Category: পরম্পরা

Get updated History and Heritage and Culture and Religion related news from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • Basanti Puja 2026: শারদীয় নয়, এটাই বাঙালির প্রাচীন দুর্গাপুজো! আজ বাসন্তী সপ্তমীতে দেবী আরাধনা শুরু

    Basanti Puja 2026: শারদীয় নয়, এটাই বাঙালির প্রাচীন দুর্গাপুজো! আজ বাসন্তী সপ্তমীতে দেবী আরাধনা শুরু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এখন চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষের তিথি চলছে। প্রতি বছর চৈত্র মাসের শুক্ল তিথিতে আয়োজিত হয় নবরাত্রি উৎসবের। নয় রাত ধরে দেবী দুর্গার নয় রূপের আরাধনা করা হয়। আর এই সময়ে মহাধুমধামের সঙ্গে বাঙালি মেতে ওঠে বাসন্তী পুজোয়। হিন্দুশাস্ত্রমতে বসন্তকালে চৈত্র শুক্লপক্ষে আয়োজিত হয় বাসন্তী পুজো। পুরাণ অনুযায়ী, সমাধি নামক বৈশ্যের সঙ্গে মিলে রাজা সুরথ বসন্তকালে ঋষি মেধসের আশ্রমে দেবী দুর্গার আরাধনা করেন। যা পরে বাসন্তী পুজো (Basanti Puja) নামে প্রসিদ্ধ হয়। দেবী দুর্গার প্রথম পূজারী হিসাবে চণ্ডীতে রাজা সুরথের উল্লেখ রয়েছে। বাসন্তী পুজোই হল বাঙালির আদি দুর্গাপুজো। পরে শরত্‍কালে শারদীয়া নবরাত্রির সময় রামচন্দ্রের অকাল বোধন মেনে দুর্গাপুজোর প্রচলন হয়।

    কবে থেকে পুজো, দেবীর আগমন কিসে

    সপ্তমী থেকে নবমী, তিন দিন ধরে চলে বাসন্তী পুজো। দুর্গাপুজোর মতোই সব নিয়ম আচার মেনে বাসন্তী পুজো করা হয়। চলতি বছরে বাসন্তীপুজোর সপ্তমি পড়েছে আজ, বুধবার ২৫ মার্চ। এই পুজোর ষষ্ঠীই হল অশোক ষষ্ঠী। মূলত, সপ্তমী তিথিতে বাসন্তী পুজো, অষ্টমীতে দেবী অন্নপূর্ণার আরাধনা হয়, নবমী পালিত হয় রামনবমী হিসেবে। দেশের নানান জায়গায় যখন চৈত্র নবরাত্রির পার্বনে অনেকে উৎসবে মেতে রয়েছেন, তখন বাংলা এই চৈত্রের শুক্লপক্ষে দেবী বাসন্তীর আরাধনায় মেতে ওঠে। চলতি বছরের বাসন্তী পুজোয় দেবী দুর্গার আগমন ও গমন শাস্ত্র মতে বিশেষ বার্তাবাহক। পঞ্জিকা অনুসারে, এ বছর দেবী দুর্গার আগমন হবে পালকিতে (মতান্তরে নৌকায়) এবং গমন হবে গজে বা হাতিতে (মতান্তরে ঘোড়ায়)। পালকিতে আগমন অস্থির সময়, মড়ক বা রোগব্যাধির ইঙ্গিত দিলেও গজে গমন অতিবৃষ্টি ও শস্যহানিকর পরিস্থিতির ইঙ্গিত দেয়।

    রাজা সুরথের কাহিনী

    রাজা সুরথকে চিত্রগুপ্তবংশী রাজা (চিত্রগুপ্তের বংশধর) হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে দুর্গা সপ্তশতী দেবী মাহাত্ম্য এবং মার্কণ্ডেয় পুরাণে। সুরথ সুশাসক ও যোদ্ধা হিসেবে বেশ খ্যাত ছিলেন। কোনও যুদ্ধে নাকি তিনি কখনও হারেননি। কিন্তু প্রতিবেশী রাজ্য একদিন তাঁকে আক্রমণ করে এবং সুরথ পরাজিত হন। এই সুযোগে তাঁর সভাসদরাও লুটপাট চালায়। কাছের মানুষের এমন আচরণে স্তম্ভিত হয়ে যান সুরথ। বনে ঘুরতে ঘুরতে তিনি মেধাসাশ্রমে পৌঁছোন। ঋষি তাঁকে সেখানেই থাকতে বলেন। কিন্তু রাজা শান্তি পান না।

    বাসন্তী পুজোর সূচনা

    এর মধ্যে একদিন তাঁর সমাধির সঙ্গে দেখা হয়। তিনি জানতে পারেন, সমাধিকেও তাঁর স্ত্রী এবং ছেলে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে। তবুও তিনি স্ত্রী-ছেলের ভালোমন্দ এখনও ভেবে চলেছেন। তাঁরা দুজনেই তখন ভাবলেন, যাদের কারণে তাদের সব কিছু হারিয়েছে, তাদের ভালো আজও তাঁরা কামনা করছেন। ঋষিকে একথা বলায়, তিনি বলেন সবই মহামায়ার ইচ্ছা। এরপর ঋষি মহামায়ার কাহিনি বর্ণনা করেন। ঋষির উপদেশেই রাজা কঠিন তপস্যা শুরু করেন। পরে মহামায়ার আশীর্বাদ পেতেই বসন্ত কালের শুক্লপক্ষে রাজা পুজো শুরু করেন। শুরু হয় বাসন্তী পুজো (Basanti Puja)। এই পুজো এখন কয়েকটি বাড়িতেই শুধু হয়।

  • Ramakrishna 608: “চিদানন্দ সিন্ধুনীরে প্রেমানন্দের লহরী, মহাভাব রসলীলা কি মাধুরী মরি মরি”

    Ramakrishna 608: “চিদানন্দ সিন্ধুনীরে প্রেমানন্দের লহরী, মহাভাব রসলীলা কি মাধুরী মরি মরি”

    ৫২ শ্যামপুকুর বাটীতে ভক্তসঙ্গে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ

    সপ্তদশ পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৫, ২৫শে অক্টোবর
    বিজয়াদি ভক্তসঙ্গে প্রেমানন্দে

    এই বলিয়া শ্রীরামকৃষ্ণের (Ramakrishna )পাদমূলে পতিত হইলেন ও নিজের বক্ষে তাঁহার চরণ ধারণ করিলেন। শ্রীরামকৃষ্ণ তখন ঈশ্বরাবেশে বাহ্যশূন্য চিত্রার্পিতের ন্যায় বসিয়া আছেন।

    এই প্রেমাবেশ, এই অদ্ভুত দৃশ্য দেখিয়া উপস্থিত ভক্তেরা কেহ কাঁদিতেছেন, কেহ স্তব করিতেছেন। যাঁহার যে মনের ভাব তিনি সেই ভাবে একদৃষ্টে শ্রীরামকৃষ্ণের দিকে চাহিয়া রহিলেন! কেহ তাঁহাকে পরমভক্ত, কেহ সাধু, কেহ বা সাক্ষাৎ দেহধারী ঈশ্বরাবতার দেখিতেছেন, যাঁহার যেমন ভাব।

    মহিমাচরণ সাশ্রুনয়নে গাহিলেন (Kathamrita) — দেখ দেখ প্রেমমূর্তি — ও মাঝে মাঝে যেন ব্রহ্মদর্শন করিতেছেন, এই ভাবে বলিতেছেন —

    “তুরীয়ং সচ্চিদানন্দম্‌ দ্বৈতাদ্বৈতবিবর্জিতম্‌।”

    নবগোপাল কাঁদিতেছেন। আর একটি ভক্ত ভূপতি গাহিলেন:

    জয় জয় পরব্রহ্ম            অপার তুমি অগম্য
    পারাৎপর তুমি সারাৎসার।
    সত্যের আলোক তুমি    প্রেমের আকর ভূমি,
    মঙ্গলের তুমি মূলাধার।
    নানা রসযুত ভব,           গভীর রচনা তব,
    উচ্ছ্বসিত শোভায় শোভায়,
    মহাকবি আদিকবি,        ছন্দে উঠে শশী রবি,
    ছন্দে পুনঃ অস্তাচলে যায়।
    তারকা কনক কুচি,        জলদ অক্ষর রুচি,
    গীত লেখা নীলাম্বর পাতে।
    ছয় ঋতু সম্বৎসরে,          মহিমা কীর্তন করে,
    সুখপূর্ণ চরাচর সাথে।
    কুসুমে তোমার কান্তি,     সলিলে তোমার শান্তি,
    বজ্ররবে রুদ্র তুমি ভীম;
    তব ভাব গূঢ় অতি,          কি জানিবে মূঢ়মতি,
    ধ্যায় যুগযুগান্ত অসীম।
    আনন্দে সবে আনন্দে,    তোমার চরণ বন্দে,
    কোটি চন্দ্র কোটি সূর্য তারা!
    তোমারি এ রচনারি,        ভাব লয়ে নরনারী,
    হাহাকারে নেত্রে বহে ধারা।
    মিলি সুর, নর, ঋভু,        প্রণমে তোমায় বিভু
    তুমি সর্ব মঙ্গল-আলয়;
    দেও জ্ঞান, দেও প্রেম,    দেও ভক্তি, দেও ক্ষেম,
    দেও দেও ওপদে আশ্রয়।

    ভূপতি আবার গাহিতেছেন:

    ঝিঁঝিট—খয়রা কীর্তন

    চিদানন্দ সিন্ধুনীরে প্রেমানন্দের লহরী।
    মহাভাব রসলীলা কি মাধুরী মরি মরি
    বিবিধ বিলাস রসপ্রসঙ্গ,                 কত অভিনব ভাবতরঙ্গ,
    ডুবিছে উঠিছে করিছে রঙ্গ,              নবীন নবীন রূপ ধরি,
    (হরি হরি বলে)
    মহাযোগে সমুদয় একাকার হইল,
    দেশ-কাল ব্যবধান ভেদাভেদ ঘুচিল,
    (আশা পুরিল রে, আমার সকল সাধ মিটে গেল!)
    এখন আনন্দে মাতিয়া দুবাহু তুলিয়া, বলরে মন হরি হরি (Kathamrita)।

  • Ashok Sasthi: আজ অশোক ষষ্ঠী, বাংলার ঘরে ঘরে মায়েরা পালন করেন এই ব্রত, কেন জানেন?

    Ashok Sasthi: আজ অশোক ষষ্ঠী, বাংলার ঘরে ঘরে মায়েরা পালন করেন এই ব্রত, কেন জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘আমার সন্তান যেন, থাকে দুধে-ভাতে’। এই প্রার্থনা নিয়েই বাংলার ঘরে ঘরে মায়েরা অশোক ষষ্ঠীর (Ashok Sasthi 2026) ব্রত পালন করেন। চৈত্র নবরাত্রির এই ষষ্ঠী তিথিতে সন্তানের মঙ্গল কামনায় পুজো দেওয়া হয় মা ষষ্ঠীর কাছে। চৈত্রমাসের শুক্লাপক্ষের ষষ্ঠী তিথিতে এই ব্রত পালিত হয়। আজ, মঙ্গলবার পালিত হচ্ছে অশোক ষষ্ঠী। বাংলায় এই তিথির বিশেষ মাহাত্ম্য রয়েছে। শহরাঞ্চলের মানুষ এই দিনের তাৎপর্য সম্পর্কে ততটা অবগত না হলেও, আজও গ্রামবাংলায় হিন্দু মহিলারা সন্তানের মঙ্গলকামনায় এই দিনটি নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেন।

    অশোক ষষ্ঠীর ব্রত পালনের নিয়ম

    এই ব্রতর দিন প্রথমে বাড়ির মহিলারা সকাল থেকে উপবাস থেকে ষষ্ঠীর (Ashok Sasthi 2026) থানে পুজো দেয়, তারপর অশোক ফুলের বীজ, মাসকলাই এবং দই আর কাঁঠালি কলা দিয়ে উপোস ভাঙে। এই পুজোর উপকরণের মধ্যে ছটি মাসকলাই, দই, কাঁঠালি কলা এবং অশোক ফুলের কুঁড়ি এক সঙ্গে মেখে খেতে হয় তবে এই পুজোর প্রসাদ কিন্তু দাঁতে ছোয়ানো যায় না। বাড়ির মহিলা সদস্যরা মূলত এই পুজোর প্রসাদ গিলে খান। অশোক ষষ্ঠীর দিন কিন্তু মায়েরা নিরামিষ খান। কারণ এই দিন পিঁয়াজ রসুন সহ কোনও প্রকার আমিষ খাবার গ্রহণ করা যায় না। অন্নের বদলে এই দিন আটা-ময়দা দিয়ে তৈরি খাবার এবং সেই সঙ্গে সাবু খাওয়া যায়। পোড়া খাবারও অশোক ষষ্ঠীর দিন খাওয়া যায় না। অশোক ষষ্ঠীকে অনেকে অরণ্য ষষ্ঠীও বলে থাকেন।

    অশোক ষষ্ঠী ঘিরে প্রচলিত কাহিনী

    অশোক ষষ্ঠীর (Ashok Sasthi 2026) পুজোর সঙ্গে এক মুনিকন্যার কাহিনি জড়িত। যে কন্যাকে অশোক গাছের নিচে কুড়িয়ে পান ওই মুনি। ওই মুনির বাস ছিল অশোক বনে। কন্যার নাম হয় অশোকা। এককালে কন্যা বড় হলে, তাঁর বিয়ে হয় রাজপুত্রের সঙ্গে। স্বামীগৃহে যান মুনিকন্যা। মুনি, অশোকাকে শ্বশুরবাড়ি পাঠানোর সময় সঙ্গে কিছু অশোক ফুল এবং অশোক গাছের বীজ বেঁধে দেন। সেই সঙ্গে বলে দেন যে চৈত্র মাসের শুক্ল ষষ্ঠীর দিন ওই শুকনো অশোক ফুলগুলি জল দিয়ে যেন তিনি খান। আর ওই দিন অশোকাকে অন্ন না খাওয়ার আদেশ দেন এরপর কেটে যায় বহুকাল। অশোকার সাত পুত্র এবং এক কন্যা সন্তান হয়, বিয়েও হয় তাঁদের।

    এক চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষে সন্ধ্যেবেলায় অশোকা অন্ন মুখে দেব না বলে জানান। আদেশ মত বউমারা অশোকার জন্য মুগকলাই রাঁধতে থাকে, কিন্তু তার মধ্যে কোনওভাবে একটা ধান ছিল, যেটা খাবারের মধ্যেই থেকে যায়। সেই খাবার অশোকা (Ashok Sasthi 2026) খেতেই পরিবারে অশোকার সন্তান, স্বামী সহ অনেকে মারা যান। তিনি ছুটে যান ওই মুনির কাছে। মুনিই তখন বলেন, ওই খাবারে কোনও ধান থাকার জেরেই এমন ক্ষতি হয়েছে। তিনি সঙ্গে সঙ্গে ঘটি থেকে মন্ত্রপূত জল দিয়ে দেন অশোকাকে, বলেন যে এই মন্ত্রপপূত জল মৃতদের গায়ে ছিটিয়ে দিলে সকলে বেঁচে উঠবেন। অশোকা বাবার কথামতো তাই করেন। সকলে প্রাণ ফিরে পায়। চৈত্র মাসে ষষ্ঠীর দিন মা ষষ্ঠীর পুজো দিয়ে মুগকলাই আর দই সহযোগে অশোক ফুল খেতে বলেন মুনি। সেই থেকেই এই ব্রত কথা উঠে আসে।

    কেন অশোক কুঁড়িই প্রসাদ

    এই তিথিতে অশোকফুল এবং বীজ খাওয়ার নিয়ম আছে। আয়ুর্বেদে অশোকগাছের ভেষজ গুরুত্ব প্রচুর। মরসুমি অসুখ, স্ত্রীরোগ থেকে প্রতিষেধক তৈরি করে অশোক ফুল, বীজ এবং গাছের ছাল। সেই গুণকেই সমাদর করা হয় (Ashok Sasthi 2026) ব্রতপালনের মাধ্যমে। এই প্রসাদ খাওয়ার বিশেষ নিয়মও রয়েছে। বলা হয়, পুজোর পর দই, কাঁঠালি কলার মধ্যে ফুলের কুঁড়িগুলি রেখে দাঁতে না লাগিয়ে গিলে খাওয়া হয়। এরপর মুগকলাই খেয়ে উপবাস ভঙ্গ করতে হয়। বাড়িতেও অশোক গাছ থাকা অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়। এতে বাস্তুদোষ কেটে যায় বলেই বিশ্বাস।

  • Ramakrishna 607: “কেবল মিছে ঘোরা! কোন কোন জায়গায় এঁরই এক আনা কি দুই আনা, কোথাও চারি আনা, এই পর্যন্ত। এইখানেই পূর্ণ ষোল আনা দেখছি!”

    Ramakrishna 607: “কেবল মিছে ঘোরা! কোন কোন জায়গায় এঁরই এক আনা কি দুই আনা, কোথাও চারি আনা, এই পর্যন্ত। এইখানেই পূর্ণ ষোল আনা দেখছি!”

    ৫২ শ্যামপুকুর বাটীতে ভক্তসঙ্গে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ

    সপ্তদশ পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৫, ২৫শে অক্টোবর
    বিজয়াদি ভক্তসঙ্গে প্রেমানন্দে

    কিয়ৎক্ষণ পরে শ্রীযুক্ত বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামী পরমহংসদেবকে দর্শন করিতে আসিলেন। সঙ্গে কয়েকটি ব্রাহ্মভক্ত। বিজয়কৃষ্ণ ঢাকায় অনেক দিবস ছিলেন। আপাততঃ পশ্চিমে অনেক তীর্থ ভ্রমণের পর সবে কলিকাতায় পৌঁছিয়াছেন। আসিয়া ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণকে (Ramakrishna) ভূমিষ্ঠ হইয়া প্রণাম করিলেন। অনেকে উপস্থিত ছিলেন (Kathamrita), — নরেন্দ্র, মহিমা চক্রবর্তী, নবগোপাল, ভূপতি, লাটু, মাস্টার, ছোট নরেন্দ্র ইত্যাদি অনেকগুলো ভক্ত।

    মহিমা চক্রবর্তী (বিজয়ের প্রতি) — মহাশয়, তীর্থ করে এলেন, অনেক দেশ দেখে এলেন, এখন কি দেখলেন বলুন।

    বিজয় — কি বলব! দেখছি, যেখানে এখন বসে আছি, এইখানেই সব। কেবল মিছে ঘোরা! কোন কোন জায়গায় এঁরই এক আনা কি দুই আনা, কোথাও চারি আনা, এই পর্যন্ত। এইখানেই পূর্ণ ষোল আনা দেখছি!

    মহিমা চক্রবর্তী — ঠিক বলছেন, আবার ইনিই ঘোরান, ইনিই বসান!

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna) — দেখ, বিজয়ের অবস্থা কি হয়েছে। লক্ষণ সব বদলে গেছে, যেন সব আউটে গেছে। আমি পরমহংসের ঘাড় ও কপাল দেখে চিনতে পারি। বলতে পারি, পরমহংস কি না।

    মহিমা চক্রবর্তী — মহাশয়! আপনার আহার কমে গেছে?

    বিজয় — হাঁ, বোধ হয় গিয়েছে। (শ্রীরামকৃষ্ণের প্রতি) — আপনার পীড়ার কথা শুনে দেখতে এলাম। আবার ঢাকা থেকে —

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna)— কি?

    বিজয় কোন উত্তর দিলেন না। খানিকক্ষণ চুপ করিয়া রহিলেন।

    বিজয় — ধরা না দিলে ধরা শক্ত। এইখানেই ষোল আনা।

    শ্রীরামকৃষ্ণ — কেদার বললে, অন্য জায়গায় খেতে পাই না — এখানে এসে পেট ভরা পেলুম! মহিমা চক্রবর্তী (Kathamrita)— পেট ভরা কি? উপচে পড়ছে!

    বিজয় (হাতজোড় করিয়া শ্রীরামকৃষ্ণের প্রতি) — বুঝেছি আপনি কে! আর বলতে হবে না!

    শ্রীরামকৃষ্ণ (ভাবস্থ) — যদি তা হয়ে থাকে, তো তাই।

    বিজয় — বুঝেছি (Kathamrita)।

  • Navratri Fasting: নবরাত্রিতে উপবাস! শুধু ঐতিহ্য নয়, এই রীতি কতখানি স্বাস্থ্যসম্মত জানেন?

    Navratri Fasting: নবরাত্রিতে উপবাস! শুধু ঐতিহ্য নয়, এই রীতি কতখানি স্বাস্থ্যসম্মত জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ১৯ মার্চ থেকে শুরু হয়েছে চৈত্র নবরাত্রি (Chaitra Navratri 2026)। চলবে ২৭ মার্চ রামনবমী (Ramnavami) পর্যন্ত। দেশ জুড়ে পালিত হচ্ছে এই উৎসব। উত্তর থেকে দক্ষিণ, ভারতের বিভিন্ন প্রদেশেই বছরের এই সময়ে নবরাত্রির উৎসব পালন হয়। হিন্দু শাস্ত্র (Hindu Traditions) মতে, নবরাত্রি অর্থাৎ নয় রাত ধরে মা দুর্গার আরাধনা করা হয়। পবিত্রতা, শান্তির প্রতি আস্থা রাখার পাশপাশি দুষ্টের দমন এবং শুভ শক্তির পালন, এই আর্জি নিয়েই দেশজুড়ে মা দুর্গার আরাধনা চলে। প্রথা অনুযায়ী, এই ন’দিন ধরে উপবাস রাখতে হয়। পালন করতে হয় সাত্ত্বিক জীবনযাপন। হিন্দু শাস্ত্রে, নবরাত্রি উদযাপনের (Navratri Fasting) এই পাঠ কিন্তু শুধুই ধর্মীয় রীতি নয়। বরং এর তাৎপর্য আরও গভীর।‌ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, নয় রাতের এই ব্রত সুন্দর জীবন যাপনের (Healthy Lifestyle) পথ আরও সুগম করে। তাই নবরাত্রি উদযাপনের গভীরতা আরও বেশি।

    নবরাত্রি পালন কীভাবে সুস্থ জীবন যাপনের সঙ্গে সম্পর্ক যুক্ত?

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, নবরাত্রি উদযাপন শুধুই উপোস আর প্রার্থনা নয়। এই ঐতিহ্যের সঙ্গে মিশে আছে এক গভীর জীবন‌বোধ এবং জীবন‌ যাপনের পদ্ধতি। যা খুবই স্বাস্থ্যকর! তাঁরা জানাচ্ছেন, নবরাত্রি পালনের সময় সকালে নির্দিষ্ট সময় ঘুম থেকে ওঠা, যোগাসন করা, ধ্যান করার মতো নিয়ম পালনের কথা বলা হয়। সকলের কল্যাণের কথা চিন্তা করে ঈশ্বরের প্রার্থনার, নবরাত্রির অন্যতম আচার। অর্থাৎ একটি নিয়ম শৃঙ্খলার মধ্যে জীবন যাপনের দিকে এই উৎসব সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়।

    পজিটিভ এনার্জি আসে

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, আধুনিক জীবনে ডায়াবেটিস থেকে স্থূলতা, রক্তচাপ কিংবা হৃদরোগের মতো জটিল স্বাস্থ্য সমস্যা, মানসিক স্বাস্থ্যের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। মানসিক চাপ কমাতে, অবসাদ, উদ্বেগের মতো সমস্যা কমাতে ধ্যানের অভ্যাস অত্যন্ত জরুরি। নবরাত্রি পালনের (Navratri Fasting) জন্য সেই অভ্যাস জীবনে স্থায়ী হয়। ঈশ্বরের কাছে কল্যাণ প্রার্থনার মাধ্যমে মনে পজিটিভ এনার্জি বা ইতিবাচক শক্তি তৈরি হয়। যার ফলে নানান ভালো কাজের ইচ্ছে হয়। নানান নেতিবাচক ভাবনা দূর হয়। মানসিক শান্তি বজায় থাকে। এর ফলে অবসাদ, মানসিক চাপ ও উদ্বেগের মতো সমস্যাকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

    হজমের গোলমাল কমায়

    নবরাত্রি পালনের সময় উপোস করতে হয়। কিন্তু ঐতিহ্য মেনে এই উদযাপনে সম্পূর্ণ অভুক্ত থাকার রীতি (Hindu Traditions) নেই। নবরাত্রির সময় পুষ্টিকর অথচ সহজপাচ্য সাত্ত্বিক খাবার খাওয়ার রীতি রয়েছে। প্রাণীজ প্রোটিন নয়। পরিমিত আহার শরীরের জন্য উপকারি এই ভাবনা বোঝানোর জন্য নবরাত্রি রীতি (Navratri Fasting) খুবই গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, হরমোনের ভারসাম্যের অভাব, স্থূলতা, বন্ধ্যত্ব, কোলেস্টেরলের সমস্যা কিংবা হৃদরোগের মতো জটিল অসুখের অন্যতম কারণ অতিরিক্ত খাদ্যাভ্যাস। তরুণ প্রজন্মের একাংশের অতিরিক্ত চর্বিজাতীয় প্রাণীজ প্রোটিন খাওয়ার অভ্যাস, নির্দিষ্ট সময়ে খাবার না খাওয়া, অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত মাংসের পদ খাওয়ার অভ্যাস অসুখ বাড়াচ্ছে। নবরাত্রি পালনের সময়ে দিনের নির্দিষ্ট সময়ে সাত্ত্বিক খাবার খাওয়ার রেওয়াজ খুবই স্বাস্থ্যকর। পাশপাশি, পরিমিত খাবারের অভ্যাস হজমের গোলমাল কমায়। দেহের ওজন নিয়ন্ত্রণ রাখতে সাহায্য করে। তাই নবরাত্রি পালন অত্যন্ত স্বাস্থ্যকর অভ্যাস বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞ মহল।

    মানসিক চাপ কমে

    নবরাত্রি (Navratri Fasting) উদযাপনের সময়ে সামাজিক যোগাযোগ নিবিড় হয়। প্রতিবেশি, আত্মীয় ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ হয়। আধুনিক ব্যস্ত জীবনে একাকিত্ব বাড়ছে। আর একাকিত্বের হাত ধরেই শরীর ও মনে বাসা বাঁধছে নানান রোগ।‌ নিয়মিত কথা বলা, পারিবারিক সম্পর্ককে আরও গভীর করতে পারলে নানান সঙ্কট সহজেই কাটানো যায়। তাই নবরাত্রি উদযাপনের মতো ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহন করলে মানসিক চাপ কমে।

    রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়ে

    তবে, এর পাশপাশি নবরাত্রি যে সময়ে পালন হয়, তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মত বিশেষজ্ঞ মহলের। তাঁরা জানাচ্ছেন, বছরে দু’বার নবরাত্রি (Navratri Fasting) পালন হয়। একটি চৈত্র মাসে অর্থাৎ বসন্ত ঋতুতে। আরেকটি শরৎ ঋতুতে।‌ তাঁরা জানাচ্ছেন, বছরের এই দুই সময়েই ঋতু পরিবর্তনের সময়ে আবহাওয়ায় বড়সড় পরিবর্তন দেখা যায়। অর্থাৎ তাপমাত্রার রদবদল হয়। বাতাসে ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার দাপট বাড়ে। ফলে নানান সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও বেড়ে যায়। এই সময়ে শরীর সুস্থ রাখতে বাড়তি নজরদারি জরুরি। পরিমিত খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত যোগাভ্যাস, পর্যাপ্ত ঘুম দেহের রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। আবার অন্যান্য রোগের ঝুঁকিও কমায়। তাই নবরাত্রি পালন করলে শরীর সুস্থ থাকবে। শরীরে রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়বে। এমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

     

  • Ramakrishna 606: “আপনি হতভাগা ডাক্তারদের অহংকার বাড়াবার জন্য রোগ করে বসেছেন”

    Ramakrishna 606: “আপনি হতভাগা ডাক্তারদের অহংকার বাড়াবার জন্য রোগ করে বসেছেন”

    ৫২ শ্যামপুকুর বাটীতে ভক্তসঙ্গে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ

    পঞ্চদশ পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৫, ২৫শে অক্টোবর
    শ্রীরামকৃষ্ণের সহিত বিজয়কৃষ্ণ, নরেন্দ্র, মাস্টার, ডাক্তার সরকার, মহিমাচরণ
    প্রভৃতি ভক্তের কথোপকথন ও আনন্দ

    মাস্টার (ডাক্তারের প্রতি) — মহিমা চক্রবর্তী আপনার এখানে আগে আসতেন। আপনি বাড়িতে ডাক্তারী সায়েন্স-এর লেক্‌চার দিতেন, তিনি শুনতে আসতেন।

    ডাক্তার — বটে? লোকটার কি তমো! দেখলে (Kathamrita)— আমি নমস্কার করলুম as God’s Lower Third? আর ঈশ্বরের ভিতর তো (সত্ত্ব, রজঃ, তমঃ) সব গুণই আছে। ও কথাটা mark করেছিলে, ‘আপনি ডাক্তারের অহংকার বাড়াবার জন্য রোগ করে বসেছেন?’

    মাস্টার—মহিমা চক্তবর্তীর বিশ্বাস যে, পরমহংসদেব মনে করলে নিজে ব্যারাম আরাম করতে পারেন।

    ডাক্তার — ওঃ। তা কি হয়? আপনি ব্যারাম ভাল করা! আমরা ডাক্তার, আমরা তো জানি ও ক্যান্সার-এর ভিতর কি আছে! — আমরাই আরাম করতে পারি না। উনি তো কিছু জানেন না, উনি কিরকম করে আরাম করবেন! (বন্ধুদের প্রতি) — দেখুন, রোগ দুঃসাধ্য বটে, কিন্তু এরা সকলে তেমনি devotee-র মতো সেবা করছে!

    ৫২ শ্যামপুকুর বাটীতে ভক্তসঙ্গে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ

    ষোড়শ পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৫, ২৫শে অক্টোবর
    শ্রীরামকৃষ্ণ সেবকসঙ্গে

    মাস্টার ডাক্তারকে আসিতে বলিয়া প্রত্যাগমন করিলেন। খাওয়া-দাওয়ার পর বেলা-তিনটার সময় শ্রীরামকৃষ্ণকে দর্শন করিয়া সমস্ত নিবেদন করিলেন। বলিলেন, ডাক্তার আজ বড় অপ্রতিভ করেছেন।

    শ্রীরামকৃষ্ণ — কি হয়েছে?

    মাস্টার — ‘আপনি হতভাগা ডাক্তারদের অহংকার বাড়াবার জন্য রোগ করে বসেছেন’ — এ-কথা শুনে গিছলেন।

    শ্রীরামকৃষ্ণ — কে বলেছিল?

    মাস্টার — মহিমা চক্রবর্তী।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Kathamrita)— তারপর?

    মাস্টার — তা মহিমা চক্রবর্তীকে বলে ‘তমোগুণী ঈশ্বর’ (God’s Lower Third) এখন ডাক্তার বলছেন, ঈশ্বরের সব গুণ (সত্ত্ব, রজঃ, তমঃ) আছে! (পরমহংসদেবের হাস্য) আবার আমায় বললেন, রাত তিনটের সময় ঘুম ভেঙে গেছে আর পরমহংসের ভাবনা। বেলা আটটার সময় বলেন, ‘এখনও পরমহংস চলছে।’

    শ্রীরামকৃষ্ণ (হাসিতে হাসিতে) — ও ইংরাজী পড়েছে, ওকে বলবার জো নাই আমাকে চিন্তা কর; তা আপনিই করছে।

    মাস্টার — আবার বলেন, As man I have the greatest regard for him, এর মানে এই, আমি তাঁকে অবতার বলে মানি না। কিন্তু মানুষ বলে যতদূর সম্ভব ভক্তি আছে।

    শ্রীরামকৃষ্ণ — আর কিছু কথা হল?

    মাস্টার — আমি জিজ্ঞাসা(Kathamrita) করলাম, ‘আজ ব্যারামের কি বন্দোবস্ত হবে?’ ডাক্তার বললেন, ‘বন্দোবস্ত আর আমার মাথা আর মুণ্ডু; আবার আজ যেতে হবে, আর কি বন্দোবস্ত!’ (শ্রীরামকৃষ্ণের হাস্য) আরও বললেন, ‘তোমরা জান না যে আমার কত টাকা রোজ লোকসান হচ্ছে — দুই-তিন জায়গায় রোজ যেতে সময় হয় না।’

  • Ramakrishna 605: “মহাশয়, আপনি ডাক্তারের অহংকার বাড়াবার জন্য রোগ করিয়াছেন… ঈশ্বরের ভিতর তো সত্ত্ব, রজঃ, তমঃ সব গুণই আছে”

    Ramakrishna 605: “মহাশয়, আপনি ডাক্তারের অহংকার বাড়াবার জন্য রোগ করিয়াছেন… ঈশ্বরের ভিতর তো সত্ত্ব, রজঃ, তমঃ সব গুণই আছে”

    ৫২ শ্যামপুকুর বাটীতে ভক্তসঙ্গে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ

    পঞ্চদশ পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৫, ২৫শে অক্টোবর
    শ্রীরামকৃষ্ণের সহিত বিজয়কৃষ্ণ, নরেন্দ্র, মাস্টার, ডাক্তার সরকার, মহিমাচরণ
    প্রভৃতি ভক্তের কথোপকথন ও আনন্দ

    আজ রবিবার, ১০ই কার্তিক; কৃষ্ণাদ্বিতীয়া — ২৫শে অক্টোবর, ১৮৮৫। শ্রীরামকৃষ্ণ কলিকাতাস্থ শ্যামপুকুরের বাড়িতে অবস্থান করিতেছেন। গলার পিড়া (ক্যান্সার) চিকিৎসা করাইতে আসিয়াছেন। আজকাল ডাক্তার সরকার দেখিতেছেন।

    ডাক্তারের কাছে পরমহংসদেবের অবস্থা জানাইবার জন্য মাস্টারকে প্রত্যহ পাঠানো হইয়া থাকে। আজ সকালে বেলা ৬৷৷ টার সময় তাঁহাকে প্রণাম করিয়া মাস্টার জিজ্ঞাসা করিলেন, “আপনি কেমন আছেন?” শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna) বলিতেছেন, “ডাক্তারকে বলবে, শেষ রাত্রে একমুখ জল হয়; কাশি আছে; ইত্যাদি। জিজ্ঞাসা (Kathamrita) করবে নাইব কিনা?”

    মাস্টার ৭-টার পর ডাক্তার সরকারের সঙ্গে দেখা করিলেন ও সমস্ত অবস্থা বলিলেন। ডাক্তারের বৃদ্ধ শিক্ষক ও দুই-একজন বন্ধু উপস্থিত ছিলেন। ডাক্তার বৃদ্ধ শিক্ষককে বলিতেছেন, মহাশয়! রাত তিনটে থেকে পরমহংসের ভাবনা আরম্ভ হয়েছে — ঘুম নাই। এখনও পরমহংস চলেছে। (সকলের হাস্য)

    ডাক্তারের একজন বন্ধু ডাক্তারকে বলিতেছেন, মহাশয়, শুনতে পাই পরমহংসকে কেউ কেউ অবতার বলে। আপনি তো রোজ দেখছেন, আপনার কি বোধ হয়?

    ডাক্তার — As man I have the greatest regard for him.

    মাস্টার (ডাক্তারের বন্ধুর প্রতি) — ডাক্তার মহাশয় তাঁকে অনুগ্রহ করে অনেক দেখছেন।

    ডাক্তার — অনুগ্রহ!

    মাস্টার — আমাদের উপর, পরমহংসদেবের উপর বলছি না।

    ডাক্তার — তা নয় হে। তোমরা জান না, আমার actual loss হচ্ছে, রোজ রোজ দুই-তিনটে call-এ যাওয়াই হচ্ছে না। তার পরদিন আপনিই রোগীদের বাড়ি যাই, আর ফি লই না; — আপনি গিয়ে ফি নেবো কেমন করে?

    শ্রীযুক্ত মহিমা চক্রবর্তীর কথা হইল। শনিবারে যখন ডাক্তার পরমহংসদেবকে (Ramakrishna)  দেখিতে যান, তখন চক্তবর্তী উপস্থিত ছিলেন; ডাক্তারকে দেখিয়া তিনি শ্রীরামকৃষ্ণকে বলিয়াছিলেন, ‘মহাশয়, আপনি ডাক্তারের অহংকার বাড়াবার জন্য রোগ করিয়াছেন।”

    মাস্টার (ডাক্তারের প্রতি) — মহিমা চক্রবর্তী আপনার এখানে আগে আসতেন। আপনি বাড়িতে ডাক্তারী সায়েন্স-এর লেক্‌চার দিতেন, তিনি শুনতে আসতেন।

    ডাক্তার — বটে? লোকটার কি তমো! দেখলে (Kathamrita)— আমি নমস্কার করলুম as God’s Lower Third? আর ঈশ্বরের ভিতর তো (সত্ত্ব, রজঃ, তমঃ) সব গুণই আছে। ও কথাটা mark করেছিলে, ‘আপনি ডাক্তারের অহংকার বাড়াবার জন্য রোগ করে বসেছেন?’

    মাস্টার — মহিমা চক্তবর্তীর বিশ্বাস যে, পরমহংসদেব মনে করলে নিজে ব্যারাম আরাম করতে পারেন।

  • Ramakrishna 604: “হিন্দুদের দর্শন না পড়লে দর্শন পড়াই হয় না, সাংখ্যের চতুর্বিংশতি তত্ত্ব ইওরোপ জানে না—বুঝতেও পারে না”

    Ramakrishna 604: “হিন্দুদের দর্শন না পড়লে দর্শন পড়াই হয় না, সাংখ্যের চতুর্বিংশতি তত্ত্ব ইওরোপ জানে না—বুঝতেও পারে না”

    ৫২ শ্যামপুকুর বাটীতে ভক্তসঙ্গে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ

    চতুর্দশ পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৫, ২৪শে অক্টোবর
    শ্যামপুকুর বাটীতে নরেন্দ্র, ডাক্তার সরকার প্রভৃতি ভক্তসঙ্গে
    ডাক্তার সরকার ও সর্বধর্ম পরীক্ষা (Comparative Religion)

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna)—আর ‘যে কুছ্‌ হ্যায় তুঁহি হ্যায়।’

    ডাক্তার — আহা!

    গান সমাপ্ত হইল। ডাক্তার মুগ্ধপ্রায় হইয়াছেন।

    কিয়ৎক্ষণ পরে ডাক্তার অতি ভক্তিভাবে হাতজোড় করিয়া ঠাকুরকে বলিতেছেন, ‘তবে আজ যাই্‌, — আবার কাল আসব।’

    শ্রীরামকৃষ্ণ—একটু থাক না! গিরিশ ঘোষকে খপর দিয়েছে। (মহিমাকে দেখাইয়া) ইনি বিদ্বান হরিনামে নাচেন, অহংকার নাই। কোন্নগরে চলে গিছলেন (Kathamrita)— আমরা গিছলাম বলে; আবার স্বাধীন, ধনবান, কারু চাকরি করতে হয় না! (নরেন্দ্রকে দেখাইয়া) এ কেমন?

    ডাক্তার — খুব ভাল!

    শ্রীরামকৃষ্ণ — আর ইনি —

    ডাক্তার — আহা!

    মহিমাচরণ — হিন্দুদের দর্শন না পড়লে দর্শন পড়াই হয় না। সাংখ্যের চতুর্বিংশতি তত্ত্ব ইওরোপ জানে না — বুঝতেও পারে না।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (সহাস্যে) — কি তিন পথ তুমি বলো?

    মহিমা—সৎপথ—জ্ঞানের পথ। চিৎপথ, যোগের। কর্মযোগ। তাই চার আশ্রমের ক্রিয়া, কি কি কর্তব্য, এর ভিতর আসছে। আনন্দপথ—ভক্তিপ্রেমের পথ।—আপনাতে তিন পথেরই ব্যাপার — আপনি তিন পথেরই খপর বাতলে দেন! (ঠাকুর হাসিতেছেন)

    “আমি আর কি বলব? জনক বক্তা, শুকদেব শ্রোতা!”

    ডাক্তার বিদায় গ্রহণ করিলেন।

    সন্ধ্যার পর সমাধিস্থ—নিত্যগোপাল ও নরেন্দ্র—‘জপাৎ সিদ্ধি’

    সন্ধ্যার পর চাঁদ উঠিয়াছে। আজ কোজাগর পূর্ণিমার পরদিন, শনিবার, ৯ই কার্তিক। ঠাকুর সমাধিস্থ! দাঁড়াইয়া আছেন। নিত্যগোপালও তাঁহার কাছে ভক্তিভাবে দাঁড়াইয়া আছেন।

    ঠাকুর উপবিষ্ট হইয়াছেন — নিত্যগোপাল পদসেবা করিতেছেন। দেবেন্দ্র কালীপদ প্রভৃতি অনেকগুলি ভক্ত কাছে বসিয়া আছেন।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (দেবেন্দ্র প্রভৃতির প্রতি) — এমনি মনে উঠছে, নিত্যগোপালের এ-অবস্থাগুলো এখন যাবে,—ওর সব মন কুড়িয়ে আমাতেই আসবে — যিনি এর ভিতর আছেন, তাঁতে।

    “নরেন্দ্রকে দেখছো না?—সব মনটা ওর আমারই উপর আসছে!”

    ভক্তেরা অনেকে বিদায় লইতেছেন। ঠাকুর দাঁড়াইয়া আছেন। একজন ভক্তকে জপের কথা বলিতেছেন (Ramakrishna)— “জপ করা কি না নির্জনে নিঃশব্দে তাঁর নাম করা। একমনে নাম করতে করতে — জপ করতে করতে — তাঁর রূপদর্শন হয় — তাঁর সাক্ষাৎকার হয়। শিকলে বাঁধা কড়িকাঠ গঙ্গার গর্ভে ডুবান আছে — শিকলের আর-একদিক তীরে বাঁধা আছে। শিকলের এক-একটি পাপ (Link) ধরে ধরে গিয়ে ক্রমে ডুব মেরে শিকল ধরে যেতে ওই কড়ি-কাঠ স্পর্শ করা যায়! ঠিক সেইরূপ জপ করতে করতে মগ্ন হয়ে গেলে ক্রমে ভগবানের সাক্ষাৎকার হয়।”

    কালীপদ (সহাস্যে, ভক্তদের প্রতি) — আমাদের এ খুব ঠাকুর! — জপ-ধ্যান, তপস্যা করতে হয় না!

    ঠাকুরের (Ramakrishna) গলায় অসুখ করিতেছে। দেবেন্দ্র বলিতেছেন — “এ-কথায় আর ভুলি না।” দেবেন্দ্রের এই মনের ভাব যে ঠাকুর কেবল ভক্তদের ভুলাইবার জন্য অসুখ দেখাইতেছেন।

    ভক্তেরা (Kathamrita) বিদায় গ্রহণ করিলেন। রাত্রে কয়েকটি ছোকরা ভক্ত পালা করিয়া থাকিবেন। আজ মাস্টারও রাত্রে থাকিবেন।

  • Ramakrishna 603: “হরি-রস-মদিরা পিয়ে মম মানস মাতোরে! লুটায়ে অবনীতলে হরি হরি বলি কাঁদোরে”

    Ramakrishna 603: “হরি-রস-মদিরা পিয়ে মম মানস মাতোরে! লুটায়ে অবনীতলে হরি হরি বলি কাঁদোরে”

    ৫২ শ্যামপুকুর বাটীতে ভক্তসঙ্গে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ

    চতুর্দশ পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৫, ২৪শে অক্টোবর
    শ্যামপুকুর বাটীতে নরেন্দ্র, ডাক্তার সরকার প্রভৃতি ভক্তসঙ্গে
    ডাক্তার সরকার ও সর্বধর্ম পরীক্ষা (Comparative Religion)

    মাস্টার (ডাক্তারকে) — ইনি (মহিমা) খুব সাইয়েন্স্‌ পড়েছেন।

    ডাক্তার (সহাস্যে) — কি Maxmuller’s Science of Religion?

    মহিমা (শ্রীরামকৃষ্ণের প্রতি) — আপনার অসুখ, ডাক্তারেরা আর কি করবে? যখন শুনলাম যে আপনার অসুখ করেছে, তখন ভাবলাম যে ডাক্তারের অহংকার বাড়াচ্ছেন।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna)— ইনি খুব ভাল ডাক্তার। আর খুব বিদ্যা।

    মহিমাচরণ — আজ্ঞা হাঁ, উনি জাহাজ, আর আমরা সব ডিঙ্গি।

    ডাক্তার বিনীত হইয়া হাতজোড় করিতেছেন।

    মহিমা — তবে ওখানে (ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণের কাছে) সবাই সমান।

    ঠাকুর নরেন্দ্রকে গান গাইতে বলিতেছেন (Kathamrita)।

    নরেন্দ্রের (Ramakrishna)  গান:

    (১)   —   তোমারেই করিয়াছি জীবনের ধ্রুবতারা।

    (২)   —   অহংকারে মত্ত সদা, অপার বাসনা।

    (৩)   —   চমৎকার অপার, জগৎ রচনা তোমার!
    শোভার আগার বিশ্ব সংসার!

    (৪)   —   মহা সিংহাসনে বসি শুনেছি হে বিশ্বপতিঃ
    তোমারি রচিত ছন্দ মহান বিশ্বের গীত।
    মর্ত্যের মৃত্তিকা হয়ে, ক্ষুদ্র এই কণ্ঠ লয়ে,
    আমিও দুয়ারে তব, হয়েছি হে উপনীত।
    কিছু নাহি চাহি দেব, কেবল দর্শন মাগি,
    তোমারে যথা রবি শশী, সেই সভা মাঝে বসি,
    একান্তে গাইতে চাহে এই ভকতের চিত।

    (৫)   —   ওহে রাজরাজেশ্বর, দেখা দাও!
    করুণাভিখারী আমি করুণা কটাক্ষে চাও ৷৷
    চরণে উৎসর্গ দান, করিতেছি এই প্রাণ,
    সংসার-অনলকুণ্ডে ঝলসি গিয়াছে তাও ৷৷
    কলুষ-কলঙ্কে তাহে আবরিত এ-হৃদয়;
    মোহে মুগ্ধ মৃতপ্রায়, হয়ে আছি দয়াময়,
    মৃতসঞ্জীবনী মন্ত্রে শোমৃ ন করিয়ে লও ৷৷

    (৬)   —   হরি-রস-মদিরা পিয়ে মম মানস মাতোরে!
    লুটায়ে অবনীতলে হরি হরি বলি কাঁদোরে ৷৷

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna)—আর ‘যে কুছ্‌ হ্যায় তুঁহি হ্যায়।’

    ডাক্তার — আহা!

    গান সমাপ্ত হইল। ডাক্তার মুগ্ধপ্রায় হইয়াছেন।

    কিয়ৎক্ষণ পরে ডাক্তার অতি ভক্তিভাবে হাতজোড় করিয়া ঠাকুরকে বলিতেছেন, ‘তবে আজ যাই্‌, — আবার কাল আসব।’

    শ্রীরামকৃষ্ণ—একটু থাক না! গিরিশ ঘোষকে খপর দিয়েছে। (মহিমাকে দেখাইয়া) ইনি বিদ্বান হরিনামে নাচেন, অহংকার নাই। কোন্নগরে চলে গিছলেন (Kathamrita)— আমরা গিছলাম বলে; আবার স্বাধীন, ধনবান, কারু চাকরি করতে হয় না! (নরেন্দ্রকে দেখাইয়া) এ কেমন?

  • Chaitra Navratri 2026: আজ থেকে শুরু হল চৈত্র নবরাত্রি, ন’দিনে ন’টি রূপে পূজিত হন দেবী দুর্গা

    Chaitra Navratri 2026: আজ থেকে শুরু হল চৈত্র নবরাত্রি, ন’দিনে ন’টি রূপে পূজিত হন দেবী দুর্গা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ (বাংলায় ৪ চৈত্র, ১৪৩২) থেকে শুরু হল চৈত্র নবরাত্রি (Chaitra Navratri 2026)। এদিন থেকে হিন্দু নববর্ষেরও সূচনা হয়। এবছর চৈত্র মাসের নবরাত্রি ১৯ মার্চ থেকে শুরু হয়ে শেষ হবে ২৭ মার্চ রামনবমীর (Ramnavami) সঙ্গে। এই নয় দিন ধরে মা দুর্গার নয়টি রূপের পুজো করা হয়। শারদীয়া দুর্গোৎসবের জাঁকজমক এখন বিশ্বজনীন হলেও, শাস্ত্র মতে বাঙালির আদি পুজো কিন্তু এই বাসন্তী পুজোই। রাজা সুরথ ও বৈশ্য সমাধি প্রথম চৈত্র মাসেই মৃন্ময়ী রূপে চিন্ময়ীর আরাধনা করেছিলেন। চৈত্র মাসের দুর্গাপুজো বসন্তকালে হয় বলে একে বাসন্তীপুজোও (Basanti Puja) বলা হয়। তবে এই দিনগুলোর মধ্যে মহাঅষ্টমী এবং মহানবমী সবচেয়ে বিশেষ বলে মনে করা হয়। বাংলায় বাসন্তী পুজো তিনদিন ধরে হলেও, মহাষ্টমীর বিশেষ আকর্ষণ অন্নপূর্ণা পুজো (Annapurna Puja)। চৈত্রের এই নবরাত্রির নবম দিনে জন্মগ্রহণ করেছিলেন ভগবান শ্রীরাম। সেই থেকে এই দিনটি রামনবমী হিসেবে খ্যাত। ফলে, নবরাত্রির দিনগুলোতে বাংলা সহ দেশজুড়ে থাকে উৎসবের আসর।

    নবরাত্রির কোন দিনে কী পুজো

    শারদীয়া নবরাত্রিই হোক কিংবা চৈত্র নবরাত্রি এই দুই পর্বেই আদ্যাশক্তির বিভিন্ন রূপের পুজো হয়। হিন্দুদের বিশ্বাস অনুযায়ী, চৈত্র নবরাত্রিতে (Chaitra Navratri 2026) নিয়মনিষ্ঠা মেনে যাঁরা দেবীর ন’টি রূপের পুজো করেন, তাঁরা যা চান, দেবী তাঁদের মনস্কামনা পূরণ করেন।

    প্রতিপদে মাতা শৈলপুত্রীর পুজো – ১৯ মার্চ, বৃহস্পতিবার

    নবরাত্রির প্রথম দিনে মাতা শৈলপুত্রীর পুজো করা হয়। দেবীর নামের অর্থ “পাহাড়ের কন্যা”। তাঁর ভক্তদের বিশ্বাস-মাতা শৈলপুত্রীর আশীর্বাদ স্বরূপ সুস্থ, রোগমুক্ত জীবন পাওয়া যায়। মাতার নৈবেদ্যতে খাঁটি ঘি অর্পণ করা হয়। এই দেবীর আরাধনায় মূলাধার চক্র শুদ্ধ হয়।

    দ্বিতীয়ায় মাতা ব্রহ্মচারিণীর পুজো – ২০ মার্চ, শুক্রবার

    নবরাত্রির (Chaitra Navratri 2026) দ্বিতীয় দিনে এই দেবীর পুজো হয়। ব্রহ্মচারিণী মাতাকে খুশি করতে ভক্তরা চিনি নিবেদন করে থাকেন। বিশ্বাস মতে, মাতা তাঁর ভক্তদের দীর্ঘায়ু প্রদান করেন। এই দেবীর উপাসনার দ্বারা সাধিস্তান চক্র শুদ্ধ হয় হয় বলে ভক্তরা মনে করে।

    তৃতীয়ায় মাতা চন্দ্রঘণ্টার পুজো – ২১ মার্চ, শনিবার

    তৃতীয় দিনে মাতা চন্দ্রঘণ্টার প্রতি ভক্তি নিবেদন করা হয়। এই দেবীর বাহন বাঘ। উগ্র মূর্তি এই দেবীকে ক্ষীর ভোগ অর্পণ করেন ভক্তরা। ভক্তদের বিশ্বাস, দেবী সমস্ত অশুভ শক্তির বিনাশ করেন এবং যাবতীয় বাধা বিঘ্ন দূর করেন।

    চতুর্থীতে মাতা কুষ্মাণ্ডার পুজো- ২২ মার্চ, রবিবার

    চতুর্থ দিনে মাতা কুষ্মান্ডার প্রতি ভক্তি নিবেদিত হয়‌। শাস্ত্র মতে, এই দেবী মহাবিশ্বের স্রষ্টা। তিনি তাঁর ভক্তদের জ্ঞানদানের দ্বারা বৌদ্ধিক বিকাশ ঘটান এবং কর্মক্ষেত্রে জটিলতা দূর করেন। দেবীকে মালপোয়া ভোগ অর্পণ করা হয়।

    পঞ্চমীতে মাতা স্কন্ধমাতার পুজো- ২৩ মার্চ, সোমবার

    নবরাত্রির (Chaitra Navratri 2026) পঞ্চম দিনে মাতা স্কন্দমাতার আরাধনা করেন ভক্তরা। ভগবান কার্তিককে কোলে নিয়ে উপবিষ্ট এই দেবীর আশীর্বাদ পেতে ভক্তরা কলা নিবেদন করেন। দেবীর আশীর্বাদে ভক্তের জীবনে পরম সুখ ও শান্তি আসে বলে বিশ্বাস।

    ষষ্ঠীতে মাতা কাত্যায়নীর পুজো- ২৪ মার্চ, মঙ্গলবার

    ঋষি কাত্যায়নের কন্যা, শক্তির প্রতীক তথা যোদ্ধা দেবী কাত্যায়নী মাতার পুজো নবরাত্রির ষষ্ঠ দিনে সম্পন্ন হয়। ভক্তদের তিনি শক্তি, ধর্ম ও জাগতিক সুখ প্রদান করেন বলে বিশ্বাস। তাঁকে ভক্তদের মধু নিবেদনের রীতি চালু রয়েছে।

    সপ্তমীতে মাতা কালরাত্রির পুজো- ২৫ মার্চ, বুধবার

    সপ্তমী পুজো হয় মাতা কালরাত্রি দেবীর। দেবী ত্রিশূলধারী। মাতা কালরাত্রির আশীর্বাদে জীবনের সমস্ত কুপ্রভাব বিনষ্ট হয় বলে ভক্তদের ধারণা। মাতাকে গুড় নিবেদন করা হয়।

    অষ্টমীতে মাতা মহাগৌরীর পুজো- ২৬ মার্চ, বৃহস্পতিবার

    উজ্জ্বল সৌন্দর্যের প্রতীক মহাগৌরী দেবী অষ্টমীতে ভক্তদের দ্বারা আরাধিত হন। মাতা মহাগৌরীর একহাতে ত্রিশূল ও অপর হাতে ডমরু থাকে। তাঁর নৈবেদ্যতে নারকেল রাখার রীতি রয়েছে। বিশ্বাস রয়েছে, মাতার আশীর্বাদ স্বরূপ ভক্তদের ভালো বিবাহ হয়।

    নবমীতে মাতা সিদ্ধিদাত্রীর পুজো- ২৭ মার্চ, শুক্রবার

    নবরাত্রির শেষদিনে পুজো হয় এই দেবীর। তিনি ভক্তদের জীবনে সমস্ত অশুভ প্রভাব বিনষ্ট করেন এবং সাফল্য আনেন বলে ভক্তদের ধারণা। মাতা সিদ্ধিদাত্রীকে ভক্তরা তিল নিবেদন করে থাকেন।

    বাসন্তী পুজো কবে পড়ছে

    এদিকে, এই নবরাত্রির (Chaitra Navratri 2026) সপ্তমী থেকে দশমী পর্যন্ত সময়ে বাংলার বহু এলাকায় বাসন্তী পুজো (Basanti Puja) পালিত হয়। একনজরে দেখে নেওয়া যাক, এই বাসন্তী পুজোর তারিখ ও সময়কাল – বাসন্তীপুজোর ষষ্ঠী ২৪ মার্চ, মঙ্গলবার। বাসন্তীপুজোর নিয়মকানুন সব দুর্গাপুজোর মতো হলেও, এই পুজোয় দেবীর বোধন হয় না। সপ্তমীর পুজো ২৫ মার্চ, বুধবার। অষ্টমীর পুজো ২৬ মার্চ, বৃহস্পতিবার। অষ্টমী তিথি শুরু হচ্ছে ২৫ মার্চ দুপুর ১টা ৫১ মিনিটে এবং শেষ হবে ২৬ মার্চ সকাল ১১টা ৪৯ মিনিটে। বাসন্তী পুজোর নবমী ২৭ মার্চ, শুক্রবার পড়েছে। ২৬ মার্চ সকাল ১১টা ৪৯ মিনিটের পর নবমী তিথি শুরু হয়ে যাবে, যা ২৭ মার্চ সকাল ১০টা ৮ মিনিট পর্যন্ত থাকবে। বাসন্তী বিজয়া দশমী ২৮ মার্চ শনিবার।

    অন্নপূর্ণা পুজো কবে

    চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষের অষ্টমী তিথিতে বাংলার ঘরে ঘরে পালিত হয় অন্নপূর্ণা পুজো (Annapurna Puja)। এবছর অন্নপূর্ণা পুজো পড়েছে ২৬ মার্চ, বৃহস্পতিবার। বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণের মধ্যে এই পুজোটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ মা অন্নপূর্ণা হলেন অন্ন ও পুষ্টির অধিষ্ঠাত্রী দেবী। তাঁর কৃপায় সংসারে কোনওদিন খাবারের অভাব হয় না—এমনই বিশ্বাস ভক্তদের হৃদয়ে। দেবী অন্নপূর্ণা হলেন প্রকৃতি মার রূপ যিনি সমস্ত জীবকে লালন-পালন করেন। বিশ্বাস করা হয় যে কাশীতে, ভগবান শিব দেবী পার্বতীর কাছ থেকে ভিক্ষার পাত্রে খাবার গ্রহণ করেছিলেন। দেবী অন্নপূর্ণা আমাদের লালন-পালন করেন এবং আত্ম-উপলব্ধির জন্য প্রস্তুত করেন। অন্নপূর্ণা পুজো সকল জীবের কল্যাণের জন্য করা হয়।

LinkedIn
Share