Author: pranabjyoti

  • Bhagavad Gita: “ভগবদগীতা ভারতীয় সভ্যতার অবিচ্ছেদ্য অংশ”, রায় মাদ্রাজ হাইকোর্টের

    Bhagavad Gita: “ভগবদগীতা ভারতীয় সভ্যতার অবিচ্ছেদ্য অংশ”, রায় মাদ্রাজ হাইকোর্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “ভগবদগীতা (Bhagavad Gita) কোনও ধর্মীয় গ্রন্থ নয়, বরং এটি নৈতিক বিজ্ঞান এবং ভারতীয় সভ্যতার অবিচ্ছেদ্য অংশ।” ঠিক এমনই মন্তব্য করলেন মাদ্রাজ হাইকোর্টের (Madras HC) বিচারপতি জিআর স্বামীনাথন। তাঁর মতে, ভগবদ গীতার শিক্ষা দিলেই কোনও ট্রাস্টকে ধর্মীয় বলা যাবে না এবং সেই কারণে বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইন (FCRA), ২০১০–এর অধীনে নিবন্ধন অস্বীকার করাও যায় না। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আদালত ভারতীয় চেতনায় গভীরভাবে প্রোথিত যে সত্যটিকে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করেছে, তা হল গীতা কোনও সাম্প্রদায়িক ধর্মগ্রন্থ নয়, এটি একটি সভ্যতাগত জ্ঞানভান্ডার।

    জনকল্যাণমূলক ট্রাস্টের এফসিআরএ আবেদন (Bhagavad Gita)

    এই মামলার সূত্রপাত একটি জনকল্যাণমূলক ট্রাস্টের এফসিআরএ আবেদন খারিজ হওয়া থেকে। সংশ্লিষ্ট ট্রাস্টটি বেদান্ত, সংস্কৃত, যোগশাস্ত্র ও ভগবদগীতার শিক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি প্রাচীন পাণ্ডুলিপি সংরক্ষণের কাজেও যুক্ত ছিল। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক এই আবেদনটি এই অনুমানের ভিত্তিতে খারিজ করে যে, এই কার্যকলাপগুলি ধর্মীয় প্রকৃতির। ঔপনিবেশিক যুগের ভুল ধারণা থেকে উৎসারিত এই আমলাতান্ত্রিক যুক্তিকে সংবিধানসম্মত স্পষ্টতার ভিত্তিতে মাদ্রাজ হাইকোর্ট স্পষ্টভাবে খারিজ করে দেয়।

    ভগবদগীতা কোনও ধর্মীয় গ্রন্থ নয়

    এর পরেই বিচারপতি স্বামীনাথনের মন্তব্য, “ভগবদগীতা কোনও ধর্মীয় গ্রন্থ নয়, বরং এটি নৈতিক বিজ্ঞান এবং ভারতীয় সভ্যতার অবিচ্ছেদ্য অংশ। এটি শুধু একটি আইনি সিদ্ধান্ত নয়, এটি একটি সভ্যতাগত ঘোষণা। গীতা উপাসনা, আচার বা কোনও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কর্তৃত্বের গ্রন্থ নয়। এটি একটি দার্শনিক সংলাপ, যা কর্তব্য, কর্ম, নেতৃত্ব, নৈতিকতা, অনাসক্তি এবং জটিল পরিস্থিতিতে ন্যায়সঙ্গতভাবে (Madras HC) কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় অন্তর্নিহিত শৃঙ্খলার কথা বলে। মন্দির নয়, যুদ্ধক্ষেত্রকে পটভূমি হিসেবে বেছে নেওয়াই প্রতীকী, এটি জীবনের নৈতিক দ্বন্দ্বের প্রতিচ্ছবি, ধর্মীয় বিধান নয় (Bhagavad Gita)।”

    নিষ্কাম কর্মের তত্ত্ব

    হাজার হাজার বছর ধরে ভগবদগীতা ভারতের নৈতিক দিশারি হিসেবে কাজ করে এসেছে। নিষ্কাম কর্মের তত্ত্ব নিঃস্বার্থ জনসেবার ভিত্তি রচনা করেছে। স্বধর্মের ধারণা অধিকার নয়, দায়িত্বের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। কর্মের মধ্যেও সমত্ব বজায় রাখার শিক্ষা ভারতীয় শাসনব্যবস্থা, যুদ্ধনীতি, বিচারব্যবস্থা এবং ব্যক্তিগত আচরণের বোধকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। এই কারণেই মহাত্মা গান্ধী থেকে লোকমান্য তিলক, শ্রী অরবিন্দ থেকে আধুনিক ব্যবস্থাপনা চিন্তাবিদরা, সকলেই গীতার ভাবধারা থেকে প্রেরণা গ্রহণ করেছেন।

    সভ্যতাগত পক্ষপাত

    হাইকোর্টের এই রায় ভারতীয় শাসনব্যবস্থার এক দীর্ঘদিনের অন্তর্নিহিত বৈপরীত্যকে উন্মোচিত করেছে। পাশ্চাত্য দার্শনিক ঐতিহ্য, অ্যারিস্টটল, প্লেটো, কান্ট – নির্বিবাদে ধর্মনিরপেক্ষ জ্ঞান হিসেবে স্বীকৃত হলেও ভারতীয় দার্শনিক ধারাগুলিকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ধর্মীয় তকমা দেওয়া হয়। যোগ আজ বিশ্বজুড়ে একটি সুস্থতা ও কল্যাণমূলক অনুশীলন হিসেবে স্বীকৃত। অথচ ভারতের ভেতরেই তা প্রায়ই আদর্শগত সন্দেহের চোখে দেখা হয়। সংস্কৃত বিশ্বের অন্যতম সূক্ষ্ম ও পরিশীলিত ভাষাতাত্ত্বিক ব্যবস্থাগুলির একটি হলেও, তার শিক্ষাদানকে বহু সময় সাম্প্রদায়িক বলে ভুলভাবে চিহ্নিত করা হয়। বেদান্ত চেতনা ও বাস্তবতার ওপর এক গভীর দার্শনিক অনুসন্ধান, তবু ইউরোপীয় দর্শনশাস্ত্রের সমতুল্য দর্শন হিসেবে তাকে খুব কমই স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এই বৈষম্য ধর্মনিরপেক্ষতা নয়, এটি এক ধরনের সভ্যতাগত পক্ষপাত(Bhagavad Gita)।

    রায় প্রশ্নাতীত

    সংবিধানের দৃষ্টিতে এই রায় প্রশ্নাতীত। সংবিধানের ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদ আইনের সামনে সমতার নিশ্চয়তা দেয় এবং খামখেয়ালি শ্রেণিবিভাগ নিষিদ্ধ করে। কেবল সাংস্কৃতিক উৎসের কারণে ভারতীয় দর্শনের পাঠদানকে পাশ্চাত্য দর্শনের পাঠদানের থেকে আলাদা করে দেখা যায় না। ২৫ ও ২৬ নম্বর অনুচ্ছেদ ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষা করে। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে, ভারতীয় জ্ঞানের প্রতিটি দিককে ধর্মের সংকীর্ণ সংজ্ঞার মধ্যে আবদ্ধ রাখতে হবে। ভারতের সংবিধান রাষ্ট্রকে সভ্যতার প্রতি বিরূপ হতে বলে না, বরং বলে রাষ্ট্রকে ন্যায্য হতে(Madras HC) ।

    প্রক্রিয়াগত শৃঙ্খলার ওপর আদালতের জোর

    এফসিআরএ ব্যবস্থার অধীনে প্রক্রিয়াগত শৃঙ্খলার ওপর আদালতের জোর দেওয়াটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। প্রত্যাখ্যানের আদেশটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের বদলে অনুমাননির্ভর ধারণার ওপর ভিত্তি করে দেওয়া হয়েছিল, এবং পূর্ববর্তী কারিগরি ত্রুটিগুলি, যেগুলি ইতিমধ্যেই আইনের আওতায় নিষ্পত্তি হয়েছিল, অযৌক্তিকভাবে আবার অযোগ্যতার কারণ হিসেবে সামনে আনা হয়। বিদেশি তহবিলের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজনীয়, কিন্তু সেই নিয়ন্ত্রণ যেন আদর্শগত প্রহরায় পরিণত হতে না পারে। আদালত যথার্থভাবেই এই নীতিকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছে যে, জাতীয় নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা ন্যায্যতা, স্পষ্টতা এবং সাংবিধানিক সংযমের সঙ্গে আমাদের সহাবস্থান করতেই হবে (Bhagavad Gita)। ভারত যেভাবে ধর্মনিরপেক্ষতাকে বোঝে, সেই প্রকৃত ধর্মনিরপেক্ষতার অর্থ নিজের ঐতিহ্য মুছে ফেলা নয়। এর অর্থ হল, সব পথের প্রতি সম্মান দেখানো, কিন্তু কাউকেই বিশেষ সুবিধা না দেওয়া। এর মানে হল, এই সত্যকে স্বীকৃতি দেওয়া যে সভ্যতাগত গ্রন্থগুলি বিশ্বাস চাপিয়ে না দিয়েই সর্বজনীন নৈতিকতা দান করতে পারে। ভগবদগীতা ঠিক সেটাই করে। গীতা আসক্তিহীন কর্মের শিক্ষা দেয়, অহংকারহীন নেতৃত্বের কথা বলে, এবং বিদ্বেষহীন কর্তব্য পালনের পথ দেখায়। এই মূল্যবোধগুলি সমাজকে শক্তিশালী করে, বিভক্ত করে না(Madras HC) ।

    মাদ্রাজ হাইকোর্টের রায়

    অতএব, মাদ্রাজ হাইকোর্টের রায়টি শুধু এফসিআরএ নিবন্ধনের তাৎক্ষণিক প্রশ্নেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি ভারতীয় প্রজ্ঞার ভুল ব্যাখ্যার বিরুদ্ধে এক সাংবিধানিক সীমারেখাও টেনে দেয়। এই রায় প্রজাতন্ত্রকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে আধুনিক শাসনব্যবস্থা বৌদ্ধিক বিস্মৃতির ওপর দাঁড়াতে পারে না। গীতাকে সাম্প্রদায়িক ধর্মগ্রন্থ নয়, বরং নৈতিক বিজ্ঞান হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে আদালত সাংবিধানিক ব্যাখ্যাকে সভ্যতাগত বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করেছে (Bhagavad Gita)। ভগবদগীতার শিক্ষা দেওয়া ধর্মপ্রচার নয়, বরং শিক্ষা ও নৈতিক মূল্যবোধের সংক্রমণ হিসেবে পুনরায় নিশ্চিত করে মাদ্রাজ হাইকোর্ট ভারত জাতির প্রতি এক নীরব কিন্তু ঐতিহাসিক সেবা দিয়েছে। এই রায় নিশ্চিত করেছে যে ভারতের আত্মাকে কোনও ব্যুরোক্র্যাটিক অসুবিধা হিসেবে নয়, বরং শক্তির উৎস হিসেবে দেখা হবে।

  • Ethiopia: ইথিওপিয়া সফর সেরে ফিরলেন প্রধানমন্ত্রী, বড় লাভ হল ভারতের

    Ethiopia: ইথিওপিয়া সফর সেরে ফিরলেন প্রধানমন্ত্রী, বড় লাভ হল ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এই প্রথমবার ইথিওপিয়া (Ethiopia) সফরে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (India)। আর তাতেই মাত করে ফেলেছেন বাজি। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, প্রধানমন্ত্রীর এই ইথিওপিয়া সফর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুণগত উত্তরণ ঘটিয়েছে। এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ককে কৌশলগত অংশীদারিত্বে উন্নীত করা হয়েছে এবং বাণিজ্য, নিরাপত্তা, প্রযুক্তি ও জনকেন্দ্রিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতাকে এক সুতোয় গাঁথা হয়েছে। উভয় সরকারের ঘোষিত ফলগুলি স্পষ্টভাবে তুলে ধরছে, কীভাবে নয়াদিল্লি ও আদ্দিস আবাবা (ইথিওপিয়ার রাজধানী) কয়েক দশকের রাজনৈতিক সদিচ্ছাকে বাস্তবে অর্থনৈতিক ও উন্নয়নমূলক সাফল্যে রূপান্তরিত করার চেষ্টা করছে।

    ভারত ও ইথিওপিয়ার সম্পর্ক (Ethiopia)

    ভারত ও ইথিওপিয়ার মধ্যে ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক বরাবরই ঘনিষ্ঠ ছিল। এই সম্পর্ককে আনুষ্ঠানিকভাবে কৌশলগত অংশীদারিত্বে উন্নীত করা সেই ঐতিহ্যকে সমসাময়িক বাস্তবতায় দৃঢ় ভিত্তি দিচ্ছে। এর মাধ্যমে শীর্ষ নেতৃত্ব পর্যায়ে নিয়মিত যোগাযোগ, লোহিত সাগর–হর্ন অব আফ্রিকা অঞ্চলের আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় এবং আদ্দিস আবাবায় অবস্থিত আফ্রিকান ইউনিয়নের সঙ্গে ভারতের একটি শক্তিশালী কূটনৈতিক সেতু গড়ে ওঠার সম্ভাবনার ইঙ্গিত মিলছে। ইথিওপিয়ার জন্যও এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অর্থনৈতিক চাপ ও জটিল আঞ্চলিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের এই সময়ে বহির্বিশ্বের সঙ্গে অংশীদারিত্বকে বৈচিত্র্যময় করার একটি কার্যকর পথ হিসেবেও এই উদ্যোগ কাজ করছে (India)।

    প্রধানমন্ত্রীর সফরের গুরুত্বপূর্ণ দিক 

    প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল নিরাপত্তা সহযোগিতা, বিশেষ করে রাষ্ট্রসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে। রাষ্ট্রসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত সহযোগিতার জন্য একটি ইমপ্লিমেন্টিং অ্যারেঞ্জমেন্ট স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা শান্তিরক্ষায় অন্যতম বৃহৎ সেনা-অবদানকারী দেশ হিসেবে ভারতের অভিজ্ঞতা এবং আফ্রিকা-কেন্দ্রিক মিশনে সেনাদল মোতায়েনের ক্ষেত্রে ইথিওপিয়ার সুনামের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। যৌথ প্রশিক্ষণকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার মাধ্যমে উভয় দেশই পারস্পরিক কার্যক্ষমতা বাড়াতে পারবে এবং রাষ্ট্রসংঘের সেই সব ফোরামে রাজনৈতিক প্রভাব অর্জন করবে, যেখানে শান্তিরক্ষা সংস্কার ও ম্যান্ডেট নিয়ে তীব্র বিতর্ক চলছে।

    সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী লড়াই

    সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী লড়াই এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তাও কৌশলগত আলোচনার অংশ ছিল। এর কারণ হল লোহিত সাগরের (Ethiopia) গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক সংকীর্ণ পথগুলির কাছে ইথিওপিয়ার অবস্থান এবং পশ্চিম ভারত মহাসাগরে ভারতের ক্রমবর্ধমান নৌ উপস্থিতি। আনুষ্ঠানিকভাবে একে কোনও সামরিক জোট বলা না হলেও, এই অংশীদারিত্ব আফ্রিকার হর্ন অঞ্চলে উগ্রপন্থার বিস্তার এবং বিরাট শক্তিগুলির প্রতিযোগিতার বিরুদ্ধে সূক্ষ্মভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।

    অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে এই সফরের লক্ষ্য

    অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে এই সফরের লক্ষ্য হল প্রায় ৫৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের তুলনামূলকভাবে সীমিত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পথে থাকা কিছু বাধা দূর করা। যদিও ভারত ইথিওপিয়ার অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার। শুল্ক বিষয়ে সহযোগিতা ও পারস্পরিক প্রশাসনিক সহায়তা সংক্রান্ত চুক্তির উদ্দেশ্য হল নথিপত্রের জটিলতা কমানো, তথ্য আদান-প্রদান উন্নত করা এবং চোরাচালান বা ভুল ইনভয়েসিংয়ের মতো সমস্যার মোকাবিলা করা, যা উভয় দেশের রাজস্বের ক্ষতি করতে পারে (Ethiopia)।

    ডেটা সেন্টার স্থাপনের জন্য মউ স্বাক্ষরিত

    সমান গুরুত্বপূর্ণ হল ইথিওপিয়ার বিদেশমন্ত্রকে একটি ডেটা সেন্টার স্থাপনের জন্য মউ স্বাক্ষরিত হওয়া। এটি সরাসরি ভারতের ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার রফতানির উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত, যার মধ্যে পরিচয়, লেনদেন (India) ও শাসনব্যবস্থার জন্য নিরাপদ ও স্বল্পব্যয়ী ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম অন্তর্ভুক্ত। অনেক আফ্রিকান দেশই এগুলিকে পুরানো ব্যবস্থা এড়িয়ে দ্রুত এগিয়ে যাওয়ার পথ হিসেবে দেখছে। টেলিকম ও আর্থিক খাতের মতো ক্ষেত্রগুলি উদারীকরণে এগিয়ে থাকা ইথিওপিয়ার জন্য, নিরাপদ ডেটা কাঠামো গড়ে তুলতে ভারতের সহায়তা প্রযুক্তিগত সুবিধার পাশাপাশি রাজনৈতিক নিশ্চয়তাও জোগায়।

    জি২০ কমন ফ্রেমওয়ার্কের অধীনে ইথিওপিয়ার ঋণ পুনর্গঠন

    রাজনৈতিক দিক থেকে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ফলগুলির একটি হল জি২০ কমন ফ্রেমওয়ার্কের অধীনে ইথিওপিয়ার ঋণ পুনর্গঠন সংক্রান্ত মউ স্বাক্ষরিত হওয়া। ইথিওপিয়া দীর্ঘদিন ধরেই উচ্চ বৈদেশিক ঋণের চাপ ও বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতির সঙ্গে লড়াই করছে। এই বহুপাক্ষিক প্রক্রিয়ায় ভারতের সমর্থন আদ্দিস আবাবার জন্য বড় ঋণদাতাদের সঙ্গে পুনর্গঠন সংক্রান্ত আলোচনায় একদিকে যেমন নমনীয়তা যোগ করছে, তেমনই আলোচনার বিশ্বাসযোগ্যতাও বাড়াচ্ছে। নয়াদিল্লির দৃষ্টিতে এটি সার্বভৌম ঋণ সংকটে গ্লোবাল সাউথ-বান্ধব একটি দৃষ্টিভঙ্গির উদাহরণ, যা অন্য কিছু বড় শক্তির তথাকথিত অস্বচ্ছ বা নিরাপত্তা-সংযুক্ত ঋণদানের ধারণার স্পষ্ট বিরোধী (Ethiopia)।

    মহাত্মা গান্ধী হাসপাতালের ক্ষমতা বাড়াতে ভারতের প্রতিশ্রুতি

    এই সফরের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হল ‘জনকেন্দ্রিক’ ফলের ওপর জোর। এই শব্দবন্ধটি প্রধানমন্ত্রী নিজেই তাঁর বক্তব্যে বিশেষভাবে তুলে ধরেছেন। আদ্দিস আবাবার মহাত্মা গান্ধী হাসপাতালের ক্ষমতা বাড়াতে ভারতের (India) প্রতিশ্রুতি, বিশেষ করে মাতৃ ও নবজাতক পরিচর্যার ক্ষেত্রে, ইথিওপিয়ার জনস্বাস্থ্য অগ্রাধিকারের সঙ্গে সরাসরি সামঞ্জস্যপূর্ণ। এটি দ্বিপাক্ষিক অংশীদারিত্বের একটি দৃশ্যমান ও উচ্চ-প্রভাবযুক্ত প্রকল্প হিসেবেও সামনে আসে। বিশেষায়িত ইউনিট নির্মাণ, চিকিৎসাকর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং অত্যাবশ্যক চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ – এসব উদ্যোগ শহর ও শহরতলি এলাকার মহিলা ও নবজাতকদের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে (Ethiopia)।

    ইথিওপীয় শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির সংখ্যা দ্বিগুণ

    মানবসম্পদ উন্নয়নের ক্ষেত্রে আইসিসিআর কর্মসূচির আওতায় ইথিওপীয় শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির সংখ্যা দ্বিগুণ করা এবং আইটিইসি কাঠামোর অধীনে এআই বিষয়ক স্বল্পমেয়াদি বিশেষ প্রশিক্ষণ কোর্স চালু করা – এই দুই উদ্যোগ ইথিওপিয়ার অভিজাত মহলের ভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নের দীর্ঘ ঐতিহ্যকে আরও বিস্তৃত করছে। বিশেষত এআই-ভিত্তিক প্রশিক্ষণ কোর্সগুলি আদ্দিস আবাবার প্রযুক্তিনির্ভর স্টার্ট-আপ ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার উচ্চাকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এটি একই সঙ্গে প্রশাসনিক কাঠামোকে উদীয়মান প্রযুক্তি বোঝার ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়া থেকে রক্ষা করবে। এসব উদ্যোগ এমন এক প্রজন্মের ইথিওপীয় পেশাজীবী গড়ে তুলছে, যাঁদের ভারত-অভিজ্ঞতা বাস্তব ও প্রত্যক্ষ – যা কোনও একক বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমেও অর্জন করা সম্ভব নয়, এবং যা ভারতের সফট পাওয়ারকে দীর্ঘমেয়াদে আরও গভীর ও শক্তিশালী করে তোলে।

    গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত পরীক্ষাক্ষেত্র

    একটু পিছনের দিকে তাকালে দেখা যায়, এই সফরের ফলগুলি এটা স্পষ্ট করে যে, ভারত আফ্রিকার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততাকে সমমর্যাদার অংশীদারিত্ব হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে, যার মূল লক্ষ্য সক্ষমতা গঠন, স্থিতিশীলতা এবং স্বনির্ভরতা, কোনও শোষণমূলক চুক্তি নয়। আফ্রিকার একটি জনবহুল রাষ্ট্র হিসেবে (India), আফ্রিকান ইউনিয়নের সদর দফতরের আতিথ্যকারী এবং লোহিত সাগর, নীল নদের অববাহিকা ও বিস্তৃত হর্ন অব আফ্রিকার সংযোগস্থলে অবস্থানকারী ইথিওপিয়া এই মডেলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত পরীক্ষাক্ষেত্র (Ethiopia)। ঋণমকুব, ডিজিটাল পরিকাঠামো, স্বাস্থ্য সহযোগিতা, শিক্ষা এবং নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ – এই সব কিছুকে একত্রিত করে একটি সমন্বিত প্যাকেজে উপস্থাপন করার মাধ্যমে মোদি–আবিই রোডম্যাপ দক্ষিণ–দক্ষিণ সহযোগিতার একটি বিকল্প বয়ান হাজির করছে, এমন একটা সময়ে যখন হর্ন অব আফ্রিকা অঞ্চল এবং বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাপনা উভয়ই চাপের মুখে রয়েছে। যদি এই উদ্যোগগুলির বাস্তব প্রতিফলন ফিল্ড লেভেলে দেখা যায়, যেমন দ্রুততর শুল্ক ছাড়পত্র, কার্যকর একটি ডেটা সেন্টার, আরও ভালোভাবে সজ্জিত সরকারি হাসপাতাল, এবং ভারতীয় সহায়তায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত আরও বেশি ইথিওপীয় ছাত্র ও শান্তিরক্ষী, তাহলে ভারত–ইথিওপিয়ার কৌশলগত অংশীদারিত্ব নয়াদিল্লির জন্য মহাদেশের অন্যত্রও অনুসরণযোগ্য একটি মডেলে পরিণত হতে পারে (Ethiopia) ।

  • Srinivasa Ramanujan: আজ জাতীয় গণিত দিবস, চিনে নিন ভারতের বিস্ময়কর প্রতিভা রামানুজনকে

    Srinivasa Ramanujan: আজ জাতীয় গণিত দিবস, চিনে নিন ভারতের বিস্ময়কর প্রতিভা রামানুজনকে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বহু গণিত প্রতিভার (Maths Genius) জন্মভূমি এই ভারত। এখানেই জন্মেছিলেন শ্রীনিবাস রামানুজনও (Srinivasa Ramanujan)। ১৮৮৭ সালের ২২ ডিসেম্বর কে শ্রীনিবাস আইয়েঙ্গার ও কোমলতাম্মালের ঘরে জন্ম নিয়েছিলেন রামানুজন। শৈশব থেকেই গণিতের প্রতি তাঁর দারুন ঝোঁক। নিয়মিত স্কুলে যাওয়ার বদলে মন্দিরের মণ্ডপে বসে গণিতের সমস্যা সমাধান করতেন তিনি। শোনা যায়, গণিতের কোনও সমস্যার সমাধান করতে না পারলে তিনি তাঁর উত্তর খুঁজে পেতেন স্বপ্নের মধ্যেই। গণিতের প্রতি তাঁর এই অগাধ ভালোবাসার জন্যই স্কুলের অন্যান্য বিষয়গুলিতে তিনি প্রায়ই ফেল করতেন। মাত্র তেরো বছর বয়সেই রামানুজন জটিল উপপাদ্য আবিষ্কার করতে শুরু করেন। সেগুলি লিপিবদ্ধ করতেও শুরু করেন। কাগজ দুষ্প্রাপ্য ছিল বলে তিনি স্লেটে সমস্ত গণনা করে নিতেন। খাতায় লিখে রাখতেন কেবল গুরুত্বপূর্ণ ফল ও গণিতের সারাংশ।

    চাকরির সন্ধানে রামানুজন (Srinivasa Ramanujan)

    ১৯০৯ সালে রামানুজন বিয়ে করেন জানকীঅম্মলকে। জীবিকা নির্বাহের জন্য তিনি চাকরির সন্ধান করতে শুরু করেন। এই সময়েই তাঁর সঙ্গে পরিচয় হয় ভারতীয় গণিত সমিতির প্রতিষ্ঠাতা ভি রামস্বামী আয়ারের। তিনি চাকরি করতেন রাজস্ব দফতরে। সেখানেই চাকরির জন্য আবেদন করেছিলেন রামানুজন। রামানুজনের খাতার বিষয়বস্তু দেখে তিনি বিস্মিত হয়ে যান। তরুণ প্রতিভার অসাধারণ ক্ষমতা আঁচ করে আয়ার রামানুজনকে মাদ্রাজের বিভিন্ন গণিতবিদ বন্ধুদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। ১৯১২ সালের ১ মার্চ রামানুজন মাদ্রাজ পোর্ট ট্রাস্টের প্রধান হিসাবরক্ষকের দফতরে চাকরি পান। তাঁর বস স্যার ফ্রান্সিস স্প্রিং ও সহকর্মী নারায়ণ আয়ার তাঁকে গণিতচর্চা চালিয়ে যেতে উৎসাহিত করতে থাকেন।

    কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশে যাত্রা

    ১৯১৩ সালের জানুয়ারি মাসে রামানুজন কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রখ্যাত ইংরেজ গণিতবিদ জিএইচ হার্ডিকে একটি চিঠি লেখেন। প্রথমে পাঠানো সূত্রগুলির কয়েকটি হার্ডি বুঝতে পারলেও, বাকিগুলির জটিলতা দেখে সেগুলিকে তাঁর অবিশ্বাস্য বলে মনে হয়েছিল। তবে রামানুজন প্রেরিত ৯ পৃষ্ঠার পাণ্ডুলিপি গভীরভাবে অধ্যয়ন করার পর তিনি নিশ্চিত হন যে কাজগুলি সম্পূর্ণ নির্ভুল এবং মৌলিক। তিনি বুঝতে পারেন, এত গভীর উপপাদ্য কেবলই কল্পনার ফল হতে পারে না। বহু বোঝানো ও মাতৃআশীর্বাদ লাভের পর অবশেষে ১৯১৪ সালে রামানুজন কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশে যাত্রা করেন (Srinivasa Ramanujan)।

    রয়্যাল সোসাইটির ফেলো

    বিদেশে রামানুজন অসাধারণ কৃতিত্ব অর্জন করেন। রয়্যাল সোসাইটির ফেলো নির্বাচিত হন তিনি। রামানুজন হলেন দ্বিতীয় ভারতীয় এবং সর্বকনিষ্ঠদের অন্যতম, যিনি এই সোসাইটির ফেলো নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯১৮ সালের ১৩ অক্টোবর তিনি কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রিনিটি কলেজের ফেলো নির্বাচিত হওয়া প্রথম ভারতীয় হন। দুর্ভাগ্যবশত, যক্ষ্মায় আক্রান্ত হওয়ার ফলে তাঁর স্বাস্থ্যের দ্রুত অবনতি ঘটতে থাকে। ১৯১৯ সালেই তাঁকে ফিরতে হয় নিজের গ্রামে। ১৯২০ সালে মাত্র ৩২ বছর বয়সে প্রয়াত হন গণিতের এই বিস্ময় প্রতিভা (Maths Genius)।

    গাণিতিক অবদান

    রামানুজনের গাণিতিক অবদান তাঁর মৃত্যুর বহু পরেও টিকে রয়েছে এবং আজও বিশ্বজুড়ে গবেষকদের বিস্মিত ও অনুপ্রাণিত করে চলেছে। গণিতে প্রায় কোনও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকলেও, তিনি সম্পূর্ণভাবে স্বশিক্ষিত হয়ে বিষয়টির ওপর অসাধারণ দক্ষতা অর্জন করেছিলেন (Srinivasa Ramanujan)। রামানুজন ছিলেন আক্ষরিক অর্থেই এক ধর্মপ্রাণ হিন্দু। তিনি তাঁর সব আবিষ্কারের কৃতিত্ব দিতেন পারিবারিক আরাধ্য দেবী নামগিরির মহালক্ষ্মীকে। তিনি বলেছিলেন, “আমার কাছে কোনও সমীকরণের কোনও অর্থ নেই, যদি তা ঈশ্বরের কোনও ভাবনার প্রকাশ না হয়।” প্রাতিষ্ঠানিক কোনও শিক্ষা সেই অর্থে ছিল না রামানুজনের। তবুও তিনি আবিষ্কার করেছিলেন সংখ্যা তত্ত্ব, যুগান্তকারী অবদান রেখেছিলেন অনন্ত ধারা এবং কন্টিনিউড ফ্র্যাকশনের ক্ষেত্রে। তাঁর সূত্র ও ধারণাগুলি আজও গণিত ও পদার্থবিদ্যার বিভিন্ন শাখায় ব্যবহৃত হয়। তিনিই প্রথম ‘পাই’য়ের মান বের করে চমকে দেন বিশ্বকে (Maths Genius)।

    ‘জাতীয় গণিত দিবস’

    বর্তমানে কুম্ভকোনামের সরঙ্গপাণি সন্নিধি স্ট্রিটে অবস্থিত তাঁর পৈতৃক বাড়িটিতে তাঁর স্মরণে একটি জাদুঘরে পরিণত করা হয়েছে। তাঁর জন্মদিন ২২ ডিসেম্বর। তামাম ভারতে দিনটি পালিত হয় ‘জাতীয় গণিত দিবস’ হিসেবে। তিনি ছিলেন এমন এক প্রতিভা, যিনি কেবল অসীমকে বোঝেননি, বরং অসীমের সঙ্গেই একাত্ম হয়ে গিয়েছিলেন। গণিত জগৎ আজও তাঁর কাছে গভীরভাবে ঋণী। বোধহয়, সেই কারণেই সুইডেন এবং জার্মানির মতো দেশগুলিতেও প্রতি বছর এই ভারতীয় প্রতিভাকে সম্মান জানাতে গাণিতিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয় (Srinivasa Ramanujan)। আর্যভট্ট ও বরাহমিহিরের ঢের পরেও যে রামানুজন এবং তাঁর কালজয়ী তত্ত্বসমূহ আজও বিশ্ব গণিতকে পথ দেখিয়ে চলেছে, এই গৌরব ভারতবাসীদের জন্য গর্বের বিষয় বই কি (Maths Genius)!

  • Indian Defence: ভারতের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রফতানির উন্নতি, কৌশলগত বিকাশের বার্তা কেন্দ্রের

    Indian Defence: ভারতের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রফতানির উন্নতি, কৌশলগত বিকাশের বার্তা কেন্দ্রের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রতিরক্ষা রফতানি দু’টি দেশের মধ্যে সাধারণ কোনো বাণিজ্যিক লেনদেন (Indian Defence) নয়। এটি আসলে কৌশলগত সম্পর্কের এক বার্তা, যার মাধ্যমে পারস্পরিক আস্থা, প্রযুক্তি ও রাজনৈতিক অভিপ্রায় প্রকাশ পায়। কোনও (Strategic Development) দেশ যখন সামরিক সরঞ্জাম কেনে, তখন প্রকৃতপক্ষে সে একটি দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কের সূচনা করে। এর মধ্যে প্রশিক্ষণ, সহায়তা ও কার্যকরী সমন্বয়ের বিষয়গুলিও অন্তর্ভুক্ত থাকে। প্রতিরক্ষা রফতানি একটি দেশের কৌশলগত পরিসরকেও নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করে।

    ভারতের প্রতিরক্ষা রফতানি খাতে প্রবেশ (Indian Defence)

    এই প্রেক্ষাপটে ভারতের প্রতিরক্ষা রফতানি খাতে প্রবেশ করা ছিল অত্যন্ত জরুরি। বর্তমান বৈশ্বিক প্রতিরক্ষা বাজার নানা কারণে জটিল। নিষেধাজ্ঞা, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন, তার মধ্যে অন্যতম। এমন পরিস্থিতিতে প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় স্লোগান ও বক্তব্যের চেয়ে স্থিতিশীলতা ও বাস্তব সক্ষমতাই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। ২০১৪ সালের পর ভারতীয় প্রতিরক্ষা পণ্যের রফতানিতে এই পরিবর্তন স্পষ্টভাবে দেখা যায়। অতিরিক্ত প্রচার বা আদর্শগত বক্তব্য ছাড়াই নরেন্দ্র মোদির সরকার ধীরে ধীরে নিজেকে একটি বিশ্বাসযোগ্য সরবরাহকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে শুরু করেছে। ভারতের প্রতিরক্ষা রফতানির ক্রমবর্ধমান প্রবণতা মূলত বিশ্বাসযোগ্যতার শক্ত ভিত্তির ওপরেই ধাপে ধাপে গড়ে উঠছে। প্রতিরক্ষা ব্যয়ের ক্ষেত্রে প্রধান শক্তিধর দেশগুলির মধ্যে রয়েছে বিরাট ব্যবধান। বিশ্বজুড়ে সামরিক উপস্থিতির কারণে আমেরিকা ৯৬৮.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় করে শীর্ষে রয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে চিন। প্রতিরক্ষা খাতে এই দেশ ব্যয় করে ৩১৭.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এটি ভারতের ৮৩.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রতিরক্ষা ব্যয়ের প্রায় চার গুণ বেশি (Strategic Development)।

    ভারত বিশ্বের শীর্ষ পাঁচ প্রতিরক্ষা ব্যয়কারী দেশের মধ্যে রয়েছে

    এই বিরাট পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও ভারত বিশ্বের শীর্ষ পাঁচ প্রতিরক্ষা ব্যয়কারী দেশের মধ্যে রয়েছে। চিন বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় অনেক কম বাজেট নিয়ে কাজ করলেও, ভারত একটি অত্যন্ত কঠিন ও সংবেদনশীল ভূ-রাজনৈতিক অঞ্চলের মোকাবিলা করছে (Indian Defence)। এই প্রধান শক্তিগুলির মধ্যে প্রতিরক্ষা ব্যয়ের ব্যবধান জার্মানি দিয়ে শুরু হয়ে প্রথমে রাশিয়া এবং শেষে ভারতে এসে দাঁড়ায়। মাথাপিছু প্রতিরক্ষা ব্যয়ের ক্ষেত্রে চিত্রটি অবশ্য সম্পূর্ণ আলাদা। আমেরিকায় প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় হয় প্রায় ২,৯০০ মার্কিন ডলার, জার্মানি ও রাশিয়ায় এই ব্যয় প্রত্যেকের ক্ষেত্রেই ১,০০০ ডলারের বেশি। বিপুল জনসংখ্যার কারণে চিনের মাথাপিছু প্রতিরক্ষা ব্যয় তুলনামূলকভাবে কম, প্রায় ২২১ মার্কিন ডলার। ভারতের ক্ষেত্রে এই ব্যয় মাত্রই ৫৯.৬ মার্কিন ডলার, যা ওই সব দেশের মধ্যে সর্বনিম্ন। তা সত্ত্বেও পরিসংখ্যান থেকে এটা স্পষ্ট যে, উন্নত দেশগুলির তুলনায় অনেক কম ব্যয় সত্ত্বেও ভারত কীভাবে তার প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি এবং প্রতিরোধমূলক সক্ষমতা বজায় রাখতে পারছে (Indian Defence)।

    জিডিপির শতকরা হার

    প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় সাধারণত জিডিপির শতকরা হারে পরিমাপ করা হয়। এই সূচকটি একটি দেশ তার সামগ্রিক সম্পদের তুলনায় জাতীয় নিরাপত্তাকে কতটা অগ্রাধিকার দেয় (Strategic Development), তা স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। রাশিয়া তার জিডিপির ১৮.৯ শতাংশ ব্যয় করে প্রতিরক্ষা খাতে। এর পরেই রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তারা ব্যয় করে জিডিপির ৯ শতাংশেরও বেশি। আর প্রতিরক্ষা খাতে ভারত ব্যয় করে জিডিপির ৭.৬৩ শতাংশ। চিনের ক্ষেত্রে এর পরিমাণ ৫.০৬ শতাংশ এবং জার্মানিতে ৩.৯৩ শতাংশ। মাথাপিছু প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় তুলনামূলকভাবে কম হওয়া সত্ত্বেও, কৌশলগত প্রয়োজন মেটাতে ভারত সরকার এই ক্ষেত্রে যে শক্তিশালী ও তুলনামূলকভাবে বেশি চেষ্টা করছে, তার প্রমাণ মেলে সরকারি পরিসংখ্যানেই।

    ধীরগতির পর্ব এখন অতীত

    এদিকে, দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে ভারতের প্রতিরক্ষা রফতানি ছিল প্রায় নগণ্য। এর প্রধান কারণ ছিল কঠোর নীতিনির্ধারণ ও এমন ক্রয়ব্যবস্থা, যা কেবলমাত্র অভ্যন্তরীণ বাজারকেন্দ্রিক ছিল। সেই ধীরগতির পর্ব এখন অতীত (Indian Defence)। ২০২৪–২৫ অর্থবর্ষে ভারতের প্রতিরক্ষা রফতানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৩,৬২২ কোটি টাকা। তবে এখানে সংখ্যার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হল প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তন। প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রফতানি এখন আর অ্যাডহক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে পরিচালিত হয় না। অস্থায়ী ছাড়পত্র ব্যবস্থার পরিবর্তে চালু হয়েছে একটি সুসংহত ও শক্তিশালী রফতানি ব্যবস্থা। ইলেকট্রনিক লাইসেন্সিংয়ের মাধ্যমে ছাড়পত্র প্রক্রিয়াও সহজ করা হয়েছে। এতে অনায়াস হয়েছে রফতানি প্রক্রিয়া।

    ৮০টি দেশে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রফতানি ভারতের

    জানা গিয়েছে, ভারত এখন ৮০টি দেশে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও যন্ত্রাংশ রফতানি করতে শুরু করেছে, যা ভৌগোলিক বৈচিত্র্য বৃদ্ধি এবং এসব ব্যবস্থার আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে। আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও প্রতিরক্ষা রফতানি ধারাবাহিক ও স্থিতিশীল হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা প্রমাণ করে যে (Strategic Development) এই বিক্রি কোনও চাপের ফলে নয়, বরং বাস্তব প্রয়োজন থেকেই চালিত হচ্ছে। এই সন্ধিক্ষণটি সেই মুহূর্তকে চিহ্নিত করে, যখন ভারতের প্রতিরক্ষা রফতানি প্রান্তিক অবস্থান থেকে মূলধারায় প্রবেশ করেছে (Indian Defence)।

  • Indian Railways: আবারও বাড়ছে রেলের ভাড়া, তবে লোকাল-মান্থলিতে ছাড়

    Indian Railways: আবারও বাড়ছে রেলের ভাড়া, তবে লোকাল-মান্থলিতে ছাড়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের ভাড়া বাড়াচ্ছে রেল (Indian Railways)। তবে তাতে আমজনতার কোনও ক্ষতি হবে না। কারণ লোকাল ট্রেনের ভাড়া (Train Fares) বাড়ছে না, মান্থলির ভাড়াও থাকছে অপরিবর্তিত। ভাড়া বাড়ছে কেবল দূরপাল্লার যাত্রিবাহী ট্রেনের। দূরপাল্লার যাত্রায় ভাড়ার নয়া কাঠামো প্রকাশ করে রেল জানিয়েছে, নতুন ভাড়া কার্যকর হবে বড়দিনের পরের দিন, ২৬ ডিসেম্বর থেকে।

    নয়া ভাড়া কাঠামো (Indian Railways)

    রেল সূত্রে খবর, ভাড়া বাড়ছে দূরপাল্লার মেইল এবং এক্সপ্রেস ট্রেনের। এসি, নন-এসি এই দুই শ্রেণির সংরক্ষিত টিকিটের ভাড়া বাড়ছে। এটি নির্ধারিত হবে কিলোমিটারের ভিত্তিতে। অসংরক্ষিত টিকিটের ভাড়াও বাড়ছে, তবে সে ক্ষেত্রে থাকছে নির্দিষ্ট নিয়ম। জানা গিয়েছে, নতুন কাঠামো অনুযায়ী, দূরপাল্লার ট্রেনে সাধারণ শ্রেণিতে ২১৫ কিলোমিটার পর্যন্ত যাত্রা করলে অতিরিক্ত ভাড়া গুণতে হবে না। তবে তার পর প্রতি কিলোমিটারে এক পয়সা করে ভাড়া বৃদ্ধি করা হচ্ছে। দূরপাল্লার মেইল এবং এক্সপ্রেসে (নন-এসি) প্রতি কিলোমিটারে দু’পয়সা করে ভাড়া বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশোধিত ভাড়া অনুযায়ী, নন-এসিতে ৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত যাতায়াতের জন্য যাত্রীদের অতিরিক্ত ১০ টাকা করে গুণতে হবে। এসির টিকিটের ক্ষেত্রে প্রতি কিলোমিটারে দু’পয়সা করে ভাড়া বাড়ানো হচ্ছে (Indian Railways)। রেল কর্তাদের আশা, চলতি বছরে নয়া ভাড়া কাঠামোয় রেল অতিরিক্ত প্রায় ৬০০ কোটি টাকা রোজগার করবে।

    ট্রেনের ভাড়া

    প্রসঙ্গত, চলতি বছরে এই নিয়ে দু’বার দূরপাল্লার ট্রেনের ভাড়া বাড়াল রেল। গত জুলাইয়েও কিলোমিটার পিছু ভাড়া বেড়েছিল দূরপাল্লার মেইল এবং এক্সপ্রেস ট্রেনের। সেবার অবশ্য দূরপাল্লার ট্রেনের নন-এসি দ্বিতীয় শ্রেণীর টিকিটের (অসংরক্ষিত টিকিট) ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে আধ পয়সা করে বাড়ানো হয়েছিল। একই সিদ্ধান্ত হয়েছিল স্লিপার এবং প্রথম শ্রেণির অসংরক্ষিত টিকিটের ক্ষেত্রেও। নন-এটি সংরক্ষিত টিকিটের ক্ষেত্রে প্রতি কিলোমিটারে এক পয়সা করে ভাড়া বাড়িয়েছিল রেল। আর এসির ক্ষেত্রে বাড়ানো (Train Fares) হয়েছিল কিলোমিটার পিছু দু’পয়সা করে। বড়দিনের পর থেকে ফের প্রায় সেই একই হারে বাড়ছে রেলের ভাড়া (Indian Railways)।

  • UGC: আবারও ৩ জাল বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকা প্রকাশ করল ইউজিসি

    UGC: আবারও ৩ জাল বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকা প্রকাশ করল ইউজিসি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশজুড়ে ক্রমেই বাড়ছে জাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা (Fake Universities)। কেন্দ্র প্রতিবছরই তার তালিকা প্রকাশ করে শিক্ষার্থীদের স্বার্থে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হল আরও তিন ভুয়ো বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম। এই প্রতিষ্ঠানগুলি হল, দিল্লির ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ম্যানেজমেন্ট সলিউশন, কর্নাটকের সর্বভারতীয় শিক্ষাপীঠ, এবং মহারাষ্ট্রের ন্যাশনাল ব্যাকওয়ার্ডস কৃষি বিদ্যাপীঠ। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) (UGC) জনগণের স্বার্থে এই তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাপারে জারি করেছে সতর্কবার্তা। কমিশনের মতে, এই তিনটি প্রতিষ্ঠানই সরকারি কোনও অনুমোদন ছাড়াই অবৈধভাবে বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছে।

    কী বলছে ইউজিসি (UGC)

    বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের মতে, এই প্রতিষ্ঠানগুলি আইনগত ক্ষমতা ছাড়াই ডিগ্রি দিচ্ছে, যা আদতে লঙ্ঘন করছে ইউজিসি আইন, ১৯৫৬। কমিশন সাফ জানিয়ে দিয়েছে, এই সংস্থাগুলির দেওয়া কোনও ডিগ্রি উচ্চশিক্ষা, সরকারি নিয়োগ বা বেসরকারি চাকরির ক্ষেত্রে বৈধ বলে গণ্য হবে না। সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে ইউজিসি কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে জানিয়েছে যে, স্বীকৃতিহীন প্রতিষ্ঠান  থেকে পাওয়া ডিগ্রির কোনও আইনগত স্বীকৃতি নেই। এই ধরনের ডিগ্রিধারীরা দেশে কিংবা – উভয় ক্ষেত্রেই উচ্চশিক্ষা বা চাকরির জন্য আবেদন করেও প্রত্যাখ্যাত হতে পারেন। ভর্তি হওয়ার আগে যে কোনও কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বীকৃতির অবস্থা যাচাই করে নিতে শিক্ষার্থীদের পরামর্শ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (UGC)। কমিশনের সরকারি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে কোনও কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বীকৃতির অবস্থা যাচাই করে নেওয়া যেতে পারে। সরকারি এই ওয়েবসাইটে স্বীকৃত এবং ভুয়ো বিশ্ববিদ্যালয়ের আপডেটেড তালিকা প্রকাশ করা হয়।

    জাল বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকা

    তিনটি জাল বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকার একেবারে ওপরে রয়েছে দিল্লির ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ম্যানেজমেন্ট সলিউশন। নামের মাধ্যমে ব্যবস্থাপনা শিক্ষার ইঙ্গিত দেওয়া হলেও, এই বিশ্ববিদ্যালয়টি ইউজিসি আইন, ১৯৫৬-এর ধারা ২(এফ) বা ধারা ৩-এর অধীনে স্বীকৃত নয়। ইউজিসির মতে, এই প্রতিষ্ঠানের কোনও বিষয়েই ডিগ্রি দেওয়ার কোনও আইনগত ক্ষমতা নেই। তাই শিক্ষার্থীদের সেখানে ভর্তি না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে (Fake Universities)। কারণ এই প্রতিষ্ঠান থেকে ইস্যু করা যে কোনও ডিগ্রি অবৈধ হিসেবে গণ্য করা হবে। শুধু তাই নয়, ওই ডিগ্রি অ্যাকাডেমিক বা পেশাগত স্বীকৃতির জন্য অযোগ্য বলেও বিবেচিত হবে (UGC)। ওই তালিকার দ্বিতীয় নম্বরে রয়েছে কর্নাটকের তুমকুরের সর্বভারতীয় শিক্ষাপীঠ।তুমকুর জেলার দেবানুর মেইন রোডে অবস্থিত এই বিশ্ববিদ্যালয়টিও চলছে বেআইনিভাবে। ইউজিসি জেনেছে, এই প্রতিষ্ঠানটি কোনও বিধিবদ্ধ অনুমোদন ছাড়াই বেআইনিভাবে ডিগ্রি দিচ্ছে। এটি ইউজিসি আইন, ১৯৫৬ এর অধীনে স্বীকৃত নয়। সর্বভারতীয় কারিগরি শিক্ষা পরিষদ বা অন্য কোনও নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনও এর নেই। তাই এই প্রতিষ্ঠানের দেওয়া সার্টিফিকেট এবং ডিগ্রি চাকরি কিংবা উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে গ্রহণ করা হবে না। ভুয়ো বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকার তৃতীয় নম্বরে রয়েছে মহারাষ্ট্রের ন্যাশনাল ব্যাকওয়ার্ড কৃষি বিদ্যাপীঠ। এই প্রতিষ্ঠানটি মহারাষ্ট্রের সোলাপুর জেলার আক্কলকোট তালুকার তাদওয়াল গ্রামে অবস্থিত (UGC)।

    ইউজিসি আইন, ১৯৫৬

    ইউজিসির তথ্য অনুযায়ী, এই প্রতিষ্ঠানটি কোনও আইনি অনুমোদন ছাড়াই ডিগ্রি দিয়ে আসছে। এটি ইউজিসি আইনের ধারা ২(এফ) এবং ধারা ৩-এর আওতায় স্বীকৃত নয় এবং এআইসিটিই বা অন্য কোনও বিধিবদ্ধ সংস্থার সঙ্গেও এর কোনও সংযোগ নেই। তাই এই প্রতিষ্ঠানে যাঁরা পড়াশোনা করছেন, তাঁদের এই মর্মে সতর্ক করা হয়েছে যে কোনও বৈধ বিশ্ববিদ্যালয় বা নিয়োগকর্তা তাঁদের ডিগ্রিকে মান্যতা দেবে না (Fake Universities)। ইউজিসি আইন, ১৯৫৬ ভারতের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণকারী প্রধান আইন। এই আইন অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়কে স্বীকৃতি দেওয়া, শিক্ষার মান নির্ধারণ করা এবং শিক্ষাদান ও গবেষণার গুণমান নিশ্চিত করার ক্ষমতা ইউনিভার্সিটি গ্রান্টস কমিশনের হাতে ন্যস্ত। কেবলমাত্র ধারা ২(এফ)-এর অধীনে স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান বা ধারা ৩ অনুযায়ী “ডিমড-টু-বি বিশ্ববিদ্যালয়” হিসেবে ঘোষিত প্রতিষ্ঠানই আইনত নিজেদের বিশ্ববিদ্যালয় বলতে পারে এবং ডিগ্রি দিতে পারে। এই ধরনের স্বীকৃতি ছাড়া পরিচালিত যে কোনও প্রতিষ্ঠানকে অননুমোদিত বলে গণ্য করা হয়। শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় ভুয়া বা অননুমোদিত বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে জনসমক্ষে সতর্কবার্তা জারি করা ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতাও ইউজিসিকে দিয়েছে এই আইন (UGC)।

    রাজ্যভিত্তিক ভুয়ো বিশ্ববিদ্যালয়ের আপডেটেড তালিকা

    প্রসঙ্গত, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ইউজিসি তাদের সরকারি ওয়েবসাইটে রাজ্যভিত্তিক ভুয়ো বিশ্ববিদ্যালয়ের আপডেটেড তালিকা প্রকাশ করে। এই তালিকায় এমন সব প্রতিষ্ঠানকে চিহ্নিত করা হয়েছে, যেগুলির আইনগত স্বীকৃতি না থাকা সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয় শব্দটি ব্যবহার করে রীতিমতো ‘কারবার’ চালিয়ে যাচ্ছে। পরিদর্শন বা অভিযোগের মাধ্যমে নতুন তথ্য সামনে এলে কমিশন নিয়মিতভাবে এই তালিকা আপডেট করে। আর্থিক ও শিক্ষাগত ক্ষতির হাত থেকে বাঁচতে ভর্তি হওয়ার আগেই এই তালিকা দেখে (Fake Universities) নিতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পরামর্শ দিয়েছেন ইউজিসি কর্তৃপক্ষ (UGC)।

  • AI Based Tolling System: স্যাটেলাইট-এআই-নির্ভর টোল আদায় ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা কেন্দ্রের

    AI Based Tolling System: স্যাটেলাইট-এআই-নির্ভর টোল আদায় ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা কেন্দ্রের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জাতীয় সড়কগুলিতে টোল ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছে ভারত (AI Based Tolling System)। ২০২৬ সালের শেষাশেষি ন্যাশনাল হাইওয়েতে সম্পূর্ণ স্যাটেলাইট ও এআই-নির্ভর টোল আদায় ব্যবস্থা চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে ঘোষণা করেছেন কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ ও হাইওয়ে মন্ত্রী নিতিন গডকরি। সরকারের এহেন উদ্যোগের ফলে টোল প্লাজায় অপেক্ষার সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে (India) যাবে, সাশ্রয় হবে জ্বালানি, কমবে দূষণ এবং সামগ্রিকভাবে লজিস্টিকস ব্যবস্থার দক্ষতা বাড়বে বলেই আশা বিশেষজ্ঞদের।

    মাল্টি-লেন ফ্রি ফ্লো (AI Based Tolling System)

    এই নয়া ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে মাল্টি-লেন ফ্রি ফ্লো (MLFF) টোলিং সিস্টেমের মাধ্যমে। এটি একটি প্রযুক্তিনির্ভর প্ল্যাটফর্ম, যার সাহায্যে যানবাহন টোল পয়েন্টে না থেমে বা গতি কমানো ছাড়াই চলাচল করতে পারবে। এই উন্নত এএমপিএম টোলিং সিস্টেমে ফাস্ট্যাগ, উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন রিডার, অটোমেটিক নম্বর প্লেট রিকগনিশন (ANPR) ক্যামেরা এবং এআই-ভিত্তিক বিশ্লেষণ একসঙ্গে ব্যবহার করা হবে। এর ফলে যানবাহনের নির্ভুল শনাক্তকরণ ও টোল আদায় নিশ্চিত হবে এবং টোল পয়েন্টে যান চলাচল অবাধ থাকবে।

    সড়ক পরিবহণ

    ২০২৫ সালের ১৭ ডিসেম্বর রাজ্যসভায় জমা দেওয়া একটি লিখিত সরকারি উত্তরের তথ্য অনুযায়ী, সড়ক পরিবহণ ও হাইওয়ে মন্ত্রক ইতিমধ্যেই ভারতের বিভিন্ন জায়গায় মাল্টি-লেন ফ্রি ফ্লো পদ্ধতিতে টোল আদায়ের পাইলট প্রকল্প চালু করেছে (India)। এমএলএফএফ (MLFF) কাঠামোয় গ্যান্ট্রিতে স্থাপিত আরএফআইডি রিডার এবং এএনপিআর ক্যামেরা একসঙ্গে কাজ করে। ফলে একটি দ্বৈত সুরক্ষিত ও অত্যন্ত নির্ভুল টোল আদায় ব্যবস্থা নিশ্চিত হয়। ফাস্ট্যাগ ও নম্বরপ্লেট শনাক্তকরণ প্রযুক্তির মাধ্যমে যানবাহন শনাক্ত করা হয় এবং কোনও শারীরিক বাধা বা টোল বুথ ছাড়াই ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্ট থেকে টোল ফি বাবদ ধার্য করা টাকা কেটে নেওয়া হয় (AI Based Tolling System)।

    বাড়বে গাড়ির গতি

    গডকরি জানিয়েছেন, একবার এই ব্যবস্থা পুরোপুরি কার্যকর হলে যানবাহনগুলি টোল বুথ দিয়ে ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার গতিতেও চলাচল করতে পারবে। এটি বর্তমান ব্যবস্থার থেকে বড় পরিবর্তন, যেখানে টোল বুথ পার হওয়ার সময় গাড়িকে থামতে ও আবার চালু করতে হয়।রাজ্যসভা রিপোর্টের সঙ্গে যুক্ত পরিশিষ্ট অনুযায়ী, কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ টোল প্লাজায় ইতিমধ্যেই কাজ শুরু হয়েছে। সেগুলির মধ্যে রয়েছে, গুজরাটের এনএইচ-৮-এর ভরুচ–সুরাট অংশে চোরিয়াসি, এনএইচ-৪৪-এর পানিপথ–জালন্ধর অংশে ঘারাউন্ডা, দিল্লি–জয়পুর করিডরে মনোহরপুরা, শাহজাহানপুর ও দৌলতপুরায় এবং দিল্লির আরবান এক্সটেনশন রোড–২ করিডরের  মুন্ডকায়।

    সরকার বাধাহীন টোল আদায় ব্যবস্থার বিপুল সুফলের ওপরও ভরসা করছে। মন্ত্রকের করা মূল্যায়ন অনুযায়ী টোল বুথে সারি দেওয়ার প্রয়োজন তুলে দিলে জ্বালানি ব্যবহারে উল্লেখযোগ্য হ্রাস ঘটবে এবং একই সঙ্গে কমবে যানবাহন থেকে নির্গত দূষণের পরিমাণও (AI Based Tolling System)। গডকরির দাবি, জ্বালানি অপচয় কমানো এবং টোল ফাঁকি রোধের মাধ্যমে নতুন প্রযুক্তিটি প্রতি বছর হাজার হাজার কোটি টাকা (India) সাশ্রয়ে সহায়ক হবে। পাশাপাশি, পণ্যের নির্বিঘ্ন চলাচল লজিস্টিকস দক্ষতা বাড়াবে, যার ফলে সামগ্রিক অর্থনৈতিক উৎপাদনশীলতাও বৃদ্ধি পাবে। টোল বুথ ও ব্যারিয়ার না থাকায় পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত খরচও কমবে বলেই আশা। সেক্ষেত্রে কর্মী নিয়োগ ও পরিকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণে আর অতিরিক্ত ব্যয় করতে হবে না (AI Based Tolling System)।

  • PM Modi:  “বিজেপিকে শুধু একবার সুযোগ দিন, দেখুন কত দ্রুত উন্নয়ন হয়”, বললেন মোদি

    PM Modi:  “বিজেপিকে শুধু একবার সুযোগ দিন, দেখুন কত দ্রুত উন্নয়ন হয়”, বললেন মোদি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ঘন কুয়াশার জেরে শনিবার নদিয়ার তাহেরপুরের জনসভায় সশরীরে যোগ দিতে পারলেন না প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। শেষমেশ কলকাতা থেকে ভার্চুয়ালি ওই জনসভায় ভাষণ দেন তিনি। এই ভাষণের মাধ্যমেই (BJP) প্রধানমন্ত্রী বাংলায় জঙ্গলরাজের মুক্তি ও ডাবল ইঞ্জিন সরকারের উন্নয়নের স্বপ্ন দেখান। ছাব্বিশের রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের স্লোগানের আগে প্রচারের সুরও বেঁধে দেন তিনি। বলেন, এবার “আমাদের স্লোগান হল বাঁচতে চাই, বিজেপি তাই।”

    ঘন কুয়াশার জের (PM Modi)

    এদিন, তাহেরপুরের আকাশে বেশ কয়েকবার চক্কর কেটেও নদিয়ার মাটিতে অবতরণ করতে পারেনি প্রধানমন্ত্রীর হেলিকপ্টার। ঘন কুয়াশার জেরে দৃশ্যমানতা কম থাকায় কলকাতায় ফিরে যান প্রধানমন্ত্রী। তার পরেই ভাষণ দেন অডিও মাধ্যমে। বেশ কয়েকটি প্রকল্পের উদ্বোধন এবং শিলান্যাসও করেন প্রধানমন্ত্রী। তার পরেই জানিয়ে দেন, বাংলাকে নিয়ে তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা। তিনি বলেন, “মোদি আপনাদের জন্য অনেক কিছু করতে চায়। পয়সা, ইচ্ছে আর যোজনা, কোনওটাই কমতি নেই। বিজেপিকে শুধু একবার সুযোগ দিয়ে দেখুন। দেখুন আমরা কত দ্রুত উন্নয়ন করি।”

    প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য

    ত্রিপুরার কথা মনে করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী (PM Modi) বলেন, “বামেরা ত্রিপুরাকে তিন দশক ধরে বরবাদ করে দিয়েছিল। কিন্তু ওখানকার মানুষ বিজেপিকে একবার সুযোগ দিতেই ছবিটা বদলে গিয়েছে। ডাবল ইঞ্জিনের সরকার সেখানে উন্নয়নের জোয়ার নিয়ে এসেছে।” তিনি বলেন, “বাংলায়ও বামেদের সরিয়ে মানুষ অনেক আশা নিয়ে তৃণমূলকে ক্ষমতায় নিয়ে এসেছিল। কিন্তু তাঁদের সেই আশা ভঙ্গ হয়েছে (BJP)।” প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ, বামেরা যাওয়ার পর আশা ছিল ভালো কিছু হবে। কিন্তু দুর্ভাগ্য তৃণমূল কংগ্রেস বামেদের যাবতীয় খারাপ গুণগুলিকে আত্মস্থ করে নিয়েছে। ফলে অন্যায়-অবিচার আগের থেকেও কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছে। এবার তৃণমূলের সরকারকে সরিয়ে ডবল ইঞ্জিন সরকারকে সুযোগ দিলে দ্রুত গতিতে বাংলার বিকাশ হবে।

    বিধানসভা নির্বাচনের প্রসঙ্গ

    ত্রিপুরার পর বিহার বিধানসভা নির্বাচনের প্রসঙ্গও টানেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে বিজেপির বিপুল জয়ের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “গত মাসে বিহারে এনডিএ সরকার বিরাট জনাদেশ পেয়েছে। তার পরে বলেছিলাম, গঙ্গাজি বিহার থেকে প্রবাহিত হয়ে বাংলায় পৌঁছয়। গঙ্গা বাংলায়ও বিজেপির জয়ের রাস্তা তৈরি করেছে। বিহারে এক সময়ে জঙ্গলরাজ ছিল। বিজেপি তা উপড়ে দিয়েছে (PM Modi)। পশ্চিমবঙ্গে যে মহাজঙ্গলরাজ চলছে, তার থেকে আমাদের মুক্তি চাই। তাই পশ্চিমবঙ্গের সব গ্রাম, শহর, সব গলি ও পাড়া বলছে, বাঁচতে চাই, বিজেপি তাই (BJP)।”

    তৃণমূল কংগ্রেসকে নিশানা

    অনুপ্রবেশকারী প্রশ্নে এদিন আরও একবার তৃণমূল কংগ্রেসকে নিশানা করেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, “বাংলায় শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস অনুপ্রবেশকারীদের বাঁচানোর জন্যই এসআইআরের বিরোধিতা করছে। তাঁর কথায়, গো ব্যাক অনুপ্রবেশকারী বলা উচিত। কিন্তু ওরা গো ব্যাক মোদি বলে। অনুপ্রবেশকারীদের গো ব্যাক বলে না। ওদের ক্ষেত্রে চুপ করে থাকে।” তৃণমূল পরিচালিত রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগও তোলেন প্রধানমন্ত্রী। টেনে আনেন কাটমানির প্রসঙ্গও। বলেন, “রাজ্যকে সাহায্য করার সদিচ্ছা বা প্রয়োজনীয় অর্থের কোনও অভাব নেই কেন্দ্রের। কিন্তু রাজ্যে এমন এক সরকার চলছে, যারা ‘কাট’ আর ‘কমিশন’ ছাড়া এক পা-ও এগোতে চায় না। এই কমিশন-রাজ বা কাটমানি কালচারের জেরে কেন্দ্রের পাঠানো হাজার হাজার কোটি টাকার প্রজেক্ট ফাইলবন্দি হয়ে পড়ে রয়েছে।” তাঁর অভিযোগ, এই দুর্নীতির কারণেই সাধারণ মানুষ উন্নয়নের সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তিনি বলেন, “বাংলার প্রকৃত উন্নয়ন তখনই সম্ভব, যখন শুধু রাজ্যে ডাবল ইঞ্জিন সরকার আসবে। কেন্দ্র ও রাজ্যে একই সরকারের সমন্বয় থাকলেই রাজ্যের অগ্রগতি নিশ্চিত করা যাবে।” তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে একবার বিজেপির ডাবল ইঞ্জিন সরকার বানিয়ে দেখুন। অনুপ্রবেশকারীরা তৃণমূলের স্নেহধন্য। বহু অনুপ্রবেশকারীকে বাঁচাতেই পশ্চিমবঙ্গে (PM Modi) এসআইআরের (SIR) বিরোধিতা করছে তৃণমূল।”

    ‘বন্দে মাতরম’

    প্রধানমন্ত্রীর ভার্চুয়াল ভাষণে স্বাভাবিকভাবেই উঠে এসেছে ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে বিতর্কের প্রসঙ্গ। সে সম্পর্কে তিনি বলেন, সম্প্রতি বন্দেমাতরমের গুণগান করা হয়েছে সংসদে। এই বাংলায়ই জন্মেছেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। যখন দেশ পরাধীন, বঙ্কিমবাবু তখন স্বাধীনতার মন্ত্র দিয়েছিলেন বন্দে মাতরম। আর এখন বিকশিত ভারতের মন্ত্রও হয়ে উঠেছে এই বন্দে মাতরম। উল্লেখ্য যে, এদিন তাহেরপুরে যেতে না পারার কারণে প্রথমেই ক্ষমা চেয়ে নেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, “জয় নিতাই, বড়রা প্রণাম নেবেন (BJP)। সকলকে শুভেচ্ছা। আবহাওয়া খারাপ থাকায় পৌঁছতে পারিনি। এজন্য ক্ষমাপ্রার্থী (PM Modi)।”

  • Dipu Chandra Das: মিথ্যে অভিযোগে খুন বাংলাদেশের দীপুকে, কী বলছে তাঁর পরিবার?

    Dipu Chandra Das: মিথ্যে অভিযোগে খুন বাংলাদেশের দীপুকে, কী বলছে তাঁর পরিবার?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তিনি পেশায় ছিলেন ঢাকার (Bangladesh) পাইওনিয়ার নিট কম্পোজিট ফ্যাক্টরির এক অতি সাধারণ কর্মী। ধর্মে হিন্দু। বছর পঁচিশের এই দীপু চন্দ্র দাসের (Dipu Chandra Das) রোজগারেই চলত দাসেদের সংসার। বাংলাদেশের ময়মনসিংহ শহরে বৃহস্পতিবার রাতে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে উন্মত্ত জনতা পিটিয়ে খুন করে দীপুকে। ঘটনায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন বাংলাদেশিদের একাংশ। বিশ্বজুড়ে বইছে নিন্দের ঝড়।

    তুমুল উত্তেজনা (Dipu Chandra Das)

    বাংলাদেশের একটি সংবাদমাধ্যমের উদ্ধৃতি, স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গিয়েছে, ধর্ম অবমাননার অভিযোগটি কারখানার ভেতরে এবং আশপাশের এলাকায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। যার জেরে ছড়ায় তুমুল উত্তেজনা। পরে ক্ষুব্ধ জনতা দীপুকে আক্রমণ করে। মারধর করে নির্মমভাবে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর। ভালুকা মডেল থানার তদন্তকারী আধিকারিক আবদুল মালেক জানান, হত্যার পর জনতা ঢাকা–ময়মনসিংহ সড়কের পাশে দীপুর মরদেহ ফেলে দিয়ে তাতে আগুন লাগিয়ে দেয়। এর ফলে সড়কের দু’পাশে যান চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়। শুক্রবারের ঘটনার নিন্দে করেছে মহম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। সরকারের তরফে জারি করা এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “নতুন বাংলাদেশের মধ্যে এই ধরনের হিংসার কোনও জায়গা নেই। এই জঘন্য অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের কাউকেই রেহাই দেওয়া হবে না।”

    রবিলাল দাসের বক্তব্য

    দীপুর বাবা রবিলাল দাস জানান, তাঁর পরিবার প্রথম ঘটনাটির কথা জানতে পারেন (Bangladesh) সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে। তিনি বলেন, “আমরা ফেসবুকে দেখেছিলাম। ফেসবুক থেকেই নানা কথা কানে আসতে শুরু করে। তারপর আরও মানুষ বলতে থাকে। শেষে একজন এসে আমায় বলল, আমার ভাইকে মারধর করা হয়েছে, ভীষণভাবে মারা হয়েছে (Dipu Chandra Das)। তারপর প্রায় আধ ঘণ্টা পরে আমার কাকা এসে জানাল যে ওরা আমার ছেলেকে নিয়ে গিয়েছে। তাকে একটি গাছে বেঁধে রেখেছে।” তিনি জানান, এরপর সেই জনতা তাঁর ছেলের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয়। তার পোড়া দেহ বাইরে ফেলে রাখা হয়েছিল। পোড়া ধড় আর মাথা একসঙ্গে বেঁধে বাইরে রাখা হয়েছিল। দৃশ্যটা যে কী নৃশংস, তা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। কথাগুলি বলেই হাউহাউ করে কেঁদে ফেললেন সদ্য সন্তান হারানো বাবা। পরে নিজেকে খানিক সামলে নিয়ে রবিলাল জানান, এখনও পর্যন্ত তাঁরা সরকারের পক্ষ থেকে কোনও আশ্বাস পাননি। তিনি বলেন, “সরকারের পক্ষ থেকে কেউ কোনওরকম আশ্বাস দেয়নি। কেউ কিছুই বলেওনি (Dipu Chandra Das)।”

    গ্রেফতার ৭

    এদিকে, দীপুকে নৃশংসভাবে মারধর ও খুনের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে র‍্যাব (র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন) গ্রেফতার করেছে (Bangladesh) সাতজনকে। এক্স হ্যান্ডেলে দেওয়া এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ সরকার জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন জায়গায় র‍্যাব-১৪ পরিচালিত একাধিক অভিযানের পর এদের গ্রেফতার করা হয়। ওই ঘটনায় যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে, তারা হল মহম্মদ লিমন সরকার, মহম্মদ তারেক হোসেন, মহম্মদ মানিক মিঞা, এরশাদ আলি, নিজুমউদ্দিন, মহম্মদ আলমগির হোসেন এবং মহম্মদ মিরাজ হোসেন আকন। বিশিষ্ট লেখিকা তথা মানবাধিকার কর্মী তসলিমা নাসরিনের অভিযোগ, দীপু চন্দ্র দাসকে মিথ্যে ধর্ম অবমাননার মামলায় ফাঁসানো হয়েছিল এবং পুলিশের হেফাজতে থাকার পরেও তাঁকে কার্যত ছেড়ে দিতে হয়েছিল।

    তসলিমার বক্তব্য

    এক্স হ্যান্ডেলে তসলিমা লেখেন, দীপু চন্দ্র দাস ছিলেন একজন দরিদ্র শ্রমিক। তাঁর এক মুসলিম সহকর্মী তুচ্ছ একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে দীপুকে শাস্তি দিতে চেয়ে প্রকাশ্যে তাঁর বিরুদ্ধে নবী সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য (Bangladesh) করার মিথ্যে অভিযোগ তোলে (Dipu Chandra Das)। যার জেরে শুরু হয় উন্মত্ত জনতার হিংসা। এতেই সব শেষ হয়ে যায়।” তাঁর অভিযোগ, ক্ষুব্ধ জনতা দীপুর ওপর হামলা চালিয়ে নির্মমভাবে তাঁকে মারধর করে। পরে পুলিশ দীপুকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয় এবং তাঁকে পুলিশি সুরক্ষায় রাখা হয়। দীপুর পরিবারের অবস্থার কথা তুলে ধরে তসলিমা জানান, দীপু ছিলেন তাঁর পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী। তিনি তাঁর প্রতিবন্ধী বাবা, মা, স্ত্রী ও সন্তানের ভরণপোষণ করতেন।

    অন্ধ্রপ্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য

    অন্ধ্রপ্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রী পবন কল্যাণ এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, “ইতিহাস ত্যাগকে স্মরণ করে। কিন্তু আজ যে মাটি একদিন ভারতীয়দের রক্তের বিনিময়ে মুক্ত হয়েছিল, সেই মাটিই এখন নিরীহ সংখ্যালঘুদের রক্তে কলুষিত হচ্ছে। ১৯৭১ সালে আমাদের ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী নিপীড়িতদের পাশে দাঁড়িয়েছিল।” তিনি বলেন, “আমাদের বীর সৈনিকরা শুধু একটি যুদ্ধ লড়েননি, তাঁরা আজকের বাংলাদেশ নামে পরিচিত ভূখণ্ডের লাখ লাখ মানুষের পরিচয় ও মর্যাদার জন্য লড়াই করেছিলেন। বাংলাদেশের জন্ম নিশ্চিত করতে প্রায় ৩,৯০০ জন ভারতীয় সেনা প্রাণ বলি দিয়েছিলেন (Bangladesh)। জখম হয়েছিলেন ১০ হাজারেরও বেশি সৈনিক। অন্যরা যাতে শান্তিতে বাঁচতে পারে, তাই আমরা আমাদের জীবন দিয়েছিলাম (Dipu Chandra Das)।”

  • Mohan Bhagwat: “হিন্দু সংস্কৃতির ঐতিহ্যই হল বৈচিত্র্যের মধ্যেই ঐক্যের অনুসন্ধান”, বললেন ভাগবত

    Mohan Bhagwat: “হিন্দু সংস্কৃতির ঐতিহ্যই হল বৈচিত্র্যের মধ্যেই ঐক্যের অনুসন্ধান”, বললেন ভাগবত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “আমরা স্বেচ্ছায় ভবিষ্যতের দায়িত্ব গ্রহণ করি বা না করি, শেষ পর্যন্ত সেই দায়িত্ব অনিবার্যভাবেই যুবসমাজের কাঁধেই এসে পড়বে। আমরা যদি কেবল নিজেদের জন্যই কাজ করি, তাহলে কি আমি ও আমার পরিবার নিরাপদ থাকতে পারব? যখনই জাতির ওপর সঙ্কট নেমে এসেছে, তখনই সমাজ জেগে উঠেছে। হুন, মুঘল, পাঠান এবং শেষ পর্যন্ত ব্রিটিশ রাজত্বকালের প্রতিটি পর্যায়েই ইতিহাসে এই ছবি বারংবার দেখা গিয়েছে।” নাগাড়ে কথাগুলি বলে গেলেন আরএসএসের সরসংঘচালক মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat)। শিলিগুড়িতে আয়োজিত যুব সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে কথাগুলি বলেন আরএসএস (RSS) প্রধান।

    সামাজিক সংস্কার আন্দোলনের ধারা (Mohan Bhagwat)

    তিনি বলেন, “সমাজে থাকা বৈষম্য ও সংকীর্ণ স্বার্থপরতা দূর করার লক্ষ্যেই বিভিন্ন সামাজিক সংস্কার আন্দোলনের ধারা সৃষ্টি হয়েছে। আমরা কারা? আমাদের আপনজন কারা? এই আত্মপরিচয়-বোধ পুনর্জাগ্রত করতেই দয়ানন্দ সরস্বতী এবং রামকৃষ্ণ–বিবেকানন্দের অনুপ্রেরণায় কাজ শুরু হয়েছিল।” আরএসএসের প্রতিষ্ঠাতা ড. কেবি হেডগেওয়ার সম্পর্কে বলতে গিয়ে ভাগবত বলেন, “অল্প বয়সেই ডক্টরজি নাগপুরের একটি বিদ্যালয়ে বন্দেমাতরম আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। চিকিৎসাশাস্ত্র নিয়ে পড়াশোনার সুযোগে হেডগেওয়ার অনুশীলন সমিতির সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেছিলেন এবং বিপ্লবী আন্দোলনকে পশ্চিম ভারতেও ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। এরপর তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ ওঠে।”

    ডক্টরজির প্রশ্ন

    আত্মপক্ষ সমর্থন করতে গিয়ে ডক্টরজি প্রশ্ন তুলেছিলেন, কোন আইনের ভিত্তিতে ব্রিটিশরা ভারত শাসনের অধিকার লাভ করেছিল? বীর সাভারকর, সুভাষচন্দ্র বসু এবং লোকমান্য তিলকের মতো মহান ব্যক্তিত্বদের মতো ডক্টরজিও উপলব্ধি করেছিলেন যে সমাজ গঠন ছাড়া জাতীয় পুনর্জাগরণের সমস্ত প্রচেষ্টা ব্যর্থ হবে। জাতির সর্বাঙ্গীণ অগ্রগতির লক্ষ্যে তিনি ব্যক্তিত্ব ও চরিত্র গঠনের কাজ শুরু করেছিলেন। সংঘ প্রধান (Mohan Bhagwat) বলেন, “স্বয়ংসেবকরা সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে কাজ করতে করতে নিরবচ্ছিন্নভাবে এগিয়ে চলেছেন। ভারতের প্রতিটি নাগরিকের উচিত ভারতের জন্য বাঁচা, ভারতকে জানা (RSS) এবং ভারতকে গ্রহণ করা। সংঘ হল ভারতের মহান ব্যক্তিত্বদের চিন্তা ও অভিজ্ঞতার সারবত্তাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার একটি প্রক্রিয়া। আমরা বলি, বৈচিত্র্যের মধ্যেই ঐক্যের অনুসন্ধান।”

    স্বয়ংসেবকদের অনুরোধ

    স্বয়ংসেবকদের অনুরোধ করে ভাগবত বলেন, “প্রত্যেকে যেন বাড়িতে সংবিধানের একটি করে কপি রাখেন এবং তা মনোযোগ দিয়ে পড়েন।” তিনি বলেন, “সংঘে আসুন, সংঘকে পর্যবেক্ষণ করুন, যাচাই করুন এবং যদি সব কিছু যথাযথ মনে হয়, তবে সংঘের কার্যক্রমের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করুন। আসুন, আমরা সবাই জাতীয় পুনরুত্থানের এই মহান অভিযানে সক্রিয় অংশগ্রহণকারী হয়ে উঠি।” প্রসঙ্গত, আরএসএসের (RSS) শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে এই যুব সম্মেলনটির আয়োজন করা হয়েছিল। এটি জাতীয় স্তরে আয়োজিত ধারাবাহিক কর্মসূচিরই একটি অংশ (Mohan Bhagwat)।

LinkedIn
Share