Category: পরম্পরা

Get updated History and Heritage and Culture and Religion related news from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • Ramakrishna 424: নরেন আসতেই ঠাকুর কথা বললেন না, লোকে বলছে — এটাই ‘ভাব’

    Ramakrishna 424: নরেন আসতেই ঠাকুর কথা বললেন না, লোকে বলছে — এটাই ‘ভাব’

    গিরিশের নিমন্ত্রণে রাত্রেই যেতে হবে। এখন রাত নটা — ঠাকুর রাত্রির আহার গ্রহণ করবেন বলে প্রস্তুতি চলছে।
    পাছে বলরাম মনে কষ্ট পান, ঠাকুর গিরিশের বাড়ি যাইবার সময় তাকে বুঝিয়ে বলছেন,
    “বলরাম, তুমিও খাবার পাঠিয়ে দিও।”

    দোতলা থেকে নামতে নামতেই ঠাকুর ভগবদভাব-বিভোর। যেন মাতাল — সঙ্গে নারায়ণ, মাস্টার, রাম, চুনী প্রমুখ ভক্তগণ।
    একজন ভক্ত বললেন, “সঙ্গে কে যাবে?”
    ঠাকুর বললেন, “একজন থাকলেই হবে।”

    নামতে নামতেই বিভোর অবস্থায় নারায়ণ হাত ধরতে গিয়েছিল, সঙ্গে সঙ্গে পড়ে যায়।
    ঠাকুর কিছুটা বিরক্ত হন, পরে সস্নেহে নারায়ণকে বললেন,
    “হাত ধরিস না, লোকে ভাববে আমি মাতাল।”
    এরপর তিনি চললেন বৌসপাড়া তেমাথার দিকে।

    ভক্তরা পশ্চাতে পড়ে যাচ্ছেন। কে জানে তাঁর হৃদয়ের মধ্যে তখন কেমন এক অদ্ভুত দেবভাব প্রবাহিত হচ্ছিল।
    যাকে বেদে “বাক্য, মন ও চিন্তার অতীত” বলেছে — সেই রূপেই কি তিনি অনুভব করছেন তাঁকে?
    ঠাকুর যেন পাগলের মতো পদক্ষেপ করছেন। একটু আগে বলরামের বাড়িতে বলেছিলেন:

    “সেই পুরুষ বাক্য-মন-এর অতীত নন — তিনি শুদ্ধ মনের, শুদ্ধ বুদ্ধির, শুদ্ধ আত্মার গোচর।”
    তবে কি তিনি সেই পুরুষের সাক্ষাৎ পাচ্ছেন? এই কি সেই দর্শন?

    এমন সময় নরেন আসছেন — ঠাকুর বলতে লাগলেন,
    “নরেন্দ্র, নরেন্দ্র…”
    পাগলের মতো আচরণ।
    নরেন আসতেই ঠাকুর কথা বললেন না।
    লোকে বলছে — এটাই ‘ভাব’। এই রূপ শ্রীগৌরাঙ্গের ক্ষেত্রেও হয়েছে।
    এ ভাব কে বুঝবে?

    গিরিশের বাড়ির গলির সামনে ঠাকুর এসে উপস্থিত হলেন।
    সঙ্গে ভক্তগণ। এবার ঠাকুর নরেনকে সম্ভাষণ করলেন।
    নরেন্দ্র বললেন,
    “ভালো আছেন?”

  • Ramakrishna 423: গিরিশ ঠাকুরকে নিমন্ত্রণ করলেন, সেই রাতেই যেতে হবে

    Ramakrishna 423: গিরিশ ঠাকুরকে নিমন্ত্রণ করলেন, সেই রাতেই যেতে হবে

    বলিলেন— “মা, আমি আমার আমি তোমার। শরণাগত। চাই না মা লোকমান্যতা, চাই না অষ্টসিদ্ধি। কেবল এই করো—যেন তোমার শ্রীপাদপদে শুদ্ধভক্তি হয়; নিষ্কাম, অমলা। হইতেও কি ভক্তি হয়? আর যেন মা, তোমার ভুবনমোহিনী মায়ায় মুগ্ধ না হই। তোমার মায়ার সংসারে কামিনী-কাঞ্চনের উপর ভালোবাসা যেন কখনও না হয়। মা, তোমার বই আমার আর কেউ নাই। আমি ভজনহীন, সাধনহীন, জ্ঞানহীন, ভক্তিহীন। কৃপা করিয়া, শ্রীপাদপদে আমায় ভক্তি দাও।”

    যিনি তাঁর নাম করিতেছেন, যাঁর শ্রীমুখে অভিনীত নামগুণ গঙ্গার মতো তৈলধারার ন্যায় নিরবিচারে প্রবাহিত হইতেছিল, তিনি নীরব ছিলেন না। তাঁর আবার সন্ধ্যা কি মনে পড়ে? তখনই বোঝা যায়, লোকশিক্ষার জন্য ঠাকুর মানবদেহ ধারণ করিয়াছেন।

    “হরি, তুমি এসে যোগীর বেশে নামসংকীর্তন করলে।”
    গিরিশ ঠাকুরকে নিমন্ত্রণ করলেন, সেই রাতেই যেতে হবে।
    শ্রীরামকৃষ্ণ বললেন, “রাত হবে না।”
    গিরিশ বললেন, “না, যখন ইচ্ছা আপনি যাবেন। আমাকে আজ থিয়েটারে যেতে হবে — ওদের ঝগড়া মেটাতে হবে।”
    ১৮৮৫ সালের ১১ মার্চ — রাজপথে শ্রী রামকৃষ্ণের ঈশ্বর-আবেশ

    গিরিশের নিমন্ত্রণে রাত্রেই যেতে হবে। এখন রাত নটা — ঠাকুর রাত্রির আহার গ্রহণ করবেন বলে প্রস্তুতি চলছে।
    পাছে বলরাম মনে কষ্ট পান, ঠাকুর গিরিশের বাড়ি যাইবার সময় তাকে বুঝিয়ে বলছেন,
    “বলরাম, তুমিও খাবার পাঠিয়ে দিও।”

    দোতলা থেকে নামতে নামতেই ঠাকুর ভগবদভাব-বিভোর। যেন মাতাল — সঙ্গে নারায়ণ, মাস্টার, রাম, চুনী প্রমুখ ভক্তগণ।
    একজন ভক্ত বললেন, “সঙ্গে কে যাবে?”
    ঠাকুর বললেন, “একজন থাকলেই হবে।”

  • Ramakrishna 422: লোকশিক্ষার জন্য ঠাকুর মানবদেহ ধারণ করিয়াছেন

    Ramakrishna 422: লোকশিক্ষার জন্য ঠাকুর মানবদেহ ধারণ করিয়াছেন

    দয়াময় গুরুদেব যে “গরুর বাট”-এর কথা বলিলেন, এই গৃহমধ্যেই কি তাহা আমরা দেখিতেছি?

    সকলের অশান্ত মন কিসের শান্তি লাভ করিল? আনন্দ ধরা কিসে? কিসে ভক্তরা আনন্দে ভাসিলেন?

    দেখিতেছি—ভক্তরা শান্ত, আর আনন্দময়।

    এই প্রেমিক সন্ন্যাসী—কি সুন্দর রূপধারী! যেন অনন্ত ঈশ্বর! এইখানেই কি দুগ্ধপান-পিপাসুর পিপাসা শান্ত হইবে?

    অবতার হোন, আর না হোন—ইহারই চরণপ্রান্তে মন বিকাশের, চিত্ত নিবেশের, আর কিছুর প্রয়োজন নাই।

    ভক্তেরা কেহ কেহ ওইরূপ চিন্তা করিতেছেন যে, ঠাকুর শ্রী রামকৃষ্ণের শ্রীমুখে বিগলিত হরিনাম ও মায়ের নাম শ্রবণ করিয়া কৃতকৃতার্থবোধ করিতেছেন। নামগুণকীর্তন আনিতে ঠাকুর প্রার্থনা করিতেছেন, যেন সাক্ষাৎ ভগবান প্রেমের দেহ ধারণ করিয়া জীবকে শিক্ষা দিতেছেন—কিরূপে প্রার্থনা করিতে হয়।

    বলিলেন—
    “মা, আমি আমার আমি তোমার। শরণাগত। চাই না মা লোকমান্যতা, চাই না অষ্টসিদ্ধি। কেবল এই করো—যেন তোমার শ্রীপাদপদে শুদ্ধভক্তি হয়; নিষ্কাম, অমলা। হইতেও কি ভক্তি হয়? আর যেন মা, তোমার ভুবনমোহিনী মায়ায় মুগ্ধ না হই। তোমার মায়ার সংসারে কামিনী-কাঞ্চনের উপর ভালোবাসা যেন কখনও না হয়। মা, তোমার বই আমার আর কেউ নাই। আমি ভজনহীন, সাধনহীন, জ্ঞানহীন, ভক্তিহীন। কৃপা করিয়া, শ্রীপাদপদে আমায় ভক্তি দাও।”

    যিনি তাঁর নাম করিতেছেন, যাঁর শ্রীমুখে অভিনীত নামগুণ গঙ্গার মতো তৈলধারার ন্যায় নিরবিচারে প্রবাহিত হইতেছিল, তিনি নীরব ছিলেন না। তাঁর আবার সন্ধ্যা কি মনে পড়ে? তখনই বোঝা যায়, লোকশিক্ষার জন্য ঠাকুর মানবদেহ ধারণ করিয়াছেন।

  • Ramakrishna 421: ভক্তরা নিস্তব্ধ হইয়া গান শুনিতেছেন, তাঁহারা একদৃষ্টে ঠাকুরের অদ্ভুত, আত্মহারা, মাতোয়ারা ভাব দেখিতেছেন

    Ramakrishna 421: ভক্তরা নিস্তব্ধ হইয়া গান শুনিতেছেন, তাঁহারা একদৃষ্টে ঠাকুরের অদ্ভুত, আত্মহারা, মাতোয়ারা ভাব দেখিতেছেন

    ভক্তেরা নিস্তব্ধ হইয়া গান শুনিতেছেন। তাহারা একদৃষ্টে ঠাকুরের অদ্ভুত, আত্মহারা, মাতোয়ারা ভাব দেখিতেছেন। গান সমাপ্ত হইলে কিয়ৎকাল পরে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ বলিতে লাগিলেন,
    “আমার আজ গান ভালো হলো না—সর্দি হয়েছে।”

    ১৮৮৫, ১১ই মার্চ।

    সন্ধ্যার সমাগমে ক্রমে সন্ধ্যা হইল। সিন্ধু-বক্ষে যেখানে অনন্তের নীল ছায়া পড়িয়াছে, নিবিড় অরণ্যের মধ্যে অম্বরস্পর্শী পর্বতশীর্ষে বায়ু দুলিতেছে। নদীর তীরে, দিগন্তব্যাপী প্রান্তরের মধ্যে, এক ক্ষুদ্র মানবের মনে সহজেই ভাবান্তর হইল।

    এই সূর্য—এই যে সূর্য চরাচরকে আলোকিত করিতেছিল, তিনি কোথায় গেলেন?

    এক বালক ভাবিতেছে। আবার ভাবিতেছে—বালক-স্বভাবাপন্ন মহাপুরুষ। সন্ধ্যা হইল, কি আশ্চর্য! পাখিরা শাখায় আশ্রয় করিয়া রব করিতেছে। মানুষের মধ্যে যেন চৈতন্য এসেছে। তারা সেই আদি কবির, কারণের কারণ, পুরুষোত্তমের নাম পড়িতেছে।

    কথা কহিতে কহিতে সন্ধ্যা হইল। ভক্তেরা যে যে আসনে বসিয়া ছিলেন, তিনি সেই আসনেই বসিয়া রহিলেন। শ্রীরামকৃষ্ণ মধুর নাম করিতেছেন, সকলে উদ্‌গ্রীব হইয়া সেই নাম শুনিতেছেন।

    অমন মিষ্টি নাম—তারা যেন কখনও শোনেন নাই! যেন সুধাবর্ষণ হইতেছে! এমন প্রেম মাখা বালকের মা,মা বলে ডাকা—তারা যেন কখনও শুনেন নাই, দেখেন নাই। আকাশ, পর্বত, মহাসাগর, প্রান্তর—তাদের পরেও আর কিছু দেখিবার প্রয়োজন কী? গরুর শৃঙ্গ, পদাদি ও শরীরের অন্যান্য অংশ—আর কিছু দেখিবার প্রয়োজন আছে কি?

    দয়াময় গুরুদেব যে “গরুর বাট”-এর কথা বলিলেন, এই গৃহমধ্যেই কি তাহা আমরা দেখিতেছি?

    সকলের অশান্ত মন কিসের শান্তি লাভ করিল? আনন্দ ধরা কিসে? কিসে ভক্তরা আনন্দে ভাসিলেন?

    দেখিতেছি—ভক্তরা শান্ত, আর আনন্দময়।

    এই প্রেমিক সন্ন্যাসী—কি সুন্দর রূপধারী! যেন অনন্ত ঈশ্বর! এইখানেই কি দুগ্ধপান-পিপাসুর পিপাসা শান্ত হইবে?

    অবতার হোন, আর না হোন—ইহারই চরণপ্রান্তে মন বিকাশের, চিত্ত নিবেশের, আর কিছুর প্রয়োজন নাই।

  • Ramakrishna 420: যতনে হৃদয়ে রেখো আদরিনী শ্যামা মাকে

    Ramakrishna 420: যতনে হৃদয়ে রেখো আদরিনী শ্যামা মাকে

    শকুনি খুব উঁচুতে উড়ে, কিন্তু নজর থাকে ভাগাড়ে — কোথায় মরা।

    নরেন্দ্র খুব ভালো — গাইতে, বাজাতে, পড়াশোনায়, বিদ্যায়। এদিকে জিতেন্দ্র, বিবেক, বৈরাগ্য আছে। সত্যবাদী, অনেক গুণ।

    মাস্টারের প্রতি কেমন রে? কেমন গা? খুব ভালো নয়।

    মাস্টার: “আজ্ঞে হ্যাঁ, খুব ভালো।”

    শ্রীরামকৃষ্ণ: “মাস্টারের প্রতি দেখো — ওর (গিরিশের) খুব অনুরাগ আর বিশ্বাস।”

    মাস্টার অবাক হইয়া গিরিশকে একদৃষ্টে দেখিতেছেন। গিরিশ ঠাকুরের কাছে কয়েকদিন আসিতেছেন মাত্র। মাস্টার কিন্তু দেখিলেন — যেন পূর্ব পরিচিত, অনেক দিনের আলাপ। পরম আত্মীয় যেন — এক সূত্রে গাঁথা মণিগণের একটি মণি।

    নারান বলিলেন, “মহাশয়, আপনার গান হবে না।”

    শ্রী রামকৃষ্ণ সেই মধুর কণ্ঠে মায়ের নাম ও গুণগান করিতেছেন:

    “যতনে হৃদয়ে রেখো আদরিনী শ্যামা মাকে,
    মাকে তুমি দেখো, আর আমি দেখি—আর যেন কেউ নাহি দেখে।
    কামাদিরে দিয়ে থাকি, আয় মন, বিরলে দেখি।
    রচনার সঙ্গে রাখি—সে যেন ‘মা’ বলে ডাকে।
    কুরুচি, কুমন্ত্রী যত, নিকট হতে দিও না কো;
    জ্ঞাননয়নকে প্রহরী রেখো—সে যেন সাবধানে থাকে।”

    ঠাকুর ত্রিতাপে স্থবির সংসারী জীবের ভাব আরোপ করিয়া মার কাছে অভিমান করিয়া গাহিতেছেন:

    “গো আনন্দময় হয়ে মা, আমায় নিরানন্দ করো না।
    ও মা, ও দুটি চরণ বিনে আমার মন অন্য কিছু আর জানে না।
    তপন তনয় আমায় মন্দ কয়—কি বলিব, তাই বলো না।
    ভবানী বলিয়ে ভবে যাব চলে—মনে ছিল এই বাসনা।
    অতল পাতালে ডুবাবি আমায়, স্বপ্নেও তা তো জানি না।
    অহর্নিশি শ্রী দুর্গা নামে ভাসি, তবু দুঃখরাশি গেল না।
    এবার যদি মরি, ও হরসুন্দরী, তোর ‘দুর্গা’ নাম আর কেউ লবে না।”

  • Ramakrishna 419: শকুনি খুব উঁচুতে উড়ে, কিন্তু নজর থাকে ভাগাড়ে — কোথায় মরা

    Ramakrishna 419: শকুনি খুব উঁচুতে উড়ে, কিন্তু নজর থাকে ভাগাড়ে — কোথায় মরা

    কর্তাটি তখন খুব ব্যস্ত হয়ে চিঠির খোঁজ শুরু করলেন। অনেকক্ষণ ধরে, অনেকজন মিলে খুঁজে শেষে চিঠিখানা পাওয়া গেল। তখন তিনি খুব আনন্দে, অতি যত্নে চিঠিখানা হাতে নিয়ে পড়তে লাগলেন—দেখতে লাগলেন কী লেখা রয়েছে। লেখা ছিল: ‘পাঁচ সের সন্দেশ পাঠাবে, একখানা কাপড় পাঠাবে’—আরও কত কী!

    তখন আর চিঠির দরকার রইল না। চিঠি ফেলে দিয়ে তিনি সন্দেশ, কাপড় আর অন্যান্য জিনিস কিনতে বেরিয়ে পড়লেন।

    চিঠির দরকার কতক্ষণ? যতক্ষণ সন্দেশ, কাপড় ইত্যাদির খবর জানা না যায়। খবর জেনে গেলে নিজে কর্মে প্রবৃত্ত হতে হয়।

    ঠিক এইরকমই—শাস্ত্রও কেবল ঈশ্বরকে পাবার উপায়ের কথা বলে। কিন্তু খবর সব জেনে গেলে নিজে সাধনা শুরু করতে হয়। তবেই তো বস্তু (ঈশ্বর) লাভ হয়।

    শুধু পাণ্ডিত্যে কী হবে?
    অনেক শ্লোক, অনেক ছাত্র পণ্ডিতের জানা থাকতে পারে, কিন্তু যার সংসারে আসক্তি আছে,
    যার কামিনী-কাঞ্চনে মনে মনে ভালোবাসা আছে,
    তার শাস্ত্রধারণা হয় নাই।
    মিছে পড়া।
    পাঁজিতে লিখেছে — “বিচারে জল”, কিন্তু পাঁজি টিপলে এক ফোঁটাও পড়ে না।
    সকলের হাস্য।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (সহাস্যে):”পণ্ডিত খুব লম্বা লম্বা কথা বলে, কিন্তু নজর কোথায়? কামিনির, কাঞ্চনের, দেহের, সোনার (টাকার) প্রতি।”

    শকুনি খুব উঁচুতে উড়ে, কিন্তু নজর থাকে ভাগাড়ে — কোথায় মরা।

    নরেন্দ্র খুব ভালো — গাইতে, বাজাতে, পড়াশোনায়, বিদ্যায়।
    এদিকে জিতেন্দ্র, বিবেক, বৈরাগ্য আছে।
    সত্যবাদী, অনেক গুণ।

    মাস্টারের প্রতি কেমন রে? কেমন গা? খুব ভালো নয়।

    মাস্টার: “আজ্ঞে হ্যাঁ, খুব ভালো।”

    শ্রীরামকৃষ্ণ: “মাস্টারের প্রতি দেখো — ওর (গিরিশের) খুব অনুরাগ আর বিশ্বাস।”

    মাস্টার অবাক হইয়া গিরিশকে একদৃষ্টে দেখিতেছেন।
    গিরিশ ঠাকুরের কাছে কয়েকদিন আসিতেছেন মাত্র।
    মাস্টার কিন্তু দেখিলেন — যেন পূর্ব পরিচিত, অনেক দিনের আলাপ।
    পরম আত্মীয় যেন — এক সূত্রে গাঁথা মণিগণের একটি মণি।

  • Ramakrishna 418: পথ ও উপায় জেনে নেওয়ার পর আর বই-শাস্ত্রের কী দরকার?

    Ramakrishna 418: পথ ও উপায় জেনে নেওয়ার পর আর বই-শাস্ত্রের কী দরকার?

    শ্রীরামকৃষ্ণ: “সুরেশ তুমি তো! কে ইনি?”

    সুরেশ (হাসিতে হাসিতে): “আজ্ঞে, হ্যাঁ, আমার বরদা।”

    (সকলের হাস্য।)

    গিরিশ (ঠাকুরের প্রতি): “আচ্ছা মহাশয়, আমি ছেলেবেলায় কিছু লেখাপড়া করিনি, তবু লোকে বলে বিদ্বান।”

    শ্রীরামকৃষ্ণ (মাস্টারের প্রতি): “মহিমা চক্রবর্তী অনেক শাস্ত্র-অস্ত্র দেখেছে, শুনেছে। খুব আধার।” “কেমন গা?”

    মাস্টার: “আজ্ঞে, হ্যাঁ।”

    গিরিশ: “কি বিদ্যা! ও অনেক দেখেছে—ওতে আর ভুলি না।”

    শ্রীরামকৃষ্ণ (হাসিতে হাসিতে) – এখানকার ভাব কী জানো? বই, শাস্ত্র—এইসব কেবল ঈশ্বরের কাছে পৌঁছাবার পথ বলে দেয়। পথ ও উপায় জেনে নেওয়ার পর আর বই-শাস্ত্রের কী দরকার? তখন নিজে কাজ করতে হয়।

    একজন একখানা চিঠি পেয়েছিল। কুটুমবাড়িতে তত্ত্ব করতে হবে—কী কী জিনিস নিতে হবে, চিঠিতে সব লেখা ছিল। কিন্তু জিনিস কিনতে যাবার সময় চিঠিখানা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না।

    কর্তাটি তখন খুব ব্যস্ত হয়ে চিঠির খোঁজ শুরু করলেন। অনেকক্ষণ ধরে, অনেকজন মিলে খুঁজে শেষে চিঠিখানা পাওয়া গেল। তখন তিনি খুব আনন্দে, অতি যত্নে চিঠিখানা হাতে নিয়ে পড়তে লাগলেন—দেখতে লাগলেন কী লেখা রয়েছে। লেখা ছিল: ‘পাঁচ সের সন্দেশ পাঠাবে, একখানা কাপড় পাঠাবে’—আরও কত কী!

    তখন আর চিঠির দরকার রইল না। চিঠি ফেলে দিয়ে তিনি সন্দেশ, কাপড় আর অন্যান্য জিনিস কিনতে বেরিয়ে পড়লেন।

    চিঠির দরকার কতক্ষণ? যতক্ষণ সন্দেশ, কাপড় ইত্যাদির খবর জানা না যায়। খবর জেনে গেলে নিজে কর্মে প্রবৃত্ত হতে হয়।

    ঠিক এইরকমই—শাস্ত্রও কেবল ঈশ্বরকে পাবার উপায়ের কথা বলে। কিন্তু খবর সব জেনে গেলে নিজে সাধনা শুরু করতে হয়। তবেই তো বস্তু (ঈশ্বর) লাভ হয়।

  • Ramakrishna 417: শ্রী রামকৃষ্ণ (মাস্টারের প্রতি) “ও! স্কুলে দাঁত বার করবে, গান গাইতে যত লজ্জা!”

    Ramakrishna 417: শ্রী রামকৃষ্ণ (মাস্টারের প্রতি) “ও! স্কুলে দাঁত বার করবে, গান গাইতে যত লজ্জা!”

    ১৮৮৫, ১১ই মার্চ — ভক্ত সংঘে ভজনানন্দে ঠাকুর গান শুনিবেন, এই ইচ্ছা প্রকাশ করিলেন। বলরামের বৈঠকখানার এক ঘর লোক; সকলেই তাঁহার পানে চাহিয়া আছেন—কি বলেন, শুনিবেন? কি করেন, দেখিবেন।

    শ্রীযুক্ত তারাপদ গাইতেছেন: “কেশব গুরু করুণাধীনে কুঞ্জকাননচারি মাধব, মনমোহন, মুরলীধারী। হরিবল, হরিবল, হরিবল মন আমার। ব্রজকিশোর, কালীয়-হর, কাতর-ভয়-ভঞ্জন, নয়ন বাঁকা বাঁকা, শিখী পাখা, রাধিকা হৃদয়রঞ্জন। গোবর্ধন-ধারণ, বন-কুসুম-ভূষণ, দামোদর, কংস-দর্প-হারী— শ্যামরসো রসবিহারী। হরিবোল, হরিবোল…”

    শ্রীরামকৃষ্ণ গিরিশের প্রতি: এই গানটি খুব উতরেছে। গায়কের প্রতি— “নিতাই-এর গান গাইতে পারো।”

    আবার গান হইল, নিতাই গাইতেছেন: “কিশোরীর প্রেম নিবি আয়, প্রেমের জোয়ার বয়ে যায়। বই ছেড়ে প্রেম শতধারে, যে যত চায়, তত পায়। প্রেমের কিশোরী প্রেম বিলায়, সাধ করি রাধার প্রেমে বল রে হরি। প্রেমে প্রাণ মত্ত করে, প্রেম তরঙ্গে প্রাণ না চায়— রাধার প্রেমে হরি বলি, আয়, আয়, আয়।”

    সকলেই মাস্টারকে অনুরোধ করিতেছেন, “তুমি একটি গান গাও।”
    মাস্টার একটু লাজুক, ফিসফিস করে মাফ চাহিতেছেন।

    গিরিশ (ঠাকুরের প্রতি সহাস্য): “মহাশয়, মাস্টার কোন মতে গান গাইছে না।”

    শ্রীরামকৃষ্ণ বিরক্ত হইয়া, “ও! স্কুলে দাঁত বার করবে, গান গাইতে যত লজ্জা!”

    মাস্টার মুখ চুন করে খানিকক্ষণ বসিয়া রহিলেন।

    শ্রীযুক্ত সুরেশ মিত্র একটু দূরে বসে ছিলেন।
    ঠাকুর শ্রী রামকৃষ্ণ তাহার দিকে সস্নেহ দৃষ্টিপাত করিয়া শ্রীযুক্ত গিরিশ ঘোষকে দেখাইয়া সহস্র বদনে কথা কহিতেছেন।

    শ্রীরামকৃষ্ণ:
    “সুরেশ তুমি তো! কে ইনি?”

    সুরেশ (হাসিতে হাসিতে):
    “আজ্ঞে, হ্যাঁ, আমার বরদা।”

    (সকলের হাস্য।)

    গিরিশ (ঠাকুরের প্রতি):
    “আচ্ছা মহাশয়, আমি ছেলেবেলায় কিছু লেখাপড়া করিনি, তবু লোকে বলে বিদ্বান।”

    শ্রীরামকৃষ্ণ (মাস্টারের প্রতি): “মহিমা চক্রবর্তী অনেক শাস্ত্র-অস্ত্র দেখেছে, শুনেছে। খুব আধার।” “কেমন গা?”

    মাস্টার: “আজ্ঞে, হ্যাঁ।”

    গিরিশ: “কি বিদ্যা! ও অনেক দেখেছে—ওতে আর ভুলি না।”

  • Shravan Somvar: আজ শ্রাবণের প্রথম সোমবার, কোন কোন নিয়ম মেনে শিবের পুজো করবেন?

    Shravan Somvar: আজ শ্রাবণের প্রথম সোমবার, কোন কোন নিয়ম মেনে শিবের পুজো করবেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেবাদিদেব মহাদেবের প্রিয় মাস হল শ্রাবণ (Shravan Somvar)। এই মাসেই শিবভক্তরা উপোস করে প্রতি সোমবার ভগবানের উদ্দেশে পুজো নিবেদন করেন। মহাদেবের মাথায় জল ঢালা হয়। ভক্তদের বিশ্বাস, শিবের মাথায় সোমবার জল ঢাললে সমস্ত মনস্কামনা পূরণ হয়। জীবনে আসে সুখ-শান্তি-সমৃদ্ধি। এর পাশাপাশি, বিশেষ কিছু রীতি মেনে চললে তুষ্ট হন মহাদেব, সে নিয়েই আজকে জানব আমরা।

    শ্রাবণ মাসের সোমবারে শিবের পুজো (Lord Shiva) করার বিশেষ কিছু নিয়ম

    ১) সোমবার সকালে স্নান করার পরে শিবের মন্দিরে যান। এক্ষেত্রে খালি পায়ে মন্দিরে যেতে পারলে ভালো হয়। জল ভর্তি পাত্র বাড়ি থেকে নিয়ে যান। মন্দিরের শিবলিঙ্গে তা অর্পণ করুন। ১০৮ বার শিব মন্ত্র জপ করুন। দিনে অন্ন গ্রহণ না করাই ভালো, শুধু ফল খান। সন্ধ্যায় (Shravan Somvar) আবার দেবাদিবের মন্ত্রগুলি জপ করুন।

    ২) ভগবান শিবকে (Shravan Somvar) খুশি করতে শ্রাবণ মাসের সোমবার শিবলিঙ্গে বিভিন্ন সামগ্রী নিবেদন করুন। গঙ্গাজল, বেলপাতা, ধুতুরা ফুল, ভাঙ, কর্পূর, দুধ, রুদ্রাক্ষ, ভস্ম নিবেদন করুন। জ্যোতিষীরা বলছেন, এই জিনিসগুলি অর্পণ করলে ব্যক্তির সৌভাগ্য জাগ্রত হয়।

    ৩) শিবের (Lord Shiva) মাথায় জল ঢালার পর প্রদীপ জ্বালিয়ে করতে হবে আরতি। পুজো শেষে উপোস ভাঙতে পারেন ফল খেয়ে। ভক্তি দিয়ে পুজো করলে জীবনের সমস্ত বাধা দূর হয় এবং বাড়িতে সুখ-সমৃদ্ধি আসে।

    ৪) শাস্ত্রবিদদের মতে, শিবের পুজোতে চন্দন, অখন্ড চাল, ধুতুরা ফুল, আকন্দ, বেলপাতা, দুধ ও গঙ্গাজল অর্পণ করলে প্রসন্ন হন মহাদেব।

    ৫) শ্রাবণ মাসের ব্রত পালন করার সময় ঠাকুরঘরকে পরিষ্কার-পরিছন্ন রাখতে বলছেন শাস্ত্রবিদরা। পুজোর সময় ঘর অন্ধকার রাখবেন না।

    ৬) সন্ধ্যাবেলার চেয়ে শ্রাবণ মাসের (Shravan Somvar) পুজো সকালে করে নেওয়াই ভালো।

    ৭) শাস্ত্রবিদদের মতে, ফল খেয়ে এই পুজো করলে বেশি উপকার পাওয়া যায়। এই দিন খাবারের তালিকায় আলু, লাউ এবং কুমড়ো অবশ্যই রাখুন।

    ৮) ব্রত পালনের দিনটি যতটা সৎ জীবনযাপন করুন।

    ৯) শিবপুজোর সময় অবশ্যই ঘি, মধু, সিদ্ধি, দুধ এবং গঙ্গাজল দিয়ে মহাদেবের অভিষেক করুন।

    ১০) বেলপাতা, ধুতুরা এবং আকন্দ ফুল শিবের সবচেয়ে প্রিয়। এই জিনিসগুলো পুজোয় অর্পণ করতে কখনও ভুলবেন না।

    ১১) শিবপুজোর সময় শিবলিঙ্গে আতপ চাল এবং যব অর্পণ করলে মিলবে শুভ ফল।

    ১২) শিবপুজো করার আগে সূর্যদেবকে জল অর্পণ করা খুবই শুভ বলে মনে করেন শাস্ত্রবিদরা।

    শিবের পুজো করার সময় যা করতে নেই (Shravan Somvar)

    ১) মহাদেবকে কখনও কেতকী ফুল অর্পণ করতে নেই বলেই জানাচ্ছেন শাস্ত্রবিদরা।

    ২) তুলসীপাতা শিবের পুজোয় কখনও ব্যবহার করবেন না।

    ৩) শিবের পুজোয় সব কিছু সাদা রঙের জিনিস ব্যবহার করার চেষ্টা করুন, এমনটাই মত শাস্ত্রবিশারদদের।

    ৪) শিবলিঙ্গে কখনই হলুদ, সিঁদুর, তুলসী, ডাল, কুমকুম, তিল, চাল, লাল ফুল, শঙ্খ সহ গঙ্গাজল অর্পণ করা উচিত নয় বলে জানাচ্ছেন শাস্ত্র বিশেষজ্ঞরা।

    ৫) শিবলিঙ্গ কখনও প্রদক্ষিণ করবেন না। শাস্ত্র বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মহাদেব তাঁকে প্রদক্ষিণ করা পছন্দ করেন না। তাই শিবলিঙ্গ বা মহাদেবের মূর্তিকে ভুলেও প্রদক্ষিণ করবেন না।

    ৬) মহাদেবের আরাধনায় বেলপাতা জরুরি হলেও সোমবার ভুলেও বেলপাতা ছিঁড়বেন না। আপনি সোমবার পুজো করলে আগের দিন বেলপাতা গাছ থেকে তুলে রাখুন।

    ৭) শিবলিঙ্গের অভিষেক করতে জল এবং দুধ ঢালতে হয়। কিন্তু তার জন্য ভুলেও স্টিল বা তামার পাত্র থেকে শিবলিঙ্গে জল দেবেন না। কেবলমাত্র পেতলের পাত্র থেকেই শিবলিঙ্গে জল ঢালুন।

    ৮) উপবাসের সময় ভুলেও দুধ খাবেন না। শ্রাবণ মাসে মহাদেবকে দুধ নিবেদন করুন, শিবলিঙ্গে দুধ ঢালুন। এর ফলে কোষ্ঠী থেকে চন্দ্র দোষ দূর হবে এবং মনের অশান্তি কমবে।

  • Ramakrishna 416: ঠাকুর গান শুনিবেন, এই ইচ্ছা প্রকাশ করিলেন, বলরামের বৈঠকখানায় এক ঘর লোক

    Ramakrishna 416: ঠাকুর গান শুনিবেন, এই ইচ্ছা প্রকাশ করিলেন, বলরামের বৈঠকখানায় এক ঘর লোক

    শ্রীরামকৃষ্ণ (সহাস্যে)- রোসো, চুপচাপ করে থাকো, এর নামে একে বদনাম উঠছে।

    অন্য চিন্তা চমৎকার—ব্রাহ্মণের প্রতিগ্রহ করার ফল।

    আবার নরেন্দ্রর কথা পরিল।

    একজন ভক্ত- এখন তত আছেন না কেন?

    শ্রীরামকৃষ্ণ- অন্য চিন্তা চমৎকার! কালিদাস হয় বুদ্ধিহীনা।

    বলরাম- শিব গুহর বাড়ির ছেলে অন্নদা গুহর কাছে খুব আনাগোনা আছে।

    শ্রীরামকৃষ্ণ- হ্যাঁ, একজন অফিসওয়ালার বাড়িতে এরা সব যায়। সেখানে তারা ব্রাহ্মসমাজ করে।

    একজন ভক্ত: তার নাম তারাপদ।

    বলরাম (হাসিতে): ব্রাহ্মণরা বলে অন্নদা গুহ লোকটার বড় অহংকার।

    শ্রীরামকৃষ্ণ: ব্রাহ্মণদের ওসব কথা শুনো না। তাদের তো জানো—না দিলেই খারাপ লোক, দিলেই ভালো। সকলের হাস্য! অন্নদাকে আমি জানি, ভালো লোক।

    ১৮৮৫, ১১ই মার্চ — ভক্ত সংঘে ভজনানন্দে
    ঠাকুর গান শুনিবেন, এই ইচ্ছা প্রকাশ করিলেন। বলরামের বৈঠকখানার এক ঘর লোক; সকলেই তাঁহার পানে চাহিয়া আছেন—কি বলেন, শুনিবেন? কি করেন, দেখিবেন।

    শ্রীযুক্ত তারাপদ গাইতেছেন:
    “কেশব গুরু করুণাধীনে কুঞ্জকাননচারি
    মাধব, মনমোহন, মুরলীধারী।
    হরিবল, হরিবল, হরিবল মন আমার।
    ব্রজকিশোর, কালীয়-হর, কাতর-ভয়-ভঞ্জন,
    নয়ন বাঁকা বাঁকা, শিখী পাখা, রাধিকা হৃদয়রঞ্জন।
    গোবর্ধন-ধারণ, বন-কুসুম-ভূষণ,
    দামোদর, কংস-দর্প-হারী—
    শ্যামরসো রসবিহারী।
    হরিবোল, হরিবোল…”

    শ্রীরামকৃষ্ণ গিরিশের প্রতি:
    এই গানটি খুব উতরেছে।
    গায়কের প্রতি— “নিতাই-এর গান গাইতে পারো।”

    আবার গান হইল, নিতাই গাইতেছেন:
    “কিশোরীর প্রেম নিবি আয়, প্রেমের জোয়ার বয়ে যায়।
    বই ছেড়ে প্রেম শতধারে,
    যে যত চায়, তত পায়।
    প্রেমের কিশোরী প্রেম বিলায়,
    সাধ করি রাধার প্রেমে বল রে হরি।
    প্রেমে প্রাণ মত্ত করে, প্রেম তরঙ্গে প্রাণ না চায়—
    রাধার প্রেমে হরি বলি,
    আয়, আয়, আয়।”

LinkedIn
Share