Category: পরম্পরা

Get updated History and Heritage and Culture and Religion related news from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • Ramakrishna 602: “পাহাড়ের উপর খাল জমি থাকতে পারে, কিন্তু বজ্জাৎ-আমি-রূপ পাহাড়ে থাকে না”

    Ramakrishna 602: “পাহাড়ের উপর খাল জমি থাকতে পারে, কিন্তু বজ্জাৎ-আমি-রূপ পাহাড়ে থাকে না”

    ৫২ শ্যামপুকুর বাটীতে ভক্তসঙ্গে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ

    চতুর্দশ পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৫, ২৪শে অক্টোবর
    শ্যামপুকুর বাটীতে নরেন্দ্র, ডাক্তার সরকার প্রভৃতি ভক্তসঙ্গে
    ডাক্তার সরকার ও সর্বধর্ম পরীক্ষা (Comparative Religion)

    ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna) নরেন্দ্র, মহিমাচরণ, মাস্টার, ডাক্তার সরকার প্রভৃতি ভক্তসঙ্গে শ্যামপুকুর বাটীতে দ্বিতলার ঘরে বসিয়া আছেন। বেলা প্রায় একটা। ২৪শে অক্টোবর, ১৮৮৫, ৯ই কার্তিক (শনিবার, কৃষ্ণা প্রতিপদ)।

    শ্রীরামকৃষ্ণ — তোমার এ (হোমিওপ্যাথিক) চিকিৎসা বেশ।

    ডাক্তার — এতে রোগীর অবস্থা বইয়ের সঙ্গে মেলাতে হয় (Kathamrita)। যেমন ইংরেজী বাজনা, — দেখে পড়া আর গাওয়া।

    “গিরিশ ঘোষ কই? — থাক্‌ থাক্‌ কাল জেগেছে।”

    শ্রীরামকৃষ্ণ — আচ্ছা, সিদ্ধির নেশার মতো ভাবাবস্থায় হয়, ওটি কি?

    ডাক্তার (মাস্টারকে) — Nervous centre — action বন্ধ হয়, তাই অসাড় — এ-দিকে পা টলে, যত energies brain-এর দিকে যায়। এই nervous system নিয়ে Life। ঘাড়ের কাছে আছে — Medulla Oblongata; তার হানি হলে Life extinct হতে পারে।

    শ্রীযুক্ত মহিমা চক্তবর্তী সুষুম্না নাড়ীর ভিতরে কুলকূণ্ডলিনী শক্তির কথা বলিতেছেন, — “স্পাইন্যাল্‌ কর্ড-এর ভিতর সুষুম্না নাড়ী সূক্ষ্মভাবে আছে — কেউ দেখতে পায় না। মহাদেবের বাক্য।”

    ডাক্তার — মহাদেব man in the maturity-কে examine করেছে। European-রা Embryo থেকে maturity পর্যন্ত সমস্ত stage দেখেছে। Comparative History সব জানা ভাল। সাঁওতালদের history পড়ে জানা গেছে যে, কালী একজন সাঁওতালী মাগী ছিল — খুব লড়াই করেছিল। (সকলের হাস্য)

    “তোমরা হেসো না। আবার Comparative anatomy-তে কত উপকার হয়েছে, শোনো। প্রথমে pancreatic juice ও bile-(পিত্তের) action-(ক্রিয়ার) তফাত বোঝা যাচ্ছিল না। তারপর Claude Bernard খরগোশের stomach, liver প্রভৃতি examine করে দেখালে যে, bile-এর action আর ওই juice-এর action আলাদা।

    “তাহলেই দাঁড়ালো যে, lower animal-দের আমাদের দেখা উচিত — শুধু মানুষকে দেখলে হবে না।

    “সেইরূপ Comparative Religion-তে বিশেষ উপকার!

    “এই যে ইনি পরমহংসদেব (Ramakrishna) যা বলেন, তা অত অন্তরে লাগে কেন? এঁর সব ধর্ম দেখা আছে — হিঁদু, মুসলমান, খ্রীষ্টান, শাক্ত, বৈষ্ণব, — এ-সব ইনি নিজে করে দেখেছেন। মধুকর নানা ফুলে বসে মধু সঞ্চয় করলে তবেই চাকটি বেশ হয় (Kathamrita)।”

  • Ramakrishna 601: “কি আশ্চর্য, আমি মূর্খ!—তবু লেখাপড়াওয়ালারা এখানে আসে, এ কি আশ্চর্য! এতে তো বলতে হবে ঈশ্বরের খেলা!”

    Ramakrishna 601: “কি আশ্চর্য, আমি মূর্খ!—তবু লেখাপড়াওয়ালারা এখানে আসে, এ কি আশ্চর্য! এতে তো বলতে হবে ঈশ্বরের খেলা!”

    ৫২ শ্যামপুকুর বাটীতে ভক্তসঙ্গে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ

    ত্রয়োদশ পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৫, ২৩শে অক্টোবর
    ডাক্তার সরকারকে উপদেশ — অহংকার ভাল নয়
    বিদ্যার আমি ভাল—তবে লোকশিক্ষা (Lecture) হয়

    পূর্বকথা—সামাধ্যায়ীর লেকচার—নন্দনবাগান সমাজ দর্শন 

    “নন্দনবাগান ব্রাহ্মসমাজে গিছলাম। তাদের উপাসনার পর বেদীতে বসে লেকচার দিলে।—লিখে এনেছে।—পড়বার সময় আবার চারদিকে চায়।—ধ্যান কচ্ছে, তা এক-একবার আবার চায়!

    “যে ঈশ্বরদর্শন (Ramakrishna) করে নাই, তার উপদেশ ঠিক ঠিক হয় না। একটা কথা ঠিক হল, তো আর-একটা গোলমেলে হয় যায়।

    “সামাধ্যায়ী লেকচার দিলে। বলে,—ঈশ্বর বাক্য মনের অতীত (Kathamrita)—তাঁতে কোন রস নাই—তোমরা প্রেমভক্তিরূপ রস দিয়ে তঁর ভজনা কর। দেখো যিনি রসস্বরূপ, আনন্দস্বরূপ, তাঁকে এইরূপ বলছে। এ-লেকচারে কি হবে? এতে কি লোকশিক্ষা হয়?

    “একজন বলেছিল—আমার মামার বাড়িতে এক গোয়াল ঘোড়া আছে। গোয়ালে আবার ঘোড়া! (সকলের হাস্য) তাতে বুঝতে হবে ঘোড়া নাই।”

    ডাক্তার (সহাস্যে)—গরুও নাই। (সকলের হাস্য)

    ভক্তদের মধ্যে যাহারা ভাবাবিষ্ট হইয়াছিলেন, সকলে প্রকৃতিস্থ হইয়াছেন। ভক্তদের দেখিয়া ডাক্তার আনন্দ করিতেছেন।

    মাস্টারকে জিজ্ঞাসা করিতেছেন, ‘ইনি কে’ ‘ইনি কে’। পল্টু, ছোট নরেন, ভূপতি, শরৎ, শশী প্রভৃতি ছোকরা ভক্তদিগকে মাস্টার এক-একটি করিয়া দেখাইয়া ডাক্তারের কাছে পরিচয় দিতেছেন।

    শ্রীযুক্ত শশী সম্বন্ধে মাস্টার বলিতেছেন—“ইনি বি. এ. পরীক্ষা দিবেন।”

    ডাক্তার একটু অন্যমনস্ক হইয়াছিলেন।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (ডাক্তারের প্রতি)—দেখো গো! ইনি কি বলছেন।

    ডাক্তার শশীর পরিচয় শুনিলেন।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (মাস্টারকে দেখাইয়া, ডাক্তারের প্রতি)—ইনি সব ইস্কুলের ছেলেদের উপদেশ দেন।

    ডাক্তার—তা শুনেছি।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna)—কি আশ্চর্য, আমি মূর্খ!—তবু লেখাপড়াওয়ালারা এখানে আসে, এ কি আশ্চর্য! এতে তো বলতে হবে ঈশ্বরের খেলা!

    আজ কোজাগর পূর্ণিমা (Kathamrita)। রাত প্রায় নয়টা হইবে। ডাক্তার ছয়টা হইতে বসিয়া আছেন ও এই সকল ব্যাপার দেখিতেছেন।

    গিরিশ (ডাক্তারের প্রতি)—আচ্ছা, মশায় এরকম কি আপনার হয়?—এখানে আসব না আসব না করছি,—যেন কে টেনে আনে—আমার নাকি হয়েছে, তাই বলছি।

    ডাক্তার—তা এমন বোধ হয় না। তবে হার্ট-এর (হৃদয়ের) কথা হার্টই (হৃদয়ই) জানে। (শ্রীরামকৃষ্ণের প্রতি) আর এ-সব বলাও কিছু নয়।

  • Ramakrishna 601: “পাহাড়ের উপর খাল জমি থাকতে পারে, কিন্তু বজ্জাৎ-আমি-রূপ পাহাড়ে থাকে না”

    Ramakrishna 601: “পাহাড়ের উপর খাল জমি থাকতে পারে, কিন্তু বজ্জাৎ-আমি-রূপ পাহাড়ে থাকে না”

    ৫২ শ্যামপুকুর বাটীতে ভক্তসঙ্গে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ

    ত্রয়োদশ পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৫, ২৩শে অক্টোবর
    ডাক্তার সরকারকে উপদেশ — অহংকার ভাল নয়
    বিদ্যার আমি ভাল—তবে লোকশিক্ষা (Lecture) হয়

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna)—অহংকার না গেলে জ্ঞানলাভ করা যায় না। উঁচু ঢিপিতে জল জমে না। খাল জমিতে চারিদিককার জল হুড়হুড় করে আসে।

    ডাক্তার—কিন্তু খাল জমিতে যে চারিদিকের জল আসে, তার ভিতর ভাল জলও আছে, খারাপ জলও আছে,—ঘোলো জল, হেগো জল, এ-সবও আছে। পাহাড়ের উপরও খাল জমি আছে। নৈনিতাল, মানস সরোবর—যেখানে কেবল আকাশের শুদ্ধ জল।

    শ্রীরামকৃষ্ণ—কেবল আকাশের জল,—বেশ।

    ডাক্তার—আর উঁচু জায়গার জল চারিদিকে দিতে পারবে।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (সহাস্যে)—একজন সিদ্ধমন্ত্র পেয়েছিল। সে পাহাড়ের উপর দাঁড়িয়ে চিৎকার করে বলে দিলে—তোমরা এই মন্ত্র জপে ঈশ্বরকে লাভ করবে।

    ডাক্তার—হাঁ।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna)—তবে একটি কথা আছে, যখন ঈশ্বরের জন্য প্রাণ ব্যাকুল হয়, ভাল জল—হেগো জল—এ-সব হিসাব থাকে না। তাঁকে জানবার জন্য কখন ভাল লোকের কাছেও যায় কাঁচা লোকের কাছেও যায়। কিন্তু তাঁর কৃপা হলে ময়লা জলে কিছু হানি করে না। যখন তিনি জ্ঞান দেন, কোন্‌টা ভাল কোন্‌টা মন্দ, সব জানিয়ে (Kathamrita) দেন।

    “পাহাড়ের উপর খাল জমি থাকতে পারে, কিন্তু বজ্জাৎ-আমি-রূপ পাহাড়ে থাকে না। বিদ্যার আমি, ভক্তের আমি, যদি হয়, তবেই আকাশের শুদ্ধ জল এসে জমে।

    উঁচু জায়গার জল চারিদিকে দিতে পারা যায় বটে। সে বিদ্যার আমি রূপ পাহাড় থেকে হতে পারে।

    “তাঁর আদেশ না হলে লোকশিক্ষা হয় না। শঙ্করাচার্য জ্ঞানের পর ‘বিদ্যার আমি’ রেখেছিলেন — লোকশিক্ষার জন্য। তাঁকে (Kathamrita) লাভ না করে লেকচার! তাতে লোকের কি উপকার হবে?”

    পূর্বকথা—সামাধ্যায়ীর লেকচার—নন্দনবাগান সমাজ দর্শন 

    “নন্দনবাগান ব্রাহ্মসমাজে গিছলাম। তাদের উপাসনার পর বেদীতে বসে লেকচার দিলে। — লিখে এনেছে। — পড়বার সময় আবার চারদিকে চায়। — ধ্যান কচ্ছে, তা এক-একবার আবার চায়!

    “যে ঈশ্বরদর্শন করে নাই, তার উপদেশ ঠিক ঠিক হয় না। একটা কথা ঠিক হল, তো আর-একটা গোলমেলে হয় যায়।

  • Ramakrishna 600: “কর তম নাশ, অমনি দেখলাম সূর্য—উদয় হবা মাত্র চারদিকের অন্ধকার ঘুচে গেল!”

    Ramakrishna 600: “কর তম নাশ, অমনি দেখলাম সূর্য—উদয় হবা মাত্র চারদিকের অন্ধকার ঘুচে গেল!”

    ৫২ শ্যামপুকুর বাটীতে ভক্তসঙ্গে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ

    একাদশ পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৫, ২৩শে অক্টোবর
    পূর্ণজ্ঞান—দেহ ও আত্মা আলাদা—শ্রীমুখ-কথিত চরিতামৃত

    “প্রথম প্রথম হৃদে বলেছিল,—হৃদের অণ্ডার (under) ছিলাম কি না—‘মার কাছে একটু ক্ষমতা চেও।’ কালীঘরে (Ramakrishna) ক্ষমতা চাইতে গিয়ে দেখলাম ত্রিশ-পঁয়ত্রিশ বছরের রাঁড়—কাপড় তুলে ভড়ভড় করে হাগছে। তখন হৃদের উপর রাগ হল—কেন সে সিদ্ধাই চাইতে শিখিয়ে দিলে (Kathamrita)।”

    শ্রীযুক্ত রামতারণের গান—ঠাকুরের ভাবাবস্থা

    গান:

    আমার এই সাধের বীণে, যত্নে গাঁথা তারের হার ৷
    যে যত্ন জানে, বাজায় বীণে, উঠে সুধা অনিবার ॥
    তানে মানে বাঁধলে ডুরী, শত ধারে বয় মাধুরী ৷
    বাজে না আলগা তারে, টানে ছিঁড়ে কোমল তার ॥

    ডাক্তার (গিরিশের প্রতি)—গান এ-সব কি অরিজিন্যাল (নূতন)?

    গিরিশ—না, Edwin Arnold-এর thought (আর্নল্ড সাহেবের ভাব লয়ে গান)।

    রামতারণ প্রথমে বুদ্ধরচিত হইতে গান গাহিতেছেন:

    জুড়াইতে চাই, কোথায় জুড়াই,
    কোথা হতে আসি, কোথা ভেসে যাই।
    ফিরে ফিরে আসি, কত কাঁদি হাসি,
    কোথা যাই সদা ভাবি গো তাই ॥
    কর হে চেতন, কে আছে চেতন,
    কত দিনে আর ভাঙিবে স্বপন?
    কে আছে চেতন, ঘুমায়ো না আর,
    দারুণ এ-ঘোর নিবিড় আঁধার,
    কর তম নাশ, হও হে প্রকাশ,
    তোমা বিনা আর নাহিক উপায়,
    তব পদে তাই শরণ চাই ॥

    এই গান শুনিতে শুনিতে ঠাকুর ভাবাবিষ্ট হইয়াছেন।

    গান—কোঁ কোঁ কোঁ বহরে ঝড়।

    সূর্যের অন্তর্যামী দেবতাদর্শন

    এই গানটি সমাপ্ত হইলে ঠাকুর বলিতেছেন, “এ কি করলে! পায়েসের পর নিম ঝোল! —

    “যাই গাইলে (Kathamrita)—‘কর তম নাশ’, অমনি দেখলাম সূর্য—উদয় হবা মাত্র চারদিকের অন্ধকার ঘুচে গেল! আর সেই সূর্যের পায়ে সব শরণাগত হয়ে পড়ছে!”

    রামতারণ আবার গাইতেছেন:

    (১)   —   দীনতারিণী দূরিতবারিণী, সত্ত্বরজঃতমঃ ত্রিগুণধারিণী,
    সৃজন পালন নিধনকারিণী, সগুণা নির্গুণা সর্বস্বরূপিণী।

    (২)   —   ধরম করম সকলি গেল, শ্যামাপূজা বুঝি হল না!
    মন নিবারিত নারি কোন মতে, ছি, ছি, কি জ্বালা বল না ॥

    এই গান শুনিয়া ঠাকুর (Ramakrishna) আবার ভাবাবিষ্ট হইলেন।

    রাঙা জবা কে দিলে তোর পায়ে মুঠো মুঠো।

  • Ramakrishna 599: “ছোকরাদের অত ভালবাসি কেন, জান? ওরা খাঁটি দুধ, একটু ফুটিয়ে নিলেই হয়—ঠাকুর সেবায় চলে”

    Ramakrishna 599: “ছোকরাদের অত ভালবাসি কেন, জান? ওরা খাঁটি দুধ, একটু ফুটিয়ে নিলেই হয়—ঠাকুর সেবায় চলে”

    ৫২ শ্যামপুকুর বাটীতে ভক্তসঙ্গে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ

    দ্বাদশ পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৫, ২৩শে অক্টোবর
    ছোট নরেন প্রভৃতির ভাবাবস্থা — সন্ন্যাসী ও গৃহস্থের কর্তব্য

    গান সমাপ্ত হইল। ভক্তেরা অনেকে ভাবাবিষ্ট। নিস্তব্ধ হইয়া বসিয়া আছেন। ছোট নরেন ধ্যানে মগ্ন। কাষ্ঠের ন্যায় বসিয়া আছেন।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna) ছোট নরেনকে দেখাইয়া, ডাক্তারকে—এ অতি শুদ্ধ। বিষয়-বুদ্ধির লেশ এতে লাগে নাই।

    ডাক্তার নরেনকে দেখিতেছেন। এখনও ধ্যানভঙ্গ হয় নাই।

    মনোমোহন (ডাক্তারের প্রতি, সহাস্যে)—আপনার ছেলের কথায় বলেন, ‘ছেলেকে যদি পাই, বাপকে চাই না।’

    ডাক্তার—অই তো!—তাইতো বলি, তোমরা ছেলে নিয়েই ভোলো! (অর্থাৎ ঈশ্বরকে ছেড়ে অবতার বা ভক্তকে নিয়ে ভোলো।)

    শ্রীরামকৃষ্ণ (সহাস্যে)—বাপকে চাই না—তা বলছি না।

    ডাক্তার—তা বুঝিছি!—এরকম দু-একটা না বললে হবে কেন?

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna)—তোমার ছেলেটি বেশ সরল। শম্ভু রাঙামুখ করে বলেছিল। ‘সরলভাবে ডাকলে তিনি শুনবেনই শুনবেন।’ ছোকরাদের অত ভালবাসি কেন, জান? ওরা খাঁটি দুধ, একটু ফুটিয়ে নিলেই হয়—ঠাকুর সেবায় চলে।

    “জোলো দুধ অনেক জ্বাল দিতে হয় — অনেক কাঠ পুড়ে যায়।

    “ছোকরারা যেন নূতন হাঁড়ি—পাত্র ভাল—দুধ নিশ্চিন্ত হয়ে রাখা যায়। তাদের জ্ঞানোপদেশ দিলে শীঘ্র চৈতন্য (Kathamrita) হয়। বিষয়ী লোকদের শীঘ্র হয় না। দই পাতা হাঁড়িতে দুধ রাখতে ভয় হয়, পাছে নষ্ট হয়!

    “তোমার ছেলের ভিতর বিষয়বুদ্ধি—কামিনী-কাঞ্চন—ঢোকে নাই।”

    ডাক্তার—বাপের খাচ্চেন, তাই! —

    “নিজের করতে হলে দেখতুম, বিষয়বুদ্ধি ঢোকে কি না।।

    সন্ন্যাসী ও নারীত্যাগ — সন্ন্যাসী ও কাঞ্চনত্যাগ 

    শ্রীরামকৃষ্ণ — তা বটে, তা বটে। তবে কি জানো, তিনি বিষয়বুদ্ধি থেকে অনেক দূর, তা না হলে হাতের ভিতর। (সরকার ও ডাক্তার দোকড়ির প্রতি) কামিনী-কাঞ্চনত্যাগ আপনাদের পক্ষে নয়। আপনারা মনে ত্যাগ করবে। গোস্বামীদের তাই বললাম — তোমরা ত্যাগের কথা কেন বলছো? — ত্যাগ করলে তোমাদের চলবে না — শ্যামসুন্দরের সেবা রয়েছে।

    “সন্ন্যাসীর পক্ষে ত্যাগ। তারা স্ত্রীলোকের চিত্রপট পর্যন্ত দেখবে না। মেয়েমানুষ তাদের পক্ষে বিষবৎ। অন্ততঃ দশহাত অন্তরে, একান্তপক্ষে একহাত অন্তরে থাকবে। হাজার ভক্ত স্ত্রীলোক হলেও তাদের সঙ্গে বেশি আলাপ করবে না।

  • Ramakrishna 599: “মা, তোমার নামগুণ করে বেড়াব—দেহটা একটু তার দিয়ে এঁটে দাও, সেখানকার মতো! সিদ্ধাই চাইবার জো নাই!”

    Ramakrishna 599: “মা, তোমার নামগুণ করে বেড়াব—দেহটা একটু তার দিয়ে এঁটে দাও, সেখানকার মতো! সিদ্ধাই চাইবার জো নাই!”

    ৫২ শ্যামপুকুর বাটীতে ভক্তসঙ্গে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ

    একাদশ পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৫, ২৩শে অক্টোবর
    পূর্ণজ্ঞান—দেহ ও আত্মা আলাদা—শ্রীমুখ-কথিত চরিতামৃত

    পূর্বকথা—মিয়জিয়াম দর্শন ও পীড়ার সময় প্রার্থনা 

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna)—অনেকদিন হল,—আমার তখন খুব ব্যামো। কালীঘরে বসে আছি,—মার কাছে প্রার্থনা করতে ইচ্ছা হল! কিন্তু ঠিক আপনি বলতে পাল্লাম না। বললুম,—মা হৃদে বলে তোমার কাছে ব্যামোর কথা বলতে। আর বেশি বলতে পাল্লাম না—বলতে বলতে অমনি দপ্‌ করে মনে এলো সুসাইট্‌ (Asiatic Society’s Museum) সেখানকার তারে বাঁধা মানুষের হাড়ের দেহ (Skeleton) অমনি বললুম (Kathamrita), মা, তোমার নামগুণ করে বেড়াব—দেহটা একটু তার দিয়ে এঁটে দাও, সেখানকার মতো! সিদ্ধাই চাইবার জো নাই!

    “প্রথম প্রথম হৃদে বলেছিল,—হৃদের অণ্ডার (under) ছিলাম কি না—‘মার কাছে একটু ক্ষমতা চেও।’ কালীঘরে ক্ষমতা চাইতে গিয়ে দেখলাম ত্রিশ-পঁয়ত্রিশ বছরের রাঁড়—কাপড় তুলে ভড়ভড় করে হাগছে। তখন হৃদের উপর রাগ হল—কেন সে সিদ্ধাই চাইতে শিখিয়ে দিলে।”

    শ্রীযুক্ত রামতারণের গান — ঠাকুরের ভাবাবস্থা

    গান:

    আমার এই সাধের বীণে, যত্নে গাঁথা তারের হার ৷
    যে যত্ন জানে, বাজায় বীণে, উঠে সুধা অনিবার ॥
    তানে মানে বাঁধলে ডুরী, শত ধারে বয় মাধুরী ৷
    বাজে না আলগা তারে, টানে ছিঁড়ে কোমল তার ॥

    ডাক্তার (গিরিশের প্রতি) — গান এ-সব কি অরিজিন্যাল (নূতন)?

    গিরিশ — না, Edwin Arnold-এর thought (আর্নল্ড সাহেবের ভাব লয়ে গান)।

    রামতারণ প্রথমে বুদ্ধরচিত হইতে গান গাহিতেছেন (Kathamrita):

    জুড়াইতে চাই, কোথায় জুড়াই,
    কোথা হতে আসি, কোথা ভেসে যাই।
    ফিরে ফিরে আসি, কত কাঁদি হাসি,
    কোথা যাই সদা ভাবি গো তাই ॥
    কর হে চেতন, কে আছে চেতন,
    কত দিনে আর ভাঙিবে স্বপন?
    কে আছে চেতন, ঘুমায়ো না আর,
    দারুণ এ-ঘোর নিবিড় আঁধার,
    কর তম নাশ, হও হে প্রকাশ,
    তোমা বিনা আর নাহিক উপায়,
    তব পদে তাই শরণ চাই ॥

    এই গান শুনিতে শুনিতে ঠাকুর ভাবাবিষ্ট হইয়াছেন।

    গান—কোঁ কোঁ কোঁ বহরে ঝড়।

    সূর্যের অন্তর্যামী দেবতাদর্শন

    এই গানটি সমাপ্ত হইলে ঠাকুর বলিতেছেন (Ramakrishna), “এ কি করলে! পায়েসের পর নিম ঝোল! —

    “যাই গাইলে—‘কর তম নাশ’, অমনি দেখলাম সূর্য—উদয় হবা মাত্র চারদিকের অন্ধকার ঘুচে গেল! আর সেই সূর্যের পায়ে সব শরণাগত হয়ে পড়ছে!”

    রামতারণ আবার গাইতেছেন:

    (১)   —   দীনতারিণী দূরিতবারিণী, সত্ত্বরজঃতমঃ ত্রিগুণধারিণী,
    সৃজন পালন নিধনকারিণী, সগুণা নির্গুণা সর্বস্বরূপিণী।

    (২)   —   ধরম করম সকলি গেল, শ্যামাপূজা বুঝি হল না!
    মন নিবারিত নারি কোন মতে, ছি, ছি, কি জ্বালা বল না ॥

    এই গান শুনিয়া ঠাকুর (Ramakrishna) আবার ভাবাবিষ্ট হইলেন।

    রাঙা জবা কে দিলে তোর পায়ে মুঠো মুঠো।

  • Ramakrishna 598: “কামিনী-কাঞ্চনের উপর ভালবাসা যদি একেবারে চলে যায়, তাহলে ঠিক বুঝতে পারা যায় যে দেহ আলাদা আর আত্মা আলাদা”

    Ramakrishna 598: “কামিনী-কাঞ্চনের উপর ভালবাসা যদি একেবারে চলে যায়, তাহলে ঠিক বুঝতে পারা যায় যে দেহ আলাদা আর আত্মা আলাদা”

    ৫২ শ্যামপুকুর বাটীতে ভক্তসঙ্গে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ

    একাদশ পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৫, ২৩শে অক্টোবর
    পূর্ণজ্ঞান—দেহ ও আত্মা আলাদা—শ্রীমুখ-কথিত চরিতামৃত

    সন্ধ্যা হইল। শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna) শয্যায় বসিয়া মার চিন্তা ও নাম করিতেছেন। ভক্তেরা অনেকে তাঁহার কাছে নিঃশব্দে বসিয়া আছেন।

    কিয়ৎক্ষণ পরে ডাক্তার সরকার আসিয়া উপস্থিত হইলেন। ঘরে লাটু, শশী, শরৎ, ছোট নরেন, পল্টু, ভূপতি, গিরিশ প্রভৃতি অনেক ভক্তেরা আসিয়াছেন (Kathamrita)। গিরিশের সঙ্গে স্টার থিয়েটারের শ্রীযুক্ত রামতারণ আসিয়াছেন—গান গাইবেন।

    ডাক্তার (শ্রীরামকৃষ্ণের প্রতি) — কাল রাত তিনটার সময় আমি তোমার জন্য বড় ভেবেছিলাম। বৃষ্টি হল, ভাবলুম দোর-টোর খুলে রেখেছে — না কি করেছে, কে জানে!

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna)  ডাক্তারের স্নেহ দেখিয়া প্রসন্ন হইয়াছেন। আর বলিতেছেন, বল কিগো!

    “যতক্ষণ দেহটা আছে ততক্ষণ যত্ন করতে হয়।

    “কিন্তু দেখছি যে এটা আলাদা। কামিনী-কাঞ্চনের উপর ভালবাসা যদি একেবারে চলে যায়, তাহলে ঠিক বুঝতে পারা যায় যে দেহ আলাদা আর আত্মা আলাদা। নারকেলের জল সব শুকিয়ে গেলে মালা আলাদা, আঁস আলাদা হয়ে যায়। তখন নারকেল টের পাওয়া যায় — ঢপর ঢপর করছে। যেমন খাপ আর তরবার—খাপ আলাদা, তরবার আলাদা।

    “তাই দেহের অসুখের জন্য তাঁকে বেশি বলতে পারি না।”

    গিরিশ—পণ্ডিত শশধর বলেছিলেন (Kathamrita), ‘আপনি সমাধি অবস্থায় দেহের উপর মনটা আনবেন,—তাহলে অসুখ সেরে যাবে। ইনি ভাবে ভাবে দেখলেন যে শরীরটা যেন ধ্যাড় ধ্যাড় করছে।

    পূর্বকথা—মিয়জিয়াম দর্শন ও পীড়ার সময় প্রার্থনা

    শ্রীরামকৃষ্ণ(Ramakrishna) —অনেকদিন হল,—আমার তখন খুব ব্যামো। কালীঘরে বসে আছি,—মার কাছে প্রার্থনা করতে ইচ্ছা হল! কিন্তু ঠিক আপনি বলতে পাল্লাম না। বললুম,—মা হৃদে বলে তোমার কাছে ব্যামোর কথা বলতে। আর বেশি বলতে পাল্লাম না—বলতে বলতে অমনি দপ্‌ করে মনে এলো সুসাইট্‌ (Asiatic Society’s Museum) সেখানকার তারে বাঁধা মানুষের হাড়ের দেহ (Skeleton) অমনি বললুম, মা, তোমার নামগুণ করে বেড়াব—দেহটা একটু তার দিয়ে এঁটে দাও, সেখানকার মতো! সিদ্ধাই চাইবার জো নাই!

  • Ramakrishna 597: “বালিশ কোলে করিয়া যেন বাৎসল্যরসে আপ্লুত হইয়া ছেলেকে দুধ খাওয়াইতেছেন!”

    Ramakrishna 597: “বালিশ কোলে করিয়া যেন বাৎসল্যরসে আপ্লুত হইয়া ছেলেকে দুধ খাওয়াইতেছেন!”

    ৫২ শ্যামপুকুর বাটীতে ভক্তসঙ্গে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ

    দশম পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৫, ২৩শে অক্টোবর
    ঠাকুরের পরমহংস অবস্থা—চতুর্দিকে আনন্দের কোয়াসাদর্শন —
    ভগবতীর রূপদর্শন—যেন বলছে, ‘লাগ্‌ ভেলকি’

    বেলা ৩টা। ঠাকুরের (Ramakrishna) কাছে ২/১টি ভক্ত বসিয়া আছেন। তিনি ‘ডাক্তার কখন আসিবে’ আর ‘কটা বেজেছে’ বালকের ন্যায় অধৈর্য হইয়া বারবার জিজ্ঞাসা করিতেছেন। ডাক্তার আজ সন্ধ্যার পরে আসিবেন।

    হঠাৎ ঠাকুরের বালকের ন্যায় অবস্থা হইয়াছে। বালিশ কোলে করিয়া যেন বাৎসল্যরসে আপ্লুত হইয়া ছেলেকে দুধ খাওয়াইতেছেন! ভাবাবিষ্ট বালকের ন্যায় হাসিতেছেন (Kathamrita)— আর-একরকম করিয়া কাপড় পরিতেছেন!

    মণি প্রভৃতি অবাক্‌ হইয়া দেখিতেছেন।

    কিয়ৎক্ষণ পরে ভাব উপশম হইল। ঠাকুরের খাবার সময় হইয়াছে, তিনি একটু সুজি খাইলেন।

    মণির কাছে নিভৃতে অতি গুহ্যকথা বলিতেছেন।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna)— এতক্ষণ ভাবাবস্থায় কি দেখছিলাম জান?—তিন-চার ক্রোশ ব্যাপী সিওড়ে যাবার রাস্তার মাঠ। সেই মাঠে আমি একাকী!—সেই যে পনের-ষোল বছরের ছোকরার মতো পরমহংস বটতলায় দেখেছিলাম, আবার ঠিক সেইরকম দেখলাম!

    “চতুর্দিকে আনন্দের কোয়াসা!—তারই ভিতর থেকে ১৩/১৪ বছরের একটি ছেলে উঠলো মুখটি দেখা যাচ্ছে! পূর্ণর রূপ। দুইজনেই দিগম্বর!—তারপর আনন্দে মাঠে দুইজনে দৌড়াদৌড়ি আর খেলা!

    “দৌড়াদৌড়ি করে পূর্ণর জলতৃষ্ণা পেল (Kathamrita)। সে একটা পাত্রে করে জল খেলে। জল খেয়ে আমায় দিতে আসে। আমি বললাম, ‘ভাই, তোর এঁটো খেতে পারব না।’ তখন সে হাসতে হাসতে গিয়ে গ্লাসটি ধুয়ে আর-একগ্লাস জল এনে দিলে।”

    ‘ভয়ঙ্করা কালকামিনী’ — দেখাচ্ছেন, সব ভেলকি 

    ঠাকুর আবার সমাধিস্থ। কিয়ৎক্ষণ পরে প্রকৃতিস্থ হইয়া আবার মণির সহিত কথা কহিতেছেন —

    “আবার অবস্থা বদলাচ্ছে! — প্রসাদ খাওয়া উঠে গেল! সত্য-মিথ্যা এক হয়ে যাচ্ছে! আবার কি দেখছিলাম জান? ঈশ্বরীয় রূপ! ভগবতী মূর্তি — পেটের ভিতর ছেলে — তাকে বার করে আবার গিলে ফেলছে! — ভিতরে যতটা যাচ্ছে, ততটা শূন্য হয়! আমায় দেখাচ্ছে যে, সব শূন্য!

    “যেন বলছে, লাগ্‌! লাগ্‌! লাগ্‌ ভেলকি! লাগ!”

    মণি ঠাকুরের কথা ভাবিতেছেন! ‘বাজিকরই সত্য আর সব মিথ্যা।’

    সিদ্ধাই ভাল নয় — নিচু ঘরের সিদ্ধাই

    শ্রীরামকৃষ্ণ — আচ্ছা, তখন পূর্ণকে আকর্ষণ কল্লাম, তা হল না কেন? এইতে একটু বিশ্বাস কমে যাচ্ছে!

  • Ramakrishna 596: “পাথরের কাছে থেকে থেকে পাথর হয়ে গেছে, তেমনি সাধুর কাছে থাকতে থাকতে সাধু হয়ে যায়”

    Ramakrishna 596: “পাথরের কাছে থেকে থেকে পাথর হয়ে গেছে, তেমনি সাধুর কাছে থাকতে থাকতে সাধু হয়ে যায়”

    ৫২ শ্যামপুকুর বাটীতে ভক্তসঙ্গে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ

    নবম পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৫, ২৩শে অক্টোবর

    শ্যামপুকুর বাটীতে ডাক্তার সরকার, নরেন্দ্র, শশী, শরৎ, মাস্টার, গিরিশ প্রভৃতি ভক্তসঙ্গে

    পূর্বকথা—উন্মাদাবস্থায় কুঠির পেছেনে যেন গায়ে হোমাগ্নি জ্বলন।
    পণ্ডিত পদ্মলোচনের বিশ্বাস ও তাঁহার মৃত্যু
     

    আর দেখেছেন, ঈশ্বরকে (Ramakrishna) এত কাছে দেখেছেন যে তাঁর সঙ্গে সর্বদা কথা কচ্ছেন। ছোট ছেলেটির মতো বলছেন, ‘মা, বড় লাগছে!’

    “আর কি অব্‌জর্‌ভেশন (দর্শন)! মিউজিয়াম-এ (যাদুঘরে) ফসিল (জানোয়ার পাথর) হয়ে গেছে দেখেছিলেন। অমনি সাধুসঙ্গের উপমা হয়ে গেল! পাথরের কাছে থেকে থেকে পাথর হয়ে গেছে, তেমনি সাধুর কাছে থাকতে থাকতে সাধু হয়ে যায়।”

    ডাক্তার—ঈশানবাবু কাল অবতার অবতার (Ramakrishna) করছিলেন। অবতার আবার কি! — মানুষকে ঈশ্বর বলা!

    মণি — ওঁদের যা যা বিশ্বাস, তা আর ইন্টারফিয়ার (তাতে হস্তক্ষেপ) করে কি হবে?

    ডাক্তার — হাঁ, কাজ কি!

    মণি — আর ও-কথাটিতে (Ramakrishna) কেমন হাসিয়াছেন! — ‘একজন দেখে গেল, একটা বাড়ি পড়ে গেছে কিন্তু খপরের কাগজে ওটি লিখা নাই। অতএব ও-বিশ্বাস করা যাবে না।’

    ডাক্তার চুপ করিয়া আছেন—কেননা ঠাকুর বলিয়াছিলেন (Kathamrita), ‘তোমার সাইয়েন্স-এ অবতারের কথা নাই, অতএব অবতার নাই!’

    বেলা দ্বিপ্রহর হইল। ডাক্তার মণিকে লইয়া গাড়িতে উঠিলেন। অন্যান্য রোগী দেখিয়া অবশেষে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণকে দেখিতে যাইবেন।

    ডাক্তার সেদিন গিরিশের নিমন্ত্রণে ‘বুদ্ধলীলা’ অভিনয় দেখিতে গিয়াছিলেন। তিনি গাড়িতে বসিয়া মণিকে বলিতেছেন (Kathamrita), “বুদ্ধকে দয়ার অবতার বললে ভাল হত—বিষ্ণুর অবতার কেন বললে?”

    ডাক্তার মণিকে হেদুয়ার চৌমাথায় নামাইয়া দিলেন।

  • Ramakrishna 595: “দরদর করে রক্ত পড়ছে—তবু বলে, ‘আমার হাতে কিছু হয় নাই।’ জ্ঞানাগ্নি দিয়ে এই কাঁটা তো পোড়াতে হবে”

    Ramakrishna 595: “দরদর করে রক্ত পড়ছে—তবু বলে, ‘আমার হাতে কিছু হয় নাই।’ জ্ঞানাগ্নি দিয়ে এই কাঁটা তো পোড়াতে হবে”

    ৫২ শ্যামপুকুর বাটীতে ভক্তসঙ্গে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ

    নবম পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৫, ২৩শে অক্টোবর

    শ্যামপুকুর বাটীতে ডাক্তার সরকার, নরেন্দ্র, শশী, শরৎ, মাস্টার, গিরিশ প্রভৃতি ভক্তসঙ্গে

    পূর্বকথা — উন্মাদাবস্থায় কুঠির পেছেনে যেন গায়ে হোমাগ্নি জ্বলন।
    পণ্ডিত পদ্মলোচনের বিশ্বাস ও তাঁহার মৃত্যু

    ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna) শ্যামপুকুর বাটীতে চিকিৎসার্থ ভক্তসঙ্গে বাস করিতেছেন। আজ কোজাগর পূর্ণিমা, শুক্রবার (৮ই কার্তিক, ১২৯২)। ২৩শে অক্টোবর, ১৮৮৫, বেলা ১০টা। ঠাকুর মাস্টারের সহিত কথা কহিতেছেন।

    মাস্টার তাঁহার পায়ে মোজা পরাইয়া দিতেছেন।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (সহাস্যে) — কম্‌ফর্টার্‌টা কেটে পায় পরলে হয় না? বেশ গরম। মাস্টার হাসিতেছেন।

    গতকল্য বৃহস্পতিবার রাত্রে ডাক্তার সরকারের সহিত অনেক কথা হইয়া গিয়াছে। ঠাকুর সে সকল কথা উল্লেখ করিয়া মাস্টারকে হাসিতে হাসিতে বলিতেছেন—“কাল কেমন তুঁহু তুহু বললুম!”

    ঠাকুর কাল বলিয়াছিলেন, — “জীবেরা ত্রিতাপে জ্বলছে, তবু বলে বেশ আছি। বেঁকা কাঁটা দিয়ে হাত কেটে যাচ্ছে। দরদর করে রক্ত পড়ছে — তবু বলে, ‘আমার হাতে কিছু হয় নাই।’ জ্ঞানাগ্নি দিয়ে এই কাঁটা তো পোড়াতে হবে।”

    ছোট নরেন ওই কথা স্মরণ করিয়া বলিতেছেন (Kathamrita) — ‘কালকের বাঁকা কাঁটার কথাটি বেশ! জ্ঞানাগ্নিতে জ্বালিয়ে দেওয়া।’

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna)— আমার সাক্ষাৎ ওই সব অবস্থা হত।

    “কুঠির পেছন দিয়ে যেতে যেতে — গায়ে যেন হোমাগ্নি জ্বলে গেল!

    “পদ্মলোচন বলেছিল, ‘তোমার অবস্থা সভা করে লোকদের বলব!’ তারপর কিন্তু তার মৃত্যু হল।”

    বেলা এগারটার সময় ঠাকুরের সংবাদ লইয়া ডাক্তার সরকারের বাটীতে মণি আসিয়াছেন।

    ডাক্তার ঠাকুরের সংবাদ লইয়া তাঁহারই বিষয় কথাবার্তা কহিতেছেন (Kathamrita)— তাঁহার কথা শুনিতে ঔৎসুক্য প্রকাশ করিতেছেন।

    ডাক্তার (সহাস্যে) — আমি কাল খেমন বললাম, ‘তুঁহু তুঁহু’ বলতে গেলে তেমনি ধুনুরির হাতে পড়তে হয়!

    মণি — আজ্ঞা হাঁ, তেমন গুরুর হাতে না পড়লে অহংকার যায় না।

    “কাল ভক্তির কথা কেমন বললেন! — ভক্তি মেয়েমানুষ, অন্তঃপুর পর্যন্ত যেতে পারে।”

    ডাক্তার — হাঁ ওটি বেশ কথা; কিন্তু তা বলে তো জ্ঞান তো আর ছেড়ে দেওয়া যায় না।

    মণি — পরমহংসদেব তা তো বলেন না। তিনি জ্ঞান-ভক্তি দুই-ই লন — নিরাকার-সাকার। তিনি বলেন, ভক্তি হিমে জলের খানিকটা বরফ হল, আবার জ্ঞানসূর্য উদয় হলে বরফ গলে গেল। অর্থাৎ ভক্তিযোগে সাকার, জ্ঞানযোগে নিরাকার।

LinkedIn
Share