Author: Susanta Das

  • Oman Gujarat Gas Pipeline: ৪০ হাজার কোটি টাকার মেগা প্রকল্প, হরমুজ এড়িয়ে ওমান-গুজরাট গ্যাস করিডর বানাতে চলেছে ভারত

    Oman Gujarat Gas Pipeline: ৪০ হাজার কোটি টাকার মেগা প্রকল্প, হরমুজ এড়িয়ে ওমান-গুজরাট গ্যাস করিডর বানাতে চলেছে ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা-ইজরায়েলের যুদ্ধ এবং তার ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ বলে পরিচিত হরমুজ প্রণালীতে (Strait of Hormuz) সৃষ্ট ভূরাজনৈতিক সংকট ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই কেন্দ্রীয় সরকার ওমান থেকে সরাসরি গুজরাট পর্যন্ত একটি বিশাল সাব-সি (সমুদ্রতলের নিচে) গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণের পরিকল্পনা করছে। প্রায় ৪০,০০০ কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি হতে চলা এই প্রকল্পকে ভারতের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি কৌশলের অন্যতম বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কেন্দ্র ইতিমধ্যেই দেশের শীর্ষ সরকারি এবং রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলিকে প্রকল্পের কার্যকারিতা সমীক্ষা প্রতিবেদন (feasibility report) তৈরির নির্দেশ দিয়েছে। অনুমোদন মিললে এই পাইপলাইন নির্মাণে সময় লাগতে পারে ৫ থেকে ৭ বছর।

    কেন এই প্রকল্পে জোর দিচ্ছে ভারত?

    ভারতের মোট অপরিশোধিত তেল আমদানির প্রায় ৮৮ শতাংশ এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি সরবরাহ হরমুজ প্রণালী হয়ে আসে। ২০২৬ সালের মার্চ মাসে ওই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুটে অস্থিরতা তৈরি হলে ভারতকে একাধিক সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়।

    • ● জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন
    • ● শিপিং খরচ ও বীমা ব্যয় বৃদ্ধি
    • ● আমদানি বিলের চাপ
    • ● সরবরাহ শৃঙ্খলে অনিশ্চয়তা

    এই সংকট স্পষ্ট করে দেয়, একক সামুদ্রিক রুটের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা ভারতের জন্য বড় ঝুঁকি। ফলে বিকল্প জ্বালানি করিডর তৈরি এখন কৌশলগত অগ্রাধিকার।

    প্রকল্পের মূল বৈশিষ্ট্য

    প্রস্তাবিত পাইপলাইনটি ওমান থেকে আরব সাগর পেরিয়ে সরাসরি গুজরাটে পৌঁছবে। এর ফলে হরমুজ প্রণালীকে পুরোপুরি বাইপাস করা সম্ভব হবে।

    প্রকল্পের খুঁটিনাটি—

    • ● প্রকল্প ব্যয়: ৪০,০০০ কোটি টাকা
    • ● দৈর্ঘ্য: প্রায় ২,০০০ কিমি
    • ● রুট: ওমান → আরব সাগর → গুজরাট
    • ● গভীরতা: ৩,০০০ মিটারেরও বেশি
    • ● নির্মাণকাল: অনুমোদনের পর ৫-৭ বছর
    • ● সম্ভাব্য সমাপ্তি: ২০৩৩-২০৩৫

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ভারতের অন্যতম জটিল গভীর সমুদ্রের শক্তি অবকাঠামো প্রকল্প হতে পারে।

    কোন সংস্থাগুলি যুক্ত?

    এই প্রকল্পে একাধিক রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

    • ● গেল (GAIL) – প্রকল্পের প্রধান অপারেটর ও কার্যকারিতা পরিকল্পনাকারী
    • ● ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্ডিয়া লিমিটেড (EIL) – প্রযুক্তিগত মূল্যায়ন
    • ● ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন (IOC) – সর্বশেষ ব্যবহারকারী ও অংশীদার

    বিশেষভাবে গেল-এর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সংস্থাটি ভারতের মোট গ্যাস ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্কের ৭০ শতাংশেরও বেশি নিয়ন্ত্রণ করে।

    হরমুজ সংকটে কতটা ক্ষতি হয়েছে?

    ২০২৬ সালের হরমুজ অস্থিরতার জেরে ভারতের অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা লাগে। সরকারি ও শিল্প সূত্র অনুযায়ী—

    • ● মাত্র ৬ সপ্তাহে ক্ষতি: প্রায় ৬২,৫০০ কোটি টাকা
    • ● ২০২৬-এর প্রথম ত্রৈমাসিকে ক্ষতি: ১.৯৮ লক্ষ কোটি টাকা
    • ● তেল সংস্থাগুলির দৈনিক ক্ষতি: ১,৬০০-১,৭০০ কোটি টাকা

    জ্বালানির দাম স্থিতিশীল রাখতে সরকার খুচরো বাজারে মূল্যবৃদ্ধি আটকে রাখলেও, এর ফলে আর্থিক চাপ আরও বেড়েছে।

    চিনের সঙ্গে অবকাঠামোগত প্রতিযোগিতা

    এই সিদ্ধান্তের পেছনে ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতাও বড় কারণ। বিশেষত চিন ইতিমধ্যেই বিকল্প জ্বালানি করিডর ও পাইপলাইন অবকাঠামোয় ব্যাপক বিনিয়োগ করেছে। ভারতে তুলনামূলকভাবে প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার এখনও কম এবং গ্যাস অবকাঠামোও সীমিত। ফলে দ্রুত সম্প্রসারণ ও বৈচিত্র্যায়ন এখন জরুরি।

    সেজ প্রকল্পের সম্ভাবনা

    বেসরকারি সংস্থা সাউথ এশিয়া গ্যাস এন্টারপ্রাইজ (SAGE)-ও আগে অনুরূপ সমুদ্রতলে পাইপলাইন প্রকল্পের প্রস্তাব দিয়েছিল।

    সেজ প্রকল্পের তথ্য

    • ● ব্যয়: ৫০০ কোটি মার্কিন ডলার
    • ● ক্ষমতা: দৈনিক ৩১ মিলিয়ন মেট্রিক ঘনমিটার
    • ● সম্ভাব্য সাশ্রয়: বছরে ৭,০০০ কোটি টাকা

    সরকার চাইলে এই বিদ্যমান নকশা বা feasibility work ব্যবহার করে সময় ও খরচ কমাতে পারে।

    ভারতের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ওমান-গুজরাট পাইপলাইন কেবল একটি গ্যাস পরিবহন প্রকল্প নয়, বরং ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা রূপরেখার বড় রূপান্তর।

    সম্ভাব্য সুবিধা

    • ● হরমুজের ওপর নির্ভরতা কমবে
    • ● গ্যাস সরবরাহে স্থিতিশীলতা আসবে
    • ● প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি ব্যয় কমবে
    • ● শিল্প খাতে জ্বালানি নিরাপত্তা বাড়বে
    • ● দীর্ঘমেয়াদে কৌশলগত সুবিধা মিলবে

    হরমুজ সংকট ভারতের সামনে জ্বালানি নিরাপত্তার দুর্বলতা স্পষ্ট করে দিয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে ওমান-গুজরাট সাবসি পাইপলাইন প্রকল্প দেশের জ্বালানি নীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে আগামী এক দশকে ভারত আরও সহনশীল, বৈচিত্র্যময় এবং ভূ-রাজনৈতিকভাবে নিরাপদ জ্বালানি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে পারবে।

  • PCOS Renamed PMOS: পিসিওএস আর নয়! বদলে গেল নাম, এবার থেকে এই নতুন নামে চিনবে চিকিৎসকরা, কেন প্রয়োজন ছিল নামবদলের?

    PCOS Renamed PMOS: পিসিওএস আর নয়! বদলে গেল নাম, এবার থেকে এই নতুন নামে চিনবে চিকিৎসকরা, কেন প্রয়োজন ছিল নামবদলের?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রোম বললেই এখন আর চলবে না। বরং, রোগ চিহ্নিত হলে রোগীকে জানাতে হবে, সঠিক সমস্যা কোথায়! রোগীর উদ্বেগ এবং সংশয় কমাতেই এই নয়া উদ্যোগ।

    নতুন নামকরণ কী হল? কেন পিসিওডি-র নাম বদল?

    সম্প্রতি এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বিশেষজ্ঞরা স্থির করেছেন পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রোম (PCOS) বললে অসংখ্য আক্রান্তের মধ্যে ভ্রান্ত ধারণা তৈরি হচ্ছে। ওভারিতে সিস্ট বা বাড়তি মাংস পিন্ড সরাসরি পাওয়া না গেলেও, কেন তাকে পিসিওডি আক্রান্ত বলে জানানো হচ্ছে, এই নিয়ে জটিলতা তৈরি হচ্ছে। তাই আন্তর্জাতিক এন্ড্রোক্রাইন সোসাইটির পরামর্শে এর নয়া নামকরণ হয়েছে, পলিএন্ডোক্রাইন মেটাবোলিক ওভারিয়ান সিনড্রোম (PMOS)। এক আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান বিষয়ক প্রবন্ধে বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, পিসিওডির সমস্যা বিশ্ব জুড়ে বাড়ছে। তবে আক্রান্তের ওভারিতে অনেক সময়েই সিস্ট পাওয়া যায় না। তবে তার হরমোন ঘটিত সমস্যা হয়। এই নয়া নামকরণের আসল উদ্দেশ্য রোগ নিয়ে ভ্রান্ত ধারণা কমানো। তাঁরা জানাচ্ছেন, পলি এন্ডোক্রাইন মেটাবোলিক ওভারিয়ান সিনড্রোম হল শরীরের সমস্ত হরমোন ঘটিত সমস্যা এবং শরীরের নিজস্ব শক্তি ব্যবস্থা সংক্রান্ত সমস্যা।

    পিসিওডি এবং পিএমওডি মধ্যে ফারাক কোথায়?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শরীরের যেকোনও হরমোন ঘটিত সমস্যা কিন্তু পিসিওডি নয়। ওভারিতে অতিরিক্ত মাংস পিন্ড থাকলে তবেই সেটা পিসিওডি বলা যেতে পারে। কিন্তু অনেক সময়েই রোগীর ওভারিতে সিস্ট থাকে না। অথচ নানান হরমোন ঘটিত সমস্যা দেখা দেয়। অনিয়মিত ঋতুস্রাব, অতিরিক্ত ওজন, বন্ধ্যাত্বের সমস্যা হয়। যেগুলো শরীরের হরমোনের ভারসাম্যের অভাবে ঘটে। তাকে কখনই পিসিওডি বলা ঠিক নয়। বলা উচিত পিএমওডি। রোগ চিহ্নিত করে ঠিকমতো বোঝাতে পারলে তবেই রোগী সচেতন হবেন। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, অস্বাস্থ্যকর জীবন যাপনের জন্য এই রোগ হয়। তাই রোগীর নিজের সমস্যা সম্পর্কে ঠিকমতো জানা জরুরি। রোগ নিয়ে বাড়তি জটিলতা ও বিভ্রান্তি এড়ানো দরকার।

    কেন এই রোগের দাপট বাড়ছে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শারীরিক পরিশ্রমের অভাবের জেরেই এই ধরনের রোগের প্রকোপ বাড়ছে। তাঁরা জানাচ্ছেন, অধিকাংশ সময়েই বসে থাকা, শারীরিক পরিশ্রম কম করা এবং অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইমের জন্য এই ধরনের হরমোন ঘটিত সমস্যা তৈরি হয়। তবে ডায়াবেটিসের মতো রোগে আক্রান্ত থাকলে পিএমওএসের দাপট বাড়ে‌। ভারতের মতো দেশে ডায়াবেটিস আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। তাই পিএমওএসের (PMOS) প্রকোপ ও বাড়ছে। জিনগত কারণেও এই রোগ হয় বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, পরিবারে মা-বোন-মাসি এই রোগে আক্রান্ত হলে পরবর্তী প্রজন্মের এই রোগ হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

    ভারতে আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধির কারণ কী কী?

    ভারত সহ বিশ্বের একাধিক দেশে পিএমওএস আক্রান্তের সংখ্যা উদ্বেগজনক ভাবে বৃদ্ধির অন্যতম কারণ চটজলদি এবং প্রক্রিয়াজাত খাবারে অভ্যস্ত হয়ে যাওয়া। বিশ্বের অধিকাংশ মানুষ বিশেষত কম বয়সিদের মধ্যে প্রক্রিয়াজাত খাবার অত্যন্ত জনপ্রিয়। এই খাবারে অতিরিক্ত ক্ষতিকারক রাসায়নিক থাকে। পিৎজা, বার্গার, হটডগের মতো প্রক্রিয়াজাত খাবার শরীরে পুষ্টির জোগান দেয় না। বরং, শরীরে অতিরিক্ত মেদ জমতে সাহায্য করে। ফলে, অতিরিক্ত ওজনের সমস্যা তৈরি হয়। একদিকে এমন খাদ্যাভাস যা শরীরের ওজন বাড়িয়ে দিচ্ছে, আরেকদিকে এমন জীবন যাপন, যেখানে শারীরিক পরিশ্রমের সুযোগ কম। এই দুইয়ের জেরেই হরমোনের ভারসাম্যের অভাব দেখা দিচ্ছে। ফলে, পিএমওএসের (PMOS) মতো রোগের দাপট বাড়ছে। তাছাড়া, অনিদ্রা, মানসিক অবসাদ এই রোগের দাপট বৃদ্ধির নেপথ্যে রয়েছে বলেই মনে করছেন চিকিৎসক মহল। তাঁরা জানাচ্ছেন, বিশ্ব জুড়ে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। কম বয়সি মেয়েদের মধ্যে মানসিক চাপ এবং অবসাদ বাড়ছে। তাঁরা অনিদ্রার সমস্যার শিকার হচ্ছেন। এগুলো শরীরের হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে। শারীরিক শক্তি ক্ষয় হয়। ফলে পলিএন্ডোক্রাইন মেটাবোলিক ওভারিয়ান সিনড্রোমে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

    কাদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, যেকোনও মহিলাই পিএমওএসে আক্রান্ত হতে পারেন। তাঁরা জানাচ্ছেন, বয়ঃসন্ধিকালে থাকা মেয়েদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। তবে পরিবারের কেউ পিসিওডি কিংবা পিএমওএসে আক্রান্ত হলে, পরবর্তী প্রজন্মের জন্য বাড়তি ঝুঁকি তৈরি হয়। তাছাড়া ডায়াবেটিস আক্রান্ত হলে পলিএন্ডোক্রাইন মেটাবোলিক ওভারিয়ান সিনড্রোমের (PMOS) ঝুঁকি বেড়ে যায় বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তবে স্থূলতার সমস্যা থাকলে, এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার সবচেয়ে বেশি ঝুঁকি থাকে। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ।

  • Dhar Bhojshala Verdict: ‘আসলে সরস্বতী মন্দির’, ধার ভোজশালা নিয়ে ঐতিহাসিক রায় হাইকোর্টের, মান্যতা পেল হিন্দুদের দাবিই

    Dhar Bhojshala Verdict: ‘আসলে সরস্বতী মন্দির’, ধার ভোজশালা নিয়ে ঐতিহাসিক রায় হাইকোর্টের, মান্যতা পেল হিন্দুদের দাবিই

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মধ্যপ্রদেশের ধার জেলার বহু বিতর্কিত ভোজশালা-কমল মৌলা মসজিদ চত্বর নিয়ে ঐতিহাসিক রায় দিল মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের ইন্দোর বেঞ্চ। শুক্রবার আদালত জানিয়েছে, উপলব্ধ ঐতিহাসিক নথি, প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ এবং ভারতীয় প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগ (ASI)-এর বৈজ্ঞানিক রিপোর্ট অনুয়ায়ী, এই স্থাপনাটি আসলে দেবী সরস্বতীর মন্দির এবং সংস্কৃত শিক্ষার কেন্দ্র হিসেবেই প্রতিষ্ঠিত ছিল। এই রায়কে ভোজশালা (Dhar Bhojshala Verdict) বিতর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় বলে মনে করা হচ্ছে, কারণ বহু দশক ধরে হিন্দু ও মুসলিম— দুই সম্প্রদায়ই এই স্থাপনার উপর নিজ নিজ ধর্মীয় দাবি জানিয়ে এসেছে।

    আদালতের পর্যবেক্ষণ কী?

    হাইকোর্ট তার পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট জানিয়েছে, ভোজশালার মূল চরিত্র ছিল একটি সাংস্কৃতিক শিক্ষাকেন্দ্র বা মহাবিদ্যালয়। আদালতের মতে, প্রত্নতত্ত্ব একটি বিজ্ঞান এবং আদালত বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা, খনন রিপোর্ট ও ঐতিহাসিক উপাদানের উপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। আদালত এএসআই-এর বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা রিপোর্টের উপর পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করে জানিয়েছে, ভোজশালা চত্বরে প্রাপ্ত ভাস্কর্য, মন্দিরসদৃশ স্থাপত্য ধ্বংসাবশেষ, স্তম্ভ, শিলালিপি এবং অন্যান্য নিদর্শন এই স্থাপনার প্রাচীন হিন্দু ঐতিহ্যের পক্ষে শক্তিশালী প্রমাণ। রায়ে আরও বলা হয়েছে, প্রাচীন স্মৃতিস্তম্ভ, ঐতিহাসিক স্থাপনা এবং প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্বসম্পন্ন ধর্মীয় স্থানগুলির সংরক্ষণ করা সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব। শুধু সংরক্ষণই নয়, দর্শনার্থী ও ভক্তদের জন্য মৌলিক সুযোগ-সুবিধা, নিরাপত্তা এবং আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখাও সরকারের দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত।

    ২০০৩ সালের এএসআই আদেশ বাতিল

    ২০০৩ সালে এএসআই জারি করা সেই আদেশ শুক্রবার বাতিল করেছে হাইকোর্ট, যেখানে হিন্দুদের উপাসনার অধিকার সীমিত করা হয়েছিল এবং মুসলিম সম্প্রদায়কে শুক্রবার নামাজ পড়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। আদালতের মতে, ওই নির্দেশ হিন্দু সম্প্রদায়ের উপাসনার অধিকারকে সীমাবদ্ধ করেছিল। আদালত উল্লেখ করেছে, বিতর্কিত স্থানে হিন্দুদের পূজা-অর্চনার ধারাবাহিকতা কখনও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। বর্তমানে এএসআই এই সংরক্ষিত স্মৃতিস্তম্ভের রক্ষণাবেক্ষণ চালিয়ে যাবে এবং কেন্দ্রীয় সরকার ও এএসআই-কে ভোজশালা কমপ্লেক্সের প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    মুসলিম পক্ষকে পৃথক জমির আবেদন করার স্বাধীনতা

    রায়ে আদালত মুসলিম সম্প্রদায়ের বিষয়েও মন্তব্য করেছে। আদালত জানিয়েছে, মুসলিম পক্ষ চাইলে ধার জেলায় নামাজ আদায়ের জন্য পৃথক জমির আবেদন করতে পারে। এই মন্তব্যের মাধ্যমে আদালত একদিকে ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক দাবিকে স্বীকৃতি দিয়েছে, অন্যদিকে আইন-শৃঙ্খলা ও ধর্মীয় সংবেদনশীলতার বিষয়টিও বিবেচনায় রেখেছে।

    ভোজশালা বিতর্কের ইতিহাস

    ঐতিহাসিক সূত্র অনুযায়ী, ধার অঞ্চল একসময় পারমার রাজবংশের অধীনে ছিল। রাজা ভোজ, যিনি ১০০০ থেকে ১০৫৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত শাসন করেন, ছিলেন দেবী সরস্বতীর একনিষ্ঠ ভক্ত। ১০৩৪ খ্রিস্টাব্দে তিনি এখানে একটি মহাবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন, যা পরবর্তীতে ভোজশালা নামে পরিচিত হয়। হিন্দু সম্প্রদায়ের দাবি, এটি শুধু শিক্ষাকেন্দ্রই নয়, দেবী সরস্বতীর মন্দিরও ছিল। ঐতিহাসিক বর্ণনা অনুযায়ী, ১৩০৫ সালে আলাউদ্দিন খিলজির সময় ভোজশালার একাংশ ধ্বংস হয়। পরে ১৪০১ সালে দিলাওয়ার খান ঘোরি এবং ১৫১৪ সালে মাহমুদ শাহ খিলজি এখানে মসজিদের অংশ নির্মাণ করেন বলে দাবি করা হয়। ১৮৭৫ সালে এখানে প্রত্নতাত্ত্বিক খননকার্য চালানো হলে দেবী সরস্বতীর একটি মূর্তি উদ্ধার হয়, যা পরবর্তীতে বিতর্ককে আরও জোরদার করে।

    এএসআই-এর রিপোর্টে কী উঠে এসেছিল?

    ২০২৪ সালের জুলাই মাসে এএসআই মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টে তাদের বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা রিপোর্ট জমা দেয়। সেই রিপোর্টে ভোজশালা-কমল মৌলা মসজিদ কমপ্লেক্সের ভিতরে মন্দিরসদৃশ ধ্বংসাবশেষ, খোদাই করা স্তম্ভ, দেবদেবীর ভাস্কর্য এবং প্রাচীন স্থাপত্য নিদর্শনের উল্লেখ করা হয়। এই রিপোর্টই মামলার মোড় ঘুরিয়ে দেয় বলে মনে করা হচ্ছে।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ এই রায়?

    ভোজশালা মামলা শুধু একটি সম্পত্তি বা ধর্মীয় স্থানের বিতর্ক নয়, এটি ভারতের ঐতিহাসিক ঐতিহ্য, ধর্মীয় অধিকারের প্রশ্ন এবং প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণের ভিত্তিতে বিচারিক সিদ্ধান্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হয়ে উঠল। হাইকোর্ট স্পষ্ট করেছে, বৈজ্ঞানিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কারকে উপেক্ষা করা যায় না। সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ সংবিধানের চেতনার অংশ এবং সরকারকে এ বিষয়ে সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে। এই রায় ভবিষ্যতে দেশের অন্যান্য বিতর্কিত ধর্মীয়-ঐতিহাসিক স্থাপনা সংক্রান্ত মামলাগুলিতেও গুরুত্বপূর্ণ নজির তৈরি করতে পারে।

  • CM Suvendu Adhikari: লাইভ দেখানো হবে বিধানসভার সব কাজ! স্পিকার নির্বাচনের দিনেই ঐতিহাসিক ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

    CM Suvendu Adhikari: লাইভ দেখানো হবে বিধানসভার সব কাজ! স্পিকার নির্বাচনের দিনেই ঐতিহাসিক ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলার সংসদীয় রাজনীতিতে সূচনা হল এক নতুন অধ্যায়ের। শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার নতুন অধ্যক্ষ হিসেবে শপথ গ্রহণ করলেন কোচবিহার দক্ষিণ কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক রথীন্দ্রনাথ বসু। ১৮তম বিধানসভার প্রথম অধিবেশনে তাঁর বিরুদ্ধে কোনও প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় সর্বসম্মতিক্রমে ও ধ্বনিভোটে স্পিকার পদে নির্বাচিত হন তিনি। সকালে প্রোটেম স্পিকার তাপস রায়ের তত্ত্বাবধানে নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। মুখ্যমন্ত্রী ও শাসকদলের পরিষদীয় দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী রথীন্দ্রনাথের নাম প্রস্তাব করেন, যা সমর্থন করেন দিলীপ ঘোষ ও অগ্নিমিত্রা পাল। বিধানসভার দীর্ঘদিনের রীতি মেনে বিরোধীরা আলাদা প্রার্থী না দেওয়ায় প্রথমবারের বিধায়ক রথীন্দ্রনাথ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়লাভ করেন। পরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্পিকারের আসনে বসান।

    বিধানসভায় লাইভ টেলিকাস্ট

    নতুন স্পিকার নির্বাচনের পর বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন। তিনি জানান, সংসদীয় গণতন্ত্রে স্বচ্ছতা বাড়াতে এবার থেকে বিধানসভার সমস্ত কার্যক্রম সাধারণ মানুষের জন্য সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। ফলে বিধায়করা কীভাবে কাজ করছেন এবং সরকার কীভাবে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, তা মানুষ সরাসরি দেখতে পারবেন। তাঁর কথায়, বিল, বাজেট, জিরো আওয়ার-সহ সব গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম টেলিকাস্টের আওতায় আসবে। পাশাপাশি, বর্তমান বিধানসভা ভবনের আধুনিকীকরণের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। শুভেন্দুর মতে, এখনও ভোটিংয়ের জন্য কাগজে নির্ভর করতে হয়, যা প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত করার সময় এসেছে। ভবিষ্যতে ডিলিমিটেশনের ফলে আসন সংখ্যা বাড়লে নতুন বিধানসভা ভবনের প্রয়োজনও দেখা দিতে পারে।

    “হাউজ বিলংস টু অপজিশন”

    বক্তব্যে শুভেন্দু অধিকারী অতীতের বিধানসভা পরিচালনা নিয়ে পরোক্ষভাবে পূর্বতন সরকারের সমালোচনাও করেন। তিনি বলেন, আগে বিরোধী দলের তরফে মন্ত্রীদের কাছে চিঠি পাঠানো হলেও তার উত্তর মিলত না। কিন্তু বর্তমান সরকার সেই সংস্কৃতি বদলাতে চায়। এখন থেকে শুধু প্রাপ্তিস্বীকার নয়, সমস্যার সমাধানের দিকেও নজর দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। বিরোধীদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, “হাউজ বিলংস টু অপজিশন”—এই নীতিকে সামনে রেখেই আগামী দিনে বিধানসভার কাজ চলবে। সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও বিরোধীদের মত প্রকাশের পর্যাপ্ত সুযোগ দেওয়া হবে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু আরও বলেন, বিরোধীরা চাইলে মন্ত্রীদের সঙ্গে দেখা করতে পারবেন এবং তাঁদের সমস্যা বা দাবি নিয়ে সরাসরি আলোচনা করতে পারবেন, যদি দলীয় অনুমতি থাকে। তিনি বিজেপি বিধায়কদেরও নির্দেশ দেন, বিরোধী দলের সদস্যরা দেখা করতে চাইলে তাঁদের সময় দিতে হবে। তাঁর দাবি, দেশের অন্যান্য বিজেপি-শাসিত রাজ্যে যেভাবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আদর্শে সরকার পরিচালিত হচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গেও সেই ধারা বজায় থাকবে।

    বিরোধীদের বড় বার্তা শুভেন্দুর

    বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন বিধানসভায় নিজের নানা অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে শুভেন্দু জানান, অতীতের তিক্ততা ভুলে তিনি নতুনভাবে এগোতে চান। তাঁর বক্তব্য, বিধানসভা বহুদলীয় গণতন্ত্রের মঞ্চ, তাই নিয়ম ও শালীনতা বজায় রেখেই কাজ হওয়া উচিত। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কোনও বিধায়ক যাতে শারীরিক হেনস্থার শিকার না হন বা অযথা শাস্তির মুখে না পড়েন, তা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, বিধানসভা মারামারির জায়গা নয়, বরং এটি হওয়া উচিত গঠনমূলক বিতর্ক ও জবাবদিহির ক্ষেত্র। সংবিধানকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিধানসভার কাজ পরিচালনা হবে বলেও তিনি জানান। নতুন স্পিকার সরকারের সঙ্গে পরামর্শ করে বিধানসভা পরিচালনা করবেন এবং তাঁর নির্দেশ সবাই মেনে চলবেন—এমন আশ্বাসও দেন শুভেন্দু। বিরোধীদের প্রতি মুখ্যমন্ত্রীর অনুরোধ, তাঁরা যেন গঠনমূলক সমালোচনা করেন এবং বিধানসভার নিয়মবিধি মেনে চলেন। একইসঙ্গে বিজেপি বিধায়কদের প্রতি তাঁর নির্দেশ, বিরোধী দলের বিধায়করা দেখা করতে চাইলে যেন তাঁদের সময় (অ্যাপয়েন্টমেন্ট) দেওয়া হয়। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, নতুন স্পিকারের কার্যকালের শুরুতেই মুখ্যমন্ত্রীর এই আপাত সমঝোতামূলক ও উদার বার্তা ভবিষ্যতে বিধানসভার পরিবেশকে আরও ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ করে তুলতে পারে।

  • NEET CBT Mode: আগামী বছর থেকে অনলাইনে হবে নিট পরীক্ষা, প্রশ্নফাঁসের পর কড়া সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের

    NEET CBT Mode: আগামী বছর থেকে অনলাইনে হবে নিট পরীক্ষা, প্রশ্নফাঁসের পর কড়া সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রশ্নফাঁস বিতর্কে উত্তাল দেশজুড়ে মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষা নিট-ইউজি ২০২৬ (NEET-UG 2026)। এই আবহেই বড় ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান (Dharmendra Pradhan)। শুক্রবার তিনি জানান, আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৭ থেকে নিট পরীক্ষা সম্পূর্ণ কম্পিউটার-ভিত্তিক (Computer-Based Test বা CBT) ফরম্যাটে নেওয়া হবে। ২০২৬ সালের পরীক্ষায় কথিত প্রশ্নফাঁসের অভিযোগের পর পরীক্ষা ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, সুরক্ষিত এবং জবাবদিহিমূলক করতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। সরকার ইতিমধ্যেই নিশ্চিত করেছে, বাতিল হওয়া নিট-ইউজি (NEET UG 2026)-এর পুনঃপরীক্ষা আগামী ২১ জুন অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে ৩ মে অনুষ্ঠিত মূল পরীক্ষা প্রশ্নফাঁসের অভিযোগের জেরে বাতিল করা হয়েছিল। এই সিদ্ধান্তে লাখ লাখ পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তার অবসান ঘটাতে চেয়েছে কেন্দ্র।

    আগামী বছর থেকে বদলাচ্ছে নিট-এর ফরম্যাট

    মিডিয়ার মুখোমুখি হয়ে ধমেন্দ্র প্রধান জানান, আগামী বছর থেকে নিট-ইউজিকে ওএমআর (OMR) ভিত্তিক পেন-পেপার মোড থেকে সরিয়ে সিবিটি ফরম্যাটে নিয়ে যাওয়া হবে। তাঁর কথায়, “দেশের অন্যতম বৃহৎ প্রবেশিকা পরীক্ষার বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখতে প্রযুক্তিনির্ভর পরীক্ষা ব্যবস্থাই এখন সময়ের দাবি।” যদিও ২০২৬ সালের পুনঃপরীক্ষা এখনও ওএমআর শিটের মাধ্যমেই হবে। তবে পরীক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য ওএমআর শিট পূরণে অতিরিক্ত ১৫ মিনিট সময় দেওয়া হবে বলেও ঘোষণা করেছেন শিক্ষামন্ত্রী।

    সিবিআই-এর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, গোড়া পর্যন্ত খতিয়ে দেখা হবে

    প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে তদন্তভার ইতিমধ্যেই সিবিআই (CBI)-এর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। ধমেন্দ্র প্রধান জানান, এই তদন্তে শুধু দোষীদের চিহ্নিত করাই নয়, কীভাবে প্রশ্ন বাইরে গেল, কারা এর সঙ্গে জড়িত এবং কোনও সংঘবদ্ধ শিক্ষা মাফিয়া বা প্রতারণা চক্র সক্রিয় ছিল কি না—সবটাই খতিয়ে দেখা হবে। তিনি বলেন, “এই অনিয়মের শিকড় পর্যন্ত পৌঁছনো হবে। কোনও যোগ্য ছাত্রছাত্রী যেন প্রতারণার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেটাই সরকারের অগ্রাধিকার।”

    ‘গেস পেপার’ অভিযোগ থেকেই শুরু তদন্ত

    ঘটনার সূত্রপাত নিয়ে বিস্তারিত জানান শিক্ষামন্ত্রী। তাঁর কথায়, ৩ মে পরীক্ষা হওয়ার পর ৭ মে এনটিএ-র (NTA) কাছে একটি অভিযোগ আসে, যেখানে দাবি করা হয়, বাজারে ছড়িয়ে পড়া একটি তথাকথিত ‘গেস পেপার’ (Guess Paper)-এর কিছু প্রশ্ন হুবহু মূল পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের সঙ্গে মিলে যাচ্ছে। ধমেন্দ্র প্রধান বলেন, “৭ মে অভিযোগ পাওয়ার পরই এনটিএ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখে এবং উচ্চশিক্ষা বিভাগ তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত শুরু করে।” পরে বিভিন্ন তদন্তকারী সংস্থা এবং রাজ্য প্রশাসনের সহায়তায় অনুসন্ধান চালানো হয়। ১২ মে-র মধ্যে তদন্তে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, ‘guess paper’-এর আড়ালে আসলে পরীক্ষার প্রকৃত প্রশ্নই ফাঁস হয়েছিল। মন্ত্রী বলেন, “১২ মে-র মধ্যে আমরা নিশ্চিত হই যে, গেস পেপারের নামে আসল প্রশ্নপত্র বাইরে চলে গিয়েছিল।”

    কেন বাতিল করা হল পরীক্ষা?

    পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনার মুখেও সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন ধমেন্দ্র প্রধান। তাঁর দাবি, সৎ ও মেধাবী পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষা করতেই এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, “আমরা চাইনি কোনও যোগ্য ছাত্রছাত্রী ভুয়ো পরীক্ষার্থী, প্রতারণা চক্র বা শিক্ষা মাফিয়ার ষড়যন্ত্রের কারণে তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হোক।” এই সিদ্ধান্তের পর বহু পরীক্ষার্থী প্রথমে মানসিক চাপে পড়লেও, নতুন পরীক্ষার তারিখ ঘোষণায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে বলে মনে করা হচ্ছে। ধমেন্দ্র প্রধান জানান, অতীতে বিভিন্ন প্রবেশিকা পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর সরকার একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছিল। সেই রাধাকৃষ্ণন কমিটি-র সুপারিশ ২০২৫ এবং ২০২৬ সালের পরীক্ষায় কার্যকরও করা হয়েছিল। মন্ত্রী বলেন, “রাধাকৃষ্ণন কমিটির সুপারিশ অক্ষরে অক্ষরে কার্যকর করার পরেও এই ঘটনা ঘটেছে। তাই আমাদের প্রথম সিদ্ধান্ত ছিল পরীক্ষা বাতিল করা।” এতে স্পষ্ট, ভবিষ্যতে পরীক্ষার নিরাপত্তা আরও বাড়াতে সরকার অতিরিক্ত প্রযুক্তিগত এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে চলেছে।

    পুনঃপরীক্ষায় লাগবে না অতিরিক্ত ফি

    পুনঃপরীক্ষা নিয়ে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেছেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, পুনঃপরীক্ষার জন্য পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনও অতিরিক্ত ফি নেওয়া হবে না। অর্থাৎ যাঁরা ইতিমধ্যেই আবেদন করেছিলেন, তাঁরাই বিনামূল্যে পুনরায় পরীক্ষায় বসতে পারবেন। তিনি আরও জানান, পরীক্ষার্থীদের নিজেদের পছন্দের পরীক্ষাকেন্দ্রের শহর বেছে নেওয়ার সুযোগ আবার দেওয়া হবে, এবং এই প্রক্রিয়ার জন্য এক সপ্তাহের সময়সীমা রাখা হয়েছে। সংশোধিত ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তি আজ সন্ধ্যার মধ্যেই প্রকাশ করবে এনটিএ (NTA)। পাশাপাশি, পুনঃপরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ড ১৪ জুন প্রকাশ করা হবে।

    উদ্বেগে লক্ষ লক্ষ পড়ুয়া

    নিট-ইউজি ভারতের অন্যতম বৃহত্তম প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা। প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ পড়ুয়া এমবিবিএস, বিডিএস এবং অন্যান্য মেডিক্যাল কোর্সে ভর্তি হতে এই পরীক্ষায় অংশ নেয়। ফলে পরীক্ষা বাতিল এবং প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ স্বাভাবিকভাবেই ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি করেছে। এখন নজর ২১ জুনের পুনঃপরীক্ষার দিকে। একইসঙ্গে আগামী বছর থেকে সিবিটি ফরম্যাট চালু হলে নিট পরীক্ষার ধরনে বড় পরিবর্তন আসতে চলেছে, যা পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতির পদ্ধতিতেও প্রভাব ফেলবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

  • NEET-UG 2026 Re-Exam: ২১ জুন ফের পরীক্ষা, প্রশ্নফাঁস বিতর্কের পর নতুন করে নিটের দিন ঘোষণা এনটিএ-র

    NEET-UG 2026 Re-Exam: ২১ জুন ফের পরীক্ষা, প্রশ্নফাঁস বিতর্কের পর নতুন করে নিটের দিন ঘোষণা এনটিএ-র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি বা এনটিএ (NTA) অবশেষে নিট-ইউজি পরীক্ষা (NEET-UG 2026) পুনরায় পরীক্ষার নতুন দিন ঘোষণা করল। প্রশ্নফাঁস বিতর্কের জেরে আগের পরীক্ষা বাতিল হওয়ার পর দেশজুড়ে ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকদের মধ্যে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে জানানো হয়েছে, আগামী ২১ জুন ২০২৬, রবিবার অনুষ্ঠিত হবে নিট-এর পুনরায় পরীক্ষা। সরকারি অনুমোদন নিয়ে জারি করা এনটিএ-র সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান (Dharmendra Pradhan) শুক্রবার সকালে সাংবাদিক বৈঠকে আসন্ন নিট-ইউজি পরীক্ষা নিয়ে বিস্তারিত জানাবেন বলেও ঘোষণা করা হয়েছে।

    প্রশ্নফাঁস বিতর্কে দেশজুড়ে ক্ষোভ

    এর আগে প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং একাধিক অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসতেই নিট-ইউজি (NEET-UG 2026) পরীক্ষা বাতিল করা হয়। বিষয়টি সামনে আসার পর দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। লক্ষাধিক মেডিক্যাল পড়ুয়া, যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে প্রস্তুতি নিয়েছিলেন, তাঁদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকদের অভিযোগ ছিল, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশিকা পরীক্ষায় নিরাপত্তার এমন গাফিলতি গোটা ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতাকেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে রাস্তায় নেমেও বহু জায়গায় বিক্ষোভ দেখা যায়।

    ২১ জুন ‘দ্বিতীয় সুযোগ’ লক্ষাধিক পরীক্ষার্থীর জন্য

    নতুন সূচি ঘোষণার ফলে এমবিবিএস (MBBS), বিডিএস (BDS) এবং অন্যান্য আনুষাঙ্গিক মেডিক্যাল কোর্সে ভর্তির জন্য প্রস্তুতি নেওয়া পরীক্ষার্থীরা ফের একটি ন্যায্য সুযোগ পাবেন বলে মনে করা হচ্ছে। পরীক্ষা বাতিল হওয়ার পর বহু পড়ুয়া মানসিক চাপ, অনিশ্চয়তা এবং অল্প সময়ের মধ্যে ফের প্রস্তুতির চাপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এবার পরীক্ষার দিকে গোটা দেশের নজর থাকবে, কারণ এই পরীক্ষা শুধু ভর্তি-পর্ব নয়, এনটিএ-র বিশ্বাসযোগ্যতা পুনর্গঠনের ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এক শিক্ষা বিশ্লেষকের কথায়, “এই পুনঃপরীক্ষা শুধুমাত্র আরেকটি পরীক্ষা নয়, বরং পরীক্ষাব্যবস্থার উপর ছাত্রদের আস্থা ফেরানোর পরীক্ষা।”

    শুধুমাত্র সরকারি তথ্যেই ভরসা করার পরামর্শ

    এনটিএ তাদের অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানিয়েছে, নিট-ইউজি (NEET-UG 2026) সংক্রান্ত সমস্ত আপডেট শুধুমাত্র সরকারি সূত্র থেকেই দেখতে হবে। পরীক্ষার্থীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, টেলিগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ বা অন্যান্য মাধ্যমে ছড়ানো গুজব ও যাচাইহীন তথ্য থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষা সংক্রান্ত কোনও প্রশ্ন থাকলে এনটিএ-র হেল্পলাইন নম্বর ০১১-৪০৭৫৯০০০ এবং ০১১-৬৯২২৭৭০০-এ যোগাযোগ করা যাবে। এছাড়াও neet-ug@nta.ac.in আইডিতে ইমেল আইডিতে প্রশ্ন পাঠানো যাবে।

    এবার আরও কড়া নিরাপত্তা?

    প্রশ্নফাঁস বিতর্কের পর ২১ জুনের পুনরায় পরীক্ষায় নিরাপত্তা অনেক বেশি কড়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। সূত্রের খবর, পরীক্ষাকেন্দ্রে উন্নত ডিজিটাল নজরদারি, শক্তিশালী নজরদারি ব্যবস্থা, গোপন নথি পরিচালনার ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ম এবং পরীক্ষাকেন্দ্রে অতিরিক্ত নিরাপত্তা প্রোটোকল চালু হতে পারে। কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য, পরীক্ষাকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও বিতর্কমুক্ত করা এবং ছাত্র-ছাত্রীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা।

    নতুন চ্যালেঞ্জ, নতুন সুযোগ

    লক্ষাধিক নিট পরীক্ষার্থীর কাছে ২১ জুন এখন শুধুই আরেকটি পরীক্ষার দিন নয়—এটি নতুন করে লড়াই শুরু করার দিন। কয়েক সপ্তাহের বিতর্ক, হতাশা এবং উদ্বেগের পর আবারও প্রস্তুতিতে ফিরতে হচ্ছে পরীক্ষার্থীদের। এখন সকলের একটাই আশা—এইবারের নিট পরীক্ষা যেন কোনও বিতর্ক ছাড়াই, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হয়।

  • Hypertension: ৪০-এর আগেই শরীরে বাসা বাঁধছে ‘নীরব ঘাতক’, প্রতি ৩ জনে ১ জন ভারতীয় আক্রান্ত এই বিপদে!

    Hypertension: ৪০-এর আগেই শরীরে বাসা বাঁধছে ‘নীরব ঘাতক’, প্রতি ৩ জনে ১ জন ভারতীয় আক্রান্ত এই বিপদে!

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    বয়স চল্লিশের চৌকাঠে পৌঁছনোর আগেই নিঃশব্দে শরীরে প্রবেশ করছে। গড়ে প্রতি ৩ জন ভারতীয়দের মধ্যে ১ জন এই সমস্যায় আক্রান্ত। আবার বহু মানুষ জানতেও পারেন না, তার শরীরে নিরবে এই সমস্যা বাসা বেঁধেছে। তাই সতর্কতাও অবলম্বন করতে পারেন না। ভারতীয়দের অন্যতম বড় স্বাস্থ্য সঙ্কট হয়ে উঠছে হাইপারটেনশন (High Blood Pressure)। ১৭ মে ওয়ার্ল্ড হাইপারটেনশন ডে (World Hypertension Day)। ভারতীয় স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা হাইপারটেনশনকে ভারতীয়দের ‘নিরব ঘাতক’ বলেছেন। তাঁরা জানাচ্ছেন, খুব কম বয়স থেকেই ভারতীয়রা এই সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছেন। আর হৃদরোগ, স্ট্রোক সহ একাধিক জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। শরীরের রোগ প্রতিরোধ শক্তি কমিয়ে দেয়। তাই হাইপারটেনশন (Hypertension) ভারতের অন্যতম বড় স্বাস্থ্য সমস্যা হয়ে উঠছে।

    কোন বয়সে বিপদ বাড়ছে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, সাধারণত পঞ্চাশ বছরের পরে হাইপারটেনশনের সমস্যা বেশি দেখা যায়। কিন্তু ভারতের চল্লিশের আশপাশেই এই সমস্যা বাড়ছে। ভারতীয়দের জীবন যাপনের ধরনের জন্য এই সমস্যা বেশি দেখা দিচ্ছে। নিয়মিত অতিরিক্ত পরিমাণ নুন এবং তেল খাওয়া, বাড়তি ওজন এবং অনিদ্রা সমস্যা বাড়াচ্ছে। এছাড়াও হাইপারটেনশনের অন্যতম কারণ হলো মানসিক চাপ এবং অবসাদ। তরুণ প্রজন্মের ভারতীয়দের মধ্যে প্রচন্ড মানসিক চাপ এবং অবসাদের সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এর ফলে অনিদ্রা এবং হাইপারটেনশনের সমস্যা দেখা দিচ্ছে।

    ভারতের এই স্বাস্থ্য সঙ্কটের প্রকোপ বৃদ্ধির কারণ কী?

    অতিরিক্ত ওজন, ডায়াবেটিস এবং মানসিক চাপ

    ভারতের এই স্বাস্থ্য সঙ্কটের অন্যতম কারণ অতিরিক্ত ওজন, ডায়াবেটিস এবং মানসিক চাপ। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, এই সবকিছুই জীবন যাপনের ধরনের সঙ্গে যুক্ত। তাঁরা জানাচ্ছেন, ভারতের অধিকাংশ মানুষের খাদ্যাভাস অস্বাস্থ্যকর। বিশেষত তরুণ প্রজন্মের একাংশ অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার খায়। এই খাবারে একাধিক ক্ষতিকারক রাসায়নিকের পাশাপাশি থাকছে অতিরিক্ত নুন। একাধিক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ভারতীয়রা গড়ে প্রতিদিন ৫ গ্রাম অতিরিক্ত নুন খায়। এই বাড়তি নুন হাইপারটেনশনের সমস্যাকে বাড়িয়ে দিচ্ছে। এছাড়া ভারতীয়দের একাংশ অতিরিক্ত চটজলদি খাবার খাচ্ছে। প্রয়োজনীয় শারীরিক কসরত করছে না। তাই দেহের ওজন বাড়ছে। এই অতিরিক্ত ওজনের জেরে ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশনের মতো রোগের প্রকোপ বাড়ছে।

    অনিদ্রা, জীবনে জটিলতা, মদ্যপান এবং ধূমপান

    এছাড়া ভারতীয়দের বড় অংশ অনিদ্রার সমস্যায় ভুগছেন। তাই হাইপারটেনশনের সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছেন। ঠিকমতো ঘুম না হলে শরীরে রক্তচাপের ভারসাম্য বজায় থাকে না। তাই হাইপারটেনশনের অন্যতম কারণ অনিদ্রা। এছাড়াও পেশাগত জীবনের অতিরিক্ত প্রতিযোগিতা এবং ব্যক্তিগত জীবনে জটিলতা বাড়ছে। এর ফলেও হাইপারটেনশনের সমস্যা বাড়ছে। তরুণ প্রজন্মের একাংশ মদ্যপান এবং ধূমপানে আসক্ত হয়ে যাচ্ছেন। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এই অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস ক্যান্সার এবং একাধিক সংক্রামক রোগের কারণ হওয়ার পাশপাশি হাইপারটেনশনে আক্রান্ত হওয়ার কারণ। তাই এই অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস ত্যাগ করা জরুরি।

    কেন হাইপারটেনশন উদ্বেগজনক সমস্যা? কেন একে নিরব ঘাতক বলা হয়?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, অধিকাংশ ভারতীয় জানেন না তিনি হাইপারটেনশন আক্রান্ত কিনা। নিয়মিত অধিকাংশ ভারতীয় রক্তচাপ মাপেন না। এর ফলে শরীরে এই সমস্যা রয়েছে কিনা, সে সম্পর্কেও ওয়াকিবহাল থাকেন না। তাই এই রোগকে নিরব ঘাতক বলা যেতে পারে। এই সমস্যা থাকলে স্ট্রোক এবং হৃদরোগের জটিলতা বাড়তে পারে। ভারতে হঠাৎ মৃত্যুর অন্যতম কারণ হার্ট অ্যাটাক। আর এই হার্ট অ্যাটাকের নেপথ্যে রয়েছে হাইপারটেনশন। রক্তচাপের ভারসাম্য না থাকলে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। কম বয়সি ভারতীয়দের মধ্যে স্ট্রোকের দাপট দেখা দিচ্ছে। স্ট্রোকের ফলে স্বাভাবিক জীবন যাপন ব্যহত হচ্ছে। কর্ম ক্ষমতা কমছে। আবার প্রাণ সংশয় হচ্ছে। তাই এই রোগ রুখতে হাইপারটেনশনের মতো সমস্যা কমানো দরকার। হাইপারটেনশন বন্ধ্যাত্ব এবং অন্যান্য হরমোন ঘটিত সমস্যা তৈরি করে।

    কী পরামর্শ চিকিৎসকদের?

    এই বিপদ কমাতে চিকিৎসকদের পরামর্শ, অতিরিক্ত নুন খাওয়া কমানো জরুরি। প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং চটজলদি খাওয়া কমালেই বাড়তি নুন খাওয়ার প্রবণতা কমবে। তাছাড়া নিয়মিত শরীরিক কসরত করলে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং মানসিক চাপ কমবে। এগুলো হাইপারটেনশন রুখতে সাহায্য করে। ঘুম নিয়েও সচেতনতা জরুরি। পর্যাপ্ত ঘুম একাধিক রোগ রুখতে সাহায্য করে। অনিদ্রা হাইপারটেনশনের নেপথ্যে কাজ করে। তাই অনিদ্রার সমস্যা কমলে হাইপারটেনশনের ঝুঁকিও কমবে।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • Araghchi in India: হরমুজ থেকে চাবাহার, ব্রিকস বৈঠকে ভারতের গুরুত্ব বাড়াল ইরানের বিশেষ বার্তা

    Araghchi in India: হরমুজ থেকে চাবাহার, ব্রিকস বৈঠকে ভারতের গুরুত্ব বাড়াল ইরানের বিশেষ বার্তা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান অস্থিরতার আবহে ভারতের কূটনৈতিক গুরুত্ব আরও একবার সামনে এল। ব্রিকস বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠকে অংশ নিতে ভারতে এসেছেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাঘচি। তাঁর এই সফর এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন ইরান-ইজরায়েল সংঘাত ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে এবং তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে বিশ্ব জ্বালানি বাজার, সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে। কূটনৈতিক মহলের মতে, এই সফর শুধু একটি বহুপাক্ষিক বৈঠকে অংশগ্রহণ নয়, বরং ভারতের প্রতি ইরানের কৌশলগত বার্তা বহন করছে। আন্তর্জাতিক চাপ ও মেরুকরণের আবহেও ভারত যে তুলনামূলকভাবে নিরপেক্ষ, ভারসাম্যপূর্ণ এবং ‘স্ট্র্যাটেজিক অটোনমি’ বজায় রাখা পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করছে, তা প্রকাশ্যেই প্রশংসা করেছে তেহরান।

    ভারতের নিরপেক্ষ অবস্থানকে গুরুত্ব দিচ্ছে ইরান

    পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত ঘনীভূত হওয়ার পর বহু দেশকে একপক্ষ বেছে নেওয়ার চাপের মুখে পড়তে হয়েছে। কিন্তু ভারত এখনও পর্যন্ত কোনও সংঘাতে সরাসরি পক্ষ না নিয়ে কূটনৈতিক সংলাপ, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষার নীতিতে অটল রয়েছে। ইরান এই অবস্থানকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে অতিরিক্ত ভারতীয় জাহাজের নিরাপদ যাতায়াতের ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আরাঘচি ভারতকে আশ্বস্ত করেছেন যে, সামুদ্রিক উত্তেজনা ও নিরাপত্তা বিধিনিষেধ থাকা সত্ত্বেও ভারতীয় বাণিজ্যিক জাহাজগুলির জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হল সামুদ্রিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ কমানো, পাশাপাশি আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেও ভারত-ইরান কূটনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করা।

    কেন ভারতের জন্য এত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী?

    বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহণ করিডর হল হরমুজ প্রণালী। পারস্য উপসাগর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও গ্যাস পরিবহণের বড় অংশ এই সংকীর্ণ জলপথের মাধ্যমে হয়। ভারতের ক্ষেত্রেও এর গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। দেশের আমদানিকৃত অপরিশোধিত তেলের উল্লেখযোগ্য অংশ এই রুট দিয়েই আসে। ফলে হরমুজে কোনও অস্থিরতা দেখা দিলে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে—

    আন্তর্জাতিক অপরিশোধিত তেলের দামে

    • ● ভারতের জ্বালানি ব্যয়ে
    • ● শিপিং খরচে
    • ● সামগ্রিক আমদানি-রপ্তানি স্থিতিশীলতায়

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের এই আশ্বাস ভারতের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বাড়লে জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খল ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

    চাবাহার বন্দর নিয়ে ফের জোর ভারত-ইরান সম্পর্কে

    বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় ছিল চাবাহার বন্দর প্রকল্প। ইরানের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত এই বন্দরকে ভারত দীর্ঘদিন ধরেই কৌশলগত বিনিয়োগের কেন্দ্র হিসেবে দেখছে।

    চাবাহারের মাধ্যমে ভারত—

    • ● পাকিস্তানকে বাইপাস করে আফগানিস্তানে প্রবেশাধিকার পায়
    • ● মধ্য এশিয়া ও ইউরেশিয়ার বাজারের সঙ্গে সংযোগ বাড়াতে পারে
    • ● আঞ্চলিক বাণিজ্য করিডর শক্তিশালী করতে পারে

    বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও ভূরাজনৈতিক জটিলতা থাকা সত্ত্বেও চাবাহার নিয়ে ভারত-ইরান সহযোগিতা অব্যাহত থাকা প্রমাণ করে যে দুই দেশ দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত অংশীদারিত্ব বজায় রাখতে আগ্রহী।

    একদিকে ইরান, অন্যদিকে ইউএই—ভারতের ‘মাল্টি-অ্যালাইনমেন্ট’ কৌশল

    ভারত বর্তমানে শুধু ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখছে না, একইসঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরশাহী (UAE), সৌদি আরব-সহ উপসাগরীয় শক্তিগুলির সঙ্গেও কৌশলগত ও জ্বালানি সম্পর্ক জোরদার করছে। নয়াদিল্লি খুব সচেতনভাবে এমন এক পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করছে, যেখানে কোনও এক ব্লকের উপর নির্ভরশীল না হয়ে একাধিক শক্তির সঙ্গে সমান্তরাল সম্পর্ক রক্ষা করা হচ্ছে। কূটনীতিকদের মতে, ভারতের এই বহুমুখী কৌশলের মূল লক্ষ্য—

    • ● দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা
    • ● গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য রুট সুরক্ষিত রাখা
    • ● আঞ্চলিক সংঘাতে সরাসরি জড়িয়ে না পড়ে কৌশলগত সুবিধা ধরে রাখা
    • ● ব্রিকস মঞ্চে ভারতের বাড়তি প্রভাব

    ভারত এখন স্থিতিশীলতা রক্ষাকারী কূটনৈতিক শক্তি

    বিশ্ব রাজনীতিতে যখন আমেরিকা, চিন, রাশিয়া-সহ বড় শক্তিগুলির প্রতিযোগিতা তীব্র হচ্ছে, তখন ব্রিকসের মতো বহুপাক্ষিক মঞ্চে ভারতের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। কৌশলগত পর্যবেক্ষকদের মতে, এই বৈঠক স্পষ্ট করেছে যে ভারত এখন শুধু দক্ষিণ এশিয়ার শক্তি নয়, বরং পশ্চিম এশিয়া ও ইউরেশিয়ার ভূরাজনীতিতেও এক গুরুত্বপূর্ণ ভারসাম্য রক্ষাকারী শক্তি হিসেবে উঠে আসছে। ইরানের বিদেশমন্ত্রীর এই সফর আরও একবার তুলে ধরল, আন্তর্জাতিক অস্থিরতার সময় ভারতকে ক্রমশ একটি স্থিতিশীলতা রক্ষাকারী কূটনৈতিক শক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে—যে দেশ একইসঙ্গে সংলাপ, অর্থনৈতিক স্বার্থ ও আঞ্চলিক ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছে।

  • Vande Mataram in Schools: সোমবার থেকে রাজ্যের সব সরকারি স্কুলে বাধ্যতামূলক রাষ্ট্র গীত ‘বন্দেমাতরম’, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

    Vande Mataram in Schools: সোমবার থেকে রাজ্যের সব সরকারি স্কুলে বাধ্যতামূলক রাষ্ট্র গীত ‘বন্দেমাতরম’, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের সমস্ত সরকারি স্কুলে এবার বাধ্যতামূলকভাবে জাতীয় সঙ্গীত ‘জনগণমন’-র পাশাপাশি রাষ্ট্র গীত ‘বন্দেমাতরম’ গাওয়ার নির্দেশ আসতে চলেছে। স্কুল শুরুর আগে প্রার্থনা সঙ্গীত হিসেবেই গাওয়া হবে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা এই জাতীয় গান। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari) ঘোষণা করেন, “সব বিদ্যালয়ে আগামী সোমবার থেকে প্রার্থনা সঙ্গীত হচ্ছে বন্দেমাতরম। নবান্নে (Nabanna) গিয়েই এ নিয়ে আনুষ্ঠানিক নির্দেশিকা জারি করব।”

    আগামী সোমবার থেকেই নতুন নিয়ম কার্যকর

    প্রশাসনিক সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই শিক্ষা দফতরের তরফে এই সংক্রান্ত বার্তা রাজ্যের সমস্ত জেলাশাসক, জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (ডিআই) এবং স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। বিভিন্ন জেলার স্কুল পরিদর্শক ও শিক্ষকদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপেও নতুন নির্দেশ পৌঁছে গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ফলে আগামী সোমবার থেকেই নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। বর্তমানে গরমের ছুটির কারণে অধিকাংশ স্কুল বন্ধ থাকলেও, প্রশাসনিক স্তরে প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। আলিপুরদুয়ার জেলার প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শক লক্ষ্মনা গোলে জানিয়েছেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ইতিমধ্যেই হোয়াটসঅ্যাপ মারফত নির্দেশ এসেছে। খুব দ্রুত লিখিত নির্দেশিকাও পৌঁছে যাবে স্কুলগুলিতে।

    নির্দেশ মানা হচ্ছে কিনা, সেই রিপোর্ট জমা করতে হবে

    নতুন নিয়ম অনুযায়ী, শুধু ‘বন্দেমাতরম’ গাওয়া বাধ্যতামূলক করাই নয়, স্কুলে এই নির্দেশ মানা হচ্ছে কি না, সেই রিপোর্টও শিক্ষা দফতরে জমা দিতে হবে। অর্থাৎ, প্রার্থনার সময় রাষ্ট্রগীত গাওয়া হয়েছে কি না, তার নজরদারিও থাকবে প্রশাসনের। এই সিদ্ধান্ত সামনে আসতেই শিক্ষা মহল এবং অভিভাবকদের মধ্যে একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এতদিন অধিকাংশ স্কুলে প্রার্থনার সময় জাতীয় সঙ্গীত ‘জনগণমন’ গাওয়া হত। অনেক স্কুলে আবার জাতীয় সঙ্গীতের পাশাপাশি নিজস্ব প্রার্থনা সঙ্গীতও ছিল। এর আগে পূর্বতন সরকারের আমলে বাধ্যতামূলকভাবে রাজ্য সঙ্গীত ‘বাংলার মাটি, বাংলার জল’ গাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এবার জাতীয় সঙ্গীতের পর রাষ্ট্র গান ‘বন্দেমাতরম’ গান গাওয়া হবে।

    ‘‘জাতীয় চেতনা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ’’

    শিক্ষক সংগঠনগুলির একাংশ অবশ্য এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসংঘ (এবিআরএসএম)-এর নেতা অসীম দাস বলেন, “সাম্প্রদায়িকতার অজুহাতে এতদিন এই রাষ্ট্রগীতকে স্কুলে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। ‘বন্দেমাতরম’ আমাদের জাতীয় চেতনা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ। স্কুলে এটি চালু হওয়া ইতিবাচক পদক্ষেপ।” আলিপুরদুয়ার জেলার স্কুল পরিদর্শক (প্রাথমিক) লক্ষ্মণা গোলে বলেন, ‘‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আমাদের একটা হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ দিয়ে বিষয়টি কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছেন।” ওই আধিকারিকের কথায়, এরপরেই ওই নির্দেশিকা বিভিন্ন স্কুল শিক্ষকদের গ্রুপে পাঠানো হয়েছে। খুব শীঘ্রই এই সংক্রান্ত লিখিত অর্ডার হাতে আসবে। এরপরেই সমস্ত স্কুলগুলিতে তা পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

    ‘‘বিকৃত ইতিহাস বদলের এটাই সঠিক সময়’’

    রাজনৈতিক মহলেও এই সিদ্ধান্ত ঘিরে প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya) বলেন, “বিকৃত ইতিহাস বদলের এটাই সঠিক সময়। নতুন প্রজন্মের সামনে সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে এই সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ।” রাজ্যের নতুন সরকারের এই পদক্ষেপ ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক ও শিক্ষামহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। এখন নজর থাকছে, নবান্ন থেকে জারি হওয়া চূড়ান্ত নির্দেশিকায় জাতীয় সঙ্গীত, রাষ্ট্রগীত এবং স্কুলগুলির নিজস্ব প্রার্থনা সঙ্গীত নিয়ে কী স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়।

  • Shantanu Sinha Biswas: বারবার তলব এড়িয়ে শেষমেশ ইডি দফতরে হাজির কলকাতা পুলিশের ডিসি শান্তনু সিনহা বিশ্বাস

    Shantanu Sinha Biswas: বারবার তলব এড়িয়ে শেষমেশ ইডি দফতরে হাজির কলকাতা পুলিশের ডিসি শান্তনু সিনহা বিশ্বাস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইডির দফতরে অবশেষে হাজির হলেন কলকাতা পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (DCP) শান্তনু সিনহা বিশ্বাস। বৃহস্পতিবার সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে ইডির অফিসে পৌঁছন তিনি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন দুই আইনজীবী। দীর্ঘদিন ধরে একাধিক মামলায় তাঁকে তলব করলেও হাজিরা এড়িয়ে যাচ্ছিলেন বলে অভিযোগ ছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার।

    লুকআউট নোটিস জারি করেছিল ইডি…

    বুধবারই শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের খোঁজ পেতে নিরাপত্তা অধিকর্তাকে চিঠি পাঠিয়েছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। এর পরেই বৃহস্পতিবার সকালে তাঁর ইডি দফতরে হাজিরা ঘিরে জোর চর্চা শুরু হয়। উল্লেখ্য, কালীঘাট থানার প্রাক্তন ওসি শান্তনুকে এর আগে একাধিকবার নোটিস পাঠিয়েছিল ইডি। গত ২৮ এপ্রিলও তাঁকে তলব করা হলেও তিনি হাজির হননি বলে সূত্রের খবর। বারবার তলব এড়িয়ে যাওয়ার পর কেন্দ্রীয় সংস্থা তাঁর বিরুদ্ধে লুকআউট সার্কুলার (LOC) জারি করে। যাতে তিনি দেশ ছেড়ে বিদেশে পালাতে না পারেন, সেই উদ্দেশ্যে দেশের সমস্ত বিমানবন্দর, সীমান্তবর্তী বিএসএফ আউটপোস্ট এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলিকে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছিল বলেও জানা গিয়েছে।

    একাধিক অভিযোগ বিদ্ধ কলকাতা পুলিশের ডিসি…

    শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের বিরুদ্ধে তদন্তের পরিধি একাধিক মামলাকে ঘিরে বিস্তৃত। দক্ষিণ কলকাতার গ্যাংস্টার ‘সোনা পাপ্পু’-র বিরুদ্ধে জমি দখল, তোলাবাজি এবং আর্থিক অনিয়ম সংক্রান্ত মামলায় তদন্ত করতে গিয়ে তাঁর নাম উঠে আসে বলে ইডি সূত্রে খবর। এছাড়াও এনআরআই কোটায় ভর্তি দুর্নীতি মামলাতেও তাঁকে নোটিস পাঠানো হয়েছিল। পাশাপাশি বালি পাচার মামলাতেও তাঁর ভূমিকা খতিয়ে দেখতে তলব করা হয়। অন্যদিকে, আর্থিক তছরুপের অভিযোগে বেহালার নির্মাণ ব্যবসায়ী তথা সান কনস্ট্রাকশনের মালিক জয় কামদার গ্রেফতার হওয়ার পর তদন্তে নতুন তথ্য হাতে আসে বলে দাবি ইডির। সেই সূত্র ধরেই শান্তনু সিনহা বিশ্বাসকে জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনার চেষ্টা আরও জোরদার করে কেন্দ্রীয় সংস্থা।

    দীর্ঘ টালবাহানার পর অবশেষে বৃহস্পতিবার ইডির দফতরে হাজিরা দিলেন কলকাতা পুলিশের এই শীর্ষ কর্তা। তাঁর জিজ্ঞাসাবাদে নতুন কোনও তথ্য সামনে আসে কি না, এখন সেদিকেই নজর তদন্তকারী মহলের।

LinkedIn
Share