মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তিন বছর আগে এখানেই মন ভেঙেছিল ১৪০কোটির। ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনালে আমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলিদের। তিন বছর পর আবার ফাইনাল। ২০২৬ টি-২০ বিশ্বকাপ (T20 World Cup 2026) ফাইনালে ফের ভারত। প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড। রবিবাসরীয় সন্ধ্যায় ফের স্বপ্নের ডালা নিয়ে মাঠে আসবেন ভারতের ক্রিকেট অুনুরাগীরা। স্টেডিয়াম উঠবে নীল ঢেউ। ভারত ও নিউজিল্যান্ড (IND vs NZ) দুই দলেরই এবারের বিশ্বকাপ সফরটা একেবারে মসৃণ হয়নি। বেশ খানিকটা চড়াই, উতরাই পার করেই তাঁরা ফাইনালে নিজেদের জায়গা পাকা করে নিয়েছে। তবে দুই দলেই প্রতিভার অভাব নেই। তাই রবিবার এক টানটান ম্যাচ দেখার অপেক্ষায় ক্রিকেটপ্রেমীরা।
মিশ্র-মাটির পিচে ফাইনাল
আমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে এখনও পর্যন্ত ভাগ্য সঙ্গ দেয়নি টিম ইন্ডিয়ার। দু’বছর আগে একদিনের বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয় ভারতের। চলতি বিশ্বকাপের একমাত্র ম্যাচ আমেদাবাদে হারে ভারত। তবে এবার যাতে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি না ঘটে, আগাম সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। যেকোনো ম্যাচের অন্যতম প্রধান অঙ্গ পিচ। মেগা ফাইনালের আগেও উইকেট ঘিরে বিশেষ আলোচনা। জানা গিয়েছে, রবিবার মিশ্র মাটির পিচে ফাইনাল খেলা হবে। অনেকটা মুম্বইয়ের সেমিফাইনালের উইকেটের মতো। অর্থাৎ, আরও একটি হাই-স্কোরিং ম্যাচ হবে। ওয়াংখেড়েতে প্রথমে ব্যাট করে ৭ উইকেটে ২৫৩ রান করে ভারত। শোনা যাচ্ছে, আমেদাবাদের পিচও ব্যাটিং সহায়ক হবে। বিশেষ সুবিধা পাবে না বোলাররা।
কালো মাটির পিচে হার রোহিতদের
ফাইনালে সেন্টার পিচ ব্যবহার করা হবে। লাল এবং কালো মাটির মিশ্রণে পিচ তৈরি হচ্ছে। ব্যাটিং পিচ হলেও, বোলারদের জন্য বাউন্স থাকবে। তবে রান দুশোর কাছাকাছি হবে। এই পিচে চলতি বিশ্বকাপের এখনও পর্যন্ত মাত্র একটি ম্যাচ হয়েছে। ২১৩ রান করে কানাডাকে হারায় দক্ষিণ আফ্রিকা। ২০২৩ বিশ্বকাপ ফাইনালে কালো মাটির পিচে হারে রোহিত শর্মার ভারত। সদ্য দক্ষিণ আফ্রিকার কাছেও হার কালো মাটির পিচে। এই দুই হারে ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্টের চোখ খুলে গিয়েছে। তাই ফাইনালের পিচ বদলে ফেলা হচ্ছে। এক সূত্র জানান, ‘ফাইনালে মিশ্র মাটির পিচ পাবে ভারত। স্পোর্টিং পিচ হবে। লাল মাটি বেশি থাকায় বাউন্স থাকলেও সুবিধা পাবে ব্যাটারররা। আমেদাবাদে নিউজিল্যান্ড একটি ম্যাচ খেলেছে। ভারত খেলেছে দুটি। তারমধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে বিশ্রী হার। উল্লেখ্য, ২০২৩ ফাইনালে স্পিন সহায়ক উইকেট বানিয়ে ভারতের ভরাডুবি হয়েছিল। এবার একেবারে পাটা পিচ থাকছে আমেদাবাদে।
ইতিহাস কাদের পক্ষে
টি২০ বিশ্বকাপের ইতিহাসে ভারত কখনওই নিউজিল্যান্ডকে হারায়নি। ৩ বারে ৩ বারই পরাজিত হতে হয়েছে। আর সেই কারণেই চিন্তায় রয়েছেন ফ্যানেরা। সবাই প্রার্থনা জুড়ে দিয়েছেন যাতে এই ম্যাচে আর ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি না হয়। প্রসঙ্গত, এই দুই দেশ একে অপরের বিরুদ্ধে ৩০টি টি২০ ম্যাচ খেলেছে। তার মধ্যে ১৬টিতে জিতেছে ভারত। ১১টিতে জয় হয়েছে নিউজিল্যান্ডের। আর ৩টি ম্যাচ অমীমাংসিত থেকেছে। এই ৩টি অমীমাংসিত ম্যাচের মধ্যে ভারত দুটি জিতেছে সুপারওভারে। আর একটি ম্যাচ ভেস্তে যায়। তাই আপাতভাবে পরিসংখ্যানে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে ভারত।
থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদি!
আশা করা হচ্ছে, দেশের খ্যাতনামা ব্যক্তিত্বরা এই ফাইনাল ম্য়াচ দেখার জন্য স্টেডিয়ামে উপস্থিত থাকবেন। এমনকী, দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও (PM Narendra Modi) এই উপলক্ষ্যে মাঠে উপস্থিত থাকতে পারেন। মাঠ থাকবে কানায় কানায় পূর্ণ। ফাইনাল ম্য়াচকে কেন্দ্র করে প্রায় ৩০,০০০ থেকে ৪০,০০০ দর্শক বাইরে থেকে আসবেন বলে আশা করা হচ্ছে। প্রসঙ্গত, নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে ১.২ লাখ দর্শক একসঙ্গে বসে খেলা উপভোগ করতে পারেন। কিন্তু, তার থেকেও যে দর্শক সংখ্যা বেশি হবে, তেমনটাই অনুমান করা হচ্ছে। আর সেকারণে হোটেল রুমের চাহিদাও অন্য দিনের তুলনায় অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। এই সুযোগের সদ্ব্যবহার করছেন হোটেল মালিকরা। পাশাপাশি হসপিটালিটি সেক্টরেও ব্যবসা ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ বৃদ্ধির আশা করা হচ্ছে।
ভারতকে হুঁশিয়ারি
২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে অজি অধিনায়ক প্যাট কামিন্স বলেছিলেন, নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামকে চুপ করিয়ে দেবেন। বাস্তবেও সেটাই হয়। তারপর থেকে বহুবার ভারতকে ‘চুপ করিয়ে দেব’ হুমকি দিয়েছে বিপক্ষ। নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক স্যান্টনার অবশ্য চুপ করানোর চেয়েও নির্দয় বার্তা দিলেন। ফাইনালের আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বললেন, “ট্রফি জেতার জন্য ছোটখাট চেষ্টাগুলোও করন। ট্রফি জেতার জন্য কিছু হৃদয় ভাঙতে হলেও সমস্যা নেই।”
কোথায় কোথায় উন্নতি দরকার
বিশ্বকাপে একমাত্র দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচ বাদ দিলে বাকি সাত ম্যাচে ভাল দেখিয়েছে ভারতকে। কয়েকটি ম্যাচ টান টান হলেও শেষ হাসি হেসেছেন গৌতম গম্ভীর, সূর্যকুমার যাদবেরা। রবিবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে ভারতের সামনে নিউজিল্যান্ড। সেই ম্যাচ জিততে হলে অবশ্য তিনটি জায়গায় উন্নতি দরকার ভারতের। টি-টোয়েন্টিতে পাওয়ার প্লে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম ছয় ওভারেই জয়ের ভিত গড়ে ফেলতে চায় সব দল। কিন্তু অভিষেক রানে না থাকায় তাতে সমস্যায় হচ্ছে। সঞ্জু সব ম্যাচে খেলবেন না। ঈশানও ব্যর্থ হতে পারেন। যদি তেমনটা হয়, তা হলে কে সামলাবে দলের ব্যাটিং। সেই কারণেই অভিষেকের ফর্মে ফেরা খুব জরুরি। নইলে সমস্যায় পড়তে পারে ভারত। আইসিসির টি-টোয়েন্টি ক্রমতালিকায় এক নম্বর ব্যাটারের পাশাপাশি এক নম্বর বোলারও ভারতের চিন্তার জায়গা। বিশ্বকাপে বরুণ চক্রবর্তী ভারতীয় বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১৩ উইকেট নিয়েছেন বটে, কিন্তু পুরনো বরুণ উধাও। ওভার প্রতি ৮.৮৫ রান দিয়েছেন তিনি। গ্রুপ পর্বে তা-ও কয়েকটি ম্যাচে ভাল বল করেছিলেন, কিন্তু সুপার এইট থেকে তাঁকে চেনা যাচ্ছে না। সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ভাল ফিল্ডিং করেছে ভারত। অক্ষর দু’টি ভাল ক্যাচ ধরেছেন। হার্দিক রান আউট করেছেন। কিন্তু সেমিফাইনাল বাদে বিশ্বকাপে ভারতের ফিল্ডিং ভাল হয়নি। তাই ফিল্ডিংয়ে নজর দিতে হবে।
সম্ভাব্য ভারতীয় দল: অভিষেক শর্মা, সঞ্জু স্যামসন, ঈশান কিষান, সূর্যকুমার যাদব (অধিনায়ক), তিলক ভার্মা, হার্দিক পাণ্ডেয়া, শিবম দুবে, অক্ষর প্যাটেল, জসপ্রীত বুমরা, বরুণ চক্রবর্তী বা কুলদীপ যাদব

Leave a Reply