মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: করোনার পর নতুন আতঙ্কের নাম অ্যাডিনো ভাইরাস (Adenovirus)। রাজ্যজুড়ে ভয়াবহ আকার নিচ্ছে অ্যাডিনো ভাইরাস সংক্রমণ। এই অ্যাডিনো-আতঙ্কের মধ্যেই কলকাতায় আরও পাঁচজন শিশুর মৃত্যু হল। কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ও বিসি রায় হাসপাতালে এই পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
অ্যাডিনোতে মৃত্যু আরও পাঁচজনের
জ্বর এবং শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হয়ে শিশুদের মৃত্যু নিয়ে ক্রমেই আতঙ্ক ছড়াচ্ছে রাজ্যে (Adenovirus)। গত তিন দিনে যে পাঁচটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে, তাদের প্রত্যেকেরই বয়স দু’বছরের নীচে। মঙ্গলবার সকালে মেডিক্যাল কলেজে যে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে, তার বয়স ৬ মাস। নাম আদিত্য দাস। হাসপাতাল সূত্রে খবর, জন্ম থেকেই হার্টের সমস্যা ছিল ওই শিশুর। হৃদযন্ত্রে ছিদ্র থাকায় চিকিৎসা চলছিল তার। গত ৫ ফেব্রুয়ারি থেকেই সে হাসপাতালে ভর্তি। ২৩ ফেব্রুয়ারি তাঁকে মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে আসা হয়। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, আদিত্যের শরীরে অ্যাডিনোভাইরাসের সংক্রমণ পাওয়া গিয়েছিল, ঠাণ্ডা লাগা এবং সর্দিকাশিও হয়েছিল তার। একটি শিশুর মৃত্যু হয় মেডিক্যাল কলেজে। তবে তার শরীরে অ্যাডিনো ভাইরাস পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। যদিও সর্দি-কাশি, জ্বর, ঠাণ্ডা-লাগা ছিল। ফলে সেও অ্যাডিনো ভাইরাসে আক্রান্ত ছিল না কিনা তা স্পষ্ট নয়। আবার বিসি রায় হাসপাতালেও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। দুই শিশুই ভুগছিল নিউমোনিয়ায়। এক শিশুর বয়স ৬ মাস। দেগঙ্গার বেড়াচাঁপা দু’নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের ঘটনা। মৃতের নাম শুভ ঘোষ।
আরও পড়ুন: গ্রুপ ডি-এর ওয়েটিং লিস্টও গঙ্গাজলের মতো স্বচ্ছ্ব নয়! অভিমত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর
উদ্বিগ্ন স্বাস্থ্য দফতর
এই অ্যাডিনো ভাইরাস (Adenovirus) করোনার কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। কলকাতার সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল মিলিয়ে, শিশু ভর্তির সংখ্যাটা হাজারেরও বেশি। শহর জুড়ে হাসপাতালগুলোতে যখন শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া ও অ্যাডিনো ভাইরাসে আক্রান্ত শিশুদের সংখ্যা বেড়েই চলেছে, সে সময়ে বেড সঙ্কটও দেখা দিয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে বেডের জন্য হাহাকার শুরু হয়েছে। প্রায় সবখানেই ভর্তি পেডিয়াট্রিক আইসিইউ। এই পরিস্থিতিতে গতকাল স্বাস্থ্যভবনে জরুরি বৈঠক হয়। স্বাস্থ্য ভবনে শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের নিয়ে বৈঠক করলেন দফতরের আধিকারিকরা। সরকারি হাসপাতালগুলিতে গেলেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিকর্তা দেবাশিস ভট্টাচার্য। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, বেলেঘাটা আইডিতে শিশুদের নতুন ওয়ার্ড করা হবে। রোগীর চাপ সামলাতে কোভিড কালের মত জরুরি কিছু ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিকর্তা।
অ্যাডিনো ভাইরাসের দাপটে প্রি-স্কুলে হাজিরার সংখ্যা কম
রাজ্য জুড়ে অ্যাডিনো ভাইরাসের (Adenovirus) সংক্রমণ বাড়তে থাকলে এই পরিস্থিতিতে প্রি-স্কুলগুলোতে উল্লেখযোগ্যভাবে হাজিরার সংখ্যা কমছে। আবার অনেক প্রি-স্কুলগুলোতে ছুটিও ঘোষণা করে দেওয়া হয়েছে। আবার কোনও কোনও স্কুল কর্তৃপক্ষ অনলাইন ক্লাস ফের শুরু করার কথা ভাবতে শুরু করেছে। তবে, এখানে প্রশ্ন উঠেই যাচ্ছে, যে সব স্কুল খোলা, সেখানে সংক্রমণ এড়াতে কতটা বিধি মেনে চলছেন কর্তৃপক্ষ?
দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook, Twitter এবং Google News পেজ।
Leave a Reply