Author: suman-das

  • Illegal Construction: রাজু নস্কর, সোনাপাপু ও ফৈয়াজের অবৈধ নির্মাণের ওপর চলছে বুলডোজার, জোর কদমে চলছে ভাঙার কাজ, ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি

    Illegal Construction: রাজু নস্কর, সোনাপাপু ও ফৈয়াজের অবৈধ নির্মাণের ওপর চলছে বুলডোজার, জোর কদমে চলছে ভাঙার কাজ, ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রবিবারের পর সোমবারেও রাজ্য সরকারের (BJP Government) বুলডোজার অ্যাকশন অব্যাহত। কোন্নগরে সরকারি জমি দখল করে গজিয়ে ওঠা তৃণমূলের পার্টি অফিস গুঁড়িয়ে দিয়েছে প্রশাসন। পাশাপাশি কলকাতায় বেলেঘাটার ত্রাস রাজু নস্করের বহুতল গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে শহরের কমপক্ষে ৬ জায়গায় বুলডোজার দিয়ে রাজু নস্কর, সোনা পাপ্পু এবং জাভেদ খানের বেআইনি নির্মাণ এবং বহুতলের ইমারত আগাম নোটিশ দিয়ে ভেঙে ফেলা হয়েছে। দুর্নীতি, তোলাবাজি, জবর দখল, সরকারি সম্পত্তি আত্মসাৎ করার বিরুদ্ধে রাজ্যের নব নির্বাচিত বিজেপি সরকার কড়া অবস্থান নিয়েছে। এই তালিকায় তৃণমূল (Illegal Construction) সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পত্তিও রয়েছে। কালীঘাট রোড এবং হরিশ মুখার্জি রোডের দুটি বাড়িতে বেআইনি নির্মাণের অভিযোগে ইতিমধ্যে নোটিশ জারি করেছে কলকাতা পুরসভার বিল্ডিং বিভাগ।

    প্রশাসনের নাকের ডগায় কীভাবে অবৈধ নির্মাণ (Illegal Construction)

    হুগলি জেলার কোন্নগরের ২০ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত একটি তৃণমূল পার্টি অফিসে চালানো হয়েছে বুলডোজার। স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলর (Illegal Construction) খোকন পালের সেই বেআইনি নির্মাণটি সম্পূর্ণ ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কার্যত সরকারি জায়গা দখল করে তৎকালীন শাসক দলের দলীয় কার্যালয় নির্মাণ করে ভোগদখল করে আসছিলেন এই তৃণমূল নেতা। এবার সরকার বদলে যেতেই চরম বিপাকে তৃণমূলের অবৈধ দখলদারিরা। অপরদিকে, রবিবার কলকাতার কসবা, তিলজলা এবং বেলেঘাটা—এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় একাধিক বেআইনি নির্মাণ ভেঙে ফেলা হয়েছে। তবে সরকারের (BJP Government) এই অভিযানের পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, এতদিন ধরে প্রশাসনের নাকের ডগায় কীভাবে এই ধরনের অবৈধ নির্মাণগুলি সগৌরবে টিকে ছিল? তৃণমূলের শাসনকালে কলকাতা পুরসভা কেন এদের বিরুদ্ধে কোনও কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি? রাজ্যের নবনিযুক্ত পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল খোদ এই প্রশ্নটি উত্থাপন করেছেন। দিকে দিকে তৃণমূলের অবৈধ দখলকারী নেতা-নেত্রীরা এখন ব্যাপক অস্বস্তিতে।

    স্থানীয়দের চোখের সামনেই একটু একটু করে মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছিল বিশালাকার সব বহুতল। যার প্রতিটিই ছিল নিয়মবহির্ভূত এবং সম্পূর্ণ গায়ের জোরে নির্মিত। এই প্রসঙ্গে ক্ষোভ উগরে দিয়ে রাজ্যের নতুন পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, “একটি অত্যন্ত সংকীর্ণ স্থানে নিয়ম লঙ্ঘন করে বহুতল নির্মাণ করতে দেওয়া হয়েছে। এই খবর কি তৎকালীন পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের কাছে ছিল না? ফিরহাদ হাকিম ও তাঁর দলবল, রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কিংবা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়—যাঁরা বড় বড় কথা বলতেন, তাঁরা কি কিছুই জানতেন না? আমরা মাত্র ১৫ দিন ক্ষমতায় এসেই যদি সব জানতে পারি, তবে তাঁরা কেন জানতেন না? আসলে অর্থ ও ঘুষের বিনিময়ে তাঁরা নীরব ছিলেন। যাঁরা এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাঁদের প্রত্যেকের শাস্তি হবে।”

    পুরোদমে বুলডোজার-অ্যাকশন

    রাজ্যে নতুন সরকার (BJP Government) গঠনের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা বা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণের কড়া বার্তা দেন। মুখ্যমন্ত্রীর এই নির্দেশের পরপরই কলকাতা পুরসভা পুরোদমে বুলডোজার-অ্যাকশনে নামে। তিলজলা এলাকার দুটি বহুতলে ইতিমধ্যেই বুলডোজার চালানো হয়েছে। পুরসভা সূত্রে খবর, এই দুটি বহুতলই তৃণমূল বিধায়ক (Illegal Construction) জাভেদ খানের পুত্র ফৈয়াজ আহমেদ খানের। এমনকি খোদ জাভেদ খানের কার্যালয়েও কলকাতা পুরসভার পক্ষ থেকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

    কলকাতা থেকে শুরু করে বিভিন্ন জেলায় তৃণমূল জমানায় রাজ্যজুড়ে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছিল অসংখ্য অবৈধ আবাসন ও নির্মাণ। এই বিপুল পরিমাণ বেআইনি কাজ কি সত্যিই প্রশাসনের অলক্ষ্যে ঘটছিল, তা নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন রয়েই যাচ্ছে। তবে রাজনৈতিক পালাবদলের পর নবনির্বাচিত বিজেপি সরকার যে এই অবৈধ নির্মাণ সংস্কৃতির বিরুদ্ধে শুরু থেকেই অত্যন্ত কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে, তা স্পষ্ট।

    কুলিয়া রোডের দুটি বহুতলে মোট ১৬টি ফ্ল্যাট অবৈধ

    সোমবার তৃণমূল নেতা (Illegal Constructইওন) তথা প্রোমোটার রাজু নস্করের একটি নির্মীয়মাণ বেআইনি বহুতলে কলকাতা পুরসভার পক্ষ থেকে বুলডোজার চালানো হয়। বেলেঘাটার ৩৭ নম্বর বারোয়ারিতলা রোড এবং ১ই ইস্ট কুলিয়া রোডের দুটি বহুতলে মোট ১৬টি ফ্ল্যাট রয়েছে। পুরসভার তদন্তে প্রমাণিত হয় যে, ভবন দুটি সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত ও বেআইনিভাবে নির্মাণ করা হয়েছে। ফলস্বরূপ, পুর কর্তৃপক্ষ আবাসন দুটি ভেঙে ফেলার নোটিশ জারি করে এবং সোমবারই ইস্ট কুলিয়া রোডের বহুতলটির একাংশ বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

    এই ভাঙচুরের খবর পাওয়া মাত্রই সর্বস্বান্ত হওয়ার আশঙ্কায় ফ্ল্যাটের ক্রেতা ও বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। ঠিক সেই সময় রাজু নস্করের এক সহযোগীকে স্কুটার চড়ে ওই এলাকা দিয়ে যেতে দেখে উত্তেজিত বাসিন্দারা তাঁকে ঘিরে ধরেন। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং শুরু হয় তীব্র বাগবিতণ্ডা। অভিযোগ, উত্তেজিত জনতা ওই ব্যক্তিকে মারধরও করে। স্থানীয়দের দাবি, আক্রান্ত ব্যক্তি আদতে একজন দালাল, যিনি রাজু নস্করের রাজনৈতিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসীকে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে আসছিলেন। এদিন এই ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহলের লোকজন।

    বেআইনি জমির ওপর এই বহুতল নির্মাণ

    রাজুর বিরুদ্ধে বিজেপির (BJP Government) অভিযোগ রয়েছে, বেআইনি জমির ওপর এই বহুতল নির্মাণ করা হচ্ছিল এবং তা গ্রাহকদের সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখেই করা হয়েছিল। বুকিংয়ের সময় সমস্ত বৈধ নথিপত্র রয়েছে বলে দাবি করা হলেও, আজ পর্যন্ত তাঁদের কোনও ‘বিল্ডিং প্ল্যান’ বা ‘অ্যাগগ্রিমেন্ট পেপার’ বা চুক্তিপত্র দেওয়া হয়নি; অথচ সম্পূর্ণ টাকা ইতিমধ্যেই হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। বর্তমান সংকটের মুখে ক্রেতারা বারবার রাজুর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাঁর কার্যালয়টি সম্পূর্ণ তালাবন্ধ অবস্থায় রয়েছে।

    জোর কদমে চলছে অবৈধ নির্মাণ ভাঙার কাজ

    পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল (BJP Government), পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে এলাকায় ঘুরে ঘুরে অবৈধ নির্মাণ ভাঙার কাজ পরিদর্শন করেছেন। কোথাও সরু গলির মধ্যে ৬-৭ তলা বিল্ডিং তুলে দেওয়া হয়েছে। কোথাও আবার দুটো বিল্ডিংয়ের মাঝে ৩ ফুটও জায়গা নেই। বিল্ডিং ভাঙার জন্য সেখানে বুলডোজার পর্যন্ত ঢুকতে পারেনি। বাধ্য হয়ে হাতুড়ি দিয়ে ম্যানুয়ালি বিল্ডিং ভাঙার কাজ করছেন পুরসভার কর্মীরা। ২৩ তারিখ বেআইনি বিল্ডিং ভাঙতে নোটিস দিয়েছিল পুরসভা। এরপরেই রবিবার সকাল থেকে পুলিশ, কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে বিল্ডিং ভাঙতে অভিযানে নামে কলকাতা পুরসভা।

  • Trinamool Bhavan: ভোটে ভরাডুবির পর চরম সঙ্কটে তৃণমূল ভবনও! রাজপাট শেষ হতেই ভাড়ার বাড়ি খালি করার নির্দেশ মালিকের

    Trinamool Bhavan: ভোটে ভরাডুবির পর চরম সঙ্কটে তৃণমূল ভবনও! রাজপাট শেষ হতেই ভাড়ার বাড়ি খালি করার নির্দেশ মালিকের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলায় একটি কথা আছে চিরদিন কাহার সমান না যায়, ক্ষমতার দম্ভ মানুষকে অহংকারী করে তোলে। তৃণমূলের সাম্রাজ্যের পতন হয়েছে।  দেড় দশক পর অবশেষে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটেছে বাংলায়। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতাচ্যুত হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। আর শাসনক্ষমতা হারানোর পরপরই আরও এক বড়সড় ধাক্কার সম্মুখীন হল ঘাসফুল শিবির। এবার খোদ দলের অস্থায়ী প্রধান কার্যালয় তথা ‘তৃণমূল ভবন’ (Trinamool Bhavan) ছেড়ে দেওয়ার নোটিশ পেলেন শীর্ষ নেতৃত্ব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerje)। উল্লেখ্য এই ভবন থেকেই অভিষেক রাজ্যের শাসক দলকে নিজের হাতের মুঠোয় করে দল চালাতেন বলে অভিযোগ তৃণমূলেরই একাংশের।

    ইএম বাইপাস সংলগ্ন মেট্রোপলিটন এলাকায় ভাড়া নেওয়া যে বহুতল ভবনটি এতদিন ধরে তৃণমূলের প্রধান কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল, তার মালিক ইতিমধ্যেই জায়গা খালি করার নির্দেশ দিয়েছেন। নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পর ওই ভবনের বাইরে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটায়, মূলত নিরাপত্তার স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

    দু’মাসের মধ্যেই ভবনটি সম্পূর্ণ খালি হবে ভবন (Trinamool Bhavan)

    সূত্রের খবর, এই বিলাসবহুল বহুতলটির মালিক রাজ্যের অন্যতম খ্যাতনামা ডেকরেটার্স সংস্থা ‘মডার্ন ডেকরেটার্স’-এর কর্ণধার মন্টু সাহা। তিনি নিজেই তৃণমূল নেতৃত্বকে মৌখিকভাবে ভবনটি ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি জানিয়েছেন এবং তা খালি করার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমাও বেঁধে দিয়েছেন। মন্টুবাবু নিজে এই নোটিস দেওয়ার কথা স্বীকার করে নিয়ে বলেছেন, তৃণমূল নেতৃত্বের (Mamata Banerje) সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে এবং দলের পক্ষ থেকে তাঁকে স্পষ্ট আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে আগামী দু’মাসের মধ্যেই ভবনটি সম্পূর্ণ খালি করে দেওয়া হবে।

    কোনও রাজনীতি নেই

    রাজ্যে সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনের পর ক্ষমতাচ্যুত তৃণমূলকে কেন এমন নোটিশ দেওয়া হল, তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছিল। তবে সমস্ত জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে মন্টু সাহা স্পষ্ট জানিয়েছেন, এর নেপথ্যে কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য, চাপ বা অন্য কোনও সমীকরণ নেই। তিনি বলেন, ‘‘গত ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরপরই ওই ভবনের (Trinamool Bhavan) বাইরে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। সম্পত্তির কোনও ক্ষতি হলে তো লোকসান আমারই। এর মধ্যে অন্য কোনও রাজনীতি নেই।”

    কোনও ক্ষোভ নেই

    মূলত নিজের সম্পত্তির নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই তিনি তৃণমূলকে এই ভবনটি (Trinamool Bhavan) ছাড়তে বলেছেন। পাশাপাশি তিনি এও নিশ্চিত করেছেন যে, চুক্তি অনুযায়ী বাড়ি ভাড়া বাবদ যাবতীয় বকেয়া তৃণমূল নেতৃত্ব সর্বদা নিয়ম মেনে মিটিয়ে দিয়েছে এবং দলের প্রতি তাঁর ব্যক্তিগত কোনও ক্ষোভ নেই। তবে এই বিষয়ে তৃণমূল শিবিরের পক্ষ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি৷

    দু’বছরের চুক্তিতে এটি নেওয়া

    উল্লেখ্য, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের পর তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব তপসিয়ায় অবস্থিত দলের পুরনো ও মূল কার্যালয়টি সংস্কার করার সিদ্ধান্ত নেয়। পুরনো ভবনটি (Trinamool Bhavan) ভেঙে সেখানে কর্পোরেট ধাঁচের একটি আধুনিক বহুতল নির্মাণের কাজ শুরু হয়। সেই কারণেই বিকল্প কার্যালয় হিসেবে ২০২২ সালে ইএম বাইপাসের মেট্রোপলিটন এলাকার এই ভবনটি ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে মাত্র দু’বছরের চুক্তিতে এটি নেওয়া হলেও, তপসিয়ার মূল ভবনের নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় পরবর্তীতে চুক্তির মেয়াদ আরও দু’বছর বাড়ানো হয়।

    সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের মূল কেন্দ্রবিন্দু

    ফলে বিগত চার বছর ধরে এই মেট্রোপলিটন ভবনটিই ছিল তৃণমূলের সমস্ত রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের মূল কেন্দ্রবিন্দু। এই অস্থায়ী তৃণমূল ভবনেই (Trinamool Bhavan) দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য পৃথক সুসজ্জিত কক্ষের ব্যবস্থা ছিল। দলের গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক বৈঠক, নির্বাচনী রণকৌশল নির্ধারণ এবং সাংবাদিক সম্মেলন—সবই পরিচালিত হতো এখান থেকে। প্রতিদিন দলের প্রথম সারির নেতা, বিধায়ক ও মন্ত্রীরা এখানে সমবেত হতেন। তবে এই গুরুত্বপূর্ণ কার্যালয়টি পরিচালনা ও তত্ত্বাবধানের মূল দায়িত্বে ছিলেন দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি এবং সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার। এখন চরম সঙ্কটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerje)।

    চরম অস্বস্তিতে পড়েছে নেতৃত্ব

    ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছে। শাসনক্ষমতা হারানোর পর এমনিতেই ব্যাকফুটে রয়েছে শাসকদল। তার ওপর দলের মূল নিয়ন্ত্রণকক্ষ তথা এই অস্থায়ী ভবনটি (Trinamool Bhavan) ছেড়ে দিতে হওয়ায় চরম অস্বস্তিতে পড়েছে নেতৃত্ব। যেহেতু তপসিয়ার মূল ভবনের কাজ এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি, তাই মেট্রোপলিটনের এই কার্যালয় ছাড়তে হওয়ায় আগামী দিনে তৃণমূলের সাংগঠনিক কাজকর্ম কোথা থেকে পরিচালিত হবে, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে। আগামী দু’মাসের মধ্যে নতুন কোনও উপযুক্ত অস্থায়ী আস্তানা খুঁজে না পেলে ঘাসফুল শিবিরের দৈনন্দিন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বড়সড় ব্যাঘাত ঘটতে পারে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

  • Ramakrishna 654: “ঠাকুরের কাছে একটি ভক্তপ্রদত্ত চন্দনকাষ্ঠের পাখা ছিল, ঠাকুর সেই পাখাখানি মণির হাতে দিলেন।”

    Ramakrishna 654: “ঠাকুরের কাছে একটি ভক্তপ্রদত্ত চন্দনকাষ্ঠের পাখা ছিল, ঠাকুর সেই পাখাখানি মণির হাতে দিলেন।”

    ৫৩ কাশীপুর বাগানে ভক্তসঙ্গে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ

    চতুর্দশ পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৬, ১৬ই এপ্রিল

    ঠাকুর গিরিশ প্রভৃতি ভক্তসঙ্গে — ভক্তের প্রতি ঠাকুরের স্নেহ

    গিরিশ, লাটু, মাস্টার, বাবুরাম, নিরঞ্জন, রাখাল 

    গিরিশ, লাটু, মাস্টার উপরে গিয়া দেখেন, ঠাকুর শয্যায় বসিয়া আছেন। শশী ও আরও দু-একটি ভক্ত সেবার্থ ওই ঘরে ছিলেন, ক্রমে বাবুরাম, নিরঞ্জন, রাখাল, ইঁহারাও আসিলেন।

    ঘরটি বড়। ঠাকুরের (Ramakrishna) শয্যার নিকট ঔষাধি ও নিতান্ত প্রয়োজনীয় জিনিসাদি রহিয়াছে। ঘরের উত্তরে একটি দ্বার আছে, সিঁড়ি হইতে উঠিয়া সেই দ্বার দিয়া ঘরে প্রবেশ করিতে হয়। সেই দ্বারের সামনাসামনি ঘরের দক্ষিণ গায়ে আর-একটি দ্বার আছে। সেই দ্বার দিয়া দক্ষিণের ছোট ছাদটিতে যাইয়া যায়। সেই ছাদের উপর দাঁড়াইলে বাগানের গাছপালা, চাঁদের আলো, অদূরে রাজপথ ইত্যাদি দেখা যায়।

    ভক্তদের রাত্রি জাগরণ করিতে হয়, তাঁহারা পালা করিয়া জাগেন। মশারি টাঙ্গাইয়া ঠাকুরকে শয়ন করাইয়া যে ভক্তটি ঘরে থাকিবেন, তিনি ঘরের পূর্বধারে মাদুর পাতিয়া কখনও বসিয়া, কখনও শুইয়া থাকেন। অসুস্থতানিবন্ধন ঠাকুরের প্রায় নিদ্রা নাই! তাই যিনি থাকেন, তিনি কয়েক ঘণ্টা প্রায় বসিয়া কাটাইয়া (Kathamrita) দেন।

    আজ ঠাকুরের অসুখ কিছু কম। ভক্তেরা আসিয়া ভূমিষ্ঠ হইয়া প্রণাম করিলেন এবং ঠাকুরের সম্মুখে মেঝের উপর বসিলেন।

    ঠাকুর আলোটি কাছে আনিতে মাস্টারকে আদেশ করিলেন। ঠাকুর গিরিশকে সস্নেহ সম্ভাষণ করিতেছেন।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna) — ভাল আছ? (লাটুর প্রতি) এঁকে তামাক খাওয়া। আর পান এনে দে।

    কিয়ৎক্ষণ পরে আবার বলিলেন, “কিছু জলখাবার এনে দে।”

    লাটু — পানটান দিয়েছি। দোকান থেকে জলখাবার আনতে যাচ্ছে (Kathamrita)।

    ঠাকুর বসিয়া আছেন। একটি ভক্ত কয়গাছি ফুলের মালা আনিয়া দিলেন। ঠাকুর নিজের গলায় একে একে সেগুলি ধারণ করিলেন। ঠাকুরের হৃদয়মধ্যে হরি আছেন, তাঁকেই বুঝি পূজা করিলেন। ভক্তেরা অবাক্‌ হইয়া দেখিতেছেন। দুইগাছি মালা গলা হইতে লইয়া গিরিশকে দিলেন।

    ঠাকুর মাঝে মাঝে জিজ্ঞাসা করিতেছেন, “জলখাবার কি এলো?”

    মণি ঠাকুরকে পাখা করিতেছেন। ঠাকুরের কাছে একটি ভক্তপ্রদত্ত চন্দনকাষ্ঠের পাখা ছিল। ঠাকুর সেই পাখাখানি মণির হাতে দিলেন। মণি সেই পাখা লইয়া বাতাস করিতেছেন। মণি পাখা করিতেছেন, ঠাকুর দুইগাছি মালা গলা হইতে লইয়া তাঁহাকেও দিলেন।

  • TMC Leaders: রাজ্যে পুলিশি তৎপরতা, এক সপ্তাহে ৭০ জনেরও বেশি তৃণমূল নেতা-কর্মী গ্রেফতার, তালিকায় কাউন্সিলর থেকে পঞ্চায়েত সদস্য

    TMC Leaders: রাজ্যে পুলিশি তৎপরতা, এক সপ্তাহে ৭০ জনেরও বেশি তৃণমূল নেতা-কর্মী গ্রেফতার, তালিকায় কাউন্সিলর থেকে পঞ্চায়েত সদস্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত এক সপ্তাহে আইনশৃঙ্খল রক্ষায় ব্যাপক প্রশাসনিক তৎপরতা দেখা যাচ্ছে। আর্থিক অনিয়ম, সরকারি তহবিলের অপব্যবহার, আয় বহির্ভূত সম্পত্তি, সাধারণ মানুষকে হেনস্থা এবং নির্বাচন-পরবর্তী ও পূর্ববর্তী হিংসার মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগে গত সাত দিনে তৃণমূল কংগ্রেসের ৭০ জনেরও বেশি নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ (BJP Bengal)। ধৃতদের মধ্যে অন্যতম ‘প্রভাবশালী’ মুখ প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসু, যিনি কেন্দ্রীয় সংস্থা ইডির হাতে গ্রেফতার হয়েছেন। তাঁর ঘনিষ্ঠ কয়েকজন কাউন্সিলর এবং স্থানীয় নেতাকেও গ্রেফতার করেছে রাজ্য পুলিশ। কেবল শনিবারই রাজ্যজুড়ে অন্তত ১৭ জন তৃণমূল (TMC Leaders) নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    কলকাতা ও বিধাননগরে আইনি পদক্ষেপ (TMC Leaders)

    শনিবার কলকাতা এবং বিধাননগর এলাকা থেকে মোট আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য নাম হল কলকাতা পুরসভার ১২৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তথা তৃণমূল নেতা সুদীপ পোল্লে। তোলাবাজির অভিযোগে বাগুইআটি থানার পুলিশ বিধাননগরের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সম্রাট বড়ুয়াকে গ্রেফতার করেছে। সম্রাট প্রাক্তন বিধায়ক তৃণমূল নেত্রী তথা কীর্তনিয়া অদিতি মুন্সির স্বামী দেবরাজ চক্রবর্তীর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। হাওড়া, হুগলি, নদিয়া, মুর্শিদাবাদ, পশ্চিম বর্ধমান এবং কোচবিহার থেকেও একাধিক নেতাকে (TMC Leaders) গ্রেফতার করা হয়েছে।

    ভোট-পরবর্তী হিংসা ও সরকারি জমি দখলের অভিযোগ (TMC Leaders)

    হাওড়া ও হুগলি

    ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন-পরবর্তী হিংসায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রামীণ হাওড়ার জগৎবল্লভপুর থানার পুলিশ গোবিন্দপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান গুরুপদ মাঝি ও তাঁর ভাই রাজুকে (TMC Leaders) গ্রেফতার করেছে। তাঁদের বিরুদ্ধে বিজেপি কর্মীদের ওপর হামলা ও সম্পত্তি ভাঙচুরের অভিযোগ রয়েছে। ২০২১ সালের হিংসার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে হুগলির দাদপুর থানার পুলিশ হারিট গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল সদস্য আলতাব হোসেন মল্লিককে গ্রেফতার করেছে। হুগলির কোন্নগর পুরসভার ২০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বাবলু পাল ওরফে খোকনকে সরকারি জমি দখল করে দলীয় কার্যালয় নির্মাণ, অবৈধ ব্যবসা এবং জালিয়াতির অভিযোগে গ্রেফতার করেছে উত্তরপাড়া থানার পুলিশ। তাঁকে গ্রেফতার করার সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক (BJP Bengal) দীপাঞ্জন চক্রবর্তী। বিধায়কের অভিযোগ, গত ২০ বছর ধরে ক্ষমতার অপব্যবহারে এই বেআইনি কাজ চলেছে এবং এই উচ্ছেদ প্রক্রিয়ার সম্পূর্ণ খরচ ধৃত কাউন্সিলরের কাছে থেকেই আদায় করা হবে।

    দিয়ায় গ্রেফতার

    নদিয়ার আড়ংঘাটায় সমান্তরাল প্রশাসন চালানো এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ‘সিন্ডিকেট’ থেকে চড়া দামে নির্মাণসামগ্রী কিনতে বাধ্য করার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন তৃণমূল নেতা (TMC Leaders) রমজান আলি মণ্ডল। তাঁর গ্রেফতারির পর পুলিশ (BJP Bengal) তাঁর সহযোগী প্রদীপ সাঁতরাকেও হেফাজতে নিয়েছে। ধানতলা থানার পুলিশ তাঁদের বিরুদ্ধে একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করে রানাঘাট আদালতে পেশ করেছে।

    মুর্শিদাবাদ

    বড়ঞা থানার পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে কুলি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানের স্বামী তথা দাপুটে নেতা আবু বক্করকে (TMC Leaders) গ্রেফতার করেছে। তাঁর বিরুদ্ধে সেলিম বারি নামে এক যুবককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে প্রাণনাশের চেষ্টা-সহ একাধিক অপরাধমূলক মামলা রয়েছে। তাঁকে কান্দি মহকুমা আদালতে তোলা হচ্ছে।

    পশ্চিম বর্ধমান

    পাণ্ডবেশ্বরের ছোড়া পঞ্চায়েতের প্রধানের পর এবার ভোটের সময় সন্ত্রাস ও তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার হলেন পঞ্চায়েত সদস্য ও কোলিয়ারি শ্রমিক সংগঠনের সম্পাদক শেখ কামরুদ্দিন। তবে কামরুদ্দিন তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে একে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ বলে দাবি করেছেন।

    কোচবিহার

    কোচবিহারের দিনহাটায় বিজেপি কর্মীদের মারধর ও অর্থ আদায়ের অভিযোগে দিনহাটা-২ ব্লকের বড় শাকদল গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান ভবরঞ্জন বর্মণকে (TMC Leaders)  গ্রেফতার করেছে সাহেবগঞ্জ থানার পুলিশ। আদালত তাঁর ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। সরকারি আইনজীবী নিহাররঞ্জন গুপ্ত জানান, ২০২৪ সালের নির্বাচন-পরবর্তী হিংসা ও তোলাবাজির সুনির্দিষ্ট অভিযোগের (BJP Bengal) ভিত্তিতেই এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

    এই ভাবেই রাজ্যজুড়ে দুর্নীতিগ্রস্ত, তোলাবাজ এবং ভোট পরবর্তী হিংসায় নেতৃত্ব দেওয়া তৃণমূল নেতাদের গ্রেফতার করে জেলে ভরার কাজ করছে বিজেপি সরকার। সময় যত যাচ্ছে ধরপাকড়ের সংখ্যা আরও বাড়ছে।

  • Keralam: কেরল সরকারের শীর্ষ কর্তার বিরুদ্ধে জাল আইএএস পরিচয় ব্যবহারের অভিযোগ ভিএইচপির

    Keralam: কেরল সরকারের শীর্ষ কর্তার বিরুদ্ধে জাল আইএএস পরিচয় ব্যবহারের অভিযোগ ভিএইচপির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কেরল (Keralam) রাজ্য প্রশাসনের এক শীর্ষকর্তার বিরুদ্ধে ভুয়ো আইএএস (IAS) পরিচয় ধারণ এবং জালিয়াতির গুরুতর অভিযোগ তুলেছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (VHP)। কেরল রাজ্য জনশিক্ষা অধিকর্তা (Director of Public Instruction – DPI) আসিফ কে ইউসুফের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ এনে অবিলম্বে তাঁর পদত্যাগ এবং উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি জানিয়েছে এই সংগঠন। ঘটনায় ব্যাপক শোরগোল রাজ্য রাজনীতিতে।

    নন-ক্রিমি লেয়ার সার্টিফিকেট (Keralam)

    বিশ্ব হিন্দু পরিষদের কেরল রাজ্য নেতৃত্ব এক বিবৃতিতে দাবি করেছেন, আসিফ কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়োগ সংক্রান্ত বিধি লঙ্ঘন করে, এবং ভুয়ো নথির সাহায্যে নিজেকে আইএএস পরিচয় দিয়েছেন। সংগঠনের পক্ষ (Keralam) থেকে আরও অভিযোগ, এর আগেও ইউসুফের ওবিসি (OBC) নন-ক্রিমি লেয়ার সার্টিফিকেট নিয়ে বিতর্ক দানা বেঁধেছিল। সেখানে তিনি নিজের পারিবারিক আয় গোপন করে কেন্দ্রীয় লোকসেবা আয়োগের (UPSC) সুবিধা নিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাই এই ধরনের একজন ব্যক্তিকে কেন সরকারি পদে রাখা হবে?

    প্রশাসন কতটা স্বচ্ছ?

    ভিএইচপি (VHP) নেতৃত্ব কেরল সরকারের সমালোচনা করে আরও জানিয়েছে, এই ধরনের একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল পদে একজন বিতর্কিত এবং জালিয়াতিতে অভিযুক্ত আধিকারিককে বসিয়ে রাখা রাজ্যের প্রশাসনিক স্বচ্ছতাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দেয়। সংগঠনের হুঁশিয়ারি, যদি রাজ্য সরকার অবিলম্বে ওই কর্তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ এবং তাঁকে পদ থেকে অপসারণ না করে, তাহলে তারা রাজ্যজুড়ে বৃহত্তর আন্দোলনে নামবে।

    এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কেরালার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে কেরল (Keralam) রাজ্য সরকার বা সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। প্রসঙ্গত, সম্প্রতি কেরলে বাম শাসনের পতন ঘটিয়ে কংগ্রেস-ইউডিএফ জোট সরকার গড়েছে। রাজ্যে মুসলিম লীগের দল ক্ষমতায় আসতেই হিন্দুদের নানা ধর্মীয় আচার নিয়ে উসকানিমূলক কাজকর্ম শুরু হয়েছে বলেও দাবি ভিএইপির।

  • Pakistan: পাকিস্তানে রেললাইনের কাছে আত্মঘাতী বিস্ফোরণ, নিহত অন্তত ২৪, দায় স্বীকার বালুচ গোষ্ঠীর

    Pakistan: পাকিস্তানে রেললাইনের কাছে আত্মঘাতী বিস্ফোরণ, নিহত অন্তত ২৪, দায় স্বীকার বালুচ গোষ্ঠীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের (Pakistan) দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ বালুচিস্তানের (Baloch Group) একটি রেলওয়ে স্টেশনের কাছে ভয়াবহ বোমা বিস্ফোরণে হত অন্তত ২৪ জন। এই হামলায় জখম হয়েছেন বহু মানুষ। এঁদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। প্রাদেশিক রাজধানী কোয়েটার প্রধান রেলওয়ে স্টেশনের টিকিট কাউন্টারের কাছে এই আত্মঘাতী বিস্ফোরণটি ঘটে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে।

    ঘটনার সময় স্টেশন চত্বরে সেনাকর্মীদের ব্যাপক ভিড় ছিল (Pakistan)

    পুলিশ ও স্থানীয় (Pakistan) প্রশাসন সূত্রে খবর, ট্রেন ছাড়ার নির্ধারিত সময় থাকায় ঘটনার সময় স্টেশন চত্বরে সাধারণ যাত্রী ও সেনাকর্মীদের ব্যাপক ভিড় ছিল। ট্রেনটি কোয়েটার চমন পট্টকে একটি সিগন্যাল পার হওয়ার সময় বিস্ফোরক ভর্তি একটি গাড়ি এর ট্রেনের একটি বগিতে গিয়ে সজোরে ধাক্কা মারে। এর পরেই ঘটে বিস্ফোরণ। বিস্ফোরণের অভিঘাতে প্ল্যাটফর্মের ছাউনির একটি অংশ ভেঙে পড়ে এবং চারপাশ ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আর্তদের উদ্ধার করে কোয়েটার সিভিল হাসপাতালে নিয়ে যান। ওই হাসপাতাল চত্বরে জারি করা হয়েছে জরুরি অবস্থা। নিহতদের মধ্যে অনেক সেনা সদস্য ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরাও রয়েছেন। এঁরা পেশোয়ার যাচ্ছিলেন। সংবাদ সংস্থার দাবি, তাঁরা ঈদের ছুটি কাটাতে যাচ্ছিলেন। বিস্ফোরণের অভিঘাতে ট্রেনের দুটি বগি উল্টে যায়। সঙ্গে সঙ্গেই তাতে ধরে যায় আগুন। 

    অত্যন্ত সুসংগঠিত ফিঁদায়ে হামলা

    এই হামলার দায় স্বীকার (Baloch Group) করেছে ‘বালোচিস্তান লিবারেশন আর্মি’ (BLA) । এক বিবৃতিতে গোষ্ঠীটি দাবি করেছে, রেল স্টেশনে উপস্থিত পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর একটি দলকে লক্ষ্য করেই তারা এই আত্মঘাতী হামলা চালিয়েছে। বিএলএ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “আজ সকালে, বালুচ লিবারেশন আর্মির ফিঁদায়ে অর্থাৎ আত্মত্যাগী ইউনিট মজিদ ব্রিগেড একটি অত্যন্ত সুসংগঠিত ফিঁদায়ে হামলায় কোয়েটা ক্যান্টনমেন্ট থেকে দখলদার বাহিনীর সদস্যদের বহনকারী একটি ট্রেনকে টার্গেট করেছেএই অভিযানের সম্পূর্ণ দায় স্বীকার করছে বালুচ লিবারেশন আর্মি।”

    তীব্র সমালোচনা পাকিস্তানে

    এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন পাকিস্তানের (Pakistan) প্রধানমন্ত্রী ও বালুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী। তাঁরা এই হামলাকে কাপুরুষোচিত আখ্যা দিয়ে নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছেন। দিয়েছেন ঘটনার নেপথ্যে থাকা সন্ত্রাসবাদীদের কঠোর শাস্তির মুখোমুখি করার আশ্বাস। এই ঘটনার পর কোয়েটা-সহ বালুচিস্তান (Baloch Group) প্রদেশজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।

  • Suvendu Adhikari: স্বাস্থ্যখাতে পশ্চিমবঙ্গের জন্য ৩,০০০ কোটি টাকারও বেশি অর্থ বরাদ্দ কেন্দ্রের, জানালেন মুখ্যমন্ত্রী

    Suvendu Adhikari: স্বাস্থ্যখাতে পশ্চিমবঙ্গের জন্য ৩,০০০ কোটি টাকারও বেশি অর্থ বরাদ্দ কেন্দ্রের, জানালেন মুখ্যমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরপরই এল বড় সুখবর। পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে বিপুল পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ করল কেন্দ্রীয় সরকার। একটি নির্দিষ্ট প্রকল্পের প্রথম কিস্তির অর্থ ইতিমধ্যেই রাজ্যে এসে পৌঁছেছে। নবগঠিত বিজেপি সরকারের আশা, এতদিন ধরে বকেয়া থাকা বাকি অর্থও দ্রুত পাওয়া যাবে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) বলেন, “এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জে পি নাড্ডার সঙ্গে তাঁর ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।”

    ২,১০৩ কোটি টাকা মঞ্জুর করেছে (Suvendu Adhikari)

    শনিবার নবান্নের সভাঘরে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari) এই সুখবরটি দেন। তিনি বলেন, “আজ পশ্চিমবঙ্গবাসীর জন্য অত্যন্ত আনন্দের দিন। ‘ন্যাশনাল হেলথ মিশন’ (NHM)-এর আওতায় ভারত সরকার চলতি অর্থবর্ষের জন্য আমাদের ২,১০৩ কোটি টাকা মঞ্জুর করেছে। এর মধ্যে প্রথম কিস্তি বাবদ এক-চতুর্থাংশ অর্থাৎ ৫০০ কোটি টাকা ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকারের তহবিলে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।”

    কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “পূর্বতন সরকারের সময় ২০২৩-২৪ এবং ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষের বরাদ্দ অর্থ রাজ্য নেয়নি। আমি সেই বকেয়া অর্থ ছাড়ার জন্য বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছি। কেন্দ্রীয়মন্ত্রী জানিয়েছেন যে, ২০২১-২২ অর্থবর্ষের ‘ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেট’ (খরচের শংসাপত্র) তাঁরা পাননি। আগামী ৩০ মে-র মধ্যে রাজ্যের স্বাস্থ্যসচিব ও অর্থসচিব তা পাঠিয়ে দিলে, গত দুই অর্থবর্ষের বকেয়া টাকাও দ্রুত মিটিয়ে দেওয়া হবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।”

    যৌথ উদ্যোগে স্বাস্থ্য পরিষেবার

    পাশাপাশি, ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্পেও কেন্দ্রের তরফে পশ্চিমবঙ্গের জন্য ৯৭৬ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)। ফলত, সব মিলিয়ে স্বাস্থ্যখাতে ৩,০০০ কোটি টাকারও বেশি অর্থ মঞ্জুর করেছে কেন্দ্র, যার মধ্যে ৫০০ কোটি টাকা ইতিমধ্যে হস্তান্তরিত হয়েছে। এছাড়া, পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের (15th Finance Commission) তহবিলও শীঘ্রই আসতে চলেছে এবং সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হচ্ছে।

    উল্লেখ্য, কেন্দ্রের কাছ থেকে বকেয়া অর্থ আদায় নিয়ে বিগত সরকারের আমলে দীর্ঘ টানাপোড়েন চলেছে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব বারবার অভিযোগ তুলেছিল যে, রাজ্যের বিজেপি নেতাদের পরামর্শেই কেন্দ্র টাকা আটকে রেখেছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি পশ্চিমবঙ্গের মানুষকে আশ্বস্ত করতে চাই, কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ উদ্যোগে স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে। খুব শীঘ্রই রাজ্যবাসী এর সুফল পেতে শুরু করবেন।”

    উত্তরবঙ্গে এইমস গড়ার প্রস্তাব

    রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো আরও উন্নত করতে পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি জেলায় একটি করে মেডিকেল কলেজ তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari) জানান, বর্তমানে আলিপুরদুয়ার, কালিম্পং, দক্ষিণ দিনাজপুর এবং পশ্চিম বর্ধমান—এই চার প্রশাসনিক জেলায় কোনও মেডিকেল কলেজ নেই। এই জেলাগুলিতে মেডিকেল কলেজ গড়ার জন্য জমি চিহ্নিত করে কেন্দ্রের কাছে দ্রুত প্রস্তাব পাঠাবে নতুন সরকার। এর পাশাপাশি, উত্তরবঙ্গে একটি এইমস (AIIMS) গড়ে তোলার জন্যও প্রস্তাব পাঠানো হবে। সেই সঙ্গে চিকিৎসকদের অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণের (In-house Training) জন্য কেন্দ্রের তিনটি বিশেষ প্রতিনিধি দল রাজ্যে আসবে। শুভেন্দু জানান, বাংলার নবনির্মাণে, বিশেষ করে স্বাস্থ্যক্ষেত্রের উন্নয়নে অর্থ কোনও বাধা হবে না বলে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা তাঁকে আশ্বাস দিয়েছেন।

  • Suvendu Adhikari: ৩ জুনের মধ্যে সমস্ত সরকারি দফতরের শূন্যপদের তালিকা তলব নবান্নের, নয়া নিয়োগের ইঙ্গিত মুখ্যমন্ত্রীর

    Suvendu Adhikari: ৩ জুনের মধ্যে সমস্ত সরকারি দফতরের শূন্যপদের তালিকা তলব নবান্নের, নয়া নিয়োগের ইঙ্গিত মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক স্তরে বড়সড় পদক্ষেপ করল নয়া রাজ্য সরকার। রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি দফতরে দীর্ঘ দিন ধরে পড়ে থাকা বিপুল সংখ্যক শূন্যপদ (Vacancies) পূরণের লক্ষ্যে ৩ জুনের মধ্যে সমস্ত বিভাগের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছে নবান্ন। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরেই শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) সরকারি চাকরিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার বিষয়ে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, এই পদক্ষেপ তারই সূচনা বলে ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের।

    ১ মে পর্যন্ত সমস্ত শূন্যপদের তালিকা (Suvendu Adhikari)

    নবান্ন সূত্রে জারি করা এই বিশেষ নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, রাজ্যের সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক দফতর, ডিরেক্টরেট অফিস এবং আঞ্চলিক কার্যালয়—এই তিনটি স্তরের শূন্যপদের (Vacancies) তথ্য আলাদাভাবে প্রস্তুত করতে হবে। তবে পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশদ বিবরণী প্রতিটি দফতরের নিজস্ব হেফাজতেই সংরক্ষিত থাকবে; নবান্নে শুধুমাত্র সংকলিত রিপোর্টটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে পাঠাতে হবে। এই রিপোর্টে চলতি বছরের ১ মে পর্যন্ত তৈরি হওয়া সমস্ত শূন্যপদের তথ্য অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    তিন বিভাগীয় স্তরে দিতে হবে তথ্য

    রিপোর্ট পেশ করার প্রক্রিয়াটিকে সুশৃঙ্খল করতে রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। জানানো হয়েছে, শূন্যপদের (Vacancies) এই তথ্য শুধুমাত্র ‘এক্সেল স্প্রেডশিট’ (Excel Spreadsheet) আকারে সফ্‌ট কপি হিসেবে জমা দিতে হবে। সম্পূর্ণ তথ্যটিকে তিনটি পৃথক শিটে বিন্যস্ত করতে হবে— ‘এ’ বিভাগে মূল দফতর, ‘বি’ বিভাগে ডিরেক্টরেট এবং ‘সি’ বিভাগে আঞ্চলিক কার্যালয়ের তথ্য থাকবে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, নির্ধারিত এই ফরম্যাটের কোনওরূপ পরিবর্তন ঘটানো যাবে না।

    স্বচ্ছতার সঙ্গে নিয়োগ

    গত সরকারের আমলে শিক্ষক নিয়োগ ও পুরসভা নিয়োগে (Vacancies) ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের দীর্ঘ আইনি জটিলতা এবং প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিলের মতো ঘটনায় রাজ্যের কর্মসংস্থান ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় লাগে কলঙ্কের কালি। মুখ্যমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari) সাফ কথা, নিয়োগ দুর্নীতির কালিমা ঘোচাতে হবে। বিজেপি সরকারের পক্ষ থেকে এই নির্দেশিকা জারির পর মনে করা হচ্ছে যে, নবান্ন অত্যন্ত স্বচ্ছতা ও দ্রুততার সঙ্গে রাজ্যে এক নতুন এবং আইনি জটিলতামুক্ত নিয়োগ প্রক্রিয়ার সূচনা করতে চলেছে।

  • Ramakrishna 653: “নরেন্দ্র সেখানে পঞ্চবটী বৃক্ষমূলে বসিয়া ঈশ্বরচিন্তা করিবেন; সাধন করিবেন, তাই দুই-একটি গুরুভাই সঙ্গে গিয়াছেন”

    Ramakrishna 653: “নরেন্দ্র সেখানে পঞ্চবটী বৃক্ষমূলে বসিয়া ঈশ্বরচিন্তা করিবেন; সাধন করিবেন, তাই দুই-একটি গুরুভাই সঙ্গে গিয়াছেন”

    ৫৩ কাশীপুর বাগানে ভক্তসঙ্গে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ

    ত্রয়োদশ পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৬, ১৬ই এপ্রিল

    শ্রীরামকৃষ্ণ কাশীপুর উদ্যানে — গিরিশ ও মাস্টার

    কাশীপুর বাগানের (Ramakrishna) পূর্বধারে পুষ্করিণীর ঘাট। চাঁদ উঠিয়াছে। উদ্যানপথ ও উদ্যানের বৃক্ষগুলি চন্দ্রকিরণে স্নাত হইয়াছে। পুষ্করিণীর পাশ্চিমদিকে দ্বিতল গৃহ। উপরের ঘরে আলো জ্বলিতেছে, পুষ্করিণীর ঘাট হইতে সেই আলো খড়খড়ির মধ্য দিয়া আসিতেছে, তাহা দেখা যাইতেছে। কক্ষমধ্যে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ শয্যার উপর বসিয়া আছেন। একটি-দুটি ভক্ত নিঃশব্দে কাছে বসিয়া আছেন বা এ-ঘর হইতে ও-ঘর যাইতেছেন। ঠাকুর অসুস্থ, চিকিৎসার্থে বাগানে আসিয়াছেন। ভক্তেরা সেবার্থ সঙ্গে আছেন। পুষ্করিণীর ঘাট হইতে নিচের তিনটি আলো দেখা যাইতেছে। একটি ঘরে ভক্তেরা থাকেন (Kathamrita), তাহার আলো দেখা যাইতেছে। মা ঠাকুরের সেবার্থ আসিয়াছেন। তৃতীয় আলোটি রান্নাঘরের। সেই ঘর গৃহের উত্তরদিকে। উদ্যান মধ্যস্থিত ওই দুতলা বাড়ির দক্ষিণ-পূর্ব কোণ হইতে একটি পথ পুষ্করিণীর ঘাটের দিকে গিয়াছে। পূর্বাস্য হইয়া ওই পথ দিয়া ঘাটে যাইতে হয়। পথের দুই ধারে, বিশেষতঃ দক্ষিণ পার্শ্বে, অনেক ফল-ফুলের গাছ।

    চাঁদ উঠিয়াছে। পুকুরঘাটে গিরিশ, মাস্টার, লাটু আরও দুই-একটি ভক্ত বসিয়া আছেন। ঠাকুরের কথা হইতেছে। আজ শুক্রবার, ১৬ই এপ্রিল, ১৮৮৬, ৪ঠা বৈশাখ, ১২৯৩। চৈত্র শুক্লা ত্রয়োদশী।

    কিয়ৎক্ষণ পরে গিরিশ ও মাস্টার ওই পথে বেড়াইতেছেন ও মাঝে মাঝে কথাবার্তা কহিতেছেন।

    মাস্টার — কি সুন্দর চাঁদের আলো! কতকাল ধরে এই নিয়ম চলছে!

    গিরিশ — কি করে জানলে?

    মাস্টার — প্রকৃতির নিয়ম বদলায় না (Uniformity of Nature) আর বিলাতের লোকেরা নূতন নূতন নক্ষত্র টেলিস্‌কোপ দিয়ে দেখেছে। চাঁদে পাহাড় আছে, দেখেছে।

    গিরিশ — তা বলা শক্ত, বিশ্বাস হয় না।

    মাস্টার — কেন, টেলিস্‌কোপ দিয়ে ঠিক দেখা যায়।

    গিরিশ — কেমন করে বলব (Kathamrita), ঠিক দেখেছে। পৃথিবী আর চাঁদের মাঝখানে যদি আর কোন জিনিস থাকে, তার মধ্যে দিয়ে আলো আসতে আসতে হয়তো অমন দেখায়।

    বাগানে ছোকরা ভক্তেরা ঠাকুরের (Ramakrishna) সেবার জন্য সর্বদা থাকেন। নরেন্দ্র, রাখাল, নিরঞ্জন, শরৎ, শশী, বাবুরাম, কালী, যোগীন, লাটু ইত্যাদি; তাঁহারা থাকেন। যে ভক্তেরা সংসার করিয়াছেন, কেহ কেহ প্রত্যহ আসেন ও মাঝে মাঝে রাত্রেও থাকেন। কেহ বা মধ্যে মধ্যে আসেন। আজ নরেন্দ্র, কালী ও তারক দক্ষিণেশ্বর-কালীবাড়ির বাগানে গিয়াছেন। নরেন্দ্র সেখানে পঞ্চবটী বৃক্ষমূলে বসিয়া ঈশ্বরচিন্তা করিবেন; সাধন করিবেন। তাই দুই-একটি গুরুভাই সঙ্গে গিয়াছেন।

  • Bhojshala: ঐতিহাসিক রায়ের পর প্রথম শুক্রবার ভোজশালায় ‘মহা আরতি’ করলেন হিন্দুরা, ঘরেই নমাজ পড়লেন মুসলিমরা

    Bhojshala: ঐতিহাসিক রায়ের পর প্রথম শুক্রবার ভোজশালায় ‘মহা আরতি’ করলেন হিন্দুরা, ঘরেই নমাজ পড়লেন মুসলিমরা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মধ্যপ্রদেশের ধারের বিতর্কিত ভোজশালা (Bhojshala)-কামাল মৌলা মসজিদ চত্বরকে ‘মন্দির’ হিসেবে ঘোষণা করেছে হাইকোর্ট। এই ঐতিহাসিক রায়ের ঠিক এক সপ্তাহ পর, শুক্রবার ভোজশালা চত্বরে ‘মহা আরতি’র (Maha Aarti) জন্য সমবেত হলেন শত শত হিন্দু পুণ্যার্থী। অন্যদিকে, আদালতের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে কালো ব্যাজ পরে নিজেদের ঘরেই শুক্রবারের জুম্মার নমাজ আদায় করলেন মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ।

    হিন্দুরা কেবল মঙ্গলবার পুজো করতো (Bhojshala)

    গত ১৫ মে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট এক যুগান্তকারী রায়ে জানায়, বিতর্কিত ভোজশালা চত্বরটি আসলে  বাগদেবী সরস্বতীর একটি মন্দির। একই সঙ্গে আদালত প্রত্নতাত্ত্বিক সর্বেক্ষণ (ASI)-এর পুরনো একটি নির্দেশিকা খারিজ করে দেয়, যার মাধ্যমে এতদিন মুসলিম সম্প্রদায়কে প্রতি শুক্রবার ওই চত্বরে নমাজ পড়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।

    হাইকোর্টের এই রায়ের আগে পর্যন্ত, বিগত বহু বছর ধরে হিন্দুরা কেবল মঙ্গলবার সেখানে পুজো (Maha Aarti) করার অনুমতি পেতেন এবং মুসলিমরা প্রতি শুক্রবার নমাজ আদায় করতেন। দুই পক্ষই দীর্ঘদিন ধরে এই স্থাবর সম্পত্তির ওপর নিজেদের অধিকার দাবি করে আসছিল।

    দুই দশকের মধ্যে প্রথম বড় ধর্মীয় সমাবেশ

    আদালতের রায়ের পর এটিই ছিল প্রথম শুক্রবার বা জুম্মার দিন। হিন্দু সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে এই দিনটিকে গত দুই দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে প্রথম বড় আকারের শুক্রবারের ধর্মাচরণ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এই উপলক্ষে ‘ভোজ উৎসব সমিতি’ এবং ‘ভোজশালা (Bhojshala)  মুক্তি যজ্ঞ সমিতি’র উদ্যোগে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে চত্বরে ধর্মীয় অনুষ্ঠান, ভজন-কীর্তন এবং ‘মহা আরতি’র আয়োজন করা হয়।

    ভোজশালা মুক্তি যজ্ঞ সমিতির আহ্বায়ক গোপাল শর্মা বলেন, “ধার এবং তার আশেপাশের এলাকা থেকে আসা পুণ্যার্থীরা অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে সারাদিন ধরে সমস্ত ধর্মীয় আচার ও পুজোয় (Maha Aarti) অংশ নিয়েছেন। গর্ভগৃহসহ চত্বরের বিভিন্ন অংশ ফুল ও আলপনা দিয়ে সাজানো হয়েছিল এবং দর্শনার্থী ও পুণ্যার্থীদের দীর্ঘ লাইন দেখা গিয়েছে।”

    মুসলিম সম্প্রদায়ের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ

    এদিকে, আদালতের এই ধাক্কার পর ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানাতে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ এদিন কামাল মৌলা মসজিদ অংশে যাননি। তার বদলে তাঁরা নিজেদের বাড়ির উঠোন ও ব্যক্তিগত চত্বরে কালো ব্যাজ পরে জুম্মার নমাজ পড়েন।

    স্থানীয় মুসলিম নেতা আব্দুল সামাদ বলেন, “আমরা হাইকোর্টের রায়কে শ্রদ্ধা জানাই, কিন্তু এই সিদ্ধান্তে আমরা সন্তুষ্ট নই। তাই কালো ব্যাজ পরে ঘরে নমাজ পড়ে আমরা আমাদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ নথিভুক্ত করেছি।”

    তিনি আরও  জানান, মুসলিম সম্প্রদায়ের একটি প্রতিনিধি দল সম্প্রতি প্রশাসনের সঙ্গে দেখা করে একটি স্মারকলিপি জমা দিয়েছিল। সেখানে অভিযোগ করা হয়েছিল যে, ভোজশালার (Bhojshala) আশেপাশে কিছু কর্মকাণ্ড হাইকোর্টের নির্দেশিকা লঙ্ঘন করছে। তবে শহরের শান্তি বিঘ্নিত হতে পারে এমন কিছু কর্মসূচি ও অনুমতি প্রশাসন বাতিল করায় তিনি সেই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন।

    নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে ধার

    পরিস্থিতির সংবেদনশীলতা বিবেচনা করে গোটা ধার জেলা (Bhojshala) জুড়ে প্রায় ২,০০০ নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করা হয়েছিল। ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি, সিসিটিভি পর্যবেক্ষণ, গাড়ি তল্লাশি এবং মোবাইল পেট্রোলিংয়ের মাধ্যমে কড়া নজরদারি চালানো হয়।

    ধারের পুলিশ সুপার (SP) শচীন শর্মা বলেছেন, “হাইকোর্টের নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হয়েছে এবং জেলার কোথাও কোনও অপ্রীতিকর ঘটনার খবর মেলেনি। পরিস্থিতি সম্পূর্ণ শান্ত ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।”

LinkedIn
Share