Author: suman-das

  • Sandeshkhali: আদালতের পথে ‘হত্যার ষড়যন্ত্র’ শাহজাহান মামলায় গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী ভোলাকে! জেলে বসেই প্ল্যান?

    Sandeshkhali: আদালতের পথে ‘হত্যার ষড়যন্ত্র’ শাহজাহান মামলায় গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী ভোলাকে! জেলে বসেই প্ল্যান?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ঠিক যেন হিন্দি সিনেমার দৃশ্য! সাক্ষীকে মারতে জেলে বসেই কি প্ল্যান করেছেন সন্দেশখালির (Sandeshkhali) তৃণমূলের কুখ্যাত নেতা শেখ শাহজাহান (Sheikh Sahajahan)? রেশন দুর্নীতি এবং সন্দেশখালিতে নারী নির্যাতন মামলার সাক্ষীকে হত্যার ছক করে ছিলেন। বিজেপি অবশ্য বারবার রাজ্যের জেল প্রশাসনকে তোপ দেগে অভিযোগ করে জানিয়েছে, জেলে বসেই শাহজাহান সন্দেশখালির মামলাকে প্রভাবিত করার গভীর ষড়যন্ত্র করছে। অভিযুক্ত নেতা জেলে থাকলেও তাঁর বিচরণ যে সর্বত্র তা আরও একবার প্রমাণিত বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল। মামলার প্রত্যক্ষ সাক্ষী ছিলেন ভোলানাথ ঘোষ। আদালতে সাক্ষী দিতে যাওয়ার সময় গাড়িতে দুর্ঘটনার শিকার হন। তবে ভোলা প্রাণে বাঁচলেও ছেলের মৃত্যু হয়েছে। বিজেপি অবশ্য গোটা দুর্ঘটনার পিছনে শাহজাহানের প্রত্যক্ষ হাত রয়েছে বলে মনে করছে।

    আগে থেকে পরিকল্পিত হামলা (Sandeshkhali)

    বুধবার, আদালতে ছিল শেখ শাহজাহানের (Sheikh Sahajahan) একটি মামলা। এই মামার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী ছিলেন ভোলা ঘোষ। আজ আদালতে যাচ্ছিলেন মামলার সাক্ষী দিতে। রাস্তায় যাওয়ার সময় ন্যাজাটের কাছে বয়ারমারি পেট্রোল পাম্পের সামনে ভোলার গাড়িতে ধাক্কা মারে একটি ট্রাক। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ছোট ছেলে সত্যজিৎ ঘোষের। একই ভাবে মৃত্যু হয় চালক শাহানুরের। কিন্তু বেঁচে যান ভোলা। তবে নিজে এখনও জানেন না ছেলের মৃত্যু হয়েছে। ট্রাক চালক ধাক্কা মারার পর বাইকে করে পালিয়ে গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। গোটা ঘটনা যে আগে থেকেই পরিকল্পিত তাও দাবি করেছে বিজেপি।

    মামলার সাক্ষীকে খতম করাই উদ্দেশ্য

    বিজেপির অবশ্য দাবি, “শাহজাহানের মামলায় (Sandeshkhali) যেহেতু ভোলা সাক্ষী, তাই তাঁকে খুনের ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। কোর্টে যাওয়ার সময় পরিকল্পিত ভাবে হামলা করা হয়। আগে থেকে প্রিপ্ল্যান্ড্ ছিল। ছেলে এবং তাঁর গাড়ির চালক মারা গিয়েছেন। যে গাড়িতে করে যাচ্ছিলেন সেই গাড়ির কাগজপত্র ঠিক ছিল না। আজকেই ইএমআই-এর তারিখ ছিল।”

    ভোলানাথ ঘোষ একসময়ে শেখ শাহজাহানের (Sheikh Sahajahan) সঙ্গী ছিলেন। পরবর্তীতে নিজেকে সরিয়ে নেন তিনি। ২০২১ সালে শাহজাহানের লোকজন ভোলার বাড়িঘর ভাঙচুর করেছিল। তারপর থেকে ঘরছাড়া ছিলেন। কিন্তু শাহজাহান গ্রেফতার হওয়ার পরেই বাড়িতে ফিরেছিলেন তিনি। ভোলা নিজে বলেন, “বয়ারমারি পার হয়েছি ওই লরিটা সামনে যাচ্ছিল আমাদের গাড়ি এগোচ্ছিল। ডাইরেক্ট এসে আমার গাড়িতে মারল। তারপর আমার গাড়ি জলে চলে গেল। অজ্ঞান হয়ে গেলাম।”

    ‘‘এটা একশ শতাংশ খুন’’

    ভোলার বড় ছেলে বিশ্বজিৎ ঘোষ বলেন, “এটা নিছক দুর্ঘটনা নয়, পরিকল্পিতভাবে ভাবে খুন করা হয়েছে। এটা একশ শতাংশ খুন। আমি যা শুনেছি ট্রাকের ড্রাইভারের নাম আলিম। গারিটা ছিল লাউখালির। আগে থেকে বাবার গাড়ি ফলো করছিল। পাশ থেকে দুবার ধাক্কা দেওয়া হয়। এখানে শাহজাহানের (Sheikh Sahajahan) রাজ চলে, জেলে বসেই নিজের বৌয়ের সঙ্গে গল্প করেন তিনি। শাহজাহানের হয়ে ন্যাজাটের (Sandeshkhali) সবিতা রায় এবং মোসলেম শেখ দাপট চালাচ্ছে। ওদের ষড়যন্ত্রেই এই খুন হয়েছে।”

  • Nadia: মুখ্যমন্ত্রীর সভার আগেই উদ্ধার বস্তা ভর্তি ভোটার কার্ড! এসআইআর আবহে চাঞ্চল্য নদিয়ায়

    Nadia: মুখ্যমন্ত্রীর সভার আগেই উদ্ধার বস্তা ভর্তি ভোটার কার্ড! এসআইআর আবহে চাঞ্চল্য নদিয়ায়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বুধবারে নদিয়ায় (Nadia) সভা করবেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। এদিকে রাজ্যে এসআইআর আবহেই ফের রাশি রাশি ভোটার কার্ড (Voter Cards) উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। ঘটনা ঘটেছে নদিয়ার শান্তিপুরে। জানা গিয়েছে, ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশে আবর্জনার স্তূপ থেকে উদ্ধার হয়েছে বস্তা ভর্তি প্রচুর ভোটার কার্ড। বেশিরভাগ ভোটার কার্ডে লেখা রয়েছে উত্তর ২৪ পরগনার ঠিকানা। রাস্তার ধারে প্রথমে পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় জনতা। এরপর লোকমুখে খবর জানাজানি হতেই ব্যাপক শোরগোল পড়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে জমায়েত হয় প্রচুর জনতা। এরপর স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশে খবর দেয়। অবশেষে পুলিশ এসে উদ্ধার করে কার্ডগুলিকে নিয়ে যায়।

    ৪০০ থেকে ৫০০ ভোটার কার্ড (Nadia)

    এলাকার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, “ফাটা বস্তা দেখে আমাদের সন্দেহ হয়, এরপর পা দিয়ে নাড়া দিতেই ভিতর থেকে গুচ্ছ গুচ্ছ ভোটার কার্ড (Voter Cards) বেরিয়ে আসে। তবে প্রাথমিক ভাবে মনে হচ্ছে এখানে ৪০০ থেকে ৫০০ ভোটার কার্ড হবে। কার্ডের সঙ্গে বেশকিছু কাগজপত্রও পাওয়া গিয়েছে।” উদ্ধার হওয়া এই ভোটার কার্ড কাদের? এখানে কীভাবে এল? এগুলি কি জাল বা ভুয়ো। এই নিয়ে শাসক-বিরোধীদের মধ্যে তীব্র তর্জা শুরু হয়েছে। বুধবার কৃষ্ণনগর গর্ভমেণ্ট কলেজের ময়দানে সভা করবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু তার আগেই এইভাবে ভোটার কার্ড উদ্ধারের ঘটনায় প্রশাসন এবং শাসক দল ব্যাপক অস্বস্তির মধ্যে পড়েছে।

    সক্রিয় জাল ভোটার চক্র

    বিজেপির তরফে রানাঘাট (Nadia) সাংগঠনিক জেলার সম্পাদক সোমনাথ কর বলেছেন, “যে এলাকা থেকেই ওই বস্তাবন্দি কার্ড উদ্ধার হয়েছে সেখানকার পঞ্চায়েত তৃণমূল কংগ্রেসের দখলে। ভোটের সময় এই সব কার্ড নিয়ে ছাপ্পা দেওয়া হতো। বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের ভোটে ক্ষমতায় টিকে রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। এই জাল ভোটার কার্ড উদ্ধারের ঘটনা তারই প্রমাণ।” অপর দিকে শান্তিপুর পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য তপন সরকার বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের উপর দিয়ে যাবেন তাই ষড়যন্ত্র করে এই কাজ করা হয়েছে।” উল্লেখ্য আগেও শান্তিপুর থেকে রাশি রাশি বস্তাবন্দি জাল ভোটার (Voter Cards), আধারের সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল। এই ঘটনাই প্রমাণ করে জেলায় জেলায় জাল ভোটার নির্মাতারা কতটা সক্রিয়।

  • SIR: এসআইআরে জাল তথ্য-নথি দিলেই সাত বছরের জেল! কড়া হুঁশিয়ারি কমিশনের

    SIR: এসআইআরে জাল তথ্য-নথি দিলেই সাত বছরের জেল! কড়া হুঁশিয়ারি কমিশনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এসআইআরে (SIR) জাল নথি দিলে সাত বছরের জেল হতে পারে। ভুয়ো ভোটারদের আটকাতে কড়া শাস্তির হুঁশিয়ারি দিয়েছে নির্বাচন মিশন। গতকাল মঙ্গলবার রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক-এর দফতর লিখিত বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে এসআইআরে কেউ নথি জাল করলে জমা করলে আইন মেনে সাজা হবে। কারাদণ্ডের পাশাপাশি জরিমানাও করা হতে পারে। কমিশন এসআইআর-এর কাজে বিএলও-দের সঠিক তথ্য দিয়ে ডিজিটাইজেশনের কাজ করতে নির্দেশ দিয়েছে। মৃত, অবৈধ ভোটার বা স্থানান্তরিত হয়েছে এমন নাম যদি নিবিড় তালিকায় থাকে তাহলে কমিশন দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। ভুল কাজ করলে কমিশন (Election Commission) কোনও ভাবেই মেনে নেবে না।

    ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩৩৭ ধারা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ

    নির্বাচন কমিশনের (SIR) তরফে বলা হয়েছে, “ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩৩৭ ধারা অনুযায়ী কোনও ব্যক্তি যদি ভোটার কার্ড, জন্ম, বিবাহ, মৃত্যুর শংসাপত্র, আদালতের নথি, সরকারি অফিসের নথি, কোনও সরকারি কর্মচারীর প্রদত্ত শংসাপত্র, পাওয়ার অফ অ্যাটর্নির মতো গুরুত্বপূর্ণ নথি হিসেবে জাল প্রমাণপত্র জমা করে থাকেন তাহলে সর্বোচ্চ সাত বছর পর্যন্ত জেলা এবং জরিমানা হতে পারে। এসআইআর-এর ক্ষেত্রেও একই ব্যাপার থাকবে।”

    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় স্ক্যান হবে

    এসআইআর (SIR) প্রসঙ্গে রাজ্যের তৃণমূল শাসকের দিকে অভিযোগ তুলে বিজেপি বার বার বলেছে, ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন করার ঝাড়াই-বাছাই-এর কাজে সুযোগ বুঝে অনুপ্রবেশকারী বা ভুয়ো ভোটারদের নাম তুলে দেওয়া হচ্ছে। এই রাজ্যে বাংলাদেশিরা জাল নথি দিয়ে নিজেদের ভুয়ো পরিচয়পত্র তৈরি করছেন। এরপর দিব্যি নিশ্চিন্তে বসবাস করছেন। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অন্যকে নিজের বাবা-মায়ের ভুয়ো পরিচয় দিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজ ব্যবহার করছেন। আবার বেশ কিছু জায়গায় তৃণমূলের ব্লক স্তরে সরকারি দফতর থেকে টাকার বিনিময়ে জন্ম সনদ, ওবিসি-র মতো সার্টিফিকেটও নাকি দেওয়া হচ্ছে। তবে ভুয়ো কাগজ নির্মাণে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তারও ব্যবহার করা হচ্ছে। কমিশন জানিয়েছে, এআই ব্যবহার করে ভোটারদের নাম, ছবি যুক্ত যাবতীয় তথ্য নিখুঁত ভাবে স্ক্যান করা হবে, ফলে জাল তথ্য দেওয়া ভোটারদের দ্রুত চিহ্নিত করা যাবে। অনুপ্রবেশকারীদের দ্রুত চিনতে সুবিধা হবে।

    প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ভোটারকে হেয়ারিংয়ে ডাকা হবে

    ১৪ ডিসেম্বর হল এসআইআর-এর (SIR) এনুমারেশন ফর্ম কমিশনের ওয়েবসাইটে আপলোড করার শেষ সময়। এই তালিকায় যদি ভোটারদের নাম ভুল থাকে, কোনও অভিযোগ থেকে বা সংশোধন থাকে তাহলে তা কারেকশন করার শেষ সময় আগামী ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত। এরপর সমস্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখা, বিতর্কের সমাধান করা, প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ভোটারকে শুনানিতে ডাকা এবং আলোচনা করে তথ্যে সন্দেহ থাকলে তাকে দূর করার নানা কাজও করবে কমিশন। তার সময় সীমা সম্পর্কে বলা হয়েছে ১৬ ডিসেম্বর থেকে ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই কাজ করা হবে।

    কত নাম বাদ?

    কমিশনের আগে বিএলওদের চিঠি দিয়ে জানিয়েছিল, কোনও যোগ্য ভোটার যেন বাদ না পড়ে। কোনও অযোগ্য ভোটার যেন তালিকায় না ঢুকে থাকে। আর যদি এ দু’টি কাজ করতে গিয়ে ফাঁক থাকে তার দায় বহন করতে হবে সংশ্লিষ্ট বিএলওকেই। কমিশনের স্পষ্ট বার্তা কাজের প্রশংসা অবশ্যই থাকবে, কিন্তু অবহেলা কোনও ভাবেই বরদাস্ত করা যাবে না।

    এসআইআরে (SIR) শুক্রবার পর্যন্ত রাজ্যের ৫৪ লক্ষ ৫৯ হাজার ৫৪১ জন ভোটারের নাম বাদ পড়ার তথ্য পাওয়া গিয়েছে। এই সংখ্যার মধ্যে মৃত ভোটারের নাম রয়েছে ২৩ লক্ষ ৭১ হাজার ২৩৯। বাকি সংখ্যা খোঁজ পাওয়া যায়নি এবং ঠিকানা বদল করেছে বলে জানা গিয়েছে। একই ভাবে বাতিলের তালিকায় ভুয়ো ভোটারের নামও রয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গিয়েছে। এই তথ্য এবং নিবিড় সংশোধনের তালিকা যাতে আরও নির্ভুল হয়, সেই কথা বলে কমিশন (Election Commission) কড়া বার্তা দিয়েছে। রাজ্যে এই কাজকে আরও ভালো ভাবে করার জন্য কমিশন ৫ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করেছে।

  • Calcutta High Court: কলকাতার জলাভূমিতে গড়ে ওঠা অবৈধ নির্মাণগুলি অবিলম্বে ভেঙে ফেলার নির্দেশ হাইকোর্টের

    Calcutta High Court: কলকাতার জলাভূমিতে গড়ে ওঠা অবৈধ নির্মাণগুলি অবিলম্বে ভেঙে ফেলার নির্দেশ হাইকোর্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পূর্ব কলকাতার জলাভূমির যে কোনও দাগ নম্বর-সহ জায়গা-জমিতে আর কোনও নির্মাণ করা যাবে না। রাজ্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরের ওয়েবসাইট এবং সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে সাধারণ মানুষকে এই মর্মে জানাতে হবে বলে এই মর্মে নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। উল্লেখ্য কলকাতা এবং শহরতলী সংলগ্ন বহু পুকুর, জলাশয় ভরাট করে অবৈধ নির্মাণ (Illegal Constructions) গজিয়ে উঠেছে। বিরোধী দল বিজেপির অভিযোগ, টাকা নিয়ে প্রমোটার রাজ কায়েম করেছে তৃণমূল সরকার। অধিকাংশ জায়গায় তৃণমূল কাউন্সিলরাই এই অবৈধ নির্মাণের পিছনে রয়েছে।

    অমৃতা সিনহার নির্দেশ (Calcutta High Court)

    কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) বিচারপতি অমৃতা সিন‍্‍হার বিশেষ বেঞ্চ নির্দেশে বলেছে, “এই দাগ নম্বরে নির্মিত সকল নির্মাণ অবৈধ (Illegal Constructions)। অবিলম্বে তা ভেঙে ফেলতে হবে। রাজ্য, পুরসভা, এবং পূর্ব কলকাতার জলাভূমি কর্তৃপক্ষকে কঠোর ভাবে আইন প্রয়োগ করতে হবে। কোনও বেআইনি নির্মাণের নথিভুক্তিকরণ (রেজিস্ট্রেশন) হবে না। একই ভাবে জলাভূমির উপর নির্মিত বেআইনি নির্মাণের উপর কোনও যেন বিদ্যুৎ পরিষেবা না দেওয়া হয়। সিইএসসি এবং রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন নিগমকে সুনিশ্চিত করতে হবে বেআইনি কাজকে যেন কোনও রকম সুবিধা যেন না দেওয়া হয়। আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে তা নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট আদালতে জমা করতে হবে। কেন আপনারা অবিলম্বে এই সমস্ত জমিতে তৈরি নির্মাণ বন্ধ করছেন না? পাশাপাশি, এর আগে যে সমস্ত বেআইনি নির্মাণ চিহ্নিত হয়েছে সেগুলির ব্যাপারে কী পদক্ষেপ করা হল এতদিনে ? এর আগে আদালতের কাছেই তথ্য এসেছে ৫০০-র বেশি বেআইনি নির্মাণ চিহ্নিত হয়েছে। সেই সমস্ত বেআইনি নির্মাণের কোনও দেওয়াল বা বারান্দা আপনারা ভেঙেছেন? তাই দ্রুত পদক্ষেপ করুন।”

    কত অবৈধ নির্মাণ?

    কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) স্পষ্ট নির্দেশ যে আসতে চলছে তা বুঝে আগেই রাজ্য সরকার নড়েচড়ে বসেছিল। সরকারের তরফ থেকে যেখানে যেখানে বেআইনি নির্মাণ রয়েছে সেগুলি নিয়ে তথ্য দিয়ে আদালতে রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে। কত সংখ্যক বেআইনি নির্মাণ (Illegal Constructions) হয়েছে তা নিয়ে পুরসভা রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে। জলাজমি, পুকুর এবং মাছের ভেরি বাঁচাতে পরিবেশ কর্মীরা আদালতে জনস্বার্থ মামলা দাখিল করেছিল। পরিবেশের ভারসাম্য এবং বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য বজায় রাখতে আদালতের রায়ে এলাকাবাসীদের মধ্যেও উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা গিয়েছে।

  • Ramakrishna 529: “হনুমানের মাথায় হাত দিয়া শ্রীরাম আশীর্বাদ করিতেছেন, হনুমানের দৃষ্টি শ্রীরামের পাদপদ্মে”

    Ramakrishna 529: “হনুমানের মাথায় হাত দিয়া শ্রীরাম আশীর্বাদ করিতেছেন, হনুমানের দৃষ্টি শ্রীরামের পাদপদ্মে”

    ৫০ ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ কলিকাতা নগরে ভক্তমন্দিরে

    দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৫, ২৮শে জুলাই

    শ্রীযুক্ত নন্দ বসুর বাটীতে শুভাগমন

    ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna) এইবার ছবি দেখিতে গাত্রোত্থান করিলেন। সঙ্গে মাস্টার ও আরও কয়েকজন ভক্ত, গৃহস্বামীর ভ্রাতা শ্রীযুক্ত পশুপতিও সঙ্গ সঙ্গে থাকিয়া ছবিগুলি দেখাইতেছেন।

    ঠাকুর (Ramakrishna) প্রথমেই চতুর্ভুজ বিষ্ণুমূর্তি দর্শন করিতেছেন। দেখিয়াই ভাবে বিভোর হইলেন। দাঁড়াইয়াছিলেন, বসিয়া পড়িলেন। কিয়ৎকাল ভাবে আবিষ্ট হইয়া রহিলেন।

    হনুমানের মাথায় হাত দিয়া শ্রীরাম আশীর্বাদ করিতেছেন। হনুমানের দৃষ্টি শ্রীরামের পাদপদ্মে। ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ অনেকক্ষণ ধরিয়া এই ছবি দেখিতেছেন। ভাবে বলিতেছেন, “আহা! আহা!”

    তৃতীয় ছবি বংশীবদন শ্রীকৃষ্ণ কদমতলায় দাঁড়াইয়া আছেন।

    চতুর্থ—বামনাবতার। ছাতি মাতায় বলির যজ্ঞে যাইতেছেন। শ্রীরামকৃষ্ণ বলিতেছেন, “বামন!” এবং একদৃষ্টে দেখিতেছেন।

    এইবার নৃসিংহমূর্তি দর্শন করিয়া ঠাকুর গোষ্ঠের ছবি দর্শন করিতেছেন। শ্রীকৃষ্ণ রাখালদের সহিত বৎসগণ চরাইতেছেন। শ্রীবৃন্দাবন ও যমুনাপুলিন! মণি বলিয়া উঠিলেন—চমৎকার ছবি।

    সপ্তম ছবি দেখিয়া ঠাকুর বলিতেছেন—“ধূমাবতী”; অষ্টম—ষোড়শী; নবম—ভুবনেশ্বরী; দশম—তারা; একাদশ—কালী। এই সকল মূর্তি দেখিয়া ঠাকুর বলিতেছেন—“এ-সব উগ্রমূর্তি! এ-সব মূর্তি বাড়িতে রাখতে নাই। এ-মূর্তি বাড়িতে রাখলে পূজা দিতে হয়। তবে আপনাদের অদৃষ্টের জোর আছে, আপনারা রেখেছেন।”

    শ্রীশ্রীঅন্নপূর্ণা দর্শন করিয়া ঠাকুর ভাবে বলিতেছেন, “বা! বা!”

    তারপরই রাই রাজা। নিকুঞ্জবনে সখীপরিবৃতা সিংহাসনে বসিয়া আছেন। শ্রীকৃষ্ণ (Ramakrishna) কুঞ্জের দ্বারে কোটাল সাজিয়া বসিয়া আছেন। তারপর দোলের ছবি। ঠাকুর অনেকক্ষণ ধরিয়া এর পরের মূর্তি দেখিতেছেন। গ্লাসকেসের ভিতর বীণাপাণির মূর্তি; দেবী বীনাহস্তে মাতোয়ারা হইয়া রাগরাগিনী আলাপ করিতেছেন।

    ছবি দেখা সমাপ্ত হইল। ঠাকুর আবার গৃহস্বামীর কাছে আসিয়া উপস্থিত হইলেন। দাঁড়াইয়া দাঁড়াইয়া গৃহস্বামীকে বলিতেছেন, “আজ খুব আনন্দ হল। বা! আপনি তো খুব হিন্দু! ইংরাজী ছবি না রেখে যে এই ছবি রেখেছেন—খুব আশ্চর্য!”

    শ্রীযুক্ত নন্দ বসু বসিয়া আছেন। তিনি ঠাকুরকে আহ্বান করিয়া বলিতেছেন, “বসুন! দাঁড়িয়ে রইলেন কেন?”

    শ্রীরামকৃষ্ণ (বসিয়া)—এ পটগুলো খুব বড় বড়। তুমি বেশ হিন্দু।

    নন্দ বসু—ইংরাজী ছবিও আছে।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (সহাস্যে) — সে-সব অমন নয়। ইংরাজীর দিকে তোমার তেমন নজর নাই।

  • Vande Mataram: “বন্দে মাতরমকে টুকরো টুকরো করেছিলেন পণ্ডিত নেহরু, তখন থেকেই তোষণ”, তোপ অমিত শাহের

    Vande Mataram: “বন্দে মাতরমকে টুকরো টুকরো করেছিলেন পণ্ডিত নেহরু, তখন থেকেই তোষণ”, তোপ অমিত শাহের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচিত বন্দে মাতরম (Vande Mataram) গানের সার্ধশতবর্ষ উপলক্ষে সংসদে চলছে বিশেষ আলোচনা পর্ব। সোমবার সূচনা ভাষণ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মঙ্গলবার দ্বিতীয় দিন রাজ্যসভায় ভাষণ দেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। তিনি বলেন, “বঙ্কিমের গানের ভিত্তিভূমি ছিল ভারতের আধ্যাত্মিক ও সংস্কৃতি রাষ্ট্রভক্তি। দেশকে মা বলে স্বীকৃতি দিয়েছেন। ব্রিটিশরা যখন বিদেশী সংস্কৃতিকে আমদানি করেছিল সেই সময় বঙ্কিমচন্দ্র ‘জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরীয়সী’ মন্ত্রের জাগরণ ঘটান। গানে যদুনাথ ভট্টাটার্যের সুর দেওয়ারও ১৫০ বছর হয়েছে।” একই ভাবে লোকসভায় তিনি সোজাসুজি কংগ্রেসকে তোপ দেগে বলেন, “যে গান গাইলে ব্রিটিশরা ভারতীয়দের বন্দি করত, ১৯৭৫ সালে সেই বন্দে মাতরম গান গেয়েই প্রচুর লোককে জেলে ঢুকিয়েছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী। তাই যাঁরা গানের গুরুত্ব বুঝবেন তাঁদের আত্ম সমালোচনা করা উচিত।”

    দেশব্যাপী বিরাট আলোড়ন (Vande Mataram)

    রাজ্যসভায় বন্দে মাতরম (Vande Mataram) গানের সর্বভারতীয় জনপ্রিয়তার প্রসঙ্গে অমিত শাহ (Amit Shah) বলেন, “একথা সত্য বঙ্কিমচন্দ্র পরাধীন ভারতের বঙ্গভূমিতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। আনন্দমঠের উৎপত্তিও বঙ্গভূমিতেই। গান প্রকাশিত হওয়ার বছর ত্রিশের মাথায় সারা দেশব্যাপী বিরাট আলোড়ন ফেলে দিয়েছিল। এমনকি, দেশের বাইরেও এই গান ব্যাপক ভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল। স্বাধীনতার পরবর্তী সময়েও বন্দে মাতরম গান সমান ভাবে প্রাসঙ্গিক। আমাদের সেনা বাহিনী যেকোনও অভিযানে এই মন্ত্র উচ্চারণ করে থাকেন। এমনকি কোনও সেনা নিহত হলেও বন্দেমাতরম গানে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয়।”

    আধ্যাত্মিক রাষ্ট্রবাদের পাঠ

    বন্দে মাতরম (Vande Mataram) গানের আলোচনার প্রাসঙ্গিতাকে তুলে ধরে তৃণমূল কংগ্রেস এবং কংগ্রেসের পক্ষে থেকে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে লোকসভায়। অভিযোগ, সামনেই পশ্চিমবঙ্গে ভোট তাই ইতিহাসকে প্রাসঙ্গিক করে তোলা হচ্ছে। কিন্তু রাজ্যসভায় বিরোধীদের অভিযোগকে তুলোধনা করে অমিত শাহ (Amit Shah) বলেন, “বন্দে মাতরম স্বাধীনতার সময়ে যেমন প্রাসঙ্গিক ছিল বর্তমান সময়েও একই ভাবে প্রাসঙ্গিক। কেউ কেউ বাংলার ভোটের সঙ্গে যুক্ত করে গানের গুরুত্বকে ছোট করছেন। ভারতের এই সংসদ বিভিন্ন ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী বহন করে চলেছে। এবার বন্দে মাতরম গানকে চিরস্মরণীয় করতে এই আলোচনা। আগামী প্রজন্মকে আধ্যাত্মিক রাষ্ট্রবাদের পাঠ দিতে এই গানের বিরাট ভূমিকা পালন করবে।”

    স্বাধীনতার মন্ত্র

    অমিত শাহ ব্রিটিশ শাসনের অন্যতম খারাপ দিক সাংস্কৃতিক আগ্রাসনকে তোপ দেগে বলেন, “ব্রিটিশ শাসনে শুধু রাজনৈতিক আগ্রাসন ছিল না, এক নতুন সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল তৈরি করতে চেয়েছিল। আর সেই সময় ভারতীয় সংস্কৃতির ঢাল হয়ে বঙ্কিম রচনা করেন বন্দে মাতরম। তবে তখনকার সময়ে কোনও সামাজিক মাধ্যম ছিল না। শাসকরাও ব্যাপক বাধা দিয়েছিল। এই গান মন্ত্ররূপে সমস্ত জনমানসের মনকে স্পর্শ করে শিহরিত করে তুলেছিল। তাই কীভাবে ভারত মায়ের মুক্তির স্লোগান হয়ে উঠেছিল তাও আগামী প্রজন্মের মানুষকে জানতে হবে। স্বাধীনতার মন্ত্র ছিল এই গান (Vande Mataram)।”

    তবে এই বঙ্কিমচন্দ্রের গানকে চরম আঘাত হেনেছিল কংগ্রেস নেতৃত্ব। বন্দে মাতরম গানের যখন সুবর্ণজয়ন্তী সেই সময় পণ্ডিত নেহরু গানকে দুই ভাগে ভাগ করে দিয়েছিলেন। গানের শব্দ বুঝতে অভিধানের ব্যবহার করতে হয়েছিল। নেহরু সাফ জানান গানে হিন্দু দেবদেবীর উল্লেখ রয়েছে তাই মুসলিম সমাজের জন্য পরিপন্থী। অমিত শাহ বলেন, “গানকে দ্বিখণ্ডিত করেছিলেন জওহরলাল নেহরু। গানের মহিমাকে ক্ষুণ্ণ করেছে কংগ্রেস। সেখান থেকেই শুরু তোষণ, আর তার পরবর্তীতে হয় দেশভাগ।”

    দেবী সরস্বতী, লক্ষ্মী, দুর্গা তিন রূপই ভারত

    ১৯৭৫ সালে কংগ্রেসের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ইন্দিরা গান্ধী। গানের যখন শতবর্ষ পূর্ণ হয় সেই সময় দেশে জাতীয় জরুরি অবস্থা জারি করেছিলেন তিনি। বন্দে মাতরম (Vande Mataram) স্লোগান দেওয়া, গান গাওয়া ভারতীয়দের জেলে ভরে ছিলেন। এই গানের সঙ্গে কংগ্রেসের কোনও কালেই আত্মিকতা ছিল না। তাই অমিত শাহ (Amit Shah) বলেন, “আমাদের দেশ অনন্য অসাধারণ। ভারত একমাত্র এমন দেশ যে দেশের সীমান্ত সংস্কৃতি দিয়ে ঘেরা। আমাদের দেশের প্রত্যেক মানুষ এক সুতোতে গাঁথা রয়েছে। আর তাই একতার প্রতীক বন্দে মাতরম। বঙ্কিমবাবু একবার চিঠি লিখে বলেছিলেন আমার সব সাহিত্যকে গঙ্গায় ভাসিয়ে দিলেও কোনও অসুবিধা নেই। কেবলমাত্র বন্দে মাতরম গান অনন্তকাল ধরে চলবে। এই গানকে ঋষি অরবিন্দ বলেছিলেন নতুন ধর্মমত। ভারত আবার পুনঃনির্মিত হবে। বঙ্কিমের স্বপ্ন স্বার্থক হয়েছিল। ভারত শুধু কয়েক হাত জমি নয়, ভারত ভূমি হল মায়ের স্বরূপা। দেবী সরস্বতী, লক্ষ্মী, দুর্গার তিন রূপই ভারত মাতা। আমাদের সমৃদ্ধি, সুরক্ষা, জ্ঞান সবটাই ভারত মায়ের কৃপা। বিরাট সংকল্প ছিল ভারতের এই গানে।”

  • SIR: ‘অনিচ্ছাকৃত ভুল’ ঠিক করতে বিএলও-দের কড়া বার্তা কমিশনের, বেঁধে দেওয়া হল ডেডলাইন

    SIR: ‘অনিচ্ছাকৃত ভুল’ ঠিক করতে বিএলও-দের কড়া বার্তা কমিশনের, বেঁধে দেওয়া হল ডেডলাইন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এসআইআরকে নির্ভুল করতে বিএলও-দেরকে আরও কড়া বার্তা দিল নির্বাচন কমিশন। এসআইআর-এর কাজে (SIR) সময়ের মধ্যে ‘অনিচ্ছাকৃত ভুল’ শুধরে নিতে বিএলও-দের নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। সঙ্গে সতর্কবার্তা— যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভুলকে ঠিক না করা হয়, তাহলে সেগুলিকে ইচ্ছাকৃত ভুল হিসেবে গণ্য করা হবে এবং সেক্ষেত্রে বিএলও-দের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এই নিয়ে কাজের অতিরিক্ত চাপের জন্য তৃণমূল সমর্থিত বিএলওরা নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে একাধিকবার বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন। অপর দিকে বিজেপির তরফে অভিযোগ, এক শ্রেণির বিএলওরা প্রত্যক্ষভাবে শাসক দলের হয়ে কাজ করছেন। মৃত, অবৈধ ভোটার এবং স্থানান্তরিত হয়েছে এমন ভোটারদের নাম রেখে দেওয়া হয়েছে। ফলে ভুল কাজ করলে কমিশন (Election Commission) কড়া অবস্থান নেবে বলে এখন থেকেই হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে।

    বিএলওরা ভুল প্রসঙ্গ কানে দেননি

    কাজের চাপ এবং স্বচ্ছতার কথা ভেবে (Election Commission) এনুমারেশন ফর্ম (SIR) দেওয়া এবং সংগ্রহের জন্য এক সপ্তাহ সময় বাড়িয়ে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সময়ে কাজ করতে না পারার অভিযোগে বেশ কয়েকজন বিএলও অসুস্থ এবং মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছিল তৃণমূলের পক্ষ থেকে। তাই সকল বিষয়কে মাথায় রেখে ফর্ম জমা করার কাজকে ৪ ডিসেম্বর থেকে ৭ দিন বাড়িয়ে ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছে। ফলে এই পরিস্থিতিতে ১১ ডিসেম্বরের মধ্যে এসআইআর-এ যদি কোনও ভুল ধরা পরে, তাহলে এই ভুলকে অনিচ্ছাকৃত ভুল হিসেবে ধরা হবে। সময়ের মধ্যে তা শুধরে নেওয়ার সুযোগও পাবেন বিএলও-রা। কিন্তু, তার পরে হলে, তা ইচ্ছাকৃত ভুল বলে ধরা হবে। কমিশন কোনও ভাবেই কাজের ভুলকে সাধারণ ভুল হিসেবে গ্রহণ করবে না। তবে আগেও রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় রোল অবজার্ভাররা বহু বিএলও-কে নিজেদের ভুল ঠিক করে নিতে বলেছিলেন। প্রয়োজনে রিপোর্টও তৈরি হয়েছিল। কিন্তু বিএলওরা কোনও ভাবেও কানে দেননি। এই অবস্থায় কমিশনের তরফ থেকে সরাসরি বার্তা এসেছে। অপর দিকে বাংলার এসআইআর কাজকে আরও গতি দিতে পাঁচজন পর্যবেক্ষক নিয়োগ করেছে কমিশন।

    খসড়া বের হলে কমিশনের পদক্ষেপ

    কমিশনের তরফে জানা গিয়েছে, রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় রোল পর্যবেক্ষকরা (SIR) একাধিক বিএলওকে সতর্ক করেছে। কিন্তু কোথাও কোনও রকম পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। ভুল কাজের কোনও রকম সংশোধন করা হয়নি। এরপর অনিচ্ছাকৃত ভুল শুধরে নেওয়া হয়নি। আগামী ১১ ডিসেম্বর খসড়া লিস্ট প্রকাশ হলে কমিশন কী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করে তাই এখন দেখার।

  • Ramakrishna 528: “ব্রাহ্মণী কন্যা-শোকে সন্তপ্তা, প্রায় দক্ষিণেশ্বরে শ্রীরামকৃষ্ণকে দর্শন করিতে জান”

    Ramakrishna 528: “ব্রাহ্মণী কন্যা-শোকে সন্তপ্তা, প্রায় দক্ষিণেশ্বরে শ্রীরামকৃষ্ণকে দর্শন করিতে জান”

    ৫০- ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ কলিকাতা নগরে ভক্তমন্দিরে

    প্রথম পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৫, ২৮শে জুলাই

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna) ভক্তসঙ্গে বলরামের বৈঠকখানায় বসিয়া আছেন। সহাস্যবদন। এখন বেলা প্রায় তিনটা; বিনোদ, রাখাল, মাস্টার ইত্যাদি কাছে বসিয়া। ছোট নরেনও আসিয়া উপস্থিত হইলেন।

    আজ মঙ্গলবার, ২৮শে জুলাই, ১৮৮৫ খ্রীষ্টাব্দ, (১৩ই শ্রাবণ, ১২৯২) আষাঢ় কৃষ্ণা প্রতিপদ। ঠাকুর বলরামের বাড়িতে সকালে আসিয়াছেন ও ভক্তসঙ্গে আহারাদি করিয়াছেন। বলরামের বাড়িতে শ্রীশ্রীজগন্নাথদেবের সেবা আছে। তাই ঠাকুর বলেন, “বড় শুদ্ধ অন্ন।”

    নারাণ প্রভৃতি ভক্তেরা বলিয়াছিলেন, নন্দ বসুর বাড়িতে অনেক ঈশ্বরীয় ছবি আছে। আজ তাই ঠাকুর তাদের বারি গিয়া অপরাহ্নে ছবি দেখিবেন। একটি ভক্ত ব্রাহ্মণীর বাড়ি নন্দ বসুর বাটীর নিকটে, সেখানেও যাইবেন। ব্রাহ্মণী কন্যা-শোকে সন্তপ্তা, প্রায় দক্ষিণেশ্বরে শ্রীরামকৃষ্ণকে দর্শন করিতে জান। তিনি অতিশয় ব্যাকুলা হইয়া ঠাকুরকে আমন্ত্রণ করিয়াছেন। তাঁহার বাটীতে যাইতে হইবে ও আর-একটি স্ত্রী ভক্ত গণুর মার বাটীতেও যাইতে হইবে।

    ঠাকুর (Ramakrishna) বলরামের বাটীতে আসিয়াই ছোকরা ভক্তদের ডাকিয়া পাঠান। ছোট নরেন মাঝে বলিয়াছিলেন; “আমার কাজ আছে বলিয়া সর্বদা আসিতে পারি না, পরীক্ষার জন্য পড়া”— ইত্যাদি; ছোট নরেন আসিলে ঠাকুর তাহার সহিত কথা কহিতেছেন —

    শ্রীরামকৃষ্ণ (ছোট নরেনকে)—তোকে ডাকতে পাঠাই নাই।

    ছোট নরেন (হাসিতে হাসিতে)-তা আর কি হবে?

    শ্রীরামকৃষ্ণ — তা বাপু তোমার অনিষ্ট হবে, অবসর হলে আসবে!

    ঠাকুর যেন অভিমান করিয়া এই কথাগুলি বলিলেন(Kathamrita)।

    পালকি আসিয়াছে। ঠাকুর শ্রীযুক্ত নন্দ বসুর বাটীতে যাইবেন।

    ঈশ্বরের (Ramakrishna) নাম করিতে করিতে ঠাকুর পালকিতে উঠিতেছেন। পায়ে কালো বার্ণিশ করা চটি জুতা, পরনে লাল ফিতাপাড় ধুতি, উত্তরীয় নাই। জুতা-জোড়াটি পালকির একপাশে মণি রাখলেন। পালকির সঙ্গে সঙ্গে মাস্টার যাইতেছেন। ক্রমে পরেশ আসিয়া জুটিলেন।

    নন্দ বসুর গেটের ভিতর পালকি প্রবেশ করিল। ক্রমে বাটীর সম্মুখে প্রশস্ত ভূমি পার হইয়া পালকি বাটীতে আসিয়া উপস্থিত হইল।

    গৃহস্বামীর আত্মীয়গণ আসিয়া ঠাকুরকে প্রণাম মরিলেন। ঠাকুর মাস্টারকে চটিজুতা-জোড়াটি দিতে বলিলেন। পালকি হইতে অবতরণ করিয়া উপরের হলঘরে উপস্থিত হইলেন। অতি দীর্ঘ ও প্রশস্ত হলঘর। দেবদেবীর ছবি ঘরের চতুর্দিকে।

    গৃহস্বামী ও তাঁহার ভ্রাতা পশুপতি ঠাকুরকে সম্ভাষণ করিলেন। ক্রমে পালকির পশ্চাৎ পশ্চাৎ আসিয়া ভক্তেরা এই হলঘরে জুটিলেন (Kathamrita)। গিরিশের ভাই অতুল আসিয়াছেন। প্রসন্নের পিতা শ্রীযুক্ত নন্দ বসুর বাটীতে সর্বদা যাতায়াত করেন। তিনিও উপস্থিত আছেন।

  • SIR: রাজ্যে এসআইআর-এর কাজকে দ্রুত বাস্তবায়নে ৫ ডিভিশনে পর্যবেক্ষক নিয়োগ কমিশনের

    SIR: রাজ্যে এসআইআর-এর কাজকে দ্রুত বাস্তবায়নে ৫ ডিভিশনে পর্যবেক্ষক নিয়োগ কমিশনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে এসআইআর-এর (SIR) কাজকে আরও দ্রুত বাস্তবায়ন করতে পাঁচ পর্যবেক্ষক পাঠাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। এই পর্যবেক্ষকরা রাজ্যের ৫ ডিভিশনে কাজ করবে। এগুলি হল— প্রেসিডেন্সি, মেদিনীপুর, বর্ধমান, মালদা, এবং জলপাইগুড়ি। উল্লেখ্য, আগেই নির্বাচন কমিশন (Election Commission) একজন পর্যবেক্ষক হিসেবে সুব্রত গুপ্তকে নিয়োগ করেছিল। একই ভাবে রাজ্যে রয়েছে ১২ জন এসআইআর পর্যবেক্ষক। বিভিন্ন জেলায় তাঁদের নিযুক্ত করা হয়েছে। এবার আরও ৫ জনকে নিয়োগ করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে হলেন, কুমার রবিকান্ত সিংহ, নীরজ কুমার বানসোড়, আলোক তিওায়ারি, পঙ্কজ যাদব এবং কৃষ্ণকুমার নিরালা।

    মৃত ভোটার ২৩ লক্ষ ৭১ হাজার ২৩৯ (SIR)

    কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, এসআইআরে (SIR) শুক্রবার পর্যন্ত রাজ্যের ৫৪ লক্ষ ৫৯ হাজার ৫৪১ জন ভোটারের নাম বাদ পড়ার তথ্য পাওয়া গিয়েছে। এই সংখ্যার মধ্যে মৃত ভোটারের নাম রয়েছে ২৩ লক্ষ ৭১ হাজার ২৩৯। বাকি সংখ্যা খোঁজ পাওয়া যায়নি এবং ঠিকানা বদল করেছে বলে জানা গিয়েছে। একই ভাবে বাতিলের তালিকায় ভুয়ো ভোটারের নামও রয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গিয়েছে। এই তথ্য এবং নিবিড় সংশোধনের তালিকা যাতে আরও নির্ভুল হয়, সেই কথা বলে কমিশন (Election Commission) কড়া বার্তা দিয়েছে। এই কাজকে আরও ভালো ভাবে করার জন্য কমিশন ৫ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করেছে।

    কোনও ভোটারের মৃত্যু হয়নি এমন বুথ কত?

    কমিশনের (Election Commission) তথ্যে আরও জানা গিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে মৃত এবং স্থানান্তরিত ভোটার একজনকেও (SIR) পাওয়া যায়নি এমন বুথের সংখ্যা হল ৭। জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে প্রথমে যে রিপোর্ট জমা পড়েছিল, সেই অনুসারে এই রকম বুথের সংখ্যা ছিল আরও বেশি। তাতে বলা হয়েছিল ২২০৮টি বুথে গত এক বছরে কোনও ভোটারের মৃত্যু হয়নি। এমনকি সেখান থেকে অন্যত্র হস্তান্তর হয়নি। এই বিষয় নিয়ে রাজনীতির আঙ্গিনায় ব্যাপাক চর্চা এবং পর্যালোচনা হয়েছিল, পরে অবশ্য সংশোধন করা হয়েছে।

    ভুয়ো ভোটারদের তথ্য যাচাই করতে হবে

    এদিকে এসআইআর-এর (SIR) কাজের প্রথম পর্ব শেষ হওয়ার মুখে বিশেষ বৈঠকে বসেছে নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। কাজের গতিপ্রকৃতি দেখতে, ভোটার তালিকায় ঝাড়াই-বাছাই করে আরও নিখুঁত করতে করা হয়েছে বৈঠক। জাল ভোটারদের খোঁজ করতে তৎপর হয়েছে কমিশন। একই নামে একাধিক ভোটার, আলাদা আলদা ব্যক্তি কিনা এই নাম নিশ্চিত করতে বিএলওদের তথ্য দিতে বলা হয়েছে। গত সোমবার থেকে পোর্টালে বিশেষ অপশন দেওয়া হয়েছে। আগামী ১১ তারিখের মধ্যে ভুয়ো ভোটারদের তথ্য যাচাই করতে হবে। তবে কাজকে আরও নিখুঁত করতে কমিশন প্রথম পর্যায়ের কাজে সমীক্ষা করতে বসেছে। ডিজিটাইজেশন পর্বে বেশ কিছু অভিযোগও এসেছে। এবার বিস্তারিত তথ্য জানতে পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে বৈঠকে বসা হয়েছে। রাজ্যের এখনও জমা না পড়া এনুমারেশন ফর্মের সংখ্যা হল প্রায় ৫৬ লক্ষ। যার মধ্যে মৃত ভোটারের সংখ্যা ২৩ লক্ষ ৯০ হাজার ৫৬৫।

    কাজের পরিসর আরও ৭ দিন বাড়তে পারে

    গত ৪ নভেম্বর থেকে পশ্চিমবঙ্গ সহ ১২টি রাজ্য এবং কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলে এসআইআর-এর (SIR) কাজ শুরু হয়েছে। আগে বলা হয়েছিল ৪ ডিসেম্বরের মধ্যে এনুমারেশন ফর্ম নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে আপলোড করা হবে। ৯ ডিসেম্বর ছিল খসড়া তালিকা প্রকাশের সময়কাল। ৭ ফেব্রুয়ারি প্রকশিত হবে চূড়ান্ত তালিকা। কিন্তু গত ৩০ নভেম্বর একটি বিজ্ঞাপন দিয়ে সময়কে ৭ দিন বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে নতুন বিজ্ঞপ্তি অনুসারে ওয়েবসাইটে আপলোড করতে হবে ১১ ডিসেম্বর, ১২ থেকে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে। খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ হবে ১৬ ডিসেম্বর। এরপর নাম সংশোধন, অভিযোগ, আপত্তি বিষয়ে কমিশনকে (Election Commission) জানানো যাবে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত। তবে প্রয়োজন আনুযায়ী কমিশন আরও বেশকিছুদিন বৃদ্ধি করা হতে পারে বলে কমিশন জানিয়েছে।

    ভোটের আগে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি

    এসআইআর (SIR) প্রসঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী প্রথম থেকেই আপত্তি তুলেছেন। ওপর দিকে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী, রোহিঙ্গা এবং ভুয়ো ভোটার ইস্যুতে কমিশনের কাছে বারবার অভিযোগ করে দ্রুত ভোটার তালিকা সংশোধনের দাবি জানিয়েছে। তবে তৃণমূল, মুখে কমিশনশনকে (Election Commission) বারবার হুমকি দিলেও তালিকা সংশোধনের কাজে সহযোগিতা এবং ক্যাম্পেরও আয়োজন করেছে। তবে বিজেপির অভিযোগ, স্থানীয় প্রশাসন এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাঁটিয়ে অবৈধ বাংলাদেশিদের যেমন নাম ঢোকানোর কাজ করছে তৃণমূল। আবার একই ভাবে তৃণমূল বেঁছে বেঁছে হিন্দুদের নামও তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার ষড়যন্ত্র করছে। বিধানসভা নির্বাচনের আগেই এসআইআর ইস্যুতে রাজনৈতিক পারদ এখন চরম শিখরে।

  • Lok Sabha: কাজের সময় পেরিয়ে গেলে অফিসের ফোন কল বা ইমেল আর নয়! লোকসভায় পেশ বিল

    Lok Sabha: কাজের সময় পেরিয়ে গেলে অফিসের ফোন কল বা ইমেল আর নয়! লোকসভায় পেশ বিল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কাজের সময় পেরিয়ে গেলে অফিসের ফোন কল বা ইমেল (No Calls emails after work) আর নয়। কর্মীদের স্বার্থের কথা ভেবে লোকসভায় (Lok Sabha) পেশ হল নতুন বিল। প্রায় সময়েই শুনতে দেখা যায়, অফিসের সময়ের পরেও বাড়িতে কর্মক্ষেত্র থেকে ফোন আসে বা ইমেল আসে। সঙ্গে সঙ্গে কাজের রিপোর্ট বিষয়ে যোগাযোগ করতে বলা হয়। অবশ্য অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কর্মীরা কোম্পানি বা সংশ্লিষ্ট দফতরের ব্যবস্থাপনার আচরণে অস্বস্তি প্রকাশ করেন। একে দফতরে কাজের চাপ, অপর দিকে অফিস সময়ের পরেও বাড়িতে বা ছুটিতে কাজ সংক্রান্ত ইমেল বা কল সত্যই কর্মীদের কাছে সমস্যার বিষয়। মানসিক ভাবে মনকে খুব বিচলিত করে। তাই কর্মীদের স্বার্থে “রাইট টু ডিসকানেক্ট বিল ২০২৫” পেশ করেছেন লোকসভার বিরোধী দলের সাংসদ সুপ্রিয়া সুলে। লোকসভার শীতকালীন অধিবেশনে এই বিল তুলে ধরা হয়েছে।

    বিলে কী বলা হয়েছে (Lok Sabha)?

    রাষ্ট্রবাদী কংগ্রেস বা এনসিপির সাংসদ সুপ্রিয়া সুলে প্রাইভেট মেম্বার হিসবে বিল পেশ করেছেন। বিলে (Lok Sabha) বলা হয়েছে, “অফিস আওয়ারের কাজ শেষ হলে কোনও কর্মীদের যাতে ফোন ধরতে বা ইমেল না দেখতে হয় সেই অধিকারকে সুনিশ্চিত করা হোক। অফিসের কাজ শেষ হলে কর্মীদের ব্যক্তিগত সময় শুরু হয়। ছুটির দিন কর্মীদের সম্পূর্ণ সময় ব্যক্তিগত। আর এই সময়ে ফোন না ধরার বা ইমেল না দেখার অধিকার রয়েছে। এবার এই বিলে কর্মীদের (No Calls emails after work) অধিকারের স্বার্থকে নিশ্চিত করতে হবে। মানসিক চাপ দেওয়া যাবে না ।”

    সরকার পক্ষ সাধারণত বিল আনে

    উল্লেখ্য, ভারতীয় সংসদের উচ্চকক্ষ এবং নিম্নকক্ষের যে কোনও সাংসদ যদি মনে করেন কোনও বিষয়ে বিল (Lok Sabha) নিয়ে আসা যেতে পারে, তাহলে সেই সংক্রান্ত বিল পেশ (No Calls emails after work) করতে পারেন। তবে সাংসদরা দল বিশেষে জনমতের উপর নির্ভর করে বিলের প্রস্তাব করতে পারেন। ফলে সরকার পক্ষ বা বিরোধী পক্ষের যে কোনও সাংসদ বিল উত্থাপনের অধিকার রাখেন। কিন্তু সাধারণত সরকার পক্ষের রাজনৈতিক দলগুলিই বিল বেশি নিয়ে আসে। বিলে জবাবের প্রেক্ষিতে গ্রহণ বা প্রত্যাখান হয়। লোকসভা এবং রাজ্যসভা উভয়ের সদস্যরাই এমন বিষয়ে বিল পেশ করতে পারেন, যেগুলি তাঁদের মতে সরকারি আইন প্রণয়নের পক্ষে প্রয়োজন বলে মনে করেন। তবে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই, প্রস্তাবিত আইনের প্রতি সরকারের সাড়া পাওয়ার পর বেসরকারি সদস্য বিল প্রত্যাহার করা হয়।

    অস্ট্রেলিয়ায় পাশ হয়েছে বিল

    অস্ট্রেলিয়া গত বছর রাইট টু ডিসকানেক্ট আইন (No Calls emails after work) পাশ হয়েছে। এবার ভারতেও কর্মজীবনের ভারসাম্যের ওপর নির্ভর করে নতুন করে জোর দেওয়া হয়েছে। যেখানে পুনের ইওয়াই কর্মীর মৃত্যুর পর দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করার ঘটনায় উদ্বেগ বেড়ে গিয়েছিল। অস্ট্রেলিয়ান এই আইন কর্মীদের কাজের সময় শেষ হয়ে গেলে ফোন কল বা ইমেলকে প্রত্যাখ্যান করার অনুমতি দেয়। এই আইন ডিজিটাল মার্কেটিং এবং পরিমণ্ডলে একটি গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা। উল্লেখ্য গত বছর গ্লোবাল জব প্ল্যাটফর্ম ইনডিড দ্বারা পরিচালিত একটি সমীক্ষায় জানা গিয়েছে, ভারতে এই “রাইট টু ডিসকানেক্ট” (Lok Sabha) নীতির প্রতি জোরালো সমর্থন রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলে।

    সমীক্ষায় কী বলছে?

    একটি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, কাজের সময় শেষ হওয়ার পরেও অফিস থেকে যোগাযোগ করা হয়। ৮৮ শতাংশ কর্মচারীরা জানিয়েছেন, তাঁদের সঙ্গে নিয়মিতভাবে কাজের সময়ের বাইরে গিয়ে যোগাযোগ করা হতো। আবার ৮৫ শতাংশ কর্মীদের মত যখন তারা অসুস্থ বা ছুটি ছিল সেই সময়েও অফিসের কল বা ইমেলে কাজের নির্দেশ আসত। অনেকেই প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে অস্বস্তিবোধ করে বলেন, ৭৯ শতাংশ কর্মীরা আশঙ্কা করেন কর্মক্ষেত্রের কল বা ইমেলের বার্তাকে উপেক্ষা করলে তাদের ক্যারিয়ারের ক্ষতির সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তবুও অনেকেই এখনও অতিরিক্ত লাভের আশায় চাহিদাকে বৃদ্ধির জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা কল, ইমেলে কাজ করাতে বাধ্য করছেন। তবে ৬৬ শতাংশ মানুষের আশঙ্কা অতিরিক্ত সময়ে কাজ না করালে উৎপাদনশীলতায় হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনার ভয় থাকে।

    বর্ধিত কাজের সময় কটা সুবিধা দেবে?

    সংসদে (Lok Sabha) এই বিলটির আলোচনা শুরু হয় ইনফোসিসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা নারায়ণ মূর্তি এবং এলএন্ডটি-র সিইও এসএন সুব্রহ্মণ্যমের মতো ব্যবসায়ীদের মন্তব্যের মধ্যে দিয়ে। তাঁরা সম্প্রতি যথাক্রমে ৭০ ঘণ্টা এবং এমনকি ৯০ ঘণ্টা কর্মসপ্তাহের পক্ষে যুক্তি দিয়েছেন। নারায়ণ মূর্তি তাঁর দীর্ঘদিনের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে চীনের ৯-৯-৬ কর্ম মডেলের উদাহরণ তুলে ধরেছেন, যেখানে তিনি পরামর্শ দিয়েছেন যে বর্ধিত কাজের সময় ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করতে পারে। কংগ্রেস সাংসদ কাদিয়াম কাব্য আরেকটি বেসরকারি কর্মী বিলে (No Calls emails after work) মাসিক সুবিধা বিল ২০২৪-এর আলোচনায় বলেন, “মহিলাদের ঋতুস্রাবের সময় কর্মক্ষেত্রে বিশেষ সুযোগ-সুবিধা দেওয়া উচিত।”

LinkedIn
Share