আর কোন কৌশল এড়িয়ে যাওয়া যেতে পারে, সে সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকা জরুরি। তবেই বড় বিপদ এড়ানো যেতে পারে।‌ কারণ, চিকিৎসকদের মতে, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ছাড়া জিমে গিয়ে নিয়মিত বিভিন্ন কৌশল রপ্ত করলে অনেক সময়েই রক্তচাপ বেড়ে যায়। অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপ নানান বিপদ তৈরি করে। আবার হৃদপিণ্ডের উপরেও বাড়তি চাপ পড়ে। তাই তখন হৃদরোগের আশঙ্কা ও বেড়ে যায়‌।

    জিমের অভ্যাস তৈরি হওয়ার পাশপাশি অনেকেই ডায়েট করার অভ্যাস তৈরি করেন। আপাত দৃষ্টিতে ডায়েট শরীরের জন্য খুবই উপকারী।‌ স্থুলতা রুখতে এবং নানান রোগের দাপট এড়াতে নিয়মিত ডায়েট চার্ট মেনে খাদ্যাভ্যাস জরুরি। কিন্তু অনেক সময়েই ডায়েট অপরিকল্পিত হয়। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, অনভিজ্ঞ অপরিকল্পিত ডায়েট এবং জিমের শারীরিক কসরত শরীরকে দূর্বল করে। পেশি এবং স্নায়ুর একাধিক রোগের কারণ হয়। তাই এদিকেও নজরদারি জরুরি বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ।‌ তাঁরা জানাচ্ছেন, জিম করার পাশপাশি ডায়েট করলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে এই অভ্যাস করা প্রয়োজন।

    কীভাবে জিম করলে বিপদের ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব হবে?

    শরীর জিমের জন্য প্রস্তুত কিনা সে সম্পর্কে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া প্রথম শর্ত বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসক মহল। তাঁরা জানাচ্ছেন, জিমে নিয়মিত যাওয়া, কতক্ষণ নিয়মিত জিম করা উচিত এই নিয়ে আগাম সতর্কতা জরুরি। তাহলে বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব। জিমের সব ধরনের কৌশল, সকলের জন্য প্রয়োজনীয় না ও হতে পারে। সে সম্পর্কে জিমের প্রশিক্ষকের মতামত নিয়েই কাজ করতে হবে। পাশপাশি খাদ্যাভ্যাসের ক্ষেত্রেও বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। কারণ শারীরিক কসরতের সঙ্গে পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবার না খেলে শরীর প্রয়োজনীয় এনার্জি‌ পাবে না। তখন যে কোনও রোগের ঝুঁকি বেড়ে যাবে।

     

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • John Bolton: ‘‘বিরাট ভুল’’! ভারতের ওপর চড়া শুল্ক চাপানোয় নিজের দেশেই কড়া সমালোচনার মুখে ট্রাম্প

    John Bolton: ‘‘বিরাট ভুল’’! ভারতের ওপর চড়া শুল্ক চাপানোয় নিজের দেশেই কড়া সমালোচনার মুখে ট্রাম্প

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নিজের দেশেই কড়া সমালোচনার মুখে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সে দেশের প্রাক্তন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টনের অভিযোগ, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন কূটনীতিকদের কয়েক দশকের প্রচেষ্টা নষ্ট করেছেন – যার লক্ষ্য ছিল ভারতকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছাকাছি আনা এবং রাশিয়া ও চিনের খপ্পর থেকে দূরে রাখা (Tariffs)। সংবাদ মাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে তিনি বলেন (John Bolton), “ট্রাম্প রাশিয়া থেকে তেল কেনার কারণে ভারতের ওপর চড়া শুল্ক আরোপ করেছেন, অথচ চিনের প্রতি তুলনামূলকভাবে নমনীয়।” বোল্টন বলেন, “ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ একটি বিরাট ভুল হতে পারে। কারণ এতে ভারত রাশিয়া ও চিনের আরও কাছাকাছি চলে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।” তিনি বলেন, “যদিও এ বছরের শুরুতে ট্রাম্প চিনের সঙ্গে সামান্য বাণিজ্যিক বিরোধে জড়িয়েছিলেন, তিনি বেজিংয়ের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তির আশায় সেটিকে আর বাড়াননি। উল্টোদিকে, ভারতকে ৫০ শতাংশেরও বেশি শুল্কের মুখোমুখি হতে হয়েছে, যার মধ্যে ছিল রাশিয়া থেকে তেল আমদানির জন্য শাস্তিমূলক ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্কও।

    কী বলছেন বোল্টন (John Bolton)

    বোল্টনের মতে, রাশিয়াকে শিক্ষা দিতে গিয়ে ভারতের ওপর আরোপিত দ্বিতীয় পর্যায়ের শুল্কই বরং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্যই সবচেয়ে খারাপ ফল তৈরি করেছে। ভারত এ বিষয়ে অত্যন্ত নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। এর একটা কারণ হল তারা দেখেছে চিনের বিরুদ্ধে একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাঁর সতর্কবার্তা, এই পরিস্থিতি ভারত, রাশিয়া ও চিনকে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের বিরুদ্ধে সমন্বয় সাধনে উৎসাহিত করতে পারে। মার্কিন বিদেশনীতি বিশেষজ্ঞ ক্রিস্টোফার পাডিলা বলেন, “এই শুল্ক ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করতে পারে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একজন অংশীদার হিসেবে কতটা নির্ভরযোগ্য, সে বিষয়ে ভারতের সন্দেহ সৃষ্টি করতে পারে।”

    বোল্টনের যুক্তি

    এর আগে দ্য হিল নামে এক পত্রিকায় প্রকাশিত (John Bolton) এক মতামত নিবন্ধে বোল্টন যুক্তি দিয়েছিলেন, বেজিংয়ের প্রতি ট্রাম্পের নরম অবস্থান চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করার প্রচেষ্টায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত স্বার্থকে বিসর্জন দিতে পারে। তিনি এও বলেছিলেন, “চিনের ক্ষেত্রে ভারতের তুলনায় শুল্কে বেশি সুবিধা দেওয়া বিশাল একটি ভুল হতে পারে (Tariffs)। প্রসঙ্গত, ভারত রাশিয়ান তেল আমদানি বন্ধ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ককে অন্যায় ও অযৌক্তিক বলে অভিহিত করেছে। রাশিয়া ভারতের পাশে দাঁড়িয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে অবৈধ বাণিজ্যিক চাপ প্রয়োগের অভিযোগ করেছে। বোল্টনের আশঙ্কা, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তাঁর আসন্ন ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে ভারত-শুল্ক বিরোধকে নিজের স্বার্থে কাজে লাগাতে পারেন।

    ট্রাম্পের সমালোচনায় মুখর প্রাক্তন মার্কিন সেনেটের

    এদিকে, ট্রাম্পের সমালোচনায় মুখর হয়েছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন সেনেটের তথা ডেপুটি সেক্রেটারি কার্ট ক্যাম্পবেল। তিনি সমর্থন করেছেন ভারতকে। কড়া সমালোচনা করেছেন ভারতীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক ঘোষণার পর মার্কিন প্রেসিডেন্টের। ক্যাম্পবেল বলেন, “ট্রাম্পের এই অবস্থান ভারত-মার্কিন সম্পর্ককে সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে।” তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যেন কখনওই মার্কিন নেতার সামনে মাথা নত না করেন (Tariffs)।” সংবাদ মাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে ক্যাম্পবেল বলেন, শুল্ক ঘোষণার পর থেকে ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লির সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে অবনতি হয়েছে। তিনি বলেন, “২১ শতকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল ভারতের সঙ্গে। কিন্তু এখন তা সংকটে। যেভাবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভারত ও প্রধানমন্ত্রী মোদি সম্পর্কে কথা বলেছেন, তা ভারত সরকারের জন্য পরিস্থিতিকে অত্যন্ত কঠিন করে তুলেছে।” ক্যাম্পবেল জোর দিয়ে বলেন, মোদি যেন কোনও অবস্থায়ই ট্রাম্পের কাছে নতিস্বীকার না করেন (John Bolton)।

    ভারতের ওপর দু’দফায় ৫০ শতাংশ শুল্ক

    ৬ অগাস্ট ট্রাম্প একটি এক্সিকিউটিভ আদেশে স্বাক্ষর করেন, যার মাধ্যমে ভারতীয় আমদানির ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ কর আরোপ করা হয়, যা আগে থেকেই কার্যকর থাকা ২৫ শতাংশ করের সঙ্গে যুক্ত হবে। প্রশাসন জানিয়েছে, রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যই এই নতুন পদক্ষেপের কারণ, যা ২৭ আগস্ট থেকে কার্যকর হবে। ভারত ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে অশ্রদ্ধাশীল ও অযৌক্তিক পদক্ষেপ বলে আখ্যা দিয়েছে। জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সম্ভাব্য সব উপায় অনুসন্ধানের অঙ্গীকারও করে। ঘোষণার পর জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেন। একে ওয়াশিংটনের প্রতি সরাসরি প্রতিক্রিয়া হিসেবেই দেখা হচ্ছে। ডিসেম্বরের মধ্যেই ভারত সফর করবেন পুতিন (John Bolton)।

    এখন দেখার কোথাকার জল কতদূর গড়ায়।

  • Khudiram Bose: “হাসি হাসি পরব ফাঁসি, দেখবে ভারতবাসী”, আত্মবলিদান দিবসে বীর সন্তান ক্ষুদিরাম বসুকে স্মরণ

    Khudiram Bose: “হাসি হাসি পরব ফাঁসি, দেখবে ভারতবাসী”, আত্মবলিদান দিবসে বীর সন্তান ক্ষুদিরাম বসুকে স্মরণ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “হাসি হাসি পরব ফাঁসি, দেখবে ভারতবাসী”, অখণ্ড ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও বিপ্লবী আন্দোলনের সব থেকে উজ্জ্বল নক্ষত্র ক্ষুদিরাম বসুর আত্মবলিদান দিবস (Khudiram Bose Death Anniversary) আজ। ১৯০৮ সালের ১১ অগাস্ট মাত্র ১৮ বছর বয়সে দেশের সর্বকনিষ্ঠ স্বাধীনতা সংগ্রামী হিসেবে হাসিমুখে ফাঁসিতে চড়েছিলেন ভারতের এই বীর সন্তান। মুজফফরপুর ষড়যন্ত্র মামলায় ফাঁসি হয় ক্ষুদিরাম বসুর (Khudiram Bose)।

    ফিরে দেখা ইতিহাস (Khudiram Bose Death Anniversary)

    ১৮৮৯ সালের ৩ ডিসেম্বর মেদিনীপুর শহরের কাছাকাছি (বর্তমানে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা) কেশপুর থানার অন্তর্গত মৌবনী (হাবিবপুর) গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ক্ষুদিরাম বসু। পাঁচ বছর বয়সে তিনি তাঁর মাকে হারান এবং এর এক বছর পর তাঁর বাবা মারা যান। এরপর খুব অল্প বয়সেই তিনি কলকাতার বারিন্দ্রকুমার ঘোষের মতো বিপ্লবীদের সংস্পর্শে আসেন এবং মাত্র ১৫ বছর বয়সে নিজেকে স্বাধীনতা সংগ্রামে ব্রতী করেছিলেন ক্ষুদিরাম। স্থানীয়দের মধ্যে ব্রিটিশবিরোধী পুস্তিকা বিতরণের জন্য ইংরেজ শাসকরা তাঁকে আটক করে।

    ১৯০৮ সালের এপ্রিল মাসে ক্ষুদিরামের বয়স যখন ১৬ বছর, সে সময় প্রধান প্রেসিডেন্সি ম্যাজিস্ট্রেট ডগলাস কিংসফোর্ডকে হত্যার উদ্দেশ্যে ক্ষুদিরাম বসু ও প্রফুল্ল চাকি মুজফফরপুরে একটি গাড়িতে বোমা নিক্ষেপ করেছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, কিংসফোর্ড সেদিন ক্লাবে আসেননি। দুই ইংরেজ মহিলা মিসেস কেনেডি ও তাঁর কন্যা একই লাল গাড়িতে করে বাড়ি ফিরছিলেন। ফলে সেই বোমা হামলায় তাঁরা মারা গিয়েছিলেন। এরপর পুলিশ ধরার আগেই প্রফুল্ল চাকি নিজেকে গুলি করে আত্মহত্যা করেন।

    অন্যদিকে, এই ঘটনার পর নিজের প্রাণ বাঁচাতে ক্ষুদিরাম বসু (Khudiram Bose) ২৫ মাইল পথ পায়ে হেঁটে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন৷ কিন্তু, একটি জায়গায় জলের খোঁজ করতে গিয়ে পুলিশের মুখোমুখি হন তিনি। তাঁকে দেখে পুলিশের সন্দেহ হয়৷ কিন্তু, সদ্য কৈশোর পেরনো ক্ষুদিরাম পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে ধরা পড়ে যান৷ তাঁর কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়েছিল বলে দাবি করে ব্রিটিশ পুলিশ৷ এরপর তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বিচারে ক্ষুদিরাম বসুকে ফাঁসির সাজা শোনায় করে ব্রিটিশ বিচার ব্যবস্থা৷

    মাত্র ১৮ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ (Khudiram Bose)

    বিখ্যাত অনুশীলন সমিতির সদস্য ছিলেন ক্ষুদিরাম। তাঁকে ফাঁসি দেওয়া (Khudiram Bose Death Anniversary) হয় মুজফফপুর সংশোধনাগারে। বর্তমানে সেই কারাগারের নাম বদলে বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসুর নামেই নামকরণ করা হয়েছে। এই কারাগারেই মাত্র ১৮ বছর বয়সে ফাঁসির মঞ্চে হাসতে হাসতে মৃত্যুবরণ করেছিলেন ভারতের এই বীর সন্তান। ভারতের সর্বকনিষ্ঠ স্বাধীনতা সংগ্রামীদের একজন যিনি দেশের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। তাঁর শরীরের মৃত্যু হলেও আজীবন তিনি অমর হয়ে থেকে গেলেন প্রতিটি ভারতবাসীর মনের মণিকোঠায়।

  • Pm Modi: মোদির হাত ধরে চালু হয়ে গেল বেঙ্গালুরু মেট্রোর বহু প্রতীক্ষিত ইয়োলো লাইন

    Pm Modi: মোদির হাত ধরে চালু হয়ে গেল বেঙ্গালুরু মেট্রোর বহু প্রতীক্ষিত ইয়োলো লাইন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বেঙ্গালুরু মেট্রোর (Bengaluru Metros) বহু প্রতীক্ষিত ইয়োলো লাইন চালু হয়ে গেল রবিবার। উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Pm Modi)। এদিনই তিনি সূচনা করেন বেঙ্গালুরু ও বেলাগাভির মধ্যে বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের যাত্রারও। বেঙ্গালুরু মেট্রোর ফেজ-৩ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তরও স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয়ের তরফে শেয়ার করা সফরসূচিতে বলা হয়েছে, মোদী তাঁর প্রায় চার ঘণ্টার এই শহর সফরের সময় তিনটি অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।

    মেট্রোর ইয়োলো লাইনের উদ্বোধন (Pm Modi)

    ওয়াকিবহাল মহলের মতে, মেট্রোর এই ইয়োলো লাইন উদ্বোধন সহায়ক হবে শহরের আইটি হাবের সঙ্গে যুক্ত একাধিক অত্যন্ত যানজটপূর্ণ করিডরের ট্রাফিক চাপ কমাতে। প্রধানমন্ত্রী আরভি রোড (রাগিগুড়্ডা) থেকে ইলেকট্রনিক সিটি মেট্রো স্টেশন পর্যন্ত মেট্রো সফর করেন। যাত্রাপথে কথা বলেন শিক্ষার্থীদের সঙ্গেও। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, প্রায় ১৯ কিলোমিটার দীর্ঘ আরভি রোড থেকে বোম্মাসান্দ্রা পর্যন্ত এই রুটটি বেঙ্গালুরু মেট্রো ফেজ-২ প্রকল্পের অংশ। এজন্য খরচ হয়েছে প্রায় ৭,১৬০ কোটি টাকা। এই রুটে স্টেশন রয়েছে মোট ১৬টি। জানা গিয়েছে, বেঙ্গালুরু ইয়োলো লাইন চালু হওয়ার ফলে বেঙ্গালুরুর মেট্রো নেটওয়ার্ক বিস্তৃত হল ৯৬ কিলোমিটারেরও বেশি। যার ফলে উপকৃত হবেন এই অঞ্চলের বিপুল সংখ্যক মানুষ (Pm Modi)।

    কী বলছেন মেট্রো কর্তৃপক্ষ

    মেট্রো কর্তৃপক্ষের মতে, নয়া এই রেল যোগাযোগ হোসুর রোড, সিল্ক বোর্ড জংশন এবং ইলেকট্রনিক্স সিটি জংশনের মতো একাধিক অতিরিক্ত যানজটপূর্ণ করিডরে যানজট কমাতে সাহায্য করবে। বেঙ্গালুরু উন্নয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-মুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমার সম্প্রতি বলেছেন, এখন তিনটি ট্রেন ২৫ মিনিটের ব্যবধানে চলবে। ৩টি ট্রেন সেট ইতিমধ্যেই ইয়োলো লাইনের জন্য এসে পৌঁছেছে। চতুর্থটি আসবে এই মাসেই। পরে এই ফ্রিকোয়েন্সি ১০ মিনিটে নামিয়ে আনা হবে।

    এদিন প্রধানমন্ত্রীকে দেখতে রাস্তার দু’ধারে ভিড় করেন প্রচুর মানুষ। ফুল ছিটিয়ে, ‘মোদি মোদি’ স্লোগান দিতে থাকেন তাঁরা। গাড়ির ভেতর থেকে প্রধানমন্ত্রীও তাঁদের উদ্দেশে হাত নাড়েন (Bengaluru Metros)। এদিন প্রধানমন্ত্রীর (Pm Modi) সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন কর্নাটকের রাজ্যপাল থাওয়ারচাঁদ গেহলট, মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া, কেন্দ্রীয় আবাসন ও নগর বিষয়ক মন্ত্রী মনোহর লাল খট্টর, কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শোভা করন্দলাজে, উপ-মুখ্যমন্ত্রী ডি. কে. শিবকুমার-সহ অন্যরা।

  • India Pauses Boeing Jet Deal: ট্রাম্পের শুল্কের পাল্টা ভারতের, বোয়িংয়ের সঙ্গে ৩১৫০০ কোটি টাকার প্রতিরক্ষা চুক্তি স্থগিত

    India Pauses Boeing Jet Deal: ট্রাম্পের শুল্কের পাল্টা ভারতের, বোয়িংয়ের সঙ্গে ৩১৫০০ কোটি টাকার প্রতিরক্ষা চুক্তি স্থগিত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক চাপানোর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ‘প্রত্যাঘাত’ করল ভারত। ওয়াশিংটনের সঙ্গে ৩১,৫০০ কোটি টাকার প্রতিরক্ষা চুক্তি স্থগিত করল নয়াদিল্লি।

    মার্কিন শুল্কের জবাব ভারতের

    রাশিয়া থেকে তেল কেনার ‘সাজা’ হিসাবে ভারতের উপর শুল্কের উপর শুল্ক চাপিয়ে চলেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রথমে ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ৭ আগস্ট আরও ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছেন তিনি। এর ফলে আমেরিকায় পণ্য রফতানি করতে গেলে ভারতকে দিতে হবে ৫০ শতাংশ শুল্ক। ট্রাম্পের এই শুল্ক-যুদ্ধের আবহে এতদিন কোনও পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি ভারত। পরখ করছিল পরিস্থিতি। এবার, সিদ্ধান্ত নিল নয়াদিল্লি। নিল বড় পদক্ষেপ। মার্কিন প্রেসিডেন্টের শুল্কবাণের জবাবে এবার আমেরিকাকে বড় ধাক্কা দিল ভারত। জানা যাচ্ছে, নৌসেনার জন্য আমেরিকার কাছ থেকে বোয়িং নির্মিত ৬টি পি-৮আই পোসাইডন সামুদ্রিক নজরদারি বিমান কেনার চুক্তি করেছিল ভারত। এখন সেই চুক্তি স্থগিত করা হয়েছে।

    চুক্তি করতে ঢিলেমি আমেরিকার

    বর্তমানে ভারতের কাছে ১২টি বোয়িং পি-৮আই পোসাইডন বিমান রয়েছে। ২০০৯ সালে সেগুলি বোয়িং থেকে কিনেছিল ভারত। সেই সময় এই বিমানগুলির প্রথম ক্রেতা হয়ে উঠেছিল ভারত। এই বিমানগুলি সমুদ্রে নজরদারির জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ। এই বিমানগুলি অত্যন্ত আধুনিক এবং উন্নত। শত্রু দেশের উপর নজর রাখার জন্য এই বিমানগুলি অত্যন্ত জরুরি। ফলত, ২০২১ সালে অতিরিক্ত ৬টি বিমান কেনার চুক্তি করা হয়। সেই সময় চুক্তির অঙ্ক ছিল ২০ হাজার কোটি টাকার মতো। কিন্তু, আমেরিকা ইচ্ছাকৃতভাবে ঢিলেমি করে।

    ফ্রান্স থেকে কেনার প্রস্তুতি

    অতঃপর, গত জুলাই মাসে বোয়িংয়ের সঙ্গে নতুন করে প্রায় ৩১,৫০০ কোটি টাকার চুক্তিটি করে ভারত। এখন ট্রাম্পের শুল্ক-যুদ্ধের আবহে এই চুক্তি স্থগিত করতে বাধ্য হয় ভারত। এখন এই চুক্তি যদি পুরোপুরি বাতিল হয়, তাহলে তা হবে বোয়িং-এর কাছে তা হবে বড়সড় ধাক্কা। বিপুল আর্থিক ক্ষতি পূরণ করা তাদের পক্ষে সহজ হবে না। কারণ, বিমান তৈরিতে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করে থাকে সংস্থাটি। এদিকে, সূত্রের খবর, ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য ফ্রান্স থেকে বিকল্প যুদ্ধবিমান কেনার প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারত।

    ঝুকেগা নেহি ভারত…

    বিশ্লেষকদের মতে, ৩১,৫০০ কোটি টাকার প্রতিরক্ষা চুক্তি বাতিল করে ভারত শুধু আমেরিকাকে নয়, গোটা বিশ্বকে একটি কড়া বার্তা দিল যে তারা আন্তর্জাতিক চাপে মাথা নত করবে না। গতকালই, ভারত জানিয়েছে, কোনও দেশের স্বাধীনভাবে বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার থাকা উচিত। অন্য কোনও রাষ্ট্রের হুমকির ফলে সেই সিদ্ধান্ত পাল্টানো অনুচিত। একইসঙ্গে, তারা আবারও রাশিয়ার পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার করল। রাশিয়াও ভারতের এই অবস্থানে সমর্থন জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার ক্রেমলিনের তরফে জানানো হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিভিন্ন দেশকে হুমকি দিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে বাধ্য করছেন। এটা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নীতির পরিপন্থী।

  • Raksha Bandhan: এসে গেল পবিত্র রাখি বন্ধন উৎসব, কখন লাগছে পূর্ণিমা? রীতি পালনের নিয়ম জানেন তো?

    Raksha Bandhan: এসে গেল পবিত্র রাখি বন্ধন উৎসব, কখন লাগছে পূর্ণিমা? রীতি পালনের নিয়ম জানেন তো?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রতি বছর শ্রাবণ মাসের পূর্ণিমায় পালিত হয় রাখি বন্ধন (Raksha Bandhan)। হিন্দু ধর্মে ভাই-বোনের পবিত্র সম্পর্ক ও ভালবাসার প্রতীক হল রাখি বন্ধন উৎসব। যদিও শুধুমাত্র ভাই-বোন নয়, ভারতবর্ষে প্রতিটি মানুষের মধ্যে সমস্ত রকম ভেদাভেদ ভুলে একে অপরের হাতে রাখি পরিয়ে সূচনা হয় এক শক্তপোক্ত সম্পর্কের বুনিয়াদ। প্রতিবছর রাখি বন্ধনের সময় বহু মানুষ একে অপরের অপরের হাতে রাখি পরিয়ে দিয়ে ভ্রাতৃত্ববন্ধনে আবদ্ধ হন। অপরদিকে বোনেরা অপেক্ষা করেন তাদের ভাই কিংবা দাদাদের হাতে রাখি পরিয়ে দেবেন।

    রাখি নিয়ে প্রচলিত পৌরাণিক কাহিনী

    মহাভারত অনুসারে, শ্রীকৃষ্ণের নিজের বোন ছিলেন সুভদ্রা। কিন্তু তিনি দ্রৌপদীকেও নিজের বোনের মতো স্নেহ করতেন। একবার শ্রীকৃষ্ণের হাত কেটে যায় এবং সেখান থেকে রক্তপাত শুরু হয়। তখন সেখানে সুভদ্রা এবং দ্রৌপদী দুজনেই উপস্থিত ছিলেন। সুভদ্রা তখন সেই রক্ত বন্ধ করবার জন্য কাপড় খুঁজছিলেন। কিন্তু দ্রৌপদী একটুও দেরী না করে নিজের পরিহিত মূল্যবান রেশমী শাড়ি ছিঁড়ে শ্রীকৃষ্ণের সেই কেটে যাওয়া স্থানটি বেঁধে দেন তাড়াতাড়ি রক্তপাত বন্ধ করার জন্য। এবং শ্রীকৃষ্ণ তখন দ্রৌপদীকে বলেন, তার বেঁধে দেওয়া কাপড়ের প্রতিটি সুতোর প্রতিদান দেবেন তিনি। এরপর শ্রীকৃষ্ণ দ্রৌপদীকে রাজসভায় বস্ত্রহরণের চরম কলঙ্কের হাত থেকে রক্ষা করেন। এই রাখি বন্ধন উৎসবের ৫ দিন আগে ঝুলনযাত্রা এবং ৭ দিন পরে জন্মাষ্টমী পালিত হয়।

    রাখিবন্ধনের ঐতিহাসিক ঘটনা

    বর্তমান যুগে রাখি বন্ধন উৎসবের সূচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনে গোটা বাংলায় জ্বলছে আগুন। ব্রিটিশদের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদের জন্য হিন্দু-মুসলিমদের ঐক্য বা একতার প্রতীক হিসেবে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রাখিবন্ধন উৎসব পালন করেন। তিনি ঢাকা ও সিলেট থেকে মুসলিম ভাই-বোনদের কলকাতায় আহ্বান করেন এবং রাখি বন্ধন উৎসব পালন করেন। ভারতের ইতিহাসে চরম ধর্মীয় অসহিষ্ণুতার সময় এই রাখি বন্ধন হিন্দু-মুসলিমদের মধ্যে একতা ও ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে যা আজও স্মরণীয় হয়ে আছে।

    সারা দেশেই পালিত হবে উৎসব

    রাখি বন্ধনের হরেক নাম রয়েছে। কোথাও রক্ষাবন্ধন উত্‍সব, কোথাও আবার শ্রাবণী পূর্ণিমা, আবার কোথাও অবনী আবিত্তম, কোথাও আবার পবিত্রতা বলেও অভিহিত করা হয়। কিছু জায়গায়, বোনেরা ভাইয়ের কব্জিতে রাখি বাঁধার আগে নারকেলের ওপর তিলক লাগান এবং কলবা অর্থাৎ সুতো বাঁধেন। তারপর সেই নারকেলটি প্রথমে ভাইয়ের হাতে দেন এবং তারপরই ভাইয়ের কব্জিতে রাখি বেঁধে দেন। ভাই-বোনের সম্পর্কের অটুট বন্ধন রাখতে ও সম্মান জানাতে এই উত্‍সব পালন করা হয়ে থাকে।

    রাখি বন্ধনের তাৎপর্য ও মাহাত্ম্য

    এই রাখি মূলত কোন সুতো বা কাগজের জিনিস নয়, এটি এক ধরনের রক্ষাকবচ যা ভাইদের সমস্ত রকমের বিপদের হাত থেকে রক্ষা করে। অপরদিকে এই দিন দাদারা প্রতিজ্ঞা করেন জীবনের সব কঠিন পরিস্থিতিতে বোনের পাশে দাঁড়ানোর। প্রত্যেক বোনের কাছে এই রাখি বন্ধন অত্যন্ত বিশেষ একটি দিন, যাকে ঘিরে বহু প্রচলিত নিয়ম রয়েছে। যেগুলি অনেকেই মনে-প্রাণে মেনে চলেন।

    এবছর রাখি পূর্ণিমা কবে ও কখন?

    হিন্দু ক্যালেন্ডার অনুসারে, এবছর রাখি পূর্ণিমা (Raksha Bandhan 2025) পড়েছে ৯ অগাস্ট, শনিবার। এবছর শ্রাবণী পূর্ণিমা তিথি আজ, শুক্রবার ৮ অগাস্ট দুপুর ২টো ১৩ মিনিটে শুরু হচ্ছে এবং পূর্ণিমা ০৯ আগস্ট দুপুর ১টা ২৫ মিনিট পর্যন্ত থাকবে। ফলত, উদয় তিথি অনুযায়ী, আগামিকাল ৯ অগাস্ট পালিত হবে রাখি বন্ধন উৎসব। তবে, বোনেরা শুক্রবারও ভাইয়ের হাতে রাখি বাঁধতে পারেন। তবে, সূর্যাস্তের পরও রাখি বাঁধার নিয়ম নেই। তাই তার আগেই রাখি বন্ধনের কাজ সম্পন্ন করতে হবে। নয়তো, ১২ তারিখ সকালে পূর্ণিমা তিথি থাকাকালীন রীতি পালন করতে হবে।

    রাখি বন্ধনে কী করবেন ও কী করবেন না—

    • রাখির উপহারের তালিকায় তোয়ালে কিংবা রুমাল রাখবেন না।
    • ভাইয়ের হাতে রাখি পরিয়ে দেওয়ার সময় কালো রঙের পোশাককে অনেকে এড়িয়ে যাওয়া শুভ বলে মনে করেন।
    • বোনকে উপহার দেওয়ার সময় ভাইদের খেয়াল রাখতে হবে সেই তালিকায় যেন কোনও ধারালো জিনিস না থাকে।
    • বহু জায়গা প্রচলিত রয়েছে, যতক্ষণ না ভাইদের হাতে রাখি পরানো হয় ততক্ষণ বোনেরা নুন জাতীয় কোনও খাবার খান না।
    • রাখির মঙ্গল থালায় জ্বলন্ত প্রদীপ, কুমকুম এবং চন্দন রেখে তারপরেই রাখি পরাবেন।
    • রাখি বন্ধন শেষে কোনওভাবেই ভাইদের কালো রঙের কোনও উপহার দেবেন না।
    • রাখি পরানোর সময় নোনতা খাবারের পরিবর্তে যতটা সম্ভব মিষ্টি জাতীয় খাবার দেবেন।
    • ভাইদের উদ্দেশ্যে আনা রাখি, হাতে বাঁধার আগে অবশ্যই কিছুক্ষণ বাড়ির ইষ্ট দেবতার চরণে রেখে দেবেন।
    • আসনে ভাইদের পূর্ব বা উত্তর দিকে মুখ করে বসাবেন। তারপর হাতে রাখি বেঁধে দেবেন। দক্ষিণ দিকে বসিয়ে রাখি বাঁধাকে অশুভ বলে মনে করা হয়।

LinkedIn
Share