Author: ishika-banerjee

  • Kishtwar Encounter: ‘অপারেশন ত্রাশি–আই’ অব্যাহত, কিশতওয়ারে জঙ্গি ঘাঁটি ভাঙল নিরাপত্তা বাহিনী

    Kishtwar Encounter: ‘অপারেশন ত্রাশি–আই’ অব্যাহত, কিশতওয়ারে জঙ্গি ঘাঁটি ভাঙল নিরাপত্তা বাহিনী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জম্মু ও কাশ্মীরের কিশতওয়ারে (Kishtwar Encounter) জইশ-ই-মহম্মদ (JeM) জঙ্গিদের একটি গোপন আস্তানা ভেঙে দিল নিরাপত্তা বাহিনী। জঙ্গিদের খোঁজে চালানো ব্যাপক তল্লাশি অভিযান মঙ্গলবার তৃতীয় দিনে পড়েছে। জঙ্গিদের সঙ্গে যুক্ত থাকার সন্দেহে একাধিক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। চলমান ‘অপারেশন ত্রাশি–আই’-(Operation Trashi-I) এর মধ্য দিয়ে জঙ্গিদের একটি গোপন ডেরার খোঁজ পায় নিরাপত্তা বাহিনী। ওই ডেরা থেকে বিপুল পরিমাণ খাদ্যসামগ্রী—রেশন, ঘি, বাসনপত্র, গ্যাস সিলিন্ডার ও স্টোভ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আধিকারিকরা।

    গভীর জঙ্গলে লুকিয়ে জঙ্গিরা 

    সূত্রের খবর, আস্তানাটি শীতকালের জন্য পর্যাপ্ত রেশনে ভর্তি ছিল এবং একাধিক জঙ্গির থাকার মতো বড় ছিল। এই সাফল্য আসে তার একদিন পর, যখন কিশতওয়ারে (Kishtwar Encounter) নিরাপত্তা বাহিনী ও জঙ্গিদের মধ্যে সংঘর্ষে এক প্যারাট্রুপার শহিদ হন। রবিবার কিশতওয়ারের চাত্রু এলাকার সোনার গ্রাম সংলগ্ন মান্দ্রাল–সিংহপোরা অঞ্চলে অভিযান শুরু হয়। সেখানে নিরাপত্তা বাহিনী ও জঙ্গিদের মধ্যে এনকাউন্টার ঘটে। পাকিস্তানভিত্তিক জইশ-ই-মহম্মদের সঙ্গে যুক্ত ২–৩ জন জঙ্গি এলাকায় লুকিয়ে রয়েছে বলে ধারণা। জঙ্গিরা গভীর জঙ্গলে পালিয়ে যায়। তবে নিরাপত্তা বাহিনী তাদের একটি সুসজ্জিত আস্তানা ভেঙে দিতে সক্ষম হয়, যেখানে বিপুল পরিমাণ শীতকালীন রসদ—খাবার, কম্বল ও বাসনপত্র—মজুত ছিল।

    জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক

    অভিযান তদারকিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন জম্মু জোনের আইজি পুলিশ ভীম সেন তুতি এবং সিআরপিএফ-এর আইজি (জম্মু) আর গোপাল কৃষ্ণ রাও। তাঁদের সঙ্গে একাধিক সেনা আধিকারিকও সেখানে শিবির গেড়েছেন। এদিকে মঙ্গলবার সকালে জম্মুতে শহিদ স্পেশাল ফোর্স কমান্ডো হাবিলদার গজেন্দ্র সিংকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে সাতওয়ারিতে একটি শ্রদ্ধাঞ্জলি অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। পরে শহিদের মরদেহ নিজ গ্রামে পাঠানো হয়। সোমবার দুপুরে ১২ হাজার ফুট উচ্চতায় অবস্থিত ওই জঙ্গি আস্তানা উদ্ধারের ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। নিরাপত্তা বাহিনী এখন সেই ওভারগ্রাউন্ড ওয়ার্কারদের (OGW) শনাক্ত করার চেষ্টা করছে, যারা জঙ্গিদের জন্য বিপুল পরিমাণ রেশন, ডাল, বাসনপত্র ও অন্যান্য সামগ্রী সংগ্রহ ও পরিবহণে সহায়তা করেছিল। উদ্ধার হওয়া সামগ্রী অন্তত চারজন জঙ্গির দীর্ঘ শীতকালীন থাকার জন্য যথেষ্ট বলে জানিয়েছেন নিরাপত্তারক্ষীরা। সেনাবাহিনীর হোয়াইট নাইট কর্পস জানিয়েছে, চাত্রু এলাকায় ‘অপারেশন ত্রাশি-আই’ (Operation Trashi-I) অব্যাহত রয়েছে। কর্পস, পুলিশ ও সিআরপিএফ যৌথভাবে এলাকা ঘিরে রেখে তল্লাশি আরও জোরদার করেছে। কঠিন ভূপ্রকৃতি, ঘন জঙ্গল ও খাড়া ঢালের মধ্যেও ড্রোন ও স্নিফার ডগের সাহায্যে সেনা, পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর একাধিক দল তল্লাশি চালাচ্ছে। সীমিত দৃশ্যমানতা ও চলাচলের অসুবিধা সত্ত্বেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সরকারি সূত্রের দাবি, পাকিস্তানভিত্তিক জইশ-ই-মহম্মদের সঙ্গে যুক্ত দুই থেকে তিনজন জঙ্গি ওই এলাকায় আটকে থাকতে পারে।

  • S Jaishankar: সন্ত্রাসে মদত নয়! পাকিস্তানকে হুঁশিয়ারি, পোল্যান্ডকে কী বার্তা জয়শঙ্করের?

    S Jaishankar: সন্ত্রাসে মদত নয়! পাকিস্তানকে হুঁশিয়ারি, পোল্যান্ডকে কী বার্তা জয়শঙ্করের?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সন্ত্রাসবাদের মদতদাতা পাকিস্তান। তাদের পাশে না দাঁড়ানোর জন্য পোল্যান্ডকে বিশেষ বার্তা বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের। পাকিস্তানের জঙ্গিনীতি থেকে দূরে থাকাই উচিত ওয়ারশ রাজনীতির। সোমবার পোল্যান্ডের বিদেশমন্ত্রী সিকরস্কিকে এই বার্তায় দিলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তিন দিনের ভারত সফরে এসেছেন পোল্যান্ডের বিদেশমন্ত্রী সিকরস্কি। সোমবার ছিল তার সফরের শেষদিন। আর এই সফর শেষের আগে বিদেশমন্ত্রী এস.জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠকে বসেন তিনি। সেখানেই পাকিস্তানের পাশে দাঁড়ানো নিয়ে পোল্যান্ডকে সাফ বার্তা ভারতের।

    জম্মু কাশ্মীর প্রসঙ্গ, সন্ত্রাস নিয়ে কড়া বার্তা

    সূত্রের খবর, ভারত ও পোল্যান্ড দুই দেশের বিদেশমন্ত্রীর বৈঠকে উঠে এসেছে রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে জম্মু কাশ্মীর প্রসঙ্গ। আর দুই দেশের যৌথ বিবৃতিতে কাশ্মীরের সমস্যা মেটাতে রাষ্ট্রসঙ্ঘের হস্তক্ষেপের প্রয়োজন বলেও জানায় ভারত। এমনকি সন্ত্রাসবাদে মদত না দেওয়ার প্রসঙ্গও উঠে এসেছে। সরাসরি ইসলামাবাদের নাম না নিলেও পাকিস্তানকে তোপ দেগেছে ভারত। বিদেশমন্ত্রী এস.জয়শঙ্কর বলেন-“আমরা আশাবাদী, পোল্যান্ড সন্ত্রাসবাদে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েই চলবে।” জয়শঙ্করের এই মন্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ গত বছরের অক্টোবরে পাকিস্তান সফরের সময় পোল্যান্ড কাশ্মীর ইস্যুতে ইসলামাবাদের সঙ্গে একটি যৌথ বিবৃতি দেয়। বৈঠকের শুরুতে জয়শঙ্কর বলেন, পোল্যান্ড দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষিণ এশিয়ায় সীমান্ত পেরিয়ে সন্ত্রাসবাদের হুমকির বিষয়টি জানে। তিনি বলেন, “উপপ্রধানমন্ত্রী, আপনি আমাদের অঞ্চল সম্পর্কে অবগত এবং সীমান্ত পেরিয়ে সন্ত্রাসবাদের দীর্ঘদিনের সমস্যার কথা জানেন। পোল্যান্ডের উচিত সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া এবং আমাদের প্রতিবেশী সন্ত্রাসী পরিকাঠামোকে কোনওভাবেই উৎসাহ না দেওয়া।”

    কূটনৈতিক তৎপরতা ভারতের

    জয়শঙ্করের এই মন্তব্যের পর সিকোরস্কি সম্মতিসূচক মাথা নেড়ে সীমান্ত পেরিয়ে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে একযোগে লড়াইয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। তিনি জানান, পোল্যান্ড নিজেও সাম্প্রতিক সময়ে সন্ত্রাসমূলক হামলার শিকার হয়েছে। সিকোরস্কি বলেন, “সম্প্রতি ইউক্রেনের সঙ্গে সংযোগকারী একটি রেলপথে চলন্ত ট্রেনের নিচে বিস্ফোরণ ঘটে, যা কার্যত রাষ্ট্র-সন্ত্রাসের উদাহরণ।” ঘটনাটি ঘটে ২০২৫ সালের অক্টোবরে। গত কয়েক বছরে ইউরোপীয় দেশ ও প্রতিষ্ঠানগুলিকে পাকিস্তানের সন্ত্রাসে অর্থ জোগানো এবং জঙ্গি গোষ্ঠীগুলিকে নিরাপদ আশ্রয় দেওয়ার ইতিহাস সম্পর্কে সতর্ক করতে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়িয়েছে ভারত।

    রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধ প্রসঙ্গ

    বৈঠকে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষিতে রাশিয়া থেকে তেল আমদানির কারণে ভারতের উপর শুল্ক চাপানোর বিষয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন জয়শঙ্কর। তিনি বলেন, “নিউ ইয়র্ক ও প্যারিসে আগেও আমি ইউক্রেন সংঘাত ও তার প্রভাব নিয়ে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছি। একই সঙ্গে বলেছি, ভারতের বিরুদ্ধে এই নির্বাচনীভাবে ব্যবস্থা নেওয়া অন্যায় ও অযৌক্তিক। আজও আমি সেই কথাই পুনরায় বলছি।” জবাবে সিকোরস্কি বলেন, “নির্বাচনী টার্গেটিং শুধু শুল্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এর আরও নানা রূপ রয়েছে।”

     

     

     

     

     

  • India UAE MOU: প্রতিরক্ষা, জ্বালানি থেকে এআই, ৩ ঘণ্টার সফরে সই ৫ চুক্তি! আমিরশাহির প্রেসিডেন্টের সঙ্গে মোদির একাধিক সমঝোতা

    India UAE MOU: প্রতিরক্ষা, জ্বালানি থেকে এআই, ৩ ঘণ্টার সফরে সই ৫ চুক্তি! আমিরশাহির প্রেসিডেন্টের সঙ্গে মোদির একাধিক সমঝোতা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহির (UAE) সম্পর্কে আরও উষ্ণতা যোগ হল আবু ধাবির প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়েদের (India UAE meeting) ভারত সফরে। মাত্র দুই ঘণ্টার সফরে দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। সংক্ষিপ্ত সফরেই দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি, পারমাণবিক শক্তি, প্রতিরক্ষা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), বাণিজ্য, সন্ত্রাসবিরোধী লড়াই-সহ বহু গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে বড় সিদ্ধান্ত হয়েছে। বৈঠক শেষে স্পষ্ট, ভারত-আমিরশাহি সম্পর্ক (India UAE relation) এখন শুধু কূটনৈতিক সৌজন্য নয়, বরং কৌশলগত অংশীদারত্বের নতুন উচ্চতায় পৌঁছে গিয়েছে।

    ভারত-আমিরশাহির দৃঢ় বন্ধুত্বের প্রতীক

    সোমবার সুদূর সংযুক্ত আমিরশাহি থেকে ঝটিকা সফরে ভারতে এসেছিলেন প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান। দিল্লি বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তিনি। তাঁকে স্বাগত জানাতে সেখানে পৌঁছে যান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও। তারপর প্রধানমন্ত্রী মোদির গাড়িতেই চলে বৈঠক। আমিরশাহির প্রেসিডেন্টের এই ঝটিকা সফরের কিছু মুহূর্ত নিজের সমাজমাধ্যমে তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী। এদিন এক্স হ্য়ান্ডেলে বেশ কয়েকটি ছবি পোস্ট করে মোদি লিখেছেন, ‘আমার ভাই, প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়েদকে স্বাগত জানাতে গিয়েছিলাম। তাঁর এই সফর ভারত-আমিরশাহির দৃঢ় বন্ধুত্বের প্রতীক।’

    ফলপ্রসূ ও বাস্তবমুখী বৈঠক

    নয়াদিল্লি সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণ রক্ষায় ভারতে এসেছিলেন আরব আমিরশাহির প্রেসিডেন্ট। ছিলেন মাত্র তিন ঘণ্টা। এর মধ্য়েই নানা কূটনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা চলেছে দু’পক্ষের মধ্যে। জায়েদের সফর প্রসঙ্গে বিদেশমন্ত্রকের প্রকাশিত তালিকায় দেখা গিয়েছে, বিভিন্ন রাজ্যে বিনিয়োগ থেকে মহাকাশ গবেষণা — নানাবিধ বিষয়ে হাত মেলাতে প্রস্তুত হয়েছে ভারত এবং আরব আমিরশাহি। প্রায় তিন ঘণ্টার এই বৈঠকে দু’দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে সীমিত এবং বর্ধিত পরিসরের আলোচনা হয়। বিদেশ সচিব বিক্রম মিশ্রের কথায়, বৈঠকের সময় কম হলেও সিদ্ধান্তগুলো অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও বাস্তবমুখী।

    প্রতিরক্ষা সহযোগিতা

    প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে একটি লেটার অব ইন্টেন্ট সই হয়, যার মাধ্যমে ভবিষ্যতে যৌথ প্রতিরক্ষা উৎপাদন ও প্রযুক্তি উন্নয়নের কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে। মহাকাশ ক্ষেত্রে দু’টি লঞ্চ সুবিধা এবং স্যাটেলাইট প্রস্তুত কারখানা তৈরির জন্যও চুক্তি হয়েছে, যা দু’দেশের যৌথ মহাকাশ অবকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করবে।

    জ্বালানি নিরাপত্তা

    বৈঠকের মূল ফোকাস ছিল জ্বালানি নিরাপত্তা। শক্তি খাতে আমিরাত প্রতি বছর ভারতের জন্য ০.৫ মিলিয়ন মেট্রিক টন এলএনজি সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ফলে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তায় ইউএই দ্বিতীয় বৃহত্তম সরবরাহকারী হিসেবে ভূমিকা নেবে। ভারত ও আমিরশাহি স্বাগত জানিয়েছে এইচপিসিএল (HPCL) এবং এডিএনওসি (ADNOC Gas)–এর মধ্যে ১০ বছরের এলএনজি (LNG) সরবরাহ চুক্তি স্বাক্ষরকে (India UAE energy deal)। এই চুক্তি অনুযায়ী ২০২৮ সাল থেকে ভারত বছরে ০.৫ মিলিয়ন টন এলএনজি পাবে। এর ফলে ভারতের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি চাহিদা আরও স্থিতিশীল হবে।

    পরমাণু শক্তি ব্যবহার

    শান্তিপূর্ণ পরমাণু শক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে দু’দেশের মধ্যে সহযোগিতার দরজা খোলা হচ্ছে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে। প্রথমবারের মতো দুই দেশ বেসামরিক পারমাণবিক শক্তিতে যৌথ উদ্যোগ নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। পারমাণবিক চুল্লি তৈরিতে সব ক্ষেত্রেই সহযোগিতা বাড়ানো হবে। ভারতের নতুন শান্তি (SHANTI) আইন আন্তর্জাতিক পারমাণবিক সহযোগিতার পথ আরও সহজ করবে বলে দুই পক্ষই মত প্রকাশ করেছে।

    এআই, ডেটা ও ডিজিটাল সহযোগিতা

    অর্থনৈতিক ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আমিরাতের পক্ষ থেকে গুজরাটের ধোলেরা স্পেশাল ইনভেস্টমেন্ট রিজিয়ন, ডেটা সেন্টার, সুপার কম্পিউটিং এবং এআই সংক্রান্ত প্রকল্পে বিনিয়োগের ঘোষণা এসেছে। ‘ডেটা এম্বাসি’ ধারণা নিয়েও দুই পক্ষ আলোচনা করেছে, যা সার্বভৌম ডেটা ব্যবস্থার নতুন কাঠামো তৈরি করতে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও উদীয়মান প্রযুক্তি ছিল আলোচনার কেন্দ্রে (India UAE AI cooperation)। দুই দেশ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ভারতে একটি সুপারকম্পিউটিং ক্লাস্টার গড়ে তোলা হবে। আমিরশাহি ডেটা সেন্টারে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। ডিজিটাল এমবাসি নির্মাণের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হবে। শেখ মহম্মদ ২০২৬ সালে ভারতে এআই ইমপ্যাক্ট সামিট (AI Impact Summit) আয়োজনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।

    মহাকাশ গবেষণা

    একই ভাবে মহাকাশ গবেষণার স্বার্থেও একটি লেটার অব ইনটেন্ট স্বাক্ষর করেছে ভারত-আরব আমিরশাহি। এর ফলে উপগ্রহ তৈরি থেকে লঞ্চিং- স্পেস সেক্টরে যৌথ উদ্যোগ বাড়বে।

    অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বিনিয়োগ

    খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে যে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে, তা ভারতীয় কৃষক ও আমিরাতের খাদ্য সরবরাহ চাহিদা। উভয় দিকেই সুবিধা দেবে। এই আলোচনায় বিশেষ জায়গা পেয়েছে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য। ২০৩২ সালের মধ্য়ে ভারত-আরব আমিরশাহির দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য দ্বিগুণ করার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে নয়াদিল্লি-আবু ধাবি। টার্গেট ২০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। গুজরাটে তৈরি হবে আবু ধাবি ব্যাঙ্ক ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের অফিস। বাড়বে কর্মসংস্থান, প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ।

    সন্ত্রাসবাদ নিয়ে একমত

    সন্ত্রাসবাদ নিয়ে দু’দেশই কঠোর অবস্থান নিয়েছে। সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ-সহ সব ধরনের জঙ্গি কার্যকলাপের নিন্দা করেছেন আমিরশাহির প্রেসিডেন্ট। দুই দেশ একটি কৌশলগত প্রতিরক্ষা অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে প্রাথমিক চুক্তিপত্র (Letter of Intent) সই করেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে সেনাবাহিনীর বিভিন্ন শাখার সফর ও যৌথ মহড়া দু’দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে। দুই নেতা সীমান্ত-পার সন্ত্রাসবাদ নিয়ে যৌথভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করে দোষীদের বিচারের আওতায় আনার দাবিও তুলেছেন।

    ‘হাউজ অফ ইন্ডিয়া’ প্রতিষ্ঠা

    আবুধাবিতে ৪৫ লক্ষ ভারতীয় বাসিন্দার জন্য ‘হাউজ অফ ইন্ডিয়া’ প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত হয়েছে, যা সাংস্কৃতিক ও প্রশাসনিক সহায়তার কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে। পাশাপাশি বাণিজ্য বৃদ্ধি, যুব বিনিময় কর্মসূচি, পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠা, এসব বিষয়েও দু’দেশ একসঙ্গে কাজ করবে বলে জানানো হয়েছে।

    আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিষয়

    ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সম্পর্ক দীর্ঘ দিনের। দুই দেশের মধ্যে স্থানীয় মুদ্রা ব্যবস্থাপনা, আর্থিক সহযোগিতা চুক্তি, দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ চুক্তি রয়েছে। জ্বালানি সরবরাহ সংক্রান্ত একাধিক দীর্ঘস্থায়ী চুক্তিও রয়েছে নয়াদিল্লি-আবু ধাবির। ২০১৯ সালের অগস্টে মোদির আবু ধাবি সফরের সময় তাঁর হাতে সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান ‘অর্ডার অব জায়েদ’ তুলে দিয়ে, নয়াদিল্লির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক মিত্রতা আরও বাড়ানোর স্পষ্ট বার্তা দিয়েছিল সংযুক্ত আরব আমিরশাহি। আবু ধাবির তৎকালীন শাসক জায়েদ ২০২২ সালে সে দেশের প্রেসিডেন্ট হয়েছেন। দুই নেতা পশ্চিম এশিয়ার স্থিতিশীলতা নিয়ে আলোচনা করেছেন। আমিরশাহি ২০২৬ সালে ভারতের ব্রিকস (BRICS) সভাপতিত্বকে সমর্থন করেছে। ভারত সমর্থন করেছে আমিরশাহির জল সম্মেলন (UN Water Conference 2026)-কে।

  • Kishtwar Encounter: কিশতওয়ারে ফের গুলির লড়াই, মৃত্যু সেনা জওয়ানের! ৩ জইশ জঙ্গির খোঁজে চলছে তল্লাশি অভিযান

    Kishtwar Encounter: কিশতওয়ারে ফের গুলির লড়াই, মৃত্যু সেনা জওয়ানের! ৩ জইশ জঙ্গির খোঁজে চলছে তল্লাশি অভিযান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জম্মু ও কাশ্মীরের (Jammu Kashmir) কিশতওয়ার (Kishtwar encounter) জেলায় সিংহপোড়া এলাকায় সোন্নার গ্রামে নিরাপত্তা বাহিনী ও পাকিস্তান-সমর্থিত জঙ্গিদের মধ্যে সংঘর্ষে এক সেনা জওয়ানের মৃত্যু হয়েছে। রবিবার সংঘর্ষের সময় ভারী গুলিবর্ষণে আরও সাতজন জওয়ান আহত হন। আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, পাকিস্তান সমর্থিত জইশ-ই-মহম্মদের তিনজন জঙ্গি (Jaish-e-Mohammed terrorists) গ্রেনেড ছুড়ে বাহিনীকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়।

    সেনা -জওয়ান নিহত

    পুলিশ সূত্রে খবর, পাকিস্তান-ভিত্তিক জইশ-ই-মহম্মদের (Jaish-e-Mohammed) দু’ থেকে তিনজন জঙ্গি ওই অঞ্চলে লুকিয়ে রয়েছে—এই প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতেই দুপুর নাগাদ সোন্নার গ্রামে অভিযান শুরু করেছিল নিরাপত্তাবাহিনী। অপারেশনটির (Kishtwar encounter) নেতৃত্ব দেয় জম্মু-ভিত্তিক সেনা ইউনিট হোয়াইট নাইট কোর। গুলির লড়াই চলাকালীন আটজন জওয়ান স্প্লিন্টার ইনজুরিতে আহত হন। তাদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে চিকিৎসা চলাকালীন একজন জওয়ানের মৃত্যু হয়। জঙ্গিদের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত হয়ে ভারতীয় সেনার স্পেশাল ফোর্সেস (SF)-এর এক প্যারাট্রুপার শহিদ হয়েছেন। সোমবার সেনা সূত্রে জানানো হয়েছে, ওই এলাকায় তল্লাশি অভিযান দ্বিতীয় দিনে প্রবেশ করেছে। শহিদ সেনার নাম হাবিলদার গজেন্দ্র সিং। সেনা কর্মকর্তাদের মতে, সন্ত্রাস দমন অভিযানের সময় তিনি গুরুতর আহত হন। ভারতীয় সেনার হোয়াইট নাইট কোর তাদের এক্স হ্যান্ডেলে জানিয়েছে, “হোয়াইট নাইট কোরের জিওসি এবং সমস্ত পদমর্যাদার সেনাকর্মীরা স্পেশাল ফোর্সেসের হাবিলদার গজেন্দ্র সিংকে গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। ১৮–১৯ জানুয়ারি ২০২৬-এর মধ্যরাতে চলমান অপারেশন ‘ ত্রাসি–১’-এর আওতায় সিংপুরা এলাকায় সন্ত্রাস দমন অভিযানে সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিনি সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন।” বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, “আমরা তাঁর অদম্য সাহস, বীরত্ব ও কর্তব্যনিষ্ঠার প্রতি শ্রদ্ধা জানাই এবং এই গভীর শোকের মুহূর্তে তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছি।”

    চলছে তল্লাশি অভিযান

    কিশতওয়ার জেলার (Kishtwar encounter) ওই এলাকায় এখনও তল্লাশি ও অভিযান চলছে। যাতে জঙ্গিরা কোনওভাবেই পালাতে না পারে, তার জন্য ঘিরে ফেলা হয়েছে পুরো এলাকা। পুলিশ ও সেনা সূত্র জানাচ্ছে, মানদ্রাল–সিংহপোড়া অঞ্চলের কাছে চাট্রুর সোন্নার গ্রামে ‘অপারেশন ত্রাশি–১’-এর অংশ হিসেবে চলছিল কর্ডন অ্যান্ড সার্চ অপারেশন। দুপুর নাগাদ তল্লাশি অভিযান চলাকালীন আচমকা গুলির শব্দ শোনা যায়। জওয়ানরা জঙ্গিদের অবস্থান চিহ্নিত করার চেষ্টা করতেই শুরু হয় গুলিবর্ষণ। সেনাবাহিনী জানিয়েছে, জঙ্গিদের গুলির জবাব দিতে গিয়ে কঠিন ভৌগোলিক অবস্থান ও প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও জওয়ানরা ‘অসাধারণ পেশাদারিত্ব’ দেখিয়েছেন। গোটা এলাকা ঘিরে ফেলতে বাড়তি বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং স্থানীয় প্রশাসন ও অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় রেখে অভিযান চালানো হচ্ছে। কঠিন ভূপ্রকৃতি, ঘন জঙ্গল ও খাড়া ঢালের কারণে রবিবার গভীর রাতে অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। তবে সোমবার ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই কিশতওয়ার জেলার উঁচু পার্বত্য এলাকায় ফের তল্লাশি অভিযান শুরু করে নিরাপত্তা বাহিনী। সেনা, পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর একাধিক দল ড্রোন ও স্নিফার ডগের সাহায্যে এলাকায় তল্লাশি চালাচ্ছে। জঙ্গিরা যাতে পালাতে না পারে, সে জন্য পুরো এলাকায় কড়া নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে।

    সাম্প্রতিক মাসে বাড়ছে সংঘর্ষ

    চলতি বছর এই নিয়ে তৃতীয়বার নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে জঙ্গিদের সংঘর্ষ হয়েছে জম্মু এলাকায় (Jammu Kashmir)। এর আগে ৭ জানুয়ারি এবং ১৩ জানুয়ারিও গুলির লড়াই হয়েছে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে কিশতওয়ারের চাট্রু এলাকায় সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে যৌথ অভিযানে জঙ্গিদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ সংঘর্ষে জড়িয়েছিল সেনা ও পুলিশ। অপারেশন সিঁদুরের পরেই নতুন করে ‘ঘাতক’ হয়ে উঠেছে জইশ সন্ত্রাসীরা। শ্রীনগরে নিজেদের আধিপত্য বাড়াতে হয়ে পড়েছে কৌশলী।

    তীব্র শীতেও সতর্ক সেনা

    সাধারণত ‘চিল্লাই কলান’-এ (অতিরিক্ত শীতের সময়) অভিযান কিছুটা কমে। তবে এবারে সেনা নতুন কৌশলে বরফে ঢাকা উঁচু এলাকায় নজরদারি জোরদার করেছে। ধারণা, জঙ্গিরা সেখানেই ঘাঁটি বানানোর চেষ্টা করছে। থার্মাল ইমেজিং ডিভাইস এবং ড্রোনের মতো আধুনিক প্রযুক্তি রাতের অভিযান এবং বিপজ্জনক ভূখণ্ডে অপারেশন চালাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে বলে জানিয়েছেন এক আধিকারিক। তাঁর কথায়, “এই প্রযুক্তি আর সেনার ভূখণ্ড–পরিচিতি মিলিয়ে এখন কোনও এলাকাই নজরদারির বাইরে থাকছে না।” সেনা সূত্রে খবর, অভিযান (Kishtwar encounter) শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিরাপত্তা বাহিনী সম্পূর্ণ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। গোটা পরিস্থিতির উপর কেন্দ্রীয় স্তর থেকেও নজর রাখা হচ্ছে। সেনাদের বক্তব্য, অভিযান দীর্ঘস্থায়ী হলেও জঙ্গিদের পালানোর কোনও সুযোগ দেওয়া হবে না। সেনা আধিকারিকদের মতে শান্তি বজায় রাখাই এখন মূল লক্ষ্য।

  • Supreme Court on SSC: এসএসসি মামলায় বয়সে ছাড় নয় এখনই! হাইকোর্টের নির্দেশে স্থগিতাদেশ সুপ্রিম কোর্টের

    Supreme Court on SSC: এসএসসি মামলায় বয়সে ছাড় নয় এখনই! হাইকোর্টের নির্দেশে স্থগিতাদেশ সুপ্রিম কোর্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: স্কুল সার্ভিস কমিশনের (Supreme Court on SSC) মামলায় বয়সে ছাড় নিয়ে কলকাতা হাইকোর্ট যে নির্দেশ দিয়েছিল, তাতে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি অমৃতা সিনহা জানিয়েছিলেন, ২০১৬ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যাঁরা সুযোগ পাননি বা যোগ্য কিন্তু চাকরি পাননি, তাঁরা নতুন নিয়োগপ্রক্রিয়ায় বয়সের ছাড় পাবেন। এদিকে সোমবার সেই নির্দেশকেই স্থগিত করল সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সঞ্জয় কুমার এবং বিনোদ চন্দ্রনের ডিভিশন বেঞ্চ।

    বয়সের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার নির্দেশ!

    ২৬ হাজার চাকরি বাতিল মামলায় সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court on SSC) জানিয়েছিল, যাঁরা দুর্নীতিতে যুক্ত বা দাগি নন (আনটেন্টেড), তাঁরা বয়সের ক্ষেত্রে ছাড় পাবেন এবং নির্ধারিত বয়ঃসীমা অতিক্রান্ত হয়ে গেলেও নতুন নিয়োগপ্রক্রিয়ায় যোগ দিতে পারবেন। এই যুক্তি দেখিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন কয়েক জন চাকরিপ্রার্থী। ২০১৬ সালের নিয়োগপ্রক্রিয়ায় তাঁরা ছিলেন না। তবে তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও দুর্নীতির অভিযোগও পাওয়া যায়নি। একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যোগ দিতে এই নতুন প্রার্থীরা বয়সে ছাড় চেয়েছিলেন। সেই সময় এই মামলার শুনানি হয়েছিল বিচারপতি অমৃতা সিনহার বেঞ্চে। যার ভিত্তিতে গত ১২ ডিসেম্বর হাইকোর্ট তাঁদের বয়সের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার নির্দেশ দেয়। এরপরেই মামলা গড়ায় সুপ্রিম কোর্টে।

    শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ

    সোমবার শীর্ষ আদালত এই মামলার সকল পক্ষকেই নোটিস জারি করেছে। শুধুমাত্র যে সকল যোগ্য চাকরিপ্রার্থীরা কর্মরত অবস্থায় চাকরি হারিয়েছেন, তাঁদের ক্ষেত্রেই বয়সের ছাড় প্রযোজ্য় রেখেছে শীর্ষ আদালত। এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে আগামী ১৯ মার্চ। তবে পরবর্তী শুনানির আগে সব পক্ষকেই হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court on SSC)। এদিন শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, কলকাতা হাই কোর্টের দেওয়া যোগ্য ও আনসিলেক্টডদের বয়সের ছাড় সংক্রান্ত রায়ে স্থগিতাদেশ দেওয়া হল। সুপ্রিম কোর্ট আপাতত শুধুমাত্র চাকরি হারানো প্রার্থীদের বয়সের ছাড়াই বহাল রেখেছে। বাকিদের জন্য বয়সের ছাড় থাকছে না। শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ, আগে সুপ্রিম কোর্টের তরফে যে রায় দেওয়া হয়েছিল, তাতে বলা হয়েছিল যে যোগ্য প্রার্থীরা চাকরি করছিলেন, কিন্তু প্যানেল বাতিল হওয়ায় চাকরি চলে গিয়েছে, তাঁরা নতুন পরীক্ষার ক্ষেত্রে বয়সে ছাড় পাবেন। কিন্তু যাঁরা যোগ্য অথচ ওই পরীক্ষায় নির্বাচিত হননি, তাঁদের জন্য বয়সের ছাড়ের কথা বলা হয়নি। সেই কারণেই হাইকোর্টের বয়স সংক্রান্ত ছাড়ের রায়ে স্থগিতদেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট।

  • T20 World Cup 2026: টি২০ বিশ্বকাপ থেকে বাদ বাংলাদেশ! টাইগার্সদের খেলতে হবে ভারতেই, জানাল আইসিসি

    T20 World Cup 2026: টি২০ বিশ্বকাপ থেকে বাদ বাংলাদেশ! টাইগার্সদের খেলতে হবে ভারতেই, জানাল আইসিসি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতেই খেলতে হবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, বাংলাদেশকে (Bangladesh) চুড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দিল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (ICC)। টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলা নিয়ে বাংলাদেশকে শেষবার সতর্ক করল আইসিসি। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে সতর্ক করে আইসিসি বলেছে, হয় ভারতে খেলুন না হলে অন্য দলকে সুযোগ করে দেওয়া হবে। আইসিসি বাংলাদেশকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় দিয়েছে। এর মধ্যে তারা সিদ্ধান্ত না নিলে অন্য কোনও দলকে বাংলাদেশের পরিবর্তে বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ দেওয়ার কথা ভাবা হবে।

    বাংলাদেশকে বার্তা

    গত শনিবার ঢাকায় বিসিবি কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন আইসিসি’র দুই শীর্ষ কর্তা। বৈঠকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (BCB) আইসিসির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানিয়েছিল, বাংলাদেশের বিশ্বকাপের ম্যাচগুলি শ্রীলঙ্কায় (Srilanka) স্থানান্তর করা হোক। কেন তারা ভারতে (India) খেলতে আসতে চায় না, তা নিয়ে বাংলাদেশে বোর্ডের তরফে জানানো হয়েছে, দেশের ক্রিকেটার, সমর্থক সাংবাদিক ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন বাংলদেশ সরকার। তা আইসিসি-র প্রতিনিধিদের জানিয়েছে বিসিবি। এই বৈঠকে বাংলাদেশকে অন্য গ্রুপে স্থানান্তরের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে খবর। সূত্রের খবর, বাংলাদেশের কোনও প্রস্তাবে সায় নেই আইসিসি-র। ফলে জানা যাচ্ছে, বাংলাদেশ যদি টি২০ বিশ্বকাপ বয়কট করে, তাহলে বিকল্প দেশকে নেওয়া হতে পারে তাদের জায়গায়।

    বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ড!

    ২০২৬ আইপিএল টুর্নামেন্ট থেকে মুস্তাফিজুর রহমানকে (Mustafizur Rahman) তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এরপর থেকেই বিসিসিআই (BCCI) এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সম্পর্ক একেবারে তলানিতে এসে ঠেকেছে। ইতিমধ্যে বিসিবি জানিয়ে দিয়েছে, ভারতের মাটিতে তারা আইসিসি টি-২০ বিশ্বকাপ খেলতে আসবে না। ব্যাপারটা নিয়ে ইতিমধ্যে আইসিসি-র সঙ্গে যথেষ্ট টানাপোড়েন চলছে। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে চলেছে ২০২৬ টি-২০ বিশ্বকাপ (ICC T20I World Cup 2026)। আইসিসি ইঙ্গিত দিয়েছে যে, তারা স্বল্প সময়ের নোটিসে টুর্নামেন্টের পরিকল্পনা পরিবর্তন করতে আগ্রহী নয়। সূত্রের খবর, আইসিসি বাংলাদেশের ম্যাচগুলো স্থানান্তরের কোনও কারণ দেখছে না। আইসিসি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ভারতের মাটিতে বাংলাদেশের কোনও বিপদ নেই। আর সেকারণে ভেন্যু বদলের কোনও প্রশ্নই ওঠে না। যদিও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এখনও পর্যন্ত সেই পুরনো কাসুন্দিই ঘেঁটে যাচ্ছে। যদি বাংলাদেশ নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকে, তাহলে এই টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার আগেই তাদের বিদায় নিতে হবে। এই পরিস্থিতিতে ব়্যাঙ্কিং অনুসারে, স্কটল্যান্ড ক্রিকেট দল ২০২৬ টি-২০ বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ পেয়ে যেতে পারে।

  • Jayrambati New Train: মা সারদার জন্মভিটেতে গড়াল রেলের চাকা, জয়রামবাটিতে খুশির জোয়ার

    Jayrambati New Train: মা সারদার জন্মভিটেতে গড়াল রেলের চাকা, জয়রামবাটিতে খুশির জোয়ার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অপেক্ষার অবসান। মা সারদার জন্মভিটেয় পৌঁছল রেলের চাকা। জটিলতা কাটিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হাত ধরে আরও একধাপ এগিয়ে গেল বিষ্ণুপুর তারকেশ্বর রেল যোগাযোগ। ০৮০৯৫ জয়রামবাটি-বাঁকুড়া মেমু আজ, ১৯ জানুয়ারি থেকে বাঁকুড়া ও জয়রামবাটীর মধ্যে আপ ও ডাউন একবার করে চলবে। ট্রেনটি দুপুর ২টা ৪৫ মিনিট নাগাদ ছেড়ে, বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে বাঁকুড়া পৌঁছনোর কথা।

    জয়রামবাটি পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণ

    মা সারদার পবিত্র জন্মভূমি জয়রামবাটিতে গড়াল বহু প্রতিক্ষিত রেলের চাকা। জীবদ্দশায় মা সারদা কলকাতা যাতায়াত করতেন বিষ্ণুপুর স্টেশন থেকে ট্রেন ধরে। এজন্য তাঁকে জয়রামবাটি থেকে বিষ্ণুপুর স্টেশন পর্যন্ত প্রায় ৪০ কিলোমিটার রাস্তা যাতায়াত করতে হত গরুর গাড়িতে। সেই জয়রামবাটিকে রেলপথে যুক্ত করার দাবি ছিল দীর্ঘদিনের। ভাবাদিঘির জমিজটের কারণে দীর্ঘদিন ধরে কার্যত থমকে ছিল রেলপথ নির্মাণের কাজ। চলতি বছরের মার্চ মাসে এই জয়রামবাটি পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণের কাজ শেষ হয়। ২৭ মার্চ জয়রামবাটি পর্যন্ত পরীক্ষামূলক ভাবে ট্রেন চালিয়ে ওই লাইনে ট্রেন চলাচলে সবুজ সংকেত দেয় কমিশনার অফ রেলওয়ে সেফটি। এরপরে জোরকদমে শুরু হয় ট্রেন চলাচলের অন্যান্য পরিকাঠামো তৈরীর কাজ।

    প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে ট্রেন চলাচলের সূচনা

    রবিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সিঙ্গুরে এসে জয়রামবাটি পর্যন্ত ট্রেন চলাচলের সূচনা করার সঙ্গে সঙ্গেই যাত্রীবাহী একটি ট্রেন মা এর গাঁ হিসেবে পরিচিত জয়রামবাটি স্টেশন থেকে ছেড়ে বাঁকুড়ার উদ্যেশ্যে রওনা দেয়। রেলের তরফে জানানো হয়েছে আপাতত একটি ট্রেন প্রতিদিন বাঁকুড়া থেকে জয়রামবাটি পর্যন্ত যাতায়াত করবে। অদূর ভবিষ্যতে এই রেল লাইন তারকেশ্বরের সঙ্গে যুক্ত হলে সরাসরি হাওড়া পর্যন্ত ট্রেন চলাচল শুরু হবে। এর ফলে শুধু এলাকার আর্থ সামাজিক পরিস্থিতির বদল হবে তাই নয়, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পর্যটনেরও যথেষ্ট বিকাশ ঘটবে। জয়রামবাটি পর্যন্ত ট্রেন চলাচলের সূচনা লগ্নে উপস্থিত ছিলেন রামকৃষ্ণ মিশন ও মন্দিরের সাধু-সন্ন্যাসীরা। ছিলেন জয়রামবাটি-সহ আশপাশের বহু এলাকার মানুষ। বহু গুণীজন ও মা সারদার ভক্তরা স্বপ্নপুরণের সাক্ষী থাকতে হাজির হয়েছিলেন মাতৃ মন্দিরের আদলে তৈরী সুদৃশ্য জয়রামবাটি স্টেশনে।

  • Republic Day Parade 2026: প্রথমবার দিল্লির কর্তব্য পথে বাস্তব যুদ্ধের প্রদর্শন! প্রজাতন্ত্র দিবসের মূল ভাবনা ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর

    Republic Day Parade 2026: প্রথমবার দিল্লির কর্তব্য পথে বাস্তব যুদ্ধের প্রদর্শন! প্রজাতন্ত্র দিবসের মূল ভাবনা ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সাল ২০২৬! অপারেশন সিঁদুরের (Operation Sindoor) পর এই প্রথম প্রজাতন্ত্র দিবস। দিল্লিতে প্রজাতন্ত্র দিবসের (Republic Day Parade 2026) বিশেষ কুচকাওয়াজের আয়োজন করা হচ্ছে প্রতিবারের মতোই। তবে এই বছর থাকবে বিশেষ অস্ত্র প্রদর্শন। সঙ্গে বাস্তব যুদ্ধের পটভূমি। সঙ্গে বাজবে বন্দে মাতরম-এর সুর। ২০২৬ সালের প্রজাতন্ত্র দিবসের উদ্‌যাপন ঘিরে বিশেষ পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করল প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। আগামী ২৬ জানুয়ারি দিল্লির কর্তব্য পথ (Kartavya Path)-এ অনুষ্ঠিত রিপাবলিক ডে প্যারেডের মূল থিম হবে জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তি (150 years of Vande Mataram)। সামরিক শক্তি ও ভারতের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের মেলবন্ধনই থাকবে এবারের কুচকাওয়াজের কেন্দ্রে।

    ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর: মূল থিম

    ‘১৫০ ইয়ার্স অব বন্দে মাতরম’ (150 years of Vande Mataram) থিমটি কুচকাওয়াজের ভিজ্যুয়াল, ট্যাবলো, সঙ্গীত, সাজসজ্জা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় ফুটে উঠবে। ১৯২৩ সালে শিল্পী তেজেন্দ্র কুমার মিত্রের আঁকা ‘বন্দে মাতরম’-এর বিভিন্ন স্তবকভিত্তিক চিত্রকর্ম কর্তব্য পথের পাশে প্রদর্শিত হবে। কুচকাওয়াজের শেষে ‘বন্দে মাতরম’ লেখা একটি বিশাল ব্যানার উন্মোচন করা হবে এবং রবার বেলুন ওড়ানো হবে। ১৯ থেকে ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত সারা দেশে সেনা, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, কোস্ট গার্ড ও বিভিন্ন কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর উদ্যোগে ‘বন্দে মাতরম’ থিমে ব্যান্ড পারফরম্যান্স অনুষ্ঠিত হবে।

    প্রথমবার ভিভিআইপি তকমার ইতি

    প্রচলিত রীতিনীতি থেকে সরে এসে প্যারেড ভেন্যুর এনক্লোজারগুলির জন্য আগে ব্যবহৃত ‘ভিভিআইপি’ ও অন্যান্য তকমা আর ব্যবহার করা হবে না। তার পরিবর্তে, সব এনক্লোজারের নামকরণ করা হয়েছে ভারতের বিভিন্ন নদীর নামে— প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের শীর্ষ আধিকারিকরা এ কথা জানান। এই নদীগুলির মধ্যে রয়েছে—বিয়াস, ব্রহ্মপুত্র, চম্বল, চেনাব, গান্ডক, গঙ্গা, ঘাঘরা, গোদাবরী, সিন্ধু, ঝিলম, কাবেরী, কোসি, কৃষ্ণা, মহানদী, নর্মদা, পেন্নার, পেরিয়ার, রবি, সোন, সুতলজ, তিস্তা, বৈগাই এবং যমুনা। একইভাবে, ২৯ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত বিটিং রিট্রিট অনুষ্ঠানের জন্য এনক্লোজারগুলির নামকরণ করা হবে ভারতের বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রের নামে। এর মধ্যে থাকবে—বাঁশি (বাঁশুরি), ডমরু, একতারা, এসরাজ, মৃদঙ্গম, নাগাড়া, পাখাওয়াজ, সন্তুর, সারঙ্গি, সারিন্দা, সরোদ, শেহনাই, সেতার, সুরবাহার, তবলা ও বীণা।

    অপারেশন সিঁদুর- এর পর প্রথম

    অপারেশন সিঁদুরের (Operation Sindoor) পর এই ২৬ জানুয়ারির (Republic Day Parade 2026) প্যারেডে ভারতের সামরিক শক্তি ধরা দেবে একেবারে বাস্তব যুদ্ধের ছকে। ভারতীয় সেনাবাহিনীর (Indian Army)–র কুচকাওয়াজে এ বার আর শুধু আলাদা আলাদা বাহিনী নয়—দেখানো হবে কী ভাবে ধাপে ধাপে যুদ্ধক্ষেত্রে এগোয় সেনা। কর্তব্য পথে সেই দৃশ্যই প্রথমবার প্রকাশ্যে দেখতে পাবেন সাধারণ মানুষ। সূত্রের খবর, কুচকাওয়াজ শুরু হবে রেকনেসেন্স বা নজরদারি পর্ব দিয়ে। উচ্চগতির রেকনেসেন্স যান, ড্রোন, অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক মিসাইল—সব মিলিয়ে যুদ্ধ শুরুর মুহূর্তের প্রস্তুতিই তুলে ধরা হবে। এর পর ধাপে ধাপে যুক্ত হবে লজিস্টিকস, সাপোর্ট ইউনিট এবং ব্যাটল গিয়ারে সজ্জিত সেনা। এই প্রথম রিপাবলিক ডে প্যারেডে ভারতীয় সেনা ‘ফেজড ব্যাটল অ্যারে’ ফরম্যাটে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শন করবে। এর পাশাপাশি থাকবে ৬১ ক্যাভালরির মাউন্টেড কলাম এবং সাতটি মার্চিং কনটিনজেন্ট।

    নজরদারি থেকে বায়ু সেনা—যুদ্ধের পূর্ণ ছবি

    প্রথমেই দেখা যাবে হাই-মোবিলিটি রেকনেসেন্স ভেহিকল, যেগুলিতে থাকবে সার্ভিলেন্স ড্রোন ও ব্যাটলফিল্ড সার্ভিনেন্স রেডার। আকাশে গর্জন তুলবে ‘অ্যাপাচে’ (Apache) এবং লাইট কমব্যাট হেলিকপ্টার ‘প্রচণ্ড’ (Light Combat Helicopter Prachand)। এর পর একে একে নামবে ভারী অস্ত্রশস্ত্র—টি-৯০ ট্যাঙ্ক, অর্জুন মেইন ব্যাটল ট্যাঙ্ক, বিএমপি-২, নাগ মিসাইল সিস্টেম, আর্টিলারি গান, এয়ার ডিফেন্স প্ল্যাটফর্ম ও ক্ষেপণাস্ত্র। থাকবে রোবোটিক ডগ, আনম্যানড গ্রাউন্ড ভেহিক্যল, অল-টেরেন ভেহিক্যল এবং রোবোটিক মিউল। ফ্লাইপাস্টে অংশ নেবে রাফাল (Rafale), সু-৩০ (Su-30), পি-৮১ (P-8I), সি-২৯৫ (C-295), মিগ-২৯ ( MiG-29), ও বিভিন্ন ফর্মেশনে এমআই -১৭ ( Mi-17) কপ্টার।

    নতুন কমান্ডো ইউনিট

    এ বছরের কুচকাওয়াজে বিশেষ আকর্ষণ সেনার প্রাণী বাহিনী—জানস্কার পোনি, ব্যাকট্রিয়ান উট এবং প্রশিক্ষিত কুকুর। ‘উঁচা কদম তাল’-এ পাশাপাশি প্রথমবার আত্মপ্রকাশ করবে নতুন গঠিত ভৈরব লাইট কমান্ডো ব্যাটালিয়ন (Bhairav light commando battalion)। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের বক্তব্য অনুযায়ী, মোট ১৮টি মার্চিং কন্টিনজেন্ট ও ১৩টি ব্যান্ড অংশ নেবে। পুরো যুদ্ধছকভিত্তিক প্রদর্শন চলবে প্রায় ১৫ মিনিট।

    মেক-ইন ইন্ডিয়ার অস্ত্র

    ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরা হবে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’-র যাবতীয় অস্ত্রশস্ত্র। এখানেই শেষ নয়, সৈনিকরা প্রত্যেক বারের মতো বিভিন্ন ফরমেশন তৈরি করে রাজপথে চমক লাগিয়ে দেবে দর্শকদের। সব মিলিয়ে, অপারেশন সিঁদুর–পরবর্তী প্রথম প্রজাতন্ত্র দিবসে ভারতের বার্তা স্পষ্ট—যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত সেনা শুধু শক্তিশালীই নয়, সম্পূর্ণ আধুনিক।

    ৩০টি ট্যাবলো

    এবার কর্তব্য পথে শোভাযাত্রায় অংশ নেবে মোট ৩০টি ট্যাবলো—এর মধ্যে ১৭টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল থেকে এবং ১৩টি বিভিন্ন মন্ত্রক ও দফতরের। স্বাধীনতা, আত্মনির্ভরতা, উদ্ভাবন, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও জাতীয় উন্নয়নের নানা দিক তুলে ধরা হবে। এগুলি বিভিন্ন প্রদেশ থেকে দিল্লির রাজপথে চলবে এবং তুলে ধরবে বিভিন্ন প্রদেশের সংস্কৃতিকে। ভারতীয় বিমানবাহিনীর পক্ষ থেকে প্রাক্তন সেনাকর্মীদের অবদান তুলে ধরতে একটি বিশেষ ভেটেরান্স ট্যাবলোও থাকবে। ট্যাবলোগুলির মূল ভাবনা হবে— ‘স্বাধীনতার মন্ত্র – বন্দে মাতরম’ এবং ‘সমৃদ্ধির মন্ত্র – আত্মনির্ভর ভারত’।

    উপস্থিত ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা

    ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবস (Republic Day Parade 2026) উপলক্ষ্যে ভারতে আসছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা। সংবাদসংস্থা আইএএনএস সূত্রে খবর, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট অ্যান্টোনিও কোস্টা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডের লিয়েন (Ursula von der Leyen) ২৫, ২৬, ২৭ জানুয়ারি তিনদিনের সফরে ভারতে আসছেন। ২৬ জানুয়ারি ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসে তাঁরা প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষ্যে যে উদযাপন হতে চলেছে, সেই উৎসবে যোগ দিতেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে ভারতে আসছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা।

    সমাজের নানা স্তর থেকে বিশেষ অতিথি

    প্রায় ১০,০০০ বিশেষ অতিথি কুচকাওয়াজ প্রত্যক্ষ করবেন। তাঁদের মধ্যে থাকবেন কৃষক, কারিগর, বিজ্ঞানী, উদ্ভাবক, উদ্যোগপতি, মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্য, স্টার্ট-আপ প্রতিষ্ঠাতা, ক্রীড়াবিদ, ছাত্রছাত্রী, আদিবাসী প্রতিনিধি, সাফাইকর্মী এবং বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের উপভোক্তারা। বিদেশি প্রতিনিধি ও যুব বিনিময় কর্মসূচিতেও অংশগ্রহণকারীরা থাকবেন।

    সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

    প্রায় ২,৫০০ শিল্পী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। ‘বন্দে মাতরম’ ও ‘আত্মনির্ভর ভারত’—এই দুই থিমকে কেন্দ্র করেই পরিবেশনা সাজানো হবে। সৃজনশীল দলের নেতৃত্বে থাকছেন সঙ্গীত পরিচালক এম.এম. কীরাবানি, গীতিকার সুভাষ সেহগল, কোরিওগ্রাফার সন্তোষ নায়ার। অনুষ্ঠানের পরিচালনায় থাকবেন অনুপম খের। তত্ত্বাবধানে রয়েছেন ড. সন্ধ্যা পুরেচা।

    সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ ও সুবিধা

    জনসাধারণের জন্য আসনসংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। অনলাইন ও অফলাইনে টিকিট মিলবে। টিকিটধারীদের জন্য বিনামূল্যে মেট্রো যাত্রা ও পার্ক-অ্যান্ড-রাইড সুবিধা থাকবে। সব গ্যালারি থাকবে দিব্যাঙ্গ-বান্ধব। প্যারেডের পরে NCC ক্যাডেট ও স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে স্বচ্ছতা অভিযানও চালানো হবে। প্রজাতন্ত্র দিবসের পর ২৬ থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত লালকেল্লায় অনুষ্ঠিত হবে ভারত পর্ব, যেখানে ট্যাবলো, আঞ্চলিক খাবার, হস্তশিল্প ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দেখা যাবে। ২৮ জানুয়ারি কারিয়াপ্পা প্যারেড গ্রাউন্ডে হবে প্রধানমন্ত্রীর এনসিসি র‍্যালি।

    বাংলার জন্য বিশষ ভাবনা

    এই বছর প্রজাতন্ত্র দিবস (Republic Day Parade 2026) বাংলার কাছেও বিশেষ। বন্দে মাতরম-এর ১৫০ বছর উপলক্ষে (150 years of Vande Mataram) পশ্চিমবঙ্গের বঙ্কিম ভবন—ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পৈতৃক বাড়িতেও বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে। খুশির জোয়ার জঙ্গলমহলের প্রত্যন্ত গ্রামেও। রাষ্ট্রপতি ভবনে প্রজাতন্ত্র দিবসের প্যারেডে বিশেষ আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত হওয়ার ডাক পেয়েছেন জঙ্গলমহলের বাসিন্দা মৌসুমি ঘোষ। সারা দেশ থেকে মোট ১০০ জনকে ডাকা হয়েছে এই প্যারেডের অনুষ্ঠানে। তাঁদের মধ্যেই রয়েছেন মৌসুমি। জঙ্গলমহলের সিমলাপালের প্রত্যন্ত গ্রাম কড়াকানালী। এই এলাকায় বাস বহু কৃষক পরিবারের। তেমনই এক কৃষক পরিবারের সন্তান মৌসুমি। বাঁকুড়া সম্মিলনী কলেজের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের ছাত্রী তিনি। পড়াশোনার পাশাপাশি নিজেকে নিয়োজিত করেছেন সেবার কাজে। জাতীয় সেবা প্রকল্পে অংশ নেন তিনি। সেখানেই বিশেষ কৃতিত্বের জন্য মৌসুমিকে রাষ্ট্রপতি ভবনে বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

  • Modi in Malda: বিজেপি এলেই রাজ্যে অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে বড় পদক্ষেপ, মালদা থেকে হুঁশিয়ারি মোদির

    Modi in Malda: বিজেপি এলেই রাজ্যে অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে বড় পদক্ষেপ, মালদা থেকে হুঁশিয়ারি মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হল অনুপ্রবেশ। সেই কারণেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত অশান্ত হচ্ছে। আর রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস তাতে মদত দিচ্ছে। শনিবার মালদায় পরিবর্তন সংকল্প সভার মঞ্চ থেকেই অনুপ্রবেশকারী ইস্যুতে তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Modi in Malda)। বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের উদ্বোধনের পরপরই দলীয় কর্মসূচিতে যোগ দেন মোদি। তিনি বলেন, অনুপ্রবেশ বাংলার একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সমস্যার জেরে শুধু সামাজিক অস্থিরতাই নয়, কর্মক্ষেত্র, নিরাপত্তা এবং সামগ্রিক পরিবেশও বিপর্যস্ত হচ্ছে রাজ্যের একাধিক জেলায়।

    অনুপ্রবেশ সমস্যা তৃণমূলের মদত

    প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ, বিশ্বের উন্নত দেশগুলিও অনুপ্রবেশকারীদের নিজেদের দেশ থেকে বের করে দিচ্ছে। অথচ তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় থাকলে বাংলা থেকে অনুপ্রবেশকারীদের বের করা কার্যত অসম্ভব। মোদি বলেন, ‘‘বাংলার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হল অনুপ্রবেশ। দুনিয়ার সমৃদ্ধ দেশ, যেখানে টাকার অভাব নেই, তারাও অনুপ্রবেশকারীদের বার করে দিচ্ছে। ওদের বাইরে পাঠানো উচিত কি না? কিন্তু তৃণমূল সরকার থাকতে তা কি সম্ভব? ওরা কি করবে? আপনাদের অধিকার কি রক্ষা করবে? আপনাদের জমি, বোন-মেয়েদের কি রক্ষা করবে? অনুপ্রবেশকারীদের কে বার করবে? তৃণমূলের সিন্ডিকেট বহু বছর ধরে অনুপ্রবেশকারীদের ভোটার করার খেলা করছে। ওরা গরিবদের অধিকার ছিনিয়ে নেয়। যুবকদের কাজ ছিনিয়ে নেয়। বোনদের উপর অত্যাচার করেছে। দেশে সন্ত্রাস, হিংসা আনছে। জনসংখ্যার ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। ভাষার ফারাক আসছে কিছু জায়গায়। মালদা, মুর্শিদাবাদের অনেক জায়গায় হিংসা বাড়ছে। অনুপ্রবেশকারী এবং সত্ত্বাধারীদের জোট ভাঙতে হবে। বিজেপি সরকার হলে অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে বড় পদক্ষেপ হবে।’’

    মতুয়াদের উদ্দেশে বার্তা

    এ দিনের সভা থেকে মতুয়া সম্প্রদায়কে উদ্দেশ করে আলাদা বার্তা দেন মোদি। তিনি বলেন, ‘‘মোদির গ্যারান্টি, মতুয়া, যাঁরা প্রতিবেশী দেশে ধর্মের কারণে হিংসার শিকার হয়ে এখানে এসেছেন, তাঁরা ভয় পাবেন না। মোদি সিএএ-র মাধ্যমে শরণার্থীদের সুরক্ষা দিয়েছে। এখানে যে বিজেপি সরকার হবে, তারা মতুয়া, নমশূদ্র শরণার্থীদের বিকাশের কাজে গতি আনবে। বাংলায় পরিবর্তন আনার দায়িত্ব রয়েছে মা-বোন, যুবকদের।’’

    নারী নির্যাতন নিত্যদিন

    মোদি (Modi talks on Infiltration) বলেন, ‘‘বাংলায় এখন নারী নির্যাতন রোজ-কার ঘটনা। কাল দেখলাম মহিলা সাংবাদিক নিগৃহীত। কত অভদ্রতা করা হয়েছে। তৃণমূলরাজে স্কুল, কলেজেও মহিলারা সুরক্ষিত নয়। নির্মমতা এতটাই যে মহিলাদের কথা শোনা হয় না। নির্যাতিতাদের কোর্টে যেতে হয়। এই পরিস্থিতি বদলাতে হবে। এই কাজ কে করবে? আপনাদের একটা ভোট করবে। আপনাদের ভোট পশ্চিমবঙ্গের পুরনো গৌরব ফেরাবে। তৃণমূলের গুণ্ডাগিরি বেশিদিন চলবে না। এর শেষ হবে। গরিবদের নিপীড়ন শেষ হবে।’’ বন্দে মাতরমের ১৫০ বছর পূর্তিতেই বঙ্গবাসীর কাছে বাংলাকে বিকাশের পথে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান মোদি।

  • Modi in Malda: মালদার আম-অর্থনীতি নিয়ে ভাবেনি তূণমূল! ম্যাঙ্গো ইকোনমিকে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছে দেবে বিজেপি, দাবি মোদির

    Modi in Malda: মালদার আম-অর্থনীতি নিয়ে ভাবেনি তূণমূল! ম্যাঙ্গো ইকোনমিকে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছে দেবে বিজেপি, দাবি মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মালদা আর আম সমার্থক। গোটা রাজ্যে তো বটেই গোটা দেশেই মালদার আমের আলাদা পরিচিত ও খ্যাতি রয়েছে। মালদার (Modi in Malda) অর্থনীতির একটা বড় স্তম্ভ হল আম। কিন্তু রাজ্যের তৃণমূল সরকার সেদিকে নজরই দেয় না। তাই মালদার আমজনতার মাঝে আম নিয়ে একাধিক বড় ঘোষণা করে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। একই সঙ্গে পাটচাষী, রেশম চাষিদের দুর্দশার কথা উঠে এল মোদির কথায়। মোদি বলেন, ‘‘মালদা সেই জায়গা, যেখানে প্রাচীন নিদর্শন রয়েছে। রাজনীতি এবং সাংস্কৃতির চেতনা। মালদা বাংলার সমৃদ্ধির কেন্দ্র। আমি প্রথম বাংলার শিবেন্দুশেখর রায়কে প্রণাম জানাই, যার জন্য মালাহ আজও পরিচিত। আজও নিজের আম, আমসত্ত্ব, রেশম, লোকসঙ্গীত, বৌদ্ধিক চেতনার জন্য পরিচিত।’’

    আম-অর্থনীতি নিয়ে মোদির ভাবনা

    মালদার সভায় প্রধানমন্ত্রীর (Modi talks on Mango) ভাষণের একটা বড় অংশ জুড়ে ছিল চাষিদের কথা। আম নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সাফ কথা, “মালদা জেলা আম এবং আমসত্ত্বের জেলা। অথচ এই জেলায় আম অর্থনীতি নিয়ে কোনও পদক্ষেপ করেনি তৃণমূল।” মোদির দাবি, বাংলায় ক্ষমতায় এলে মালদার আম শিল্পকে ১ লক্ষ কোটি টাকার শিল্পক্ষেত্রে পরিণত করবে কেন্দ্রীয় সরকার। এখন কালিয়াচক ও ইংলিশবাজার আমের বাজার। সেটার বিকল্প বাজার তৈরি করবে বিজেপি সরকার। কোল্ড স্টোরেজ আরও বাড়বে, ফুড প্রসেসিং সেক্টরে বিনিয়োগ বাড়বে। আমজনতার উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি, “ম্যাঙ্গো ইকোনমিকে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছে দেবে বিজেপি সরকার। মালদার পুরনো গৌরব ফেরাব আমরা।” প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আজ মালদার নিত্যানন্দপুরে জনসভায় বলেন, “তৃণমূল সরকার দীর্ঘদিন ধরে মালদার আমচাষীদের বঞ্চিত করে রেখেছে। কোল্ড স্টোরেজ নেই, প্রসেসিং ইউনিট নেই, বাজারজাতকরণের সুবিধা নেই। ফলে চাষীরা ন্যায্য দাম পান না, আম নষ্ট হয়ে যায়। বিজেপি ক্ষমতায় এলে এই বঞ্চনার অবসান হবে।আমরা কৃষকদের সহজ শর্তে ঋণ দেব, নতুন নতুন কোল্ড স্টোরেজ তৈরি করব, আধুনিক প্যাকেজিং ও লজিস্টিক্সের ব্যবস্থা করব যাতে মালদার ল্যাংড়া, লক্ষণভোগ, হিমসাগর, ফজলি এই সব বিখ্যাত আম সারা ভারতে সহজে পৌঁছে যায়।” প্রধানমন্ত্রী আরও জোর দিয়ে বলেন, আম চাষকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠবে বৃহৎ ফুড প্রসেসিং ইন্ডাস্ট্রি। আমের আচার, জ্যাম, জেলি, পাল্প, ড্রাই ফ্রুটস, আমের রস – এসব তৈরির কারখানা হবে মালদায়।

    বাংলার কৃষকদের সুদিন ফেরানোর আশা

    শুধু আম নয়, মালদা ও মুর্শিদাবাদের কৃষকদের জীবনযাত্রার একটা বড় ভিত রেশম ও পাটচাষ। প্রধানমন্ত্রীর দাবি, রেশম চাষিদের জন্য কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে মোদি সরকার। মোদির কথায়,“এই তৃণমূলের লোকেরা যখন দিল্লিতে সরকার চালাত তখন পাটের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য ছিল ২৪০০ টাকা। আজ সেটা ৫৫০০ টাকা। দ্বিগুণের বেশি হয়ে গিয়েছে। আমাদের সরকার পাটচাষিদের ১৩০০ কোটির বেশি টাকা দিয়েছে।” মোদি বলেন, ‘‘মালদায় আপনাদের দুঃখ কমাতে এসেছি। এখানে কারখানা হচ্ছে না। কৃষকেরা সুবিধা পাচ্ছে না। মালদা, মুর্শিদাবাদ থেকে যুবকেরা রুজির জন্য পালাতে বাধ্য হন। রেশম কৃষক, আম কৃষকদের অবস্থা বেহাল। আমচাষীরা বলছেন, চাষের টাকাও ওঠেনি। কারণ, তৃণমূল সরকার এই নিয়ে উদ্যোগ নেয়নি। প্রক্রিয়াকরণ নিয়ে বড় উদ্যোগ নেয়নি। আপনাদের হকের টাকা দেয়নি।’’

    নদীভাঙন নিয়ে সরব মোদি

    মানিকচক, রতুয়ার দীর্ঘদিনের সমস্যা নদী ভাঙন। এদিন প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে সেই প্রসঙ্গও উঠে এল। প্রধানমন্ত্রী বললেন, “আপনাদের কষ্টের কোনও চিন্তা নেই তৃণমূলের। কেন্দ্র টাকা পাঠায় আর তৃণমূল খেয়ে নেয়। তৃণমূল সরকার নির্মম নির্দয়।” প্রধানমন্ত্রী বললেন, “মালদায় গঙ্গা আর ফুলহারের ভাঙনে প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ গৃহহীন হয়। প্রতিবছর তৃণমূলের সাহায্য চায় মানুষ, কিন্তু তৃণমূল আপনাদের দুর্দশার মধ্যেই রেখে দিয়েছে।” মোদি বলেন, ‘‘মালদা তৃণমূলের দুর্নীতির কারণে মার খাচ্ছে। প্রতি বছর এখানে অসংখ্য ঘর নদীতে তলিয়ে যায়। লক্ষ মানুষ তৃণমূল সরকারের কাছে আবেদন করছেন, পাড় বাঁধাতে। তৃণমূল ছেড়ে দেয়। বাঁধের নামে কত যে খেলা হয়, আমার থেকে বেশি আপনারা জানেন। সিএজি রিপোর্ট দেখছিলাম বাঁধ নিয়ে। আপনাদের বাঁধের টাকা দেয়নি। কিন্তু তৃণমূলের নিজের লোকদের খাতায় ৪০ বার বাঁধের টাকা পাঠানো হয়েছে। যাঁদের প্রয়োজন নেই, তাঁদের দেওয়া হয়েছে। যাঁরা সঙ্কটে ছিলেন, তাঁদের দেয়নি। তৃণমূলের ঘনিষ্ঠেরা পীড়িতদের টাকা লুটেছে। মালদার মাটিতে বলছি, বাংলায় বিজেপির সরকার হলেই তৃণমূলের এই কালো দুর্নীতি বন্ধ হবে।’’

LinkedIn
Share