মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের বিভিন্ন সরকারি দফতর ও সংস্থায় নবনিযুক্ত ৫১ হাজারেরও বেশি তরুণ-তরুণীর হাতে নিয়োগপত্র তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। শনিবার ২০তম রোজগার মেলার মাধ্যমে ভিডিও সম্মেলনে এই নিয়োগপত্র বিতরণ করা হয়। নবনিযুক্তদের উদ্দেশে ভাষণও দেন প্রধানমন্ত্রী। দেশজুড়ে ৪৫টি কেন্দ্রে এই রোজগার মেলার আয়োজন করা হয়েছিল (Rozgar Mela)।
মোদি বলেন, ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে উন্নত দেশে পরিণত করার লক্ষ্যে দেশের যুবশক্তিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তাঁর কথায়, নিয়োগপত্র পাওয়া তরুণদের জন্য এটি জীবনের নতুন অধ্যায়ের সূচনা। তাঁদের সাফল্যের পিছনে প্রার্থীদের কঠোর পরিশ্রমের পাশাপাশি বাবা-মায়ের ত্যাগও রয়েছে।
নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের কেন্দ্রীয় সরকারের পরিবারে স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁদের সহকর্মী যুবসমাজ এবং দেশের নাগরিকদের প্রতি বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে। ভারতীয় তরুণদের প্রতিভা ও দক্ষতার উপর বিশ্বের আস্থা তৈরি হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, ভারতীয় উদ্ভাবক, উদ্যোক্তা এবং যুবসমাজের কাছ থেকে বিশ্বের প্রত্যাশা ক্রমশ বাড়ছে।
আন্তর্জাতিক সুযোগের উপর জোর (PM Modi)
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের প্রসঙ্গ তুলে মোদি বলেন, ভারতের লক্ষ্য এখন শুধুমাত্র সরকার-থেকে-সরকারের সম্পর্কের মধ্যে আন্তর্জাতিক সহযোগিতাকে সীমাবদ্ধ রাখা নয়। এর পরিবর্তে উদ্যোক্তা, কৃষক, মহিলা এবং যুবসমাজকেও আন্তর্জাতিক অংশীদারির সঙ্গে যুক্ত করার উপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এক্ষেত্রে ব্রিকস সংযোগ এবং ব্রিকস ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোগ সহযোগিতা পোর্টালের মতো উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন তিনি। তাঁর মতে, এই ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে ভারতীয় সমাজের বিভিন্ন অংশ আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সুযোগ পেতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, প্রায় ৪০টি দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নতুন বাজার ও অংশীদারির দরজা খুলছে। এর ফলে ভারতীয় উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন ব্যবসায়িক সুযোগ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি যুবকদের জন্য কর্মজীবনের নতুন সম্ভাবনাও সৃষ্টি হচ্ছে (Rozgar Mela)।
কর্মসংস্থানের জন্য দক্ষতা উন্নয়নে জোর
পরিবর্তনশীল অর্থনীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে যুবকদের দক্ষ করে তুলতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। জাতীয় শিক্ষানীতি, দক্ষতা ভারত অভিযান, প্রধানমন্ত্রী কৌশল বিকাশ যোজনা এবং শিক্ষানবিশ কর্মসূচির উল্লেখ করেন তিনি।
সরকারি শিল্প প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলিকে আধুনিক করে তোলার জন্য প্রধানমন্ত্রী সেতু প্রকল্পের কথাও বলেন মোদি। এই প্রকল্পে ১,০০০টি সরকারি শিল্প প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানকে আধুনিকীকরণে ৬০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হচ্ছে এবং শিল্পক্ষেত্রের অংশগ্রহণও বাড়ানো হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, যুবকদের শিক্ষা ও দক্ষতা যেন পরিবর্তিত অর্থনীতির প্রয়োজনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগোয়, সেটিই সরকারের লক্ষ্য (PM Modi)।
বড় শহরের বাইরে ছড়াচ্ছে নতুন উদ্যোগ
ভারত বর্তমানে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম নতুন উদ্যোগ-ভিত্তিক অর্থনৈতিক পরিমণ্ডল বলে উল্লেখ করেন মোদি। তাঁর বক্তব্য, নতুন উদ্যোগের বিস্তার আর শুধু বড় মহানগরগুলির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। স্বীকৃত নতুন উদ্যোগগুলির প্রায় অর্ধেকই এখন দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্তরের শহরগুলিতে রয়েছে।
গ্রাম, ছোট শহর ও মফস্সলের তরুণরা নিজেদের নতুন ভাবনা নিয়ে সংস্থা তৈরি করছেন এবং অন্যদের জন্যও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করছেন বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
বেসরকারি ক্ষেত্রেও কর্মসংস্থান বাড়ানোর উদ্যোগ
বেসরকারি ক্ষেত্রে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বিকশিত ভারত কর্মসংস্থান যোজনার কথা উল্লেখ করেন। প্রায় এক লাখ কোটি টাকা বরাদ্দের এই প্রকল্পের লক্ষ্য প্রথমবারের মতো প্রায় ২ কোটি যুবক-যুবতীকে আনুষ্ঠানিক কর্মসংস্থানের আওতায় নিয়ে আসা।
প্রকল্পের আওতায় প্রথমবার চাকরিতে যোগ দেওয়া কর্মীরা সর্বোচ্চ ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত প্রণোদনা পেতে পারেন। একইসঙ্গে অতিরিক্ত কর্মসংস্থান তৈরি করা নিয়োগদাতাদেরও আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।
মোদি বলেন, অর্থনীতির বৃদ্ধি, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, নতুন শিল্পের প্রতিষ্ঠা এবং উদীয়মান ক্ষেত্রের সম্প্রসারণের সঙ্গে কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়ে। প্রথম ত্রৈমাসিকে দেশের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির হার ৭.৮ শতাংশ এবং বিনিয়োগ ১২ শতাংশ বেড়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও ভারতের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন মূল্যায়নকারী সংস্থার ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী (PM Modi)।
নাগরিককেন্দ্রিক প্রশাসনের বার্তা
নবনিযুক্ত সরকারি কর্মীদের উদ্দেশে প্রশাসনিক সংস্কারকে ধারাবাহিক রাখার আহ্বান জানান মোদি। কর-সংক্রান্ত প্রক্রিয়া সরল করা, ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ সহজ করা, শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নে সংস্কার এবং নতুন ক্ষেত্রে উদ্ভাবনের সুযোগ তৈরির উপর জোর দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রশাসনের প্রতিটি সিদ্ধান্তের লক্ষ্য হওয়া উচিত নাগরিকদের সমস্যা ও প্রতিবন্ধকতা দূর করা, নতুন ভাবনাকে উৎসাহ দেওয়া এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী বিনিয়োগকে সহজতর করা। তাঁর কথায়, সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়ার আগে যে সমস্যাগুলির মুখোমুখি হতে হয়েছে নতুন কর্মীদের, তাঁদের এমনভাবে কাজ করতে হবে যাতে পরবর্তী প্রজন্মের যুবকদের একই সমস্যার মুখোমুখি হতে না হয় (Rozgar Mela)।
শিক্ষার উপর গুরুত্ব
পরিবর্তনশীল প্রযুক্তি ও কর্মক্ষেত্রের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সরকারি কর্মীদের নিয়মিত নতুন দক্ষতা অর্জনের পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী। কর্মযোগী কাঠামোর মাধ্যমে আজীবন শিক্ষার উপর জোর দেন তিনি।
নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের জন্য কর্মযোগী প্রারম্ভ মডিউল তৈরি করা হয়েছে বলে জানান মোদি। পাশাপাশি, ১ কোটি ৭০ লাখেরও বেশি সরকারি কর্মী ইতিমধ্যেই আইগট কর্মযোগী মঞ্চে যুক্ত হয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি (PM Modi)।
নাগরিকের পরিষেবাই জাতীয় পরিষেবা
প্রশাসনে জনআস্থার গুরুত্বের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। প্রবীণদের পেনশন, পড়ুয়াদের বৃত্তি কিংবা কৃষকদের ভর্তুকির মতো সরকারি পরিষেবা সরাসরি সাধারণ মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলে বলে জানান তিনি।
সরকারি কর্মীদের আচরণ, দক্ষতা, সততা এবং সংবেদনশীলতার উপর নাগরিকের সরকারের প্রতি অভিজ্ঞতা অনেকটাই নির্ভর করে বলেও মন্তব্য করেন মোদি।
ভাষণের শেষে নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের “নাগরিক দেবো ভব” নীতি অনুসরণ করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। নাগরিকের সেবাকে জাতীয় সেবার সমতুল্য বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আপনাদের কাজ যখন কোনও নাগরিকের জীবনকে আরও সহজ করে তুলবে, তখনই আপনাদের সাফল্য আরও বড় হয়ে উঠবে (Rozgar Mela)।”
২০তম রোজগার মেলার মাধ্যমে এখনও পর্যন্ত বিভিন্ন সরকারি দফতর ও সংস্থায় মোট প্রায় ১২.৭৫ লাখ যুবক-যুবতী নিয়োগপত্র পেয়েছেন বলে সরকারি তথ্যে জানানো হয়েছে (PM Modi)।









