মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উত্তর এবং পূর্ব ভারতের বেশ কয়েকটি রাজ্য প্রবল বৃষ্টিপাত, বন্যা, ভূমিধসে বিপর্যস্ত। গত তিনদিনে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ভারী বৃষ্টিপাত (heavy rain) আর তার জেরে বন্যা (flood) ও ভূমিধসে বহু মানুষের মৃত্যু (death) হয়েছে। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, গত তিন দিনে উত্তরাখণ্ড (Uttarakhand), হিমাচল প্রদেশ (Himachal pradesh) এবং ওড়িশায় (Odisha) ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও আরও অনেকের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে।
হিমাচল প্রদেশ
চার রাজ্যের মধ্যে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে হিমাচল প্রদেশ। বন্যার কারণে বেশ কিছু রাস্তা, রেলসেতু ভেঙে পড়েছে। বহু গ্রাম জলমগ্ন। প্রায় ৩৩০ টি রাস্তা বন্ধ হয়ে আছে। মাটির বাড়িগুলি ভেঙে পড়েছে। রাজ্যের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত জেলা হল মান্ডি। প্রবল বৃষ্টিতে ইতিমধ্যেই সেখানে ৩৬ জন মারা গিয়েছেন। ১২ জন গুরুতর ভাবে আহত হয়েছেন। বন্যায় ভেসে গিয়ে এখনও পাঁচ জন মানুষ নিখোঁজ বলে জানা গিয়েছে।
উত্তরাখন্ড
এই রাজ্যে মেঘভাঙা বৃষ্টিতে কমপক্ষে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এখনও ১০ জনের বেশি নিখোঁজ বলে জানা গিয়েছে। নদীর দুই কূল ভেসে যাওয়ায় বহু বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত। সেতু ভেঙে গিয়েছে। এরই মধ্যে একটি রেসোর্টে আটকে পড়া ২৪ জন পর্যটককে উদ্ধার করা হয়েছে। উত্তরাখন্ডের দেরাদুন, তেহরি, পাউরি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।
আরও পড়ুন: মেঘভাঙা বৃষ্টিতে ভূমিধস ও বন্যা, দেশজুড়ে মৃত প্রায় ৩৩
ওড়িশা
ওড়িশার পরিস্থিতিও খুব খারাপ। মুষলধারায় বৃষ্টিতে কমপক্ষে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। ওড়িশায় বন্যায় প্রভাবিত হয়েছেন প্রায় ৮ লক্ষ মানুষ। বহু মানুষ বন্যার জেরে ঘড় ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। বৃষ্টি ও বন্যার কারণে জল ও বিদ্যুত সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। রাজ্য সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী এখনও পর্যন্ত প্রায় লক্ষাধিক মানুষকে সরানো হয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে।
ঝাড়খন্ড
এই রাজ্যেও বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন বদীর জলস্তর বৃদ্ধি পেয়েছে। ইতিমধ্যেই প্রায় ২৫০০ জনকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে আসা হয়েছে। ঝাড়খণ্ডের রামগড়ে নলকারী নদীর জলে ভেসে গিয়েছেন কমপক্ষে পাঁচ জন। তবে জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত চারজনের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
মধ্যপ্রদেশ
মধ্যপ্রদেশের ভোপাল, জব্বলপুর, উজ্জয়িনী, মান্ডসুর সহ ৩৯ টি জেলায় লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে। টানা বৃষ্টির কারণে জবলপুরের হনুমান তাল মন্দিরের অনেকাংশ জলের তলায়। বিভিন্ন জায়গায় রাস্তা জলমগ্ন হয়ে রয়েছে ও নদীর জলস্তরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
Leave a Reply