Author: pranabjyoti

  • GDP Growth Rate: মার্কিন শুল্ক-চাপের মধ্যেও আগামী অর্থবর্ষে স্থিতিশীল থাকবে ভারতের অর্থনৈতিক বৃদ্ধি

    GDP Growth Rate: মার্কিন শুল্ক-চাপের মধ্যেও আগামী অর্থবর্ষে স্থিতিশীল থাকবে ভারতের অর্থনৈতিক বৃদ্ধি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্ব বাণিজ্য যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চড়া শুল্ক নীতির কারণে চাপে রয়েছে, ঠিক সেই সময়েও ভারতের (India) অর্থনীতি আগামী অর্থবর্ষে স্থিতিশীল গতিতে (GDP Growth Rate) এগিয়ে যাবে বলেই আশা কেন্দ্রীয় সরকারের। সরকারি পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ভারতের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি বৃদ্ধির হার হতে পারে ৭.৪ শতাংশ। এই পূর্বাভাস ভারতের অর্থনীতির দৃঢ়তা ও বহিঃবিশ্বের চাপ মোকাবিলার ক্ষমতার স্পষ্ট ইঙ্গিত।

    আনুষ্ঠানিক বাণিজ্য চুক্তি (GDP Growth Rate)

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারত এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক বাণিজ্য চুক্তি না করলেও, তার নেতিবাচক প্রভাব ভারতীয় অর্থনীতিতে বড়সড় ধাক্কা দিতে পারবে না বলেই কেন্দ্রের ধারণা। সরকারের মতে, অভ্যন্তরীণ চাহিদা, বিনিয়োগের ধারাবাহিকতা এবং আর্থিক সংস্কারের ফলে ভারত বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও নিজের প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পারবে ভারত (India)। বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা, বাণিজ্য উত্তেজনা ও ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেও ভারতের এই প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস আন্তর্জাতিক মহলের নজর কেড়েছে। ২০২৫–২৬ অর্থবর্ষে ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির হার ৭.৫ শতাংশে পৌঁছাতে পারে বলে জানিয়েছে সরকারি অ্যাডভান্স অনুমান। এই হার ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের (RBI) পূর্বাভাস ৭.৩ শতাংশের তুলনায় সামান্য বেশি এবং ২০২৪-২০২৫ অর্থবর্ষে নথিভুক্ত ৭.৩ শতাংশ জিডিপি বৃদ্ধিকেও ছাড়িয়ে গিয়েছে। তবে ২০২৩-২০২৪ অর্থবর্ষে দেখা ৯.২ শতাংশের শক্তিশালী বৃদ্ধির তুলনায় এটি এখনও কম (GDP Growth Rate)।

    অ্যাডভান্স জিডিপি অনুমান

    পরিসংখ্যান ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন মন্ত্রক (MoSPI) বুধবার প্রকাশ করেছে প্রথম অ্যাডভান্স জিডিপি অনুমান। এই পরিসংখ্যান বাজারের প্রত্যাশার সঙ্গে মোটামুটি সামঞ্জস্যপূর্ণ। ব্লুমবার্গের অর্থনীতিবিদদের সমীক্ষায় গড় পূর্বাভাস ছিল ৭.৫ শতাংশ, যা সরকারি অনুমানের খুব কাছাকাছি (India)। সরকারি আধিকারিকরা জানান, ভবিষ্যতে এই সংখ্যাগুলি সংশোধিত হতে পারে। কারণ, জিডিপি গণনার পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা করছে কেন্দ্র। এই পরিবর্তনের প্রভাব ২০২৬ সালের কেন্দ্রীয় বাজেটে প্রতিফলিত হতে পারে এবং চূড়ান্ত জিডিপি তথ্য অর্থবর্ষ শেষ হওয়ার পর প্রকাশ করা হবে।

    বিনিয়োগেও গতি আসার সম্ভাবনা

    নমিনাল বা নামমাত্র হিসেবে ২০২৫-২০২৬ অর্থবর্ষে ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির হার ৮ শতাংশ হতে পারে, যেখানে তার আগের অর্থবর্ষে এই হার ছিল ৯.৭ শতাংশ। রিয়েল গ্রস ভ্যালু অ্যাডেড বা জিভিএ (GVA) বৃদ্ধির হার ধরা হয়েছে ৭.৩ শতাংশ, যা আগের বছরের ৬.৪ শতাংশের তুলনায় বেশি। অন্যদিকে, নমিনাল জিভিএ বৃদ্ধির হার অনুমান করা হয়েছে ৭.৭ শতাংশ (India)। ভারতের মোট জিডিপির প্রায় ৬০ শতাংশ জুড়ে থাকা ব্যক্তিগত ভোগব্যয় ২০২৫-২০২৬ অর্থবর্ষে ৭ শতাংশ হারে বাড়তে পারে, যা আগের বছরের তুলনায় সামান্য ধীরগতির। সরকারি ব্যয় ৫.২ শতাংশ বাড়তে পারে বলে অনুমান করা হয়েছে। এটি গত অর্থবর্ষের ২.৩ শতাংশ বৃদ্ধির তুলনায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি (GDP Growth Rate)। বেসরকারি বিনিয়োগেও গতি আসার সম্ভাবনা রয়েছে। ২০২৫-২০২৬ অর্থবর্ষে এই খাতে বৃদ্ধির হার ৭.৮ শতাংশ হতে পারে।

    ম্যানুফ্যাকচারিং খাত

    উৎপাদন বা ম্যানুফ্যাকচারিং খাত, যা জিডিপির ক্ষেত্রে প্রায় ১৩ শতাংশ অবদান রাখে, ২০২৫-২০২৬ অর্থবর্ষে বাড়তে পারে  ৭ শতাংশ হারে। এটি আগের বছরের ৪.৫ শতাংশ বৃদ্ধির তুলনায় বড়সড় উন্নতি। নির্মাণ খাতের বৃদ্ধি ৭ শতাংশে নামতে পারে, যেখানে আগের বছর এই হার ছিল ৯.৪ শতাংশ (India)। কৃষি খাতে বৃদ্ধির হার ধরা হয়েছে ৩.১ শতাংশ। এই খাত ভারতের ৪০ শতাংশের বেশি কর্মসংস্থান জোগায় এবং ইঙ্গিত দিচ্ছে স্থিতিশীল উৎপাদনের। দেশীয় অর্থনীতির জোরালো বৃদ্ধির পাশাপাশি ভারতের রফতানি ক্ষেত্রেও দেখা গেল অপ্রত্যাশিত শক্তি। ২০২৫ সালের নভেম্বরে ভারতের পণ্য রফতানি বছরে বছরে প্রায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা গত তিন বছরের মধ্যে দ্রুততম বৃদ্ধি। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, চলতি বছরের শুরুতেই প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে ভারতীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছিল আমেরিকা (GDP Growth Rate)।

    ভারতের মোট রফতানির পরিমাণ

    বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, নভেম্বর মাসে ভারতের মোট রফতানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৮.১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে, যা অক্টোবরের তীব্র পতন থেকে বড়সড় ঘুরে দাঁড়ানো। একই সঙ্গে আমদানি প্রায় ২ শতাংশ কমেছে, মূলত সোনা, তেল ও কয়লার আমদানি হ্রাস পাওয়ায়। এর ফলে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি নেমে এসেছে প্রায় ২৪.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে, যা জুনের পর সর্বনিম্ন (India)। চড়া শুল্ক সত্ত্বেও ভারতের সবচেয়ে বড় একক রফতানি বাজার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি ২২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। এই বৃদ্ধির নেতৃত্ব দিয়েছে ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য, ইলেকট্রনিক্স, রত্ন ও গয়না এবং ওষুধ শিল্প (GDP Growth Rate)। বাণিজ্য সচিব রাজেশ আগরওয়াল জানান, শুল্ক বাধা সত্ত্বেও মার্কিন বাজারে ভারতের রফতানি গতি বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে।

    চিনে রফতানি

    এদিকে, চিনেও ভারতের রফতানি নজরকাড়াভাবে বেড়েছে। নভেম্বরে চিনে রফতানি ৯০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে, যার প্রধান চালক ইলেকট্রনিক্স ও ইঞ্জিনিয়ারিং সামগ্রী। স্পেন, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (UAE) ও তানজানিয়ার মতো দেশেও রফতানি বৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে ভারতের। অর্থনীতিবিদদের মতে, ভারতের রফতানির এই স্থিতিস্থাপকতার নেপথ্যে রয়েছে একাধিক কারণ। ইলেকট্রনিক্স, ফার্মাসিউটিক্যালস ও কিছু খাদ্যপণ্যের ওপর শুল্ক ছাড় রফতানিকে সাহায্য করেছে। পাশাপাশি দুর্বল রুপির ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় পণ্য আরও প্রতিযোগিতামূলক হয়েছে (GDP Growth Rate)। এছাড়া, গত বছর লোহিত সাগর সংকটের জেরে বৈশ্বিক বাণিজ্যে ধাক্কা লাগায় তুলনামূলক কম ভিত্তির ওপর এবছর বৃদ্ধি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে (India)।

    রফতানি বাজার বৈচিত্র্যের ওপর জোর

    ভারত সরকারও রফতানি বাজার বৈচিত্র্যের ওপর জোর দিচ্ছে। ব্রিটেন ও ইউরোপীয় ফ্রি ট্রেড অ্যাসোসিয়েশন (EFTA) দেশগুলির সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর রয়েছে। পাশাপাশি মেক্সিকো এবং ওমানের সঙ্গেও আলোচনা চলছে। ইউরেশিয়া ও মধ্য এশিয়ার বাজারেও নতুন সুযোগ খুঁজছে নয়াদিল্লি। সব মিলিয়ে জিডিপি পূর্বাভাস ও রফতানি তথ্য ইঙ্গিত দিচ্ছে, শুল্ক চাপ, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা ও বদলে যাওয়া বাণিজ্য বাস্তবতার মধ্যেও ভারতের অর্থনীতি স্থিতিশীল বৃদ্ধির পথে রয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের দিকে (India) এগোতে গিয়ে অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও বৈদেশিক বাণিজ্য – দুই-ই অর্থনৈতিক সম্প্রসারণে ভরসা জোগাচ্ছে (GDP Growth Rate)।

  • Sri Sri Ravi Shankar: বার্লিনে হাড়হিম করা ঠান্ডায় বিদ্যুৎহীন মানুষের পাশে রবিশঙ্কর

    Sri Sri Ravi Shankar: বার্লিনে হাড়হিম করা ঠান্ডায় বিদ্যুৎহীন মানুষের পাশে রবিশঙ্কর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইউরোপজুড়ে তীব্র শৈত্যপ্রবাহের মধ্যেই মানবিকতার অনন্য নজির গড়লেন ভারতের প্রখ্যাত আধ্যাত্মিক গুরু শ্রী শ্রী রবিশঙ্কর (Sri Sri Ravi Shankar)। জার্মানির রাজধানী বার্লিনে (Berlin) সন্দেহভাজন চরম বামপন্থী নাশকতার জেরে ব্যাপক বিদ্যুৎ বিভ্রাটে ক্ষতিগ্রস্ত হাজার হাজার মানুষের পাশে দাঁড়ালেন তিনি। গত ৩ জানুয়ারি থেকে বার্লিনের একাধিক এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গিয়েছে, যার ফলে প্রায় ৫০ হাজার পরিবার চার দিন ধরে বিদ্যুৎ ও গরমের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে রয়েছে। উল্লেখ্য যে, বার্লিন শহরে বিদ্যুৎই মূলত ঘর গরম রাখার প্রধান মাধ্যম। এই পরিস্থিতিতে তাপমাত্রা নেমে যায় মাইনাস ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নীচে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাপনকে কার্যত দুর্বিষহ করে তোলে।

    বার্লিনবাসীর পাশে রবিশঙ্কর (Sri Sri Ravi Shankar)

    এই চরম পরিস্থিতিতে বার্লিনের আঞ্চলিক মেয়র ও জার্মান সংসদের এক সদস্যের সঙ্গে হাত মিলিয়ে শ্রী শ্রী রবিশঙ্কর বিদ্যুৎহীন বাসিন্দাদের মধ্যে খাবার বিতরণ করেন এবং তাঁদের পাশে দাঁড়ান। এক্স হ্যান্ডলে রবিশঙ্কর (Sri Sri Ravi Shankar) লেখেন, “বার্লিনে তীব্র শীতে চার দিন ধরে ৫০ হাজার পরিবার বিদ্যুৎ ও গরমের সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিল। এই পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক মেয়র ও জার্মান সংসদের সদস্যের সঙ্গে একযোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য খাবার বিতরণ করেছি এবং তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছি।” স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে খবর, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের পেছনে চরম বামপন্থী গোষ্ঠীর নাশকতার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত চলাকালীনই জরুরি পরিষেবা ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলিকে নিয়ে (Berlin) ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় নামানো হয়েছে বিশেষ দল (Sri Sri Ravi Shankar)।

    রবিশঙ্করের এই উদ্যোগ

    বিশ্বজুড়ে মানবিক কার্যক্রমের জন্য পরিচিত শ্রী শ্রী রবিশঙ্করের এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসিত হচ্ছে। তীব্র শীত ও অন্ধকারের মধ্যেও তাঁর উপস্থিতি এবং সহমর্মিতা বার্লিনের বহু বাসিন্দার কাছে আশার আলো হয়ে উঠেছে। জানা গিয়েছে, জার্মানির রাজধানী বার্লিনে ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ঘটনায় চরম মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। বামপন্থী চরমপন্থী গোষ্ঠীর নাশকতামূলক হামলায় প্রায় ৫০ হাজার পরিবার ও ২,২০০টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে (Sri Sri Ravi Shankar)। প্রচণ্ড শীতের মধ্যে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় তাপ, আলো, মোবাইল যোগাযোগ এবং জরুরি পরিষেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয় (Berlin)। শনিবার ভোরে দক্ষিণ-পশ্চিম বার্লিনের লিখটারফেল্ড বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছে টেলটো ক্যানালের ওপর থাকা একটি কেবল ব্রিজে অগ্নিসংযোগ করা হয়। হামলাকারীরা উচ্চ ও মধ্য ভোল্টেজের বিদ্যুৎ লাইনের নীচে দাহ্য বস্তু রেখে আগুন ধরিয়ে দেয়। পাশাপাশি ধাতব রড ব্যবহার করে তারে শর্ট সার্কিট ঘটানো হয়, যাতে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা বাড়ে এবং মেরামতের কাজ জটিল হয়ে ওঠে (Sri Sri Ravi Shankar)।

    হিটিং সিস্টেম সম্পূর্ণ অচল

    এই বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ফলে স্থানীয় জেলা-ভিত্তিক হিটিং সিস্টেম সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়ে। যদিও গ্যাস বা বিদ্যুৎকেন্দ্রের বর্জ্য তাপ থেকে উত্তাপ তৈরি করা হয়, কিন্তু সেই উত্তাপ ঘরে পৌঁছাতে বিদ্যুৎচালিত পাম্প ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার প্রয়োজন হয়। বিদ্যুৎ না থাকায় গোটা ব্যবস্থাই ভেঙে পড়েছে। গ্রিড অপারেটর স্ট্রমনেট্‌জ বার্লিন জানিয়েছে, রবিবারের মধ্যে বিদ্যুৎহীন বাড়ির সংখ্যা কমে প্রায় ২০ হাজারে নেমেছে। তবে পুরোপুরি বিদ্যুৎ পরিষেবা স্বাভাবিক হতে ৮ জানুয়ারি সন্ধ্যা পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। এই হামলার দায় স্বীকার করেছে বামপন্থী চরমপন্থী সংগঠন ভুলকানগ্রুপ (Vulkangruppe)। অনলাইনে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তারা (Berlin) দাবি করেছে, তারা ফসিল ফুয়েল অর্থনীতি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) বিস্তারকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালিয়েছে, যা নাকি জলবায়ু সংকটকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে (Sri Sri Ravi Shankar)।

    বিবৃতির বক্তব্য

    বিবৃতিতে তারা লিখেছে, “শক্তির লোভে পৃথিবীকে নিঃশেষ করা হচ্ছে, শোষণ, দহন, ধ্বংস ও ধর্ষণের শিকার হচ্ছে প্রকৃতি।” ওই গোষ্ঠীর দাবি, ওয়ানসি, জেহলেনডর্ফ ও নিকোলাসি এলাকার উন্নত অঞ্চলগুলিকে লক্ষ্য করেই হামলা চালানো হয়েছিল। তবে সাধারণ ও কম আয়ের মানুষের ভোগান্তির জন্য তারা দুঃখপ্রকাশও করেছে। উল্লেখ্য যে, এই গোষ্ঠী এর আগেও শক্তি, রেল ও তথ্য পরিকাঠামোয় হামলার জন্য পরিচিত। ২০২৪ সালে তারা বার্লিনের বাইরে একটি টেসলা কারখানায় হামলা চালিয়েছিল, যদিও টেসলা শুধুমাত্র বৈদ্যুতিক গাড়ি তৈরি করে (Berlin)। জার্মান কর্তৃপক্ষ এই ঘটনাকে “বামপন্থী সন্ত্রাসবাদী হামলা” হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ফেডারেল প্রসিকিউটর দফতর বুন্ডেসআনভাল্টশাফট সন্ত্রাসবাদ সংক্রান্ত তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তের আওতায় রয়েছে, জঙ্গি সংগঠনের সদস্যপদ, নাশকতা, অগ্নিসংযোগ এবং জনপরিষেবা ব্যাহত করার অভিযোগ (Sri Sri Ravi Shankar)।

    বার্লিনের মেয়রের বক্তব্য

    বার্লিনের মেয়র কাই ভেগনার বলেন, “সন্দেহভাজন বামপন্থী চরমপন্থীরা জেনে-বুঝেই মানুষের জীবন ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে, বিশেষ করে হাসপাতালের রোগী, প্রবীণ, শিশু ও পরিবারগুলির।” প্রচণ্ড ঠান্ডায় উত্তাপহীন অবস্থায় সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েছেন প্রবীণ ও দুর্বল মানুষেরা। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ৮০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা তাঁর ঠান্ডা, বিদ্যুৎহীন বাড়িতে অসুস্থ হয়ে মারা গিয়েছেন। কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ না থাকায় পয়ঃনিষ্কাশন পাম্প বন্ধ হয়ে যায়। ফলে বেসমেন্টে প্রায় ১৪ সেন্টিমিটার পর্যন্ত কাঁচা নর্দমার জল জমে যায়। বহু মানুষের ঘরের আসবাব ও ব্যক্তিগত সামগ্রী নষ্ট হয়েছে (Sri Sri Ravi Shankar)। পুলিশ ও জরুরি পরিষেবা কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে যাঁরা ঝুঁকিপূর্ণ জীবন-যাপন করছেন, তাঁদের খোঁজ নিচ্ছেন। অস্থায়ী উষ্ণ আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। জার্মান সেনাবাহিনীও জরুরি জেনারেটর ও লজিস্টিক সহায়তা দিচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় প্রায় ২০টি স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছে (Berlin)।

  • Sri Sri Ravi Shankar: বার্লিনে হাড়হিম করা ঠান্ডায় বিদ্যুৎহীন মানুষের পাশে রবিশঙ্কর

    Sri Sri Ravi Shankar: বার্লিনে হাড়হিম করা ঠান্ডায় বিদ্যুৎহীন মানুষের পাশে রবিশঙ্কর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইউরোপজুড়ে তীব্র শৈত্যপ্রবাহের মধ্যেই মানবিকতার অনন্য নজির গড়লেন ভারতের প্রখ্যাত আধ্যাত্মিক গুরু শ্রী শ্রী রবিশঙ্কর (Sri Sri Ravi Shankar)। জার্মানির রাজধানী বার্লিনে (Berlin) সন্দেহভাজন চরম বামপন্থী নাশকতার জেরে ব্যাপক বিদ্যুৎ বিভ্রাটে ক্ষতিগ্রস্ত হাজার হাজার মানুষের পাশে দাঁড়ালেন তিনি। গত ৩ জানুয়ারি থেকে বার্লিনের একাধিক এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গিয়েছে, যার ফলে প্রায় ৫০ হাজার পরিবার চার দিন ধরে বিদ্যুৎ ও গরমের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে রয়েছে। উল্লেখ্য যে, বার্লিন শহরে বিদ্যুৎই মূলত ঘর গরম রাখার প্রধান মাধ্যম। এই পরিস্থিতিতে তাপমাত্রা নেমে যায় মাইনাস ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নীচে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাপনকে কার্যত দুর্বিষহ করে তোলে।

    বার্লিনবাসীর পাশে রবিশঙ্কর (Sri Sri Ravi Shankar)

    এই চরম পরিস্থিতিতে বার্লিনের আঞ্চলিক মেয়র ও জার্মান সংসদের এক সদস্যের সঙ্গে হাত মিলিয়ে শ্রী শ্রী রবিশঙ্কর বিদ্যুৎহীন বাসিন্দাদের মধ্যে খাবার বিতরণ করেন এবং তাঁদের পাশে দাঁড়ান। এক্স হ্যান্ডলে রবিশঙ্কর (Sri Sri Ravi Shankar) লেখেন, “বার্লিনে তীব্র শীতে চার দিন ধরে ৫০ হাজার পরিবার বিদ্যুৎ ও গরমের সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিল। এই পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক মেয়র ও জার্মান সংসদের সদস্যের সঙ্গে একযোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য খাবার বিতরণ করেছি এবং তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছি।” স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে খবর, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের পেছনে চরম বামপন্থী গোষ্ঠীর নাশকতার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত চলাকালীনই জরুরি পরিষেবা ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলিকে নিয়ে (Berlin) ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় নামানো হয়েছে বিশেষ দল (Sri Sri Ravi Shankar)।

    রবিশঙ্করের এই উদ্যোগ

    বিশ্বজুড়ে মানবিক কার্যক্রমের জন্য পরিচিত শ্রী শ্রী রবিশঙ্করের এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসিত হচ্ছে। তীব্র শীত ও অন্ধকারের মধ্যেও তাঁর উপস্থিতি এবং সহমর্মিতা বার্লিনের বহু বাসিন্দার কাছে আশার আলো হয়ে উঠেছে। জানা গিয়েছে, জার্মানির রাজধানী বার্লিনে ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ঘটনায় চরম মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। বামপন্থী চরমপন্থী গোষ্ঠীর নাশকতামূলক হামলায় প্রায় ৫০ হাজার পরিবার ও ২,২০০টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে (Sri Sri Ravi Shankar)। প্রচণ্ড শীতের মধ্যে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় তাপ, আলো, মোবাইল যোগাযোগ এবং জরুরি পরিষেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয় (Berlin)। শনিবার ভোরে দক্ষিণ-পশ্চিম বার্লিনের লিখটারফেল্ড বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছে টেলটো ক্যানালের ওপর থাকা একটি কেবল ব্রিজে অগ্নিসংযোগ করা হয়। হামলাকারীরা উচ্চ ও মধ্য ভোল্টেজের বিদ্যুৎ লাইনের নীচে দাহ্য বস্তু রেখে আগুন ধরিয়ে দেয়। পাশাপাশি ধাতব রড ব্যবহার করে তারে শর্ট সার্কিট ঘটানো হয়, যাতে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা বাড়ে এবং মেরামতের কাজ জটিল হয়ে ওঠে (Sri Sri Ravi Shankar)।

    হিটিং সিস্টেম সম্পূর্ণ অচল

    এই বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ফলে স্থানীয় জেলা-ভিত্তিক হিটিং সিস্টেম সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়ে। যদিও গ্যাস বা বিদ্যুৎকেন্দ্রের বর্জ্য তাপ থেকে উত্তাপ তৈরি করা হয়, কিন্তু সেই উত্তাপ ঘরে পৌঁছাতে বিদ্যুৎচালিত পাম্প ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার প্রয়োজন হয়। বিদ্যুৎ না থাকায় গোটা ব্যবস্থাই ভেঙে পড়েছে। গ্রিড অপারেটর স্ট্রমনেট্‌জ বার্লিন জানিয়েছে, রবিবারের মধ্যে বিদ্যুৎহীন বাড়ির সংখ্যা কমে প্রায় ২০ হাজারে নেমেছে। তবে পুরোপুরি বিদ্যুৎ পরিষেবা স্বাভাবিক হতে ৮ জানুয়ারি সন্ধ্যা পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। এই হামলার দায় স্বীকার করেছে বামপন্থী চরমপন্থী সংগঠন ভুলকানগ্রুপ (Vulkangruppe)। অনলাইনে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তারা (Berlin) দাবি করেছে, তারা ফসিল ফুয়েল অর্থনীতি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) বিস্তারকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালিয়েছে, যা নাকি জলবায়ু সংকটকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে (Sri Sri Ravi Shankar)।

    বিবৃতির বক্তব্য

    বিবৃতিতে তারা লিখেছে, “শক্তির লোভে পৃথিবীকে নিঃশেষ করা হচ্ছে, শোষণ, দহন, ধ্বংস ও ধর্ষণের শিকার হচ্ছে প্রকৃতি।” ওই গোষ্ঠীর দাবি, ওয়ানসি, জেহলেনডর্ফ ও নিকোলাসি এলাকার উন্নত অঞ্চলগুলিকে লক্ষ্য করেই হামলা চালানো হয়েছিল। তবে সাধারণ ও কম আয়ের মানুষের ভোগান্তির জন্য তারা দুঃখপ্রকাশও করেছে। উল্লেখ্য যে, এই গোষ্ঠী এর আগেও শক্তি, রেল ও তথ্য পরিকাঠামোয় হামলার জন্য পরিচিত। ২০২৪ সালে তারা বার্লিনের বাইরে একটি টেসলা কারখানায় হামলা চালিয়েছিল, যদিও টেসলা শুধুমাত্র বৈদ্যুতিক গাড়ি তৈরি করে (Berlin)। জার্মান কর্তৃপক্ষ এই ঘটনাকে “বামপন্থী সন্ত্রাসবাদী হামলা” হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ফেডারেল প্রসিকিউটর দফতর বুন্ডেসআনভাল্টশাফট সন্ত্রাসবাদ সংক্রান্ত তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তের আওতায় রয়েছে, জঙ্গি সংগঠনের সদস্যপদ, নাশকতা, অগ্নিসংযোগ এবং জনপরিষেবা ব্যাহত করার অভিযোগ (Sri Sri Ravi Shankar)।

    বার্লিনের মেয়রের বক্তব্য

    বার্লিনের মেয়র কাই ভেগনার বলেন, “সন্দেহভাজন বামপন্থী চরমপন্থীরা জেনে-বুঝেই মানুষের জীবন ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে, বিশেষ করে হাসপাতালের রোগী, প্রবীণ, শিশু ও পরিবারগুলির।” প্রচণ্ড ঠান্ডায় উত্তাপহীন অবস্থায় সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েছেন প্রবীণ ও দুর্বল মানুষেরা। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ৮০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা তাঁর ঠান্ডা, বিদ্যুৎহীন বাড়িতে অসুস্থ হয়ে মারা গিয়েছেন। কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ না থাকায় পয়ঃনিষ্কাশন পাম্প বন্ধ হয়ে যায়। ফলে বেসমেন্টে প্রায় ১৪ সেন্টিমিটার পর্যন্ত কাঁচা নর্দমার জল জমে যায়। বহু মানুষের ঘরের আসবাব ও ব্যক্তিগত সামগ্রী নষ্ট হয়েছে (Sri Sri Ravi Shankar)। পুলিশ ও জরুরি পরিষেবা কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে যাঁরা ঝুঁকিপূর্ণ জীবন-যাপন করছেন, তাঁদের খোঁজ নিচ্ছেন। অস্থায়ী উষ্ণ আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। জার্মান সেনাবাহিনীও জরুরি জেনারেটর ও লজিস্টিক সহায়তা দিচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় প্রায় ২০টি স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছে (Berlin)।

  • Pakistan: অপারেশন সিঁদুর থামাতে আমেরিকার হাতে-পায়ে পড়েছিল পাকিস্তান! প্রকাশ্যে মার্কিন নথি

    Pakistan: অপারেশন সিঁদুর থামাতে আমেরিকার হাতে-পায়ে পড়েছিল পাকিস্তান! প্রকাশ্যে মার্কিন নথি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২৫ সালের মে মাসে ভারতের সামরিক অভিযান অপারেশন সিঁদুরের (Operation Sindoor) সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে এক নজিরবিহীন কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছিল পাকিস্তান (Pakistan)। মার্কিন সরকারি নথি থেকে জানা গিয়েছে, জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার জবাবে ভারতের সামরিক অভিযানের (অপারেশন সিঁদুর) থামাতে পাকিস্তান সরাসরি মার্কিন হস্তক্ষেপ দাবি করে। মার্কিন প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরে জমা দেওয়া সরকারি নথি অনুযায়ী, পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত এবং প্রতিরক্ষা অ্যাটাশে সব মিলিয়ে ৬০ জনেরও বেশি মার্কিন সরকারি কর্তা, নীতিনির্ধারক ও প্রভাবশালী মধ্যস্থতাকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। উদ্দেশ্য ছিল, যেকোনও উপায়ে, যেনতেন প্রকারে ভারতের সামরিক অভিযান বন্ধ করতে ওয়াশিংটনের চাপ সৃষ্টি করা।

     কী বলছে ফাঁস হওয়া নথি? (Pakistan)

    নথি অনুযায়ী, পাকিস্তানের এই কূটনৈতিক প্রচারাভিযানের লক্ষ্য ছিল, হোয়াইট হাউস ও মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরা, মার্কিন কংগ্রেসের সদস্যরা, পেন্টাগনের প্রতিরক্ষা কর্তারা, মার্কিন বিদেশ দফতর (স্টেট ডিপার্টমেন্ট) এবং প্রভাবশালী মার্কিন সাংবাদিক ও নীতিবিশেষজ্ঞরা। এই তৎপরতার মূল উদ্দেশ্য ছিল, ভারতের সামরিক পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ফেলে সীমিত বা বন্ধ করে দেওয়া। সংবাদ মাধ্যমে (Pakistan) প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মার্কিন সরকারি নথিতে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে যে পাকিস্তান ভারতীয় সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে সরাসরি আমেরিকার চেয়ে কার্যত হাতে-পায়ে পড়ে গিয়েছিল। কূটনৈতিক ভাষায় বলা হলেও, বার্তা ছিল পরিষ্কার, ভারতের অভিযান যেভাবেই হোক থামাতে হবে (Operation Sindoor)।

    কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের বক্তব্য

    কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা প্রমাণ করে যে ভারতের সন্ত্রাসবিরোধী কঠোর অবস্থানের পর পাকিস্তান আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেকে কোণঠাসা মনে করছে। বিশেষত, দ্বিপাক্ষিক ইস্যুতে তৃতীয় পক্ষকে টানার পাকিস্তানি প্রবণতা ফের প্রকাশ্যে চলে এসেছে।ভারত সরকার অবশ্য আগেই স্পষ্ট করেছে যে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপ সম্পূর্ণ অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও আত্মরক্ষামূলক প্রয়াস, এবং এতে কোনও বিদেশি হস্তক্ষেপের প্রশ্ন নেই (Pakistan)। মার্কিন ফরেন এজেন্টস রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্টের আওতায় জমা দেওয়া এই নথিগুলিতে বলা হয়েছে, ওই সময়ের মধ্যে পাকিস্তানি প্রতিনিধিরা অন্তত ৫০টিরও বেশি বৈঠক করেছেন বা বৈঠকের অনুরোধ জানিয়েছেন প্রভাবশালী মার্কিন কংগ্রেস সদস্য ও শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে (Operation Sindoor)।

    পাকিস্তানের এই লবিং

    জানা গিয়েছে, পাকিস্তানের এই লবিং অভিযানে কেবল কাশ্মীর ইস্যুই নয়, আলোচনায় উঠে এসেছে, দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, কাশ্মীর সংকট, বিরল খনিজ ও রেয়ার আর্থ এলিমেন্টস, পাকিস্তান–মার্কিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ। অনেক ক্ষেত্রেই পাক প্রতিনিধিরা প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার ও ব্যাকগ্রাউন্ড ব্রিফিংয়ের আবেদনও করেছেন (Pakistan)। এই নথির একাধিক এন্ট্রিতে পাকিস্তানের এই কার্যকলাপকে সরাসরি “অনগোয়িং রিপ্রেজেন্টেশন অফ পাকিস্তান” বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ই-মেল, ফোন এবং সরাসরি বৈঠকের মাধ্যমে ধারাবাহিক যোগাযোগ বজায় রাখার বিষয়টি এই লবিং অভিযানের তীব্রতা ও পরিকল্পিত চরিত্রকেই স্পষ্ট করে (Operation Sindoor)। রিপোর্টে আরও দাবি করা হয়েছে, এই লবিংয়ের মূল লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রকে কূটনৈতিকভাবে সক্রিয় করে ভারতের সামরিক প্রতিক্রিয়াকে নরম করা। ওয়াশিংটনের হস্তক্ষেপ নিশ্চিত করেই ইসলামাবাদ ভারতের চাপ মোকাবিলায় কৌশলগত সুবিধা নিতে চেয়েছিল বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।

    দ্রুত প্রভাব বিস্তারের লক্ষ্য

    এই তথ্য প্রকাশ্যে আসার পরেই আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে, সংঘর্ষ চলাকালীন এমন সক্রিয় লবিং কতটা ন্যায্য?, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় বিদেশি প্রভাব কতটা গভীর? ভারত–পাকিস্তান সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে এই লবিং অভিযানের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে এখন আলোচনা তুঙ্গে (Pakistan)। জানা গিয়েছে, মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ মহলে দ্রুত প্রভাব বিস্তারের লক্ষ্যে পাকিস্তান গত কয়েক বছরে ব্যাপক লবিং করেছে। নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইসলামাবাদ প্রায় ছ’টি ওয়াশিংটনভিত্তিক লবিং সংস্থার সঙ্গে চুক্তি করেছিল, যার আর্থিক মূল্য বছরে ৫০ লাখ মার্কিন ডলারের কাছাকাছি (Operation Sindoor)। এই লবিং প্রচেষ্টার লক্ষ্য ছিল পূর্বাতন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সঙ্গে দ্রুত ও সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই কৌশলের ফল খুব দ্রুতই স্পষ্ট হয়ে ওঠে (Pakistan)।

    লবিং কার্যকলাপ

    নিউ ইয়র্ক টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তান সেইডেন ল এলএলপির সঙ্গে একটি চুক্তি করে, যারা জ্যাভেলিন অ্যাডভাইসরসের মাধ্যমে লবিং কার্যকলাপ পরিচালনা করছিল। এই চুক্তি কার্যকর হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই হোয়াইট হাউসে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরকে আতিথ্য দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প (Operation Sindoor)। এই বৈঠককে ঘিরে কূটনৈতিক মহলে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এটি শুধুমাত্র সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়, বরং পাকিস্তানের সুপরিকল্পিত কূটনৈতিক ও লবিং প্রচেষ্টারই প্রত্যক্ষ ফল। বিশ্লেষকদের দাবি, দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান তার অবস্থান মজবুত করতে এবং মার্কিন প্রশাসনের সমর্থন পেতে এই ধরনের লবিং কৌশলকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। তবে হোয়াইট হাউস বা পাকিস্তান সরকারের তরফে এই বৈঠকের বিষয়ে (Operation Sindoor) বিস্তারিত কোনও সরকারি বিবৃতি এখনও প্রকাশ করা হয়নি (Pakistan)।

  • Assam: বাংলাদেশের জেহাদি মডিউলের পর্দাফাঁস অসম পুলিশের

    Assam: বাংলাদেশের জেহাদি মডিউলের পর্দাফাঁস অসম পুলিশের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের জেহাদি মডিউলের (Jihadi Module) পর্দাফাঁস করল অসম পুলিশ। মঙ্গলবার অসমের (Assam) মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এ কথা জানান। এক্স হ্যান্ডেলে করা পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যে আত্মগোপন করে থাকা জেহাদিদের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। তিনি লিখেছেন, “কয়েকদিন আগেই অসম পুলিশ একটি জেহাদি মডিউলের পর্দা ফাঁস করেছে। রাজ্যে অনেক জেহাদি লুকিয়ে রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে।”

    ভিডিও বার্তা (Assam)

    ওই পোস্টের সঙ্গে একটি ভিডিও বার্তাও দিয়েছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী। সেই বার্তায় তিনি জানান, জেহাদিদের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “অসমে জেহাদিরা আছে, এবং আমরা গত ১০ বছর ধরে নিয়মিত এর প্রমাণ পাচ্ছি। রাজ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি উন্নত না হওয়া পর্যন্ত আমরা এই ধরনের অভিযান চালিয়ে যাব। অসমের মুখ্যমন্ত্রীর এই পোস্ট থেকেই জানা গিয়েছে, নিষিদ্ধ জামাত-উল-মুজাহিদিন বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত। এই বাংলাদেশভিত্তিক জেহাদি মডিউলটি অসমের যুবকদের মৌলবাদী মতাদর্শে উদ্বুদ্ধ করছিল। তারা পুবা-আকাশের মতো এনক্রিপ্টেড প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে নিয়োগ, মতাদর্শ প্রচার এবং জঙ্গি কার্যকলাপে অর্থায়ন করত।

    মুখ্যমন্ত্রীর পোস্ট

    মুখ্যমন্ত্রীর করা পোস্টে এও জানানো হয়েছে, অসম পুলিশ বাংলাদেশ থেকে হ্যান্ডলার এবং স্থানীয় অপারেটিভদের নিয়ে আন্তঃসীমান্ত জঙ্গি সংযোগ উন্মোচন করেছে (Assam)। এসটিএফ এবং অসম পুলিশের দ্রুত অভিযানে অসম ও ত্রিপুরাজুড়ে বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। এটি একটি বড় নিরাপত্তা হুমকি এড়াতে সাহায্য করেছে (Jihadi Module)।

    প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে অসম সরকার রাজ্যে উগ্রপন্থার প্রচার বন্ধ করতে জেএমবি, আনসারুল্লাহ বাংলা টিম, আনসার আল ইসলাম / প্রো-একিউআইএস এবং অন্য সহযোগী গোষ্ঠীর মতো জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত যে কোনও মৌলবাদী বা জেহাদি উপাদানের প্রকাশ, প্রচার এবং দখল নিষিদ্ধ করেছিল। এতে আরও বলা হয়েছে, অসম পুলিশ স্পেশাল ব্রাঞ্চ, ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট, জেলা সিনিয়র পুলিশ সুপার, সাইবার ক্রাইম ইউনিট এবং সমস্ত আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এই বিজ্ঞপ্তির কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করবে (Assam)। এবং আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে প্রযোজ্য আইনের অধীনে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেবে। এর মধ্যে রয়েছে গোয়েন্দা তথ্য, সাইবার প্যাট্রোলিং রিপোর্ট এবং অসম পুলিশ ও স্পেশাল টাস্কফোর্স, অসমের সাম্প্রতিক তদন্তে ওই নিষিদ্ধ সংগঠনগুলির সঙ্গে যুক্ত মৌলবাদী কিংবা জেহাদি সাহিত্য প্রকাশনা, নথি এবং ডিজিটাল প্রচার সামগ্রীর (Jihadi Module) ক্রমাগত প্রচার, দখল, বিতরণ এবং ডিজিটাল ট্রান্সমিশনও (Assam)।

  • S Jaishankar: “সেখানকার মানুষ যেন সুরক্ষিত থাকেন”, ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ ভারতের

    S Jaishankar: “সেখানকার মানুষ যেন সুরক্ষিত থাকেন”, ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভেনেজুয়েলার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি (Venezuela Crisis) নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করল ভারত। সে দেশের ‘অপহৃত’ প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এখন নিউ ইয়র্কের জেলে বন্দি রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে মাদক পাচার ও সন্ত্রাস সম্পর্কিত অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলা চলছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর (S Jaishankar) একটি আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে বলেন, “ভেনেজুয়েলার জনগণের সুরক্ষা ও কল্যাণই এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।” তিনি বলেন, “আমরা এখানে সব পক্ষকে শান্তিপূর্ণভাবে বসে পরিস্থিতির সমাধানে পৌঁছানোর আহ্বান জানাই, যাতে ভেনেজুয়েলার মানুষ সুরক্ষিত থাকেন।”

    কী বললেন জয়শঙ্কর? (S Jaishankar)

    জয়শঙ্কর আরও বলেন, “ভারতের সঙ্গে ভেনেজুয়েলার সম্পর্ক সব সময় ভালো। তাই ওই দেশটি নিশ্চয়ই সবসময় ভারতের কাছ থেকে ইতিবাচক সহযোগিতাই আশা করে।” চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি ভোরে আমেরিকার সশস্ত্র বাহিনী এবং স্পেশাল অপারেশন ইউনিট ‘ডেল্টা ফোর্স’ ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে আমেরিকায় নিয়ে যায়। ম্যানহাটানে ফেডারেল আদালতে হাজিরও করা হয় ওই দম্পতিকে। আদালতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিজেকে নির্দোষ বলেও দাবি করেন। বক্তব্য শুরু করেন “আমি আমার দেশের প্রেসিডেন্ট” বলে (Venezuela Crisis)।

    নির্দোষ, দাবি মাদুরোর 

    আদালতে স্প্যানিশ ভাষায় দেওয়া বক্তব্যে প্রেসিডেন্ট নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, “আমি নির্দোষ, দোষী নই এবং আমি একজন সৎ মানুষ।” বিচারকের সামনে তিনি স্পষ্টভাবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন। প্রসঙ্গত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই নৈশ অভিযানে ভেনেজুয়েলার এবং কিউবা নিরাপত্তা বাহিনীর অন্তত ২৪ জন নিহত হয়েছেন বলে খবর। কিছু মার্কিন সৈনিকও জখম হয়েছেন (S Jaishankar)। জয়শঙ্কর সাফ জানিয়ে দেন, ভারতের উদ্বেগ লিডারশিপ পরিবর্তনের নৈতিক দিক ও জনগণের নিরাপত্তার প্রতি প্রাধান্য দিতে হবে। আন্তর্জাতিক স্বার্থের জন্য যে কোনও পদক্ষেপে মানুষের কল্যাণই মূল ভিত্তি হওয়া উচিত (Venezuela Crisis)।

    মামলার পরবর্তী শুনানি

    ১৭ মার্চ এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে (S Jaishankar)। এদিকে, নেতৃত্ব সংকট মোকাবিলায় ভেনেজুয়েলার শীর্ষ আদালতের নির্দেশে দেশের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ (Delcy Rodriguez) অস্থায়ীভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। রাষ্ট্রপ্রধানের পদ শূন্য হয়ে পড়ায় সৃষ্ট প্রশাসনিক শূন্যতা পূরণ করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে আদালতের একটি সূত্র। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ ভেনেজুয়েলার বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হতে পারে (Venezuela Crisis)। ওই দেশটির পরিস্থিতির ওপর আন্তর্জাতিক মহলের নজরও রয়েছে (S Jaishankar)।

  • PM Modi: হাওড়া নয়, ১৮ তারিখে প্রধানমন্ত্রীর সভা হবে সিঙ্গুরে?

    PM Modi: হাওড়া নয়, ১৮ তারিখে প্রধানমন্ত্রীর সভা হবে সিঙ্গুরে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তৃণমূলের ব্যাপক আন্দোলনের জেরে ১৮ বছর আগে সিঙ্গুর থেকে পাততাড়ি গুটিয়ে চলে গিয়েছিলেন টাটারা। টাটার ফেলে যাওয়া সেই জমিতে শিল্প হয়নি (PM Modi)। আবাদও ভালো হয় না। এহেন অবহেলিত সিঙ্গুরেই (Singur) ১৮ জানুয়ারি জনসভা করতে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। চলতি বছরেই রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার নির্বাচন। অঙ্গ এবং কলিঙ্গ জয়ের পর এবার পদ্মশিবিরের শ্যেন দৃষ্টি বঙ্গে। বাংলায় পদ্ম-সরকার গড়তে ১৭ জানুয়ারি মালদার ইংরেজবাজারে জনসভা করতে আসছেন প্রধানমন্ত্রী। তার পরের দিনই তিনি সভা করবেন সেই সিঙ্গুরেই, যে সিঙ্গুর একটা সময় হয়ে উঠেছিল চায়ে পে চর্চা। ঘটনাচক্রে প্রধানমন্ত্রী যেদিন পা রাখবেন সিঙ্গুরের মাটিতে, সেই দিনটিও ১৮ জানুয়ারি, ঠিক যত বছর আগে সিঙ্গুর থেকে চিরকালের জন্য চলে গিয়েছিলেন টাটারা। বিজেপি সূত্রে খবর, এদিনই সিঙ্গুর থেকে হুগলি-পুরুলিয়া লোকালের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। সরকারি এই অনুষ্ঠানের পরেই জনসভা হবে আক্ষরিক অর্থেই ‘সর্বহারা’ সিঙ্গুরে।

    মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অ্যান্ড কোং-এর সরকার (PM Modi)

    বাম জমানার অবসানের পর রাজ্যে টানা দেড় দশক ধরে ক্ষমতায় রয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অ্যান্ড কোং-এর তৃণমূল কংগ্রেস সরকার। তার পরেও ঘোচেনি রাজ্যের হা-শিল্প দশা। উল্টে একের পর এক চালু কারখানায় পড়েছে ইয়া বড় বড় সব তালা। সম্প্রতি তালা ঝুলেছে বেলঘরিয়ার প্রবর্তক জুটমিলেও। রাতারাতি কর্মহীন হয়ে পড়েছেন কয়েক হাজার জুটমিল শ্রমিক-কর্মী। মিল খুলতে আন্দোলনেও নেমেছেন তাঁরা (PM Modi)। তাতে অবশ্য কোনও কাজ হয়নি। মিলের গেটে ঝুলছে তালা, পাশেই সাঁটানো রয়েছে কারখানা কর্তৃপক্ষের নোটিশ (Singur)।

    তৃণমূল নেত্রীর আশ্বাস

    করোনা অতিমারি পর্বে যখন তৃতীয়বারের জন্য সরকার গড়েছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সেই সময় তিনি বলেছিলেন, তাঁর এবারের প্রথম লক্ষ্য হল শিল্প। সেই শিল্প আনতেই তিনি ছুটে গিয়েছিলেন স্পেনে। ফি বছর নিয়ম করে আয়োজন করা হয়েছে বিশ্ব বাংলা বাণিজ্য সম্মেলনেরও। সেই সম্মেলনে মোটা অঙ্কের লগ্নি করার পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ কর্মসংস্থান হবে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি। তার পরেও রাজ্যে একটা সেফটিপিনের কারখানাও হয়নি বলে অভিযোগ। প্রতিটি সম্মেলনের সঙ্গে সঙ্গেই উঠে এসেছে, সেই অমোঘ প্রশ্নটি, সরকারি কোষাগারের গুচ্ছের টাকা খরচ করে যে বাণিজ্য সম্মেলনের আয়োজন করা (PM Modi) হয়, সেই সব সম্মেলনে যেসব প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, তার কী হল? সিঙ্গুরের জমিতেই বা কোন শিল্প হল? শস্য-শ্যামলাই বা হল না কেন সিঙ্গুরের টাটা অধিগৃহীত জমি(পরে অবশ্য জমি ফেরত দেওয়া হয়েছে মালিকদের)? এহেন পরিস্থিতিতেই সিঙ্গুরে (Singur) সভা করবেন প্রধানমন্ত্রী।

    সিঙ্গুরকে হাতিয়ার!

    রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, রাজ্যের শাসক দল যখন বিজেপির বিরুদ্ধে এসআইআর-ধর্ম কিংবা বিভেদের রাজনীতির কটাক্ষ-বাণ হানবে, ঠিক তখনই সিঙ্গুরকে হাতিয়ার করতে পারে বিজেপি। তবে ওই জনসভায় প্রধানমন্ত্রী ঠিক কী বলেন, সেদিকেই তাকিয়ে সিঙ্গুরের পাশাপাশি রাজ্যের রাজনীতির কারবারিরাও। বিজেপি সূত্রে খবর, প্রথমে ঠিক ছিল ১৮ তারিখে কলকাতা লাগোয়া (PM Modi) হাওড়ায় জনসভা করবেন প্রধানমন্ত্রী। পরে বঙ্গ বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েই ঠিক হয় হাওড়ার বদলে সিঙ্গুরে হবে প্রধানমন্ত্রীর জনসভা (Singur)। এই মর্মে বঙ্গ বিজেপির তরফে প্রস্তাব দেওয়া হয় প্রধানমন্ত্রীর দফতরকে। তাঁকে জানানো হয়েছে, হাওড়ার পরিবর্তে সিঙ্গুরে প্রধানমন্ত্রী সভা করলে তাতে আদতে লাভবান হবে বিজেপিই। সেই কারণেই ঠাঁই বদল হতে চলেছে প্রধানমন্ত্রীর জনসভার।

    হা-কর্মসংস্থান এবং শিল্পায়নের দশা

    আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে বঙ্গ বিজেপি তৃণমূলের বিরুদ্ধে হাতিয়ার করছে রাজ্যে হা-কর্মসংস্থান এবং শিল্পায়নের দশাকে। সংসদের শীতকালীন অধিবেশনেও রাজ্যের চাকরি এবং নয়া কর্মসংস্থান তৈরির খতিয়ান তুলে ধরে তৃণমূলের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছিলেন বিজেপি সাংসদরা। সম্প্রতি রাজ্যের শিল্পায়নের খতিয়ান তুলে ধরে শাসক দলের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়েছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই শিল্পায়ন এবং কর্মসংস্থানই রাজ্যের শাসক দলের বিরুদ্ধে হতে চলেছে বিজেপির তুরুপের তাস। সম্প্রতি বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যকে পাশে বসিয়ে শুভেন্দু বলেছিলেন (Singur), “বিজিবিএস আয়োজনেই এখনও পর্যন্ত (PM Modi) রাজ্যে খরচ হয়েছে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা। উপহার, ভাষণ, খাওয়া-দাওয়ায়ই এই টাকা খরচ। সেই তুলনায় এ রাজ্যে লগ্নির পরিমাণ জিরো। বিজিবিএস আজ একটা ফ্লপ শো।”

    রাজনৈতিক মহলের একটা বড় অংশের মতে, যে সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামকে হাতিয়ার করে বামেদের হটিয়ে রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছিল তৃণমূল, সেভাবেই সিঙ্গুরে জনসভা করে বিজেপি বুনে দিতে পারে টাটাকে ফেরানোর স্বপ্নের বীজ। যে স্বপ্ন এখনও দেখেন সিঙ্গুরের বাসিন্দারা। যাঁরা এক সময় তৃণমূল নেতাদের মগজধোলাইয়ের জেরে শিল্পের বিপক্ষে গিয়ে বিরুদ্ধাচরণ করেছিলেন টাটার কারখানার, তাঁরাই এখন চাইছেন সিঙ্গুরের মাটিতে ফিরুক টাটারা। শিল্পই হোক সিঙ্গুরে (PM Modi)।

  • JNU: জেএনইউ ক্যাম্পাসে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে আপত্তিকর স্লোগান, অভিযোগ দায়ের বিশ্ববিদ্যালয়ের

    JNU: জেএনইউ ক্যাম্পাসে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে আপত্তিকর স্লোগান, অভিযোগ দায়ের বিশ্ববিদ্যালয়ের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় (JNU) ক্যাম্পাসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে আপত্তিকর স্লোগান দেওয়ার ঘটনায় অভিযোগ দায়ের করার অনুরোধ জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেএনইউয়ের চিফ সিকিউরিটি অফিসার বসন্ত কুঞ্জ (নর্থ) থানার স্টেশন হাউস অফিসারকে একটি চিঠিও পাঠিয়েছেন। চিঠিতে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ৫ জানুয়ারি রাত আনুমানিক ১০টা নাগাদ, জেএনইউ ক্যাম্পাসের সবরমতী হস্টেলের বাইরে একটি কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এই কর্মসূচিটি সংগঠিত করে জেএনইউ স্টুডেন্টস ইউনিয়নের (JNUSU) সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন পড়ুয়া।

    আইনানুগ ব্যবস্থা (JNU)

    বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে খবর, ২০২০ সালের ৫ জানুয়ারি জেএনইউ ক্যাম্পাসে সংঘটিত হিংসার ষষ্ঠ বার্ষিকী পালন করার উদ্দেশ্যে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল। অনুষ্ঠানের নাম দেওয়া হয়েছিল “এ নাইট অফ রেজিস্ট্যান্স উইথ গেরিলা ধাবা”। অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই কর্মসূচির আড়ালে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে আপত্তিকর এবং উসকানিমূলক কিছু স্লোগানও দেওয়া হয়, যা ক্যাম্পাসের শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করে। এই ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশকে হস্তক্ষেপ করার অনুরোধ জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ (JNU)।

    উসকানিমূলক স্লোগান

    ঘটনাটি নিয়ে পুলিশের তরফে তদন্ত শুরু হতে পারে বলে সূত্রের খবর (PM Modi)। চিঠিতে এও বলা হয়েছে, প্রাথমিকভাবে ওই অনুষ্ঠানটি একটি নির্দিষ্ট বার্ষিকী পালনের উদ্দেশ্যে আয়োজন করা হয়েছিল। এতে ৩০ থেকে ৩৫ জন ছাত্রছাত্রী উপস্থিত ছিলেন। যাঁদের নাম চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন, অদিতি মিশ্র, গোপিকা বাবু, সুনীল যাদব, দানিশ আলি, সাদ আজমি, মেহবুব ইলাহি, কনিষ্ক, পাকিজা খান, শুভম-সহ আরও কয়েকজন। চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, উমর খালিদ ও শরজিল ইমামের জামিন সংক্রান্ত মামলায় সুপ্রিম কোর্টের রায় ঘোষণার পরেই অনুষ্ঠানের প্রকৃতি ও সুর বদলে যায়। সেই সময় কিছু ছাত্রছাত্রী অত্যন্ত আপত্তিকর, উসকানিমূলক এবং জ্বালা ধরানো ধরনের স্লোগান দিতে শুরু করেন (JNU)।

    বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মত

    বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মতে, এই ঘটনা সুপ্রিম কোর্টের রায়ের সরাসরি অবমাননা। চিঠিতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, এই (PM Modi) ধরনের স্লোগান, গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়, জেএনইউয়ের কোড অফ কন্ডাক্ট লঙ্ঘন করে এবং ক্যাম্পাসের শান্তি, শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করতে পারে। ওই চিঠিতেই দাবি করা হয়েছে, স্লোগানগুলি ছিল শুনতে পাওয়া যায় এমন, ইচ্ছাকৃত এবং বারবার উচ্চারিত। অর্থাৎ, এটি কোনও তাৎক্ষণিক বা আবেগতাড়িত প্রতিক্রিয়া নয়, বরং সচেতন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আচরণ। এই ধরনের ব্যবহার বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌহার্দ্যপূর্ণ শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ এবং প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলার প্রতি প্রকাশ্য অবজ্ঞা। চিঠিতে জানানো হয়েছে, ঘটনার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা বিভাগের আধিকারিকরা ঘটনাস্থলেই উপস্থিত ছিলেন এবং পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছিলেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার প্রাসঙ্গিক ধারায় এই ঘটনার বিষয়ে এফআইআর দায়ের করার অনুরোধ জানানো হয়েছে (JNU)।

    উমর খালিদ ও শরজিল ইমামের জামিনের আবেদন খারিজ

    চিঠি থেকেই জানা গিয়েছে, সুপ্রিম কোর্ট উমর খালিদ ও শরজিল ইমামের জামিনের আবেদন খারিজ করার পর, ক্যাম্পাসে বামপন্থী ছাত্রদের একাংশের তরফে একাধিক উসকানিমূলক স্লোগান দেওয়া হয়। স্লোগানগুলি দিল্লির হিন্দু-বিরোধী দাঙ্গার বৃহত্তর ষড়যন্ত্র মামলার প্রেক্ষিতে দেওয়া হয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে, জেএনইউয়ে এই স্লোগান দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এবার আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংশ্লিষ্ট ঘটনা গণতান্ত্রিক ভিন্নমতের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং এটি জেএনইউয়ের (PM Modi) আচরণবিধির স্পষ্ট লঙ্ঘন। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ঘটনার বিষয়টি কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছেন। প্রশাসনের উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ এই ঘটনার ওপর কড়া নজর রেখেছে এবং তদন্ত প্রক্রিয়ায় পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে (JNU)।

    জেএনইউ প্রশাসন আরও জানিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিকিউরিটি ব্রাঞ্চ পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় রেখে তদন্তে সহযোগিতা করবে। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, জেএনইউ সবসময় গণতান্ত্রিক আলোচনার পক্ষে থাকলেও, শৃঙ্খলাভঙ্গ বা আচরণবিধি লঙ্ঘন (PM Modi) কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না (JNU)।

  • Chenab Hydropower: চেনাব নদীতে একের পর এক বাঁধ, প্রমাদ গুণছে পাকিস্তান

    Chenab Hydropower: চেনাব নদীতে একের পর এক বাঁধ, প্রমাদ গুণছে পাকিস্তান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের (Pakistan) জলজীবনরেখায় ভারতের চাপ আর কেবল কৌশলগত ধারণায় সীমাবদ্ধ নেই। জম্মু ও কাশ্মীরের (Chenab Hydropower) পাহাড়ি অঞ্চলে সেই পরিকল্পনা এখন বাস্তব রূপ নিতে শুরু করেছে।

    চারটি গুরুত্বপূর্ণ জলবিদ্যুৎ প্রকল্প (Chenab Hydropower)

    স্পষ্ট রাজনৈতিক ও কৌশলগত বার্তা দিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার চেনাব নদীর অববাহিকায় চারটি গুরুত্বপূর্ণ জলবিদ্যুৎ প্রকল্প দ্রুত সম্পন্ন করার কড়া নির্দেশ জারি করেছে। সরকারি সূত্রে খবর, পাকাল দুল (Pakal Dul) এবং কিরু (Kiru) জলবিদ্যুৎ প্রকল্প দু’টি ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই চালু করতে বলা হয়েছে। ক্বার (Kwar) প্রকল্পটি ২০২৮ সালের মার্চের মধ্যে সম্পূর্ণ করার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। আর কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ র‍্যাটলে (Ratle) বাঁধের নির্মাণ কাজও দ্রুত গতিতে শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে রয়েছে কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎমন্ত্রী মনোহর লাল খট্টরের সাম্প্রতিক জম্মু ও কাশ্মীর সফর। টানা দু’দিন ধরে তিনি চেনাব নদী সংলগ্ন একাধিক বাঁধ প্রকল্প সরেজমিনে পরিদর্শন করেন এবং প্রকল্পের কাজ কতদূর এগিয়েছে, তা খতিয়ে দেখেন। সূত্রের খবর, ওই পরিদর্শনের সময়ই তিনি স্পষ্ট করে দেন, এবার আর সময়সীমা নিয়ে কোনও শিথিলতা বরদাস্ত করা হবে না।

    পাকিস্তানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলসম্পদ

    বিশেষজ্ঞদের মতে, চেনাব (Chenab Hydropower) নদী পাকিস্তানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জলসম্পদ। ভারতের এই দ্রুত বাঁধ নির্মাণ এবং জলবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন ইসলামাবাদের ওপর ভবিষ্যতে বড় কৌশলগত চাপ তৈরি করতে পারে। দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে জল এখন যে একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হয়ে উঠছে, ভারতের এই পদক্ষেপ তারই ইঙ্গিত (Pakistan)। চেনাব নদী সিন্ধু অববাহিকার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা পাকিস্তানের জলনির্ভর অর্থনীতির মূল ভিত্তি। পাকিস্তানের মোট জলসম্পদের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ আসে সেই নদীগুলি থেকে, যেগুলি ভারতের ওপর দিয়ে গিয়ে পাকিস্তানে প্রবেশ করেছে। এই সিন্ধু অববাহিকার ওপর নির্ভর করেই পাকিস্তানের কৃষি ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে। দেশটির মোট কৃষিকাজের ৯০ শতাংশেরও বেশি এই অববাহিকার জলের ওপর নির্ভরশীল। শুধু তাই নয়, পাকিস্তানের প্রায় সব সম্পূর্ণ বাঁধ ও খাল নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে এই অববাহিকাকে কেন্দ্র করেই (Chenab Hydropower)।

    ৯ জনই এমন জল ব্যবহার করেন

    বলতে গেলে, পাকিস্তানের প্রতি ১০ জন নাগরিকের মধ্যে ৯ জনই এমন জল ব্যবহার করেন, যা ভারতের ওপর দিয়ে বয়ে যায়। এ থেকেই স্পষ্ট হয়, কেন চেনাব নদী সংক্রান্ত ভারতের প্রতিটি পদক্ষেপ পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, চেনাব বা সিন্ধু অববাহিকা নিয়ে যে কোনও সিদ্ধান্ত দক্ষিণ এশিয়ার জল নিরাপত্তা, কৃষি উৎপাদন এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে। তাই বিষয়টি কেবল (Pakistan) শক্তি উৎপাদনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে কৌশলগত ও কূটনৈতিক গুরুত্বও বহন করছে (Chenab Hydropower)। চেনাব নদী অববাহিকায় ভারতের জলবিদ্যুৎ কৌশলে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। জম্মু ও কাশ্মীরের কিস্তওয়ার জেলায় অবস্থিত পাকাল দুল জলবিদ্যুৎ প্রকল্পকে ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে চালু করার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্র। এই প্রকল্পটিই চেনাব নদীর অববাহিকায় ভারতের সবচেয়ে বড় জলবিদ্যুৎ প্রকল্প।

    কৌশলগত গুরুত্ব

    ১,০০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন পাকাল দুল প্রকল্পটি শুধু উৎপাদন ক্ষমতার দিক থেকেই নয়, কৌশলগত গুরুত্বেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ১৬৭ মিটার উচ্চতার এই বাঁধটি বর্তমানে ভারতের সর্বোচ্চ বাঁধ, এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এটি ভারতের প্রথম জলাধারভিত্তিক (storage) প্রকল্প, যা এমন একটি নদীর ওপর তৈরি হয়েছে, যার জল গড়ায় পাকিস্তানেও (Chenab Hydropower)। চেনাব নদীর একটি উপনদীর ওপর নির্মিত এই প্রকল্পটির উদ্বোধন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, ২০১৮ সালের মে মাসে। বর্তমানে সিন্ধু জলচুক্তি (Indus Waters Treaty) কার্যত স্থগিত অবস্থায় থাকায়, পাকাল দুল প্রকল্প দ্রুত চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র (Pakistan)। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকল্পটি চালু হলে ভারত শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনই নয়, জলপ্রবাহের সময় ও নিয়ন্ত্রণে সক্ষমতা অর্জন করবে, যা দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তানের উদ্বেগের কারণ (Chenab Hydropower)। পাকাল দুলের পাশাপাশি একই জেলার আর এক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প কিরু জলবিদ্যুৎ প্রকল্পকেও একই সময়ের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    কেন্দ্রের সাফ কথা

    চেনাব নদীর ওপর নির্মিত ১৩৫ মিটার উঁচু কিরু বাঁধটি একটি রান-অফ-দ্য-রিভার প্রকল্প হলেও, এর কৌশলগত গুরুত্ব কম নয়। কারণ এটি চেনাব নদীর ওপর অবস্থিত একাধিক ঊর্ধ্ব ও নিম্নপ্রবাহের প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হয়ে একটি ধারাবাহিক জলবিদ্যুৎ কাঠামোর অংশ (Pakistan)। কেন্দ্র সাফ জানিয়েছে, ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই পাকাল দুল ও কিরু—দু’টি প্রকল্পই একসঙ্গে চালু করার লক্ষ্য। চেনাব নদীতে ভারতের জলবিদ্যুৎ উদ্যোগের তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে ক্বার প্রকল্পটি। এটি একটি রান-অফ-দ্য-রিভার (Run-of-the-River) ধরনের বাঁধ, যার উচ্চতা ১০৯ মিটার (Chenab Hydropower)। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে এই প্রকল্পে এক গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত সাফল্য অর্জিত হয়, যখন নির্মাণকাজের সুবিধার্থে সফলভাবে চেনাব নদীর প্রবাহ অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। এই নদী-প্রবাহ ঘোরানোর ঘটনার ওপর শুধু ভারতই নয়, পড়শি পাকিস্তানও শ্যেন দৃষ্টিতে তাকিয়েছিল।

    সময়সীমা

    এখন কেন্দ্রীয় সরকার ক্বার প্রকল্পের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। নির্দেশ অনুযায়ী, ২০২৮ সালের মার্চ মাসের মধ্যেই প্রকল্পটির কাজ শেষ করে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করতে হবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে চেনাব নদীর অববাহিকায় ভারতের জলসম্পদ ব্যবস্থাপনা ও বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে বলেই মনে করা হচ্ছে (Chenab Hydropower)। চেনাব নদীর ওপর নির্মীয়মাণ রাটলে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ঘিরে ভারত–পাকিস্তান উত্তেজনা আরও একবার সামনে এসেছে। ৮৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন এই প্রকল্পটি ভারত-পাকিস্তান জলবিরোধের অন্যতম বিতর্কিত প্রকল্প হিসেবে পরিচিত। সম্প্রতি ভারতের বিদ্যুৎমন্ত্রী এই প্রকল্পের বাঁধের কংক্রিট ঢালাইয়ের কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন, যা স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দিচ্ছে, রাটলে প্রকল্পকে এখন ফাস্ট-ট্র্যাক করা হচ্ছে (Pakistan)।

    ১৩৩ মিটার উঁচু বাঁধ

    চেনাব নদীর ওপর নির্মীয়মাণ এই প্রকল্পে ১৩৩ মিটার উঁচু বাঁধ তৈরি করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তান এই প্রকল্পের বিরোধিতা করে আসছে, বিশেষ করে বাঁধের স্পিলওয়ে নকশা নিয়ে তাদের আপত্তি রয়েছে। পাকিস্তানের দাবি, এই নকশা ইন্দাস জলচুক্তির পরিপন্থী। যদিও ভারত বারবার জানিয়েছে, প্রকল্পটি আন্তর্জাতিক বিধি মেনেই তৈরি হচ্ছে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালেই চেনাব নদীর জল টানেলের মাধ্যমে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে এই প্রকল্পের জন্য। সরকারি সূত্রের খবর, ২০২৮ সালের মধ্যেই রাটলে বাঁধ সম্পূর্ণ হওয়ার কথা (Chenab Hydropower)।

    দুলহস্তি-১ প্রকল্পের পরবর্তী ধাপ

    রাটলে প্রকল্পের পাশাপাশি চেনাব নদীর ওপরই আর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প, দুলহস্তি স্টেজ-২ নিয়েও এগোচ্ছে ভারত। গত বছরের ডিসেম্বরে এই প্রকল্পটি পরিবেশমন্ত্রকের বিশেষজ্ঞ কমিটির অনুমোদন পেয়েছে। এটি দুলহস্তি-১ প্রকল্পের পরবর্তী ধাপ, যা ইতিমধ্যেই চালু হয়ে গিয়েছে। তবে এখানেও আপত্তি তুলেছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদের দাবি, দুলহস্তি স্টেজ-২ প্রকল্পের অনুমোদনের বিষয়ে তাদের আগাম জানানো হয়নি। ভারত এই অভিযোগ সরাসরি খারিজ করে দিয়ে জানিয়ে দিয়েছে, সমস্ত প্রক্রিয়া নিয়ম মেনেই সম্পন্ন করা হয়েছে এবং পাকিস্তানকে আলাদা করে জানানো বাধ্যতামূলক নয় (Pakistan)।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, চেনাব নদীর অববাহিকায় একের পর এক জলবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে ভারত কেবল শক্তি উৎপাদনই নয়, কৌশলগতভাবেও নিজের অবস্থান মজবুত করছে। আক্ষরিক অর্থেই পাকিস্তানকে ভাতে মারতে চাইছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (Chenab Hydropower) ভারত।

  • Shivraj Singh Chouhan: চিনকে টপকে বিশ্বের বৃহত্তম চাল উৎপাদক দেশ ভারত

    Shivraj Singh Chouhan: চিনকে টপকে বিশ্বের বৃহত্তম চাল উৎপাদক দেশ ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চিনকে পেছনে ফেলে বিশ্বের বৃহত্তম চাল উৎপাদক দেশে পরিণত হল ভারত (India)। বুধবার কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান (Shivraj Singh Chouhan) এ কথা জানান। তিনি বলেন, “বর্তমানে ভারতে চাল উৎপাদন হয়েছে ১৫০.১৮ মিলিয়ন টন, যেখানে চিনের উৎপাদন ১৪৫.২৮ মিলিয়ন টন।”

    ভারতের অগ্রগতি (Shivraj Singh Chouhan)

    কৃষিমন্ত্রী জানান, শুধু অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণই নয়, ভারত এখন বিদেশেও রফতানি বাজারেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে চাল রফতানি করছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক কৃষি বাজারে ভারতের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে। এদিকে, নয়াদিল্লিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভারতীয় কৃষি গবেষণা পরিষদ (ICAR) উদ্ভাবিত ২৫টি মাঠফসলের ১৮৪টি উন্নত জাতের আনুষ্ঠানিক আবরণ উন্মোচন করেন শিবরাজ সিং চৌহান। এই ১৮৪টি জাতের মধ্যে রয়েছে, ১২২টি শস্যজাত ফসল, ৬টি ডাল, ১৩টি তেলবীজ, ১১টি পশুখাদ্য ফসল, ৬টি আখ, ২৪টি তুলো এবং ১টি করে পাট ও তামাক (Shivraj Singh Chouhan)।

    উচ্চ ফলনশীল বীজ

    অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন, উচ্চ ফলনশীল বীজ উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে দেশ উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। তিনি সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের নির্দেশ দেন, যাতে এই নতুন জাতের বীজ দ্রুত কৃষকদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হয়। মন্ত্রী জানান, এই উন্নত জাতগুলি কৃষকদের অধিক ফলন এবং উন্নত মানের ফসল উৎপাদনে সাহায্য করবে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, “দেশের প্রতিটি কৃষকের জমিতে যেন উন্নতমানের বীজ পৌঁছয়, তা নিশ্চিত করতে হবে (Shivraj Singh Chouhan)।” শিবরাজ সিং চৌহান কৃষি বিজ্ঞানীদের ডাল ও তৈলবীজ উৎপাদন বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ দেন। তাঁর মতে, এই দু’টি ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতা অর্জন করাই এখন দেশের প্রধান লক্ষ্য।

    তিনি বলেন, “উচ্চ ফলনশীল ও জলবায়ু সহনশীল বীজের উন্নয়নের মাধ্যমে ভারত এক নতুন কৃষি বিপ্লবের যুগে প্রবেশ করেছে। এই সাফল্য সম্ভব (India) হয়েছে আইসিএআরের সর্বভারতীয় সমন্বিত প্রকল্প, কেন্দ্র ও রাজ্য কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বেসরকারি বীজ সংস্থাগুলির সম্মিলিত প্রচেষ্টায় (Shivraj Singh Chouhan)।”

LinkedIn
Share