Author: pranabjyoti

  • Rajnath Singh: “হাতে ডিগ্রি, পকেটে আরডিএক্স”! ‘হোয়াইট-কলার টেরর’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ রাজনাথের

    Rajnath Singh: “হাতে ডিগ্রি, পকেটে আরডিএক্স”! ‘হোয়াইট-কলার টেরর’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ রাজনাথের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশে ‘হোয়াইট-কলার সন্ত্রাস’-এর (White Collar Terror) প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে বলে মন্তব্য করলেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং (Rajnath Singh)। তিনি সতর্ক করে বলেন, মূল্যবোধহীন উচ্চশিক্ষা সমাজের জন্য মারাত্মক বিপদের কারণ হয়ে উঠতে পারে। শুক্রবার রাজস্থানের ভোপাল নোবেলস্ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে রাজনাথ এই মন্তব্য করেন। গত ১০ নভেম্বর দিল্লির লালকেল্লার কাছে গাড়িবোমা বিস্ফোরণের প্রসঙ্গ টেনে নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যাও দেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী।

    রাজনাথের বক্তব্য (Rajnath Singh)

    রাজনাথ জানান, ওই হামলায় অভিযুক্তরা সকলেই শিক্ষিত ও যোগ্য চিকিৎসক ছিল। এই ঘটনাকে তিনি এমন এক জ্বলন্ত উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন, যা প্রমাণ করে যে কেবলমাত্র শিক্ষা থাকলেই নৈতিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা নিশ্চিত হয় না। রাজনাথের বক্তব্য অনুযায়ী, শিক্ষার সঙ্গে নৈতিক মূল্যবোধ ও মানবিক চেতনার সংযোগ না থাকলে তা সমাজের পক্ষে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারে। শিক্ষাব্যবস্থায় মূল্যবোধের গুরুত্বের ওপরও বিশেষ জোর দেন তিনি (Rajnath Singh)।

    ‘হোয়াইট-কলার সন্ত্রাস’

    দেশে বর্তমানে উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে চলেছে ‘হোয়াইট-কলার সন্ত্রাস’। উচ্চশিক্ষিত হয়েও সমাজ ও দেশের বিরুদ্ধে কাজ করছেন এক শ্রেণির মানুষ। প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, “দিল্লির বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় যারা জড়িত ছিল, তাদের মধ্যে চিকিৎসকও ছিল, এক হাতে ডিগ্রি, আর পকেটে আরডিএক্স। এই ঘটনাই স্পষ্ট করে দেয় যে, কেবল শিক্ষালাভই যথেষ্ট নয়, শিক্ষার সঙ্গে নৈতিকতা ও চরিত্রগঠনও (White Collar Terror) জরুরি।” ১০ নভেম্বর দিল্লির রেড ফোর্ট এলাকায় বিস্ফোরণ ঘটে একটি বিস্ফোরকবোঝাই গাড়িতে। ঘটনায় মৃত্যু হয় ১৫ জনের। গাড়িটি চালাচ্ছিল উমর-উন-নবি নামে এক চিকিৎসক। ঘটনার তদন্তে নেমে নিরাপত্তা সংস্থাগুলি পরে একটি তথাকথিত ‘হোয়াইট-কলার টেরর মডিউল’-এর সন্ধান পায় (Rajnath Singh)।

    গ্রেফতার ৩ চিকিৎসক

    এই মডিউলের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে তিন চিকিৎসক মুজাম্মিল গনাই, আদিল রাদার এবং শাহিনা সইদ-সহ বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তকারীদের মতে, শিক্ষিত ও পেশাগতভাবে প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিরাই এই নেটওয়ার্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। এদিকে, ঘটনার প্রেক্ষাপটে শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে কড়া মন্তব্য করেছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, “শিক্ষার উদ্দেশ্য শুধু পেশাগত সাফল্য অর্জন নয়, নৈতিকতা, মূল্যবোধ (White Collar Terror) এবং মানবিক চরিত্র গঠনের দিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। যে শিক্ষা ব্যবস্থা জ্ঞান দেওয়ার পাশাপাশি বিনয়, চরিত্রবোধ ও ধর্ম, অর্থাৎ ন্যায়পরায়ণতার শিক্ষা দিতে ব্যর্থ, তা কখনও সম্পূর্ণ হতে পারে না।”

    এমন শিক্ষা মারাত্মক পরিণতির কারণ হতে পারে

    প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই বক্তব্য বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিল বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা (Rajnath Singh)। রাজনাথ বলেন, “জঙ্গিরা সব সময় অশিক্ষিত হয় না। অনেক ক্ষেত্রে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রিধারী হলেও নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও প্রজ্ঞার অভাব থাকে। এই মূল্যবোধের ঘাটতিই শেষ পর্যন্ত তাদের অপরাধের পথে ঠেলে দেয়।” ধর্ম প্রসঙ্গে রাজনাথ জানান, ধর্ম মানেই শুধু মন্দির, মসজিদ বা গির্জায় প্রার্থনা করা নয়। তাঁর কথায়, “ধর্ম আসলে কর্তব্যবোধ। শিক্ষা যদি ধর্ম ও নৈতিকতা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়, তবে তা সমাজের কোনও কাজে আসে না। অনেক সময় এমন শিক্ষা মারাত্মক পরিণতির কারণও হতে পারে।”

    উচ্চশিক্ষিতরাও অপরাধমূলক কাজকর্মে জড়িয়ে পড়ছে

    তিনি আরও বলেন, “এই কারণেই অনেক সময় দেখা যায়, উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তিরাও অপরাধমূলক কাজকর্মে জড়িয়ে পড়ছে।” ভারতের অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির প্রসঙ্গেও বক্তব্য রাখেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তিনি জানান, বর্তমানে ভারত বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি, এবং ২০৩০ সালের মধ্যে তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হওয়ার পথে এগোচ্ছে দেশ (Rajnath Singh)। এই অগ্রগতির ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়গুলির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তিনি। রাজনাথের মতে, ভবিষ্যতের দক্ষ, নৈতিক ও দায়িত্বশীল নাগরিক তৈরিতে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে (White Collar Terror)।

  • RSS: জাতপাতের ঊর্ধ্বে উঠে ঐক্যের আহ্বান সংঘ প্রধান মোহন ভাগবতের

    RSS: জাতপাতের ঊর্ধ্বে উঠে ঐক্যের আহ্বান সংঘ প্রধান মোহন ভাগবতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশবাসীর কাছে জাতপাত, ভাষা ও সম্পদের ভিত্তিতে বিভাজনের মানসিকতা ছেড়ে ঐক্যের পথে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানালেন আরএসএসের (RSS) প্রধান মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat)। তিনি বলেন, গোটা দেশটাই সবার, এবং এই ভাবনাই প্রকৃত সামাজিক সম্প্রীতির ভিত্তি। ছত্তিশগড়ের রায়পুর জেলার সোনপাইরি গ্রামে আয়োজিত এক হিন্দু সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ভাগবত বলেন, সমাজে অন্তর্ভুক্তিমূলক মানসিকতা গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। তাঁর মতে, প্রকৃত সৌহার্দ্য প্রতিষ্ঠার প্রথম ধাপ হল মানুষের মন থেকে বৈষম্যের বোধ দূর করা। দেশকে দেখতে হবে ঐক্যের দৃষ্টিভঙ্গিতে। মন্দির, জলাশয় ও শ্মশানঘাটের মতো জনসাধারণের পরিকাঠামো সব হিন্দুর জন্যই উন্মুক্ত থাকা উচিত।

    এই দেশ সবার (RSS)

    ভাগবত বলেন, “এই দেশ সবার। এই অনুভূতিই প্রকৃত সামাজিক সম্প্রীতি। কাউকে জাত, সম্পদ, অঞ্চল বা ভাষার ভিত্তিতে বিচার করা উচিত নয়।” তিনি সবাইকে একে অপরকে নিজের লোক হিসেবে গ্রহণ করার আহ্বান জানান। এই দৃষ্টিভঙ্গিকে তিনি ‘সামাজিক সমরসতা’ (Samajik Samrasta) বলে অভিহিত করেন। পারিবারিক বন্ধন পুনরুজ্জীবিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন তিনি। সরসংঘচালকের মতে,  প্রতিটি পরিবারে অন্তত সপ্তাহে এক দিন সবাইর একসঙ্গে সময় কাটানো উচিত। এক সঙ্গে খাবেন, প্রার্থনা করবেন ও অর্থপূর্ণ আলোচনাও করবেন। এই ধরনের আলোচনাকে তিনি ‘মঙ্গল সংলাপ’ (Mangal Samvad) বলে উল্লেখ করেন।আধুনিক জীবনে একাকীত্বের ক্রমবর্ধমান সমস্যার প্রসঙ্গ তুলে ধরে ভাগবত বলেন, পরিবারের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ থাকলে মানুষ ক্ষতিকর অভ্যাস থেকে দূরে থাকতে পারে। তাঁর কথায়, “মানুষ যখন একা (RSS) অনুভব করে, তখনই অনেক সময় কু-অভ্যাসে জড়িয়ে পড়ে। পরিবারের মধ্যে নিয়মিত আলোচনা ও যোগাযোগ এই প্রবণতা রোধ করতে পারে।”

    ‘কুটুম্ব প্রবোধন’

    ‘কুটুম্ব প্রবোধনে’র (Kutumb Prabodhan) উল্লেখ করে প্রত্যেক নাগরিককে আত্মসমালোচনার আহ্বানও জানান ভাগবত। প্রতিদিন কে, কতটা সমাজ ও দেশের জন্য সময় ও শ্রম দিচ্ছেন, তা ভেবে দেখার অনুরোধও করেন তিনি (Mohan Bhagwat)। ভাগবত বলেন, পারস্পরিক সংলাপ ও বোঝাপড়ার মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করতে হবে। ঐক্যের নামে কখনও সংঘাত বা বিবাদ হওয়া উচিত নয়। বিশ্ব উষ্ণায়ন ও পরিবেশগত ক্ষতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আরএসএস প্রধান সাধারণ মানুষকে ব্যক্তিগত স্তর থেকেই পরিবেশ সংরক্ষণ শুরু করার আহ্বান জানান (RSS)। তিনি জল সংরক্ষণ, বৃষ্টির জল সংগ্রহ, একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক কমানো এবং আরও বেশি গাছ লাগানোর ওপরও গুরুত্ব দেন। ঘরে মাতৃভাষার ব্যবহার, ভারতীয় পোশাকের প্রতি সম্মান এবং ওষুধের মতো জরুরি প্রয়োজন ছাড়া দেশীয় পণ্য ব্যবহারের মাধ্যমে স্বদেশিকে সমর্থন করার কথাও বলেন সরসংঘচালক।

    কী বললেন ভাগবত

    নাগরিক শৃঙ্খলার ওপর জোর দিয়ে ভাগবত বলেন, সংবিধান মেনে চলা, প্রস্তাবনা (প্রিঅ্যাম্বল), মৌলিক কর্তব্য ও নাগরিক দায়িত্ব নিয়মিত পাঠ করা জরুরি। এই মূল্যবোধগুলিকে বয়োজ্যেষ্ঠদের সম্মান করা ও বিপন্নদের সাহায্য করার মতো ঐতিহ্যবাহী সামাজিক আচরণের সঙ্গে সমন্বয় করে চলার আহ্বানও জানান তিনি। আরএসএসের যাত্রাপথের কথা উল্লেখ করে ভাগবত জানান, নাগপুরে একটি ছোট শাখা হিসেবে শুরু হওয়া এই সংগঠন আজ সারা ভারতে বিস্তৃত। তিনি বলেন, “আজ কাশ্মীর, মিজোরাম, আন্দামান, সিকিম, কচ্ছ থেকে শুরু করে ভারতের উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিম—সব জায়গায়ই আরএসএস স্বেচ্ছাসেবকদের উপস্থিতি রয়েছে।” এই বিস্তারের কৃতিত্ব তিনি সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা কেশব বলিরাম হেডগেওয়ারকে দেন এবং তাঁর আজীবন ত্যাগ ও নিষ্ঠার প্রশংসা করেন। ভাগবতের মতে, ১০০ বছর পূর্ণ হওয়াটা (RSS) বড় সাফল্য নয়, বরং সারা দেশে সংঘের কাজ পৌঁছে যাওয়াই আসল অর্জন (Mohan Bhagwat)।

  • Intimidatory Tactics: ‘ভয় দেখানোর মাধ্যমে সাংবিধানিক কর্তব্যে বাধা দেওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ হবে’, সাফ জানাল কমিশন

    Intimidatory Tactics: ‘ভয় দেখানোর মাধ্যমে সাংবিধানিক কর্তব্যে বাধা দেওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ হবে’, সাফ জানাল কমিশন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘ভয় দেখানোর মাধ্যমে সাংবিধানিক কর্তব্যে বাধা দেওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ হবে।’ সাফ জানিয়ে দিল নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) এবং রাজ্যের চিফ ইলেক্টোরাল অফিসারের (CEO) বিরুদ্ধে পুলিশে দায়ের করা অভিযোগগুলির তীব্র নিন্দাও করেছে কমিশন (Intimidatory Tactics)। নির্বাচন কমিশনের মতে, এই ধরনের পুলিশি অভিযোগ প্রশাসনিক চাপ সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে, যা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে কোনও রকম ভয় বা হুমকির কাছে নতি স্বীকার করা হবে না।

    কমিশনের সাফ কথা (Intimidatory Tactics)

    কমিশনের বক্তব্য, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার স্তম্ভ হিসেবে নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি, এবং সেই স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের যে কোনও প্রচেষ্টার মোকাবিলা করা হবে কঠোরভাবে।নির্বাচন কমিশন আরও জানিয়েছে, এই ধরনের ভীতি প্রদর্শনের কৌশল শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হবেই এবং সংবিধান অনুযায়ী কমিশন তার দায়িত্ব পালন করে যাবে। প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর প্রধান নির্বাচন (Intimidatory Tactics) কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া পুলিশি অভিযোগের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। কমিশনের মতে, এই অভিযোগগুলি ‘পরিকল্পিত, ভিত্তিহীন এবং ভীতিপ্রদর্শনের উদ্দেশ্যে করা’।

    অভিযোগগুলি পূর্বপরিকল্পিত

    পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর থেকে এক্স হ্যান্ডেলে প্রকাশিত একাধিক সরকারি পোস্টে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, তারা এমন সংবাদ প্রতিবেদন লক্ষ্য করেছে যেখানে বলা হয়েছে (Election Commission), ২০২৬ সালের জন্য যে এসআইআর প্রক্রিয়া চলছে, তাকে কেন্দ্র করে দুই শীর্ষ নির্বাচন আধিকারিকের বিরুদ্ধে পুলিশি অভিযোগ (Intimidatory Tactics) দায়ের হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তরফে জারি করা এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “এই অভিযোগগুলি পূর্বপরিকল্পিত, সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং ২০২৬ সালের এসআইআর সংক্রান্ত আইনগত দায়িত্ব পালনকারী আধিকারিকদের ভয় দেখিয়ে দমন করার এক স্থূল প্রচেষ্টা।” কমিশনের সাফ কথা, “নির্বাচনী যন্ত্রকে ভয় দেখিয়ে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা এবং সংবিধানস্বীকৃত নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে বিপথে চালিত করার উদ্দেশ্যে নেওয়া এই (Election Commission) ধরনের ভীতিপ্রদর্শনমূলক কৌশল নিঃসন্দেহে ব্যর্থ হতে বাধ্য (Intimidatory Tactics)।”

    নিরপেক্ষতা রক্ষার অঙ্গীকার

    কমিশন মনে করিয়ে দিয়েছে, নির্বাচনী আধিকারিকরা সংবিধান অনুযায়ী নিয়মিতভাবে ভোটার তালিকা সংশোধনের দায়িত্বপ্রাপ্ত এবং বর্তমানে যে এসআইআর প্রক্রিয়াটি চলছে, তা সম্পূর্ণভাবে আইন ও প্রতিষ্ঠিত বিধি মেনেই পরিচালিত হচ্ছে। কমিশনের ইঙ্গিত, তারা এই অভিযোগগুলিকে বিচ্ছিন্ন বা ব্যক্তিগত অভিযোগ হিসেবে দেখছে না, বরং এগুলিকে একটি সুপরিকল্পিত ও সমন্বিত ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে বিবেচনা করছে। কোন পরিস্থিতিতে এই অভিযোগগুলি দায়ের করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হবে বলেও জানিয়েছে কমিশন। কমিশনের কড়া বার্তা, “এই ধারাবাহিক ও মনগড়া অভিযোগগুলির নেপথ্যে থাকা ষড়যন্ত্র উদ্ঘাটনে চেষ্টার কসুর করা হবে না। শেষ পর্যন্ত জয়ী হবে আইনের শাসন এবং সত্যই (Intimidatory Tactics)।” নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষতা ও জনস্বার্থ রক্ষায় তাদের অঙ্গীকারের কথাও জানিয়ে দিয়েছে আরও একবার (Election Commission)।

    জনস্বার্থেই কাজ

    রাজ্যে নির্বাচন পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকদের দৃঢ় সংকল্পের কথা তুলে ধরে কমিশন জানিয়েছে, বাহ্যিক চাপ বা ভয়ভীতির মুখেও পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনী ব্যবস্থা দৃঢ়তা ও নৈতিকতার সঙ্গে, সম্পূর্ণভাবে জনস্বার্থে কাজ করে যাবে। নির্বাচন কমিশনের এই কড়া প্রতিক্রিয়া এসেছে এমন একটা সময়ে, যখন পশ্চিমবঙ্গের দুই প্রবীণ ভোটারের পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। সোমবার ওই দুই প্রবীণ ভোটার শুনানির নোটিশ পাওয়ার পরের মারা যান। এই নোটিশগুলি এসআইআর প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিল (Intimidatory Tactics)।

    এসআইআর নিয়ে বিতর্ক

    পুরুলিয়া জেলার বছর বিরাশির দুর্জন মাঝির ছেলের অভিযোগ, তাঁর বাবার নাম ২০০২ সালের স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশনের সময় প্রস্তুত করা কাগজে থাকা ভোটার তালিকায় থাকলেও, নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে আপলোড করা সংশ্লিষ্ট তালিকায় সেই নাম নেই। অভিযোগ, এই অসঙ্গতির কারণেই ওই প্রবীণ ভোটারকে শুনানির নোটিশ পাঠানো হয় (Election Commission)। নোটিশ পাওয়ার পর নির্ধারিত শুনানির সময়ের কয়েক ঘণ্টা আগেই ওই প্রবীণ ব্যক্তি আত্মহত্যা করেন। অভিযোগকারীরা এই ঘটনার জন্য সরাসরি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO)-কে দায়ী করেছেন। পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের হয়েছে এবং বিষয়টি ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।

    ডেটাবেসে নাম বাদ পড়া নিয়ে ওঠা উদ্বেগ

    ভোটার তালিকার ডেটাবেসে নাম বাদ পড়া নিয়ে ওঠা উদ্বেগের প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন ২৭ ডিসেম্বর জারি করা একটি বিজ্ঞপ্তির কথা উল্লেখ করেছে। কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ২০০২ সালের এসআইআরের ভোটার তালিকায় প্রায় ১.৩ লাখ ভোটারের নাম রয়েছে, কিন্তু প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে যাঁদের নাম অনলাইন ডেটাবেসে প্রতিফলিত হয়নি, তাঁদের কোনও শুনানিতে হাজির হতে হবে না (Election Commission)। নির্বাচন কমিশনের মতে, পুরানো ভোটার তালিকার ডিজিটাল রূপান্তরের সময় সৃষ্ট প্রযুক্তিগত বিভ্রাটের কারণে যাতে কোনও ভোটার হয়রানি বা অযথা অসুবিধার সম্মুখীন না হন, সেই লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে (Intimidatory Tactics)।

    এসআইআর প্রক্রিয়ার মূল উদ্দেশ্য

    কমিশনের আধিকারিকরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এসআইআর প্রক্রিয়ার মূল উদ্দেশ্য হল ভোটার তালিকার নির্ভুলতা বাড়ানো, যার মধ্যে রয়েছে দ্বৈত নাম বাদ দেওয়া, ভুল সংশোধন করা এবং যোগ্য ভোটারদের তালিকাভুক্ত করা। প্রকৃত বা বৈধ ভোটারদের বাদ দেওয়া বা ভয় দেখানো এই প্রক্রিয়ার উদ্দেশ্য নয়। উল্লেখ্য, এসআইআর একটি সংবেদনশীল প্রক্রিয়া, বিশেষত পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজনৈতিকভাবে উত্তপ্ত রাজ্যগুলিতে, যেখানে নির্বাচন অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এবং নির্বাচনী ব্যবস্থাপনা নিয়মিত কড়া নজরদারির মধ্যে থাকে (Election Commission)।

    নির্বাচন কমিশন একাধিকবার জানিয়েছে যে, এসআইআর ২০২৬ সম্পূর্ণ স্বচ্ছভাবে এবং আইনি বিধান মেনেই পরিচালিত হচ্ছে। ভোটারদের অধিকার সুরক্ষিত রাখতে এই প্রক্রিয়ায় একাধিক সুরক্ষার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলেও দাবি কমিশনের (Intimidatory Tactics)।

  • Osman Hadi: অভিযুক্ত দুবাইতে! মুখ থুবড়ে পড়ল হাদি-হত্যা নিয়ে বাংলাদেশের করা ভারত-বিরোধী অভিযোগ

    Osman Hadi: অভিযুক্ত দুবাইতে! মুখ থুবড়ে পড়ল হাদি-হত্যা নিয়ে বাংলাদেশের করা ভারত-বিরোধী অভিযোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এবার সরকারকে চূড়ান্ত আল্টিমেটাম দিল নিহত শরিফ ওসমান হাদির (Osman Hadi) ছাত্র সংগঠন ইনকিলাব মঞ্চ। এহেন আবহে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরছে হাদির অভিযুক্ত খুনির একটি ভিডিও। বাংলাদেশের তদন্তকারী সংস্থার মতে, হাদি হত্যাকাণ্ডের মূল সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম মাসুদ ওই ভিডিওতে দাবি করেছে (Bangladesh), খুন করার পর সে হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে গিয়েছে – এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

    অভিযুক্ত খুনির দাবি (Osman Hadi)

    মাসুদের দাবি, হাদির সঙ্গে তার সম্পর্ক কেবল আর্থিক লেনদেনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। ভিডিওতে সে জানায়, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় সে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে ছিল। সেই সময় সাহায্যের জন্য হাদির সঙ্গে যোগাযোগ করে সে। হাদি তাকে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন বলে ভিডিওতে দাবি করা হয়েছে। মাসুদের বক্তব্য, পরে সে হাদির হয়ে রাজনৈতিক সংগঠনের কাজেও যুক্ত হয়। তবে ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করেনি মাধ্যম। এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত ভারত বা বাংলাদেশের কোনও সরকারি সংস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি। ভিডিওতে মাসুদ বলে, “হাদির সঙ্গে কথা বলার পর তিনি আমাকে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন। তিনি পাঁচ লাখ টাকা চেয়েছিলেন। তাই আমি সেই টাকা দিই। এর উদ্দেশ্য ছিল শুধুমাত্র সরকারি প্রকল্প সংক্রান্ত লবিং।”

    ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

    এদিকে, ইনকিলাব মঞ্চ রবিবার রাতে ঢাকার শাহবাগ থেকে মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে। সংগঠনের সদস্য-সচিব আবদুল্লা আল জাবের এই ঘোষণা করেন। ভারতবিরোধী অবস্থান বজায় রেখে ইনকিলাব মঞ্চের দাবি, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণ না করা হলে ভারতে কর্মরত ভারতীয় নাগরিকদের ওয়ার্ক পারমিট স্থগিত করতে হবে। পাশাপাশি ভারতের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা দায়ের করার দাবিও জানানো হয়েছে। প্রসঙ্গত, ইনকিলাব মঞ্চের (Osman Hadi) এই দাবি আসে এমন একটা সময়ে, যখন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অভিযোগ করে যে হাদি হত্যাকাণ্ডের দুই প্রধান সন্দেহভাজন ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে গিয়েছে। এই সীমান্তটি ভারতের মেঘালয় রাজ্যের সঙ্গে যুক্ত। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করে একে ‘ভিত্তিহীন’ বলে অভিহিত করেছে সে।

    অভিযুক্ত হত্যাকারীর ভিডিও

    এই অভিযোগ ওঠার ঠিক একদিন পরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে অভিযুক্ত হত্যাকারীর একটি ভিডিও। ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে ওই ব্যক্তি জানায়, সে দুবাইয়ে রয়েছে। ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, সে ওসমান হাদিকে হত্যা করেনি। তার দাবি, জামাত-শিবিরের সদস্যরাই ছাত্রনেতা হাদিকে হত্যা করেছে এবং সে এই হামলার পেছনে জামাতিদের জড়িত থাকার অভিযোগ তোলে। যদিও ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করা যায়নি। বিষয়টি নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের (Bangladesh) কোনও সংস্থাই এখনও কোনও প্রতিক্রিয়াও জানায়নি।

    হাদি হত্যাকাণ্ডের জেরে বাংলাদেশে অস্থিরতা

    ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে কট্টরপন্থী ছাত্রনেতা হাদির হত্যাকাণ্ডের পর বাংলাদেশে নতুন করে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। একাধিক শহরে হিংসার ঘটনা ঘটতে দেখা গিয়েছে। হাদির দল ইনকিলাব মঞ্চ তাঁর হত্যার জন্য ইউনূস নেতৃত্বাধীন সরকারকে দায়ী করেছে। এই হিংসার বলি হয়েছিলেন দীপু চন্দ্র দাস ও অমৃত মণ্ডল নামে দুই হিন্দু নাগরিক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক কট্টর ছাত্র সংগঠন ইনকিলাব মঞ্চের প্রতিষ্ঠাতা হাদি তাঁর তীব্র ভারতবিরোধী অবস্থানের জন্য পরিচিত ছিলেন। জানা গিয়েছে, তিনি ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ওই আন্দোলনের জেরেই ক্ষমতাচ্যুত হয়ে (Osman Hadi) দেশান্তরিত হতে হয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে।

    বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ফেব্রুয়ারি মাসে। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বিএনপির খালেদা জিয়া প্রয়াত হয়েছেন। দীর্ঘ ১৭ বছর স্বেচ্ছানির্বাসনে থাকার পর বাংলাদেশে ফিরেছেন (Bangladesh) তাঁর ছেলে তারেক রহমান। ২৫ ডিসেম্বর পরিবার নিয়ে বাংলাদেশে ফেরেন তারেক। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিএনপিকেই নির্বাচনের (Osman Hadi) অন্যতম প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদিও নির্বাচন বয়কট করেছে শেখ হাসিনার দল আওয়ামি লিগ।

  • Lashkar-e-Taiba: “কখনও কাশ্মীর মিশন থেকে সরে আসব না”, হুমকি লস্করের, মুখে বাংলার প্রসঙ্গও

    Lashkar-e-Taiba: “কখনও কাশ্মীর মিশন থেকে সরে আসব না”, হুমকি লস্করের, মুখে বাংলার প্রসঙ্গও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অপারেশন ‘সিঁদুরে’র ক্ষত এখনও পুরোপুরি শুকোয়নি পাকিস্তানের। ভারতের সফল সামরিক অভিযানের পর ফের প্রকাশ্যে হুঁশিয়ারি দিল জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবা (Lashkar-e-Taiba)। ২০২৫ সালের ৭ মে ভারতের চালানো নির্ভুল সামরিক অভিযানের প্রতিক্রিয়ায় এই হুমকি দিয়েছে পাক মদতপুষ্ট এই জঙ্গি সংগঠন। লস্কর-ই-তৈবার সহকারী প্রধান এবং কুখ্যাত জঙ্গি হাফিজ সইদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী সইফুল্লা কাসুরি (Terrorist Saifullah) সম্প্রতি হাজার হাজার সমর্থকের সামনে উসকানিমূলক ভাষণ দেয়। ওই বক্তব্যে সে কাশ্মীর থেকে শুরু করে হায়দরাবাদ ও জুনাগড় পর্যন্ত ভারতের বিভিন্ন ভূখণ্ডের ওপর ‘অধিকার’ দাবি করে।

    কাসুরির হুঁশিয়ারি (Lashkar-e-Taiba)

    উসকানিমূলক ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে কাসুরি বলে, “অপারেশন সিঁদুরের সময় ভারত বড় ভুল করেছে। কারণ তারা শুধু জঙ্গি ঘাঁটিগুলিকেই নিশানা করেছে।” বক্তব্যের শেষের দিকে সে আরও উত্তেজনা ছড়ানোর চেষ্টা করে বলে, “আমার শেষ কথা… আমাদের লোকেরা শুনুক, বাইরের লোকেরা শুনুক, বন্ধুরা শুনুক, শুনুক শত্রুরাও।” নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বক্তব্য ফের একবার প্রমাণ করছে যে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠনগুলি ভারতের সামরিক ও কূটনৈতিক সাফল্যে গভীরভাবে বিচলিত এবং পরিস্থিতি অশান্ত করে তুলতে পরিকল্পিতভাবে উসকানিমূলক ভাষা ব্যবহার করছে।

    সইফুল্লার ‘কাশ্মীর মিশন’

    যারা জঙ্গি সংগঠনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে এবং তাদের কাজকর্ম প্রকাশ্যে আনে, সইফুল্লা সরাসরি তাদের উদ্দেশে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে। তার দাবি, গোটা বিশ্বের ব্যবস্থাই বদলে দেওয়া সম্ভব। কিন্তু লস্কর-ই-তৈবা (Lashkar-e-Taiba) কখনও তাদের তথাকথিত ‘কাশ্মীর মিশন’ থেকে সরে আসবে না। তার এই বক্তব্যকে ভারতের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্য হুমকি হিসেবেই দেখা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, সে কাশ্মীর ইস্যুর গায়ে ধর্মের রং লাগানোর চেষ্টাও করেছে। কাশ্মীর প্রসঙ্গকে সে ‘প্রথম কিবলার মুক্তি’র সঙ্গে তুলনা করে, যা মূলত জেরুজালেমের প্রতি ইঙ্গিত করে (Terrorist Saifullah)। সইফুল্লা বলে, “যারা আমাদের সন্ত্রাসবাদী বলে এবং আমাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা চাপায়, তারা যেন মন দিয়ে শোনে, কাশ্মীর ও প্যালেস্তাইনকে মুক্ত করার মিশন থেকে আমরা কখনওই পিছু হটব না।”

    সন্ত্রাসবাদকে উসকে দেওয়া হচ্ছে

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে সন্ত্রাসবাদকে উসকে দেওয়ার পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অস্থির করে তুলতে পারে (Lashkar-e-Taiba)। শুধু হুমকি দেওয়ায়ই সীমাবদ্ধ থাকেনি সইফুল্লা। তার দাবি, ভারত কাশ্মীর, অমৃতসর, হোশিয়ারপুর, গুরুদাসপুর, জুনাগড়, মানাবদর, হায়দরাবাদ দাক্ষিণাত্য এবং এমনকি বাংলার মতো একাধিক অঞ্চল দখল করে নিয়েছে। সইফুল্লার অভিযোগ, এই সমস্ত এলাকাই নাকি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিল এবং ব্রিটিশ ও হিন্দুদের একটি তথাকথিত ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে সেগুলি পাকিস্তানের হাত থেকে কেড়ে নেওয়া হয়েছে (Terrorist Saifullah)।

    সইফুল্লার দাবি ভিত্তিহীন

    বিশেষজ্ঞদের মতে, সইফুল্লার এই দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর এবং ঐতিহাসিক সত্যের পরিপন্থী। একে উসকানিমূলক প্রচার হিসেবেই দেখা হচ্ছে (Lashkar-e-Taiba)। নিজের বক্তব্যে সইফুল্লা নিজেকে ও তার সংগঠনকে ‘শান্তিপ্রিয়’ বলে তুলে ধরার চেষ্টা করে। অথচ বাস্তবে লস্কর-ই-তৈবা বিশ্বের অন্যতম বিপজ্জনক সন্ত্রাসবাদী সংগঠন হিসেবে পরিচিত এবং ভারত-সহ একাধিক দেশে নিষিদ্ধ এই সংগঠন (Terrorist Saifullah)।

     

  • PM Modi: খালেদা জিয়ার প্রয়াণে তারেক রহমানকে সমবেদনা ভারতের প্রধানমন্ত্রীর

    PM Modi: খালেদা জিয়ার প্রয়াণে তারেক রহমানকে সমবেদনা ভারতের প্রধানমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী তথা বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। তিনি খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তথা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে (Tarique Rahman) শোকবার্তা পাঠিয়েছেন। তাতে প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, এই শোকের সময়ে তাঁর চিন্তা বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে রয়েছে। খালেদা জিয়ার মৃত্যু এক অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি করলেও তাঁর রাজনৈতিক দর্শন ও উত্তরাধিকার ভবিষ্যতেও স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তারেককে পাঠানো শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, “আপনার মা, বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারপার্সন, মহামান্য বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণের সংবাদে আমি গভীরভাবে শোকাহত। এই গভীর ব্যক্তিগত ক্ষতির সময়ে আমার আন্তরিক সমবেদনা গ্রহণ করুন। ঈশ্বর তাঁর আত্মাকে চিরশান্তি দান করুন।”

    বাংলাদেশে জয়শঙ্কর (PM Modi)

    এরই মধ্যে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বুধবার খালেদা জিয়ার জানাজায় ভারতের পক্ষ থেকে প্রতিনিধিত্ব করেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পাঠানো শোকবার্তাটি সরাসরি তারেকের হাতে তুলে দেন। খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশটির রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তাঁর নেতৃত্ব, রাজনৈতিক সংগ্রাম এবং রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতা দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে আলোচিত তারেককে পাঠানো চিঠিতে খালেদার অবদান ও নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসাও করেন প্রধানমন্ত্রী (PM Modi)। ওই চিঠিতে তিনি ২০১৫ সালের জুন মাসে ঢাকা সফরের সময় খালেদার সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ ও আলোচনার কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া ছিলেন অসাধারণ দৃঢ়তা ও অটল বিশ্বাসসম্পন্ন এক নেত্রী, যাঁর নেতৃত্ব দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে (Tarique Rahman)। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর মঙ্গলবার প্রয়াত হন খালেদা। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্ত্রী খালেদা বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি শক্তিশালী ও প্রভাবশালী নাম। তাঁরই পুত্র তারেক বর্তমানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন (PM Modi)।

    মোদির স্মৃতিচারণ

    প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নে খালেদা জিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক সুদৃঢ় করতেও তিনি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছেন। চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করে জানান, খালেদার আদর্শ ও মূল্যবোধ তাঁর পুত্র রহমানের হাত ধরেই এগিয়ে যাবে। সেই আদর্শ ভারত ও বাংলাদেশের গভীর, ঐতিহাসিক অংশীদারিত্বকে আরও সমৃদ্ধ করবে এবং দু’দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। প্রধানমন্ত্রী এও বলেন, খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক দর্শন ভবিষ্যতেও দুই দেশের জনগণের জন্য একটি দিশা হিসেবে কাজ করবে (PM Modi)। শোকবার্তায় তিনি খালেদা জিয়াকে দৃঢ় সংকল্প ও অটল বিশ্বাসের বিরল নেতৃত্বের প্রতীকও বলে উল্লেখ করেন (Tarique Rahman)।

    প্রধানমন্ত্রী যা বললেন

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, “২০১৫ সালের জুন মাসে ঢাকায় বেগম সাহেবার সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ ও আলোচনা আমি উষ্ণতার সঙ্গে স্মরণ করি। তিনি ছিলেন এক বিরল দৃঢ়তা ও প্রত্যয়ের অধিকারী নেত্রী। বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর একটি বিশেষ জায়গা রয়েছে। বাংলাদেশের উন্নয়ন এবং ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে তিনি বহু গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।” শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, খালেদার প্রয়াণে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে। তবে তাঁর আদর্শ ও রাজনৈতিক উত্তরাধিকার চিরস্থায়ী হয়ে থাকবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিএনপির বর্তমান নেতৃত্বের মাধ্যমে খালেদা জিয়ার আদর্শ আগামী দিনেও বহন করা হবে (Tarique Rahman)।প্রধানমন্ত্রীর (PM Modi) চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, “আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল আপনার দক্ষ নেতৃত্বে তাঁর আদর্শ এগিয়ে যাবে এবং ভারত ও বাংলাদেশের গভীর ও ঐতিহাসিক অংশীদারিত্বকে আরও সমৃদ্ধ করতে পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করবে। এটি দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন দিশার সূচনা করবে।” খালেদার রাজনৈতিক জীবন, তাঁর নেতৃত্ব এবং ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা দুই দেশের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে বলেও মনে করছে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক মহল।

    রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন

    এদিকে, বুধবার ঢাকার শেরেবাংলা নগরে স্বামী প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়েছে খালেদাকে। দীর্ঘদিনের অসুস্থতার পর মঙ্গলবার ৮০ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন খালেদা। তাঁর প্রয়াণে দেশজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। শেষ বিদায়ে শ্রদ্ধা জানাতে শেরেবাংলা নগরে জড়ো হন হাজার হাজার মানুষ। এঁদের মধ্যে যেমন ছিলেন রাজনৈতিক নেতা-কর্মী, তেমনই ছিলেন সাধারণ মানুষ (Tarique Rahman)। বাংলাদেশের রাজনৈতিক (PM Modi) ইতিহাসে এক প্রভাবশালী ও শক্তিশালী নেতৃত্ব হিসেবে খালেদা তিনবার দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সামরিক শাসনের পর গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় তাঁর ভূমিকা ছিল ঐতিহাসিক। তিনি ছিলেন দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে অন্যতম প্রভাবশালী মহিলা নেত্রী।

    বাংলাদেশিদের পাশে মোদি

    অন্যদিকে, খালেদার মৃত্যুতে বাংলাদেশিদের উদ্দেশেও শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। ওই শোকবার্তায় তিনি বলেন, “এই জাতীয় শোকের মুহূর্তে আমার সহানুভূতি বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে রয়েছে। ইতিহাসজুড়ে তারা অসাধারণ শক্তি ও মর্যাদার পরিচয় দিয়েছে। আমি নিশ্চিত, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, ঐতিহ্য এবং জাতীয় ঐক্যের শক্তিতে তারা শান্তি ও সম্প্রীতির পথে এগিয়ে যাবে।” শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী মোদি আরও বলেন (PM Modi), “দয়া করে আমার আন্তরিক সমবেদনা গ্রহণ করুন। আমি সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন এই কঠিন সময়ে আপনাদের পরিবারকে শক্তি ও ধৈর্য দান করেন। ভবিষ্যতের সকল উদ্যোগে আমি আপনাদের সাফল্য কামনা করি।” প্রসঙ্গত, খালেদার মৃত্যু শুধু একটি রাজনৈতিক অধ্যায়ের সমাপ্তি নয়, বরং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় বন্ধ হয়ে গেল বলেই ধারণা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের (Tarique Rahman)।

  • Sukanta Majumdar: “তৃণমূলকে হারাতে সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করতে হবে”, বললেন সুকান্ত

    Sukanta Majumdar: “তৃণমূলকে হারাতে সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করতে হবে”, বললেন সুকান্ত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “ছাব্বিশ সালের নির্বাচন তৃণমূলের বিসর্জন বলে জানিয়েছেন আমাদের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। এই নির্বাচনে তৃণমূলকে হারাতে সবাইকে (Sukanta Majumdar) কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করতে হবে। মনে রাখবেন (Amit Shah), কোচবিহার থেকে শুরু করে কাকদ্বীপ পর্যন্ত বিজেপির প্রার্থী নরেন্দ্র মোদি এবং পদ্মফুল প্রার্থী। তাই পদ্মফুলকে জেতাতে হবে। অন্য কিছু দেখলে হবে না।” বুধবার সায়েন্স সিটি অডিটোরিয়ামে নাগাড়ে কথাগুলি বলে খানিক থামলেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার।

    কুরুক্ষেত্র (Sukanta Majumdar)

    এদিন বক্তৃতা দিতে গিয়ে ছাব্বিশের নির্বাচনকে তিনি কুরুক্ষেত্র বলেও অভিহিত করেন। মহাভারতের প্রসঙ্গ টেনে সুকান্ত বলেন, “আমরা মহাভারতে গল্প শুনেছি, অর্জুন-সহ সবাইকে দ্রোণাচার্য জিজ্ঞাসা করেছিলেন, কী দেখতে পাচ্ছ। কেউ বলেছিল, আমি গাছে পাতা দেখতে পাচ্ছি। কেউ বলেছিল, পাখির ঠোঁট দেখতে পাচ্ছি। অর্জুনই একমাত্র বলেছিলেন, আমি পাখির চোখ দেখতে পাচ্ছি। বন্ধুগণ, আপনারা কী দেখতে পাচ্ছেন, সেটা আমি বলতে পারব না। কিন্তু, প্রায় ৪ বছর ধরে রাজ্য সভাপতির কাজ করার পর আমি স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি, ২০২৬ সালে পশ্চিমবঙ্গে শপথ নিচ্ছেন বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী। আপনাদের দিকে তাকিয়ে আমি তা দেখতে পাচ্ছি। কলকাতার চারটি জেলার শক্তিকেন্দ্র ও মণ্ডলের লোককে ডাকা হয়েছে। তার বিশ্বরূপ যদি (Sukanta Majumdar) এটা হতে পারে, তাহলে মনে রাখবেন, এই কুরুক্ষেত্রে আমাদের জয় অর্থাৎ পাণ্ডবদের জয় হবেই।”

    বিজেপি আদর্শভিত্তিক দল

    তিনি বলেন, “বিজেপি আদর্শভিত্তিক দল। আমাদের কার্যকর্তা ও কর্মীরাই মূলধন। একুশের নির্বাচনের পর বিজেপি যখন কিছু ছন্নছাড়া হয়ে যায়, তখন কার্যকর্তারা পিঠে কুলো বেঁধে পার্টির কাজকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন।” তৃণমূলকে কটাক্ষ করে সুকান্ত বলেন, “অমিত শাহের নাম শুনলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর পুরো পার্টি থরথর করে কাঁপে।” এদিন সুকান্তের পরে ভাষণ দিতে ওঠেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি দলকে আবারও ২০০ আসনের লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিয়েছেন। দলের (Amit Shah) সবাই যদি কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেন, তাহলে যে এ রাজ্যে বিজেপি আসবেই, তাও স্পষ্ট করে দেন শাহ (Sukanta Majumdar)।

  • Amit Shah: ২০০ আসনের লক্ষ্যেই অটল বিজেপি, কর্মী সম্মেলন থেকে বার্তা অমিত শাহের

    Amit Shah: ২০০ আসনের লক্ষ্যেই অটল বিজেপি, কর্মী সম্মেলন থেকে বার্তা অমিত শাহের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বঙ্গ সফরে এসে ফের একবার ‘২০০ আসন’-এর লক্ষ্যে দলকে নির্বাচনী ময়দানে নামার বার্তা দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। কলকাতার সায়েন্স সিটিতে আয়োজিত বিজেপির কলকাতা জোনের কর্মী সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি জানিয়ে দেন, বাংলায় বিজেপি কোনও ভাবেই থামার দল নয়। মঞ্চ থেকে কর্মী ও নেতৃত্বকে উদ্বুদ্ধ করে শাহ বলেন, “আমরা যদি ৩টি আসন থেকে ৭৭টি আসনে পৌঁছতে পারি, তাহলে ৭৭ থেকে ২০০টি আসনে পৌঁছনো অসম্ভব কেন হবে?” এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি দলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের লড়াইয়ের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকার বার্তা দেন।

    চার সাংগঠনিক জেলায় ২০ আসনের লক্ষ্য (Amit Shah)

    এই সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কলকাতা উত্তর, কলকাতা দক্ষিণ, কলকাতা উত্তর শহরতলি (দমদম লোকসভা এলাকার অন্তর্গত বিধানসভাগুলি) এবং যাদবপুর – এই চারটি সাংগঠনিক জেলার বিজেপি কর্মী ও নেতানেত্রীরা। এই চার জেলায় মোট ২৮টি বিধানসভা কেন্দ্র রয়েছে। সেখান থেকেই শাহ আগামী বিধানসভা নির্বাচনে অন্তত ২০টি আসন জয়ের লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দেন। দলীয় সূত্রে খবর, এদিন সকালে অমিত শাহ বিজেপির সাংসদ ও বিধায়কদের সঙ্গে পৃথক বৈঠকও করেন। সেই বৈঠকে বিশেষভাবে ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্র নিয়ে আলোচনা হয়। রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই কেন্দ্র ঘিরে দলের কৌশল নিয়েও কথা হয়।

    দলীয় পুনর্গঠনের ইঙ্গিত

    উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, সায়েন্স সিটির এই কর্মী সম্মেলনে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পরাজিত একাধিক প্রাক্তন বিধায়ককেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। রাজনৈতিক মহলের মতে, এটি রাজ্যে বিজেপির সংগঠন পুনর্গঠনের স্পষ্ট ইঙ্গিত। সব মিলিয়ে, রাজ্যে বিজেপির নির্বাচনী প্রস্তুতি যে নতুন করে গতি পাচ্ছে, তা স্পষ্ট শাহের এই সফর ও তাঁর বক্তব্যে।

     ‘সবচেয়ে বড় বিপদ’

    এদিন বক্তৃতা দিতে গিয়ে রাজ্যের তৃণমূল সরকারকে নিশানা করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। পশ্চিমবঙ্গে বর্তমানে দু’টি বিষয় যে সব চেয়ে ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করেছে, এদিন তাও জানিয়ে দেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, “এই রাজ্যে দু’টো জিনিস মারাত্মক আকার ধারণ করেছে, একটা অনুপ্রবেশ, আর একটা দুর্নীতি।” শুধু রাজ্যের প্রশাসনিক পরিস্থিতি নয়, কলকাতার নিরাপত্তা নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন শাহ। তিনি বলেন, “কলকাতা আর আগের মতো নিরাপদ নয়। অনুপ্রবেশের দাপট ক্রমেই বাড়বে। এর ফলে শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষই বিপদের মুখে পড়বেন।” এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে হলে বর্তমান সরকারকে সমূলে উৎপাটিত করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    বিজেপি কর্মীদের শাহি নির্দেশ

    ভাষণ দেওয়ার সময়ই বিজেপি কর্মীদের উদ্দেশে একাধিক সাংগঠনিক নির্দেশ দেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, দলের প্রতিটি কর্মীর সঙ্গে আর এক কর্মীর যোগাযোগ আরও বাড়াতে হবে। “সবাইকে আরও সক্রিয় হতে হবে। বাড়ি-বাড়ি গিয়ে মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। সাধারণ মানুষের আরও কাছে পৌঁছনো এখন সবচেয়ে জরুরি”।

    ‘মা-মাটি-মানুষ’ স্লোগান নিয়ে কটাক্ষ

    তৃণমূল সরকারের জনপ্রিয় স্লোগান ‘মা-মাটি-মানুষ’কে কটাক্ষ করে শাহ বলেন, “মা আজ বিপন্ন, মাটিতে অনুপ্রবেশের দাপাদাপি চলছে। তাই মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছনো এখন বিজেপির দায়িত্ব।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি রাজ্যের সামাজিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে শাসক দলের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান। দলীয় কর্মীদের চাঙা করতে আত্মবিশ্বাসের সুরে শাহ বলেন, “কোনও কিছুর সঙ্গে আপোস করা যাবে না। এবারের লক্ষ্য একটাই, বাংলায় বিজেপির সরকার গঠন।” তিনি বলেন, প্রার্থী যেই হোক না কেন, সবাইকে জেতাতে হবে। লিখে রাখুন, পশ্চিমবঙ্গে আমাদেরই সরকার হবে।”

    রাজনৈতিক বিশ্লেষণ

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কলকাতায় নির্দিষ্ট আসনভিত্তিক লক্ষ্য স্থির করে দিয়ে বিজেপি নেতৃত্ব স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে, ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে সংগঠনকে নতুন করে সাজানোই এখন দলের পাখির চোখ। রাজ্যের শহর ও গ্রাম, দুই জায়গায়ই সাংগঠনিক শক্তি বাড়ানোর কৌশলেই এগোচ্ছে গেরুয়া শিবির। তৃণমূলের সঙ্গে যে কোনও সমঝোতা নেই, এদিন তাও স্পষ্ট করে দিয়েছে শাহ। এদিকে, এদিন বঙ্গ বিজেপির চার মুখ শমীক ভট্টাচার্য, শুভেন্দু অধিকারী, সুকান্ত মজুমদার এবং দিলীপ ঘোষকে নিয়ে আলাদা করে বৈঠকে বসেন শাহ। সঙ্গে ছিলেন ভূপেন্দ্র যাদব, সুনীল বনসল এবং বিপ্লব দেব।

  • Sambit Patra: ‘‘আপনি গোটা ভারতকেই হুমকি দিচ্ছেন, রক্ষা করছেন অনুপ্রবেশকারীদের’’, মমতাকে তোপ বিজেপির

    Sambit Patra: ‘‘আপনি গোটা ভারতকেই হুমকি দিচ্ছেন, রক্ষা করছেন অনুপ্রবেশকারীদের’’, মমতাকে তোপ বিজেপির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “আপনি কেবল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকেই নয়, গোটা দেশকেই হুমকি দিচ্ছেন।” বুধবার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তৃণমূলের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এই ভাষাতেই আক্রমণ শানালেন বিজেপি সাংসদ সম্বিত পাত্র। অনুপ্রবেশকারী ইস্যু ও এসআইআর (SIR) নিয়ে অমিত শাহ ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে তীব্র বাক্‌যুদ্ধের পর সাংবাদিক সম্মেলনে সম্বিত বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘আপনি হোটেলের ভেতরে লুকিয়ে ছিলেন। আমরা চাইলে আপনাকে হোটেল থেকে বেরোতেই দিতাম না। আমরা আপনাকে বেরোতে দিয়েছি, এটাই আপনার সৌভাগ্য।’ এটাই প্রথম নয়, এর আগেও এমন ঘটনা ঘটেছে।” তিনি বলেন, “আপনি অমিত শাহকে হুমকি দিচ্ছেন না, আপনি গোটা ভারতকেই হুমকি দিচ্ছেন। বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করবে।”

    বিজেপি কর্মী খুন ও অনুপ্রবেশকারী ইস্যুতে তোপ

    সম্বিতের অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা-কর্মীদের দ্বারা পশ্চিমবঙ্গে ৩০০-এরও বেশি বিজেপি কর্মী খুন হয়েছেন। তাঁর দাবি, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর দল তৃণমূল কংগ্রেসের গুন্ডারা পশ্চিমবঙ্গে ৩০০-এর বেশি বিজেপি কর্মীকে হত্যা করেছে। অনুপ্রবেশকারীদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়াতেই তাঁর সমস্যা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গকে ধ্বংস করেছেন।” তাঁর অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী অনুপ্রবেশকারীদের রক্ষা করছেন।

    সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নিয়ে তোপ

    সম্বিত কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অভিযোগকেও সমর্থন করেন। তিনি বলেছিলেন, “পশ্চিমবঙ্গ সরকার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় জমি দিচ্ছে না।” এদিন সে প্রসঙ্গ টেনেই সম্বিত বলেন, “অমিত শাহ স্পষ্টভাবে বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গে দুর্নীতি, অবিচার ও অনুপ্রবেশকারী ইস্যুতে রাজনীতি চলছে। মমতা সরকার সীমান্তে বেড়া দেওয়ার জন্য জমি দিচ্ছে না। ভোটার তালিকা থেকে অনুপ্রবেশকারীদের নাম বাদ পড়ছে বলেই তৃণমূল নেতৃত্ব অস্বস্তিতে।” ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে এ রাজ্যে। মঙ্গলবার শাহ ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একে অপরের বিরুদ্ধে তীব্র বাক্যবাণ ছোড়েন।

    ভয় ও দুর্নীতি তত্ত্বে তৃণমূলকে শাহি আক্রমণ

    শাহের অভিযোগ, গত ১৪ বছরে পশ্চিমবঙ্গের পরিচয় হয়ে উঠেছে ভয় ও দুর্নীতি। রাজ্যে অবৈধ অভিবাসীদের অনুপ্রবেশ এবং সীমান্তে বেড়া দেওয়ার জন্য জমি না দেওয়ার বিষয়েও তিনি কাঠগড়ায় তোলেন তৃণমূল পরিচালিত সরকারকে। সাংবাদিক সম্মেলনে শাহ বলেছিলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে রাজ্যে দুর্নীতির কারণে উন্নয়ন থমকে গিয়েছে। মোদি সরকারের সমস্ত জনকল্যাণমূলক প্রকল্প এখানে কাটমানি সিন্ডিকেটের শিকার হয়েছে। গত ১৪ বছর ধরে ভয় ও দুর্নীতিই পশ্চিমবঙ্গের পরিচয়।” তিনি এও বলেছিলেন, “২০২৬ সালের ১৫ এপ্রিলের পর পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠিত হলে আমরা বাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির পুনরুজ্জীবন শুরু করব। এই বঙ্গভূমি আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এই মাটি থেকেই বিজেপির ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন।”

    মমতার জবাব

    শাহের অভিযোগের পাল্টা জবাব দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বিজেপি নেতাদের মহাভারতের দুর্যোধন ও দুঃশাসনের সঙ্গে তুলনা করেন। মমতা বলেন, “বাংলায় দুঃশাসন এসেছে। ভোট এলেই দুর্যোধন-দুঃশাসনের আবির্ভাব হয়। শকুনির শিষ্য দুঃশাসন এসেছে তথ্য সংগ্রহ করতে। আজ বলছে, আমি নাকি জমি দিইনি। আমি যদি জমি না দিতাম, তাহলে পেট্রাপোল বা আন্দালে জমি এল কোথা থেকে?” তাঁর দাবি, পেট্রাপোল ও আন্দাল, দুই জায়গায়ই সীমান্তে বেড়ার জন্য জমি দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, এসআইআর এবং অনুপ্রবেশই ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের মূল ইস্যু হয়ে উঠতে চলেছে।

  • Hindu Man Killed: বাংলাদেশে ফের হিন্দু নিধন, ময়মনসিংহে গুলিতে হত নিরাপত্তারক্ষী

    Hindu Man Killed: বাংলাদেশে ফের হিন্দু নিধন, ময়মনসিংহে গুলিতে হত নিরাপত্তারক্ষী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পৈশাচিকভাবে হত্যা করা হয়েছিল বাংলাদেশের (Bangladesh) দীপু চন্দ্র দাস নামে এক হিন্দুকে (Hindu Man Killed)। সেই ঘটনার রেশ পুরোপুরি মিলিয়ে যাওয়ার আগেই ফের হিন্দু নিধন পদ্মাপারের দেশে। নিহত ব্যক্তির নাম বজেন্দ্র বিশ্বাস। বছর চল্লিশের ওই ব্যক্তি ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা উপজেলার একটি পোশাক কারখানায় নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন। সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা নাগাদ মেহরাবাড়ি এলাকার সুলতানা সুইটার্স লিমিটেড কারখানার ভেতরেই সহকর্মীর গুলিতে গুরুতর জখম হন তিনি। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে মৃত ঘোষণা করা হয় তাঁকে।

    আনসার বাহিনীর সদস্য খুন (Hindu Man Killed)

    জানা গিয়েছে, বজেন্দ্র বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অধীন আধাসামরিক বাহিনী আনসার বাহিনীর সদস্য ছিলেন। অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকা এই বাহিনীরই আর এক সদস্য নোমান মিঞা তাঁকে গুলি করে হত্যা করে। পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনার সময় কারখানায় মোট প্রায় ২০ জন আনসার সদস্য কর্মরত ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বজেন্দ্র ও নোমান পাশাপাশি বসেছিলেন। হঠাৎই নোমান একটি শটগান বের করে বজেন্দ্রর বাঁ দিকের উরুতে গুলি চালায়। মাটিতে লুটিয়ে পড়েন ব্রজেন্দ্র। সহকর্মীরা (Bangladesh)দ্রুত ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন (Hindu Man Killed)।

    প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান

    ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আনসার সদস্য এপিসি আজহার আলি বলেন, “ঘটনার সময় নোমান মিঞা ও বজেন্দ্র বিশ্বাস আমার ঘরেই বসেছিলেন। হঠাৎ নোমান বজেন্দ্রের দিকে বন্দুক তাক করে বলে, ‘গুলি করব?’ কথাটা শেষ করেই সে গুলি চালায়। তার পরেই গা ঢাকা দেয় নোমান।” প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, ঘটনার আগে দু’জনের মধ্যে কোনও ধরনের ঝগড়া বা তর্কাতর্কি হয়নি। ময়মনসিংহ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, মঙ্গলবার ভোরে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত নোমান মিঞাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানতে শুরু হয়েছে তদন্ত (Bangladesh)। ময়নাতদন্তের জন্য মৃতদেহটি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

    অব্যাহত হিন্দু নিধন যজ্ঞ

    প্রসঙ্গত, শুধু ডিসেম্বর মাসেই বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের কোনও সদস্যকে হত্যার এটি তৃতীয় ঘটনা। একই সঙ্গে এটি ময়মনসিংহ জেলায় রিপোর্ট হওয়া দ্বিতীয় হত্যাকাণ্ড (Hindu Man Killed)। গত ২৪ ডিসেম্বর বাংলাদেশের কালিমহর ইউনিয়নের হোসেনডাঙা এলাকায় বছর ঊনত্রিশের অমৃত মণ্ডলকে জনতা পিটিয়ে হত্যা করে বলে অভিযোগ। তার আগে, ১৮ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় একটি কারখানায় মিথ্যে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে বছর পঁচিশের দীপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। অভিযোগ, কারখানার এক মুসলমান সহকর্মী তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তোলে। পিটিয়ে খুনের পর উন্মত্ত জনতা তাঁর দেহ একটি গাছে ঝুলিয়ে আগুন লাগিয়ে দেয়।

    মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু ধর্মীয় গোষ্ঠীর, বিশেষ করে হিন্দুদের, ওপর হিংসার ঘটনা বেড়েছে বলেই অভিযোগ। এ নিয়ে দেশটির নাগরিক সমাজের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলিও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে (Hindu Man Killed)। এদিকে, গত সপ্তাহে ভারত সরকার বাংলাদেশে হিন্দু, খ্রিস্টান ও বৌদ্ধ-সহ ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে চলতে থাকা (Bangladesh) নিরবচ্ছিন্ন শত্রুতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। নয়াদিল্লি এও জানিয়ে দিয়েছে, প্রতিবেশী দেশটির পরিস্থিতির ওপর তারা নিবিড় নজর রাখছে।

LinkedIn
Share