Category: পরম্পরা

Get updated History and Heritage and Culture and Religion related news from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • Snan Yatra 2025: আজ দেবস্নান পূর্ণিমা, প্রভু জগন্নাথদেবের স্নানযাত্রা উৎসব, এর মাহাত্ম্য জানেন?

    Snan Yatra 2025: আজ দেবস্নান পূর্ণিমা, প্রভু জগন্নাথদেবের স্নানযাত্রা উৎসব, এর মাহাত্ম্য জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ, বুধবার ১১ জুন, প্রভু জগন্নাথদেবের স্নানযাত্রা (Snan Yatra 2025)। প্রতি বছর জ্যৈষ্ঠ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে স্নানযাত্রা হয়। যে কারণে, এই পূর্ণিমাকে দেবস্নান পূর্ণিমা বা স্নান পূর্ণিমা বলেও অভিহিত করা হয়ে থাকে। এদিন বাংলা, ওড়িশা সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে জগন্নাথদেবের স্নানযাত্রা মহাসমারোহে পালিত হয়। তবে, সবচেয়ে জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠান হয় পুরী জগন্নাথধামে (Puri Jagannath Dham)। ফলে, সারা বিশ্বের চোখ এখন পুরীতে। এছাড়া, এ রাজ্যের মাহেশেও বড় করে হয় এই উৎসব। এই দিন হল শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের জন্মতিথি। স্নানযাত্রা হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে খুবই পবিত্র একটি উৎসব।এদিনের এই শুভ তিথিতে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা শুভ বা পুণ্য কাজ সারেন। এবছর এই দেবস্নান পূর্ণিমার তিথি শুরু হয়েছে ১০ জুন, মঙ্গলবার সকাল ১১টা ৩৭ মিনিটে এবং এই তিথি শেষ হচ্ছে, বুধবার দুপুর ১টা ১৪ মিনিটে। তাই উদয় তিথি অনুসারে দেব স্নান পূর্ণিমা পালিত হচ্ছে বুধবার।

    রথযাত্রার (Puri Jagannath Rath Yatra) ঢাকে কাঠি…

    জগন্নাথদেবের স্নানযাত্রা (Snan Yatra 2025) থেকেই ঢাকে কাঠি পড়ে গেল রথযাত্রার। প্রস্তুতি-পর্ব যদিও আরও সপ্তাহ তিনেক আগে প্রভুর চন্দন-যাত্রার মাধ্যমে শুরু হয়েছিল। দীর্ঘগরমে ভক্তদের মতোই কষ্ট পান জগন্নাথ। সঙ্গে মাথা ধরে। তাই গ্রীষ্মকালে তাঁর কপালে চন্দনের প্রলেপ দেওয়া হয়, যাকে বলে চন্দন উৎসব। বর্ষার আগমনে হয় স্নানযাত্রা। যা থেকেই কার্যত রথযাত্রার কাউন্টডাউন শুরু হয় বলে ধরে নেওয়া হয়। এদিন জগন্নাথ ধাম মন্দিরের স্নান কক্ষে (Snan Yatra 2025) রীতি মেনে ঐতিহ্যবাহী আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ১০৮ কলসে সুগন্ধি জল দিয়ে স্নান করানোর পালা চলে জগন্নাথ-বলরাম-সুভদ্রা ত্রয়ীকে। প্রথমে জগন্নাথ, তারপর বলরাম এবং শেষে সুভদ্রার পুজো করে নিয়ে যাওয়া হয় স্নানের জন্য৷ অনুষ্ঠানের পর গজবেশে সজ্জিত হন প্রভু জগন্নাথ। স্কন্দপুরাণ মতে, পুরীর মন্দির প্রতিষ্ঠার পর রাজা ইন্দ্রদ্যুম্ন এই অনুষ্ঠান প্রচলন করেন।

    জ্বর আসবে জগন্নাথদেবের…

    সাধারণত, বছরে একবার মহাপ্রভু শ্রীজগন্নাথ (Lord Jagannath) তার ভাই বোনদের সঙ্গে স্নান করেন (Snan Yatra 2025)।স্নানযাত্রার পর শুরু হয় ‘অনসর’, এই অনসর কালে জগন্নাথদেব অসুস্থতার কারণে ভক্তগণের অন্তরালে গোপন স্থানে চিকিৎসাধীন থাকেন। কথিত আছে, স্নানের পর এদিন থেকে ধুম জ্বর আসে জগন্নাথদেবের। ফলে, ১৫ দিন ধরে তাঁর চিকিৎসা চলে। এই সময়ে শ্রীমন্দিরের দ্বার বন্ধ থাকে। ভক্তরা প্রভুর দর্শন করতে পারেন না। অন্তরালেই রাখা হয়ে এই তিন দেবদেবীকে। বিশ্বাস, রাজবৈদ্যের আয়ুর্বৈদিক পাঁচন খেয়ে ১৫ পর সুস্থ হয়ে ওঠেন জগন্নাথদেব। চিকিৎসায় আরোগ্য লাভ করে দরজা খোলা হয়। সুস্থ হয়ে উঠেই জগন্নাথদেব নতুন বেশভূষায় সুসজ্জিত হয়ে দর্শন দেন। তখন জগন্নাথধামে পালিত হয় নেত্রোৎসব বা নবযৌবন উৎসব। এরপর, তিন ভাই-বোন মাসির বাড়ি যাওয়ার তোড়জোড় করেন। রাজবেশে সজ্জিত হয়ে, মহাসমারোহে রথে চেপে তাঁদের মাসির বাড়ি যান। তাই স্নানযাত্রার সঙ্গেই জুড়ে রয়েছে রথযাত্রা (Puri Jagannath Rath Yatra)। এই বছর আষাঢ় শুক্লা দ্বিতীয়া অর্থাৎ রথযাত্রার তিথি শুরু হচ্ছে ২৬ জুন দুপুরে ১টা ২৫ মিনিটে, দ্বিতীয়া থাকবে পরের দিন ২৭ জুন সকাল ১১টা ১৯ মিনিট পর্যন্ত। উদয়া তিথি অনুসারে তাই ২৭ তারিখে রথযাত্রা অনুষ্ঠান শুরু হবে। উল্টো রথের অনুষ্ঠান হবে ৫ জুলাই।

  • Vat Purnima Vrat 2025: আজ বট পূর্ণিমা, স্বামীর দীর্ঘায়ু কামনায় বিবাহিতারা করেন এই ব্রতপালন

    Vat Purnima Vrat 2025: আজ বট পূর্ণিমা, স্বামীর দীর্ঘায়ু কামনায় বিবাহিতারা করেন এই ব্রতপালন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসারে বটবৃক্ষের (Banyan Tree) অপার মহিমা বলা হয়েছে। এই গাছ ত্রিমূর্তি, বাকলের মধ্যে বিষ্ণু, মূলে ব্রহ্মা এবং শাখায় শিবের প্রতীক। এই গাছটি দীর্ঘকাল নবায়নযোগ্য থাকে, তাই একে ‘অক্ষয়বত’ও বলা হয়। সৌভাগ্যবতীর বর পাওয়ার পাশাপাশি এই বটগাছটি স্বাস্থ্যের জন্যও পুজো করা হয়।

    বট পূর্ণিমা ব্রত ২০২৫ (Vat Purnima Vrat 2025) তিথি ও পুজোর সময়

    আজ, মঙ্গলবার ১০ জুন, জ্যৈষ্ঠ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে পালিত হবে বট পূর্ণিমা ব্রত। এদিন পূর্ণিমা (Vat Purnima) তিথি সকাল ১১ টা ৩৫ মিনিট থেকে শুরু হবে এবং ১১ জুন (বুধবার) দুপুর ১টা ১৩ মিনিটে শেষ হবে। ১০ জুন উপবাস পালন করা হবে এবং ১১ জুন স্নান এবং দান করা হবে। উপবাসের দিনে পুজোর শুভ সময়: বট পুজো মুহূর্ত: সকাল ৮টা ৫২ মিনিট থেকে দুপুর ২টো ০৫ মিনিট পর্যন্ত। স্নান ও দানের সময়: ভোর ৪টে ০২ মিনিট থেকে ৪টে ৪২ মিনিট পর্যন্ত। চন্দ্রোদয়: সন্ধ্যা ৬ টা ৪৫ মিনিটে।

    বট পূর্ণিমা ব্রতর (Vat Purnima Vrat 2025) তাৎপর্য

    এই উৎসবটি বিশেষ করে উত্তরাখণ্ড, মহারাষ্ট্র, গোয়া এবং গুজরাটে ভক্তির সঙ্গে পালিত হয়। এই দিনে বিবাহিত মহিলারা ষোলটি সাজের পর বটবৃক্ষের পুজো করেন। হিন্দু মতে, স্বামীর দীর্ঘায়ু কামনায় ও পরিবারের সুস্বাস্থ্যের জন্য বিবাহিত মহিলারা বট পূর্ণিমা ব্রত (Vat Purnima Vrat) পালন করে থাকেন। হিন্দু শাস্ত্র মতে বহু ব্রত পালেনর উল্লেখ রয়েছে, তার মধ্যে এই ব্রত অন্যতম। হিন্দু ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, জ্যৈষ্ঠ মাসের পূর্ণিমায় এই ব্রত (Vat Purnima Vrat 2025) পালন করা হয়। সূর্যোদয় থেকে চন্দ্রোদয় পর্যন্ত উপবাস রাখার নিয়ম রয়েছে এবং পূর্ণিমা তিথিতেই চাঁদের পুজো করা হয়। যে মহিলা ৭ বার বটবৃক্ষ প্রদক্ষিণ করে মৌলি বাঁধেন, তিনি ৭ জন্মের পবিত্র বৈবাহিক বন্ধনের আশীর্বাদপ্রাপ্ত হন। এই দিনে বিবাহিত মহিলাদের শৃঙ্গারের জিনিসপত্র দান করলেও পুণ্য ফল লাভ হয়।

    বট পূর্ণিমা ব্রতর (Vat Purnima Vrat 2025) পৌরাণিক আখ্যান

    হিন্দু পুরাণ যেমন ভবিষ্যপুরাণ, স্কন্দপুরাণ এবং মহাভারতে বট পূর্ণিমার (Vat Purnima) মাহাত্ম্যের কথা উল্লেখ রয়েছে। পৌরাণিক বিশ্বাস অনুসারে, নরকের অধিপতি যম যখন সাবিত্রীর স্বামী সত্যবানকে নিতে এসেছিলেন, সেই সময় স্বামীর জীবন ফিরিয়ে দিতে যমকে কাতর অনুরোধ করেছিলেন সাবিত্রী। কিন্তু অপারগ যম সাবিত্রীর অনুরোধে সাড়া দিয়ে বলেছিলেন, কঠিন ব্রত ও উপবাসের মধ্যে দিয়ে স্বামীর প্রতি নিষ্ঠা পরিবেশন করলে তিনি সত্যবানের জীবন ফিরিয়ে দেবেন। সাবিত্রীর ভক্তিতে সন্তুষ্ট হয়ে সত্যবানকে সঙ্গে না নিয়ে ফিরে যান মৃত্যুর দেবতা যম। এই দিন, মহিলারা বটবৃক্ষ গাছকে (Banyan Tree) উপাসনা করেন। তার কারণ হিন্দু মতে, বটবৃক্ষ আদতে ত্রিমূর্তি-ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশের প্রতীক। তাই সারাদিন উপবাস রেখে বটবৃক্ষকে পুজো করে স্বামীর জীবনরক্ষার জন্য ব্রত পালন করে থাকেন মহিলারা।

    বট পূর্ণিমা ব্রত (Vat Purnima Vrat 2025) পুজো বিধি

    – সূর্যোদয়ের আগে মহিলারা জলের মধ্যে তিল ও আমলা দিয়ে স্নান সেরে নতুন পোশাক, চুরি, টিপ, সিঁদুর পরেন।

    – এইদিন মহিলারা উপবাস রাখেন। খাবার হিসেবে ফলের শিকড়, সবজির মূল খেয়ে থাকেন।

    – বট পূর্ণিমার (Vat Purnima) দিন বটগাছকে দেবতা হিসেবে পুজো করা হয়। তবে বট গাছ না পাওয়া যায়, তাহলে বিকল্প হিসেবে বটগাছের একটি ডালকেও পুজো করা হয়ে থাকে। যদি তাও না পাওয়া যায় তাহলে একটি কাঠের প্রতিকৃতিতে হলুদ ও চন্দন দিয়ে সাজিয়ে পুজো করার নিয়ম রয়েছে।

    -পুজোর সময় জল, ফুল, চাল, ছোলা বীজ, সুতো এবং বাড়িতে তৈরি বিশেষ খাবার বটগাছের তলায় রেখে দেবতাদের অর্পণ করা হয়।

    – মহিলারা এদিন বটগাছে চারপাশে ৭ বার হলুদ ও লাল সুতো দিয়ে জড়িয়ে পরিক্রমা করেন।

    – বট পূর্ণিমার (Vat Purnima Vrat 2025) দিন সাবিত্রী সত্যবানের ব্রতকথা পাঠ করেন বিবাহিত মহিলারা।

    – এই দিন স্বামীর মঙ্গল কামনায় কিছু খাবার, টাকা-পয়সা, বস্ত্র দুঃস্থদের দান করা হয়।

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি কেবলমাত্র সাধারণ তথ্যের জন্য। তাই এই বিষয়ে বিস্তারিত জানতে এবং এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে সর্বদা বিশেষজ্ঞের মতামত নিন এবং সেই পরামর্শ অনুযায়ী চলুন।

  • Ramakrishna 376: শ্রী রামকৃষ্ণ (নরেন্দ্রর উদ্দেশ্যে), এটি ব্রহ্ম জ্ঞানে হয়, তুই যা বলছিলি সবই বিদ্যা

    Ramakrishna 376: শ্রী রামকৃষ্ণ (নরেন্দ্রর উদ্দেশ্যে), এটি ব্রহ্ম জ্ঞানে হয়, তুই যা বলছিলি সবই বিদ্যা

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna)- তুই একটু গান গা

    নরেন্দ্র গান গাহিতেছেন

    চিদানন্দ সিন্ধুনীর প্রেমানন্দের লহরী
    মহাভাবিক রাসলীলা কী মাধুরী মরি মরি,
    বিবিধ বিলাস রঙ্গপ্রসঙ্গ কত অভিনব ভাব তরঙ্গ,
    ডুবিছে উঠেছে করিছে রঙ্গ নবীন রুপ ধরি।

    (হরি হরি বলে)
    মহাযোগে সমুদায় একাকার হইল।
    বেশ কাল ব্যবধান ভেদাভেদ ঘুছিল
    (আশা পুরিল রে আমার সকল সাধ মিটে গেল)
    এখন আনন্দে মাতিয়া দু বাহু তুলিয়া বল রে মন হরি হরি।

    নরেন্দ্র যখন গান গাহিতেছেন, মহাযোগে সব একাকার হইল। তখন শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna) বলিতেছেন- এটি ব্রহ্ম জ্ঞানে হয় তুই যা বলছিলি সবই বিদ্যা।

    নরেন্দ্র যখন গান গাহিতেছেন, আনন্দে মাতিয়া দু বাহু তুলিয়া বল রে মন হরি হরি। তখন শ্রীরামকৃষ্ণ নরেন্দ্রকে বলিতেছেন- ওইটি দুবার করে বল।
    গান হইয়া গেলে আবার ভক্তর সঙ্গে কথা হইতেছে।

    গিরিশ- দেবেন্দ্রবাবু আসেন নাই। তিনি অভিমান করে বললেন, আমাদের ভেতরে এত ক্ষীরের পোর নাই কলাইয়ের পোর আমরা এসে কি করব।

    শ্রী রামকৃষ্ণ বিস্মিত হইয়া- কই আগে তো উনি ওরকম করতেন না।

    ঠাকুর জলসেবা করিতেছেন, নরেন্দ্রকেও খাইতে দিলেন

    যতীনদেব- (শ্রীরামকৃষ্ণের প্রতি)- নরেন্দ্র খাও, নরেন্দ্র খাও বলছেন। আমরা শালারা ভেসে এসেছি।

    যতীনকে ঠাকুর খুব ভালোবাসেন (Kathamrita)
    । তিনি দক্ষিণেশ্বরে গিয়া মাঝে মাঝে দর্শন করেন। কখনও কখনও রাত্রে সেখানে গিয়ে থাকেন। তিনি শোভাবাজারের রাজাদের বাড়ির (রাধাকান্ত দেব বাড়ির) ছেলে।

    শ্রী রামকৃষ্ণ (নরেন্দ্রের প্রতি সহাস্য)- ওরে যতীন তোর কথাই বলছে।

    ঠাকুর হাসিতে হাসিতে যতীনের থুতি ধরে আদর করিতে করিতে বলিলেন, সেখানে যা, গিয়ে খাস অর্থাৎ দক্ষিণেশ্বরে যাস। ঠাকুর আবার বিবাহ বিভ্রাট অভিনয় শুনবেন। বক্সে গিয়ে বসলেন। ঝির কথাবার্তা শুনে হাসিতে লাগিলেন।

  • Ramakrishna 375: আমাদের কথাটিই ভালো, আমার বলা ভালো নয়

    Ramakrishna 375: আমাদের কথাটিই ভালো, আমার বলা ভালো নয়

    অভিনয় হইতেছে। কর্ণ ও পদ্মাবতী করাত দুই দিকে দুইজনে ধরিয়া বৃষকেতুকে বলিদান করিলেন। পদ্মাবতী কাঁদিতে কাঁদিতে মাংস রন্ধন করিলেন। বৃদ্ধ ব্রাহ্মণ অতি আনন্দ করিতে করিতে কর্ণকে বলিতেছেন এইবার এসো আমরা একসঙ্গে বসে রান্না মাংস খাই। কর্ণ বলিতেছেন, তা আমি পারব না পুত্রের মাংস খেতে পারব না।

    একজন ভক্ত সহানুভূতি ব্যঞ্জক অস্ফুট আর্তনাদ করিলেন। ঠাকুর সেই সঙ্গে দুঃখ প্রকাশ করলেন। অভিনয় সমাপ্ত (Kathamrita) হইলে ঠাকুর রঙ্গমঞ্চের বিশ্রাম ঘরে গিয়ে উপস্থিত হইলেন। গিরিশ, নরেন্দ্র প্রভৃতি ভক্তেরা বসিয়া আছেন। শ্রীরামকৃষ্ণ প্রবেশ করিয়া নরেন্দ্রের কাছে গিয়ে দাঁড়াইলেন ও বলিলেন আমি এসেছি।

    সানাইয়ের শব্দে ভাবাবিষ্ট ঠাকুর।

    এখনও ঐক্যতান বাদ্যের শব্দ শোনা যাইতেছে। (Kathamrita)

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna) (ভক্তদের প্রতি)- এই বাজনা শুনে আমার আনন্দ হচ্ছে। সেখানে দক্ষিণেশ্বরে সানাই বাজত। আমি ভাবিবিষ্ট হয়ে যেতাম। একজন সাধু আমার অবস্থা দেখে বলতো এসব ব্রহ্ম জ্ঞানের লক্ষণ

    গিরিশ ও আমি আমার

    কনসার্ট থামিয়া গেলে শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna) আবার কথা কইতেছেন।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (গিরিশের প্রতি)- একি তোমার থিয়েটার না তোমাদের?

    গিরিশ- আজ্ঞে আমাদের।

    শ্রীরামকৃষ্ণ- আমাদের কথাটিই ভালো (Ramakrishna)। আমার বলা ভালো নয়। কেউ কেউ বলে আমি নিজেই এসেছি। এসব হীন বুদ্ধি অহংকারে লোকে বলে।

    শ্রীরামকৃষ্ণ নরেন্দ্র প্রভৃতি সংঘে

    নরেন্দ্র- সবই থিয়েটার

    শ্রী রামকৃষ্ণ- হাঁ হাঁ ঠিক। তবে কোথাও বিদ্যার খেলা, কোথাও অবিদ্যার খেলা।

    নরেন্দ্র -সবই বিদ্যার (Ramakrishna)

    শ্রী রামকৃষ্ণ- হাঁ হাঁ, তবে অতি ব্রহ্ম জ্ঞানে হয়। ভক্তি ভক্তের পক্ষে দুই আছে বিদ্যা মায়া অবিদ্যা মায়া।

  • Ramakrishna 374: যে বাটিতে রসুন গুলেছে, সে বাটি হাজার ধোও রসুনের গন্ধ যায় না

    Ramakrishna 374: যে বাটিতে রসুন গুলেছে, সে বাটি হাজার ধোও রসুনের গন্ধ যায় না

    সন্ধ্যা সমাগমে ঠাকুরের প্রার্থনা- তেজচন্দ্র

    সন্ধ্যা হইল ঘরে বাতি জ্বালা হইয়াছে (Ramakrishna)। শ্রী রামকৃষ্ণ ঠাকুরদের নাম করিতেছেন। গান গাহিতেছেন ও প্রার্থনা করিতেছেন। বলিতেছেন, হরিবোল, হরিবোল, হরিবোল। আবার রাম, রাম, রাম, আবার নিত্যলীলা। ওমা উপায় বল মা। শরণাগত, শরণাগত, শরণাগত।

    গিরিশকে ব্যস্ত দেখিয়া ঠাকুর একটু চুপ করিলেন। তেজচন্দ্রকে বলিতেছেন, তুই একটু কাছে এসে বোস (Kathamrita)। তেজচন্দ্র কাছে বসলেন। কিয়তক্ষণ পরে মাস্টারকে ফিসফিস করিয়া বলিতেছেন, আমায় যেতে হবে।

    শ্রীরামকৃষ্ণ- আমি ওদের অত টানি কেন? ওরা নির্মল, আঁধার বিষয়বুদ্ধি ঢোকেনি। থাকলে উপদেশ ধারণ করতে পারেনা (Ramakrishna)। নতুন হাঁড়িতে দুধ রাখা হয়, দই পাতা হাঁড়িতে দুধ রাখলে দুধ নষ্ট হয়।

    যে বাটিতে রসুন গুলেছে, সে বাটি হাজার ধোও রসুনের গন্ধ যায় না।

    শ্রী রামকৃষ্ণ (Ramakrishna) (স্টার থিয়েটারে)

    বৃষকেতু অভিনয় দর্শনে, নরেন্দ্র প্রভৃতি সঙ্গে

    ঠাকুর শ্রী রামকৃষ্ণ বৃষকেতু অভিনয় দর্শন করিবেন। বিডন স্ট্রিটে যেখানে পরে মনমোহন থিয়েটার হয়। পূর্বে সেইমঞ্চে স্টার থিয়েটার অভিনয় হইত। থিয়েটারে আসিয়া বক্সে দক্ষিণাস্য হইয়া বসিয়া আছেন।

    ঠাকুর শ্রী রামকৃষ্ণ- (মাস্টারের প্রতি) নরেন্দ্র এসেছে?

    মাস্টার- আজ্ঞে হ্যাঁ (Ramakrishna)

    অভিনয় হইতেছে। কর্ণ ও পদ্মাবতী করাত দুই দিকে দুইজনে ধরিয়া বৃষকেতুকে বলিদান করিলেন। পদ্মাবতী কাঁদিতে কাঁদিতে মাংস রন্ধন করিলেন। বৃদ্ধ ব্রাহ্মণ অতি আনন্দ করিতে করিতে কর্ণকে বলিতেছেন এইবার এসো আমরা একসঙ্গে বসে রান্না মাংস খাই। কর্ণ বলিতেছেন, তা আমি পারব না পুত্রের মাংস খেতে পারব না।

  • Ramakrishna 373: অভ্যাসযোগ! রোজ তাঁকে ডাকা অভ্যাস করতে হয়

    Ramakrishna 373: অভ্যাসযোগ! রোজ তাঁকে ডাকা অভ্যাস করতে হয়

    ঠাকুর এখন ভাবাবস্থায় আছেন। কাছে গ্লাস করা জল ছিল, পান করিলেন। তিনি আপনা আপনি বলিতেছেন, ওইভাবে তো জল খেয়ে নিলুম।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna)- শ্রীযুক্ত অতুল- ব্যাকুলতা

    এখনও সন্ধ্যা হয় নাই। ঠাকুর গিরিশের (Kathamrita) ভ্রাতা শ্রীযুক্ত অতুলের সহিত কথা কহিতেছেন। অতুল ভক্ত সঙ্গের সম্মুখেই বসিয়া আছেন। একজন ব্রাহ্মণ প্রতিবেশীও বসিয়া আছেন। অতুল হাইকোর্টের উকিল।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (অতুলের প্রতি)- আপনাদের এই বলা, আপনারা দুই করবে সংসারও করবে, ভক্তি যাতে হয় তাও করবে।

    (ব্রাহ্মণ প্রতিবেশী)- ব্রাহ্মণ না হলে কি সিদ্ধ হয়?

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna)- কেন কলিতে শূদ্রের ভক্তির কথা আছে। শবরী, রুইদাস, গুহক চন্ডাল এসব আছে।

    নারায়ণ (সহাস্যে)- ব্রাহ্মণ শূদ্র সব এক।

    ব্রাহ্মণ- এক জন্মে কি হয়?

    শ্রীরামকৃষ্ণ- তাঁর দয়া হলে কিনা হয়। হাজার বছরের অন্ধকার ঘরে আলো আনলে কি, একটু একটু করে অন্ধকার চলে যায়, একেবারে আলো হয়।

    (অতুলের প্রতি)- তীব্র বৈরাগ্য চাই। (Ramakrishna) যেন খাপ খোলা তরোয়াল। সে বৈরাগ্য হলে আত্মীয় কালসাপ মনে হয়, গৃহ পাতুকুয়া মনে হয়।

    আর আন্তরিক ব্যাকুল হয়ে তাঁকে ডাকতে হয়। আন্তরিক ডাক তিনি শুনবেনই শুনবেন।

    সকলে চুপ করিয়া আছেন। ঠাকুর যাহা বলিলেন এক মনে শুনিয়া সেই সকল চিন্তা করিতেছেন।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (অতুলের প্রতি)- কেন এমন আঁট বুঝি হয় না, ব্যাকুলতা।

    অতুল- মন কই থাকে?

    শ্রীরামকৃষ্ণ- অভ্যাসযোগ! রোজ তাঁকে ডাকা অভ্যাস করতে হয়।  একদিনে হয় না (Kathamrita), রোজ ডাকতে ডাকতে ব্যাকুলতা আসে।

  • Ramakrishna 372: শ্রীরামকৃষ্ণ (গিরিশের প্রতি) মাকে তাই বলেছিলাম, মা ওকে শান্ত করে দাও

    Ramakrishna 372: শ্রীরামকৃষ্ণ (গিরিশের প্রতি) মাকে তাই বলেছিলাম, মা ওকে শান্ত করে দাও

    গিরিশের শান্ত ভাব কলিতে শূদ্রের ভক্তি ও মুক্তি

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna)- আর আছে স্বপ্নসিদ্ধ আর কৃপাসিদ্ধ।

    এই বলিয়া ঠাকুর ভাবে বিভোর হইয়া গান গাহিতেছেন-

    শ্যামা ধন কি সবাই পায়,
    অবোধ মন বোঝেনা একি দায়। (Kathamrita)
    শিবেরই অসাধ্য সাধন মন মজানো রাঙা পায়।।
    ইন্দ্রাদি সম্পদ সুখ তুচ্ছ হয় যে ভাবে মায়।
    সদানন্দ সুখে ভাসে শ্যামা যদি ফিরে চায়।।
    যোগীন্দ্র মুনীন্দ্র ইন্দ্র যে চরণ ধ্যানে না পায় ।
    নির্গুণে কমলাকান্ত তবু সে চরণ চায়।।

    ঠাকুর কিয়ৎতক্ষণ ভাবাবিষ্ট হইয়া রহিয়াছেন।

    কিছুদিন পূর্বে ষ্টার থিয়েটারে গিরিশ অনেক কথা বলিয়াছিলেন এখন শান্ত ভাব।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (গিরিশের প্রতি)- তোমার এই ভাব বেশ ভালো, শান্ত ভাব। মাকে তাই বলেছিলাম, মা ওকে শান্ত করে দাও। যা তা আমায় না বলে।

    গিরিশ (মাস্টারের প্রতি) আমার জিব কে যেন চেপে ধরেছে। আমায় কথা কইতে দিচ্ছে না।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna)- এখনও ভাবস্থ। বাহিরের ব্যক্তি বস্তু ক্রমে ক্রমে সব ভুলে যাচ্ছেন। একটু প্রকৃতিস্থ হইয়া মনকে নাবাচ্ছেন। ভক্তদের আবার দেখিতেছেন। (মাস্টার দৃষ্টে) এরা সব সেখানে যায়। তা যায় তো যায়, মা সব জানে।

    (প্রতিবেশী ছোকরার প্রতি) কি গো তোমার কি বোধ হয়? মানুষের কি কর্তব্য?

    সকলে চুপ করিয়া আছেন (Ramakrishna)। ঠাকুরকে বলিতেছেন, ঈশ্বর লাভই জীবনের উদ্দেশ্য।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (নারায়ণের প্রতি) তুই পাস করবি নি, ওরে পাশমুক্ত শিব পাশবদ্ধ জীব (Kathamrita)।

    ঠাকুর এখন ভাবাবস্থায় আছেন। কাছে গ্লাস করা জল ছিল, পান করিলেন। তিনি আপনা আপনি বলিতেছেন, ওইভাবে তো জল খেয়ে নিলুম।

  • Ramakrishna 371: তাঁকে দর্শন করবার কিন্তু লক্ষণ আছে, সমাধি হয়, সমাধি পাঁচ প্রকার

    Ramakrishna 371: তাঁকে দর্শন করবার কিন্তু লক্ষণ আছে, সমাধি হয়, সমাধি পাঁচ প্রকার

    বিদ্যাশক্তির স্নেহ দয়া ভক্তি লজ্জায় এইসব থাকে। সে সকলের সেবা করে বাৎসল্যভাবে। আর স্বামীর যাতে ভগবানে ভক্তি হয় তার সাহায্য করে। বেশি খরচ করে না পাছে স্বামীকে বেশি খাটতে হয়। ঈশ্বর চিন্তার অবসর না হয় (Ramakrishna)

    আবার পুরুষ মেয়ের অন্যান্য লক্ষণ আছে। খারাপ লক্ষণ। ট্যারা, চোখ ওঠর, বিড়াল চোখ। বাছুরেগাল (Kathamrita)।

    গিরিশ (সহাস্যে) ভক্তির তমঃ আপনিই তো শেখান।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (সহাস্যে) (Ramakrishna) তাঁকে দর্শন করবার কিন্তু লক্ষণ আছে, সমাধি হয়। সমাধি পাঁচ প্রকার। প্রথম পিঁপড়ের গতি। মহাবায়ু ওঠে পিঁপড়ের মতো। দ্বিতীয় মিনের গতি। তৃতীয় তির্যক গতি (Kathamrita)। চতুর্থ পাখির গতি। পাখি যেমন এডাল থেকে ও ডালে যায়। পঞ্চম কপিবৎ। বানরের মতো লাফ দিয়ে মাথায় উঠে গেল। আর সমাধি হল। আবার দু’রকমের সমাধি আছে। স্থিত সমাধি একেবারে বাহ্যশূন্য। অনেকক্ষণ, হয়তো অনেকদিন রহিল। দ্বিতীয় উন্মনা সমাধি। হঠাৎ মনটা চারিদিক থেকে কুড়িয়ে এনে ঈশ্বরকে যোগ করে দেওয়া হলো।

    (উন্মনা সমাধি ও মাস্টারের প্রতি) (Kathamrita)

    তুমি ওটা বুঝেছ?

    মাস্টার- আজ্ঞে হ্যাঁ (Kathamrita)

    গিরিশ- তাঁকে কি সাধন করে পাওয়া যায়?
    শ্রী রামকৃষ্ণ (Ramakrishna)- নানারকমে তাঁকে লোকে লাভ করেছে। কেউ অনেক তপস্যা সাধন ভজন করে, সাধন সিদ্ধ। কেউ জন্মাবতী সিদ্ধ। যেমন নারদ, শুকদেবাদী। এদের বলে নিত্য সিদ্ধ (Kathamrita)। আবার আছে হঠাৎ সিদ্ধ। হঠাৎ লাভ করেছে। যেমন হঠাৎ কোনও আশা ছিল না, কেউ নন্দ পশুর মত বিষয় পেয়ে গিয়েছে।

  • Ramakrishna 370: মেয়েদের কথা শুনছি, শুনতে শুনতে আনন্দ হচ্ছে, এও এক রকম রমণ

    Ramakrishna 370: মেয়েদের কথা শুনছি, শুনতে শুনতে আনন্দ হচ্ছে, এও এক রকম রমণ

    সন্ন্যাসীর কঠিন নিয়ম গৃহস্থাদির নিয়ম ও গিরিশ

    সন্ন্যাসীর ভক্ত স্ত্রীলোকের সঙ্গে বসা বা আলাপ করা ভালো নয়। নিজের ক্ষতি। আর অন্য লোকেরও ক্ষতি। অন্য লোকের শিক্ষা হয় না। লোকশিক্ষা হয় না (Kathamrita)। সন্ন্যাসীর দেহ ধারণ লোক শিক্ষার জন্য।

    মেয়েদের সঙ্গে বসা কি বেশিক্ষণ আলাপ, তাকেও রমন বলেছে। রমন আট প্রকার। মেয়েদের কথা শুনছি, শুনতে শুনতে আনন্দ হচ্ছে। এও এক রকম রমণ। মেয়েদের কথা বলছি এও একরকম রমণ। মেয়েদের সঙ্গে নির্জনে চুপিচুপি কথা কচ্ছে ও এক রকম রমণ (Kathamrita)। মেয়েদের কোনও জিনিস কাছে রেখে দিয়েছি, আনন্দ হচ্ছে ও এক রকম। স্পর্শ করা একরকম। তাই গুরু পত্নী যুবতী হলে পাদ স্পর্শ করতে নাই। সন্ন্যাসীদের এইসব নিয়ম (Ramakrishna 370)।

    সংসারীদের আলাদা কথা। দু একটি ছেলে হলে ভাই-ভগ্নির মতো থাকবে। তাদের অন্য সাত রকম রমণে দোষ নাই। গৃহস্থের ঋণ আছে, দেবঋণ, পিতৃঋণ আবার মাগঋণও আছে। একটি দুটি ছেলে হওয়া আর সতী হলে প্রতিপালন করা (Ramakrishna 370)।

    সংসারীরা বুঝতে পারে না কে ভালো স্ত্রী, কে মন্দ স্ত্রী! কে বিদ্যাশক্তি কে অবিদ্যা শক্তি। ভালো স্ত্রী বিদ্যাশক্তি। তার কাম ক্রোধ এসব কম। ঘুম কম। স্বামীর মাথা ঠেলে দেয়। বিদ্যাশক্তির স্নেহ দয়া ভক্তি লজ্জায় এইসব থাকে। সে সকলের সেবা করে বাৎসল্যভাবে। আর স্বামীর যাতে ভগবানে ভক্তি হয় তার সাহায্য করে। বেশি খরচ করে না পাছে স্বামীকে বেশি খাটতে হয়। ঈশ্বর চিন্তার অবসর না হয় (Ramakrishna 370)।

    আবার পুরুষ মেয়ের অন্যান্য লক্ষণ আছে। খারাপ লক্ষণ। ট্যারা, চোখ ওঠর, বিড়াল চোখ। বাছুরেগাল (Kathamrita)।

  • Ramakrishna 369: যতক্ষণ আমিটা তিনি রেখে দিয়েছেন, ততক্ষণ একটি ভাব আশ্রয় করে তাঁকে ডাকতে হয়

    Ramakrishna 369: যতক্ষণ আমিটা তিনি রেখে দিয়েছেন, ততক্ষণ একটি ভাব আশ্রয় করে তাঁকে ডাকতে হয়

    নানাভাবে পূজা ও গিরিশ- আমার মাতৃ ভাব

    শ্রী রামকৃষ্ণ (Ramakrishna)

    যতক্ষণ আমিটা তিনি রেখে দিয়েছেন, ততক্ষণ একটি ভাব আশ্রয় করে তাঁকে ডাকতে হয় (Kathamrita)। শান্ত দাস্য বাৎসল্য- এইসব।

    আমি দাসী ভাবে এক বছর ছিলাম। রম্যময়ীর দাসী (Ramakrishna)। মেয়েদের কাপড় ওড়না এইসব পড়তাম। আবার নথ পড়তাম। মেয়ের ভাব থাকলে কাম জয় হয়।

    সেই আদ্যা শক্তির পূজা করতে হয়। তাঁকে প্রসন্ন করতে হয়। তিনি মেয়েদের রূপ ধারণ করে রয়েছেন। তাই আমার মাতৃভাব অতি শুদ্ধ ভাব (Kathamrita)। তন্ত্রে বামাচারের কথা আছে। কিন্তু সে ভালো নয়, পতন হয়। ভোগ রাখলেই ভয়। মাতৃ ভাব যেন নির্জলা একাদশী। কোনও ভোগের গন্ধ নাই। আর আছে ফলমূল খেয়ে একাদশী, আর লুচি ছক্কা খেয়ে একাদশী। আমার নির্জলা একাদশী। আমি মাতৃভাবে ষোড়শীর পূজা করেছিলাম। দেখলাম স্তন, মাতৃ স্তন, যোনি, মাতৃযোনি। এই মাতৃ ভাব (Ramakrishna) সাধনের শেষ কথা তুমি মা। আমি তোমার ছেলে এই শেষ কথা।

    সন্ন্যাসীর কঠিন নিয়ম- গৃহস্থের নিয়ম ও গিরিশ (Ramakrishna)

    সন্ন্যাসী নির্জলা একাদশী, সন্ন্যাসী যদি ভোগী রাখে তাহলেই ভয়। কামিনী কাঞ্চন ভোগ (Ramakrishna)। যেমন থুথু ফেলে আবার থুতু খাওয়া। টাকা করে মান সম্মান ইন্দ্রিয় সুখ- এইসব ভোগ। সন্ন্যাসীর ভক্ত স্ত্রীলোকের সঙ্গে বসা বা আলাপ করা ভালো নয়। নিজের ক্ষতি। আর অন্য লোকেরও ক্ষতি। অন্য লোকের শিক্ষা হয় না। লোকশিক্ষা হয় না (Kathamrita)। সন্ন্যাসীর দেহ ধারণ লোক শিক্ষার জন্য।

LinkedIn
Share