Author: ishika-banerjee

  • FIFA World Cup 2026: চূড়ান্ত ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ, আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল কে কার বিরুদ্ধে খেলবে আগামী বছর?

    FIFA World Cup 2026: চূড়ান্ত ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ, আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল কে কার বিরুদ্ধে খেলবে আগামী বছর?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চূড়ান্ত হয়ে গেল ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬ সালের সব গ্রুপ। শুক্রবার আমেরিকার ওয়াশিংটনের জন এফ কেনেডি সেন্টার ফর পারফর্মিং আর্টসে হয়ে গেল বিশ্বকাপের গ্রুপবিন্যাস। এই প্রথমবারের মত ৪৮টি দলের টুর্নামেন্ট হতে চলেছে। ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, পর্তুগাল, ফ্রান্সের মতো দেশ জেনে গেল তাদের প্রতিপক্ষের নাম। চারটি দলের ১২টি গ্রুপ রয়েছে। তুলনামূলক সহজ গ্রুপে পড়েছে ব্রাজিল এবং আর্জেন্টিনা। ফ্রান্স একটু কঠিন গ্রুপে। গ্রুপ পর্বেই দেখা যাবে কিলিয়ান এমবাপে বনাম আর্লিং হালান্ডের লড়াই। পর্তুগালেরও লড়াই তেমন কঠিন নয়। আমেরিকা, কানাডা এবং মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত হবে এই বিশ্বকাপ।

    গ্রুপ অফ ডেথ নেই বললেই চলে

    পরের বছরই প্রথম বার ৪৮টি দেশ নিয়ে বিশ্বকাপ আয়োজন করা হচ্ছে। দেশের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় ড্র সহজ হতে পারে, এমন অনুমান আগেই করা হয়েছিল। আদপে হলও তাই। ১২টি গ্রুপের কোনওটিকেই সে ভাবে ‘গ্রুপ অফ ডেথ’ বা মারণগ্রুপ বলা যায় না। তিনটি শক্তিশালী দেশ রয়েছে, এমন গ্রুপ হয়ইনি। গ্রুপ পর্বের ড্র অনুষ্ঠানে তিনটি পট থেকে প্রথম তিনটি বল তোলেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি, মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেইনবাউম ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোস্ট মেক্সিকো ‘এ’ গ্রুপে, কানাডা ‘বি’ এবং যুক্তরাষ্ট্র ‘ডি’ গ্রুপে থাকবে, তা আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল। এদিনই প্রকাশ্যে আসে ২০২৬ বিশ্বকাপের থিম সং ‘ডিজায়ার’। সেই গান পরিবেশন করেন ব্রুস স্প্রিংস্টিন এবং নিকোল শারজিঙ্গার।

    কোন গ্রুপে কোন দল রয়েছে

    গ্রুপ এ : মেক্সিকো, দক্ষিণ আফ্রিকা, দক্ষিণ কোরিয়া, ইউরোপিয়ান প্লে-অফ ডি জয়ী দল

    গ্রুপ বি : কানাডা, কাতার, সুইজারল্যান্ড, ইউরোপিয়ান প্লে-অফ এ জয়ী দল

    গ্রুপ সি : ব্রাজিল, মরক্কো, হাইতি, স্কটল্যান্ড

    গ্রুপ ডি : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, প্যারাগুয়ে, অস্ট্রেলিয়া, ইউরোপিয়ান প্লে-অফ সি জয়ী দল

    গ্রুপ ই : জার্মানি, কুরাসাও, আইভরি কোস্ট, ইকুয়েডর

    গ্রুপ এফ : নেদারল্যান্ডস, জাপান, তিউনিশিয়া, ইউরোপিয়ান প্লে-অফ বি জয়ী দল

    গ্রুপ জি : বেলজিয়াম, মিশর, ইরান, নিউজিল্যান্ড

    গ্রুপ এইচ : স্পেন, কেপ ভার্দে, সৌদি আরব, উরুগুয়ে

    গ্রুপ আই : ফ্রান্স, সেনেগাল, নরওয়ে, ফিফা প্লে-অফ ২ জয়ী দল

    গ্রুপ জে : আর্জেন্টিনা, আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া, জর্ডান

    গ্রুপ কে : পর্তুগাল, উজবেকিস্তান, কলম্বিয়া, ফিফা প্লে-অফ ১ জয়ী দল

    গ্রুপ এল : ইংল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া, ঘানা, পানামা।

  • Vladimir Putin India Visit: সময় পরীক্ষিত সম্পর্কের নতুন অধ্যায়! অর্থনীতি–প্রতিরক্ষা–পর্যটন–শিক্ষাসহ নানা চুক্তি ভারত-রাশিয়ার

    Vladimir Putin India Visit: সময় পরীক্ষিত সম্পর্কের নতুন অধ্যায়! অর্থনীতি–প্রতিরক্ষা–পর্যটন–শিক্ষাসহ নানা চুক্তি ভারত-রাশিয়ার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত সফর শেষ করে শুক্রবার রাতেই দেশ ছাড়লেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন (Russian President, Vladimir Putin)। ২৮ ঘণ্টার ব্যস্ত সূচি শেষে বিদায়বেলায় পুতিনকে এগিয়ে দিলেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। রাষ্ট্রপতি ভবনে রাষ্ট্রীয় সংবর্ধনা, ব্যাঙ্কোয়েট হলে মোদি (PM Narendra Modi)–পুতিনের পাশাপাশি বসা, রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর বক্তব্য—সব মিলিয়ে বৈঠকের গাম্ভীর্য থেকে জোরদার বার্তা পাঠাল দুই দেশ। শুরু হল দিল্লি–মস্কো (Vladimir Putin India Visit) সম্পর্কের এক নতুন অধ্যায়। বাণিজ্য থেকে জ্বালানি, পারমাণবিক শক্তি থেকে প্রতিরক্ষা—প্রায় সব ক্ষেত্রেই ভবিষ্যতের রূপরেখা তৈরি করে ফেলল দুই দেশ।

    জ্বালানি ও বাণিজ্যে গভীরতর সম্পর্ক

    দিল্লি-মস্কো ঠিক করে ফেলল আগামী ছয় বছরের বাণিজ্যিক পথনকশা। লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যেই ১০ হাজার কোটি মার্কিন ডলারের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য। বৈঠক শেষে রাশিয়ার স্পষ্ট বার্তা, “ভারতকে নিরবচ্ছিন্ন ভাবে তেল সরবরাহ করতে প্রস্তুত মস্কো।” জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও পারমাণবিক শক্তি—সব খাতেই যৌথ উন্নয়নে এগোবে দুই দেশ। জ্বালানি নিরাপত্তাকে ভারত–রাশিয়া অংশীদারিত্বের মূল স্তম্ভ বলে উল্লেখ করেন মোদি। তিনি বলেন, নাগরিক পারমাণবিক শক্তি ক্ষেত্রে সহযোগিতা দুই দেশের পরিচ্ছন্ন জ্বালানি লক্ষ্যের প্রতি অঙ্গীকারকে আরও জোরদার করছে। দুই দেশই রাষ্ট্রসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেয়। পাশাপাশি, জি-২০, ব্রিকস, এসসিওর মতো ফোরামে সহযোগিতা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে। প্রতিরক্ষায় যৌথ উৎপাদন, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং সামরিক-প্রযুক্তিগত সহযোগিতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। এদিন রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, “দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে ভারত ও রাশিয়ার লেনদেন পৌঁছে গিয়েছে ৬৪ বিলিয়ন ডলারে। শীঘ্রই এই অঙ্কটা পৌঁছে যাবে ১০০ বিলিয়ন ডলারে।” একইসঙ্গে রুশ প্রেসিডেন্ট জানা এই বাণিজ্যের ৯৬ শতাংশই হয়েছে দেশীয় মুদ্রায় অর্থাৎ ভারতের টাকা ও রাশিয়ার রুবেলে মাধ্যমে। অর্থাৎ ডলারকে পাশ কাটিয়ে দেশীয় মুদ্রায় লেনদেনের ক্ষেত্রে জোয়ার এনেছে দুই দেশ। যা আমেরিকার ডলার অস্ত্রকে কড়া জবাব বলেই মনে করা হচ্ছে।

    রাশিয়ায় দু’টি নতুন দূতাবাসের উদ্বোধন

    সম্মেলনের পর এক্স-এ প্রধানমন্ত্রী মোদি লিখেছেন, “২৩তম ভারত–রাশিয়া বার্ষিক শীর্ষ বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার নানান দিক নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়েছে। আমরা ২০৩০ সাল পর্যন্ত অর্থনৈতিক সহযোগিতা কর্মসূচিতে সম্মত হয়েছি। সংযোগ বৃদ্ধি, জাহাজ নির্মাণ, দক্ষতা উন্নয়ন, শক্তি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজসহ বহু ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানো হবে।” রাশিয়া–ইউক্রেন সংঘাত নিয়ে ভারত আবারও জানিয়েছে—ভারত শান্তির পক্ষেই। মোদি জোর দিয়ে বলেছেন, স্থায়ী শান্তিই ভারতের লক্ষ্য, এবং অচলাবস্থা নিরসনে শান্তিপূর্ণ সমাধান জরুরি। শুক্রবার যৌথ প্রেস বৈঠক থেকে রাশিয়ায় দু’টি নতুন দূতাবাসের উদ্বোধনের কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এদিন তিনি বলেন, ‘ভারত-রাশিয়ার সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ দিকটাই হল উভয় দেশের সংস্কৃতি ও জনসাধারণ।’ আর সেই সংস্কৃতি ও জনসাধারণের মেলবন্ধনকে বজায় রাখতে রাশিয়ার কাজান এবং ইয়েকাতেরিনবুর্গে দু’টি ভারতীয় দূতাবাস খুলেছে নয়াদিল্লি। যার উদ্বোধন হল শুক্রবার।

    কুড়ানকুলামের দায়িত্ব নিলেন পুতিন

    ভারতের বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র কুড়ানকুলামে সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছে রাশিয়া। তামিলনাড়ুর এই পারমাণবিক কেন্দ্রে ছয়টি চুল্লির মধ্য়ে দু’টি ইতিমধ্যেই চালু হয়ে গিয়েছে। কিন্তু বাকি চারটি এখনও নির্মীয়মান। সেগুলির দায়িত্ব নিতে চায় রাশিয়া, জানিয়েছেন খোদ পুতিন। রুশ প্রেসিডেন্টের কথায়, ‘সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ কেন্দ্রটিকে পূর্ণ ক্ষমতা প্রদান করব আমরা।’ দুই দেশের ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্বের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী মন্তব্য করেন পুতিন। তিনি বলেন, “আগামী দিনে আমাদের এই বন্ধুত্ব বিশ্বব্যাপী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শক্তি দেবে এবং এই বিশ্বাস আমাদের যৌথ ভবিষ্যৎ আরও সমৃদ্ধ করবে।” মোদি এদিন ভারত–রাশিয়া বন্ধুত্বকে “ধ্রুবতারা” বলে অভিহিত করেন—যা বহু ভূরাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও অটুট থেকেছে। ইউরেশিয়ান ইকোনমিক ফোরামের সঙ্গে দ্রুত এফটিএ (FTA) সম্পাদনের আহ্বান জানায় ভারত-রাশিয়া। দুই নেতা দ্রুত ইএইউ (Eurasian Economic Union)-এর সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করার বিষয়ে মতৈক্যে আসেন।

    ২৩তম বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনে যে প্রধান সমঝোতাগুলিতে সই হয়েছে—

    ভারত–রাশিয়া কৌশলগত সহযোগিতা কর্মসূচি (২০২৩–২০৩০)—বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জাহাজ নির্মাণ, শক্তি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ইত্যাদিতে সহযোগিতা বিস্তারের লক্ষ্যে একগুচ্ছ চুক্তি।

    দুই দেশের নাগরিকদের অস্থায়ী শ্রম কার্যক্রম সংক্রান্ত চুক্তি

    অবৈধ অভিবাসন দমনে সহযোগিতা

    উভয় দেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের মধ্যে স্বাস্থ্য, চিকিৎসা শিক্ষা ও গবেষণায় সহযোগিতা

    খাদ্য নিরাপত্তা ও ভোক্তা অধিকার সুরক্ষা বিষয়ে সহযোগিতা

    মেরু জলে পরিচালিত জাহাজের বিশেষজ্ঞ প্রশিক্ষণে সহযোগিতা

    রাসায়নিক সার খাতে সহযোগিতা

    পণ্য ও যানবাহনের প্রি-অ্যারাইভাল তথ্য বিনিময়

    দুই দেশের ডাক ও যোগাযোগ বিভাগে চুক্তি

    মুম্বই বিশ্ববিদ্যালয় ও লোমোনোসভ মস্কো স্টেট ইউনিভার্সিটির মধ্যে শিক্ষা সহযোগিতা

    তথ্য ও সম্প্রচার ক্ষেত্রে প্রসার ভারতী ও রাশিয়ার বিভিন্ন মিডিয়া সংস্থার মধ্যে একাধিক চুক্তি

    ভারত নেতৃত্বাধীন ইন্টারন্যাশনাল বিগ ক্যাট অ্যালায়েন্সে (IBCA) রাশিয়ার যোগদানের জন্য কাঠামোগত চুক্তি

    “ইন্ডিয়া ফেব্রিক অফ টাইম” (India, Fabric of Time) প্রদর্শনীর আয়োজন

    রুশ নাগরিকদের জন্য ৩০ দিনের ই-ট্যুরিস্ট ভিসা বিনামূল্যে প্রদান

    রুশ পর্যটকদের জন্য গ্রুপ ট্যুরিস্ট ভিসা বিনামূল্যে প্রদান

  • Nirmala Sitharaman:“পশ্চিমবঙ্গকে কখনও অবহেলা করা হয়নি” খতিয়ান তুলে ধরে, দাবি কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর

    Nirmala Sitharaman:“পশ্চিমবঙ্গকে কখনও অবহেলা করা হয়নি” খতিয়ান তুলে ধরে, দাবি কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক:কেন্দ্রীয় আবগারি (সংশোধনী) বিল, ২০২৫–এর আলোচনার জবাবে রাজ্যসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গকে কখনওই অবহেলা করেনি কেন্দ্র সরকার। বরং তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের নীতিই রাজ্যের উন্নয়নে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার , রাজ্যসভায় বাংলাকে বঞ্চনার অভিযোগ খণ্ডন করে তৃণমূলকে প্রবল আক্রমণ করলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। বিস্তারিত তালিকা পেশ করে করে তিনি বোঝান যে, ২০১৪ সাল থেকে বাংলাকে কেন্দ্রীয় সরকার বিপুল অর্থ বরাদ্দ করেছে। কিন্তু সেই টাকার যথাযথ ব্যয় না করে স্বচ্ছতা দেখায়নি রাজ্য সরকার। এমনকি তৃণমূল সরকারের আমলে রাজ্য থেকে শিল্প সংস্থাগুলি যে পালাচ্ছে সেই তালিকা প্রদান করেন অর্থমন্ত্রী।

    শিল্প ক্রমশ পশ্চিমবঙ্গ ছেড়ে চলে যাচ্ছে

    রাজ্যে বিনিয়োগের পরিবেশ নষ্ট হওয়ায় শিল্প ক্রমশ পশ্চিমবঙ্গ ছেড়ে চলে যাচ্ছে,বলে দাবি করেন নির্মলা। তাঁর তথ্য অনুযায়ী, ২০১১ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৪৪৮টি তালিকাভুক্ত এবং ৬,৪৪৭টি তালিকাভুক্ত নয় এমন কোম্পানি রাজ্য ছেড়েছে। নির্মলা বলেন, “প্রত্যেকটি তথ্য প্রমাণ আমাদের কাছে আছে। রাজ্যসভার কাছে জমা দিচ্ছি। সত্য-মিথ্যা প্রমাণ হয়ে যাবে। তৃণমূল সাংসদরা জবাবদিহি চেয়েছেন যে, রাজ্যকে বঞ্চনা করা হচ্ছে। আমি তার জবাব দিচ্ছি। এখন আবার আপনারা বলছেন, সেই জবাব শুনবেন না! তিনি বলেন, এক্সাইজ বাড়ানো হচ্ছে, তামাকজাত পণ্যের উপর। সেই টাকার ভাগ পাবে রাজ্য। সেই টাকা দিয়ে রাজ্য যেন উপকার করে তামাকশিল্পে জড়িত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে। এক্সাইজ যেহেতু রাজ্যের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া হয়, তাই তামাকজাত দ্রব্যের উপর এক্সাইজ বাড়ানোর জেরে রাজ্যের আয় বৃদ্ধি পাবে কিছুটা।”

    আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প থেকে সরে আসে পশ্চিমবঙ্গ

    রাজ্যের উন্নয়ন তৃণমূল সরকারের কারণেই থমকে আছে বলে দাবি করেন নির্মলা। এদিনই রাজ্যসভায় নির্মলা সীতারামন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, কেন্দ্রের পূর্ণ সমর্থন সত্ত্বেও রাজ্য সরকার পশ্চিমবঙ্গের সার্বিক বৃদ্ধি ব্যাহত করছে। সেন্ট্রাল এক্সাইজ (সংশোধন) বিল, ২০২৫ নিয়ে আলোচনার জবাবে মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার কোনওদিন পশ্চিমবঙ্গকে উপেক্ষা করেনি। টিএমসি সদস্যদের উত্থাপিত বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে সীতারামন বলেন, “আসলে, টিএমসি সরকারই পশ্চিমবঙ্গের মানুষের উন্নতি ব্যাহত করছে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে পশ্চিমবঙ্গ আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প থেকে সরে আসে। এই প্রসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “এটা কি বাংলার মানুষের জন্য ভালো?”

    রাজ্য থেকে চলে যাচ্ছে শিল্প প্রতিষ্ঠান

    অর্থমন্ত্রী রাজ্য থেকে শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলির চলে যাওয়ার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, ২০১১ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট ৪৪৮টি তালিকাভুক্ত এবং ৬,৪৪৭টি তালিকাভুক্ত-বহির্ভূত সংস্থা রাজ্য ছেড়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর মতে, এই প্রবণতা রাজ্যের অর্থনৈতিক স্বাস্থ্যের জন্য অনুকূল নয়। সীতারামন আরও পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, ২০১৪ সাল থেকে পশ্চিমবঙ্গ কর বাবদ ৫.৯৪ লক্ষ কোটি টাকা পেয়েছে, যা ২০০৪-১৪ সময়ের ১.৩৪ লক্ষ কোটি টাকার তুলনায় ৪.৪ গুণ বেশি। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ রাজ্যের উন্নয়নে কেন্দ্রের প্রতিশ্রুতির পরিচায়ক, এমনটাই দাবি করেন তিনি।

    পশ্চিমবঙ্গকে যা যা দিয়েছে কেন্দ্র

    কেন্দ্রের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের তালিকা তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, পশ্চিমবঙ্গে কল্যাণী এইমস চালু হয়েছে এবং কেন্দ্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার (CSS) অধীনে ১১টি মেডিক্যাল কলেজ অনুমোদন পেয়েছে। এনডিএ সরকারের আমলে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য পশ্চিমবঙ্গ রেকর্ড ১৩,৯৫৬ কোটি টাকার রেল বাজেট বরাদ্দ পেয়েছে, যা ২০০৯-১৪ সময়ের গড় ৪,৩৮০ কোটি টাকার চেয়ে তিন গুণেরও বেশি। এ ছাড়া, রাজ্যে ৩,৮৪৭.৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ১০১টি অমৃত স্টেশন গড়ে তোলা হচ্ছে। মন্ত্রী জানান, ১,৬৫০ কিলোমিটার রেললাইন বিদ্যুদায়িত হয়েছে, ফলে পশ্চিমবঙ্গে মোট রেল বিদ্যুদায়নের হার ৯৮ শতাংশের বেশি দাঁড়িয়েছে। ২০১৪ সালের এপ্রিল থেকে পশ্চিমবঙ্গে ২,৩০০ কিলোমিটারেরও বেশি জাতীয় সড়ক তৈরি হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    অভিযোগ ঠিক নয়

    সীতারামন আরও জানান, ২০২৪ সালের অগাস্টে ভারত সরকার পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়িতে অবস্থিত বাগডোগরা বিমানবন্দর উন্নয়নের জন্য ১,৫৪৯ কোটি টাকা অনুমোদন দিয়েছে। টিএমসি সাংসদ সাগরিকা ঘোষের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন যে, সেন্ট্রাল রোড অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফান্ড (CRIF) স্থানান্তরিত হচ্ছে না, এমন অভিযোগ ঠিক নয়। কেন্দ্রের পক্ষ থেকে ২০০২-০৩ অর্থবছর থেকে এ পর্যন্ত সিআরআইএফ-এর অধীনে ১৩.২৫ লক্ষ কোটি টাকা স্থানান্তরিত হয়েছে, যেখানে একই সময়ে রোড অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার সেস বাবদ ১২.৬২ লক্ষ কোটি টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে। মহাত্মা গান্ধী গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা প্রকল্প (MGNREGS) প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন যে, ২০০৬-০৭ থেকে ২০১৩-১৪ পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে কেন্দ্র থেকে ১৪,৯৮৫ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল। তিনি আরও যোগ করেন, “অন্যদিকে, ২০১৪-১৫ অর্থবছর থেকে ২০২১-২২ অর্থবছর পর্যন্ত আমাদের সরকার ৫৪,৪১৬ কোটি টাকা প্রকাশ করেছে, যা মনরেগা-এর অধীনে কেন্দ্রীয় তহবিল বিতরণে ২৬১ শতাংশ বৃদ্ধি নির্দেশ করে।”

     

     

     

  • Vladimir Putin India Visit: ‘‘সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারত-রাশিয়া কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়ছে’’ বন্ধু পুতিনকে পাশে  নিয়ে পাকিস্তানকে বিঁধলেন মোদি

    Vladimir Putin India Visit: ‘‘সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারত-রাশিয়া কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়ছে’’ বন্ধু পুতিনকে পাশে নিয়ে পাকিস্তানকে বিঁধলেন মোদি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও রাশিয়া সন্ত্রাসের মোকাবিলায় কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়ছে। শুক্রবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের (Vladimir Putin India Visit) সঙ্গে যৌথ সাংবাদিক সম্মেলন করার সময় এমনটাই জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ‘বন্ধু’ পুতিন। ঠিক এই সম্বোধন দিয়েই শুক্রবার যৌথ সাংবাদিক বৈঠক শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী। এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে মোদি বলেন, ‘‘২৫ বছর আগে পুতিন আমাদের সঙ্গে স্ট্র‍্যাটেজিক পার্টনারশিপের সূত্রপাত করেছিল। ⁠ভারতের প্রতি পুতিনের দায়বদ্ধতা এবং বন্ধুত্বের জন‍্য আমি আমার বন্ধু পুতিনকে ধন‍্যবাদ জানাই৷’’ এদিন হায়দ্রাবাদ হাউসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন দুই রাষ্ট্রপ্রধান। বৈঠকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকেও ‘ডিয়ার ফ্রেন্ড’ হিসেবে সম্বোধন করেন পুতিন৷

    ইকোনমিক কোঅপারেশন প্রোগ্রাম

    মোদির (Modi-Putin Meet) কথায়, ‘‘ভারত-রুশ বন্ধুত্ব সময়ের সব পরীক্ষায় পাশ করেছে৷ ⁠আজ আমরা এই বন্ধুত্বকে আরও পোক্ত করতে আলোচনা করেছি৷’’ এরপরেই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করে প্রধানমন্ত্রী জানান, ⁠২০৩০ সাল পর্যন্ত ভারত এবং রাশিয়া একটি ইকোনমিক কোঅপারেশন প্রোগ্রামে সম্মতি হয়েছে ৷ মোদি জানান, ‘‘ভারত-রাশিয়া বিজনেস ফোরামে ⁠এক্সপোর্ট এবং কোঅপারেশনের রাস্তা খুলবে দু’দেশের৷ ⁠কৃষি এবং ফার্টিলাইজারের ক্ষেত্রেও আমাদের দু’দেশের সম্পর্ক কৃষকদের জন‍্য অনেক লাভদায়ক হবে। ভারত এবং রাশিয়া একসঙ্গে তৈরি করবে ইউরিয়া৷’’ শিপ বিল্ডিংয়ের ক্ষেত্রেও রাশিয়া ভারতকে নতুন সুযোগ দেবে বলে জানান তিনি৷ প্রধানমন্ত্রী মোদির কথায়, এই সমন্বয় এবং বন্ধুত্ব, সবটাই নতুন মাত্রা পেয়েছে পুতিনের নেতৃত্বে। এদিন প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘আজ থেকে ১৫ বছর আগে ভারত-রাশিয়ার সম্পর্ক বিশেষ অংশীদারিত্বের তকমা পেয়েছিল। এমনকি, গত ২৫ বছর ধরে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে অন্য মাত্রায় নিয়ে গিয়েছেন পুতিন। আমি তাঁর এই কৃতিত্বকে সম্মান জানাই।’’

    সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জোরালো সুর

    এদিন হায়দ্রাবাদ হাউসে মোদিকে বলতে শোনা যায়, ‘‘সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ভারত ও রাশিয়া দীর্ঘদিন ধরে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়ছে। সেটা পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলা হোক বা ক্রোকাস সিটি হলে কাপুরুষোচিত হামলা, এই সমস্ত ঘটনার মূলে একই। ভারতের অটল বিশ্বাস যে সন্ত্রাসবাদ মানবতার মূল্যবোধের উপর সরাসরি আক্রমণ। এবং এর বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী ঐক্যই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। রাষ্ট্রসংঘ, জি২০, ব্রিকস, এসসিও এবং অন্যান্য ফোরামে ভারত ও রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা রয়েছে। আমরা এই সমস্ত ফোরামে আমাদের আলোচনা এবং সহযোগিতা অব্যাহত রাখব।” ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই বার্তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সাম্প্রতিক অতীতেই বারংবার পাক প্রধানমন্ত্রী ও পাক সেনাপ্রধানকে ট্রাম্পের পাশে দাঁড়িয়ে ইঙ্গিতে ‘ভারতবিরোধী’ হুঙ্কার তুলতে দেখা গিয়েছে। শুক্রবার যেন সেই সকল হুঙ্কারের জবাব দিয়ে দিলেন মোদি।

    ইউক্রেন যুদ্ধ প্রসঙ্গ

    এদিকে শুক্রবার বৈঠকের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রীর কথায় উঠে আসে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রসঙ্গ। তিনি বলেন, “ভারত নিরপেক্ষ নয়। ভারত শান্তির পক্ষে। এটা শান্তির যুগ। সাম্প্রতিক অতীতে শান্তি ফেরাতে অনেক চেষ্টা হয়েছে। আমার বিশ্বাস গোটা বিশ্ব আবারও শান্তির পথে ফিরবে।” নেতা হিসেবেও পুতিনের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন মোদি। তিনি বলেন, “যুদ্ধ শুরুর পর থেকে প্রকৃত বন্ধুর মতো ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে দফায় দফায় আলোচনা করেছেন পুতিন। সমস্ত তথ্য জানিয়েছেন।” মোদির কথায়, আগামী দিনে বিশ্বে শান্তি ফিরবে বলে আশাবাদী তিনি, কারণ শান্তির মাধ্যমেই বিকাশ ঘটবে।

    স্পেশাল কারেন্সি তৈরির পথে

    বর্তমানে ২৭ ঘণ্টার সফরে ভারতে এসেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন৷ গত বৃহস্পতিবার বিকেলে ভারতের মাটিতে পা রাখেন পুতিন৷ ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের মাঝে পুতিনের এই ভারত সফরের দিকে বিশেষ নজর রাখছে ওয়াশিংটনও৷ আজ, শুক্রবার সকালে ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মূর্মূর সঙ্গে দেখা করেন পুতিন৷ তারপরে হয় মোদি-পুতিন দ্বিপাক্ষিক বৈঠক৷ বৈঠক শেষে দুই রাষ্ট্রনেতাই যৌথ সাংবাদিক বৈঠক করেন৷ সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় পুতিন, মোদিকে ‘ডিয়ার ফ্রেন্ড’ বলে বক্তব্য শুরু করেন। পুতিন বলেন, ‘‘আমরা স্পেশাল কারেন্সি তৈরির দিকে এগোচ্ছি৷ দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য লেনদেনে জাতীয় মুদ্রার ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে—এখন বাণিজ্য লেনদেনের ৯৬ শতাংশই জাতীয় মুদ্রায় হচ্ছে।” ⁠এনার্জি তৈরির ক্ষেত্রে সফল পার্টনারশিপ রয়েছে রাশিয়ার। ⁠ পুতিন বলেন, ‘‘ভারতে বৃহত্তম নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট, কুডানকুলাম তৈরিতে আমরা সহযোগিতা করছি৷ ⁠ভারতের সবচেয়ে বড় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে সহযোগিতা চলছে—ছয়টির মধ্যে তিনটি রিঅ্যাক্টর ইতোমধ্যেই গ্রিডে সংযুক্ত হয়েছে।’’

    নতুন আন্তর্জাতিক ট্রেড করিডোর

    পুতিন জানান, এই বৈঠকের পরে ভবিষ্যতে ⁠নিরাপত্তা, বাণিজ্য, সংস্কৃতি সহ একাধিক ক্ষেত্রে দু’দেশের সম্পর্ক আগের তুলনায় আরও মজবুত হবে৷ তাঁর কথায়, ‘‘নতুন আন্তর্জাতিক ট্রেড করিডোর তৈরির পরিকল্পনা করছি আমরা। যার মধ্যে অন্যতম হল উত্তর-দক্ষিণ পরিবহন করিডর প্রকল্প। রাশিয়ার টিভি চ‍্যানেল আরটি আজ থেকে ভারতে নিজেদের ব্রডকাস্ট শুরু করছে৷ ⁠আগামিবছর ভারত ব্রিকসে চেয়ার গ্রহণ করবে। আমাদের তরফে সব রকমের সহযোগিতা করা হবে ভারতকে৷ গত বছর ভারত-রাশিয়া দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ১২ শতাংশ বেড়ে প্রায় ৬৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। আমরা এই পরিমাণ ১০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করতে সক্ষম হব বলে মনে করি। মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল গঠনের প্রক্রিয়া আমাদের বাণিজ্য আরও বাড়াতে সাহায্য করবে। গত অর্ধশতাব্দী ধরে ভারতীয় সেনাবাহিনীকে আধুনিকীকরণে রাশিয়া সহযোগিতা করে আসছে। আমাদের আলোচনার ফলাফল অত্যন্ত সন্তোষজনক। এই সফর দু’দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও গভীর করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’’

  • OBC Category in Bengal: মুখোশ খুলল মমতার তোষণ-রাজনীতির, জাতীয় ওবিসি তালিকা থেকে বাদ পড়ছে রাজ্যের ৩৫ মুসলিম জনগোষ্ঠীর নাম

    OBC Category in Bengal: মুখোশ খুলল মমতার তোষণ-রাজনীতির, জাতীয় ওবিসি তালিকা থেকে বাদ পড়ছে রাজ্যের ৩৫ মুসলিম জনগোষ্ঠীর নাম

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের জন্য নির্দিষ্ট অন্য অনগ্রসর শ্রেণি (ওবিসি)-র কেন্দ্রীয় তালিকা থেকে ৩৫টি জনগোষ্ঠীকে বাদ দিতে বলেছে জাতীয় অনগ্রসর শ্রেণি কমিশন (NCBC)। এমনটাই জানাল কেন্দ্রীয় সরকার। রানাঘাটের বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকার লোকসভায় এ বিষয়ে জানতে চেয়েছিলেন কেন্দ্রের কাছে। মঙ্গলবার তাঁর প্রশ্নের লিখিত জবাব দিয়েছে সামাজিক ন্যায় এবং ক্ষমতায়ন মন্ত্রক। পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য ওবিসি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত একাধিক মুসলিম সম্প্রদায়কে নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে চলতে থাকা শুনানির মধ্যেই এনসিবিসি কেন্দ্রীয় ওবিসি তালিকা থেকে ৩৫টি সম্প্রদায়—যাদের বেশিরভাগই মুসলিম—অপসারণের সুপারিশ করেছে।

    জাতীয় অনগ্রসর শ্রেণি কমিশন-এর বক্তব্য

    কমিশনের তৎকালীন চেয়ারম্যান হানরাজ গঙ্গারাম আহির জানান, পশ্চিমবঙ্গের ওবিসি তালিকায় বিপুল সংখ্যক মুসলিম সম্প্রদায় অন্তর্ভুক্ত থাকার বিষয়টি পর্যালোচনা করেই এ সুপারিশ করা হয়েছে। তিনি বলেন, “৩৫টি সম্প্রদায়ের বেশিরভাগই মুসলিম, এক-দুটি হয়তো অমুসলিম হতে পারে।” কয়েক মাস পরই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন, এই পরিস্থিতিতে সুপারিশটি রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। সামাজিক ন্যায় মন্ত্রকের পক্ষ থেকে সম্প্রতি সংসদে জানানো হয়েছে যে, এনসিবিসি ইতোমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের কেন্দ্রীয় ওবিসি তালিকা থেকে ৩৫টি সম্প্রদায় বাদ দেওয়ার সুপারিশ পাঠিয়েছে। তবে কোন কোন সম্প্রদায়ের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, তা জানাতে রাজি হননি আহির। তাঁর বক্তব্য—এই সিদ্ধান্ত সরকারের ঘোষণা করার বিষয়।

    রানাঘাটের সাংসদের প্রশ্ন

    সংসদে রানাঘাটের বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকার জানতে চান, ২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকার কেন্দ্রীয় ওবিসি তালিকায় ৪৬টি জনগোষ্ঠীকে অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করেছিল কি না। তার মধ্যে ৩৭টি জনগোষ্ঠীকে ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল কি না, তা-ও জানতে চান তিনি। এ প্রসঙ্গে কলকাতা হাইকোর্টের ওবিসি শংসাপত্র মামলার প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন তিনি। রানাঘাটের বিজেপি সাংসদ জানতে চান, হাইকোর্টের নির্দেশের পরে কতগুলি জনগোষ্ঠী ওই তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এ অবস্থায় এনসিবিসি কোনও পদক্ষেপ করেছে কি না, কোনও জনগোষ্ঠীকে কেন্দ্রীয় তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার কথা বলেছে কি না, সেই তথ্যও জানতে চান সাংসদ।

    কী বলল সামাজিক ন্যায় মন্ত্রক

    জগন্নাথের প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী বিএল বর্মা জানান, পশ্চিমবঙ্গের জন্য ৪৬টি জনগোষ্ঠীকে কেন্দ্রীয় ওবিসি তালিকায় যুক্ত করার জন্য সুপারিশ করেছিল রাজ্য সরকার। তবে ২০১১ সালে এনসিবিসি থেকে ৩৭টি জনগোষ্ঠীকে কেন্দ্রীয় তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলেছিল। সেই মতো ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে গেজেট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। পরে চলতি বছরের জানুয়ারিতে এনসিবিসি পশ্চিমবঙ্গের ৩৫টি জনগোষ্ঠীকে কেন্দ্রীয় ওবিসি তালিকা থেকে বাদ দিতে বলেছে। উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে লোকসভা নির্বাচনের ঠিক আগে পশ্চিমবঙ্গের কেন্দ্রীয় ওবিসি তালিকায় যোগ হওয়া ৩৭টি সম্প্রদায় নিয়ে তদন্ত শুরু করে এনসিবিসি। এর মধ্যে ৩৫টিই ছিল মুসলিম সম্প্রদায়।

    ‘অস্বাভাবিকভাবে বেশি’ মুসলিম সম্প্রদায় অন্তর্ভুক্ত

    সংবিধানের ১০২তম সংশোধনী অনুসারে, এনসিবিসি-র মতামত পাওয়ার পর কেন্দ্রীয় সরকারকে পরিবর্তিত ওবিসি তালিকা সংসদে পেশ করতে হয়, এরপর রাষ্ট্রপতি তা অনুমোদন করলে নতুন তালিকা গেজেট করে প্রকাশিত হয়। কেন্দ্রীয় মন্ত্রক জানিয়েছে, বর্তমানে নয়টি রাজ্যের ওবিসি তালিকা সংশোধনের সুপারিশ তাদের কাছে রয়েছে। ২০২২ সালের ডিসেম্বর থেকে দায়িত্ব গ্রহণের পর আহির পশ্চিমবঙ্গ, কর্নাটক ও কেরল-সহ বিভিন্ন রাজ্যের ওবিসি তালিকা নতুন করে খতিয়ে দেখছিলেন। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে পশ্চিমবঙ্গে পরিদর্শনের পরই তিনি মন্তব্য করেন যে, রাজ্যের ওবিসি তালিকায় ‘অস্বাভাবিকভাবে বেশি’ মুসলিম সম্প্রদায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

    হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ

    প্রসঙ্গত, গত বছরের ২২ মে ওবিসি নিয়ে প্রথম রায় দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। বলা হয়েছিল, ২০১০ সালের পর রাজ্যের তালিকায় যত ওবিসি সম্প্রদায় যুক্ত হয়েছে, তা বাতিল। ২০১০ সালের পর থেকে জারি করা সমস্ত ওবিসি শংসাপত্রও বাতিল করে দেওয়া হয়। তার আগে রাজ্যে ওবিসি হিসাবে ৬৬টি সম্প্রদায় স্বীকৃত ছিল। বলা হয়, সামাজিক, আর্থিক এবং পেশাগত ভাবে সব জনগোষ্ঠীর মধ্যে সমীক্ষা করে নতুন করে ওবিসি তালিকা প্রকাশ করতে হবে রাজ্যকে। সেই অনুযায়ী রাজ্য একটি সমীক্ষা করে ওবিসি নিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল। কিন্তু তার বিরুদ্ধেও হাইকোর্টে মামলা হয়। গত ১৭ জুন এই সংক্রান্ত মামলায় রাজ্যের বিজ্ঞপ্তির উপরে স্থগিতাদেশ দেয় হাইকোর্ট। রাজ্য উচ্চ আদালতের এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যায়।

    তোষণের রাজনীতি তৃণমূলের

    এই তদন্ত ও সুপারিশকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজাও তীব্র হয়েছে। বিজেপি অভিযোগ করছে—বিরোধী শাসিত রাজ্যগুলির সরকার ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতি করতে গিয়ে মুসলিম সম্প্রদায়কে বেপরোয়া ভাবে ওবিসি তালিকায় যুক্ত করেছে। সম্প্রতি বিজেপি নেতা অমিত মালব্য সামাজিক মাধ্যমে দাবি করেন, বাদ দেওয়ার জন্য সুপারিশ করা সবক’টি সম্প্রদায়ই মুসলিম। তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে আক্রমণ করে বলেন, “দশক ধরে চলা তোষণ-নীতির বিকৃতি সংশোধন করছে মোদি সরকার।” তাঁর অভিযোগ—রাজ্য সরকারের ‘প্রগতিহীন ও তোষণ-চালিত’ নীতি সামাজিক ন্যায়ের পরিপন্থী, এবং কেন্দ্র সরকারের লক্ষ্য প্রকৃত পিছিয়ে পড়া শ্রেণির সঠিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

  • Vladimir Putin India Visit: একান্ত নৈশভোজে বিশেষ আলাপ! বন্ধু পুতিনকে ভগবদ গীতা উপহার মোদির

    Vladimir Putin India Visit: একান্ত নৈশভোজে বিশেষ আলাপ! বন্ধু পুতিনকে ভগবদ গীতা উপহার মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে (Vladimir Putin India Visit) ভগবদ গীতা উপহার দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Modi Putin Meet)। এক্স হ্যান্ডলে বিশেষ এই উপহারের কথা জানিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, ‘‘গীতার শিক্ষা পৃথিবী জুড়ে লক্ষ লক্ষ মানুষকে অনুপ্রেরণা দেয়।’’ তাই প্রেসিডেন্ট পুতিনকে দেওয়ার জন্য এর চেয়ে ভালো উপহার আর কিছুই হতে পারে না, বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল। পুতিনের হাতে মোদি যে গীতা তুলে দেন, তা রুশ ভাষায় অনূদিত। বৃহস্পতিবার রাতে দিল্লির ৭, লোক কল্যাণ মার্গে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে দুই রাষ্ট্রপ্রধানের একান্ত নৈশভোজের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানেই বন্ধু পুতিনকে এই বিশেষ উপহার দেন মোদি।

    মোদি-পুতিন বিশেষ সম্পর্ক

    ভারতের মাটিতে পুতিনকে স্বাগত জানাতে প্রোটোকল ভেঙে নিজেই বিমানবন্দরে উপস্থিত হয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। করমর্দন ও আলিঙ্গন করে দুই রাষ্ট্রপ্রধান রওনা দিয়েছিলেন একই গাড়িতে। পুতিনকে স্বাগত জানাতে পালাম বিমানবন্দরে রুশ শিল্পীরা ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় নৃত্য পরিবেশন করেন। তার পরে প্রধানমন্ত্রী মোদির সরকারি গাড়ি ‘ফরচুনার’-এ চেপেই দুই নেতা ৭, লোককল্যাণ মার্গে পৌঁছন। পুতিন ‘ফরচুনার’-এ ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই তৈরি হয় হুবহু সেই মুহূর্ত যা চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে চিনের তিয়ানজিন দেখেছিল। সেখানে এসসিও সামিটের ফাঁকে প্রেসিডেন্ট পুতিন তাঁর ‘অরাস সেনাত’-এ মোদিকে ডেকে নিয়েছিলেন! এ বার ডিসেম্বরের শীতে গোটা দুনিয়া দেখল ঠিক তার উল্টো ছবি। ‘ফরচুনার’ পিছু পিছু চলল ‘সর্ববিপদহরেষু’ অরাস সেনাত।

    মোদির আমন্ত্রণে নৈশভোজে পুতিন

    বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে একটি নৈশভোজে যোগ দেন পুতিন। সেখানেই তাঁর হাতে গীতা তুলে দেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। দুই নেতার বৈঠক হয় প্রধানমন্ত্রী মোদির সরকারি বাসভবনে, যেখানে ভারত–রাশিয়া বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে বিশেষ আলোকসজ্জা ও দুই দেশের পতাকা সাজানো ছিল। বৈঠকের আগে নিজের এক্স হ্যান্ডেলে মোদি লিখেছিলেন, তিনি পুতিনের সঙ্গে যাবতীয় আলোচনা নিয়ে আশাবাদী। ভারত–রাশিয়া বন্ধুত্ব বহু দশকের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ। এই সম্পর্কে দুই দেশের মানুষ উপকৃত হয়েছে। ভারতে আসের আগেই অবশ্য রুশ প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, ‘ভারত-রাশিয়া বন্ধুত্ব বহু পুরোনো। ইউক্রেন যুদ্ধের অনেক অনেক আগে থেকেই তা রয়েছে। তাতে কোনও ফাটল ধরেনি।’

  • Putin Visit in India: করমর্দন, আলিঙ্গন, বন্ধুত্বের বার্তা! প্রোটোকল ভেঙে বিমানবন্দরে পুতিনকে স্বাগত প্রধানমন্ত্রী মোদির

    Putin Visit in India: করমর্দন, আলিঙ্গন, বন্ধুত্বের বার্তা! প্রোটোকল ভেঙে বিমানবন্দরে পুতিনকে স্বাগত প্রধানমন্ত্রী মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বন্ধু মোদির আমন্ত্রণে সাড়া না দিয়ে থাকতে পারেননি। তাই ৪ বছরের ব্যবধানে ফের ভারত সফরে এলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। আজ ও আগামিকাল (৪-৫ ডিসেম্বর) ভারতে থাকবেন রুশ প্রেসিডেন্ট। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ভারতের মাটিতে পা রাখলেন পুতিন ৷ ‘বন্ধু’কে স্বাগত জানাতে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী মোদি হাজির হন দিল্লির পালাম সেনাঘাঁটিতে ৷ দু’দিনের সফরে ভারতে এসেছেন তিনি ৷ ইতিমধ্য়ে রুশ প্রতিনিধি দল ভারতে এসে পৌঁছেছে ৷ ২৩ তম ভারত-রাশিয়া বার্ষিক সম্মেলনে অংশ নিতেই দিল্লি এলেন রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন ৷

    মোদি-পুতিন সাক্ষাৎ

    রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এই প্রথমবার ভারতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট। ‘অতিথি দেব ভবঃ’ ভারতভূমের অতিপ্রাচীন সংস্কৃতি। অতিথিকে ভারতে দেবতার আসনে রাখা হয়। ভারতে প্রাচীনকাল থেকেই এই প্রথা রয়েছে। পুতিনকেও আপ্যায়নের ত্রুটি রাখছে না ভারত। পুতিনকে নিজে এয়ারপোর্টে রিসিভ করছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এর আগে ২০২১ সালের ৬ ডিসেম্বর ভারতে এসেছিলেন পুতিন। ঠিক সন্ধে সাড়ে ৬টায় ভারতের মাটিতে ল্যান্ড করে পুতিনের বিশেষ বিমান। পুতিন বিমান থেকে নামতেই তাঁকে জড়িয়ে ধরে স্বাগত জানালেন মোদি। করমর্দন করলেন দুই নেতা। এরপর একই গাড়িতে বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে যান দুই রাষ্টপ্রধান। সাধারণ প্রোটোকল অনুযায়ী কোনও বিদেশি রাষ্ট্রনেতা ভারত সফরে এলে তাঁকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানাতে হাজির থাকেন বিদেশমন্ত্রী বা বিদেশ মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী। কিন্তু ২০১৭ সালে বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানাতে প্রোটোকল ভেঙে দিল্লি বিমানবন্দরে হাজির হয়েছিলেন মোদী। ২০১৮-য় ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকেও মোদী নিজেই বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা জানাতে গিয়েছিলেন। এবার বন্ধু পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাত করতেও বিমানবন্দরে গেলেন মোদি।

    মোদি ও পুতিনের ব্যক্তিগত আলোচনা

    সম্প্রতিক সময়ে আমেরিকার সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের গ্রাফ তলানিতে। এই পরিস্থিতিতে পুতিনের নয়াদিল্লি সফর বিশেষ মাত্রা পেয়েছে। সব ঠিকঠাক থাকলে এই সফরেই আরও এস-৪০০ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম রাশিয়া থেকে কেনার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হতে চলেছে। এরই সঙ্গে আরও আধুনিক এস-৫০০ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমও আসবে ভবিষ্যতে। সেই চুক্তি নিয়ে আজ নৈশভোজের পর নরেন্দ্র মোদি ও পুতিনের ব্যক্তিগত আলোচনা হবে। মনে করা হচ্ছে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মতো বিষয়ও উঠে আসবে। ভারত বরাবরই যুদ্ধের বিরোধিতা করে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের কথা বলেছে। এবারও নয়াদিল্লি সেদিকেই জোর দেবে বলেই ধারণা।

    পুতিনের সফরসূচি

    বিদেশ মন্ত্রকের তরফে প্রকাশিত সফরসূচি অনুযায়ী, শুক্রবার সকালে রাষ্ট্রপতি ভবনে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাবেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু ৷ সাড়ে ১১ টার সময় তাঁর রাজঘাটে গিয়ে মহাত্মা গান্ধীর সমাধিতে শ্রদ্ধা জানানোর কথা রয়েছে ৷ এরপর নয়াদিল্লিতে হায়দরাবাদ হাউজে ২৩তম ভারত-রাশিয়া সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তাঁর বৈঠক হবে ৷ দুপুর ১.৫০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন একসঙ্গে সাংবাদিক বৈঠক করবেন ৷ বিকেল ৩.৪০ মিনিটে একটি বাণিজ্য অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন পুতিন ৷ সন্ধ্যা ৭টায় রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর আমন্ত্রণে রাষ্ট্রপতি ভবনে নৈশভোজে যোগ দেবেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ৷ রাত ৯টা নাগাদ ফের রাশিয়ার উদ্দেশে রওনা দেবেন তিনি ৷

    নিরাপত্তায় মোড়া দিল্লি

    প্রেসিডেন্ট পুতিনের এই সফর ঘিরে নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে নয়া দিল্লিকে। ইতিমধ্যে পুতিনের সুরক্ষায় রাশিয়ার থেকে ভারতে এসে পৌঁছেছে বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত ৫০ জনের একটি দল। মোতায়েন থাকছেন ভারতের এনএসজি কম্যান্ডোরাও। মস্কো থেকে উড়ে এসেছে পুতিনের প্রেসিডেন্সিয়াল বাহন অরাস সেনাট। ৬০০ হর্স পাওয়ারের এই গাড়ি আসলে চার চাকার উপর চলমান একটা দুর্গ। মাত্র ২ সেকেন্ডের মধ্যে ০ থেকে ১৪০ কিলোমিটার প্রতিঘণ্টা গতি তুলতে পারে এই গাড়ি। শত্রুর হাত থেকে বাঁচার জন্য এই গাড়িতে রয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। বাইরে রয়েছে ব্যালিস্টিক আর্মার। রয়েছে মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম। বোমা ও গ্রেনেড হামলায় এই গাড়ির কোনও ক্ষতি হয় না। ৪টে চাকা ফুটো হয়ে গেলেও দৌড়াতে থাকে এই গাড়ি।

    ভারত-রাশিয়া সামরিক চুক্তি

    পুতিনের সফরে ভারত যে চুক্তিতে দ্রুত স্বাক্ষর করার জন্য উন্মুখ, সেটি হল বিশ্বের অন্যতম সেরা ফাইটার জেট সুখোই-৫৭ ক্রয়। ভারতের জন্য সুসংবাদ নিয়ে আসছেন পুতিন। কারণ, নিছক একটি দেশ অন্য দেশকে সামরিক উপকরণ বিক্রয় করে মুনাফা করবে—বিষয়টি এমন নয়। রাশিয়া এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম এবং সুখোই বিক্রির পাশাপাশি প্রযুক্তি হস্তান্তর ও যৌথ উৎপাদনের চুক্তিতেও সবুজ সংকেত দেবে। এজন্য বাছাই করা হবে ভারতের তিনটি রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাকে। হিন্দুস্তান এরোনটিক্স, ভারত ইলেকট্রনিক্স এবং ভারত ডায়নামিক্স। অর্থাৎ ওই দু‌ই সামরিক উপকরণের রক্ষণাবেক্ষণ কিংবা দ্রুত ডেলিভারির জন্য মস্কোর দিকেই তাকিয়ে থাকতে হবে না। এই দুই চুক্তির অন্যতম শর্ত হল একটি বড় অংশের সংযুক্তিকরণ হবে ভারতেই। যা ভারত সরকারের যে কোনও সামরিক ও স্ট্র্যাটেজিক সমঝোতায় অন্যতম লক্ষ্য।

  • India Pakistan Conflict: সর্বক্ষণ ভারতের বিরুদ্ধে সংঘাত তৈরির অপচেষ্টা কট্টরপন্থী মুনিরের! বিস্ফোরক দাবি ইমরানের বোনের

    India Pakistan Conflict: সর্বক্ষণ ভারতের বিরুদ্ধে সংঘাত তৈরির অপচেষ্টা কট্টরপন্থী মুনিরের! বিস্ফোরক দাবি ইমরানের বোনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সর্বক্ষণ ভারতের বিরুদ্ধে সংঘাত (India Pakistan Conflict) তৈরির অপচেষ্টা পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের (Asim Munir)। কট্টর ইসলামপন্থী আসিম মুনির ভারতের সঙ্গে যুদ্ধ করার জন্য উদগ্রীব হয়ে থাকেন। এমনই বিস্ফোরক দাবি করলেন পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের (Imran Khan) বোন আলিমা খান। কয়েক সপ্তাহ ধরে টালবাহানার পর অবশেষে মঙ্গলবার ইমরান খানের সঙ্গে তাঁর বোন ডাক্তার উজমা খানুমকে দেখা করতে দেওয়া হয়। রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেলে ঢুকতে দেওয়া হয় পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের সর্বময় নেতা ইমরানের বোনকে। প্রাক্তন ক্রিকেট বিশ্বকাপ জয়ী পাক ক্যাপ্টেন গত দুবছর ধরে আদিয়ালা জেলে বন্দি।

    আসিম মুনির কট্টরপন্থী 

    ইমরান খানের বোন আলিমা খানের অভিযোগ, জেনারেল আসিম মুনিরের ইসলামী কঠোর অবস্থান পাকিস্তানকে ভারতের সঙ্গে সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। যা গণতান্ত্রিক পাকিস্তানের পক্ষে কখনওই ভালো নয়। প্রাক্তন পাক প্রধানমন্ত্রীর বোন আলিমা দাবি করেন, ইমরান খান একজন খাঁটি উদারপন্থী। তিনি চান ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে। স্কাই নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আলিমা খান বলেন, ‘‘আসিম মুনির কট্টরপন্থী ইসলামপন্থী। সেই কারণেই তিনি ভারতের সঙ্গে যুদ্ধ করার জন্য উদগ্রীব হয়ে থাকেন। তাঁর কট্টর ইসলামিক চিন্তাধারা ও সংরক্ষণ মনোভাবই তাঁকে জোর করে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে, যারা ইসলামে বিশ্বাস করে না।’’

    ইমরান খান স্বাধীন চিন্তাধারার

    অন্যদিকে ইমরান খান স্বাধীন চিন্তাধারার। যখন ইমরান খান ক্ষমতায় ছিলেন, তখন তিনি ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব স্থাপন করার চেষ্টা করেছিলেন বলে জানান তাঁর বোন। তিনি বলেন, ‘‘ইমরান খান যখন ক্ষমতায় এসেছিলেন, ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে চেয়েছিলেন। এমনকী বিজেপির সঙ্গেও। যখনই আসিম মুনিরের মতো মৌলবাদী ক্ষমতায় থাকবেন, তখন ভারতের সঙ্গে তো যুদ্ধ করতে চাইবেনই। এমনকী ভারতের বন্ধু দেশগুলিও ভুগবে।’’ পাশাপাশি ইমরান খানকে পাকিস্তানের ‘সম্পদ’ বলে অভিহিত করেন আলিমা। তিনি বলেন, “ইমরান খান এই দেশের ৯০ শতাংশ মানুষের প্রতিনিধিত্ব করেন। দেশের এমন একজন প্রতিনিধিকে কীভাবে কারাগারে রাখা যায়?” তিনি আরও বলেন করেন, “আসলে তারা পাকিস্তানের জনগণকে দমন করতে চায়। তারা জনগণের কণ্ঠস্বর শুনতে দিতে চায় না, আর জনগণ ইমরান খানের পাশে দাঁড়িয়ে আছে। তারা ভেবেছিল, যদি তাকে আলাদা করে রাখা যায়, তাহলে মানুষ তাকে ভুলে যাবে।”

    দেশের জন্য বিপজ্জনক

    পাক সেনাপ্রধান আসিম মুনিরকে ‘দেশের জন্য বিপজ্জনক’ বললেন পাকিস্তানের জেলবন্দি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। ক্রিকেটের মাঠ থেকে রাজনীতির ময়দানে নামা ইমরান বলেন, মুনির ইচ্ছাকৃত ভাবে আফগানিস্তানের সঙ্গে রাজনৈতিক চাপানউতোর বাড়াচ্ছেন। ৭৩ বছর বয়সি ইমরান এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, ‘‘আসিম মুনিরের নীতি পাকিস্তানের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনছে। ওঁর নীতির জন্য সন্ত্রাস এ ভাবে বাড়ছে। দেখে কষ্ট লাগে। পাকিস্তানের জন্য ভালো কিছু করায় ওঁর কোনও আগ্রহ নেই। উনি পশ্চিমের শক্তিদের তুষ্ট করতে চান। আফগানিস্তানের সঙ্গে দ্বন্দ্ব বাড়াচ্ছেন, যাতে গোটা বিশ্বকে দেখাতে পারেন উনি ‘মুজাহিদ’ (ইসলামিক যোদ্ধা)।’’ মুনিরকে ‘মানসিক অসুস্থ’ও বলেছেন ইমরান। তাঁর কথায়, ‘‘মুনিরের নৈতিক শূন্যতা পাকিস্তানের সাংবিধানিক আইনব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে।’’

    ঈশ্বরের কৃপায় সুস্থ ইমরান

    ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাতের পর সাংবাদিককের মুখোমুখি হয়ে তাঁর অপর বোন উজমা খানুম বলেন, ‘‘ঈশ্বরের কৃপায় ও সুস্থ আছে…কিন্তু ওঁর উপরে চলা মানসিক অত্যাচার নিয়ে ক্ষুব্ধ। সারাদিন সেলে বন্দি করে রাখা হয় ওঁকে…খুব অল্প সময়ের জন্যই সেল থেকে বেরতে পারে, কারোর সঙ্গে কথা বলতে দেওয়া হয় না।’’ জেলবন্দি ইমরান খান পাকিস্তানের সেনা প্রধান জেনারেল আসিম মুনিরকেই দুষেছেন দেশের বর্তমান অবস্থার জন্য। ইমরানের দাবি আসিম মুনির পাক সেনার সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিয়ে নিয়েছেন। এমনকী, সংবিধানে পরিবর্তন করে নিজেকে এবং সমস্ত সেনা প্রধান ও প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারিকে আজীবন সুরক্ষার ব্যবস্থা করেছেন।

    ইমরানের উপর মানসিক অত্যাচার

    ২০২৩ সাল থেকে জেলে রয়েছেন পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। বিগত এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে প্রাক্তন পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ-জল্পনা তৈরি হয়েছিল। অভিযোগ ওঠে, প্রায় এক মাস ধরে ইমরানের সঙ্গে পরিবারের কাউকে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না। অবশেষে মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেলে বন্দি থাকা ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয় তাঁর বোন উজমাকে। তিনি বলেন যে ইমরান বেঁচে থাকলেও, তাঁর উপরে মানসিক অত্যাচার করা হচ্ছে। উজমা বলেন, ‘‘ইমরান খান বলেছেন যে তাঁর কারও সঙ্গে কোনও যোগাযোগ নেই, এমনকী তিনি কারও সঙ্গে দেখাও করেননি। তিনি বলেছেন যে তারা তাঁকে মানসিকভাবে নির্যাতন করছে। তিনি ক্রুদ্ধ এবং বলেছেন যে যা কিছু ঘটছে তার জন্য আসিম মুনির দায়ী।’’

  • Indian Space Station: ২০৩৫ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ কার্যকর হবে ভারতীয় মহাকাশ স্টেশন, সংসদে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী

    Indian Space Station: ২০৩৫ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ কার্যকর হবে ভারতীয় মহাকাশ স্টেশন, সংসদে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মহাকাশ গবেষণা কেবল পৃথিবীর মাটিতে বসেই হবে না। যেতে হবে মহাকাশে। সেখানে থেকে যাবতীয় গবেষণা করলে সুবিধা অনেক বেশি। এখন ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশন ভেসে বেড়াচ্ছে মহাকাশে। পৃথিবীর মাটি থেকে ৪০০ কিলোমিটার উপরে। তবে সে তো ভারতের নিজস্ব নয়। ভারত (Indian Space Station) তার নিজের এমনই একটি স্টেশন তৈরি করতে চলেছে মহাকাশে। যার নাম দেওয়া হয়েছে ভারতীয় অন্তরীক্ষ স্টেশন। ভারতের নিজস্ব মহাকাশ স্টেশন আগামী ২০৩৫ সালের মধ্যেই পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর হবে বলে লোকসভায় জানালেন কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং। বিজেপি সাংসদ ভারতৃহরি মহতাবের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, মহাকাশ স্টেশনের সামগ্রিক নকশা ইতিমধ্যেই একটি জাতীয় স্তরের পর্যালোচনা কমিটি যাচাই করে দেখেছে। ‘ভারতীয় অন্তরীক্ষ স্টেশন’ (Bharatiya Antariksh Station – BAS) পুরোদমে কাজ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

    কেমন ভাবে কাজ করবে

    ধাপে ধাপে এগোবে কাজ। সেই কাজের প্রথম ধাপটি কবে মহাকাশে পাড়ি দেবে সেটা সংসদে আন্দাজ দিলেন মহাকাশ মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং। মন্ত্রী জানান, ২০২৮ সালে ভারতীয় অন্তরীক্ষ স্টেশনের বেস মডিউল বা বিএএস-১ পাড়ি দেবে মহাকাশে। সেই শুরু। তারপর ধাপে ধাপে মোট ৫টি এমন মডিউল মহাকাশে যাবে ২০৩৫ সালের মধ্যে। এগুলিই ভারতীয় অন্তরীক্ষ স্টেশনকে পূর্ণ রূপ দিতে সাহায্য করবে। যাবতীয় আন্তর্জাতিক মহাকাশ গবেষণা সংস্থার বক্তব্য মাথায় রেখেই এই পুরো আয়োজন করা হচ্ছে। ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড পুরোপুরি মেনে চলা হচ্ছে। ভারতীয় অন্তরীক্ষ স্টেশন তৈরি হয়ে গেলে সেখানে মহাকাশচারীরা থেকে গবেষণার কাজ চালাতে পারবেন। ৩ থেকে ৬ মাস পর্যন্ত থাকতে পারবেন তাঁরা।

    বাজেট ও অর্থায়ন

    কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র জানান, ইসরো ইতিমধ্যেই পাঁচটি মডিউল নিয়ে গঠিত পুরো স্টেশনের কাঠামো নির্ধারণ করেছে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা বিএএস-এর প্রথম মডিউল (BAS-01)–এর উপর কাজ শুরু করেছে। এই প্রথম মডিউলের সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ারিং ও বিভিন্ন সাব-সিস্টেমের প্রযুক্তিগত উন্নয়ন নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। জিতেন্দ্র সিং জানান, এই প্রকল্পগুলোর ব্যয় গগনযান কর্মসূচির সংশোধিত আর্থিক কাঠামোর মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে অনুমোদিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গগনযান প্রকল্পে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের ফলে এর মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ২০,১৯৩ কোটি টাকা। সরকার আরও জানায়, বিএএস-০১ নকশায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করা হচ্ছে, যাতে অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রযুক্তির সঙ্গে ভবিষ্যতে এর আন্তঃক্রিয়া (interoperability) নিশ্চিত করা যায়। বর্তমানে বিভিন্ন দেশের মহাকাশ সংস্থার সঙ্গে চালু থাকা সহযোগিতা চুক্তির মাধ্যমে যৌথ প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং বিশেষ পরীক্ষাগার সুবিধা ব্যবহারের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    গগনযান ও মহাকাশ স্টেশনের সম্পর্ক

    লোকসভায় মন্ত্রী জানান, গগনযান হবে ভারতের প্রথম মানববাহী যান। এই যান নিম্ন কক্ষপথে (LEO) নিরাপদে নভোচারী পৌঁছে দেওয়া এবং পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনার ক্ষমতা প্রদর্শন করবে। সরকার জানায়, ভারতীয় অন্তরীক্ষ স্টেশন গগনযানের পরবর্তী ধাপ, যা ভারতের মহাকাশ অভিযানের ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে। এটি ভবিষ্যতে মাইক্রোগ্রাভিটি–ভিত্তিক উন্নত বৈজ্ঞানিক গবেষণা, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং ভারতের চন্দ্রাভিযানসহ বিভিন্ন মিশনকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সহায়ক হবে—যা ভারতের স্পেস ভিশন–২০৪৭–এর অংশ। এখনও পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চিন—এই তিন দেশই স্বাধীনভাবে নিজেদের মহাকাশ স্টেশন পরিচালনা করেছে। ভারতের পরিকল্পিত বিএএস (BAS) কার্যকর হলে মানব মহাকাশ অভিযানের ক্ষেত্রে ভারত বিশ্বের চতুর্থ দেশ হিসেবে নিজস্ব মহাকাশ স্টেশন পরিচালনা করতে সক্ষম হবে।

  • Suvendu Adhikari: দিল্লিতে শাহী বৈঠকে শুভেন্দু, কমিশনের দফতরেও গেলেন বিরোধী দলনেতা

    Suvendu Adhikari: দিল্লিতে শাহী বৈঠকে শুভেন্দু, কমিশনের দফতরেও গেলেন বিরোধী দলনেতা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে এসআইআর নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্যেই বুধবার দিল্লি গেলেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। দেখা করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের (Amit Shah) সঙ্গে। শাহের সঙ্গে দেখা করার পাশাপাশি, এদিন জাতীয় নির্বাচন কমিশনের দফতরেও (Election Commission) যান শুভেন্দু। দেখা করেন নির্বাচন কমিশনার বিবেক জোশীর সঙ্গে।

    অমিত শাহের সঙ্গে সাক্ষাত

    বুধবার দিল্লি গিয়েছিলেন শুভেন্দু। নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে দেখা করার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। জানা গিয়েছে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীই ডেকে পাঠিয়েছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতাকে। সংসদে অমিত শাহের অফিসে তাঁদের বৈঠক হয়। মিনিট ২৫ কথা হয়। তবে কী কথা হয়েছে, তা নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলেননি শুভেন্দু। সূত্রের খবর, রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে শাহের সঙ্গে কথা হয়েছে শুভেন্দুর।

    নির্বাচন কমিশনের দফতরে শুভেন্দু

    সেইসঙ্গে দিল্লিতে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের দফতরেও যান শুভেন্দু। দেখা করেন নির্বাচন কমিশনার বিবেক জোশীর সঙ্গে। জানা গিয়েছে, কমিশনে একাধিক অভিযোগ জানান তিনি। দলের নির্দেশে তিনি নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে দেখা করেন বলে বিরোধী দলনেতা জানান। নির্বাচন কমিশনের দফতর থেকে বেরিয়ে শুভেন্দু বলেন, “২৬, ২৭ ও ২৮ নভেম্বর বিএলও-দের কাছ থেকে ওটিপি নিয়ে যেভাবে ১ কোটি ২৫ লক্ষ নাম ডিজিটাইজড করা হয়েছে, সেটা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক গতিবিধি। অনেক বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীর বাবার নাম, মায়ের নাম পাল্টে দিয়ে এটা করা হয়েছে। একাধিক মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় এটা দেখবেন।”

    কমিশনকে চিঠিতে শুভেন্দুর দাবি

    এসআইআর এর প্রথম দফার কাজকর্মে বাংলায় বুথ লেবেল অফিসারদের নানাভাবে তৃণমূল ম্যানেজ করেছে বলে বিজেপির অভিযোগ। এমন পরিস্থিতিতে এসআইআর (SIR) এর দ্বিতীয় দফা প্রক্রিয়া শুরুর আগে কমিশনকে মঙ্গলবার চিঠি দেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী । মঙ্গলবার পাঠানো চিঠিতে কমিশনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করে শুভেন্দু সতর্ক করেছেন, “এই পর্যায়ে কোনও আপস হলে চিরস্থায়ী ক্ষতি হবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকার সততায়।” চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR)-এর দ্বিতীয় ধাপ পুরো প্রক্রিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কারণ, এই ধাপেই দাবি-আপত্তি, নথি জমা ও খতিয়ে দেখার কাজ হয়। সেই কাজেই নাকি ‘অতিমাত্রায় অনাকাঙ্ক্ষিত প্রভাব’ খাটানো হচ্ছে বলে “নির্ভরযোগ্য ও ধারাবাহিক রিপোর্ট” পাচ্ছেন তিনি। তাঁর কথায়, এই অভিযোগগুলির কারণেই প্রশ্নের মুখে পড়ছে এসআইআর-এর নিরপেক্ষতা।

    মাইক্রো অবজার্ভারের তত্ত্বাবধানে স্ক্রুটিনি

    শুভেন্দুর দাবি, এসআইআর এর দ্বিতীয় ধাপকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও নিরাপদ রাখতে নির্বাচন কমিশনকে অবিলম্বে দু’টি ব্যবস্থা নিতে হবে। এক, পুরো প্রক্রিয়াই রাখতে হবে মাইক্রো অবজার্ভারের কঠোর তত্ত্বাবধানে। এবং নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে এই মাইক্রো অবজার্ভারদের কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী হওয়া জরুরি। দুই, দাবি-আপত্তি শুনানি ও যাচাইয়ের কাজ ১০০ শতাংশ সিসিটিভি–র আওতায় রাখতে হবে। এবং সেই সমস্ত ফুটেজ সংরক্ষণ করতে হবে এসআইআর-এর শেষ দিন পর্যন্ত। তাঁর দাবি, এটা না হলে কারচুপি আটকানো অসম্ভব। চিঠিতে আরও লেখা আছে, ভোটার তালিকা দ্রুত ত্রুটি মুক্ত না হলে ভবিষ্যতের নির্বাচনী প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই নির্বাচন কমিশনকে “অবিলম্বে হস্তক্ষেপ করে স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও কঠোর নজরদারি” নিশ্চিত করার অনুরোধ জানিয়েছেন বিরোধী দলনেতা।

LinkedIn
Share