Author: pranabjyoti

  • Amit Shah: “ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলার কুর্সিতে বসবে বিজেপি”, প্রত্যয়ী শাহ

    Amit Shah: “ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলার কুর্সিতে বসবে বিজেপি”, প্রত্যয়ী শাহ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলার কুর্সিতে বসবে বিজেপি।” মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠকে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কথাগুলি বললেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা অমিত শাহ (Amit Shah)। তিনদিনের সফরে সোমবার রাতেই কলকাতায় (TMC) এসেছেন তিনি। বছর ঘুরলেই পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভার নির্বাচন। তার আগে এ রাজ্যে দলের সাংগঠনিক হালহকিকত বুঝতে বঙ্গ সফরে এসেছেন তিনি। এই সফরে মঙ্গলবার বাংলায় যে এবার বিজেপি আসছে, তা জানিয়ে দিলেন শাহ। তাঁর গলায় ঝরে পড়ল প্রত্যয়।

    জমি দিচ্ছে না রাজ্য (Amit Shah)

    কেন্দ্রীয় সরকার কী কী উন্নয়ন করেছে, এদিন তারও ফিরিস্তি দেন শাহ। তবে তার সবগুলিরই যে রাজ্যের তৃণমূল সরকার বিরোধিতা করেছে, তাও জানান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। অনুপ্রবেশকারীদের রুখতে রাজ্য সরকার জমি দিচ্ছে না বলেও অনুযোগ করেন শাহ। তাঁর মতে, সেই কারণেই শেষ করা যাচ্ছে না সীমান্তে বেড়া দেওয়ার কাজ। তাই বেনো জলের মতো এ রাজ্যে ঢুকে পড়ছে অনুপ্রবেশকারীরা। পুলিশ-প্রশাসন দেখেও নিশ্চুপ। আর বিএসএফ কী করছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। তিনি বলেন, “অসম এবং ত্রিপুরায় অনুপ্রবেশ বন্ধ হলেও, এ রাজ্যে কেন হচ্ছে না? আসলে বাংলার জনবিন্যাসে বদল আনতেই সীমান্তে বেড়া দেওয়ার জন্য রাজ্যের তরফে জমি দেওয়া হচ্ছে না।” কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “বাংলার সীমান্ত দিয়ে যে অনুপ্রবেশ হচ্ছে, তা শুধু বাংলার বিষয় নয়। এটি পুরো দেশের নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রশ্ন। এমন (Amit Shah) মজবুত সরকার এখানে আনুন, যারা এখানে অনুপ্রবেশ পুরোপুরি বন্ধ করে দেবে।”

    তোলাবাজির প্রসঙ্গ

    তিনি বলেন, “আগে সমস্ত উন্নয়নমূলক কাজের সূচনা হত এই বাংলা থেকেই। আজ তোলাবাজির কারণে এ রাজ্য থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন শিল্পপতিরা (TMC)।” কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “কামানোর অধিকার এখানে রয়েছে একমাত্র ভাইপোর। আর কারও অধিকার নেই। শিল্প ক্ষেত্রে বাংলা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। তা আপনার আমলে হয়েছে। বামেরা অর্ধেক শেষ করে গিয়েছিল। আপনি পুরোটা শেষ করে দিয়েছেন।” তিনি বলেন, “আজ মমতার নেতৃত্বে পুরো বাংলার বিকাশ থমকে গিয়েছে। মোদির সব যোজনা পুরো দেশে গরিবের উন্নয়ন করছে, এখানে সিন্ডিকেট চলছে। ১৪ বছর ধরে ভয় ও দুর্নীতি বাংলার পরিচয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিজেপি সরকারের সঙ্কল্প, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬ এর পর যখন বিজেপির সরকার হবে, তখন বাংলার সংস্কৃতি ফেরানোর চেষ্টা করব (Amit Shah)।” তিনি বলেন, “দেশের যেখানে যেখানে এনডিএ, বিজেপির সরকার রয়েছে, সেখানে গরিবদের উন্নয়নকে প্রাথমিকভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এখানেও দেব। বন্ধ করব অনুপ্রবেশ। শুধু তাই নয়, অনুপ্রবেশকারীদের ধরে একে একে দেশ থেকে বের করে দেবে বিজেপি (TMC)।”

    কংগ্রেস বিগ জিরো

    বিজেপির সেকেন্ড ইন কমান্ড শাহ বলেন, “ছাব্বিশের বাংলায় বিজেপিরই সরকার হবে। এর মজবুত আধার বিজেপির কাছে রয়েছে। ২০১৪ সালে ১৭ শতাংশ ভোট ও মাত্র ২টি আসন পেয়েছিলাম। পাঁচ বছর পরে আমরাই ৭৭টি আসনে জিতেছি। আর কংগ্রেস বিগ জিরো হয়েছে। বামফ্রন্টও একটাও আসন পায়নি। এ রাজ্যে আমরা প্রধান বিরোধী দল হয়েছি, শুভেন্দু অধিকারী বিরোধী দলনেতা (Amit Shah)। ২০২৪ সালে ১২টি আসন পেয়েছি। আর ছাব্বিশে প্রচণ্ড বহুমতের সঙ্গে বিজেপির সরকার হবে। ২৪ সালে টানা তৃতীয়বারের জন্য মোদি প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা, বিহার এবং দিল্লিতে বিজেপির সরকার হয়েছে। ওড়িশা ও অন্ধ্রপ্রদেশেও বিজেপি বা এনডিএর সরকার হয়েছে। আমার বিশ্বাস, ছাব্বিশের ভোটেও বাংলায় বিজেপির সরকার হবে।”

    মতুয়াদেরও আশ্বাস

    মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরকে পাশে নিয়েই শাহ বলেন, “মতুয়াদের ভয়ের কোনও কারণ নেই। যাঁরা শরণার্থী হয়ে বাংলায় এসেছেন, তাঁদের ক্ষতি কেউ করতে পারবে না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও পারবেন না (TMC)। তাঁদের সকলকে নাগরিকত্ব দেওয়া হবে।” শাহ বলেন, “ছাব্বিশ সালের ভোট হবে মূলত অনুপ্রবেশ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ভোট।” দুর্নীতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “তৃণমূলের একাধিক নেতা ও মন্ত্রীর বাড়ি থেকে কোটি কোটি টাকা উদ্ধার হয়েছে। আপনারা বলছেন বাংলায় দুর্নীতি নেই? নিয়োগ দুর্নীতি থেকে পুরসভা পর্যন্ত সর্বত্রই কেলেঙ্কারির ছায়া।”

    মন্দির-মসজিদ রাজনীতি

    মন্দির-মসজিদ রাজনীতির প্রসঙ্গ টেনে শাহ বলেন, “বাংলায় মন্দির-মসজিদের রাজনীতি করছে কে? তৃণমূল থেকে বেরিয়ে যাওয়া এক বিধায়ক এবং তৃণমূল নিজে (Amit Shah)।” তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় এটা যে করা ঠিক হয়নি, বাংলার মানুষকে তা বুঝতে হবে।মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়েও রাজ্য সরকারকে তোপ দাগেন শাহ। আরজি কর, দুর্গাপুর মেডিক্যাল কলেজ ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নারী নির্যাতনের ঘটনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “তৃণমূল সরকার বাংলার মানুষকে (TMC) সুশাসন দিতে ব্যর্থ (Amit Shah)।”

  • Santhali Language: ঝাড়খণ্ডে অলচিকি লিপির শতবর্ষ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু

    Santhali Language: ঝাড়খণ্ডে অলচিকি লিপির শতবর্ষ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ঝাড়খণ্ডের (Jharkhand) জামশেদপুরে অনুষ্ঠিত হল ২২তম পারসি মহা সম্মেলনের সমাপ্তি অনুষ্ঠান। একই সঙ্গে পালিত হল সাঁওতালি ভাষার (Santhali Language) ‘অলচিকি’ লিপির শতবর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠান। উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। ভাষণ দিতে গিয়ে রাষ্ট্রপতি মাতৃভাষার গুরুত্বের ওপর বিশেষ জোর দেন। তিনি বলেন, অন্যান্য ভাষা শেখা অবশ্যই প্রয়োজনীয়। তবে নিজের মাতৃভাষা শেখা এবং তা চর্চা করা প্রত্যেক মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    মাতৃভাষার গুরুত্ব (Santhali Language)

    রাষ্ট্রপতি সাঁওতালি ভাষায় বক্তব্য রাখেন। বলেন, “সব ভাষা শেখায় কোনও ক্ষতি নেই। কিন্তু কখনওই নিজের মাতৃভাষাকে ভুলে যাওয়া উচিত নয়। নিজের মানুষের সঙ্গে কথা বলার সময় সব সময় মাতৃভাষায়ই কথা বলার চেষ্টা করা উচিত।” রাষ্ট্রপতি সাঁওতালি ভাষার অলচিকি লিপির স্রষ্টা পণ্ডিত রঘুনাথ মুর্মুকেও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, সাঁওতালিদের নিজস্ব ভাষা থাকা সত্ত্বেও ১৯২৫ সালের আগে উপযুক্ত লিপির অভাবে বিভিন্ন লিপি ব্যবহার করতে হত। এর ফলে অলচিকি ব্যতীত অন্য লিপিতে বহু সাঁওতালি শব্দের সঠিক উচ্চারণ করা সম্ভব হত না। তিনি বলেন, অলচিকি লিপি শুধু একটি লিখন পদ্ধতি নয়, এটি সাঁওতালি সমাজের সাংস্কৃতিক পরিচয় ও আত্মমর্যাদার প্রতীক। এই লিপির শতবর্ষ উদযাপন সাঁওতালি ভাষা ও সংস্কৃতির সংরক্ষণে এক গুরুত্বপূর্ণ (Santhali Language)  মাইলফলক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    আদিবাসী সমাজের জাগরণ

    রাষ্ট্রপতি বলেন, অলচিকি লিপি চালু হওয়ার পর থেকে এটি সাঁওতালি জনগোষ্ঠীর পরিচয়ের এক শক্তিশালী প্রতীকে পরিণত হয়েছে। সাঁওতালি ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষণে এই লিপির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ (Jharkhand)। তিনি জানান, সম্প্রতি তিনি অলচিকি লিপিতে লেখা সাঁওতালি ভাষায় ভারতের সংবিধান প্রকাশ করার সুযোগ পেয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এর ফলে সাঁওতালি ভাষাভাষী মানুষরা এবার তাঁদের মাতৃভাষায় ভারতের সংবিধান পড়তে ও বুঝতে পারবেন, যা গণতান্ত্রিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে বিশেষ সহায়ক (Santhali Language) হবে। আদিবাসী সমাজের জাগরণকে একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, এই সম্প্রদায়গুলিকে সচেতন করার ক্ষেত্রে লেখক ও সাহিত্যিকদের বড় ভূমিকা রয়েছে। তিনি লেখকদের তাঁদের লেখনীর মাধ্যমে আদিবাসী সমাজকে জাগ্রত করার আহ্বানও জানান (Jharkhand)।

    আদিবাসী সমাজের প্রশংসায় পঞ্চমুখ

    রাষ্ট্রপতি জানান, কেন্দ্রীয় সরকার বিশেষভাবে সংবেদনশীল আদিবাসী গোষ্ঠীর উন্নয়নের জন্য ২৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। এই অর্থ আদিবাসী সমাজের সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলেই আশা তাঁর (Santhali Language)। পরিবেশবান্ধব জীবনযাপনের জন্য আদিবাসী সমাজের প্রশংসায়ও পঞ্চমুখ রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, উন্নয়নের পথে এগিয়ে যেতে হবে ঠিকই, তবে সেই সঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয়টিকেও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ঝাড়খণ্ডের রাজ্যপাল সন্তোষ কুমার গঙ্গওয়ার এবং মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন। এই কর্মসূচির মাধ্যমে পণ্ডিত রঘুনাথ মুর্মু ১৯২৫ সালে শুরু করা ঐতিহাসিক অল চিকি আন্দোলনের শতবর্ষ পূর্তি উদযাপন করা হয় (Santhali Language)। দিনের পরবর্তী পর্বে রাষ্ট্রপতি জামশেদপুরের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির ১৫তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানেও যোগ দেন।

    প্রসঙ্গত, বর্তমানে তিন দিনের ঝাড়খণ্ড সফরে রয়েছেন রাষ্ট্রপতি। রবিবার তিনি পৌঁছন ঝাড়খণ্ডের রাজধানী রাঁচিতে। সফরের শেষ দিন (Jharkhand), আজ মঙ্গলবারে গুমলায় আন্তঃরাজ্য জনসাংস্কৃতিক সমাগম সমারোহ–কার্তিক যাত্রা অনুষ্ঠানে ভাষণ দেওয়ার কথা (Santhali Language) রয়েছে তাঁর।

  • Rajasthan: ভারতেই মিলল লিথিয়ামের বৃহত্তম ভাণ্ডারের খোঁজ, পরিমাণ কত জানেন?

    Rajasthan: ভারতেই মিলল লিথিয়ামের বৃহত্তম ভাণ্ডারের খোঁজ, পরিমাণ কত জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের খনিজ মানচিত্রে যুক্ত হল এক ঐতিহাসিক মাইল ফলক। রাজস্থানের (Rajasthan) নাগৌর জেলার দেগানা অঞ্চলে বিপুল পরিমাণ লিথিয়ামের (Lithium) সন্ধান মিলেছে। এই আবিষ্কার ভারতের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই অভিমত বিশেষজ্ঞদের। কারণ, এর ফলে লিথিয়ামের জন্য চিনের ওপর ভারতের দীর্ঘদিনের নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে।লিথিয়াম ভাণ্ডারের খবর প্রকাশ্যে আসতেই দ্রুত পদক্ষেপ করেছে কেন্দ্রীয় খনিমন্ত্রক। ইতিমধ্যেই ওই অঞ্চলে খনিজ উত্তোলনের জন্য নিলাম প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। সরকারি সূত্রের অনুমান, এটি হতে পারে ভারতে এ পর্যন্ত আবিষ্কৃত সবচেয়ে বড় লিথিয়াম ভাণ্ডার।

    কত লিথিয়াম মিলেছে দেগানায়?

    ভারতীয় ভূতাত্ত্বিক সমীক্ষা সংস্থা (GSI)-এর তথ্য অনুযায়ী, দেগানা অঞ্চলে আনুমানিক ১ কোটি ৪০ লাখ টন লিথিয়াম মজুত রয়েছে। এই ভাণ্ডার ভারতের মোট লিথিয়াম চাহিদার প্রায় ৮০ শতাংশ পূরণ করতে সক্ষম হতে পারে বলে অনুমান। বর্তমানে ৭০–৮০ শতাংশ লিথিয়াম আমদানির জন্য চিনের ওপর নির্ভর করতে হয় ভারতকে। দেগানার এই ভাণ্ডার যদি বাণিজ্যিকভাবে সফলভাবে উন্নয়ন করা যায়, তাহলে তা ভারতের খনিজ ও শক্তি নিরাপত্তায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে পারে।

    কেন এত গুরুত্বপূর্ণ লিথিয়াম?

    লিথিয়াম আধুনিক প্রযুক্তির একটি অপরিহার্য কাঁচামাল। বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যাটারি উৎপাদন, শক্তি সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র-সহ বিভিন্ন উচ্চপ্রযুক্তি শিল্পে এই খনিজের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতের পরিচ্ছন্ন শক্তি রূপান্তরের ক্ষেত্রে লিথিয়ামকে ‘স্ট্র্যাটেজিক মিনারেল’ হিসেবেই ধরা হয় (Rajasthan)। বিভিন্ন প্রতিবেদন থেকে জানা গিয়েছে, ডেগানা অঞ্চলে প্রায় ২৬,০০০ মিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত ড্রিলিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। এই সমীক্ষা শুধু লিথিয়ামেই সীমাবদ্ধ ছিল না, একই সঙ্গে টাংস্টেন, বিসমাথ, টিন এবং কোবাল্টের মতো অন্যান্য মূল্যবান খনিজের উপস্থিতিও পরীক্ষা করা হয়েছে। এর ফলে রাজস্থানের সামগ্রিক খনিজ সম্ভাবনা নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে।

    কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আবিষ্কার ভারতের খনিজ নিরাপত্তা, বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যাটারি শিল্প এবং ভবিষ্যৎ শক্তি পরিকল্পনার ক্ষেত্রে একটি বড় মাইলফলক হয়ে উঠতে পারে (Lithium)। রাজস্থানের ডেগানা অঞ্চলের রেভান্ত পাহাড়ে খনিজ অনুসন্ধানের ইতিহাস নতুন নয়। ব্রিটিশ রাজত্বে ১৯১৪ সালে এখানে প্রথম টাংস্টেনের সন্ধান মিলেছিল। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় এই টাংস্টেন ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর কাজে (Rajasthan) ব্যবহৃত হয়। পরবর্তী কয়েক দশক ধরে এলাকাটিতে খনন কার্য চললেও এক পর্যায়ে এসে তা বন্ধ হয়ে যায়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে লিথিয়ামের সম্ভাব্য সন্ধান আবারও ডেগানাকে জাতীয় পর্যায়ে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। ডেগানা শুধু রাজস্থানের জন্য নয়, বরং ভারতের ক্রমবর্ধমান খনিজ কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, লিথিয়ামের মজুত পাওয়া গেলে এটি রাজ্যের অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে।

    দেশের একাধিক রাজ্যেও লিথিয়ামের ভাণ্ডার

    রাজস্থান ছাড়াও দেশের একাধিক রাজ্যে লিথিয়ামের ভাণ্ডার চিহ্নিত হয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীরের রিয়াসি জেলার সালাল-হামানা এলাকায় প্রায় ৫.৯ মিলিয়ন টন লিথিয়াম মজুতের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে, যা এখনও পর্যন্ত ভারতের সবচেয়ে বড় সম্ভাব্য ভাণ্ডার হিসেবে বিবেচিত হয়।ছত্তিশগড়ের কোরবা জেলায় ইতিমধ্যেই দেশের প্রথম লিথিয়াম ব্লকের নিলাম সম্পন্ন হয়েছে এবং শীঘ্রই সেখানে খনন কাজ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কর্নাটকের মান্ড্যা জেলায় তুলনামূলকভাবে ছোট হলেও প্রায় ১৪,১০০ টন লিথিয়ামের ভাণ্ডার চিহ্নিত হয়েছে (Rajasthan)।বিহার, ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড, তামিলনাড়ু, অন্ধ্রপ্রদেশ (Lithium) এবং গুজরাটেও লিথিয়ামের সম্ভাবনা রয়েছে বলে ভূতাত্ত্বিক সমীক্ষায় ইঙ্গিত মিলেছে, যদিও এসব রাজ্যে এখনও বাণিজ্যিকভাবে খনন কার্য শুরু হয়নি।

    লিথিয়ামের অভ্যন্তরীণ চাহিদা

    ভারতে বৈদ্যুতিক যান বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হওয়ায় লিথিয়ামের অভ্যন্তরীণ চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গিয়েছে। ব্যাটারি উৎপাদনে লিথিয়াম একটি অপরিহার্য কাঁচামাল হওয়ায় ভবিষ্যতের জ্বালানি কৌশলে এই খনিজের গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে (Rajasthan)। ডেগানায় লিথিয়াম খনন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে রাজস্থানের জন্য উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আয়ের পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলেও আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে এই প্রকল্প দেশের আমদানি নির্ভরতা কমাতে, জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করতে এবং বৈশ্বিক লিথিয়াম বাজারে ভারতের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে সহায়ক হতে পারে (Lithium)। বিশেষজ্ঞদের মতে, উৎপাদন শুরু হলে ডেগানার এই প্রকল্প শুধু একটি রাজ্যের নয়, বরং গোটা দেশের খনিজ ও জ্বালানি নীতিতে এক রূপান্তরকারী অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে (Rajasthan)।

  • Bangladesh: বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত রিয়াজ হামিদুল্লাহকে তলব ঢাকার, কারণ কী?

    Bangladesh: বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত রিয়াজ হামিদুল্লাহকে তলব ঢাকার, কারণ কী?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নয়া মোড় নিচ্ছে ভারত-বাংলাদেশের (Bangladesh) সম্পর্ক! দিন কয়েক আগে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত রিয়াজ হামিদুল্লাহকে (Reaz Hamidullah) তলব করেছিল নয়াদিল্লি। তার পরপরই ঢাকায় জরুরি তলব করা হয় হামিদুল্লাহকে। ডাক পেয়ে সঙ্গে সঙ্গেই ঢাকা পৌঁছন তিনি। গত বছরের অগাস্টে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অপসারণ এবং মহম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর থেকেই দিল্লি ও ঢাকার মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনার একাধিক ঘটনা ঘটেছে। তবে ইনকিলাব মঞ্চের নেতা শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের পর বাংলাদেশে নতুন করে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ায় সেই উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে।

    দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক (Bangladesh)

    বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর, “ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহকে জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় ডাকা হয়েছে।” জানা গিয়েছে, বিদেশমন্ত্রকের এক ‘দায়িত্বশীল সূত্রে’র উদ্ধৃতি দিয়ে ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, তলবের প্রেক্ষিতে হামিদুল্লাহ সোমবার রাতে ঢাকায় পৌঁছন। প্রতিবেদনে এও বলা হয়েছ, “দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্যই তাঁকে ঢাকায় ডাকা হয়েছে।” শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পর গত ১৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশজুড়ে (Bangladesh) ব্যাপক বিক্ষোভ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এই নতুন অস্থিরতার মধ্যেই একদল বিক্ষোভকারী চট্টগ্রামে ভারতের উপ রাষ্ট্রদূতের অফিসে হামলার চেষ্টা করে। সেই প্রেক্ষিতেই ভারত ওই মিশনে ভিসা পরিষেবা স্থগিত করে। এর আগে ভারত বাংলাদেশে নিযুক্ত দূত রিয়াজ হামিদুল্লাহকে তলব করে এবং ঢাকায় ভারতীয় মিশনের চারপাশে নিরাপত্তাজনিত অস্থিরতা তৈরির পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করা কিছু চরমপন্থীকে নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

    মিশনে ভিসা পরিষেবা স্থগিত

    এর পরিপ্রেক্ষিতে, বাংলাদেশ নয়াদিল্লিতে অবস্থিত সে দেশের হাইকমিশন এবং ত্রিপুরায় অবস্থিত মিশনে ভিসা পরিষেবা স্থগিত করে দেয়। পাশাপাশি, ভারতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের বাইরে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর বিষয়ে বাংলাদেশ ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে তলব করে (Reaz Hamidullah)। তবে, একাধিক মিশনে ভিসা পরিষেবা স্থগিত এবং উভয় (Bangladesh) পক্ষের কূটনীতিকদের তলবের পরেও ঢাকা যে দিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক নতুন করে সাজাতে আগ্রহী, তারই ইঙ্গিত মিলল। গত সপ্তাহে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ জানান, প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে কাজ করে চলেছেন। তিনি বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নে কাজ করছেন এবং এ বিষয়ে তিনি নিজেও বিভিন্ন অংশীদারের সঙ্গে কথা বলছেন।”

    সালেহউদ্দিন আহমেদ

    গত সপ্তাহে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছিলেন, প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে কাজ করে চলেছেন। সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “আমরা দুই দেশের মধ্যে কোনও তিক্ততা চাই না। বাইরে থেকে যদি কেউ সমস্যা উসকে দেওয়ার চেষ্টা করে, তা কোনও দেশের স্বার্থেই ভালো নয় (Bangladesh)।” এদিকে, বাংলাদেশ ভারত থেকে ৫০ হাজার টন চাল আমদানির একটি প্রস্তাবও অনুমোদন করেছে। সালেহউদ্দিন আহমেদ একে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার একটি পন্থা বলে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, এই চাল আমদানি বাংলাদেশের জন্য লাভজনক হবে, কারণ ভারত ছাড়া আর একটি বড় বিকল্প ভিয়েতনাম থেকে চাল আনতে হলে প্রতি কেজিতে ১০ বাংলাদেশি টাকা বেশি খরচ পড়বে। সালেহউদ্দিন বলেন, “আমাদের বাণিজ্যনীতি রাজনৈতিক বিবেচনায় (Reaz Hamidullah) পরিচালিত নয়। যদি ভিয়েতনাম বা অন্য কোনও দেশ থেকে চাল আনার তুলনায় ভারত থেকে চাল আমদানি সস্তা হয়, তাহলে অর্থনৈতিক দিক থেকে ভারত থেকেই এই প্রধান খাদ্যশস্য কেনাই যুক্তিসঙ্গত (Bangladesh)।”

  • AI Models: “ভারতের নিজস্ব সার্বভৌম এআই সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে”, বললেন আদানি

    AI Models: “ভারতের নিজস্ব সার্বভৌম এআই সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে”, বললেন আদানি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রবিবার আদানি গ্রুপের চেয়ারম্যান গৌতম আদানি ভারতের নিজস্ব সার্বভৌম এআই (AI) সক্ষমতা গড়ে (AI Models) তোলার পক্ষে জোরালো সওয়াল করেন। তিনি বলেন, “বিদেশি প্রযুক্তির ওপর লাগামছাড়া নির্ভরতা দেশের জন্য গুরুতর অর্থনৈতিক ও কৌশলগত ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।” তিনি এও (India) জানান, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের নির্ধারক শক্তি হিসেবে এআই ইতিমধ্যেই আবির্ভূত হয়েছে।

    কর্মসংস্থান সৃষ্টি অত্যন্ত জরুরি (AI Models)

    পুণে জেলার বারামতিতে বিদ্যা প্রতিষ্ঠানে শরদচন্দ্র পাওয়ার সেন্টার অব এক্সেলেন্স ইন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স উদ্বোধনের পর ছাত্রছাত্রী, গবেষক ও নীতিনির্ধারকদের উদ্দেশে ভাষণ দিতে গিয়ে গৌতম আদানি বলেন, “সার্বভৌমত্ব ছাড়া উন্নয়ন নির্ভরতা সৃষ্টি করে। আর নিয়ন্ত্রণ ছাড়া অগ্রগতি ঝুঁকি ডেকে আনে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি অত্যন্ত জরুরি হলেও, ১৪০ কোটির জনসংখ্যার একটি দেশ তার কর্মসংস্থান, তথ্য, সংস্কৃতি ও সমষ্টিগত বুদ্ধিমত্তাকে বিদেশি অ্যালগরিদম ও বিদেশি ব্যালান্স শিটের হাতে তুলে দিতে পারে না।”

    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংক্রান্ত গবেষণা

    আদানি গ্রুপের অর্থায়নে গড়ে ওঠা এই এআই কেন্দ্রটি পাওয়ার পরিবারের পরিচালনাধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিদ্যা প্রতিষ্ঠানের অধীনে স্থাপিত হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার এবং এনসিপি-এসসিপি প্রধান শরদ পাওয়ার উপস্থিত ছিলেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংক্রান্ত গবেষণা, টেকনোলজি ও বাস্তবায়নে সহযোগিতা আরও গভীর করতে আদানি গ্রুপ বিদ্যা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একটি মউ স্বাক্ষর করেছে। ভাষণের শুরুতে প্রযুক্তির ইতিহাসজুড়ে তার রূপান্তরকারী চরিত্রের কথা তুলে ধরে আদানি বলেন, “গতকালের বীজ যেখানে মাটিতে বপন করা হয়েছিল, আগামী দিনের বীজ সেখানে অ্যালগরিদমে বপন করা হবে।” তিনি জানান, মানব অগ্রগতি কখনও সরলরৈখিক ছিল না, বরং প্রযুক্তিগত বিপ্লবের দ্বারা চালিত শক্তিশালী লাফের মাধ্যমেই তা এগিয়েছে।

    অগ্রগতি সরলরেখায় এগোয় না

    আদানি (India) বলেন, “মানব অগ্রগতি সরলরেখায় এগোয় না। তা এগোয় বড় বড় লাফে। প্রতিটি লাফই এমন এক প্রযুক্তিগত বিপ্লবের ফল, যা প্রথমে সমাজকে অস্থির করে তোলে এবং তারপর অনেক বেশি সক্ষমতার এক উচ্চতর স্তরে সমাজকে পুনর্গঠন করে।” তিনি বাষ্পশক্তি ও যান্ত্রিকীকরণ থেকে বিদ্যুতায়ন, ডিজিটাল কম্পিউটিং এবং বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পর্যন্ত এই যাত্রাপথের কথা তুলে ধরেন (AI Models)। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের সংজ্ঞায়ক শক্তি হিসেবে এআইয়ের উল্লেখ করে আদানি স্বীকার করেছেন, বড় ধরনের প্রযুক্তিগত রূপান্তরের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ জড়িয়ে থাকে।

    দুটি বিপরীত শক্তি কাজ করে

    তিনি বলেন, “ইতিহাস আমাদের শেখায় যে এ ধরনের প্রতিটি রূপান্তরের সঙ্গে দুটি বিপরীত শক্তি কাজ করে—একদিকে অসাধারণ সুযোগ, অন্যদিকে গভীর উদ্বেগ। কর্মচ্যুত হওয়ার ভয়, অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়ার আশঙ্কা, এবং এমন সব ব্যবস্থার হাতে নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেওয়ার ভয়, যেগুলোকে আমরা এখনও পুরোপুরি বুঝে উঠতে পারিনি।” তিনি (India) বলেন, “এই ভয়গুলো দুর্বলতার লক্ষণ নয়। এগুলো গভীরভাবে মানবিক। এই উদ্বেগগুলোর দায়িত্বশীলভাবে মোকাবিলা করা জরুরি।” ঐতিহাসিক তথ্যের উল্লেখ করে আদানি যুক্তি দেন, প্রযুক্তি ধারাবাহিকভাবে কর্মসংস্থান ধ্বংস না করে বরং তা বিস্তৃত করেছে (AI Models)।
    তিনি বলেন, “প্রযুক্তি কাজ ধ্বংস করে না। প্রথমে এটি ভূমিকা ও কাজের ধরনে বিঘ্ন ঘটায়, তারপর নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত করে।”

    তৃতীয় শিল্পবিপ্লব

    নিজের বক্তব্যের পক্ষে তিনি বৈশ্বিক উদাহরণ তুলে ধরেন। তাঁর কথায়, প্রথম শিল্পবিপ্লব ব্রিটেনে কর্মসংস্থান পাঁচ গুণেরও বেশি বাড়িয়েছিল, আর দ্বিতীয় শিল্পবিপ্লব গণউৎপাদন ও একটি নতুন মধ্যবিত্ত শ্রেণির জন্ম দিয়েছিল। আদানি বলেন, “তৃতীয় শিল্পবিপ্লব- ডিজিটাল বিপ্লব – কাজ বিলুপ্ত করেনি। বরং এটি উদ্ভাবনকে ত্বরান্বিত করেছে এবং সফটওয়্যার, পরিষেবা, প্ল্যাটফর্ম ও উদ্যোক্তাদের জন্ম দিয়েছে, যা আজ বিশ্বজুড়ে কয়েক শত মিলিয়ন মানুষকে কর্মসংস্থান দিচ্ছে (India)।” ভারতের অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “মোবাইল বিপ্লব তৃণমূল স্তরে অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক শক্তির সঞ্চার করেছে। আদানি বলেন, “ভারতের নিজস্ব অভিজ্ঞতাই এর স্পষ্ট প্রমাণ। মোবাইল বিপ্লব – যা নিয়ে অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন, চাকরি ধ্বংস করেনি। বরং বিপুল পরিসরে কর্মসংস্থান বহুগুণ বাড়িয়েছে। স্মার্টফোন ও স্বল্পমূল্যের ডেটা যখন সাধারণ ভারতীয়দের হাতে পৌঁছায়, তখন তৃণমূল স্তরে বিপুল অর্থনৈতিক শক্তির বিস্ফোরণ ঘটে (AI Models)।”

    ডিজিটাল পরিকাঠামোর সম্প্রসারণ

    তিনি তথ্য তুলে ধরে জানান, ১৯৯১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ভারতে ২৩ কোটিরও বেশি অ-কৃষি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে, যার বড় অংশই ডিজিটাল পরিকাঠামোর সম্প্রসারণের পর তৈরি হয়েছে। এই সুযোগগুলো কেবল নীতি বা পুঁজি থেকে আসেনি বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর কথায়, “এই সম্ভাবনাগুলি তখনই বাস্তব হয়েছে, যখন সক্ষমতা সাধারণ নাগরিকের হাতে পৌঁছেছে।” তিনি বলেন, “সেই কারণেই আমি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলতে পারি, এআই এখন পরবর্তী এবং আরও অনেক বেশি শক্তিশালী এক লাফের প্রতিনিধিত্ব করবে। মোবাইল যদি ভারতকে অধিকতর প্রবেশাধিকার দিয়ে থাকে, তবে এআই ভারতকে দেবে আরও বৃহত্তর সক্ষমতা (India)।” এআই-সক্ষম ভবিষ্যতের একটি চিত্র তুলে ধরে আদানি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিটি খাতে সক্ষমতা, সিদ্ধান্তগ্রহণ এবং উৎপাদনশীলতাকে গভীরভাবে সংযুক্ত করবে। তিনি বলেন, “কল্পনা করুন, আগামী এক দশকে যখন ১৪০ কোটি ভারতীয় তাঁদের হাতের তালুতেই এআই-চালিত বুদ্ধিমত্তা বহন করতে শুরু করবেন, তখন অগ্রগতি আর সরলরৈখিক থাকবে না। তা বহুগুণে বাড়বে, দ্রুততর হবে এবং বিস্ফোরণের মতো প্রসারিত হবে।”

    তাৎক্ষণিক ঝুঁকি

    তিনি ব্যাখ্যা করেন, কীভাবে এআই দৈনন্দিন জীবনকে রূপান্তরিত করতে পারে,ফসলের সর্বোত্তম উৎপাদন ও তাৎক্ষণিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার জন্য কৃষকদের এআই ব্যবহারের কথা উল্লেখ করেন, পাশাপাশি টিয়ার-থ্রি শহরের গৃহিণীরা কীভাবে বৈশ্বিক মাইক্রোব্র্যান্ড গড়ে তুলতে পারেন, তার উদাহরণও দেন। আদানি সতর্ক করে বলেন, এআই একটি দুই ধারবিশিষ্ট ছুরিও বটে (AI Models)। এই প্রেক্ষাপটে আদানি বলেন, ভারতকে এআইকে একটি কৌশলগত জাতীয় সক্ষমতা হিসেবে বিবেচনা করতে হবে, যা ভারতেই নির্মিত হবে, ভারতেই শাসিত হবে এবং ভারতের জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে (India)।” তিনি বলেন, “শরদচন্দ্র পাওয়ার সেন্টার অব এক্সেলেন্স ইন এআই এমন এক সময়ে আত্মপ্রকাশ করছে, যা জাতীয় গুরুত্বের দিক থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ—যখন ভারত বৈশ্বিক এআই বিপ্লবের অগ্রভাগে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়। এআই-এর ভবিষ্যৎ এমন কিছু নয় যা আপনাআপনি ভারতে এসে পৌঁছাবে। এটি এমন এক ভবিষ্যৎ, যা আমাদের দেশকেই গড়ে তুলতে হবে।”

    এছাড়াও আদানি এআই পরিকাঠামোয় আদানি গোষ্ঠীর বিনিয়োগের কথা তুলে ধরেন—যার মধ্যে রয়েছে ডেটা সেন্টার ও গ্রিন এনার্জি। তিনি এগুলিকে বুদ্ধিমত্তার কারখানা হিসেবে বর্ণনা করেন, যা সার্বভৌমত্ব, উৎপাদনশীলতা এবং নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য (AI Models)।

  • PM Modi: “বিশ্ব আজ ভারতের দিকে বড় প্রত্যাশা নিয়ে তাকিয়ে রয়েছে”, বললেন প্রধানমন্ত্রী

    PM Modi: “বিশ্ব আজ ভারতের দিকে বড় প্রত্যাশা নিয়ে তাকিয়ে রয়েছে”, বললেন প্রধানমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “বিশ্ব আজ ভারতের দিকে বড় প্রত্যাশা নিয়ে তাকিয়ে রয়েছে। এর প্রধান কারণ দেশের তরুণ প্রজন্ম, যারা বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও ডিজিটাল উদ্ভাবনের মাধ্যমে উন্নয়নের গতি বাড়াচ্ছে, পাশাপাশি ভারতের সাংস্কৃতিক শেকড়কেও এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।” নাগাড়ে কথাগুলি বলে চললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, তাঁর মন কি বাত-এর ১২৯তম পর্বে (PM Modi)। তিনি এও বলেন, ভারতের তরুণরা সব সময় নতুন কিছু করার প্রতি আগ্রহী এবং একই সঙ্গে তারা সচেতন ও সামাজিকভাবে দায়িত্বশীল।

    প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য (PM Modi)

    তরুণদের নিজেদের ভাবনা তুলে ধরার সুযোগের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “অনেকে জানতে চান, কীভাবে তারা তাদের ভাবনার উপস্থাপনা আমার কাছে দিতে পারেন? আমাদের তরুণ বন্ধুদের এই কৌতূহলের সমাধান হল ‘বিকশিত ভারত ইয়াং লিডার্স ডায়ালগ’। গত বছর এই কর্মসূচির প্রথম সংস্করণ অনুষ্ঠিত হয়েছিল, আর কয়েক দিনের মধ্যেই এর দ্বিতীয় সংস্করণ অনুষ্ঠিত হতে চলেছে, ১২ জানুয়ারি, জাতীয় যুব দিবসে। এই দিনটি স্বামী বিবেকানন্দের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে পালিত হয়। আমিও এই কর্মসূচিতে অংশ নেব।” তিনি বলেন, এই আলোচনা চলাকালীন যুবসমাজ উদ্ভাবন, ফিটনেস, স্টার্টআপ এবং কৃষি, এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলিতে নিজেদের ভাবনা ও মতামত ভাগ করে নেবে। এই উদ্যোগে তরুণদের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণ দেখে প্রধানমন্ত্রী সন্তোষ প্রকাশও করেন।

    পিচ প্রতিযোগিতা

    তিনি বলেন, “কয়েক দিন আগে এ সংক্রান্ত একটি পিচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যেখানে ৫০ লাখেরও বেশি তরুণ অংশগ্রহণ করেছিল। পাশাপাশি একটি প্রবন্ধ প্রতিযোগিতারও আয়োজন করা হয়, যেখানে পড়ুয়ারা বিভিন্ন বিষয়ে নিজেদের মত প্রকাশ করে। এই প্রতিযোগিতায় তামিলনাড়ু প্রথম স্থান এবং উত্তরপ্রদেশ দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছে (PM Modi)।” তিনি আরও বলেন, “দেশের যুবসমাজ তাদের প্রতিভা প্রদর্শনের জন্য নতুন নতুন সুযোগ পাচ্ছে। এমন বহু প্ল্যাটফর্ম গড়ে উঠছে, যেখানে তরুণরা তাদের দক্ষতা ও আগ্রহ তুলে ধরতে পারছে।” প্রধানমন্ত্রী মোদি এ মাসের শুরুতে সমাপ্ত হওয়া ‘স্মার্ট ইন্ডিয়া হ্যাকাথন ২০২৫’-এর কথাও উল্লেখ করেন।

    বাস্তব জীবনের সমস্যার সমাধান

    তিনি বলেন, “এই হ্যাকাথনের সময় পড়ুয়ারা ৮০টিরও বেশি সরকারি দফতরের দেওয়া ২৭০টিরও বেশি সমস্যার ওপর কাজ করেছে। ছাত্ররা বাস্তব জীবনের সমস্যার সমাধান তুলে ধরেছে। উদাহরণস্বরূপ, যানজট সমস্যার ক্ষেত্রে যুবসমাজ ‘স্মার্ট ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট’-সংক্রান্ত একটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করেছে (PM Modi)।” তিনি জানান, আর্থিক জালিয়াতি ও ডিজিটাল গ্রেফতারের মতো সমস্যার মোকাবিলায়ও যুবসমাজ

    তরুণ কৃষি খাতের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের সমাধানে

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, “অনেক তরুণ কৃষি খাতের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের সমাধানে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিল। বন্ধুরা, গত ৭ থেকে ৮ বছরে ‘স্মার্ট ইন্ডিয়া হ্যাকাথন’-এ ১৩ লক্ষেরও বেশি ছাত্রছাত্রী এবং ৬,০০০-এর বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করেছে। যুবসমাজ শত শত সমস্যার যথাযথ সমাধান দিয়েছে। এ ধরনের হ্যাকাথন নিয়মিতভাবে আয়োজন করা হয়। আমি আমার তরুণ বন্ধুদের আহ্বান জানাই, তারা যেন অবশ্যই এই হ্যাকাথনগুলিতে অংশ নেয় (PM Modi)।”

    প্রযুক্তিনির্ভর জীবন

    জীবন ক্রমশ প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠছে, এ কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “কখনও কখনও মানুষ উদ্বেগ প্রকাশ করেন যে রোবট হয়তো মানুষের জায়গা নিয়ে নেবে। এই দ্রুত পরিবর্তনশীল সময়ে মানব উন্নয়নের জন্য নিজেদের শেকড়ের সঙ্গে যুক্ত থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম নিজেদের সংস্কৃতির শেকড়কে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরে রেখেছে।” তিনি ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স (আইআইএসসি)-এর উদাহরণ দিয়ে বলেন, “নতুন চিন্তাভাবনা ও নতুন পদ্ধতির মাধ্যমে—বন্ধুরা, আপনারা নিশ্চয়ই ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্সের কথা শুনেছেন। গবেষণা ও উদ্ভাবনই এই প্রতিষ্ঠানের প্রধান বৈশিষ্ট্য।” তিনি মনে করিয়ে দেন, কীভাবে ওই প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীরা পড়াশোনা ও গবেষণার মধ্যেও সঙ্গীতের প্রয়োজন অনুভব করেছিলেন।

    সঙ্গীত ক্লাসের সূচনা

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, “কয়েক বছর আগে সেখানে কিছু ছাত্রছাত্রী অনুভব করেছিলেন যে পড়াশোনা ও গবেষণার পাশাপাশি সঙ্গীতেরও একটি জায়গা থাকা উচিত। সেখান থেকেই একটি ছোট সঙ্গীত ক্লাসের সূচনা হয়। না ছিল বড় মঞ্চ, না ছিল বড় বাজেট। ধীরে ধীরে এই উদ্যোগ বড় হয়ে ওঠে, আর আজ আমরা একে ‘গীতাঞ্জলি আইআইএসসি’ নামে চিনি। এখন এটি আর শুধু একটি ক্লাস নয়, বরং ক্যাম্পাসের সাংস্কৃতিক কেন্দ্র (PM Modi)।” প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্তমানে গীতাঞ্জলি আইআইএসসিতে হিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় সঙ্গীত, লোকসঙ্গীত ও অন্যান্য শাস্ত্রীয় ধারার চর্চা হয়, যেখানে ছাত্রছাত্রী, অধ্যাপক এবং তাঁদের পরিবার এক সঙ্গে অংশগ্রহণ করেন। তিনি জানান, এর সঙ্গে যুক্ত মানুষের সংখ্যা এখন ২০০-এরও বেশি, এবং যাঁরা বিদেশে চলে গিয়েছেন, তাঁরাও অনলাইনের মাধ্যমে যুক্ত থেকে এই উদ্যোগের সঙ্গে সংযোগ বজায় রাখছেন।

    প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সংস্কৃতির শেকড়ে যুক্ত থাকার এই প্রচেষ্টা শুধু ভারতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বিদেশে বসবাসকারী ভারতীয়রাও তাঁদের ঐতিহ্য সংরক্ষণে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। দুবাইয়ে বসবাসকারী কন্নড় পরিবারগুলির উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, “সেখানে থাকা পরিবারগুলি নিজেদের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন করেছিলেন, আমাদের সন্তানরা প্রযুক্তির দুনিয়ায় এগিয়ে যাচ্ছে ঠিকই, কিন্তু তারা কি তাদের ভাষা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে না? এখান থেকেই ‘কন্নড় পাঠশালা’র জন্ম। এটি এমন একটি উদ্যোগ, যেখানে শিশুদের কন্নড় ভাষায় পড়া, লেখা, শেখা ও কথা বলা শেখানো হয়। আজ এর সঙ্গে এক হাজারেরও বেশি শিশু যুক্ত রয়েছে (PM Modi)।”

  • Fake GDP: ভুয়ো জিডিপি প্রবৃদ্ধির দাবি নাড়িয়ে দিল চিনকে, কেন মিথ্যে বলল জিনপিং সরকার?

    Fake GDP: ভুয়ো জিডিপি প্রবৃদ্ধির দাবি নাড়িয়ে দিল চিনকে, কেন মিথ্যে বলল জিনপিং সরকার?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক মন্দা চলছে চিনে। তার সঙ্গেই লড়াই করতে হচ্ছে শি জিনপিংয়ের সরকারকে। এমতাবস্থায় ভুয়ো জিডিপি (Fake GDP) প্রবৃদ্ধির অভিযোগ দেশটির জন্য বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়িয়েছে। শি জিনপিংয়ের নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের দাবি, ২০২৫ সালের শেষ ত্রৈমাসিক পর্যন্ত চিনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ছিল ৫.২ শতাংশ। তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের একাংশ এখন চিনের এই দাবি নিয়ে জোরালো প্রশ্ন তুলছেন।

    চিনের প্রকৃত অর্থনৈতিক সূচক (Fake GDP)

    বিশ্ব বিখ্যাত পরামর্শক সংস্থা রোডিয়াম গ্রুপের অভিযোগ, সরকারি প্রবৃদ্ধির পরিসংখ্যান অত্যন্ত অতিরঞ্জিত এবং ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে তথ্য প্রকাশ করে বেইজিং সাধারণ মানুষ ও বিনিয়োগকারীদের বিভ্রান্ত করেছে। সংস্থাটির মতে, চিনের (China) প্রকৃত অর্থনৈতিক সূচকগুলির সঙ্গে সরকারের ঘোষিত শীর্ষ প্রবৃদ্ধির পরিসংখ্যানের কোনও সামঞ্জস্য নেই। চিন টানা ১০টিরও বেশি ত্রৈমাসিক ধরে তীব্র মুদ্রাস্ফীতিহীনতার শিকার। ডিফ্লেশন ঘটে যখন মুদ্রাস্ফীতি শূন্যের নীচে নেমে যায়। ফলে পণ্যের দাম কমতে থাকে, চাহিদা কমে যায় এবং কর্পোরেট লাভ হ্রাস পায়। এমন পরিস্থিতিতে ভোক্তারা খরচ করতে দেরি করেন, সংস্থাগুলি লাভ করতে হিমশিম খায় এবং অর্থনৈতিক গতি তীব্রভাবে মন্থর হয়ে পড়ে।

    চিনে কর্পোরেট মুনাফা

    চিনে কর্পোরেট মুনাফা নভেম্বর মাসে ১৩.১ শতাংশ কমেছে, যা অক্টোবরে ৫.৫ শতাংশ পতনের পর আরও গভীর মন্দার ইঙ্গিত দেয়। রোডিয়াম গ্রুপ জানিয়েছে, এত দীর্ঘ সময় ধরে ডিফ্লেশনের মুখে পড়েও কোনও বড় অর্থনীতি কখনও প্রায় ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারেনি। স্থায়ী সম্পদে বিনিয়োগ, যা দীর্ঘদিন ধরে চিনের অর্থনৈতিক মডেলের অন্যতম স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত হয়, সেটাই জুলাই থেকে নভেম্বরের মধ্যে কমেছে ১১ শতাংশ (China)। একাধিক সূচকের ভিত্তিতে বিশ্লেষকদের ধারণা, ২০২৫ সালে চিনের জিডিপি প্রবৃদ্ধি এখনও ৩ শতাংশের বেশি হয়নি (Fake GDP)।

    প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদরা

    প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদরাও এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাইওয়ানের তামকাং বিশ্ববিদ্যালয়ের সাই মিং-ফাং এবং চুং-হুয়া ইনস্টিটিউশন ফর ইকোনমিক রিসার্চের লিউ মেং-চুন অভিযোগ করেছেন, ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক চাপের মধ্যেও শক্তি ও স্থিতিশীলতার ভাবমূর্তি তুলে ধরতে বেইজিং রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে জিডিপি পরিসংখ্যান প্রকাশ করছে।মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান বাণিজ্য বিরোধ চিনের একসময়ের প্রভাবশালী রফতানি খাতকে আরও দুর্বল করে দিয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, বাণিজ্য নীতিকে ‘অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত চিনের পক্ষেই বুমেরাং হয়েছে। বৈশ্বিক চাহিদা কমে যাওয়ায় চিন এখন বিকল্প বাজারের সন্ধান করতে বাধ্য হচ্ছে (China)।

    ভোগব্যয়ের সূচকগুলি

    দেশীয় ভোগব্যয়ের সূচকগুলিও সমানভাবে হতাশাজনক চিত্র তুলে ধরছে (Fake GDP)। জিডিপি হিসাবের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান খুচরো বিক্রির প্রবৃদ্ধি নভেম্বরে নেমে এসেছে মাত্র ১.৩ শতাংশে, যেখানে বিশ্লেষকদের প্রত্যাশা ছিল ২.৮ শতাংশ। একই সময়ে শিল্প উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি কমে দাঁড়িয়েছে ৪.৮ শতাংশে। স্থায়ী সম্পদে বিনিয়োগের প্রবৃদ্ধিও কোভিড মহামারির পর থেকে সর্বনিম্ন স্তরে রয়েছে। চিনের সবচেয়ে বড় রফতানি বাজার যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি ২৯ শতাংশ কমে যাওয়ায় সরকারি প্রবৃদ্ধির বর্ণনার ওপর আস্থা আরও দুর্বল হয়েছে।

    জিডিপি প্রবৃদ্ধির দাবি

    এই প্রেক্ষাপটে বহু অর্থনীতিবিদের মতে, ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির দাবি বিশ্বাসযোগ্যতার সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। এদিকে চিন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা এখন বাণিজ্যের গণ্ডি পেরিয়ে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেও ছড়িয়ে পড়ছে। তাইওয়ানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র সরবরাহের মার্কিন সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ বেইজিং (China)। কারণ তারা তাইওয়ানকে চিনের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলেই দাবি করে (Fake GDP)। ‘এক চিন নীতি’ লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে বেইজিং ২০টি মার্কিন প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তি সংস্থার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা ঘোষণা করেছে। নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা সংস্থাগুলির মধ্যে রয়েছে নর্থরপ গ্রুম্যান সিস্টেমস, এল৩ হ্যারিস মেরিটাইম সার্ভিসেস, বোয়িং, গিবস অ্যান্ড কক্স, সিয়েরা টেকনিক্যাল সার্ভিসেস, টিল ড্রোনস, ভেন্টার এবং রেডক্যাট হোল্ডিংস।

    অর্থনৈতিক চাপ বাড়তে থাকা এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা তীব্র হওয়ার প্রেক্ষাপটে, আগামী মাসগুলিতে চিনের সরকারি অর্থনৈতিক তথ্যের ওপর নজরদারি আরও কঠোর হবে বলেই অনুমান (Fake GDP)।

  • Hindus Under Attack: দেশ তো বটেই, বিদেশেও চলছে হিন্দুদের ওপর হামলা

    Hindus Under Attack: দেশ তো বটেই, বিদেশেও চলছে হিন্দুদের ওপর হামলা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও বিদেশ সর্বত্রই হিন্দু ও হিন্দু ধর্মের ওপর হামলা এখন নিয়মিত ও নিরবচ্ছিন্ন হয়ে উঠেছে (Hindus Under Attack)। বিশ্বের বহু অঞ্চলে এই নির্যাতন আমাদের চোখের সামনেই ধীরে ধীরে সংঘটিত হওয়া এক ধরনের গণহত্যার রূপ নিচ্ছে (Roundup Week)। কয়েক দশক ধরে বিশ্ব এই হামলাগুলির প্রকৃত গভীরতা ও বিস্তৃতি উপেক্ষা করে এসেছে, যার পেছনে রয়েছে উদ্বেগজনক হিন্দু-বিরোধী বিদ্বেষ। হত্যা, জোরপূর্বক ধর্মান্তর, জমি দখল, উৎসবে হামলা, মন্দির ও মূর্তি ভাঙচুর, ঘৃণামূলক বক্তব্য, যৌন হিংসা থেকে শুরু করে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি বৈষম্য – সব মিলিয়ে হিন্দুরা অস্তিত্বের সংকটে পড়েছেন। এসবই নজিরবিহীন হিন্দু-বিদ্বেষের প্রকাশ। ২১ ডিসেম্বর থেকে ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫- এই সময়সীমায় প্রকাশিত সাপ্তাহিক সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদনে আমরা এই ধরনের অপরাধগুলির একটি চিত্র তুলে ধরতে চাই, যাতে বিশ্বজুড়ে আরও মানুষ এই মানবাধিকার সংকট সম্পর্কে সচেতন হন।

    ভারতের ছবি (Hindus Under Attack)

    প্রথমেই দেখে নেওয়া যাক ভারতের ছবিটা। তেলঙ্গনার মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডির নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস সরকার তাদের শাসনব্যবস্থা ও রাজনৈতিক বার্তায় খ্রিস্টান প্রতিষ্ঠান, যাজক ও সাধারণ খ্রিস্টান সমাজের সঙ্গে অত্যন্ত সক্রিয় ও প্রকাশ্য যোগাযোগ স্থাপন করেছে। অন্তত সাতটি উচ্চপর্যায়ের নথিভুক্ত অনুষ্ঠানে খ্রিস্টান উৎসব, কল্যাণমূলক প্রতিশ্রুতি এবং চার্চ সম্পত্তির সুরক্ষার বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে। গুজরাটের নবসারি জেলার দাবেল গ্রামে এক তরুণ হিন্দু আদিবাসীকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে, যা ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে এবং লক্ষ্যভিত্তিক হিংসা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। নিহত যুবকের নাম দীপক কালিদাস রাঠোর। তিনি হালপতি আদিবাসী সম্প্রদায়ের সদস্য ছিলেন। নবসারি পুলিশের দায়ের করা এফআইআর অনুযায়ী, তাঁর এলাকার একাধিক মুসলিম যুবকের নৃশংস হামলার ফলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয় (Roundup Week)।

    গায়িকা লগ্নজিতাকে হেনস্থা

    খ্যাতনামা বাঙালি গায়িকা লগ্নজিতা চক্রবর্তীর অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গের ভগবানপুরে একটি বেসরকারি স্কুলের অনুষ্ঠানে লাইভ(Hindus Under Attack)  পারফরম্যান্স চলাকালীন তাঁকে মৌখিক ও শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয়। তিনি যখন চলচ্চিত্র দেবী চৌধুরানী থেকে ভক্তিমূলক গান “জাগো মা” পরিবেশন করেন, তখন মেহবুব মল্লিক নামে এক ব্যক্তি, যিনি এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা বলে পরিচিত, মঞ্চে উঠে তাঁকে ধমক দেন এবং ‘ধর্মনিরপেক্ষ কিছু’ গান গাওয়ার দাবি জানান। তামিলনাড়ুর ডিন্ডিগুল জেলা ও আশপাশের একাধিক গ্রামে জমির ব্যবহার, ধর্মীয় অধিকার এবং কথিত দখলদারিকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা চলছে। এর মধ্যে পেরুমাল কোভিলপট্টি গ্রামটি বিশেষভাবে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। গ্রামটিতে প্রায় ১,০০০টি পরিবার বসবাস করে, যার মধ্যে আনুমানিক ৮৫০টি খ্রিস্টান এবং প্রায় ১৫০টি হিন্দু পরিবার। ফলে হিন্দুরা সেখানে সংখ্যালঘু। বিরোধের কেন্দ্রবিন্দু হল ধর্মীয় উদ্দেশ্যে বরাদ্দ সরকারি একটি জমি।

    নমাজ বিতর্ক

    বৈষ্ণব কিন্নর আখড়ার মহামণ্ডলেশ্বর আরাধনা সখী পুনের শনিবার ওয়াড়া নমাজ বিতর্কে সরব হওয়ার পর ব্যাপক দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর বিতর্কের সূত্রপাত হয়। সেখানে দেখা যায় সংরক্ষিত ঐতিহাসিক স্মৃতিস্তম্ভ শনিবার ওয়াড়ার প্রাঙ্গনে নমাজ আদায় করা (Roundup Week) হচ্ছে। কেরলের শিক্ষামন্ত্রী ভি শিবন কুট্টি তিরুবনন্তপুরমের আট্টুকালে অবস্থিত চিন্ময় বিদ্যালয়কে(Hindus Under Attack) বড়দিন উদযাপনের নির্দেশ দেন। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, বিদ্যালয়টি বড়দিন উদযাপনের জন্য প্রত্যেক ছাত্রের কাছ থেকে ৬০ টাকা করে সংগ্রহ করেছিল। পরে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ টাকা ফেরত দিয়ে জানায় যে উৎসবটি বাতিল করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, এক অভিভাবকের অভিযোগের পর মন্ত্রী হস্তক্ষেপ করে স্কুলকে উৎসব আয়োজনের নির্দেশ দেন।

    হিন্দুরা বৈষম্যের শিকার

    ডিএমকের শাসনে হিন্দুরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। এই বৈষম্যের সর্বোত্তম উদাহরণ হল থিরুপারঙ্কুন্দ্রাম। তামিলনাড়ুর মাদুরাই জেলার এই ঐতিহাসিক শহরটি ধর্মীয় স্বাধীনতা, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং হিন্দু ধর্মীয় আচরণের প্রতি বৈষম্য নিয়ে বিতর্কের একটি বড় কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। কাশী বিশ্বনাথর মন্দির চত্বরে ও তার আশপাশে সাম্প্রতিক ঘটনাবলি হিন্দু সমাজে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে, কারণ রাজ্য প্রশাসন পরিকল্পিতভাবে হিন্দু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান সীমিত করছে, অথচ মুসলিম ধর্মীয় সমাবেশগুলিকে জাঁকজমকপূর্ণ নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক সহায়তা দিয়ে সাহায্য করছে (Hindus Under Attack)।দীপাবলিতে ‘না’, কিন্তু বড়দিনে ‘হ্যাঁ’- এই হল (Roundup Week) টিভিকে বিজয়ের দ্রাবিড় মডেলের রাজনীতি। অভিনেতা-রাজনীতিবিদ বিজয়ের দল তামিলাগা ভেট্ট্রি কাজাগাম (TVK) স্পষ্ট দ্বিচারিতার জন্য তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। কারুর পদদলিত দুর্ঘটনার পর জনশোকের অজুহাত তুলে একটি হিন্দু উৎসব উদযাপনে নিরুৎসাহিত করা হয়, অথচ পরে কোনও সংযম না দেখিয়ে বড়দিন উদযাপন করা হয় এবং তাতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণও করা হয়।

    লাভ জেহাদ

    ওড়িশার কেন্দ্রপাড়া জেলায় এক মুসলিম মহিলার অভিযোগ একটি আলোচিত তদন্তের সূত্রপাত করেছে। অভিযোগ, তাঁর স্বামী পরিকল্পিত ‘লাভ জেহাদ’ চক্রের মাধ্যমে হিন্দু নারীদের ফাঁদে ফেলত এবং প্রতিটি বিয়ের জন্য সহযোগী সংগঠনগুলির কাছ থেকে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত পেত (Hindus Under Attack)। পুলিশ প্রতারণা এবং সংগঠিত আর্থিক প্রণোদনার নেটওয়ার্ক – উভয় বিষয়েই তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনায় রাজ্যে জনরোষ ও রাজনৈতিক চাপ ক্রমেই বাড়ছে। লখনউয়ের কিং জর্জ মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটির এক জুনিয়র রেসিডেন্ট ডাক্তার, যিনি যৌন শোষণ, ব্ল্যাকমেইল এবং জোরপূর্বক ধর্মান্তরের (লাভ জেহাদ বা যৌন গ্রুমিং) অভিযোগ এনেছেন। তাঁকে এখন ২৪ ঘণ্টা নিরাপত্তার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের হস্টেলে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে পুলিশি তদন্ত, অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধান ও ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ তীব্রতর হয়েছে। অভিযুক্ত মুসলিম রেসিডেন্ট ডাক্তার রামিজউদ্দিন, প্যাথলজি বিভাগের কর্মী, তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। অনুমতি ছাড়া ক্যাম্পাসে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতা ও উত্তরপ্রদেশের ধর্মান্তর বিরোধী আইনের আওতায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

    নৃসিংহ স্বামী মন্দির 

    পবিত্র কাদিরি শ্রী নৃসিংহ স্বামী মন্দিরে সাম্প্রতিক ঘটনাটি ভারতজুড়ে হিন্দু ভক্তদের মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। আটটি পুলিশ যান ও নজরদারি ড্রোনের উদ্বোধনের সময় টিডিপি বিধায়ক কন্দিকুন্তা ভেঙ্কট প্রসাদ কাদিরি শ্রী নৃসিংহ স্বামী মন্দিরের প্রবেশদ্বারে একজন পাদ্রি ও একজন মৌলানাকে প্রার্থনা করাতে আমন্ত্রণ জানান। কর্নাটকে কংগ্রেস সরকারের অধীনে কেপু মন্দিরের ‘কোরি কট্টা’ আচারকে (Roundup Week) কেন্দ্র করে পুলিশের হস্তক্ষেপ আইন, ঐতিহ্য এবং হিন্দু ধর্মীয় রীতিনীতিকে লক্ষ্য করে প্রশাসনিক পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা (Hindus Under Attack)। এদিকে, বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর নিরবচ্ছিন্নভাবে চলছে হামলা। পরিকল্পিতভাবে দেশটি থেকে ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়টিকে ধীরে ধীরে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার উদ্দেশ্যে এসব হামলা করা হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল বরকতের একটি গবেষণা অনুযায়ী, প্রাতিষ্ঠানিক ও পদ্ধতিগত নিপীড়নের কারণে ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে আর কোনও হিন্দু অবশিষ্ট থাকবে না। মন্দির ভাঙচুর, জমি দখল, মিথ্যা ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে জনতার হামলা, নারীদের ধর্ষণ ও জোরপূর্বক ধর্মান্তর, এবং ঘৃণামূলক বক্তব্য, এসবই হিন্দুদের ভয় দেখানো ও দেশ ছাড়তে বাধ্য করার জন্য ব্যবহৃত কৌশল।

    বাংলাদেশের ছবি

    ঝিনাইদহ জেলায় এক হিন্দু রিকশাচালককে জনতা মারধর করেছে বলে জানা গিয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা তার কবজিতে একটি পবিত্র লাল সুতো লক্ষ্য করার পর তাঁর পরিচয় ও উদ্দেশ্য নিয়ে গুজব ছড়াতে শুরু করে। স্থানীয় সূত্রে খবর, ঝিনাইদহ পুরসভার গেটের কাছে একদল লোক ওই অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিকে তাঁর রিকশা থেকে নামিয়ে এনে শুধু কবজির লাল সুতো থাকার কারণেই মারধর করে(Hindus Under Attack)। জনতার সহিংসতার এক ভয়াবহ ঘটনায়, বাংলাদেশ পুলিশের স্থানীয় প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজবাড়ি জেলায় মুসলিম গ্রামবাসীদের হাতে ২৯ বছর বয়সী এক হিন্দু যুবককে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে। নিহত ব্যক্তির নাম অমৃত মণ্ডল, যিনি সম্রাট নামেও পরিচিত ছিলেন। পাংশা এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে একটি বিরোধ থেকে সংঘর্ষের সূত্রপাত হলে তাঁকে আক্রমণ করা হয় (Roundup Week)। স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, চট্টগ্রামের রাউজান এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, যখন অভিযোগ ওঠে যে হিন্দু বাসিন্দাদের বাড়ির ভেতরে আটকে রেখে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করা হয়েছিল।

    হিন্দুবিরোধী বিদ্বেষ

    অধিকাংশ ঘৃণাজনিত অপরাধের পেছনে কিছু ধর্মীয় শিক্ষায় ও রাজনৈতিক মতাদর্শে প্রোথিত হিন্দুবিরোধী বিদ্বেষ কাজ করে। ইসলামী দেশগুলিতে হিন্দুবিরোধী ঘৃণা স্পষ্ট হলেও, আর একটি আরও সূক্ষ্ম ধরনের হিন্দুবিরোধী মনোভাব দেখা যায় তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রগুলির (যেমন ভারত) প্রতিষ্ঠান ও জনপরিসরে (Hindus Under Attack)। এই সূক্ষ্ম বৈষম্য হিন্দুফোবিয়া ও ঘৃণাজনিত অপরাধের জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরি করে। প্রচলিত আইন ও নিদর্শনগুলি গভীরভাবে বিশ্লেষণ না করলে এই দৈনন্দিন বৈষম্য অনেক সময় নজর এড়িয়ে যায়। দীপাবলিতে ধীরে ধীরে আতশবাজির ওপর নিষেধাজ্ঞা তার একটি ভালো উদাহরণ। ওপর ওপর এটি দূষণ-সংক্রান্ত বিষয় বলে মনে হতে পারে। কিন্তু বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে হিন্দু উৎসবগুলির ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ এবং নিষেধাজ্ঞার পেছনে যুক্তিসঙ্গত (Roundup Week) ব্যাখ্যার অভাব লক্ষ্য করলে এই দ্বিচারিতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে (Hindus Under Attack)।

  • Thailand Cambodia Ceasefire: তাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে কার্যকর হল সীমান্ত যুদ্ধবিরতি চুক্তি

    Thailand Cambodia Ceasefire: তাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে কার্যকর হল সীমান্ত যুদ্ধবিরতি চুক্তি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে কার্যকর হল সীমান্তে যুদ্ধবিরতি (Thailand Cambodia Ceasefire)। সপ্তাহ তিনেক ধরে চলা প্রাণঘাতী সংঘর্ষের ফলে প্রায় দশ লাখ মানুষ তাঁদের ঘরবাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন। দুই দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, বর্তমানে যে অবস্থানে সেনারা রয়েছেন, সেখানেই ফ্রন্টলাইন স্থির রাখা হবে, নতুন করে সেনা বা রসদ পাঠানো বন্ধ থাকবে এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় বসবাসকারী সাধারণ মানুষকে যত দ্রুত সম্ভব নিজ নিজ (Deadly Clash) বাড়িতে ফিরে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। স্থানীয় সময় শনিবার দুপুর ১২টা থেকে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। বিবৃতিতে এও বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতি টানা ৭২ ঘণ্টা কার্যকর থাকলে, জুলাই মাস থেকে তাইল্যান্ডের হেফাজতে থাকা ১৮ জন কম্বোডিয়ান সেনাকে মুক্তি দেওয়া হবে।

    যুদ্ধবিরতি (Thailand Cambodia Ceasefire)

    চিন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সহায়তায় দুই দেশের মধ্যে টানা কয়েক দিনের আলোচনার পর এই যুদ্ধবিরতি সম্ভব হয়েছে। চুক্তিটিতে বাস্তুচ্যুতদের নিজ নিজ বাড়িতে ফিরিয়ে আনার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। মাইন সরিয়ে নেওয়ার বিষয়েও সমঝোতা হয়েছে। তাইল্যান্ডের প্রতিরক্ষামন্ত্রী নাথাফন নার্খফানিত যুদ্ধবিরতিকে অন্য পক্ষের আন্তরিকতার একটি পরীক্ষা বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, “যদি যুদ্ধবিরতি কার্যকর না হয় বা লঙ্ঘিত হয়, তবে আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে আত্মরক্ষার বৈধ অধিকার তাইল্যান্ড বজায় রাখবে।” রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার টুর্কের আশা, এই যুদ্ধবিরতি শান্তির পথ প্রশস্ত করবে। তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নের এক মুখপাত্রের বাস্তবায়নে সদিচ্ছা দেখানোর আহ্বানও জানান।

    যুদ্ধবিরতিতে গররাজি ছিল তাইল্যান্ড

    তাইল্যান্ড প্রথমে যুদ্ধবিরতি মেনে নিতে গররাজি ছিল। তাদের যুক্তি ছিল, আগের যুদ্ধবিরতি সঠিকভাবে কার্যকর হয়নি। পাশাপাশি, কম্বোডিয়া সংঘাতটিকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার যে চেষ্টা করছে বলে তাইল্যান্ড মনে করে, তাতেও তারা অসন্তুষ্ট ছিল। জুলাই মাসের আগের যুদ্ধবিরতির তুলনায় এবার একটি উল্লেখযোগ্য পার্থক্য ছিল, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যভাবে এতে যুক্ত ছিলেন না, যদিও আমেরিকার বিদেশ দফতর প্রক্রিয়াটির সঙ্গে জড়িত ছিল। চলতি মাসের শুরুতেই সেই আগের যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ে, যখন নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হয়। যুদ্ধবিরতি (Thailand Cambodia Ceasefire) ভাঙার জন্য উভয় পক্ষই একে অপরকে দোষারোপ করে। তাই সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাইল্যান্ডের সি সা কেট প্রদেশে কম্বোডিয়ার দিক থেকে গোলাবর্ষণের জবাবে তাদের সেনারা পাল্টা ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়। ওই ঘটনায় দুজন তাই সেনা জখম হন।

    তাইবাহিনীর হানা

    অন্যদিকে, কম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রকের দাবি, প্রথমে আক্রমণ চালায় তাইবাহিনী, প্রেয়াহ ভিহেয়ার প্রদেশে। তারা আরও জানায়, কম্বোডিয়া পাল্টা আক্রমণ করেনি। ডিসেম্বরজুড়ে সংঘর্ষ চলতে থাকে। শুক্রবার তাইল্যান্ড কম্বোডিয়ার ভেতরে আরও বিমান হামলা চালায় (Deadly Clash)। তাই বিমান বাহিনীর দাবি, বেসামরিক লোকজন এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার পর তারা কম্বোডিয়ার একটি সুরক্ষিত সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালায়। তবে কম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এসব হামলাকে সাধারণ মানুষের বাড়িঘরের ওপর নির্বিচার আক্রমণ বলে অভিযোগ করেছে। এবার যুদ্ধবিরতি কতটা টিকে থাকবে, তা অনেকটাই নির্ভর করছে রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপর। কারণ দুই দেশেই জাতীয়তাবাদী আবেগ তীব্রতর হয়ে উঠেছে।

    যুদ্ধ ব্যাপক ক্ষয় কম্বোডিয়ার

    বিশেষ করে কম্বোডিয়া বিপুল সংখ্যক সেনা এবং উল্লেখযোগ্য সামরিক সরঞ্জাম হারিয়েছে। সীমান্তে আগে দখলে থাকা অবস্থানগুলো থেকে তাদের সরে যেতে হয়েছে এবং তাই বিমান হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে। এসব ক্ষোভ দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠাকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে (Thailand Cambodia Ceasefire)। সীমান্ত নিয়ে এই দুই দেশের মতবিরোধের ইতিহাস এক শতাব্দীরও বেশি পুরানো। তবে চলতি বছরের শুরুতে উত্তেজনা বেড়ে যায়, যখন বিতর্কিত একটি মন্দিরে কম্বোডিয়ার কয়েকজন নারী দেশাত্মবোধক গান গেয়েছিলেন (Deadly Clash)। মে মাসে এক সংঘর্ষে এক কম্বোডিয়ান সেনা নিহত হন। এর দুমাস পরে, জুলাইয়ে, সীমান্তজুড়ে টানা পাঁচ দিন ধরে তীব্র লড়াই চলে। এতে কয়েক ডজন সেনা ও নিরীহ মানুষ প্রাণ হারান,  বাস্তুচ্যুত হন হাজার হাজার নাগরিক। মালয়েশিয়া এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মধ্যস্থতার পরে দুই দেশের মধ্যে একটি ক্ষণস্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা হয়, যা অক্টোবরের শেষ দিকে স্বাক্ষরিত হয়।

    কুয়ালালামপুর শান্তি চুক্তি

    ট্রাম্প এই চুক্তির নাম দেন “কুয়ালালামপুর শান্তি চুক্তি”। এই চুক্তি অনুযায়ী, উভয় পক্ষকে বিতর্কিত অঞ্চল থেকে ভারী অস্ত্র প্রত্যাহার করতে হবে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য একটি অস্থায়ী পর্যবেক্ষক দল গঠন করতে হবে। তবে নভেম্বর মাসে তাইল্যান্ড এই চুক্তি স্থগিত করে দেয়, যখন মাইন বিস্ফোরণে তাই সেনারা জখম হন। তাই প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল সেই সময় জানিয়েছিলেন, নিরাপত্তাজনিত হুমকি বাস্তবে একেবারেই কমেনি (Thailand Cambodia Ceasefire)।

  • Bharats Rise: বিশ্ব হিন্দু অর্থনৈতিক ফোরামের অনুষ্ঠানে কারা উপস্থিত ছিল জানেন?…

    Bharats Rise: বিশ্ব হিন্দু অর্থনৈতিক ফোরামের অনুষ্ঠানে কারা উপস্থিত ছিল জানেন?…

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্ব হিন্দু অর্থনৈতিক ফোরাম (ডব্লিউএইচইএফ) ২০২৫ অনুষ্ঠিত হল  ১৯–২০ ডিসেম্বর, মুম্বইয়ের গ্র্যান্ড হায়াতে। এই অনুষ্ঠানে নীতিনির্ধারণ, উদ্যোগ ও উদ্ভাবনের কেন্দ্রে সভ্যতাগত মূল্যবোধকে প্রতিষ্ঠা করে ভারতের সমকালীন অর্থনৈতিক আলোচনায় এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত চিহ্নিত করেছে। এটি কেবল (Hindu Economic Forum) একটি ব্যবসায়িক সম্মেলন নয়, ধর্ম, শৃঙ্খলা ও জাতীয় স্বার্থে প্রোথিত, আত্মবিশ্বাসী ও ভবিষ্যতমুখী এক অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরাই ছিল এই সমাবেশের লক্ষ্য।

    কারা উপস্থিত ছিলেন (Bharats Rise)

    দুদিনের এই ফোরামে কেন্দ্র ও রাজ্যের সিনিয়র মন্ত্রী, নীতিনির্ধারক, শিল্পপতি, বৈশ্বিক বিনিয়োগকারী, এমএসএমই নেতৃত্ব, স্টার্ট-আপ প্রতিষ্ঠাতা এবং দেশ-বিদেশের চিন্তাবিদরা একত্রিত হন। বিভিন্ন অধিবেশনে বারবার যে বার্তাটি স্পষ্ট হয়েছে তা হল, ভারতের অর্থনৈতিক উত্থান কেবল পুঁজি ও প্রযুক্তির জোরে নয়, বরং সম্পদ সৃষ্টির একটি সুসংগঠিত, মূল্যবোধভিত্তিক পন্থার মাধ্যমে এগোতে হবে (Bharats Rise)। ফোরামের উদ্বোধন করেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ। তিনি আস্থাভিত্তিক প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। নবি মুম্বইয়ে ৫৪তলা বিশিষ্ট একটি ‘আফ্রিকা সেন্টার’ নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও ঘোষণা করে তিনি। বলেন, “আফ্রিকা আগামী দিনের অন্যতম প্রধান বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির ইঞ্জিন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে। প্রস্তাবিত এই কেন্দ্রের প্রতিটি তলায় আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিত্বকারী দফতর থাকবে, যা বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও কৌশলগত সম্পৃক্ততার জন্য একটি স্থায়ী মঞ্চ তৈরি করবে।”

    কী বললেন ফড়নবীস

    ফড়নবীস উল্লেখ করেন, আফ্রিকা ও গ্লোবাল সাউথের সঙ্গে ভারতের ঐতিহাসিক বিশ্বাসভিত্তিক সম্পর্ক ভারতকে এমন একটি অনন্য অবস্থানে দাঁড় করিয়েছে, যেখানে কোনও ধরনের জবরদস্তি বা শোষণ ছাড়াই পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গঠনে সহযোগিতার মাধ্যমে কাজ করা সম্ভব। কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল স্পষ্টভাবে ভারতের ক্রমবিকাশমান বাণিজ্য দর্শনের রূপরেখা তুলে ধরেছেন। তাঁর কথায়, ভারত কেবলমাত্র সম্পূর্ণভাবে উইন-উইন ভিত্তিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) অনুসরণ করছে এবং সচেতনভাবেই এমন কোনও চুক্তি থেকে দূরে থাকছে যা দেশের অভ্যন্তরীণ শিল্পের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করে অথবা যেসব প্রতিযোগী অর্থনীতির মাথাপিছু আয় ভারতের তুলনায় কম, তাদের সঙ্গে করা হয় (Hindu Economic Forum)।

    ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’

    ভারত ইতিমধ্যেই ছটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এর মধ্যে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (UAE), অস্ট্রেলিয়া এবং ইএফটিএ জোটের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিও রয়েছে। একই সঙ্গে, একটি স্থিতিশীল ও নির্ভরযোগ্য ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করতে একাধিক উন্নত অর্থনীতির দেশের সঙ্গে আলোচনা চলছে (Bharats Rise)। গয়াল জানান, ভারত ২০২৭ সালের মধ্যে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হওয়ার পথে রয়েছে এবং ২০৪৭ সালের মধ্যে ৩০ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি অর্থনীতিতে উন্নীত হবে। এই অগ্রগতি সংস্কার, পরিকাঠামো সম্প্রসারণ এবং উদ্ভাবননির্ভর প্রবৃদ্ধির ফল। ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’ নীতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি জোর দেন যে ভারতের উন্নয়ন মডেল অন্তর্ভুক্তিমূলক, নৈতিক এবং বিশ্বজনীন দায়বদ্ধতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।

    নিতিন গডকরি

    সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিষয়ক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিতিন গডকরি জাতীয় উন্নয়নের মেরুদণ্ড হিসেবে পরিকাঠামোর গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তিনি আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন যে আগামী দুই বছরের মধ্যেই ভারতের সড়ক নেটওয়ার্ক আমেরিকার মানের সমতুল্য হবে, এবং কিছু ক্ষেত্রে তা ছাড়িয়েও যাবে। তিনি বলেন, মূল লক্ষ্য হল লজিস্টিক্স খরচ কমানো, যাতে ভারতীয় পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে ওঠে। বিশ্বমানের পরিকাঠামো মূলধনী বিনিয়োগ আকর্ষণ, শিল্প সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ৫ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থনীতির স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য অত্যন্ত জরুরি (Hindu Economic Forum)। এদিকে, মহারাষ্ট্রের তথ্যপ্রযুক্তি ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক মন্ত্রী আশিস শেলার জানান, আগামী ছমাসের মধ্যে রাজ্যে ভারতের প্রথম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হবে, পাশাপাশি গড়ে তোলা হবে একটি যৌথ এআই শহর (Bharats Rise)।

    সজ্জন জিন্দাল

    জেএসডব্লিউ গ্রুপের চেয়ারম্যান সজ্জন জিন্দাল ভারতের অর্থনৈতিক কাঠামো সম্পর্কে একটি স্পষ্ট মূল্যায়ন তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বর্তমানে জিডিপিতে পরিষেবা খাতের অবদান ৬০ শতাংশের বেশি হলেও টেকসই বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে উৎপাদন খাতের অংশ বর্তমান ১৫ শতাংশের সীমা ছাড়িয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো প্রয়োজন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন প্যাক্স সিলিকার উদ্যোগ থেকে ভারতের বাদ পড়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে জিন্দাল বলেন, ভারতের কাছে পর্যাপ্ত রেয়ার আর্থ মজুত রয়েছে এবং দেশীয় অনুসন্ধানে আক্রমণাত্মকভাবে বিনিয়োগ করা জরুরি। তিনি বলেন, “আত্মনির্ভর ভারত কোনও বিকল্প নয়, এটি একটি অর্থনৈতিক অনিবার্যতা।” তিনি আরও নিশ্চিত করেন যে জেএসডব্লিউ গ্রুপ বৈদ্যুতিক ও হাইব্রিড প্রযুক্তিনির্ভর একটি দেশীয় যাত্রীবাহী গাড়ির ব্র্যান্ড উন্নয়নের পথে এগোচ্ছে, পাশাপাশি মহারাষ্ট্রে ব্যাটারি উৎপাদন সক্ষমতাও গড়ে তোলা হচ্ছে (Hindu Economic Forum)।

    নির্দিষ্ট বিনিয়োগ ঘোষণা

    এই সময় নির্দিষ্ট বিনিয়োগ ঘোষণাও করা হয়। শ্রী সিমেন্টসের চেয়ারম্যান শ্রী হরি মোহন বাঙ্গুর মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবের হাতে পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য ১,৫০০ কোটি টাকার একটি লেটার অব ইনটেন্ট  তুলে দেন। মুখ্যমন্ত্রী মধ্যপ্রদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদন ও রফতানি কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশের কথা তুলে ধরেন, বিশেষ করে ওষুধ শিল্প, বস্ত্র এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি ক্ষেত্রে। ২০২৫ সালকে শিল্প ও কর্মসংস্থানের বছর ঘোষণা করে তিনি জানান, রাজ্যে ইতিমধ্যেই ৬ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের প্রকল্প বাস্তবায়নের পর্যায়ে রয়েছে। বৃহৎ কর্পোরেট সংস্থার পাশাপাশি, এই ফোরামে এমএসএমই, নারী উদ্যোক্তা, স্টার্ট-আপ এবং প্রথম প্রজন্মের ব্যবসায়ী নেতাদের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। আয়োজক কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান সঞ্জয় খেমানি বলেন, সততা, শৃঙ্খলা এবং দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গিকে ভিত্তি করে যাঁরা ব্যবসা গড়ে তুলছেন, সেই উদ্যোক্তাদের হাত ধরেই ভারতের প্রবৃদ্ধির কাহিনি ক্রমশ রূপ পাচ্ছে (Bharats Rise)।

    ফোরামের জাতীয় সংগঠন সম্পাদকের বক্তব্য

    হিন্দু ইকোনমিক ফোরামের জাতীয় সংগঠন সম্পাদক টিআর শিব প্রসাদ বলেন, এই প্ল্যাটফর্মের লক্ষ্য কেবল শহর বা কর্পোরেট পরিসরে সীমাবদ্ধ নয়। মেন্টরশিপ, পুঁজি প্রাপ্তির সুযোগ এবং বাজার সংক্রান্ত দিকনির্দেশনার মাধ্যমে গ্রাম ও স্থানীয় উদ্যোগগুলিকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে যুক্ত করাই এর মূল উদ্দেশ্য (Hindu Economic Forum)। দ্বিতীয় দিনে আয়োজকেরা হিন্দু অ্যাসোসিয়েশন অব রেস্টুরেন্টস, হোটেলস, আহার অ্যান্ড রিফ্রেশমেন্টস (হারহার) উপস্থাপন করেন। এটি একটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শিল্প সংগঠন, যার ধারণা ও পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছে হিন্দু ইকোনমিক ফোরাম। হারহার হিন্দু খাদ্যসংস্কৃতি ও আতিথেয়তা ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত হোটেল মালিক, রেস্তোরাঁ উদ্যোক্তা, মিষ্টি ও স্ন্যাকস প্রস্তুতকারক, ক্যাটারার, শেফ, খাদ্য উদ্ভাবক, মসলা ও শস্য প্রক্রিয়াজাতকারী, সরবরাহকারী এবং পরিষেবা প্রদানকারীদের একত্রিত করে। দেশীয় বাজারের পরিমাণ ২ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি এবং বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ১৪–১৮ শতাংশ হলেও, এতদিন এই খাতে ধর্মভিত্তিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের আদর্শে প্রতিষ্ঠিত একটি ঐক্যবদ্ধ কণ্ঠস্বরের অভাব ছিল। হারহার সেই শূন্যতা পূরণের লক্ষ্য নিয়েছে এবং নিজেকে হিন্দু নেতৃত্বাধীন আতিথেয়তা উদ্যোগগুলির সম্মিলিত কণ্ঠস্বর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়।

    ‘লঞ্চ প্যাড’-এ উদ্ভাবন

     ‘লঞ্চ প্যাড’-এ উদ্ভাবন ছিল মূল আকর্ষণ। সেখানে ছ’জন স্টার্ট-আপ উদ্ভাবক অ্যাঞ্জেল ইনভেস্টর ও মেন্টরদের সামনে তাঁদের ধারণা উপস্থাপন করেন। এর মধ্যে চারটি উদ্যোগ প্রাথমিক পর্যায়ের বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে একান্ত আলোচনার জন্য নির্বাচিত হয়, যা স্বদেশি উদ্যোগ গড়ে তোলায় এই প্ল্যাটফর্মের ভূমিকা তুলে ধরে। বিনিয়োগকারীরা জানান, ধারণার বিস্তারযোগ্যতা ও বাস্তবায়নের সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে প্রতি উদ্যোগে ৫০ লক্ষ থেকে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে তাঁরা আগ্রহী (Hindu Economic Forum)।

    প্ল্যাটফর্মের পেছনের ভাবনা

    ওয়ার্ল্ড হিন্দু ইকোনমিক ফোরাম প্রতিষ্ঠা করেন স্বামী বিজ্ঞানানন্দ। তিনি আইআইটি খড়গপুরের প্রাক্তনী এবং রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের দার্শনিক ঐতিহ্যে অনুপ্রাণিত এক সন্ন্যাসী। আচার্য চাণক্যের উক্তি—“ধর্মস্য মূলম্ অর্থঃ” থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে তিনি জোর দেন যে নৈতিক আচরণ, সামাজিক সামঞ্জস্য এবং কার্যকর শাসনব্যবস্থা অবশ্যই শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হতে হবে। ভগবদ গীতার “ভবিষ্যতের কথা ভেবে, ভবিষ্যতের জন্য কাজ করো” এই আহ্বানকে সামনে রেখে তিনি হিন্দু সমাজকে তার ঐতিহাসিক বৈশ্বিক অর্থনৈতিক শক্তির ভূমিকা পুনরুদ্ধার করার স্বপ্ন দেখেন। দুটি লাড্ডুর একটি সহজ উপমার মাধ্যমে—একটি আলগাভাবে বাঁধা ও অন্যটি দৃঢ়ভাবে একত্রে ধরা—তিনি দেখান, কীভাবে ঐক্য ব্যক্তিগত প্রচেষ্টাকে সম্মিলিত শক্তিতে রূপান্তরিত করে।

    ফোরাম শেষ হওয়ার আগে ঘোষণা করা হয় যে হিন্দু ইকোনমিক ফোরামের জাতীয় অধ্যায়ের বৈঠক ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে কর্ণাটকের হুব্বল্লিতে অনুষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে ২০২৬ সালের বিশ্ব হিন্দু কংগ্রেসের নিবন্ধনও শুরু হয়, যা ১৮–২০ ডিসেম্বর ২০২৬ মুম্বাইয়ে আয়োজিত হবে (Bharats Rise)। সমাবেশের সমাপ্তিতে একটি স্পষ্ট বার্তা রয়ে যায়: ভারতের অর্থনৈতিক পুনরুত্থান তার সভ্যতাগত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে যুক্ত। ধর্মকে উদ্যোগের সঙ্গে এবং জাতীয়তাবাদকে বৈশ্বিক সম্পৃক্ততার সঙ্গে একীভূত করে ফোরামটি কেবল একটি অর্থনৈতিক রূপরেখাই নয়, বরং একটি দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় অভিযানের দিকনির্দেশও তুলে ধরে (Hindu Economic Forum)।

LinkedIn
Share