Mohan Bhagwat: “সংস্কৃত ভাষা আমাদের ভারতকে বুঝতে সাহায্য করে”, বললেন ভাগবত

Sanskrit enables us to understand bharat says rss sarsanghchalak mohan bhagwat

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “সংস্কৃত (Sanskrit) ভাষা জানা আমাদের ভারতকে বুঝতে সাহায্য করে”, বললেন আরএসএসের সরসংঘচালক মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat)। আজ, ২০ এপ্রিল ২০২৬-এ ডিডিইউ মার্গে সংস্কৃত ভারতীর কার্যালয় ‘প্রণবে’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কথাগুলি বলেন তিনি। ভাগবত বলেন, “‘প্রণব’ নামে নতুন কার্যালয়ের এই উদ্বোধন একটি শুভ মুহূর্তে হচ্ছে। এটি আমাদের সবার জন্য আনন্দ ও উৎসাহের বিষয়। বিশ্বাস করা হয় যে অক্ষয় তৃতীয়ায় শুরু করা যে কোনও কাজ স্থায়ী ও সফল হয়।”

সংস্কৃত ভারতের প্রাণশক্তি (Mohan Bhagwat)

তিনি বলেন, “সংস্কৃত ভারতের প্রাণশক্তি, কারণ চিন্তা, জীবন ও সংস্কৃতির প্রাচীনতম জীবন্ত ঐতিহ্য এখনও এর মাধ্যমে বিদ্যমান। ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এমন এক ধারার প্রতিনিধিত্ব করে যা জীবিত ও জড়—সমগ্র বিশ্বব্রহ্মাণ্ডকে ধারণ করে। এই কর্তব্য পালন করতে হলে ভারতকে জানতে, গ্রহণ করতে এবং নিজেকে ভারতের অংশ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।” সমবেত শ্রোতাদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ভাগবত বলেন, “সংস্কৃত একটি ভাষা হলেও, এটি শুধু ভাষা নয়। আপনি যদি সংস্কৃত জানেন, তবে যে কোনও ভারতীয় ভাষা বোঝা সম্ভব। ভারতে সংস্কৃত জাতির আত্মা, কারণ এটি চিন্তা, জীবন ও সংস্কৃতির প্রাচীনতম ঐতিহ্য, যা আজও জীবন্ত (Sanskrit)।”

ভারত একটি জীবন্ত ঐতিহ্য

তিনি ভারতের দার্শনিক ধারণা ব্যাখ্যা করে বলেন, “ভারতের অস্তিত্ব শুধু ভৌগোলিক নয়, এটি কেবল রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক সত্তাও নয়। ভারত একটি জীবন্ত ঐতিহ্য, যার ওপর জীবনের ধারাবাহিকতা নির্ভর করে।” সরসংঘচালক বলেন, “শৈশবে স্কুলে সংস্কৃত শেখা কঠিন মনে হত। পাঠ্যক্রমে ‘শ্লোক’ মুখস্থ করতে হত, যা ভাষাটিকে কঠিন বলেই মনে করাত। কিন্তু বাড়িতে যখন সেই একই শ্লোক শুনতাম, তখন তা আর কঠিন বলে মনে হত না।” আরএসএস কর্তা বলেন, “আজও এই সমস্যাটি রয়ে গিয়েছে। শিক্ষার্থীরা সংস্কৃতকে কঠিন মনে করে। কিন্তু প্রশ্ন হল, কেন? বাস্তবে ভাষা শেখার সবচেয়ে সহজ ও কার্যকর উপায় হল কথোপকথন, বই নয় (Sanskrit)।”

কথোপকথনই ভাষা শেখার সেরা উপায়

তিনি বলেন, “কথোপকথনই ভাষা শেখার সেরা উপায়, ব্যাকরণ নয়। আমি যখন ভারতের বিভিন্ন স্থানে ভ্রমণ করি, স্থানীয় ভাষার সব শব্দ না জানলেও মূল ভাব বুঝতে পারি। নিয়মিত শোনা ও বলার মাধ্যমে ভাষা স্বাভাবিকভাবে শেখা যায়। তাই ভাষা শেখার সর্বোত্তম উপায় হল সেই ভাষাভাষীদের মধ্যে থাকা, তাদের কথা শোনা এবং নিজেও বলা (Mohan Bhagwat)।” সংস্কৃত ভারতীর প্রশংসা করে ভাগবত বলেন, “এই সংগঠন অল্প সময়ের মধ্যে সারা দেশে সংস্কৃতের প্রতি আগ্রহ বাড়াতে সক্ষম হয়েছে এবং কথোপকথন পদ্ধতিতে ভাষাটিকে জনপ্রিয় করেছে।” তিনি আরও বলেন, “গত ১৫ বছরে সমাজে সংস্কৃতের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির বড় পরিবর্তন দেখা গিয়েছে। পরিবর্তিত পরিস্থিতি মানুষকে তাদের সাংস্কৃতিক শেকড়ের সঙ্গে ফের যুক্ত করছে, ফলে সংস্কৃত শেখা ও বোঝার সুযোগ তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।” তিনি বলেন, “নতুন কার্যালয় নির্মাণ অবশ্যই আনন্দের বিষয়। তবে মনে রাখতে হবে, কার্যালয় কাজের কারণ নয়, বরং কাজের বিস্তারের ফল।”

সংস্কৃত সংরক্ষণ

এই উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, “অক্ষয় তৃতীয়ার পবিত্র দিবসে ‘প্রণব’ নামে সংস্কৃত ভারতীর নতুন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের উদ্বোধনের খবর জেনে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। এটি ভারতের জ্ঞান, সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিকতার পুনর্জাগরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ (Mohan Bhagwat)।” তিনি এও বলেন, “সংস্কৃত আমাদের প্রাচীন ও সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের বাহক। এর মধ্যে বিজ্ঞান, দর্শন-সহ নানা জ্ঞানের ধারাবাহিক প্রবাহ রয়েছে, যা মানবতার পক্ষে আশীর্বাদস্বরূপ। সংস্কৃতের (Sanskrit) মহিমা অসীম।” প্রধানমন্ত্রী মনে করিয়ে দেন, গত ১১ বছরে সংস্কৃত সংরক্ষণ ও প্রচারে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং নতুন শিক্ষা নীতিতে ভারতীয় ভাষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সংস্কৃত ভবিষ্যতেরও ভাষা

তিনি বলেন, “সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে আমি ‘সুভাষিত’ শেয়ার করে শাস্ত্রের জ্ঞান মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছি। তরুণদের মধ্যে এ বিষয়ে আগ্রহ বাড়ছে। সংস্কৃত শুধু অতীতের ভাষা নয়, বর্তমান এবং ভবিষ্যতেরও ভাষা।” প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ভাষার শিক্ষা ও প্রসারের মাধ্যমে ভারতের সাংস্কৃতিক (Sanskrit) আত্মা নতুন শক্তি লাভ করবে। সংস্কৃত ভারতীর সকল কর্মীদের নিষ্ঠা এবং সংস্কৃত ভাষার উন্নয়নে তাঁদের প্রচেষ্টা প্রশংসনীয় (Mohan Bhagwat)।” তাঁর আশা, ‘প্রণব’ কার্যালয়ের উদ্বোধন এই যাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হবে।

 

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share