TMC 21 July: নামেই শহিদ দিবস! দিকে দিকে মোচ্ছব আর ক্ষমতার আস্ফালনের ছবি

tmc-rally-2_(1)

সুশান্ত দাস: নাম শহিদ দিবস (Shahid Diwas)। কিন্তু শহিদদের স্মরণ করা নয়, তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) পরিচালিত এই সমাবেশ হয়ে উঠল মোচ্ছবের কর্মসূচি। বর্ণাঢ্য ট্যাবলো থেকে শুরু করে দেদার খানাপিনা— বাদ গেল না কিছুই। একটা দুঃখজনক, বেদনাদায়ক অধ্যায়কে স্মরণ করার মঞ্চ বদলে গেল শক্তি প্রদর্শনের স্থলে।

কোভিড অতিমারির (Covid Pandemic) জেরে জারি হওয়া বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞার জেরে গত ২ বছর ভার্চুয়ালি শহিদ দিবস পালন করতে হয়েছিল তৃণমূলকে। তাই করোনার ভয় কাটতেই এবছর যেন তেড়েফুঁড়ে উঠেছিল রাজ্যের শাসক দল। মাসখানেক আগে থেকেই রাজ্যের সব প্রান্তে চড়ে বেরিয়েছিল শাসক দলের নেতাকর্মীরা। লক্ষ্য, শহিদ দিবসে লোক ভরানো। পুলিশ থেকে শুরু করে বিভিন্ন দফতরে কর্মরত উচ্চপদস্থ কর্মী-আধিকারিকরা— সকলেই কার্যত উঠেপড়ে লেগেছিলেন অনুষ্ঠানকে সফল করার জন্য।

বুধবার থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লোকজন আসতে শুরু করে দিয়েছিল। তাদের থাকার জন্য বিশাল আয়োজন করা হয়েছিল শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে। আর সেখানে সব ধরনের ব্যবস্থাই ছিল। যেমন সেন্ট্রাল অ্যাভেনিউ জুড়ে ছিল পার্কিংয়ের ব্যবস্থা। সেখানে দেখা গেল একেবারে পিকনিকের আমেজ। ত্রিপল পেতে চলছে রান্না। মেনুতে রয়েছে ডিম-ভাত থেকে শুরু করে ভাত-আলু পোস্ত, মুরগির মাংস। যাতে একেবারে পেটপুরে মাংস খেয়ে শাসক দলের শহিদ-স্মরণে অংশ নিতে পারেন কর্মী, সমর্থকরা। প্রায় একই চিত্র ধরা পড়েছে মেয়ো রোডে। সেখানকার মেনুতে ছিল মাংস-ভাত, ডাল আর ছ্যাঁচড়ার তরকারি।

আরও পড়ুন: উন্নয়নে ৮০% বরাদ্দ ছাঁটাই, রোজের খরচে কোপ ৫০%, নবান্নের হেঁসেল আর চলছে না

এতো গেল খাওয়া-দাওয়ার পালা। এবার চোখ বুলিয়ে নেওয়া যাক আমেজে। শহিদ স্মরণ বলতেই মানুষের মনে স্বাভাবিকভাবেই একটা দুঃখ ভরে আসে। কিন্তু, তৃণমূলের শহিদ দিবস ছিল ভিন্নরূপী। সেখানে যেমন ছিল ট্যাবলো তেমনই ছিল ধামসা-মাদল। সল্টলেকে বর্ণাঢ্য মিছিল বের করে শাসক দলের কর্মী-সমর্থকরা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখোশ পরে, শাঁখ বাজিয়ে, ঢাকের তালে মিছিল হয়। 

একুশের সমাবেশে যোগ দিতে হাজরায় সুসজ্জিত ট্যাবলো নিয়ে বের হন কয়েকজন তৃণমূল কর্মী। কেউ ঢোল করতাল বাজিয়ে তো কেউ আবার ধামসা, মাদল বাজাতে বাজাতে সমাবেশে হাজির হয়েছে। দেখে বোঝার উপায় নেই, এটা শহিদ স্মরণ না পুজোর শোভাযাত্রা! মনে হবে যেন কোনও বিজয়োৎসব পালন হচ্ছে।  

একটি রাজনৈতিক অনুষ্ঠানের জন্য ক্ষমতার আস্ফালনে সরকারি পরিকাঠামোর অপব্যবহার কীভাবে করতে হয়, তা মমতার সরকার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। সরাসরি সম্প্রচারের জন্য শহরের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় লাগানো হয়েছে জায়ান্ট স্ক্রিন। একদিন আগে থেকেই রাস্তা থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে বাস। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা। পুলিশ থেকে শুরু করে পুরসভা, পূর্ত থেকে বিদ্যুৎ— এদিনের রাজনৈতিক অনুষ্ঠানের জন্য কাজে লাগানো হয় সরকারের প্রায় সব বিভাগকেই। 

এরপরও কি বলা যাবে না যে, এটা শক্তি প্রদর্শন ছাড়া অন্য কিছুই নয়!

আরও পড়ুন: দাম কম হলেও চোলাইয়ের ‘টেম্পারে’ ফেল ২৮ টাকার ‘বাংলা’, বিষমদে মৃত্যু সেই কারণে?

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share