Author: pranabjyoti

  • Bengal Political Violence: রাজনৈতিক হিংসায় নিহতদের পরিবারে স্থায়ী চাকরি, বড় সিদ্ধান্ত শুভেন্দু সরকারের

    Bengal Political Violence: রাজনৈতিক হিংসায় নিহতদের পরিবারে স্থায়ী চাকরি, বড় সিদ্ধান্ত শুভেন্দু সরকারের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজনৈতিক হিংসায় নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে বড় পদক্ষেপ করল পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকার। নির্বাচনের আগে প্রকাশিত সংকল্পপত্রে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণে এবার রাজনৈতিক হিংসায় বলি পরিবারগুলির (Bengal Political Violence) একজন সদস্যকে স্থায়ী সরকারি চাকরি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য মন্ত্রিসভা। ২০০১ সাল থেকে গত ২৫ বছরে বিভিন্ন নির্বাচনের সময় এবং নির্বাচনোত্তর রাজনৈতিক হিংসার ঘটনায় যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের পরিবারকে এই প্রকল্পের আওতায় আনার পরিকল্পনা করেছে সরকার (Suvendu Adhikari)।

    বুধবার রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল জেলাশাসকদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে সরকারের সিদ্ধান্তের কথা জানান। রাজনৈতিক হিংসায় নিহতদের পরিবারগুলিকে চিহ্নিত করার জন্য জেলাশাসকদের সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ সুপারদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    বিজ্ঞাপন প্রকাশ কবে (Bengal Political Violence)

    নবান্ন সূত্রে খবর, এই প্রকল্পের বিষয়ে শীঘ্রই সংবাদমাধ্যমে বিজ্ঞাপন প্রকাশ করতে পারে রাজ্য সরকার। সেই বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলিকে চাকরির জন্য আবেদন জানানোর সুযোগ দেওয়া হবে। জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন জমা দিতে হবে। আবেদনে নিহত ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানাতে হবে। কোথায়, কোন সালে, কত তারিখে এবং কী পরিস্থিতিতে তাঁর মৃত্যু হয়েছিল, তা উল্লেখ করতে হবে। পাশাপাশি, পরিবারের কোন সদস্য চাকরির আবেদন করছেন, নিহতের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কী, তাঁর বয়স এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার বিবরণও জমা দিতে হবে।

    এরপর শুরু হবে পুলিশি তদন্ত ও তথ্য যাচাইয়ের প্রক্রিয়া। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মৃত্যু রাজনৈতিক হিংসার কারণে হয়েছিল কি না, আবেদনে দেওয়া তথ্যের সত্যতা কতটা, তা খতিয়ে দেখবে জেলা পুলিশ। পুলিশ সুপারের মাধ্যমে তদন্তের রিপোর্ট জেলাশাসকের কাছে পাঠানো হবে। সেই রিপোর্ট পর্যালোচনা করে জেলাশাসক পরিবারের মনোনীত একজন সদস্যের চাকরির জন্য রাজ্য সরকারের কাছে সুপারিশ করবেন। শেষ পর্যন্ত রাজ্য মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পরেই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

    নবান্নের একটি সূত্রের দাবি, ২০১৯ ও ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন এবং ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজনৈতিক হিংসায় যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের পরিবারের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

    উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, রাজনৈতিক হিংসায় নিহত ব্যক্তির পরিবারের কাউকে স্থায়ী সরকারি পদে নিয়োগের এমন সিদ্ধান্ত রাজ্যে এই প্রথম। স্বরাষ্ট্র দফতরের আধিকারিকদের বক্তব্য, অতীতে এই ধরনের ঘটনায় নিহতদের পরিবারের সদস্যদের পুলিশে হোমগার্ড অথবা কনস্টেবল পদে কাজের সুযোগ দেওয়া হত। তৃণমূল সরকারের আমলে নাগরিক স্বেচ্ছাসেবক হিসেবেও নিয়োগের নজির রয়েছে। পরবর্তী সময়ে চুক্তিভিত্তিক কিছু নিয়োগও হয়েছিল। তবে এবার প্রত্যেককে চতুর্থ শ্রেণির স্থায়ী সরকারি কর্মী হিসেবে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    কী বলছে সরকার

    সরকারের যুক্তি, রাজনৈতিক হিংসায় প্রাণ হারানো বহু ব্যক্তির পরিবার আর্থিকভাবে দুর্বল। অনেক ক্ষেত্রে পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী সদস্যের মৃত্যুতে গোটা পরিবারকে চরম আর্থিক সংকটের মুখে পড়তে হয়। সেই সমস্ত পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ। বাম আমলে তৃণমূল কর্মী কিংবা মাওবাদীদের হাতে নিহত সিপিএম নেতা ও কর্মীদের পরিবারের সদস্যরাও নিয়ম মেনে (Bengal Political Violence) আবেদন করতে পারবেন বলে সরকারি সূত্রে খবর। তবে প্রত্যেকের ক্ষেত্রেই পুলিশি তদন্ত ও তথ্য যাচাই বাধ্যতামূলক।

    রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে বিজেপি। দলের মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার বলেন, “বিজেপি সরকারে থাকলেও আমরা দলীয় বিভাজনের রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। অতীতে কোনও সরকার এই ধরনের উদ্যোগ নেয়নি। বরং শাসক দল রাজনৈতিক হত্যার সংস্কৃতিকে প্রশ্রয় দিয়েছে। গত ২৫ বছরে অন্তত ৪৫০ জন বিজেপি নেতা ও কর্মী খুন হয়েছেন।”

    সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেন(Suvendu Adhikari), “রাজ্য সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে, রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে হিংসার শিকার হওয়া সমস্ত রাজনৈতিক দলের কর্মীদের পরিবার যেন এই সুবিধা পান। কোনও রকম দলীয় পক্ষপাতিত্ব করা চলবে না (Bengal Political Violence)।”

    সব মিলিয়ে, রাজনৈতিক হিংসায় নিহতদের পরিবারকে স্থায়ী চাকরি দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত রাজ্যের রাজনীতিতে যোগ করেছে নয়া মাত্রা। উপকৃত পরিবারগুলির মুখে কবে হাসি ফোটে, এখন সেটাই দেখার।

     

  • Bharatiya Kisan Sangh: কলকাতায় ভারতীয় কিষান সংঘের সমাবেশে ১০ হাজারের জমায়েত, মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পেশ ২১ দফা দাবি

    Bharatiya Kisan Sangh: কলকাতায় ভারতীয় কিষান সংঘের সমাবেশে ১০ হাজারের জমায়েত, মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পেশ ২১ দফা দাবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কৃষকদের বিভিন্ন সমস্যা, কৃষিজ পণ্যের ন্যায্য মূল্য এবং গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নের দাবিতে কলকাতায় বিশাল কৃষক সমাবেশের আয়োজন করল ভারতীয় কিষান সংঘের (Bharatiya Kisan Sangh) পশ্চিমবঙ্গ শাখা। ৩০ অক্টোবর ধর্মতলার রানি রাসমণি রোডে আয়োজিত ‘কৃষক সমাবেশ ২০২৬’-এ রাজ্যের ২৩টি জেলা থেকে প্রায় ১০ হাজার কৃষক, মহিলা কৃষক এবং সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। কৃষি ও কৃষির সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রের সমস্যা তুলে ধরার পাশাপাশি রাজ্য সরকারের কাছে একাধিক পদক্ষেপের দাবি জানান (Farmers Demands) তাঁরা।

    সমাবেশের শেষে কৃষকদের বিভিন্ন সমস্যা ও প্রত্যাশার কথা মাথায় রেখে ২১ দফা দাবিসনদ গ্রহণ করা হয়। কৃষিজ পণ্যের ন্যায্য মূল্য, ন্যূনতম সহায়ক মূল্য কার্যকর করা, কৃষি পরিকাঠামোর উন্নয়ন, সেচের ব্যবস্থা, সারের পর্যাপ্ত জোগান, জৈব চাষে উৎসাহ, মৎস্যচাষের উন্নয়ন এবং পশুপালকদের আর্থিক সহায়তার মতো বিষয়গুলি দাবিসনদে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

    এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় কিষান সংঘের সর্বভারতীয় সভাপতি কে সাই রেড্ডি, সর্বভারতীয় মহিলা সংযোজক মঞ্জু দীক্ষিত, পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাংগঠনিক সম্পাদক শ্রীনিবাস, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সভাপতি অনিমেষ পাহাড়ি এবং রাজ্য সাধারণ সম্পাদক আশিস সরকার-সহ সংগঠনের একাধিক পদাধিকারী ও প্রতিনিধিরা।

    সমাবেশে কৃষকরা কৃষি উৎপাদন, কৃষিজ পণ্যের বিপণন এবং কৃষির সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যান্য কাজকর্মের ক্ষেত্রে তাঁদের প্রতিদিনের সমস্যাগুলি তুলে ধরেন। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কৃষকদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি ঘটাতে শুধু ফসলের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করলেই হবে না। পাশাপাশি প্রয়োজন উন্নত কৃষি পরিকাঠামো, প্রয়োজনীয় উপকরণের সহজলভ্যতা এবং সরকারের কার্যকর সহযোগিতা।

    মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ২১ দফা দাবিসনদ পেশ (Bharatiya Kisan Sangh)

    সমাবেশের পর ভারতীয় কিষান সংঘের নয় সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। সেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ্যমন্ত্রীর হাতে দাবিসনদ তুলে দেওয়া হয়।

    প্রতিনিধিদলে ছিলেন কে সাই রেড্ডি, মঞ্জু দীক্ষিত, শ্রীনিবাস, অনিমেষ পাহাড়ি এবং আশিস সরকার-সহ কৃষক সংগঠনের অন্যান্য প্রতিনিধিরা।

    সাক্ষাৎপর্বে প্রতিনিধিরা কৃষকদের বিভিন্ন সমস্যার কথা জানান মুখ্যমন্ত্রীকে। রাজ্যস্তরের সমাবেশে উঠে আসা গুরুত্বপূর্ণ দাবিগুলির বিষয়েও তাঁকে অবহিত করা হয়। কৃষকদের সম্মিলিত মতামত ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তৈরি এই দাবিসনদে কৃষি উৎপাদন, কৃষকদের আয় এবং কৃষি ও সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রগুলির উন্নয়নের জন্য রাজ্য সরকারের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে (Bharatiya Kisan Sangh)।

    প্রতিনিধিদলের বক্তব্য শোনার পর মুখ্যমন্ত্রী কৃষক সমাজের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। সংগঠনের উত্থাপিত দাবিগুলি বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। ভবিষ্যতে যাতে কৃষকদের একই ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে না হয়, সে বিষয়েও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

    এই বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হল, নভেম্বর মাসে ভারতীয় কিষান সংঘের প্রতিনিধি এবং রাজ্য সরকারের আধিকারিকদের নিয়ে একটি সমন্বয় বৈঠকের আয়োজন করা হবে।

    কৃষি ও মৎস্য দফতরের সঙ্গে বৈঠক

    সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রস্তাবিত নভেম্বরের বৈঠকে কৃষি দফতর, মৎস্য দফতর এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দফতরের আধিকারিক ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন।

    ওই বৈঠকে কৃষকদের বিভিন্ন সমস্যা, অভিযোগ এবং দাবিদাওয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা। সংশ্লিষ্ট দফতরগুলির মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে সমস্যাগুলির সম্ভাব্য সমাধানের পথ খোঁজাই হবে বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য।

    উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, সংগঠনের দাবিগুলি শুধু প্রচলিত কৃষিকাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর মধ্যে মৎস্যচাষ, পশুপালন, কৃষি গবেষণা, সেচ ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণের জোগানের মতো বিষয়ও রয়েছে। তাই সংশ্লিষ্ট দফতরগুলিকে একসঙ্গে নিয়ে আলোচনার উদ্যোগকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে সংগঠন।

    ভারতীয় কিষান সংঘের আশা, এই বৈঠকের মাধ্যমে কৃষকদের অভিযোগ ও সমস্যাগুলি সমাধানের জন্য একটি প্রাতিষ্ঠানিক মঞ্চ তৈরি হবে। পাশাপাশি কৃষক সমাজ এবং রাজ্য প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় আরও মজবুত হবে।

    ধানের কুইন্টালপ্রতি ৩১০০ টাকা দর নিশ্চিত করার দাবি

    ২১ দফা দাবিসনদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল কৃষিজ পণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা। ভারতীয় কিষান সংঘের বক্তব্য, উৎপাদন খরচ ও কৃষকদের পরিশ্রমের যথাযথ মূল্য দিতে হবে। শুধু ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের ব্যবস্থার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না, কৃষকদের আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার মতো দাম নিশ্চিত করতে হবে।

    বিশেষ করে ধান কেনার ক্ষেত্রে কুইন্টালপ্রতি ৩১০০ টাকা মূল্য নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে সংগঠন। ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের পাশাপাশি অতিরিক্ত বোনাস দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। এর ফলে ধানচাষিদের আয় বাড়বে এবং তাঁদের আর্থিক নিরাপত্তা আরও মজবুত হবে বলে মনে করছে সংগঠন।

    জৈব চাষের প্রসার এবং জৈব পদ্ধতিতে উৎপাদিত কৃষিজ পণ্যের জন্য সুস্থ ও কার্যকর বিপণন ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি জানানো হয়েছে। কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য যাতে সহজে বাজারে পৌঁছতে পারে এবং তাঁরা যাতে উপযুক্ত দাম পান, তার জন্য বাজারের সুযোগ বাড়ানোর উপরেও জোর দেওয়া হয়েছে (Bharatiya Kisan Sangh)।

    সারের কালোবাজারি বন্ধের দাবি

    কৃষকদের অন্যতম বড় সমস্যা সারের কালোবাজারি। এই পরিস্থিতি বন্ধ করতে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছে ভারতীয় কিষান সংঘ। চাষের মরশুমে যাতে কৃষকদের প্রয়োজনীয় সার ও অন্যান্য উপকরণ সময়মতো এবং নির্ধারিত দামে পাওয়া যায়, তা নিশ্চিত করার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। কালোবাজারের উপর নির্ভরশীলতা এবং অতিরিক্ত দামে সার কেনার বাধ্যবাধকতা থেকে কৃষকদের মুক্তি দেওয়ার দাবি উঠেছে।

    কৃষিকাজের জন্য বিনামূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবিও জানিয়েছে সংগঠন। বিশেষ করে সেচের কাজে বৈদ্যুতিক পাম্প এবং অন্যান্য যন্ত্রপাতির উপর নির্ভরশীল কৃষকদের আর্থিক বোঝা কমাতে সরকারি সহায়তার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়েছে।

    অঞ্চলভিত্তিক সেচ ও নিকাশি ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবিও জানানো হয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন কৃষিপ্রধান এলাকার ভৌগোলিক ও কৃষিগত প্রয়োজন অনুযায়ী সেচ পরিকাঠামো এবং জল ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। সংগঠনের মতে, উন্নত সেচ ও নিকাশি ব্যবস্থা কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি জলসম্পদের সঠিক ব্যবহার এবং জলজনিত কারণে ফসলের ক্ষতি প্রতিরোধেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

    মৎস্যচাষ ও পশুপালনের উন্নয়নেও বিশেষ নজর

    কৃষির পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র মৎস্যচাষ ও পশুপালনের উন্নয়নের উপরেও গুরুত্ব দিয়েছে ভারতীয় কিষান সংঘ।

    মৎস্যচাষিদের জন্য চুন, নুন এবং জলে অক্সিজেন সরবরাহের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম বিনামূল্যে দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। পুকুরের জলের গুণমান বজায় রাখা, মাছের স্বাস্থ্য সুরক্ষিত রাখা এবং উৎপাদন বাড়ানোর ক্ষেত্রে এই উপকরণগুলির প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেছে সংগঠন।

    কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলির মাধ্যমে জমি, বীজ, সার এবং জল ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিষয়ে সুসংহত কৃষিনীতি প্রণয়নের দাবি উঠেছে। কৃষকদের বাস্তব সমস্যার ভিত্তিতে গবেষণা ও পরিকল্পনা গ্রহণ করে কৃষিক্ষেত্রের উন্নয়ন ঘটানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও বলা হয়েছে (Farmers Demands)।

    পশুপালনের সঙ্গে যুক্ত কৃষকদের জন্য পর্যাপ্ত আর্থিক সহায়তার দাবিও রয়েছে ২১ দফা দাবিসনদে। সংগঠনের বক্তব্য, গ্রামীণ পরিবারের জীবিকা এবং কৃষিনির্ভর অর্থনীতিতে পশুপালনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই এই ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত মানুষদেরও সরকারি আর্থিক সহযোগিতার আওতায় আনা প্রয়োজন।

    সব মিলিয়ে কৃষি, মৎস্যচাষ, পশুপালন এবং কৃষি গবেষণাকে একই উন্নয়ন পরিকল্পনার আওতায় নিয়ে আসার পক্ষেই সওয়াল করেছে সংগঠন (Bharatiya Kisan Sangh)।

    কৃষি পরিকাঠামো উন্নয়নে অঙ্গীকার

    নির্দিষ্ট দাবিগুলির পাশাপাশি কৃষকদের ন্যায্য অধিকার রক্ষা, উৎপাদিত ফসলের উপযুক্ত দাম নিশ্চিত করা, কৃষি পরিকাঠামোর উন্নয়ন এবং কৃষক সমাজের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তনের বিষয়েও নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে ভারতীয় কিষান সংঘ।

    সংগঠনের তরফে উন্নতমানের বীজ, পর্যাপ্ত হিমঘর, কৃষক মান্ডির সম্প্রসারণ এবং আধুনিক কৃষি পরিকাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়েছে। তাঁদের মতে, এই ব্যবস্থাগুলি কার্যকর হলে ফসল তোলার পর ক্ষতির পরিমাণ কমবে, কৃষকদের বাজারে পৌঁছনোর সুযোগ বাড়বে এবং উৎপাদিত ফসলের জন্য তাঁরা আরও ভালো দাম পেতে পারবেন।

    সমাবেশে রাজ্যের ২৩টি জেলা থেকে আসা প্রায় ১০ হাজার কৃষক, মহিলা কৃষক এবং স্বেচ্ছাসেবকদের অংশগ্রহণকে কৃষক সমাজের সম্মিলিত ঐক্যের প্রতিফলন বলে উল্লেখ করেছে ভারতীয় কিষান সংঘের পশ্চিমবঙ্গ শাখা। কর্মসূচিকে সফল করে তোলার জন্য অংশগ্রহণকারী কৃষক ও স্বেচ্ছাসেবকদের অভিনন্দন এবং কৃতজ্ঞতাও জানিয়েছে (Farmers Demands) সংগঠন।

    কৃষকদের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবি আগামী দিনেও রাজ্য সরকারের সামনে তুলে ধরার অঙ্গীকার করেছে তারা। মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস অনুযায়ী নভেম্বর মাসে প্রস্তাবিত সমন্বয় বৈঠকের দিকে এখন তাকিয়ে কৃষক সংগঠন। সেই বৈঠকে ২১ দফা দাবির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা এবং কৃষি ও সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রগুলির উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের পথ তৈরি হবে বলে আশা ভারতীয় কিষান সংঘের (Bharatiya Kisan Sangh)।

     

  • West Bengal: স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ! ভুয়ো অস্ত্রোপচার, জাল বিল, টাকার ভাগ স্বাস্থ্যকর্তাদেরও?

    West Bengal: স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ! ভুয়ো অস্ত্রোপচার, জাল বিল, টাকার ভাগ স্বাস্থ্যকর্তাদেরও?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ছুরি-কাঁচি ছাড়াই অস্ত্রোপচার হয়েছে বলে দাবি, কোথাও আবার চিকিৎসার খরচ কয়েক গুণ বাড়িয়ে জমা পড়েছে বিল। এমনকী, যে চিকিৎসা স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের আওতাতেই নেই, সেই চিকিৎসার নামেও সরকারি অর্থ তোলার অভিযোগ উঠেছে (West Bengal)। স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পকে ঘিরে একের পর এক অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসতেই রাজ্যের স্বাস্থ্য মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। প্রাথমিকভাবে ২৫ থেকে ৩০ লাখ ভুয়ো কিংবা অস্তিত্বহীন স্বাস্থ্যসাথী উপভোক্তার সন্ধান মিলেছে (Swasthya Sathi Project Scam) বলেও দাবি করা হচ্ছে। এই বিপুল সংখ্যক ভুয়ো উপভোক্তার আড়ালে সরকারি অর্থের অপচয় ও আত্মসাতের অভিযোগ ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চাপানউতোর।

    রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের বক্তব্য, তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়েই ২৫ থেকে ৩০ কোটি টাকার দুর্নীতির ইঙ্গিত মিলেছে। তাঁর কথায়, “সবে ওপেনিং ব্যাটসম্যান নেমেছে, তাতেই ২৫-৩০ কোটি টাকার দুর্নীতি দেখা যাচ্ছে। পুরো ইনিংস এখনও বাকি। এটা তো টি-২০ ম্যাচ নয়, তাই সময় লাগবে। আস্তে আস্তে দেখবেন আরও কত তথ্য বেরিয়ে আসে।”

    কীভাবে চলত দুর্নীতির কারবার? (West Bengal)

    স্বাস্থ্যবিমার ক্ষেত্রে বিমা সংস্থা এবং উপভোক্তার মধ্যে সংযোগ রক্ষার কাজ করে তৃতীয় পক্ষের প্রশাসনিক সংস্থা। চিকিৎসার খরচ বাবদ দাবি যাচাই, অনুমোদন এবং অর্থ প্রদানের প্রক্রিয়া পরিচালনা করে তারা। অভিযোগ, স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের ক্ষেত্রেও এই সংস্থাগুলির একাংশের বিরুদ্ধে দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে।

    বেসরকারি হাসপাতাল ও নার্সিংহোমগুলির অভিযোগ, স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের আওতায় চিকিৎসার বিলের দুই থেকে দশ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ আদায় করত অভিযুক্ত তৃতীয় পক্ষের প্রশাসনিক সংস্থাগুলি। দাবি মতো টাকা না দিলে আটকে দেওয়া হত চিকিৎসার বিলের টাকা। এই চক্রের সঙ্গে স্বাস্থ্য দফতরের কয়েক জন আধিকারিকের যোগসাজশ থাকার অভিযোগও সামনে এসেছে। তাঁদের অনুমোদন ছাড়া অতিরিক্ত বিল পাশ করানো সম্ভব হত না বলেও অভিযোগ।

    ৪০ হাজারের অস্ত্রোপচারে বিল ২ লাখ টাকা!

    প্রতিটি অস্ত্রোপচারের জন্য স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে নির্দিষ্ট আর্থিক প্যাকেজ রয়েছে। অভিযোগ, সেই প্যাকেজের অঙ্ক বাড়িয়ে কয়েক গুণ বেশি টাকা দাবি করত কিছু নার্সিংহোম। উদাহরণ হিসেবে উঠে এসেছে, ৪০ হাজার টাকার অস্ত্রোপচারের প্যাকেজকে বাড়িয়ে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত দেখানো হয়েছে। নার্সিংহোমের তরফে বেশি টাকার আবেদন জমা পড়ার পর স্বাস্থ্য দফতরের এক আধিকারিকের অনুমোদনে তা পাশ হয়ে যেত বলে অভিযোগ। পরবর্তী সময়ে অতিরিক্ত অর্থের একটি অংশ ভাগ হয়ে যেত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে।

    এখানেই শেষ নয়। স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের নির্ধারিত চিকিৎসা প্যাকেজের বাইরে থাকা কিছু চিকিৎসার ক্ষেত্রেও সরকারি অর্থ তোলার অভিযোগ উঠেছে। এমনকী, মেডিসিন বিভাগে ভর্তি রোগীর অস্ত্রোপচার হয়েছে বলে দেখিয়েও বিল জমা দেওয়া হত বলে (West Bengal) অভিযোগ।

    একজনের অস্ত্রোপচারে চারজনের কার্ড ব্যবহার!

    দুর্নীতির অভিযোগের আরও একটি চাঞ্চল্যকর দিক সামনে এনেছে বেসরকারি হাসপাতাল ও নার্সিংহোমগুলির সংগঠন। সংগঠনের প্রতিনিধি চিকিৎসক রাজীব পাণ্ডের বক্তব্য, একটি পরিবারের চার সদস্যের নাম স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে নথিভুক্ত ছিল। পরিবারের একজন সদস্যের অস্ত্রোপচার হলেও বাকি তিনজনের নামও প্রকল্পের আওতায় ব্যবহার করে আটকে দেওয়া হত। ওই পরিবারের অন্য সদস্যদের নার্সিংহোমে অতিথি হিসেবে থাকার ব্যবস্থাও করা হত বলে অভিযোগ।

    অভিযোগ, বাস্তবে ২০ হাজার টাকার অস্ত্রোপচার হলেও ভুয়ো অস্ত্রোপচারের হিসাব দেখিয়ে বিল তৈরি করা হত ৮০ হাজার টাকার। অর্থাৎ, প্রকৃত চিকিৎসার খরচের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি অর্থ সরকারি কোষাগার থেকে আদায়ের ব্যবস্থা করা হত।

    ২৫ লাখেরও বেশি ভুয়ো উপভোক্তার সন্ধান?

    সম্প্রতি আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের উপভোক্তাদের যোগ্যতা যাচাই করতে গিয়ে বাড়ি বাড়ি সমীক্ষা শুরু করেছে প্রশাসন। সেই যাচাইয়ের কাজেই স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে বিপুল সংখ্যক ভুয়ো বা অস্তিত্বহীন উপভোক্তার বিষয়টি সামনে এসেছে বলে সূত্রের দাবি।

    মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল বৃহস্পতিবার এই অনিয়মের বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন বলে জানা গিয়েছে। অভিযোগ, অস্তিত্বহীন উপভোক্তাদের নামেও বছরের পর বছর সরকারি কোষাগার থেকে বিমার প্রিমিয়াম বাবদ বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ২০ থেকে ২৫ লাখ ভুয়ো বা অদৃশ্য উপভোক্তার কারণে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা নয়ছয়ের অভিযোগ উঠেছে। এদিকে, উপভোক্তা যাচাইয়ের সূত্রে ২৫ থেকে ৩০ লাখ ভুয়ো কার্ডের সন্ধান পাওয়ার দাবিও সামনে (West Bengal) এসেছে।

    নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি বেসরকারি হাসপাতাল সংগঠনের

    এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে বেসরকারি হাসপাতাল ও নার্সিংহোমগুলির সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অফ প্রাইভেট হসপিটাল অ্যান্ড নার্সিংহোম। সংগঠনের সভাপতি অভিজিৎ মণ্ডল এবং সম্পাদক রাজীব পাণ্ডে বিবৃতিতে জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে স্বচ্ছ তদন্ত করে অভিযুক্ত হাসপাতাল, নার্সিংহোম, তৃতীয় পক্ষের প্রশাসনিক সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি, যে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ, তা উদ্ধার করে সরকারি কোষাগারে ফেরানোর উদ্যোগ নিতে (Swasthya Sathi Project Scam) হবে।

    সংগঠনের বক্তব্য, কেবল অভিযুক্ত কোনও সংস্থাকে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প থেকে বাদ দিলেই দায় শেষ হয়ে যায় না। দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেকের ভূমিকা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা জরুরি।

    স্বাস্থ্যসাথী-আয়ুষ্মান ভারত বাতিলের দাবি চিকিৎসক সংগঠনের

    অন্যদিকে, বিমা-নির্ভর স্বাস্থ্য পরিষেবা ব্যবস্থার বিরোধিতা করে স্বাস্থ্যসাথী এবং আয়ুষ্মান ভারত—দুই প্রকল্পই বাতিলের দাবি তুলেছে সরকারি চিকিৎসকদের সংগঠন সার্ভিস ডক্টর্স ফোরাম। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সজল বিশ্বাসের দাবি, গোটা ঘটনার বিচারবিভাগীয় তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। দোষীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থাও করতে হবে।

    তাঁদের মতে, বিমা-নির্ভর স্বাস্থ্য প্রকল্পের পরিবর্তে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ সরকারি হাসপাতালের পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং চিকিৎসা পরিষেবার মান বাড়ানোর কাজে ব্যয় করা উচিত। তাতে রাজ্যের সমস্ত মানুষ বিনামূল্যে চিকিৎসার সুযোগ পাবেন। সংগঠনের অভিযোগ, বিমা-নির্ভর স্বাস্থ্য প্রকল্পের মাধ্যমে একদিকে সরকারি অর্থের অপচয়ের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে বেসরকারি সংস্থাগুলির অন্যায্য মুনাফার সুযোগ বাড়ছে (Swasthya Sathi Project Scam)।

    স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে ভুয়ো উপভোক্তা, অতিরিক্ত বিল, অস্তিত্বহীন অস্ত্রোপচার এবং সরকারি আধিকারিকদের একাংশের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা কতটা, তা নির্ধারণ করতে প্রয়োজন পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্তের। সরকারি অর্থের অপচয় হয়ে থাকলে তা উদ্ধার এবং ভবিষ্যতে এমন অনিয়ম ঠেকাতে প্রশাসন কী পদক্ষেপ করে (West Bengal), এখন সেদিকেই নজর রাজ্যের স্বাস্থ্য মহলের।

     

  • Ashok Lahiri: অপ্রয়োজনীয় সরকারি নিয়ম ছাঁটাই, দ্রুত অনুমোদন ও লগ্নিকারীদের আস্থা ফেরাতে রাজ্যকে বার্তা অশোক লাহিড়ির

    Ashok Lahiri: অপ্রয়োজনীয় সরকারি নিয়ম ছাঁটাই, দ্রুত অনুমোদন ও লগ্নিকারীদের আস্থা ফেরাতে রাজ্যকে বার্তা অশোক লাহিড়ির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলায় শিল্পের বিকাশে প্রশাসনিক জটিলতা কমানো এবং বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করার উপর জোর দিলেন নীতি আয়োগের সহ-সভাপতি অশোককুমার লাহিড়ি (Ashok Lahiri)। তাঁর মতে, ব্যবসা ও শিল্পের ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় সরকারি নিয়মকানুন ছেঁটে ফেলে দ্রুত অনুমোদনের ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনাও জরুরি। নীতির প্রয়োজনীয় সংস্কার না হলে (Industry Growth) তা শিল্পের অগ্রগতির পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি। রাজ্যের নতুন সরকারের কাছেও শিল্পক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তনের যথেষ্ট প্রত্যাশা রয়েছে তাঁর। শুক্রবার কলকাতায় বেঙ্গল চেম্বার্স অফ কমার্স আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এ কথা বলেন লাহিড়ি। সেখানে কেন্দ্র ও রাজ্য—উভয় স্তরেই শিল্পবান্ধব নীতি প্রণয়ন এবং প্রশাসনিক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, ব্যবসা শুরু করা কিংবা সরকারি অনুমোদন পাওয়ার জন্য দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হলে বিনিয়োগকারীরা উৎসাহ হারান। তাই এই দীর্ঘসূত্রিতা কমাতে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া আরও সহজ করা প্রয়োজন।

    কী বলছেন অশোক (Ashok Lahiri)

    তিনি বলেন, “ব্যবসা শুরু করতে বা সরকারি অনুমোদন পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। এই সমস্যা কমানো জরুরি। সরকারের কাছে কোনও নাগরিকের তথ্য আগে থেকেই থাকলে তাঁকে বার বার একই তথ্য জমা দিতে বলা উচিত নয়।” তবে শিল্পের বিকাশের জন্য সমস্ত নিয়ন্ত্রণ তুলে দেওয়ার পক্ষে নন নীতি আয়োগের সহ-সভাপতি। তাঁর মতে, নিয়ন্ত্রণের বদলে প্রয়োজন সময়োপযোগী ও জনস্বার্থবাহী নিয়মকানুন। অশোক বলেন, “উন্নয়নের স্বার্থে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা পুরোপুরি তুলে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। এমন নিয়ম তৈরি করতে হবে, যা সাধারণ মানুষের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখবে, অথচ ব্যবসা ও শিল্পের অগ্রগতিতে বাধা সৃষ্টি করবে না।”

    ভারতের অর্থনৈতিক সংস্কারের ইতিহাস তুলে ধরে অশোক জানান, ১৯৯১ সালের অর্থনৈতিক সঙ্কটের পর থেকে পণ্য ও পরিষেবা কর চালু হওয়া পর্যন্ত বিভিন্ন সংস্কারমূলক পদক্ষেপ দেশে বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করতে সাহায্য করেছে। ব্যবসার অনুকূল পরিবেশ তৈরির ক্ষেত্রেও ভারতের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। তাঁর কথায়, ২০১৪ সালে বিশ্ব ব্যাঙ্কের ব্যবসা করার সহজতার তালিকায় ভারতের অবস্থান ছিল ১৪২। পরবর্তী সময়ে সংস্কারের ফলে ২০২০ সালে সেই অবস্থান উন্নীত হয়ে ৬৩-তে পৌঁছয় (Ashok Lahiri)।

    তবে শুধু কেন্দ্রীয় উদ্যোগে বাংলার শিল্পের পুনরুজ্জীবন সম্ভব নয় বলেও মনে করেন তিনি। এ জন্য কেন্দ্র, রাজ্য এবং জেলা প্রশাসনের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তোলার উপর জোর দিয়েছেন অশোক। নতুন রাজ্য সরকারের প্রতি প্রত্যাশা প্রকাশ করে তাঁর বক্তব্য, “এই সরকারের কাছে আমার অনেক আশা রয়েছে। অতীতে কী কী ভুল হয়েছে, তা যেহেতু সরকার জানে, তাই প্রয়োজনীয় সংস্কারগুলি তারা নিষ্ঠার সঙ্গে বাস্তবায়িত করবে (Industry   Growth) বলে আমার বিশ্বাস।”

    শিল্পমন্ত্রীর বক্তব্য

    অনুষ্ঠানে রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়ও বাংলার শিল্পক্ষেত্রের সমস্যা এবং সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য, একসময় বাংলা দেশের অন্যতম প্রধান শিল্পকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু জমির অপ্রতুলতা, সরকারি অনুমোদন পেতে দীর্ঘসূত্রতা এবং শিল্পের প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধা নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে বিনিয়োগের গতি ব্যাহত হয়েছে। এই পরিস্থিতির পরিবর্তনে কেন্দ্র ও রাজ্যকে যৌথভাবে উদ্যোগী হতে হবে।

    শিল্পমন্ত্রী জানান, রাজ্যে ৩৩টি প্রকল্পে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগের প্রস্তাব এসেছে। এই প্রকল্পগুলি বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৬২ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি প্রতিরক্ষা শিল্পের সঙ্গে রাজ্যের প্রকৌশল এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প সংস্থাগুলির সংযোগ আরও বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও উঠে এসেছে (Ashok Lahiri)।

    নতুন শিল্পনীতিতে জমি বরাদ্দ, কারখানা স্থাপনের অনুমোদন এবং বাণিজ্যিক লাইসেন্স পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তাপস। শিল্পোদ্যোগীদের কাছ থেকে সরাসরি সমস্যার কথা শুনতে চান তিনি। কোন সরকারি নিয়মের কারণে শিল্প স্থাপনে অসুবিধা হচ্ছে এবং কোথায় অনুমোদন পেতে দেরি হচ্ছে, তা নির্দিষ্ট করে জানাতে শিল্পপতিদের আহ্বান জানিয়েছেন মন্ত্রী।

    রাজ্যের লক্ষ্য

    তাপসের বক্তব্য, প্রশাসনিক জটিলতা ও লালফিতের ফাঁস কাটিয়ে শিল্পের জন্য আরও অনুকূল পরিবেশ তৈরি করাই রাজ্যের লক্ষ্য। সেই পথেই বাংলার শিল্পক্ষেত্রকে নতুন করে ঘুরে দাঁড় করাতে চায় (Industry   Growth) সরকার। রাজ্যে বিনিয়োগ টানতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উদ্যোগ এবং নতুন শিল্পনীতি প্রণয়নের পরিকল্পনার মধ্যে অশোককুমার লাহিড়ীর এই বার্তা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এখন দেখার, প্রশাসনিক সংস্কার ও দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা কতটা পূরণ করতে পারে রাজ্য সরকার (Ashok Lahiri)।

     

  • VBGRAMG: গ্রামীণ কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে জোর, মোদি সরকারের আমলে ভিবি-জিরামজিতে রেকর্ড শ্রমদিবস সৃষ্টি

    VBGRAMG: গ্রামীণ কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে জোর, মোদি সরকারের আমলে ভিবি-জিরামজিতে রেকর্ড শ্রমদিবস সৃষ্টি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গ্রামীণ কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে নতুন কর্মসূচিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির দাবি করল কেন্দ্রীয় সরকার। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে এখনও পর্যন্ত ৩১.৬৯ কোটিরও বেশি শ্রমদিবস তৈরি হয়েছে। ‘বিকশিত ভারত—গ্রামীণ রোজগার ও আজীবিকা মিশন’ (VBGRAMG) নামের এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য গ্রামীণ পরিবারগুলিকে মজুরির বিনিময়ে কাজের আইনি নিশ্চয়তা দেওয়া এবং সেই সঙ্গে গ্রামে স্থায়ী পরিকাঠামো গড়ে তোলা।

    ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে ‘বিকশিত ভারত—গ্রামীণ রোজগার ও আজীবিকা মিশন আইন, ২০২৫’। এর ফলে মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা আইনের পরিবর্তে নতুন কাঠামো চালু হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, গ্রামীণ এলাকার যোগ্য পরিবারগুলির প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যেরা অদক্ষ কায়িক শ্রমে কাজ করতে আগ্রহী হলে প্রতি অর্থবর্ষে ১২৫ দিনের মজুরিভিত্তিক কর্মসংস্থানের আইনি নিশ্চয়তা পাবেন (Person Days)।

    সরকারের দাবি, নয়া ব্যবস্থা চালুর সময় থেকেই প্রয়োজনীয় ডিজিটাল পরিকাঠামো কার্যকর ছিল। কর্মসংস্থান সৃষ্টি, গ্রামীণ সম্পদ নির্মাণ, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি এবং গ্রামস্তরে উন্নয়ন পরিকল্পনা—এই চারটি দিককে একসঙ্গে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ২০৪৭ সালের মধ্যে বিকশিত ভারত গড়ে তোলার বৃহত্তর লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    ২.২৩ কোটিরও বেশি গ্রামীণ পরিবারকে কাজ দেওয়ার দাবি (VBGRAMG)

    সরকারি তথ্য অনুয়ায়ী, ২০২৬ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই কর্মসূচিতে সক্রিয় শ্রমিকের সংখ্যা ছিল ১০.৮৮ কোটি। প্রায় ২.২৩ কোটি গ্রামীণ পরিবারের ২.৮১ কোটিরও বেশি শ্রমিক কাজের চাহিদা অনুযায়ী কর্মসংস্থান পেয়েছেন।

    চলতি অর্থবর্ষে কর্মসূচিতে মহিলাদের অংশগ্রহণের হার ৬১.৬৫ শতাংশ। গ্রামীণ কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে মহিলাদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতিরই প্রতিফলন এই পরিসংখ্যান।

    সরকার জানিয়েছে, নতুন ব্যবস্থার অধীনে ২.৮৩ লাখ সম্পদ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি, ৯৭.১৭ লাখ উন্নয়নমূলক কাজ চলছে। দেশজুড়ে প্রায় ২০.১৬ লক্ষ কর্মস্থল চালু রয়েছে এবং ২.৩১ লাখের কাছাকাছি গ্রাম পঞ্চায়েত বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।

    ভবিষ্যতে কাজের চাহিদা মেটানোর জন্য অনুমোদিত ৭৩.২৪ লাখ কাজ বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে। এ ছাড়া, ১৫.১৭ কোটি গ্রামীণ রোজগার নিশ্চয়তা কার্ড দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সরকার।

    এই কর্মসূচিতে দৈনিক মজুরির হার ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা পর্যন্ত। সংশ্লিষ্ট এলাকায় প্রযোজ্য মজুরির হার অনুযায়ী শ্রমিকেরা অর্থ পাবেন।

    পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গ্রামীণ এলাকায় কর্মসংস্থানের পাশাপাশি পরিকাঠামো নির্মাণ এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজেও জোর দেওয়া হচ্ছে। অনুমোদিত প্রকল্পের সংখ্যা বেশি থাকায় স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষে কাজের চাহিদা অনুযায়ী প্রকল্প (VBGRAMG) চালু করা সহজ হবে বলে মনে করছে সরকার।

    ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে বরাদ্দ ৯৩,৮৪১ কোটি টাকা

    নতুন কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে অন্তর্বর্তী বরাদ্দ হিসেবে ৯৩,৮৪১ কোটি টাকা দিয়েছে কেন্দ্র। সরকারি তথ্য বলছে, এর মধ্যে প্রথম কিস্তিতে ২৫,৮৮০ কোটি টাকা অনুমোদন করা হয়েছে।

    এই অর্থ দিয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং গ্রামীণ উন্নয়নের বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা। অনুমোদিত কাজ শুরু করা, শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা এবং সময়মতো মজুরি মেটানোর জন্য নিয়মিত অর্থের জোগান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে উল্লিখিত সময় পর্যন্ত এই কর্মসূচিতে সরাসরি সুবিধা হস্তান্তর ব্যবস্থার মাধ্যমে ৩.৭৬ কোটি লেনদেন হয়েছে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে মজুরি পাঠানোর ফলে অর্থ বণ্টনে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং লেনদেনের উপর নজরদারি আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

    গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্পের বাস্তবায়নে অনিয়ম কমানো, হিসাব সংরক্ষণ এবং দায়বদ্ধতা বাড়ানোর বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই প্রযুক্তিনির্ভর লেনদেনকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

    গ্রাম পঞ্চায়েতের পরিকল্পনায় গুরুত্ব

    নতুন কর্মসূচির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল ‘বিকশিত গ্রাম পঞ্চায়েত পরিকল্পনা’। এর মাধ্যমে গ্রামীণ উন্নয়নকে আরও অংশগ্রহণমূলক, তথ্যনির্ভর এবং স্থানীয় মানুষের প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    গ্রামসভা ও গ্রাম পঞ্চায়েতের অংশগ্রহণে তৈরি এই পরিকল্পনায় গ্রামের বর্তমান সম্পদের তালিকা প্রস্তুত করা, পরিকাঠামোর ঘাটতি চিহ্নিত করা এবং স্থানীয় প্রয়োজন অনুযায়ী উন্নয়নমূলক কাজের অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হয়।

    কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পে তৈরি সম্পদেরও তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। এর ফলে কোন এলাকায় কী ধরনের পরিকাঠামো রয়েছে এবং কোথায় নতুন বিনিয়োগ প্রয়োজন, তা চিহ্নিত করা সহজ (VBGRAMG) হবে।

    এই কাজে ভৌগোলিক তথ্যপ্রযুক্তি এবং ‘যুক্তধারা’ ও ‘প্রধানমন্ত্রী গতি শক্তি’র মতো ডিজিটাল মঞ্চ ব্যবহার করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকল্পের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো এবং উন্নয়নের ক্ষেত্রে কোথায় ঘাটতি রয়েছে, তা শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

    গ্রামস্তরে তৈরি পরিকল্পনাগুলিকে ব্লক, জেলা, রাজ্য এবং জাতীয় স্তরে একত্রিত করার ব্যবস্থা রয়েছে। এর মাধ্যমে ‘বিকশিত ভারত জাতীয় গ্রামীণ পরিকাঠামো কাঠামো’ গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

    এই পদ্ধতির উদ্দেশ্য হল, বিচ্ছিন্নভাবে বিভিন্ন প্রকল্প চালানোর পরিবর্তে গ্রামের প্রয়োজনকে বৃহত্তর উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত করা। ফলে পরিকাঠামো নির্মাণে সমন্বয় বাড়বে এবং সরকারি অর্থের ব্যবহার আরও কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে (Person Days)।

    চারটি ক্ষেত্রে ৩১৮ ধরনের কাজের অনুমোদন

    নতুন পরিকল্পনা কাঠামোয় চারটি প্রধান ক্ষেত্রের অধীনে মোট ৩১৮ ধরনের কাজ করার সুযোগ রাখা হয়েছে। ক্ষেত্রগুলি হল—জল নিরাপত্তা, মৌলিক গ্রামীণ পরিকাঠামো, জীবিকা-সহায়ক পরিকাঠামো এবং চরম আবহাওয়াজনিত বিপর্যয়ের প্রভাব প্রশমন।

    জল নিরাপত্তার আওতায় জল সংরক্ষণ এবং জলের সহজলভ্যতা বাড়ানোর মতো প্রকল্প নেওয়া যেতে পারে। মৌলিক গ্রামীণ পরিকাঠামোর ক্ষেত্রে গ্রামের প্রয়োজনীয় সম্পদ ও পরিষেবা উন্নয়নের উপর জোর দেওয়া হবে।

    জীবিকা-সহায়ক পরিকাঠামোর লক্ষ্য গ্রামীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে শক্তিশালী করা এবং মানুষের আয়ের সুযোগ বাড়ানো। অন্যদিকে, চরম আবহাওয়াজনিত পরিস্থিতির ক্ষয়ক্ষতি কমানোর জন্য প্রয়োজনীয় কাজও এই কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত (VBGRAMG)। পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গ্রামীণ এলাকার সহনশীলতা বাড়ানোই এর উদ্দেশ্য।

    সরকারের বক্তব্য, বিভিন্ন দফতর ও প্রকল্পের সম্পদকে একত্রে কাজে লাগিয়ে একই ধরনের কাজের পুনরাবৃত্তি এড়ানো এবং গ্রামস্তরে উন্নয়নমূলক উদ্যোগগুলির মধ্যে সমন্বয় তৈরি করাই এই ব্যবস্থার লক্ষ্য।

    কর্মসংস্থানের সঙ্গে স্থায়ী সম্পদ নির্মাণকে যুক্ত করার ফলে সরকারি ব্যয়ের মাধ্যমে একদিকে যেমন গ্রামীণ পরিবারের আয় বাড়বে, অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদে গ্রামের পরিকাঠামোরও উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে এই লক্ষ্য পূরণে স্থানীয় প্রয়োজন অনুযায়ী প্রকল্প নির্বাচন, নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা এবং নির্মিত সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি।

    নজরদারিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল প্রযুক্তি

    ‘বিকশিত ভারত—গ্রামীণ রোজগার ও আজীবিকা মিশনে’র বাস্তবায়নে প্রযুক্তির ব্যবহারকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শ্রমিকের পরিচয় যাচাই, উপস্থিতি নথিভুক্ত করা, মজুরি প্রদান এবং উন্নয়নমূলক কাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণে একাধিক ডিজিটাল ব্যবস্থা ব্যবহার করা হচ্ছে।

    এই ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে ই-কেওয়াইসি, মুখমণ্ডল ও জীবমিতিক পরিচয় যাচাই, ভৌগোলিক অবস্থান-চিহ্নিতকরণ, ডিজিটাল পরিমাপ এবং বৈদ্যুতিন পরিমাপের খাতা। সরাসরি সুবিধা হস্তান্তর ব্যবস্থার মাধ্যমে মজুরি পাঠানো হচ্ছে। পাশাপাশি, তাৎক্ষণিক তথ্যচিত্র এবং স্থানভিত্তিক প্রযুক্তির সাহায্যে কাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমেও নজরদারি, প্রতিবেদন তৈরি এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক পদক্ষেপ গ্রহণে সহায়তা পাওয়ার কথা। স্থানীয় স্তরে প্রকল্প বাস্তবায়ন আরও কার্যকর করতে পৃথক ডিজিটাল মঞ্চ, নাগরিকদের অংশগ্রহণের ব্যবস্থা এবং প্রশিক্ষণমূলক উদ্যোগও রাখা হয়েছে।

    এই প্রযুক্তিগুলি প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ, নথি সংরক্ষণ এবং বাস্তবায়নের সমস্যা দ্রুত চিহ্নিত করতে সাহায্য করতে পারে। তবে এর কার্যকারিতা নির্ভর করবে নির্ভরযোগ্য ডিজিটাল পরিকাঠামো, তথ্যের নির্ভুলতা এবং স্থানীয় আধিকারিক ও শ্রমিকদের প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগের উপর।

    সরকারের লক্ষ্য, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির মাধ্যমে কর্মসংস্থান প্রদান ও গ্রামীণ উন্নয়ন পরিকল্পনায় স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি বাড়ানো।

    কর্মসংস্থানের পাশাপাশি স্থায়ী সম্পদ নির্মাণে জোর

    নতুন কর্মসূচির মূল লক্ষ্য শুধু মজুরির বিনিময়ে কাজ দেওয়া নয়, একই সঙ্গে গ্রামের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের উপযোগী সম্পদ তৈরি করা। স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণে পরিকল্পনা তৈরি এবং বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে এই লক্ষ্য পূরণের চেষ্টা চলছে।

    ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে ৩১.৬৯ কোটিরও বেশি শ্রমদিবস তৈরির পরিসংখ্যান কর্মসূচির প্রাথমিক অগ্রগতির একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। কতগুলি পরিবার কাজ পেয়েছে, মহিলাদের অংশগ্রহণ কতটা, কতগুলি প্রকল্প চলছে এবং কত অর্থ বরাদ্দ হয়েছে—এই তথ্যগুলি কর্মসূচির ব্যাপ্তি সম্পর্কে ধারণা দেয় (VBGRAMG)।

    তবে প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে কাজের চাহিদা নিয়মিত মেটানো যাচ্ছে কি না, শ্রমিকেরা সময়মতো মজুরি পাচ্ছেন কি না এবং তৈরি হওয়া সম্পদগুলি স্থানীয় মানুষের দীর্ঘমেয়াদি প্রয়োজন পূরণ করছে কি না, তার উপর।

    প্রতি অর্থবর্ষে ১২৫ দিনের মজুরিভিত্তিক কর্মসংস্থানের আইনি নিশ্চয়তা, ৯৩,৮৪১ কোটি টাকার অন্তর্বর্তী বরাদ্দ এবং ৩১৮ ধরনের অনুমোদিত কাজের পরিকল্পনা নিয়ে কেন্দ্র গ্রামীণ জীবিকা ও পরিকাঠামো উন্নয়নকে একসূত্রে বাঁধতে চাইছে। ২০৪৭ সালের মধ্যে বিকশিত ভারত গড়ে তোলার লক্ষ্যে এই কর্মসূচি কতটা কার্যকর হয়, তা (Person Days) নির্ধারণ করবে বাস্তবায়নের গুণমান এবং গ্রামীণ মানুষের কাছে এর সুফল পৌঁছনোর মাত্রা।

     

  • Spain: স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা, মৃত অন্তত ৬৮! পরিবহণমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সরব কর্মী সংগঠন

    Spain: স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা, মৃত অন্তত ৬৮! পরিবহণমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সরব কর্মী সংগঠন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: স্পেনে পরপর দু’টি ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনায় বিপর্যস্ত রেল পরিষেবার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বুধবার মধ্য স্পেনের কাস্তিয়া-লা মানচা অঞ্চলে দু’টি ট্রেনের সংঘর্ষে অন্তত ৬৮ জনের মৃত্যু হয়েছে (Spain)। আহত হয়েছেন আরও কয়েক ডজন যাত্রী। এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে দেশে দ্বিতীয় প্রাণঘাতী রেল দুর্ঘটনার পর (Train Crash) পরিবহণমন্ত্রী অস্কার পুয়েন্তের পদত্যাগ দাবি করেছে দেশের শ্রমিক সংগঠন সিএসআইএফ। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে দ্রুত, নিরপেক্ষ, কঠোর ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবিও জানিয়েছে তারা। দুর্ঘটনার জেরে রেলপথের নিরাপত্তা, পরিকাঠামোর রক্ষণাবেক্ষণ এবং কর্মীদের কাজের পরিস্থিতি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকে তিনদিনের জাতীয় শোক পালনের কথা ঘোষণা করেছে স্পেন সরকার। প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হবে।

    দায় এড়ানোর চেষ্টা, অভিযোগ শ্রমিক সংগঠনের

    সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সিএসআইএফ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার দায় স্বীকার করার পরিবর্তে পরিবহণমন্ত্রী রেলকর্মীদের উপর দায়িত্ব চাপানোর চেষ্টা করছেন। রেল পরিকাঠামোর দায়িত্বে থাকা সরকারি সংস্থা আদিফের ট্রেন চলাচল নিয়ন্ত্রণ বিভাগের এক কর্মীকে সম্ভাব্য বলির পাঁঠা হিসেবে তুলে ধরা হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংগঠনটি। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট কর্মীকে দোষী বিবেচনা না করার এবং নির্দোষ বলে গণ্য হওয়ার আইনি অধিকার বজায় রাখার জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছে তারা। পাশাপাশি, গত সেপ্টেম্বরেই আদিফের কর্মীদের অতিরিক্ত কাজের সময় নিয়ে সতর্ক করা হয়েছিল বলে দাবি করেছে সিএসআইএফ। সংগঠনটির বক্তব্য, ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে রেল পরিকাঠামোর উন্নয়ন, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, পুরনো ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ এবং নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য আরও অর্থ বরাদ্দ করা প্রয়োজন। তবে পদত্যাগের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেননি পরিবহণমন্ত্রী পুয়েন্তে।

    কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা?

    বুধবার কাস্তিয়া-লা মানচা অঞ্চলে দুর্ঘটনাটি ঘটে। সরকারি রেল সংস্থা রেনফের একটি ট্রেন গিয়ে ধাক্কা মারে বেসরকারি সংস্থা ইরিওর একটি দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেনের পিছনে। সংঘর্ষের পর ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজ শুরু হয়। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আরও কেউ আটকে রয়েছেন কি না, তা খুঁজে দেখতে তল্লাশি চালান উদ্ধারকারীরা। হতাহতের সংখ্যা এবং দুর্ঘটনার ভয়াবহতার কারণে ঘটনাটিকে ২০১৩ সালের পর ইউরোপের অন্যতম প্রাণঘাতী রেল দুর্ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। পরিবহণমন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রায় ৬৯ কিলোমিটার রেলপথে স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় ত্রুটি দেখা দেওয়ায় ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু পরে নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র থেকে ফের ট্রেন চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়। কেন এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মন্ত্রী পরিস্থিতিকে ‘ব্যাখ্যাতীত’ বলে উল্লেখ করেছেন। এরপর রেনফের ট্রেনটি প্রায় ২৫ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে দাঁড়িয়ে থাকা ইরিওর ট্রেনটির সঙ্গে ধাক্কা খায়। নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় ঠিক কী ধরনের ত্রুটি হয়েছিল এবং কেন ফের ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তদন্তে সেই বিষয়গুলিও খতিয়ে দেখা হবে বলে মনে করা হচ্ছে (Spain)।

    পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আশ্বাস সানচেজের

    প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করা হবে এবং তদন্তে কোনও গাফিলতি বা ব্যবস্থাগত ত্রুটি ধরা পড়লে তা সংশোধনের পদক্ষেপ করবে সরকার। মাদ্রিদের দক্ষিণে দুর্ঘটনাস্থলের কাছে এক টেলিভিশন ভাষণে তিনি মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। উদ্ধারকারী দল ও জরুরি পরিষেবার কর্মীরা দুর্ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলেও জানান তিনি। চলতি বছরে স্পেনে ঘটে যাওয়া দু’টি প্রাণঘাতী রেল দুর্ঘটনার কারণ পরস্পরের থেকে আলাদা বলেই প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সানচেজ। তবে দেশের দ্রুতগতির রেল পরিষেবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও মজবুত করা এবং সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয়তার কথাও স্বীকার করেছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দ্রুতগতির রেল পরিষেবার উপর মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে যদি নিরাপত্তা আরও জোরদার করার প্রয়োজন হয়, আমরা তা করব। এক বছরে এই ধরনের দু’টি দুর্ঘটনা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।” এদিকে, আগামী মাসে নির্ধারিত নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রচার চালাচ্ছিল বিরোধী দল পিপলস পার্টি। দুর্ঘটনার শোকের আবহে বৃহস্পতিবারের জন্য নির্ধারিত প্রচার কর্মসূচি বাতিল করেছে দলটি।

    দ্বিতীয় প্রাণঘাতী রেল দুর্ঘটনা

    স্পেনের দক্ষিণাঞ্চলে গত জানুয়ারিতে ঘটে যাওয়া আর একটি রেল দুর্ঘটনার তদন্ত এখনও চলছে। সেই ঘটনায় ৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছিল। তার কয়েক মাসের মধ্যেই ফের এত বড় দুর্ঘটনা ঘটায় দেশের রেল নিরাপত্তা এবং দ্রুতগতির রেলপথের রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। সিএসআইএফের দাবি, রেল ব্যবস্থার আধুনিকীকরণের পাশাপাশি কর্মীদের কাজের পরিবেশ উন্নত করা এবং নিরাপত্তা খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি। সরকারের বক্তব্য, জানুয়ারির দুর্ঘটনার তদন্ত থেকে আলাদাভাবে সাম্প্রতিক ঘটনার অনুসন্ধান করা হবে। তদন্তে যে সমস্ত ত্রুটি সামনে আসবে, সেগুলির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

    ভারতীয় নাগরিকদের জন্য জরুরি যোগাযোগ নম্বর জারি

    স্পেনে ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, গত ২৮ অক্টোবর তোলেদোর উর্দা এলাকার কাছে দুর্ঘটনায় জড়িত ট্রেনগুলিতে কোনও ভারতীয় নাগরিক যাত্রা করে থাকলে, তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দূতাবাসের যোগাযোগ করা উচিত (Spain)। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে দূতাবাস দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ভারতীয় নাগরিক ও তাঁদের পরিবারের জন্য জরুরি যোগাযোগের তথ্য (Train Crash) জানিয়েছে। প্রয়োজনে ভারতীয় নাগরিকেরা দূতাবাসের সঙ্গে +34650339008 নম্বরে যোগাযোগ করতে পারেন। এ ছাড়া cons.madrid@mea.gov.in-এ ইমেল পাঠিয়েও সাহায্য চাওয়া যাবে। দুর্ঘটনায় কোনও ভারতীয় নাগরিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকলে দ্রুত দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করার আবেদনও জানিয়েছে ভারতীয় দূতাবাস।

     

  • Muhammad Yunus: হাসিনার পতনের দু’দিন আগেই ইউনুসকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান করার সিদ্ধান্ত হয়েছিল!

    Muhammad Yunus: হাসিনার পতনের দু’দিন আগেই ইউনুসকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান করার সিদ্ধান্ত হয়েছিল!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের পতনের দু’দিন আগেই নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনুসকে (Muhammad Yunus) অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করলেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। বুধবার, ২৮ অক্টোবর সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করে তিনি এই দাবি করেন। তাঁর বক্তব্য, হাসিনা সরকারের পতন (Hasina Ouster) এবং ইউনুসকে ক্ষমতার শীর্ষে নিয়ে আসার পরিকল্পনা অত্যন্ত গোপনে তৈরি হয়েছিল।

    শফিকুলের দাবি, হাসিনার বিদায়ের পর অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য ইউনুসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন বাংলাদেশের সাংবাদিক কাদারুদ্দিন শিশির। ছাত্রনেতাদের হয়ে ইউনুসকে এই দায়িত্ব গ্রহণের আমন্ত্রণ জানানোর জন্যই শিশিরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল বলে তাঁর বক্তব্য।

    আলমের কথায়, “হাসিনা-পরবর্তী পরিস্থিতিতে অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনুসের কাছে পৌঁছতে ছাত্রনেতাদের একজন বিশ্বস্ত মধ্যস্থতাকারীর প্রয়োজন ছিল। কাদারুদ্দিন শিশির সেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।” তাঁর আরও দাবি, গোটা বিষয়টি অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে পরিচালনা করা হয়েছিল এবং হাতে গোনা কয়েকজন বিশ্বস্ত ব্যক্তি ছাড়া কেউই এই পরিকল্পনার কথা জানতেন না।

    আলমের বিস্ফোরক দাবি (Muhammad Yunus)

    আলমের বক্তব্য, ২০০৬ সালে শান্তিতে নোবেলজয়ী ইউনুসের সঙ্গে ছাত্রনেতাদের প্রাথমিক আলোচনা শুরু করানোর ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন শিশির। হাসিনা দেশ ছাড়ার দু’দিন আগেই এই যোগাযোগ ও আলোচনা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।

    আলম আরও বলেন, “হাসিনা তখনও দু’দিন ক্ষমতায় ছিলেন। কিন্তু গণহত্যা ও অপহরণের অভিযোগে অভিযুক্ত তাঁর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এই পরিকল্পনার কোনও খবরই পায়নি। বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে শিশির এবং আমাদের পুরো এএফপি দলকে সম্ভবত আয়নাঘরে বন্দি হতে হত।”

    ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটে। তার আগে জুলাই মাসে ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ব্যাপক অশান্তি ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলনকারীদের একটি বড় দল প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের দিকে এগিয়ে গেলে নিরাপত্তা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হয়। বাংলাদেশের সেনাবাহিনী হাসিনাকে জানায়, বিক্ষোভকারীদের আর আটকে রাখা সম্ভব হচ্ছে না।

    এরপর হাসিনা পদত্যাগ করেন এবং ছোট বোন শেখ রেহানাকে সঙ্গে নিয়ে দ্রুত দেশ ছাড়েন। প্রথমে বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টারে তাঁদের প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন থেকে তেজগাঁও বিমানবন্দরে নিয়ে যাওয়া হয় (Muhammad Yunus)। পরে সামরিক পরিবহণ বিমানে তাঁরা বাংলাদেশ ছাড়েন। মানবিক কারণে ভারতে আশ্রয় পান হাসিনা।

    হিন্দু সংগঠনগুলিকে ‘হাসিনার পোষা কুকুর’ বলেছিলেন আলম

    হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর হামলা ও নির্যাতনের অভিযোগ সামনে আসে। বিভিন্ন হিন্দু সংগঠন এবং সংখ্যালঘু প্রতিনিধিরা একাধিক ঘটনার কথা তুলে ধরে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

    তবে আলমের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি সংখ্যালঘু সংগঠনগুলির উদ্বেগকে গুরুত্ব না দিয়ে তাদের শেখ হাসিনা সরকারের “পোষা কুকুর” বলে কটাক্ষ করেছিলেন। এই মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়। হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর হামলার অভিযোগ এবং সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা নিয়ে তখনও প্রশ্ন উঠছিল।

    এর পাশাপাশি, আলম দাবি করেছিলেন, শেখ হাসিনার (Muhammad Yunus) শাসনকালের তুলনায় অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বাংলাদেশে হিন্দুরা বেশি নিরাপদে রয়েছেন। সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাঁর এই বক্তব্যও বিতর্কের জন্ম (Hasina Ouster) দিয়েছিল।

     

  • Israel Election Results: ইজরায়েলের নির্বাচনে সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা, ৫৩ আসন পেয়েও সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে দূরে নেতানিয়াহু

    Israel Election Results: ইজরায়েলের নির্বাচনে সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা, ৫৩ আসন পেয়েও সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে দূরে নেতানিয়াহু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইজরায়েলের সাধারণ নির্বাচনের প্রাথমিক ফল (Israel Election Results) ঘিরে তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা। প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়ার পথে থাকলেও এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে (Netanyahu) পারেনি। এদিকে, প্রাক্তন সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী শিবিরও সংখ্যাগরিষ্ঠতার ম্যাজিক সংখ্যা ছুঁতে ব্যর্থ হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলির আসনসংখ্যা এবং তাদের অবস্থানই নতুন সরকার গঠনের সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনের পর ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত প্রকাশিত আংশিক হিসাব অনুযায়ী, ইজরায়েলের ১২০ আসনবিশিষ্ট সংসদে নেতানিয়াহুর জোটের সম্ভাব্য আসনসংখ্যা ৫৩। অন্যদিকে, আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট পেতে পারে ৪৮টি আসন। আরব নেতৃত্বাধীন দু’টি দল মিলিয়ে পেতে পারে ১৯টি আসন, যা তাদের সরকার গঠনের আলোচনায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে এসেছে। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন অন্তত ৬১টি আসন। ফলে কোনও শিবিরই এখনও পর্যন্ত এককভাবে সরকার গঠনের অবস্থানে নেই।

    নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ ফল প্রকাশের আগে তাই দু’টি প্রশ্ন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নেতানিয়াহু কি আরও একবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতায় ফিরতে পারবেন? নাকি আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলির সমর্থন নিয়ে বিরোধীরা বিকল্প সরকার গঠনের চেষ্টা করবে? শেষ পর্যন্ত কোন পথে এগোবে ইজরায়েলের রাজনীতি, তা নির্ভর করছে আগামী কয়েক দিনের জোট আলোচনা এবং রাজনৈতিক সমঝোতার উপর।

    সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে আট আসন দূরে নেতানিয়াহুর জোট (Israel Election Results)

    প্রাথমিক ফলে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি এবং তার দক্ষিণপন্থী ও অতি-রক্ষণশীল ধর্মীয় দলগুলির জোট এগিয়ে থাকলেও সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসনসংখ্যা থেকে তারা আটটি আসন পিছিয়ে রয়েছে। ফলে বর্তমান জোটের বাইরে অন্য কোনও দলের সমর্থন আদায় করা নেতানিয়াহুর কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

    এতদিনের রাজনৈতিক সমীকরণে তাঁর প্রধান সহযোগী ছিল দক্ষিণপন্থী ও অতি-রক্ষণশীল দলগুলি। কিন্তু নির্বাচনের ফল বলছে, এই দলগুলির সম্মিলিত শক্তি দিয়ে সরকার গঠন করা সম্ভব নাও হতে পারে। অন্য দলগুলির সমর্থন পাওয়া অথবা নতুন কোনও রাজনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছনো ছাড়া তাঁর সামনে বিকল্প সীমিত।

    তবে সরকার গঠনের দৌড় থেকে নেতানিয়াহু এখনই ছিটকে গিয়েছেন, এমনটা বলা যায় না। তিনি আরও বিস্তৃত জোট গঠনের চেষ্টা করতে পারেন, বিরোধী শিবিরের কোনও অংশের সঙ্গে সমঝোতার পথ খুঁজতে পারেন অথবা রাজনৈতিক অচলাবস্থা চলাকালীন তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন (Israel Election Results)।

    বিরোধী শিবিরের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যও এই পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ। নেতানিয়াহুবিরোধী দলগুলি যদি প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী নির্বাচন এবং অভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছতে না পারে, তা হলে তাদের পক্ষে বিকল্প সরকার গঠন কঠিন হয়ে উঠতে পারে। সেই সুযোগে নেতানিয়াহু নতুন করে সমর্থন জোগাড়ের চেষ্টা করতে পারেন।

    আরব দলগুলির সমর্থনে কি বিকল্প সরকার গঠন সম্ভব?

    নির্বাচনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হল আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলির সম্মিলিত আসনসংখ্যা বৃদ্ধি। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, জয়েন্ট লিস্ট পেতে পারে ১২টি আসন এবং রা’আম পেতে পারে সাতটি আসন। সব মিলিয়ে ১৯টি আসন তাদের হাতে থাকায় সরকার গঠনের আলোচনায় এই দলগুলি নির্ণায়ক ভূমিকা নিতে পারে।

    বিরোধী জোটের ৪৮টি আসনের সঙ্গে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলির ১৯টি আসন যোগ হলে মোট আসনসংখ্যা দাঁড়ায় ৬৭। অর্থাৎ, এই দলগুলি একযোগে সমর্থন দিলে ৬১ আসনের প্রয়োজনীয় সীমা অতিক্রম করা সম্ভব। কিন্তু সংখ্যার এই সমীকরণ বাস্তবে কার্যকর করা সহজ নয়।

    বিরোধী শিবিরের একাধিক নেতা অতীতে আরব দলগুলির সঙ্গে সরাসরি জোট গঠন নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। ফলে সরকার গঠনের জন্য তাঁদের আগের অবস্থান থেকে সরে এসে নিরাপত্তা, সরকারি ব্যয়, সংখ্যালঘুদের অধিকার এবং অন্যান্য নীতিগত বিষয়ে সমঝোতা করতে হতে পারে।

    অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটস পার্টির নেতা ইয়ার গোলান আরব নাগরিক এবং তাঁদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে সহযোগিতার ভিত্তিতে বিরোধী সরকার গঠনের পক্ষে মত দিয়েছেন। জয়েন্ট লিস্টের নেতারাও নেতানিয়াহুর প্রত্যাবর্তন আটকানোর লক্ষ্যে বিকল্প সরকার গঠনে সহায়তা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে স্পষ্ট (Israel Election Results)।

    তবে নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানোর প্রশ্নে ঐকমত্য থাকলেই যে আরব দলগুলি সরকারে যোগ দেবে, তা নয়। তারা মন্ত্রিসভায় যোগ না দিয়েও সংসদে বিকল্প সরকারকে বাইরে থেকে সমর্থন করতে পারে। এই ধরনের সংখ্যালঘু সরকার গঠিত হলে তাকে প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে সংসদের সমর্থন বজায় রাখার জন্য রাজনৈতিক সমঝোতার উপর নির্ভর করতে হবে।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলি?

    এবারের নির্বাচনে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলির সম্ভাব্য ১৯টি আসন তাদের প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। এর ফলে একদিকে যেমন নেতানিয়াহুর জোটের সরকার গঠনের হিসাব জটিল হয়েছে, অন্যদিকে তেমনই আরব দলগুলির সঙ্গে সহযোগিতা করতে অনিচ্ছুক বিরোধী নেতাদের উপরও চাপ বেড়েছে।

    আরব ভোটারদের উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণও এই ফলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। ভোটদানের হার বৃদ্ধি পাওয়ায় সংসদে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলির প্রতিনিধিত্ব বেড়েছে এবং পরবর্তী সরকার গঠনের আলোচনায় তাদের প্রভাব বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

    বিরোধীদের কাছে এই দলগুলির সমর্থন সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের একটি বাস্তবসম্মত পথ খুলে দিতে পারে। কিন্তু জাতীয় নিরাপত্তা, রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নীতি এবং আরব রাজনৈতিক প্রতিনিধিদের ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘদিনের মতপার্থক্য সেই সম্ভাবনায় বাধা সৃষ্টি করতে পারে (Netanyahu)।

    ফলে ইজরায়েলের রাজনীতিতে এখন মূল প্রশ্ন হল, নেতানিয়াহুর বিরোধী দলগুলি কি তাঁকে সরানোর লক্ষ্যে একজোট হতে পারবে, নাকি নিজেদের মতপার্থক্যের কারণে বিকল্প সরকার গঠনের সুযোগ হারাবে (Israel Election Results)?

    কী হবে নেতানিয়াহুর ভবিষ্যৎ?

    নতুন সরকার গঠনের পরবর্তী পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে চলেছেন ইজরায়েলের রাষ্ট্রপতি আইজ্যাক হারজগ। আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী ফল প্রকাশের পর তিনি বিভিন্ন দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন এবং কাকে প্রথমে সরকার গঠনের সুযোগ দেওয়া হবে, সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। প্রথম প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে সাংবিধানিক নিয়ম ও নির্ধারিত সময়সীমা মেনে অন্য কোনও নেতাকেও সরকার গঠনের সুযোগ দেওয়া হতে পারে।

    নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত নেতানিয়াহুর তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করার কথা। অর্থাৎ, সরকার গঠন নিয়ে টানাপড়েন চললেও প্রশাসনিক কাজকর্ম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে না। তবে দীর্ঘদিন রাজনৈতিক অচলাবস্থা বজায় থাকলে গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

    আলোচনার মাধ্যমে কোনও কার্যকর জোট তৈরি করা সম্ভব না হলে ইজরায়েলে ফের সাধারণ নির্বাচনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। সেক্ষেত্রে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা থাকবে।

    কোন তিনটি সম্ভাবনা সামনে?

    বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনটি সম্ভাব্য পথ নিয়ে আলোচনা চলছে। প্রথমত, নেতানিয়াহু নতুন রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সমর্থন জোগাড় করে সরকার গঠন করতে পারেন। দ্বিতীয়ত, আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী শিবির আরব দলগুলির সমর্থনে বিকল্প সরকার গঠনের চেষ্টা করতে পারে। তৃতীয়ত, কোনও পক্ষই সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে না পারলে দীর্ঘ রাজনৈতিক অচলাবস্থার পর ফের নির্বাচনের প্রয়োজন হতে পারে (Netanyahu)।

    তবে এই মুহূর্তে কোনও সম্ভাবনাকেই নিশ্চিত বলে ধরে নেওয়া যাচ্ছে না। নির্বাচনে কোন দল সবচেয়ে বেশি আসন পেয়েছে, তার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে কোন রাজনৈতিক শিবির সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সমর্থন নিশ্চিত করতে পারছে। ইজরায়েলের পরবর্তী সরকার কারা গঠন করবে, তার উত্তর মিলবে আগামী দিনের রাজনৈতিক আলোচনা ও সমঝোতার মধ্যেই (Israel Election Results)।

     

  • RSS: ভারতীয় সমাজে বিভেদ-অবিশ্বাস ছড়ানোর চেষ্টা করছে কিছু শক্তি, অভিযোগ আরএসএস নেতার

    RSS: ভারতীয় সমাজে বিভেদ-অবিশ্বাস ছড়ানোর চেষ্টা করছে কিছু শক্তি, অভিযোগ আরএসএস নেতার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় সমাজে বিভেদ তৈরি করা এবং দেশের গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক ব্যবস্থা ও সেনাবাহিনীর প্রতি মানুষের আস্থায় চিড় ধরানোর চেষ্টা করছে কিছু শক্তি। বুধবার মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (RSS) এক কর্মী সমাবেশে এমনই অভিযোগ করলেন সঙ্ঘের সহ-সরকার্যবাহ অতুল লিমায়ে। তাঁর দাবি, নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করা এই শক্তিগুলির (Social Divide) মোকাবিলা করতে জাতীয়তাবাদী ভাবধারা প্রচারের জন্য নিজস্ব পরিকাঠামো গড়ে তুলতে হবে। ইন্দোরে ‘চরৈবেতি একত্রীকরণ’ নামে আয়োজিত ওই সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে লিমায়ে বলেন, কোনও দেশকে উন্নতির শিখরে পৌঁছতে হলে সমাজে সম্প্রীতি বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। নাগরিক কর্তব্য পালনের পাশাপাশি গণতন্ত্র, সংবিধান, সশস্ত্র বাহিনী এবং বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের বিশ্বাস ও আস্থা থাকা প্রয়োজন।

    কোনও ব্যক্তি, রাজনৈতিক দল বা সংগঠনের নাম না করেই তিনি অভিযোগ করেন, “কিছু শক্তি এখন সমাজের মানসিকতায় প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করছে। ছোটখাটো মতপার্থক্যকে বড় করে দেখানো হচ্ছে, নানা বিতর্ক উসকে দেওয়া হচ্ছে। সমাজের এক অংশের সঙ্গে অন্য অংশের বিরোধ তৈরি করার চেষ্টা চলছে।” লিমায়ের দাবি, দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের মধ্যে অবিশ্বাস তৈরি করাই এই শক্তিগুলির উদ্দেশ্য। তাঁর বক্তব্য, ছাপা সংবাদমাধ্যম, বৈদ্যুতিন সংবাদমাধ্যম, সোশ্যাল মিডিয়া ও ডিজিটাল মাধ্যমের পাশাপাশি শিক্ষাক্ষেত্র, শিল্পকলা এবং সাহিত্যের মাধ্যমেও জনজীবনে প্রভাব বিস্তারের জন্য তারা নিজস্ব পরিকাঠামো তৈরি করেছে।

    ধর্মান্তরণ ও জনবিন্যাসের পরিবর্তন নিয়েও উদ্বেগ (RSS)

    সমসাময়িক বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরে লিমায়ে ধর্মান্তরণ, জনবিন্যাসের পরিবর্তন এবং বিদেশি অর্থসাহায্যে পরিচালিত এমন কিছু আন্দোলনের প্রসঙ্গের উল্লেখ করেন, যেগুলি তাঁর মতে সামাজিক জীবনে বিভাজন তৈরি করছে। সীমান্তবর্তী ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলিতে জনবিন্যাসের পরিবর্তন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। আরএসএসের এই নেতার বক্তব্য, সমাজে বিভেদ সৃষ্টিকারী শক্তিগুলিকে প্রতিহত করতে হলে জাতীয়তাবাদী চিন্তাধারার প্রসার ঘটাতে হবে। সেই লক্ষ্যে নিজস্ব বক্তব্য ও জনমত গড়ে তোলার উপরেও জোর দেন তিনি।লিমায়ে বলেন, “আমাদের নিজস্ব বয়ান তৈরি করতে হবে। তার জন্য শিক্ষাক্ষেত্র ও বৌদ্ধিক পরিসরে কাজ করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রচলিত ধারণা ও আলোচনার ক্ষেত্রেও সক্রিয় হতে হবে।” তাঁর দাবি, শিক্ষাজগৎ, সাহিত্য, শিল্পকলা, সংবাদমাধ্যম এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় জাতীয়তাবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী বহু প্রভাবশালী ব্যক্তি রয়েছেন। তাঁদের সঙ্গে সমন্বয় গড়ে তুলে সামাজিক ঐক্য বজায় রাখা এবং উন্নত ভারত গঠনের লক্ষ্যে নিজস্ব ব্যবস্থা তৈরি করতে আরএসএসের (RSS) স্বেচ্ছাসেবকদের আহ্বান জানান তিনি।

    ইন্দোরে আরএসএসের বার্ষিক বৈঠক

    এমন এক সময়ে ইন্দোরে আরএসএসের কর্মীদের এই সমাবেশ হল, যখন সংগঠনটির সর্বোচ্চ সাংগঠনিক সংস্থা অখিল ভারতীয় কার্যকরী মণ্ডলের বার্ষিক বৈঠক আগামী ২ থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত মধ্যপ্রদেশের এই শহরেই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। তিনদিনের ওই বৈঠকে আরএসএসের প্রধান মোহন ভাগবত-সহ সারা দেশ থেকে প্রায় ৪৫০ জন পদাধিকারী যোগ দেবেন বলে সংগঠন সূত্রে জানা গিয়েছে (Social Divide)। সঙ্ঘের (RSS) কর্মকর্তাদের মতে, সংগঠনের প্রতিষ্ঠার শতবর্ষ উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচির পর্যালোচনা হবে এই বৈঠকে। পাশাপাশি নতুন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বিষয়বস্তু, দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপ, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং মাদক সমস্যার মতো বিষয় নিয়েও আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

     

  • Indranil Sen Arrested: ‘‘সবে তো চা-বিস্কুট হয়েছে, এখনও প্রাতরাশ হয়নি’’, ইন্দ্রনীলের গ্রেফতারিতে কীসের ইঙ্গিত মুখ্যমন্ত্রীর?

    Indranil Sen Arrested: ‘‘সবে তো চা-বিস্কুট হয়েছে, এখনও প্রাতরাশ হয়নি’’, ইন্দ্রনীলের গ্রেফতারিতে কীসের ইঙ্গিত মুখ্যমন্ত্রীর?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “তদন্তকারী সংস্থাগুলি নিশ্চয়ই তথ্যপ্রমাণ পেয়েছে। সেই প্রমাণের ভিত্তিতেই আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ করা হয়েছে।” বুধবার রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তৃণমূলের ইন্দ্রনীল সেনের গ্রেফতারি প্রসঙ্গে এমনই মন্তব্য করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নবান্নে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, ইন্দ্রনীলের (Indranil Sen Arrested) বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এবং কলকাতা পুলিশ তদন্ত চালাচ্ছিল।  প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গ তুলেও আক্রমণ শানান শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, এই ঘটনায় শুধু ইন্দ্রনীল নন, আরও অনেকে জড়িত থাকতে পারেন। তিনি বলেন, “আমি বহু রাজনৈতিক সভায় বলেছি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রত্যক্ষ মদতে এই ঘটনা ঘটেছে। একা তো আর কেউ টাকা নেননি! প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীরও ভাগ থাকতে পারে।” ইন্দ্রনীলের সঙ্গে (ED) মমতার ঘনিষ্ঠতার প্রসঙ্গও তোলেন পালাবদলের মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, দু’জনে একসঙ্গে ঘুরতেন এবং গানও গাইতেন। শুভেন্দুর কটাক্ষ, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ইন্দ্রনীল সেন একে অন্যের পরিপূরক ছিলেন। যা পরিণতি হওয়ার, তা-ই হচ্ছে। সবে তো চা-বিস্কুট হয়েছে, এখনও প্রাতরাশ হয়নি। দুর্নীতিতে জড়িতদের সকলকেই জেলে যেতে হবে। ঠিক সময়ে বড় জায়গাতেও হাত পড়বে।”

    প্রসঙ্গত, দুর্গাপুজোর পাস বিক্রিকে কেন্দ্র করে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার হন চন্দননগরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক তথা রাজ্যের প্রাক্তন তথ্য ও সংস্কৃতিমন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন (Indranil Sen Arrested)। এদিন সল্টলেকের ইডি দফতরে হাজিরা দিতে গিয়েছিলেন তিনি। সেখান থেকে বেরোনোর পরেই তাঁকে আটক করে গাড়িতে তোলে কলকাতা পুলিশ। পরে তাঁকে লালবাজারে নিয়ে যাওয়া হয় বলে পুলিশ সূত্রে খবর। তদন্তে অসহযোগিতার অভিযোগেই এই পদক্ষেপ বলে জানা গিয়েছে (ED)।

    ইন্দ্রনীলের বিরুদ্ধে অভিযোগ (Indranil Sen Arrested)

    দুর্গাপুজোর পাস বিক্রির ক্ষেত্রে রাষ্ট্রসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কোর নাম ব্যবহার করে বিপুল অঙ্কের টাকা তোলার অভিযোগ উঠেছে ইন্দ্রনীলের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, দুর্গাপুজোর বিশেষ দর্শন এবং বিশেষ পাস বিক্রির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার লেনদেন হয়েছিল। অথচ এই ধরনের বাণিজ্যিক কার্যকলাপের জন্য ইউনেস্কোর কোনও অনুমোদন বা চুক্তি ছিল না বলে অভিযোগকারীদের দাবি।

    এই ঘটনায় কলকাতা পুলিশের কাছে প্রথম অভিযোগ দায়ের করেন জয়দীপ মুখোপাধ্যায় নামে এক ব্যক্তি। বৌবাজার থানায় দায়ের হওয়া সেই অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু হয়। পরে আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট।

    তদন্তের অংশ হিসেবে এর আগে একাধিক বার ইন্দ্রনীলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাঁর কসবার বাড়ি এবং সিঙ্গুরের বাগানবাড়ি-সহ একাধিক ঠিকানায় তল্লাশিও চালানো হয়। দুর্গাপুজো ও লক্ষ্মীপুজোর পরে ফের তাঁকে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেই নির্দেশ মেনেই বুধবার তিনি তদন্তকারী সংস্থার দফতরে পৌঁছন (Indranil Sen Arrested)।

    ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকার দুর্নীতির সন্দেহ

    প্রাথমিক তদন্তে ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়মের সম্ভাবনা রয়েছে বলে তদন্তকারীদের অনুমান। অভিযোগ, দুর্গাপুজোর বিশেষ দর্শনের আয়োজন এবং বিশেষ প্রবেশপত্র বিক্রির নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করা হয়েছিল। প্রচারে ইউনেস্কোর নাম ও স্বীকৃতিকে এমনভাবে ব্যবহার করা হয়, যাতে সাধারণ মানুষের মনে ওই আয়োজনের সঙ্গে সংস্থাটির সরাসরি যোগসূত্র থাকার ধারণা তৈরি হয়।

    ইন্দ্রনীলের স্ত্রী মধুছন্দা সেনের বিরুদ্ধেও এই ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগ উঠেছে। তিনি ‘মাস আর্ট’ নামে একটি সংস্থার সঙ্গে যুক্ত। অভিযোগ, ওই সংস্থার মাধ্যমেই পাস বিক্রি এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেন পরিচালিত হয়েছিল। ২০২১ সালে কলকাতার দুর্গাপুজো ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পাওয়ার পর সংস্থাটি গড়ে ওঠে বলে জানা গিয়েছে।

    আগাম জামিনের আবেদন খারিজ

    তদন্ত চলাকালীন গ্রেফতারি এড়াতে আগাম জামিনের আবেদন করেছিলেন ইন্দ্রনীল। কিন্তু কলকাতা হাইকোর্ট সেই আবেদন খারিজ করে দেয়। এর পর তিনি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। মঙ্গলবার শীর্ষ আদালতে মামলাটির শুনানি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে মামলা থেকে সরে দাঁড়ান। ফলে শুনানি পিছিয়ে যায় এবং নতুন করে বেঞ্চ গঠনের প্রয়োজন হয়ে পড়ে। সুপ্রিম কোর্ট সূত্রে খবর, আগামী সোমবার নতুন বেঞ্চে ইন্দ্রনীলের আগাম জামিনের আবেদন সংক্রান্ত মামলার শুনানি হওয়ার কথা।

    উল্লেখ্য, রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর পুরনিয়োগ সংক্রান্ত মামলায় গত ১১ মে রাজ্যের প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুকে গ্রেফতার করা হয়েছিল (ED)। এ বার দুর্গাপুজোর পাস বিক্রির অভিযোগে গ্রেফতার হলেন তৃণমূল সরকারের আর এক প্রাক্তন মন্ত্রী (Indranil Sen Arrested)।

     

LinkedIn
Share