Jiban Krishna Saha: ২১ তারিখ পর্যন্ত সিবিআই হেফাজতে জীবনকৃষ্ণ, জেরায় উঠে আসবে আর কী কী তথ্য?

JIBAN_KRISHNA_7

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নিয়োগ দুর্নীতিকাণ্ডে ধৃত বড়ঞার তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহাকে (Jiban Krishna Saha) ৪ দিনের সিবিআই হেফাজতের নির্দেশ দিল আলিপুরের বিশেষ আদালত। সোমবার সকালে তাঁকে মুর্শিদাবাদের বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে কলকাতায় নিয়ে আসে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী দল। প্রথমে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর পর তাঁকে পেশ করা হয় আদালতে। সেখানেই শাসক দলের বিধায়ককে আগামী ২১ তারিখ পর্যন্ত সিবিআই হেফাজতে পাঠিয়ে দেন বিচারক।

পরতে পরতে নাটক

জীবনকৃষ্ণ সাহার (Jiban Krishna Saha) বাড়িতে সিবিআই হানা ও তদন্তকারী সংস্থার হাতে গ্রেফতার হওয়া—এই দুইয়ের মধ্যে ফারাক ছিল প্রায় ৬৭ ঘণ্টার, যার পরতে পরতে লুকিয়ে ছিল একাধিক নাটকীয় মুহূর্ত। সেই শুক্রবার সকালে শুরু হয় তদন্তকারীদের অভিযান। সিবিআই দেখেই বাড়ির পাশের পুকুরে নিজের জোড়া মোবাইল ফেলে দেন জীবনকৃষ্ণ। সেই শুরু। এক সময় বিধায়ককে দেখা যায়, পাঁচিল টপকে পালানোর চেষ্টাও করছেন। তাঁকে পাকড়াও করা হয়। তারপর পুকুরের জল ছেঁচে ৩৮-ঘণ্টা পর একটা মোবাইল উদ্ধার করা হয়। ৬৫-ঘণ্টা পর পুকুরের ধারের ঝোপ থেকে দ্বিতীয় ফোনও উদ্ধার করা হয়। দীর্ঘক্ষণ জেরা পর্বের পর অবশেষে তদন্তে অসহযোগিতার অভিযোগে জীবনকৃষ্ণকে গ্রেফতার করে সিবিআই।

আরও পড়ুন: উদ্ধার বড়ঞার তৃণমূল বিধায়কের দ্বিতীয় মোবাইল, কীসের খোঁজে ফের তল্লাশি পুকুরে?

আদালতে সওয়াল সিবিআইয়ের

এদিন আদালতে পেশ করা হলে, বিধায়কের জামিনের আর্জির বিরোধিতা করে সিবিআইয়ের আইনজীবী দাবি করেন, ‘‘জীবনকৃষ্ণ (Jiban Krishna Saha) প্রার্থীদের থেকে টাকা নিয়ে কোটি কোটি টাকা তুলেছেন৷ টাকার বিনিময়ে বহু অযোগ্য প্রার্থীকে সরকারি চাকরি পাইয়ে দিয়েছেন। তাঁর বাড়ি থেকে প্রচুর নথি উদ্ধার হয়েছে। তল্লাশির সময় ফোন পুকুরে ছুড়ে ফেলে প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করেছেন। সিবিআইয়ের আইনজীবীর আরও দাবি, জীবনকৃষ্ণের বাড়ি থেকে নিয়োগ দুর্নীতি সংক্রান্ত প্রচুর মূল্যবান নথি পাওয়া গিয়েছে৷

পাল্টা জীবনকৃষ্ণর (Jiban Krishna Saha) আইনজীবী বলেন, ‘জীবনকৃষ্ণকে ফাঁসানো হয়েছে। তিনি নির্দোষ। তাঁর বাড়িতে বৃদ্ধ বাবা ও ছোট সন্তান রয়েছে। তাই তাঁকে যেন জামিন দেওয়া হয়।’ সওয়াল শুনে ধৃত তৃণমূল বিধায়ককে ৪ দিনের সিবিআই হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক।

কী জানার চেষ্টায় সিবিআই?

নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে কেন্দ্রীয় এজেন্সির নজরে রাজ্যের আরও কয়েকজন বিধায়ক। সিবিআই-এর দাবি, ইতিমধ্যেই ৮-১০ জন বিধায়কের নাম উঠে এসেছে। বিভিন্ন জেলার এই বিধায়করা নিজেদের প্রভাব খাটিয়ে চাকরি দেওয়ার নামে লক্ষ লক্ষ টাকা তুলেছেন। কেউ নিজের লেটার প্যাডে চাকরির সুপারিশ করেছেন। কেউ আবার চাকরিপ্রার্থীদের তালিকা পাঠিয়েছেন। এই চাকরি-বিক্রি চক্রে আরও কোনও বিধায়ক আছেন কি না, তা জানতে জীবনকৃষ্ণ সাহাকে (Jiban Krishna Saha) জেরা করতে চায় সিবিআই। প্রয়োজনে বিভিন্ন ব্যক্তির ও সন্দেহভাজনদের মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করা হবে বড়ঞার তৃণমূল বিধায়ককে। 

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share