Arunachal Anti-Infiltration Protest: অরুণাচলে অনুপ্রবেশ বিরোধী আন্দোলনে ‘বন্দে মাতরম’ ও ‘ভারত মাতা কি জয়’ ধ্বনি

Itanagar Protest

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অরুণাচল প্রদেশে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী সমস্যা নিয়ে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ এবার বিশাল গণবিক্ষোভের রূপ নিল। গত ২৭শে ডিসেম্বর রাজধানী ইটানগরে কয়েক হাজার স্থানীয় বাসিন্দা ও আদিবাসী যুবক রাজপথে নেমে এক অভাবনীয় প্রতিবাদ মিছিল করেন। মূলত বাংলাদেশ থেকে আসা কথিত “মিয়া-মুসলিম” অনুপ্রবেশকারীদের বহিষ্কার এবং তাদের দেওয়া ইনার লাইন পারমিট (ILP) বাতিলের দাবিতে এই সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছিল।

‘বন্দে মাতরম’ ও ‘ভারত মাতা কি জয়’ ধ্বনিতে মুখরিত রাজপথ

শনিবার সকাল থেকেই ইটানগরের রাজপথ মিছিলে মিছিলে ভরে ওঠে। ‘ইন্ডিজেনাস ইয়ুথ ফোর্স অফ অরুণাচল প্রদেশ’ (IYFA) এবং ‘অরুণাচল প্রদেশ ইন্ডিজেনাস ইয়ুথ অর্গানাইজেশন’ (APIYO) এর নেতৃত্বে আয়োজিত এই সমাবেশে পুরুষদের পাশাপাশি নারীদের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। বিক্ষোভকারীদের কণ্ঠে শোনা যায় “বন্দে মাতরম” এবং “ভারত মাতা কি জয়” স্লোগান। সমাবেশ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয় যে, “অরুণাচল প্রদেশে মিয়া-মুসলিমদের কোনো জায়গা নেই।”

“উত্তর-পূর্ব ভারত বাংলাদেশের অংশ হবে না”

সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে IYFA নেতা কামতা পাসান্দ বলেন, “বাংলাদেশের কিছু নেতা জনসমক্ষে উত্তর-পূর্ব ভারতকে তাদের দেশের অংশ করার স্বপ্ন দেখছেন। আমরা ভারত মাতার গর্বিত সন্তান হিসেবে স্পষ্ট জানাচ্ছি, দেশের অখণ্ডতা রক্ষায় আমরা শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে লড়াই করতে প্রস্তুত। আমাদের সংবিধান প্রদত্ত অধিকার কোনো বহিরাগতকে কেড়ে নিতে দেওয়া হবে না।”

অন্যদিকে, APIYO নেতা টারো সোনাম অভিযোগ করেন যে, হাজার হাজার মানুষ ভুয়া আধার কার্ড এবং জাল আইএলপি (ILP) ব্যবহার করে রাজ্যে ঢুকে পড়েছে। তিনি জানান, ইতিমধ্যে সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রায় ২০০ জন অবৈধ বসতি স্থাপনকারীকে চিহ্নিত করে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং এই অভিযান ভবিষ্যতে আরও জোরালো হবে।

নিরাপত্তা ও সামাজিক অপরাধ নিয়ে উদ্বেগ

প্রতিবাদকারী সংগঠনগুলির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, রাজ্যে ক্রমবর্ধমান খুন, ডাকাতি ও ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধের পেছনে অনুপ্রবেশকারীদের বড় ভূমিকা রয়েছে। এছাড়াও রাজধানী এলাকায় সরকারি অনুমোদন ছাড়াই ১২টি অবৈধ মসজিদ ও মাদ্রাসা নির্মাণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে। সংগঠনের নেতাদের মতে, বিপুল সংখ্যক বহিরাগতদের সঠিক পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ায় স্থানীয়দের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে।

রাজ্য সরকারের প্রতি আহ্বান

মিছিল শেষে বিক্ষোভকারীরা রাজ্য সরকারের কাছে একগুচ্ছ দাবি পেশ করেন। তাদের প্রধান দাবি হলো—অবিলম্বে সমস্ত অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে রাজ্য থেকে বহিষ্কার করতে হবে এবং সীমান্ত এলাকায় নজরদারি আরও কঠোর করতে হবে। আন্দোলনকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, যতক্ষণ না অরুণাচল থেকে শেষ অনুপ্রবেশকারীকে উপড়ে ফেলা হচ্ছে, ততক্ষণ তাদের এই লড়াই চলবে।

এই আন্দোলনের ফলে অরুণাচল প্রদেশের জনতাত্ত্বিক পরিবর্তন এবং বহিরাগতদের প্রবেশাধিকার সংক্রান্ত বিতর্ক আবারও জাতীয় স্তরে নতুন মাত্রা যোগ করল।

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share