Category: পরম্পরা

Get updated History and Heritage and Culture and Religion related news from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • Ramakrishna 400: আর বলছিলাম, মা যেন একবার ছুঁয়ে দেন, তাহলে লোকের চৈতন্য হয়

    Ramakrishna 400: আর বলছিলাম, মা যেন একবার ছুঁয়ে দেন, তাহলে লোকের চৈতন্য হয়

    শ্রী রামকৃষ্ণ মাস্টারের প্রতি— “এখানে অপর লোক কেউ নাই। সেদিন হরিশ কাছে ছিল। দেখলাম খোলটি ছেড়ে সচিদানন্দ বাহিরে এলো, এসে বললে ‘আমি যুগে যুগে অবতার।’ তখন ভাবলাম বুঝি মনের খেয়ালে ওইসব কথা বলছি। তারপর চুপ করে থেকে দেখলাম— তখন দেখি আপনি বলছেন, ‘শক্তির আরাধনা চৈতন্য করেছিল।’”

    ভক্তেরা সকলে অবাক হইয়া শুনিতে চান। কেউ কেউ ভাবিতে চান— সচিদানন্দ ভগবান কি শ্রী রামকৃষ্ণের রূপ ধারণ করিয়া আমাদের কাছে বসিয়া আছেন? ভগবান কি আবার অবতীর্ণ হইয়াছেন?

    শ্রী রামকৃষ্ণ কথা কহিতেছেন, মাস্টারকে সম্বোধন করিয়া আবার বলিতেছেন, “দেখলাম পূর্ণ আবির্ভাব, তবে সত্য, গুণের ঐশ্বর্য।”

    ভক্তেরা সকলে অবাক হয়ে এই সকল কথা শুনিতেছেন।

    যোগমায়া, আদ্যাশক্তি ও অবতারলীলা

    শ্রী রামকৃষ্ণ ‘মাস্টার’-এর প্রতি- “এখন মাকে বলছিলাম, আর বকতে পারি না। আর বলছিলাম, মা যেন একবার ছুঁয়ে দেন, তাহলে লোকের চৈতন্য হয়।
    যোগমায়ার এমনই মহিমা। তিনি ভেলকি লাগিয়ে দিতে পারেন। বৃন্দাবনলীলা—যোগমায়া ভেলকি লাগিয়ে দিলেন। তারই বলে সুবল, কৃষ্ণের সঙ্গে শ্রীমতির মিলন ঘটিয়ে দিচ্ছিলেন।

    যোগমায়া, যিনি আদ্যাশক্তি, তাঁর একটি আকর্ষণশক্তি আছে। আমি সেই শক্তিরই আরোপ করেছিলাম।”

    — “আচ্ছা, যারা আসে, তাদের কিছু কিছু হচ্ছে।”

    মাস্টার: “আজ্ঞে, হ্যাঁ হচ্ছে বৈকি।”

    শ্রীরামকৃষ্ণ: “কেমন করে জানলে?”

    মাস্টার সহাস্যে: “সবাই বলে—তার কাছে যারা যায়, তারা আর ফেরে না।”

    শ্রীরামকৃষ্ণ সহাস্যে:
    “একটা কোলা ব্যাঙ হেলে সাপের পাল্লায় পড়েছিল। সাপ ওটাকে গিলতেও পারছে না, ছাড়তেও পারছে না। আর কোলা ব্যাঙটা যন্ত্রণায় ক্রমাগত ডাকছে। ঢোঁড়া সাপটারও যন্ত্রণা। কিন্তু গোখরো সাপের পাল্লায় যদি পড়ত, তাহলে দু’এক ডাকেই শান্তি হয়ে যেত।”

    — সকলের হাস্য।

    ছোকরা ভক্তদের প্রতি:

    “তোরা ‘ত্রৈলোক’-এর সেই বইখানা পড়িস—ভক্তি-চৈতন্যচন্দ্রিকা।
    তার কাছ থেকে একখানা চেয়ে নিস। বেশ চৈতন্যদেবের কথা আছে।”

  • Ramakrishna 399: নিজের হৃদয়ে হাত রাখিয়া রামকৃষ্ণ বলিলেন, “এর ভিতর যদি কিছু থাকে, অজ্ঞান ও অবিদ্যা একেবারে চলে যায়

    Ramakrishna 399: নিজের হৃদয়ে হাত রাখিয়া রামকৃষ্ণ বলিলেন, “এর ভিতর যদি কিছু থাকে, অজ্ঞান ও অবিদ্যা একেবারে চলে যায়

    কাঁচা সুপারি বা কাঁচা বাদামের ভিতরের সুপারি বা বাদাম শাঁস থেকে তফাৎ করা যায় না। কিন্তু পাকা অবস্থায় সুপারি বা বাদাম আলাদা, শাঁস আলাদা হয়ে যায়। পাকা অবস্থায় রস শুকিয়ে যায়—ব্রহ্মজ্ঞান হলে বিষয় শুকিয়ে যায়।

    কিন্তু সে জ্ঞান বড় কঠিন—বললেই ব্রহ্মজ্ঞান হয় না। কেউ জ্ঞানের ভান করে, একজন বড় মিথ্যা কথা কইতো—আবার এদিকে বলতো, “আমার ব্রহ্মজ্ঞান হয়েছে।”

    কোন লোক তাকে তিরস্কার করাতে এসে বললে, “কেন, জগত তো স্বপ্নবৎ। সবই যদি মিথ্যা হয়, তবে সত্য কথাটাই কি ঠিক? মিথ্যাটাও মিথ্যা, সত্যটাও মিথ্যা!”

    শ্রী রামকৃষ্ণ ভক্তদের সঙ্গে মেঝেতে মাদুরের উপর বসিয়া আছেন। ভক্তদের বলিতেছেন, “আমার পায়ে একটু হাত বুলিয়ে দে তো।” ভক্তেরা পদসেবা করিতেছেন।
    মাস্টারের প্রতি সহাস্যে, “এই পদসেবার অনেক মানে আছে।”

    আবার নিজের হৃদয়ে হাত রাখিয়া বলিতেছেন, “এর ভিতর যদি কিছু থাকে, অজ্ঞান ও বিদ্যা একেবারে চলে যায়।”
    হঠাৎ শ্রী রামকৃষ্ণ গম্ভীর হইলেন, যেন কী গূঢ় কথা বলিবেন।

    শ্রী রামকৃষ্ণ মাস্টারের প্রতি—
    “এখানে অপর লোক কেউ নাই। সেদিন হরিশ কাছে ছিল। দেখলাম খোলটি ছেড়ে সচিদানন্দ বাহিরে এলো, এসে বললে ‘আমি যুগে যুগে অবতার।’
    তখন ভাবলাম বুঝি মনের খেয়ালে ওইসব কথা বলছি।
    তারপর চুপ করে থেকে দেখলাম— তখন দেখি আপনি বলছেন, ‘শক্তির আরাধনা চৈতন্য করেছিল।’”

    ভক্তেরা সকলে অবাক হইয়া শুনিতে চান। কেউ কেউ ভাবিতে চান— সচিদানন্দ ভগবান কি শ্রী রামকৃষ্ণের রূপ ধারণ করিয়া আমাদের কাছে বসিয়া আছেন? ভগবান কি আবার অবতীর্ণ হইয়াছেন?

    শ্রী রামকৃষ্ণ কথা কহিতেছেন, মাস্টারকে সম্বোধন করিয়া আবার বলিতেছেন, “দেখলাম পূর্ণ আবির্ভাব, তবে সত্য, গুণের ঐশ্বর্য।”

    ভক্তরা সকলে অবাক হইয়া এই সকল কথা শুনিতেছেন।

  • Ramakrishna 398: আত্মাটি যেন ভিতরে নড়নড় করে, তেমনি এই বিষয়বুদ্ধির জল শুকিয়ে গেলে আত্মজ্ঞান হয়

    Ramakrishna 398: আত্মাটি যেন ভিতরে নড়নড় করে, তেমনি এই বিষয়বুদ্ধির জল শুকিয়ে গেলে আত্মজ্ঞান হয়

    তখন ব্যাসদেব যমুনাকে সম্মোধন করিয়া বলিলেন— “যমুনা, আমি যদি কিছু না খেয়ে থাকি, তাহলে তোমার জল দুই ভাগ হয়ে যাক, আর মাঝখানে রাস্তা হোক, আমরা যেন পার হতে পারি।”

    ঠিক তেমনি হলো— যমুনার জল দুই ভাগ হয়ে গেল, মাঝখানে ওপারে যাবার পথ হলো। সেই পথ দিয়েই ব্যাসদেব ও গোপীরা সকলে পার হয়ে গেলেন।

    আমি খাই নাই—তার মানে এই যে, আমি সেই শুদ্ধাত্মা, শুদ্ধার্থ, নির্লিপ্ত প্রকৃতির পাঠ; তার ক্ষুধা-তৃষ্ণা নেই, জন্ম-মৃত্যু নাই, অজর-অমর, সুমেরুবৎ।

    যার এই ব্রহ্মজ্ঞান হয়েছে, সে জীবনমুক্ত। সে ঠিক বুঝতে পারে যে আত্মা আলাদা আর দেহ আলাদা। ভগবানকে দর্শন করলে দেখার তো বুদ্ধিই আর থাকে না। দুটি আলাদা—যেমন নারকেলের জল শুকিয়ে গেলে শাঁস আলাদা আর খোল আলাদা হয়ে যায়। আত্মাটি যেন ভিতরে নড়নড় করে, তেমনি এই বিষয়বুদ্ধির জল শুকিয়ে গেলে আত্মজ্ঞান হয়; আত্মা আলাদা আর দেহ আলাদা বোধ হয়।

    কাঁচা সুপারি বা কাঁচা বাদামের ভিতরের সুপারি বা বাদাম শাঁস থেকে তফাৎ করা যায় না। কিন্তু পাকা অবস্থায় সুপারি বা বাদাম আলাদা, শাঁস আলাদা হয়ে যায়। পাকা অবস্থায় রস শুকিয়ে যায়—ব্রহ্মজ্ঞান হলে বিষয় শুকিয়ে যায়।

    কিন্তু সে জ্ঞান বড় কঠিন—বললেই ব্রহ্মজ্ঞান হয় না। কেউ জ্ঞানের ভান করে, একজন বড় মিথ্যা কথা কইতো—আবার এদিকে বলতো, “আমার ব্রহ্মজ্ঞান হয়েছে।”

    কোন লোক তাকে তিরস্কার করাতে এসে বললে, “কেন, জগত তো স্বপ্নবৎ। সবই যদি মিথ্যা হয়, তবে সত্য কথাটাই কি ঠিক? মিথ্যাটাও মিথ্যা, সত্যটাও মিথ্যা!”

    আত্মাটি যেন ভিতরে নড়নড় করে, তেমনি এই বিষয়বুদ্ধির জল শুকিয়ে গেলে আত্মজ্ঞান হয়

  • Ramakrishna 397: জ্ঞান সদর মহল পর্যন্ত যেতে পারে, কিন্তু ভক্তি অন্দর মহলে যায়

    Ramakrishna 397: জ্ঞান সদর মহল পর্যন্ত যেতে পারে, কিন্তু ভক্তি অন্দর মহলে যায়

    (এই বলিয়া তাহার দিকে একদৃষ্টে সর্বদা তাকাইয়া রহিলেন, যেন তাহার হৃদয়ের অন্তরতম প্রদেশের সমস্ত ভাব দেখিতেছেন। মোহিনী মোহন কী ভাবিতেছিলেন—‘ঈশ্বরের জন্য সব যাওয়াই ভালো।’)

    কিয়ৎক্ষণ পরে ঠাকুর আবার বলিতেছেন—

    “ভাগবত পণ্ডিতকে একটি পাশ দিয়ে ঈশ্বর রেখে দেন—তা না হলে ভাগবত কে শুনাবে? রেখে দেন লোক শিক্ষার জন্য। মা সেইজন্য সংসারে রেখেছেন।”

    এইবার ব্রাহ্মণ যুবকটিকে সম্মোধন করিয়া বলিতেছেন—

    (জ্ঞানযোগ ও ভক্তিযোগ, ব্রহ্মজ্ঞানীর অবস্থা ও জীবন্মুক্ত)

    শ্রীরামকৃষ্ণ যুবকের প্রতি বলিতেছেন— “তুমি জ্ঞানচর্চা ছেড়ে ভক্তি নাও। ভক্তিই সার। আজ তোমার কি, তিন দিন হলো?”

    ব্রাহ্মণ যুবক হাত জোড় করে বলিল— “আজ্ঞে, হ্যাঁ।”

    শ্রীরামকৃষ্ণ বলিলেন— “বিশ্বাস করো, নির্ভর করো। তাহলেই নিজের কিছু করতে হবে না—মা কালী সব করবেন।

    জ্ঞান সদর মহল পর্যন্ত যেতে পারে, কিন্তু ভক্তি অন্দরমহলে যায়।
    শ্রদ্ধাপূর্ণ, নির্লিপ্ত—বিদ্যা ও অবিদ্যা তাঁর ভেতরেই আছে। তিনি নির্লিপ্ত।
    যেমন, বায়ুতে কখনও সুগন্ধ, কখনও দুর্গন্ধ থাকে—তবু বায়ু নিজে নির্লিপ্ত।

    ব্যাসদেব যমুনা পার হচ্ছিলেন। গোপীরাও সেখানে উপস্থিত—তারাও পার হবেন।
    দধি, দুধ, ননী বিক্রি করতে যাচ্ছেন, কিন্তু নৌকা ছিল না।
    কেমন করে পার হবেন—সকলেই ভাবিতেছেন।

    এমন সময় ব্যাসদেব বলিলেন—
    “আমার বড় ক্ষুধা পেয়েছে।”

    তখন গোপীরা তাঁকে ক্ষীর, সর, ননী—সব খাওয়াতে লাগলেন।
    ব্যাসদেব প্রায় সবই খেয়ে ফেলিলেন।

    তখন ব্যাসদেব যমুনাকে সম্মোধন করিয়া বলিলেন—
    “যমুনা, আমি যদি কিছু না খেয়ে থাকি, তাহলে তোমার জল দুই ভাগ হয়ে যাক, আর মাঝখানে রাস্তা হোক, আমরা যেন পার হতে পারি।”

    ঠিক তেমনি হলো—
    যমুনার জল দুই ভাগ হয়ে গেল, মাঝখানে ওপারে যাবার পথ হলো।
    সেই পথ দিয়েই ব্যাসদেব ও গোপীরা সকলে পার হয়ে গেলেন।

  • Ramakrishna 396: আপনা আপনি ভক্তি আসা—সংস্কার না থাকলে হয় না

    Ramakrishna 396: আপনা আপনি ভক্তি আসা—সংস্কার না থাকলে হয় না

    ঠাকুর ছোট নরেনকে একদৃষ্টে দেখিতেছেন। দেখিতে দেখিতে সমাধিস্ত হইলেন। শুদ্ধার্থ ভক্তের ভিতর ঠাকুর কি নারায়ণ দর্শন করিতেছেন!

    ভক্তেরা এক দৃষ্টে সেই সমাধি চিত্র দেখিতেছেন।

    কিয়ৎ পরে সমাধি ভঙ্গ হইল, ঠাকুরের বায়ু স্থির হইয়া গিয়েছিল। এইবার দীর্ঘনিশ্বাস ত্যাগ করিলেন। ক্রমে বহির্জগতে মন আসিতেছে। ভক্তদের দিকে দৃষ্টিপাত করিতেছেন।

    এখনও ভাবস্থ হইয়া রহিয়াছেন। এবার প্রত্যেক ভক্তকে সম্বোধন করিয়া কাহার কী হইবে ও কাহার কীরূপ অবস্থা, কিছু কিছু বলিতেছেন।

    ছোট নরেনের প্রতি —
    “তোকে দেখবার জন্য ব্যাকুল হচ্ছিলাম। তোর হবে, এক একবার। আচ্ছা, তুই কী ভালোবাসিস—জ্ঞান না ভক্তি?”
    ছোট নরেন: “শুধু ভক্তি।”
    শ্রীরামকৃষ্ণ: “আমাকে না জানলে ভক্তি কাকে করবি?”
    (মাস্টারকে দেখাইয়া সহাস্যে)
    “তবে শ্রদ্ধার! তা যে কালে বলেছে—শুধু ভক্তি চাই, এর অবশ্য মানে আছে।
    আপনা আপনি ভক্তি আসা—সংস্কার না থাকলে হয় না। এইটি প্রেমভক্তির লক্ষণ।
    জ্ঞানভক্তি—বিচার করা ভক্তি।”

    ছোট নরেনের প্রতি: “দেখি তোর শরীর, জামা খোল দেখি। বেশ বুকের আয়তন! তোর হবে। মাঝে মাঝে আসিস।”

    ঠাকুর এখনও ভাবস্থ। অন্য ভক্তদের সস্নেহে এক একজনকে সম্বোধন করিয়া আবার বলিতেছেন—

    পল্টুর প্রতি: “তোরও হবে, তবে একটু দেরিতে হবে।”

    বাবুরামের প্রতি: “তোকে টানছি না কেন? শেষে কী একটা হাঙ্গামা হবে!”

    মোহিনী মোহনের প্রতি:
    “তুমি তো আছই—একটু বাকি আছে, সেটুকু গেলে কর্মকাজ, সংসার—কিছু থাকে না। সব কাজ যাওয়া কি ভালো?”

    (এই বলিয়া তাহার দিকে একদৃষ্টে সর্বদা তাকাইয়া রহিলেন, যেন তাহার হৃদয়ের অন্তরতম প্রদেশের সমস্ত ভাব দেখিতেছেন। মোহিনী মোহন কী ভাবিতেছিলেন—‘ঈশ্বরের জন্য সব যাওয়াই ভালো।’)

    কিয়ৎক্ষণ পরে ঠাকুর আবার বলিতেছেন—

    “ভাগবত পণ্ডিতকে একটি পাশ দিয়ে ঈশ্বর রেখে দেন—তা না হলে ভাগবত কে শুনাবে? রেখে দেন লোক শিক্ষার জন্য। মা সেইজন্য সংসারে রেখেছেন।”

  • Ramakrishna 395: দেখো দেখি, কোথায় গঙ্গাস্নানে এসেছে, যত সংসারের কথা

    Ramakrishna 395: দেখো দেখি, কোথায় গঙ্গাস্নানে এসেছে, যত সংসারের কথা

    অভিনয় দৃষ্টি ভক্তরা সকলেই হো হো করিয়া হাসিতে লাগিলেন। পল্টু হাসিয়া গড়াগড়ি দিতেছেন। ঠাকুর পল্টুর দিকে তাকাইয়া মাস্টারকে বলিতেছেন, ছেলে মানুষ কিনা তাই হেসে গড়াগড়ি দিচ্ছে।

    শ্রীরামকৃষ্ণ- পল্টুর প্রতি সহাস্যে তোর বাবাকে এসব কথা বলিস নি। যাও একটু টান ছিল তাও যাবে। ওরা একে ইংলিশ ম্যান লোক।

    আহ্নিক জপ ও গঙ্গা স্নানের সময়কথা

    ভক্তদের প্রতি- অনেকে আহ্নিক করিবার সময় যত রাজ্যের কথা কয়। কিন্তু কথা কইতে নাই। তাই ঠোঁট বুঝে যত প্রকার ইশারা করতে থাকে। এটা নিয়ে এসো, ওটা নিয়ে এসো। হু উহু এইসব করে।

    আবার কেউ মালা জপ করছে। তার ভেতর থেকেই মাছ দর করে। জপ করতে করতে হয়তো আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়, ওই মাছটা। যত হিসাব সেই সময়।

    কেউ হয়তো গঙ্গাস্নান করতে এসেছে। সে সময় কোথা ভগবান চিন্তা করবে, গল্প করতে বসে গেল। যত রাজ্যের গল্প। তোর ছেলের বিয়ে হল, কি গয়না দিলে! অমুকের বড় ব্যামো, অমুক শ্বশুরবাড়ি থেকে এসেছে কিনা, অমুক কনে দেখতে গিয়েছিল, তার দাওয়াত হওয়া সাধ আহ্লাদ খুব করবে। হরিশ আমার বড় ন্যাওটা। আমায় ছেড়ে এক দণ্ড থাকতে পারে না। এতদিন আসতে পারিনি। মা অমুকের মেয়ের পাকা দেখা বড় ব্যস্ত ছিলাম।

    দেখো দেখি, কোথায় গঙ্গাস্নানে এসেছে, যত সংসারের কথা

    ঠাকুর ছোট নরেনকে একদৃষ্টে দেখিতেছেন। দেখিতে দেখিতে সমাধিস্ত হইলেন। শুদ্ধার্থ ভক্তের ভিতর ঠাকুর কি নারায়ণ দর্শন করিতেছেন!

    ভক্তেরা এক দৃষ্টে সেই সমাধি চিত্র দেখিতেছেন।

    কিয়ৎ পরে সমাধি ভঙ্গ হইল, ঠাকুরের বায়ু স্থির হইয়া গিয়েছিল। এইবার দীর্ঘনিশ্বাস ত্যাগ করিলেন। ক্রমে বহির্জগতে মন আসিতেছে। ভক্তদের দিকে দৃষ্টিপাত করিতেছেন।

  • Ramakrishna 394: ঠাকুর পল্টুর দিকে তাকাইয়া মাস্টারকে বলিতেছেন, ছেলে মানুষ কিনা তাই হেসে গড়াগড়ি দিচ্ছে

    Ramakrishna 394: ঠাকুর পল্টুর দিকে তাকাইয়া মাস্টারকে বলিতেছেন, ছেলে মানুষ কিনা তাই হেসে গড়াগড়ি দিচ্ছে

    ঠাকুরের জন্য মোহিনী মোহন চ্যাংড়া করিয়া সন্দেশ আনিয়াছেন।

    শ্রীরামকৃষ্ণ- সন্দেশ কার?

    বাবুরাম- মোহিনীকে দেখাইয়া দিলেন।

    ঠাকুর ‘প্রণব’ উচ্চারণ করিয়া সন্দেশ স্পর্শ করিলেন ও কিঞ্চিৎ গ্রহণ করিয়া প্রসাদ করিয়া দিলেন। অতঃপর সেই সন্দেশ লইয়া ভক্তদের দিতেছেন। কী আশ্চর্য, ছোট নরেনকে ও দুই-একটি ছোকরা ভক্তকে নিজে খাওয়াইয়া দিতেছেন।

    শ্রী রামকৃষ্ণ মাস্টারের প্রতি- এর একটি মানে আছে। নারায়ণ শুদ্ধাত্মাদের ভিতরে বেশি প্রকাশ। ও দেশে যখন যেতুম, ঐরূপ ছেলেদের কারও কারও মুখে নিজে খাবার দিতাম। চিনে শাঁখারি বলত, উনি আমাদের খাইয়ে দেন না কেন? কেমন করে দেব, কেউ ভাজ মেগো, কেউ অমুক মেগো। খাইয়ে দেবে?

    সমাধি মন্দিরে ভক্তদের সম্বন্ধে মহাবাক্য?

    ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ শুদ্ধ ভক্তদিগকে পাইয়া আনন্দে ভাসিতেছেন ও ছোট খাটটিতে বসিয়া বসিয়া তাহাদিগকে কীর্তনীয়া ঢং দেখাইয়া হাসিতেছেন। কীর্তনি সেজেগুজের সম্প্রদায়ের সঙ্গে গান গাইতেছে কীর্তনি দাঁড়াইয়া হাতের রঙিন রুমাল মাঝে মাঝে ঢং করিয়া কাশিতেছে। নথ তুলিয়া থুথু ফেলিতেছে। আবার যদি কোনও বিশিষ্ট ব্যক্তি আসিয়া পড়ে গান গাইতেই তাহাকে অভ্যর্থনা করিতেছে ও বলিতেছে, আসুন আবার মাঝে মাঝে হাতের কাপড় সরাইয়া তাবিজ অনন্ত ও বাউটি ইত্যাদি অলংকার দেখাইতেছে।

    অভিনয় দৃষ্টি ভক্তরা সকলেই হো হো করিয়া হাসিতে লাগিলেন। পল্টু হাসিয়া গড়াগড়ি দিতেছেন। ঠাকুর পল্টুর দিকে তাকাইয়া মাস্টারকে বলিতেছেন, ছেলে মানুষ কিনা তাই হেসে গড়াগড়ি দিচ্ছে।

    শ্রীরামকৃষ্ণ- পল্টুর প্রতি সহাস্যে তোর বাবাকে এসব কথা বলিস নি। যাও একটু টান ছিল তাও যাবে। ওরা একে ইংলিশ ম্যান লোক।

  • Bipodtarini Puja 2025: বিপদ থেকে উদ্ধার পেতেই আরাধনা দেবী বিপত্তারিণীর, জানেন এই পুজোয় ১৩ সংখ্যার মাহাত্ম্য

    Bipodtarini Puja 2025: বিপদ থেকে উদ্ধার পেতেই আরাধনা দেবী বিপত্তারিণীর, জানেন এই পুজোয় ১৩ সংখ্যার মাহাত্ম্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলার ঘরে ঘরে আজ, শনিবার পালিত হচ্ছে বিপত্তারিণী ব্রত (Bipodtarini Puja 2025)। বিপদ থেকে উদ্ধার পাওয়ার জন্য দেবী বিপত্তারিণীর পুজো করা হয়। বিশ্বাস অনুযায়ী, ভক্তি মনে এই পুজো করলে, যে কোনও বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। হিন্দু ধর্মে বিপত্তারিণী ব্রতের গুরুত্ব অনেক। আষাঢ় মাসে সোজা রথ এবং উল্টো রথের মাঝে মঙ্গল ও শনিবার পালিত বিপত্তারিণী ব্রত। স্বামী, সন্তান ও সংসারের মঙ্গলকামনায় দেবীর পুজোপাঠ ও ব্রতপালন করেন গৃহিণীরা। বিশ্বাস করা হয়, বিপত্তারিণী পুজো করলে শুধু বিপদই নয় অর্থ সঙ্কট থেকেও মুক্তি পাওয়া যায়। এবং ঘরে সুখ ও সমৃদ্ধি লাভ হয়।

    দেবী দুর্গারই উপাসনা

    দেবী দুর্গা ১০৮ অবতারের অন্যতম এবং দেবী সঙ্কটনাশিনীর একটি রূপ মা বিপত্তারিণী। দেবীকে কখনও দশভুজা রূপে পুজো করা হয়, কখনও আবার চতুর্ভুজা রূপে পুজো করা হয়। পৌরাণিক কাহিনি মতে, দেবাদিদেব মহাদেব দেবী পার্বতীকে কালী বলে উপহাস করলে দেবী ক্রুদ্ধ হন। ক্রুদ্ধ দেবী তখন তপস্যাবলে নিজের কৃষ্ণবর্ণ রূপ ত্যাগ করেন। সেই মুহূর্তে দেবী পার্বতীর শরীর থেকেই সৃষ্টি হন দেবী বিপত্তারিণী। দেবী বিপত্তারিণীর উপাসনা করা মানে দেবী দুর্গারই উপাসনা করা।

    ১৩ সংখ্যার মাহাত্ম্য

    এই ব্রত (Bipodtarini Puja 2025) পালনের বিশেষ নিয়ম হল দেবী বিপত্তারিণীকে সব কিছু ১৩টা করে উৎসর্গ করতে হবে। ১৩ রকমের নৈবেদ্য সাজাতে হয়। এ ছাড়া লাগে তেরো রকম ফল, তেরো রকম ফুল, তেরোটি পান, তেরোটি সুপুরি, তেরোটি এলাচ। ব্রত পালনের দিন চাল-মুড়ি-চিঁড়ে জাতীয় কোনও জিনিস খাওয়া যায় না। বদলে ১৩টি লুচি ও ফল দেবীর প্রসাদ হিসেবে গ্রহণ করতে হয়। কথিত রয়েছে, মা বিপত্তারিণীর পছন্দের সংখ্যা হল ১৩। সে কারণেই এই পুজোয় দেবীর কাছে সমস্ত জিনিস ১৩টি করে অর্পণ করা হয়। শাস্ত্রমতে, ১৩ সংখ্যাটি ব্যবহার করলে দেবীর আশীর্বাদ লাভ করা যাবে। এতে যে কোনও বিপদ থেকে দেবী আমাদের রক্ষা করবেন। ১৩ সংখ্যাটিকে দেবী বিপত্তারিণীর আশীর্বাদ ও সুরক্ষার প্রতীক মনে করা হয়।

    লাল রঙের তাগা কেন বাঁধা হয়

    বিপত্তারিণীর পুজো (Bipodtarini Puja 2025) শেষে হাতে লাল তাগা বাঁধার চল রয়েছে। মেয়েরা এই তাগা বাঁ হাতে পরেন আর ছেলেরা ডান হাতে পরেন। সেই তাগাতেও ১৩টি গিঁট বাঁধা হয়। সেই ১৩টি গিঁটে দেবী দুর্গার ১৩টি রূপে বিরাজ করেন বলে বিশ্বাস করা হয়। ১৩টি গিঁট ছাড়াও তাতে ১৩টি দূর্বাঘাস বাঁধা হয়। এই তাগা অনেকে সারা বছর ধরে পরে থাকেন, অনেকে আবার তিন দিন পরার পর নদী বা পুকুরের জলে ভাসিয়ে দেন। বিশ্বাস করা হয় যে, এই তাগা হাতে পরলে বিপদ কোনও দিন আপনাকে স্পর্শ করতে পারবে না।

    ব্রত পালনে কী কী লাগে?

    ঘট, আম্র পল্লব, শীষ সহ ডাব, একটি নৈবেদ্য, ১৩ টি গিঁট দেওয়া লাল সুতো (সঙ্গে ১ত টি দূর্বা বাঁধা), ১৩ রকম ফুল, ১৩ রকম ফল, ১৩ গাছি লাল সুতো, ১৩টি দূর্বা, ১৩টি পান ও ১৩টি সুপুরি।

    বিপত্তারিণী পুজোর দিন কী করবেন না

    বিপত্তারিণী পুজোর (Bipodtarini Puja 2025) দিন এবং আগের দিন আমিষ জাতীয় খাবার গ্রহণ করবেন না৷ ব্রতপালনের দিন ব্রতীরা চালজাতীয় খাবার গ্রহণ করবেন না৷ বাড়িতে বা মন্দিরে দু’ জায়গাতেই এই ব্রতপালন করা যায়। বিপত্তারিণী পুজোর সময় কথা বলবেন না৷ এতে পুজোর নিষ্ঠা এবং একাগ্রতায় বিঘ্ন ঘটে৷ ফলে দেবী রুষ্ট হন। এই তিথিতে কাউকে ধার দেবেন না৷ কারওর কাছ থেকে ধার নেবেন না। কোনও অপরিচ্ছন্ন স্থানে বিপত্তারিণী পুজো করবেন না। নয়তো ঘরের সুখ ও শান্তির নষ্ট হয়। বিপত্তারিণী পুজোর সময় কখনই কাউকে অপমান করবেন না। এমনকি এদিন কোনও মহিলার সম্পর্কে কুরুচিকর কথা বলবেন না। এতে মা লক্ষ্মী ক্রুদ্ধ হন। এই পুজোর দিন পরিবারের কোনও সদস্যের মদ্যপান করা এড়ানো উচিত। বিপত্তারিণী পুজোর দিন কাউকে চিনি দেবেন না। জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী, চিনির শুক্র এবং চন্দ্রের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে। অন্যদিকে শুক্র বস্তুগত সুখের কর্তা। তাই এদিন চিনি দিলে শুক্র দুর্বল হয় এবং সংসারে অশান্তির পাশাপাশি আর্থিক সংকট দেখা দেয়।

  • Ramakrishna 393: “ওগো, তুমি আমার কী করলে গো! আমার যে বাবা-মা আছে গো!”

    Ramakrishna 393: “ওগো, তুমি আমার কী করলে গো! আমার যে বাবা-মা আছে গো!”

    বাবুরাম (সহাস্যে)- আমি ওইটি চাই।

    বাবুরাম (সহাস্যে)- আপনি নিয়ে আসুন

    শ্রী রামকৃষ্ণ (মাস্টারের প্রতি)- রাখাল ছিল সে এক। তার বাপের মত ছিল। এরা থাকলে হাঙ্গামা হবে।

    (বাবুরামের প্রতি)- তুই দুর্বল। তোর সাহস কম। দেখ দেখি ছোট নরেন কেমন বলে আমি এক্কেবারে এসে থাকব।
    এতক্ষণে ঠাকুর ছোকরা ভক্তদের মধ্যে আসিয়া মেঝেতে মাদুরের উপর বসিয়া আছেন। মাস্টার তাঁহার কাছে বসিয়া আছেন।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (মাস্টারকে)- আমি কামিনী কাঞ্চন-ত্যাগী খুঁজছি। মনে করি, এ বুঝি থাকবে। সকলেই এক একটা ওজর করে।

    একটা ভূত সঙ্গী সঙ্গী খুঁজছিল। শনি-মঙ্গলবারে অপঘাতে মৃত্যু হলে ভূত হয়—তাই সে ভূতটা যেই দেখত, কেউ ছাদ থেকে পড়ে গেছে কি হোঁচটে মূর্ছিত হয়ে পড়েছে, অমনি দৌড়ে যেত। এই মনে করে যে, এটার অপঘাতে মৃত্যু হয়েছে, এবার ভূত হবে, আর আমার সঙ্গী হবে। কিন্তু তার এমনই কপাল যে, যাকেই দেখে, সব শালারা বেঁচে ওঠে—সঙ্গী আর জোটে না।

    দেখ না, রাখাল পরিবার পরিবার করে বলে, “আমার স্ত্রীর কী হবে?” নরেন্দ্র বুকে হাত দেওয়াতে বেহুঁশ হয়ে গিয়েছিল, তখন বলে, “ওগো, তুমি আমার কী করলে গো! আমার যে বাবা-মা আছে গো!”

    আমায় তিনি এ অবস্থায় রেখেছেন কেন? চৈতন্যদেব সন্ন্যাস করলেন—সবাই প্রণাম করবে বলে; যারা একবার নমস্কার করবে, তারা উদ্ধার হয়ে যাবে।

    ঠাকুরের জন্য মোহিনী মোহন চ্যাংড়া করিয়া সন্দেশ আনিয়াছেন।

    শ্রীরামকৃষ্ণ- সন্দেশ কার?

    বাবুরাম- মোহিনীকে দেখাইয়া দিলেন।

    ঠাকুর ‘প্রণব’ উচ্চারণ করিয়া সন্দেশ স্পর্শ করিলেন ও কিঞ্চিৎ গ্রহণ করিয়া প্রসাদ করিয়া দিলেন। অতঃপর সেই সন্দেশ লইয়া ভক্তদের দিতেছেন। কী আশ্চর্য, ছোট নরেনকে ও দুই-একটি ছোকরা ভক্তকে নিজে খাওয়াইয়া দিতেছেন।

  • Rath Yatra 2025: পুরীর রথযাত্রা কীভাবে শুরু হয়েছিল জানেন?

    Rath Yatra 2025: পুরীর রথযাত্রা কীভাবে শুরু হয়েছিল জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ, শুক্রবার ২৭ জুন পবিত্র রথযাত্রা। হিন্দু ধর্মের অন্যান্য উৎসবের মতোই রথযাত্রাও এক জাঁকজমকপূর্ণ ধর্মীয় অনুষ্ঠান (Rath Yatra 2025)। হিন্দু পঞ্জিকা অনুসারে, রথযাত্রা বা রথদ্বিতীয়া প্রতিবছর আষাঢ় মাসের শুক্লা দ্বিতীয়া তিথিতে পালিত হয়ে থাকে। ভারতবর্ষের বহু জায়গায়, বিশেষ করে ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গে এই উৎসব বিশেষভাবে পালিত হয়। ওড়িশার পুরীর রথ সারা পৃথিবী বিখ্যাত। তবে শুধু ভারতবর্ষে নয়, ডাবলিন মস্কো এবং নিউ ইয়র্ককেও রথযাত্রার পালিত হয়।

    ‘রথ’ শব্দের আভিধানিক অর্থ যুদ্ধযান বা চাকাযুক্ত ঘোড়ায় টানা হালকা যাত্রীবাহী গাড়ি হলেও, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে রথ শব্দের অর্থ কিন্তু ভিন্ন। ভক্তদের মতে, রথ একটি কাঠের তৈরি যান, যার উপরে ভগবান জগন্নাথ, সুভদ্রা এবং বলরাম বসে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ভ্রমণ করেন। ভগবানের এই রথ আরোহণই ‘রথযাত্রা’ (Rath Yatra 2025) নামে পরিচিত। তবে চলুন জেনে নেওয়া যাক কীভাবে এবং কবে থেকে রথযাত্রার আবির্ভাব হল।

    রথযাত্রার পৌরাণিক ইতিহাস (Rath Yatra 2025)

    রথ যাত্রার এই কাহিনীর সঙ্গে জড়িত আছে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের নাম। আর জগন্নাথ হলেন ভগবান শ্রীকৃষ্ণেরই এক রূপ। ওড়িশার প্রাচীন পুঁথি ‘ব্রহ্মাণ্ডপুরাণ’ অনুযায়ী, এই রথযাত্রার প্রচলন হয়েছিল সম্ভবত দ্বাদশ থেকে ত্রয়োদশ শতাব্দীতে। তখন ওড়িশা মালবদেশ নামে পরিচিত ছিল। সেখানকার রাজা ইন্দ্রদ্যুম্ন ছিলেন পরম বিষ্ণুভক্ত। তিনি স্বপ্নাদিষ্ট হয়ে ভগবান বিষ্ণুর জগন্নাথরূপী মূর্তি নির্মাণ করেন এবং রথযাত্রারও স্বপ্নাদেশ পান।

    লোকমুখে শোনা যায়, রাজা ইন্দ্রদ্যুম্ন স্বপ্নাদেশ পান যে পুরীর (Puri) সমুদ্রতটে ভেসে আসা একটি কাঠের খণ্ড দিয়ে জগন্নাথের মূর্তি নির্মাণ করতে হবে। আদেশ অনুযায়ী মূর্তি নির্মাণের জন্য যখন রাজা উপযুক্ত শিল্পীর সন্ধান করছিলেন, ঠিক তখনই এক বৃদ্ধ তাঁর সম্মুখে উপস্থিত হন। তিনি জানান তিনিই এই মূর্তিটি তৈরী করবেন এবং রাজার কাছে মূর্তি নির্মাণের জন্য কয়েকদিন সময় চেয়ে নেন, পাশাপাশি ওই বৃদ্ধ বলেন এই মূর্তি নির্মাণকালে কেউ যেন তাঁর কাজে বাধা না দেয়।

    দরজার আড়ালে শুরু হয় কাঠের মূর্তি নির্মাণ। রাজা-রানীসহ সকলেই এই মূর্তি নির্মাণকাজের ব্যাপারে কৌতূহলী হয়ে ওঠেন। রানি প্রতিদিন বন্ধ দরজার বাইরে থেকে কান পেতে আওয়াজ শুনতো। কিন্তু হঠাৎই একদিন সেই আওয়াজ একদিন বন্ধ হয়ে যায়। রানী কৌতূহল চেপে রাখতে না পেরে রাজাকে জানাতেই ইন্দ্রদ্যুম্ন দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করেন, দেখেন মূর্তি অর্ধসমাপ্ত এবং শিল্পী উধাও। এই রহস্যময় শিল্পী ছিলেন বিশ্বকর্মা।

    তিনটি অর্ধসমাপ্ত মূর্তি দেখে অর্থাৎ হাত ও পা নির্মিত হয়নি বলে রাজা মুষড়ে পড়লেন। কাজে বাধাদানের জন্য রাজা অনুতাপ করতে থাকলেন। তখন তাঁকে স্বপ্ন দিয়ে জগন্নাথ বললেন যে, এরকম আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল। তিনি এই রূপেই পূজিত হতে চান। এভাবেই আবির্ভাব ঘটে জগন্নাথ দেবের এবং সেই থেকেই শুরু তাঁর পুজো (Rath Yatra 2025)। পরবর্তীকালে রাজা পুরীর (Puri) এই জগন্নাথ মন্দির নির্মাণ ও রথযাত্রার প্রচলন করেন।

    রথের বিশেষত্ব

    পুরীর রথযাত্রায় ব্যবহৃত তিনটি রথের ভিন্ন ভিন্ন নাম থাকে। জগন্নাথ দেবের রথের নাম ‘নান্দীঘোষ’, বলরামের রথের নাম ‘তালধ্বজ’ এবং সুভদ্রার রথের নাম ‘দর্পদলন’। এই তিনটি রথের উচ্চতা এবং রঙও আলাদা হয়। জগন্নাথ দেবের রথে ১৮টি চাকা থাকে, বলরামের রথে থাকে ১৬টি চাকা। জগন্নাথ এবং বলরামের বোন সুভদ্রার রথে থাকে ১২টি চাকা।

    বর্তমানে এই রথযাত্রা বিশ্ববিখ্যাত এবং সারা ভারতবর্ষের মানুষের কাছে এক আনন্দের অনুষ্ঠান। ভক্তদের সমাগমে ছেয়ে যায় পুরুষোত্তম ক্ষেত্র বা শ্রীক্ষেত্র। ভারতবর্ষের সকল মানুষ অপেক্ষায় থাকেন এই উৎসবের জন্য।

LinkedIn
Share