Author: pranabjyoti

  • Sunetra Pawar: মহারাষ্ট্রের প্রথম মহিলা উপমুখ্যমন্ত্রী পদে প্রয়াত অজিতের স্ত্রী সুনেত্রা পাওয়ার

    Sunetra Pawar: মহারাষ্ট্রের প্রথম মহিলা উপমুখ্যমন্ত্রী পদে প্রয়াত অজিতের স্ত্রী সুনেত্রা পাওয়ার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এনসিপি নেতা অজিত পাওয়ারের স্ত্রী সুনেত্রা (Sunetra Pawar) পাওয়ার আজ, শনিবার মহারাষ্ট্রের প্রথম মহিলা উপমুখ্যমন্ত্রী (Woman Deputy CM) হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন। বারামতিতে বিমান দুর্ঘটনায় স্বামী অজিত পাওয়ার-সহ আরও চারজনের মৃত্যুর কয়েক দিনের মধ্যেই তিনি এই দায়িত্ব নিতে প্রশ্ন হচ্ছিলেন। সুনেত্রাকে আবগারি শুল্ক, ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ এবং সংখ্যালঘু উন্নয়ন দফতরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁর স্বামী অজিত পাওয়ারের হাতে থাকা অর্থ ও পরিকল্পনা দফতরের দায়িত্ব এখন সামলাবেন মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিস।

    এনসিপি বিধায়ক দলের নেতা (Sunetra Pawar)

    বছর বাষট্টির সুনেত্রাকে এদিন সর্বসম্মতিক্রমে এনসিপি বিধায়ক দলের নেতা নির্বাচিত করা হয়। দলের নেতা ছগন ভুজবল তাঁর নাম প্রস্তাব করেন এবং দিলীপ পাতিল-সহ একাধিক বিধায়ক তা সমর্থন করেন। এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিসকে একটি চিঠি পাঠানো হয়, যেটি তিনি পরে রাজ্যপাল আচার্য দেবব্রতের কাছে পাঠান। শপথ গ্রহণের পরই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সুনেত্রাকে শুভেচ্ছা জানান। কারজাত-জামখেদ কেন্দ্রের বিধায়ক এবং সুনেত্রার আত্মীয় রোহিত পাওয়ার এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, “অজিত দাদার জায়গা কেউ নিতে পারবে না, তবে অন্তত সুনেত্রাবাইয়ের রূপে কোথাও যেন আমরা অজিত দাদাকেই দেখতে পাচ্ছি।” তিনি আরও বলেন, “আমাদের মাথার ওপর গভীর শোকের পাহাড়, সবাই যখন শোকস্তব্ধ, তখন কীভাবে অভিনন্দন জানাব, সেটাও বুঝে উঠতে পারছি না।”

    সুপ্রিয়া সুলের কাছে পরাজিত

    এনসিপি পুনর্মিলনের আলোচনা কোন দিকে যাবে, সেদিকেই এখন সকলের নজর (Sunetra Pawar)। অজিত পাওয়ারের কাকা শরদ পাওয়ার জানান, বিধায়ক দলের নেতা হিসেবে সুনেত্রা পাওয়ারের নির্বাচন এবং তাঁকে উপমুখ্যমন্ত্রী করার বিষয়ে তিনি অবগত ছিলেন না। এরপর অজিত পাওয়ারের ছেলে পার্থ পাওয়ার এবং এনসিপি (শরদ পাওয়ার) বিধায়ক রোহিত পাওয়ার তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে তাঁকে অবহিত করেন (Woman Deputy CM)। পরে শরদ পাওয়ার স্পষ্ট করেন, এনসিপি পুনর্মিলন নিয়ে আলোচনা চলছে ঠিকই, তবে তিনি সরাসরি সেই আলোচনায় যুক্ত নন। তাঁর কথায়, এই আলোচনা হচ্ছে অজিত পাওয়ার ও জয়ন্ত পাতিলের মধ্যে। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন পর্যন্ত সুনেত্রা পাওয়ার রাজনৈতিকভাবে তুলনামূলকভাবে নীরব ছিলেন। ওই বছরের লোকসভা নির্বাচনে তিনি বারামতি কেন্দ্র থেকে তাঁর প্রয়াত স্বামীর দলের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, কিন্তু মর্যাদাপূর্ণ এই লড়াইয়ে তিনি তাঁর ননদ এবং এনসিপি (শরদ পাওয়ার) সাংসদ সুপ্রিয়া সুলের কাছে পরাজিত হন (Sunetra Pawar)।

    সুনেত্রা উপমুখ্যমন্ত্রী

    এরপর সুনেত্রা রাজ্যসভায় নির্বাচিত হন। সূত্রের খবর, বুধবার অজিত পাওয়ারের মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সুনেত্রাকে উপমুখ্যমন্ত্রী করার সিদ্ধান্ত তাঁকে জানানো হয়। অজিত পাওয়ার নেতৃত্বাধীন এনসিপির শীর্ষ নেতারা প্রস্তাবিত দলীয় একীভূতকরণ নিয়ে বিশেষ উৎসাহী ছিলেন না। তাঁদের আশঙ্কা ছিল, এতে এনসিপির মধ্যে শরদ পাওয়ারের প্রভাব আবার বাড়বে। বরং তাঁদের ইচ্ছা ছিল, সুনেত্রাকে অজিত পাওয়ারের রাজনৈতিক উত্তরাধিকারী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করা (Woman Deputy CM)। অজিত পাওয়ার শিবিরের ধারণা ছিল, তাঁর মৃত্যুর পর শরদ পাওয়ার গোষ্ঠী এনসিপির নেতৃত্ব নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে দল একীভূত করার জন্য চাপ সৃষ্টি করতে পারে (Sunetra Pawar)। সূত্রের খবর, এই মর্মান্তিক ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সুনেত্রাকে জানানো হয় যে তাঁকে সামনে এসে নেতৃত্ব দিতে হবে। রাজ্যের শীর্ষ নেতারা যখন বারামতিতে এসে এনসিপি নেতার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করছিলেন, তখনই উদ্ভূত রাজনৈতিক বাস্তবতা অজিত পাওয়ারের নিকটাত্মীয়দের জানানো হয়। পরিবার যখন গভীর শোকে নিমগ্ন, তখনও স্পষ্ট (Woman Deputy CM) হয়ে যায় যে সুনেত্রাকে উপমুখ্যমন্ত্রী করার রাজনৈতিক প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে (Sunetra Pawar)।

     

  • Wikipedia: এবার প্রশ্ন উঠল উইকিপিডিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়েই, কেন জানেন?

    Wikipedia: এবার প্রশ্ন উঠল উইকিপিডিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়েই, কেন জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বহু বছর ধরে উইকিপিডিয়া (Wikipedia) নিজেকে একটি নিরপেক্ষ, জনসাধারণের অংশগ্রহণে গঠিত বিশ্বকোষ হিসেবে তুলে ধরেছে। এটি একটি ডিজিটাল প্লাটফর্ম, যা যাচাইযোগ্য তথ্য, নির্ভরযোগ্য উৎস এবং সম্প্রদায়ভিত্তিক ঐকমত্যের মাধ্যমে পরিচালিত হয় (Anti Hindu)। কিন্তু ২০২০ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে একের পর এক বিতর্কের জেরে উঠছে প্রশ্ন, এই নিরপেক্ষতা বাস্তবে কতটা বাস্তব?

    হিন্দু-বিরোধী ফ্রেমিং প্রমাণের জীবন্ত দলিল (Wikipedia)

    লন্ডনে গোপন পিআর ম্যানিপুলেশন থেকে শুরু করে ভারতে হিন্দু-সম্পর্কিত ঘটনাবলির উপস্থাপন—বিভিন্ন ঘটনা একটি গভীর কাঠামোগত সমস্যার ইঙ্গিত দেয়। এই ইঙ্গিতটি হল কীভাবে ক্ষমতা ও মতাদর্শ বিষয়বস্তুকে প্রভাবিত করতে পারে। এই প্রতিবেদনে এমন কিছু ঘটনার কথা নথিভুক্ত করা হয়েছে, যা সমালোচকদের মতে উইকিপিডিয়ার ইকোসিস্টেমে পক্ষপাত,  বৈষম্যমূলক উপস্থাপনা এবং ধারাবাহিক হিন্দু-বিরোধী পরিবেশনার জীবন্ত দলিল। ২০২৬ সালের ১৬ জানুয়ারি দ্য ব্যুরো ইনভেস্টিগেটস জানায় যে, বিলিয়নেয়ার, সরকার ও প্রভাবশালী ক্লায়েন্টদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে লন্ডনভিত্তিক জনসংযোগ সংস্থা পোর্টল্যান্ড কমিউনিকেশনস গোপনে সম্পাদনা করেছিল উইকিপিডিয়ার বিভিন্ন এন্ট্রি। তদন্তে জানা গিয়েছে, এসব সম্পাদনায় ভুয়ো অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে করা হয়েছিল, উইকিপিডিয়ার পরিভাষায় যা ‘সকপাপেট্রি’ নামে পরিচিত। অন্তত ২৬টি অ্যাকাউন্ট পরে নিষিদ্ধ করা হয়।

    এই সম্পাদনার বড় সুবিধাভোগী ছিল কাতার

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, কাতার এই সম্পাদনার বড় সুবিধাভোগী ছিল। প্রবাসী শ্রমিকদের মৃত্যু ও মানবাধিকার লঙ্ঘন সংক্রান্ত তথ্য পরিকল্পিতভাবে দুর্বল করে উপস্থাপন করা হয়েছিল (Anti Hindu)। বিতর্ক আরও তীব্র হয় পোর্টল্যান্ড কমিউনিকেশনসের প্রতিষ্ঠাতা টিম অ্যালানের রাজনৈতিক যোগাযোগ সামনে আসায়। তিনি একসময় ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের কমিউনিকেশন প্রধান ছিলেন। ২০২৪ সালের ৯ জুলাই ভারতের এক সংবাদ সংস্থা দিল্লি হাইকোর্টে উইকিপিডিয়া ফাউন্ডেশনের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করে। ওই সংস্থা তাদের উইকিপিডিয়া এন্ট্রিকে চ্যালেঞ্জ করে, যেখানে সংস্থাটিকে বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকারের প্রচারযন্ত্র হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছিল। ওই সংবাদ সংস্থা উইকিপিডিয়ার বক্তব্যকে মিথ্যা, বিদ্বেষমূলক এবং সুনামহানিকর বলে দাবি করেছিল।

    উইকিপিডিয়ার যুক্তি নিয়েই প্রশ্ন

    মামলায় প্রক্রিয়াগত সমস্যার কথাও তোলা হয়। পেজটি সুরক্ষিত থাকায় ওই সংস্থা সরাসরি সংশোধন করতে পারেনি, অথচ অজ্ঞাতনামা সম্পাদকরা বিষয়বস্তুকে নিরন্তর প্রভাবিত করে গিয়েছেন। বিচারপতি সুব্রহ্মনিয়ম প্রসাদ উইকিপিডিয়ার সেই যুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন যে, ডিসক্লেইমার থাকায় তারা দায়মুক্ত। তিনি বলেন, “নিজেকে মুক্ত বিশ্বকোষ বলা মানেই আইনের ঊর্ধ্বে থাকা নয় (Anti Hindu)।” ২০২৪ সালের নভেম্বরে ভারত সরকার উইকিপিডিয়াকে (Wikipedia) আনুষ্ঠানিক নোটিশ  পাঠিয়ে প্রশ্ন তোলে, কেন একে নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারী নয়, বরং প্রকাশক হিসেবে গণ্য করা হবে না? এটি ভারতের ডিজিটাল গভর্ন্যান্স বিতর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। রাম মন্দির ভূমি পূজনের আগে উইকিপিডিয়ায় জয় শ্রী রাম স্লোগান সংক্রান্ত এন্ট্রি ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিল। সেখানে এই পবিত্র ধ্বনিকে যুদ্ধঘোষ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছিল এবং মুসলমানদের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত ও প্রধানত বিজেপির সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করা হয়েছিল। সমালোচকদের মতে, এই বর্ণনা শতাব্দীপ্রাচীন ধর্মীয় আহ্বানকে বিকৃত করে একটি রাজনৈতিক লেবেলে রূপান্তর করেছে।

    বৈশ্বিক ধারণা

    একইভাবে, গুজরাট হাইকোর্টে একাধিক দণ্ডাদেশ বহাল থাকা সত্ত্বেও গোধরা ট্রেন অগ্নিসংযোগ নিয়ে উইকিপিডিয়ায় লেখা থাকে যে আগুনের কারণ “বিতর্কিত”। ৩১ জন অগ্নিসংযোগের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হলেও আদালতের রায়, ফরেনসিক রিপোর্ট ও পুলিশি তথ্যকে ধারাবাহিকভাবে গুরুত্বহীন করে দেখানো হয়। বরং কিছু অ্যাক্টিভিস্ট অ্যাকাউন্ট ও নির্বাচিত গবেষণাধর্মী মতামতকে প্রাধান্য দেওয়া হয়, আর সরকারি নথি উদ্ধৃত করা সম্পাদকরা প্রান্তিক হয়ে পড়েন। এতে একটি মৌলিক প্রশ্ন উঠে আসে। প্রশ্নটি হল (Wikipedia), যখন আদালত রায় দিয়েছে, তখন ঐতিহাসিক সত্য নির্ধারণ করবে কে – বিচারব্যবস্থা, না কি উইকিপিডিয়ার সম্পাদকরা? মণিপুরে হিংসার ঘটনা নিয়ে উইকিপিডিয়ার কভারেজ বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল, যখন ‘কৌটিল্য ৩’ নামের এক সম্পাদক জানিয়েছিলেন, তিনি ঘটনাটিকে বারবার মেইতেই হিন্দুদের দ্বারা খ্রিস্টান কুকিদের ওপর ধর্মীয় নিপীড়ন হিসেবে উপস্থাপন করেছিলেন (Anti Hindu)। সমালোচকদের মতে, জটিল জাতিগত, রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক বাস্তবতাকে একটি সরল ধর্মীয় বয়ানে রূপান্তর করা হয়েছে। একবার এমন বয়ান প্রতিষ্ঠিত হলে, তা এআই সিস্টেম, সার্চ ইঞ্জিন ও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে বহুগুণে ছড়িয়ে পড়ে। এর থেকেই বোঝা যায় যে অল্প কয়েকজন সম্পাদক কীভাবে বৈশ্বিক ধারণা গঠন করতে পারেন।

    হিংসা সংক্রান্ত উইকিপিডিয়া

    উত্তর-পূর্ব দিল্লি হিংসা সংক্রান্ত উইকিপিডিয়া নিবন্ধটি সিনিয়র সম্পাদক ডিবিগ এক্সরে (DBigXray) তৈরি করেছিলেন বলে অভিযোগ। শুরু থেকেই সেখানে বিজেপি নেতা কপিল মিশ্রকে উসকানিদাতা হিসেবে তুলে ধরা হয়, অথচ অন্য রাজনৈতিক নেতাদের উসকানিমূলক বক্তব্য মুছে ফেলা হয়। এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় ১৯৪৬ সালের নোয়াখালি দাঙ্গা সংক্রান্ত উইকিপিডিয়া পেজে ভাঙচুর করা হয়। সেখানে ‘হিন্দু’ ও ‘মুসলমান’ শব্দ অদলবদল করে ভুক্তভোগী ও অপরাধীদের ভূমিকা উল্টে দেওয়া হয়েছিল (Anti Hindu)। পেজের শিরোনাম বদলে দেওয়া হয় এবং ছবির ক্যাপশন এমনভাবে লেখা হয় যাতে হিন্দু সংগঠনগুলিকে নেতিবাচকভাবে দেখানো যায়। এই ঘটনা দেখায়, কীভাবে খুব দ্রুত ঐতিহাসিক বয়ান বিকৃত করা সম্ভব। নোয়াখালির এই সম্পাদনার সূত্র মেলে বাংলাদেশের ঢাকা শহরের একটি আইপি ঠিকানায়। সমালোচকদের প্রশ্ন, যে প্ল্যাটফর্ম কঠোর নজরদারি দাবি করে, সেখানে এমন বিকৃতি কীভাবে, এমনকী সাময়িকভাবে হলেও, প্রকাশ পেতে পারে?

    তাবলিগি জামাতের ভূমিকা

    ভারতে কোভিড-১৯ ছড়িয়ে পড়ায় তাবলিগি জামাতের ভূমিকা নিয়ে একটি উইকিপিডিয়া পেজ মুছে ফেলা হয়েছিল। পর্নহাব সংক্রান্ত উইকিপিডিয়া কভারেজও সমালোচিত হয়। ‘ট্র্যাফিকিংহাব’ পিটিশন ও শিশু নির্যাতনের অভিযোগ সম্পর্কিত তথ্য ‘উল্লেখযোগ্যতার অভাব’ দেখিয়ে সরিয়ে ফেলা হয়। সংশ্লিষ্ট সম্পাদক নাকি পর্নোগ্রাফি সংক্রান্ত পেজ ‘পরিষ্কার’ করার ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছিলেন। এই ঘটনা আরও বড় একটি প্রশ্ন তোলে। সেটি হল, আর্থিক, মতাদর্শগত বা প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থ কীভাবে কনটেন্টকে প্রভাবিত করে এবং গুরুতর অভিযোগও জনস্মৃতি থেকে মুছে যেতে পারে।

    এইসব ঘটনাগুলি উইকিপিডিয়ার নিরপেক্ষতার দাবিকে ঘিরে যে বিতর্ক চলছে, তা আরও স্পষ্ট করে। যদিও প্ল্যাটফর্মটি নিজেকে ঐকমত্য ও যাচাইযোগ্য উৎসভিত্তিক জনসম্পাদিত বিশ্বকোষ হিসেবে তুলে ধরে, সমালোচকদের মতে ক্ষমতার কাঠামো, মতাদর্শগত পক্ষপাত ও সম্পাদকীয় গেটকিপিং বৈশ্বিক বোঝাপড়াকে প্রভাবিত করে—বিশেষত হিন্দু ইতিহাস, রাজনীতি ও সমাজের ক্ষেত্রে। এই ঘটনাগুলি ইঙ্গিত দেয় যে, উন্মুক্ত সম্পাদনার মডেল যতই আদর্শবাদী হোক, তা সব সময় বিকৃত বয়ান বা নির্বাচিত তথ্য উপস্থাপন ঠেকাতে পারে না (Wikipedia)।

     

  • Epstein Files: আমেরিকায় কেলেঙ্কারি! তালিকায় বিল গেটস-সহ একাধিক প্রভাবশালীর নাম

    Epstein Files: আমেরিকায় কেলেঙ্কারি! তালিকায় বিল গেটস-সহ একাধিক প্রভাবশালীর নাম

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শুক্রবারই প্রকাশ করা হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের (US) বিচার বিভাগের জেফ্রি এপস্টাইন সংক্রান্ত নথিপত্রের (Epstein Files) একটি অংশ। তার জেরেই ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে মার্কিন মুলুকে। ওই নথিগুলোতে মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস-সহ একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম উল্লেখ রয়েছে বলে খবর।

    যৌন অপরাধে দণ্ডিত (Epstein Files)

    এপস্টাইন ফাইলস ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টে যৌন অপরাধে দণ্ডিত জেফ্রি এপস্টাইন সংক্রান্ত তদন্তের সঙ্গে যুক্ত ৩০ লাখেরও বেশি পৃষ্ঠার নথি, ২ হাজারেরও বেশি ভিডিও এবং প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার ছবি প্রকাশ করেছে। এই উপকরণগুলির মধ্যে যৌন নির্যাতনের শিকারদের সাক্ষাৎকার এবং বিপুল সংখ্যক ই-মেইল যোগাযোগও রয়েছে। প্রকাশিত কিছু নথিতে ‘জর্জ বুশ ১’-এর বিরুদ্ধে অভিযোগের উল্লেখ রয়েছে। তবে এখানে নামটি আমেরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশকেই নির্দেশ করছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। এপস্টাইনের ব্যক্তিগত লগবুকে বুশের নাম পাওয়া যায়নি। তবে এপস্টাইনের এক ভুক্তভোগী নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ ডিপার্টমেন্টের চাইল্ড এক্সপ্লয়টেশন ডিটেকটিভ ব্যুরোয় দায়ের করা অভিযোগে এই নামটি উল্লেখ করেছিলেন। বিল গেটসের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলি এপস্টাইনের ১৮ জুলাই, ২০১৩ তারিখের খসড়া বার্তায় অন্তর্ভুক্ত ছিল। ওই বার্তাগুলির কিছু অংশে গেটসের তৎকালীন উপদেষ্টা বরিস নিকোলিকের কণ্ঠস্বর রেকর্ড করা ছিল।

    এপস্টাইনের দাবি

    একটি খসড়া বার্তায় এপস্টাইন দাবি করেন, গেটস ‘রুশ মেয়েদের’ সঙ্গে যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হয়েছিলেন এবং এতে তিনি যৌনবাহিত রোগে আক্রান্ত হন। এপস্টাইনের অভিযোগ, গেটস নাকি অনুরোধ করেছিলেন যাতে গোপনে তাঁর তৎকালীন স্ত্রী মেলিন্ডা গেটসকে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়। এপস্টাইন আরও দাবি করেন, ওই ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ই-মেইলগুলি মুছে ফেলতে গেটস তাঁকে অনুরোধ করেছিলেন। একই খসড়া বার্তায় এপস্টাইন গেটসের সঙ্গে বন্ধুত্ব ছিন্ন হওয়া নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। গেটসের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ায় তিনি অকল্পনীয়ভাবে হতাশ হয়েছিলেন বলে জানিয়েছিলেন। বার্তায় এপস্টাইন (Epstein Files) লিখেছিলেন, “কাটা ঘায়ে নুন ছেটানোর মতো তুমি এরপর আমায় অনুরোধ করো তোমার যৌনরোগ সংক্রান্ত ই-মেইলগুলি, মেলিন্ডাকে গোপনে দেওয়ার জন্য অ্যান্টিবায়োটিক চাওয়ার বিষয়টি এবং তোমার যৌনাঙ্গের বর্ণনা সংক্রান্ত লেখাগুলি মুছে ফেলতে।” এর আগে বিচার বিভাগ প্রকাশিত এপস্টাইন-সংক্রান্ত একাধিক ছবিতে বিভিন্ন স্থানে এপস্টাইনের সঙ্গে বিল গেটসকে দেখা গিয়েছিল। তবে এপস্টাইনের আনা সব অভিযোগই বিল গেটস সরাসরি অস্বীকার করেন।

    মুখপাত্রের বক্তব্য

    সংবাদ মাধ্যমে গেটসের এক মুখপাত্র বলেন, “এই অভিযোগগুলি সম্পূর্ণ অবাস্তব ও ভিত্তিহীন। এই নথিগুলি কেবল এটুকুই প্রমাণ করে যে গেটসের সঙ্গে সম্পর্ক চালু না থাকায় এপস্টাইন কতটা হতাশ ছিলেন এবং কীভাবে তিনি ফাঁদ পেতে অপবাদ দেওয়ার চেষ্টা করতেন।” এপস্টাইনের এক ভুক্তভোগীর বিবরণ সংবলিত একটি ই-মেইলে লেখা রয়েছে, “ধন্যবাদ এম, আমি বুঝতে পারিনি বুশও তাকে ধর্ষণ করেছিল। ঠিক আছে।” ওই নথিতে ভুক্তভোগী সম্পর্কে আরও বলা হয়, “এই ইয়টে থাকার সময় সে দেখতে পেয়েছিল আফ্রিকান-আমেরিকান পুরুষরা শ্বেতাঙ্গ স্বর্ণকেশী নারীদের সঙ্গে যৌনতায় লিপ্ত ছিল, এবং যৌনক্রিয়ার সময় সবাই রক্তাক্ত হচ্ছিল (US)।” নথিতে আরও বলা হয়, “সে এক ধরনের আচারভিত্তিক বলিদানের শিকার হয়েছিল, যেখানে তার পা তরবারি দিয়ে কাটা হয়, যদিও কোনো স্থায়ী দাগ ছিল না। ইয়টে সে শিশুদের খণ্ডবিখণ্ড করা, তাদের নাড়িভুঁড়ি বের করে ফেলা এবং সেই নাড়িভুঁড়ির মল খাওয়ার দৃশ্য প্রত্যক্ষ করে।”

    ভুক্তভোগীকে ধর্ষণ

    নথিতে আরও দাবি করা হয় যে ‘জর্জ বুশ ১’ ওই ভুক্তভোগীকে ধর্ষণ করেছিলেন। “সে জর্জ বুশ ১-এর দ্বারাও ধর্ষিত হয়েছিল,” নথিতে উল্লেখ করা হয়। এছাড়াও বলা হয়, “ভুক্তভোগী জানান, ট্রু পণ্ডিতের প্রতিষ্ঠাতা মাইকেল মুর তাঁকে এফবিআই ভবনে নিয়ে যান। বিভিন্ন অনলাইন সূত্রে ট্রু পণ্ডিতকে একটি ষড়যন্ত্রতত্ত্বনির্ভর সংবাদমাধ্যম হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যা এফবিআইকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করে (Epstein Files)।” আর এক পুরুষ ভুক্তভোগীর বয়ানে বলা হয়েছে, ২০০০ সালে একটি বড় ইয়টে তাঁকে এপস্টাইন এবং প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন যৌন নিপীড়ন করেছিলেন। ভুক্তভোগী জানান, ওই সফরে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর বর্তমান স্ত্রী মেলানিয়াও ইয়টে উপস্থিত ছিলেন (US)। তবে ভুক্তভোগীর দাবি, ঘটনার সময় তিনি মাদকাসক্ত অবস্থায় ছিলেন এবং দীর্ঘদিন থেরাপি নেওয়ার পর ২০১৬ সালে এসব স্মৃতি তাঁর মনে ফিরে আসে। ২০১৯ সালের অগাস্টে এফবিআই পরিচালিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব তথ্য দেন। প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ডিসেম্বরে, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক চাপ এবং কংগ্রেসে পাস হওয়া নতুন আইনের নির্ধারিত আইনি সময়সীমার পরিপ্রেক্ষিতে বিচার বিভাগ এপস্টাইন ফাইলস প্রকাশ করে (Epstein Files)।

     

  • Suspected Separatists: পাক পুলিশের ওপর হামলা বালুচিস্তানে, খতম ১০

    Suspected Separatists: পাক পুলিশের ওপর হামলা বালুচিস্তানে, খতম ১০

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের হিংসতাপীড়িত দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে সর্বশেষ হিংসার ঘটনায় সশস্ত্র গোষ্ঠীর (Suspected Separatists) হামলায় নিহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন নিরাপত্তা আধিকারিক (Pakistani Policemen) এবং ৩৭ জন স্বাধীনতাকামী। আজ, শনিবার ভোরে শুরু হয় এই হামলা। প্রাদেশিক রাজধানী কোয়েটার একাধিক পুলিশ স্টেশনকে টার্গেট করা হয়। অভিযোগ, জাতিগত বালুচ বন্দুকধারীরাই এই হামলা চালিয়েছে। খনিজসমৃদ্ধ বালুচিস্তান প্রদেশে পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের মুখে রয়েছে। আফগানিস্তান এবং ইরান সীমান্তঘেঁষা এই প্রদেশে বিদ্রোহীরা নিয়মিতভাবে রাষ্ট্রীয় বাহিনী, বিদেশি নাগরিক এবং স্থানীয় নন-লোকালদের ওপর হামলা চালিয়ে থাকে।

    বালুচিস্তানের বিভিন্ন স্থানে অভিযান

    পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নকভি এক বিবৃতিতে জানান, হামলায় ১০ জন নিরাপত্তা আধিকারিক নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি নিরাপত্তা বাহিনীর প্রশংসা করেন, যাঁরা বালুচিস্তানের বিভিন্ন স্থানে পাল্টা অভিযানে ৩৭ জন সশস্ত্র যোদ্ধাকে হত্যা করেছেন। মন্ত্রীর দাবি, এই হামলাগুলি ভারত-সমর্থিত ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’ গোষ্ঠীর মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে। পাকিস্তান সরকার নিষিদ্ধ ঘোষিত বালুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) এবং অন্যান্য বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীকে বোঝাতে এই শব্দবন্ধ ব্যবহার করে। সংবাদ সংস্থা সূত্রে খবর, হামলার দায় স্বীকার করেছে বিএলএ। গোষ্ঠীটি জানিয়েছে, তারা গুলিবর্ষণ ও আত্মঘাতী হামলার মাধ্যমে সামরিক কাঠামো, পুলিশ এবং বেসামরিক প্রশাসনের কর্মকর্তাদের টার্গেট করেছে (Suspected Separatists)। বালুচিস্তান সরকারের মুখপাত্র শাহিদ রিন্দ বলেন, “অধিকাংশ হামলাই প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে।” হামলার সময় পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর কয়েকজন সদস্যকে অপহরণ করা হয়েছে বলেও খবর পাওয়া গিয়েছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে ইন্টারনেট ও ট্রেন পরিষেবা স্থগিত রাখা হয়েছে এবং বর্তমানে একটি বড় ধরনের নিরাপত্তা অভিযান চলছে।

    দেশজুড়ে হামলার মাত্রা বাড়ছে

    শনিবারের এই হামলা এমন একটা সময়ে ঘটল, যার ঠিক একদিন আগেই পাকিস্তানের সেনাবাহিনী জানিয়েছিল যে তারা বালুচিস্তানে পৃথক দুটি অভিযানে ৪১ জন সশস্ত্র যোদ্ধাকে হত্যা করেছে। বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদ থাকা সত্ত্বেও বালুচিস্তান পাকিস্তানের সবচেয়ে দরিদ্র প্রদেশ হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরেই ইসলামাবাদে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে স্বাধীনতার দাবিতে সেখানে আন্দোলন করছেন বিচ্ছিন্নতাবাদীরা। সাম্প্রতিক মাসগুলোয় বালুচ বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী এবং পাকিস্তানি তালিবান, যারা তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) নামে পরিচিত, তারা দেশজুড়ে হামলার মাত্রা বাড়িয়েছে। টিটিপি একটি পৃথক সংগঠন হলেও তারা আফগানিস্তানের তালিবানের মিত্র, যারা ২০২১ সালের আগস্টে আবার ক্ষমতায় ফিরে আসে (Pakistani Policemen)। গত বছর জাতিগত বালুচ বিচ্ছিন্নতাবাদীরা ৪৫০ যাত্রীবাহী একটি ট্রেনে হামলা চালায়। এর জেরে দু’দিনব্যাপী অবরোধ তৈরি হয়, যেখানে অন্তত কয়েক ডজন মানুষ নিহত হন (Suspected Separatists)।

     

  • Kerala CPM: সিটু ছেড়ে বিএমএসে যোগ পুরো ইউনিটের, হতাশ সিপিএম

    Kerala CPM: সিটু ছেড়ে বিএমএসে যোগ পুরো ইউনিটের, হতাশ সিপিএম

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বামদুর্গে (Kerala CPM) বড় ধস কেরলে। সেখানে আঙ্গাডিপ্পুরম এফসিআই গোডাউনের সম্পূর্ণ সিটু (CITU) ইউনিট সংগঠন ছেড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএমএস (BMS) (ভারতীয় মজদুর সংঘ)-এ যোগ দিয়েছে। এই পরিবর্তন থেকে যে বার্তাটি স্পষ্টভাবে উঠে আসছে, তা হল, কেরলে রাজনৈতিক ও ট্রেড ইউনিয়ন পরিসরে লক্ষণীয় পরিবর্তন ঘটছে, যা রাজ্যের ভেতরে একটি বৃহত্তর পুনর্বিবেচনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

    বিএমএসে যোগ (Kerala CPM)

    গণপদত্যাগ এবং বিএমএসে যোগদানের পর সিপিএমের ট্রেড ইউনিয়ন শাখা সিটু কার্যত হতবাক। শ্রমিকদের অভিযোগ, সিটু নেতারা কয়েক দশক ধরে দরিদ্র শ্রমিকদের ভুল পথে চালিত ও প্রতারিত করে আসছেন। তাঁদের নিয়ন্ত্রণে রেখে ইউনিট পরিচালনা করেছেন। তাঁদের মতে, আঙ্গাডিপ্পুরমে এফসিআই গোডাউন প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই এই ধারা চলে আসছে। শ্রমিকরা যখন বুঝতে পারেন যে তাঁদের বিভ্রান্ত ও শোষণ করা হচ্ছে, তখন তাঁরা একযোগে সংগঠন ছেড়ে বিএমএসে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সিটু-নিয়ন্ত্রিত এফসিআই ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃত্বদানকারী সুধাকরণ-সহ কে আবু তাহির এবং পি আবদুল রাজাক সহকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে সিটু ছেড়ে বিএমএসের সদস্যপদ গ্রহণ করেন।

    দূরবর্তী স্থানে বদলি

    শ্রমিকদের সিটু ছেড়ে করে বিএমএসে যোগদানের আগে, চুক্তিভিত্তিক শ্রমিকদের দূরবর্তী স্থানে বদলি সংক্রান্ত বিষয়ে সিটু নেতৃত্বের কাছে বারবার আবেদন জানানো হয়েছিল। শ্রমিকদের অভিযোগ, সংগঠন এ বিষয়ে কোনও পদক্ষেপ করেনি। প্রবীণ শ্রমিকরা ডিরেক্ট পেমেন্ট সিস্টেম (ডিপিএস)-এর আওতায় ন্যূনতম মজুরি নিশ্চয়তা ও প্রকৃত কাজের পারিশ্রমিক পাওয়ার অধিকারী। কিন্তু বদলি হলে তাঁদের জায়গায় নতুন চুক্তিভিত্তিক শ্রমিক নিয়োগ করা হত। ফলে তাঁরা ডিপিএস সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতেন। শ্রমিকদের দাবি, সিটুর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে ঠিকাদারদের এক (BMS) অশুভ আঁতাতের ফলেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে (Kerala CPM)। অসন্তোষ আরও তীব্র হয় যখন সিটু নেতারা ২০২৫ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর নির্ধারিত আঙ্গাডিপ্পুরম সিটু ইউনিটের বৈঠকে উপস্থিত থাকার প্রতিশ্রুতি দিলেও, বৈঠকের কয়েক ঘণ্টা আগে তা প্রত্যাহার করে নেন।

    রাজ্য সম্মেলন

    পরে ডিসেম্বর মাসে অনুষ্ঠিতব্য রাজ্য সম্মেলনে যোগদানের জন্য ইউনিটের পদাধিকারীরা ১৭ জন প্রতিনিধির একটি তালিকা পাঠালেও রাজ্য নেতৃত্ব তা গ্রহণ করতে অস্বীকার করে। এসব ঘটনা, যা সিটু থেকে ইউনিটটির ক্রমবর্ধমান বিচ্ছিন্নতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত, শ্রমিকদের বিএমএস নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা শুরু করতে প্ররোচিত করে। এদিকে, সিটু নেতারা ঠিকাদারদের সঙ্গে সমঝোতা করে নিজেদের পছন্দের ব্যক্তিদের সুবিধাজনক ইউনিটে বদলির ব্যবস্থা করেন বলে অভিযোগ। এমভি গোবিন্দন এবং সিটুর প্রবীণ নেতা ইলামারাম করিম ও টিপি রামকৃষ্ণনের কাছে শ্রমিকদের পাঠানো চিঠিগুলির কোনও জবাব পাওয়া যায়নি বলেও জানা গিয়েছে (Kerala CPM)। এই সব কাজের ফল মারাত্মক হয় বয়স্ক শ্রমিকদের ক্ষেত্রে। আঙ্গাডিপ্পুরম এফসিআই গোডাউনের অধিকাংশ শ্রমিকের বয়স পঞ্চাশের বেশি এবং তাঁরা সিটুর অধীনে ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে কাজ করেছেন। দূরবর্তী স্থানে বদলি কার্যত অনেক শ্রমিককে জীবিকা ছেড়ে অন্য পেশায় যেতে বাধ্য করত (BMS)।

    সিটু শ্রমিক-বিরোধী…

    তা সত্ত্বেও, সিটু শ্রমিক-বিরোধী এসব ব্যবস্থার জন্য দায়ী আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করেনি বলেও অভিযোগ। বরং, ইউনিয়ন নেতৃত্ব কেন্দ্রীয় সরকারের দিকে সমালোচনার অভিমুখ ঘুরিয়ে দিয়ে এক ধরনের এড়িয়ে যাওয়ার নীতি গ্রহণ করেছেন বলে অভিযোগ।এদিকে, গণপদত্যাগের পর বিএমএস নেতাদের সঙ্গে শ্রমিকদের আলোচনা ফলপ্রসূ হয়। বিএমএসের জাতীয় সম্পাদক ভি রাধাকৃষ্ণন ও অন্য নেতারা শ্রমিকদের আশ্বস্ত করেন যে বিষয়টি অবিলম্বে রেলমন্ত্রক এবং কেরালার এফসিআই ম্যানেজারের কাছে উত্থাপন করা হবে। শ্রমিকদের বিএমএসে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে আরও জোরদার করে, ভি রাধাকৃষ্ণন বিএমএস ইউনিট গঠনের বৈঠকের সূচনা করেন এবং সদস্যপদ বিতরণ তদারকি করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ফজল রহমান, সেথু থিরুভেনকিটাম, বালাচন্দ্রন এবং বি রতীশ (Kerala CPM)। সিটু ইউনিটের বিএমএসে চলে যাওয়া প্রসঙ্গে ভি রাধাকৃষ্ণন জানান, বিএমএস তিরুবনন্তপুরমে অবস্থিত এফসিআইয়ের জেনারেল ম্যানেজারের কাছে চিঠি লিখে গোডাউনগুলিতে চুক্তিভিত্তিক ব্যবস্থার মাধ্যমে শ্রমিক শোষণ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে (BMS)।

    রাজনৈতিক তাৎপর্য

    এই ঘটনা আঙ্গাডিপ্পুরমের বাইরেও বিস্তৃত রাজনৈতিক তাৎপর্য বহন করে। কেরালায় সিপিএমকে প্রায়ই সবচেয়ে বড় ও শক্তিশালী রাজনৈতিক দল হিসেবে বর্ণনা করা হয় এবং এর ট্রেড ইউনিয়ন শাখা সিটু রাজ্যের কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নগুলির মধ্যে সমানভাবে প্রভাবশালী। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলিতে বহু দলীয় কর্মী সিপিএম ছেড়েছেন। তাঁদের অনেকেই বিজেপি, আরএসএস এবং অন্যান্য সংঘ-প্রভাবিত বা জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন। প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক সময়ে সিপিএমের একাধিক প্রবীণ নেতা, মুখপাত্র এবং প্রাক্তন বিধায়ক বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন এবং (BMS) সক্রিয়ভাবে বিজেপি ও অন্যান্য সংঘ-অনুপ্রাণিত সংগঠনকে শক্তিশালী করতে কাজ করছেন (Kerala CPM)।

     

  • Sayak Chakraborty: ধর্মান্তরনের চেষ্টা! পার্কস্ট্রিটের রেস্তরাঁয় হিন্দু অভিনেতাকে পরিবেশন করা হল গরুর মাংস

    Sayak Chakraborty: ধর্মান্তরনের চেষ্টা! পার্কস্ট্রিটের রেস্তরাঁয় হিন্দু অভিনেতাকে পরিবেশন করা হল গরুর মাংস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তিনি একে হিন্দু, তার ওপর আবার ব্রাহ্মণ। এহেন এক হিন্দুকে পরিবেশন করা হল গরুর মাংস! কলকাতার পার্কস্ট্রিটের (Muslim Waiter) ঘটনায় রাজ্যজুড়ে সমালোচনার ঝড়। জানা গিয়েছে, শুক্রবার পার্কস্ট্রিট এলাকার একটি অভিজাত রেস্তোরাঁয় খেতে গিয়েছিলেন অভিনেতা সায়ক চক্রবর্তী (Sayak Chakraborty)। তাঁর সঙ্গে ছিলেন তাঁর দুই বন্ধুও। অভিযোগ, খাসির মাংস অর্ডার দিয়ে টেবিলে গিয়ে বসেন তাঁরা। এই রেস্তরাঁর এক মুসলিম ওয়েটার গরুর মাংস পরিবেশন করে বলে অভিযোগ।

    কী বলছেন হিন্দু অভিনেতা? (Sayak Chakraborty)

    ফেসবুকে প্রকাশিত এক ভিডিওয় সায়ককে বলতে শোনা যায়, “এই মুহূর্তে আমরা পার্কস্ট্রিটের একটি বড় রেস্তোরাঁয় রয়েছি। এখানে আমরা মাটন স্টেক অর্ডার করেছিলাম। তারা আমাদের বিফ স্টেক পরিবেশন করেছে। আমরা জানতাম না, এটা কী। আমরা ভেবেছিলাম এটা মাটন স্টেকই। আমরা খেয়েও ফেলি।” গরুর মাংস খাওয়ানো হচ্ছে জেনে ব্যাপক খেপে যান অভিনেতা। তাঁকে বলতে শোনা যায়, “তুমি কি জানো আমি একজন ব্রাহ্মণ? আমায় না বলেই কী করে গরুর মাংস খাইয়ে দিলে? গোমাতাকে খাইয়ে দিলে? তোমার ধর্ম কি? আমি তোমায় না বলে শুয়োরের মাংস খাইয়ে দিলে, খাবে তো?” তর্কাতর্কি শুরু হতেই ওই মুসলমান ওয়েটার ক্ষমা চায়। কবুল করে তার ভুল হয়ে গিয়েছে। এর পরেই সায়ক ফের তাকে জিজ্ঞেস করেন, “এটা কি কোনও রসিকতা?” এদিকে, প্রশ্ন করা হলে অভিজাত রেস্তরাঁর ম্যানেজারকে হাসতে দেখা যায়। অভিনেতার বন্ধু অনন্যা গুহ বলেন, “এটা হাসির বিষয় নয়। এটা একজন নিরামিষাশীকে মুরগির মাংস খাইয়ে দেওয়ার মতোই অপরাধ (Sayak Chakraborty)।”

    দাঙ্গা লাগানোর ইচ্ছেই আমার নেই

    সায়ক বলেন, “তুমি একজন মুসলিম হয়ে আমায় বিফ খাইয়েছ। তুমি এটা কীভাবে করলে? ইচ্ছাকৃতভাবে (Muslim Waiter)?” তিনি বলেন, “দাঙ্গা লাগানোর কোনও ইচ্ছেই আমার নেই। আমার মুসলমান বন্ধুও রয়েছে। রিয়াজের বাড়িতে আমি ইদেও খেতে গিয়েছি। আমার কন্টেন্টেও সব সময় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তা দেওয়া হয়। আমি বিশ্বাস করি, বন্ধুত্বের পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াতে পারে না ধর্ম।” তিনি বলেন, “যেটা আমি খাই না, সেটা যখন আমার অজান্তে আমায় পরিবেশন করা হল, তার প্রতিবাদ যদি আজ না করি, তাহলে আরও অনেক মানুষের সঙ্গে এরকম ঘটনা ঘটবে (Sayak Chakraborty)।”

     

  • Odisha: ওড়িশার বিজেপি সরকারের ভূয়সী প্রশংসা বিশ্বব্যাঙ্কের

    Odisha: ওড়িশার বিজেপি সরকারের ভূয়সী প্রশংসা বিশ্বব্যাঙ্কের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ওড়িশা (Odisha) সরকারের ভূয়সী প্রশংসা করল বিশ্বব্যাঙ্ক। বিশ্বব্যাঙ্ক (World Bank) গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বঙ্গা ভুবনেশ্বরের লোকসেবা ভবনে ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এই বৈঠকে রাজ্যের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন অগ্রাধিকার, অর্থনৈতিক সংস্কার এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে ওড়িশা সরকারের শীর্ষ আধিকারিকরাও উপস্থিত ছিলেন। এঁদের মধ্যে ছিলেন মুখ্যসচিব শ্রীমতী অনু গর্গ, উন্নয়ন কমিশনার শ্রী ডিকে সিং এবং বিশ্বব্যাঙ্কের প্রতিনিধিরা।

    বৈঠকে আলোচ্য বিষয় (Odisha)

    আলোচনায় অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মজবুত উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা, পরিকাঠামো শক্তিশালী করা, সামাজিক খাতে ফল উন্নত করা এবং স্থিতিস্থাপক ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়। উভয় পক্ষই বেসরকারি খাতে কর্মসংস্থানের জন্য যুবসমাজের দক্ষতা উন্নয়নের গুরুত্ব তুলে ধরেন। এদিনের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্য সরকারের ফ্ল্যাগশিপ উদ্যোগ ও সংস্কারমূলক নানা পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন, যার লক্ষ্য হল পরিকাঠামো, ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোগ (MSME), কৃষি, সংশ্লিষ্ট খাত এবং পর্যটনে বিনিয়োগ বাড়িয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা, বিশেষত যুবক ও মহিলাদের জন্য। তিনি বলেন, “ওড়িশার ব্যবসাবান্ধব সংস্কারের ফলে ২.৫ লক্ষ কোটি টাকার বিনিয়োগ আকৃষ্ট হয়েছে, যা সেন্টার ফর মনিটরিং ইন্ডিয়ান ইকোনমি (CMIE) প্রকাশিত ডিসেম্বর ২০২৫-এর তথ্য অনুযায়ী অন্ধ্রপ্রদেশের পরে দেশের মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে।”

    ভূয়সী প্রশংসা

    অজয় বঙ্গা ওড়িশার সংস্কারমুখী দৃষ্টিভঙ্গি ও দক্ষতা উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়ার প্রশংসা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, আসন্ন বিশ্বব্যাঙ্ক গ্রুপ ভারত কৌশলগত পরিকল্পনা ভুবনেশ্বরের সেন্ট্রাল টুল রুম অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার (CTTC)-এর মতো সফল মডেলগুলির ওপর ভিত্তি করে তৈরি হবে, যা আইটিআইগুলি উন্নত করার জন্য ভারতের ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের জাতীয় উদ্যোগের অংশ (World Bank)। বিশ্বব্যাঙ্কের প্রেসিডেন্ট প্রযুক্তিগত সহায়তা, নীতি-পরামর্শ পরিষেবা এবং আর্থিক সহযোগিতার মাধ্যমে ওড়িশাকে সমর্থন করার প্রতিশ্রুতির কথা ফের একবার মনে করিয়ে দেন। তিনি দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা জোরদার করা এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণের গুরুত্বের ওপরও জোর দেন। উভয় পক্ষ বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ, যেমন পরিকাঠামো উন্নয়ন, নগরায়ণ এবং টেকসই সম্পদ ব্যবস্থাপনা নিয়েও মতবিনিময় করেন। তাঁরা ওড়িশার উন্নয়ন অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র অনুসন্ধানে সম্মত হন।

    রাজ্যের রোডম্যাপ

    মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের রোডম্যাপ “ওড়িশা ভিশন ২০৩৬ ও ২০৪৭: বিকশিত ভারতের জন্য বিকশিত ওড়িশা” শেয়ার করেন এবং উভয় পক্ষ এই কাঠামোয় সহযোগিতা আরও গভীর করার যৌথ অঙ্গীকার করেন (World Bank)। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি জানান, ওড়িশা উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। রাজ্যের নিট রাজ্য ঘরোয়া উৎপাদন (NSDP) ২০২৩–২৪ সালে ৬.৯৯ লাখ কোটি টাকা থেকে ২০২৪–২৫ সালে আনুমানিক ৭.৯০ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যা ১৩.০৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধির প্রতিফলন। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের সংসদে পেশ করা ভারতের অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৫–২৬-এর উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যের মাথাপিছু এনএসডিপি বেড়ে ১,৬৮,৯৬৬ টাকায় পৌঁছেছে, যা আয় বৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের ইঙ্গিত দেয়। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ভারতের অর্থনৈতিক সমীক্ষা অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই প্রবৃদ্ধির পথে ওড়িশার (Odisha) স্থিতিশীল অগ্রগতি নিশ্চিত করেছে।”

    মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা

    এক্স হ্যান্ডেলে দেওয়া এক পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী অর্থনীতির বিভিন্ন খাতের কর্মদক্ষতার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “কৃষি ওড়িশার উন্নয়ন কৌশলের কেন্দ্রে রয়েছে এবং বর্তমানে রাজ্যটি দেশের শীর্ষ তিনটি সূর্যমুখী উৎপাদনকারী রাজ্যের মধ্যে অন্যতম।” তিনি আর্থিক অন্তর্ভুক্তির অগ্রগতির কথাও উল্লেখ করেন, জানান যে ব্যাঙ্ক আমানত বেড়ে ৫.৮৩ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যা রাজ্যজুড়ে সঞ্চয় ও বিনিয়োগকে শক্তিশালী করছে (World Bank)। মাঝি বলেন, “ওড়িশার (Odisha) আর্থিক অবস্থান এখনও শক্তিশালী রয়েছে, যার ফলে পরিকাঠামো, শিক্ষা ও সামাজিক কল্যাণে ধারাবাহিক বিনিয়োগ সম্ভব হচ্ছে।” তিনি বলেন, “শিক্ষা ও দারিদ্র্য হ্রাসে অগ্রগতি অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের প্রতি সরকারের প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন।” মুখ্যমন্ত্রী জানান, সরকার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে উচ্চতর আয়, মানসম্মত কর্মসংস্থান এবং সকল নাগরিকের জন্য বিস্তৃত সুযোগে রূপান্তরিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ (Odisha)।

     

  • India Remittances: রেমিট্যান্স প্রাপ্তির নিরিখে বিশ্বের শীর্ষে ভারত, বলছে অর্থনৈতিক সমীক্ষা

    India Remittances: রেমিট্যান্স প্রাপ্তির নিরিখে বিশ্বের শীর্ষে ভারত, বলছে অর্থনৈতিক সমীক্ষা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রেমিট্যান্স (India Remittances) বা প্রবাসী আয়ের ক্ষেত্রে বিশ্বে শীর্ষস্থানে রয়েছে ভারত (India)। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ২০২৫–২৬ অর্থনৈতিক সমীক্ষায় (Economic Survey) এই তথ্য সামনে এসেছে। ২০২৪–২৫ অর্থবর্ষে দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ পৌঁছেছে ১৩৫.৪ বিলিয়ন ডলারে, যা দেশের বৈদেশিক হিসেবের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন সংসদে পেশ করা সমীক্ষায় জানিয়েছেন, উন্নত দেশগুলি থেকে রেমিট্যান্সের (India Remittances) অংশ বেড়েছে। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, দক্ষ ও পেশাদার কর্মীদের অবদান ক্রমেই বাড়ছে। রফতানিতে ভারতের প্রতিযোগিতা ক্ষমতা বাড়াতে উৎপাদন খরচ কমানোর লক্ষ্যে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া জরুরি বলেও উল্লেখ করা হয়েছে ওই সমীক্ষায়।

    উৎপাদনভিত্তিক রফতানি (India)

    সমীক্ষায় আরও বলা হয়েছে, উৎপাদনভিত্তিক রফতানি ক্ষমতা বাড়ানো গেলে দীর্ঘমেয়াদে বৈদেশিক স্থিতিশীলতা এবং মুদ্রার বিশ্বাসযোগ্যতা আরও শক্তিশালী হবে। এ জন্য প্রয়োজন শৃঙ্খলাবদ্ধ ও উৎপাদনশীলতাভিত্তিক শিল্পনীতি, ভ্যালু চেইনজুড়ে কাঁচামাল ও উপকরণ ব্যয়ের সতর্ক ব্যবস্থাপনা এবং উচ্চ-মূল্য সংযোজিত পরিষেবা খাতের সমান্তরাল বৃদ্ধি। বিশ্বজুড়ে আর্থিক পরিস্থিতি কড়াকড়ি হলেও ভারত ধারাবাহিকভাবে বড় অঙ্কের মোট বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে পেরেছে। ২০২৪–২৫ অর্থবর্ষে মোট বিনিয়োগ প্রবাহ জিডিপির হার পৌঁছেছে ১৮.৫ শতাংশে। রাষ্ট্রসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থা (UNCTAD)-এর তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ায় মোট বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (FDI) গ্রহণে ভারত শীর্ষস্থানে (India Remittances) রয়েছে এবং ইন্দোনেশিয়া ও ভিয়েতনামের মতো বড় এশীয় অর্থনীতিকেও ছাড়িয়ে গিয়েছে (India)।

    গ্রিনফিল্ড বিনিয়োগ

    ২০২৪ সালে গ্রিনফিল্ড বিনিয়োগ ঘোষণার ক্ষেত্রে বিশ্বে ভারত চতুর্থ স্থানে ছিল। ওই বছরে এক হাজারের বেশি প্রকল্পের কথা ঘোষণা করা হয়। পাশাপাশি, ২০২০–২৪ সময়কালে গ্রিনফিল্ড ডিজিটাল বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ভারত বিশ্বের বৃহত্তম গন্তব্যে পরিণত হয়েছে, যেখানে মোট ১১৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ এসেছে। ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে নভেম্বর – এই পর্বে মোট এফডিআই প্রবাহ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৪.৭ বিলিয়ন ডলারে, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৫৫.৮ বিলিয়ন ডলার। সমীক্ষায় বলা হয়েছে, “ভারতে বৈদেশিক পোর্টফোলিও বিনিয়োগ (FPI) বারবার প্রবাহ ও বহিঃপ্রবাহের চক্রের মধ্য দিয়ে যায়। এই ওঠানামা অনেক সময় বৈশ্বিক আর্থিক পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত। চলতি অর্থবর্ষে ছ’মাস নিট বহিঃপ্রবাহ এবং তিন মাস নিট প্রবাহ দেখা গেছে, যার ফলে সামগ্রিকভাবে নিট অবস্থান তুলনামূলকভাবে সীমিত রয়েছে।”

    বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ

    এছাড়া, ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার (India Forex) রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭০১.৪ বিলিয়ন ডলারে (১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত), যা মার্চের শেষে ছিল ৬৬৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। রিজার্ভের পর্যাপ্ততার দিক থেকে বলা হয়েছে, এই সঞ্চয় প্রায় ১১ মাসের পণ্য আমদানি এবং ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসের শেষে থাকা মোট বৈদেশিক ঋণের প্রায় ৯৪ শতাংশ মেটাতে সক্ষম। ফলে এটি একটি স্বস্তিদায়ক বাফার হিসেবে কাজ করছে (India)। অর্থনৈতিক সমীক্ষায় (Economic Survey) আরও উল্লেখ করা হয়েছে, একটি দেশের মুদ্রার কার্যকারিতা নির্ভর করে অভ্যন্তরীণ সঞ্চয় সৃষ্টি, বৈদেশিক ভারসাম্য রক্ষা, স্থিতিশীল এফডিআই আকর্ষণ এবং উদ্ভাবন, উৎপাদনশীলতা ও গুণগত মানের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা রফতানি প্রতিযোগিতার ক্ষমতার ওপর (India Remittances)। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের শেষে ভারতের মোট বৈদেশিক ঋণ দাঁড়িয়েছে ৭৪৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে, যা মার্চ ২০২৫ শেষে ছিল ৭৩৬.৩ বিলিয়ন ডলার। একই সময়ে বৈদেশিক ঋণ-জিডিপির অনুপাত ছিল ১৯.২ শতাংশ। তবে সমীক্ষায় উল্লেখ করা হয়েছে, ভারতের মোট ঋণের তুলনায় বৈদেশিক ঋণের অংশ ৫ শতাংশেরও কম। এর ফলে বৈদেশিক খাতজনিত ঝুঁকি অনেকটাই সীমিত রয়েছে ।

     

  • Economic Survey: ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে জিডিপি বৃদ্ধির হার থাকতে পারে ৬.৮ থেকে ৭.২ শতাংশের মধ্যে, বলছে অর্থনৈতিক সমীক্ষা

    Economic Survey: ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে জিডিপি বৃদ্ধির হার থাকতে পারে ৬.৮ থেকে ৭.২ শতাংশের মধ্যে, বলছে অর্থনৈতিক সমীক্ষা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সংসদে অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৫–২৬ (Economic Survey) পেশ করলেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। বৃহস্পতিবার সংসদে পেশ করা ওই সমীক্ষায় তুলে ধরা হয়েছে বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকা সত্ত্বেও ভারতের অর্থনীতির একটি আশাব্যঞ্জক ছবি । সমীক্ষা অনুযায়ী, ভারত এখনও বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল (India Growth Rate) প্রধান অর্থনীতির দেশ। ২০২৫–২৬ অর্থবর্ষে যেখানে প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধি হার ৭.৪ শতাংশ হবে, সেখানে  বলে অনুমান করা হয়েছে, জিভিএ বৃদ্ধির হার ধরা হয়েছে ৭.৩ শতাংশ। ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে, ভারতের সম্ভাব্য প্রবৃদ্ধির হার প্রায় ৭ শতাংশ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৬–২৭ অর্থবর্ষে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হার ৬.৮ থেকে ৭.২ শতাংশের মধ্যে থাকতে পারে বলেও পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

    আন্তর্জাতিক প্রতিকূলতা 

    ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও বৈশ্বিক বাণিজ্য বিঘ্নের মতো আন্তর্জাতিক প্রতিকূলতা থাকা সত্ত্বেও সমীক্ষায় (Economic Survey) বলা হয়েছে, শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ চাহিদা, স্থিতিশীল কর্মসংস্থান এবং নিয়ন্ত্রিত মূল্যস্ফীতির কারণে ভারতের অর্থনৈতিক পারফরম্যান্স আলাদা করে নজর কেড়েছে। কম মূল্যস্ফীতি ও ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধির ফলে গৃহস্থালি ব্যয় দৃঢ় রয়েছে এবং গ্রামীণ ও শহুরে – উভয় ক্ষেত্রেই ভোগব্যয়ে ধারাবাহিক উন্নতি লক্ষ্য করা গিয়েছে। সমীক্ষায় বিনিয়োগ পরিস্থিতির উন্নতির কথাও তুলে ধরা হয়েছে। পুঁজি গঠন ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং সরকারি ব্যয় পরিকাঠামো সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। উৎপাদন খাতে গতি সঞ্চার হয়েছে এবং পুনরুদ্ধারের স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যাচ্ছে (Economic Survey) । পরিষেবা খাত এখনও প্রবৃদ্ধির সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি, যা ভারতের জিডিপির অর্ধেকেরও বেশি অবদান রাখছে। ভারতের রাজস্ব অবস্থানেও উন্নতি হয়েছে। ২০২৪–২৫ অর্থবর্ষে কেন্দ্রের রাজস্ব আদায় জিডিপির ৯.২ শতাংশে পৌঁছেছে। উন্নত কর ব্যবস্থা ও প্রযুক্তিনির্ভর সংস্কারের ফলে করদাতার পরিসরও বিস্তৃত হয়েছে। ২০২০ সালের পর থেকে সরকারি ঋণের পরিমাণ কমেছে, যদিও সরকারি বিনিয়োগ উচ্চ পর্যায়ে বজায় রয়েছে (India Growth Rate)।

    বড় ধরনের পরিবর্তন

    সমীক্ষা (Economic Survey) অনুযায়ী, ব্যাঙ্কিং খাতেও বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর নাগাদ খেলাপি ঋণের হার নেমে এসেছে ২.২ শতাংশে, যা বহু দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন। আর্থিক অন্তর্ভুক্তি আরও গভীর হয়েছে। এ পর্যন্ত ৫৫ কোটিরও বেশি জনধন অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। একই সঙ্গে খুচরো বিনিয়োগকারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যাদের প্রায় এক-চতুর্থাংশই মহিলা। বৈদেশিক ক্ষেত্রে ভারতের রফতানি রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে, যার প্রধান চালক পরিষেবা খাত। ভারত বিশ্বের বৃহত্তম রেমিট্যান্স গ্রহণকারী দেশ হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে। পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৭০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি হয়েছে, যা বৈশ্বিক ধাক্কার বিরুদ্ধে শক্তিশালী সুরক্ষা বলয় তৈরি করেছে (India Growth Rate)। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত গড় মূল্যস্ফীতি ছিল মাত্র ১.৭ শতাংশ, যা ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) চালু হওয়ার পর থেকে সর্বনিম্ন (Global Headwinds)। ভালো বর্ষার ফলে কৃষিক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে এবং খাদ্যশস্য উৎপাদন রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে।

    উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি

    সমীক্ষায় (Economic Survey) পরিকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ডিজিটাল সংযোগ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির কথাও বলা হয়েছে। ভারত এখন বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অভ্যন্তরীণ বিমান চলাচল বাজার। নবায়নযোগ্য জ্বালানির ক্ষেত্রেও দেশটি বৈশ্বিক নেতৃত্বদানকারী দেশগুলির মধ্যে রয়েছে। একই সঙ্গে দারিদ্র্য, মাতৃমৃত্যু ও শিশু মৃত্যুর হার কমানোর ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য সাফল্য এসেছে (Indias Growth Rate)।সারসংক্ষেপে অর্থনৈতিক সমীক্ষায় বলা হয়েছে, সংস্কার, পরিকাঠামো উন্নয়ন ও স্থিতিশীল সামষ্টিক অর্থনৈতিক কাঠামোর জোরে ভারত ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধার থেকে টেকসই প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে চলেছে। শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তি ও ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক আস্থার ফলে ২০৪৭ সালের মধ্যে একটি উন্নত দেশে পরিণত হওয়ার দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যের দিকে এগোতে ভারত সুদৃঢ় অবস্থানে রয়েছে।

  • India Canada Relation: সেতুবন্ধনে ‘ইন্ডিয়া এনার্জি উইকে’র মঞ্চ, জ্বালানি নিয়ে আলোচনা শুরু ভারত-কানাডার

    India Canada Relation: সেতুবন্ধনে ‘ইন্ডিয়া এনার্জি উইকে’র মঞ্চ, জ্বালানি নিয়ে আলোচনা শুরু ভারত-কানাডার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গোয়ায় অনুষ্ঠিত ইন্ডিয়া এনার্জি উইক (IEW) ২০২৬-এর মঞ্চে ফের আনুষ্ঠানিকভাবে মন্ত্রী পর্যায়ের জ্বালানি সংক্রান্ত আলোচনা শুরু করেছে ভারত-কানাডা। কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি এবং কানাডার জ্বালানি (Energy Dialogue) ও প্রাকৃতিক সম্পদমন্ত্রী টিমোথি হজসন যৌথভাবে অপরিশোধিত তেল, এলএনজি (LNG) এবং জ্বালানি রূপান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ খনিজের দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যের একটি রোডম্যাপ ঘোষণা করেন (India Canada Relation)। এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকটি আট বছরের মধ্যে প্রথম মন্ত্রী পর্যায়ের যোগাযোগ। এটি জুন ২০২৫-এ কানানাস্কিসে জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে ভারত ও কানাডার প্রধানমন্ত্রীদের বৈঠকের ধারাবাহিকতার মধ্যেই অনুষ্ঠিত হয়।

    কী বললেন হরদীপ সিং পুরি (India Canada Relation)

    মন্ত্রী বলেন, “উত্তর আমেরিকার দেশ কানাডা তার বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদের কারণে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার হিসেবে রয়ে গিয়েছে। কানাডার কাছে সম্ভবত ১০০ বছরেরও বেশি সময়ের অপরিশোধিত তেল মজুত রয়েছে।” পুরি জানান, সরবরাহ শৃঙ্খল ও দ্বিপাক্ষিক কাঠামো নিয়ে আলোচনা করতে এটি ছিল মন্ত্রী হজসনের সঙ্গে তাঁর তৃতীয় বৈঠক। যৌথ বিবৃতি অনুযায়ী, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের মূল ক্ষেত্রগুলি হবে, জ্বালানি রফতানি, কানাডা থেকে ভারতে অপরিশোধিত তেল, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) এবং তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (LPG)-এর সরবরাহ বাড়ানো, এশীয় বাজারে অপরিশোধিত তেল রফতানি বাড়াতে ট্রান্স মাউন্টেন এক্সপ্যানশন (TMX) পাইপলাইনের ব্যবহার, ভারতের উচ্চ পরিশোধন ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে ভারত থেকে কানাডায় পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্যের সরবরাহ (India Canada Relation)।

    বৈঠকের গুরুত্বপূর্ণ দিক

    এই বৈঠকের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল বৈদ্যুতিক যান এবং নবায়নযোগ্য শক্তি পরিকাঠামোর জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া। রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা অয়েল ইন্ডিয়া লিমিটেড (OIL)-কে কানাডায় গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ অনুসন্ধান ও অধিগ্রহণের জন্য একটি কনসর্টিয়ামের নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, “অয়েল ইন্ডিয়া লিথিয়াম, কোবাল্ট এবং রেয়ার আর্থ খনিজ পদার্থের খনি অনুসন্ধানের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে পারে।” অয়েল ইন্ডিয়ার সিএমডি রঞ্জিত রাঠ বলেন, “অয়েল ইন্ডিয়া বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও রেয়ার আর্থ এলিমেন্টস অনুসন্ধানের দিকে নজর দেবে। বৈদ্যুতিক যান উৎপাদনের জন্য অত্যাবশ্যক লিথিয়াম, কোবাল্ট এবং রেয়ার আর্থ এলিমেন্টস সুরক্ষিত করাই আমাদের লক্ষ্য।” দুই দেশ পারস্পরিক বিনিয়োগের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখবে। ভারত তার সম্পূর্ণ জ্বালানি মূল্য শৃঙ্খলে প্রায় ৫০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের সুযোগের কথা তুলে ধরে। অন্যদিকে, কানাডা জানায় যে বর্তমানে তাদের দেশে প্রায় ১১৬ বিলিয়ন ডলার মূল্যের জ্বালানি প্রকল্পে উন্নয়ন চলছে।

    এই বৈঠকে গ্রিন হাইড্রোজেন, বায়োফুয়েল এবং কার্বন ক্যাপচার প্রযুক্তি ক্ষেত্রেও সহযোগিতার রূপরেখা দেওয়া হয়েছে। দুই (Energy Dialogue) দেশের মন্ত্রীরাই বলেন, “বৈশ্বিক সরবরাহ কিছু নির্দিষ্ট অঞ্চলে কেন্দ্রীভূত থাকায় যে ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে, তা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ খনিজের সরবরাহ শৃঙ্খল বহুমুখীকরণ এখন অগ্রাধিকারের তালিকায়।” প্রসঙ্গত, পরবর্তী উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ২০২৬ সালের মার্চ মাসে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে পারে, কানাডার একটি নির্ধারিত বাণিজ্য মিশনের সময় (India Canada Relation)।

     

LinkedIn
Share