Tag: mohan bhagwat

mohan bhagwat

  • RSS: ভারতীয় সমাজে বিভেদ-অবিশ্বাস ছড়ানোর চেষ্টা করছে কিছু শক্তি, অভিযোগ আরএসএস নেতার

    RSS: ভারতীয় সমাজে বিভেদ-অবিশ্বাস ছড়ানোর চেষ্টা করছে কিছু শক্তি, অভিযোগ আরএসএস নেতার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় সমাজে বিভেদ তৈরি করা এবং দেশের গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক ব্যবস্থা ও সেনাবাহিনীর প্রতি মানুষের আস্থায় চিড় ধরানোর চেষ্টা করছে কিছু শক্তি। বুধবার মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (RSS) এক কর্মী সমাবেশে এমনই অভিযোগ করলেন সঙ্ঘের সহ-সরকার্যবাহ অতুল লিমায়ে। তাঁর দাবি, নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করা এই শক্তিগুলির (Social Divide) মোকাবিলা করতে জাতীয়তাবাদী ভাবধারা প্রচারের জন্য নিজস্ব পরিকাঠামো গড়ে তুলতে হবে। ইন্দোরে ‘চরৈবেতি একত্রীকরণ’ নামে আয়োজিত ওই সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে লিমায়ে বলেন, কোনও দেশকে উন্নতির শিখরে পৌঁছতে হলে সমাজে সম্প্রীতি বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। নাগরিক কর্তব্য পালনের পাশাপাশি গণতন্ত্র, সংবিধান, সশস্ত্র বাহিনী এবং বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের বিশ্বাস ও আস্থা থাকা প্রয়োজন।

    কোনও ব্যক্তি, রাজনৈতিক দল বা সংগঠনের নাম না করেই তিনি অভিযোগ করেন, “কিছু শক্তি এখন সমাজের মানসিকতায় প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করছে। ছোটখাটো মতপার্থক্যকে বড় করে দেখানো হচ্ছে, নানা বিতর্ক উসকে দেওয়া হচ্ছে। সমাজের এক অংশের সঙ্গে অন্য অংশের বিরোধ তৈরি করার চেষ্টা চলছে।” লিমায়ের দাবি, দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের মধ্যে অবিশ্বাস তৈরি করাই এই শক্তিগুলির উদ্দেশ্য। তাঁর বক্তব্য, ছাপা সংবাদমাধ্যম, বৈদ্যুতিন সংবাদমাধ্যম, সোশ্যাল মিডিয়া ও ডিজিটাল মাধ্যমের পাশাপাশি শিক্ষাক্ষেত্র, শিল্পকলা এবং সাহিত্যের মাধ্যমেও জনজীবনে প্রভাব বিস্তারের জন্য তারা নিজস্ব পরিকাঠামো তৈরি করেছে।

    ধর্মান্তরণ ও জনবিন্যাসের পরিবর্তন নিয়েও উদ্বেগ (RSS)

    সমসাময়িক বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরে লিমায়ে ধর্মান্তরণ, জনবিন্যাসের পরিবর্তন এবং বিদেশি অর্থসাহায্যে পরিচালিত এমন কিছু আন্দোলনের প্রসঙ্গের উল্লেখ করেন, যেগুলি তাঁর মতে সামাজিক জীবনে বিভাজন তৈরি করছে। সীমান্তবর্তী ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলিতে জনবিন্যাসের পরিবর্তন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। আরএসএসের এই নেতার বক্তব্য, সমাজে বিভেদ সৃষ্টিকারী শক্তিগুলিকে প্রতিহত করতে হলে জাতীয়তাবাদী চিন্তাধারার প্রসার ঘটাতে হবে। সেই লক্ষ্যে নিজস্ব বক্তব্য ও জনমত গড়ে তোলার উপরেও জোর দেন তিনি।লিমায়ে বলেন, “আমাদের নিজস্ব বয়ান তৈরি করতে হবে। তার জন্য শিক্ষাক্ষেত্র ও বৌদ্ধিক পরিসরে কাজ করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রচলিত ধারণা ও আলোচনার ক্ষেত্রেও সক্রিয় হতে হবে।” তাঁর দাবি, শিক্ষাজগৎ, সাহিত্য, শিল্পকলা, সংবাদমাধ্যম এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় জাতীয়তাবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী বহু প্রভাবশালী ব্যক্তি রয়েছেন। তাঁদের সঙ্গে সমন্বয় গড়ে তুলে সামাজিক ঐক্য বজায় রাখা এবং উন্নত ভারত গঠনের লক্ষ্যে নিজস্ব ব্যবস্থা তৈরি করতে আরএসএসের (RSS) স্বেচ্ছাসেবকদের আহ্বান জানান তিনি।

    ইন্দোরে আরএসএসের বার্ষিক বৈঠক

    এমন এক সময়ে ইন্দোরে আরএসএসের কর্মীদের এই সমাবেশ হল, যখন সংগঠনটির সর্বোচ্চ সাংগঠনিক সংস্থা অখিল ভারতীয় কার্যকরী মণ্ডলের বার্ষিক বৈঠক আগামী ২ থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত মধ্যপ্রদেশের এই শহরেই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। তিনদিনের ওই বৈঠকে আরএসএসের প্রধান মোহন ভাগবত-সহ সারা দেশ থেকে প্রায় ৪৫০ জন পদাধিকারী যোগ দেবেন বলে সংগঠন সূত্রে জানা গিয়েছে (Social Divide)। সঙ্ঘের (RSS) কর্মকর্তাদের মতে, সংগঠনের প্রতিষ্ঠার শতবর্ষ উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচির পর্যালোচনা হবে এই বৈঠকে। পাশাপাশি নতুন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বিষয়বস্তু, দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপ, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং মাদক সমস্যার মতো বিষয় নিয়েও আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

     

  • Mohan Bhagwat: ‘পশ্চিম থেকে আসছে ঝড়’, ভারতকে নিয়ে বড় সতর্কবার্তা আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের

    Mohan Bhagwat: ‘পশ্চিম থেকে আসছে ঝড়’, ভারতকে নিয়ে বড় সতর্কবার্তা আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতকে ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা সফল হবে না। ক্ষমতার পালাবদল হলেই পরিস্থিতি বদলে যাবে, এমন ধারণাও ভুল। মঙ্গলবার নাগপুরে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (RSS) বিজয়াদশমী উৎসবে ভাষণ দিতে গিয়ে এই মন্তব্য করলেন সঙ্ঘপ্রধান মোহন ভাগবত। তাঁর দাবি, ভারতের উন্নয়ন ও দৃঢ় নীতির অগ্রগতিতে বাধা দিতে একাধিক শক্তি সক্রিয় রয়েছে। একইসঙ্গে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আন্দোলন দেশে অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে এসআইআর (SIR) সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগে চলা প্রতিবাদের আবহে ভাগবতের এই বক্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

    ‘পশ্চিম থেকে আসছে ঝড়’, ভারতকে নিয়ে সতর্কবার্তা ভাগবতের

    ভাগবতের বক্তব্য, ভারত ক্রমশ এগিয়ে চলেছে বলেই দেশকে বিপথে চালিত করার চেষ্টা করছে কিছু শক্তি। তাঁর কথায়, গত কয়েক দশকে দৃঢ় নীতি ও সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ভারত যে অগ্রগতি করেছে, তা ব্যাহত করাই তাদের লক্ষ্য। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভারতকে ভেঙে দেওয়ার পাশাপাশি সঙ্ঘকেও দুর্বল করার চেষ্টা চলছে।

    সঙ্ঘপ্রধানের কথায়, “পশ্চিম দিক থেকে একটি ঝড় আসছে, যা সংস্কৃতি, ব্যবস্থা ও নিরাপত্তাকে ঘৃণা করে। এই শক্তি ধ্বংস করতে চায়।” তাঁর দাবি, বিশ্বের একাধিক শক্তি চায় না ভারত নিজের উন্নয়নের লক্ষ্যে এগিয়ে যাক। এই পরিস্থিতিতে সমাজকে সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ থাকার বার্তা দিয়েছেন তিনি।

    নিজের বক্তব্যের সমর্থনে ফ্রান্স, বাংলাদেশ ও নেপালের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন ভাগবত। বাংলাদেশে ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের জেরে শেখ হাসিনার সরকারের পতন এবং ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে নেপালে জেন-জি আন্দোলনের পর কেপি শর্মা ওলির সরকারের পতনের উদাহরণ দেন তিনি। ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, জনপরিষেবার অবনতি ও শিক্ষাক্ষেত্রের সংস্কারকে ঘিরে বিক্ষোভের কথাও উল্লেখ করেন।

    ভাগবতের অভিযোগ, ভারতে এমন কিছু মানুষ রয়েছেন, যাঁরা এই শক্তিগুলির উদ্দেশ্যের সঙ্গে সহমত পোষণ করেন। তাঁদের একাংশের মধ্যে ক্ষমতার লোভ রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    আন্দোলন নয়, সমাজের ভিতর থেকেই সমাধানের বার্তা

    রাজনৈতিক প্রতিবাদ ও আন্দোলনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন আরএসএস প্রধান। তাঁর বক্তব্য, আন্দোলন করলেই সমস্যার সমাধান হয় না। বরং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত বা উসকানিমূলক বিক্ষোভের ফলে উত্তেজনা, অরাজকতা এবং জনজীবনে বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে।

    তাঁর মতে, সমস্যার সমাধান খুঁজতে হবে সমাজের ভিতর থেকেই। প্রতিবাদের মাধ্যমে পরিস্থিতি বদলানোর পরিবর্তে সামাজিক ঐক্য ও দায়িত্ববোধের উপর জোর দিয়েছেন তিনি।

    এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে এসআইআর প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ চলছে। এর আগে সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ বলেছিলেন, দিল্লিতে এই প্রতিবাদ ক্রমশ ‘সরকার পরিবর্তনের লড়াই’-এ পরিণত হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়।

    বিজেপির তরফে এই মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করা হয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং অভিযোগ করেন, কিছু গোষ্ঠী তরুণদের ব্যবহার করে দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে। বিজেপির মুখপাত্র সি আর কেশবনও দাবি করেন, সরকার ফেলার উদ্দেশ্য আড়াল করতেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকে ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে এই অভিযোগগুলির প্রেক্ষিতে বিরোধীদের অবস্থান নিয়ে প্রতিবেদনে পৃথক কোনও বক্তব্য দেওয়া হয়নি।

    উন্নয়ন বনাম পরিবেশ, ভারসাম্যের উপর জোর

    রাজনৈতিক বক্তব্যের পাশাপাশি উন্নয়নের মডেল নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন ভাগবত। তাঁর মতে, ভারতকে এমন উন্নয়নের পথ দেখাতে হবে, যা মানবসমাজের জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠবে না। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতি জরুরি হলেও পরিবেশ এবং নৈতিকতার প্রশ্নকে উপেক্ষা করা চলবে না।

    ভারতের ধর্মীয়, ভাষাগত ও খাদ্যাভ্যাসের বৈচিত্র্যকে সম্মান ও সুরক্ষিত রাখার উপরও জোর দিয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, দেশের বৈচিত্র্যকে স্বীকার করেই সামাজিক ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।

    উন্নয়ন ও পরিবেশের ভারসাম্য বোঝাতে নেপালের সাম্প্রতিক বন্যার প্রসঙ্গ টানেন সঙ্ঘপ্রধান। হিমালয় অঞ্চলে ভারত, নেপাল ও চিন—তিন দেশের ক্ষেত্রেই অপরিকল্পিত উন্নয়ন নতুন সমস্যা তৈরি করছে বলে সতর্ক করেন তিনি। তাঁর মতে, উন্নয়নের মূল্য যেন মানুষের প্রাণ দিয়ে চোকাতে না হয়, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

    সব মিলিয়ে, বিজয়াদশমীর ভাষণে মোহন ভাগবতের বক্তব্যে উঠে এসেছে তিনটি প্রধান বিষয়—ভারতের অগ্রগতির পথে বাধা সৃষ্টির আশঙ্কা, রাজনৈতিক আন্দোলনের পরিবর্তে সমাজের ভিতর থেকে সমস্যার সমাধান এবং পরিবেশ ও নৈতিকতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা। নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে চলা বিতর্কের আবহে তাঁর রাজনৈতিক মন্তব্যও নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।

  • Bhagwat-Suvendu Meeting: বর্ধমানে মোহন ভাগবতের সঙ্গে বৈঠক শুভেন্দুর, এক ঘণ্টায় নানা বিষয়ে আলোচনা

    Bhagwat-Suvendu Meeting: বর্ধমানে মোহন ভাগবতের সঙ্গে বৈঠক শুভেন্দুর, এক ঘণ্টায় নানা বিষয়ে আলোচনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat)-এর সঙ্গে বিশেষ বৈঠক করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। পশ্চিমবঙ্গে সংগঠনকে মজবুত করতে তিন দিনের রাজ্য সফরে এসেছেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবত। বৃহস্পতিবার থেকে বর্ধমানের উল্লাসের মধ্যবঙ্গ প্রান্ত কার্যালয়ে শুরু হয়েছে সাংগঠনিক ‘একত্রীকরণ’ কর্মসূচি ও সাংগঠনিক বৈঠক। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পশ্চিমবঙ্গে আরএসএসের বিস্তার কেমন, শাখার সংখ্যা বাড়ছে কি না, মূলত সেটাই বুঝতে চাইছেন ভাগবত।

    নানা বিষয়ে আলোচনা ভাগবত-শুভেন্দুর

    বৃহস্পতিবার, রাতে বর্ধমানের আরএসএস কার্যালয়ে গিয়ে মোহন ভাগবতের সঙ্গে বৈঠক করেন শুভেন্দু। প্রায় এক ঘণ্টা রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয় দু’জনের। সূত্রের খবর, রাজ্য সরকারের গত পাঁচ মাসের কাজকর্ম থেকে শুরু করে সাংগঠনিক বিষয়, একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গে আলোচনা হয়েছে। সূত্রের খবর, রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর গত পাঁচ মাসে কী কী গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করা হয়েছে, তার বিস্তারিত তথ্য মোহন ভাগবতের সামনে তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত এবং উন্নয়নমূলক কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে পাশাপাশি, রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর আরএসএস-এর প্রতি সাধারণ মানুষের আগ্রহ বাড়ছে বলেও বৈঠকে আলোচনা হয়। যাঁরা সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হতে আগ্রহী, তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয় কীভাবে আরও বাড়ানো যায়, তা নিয়েও কথা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। তাঁর সঙ্গে বৈঠক সেরে রাত ৯টার পর বর্ধমান থেকে কলকাতার উদ্দেশে রওনা দেন মুখ্যমন্ত্রী।

    গীতা পাঠের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ, দুর্গাপুজো থেকে সংখ্যালঘু প্রসঙ্গ

    শুধু সাংগঠনিক বিষয় নয়, রাজ্যের বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। কলকাতার পাশাপাশি জেলার দুর্গাপুজোগুলিকেও আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়ে কথা হয়েছে। এছাড়া, রাজ্যের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উন্নয়নের দিকে বিশেষ নজর দেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় উঠে এসেছে বলে সূত্রের খবর। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো এবং সামাজিক উন্নয়নমূলক উদ্যোগের প্রসঙ্গেও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। আগামী ২৯ ডিসেম্বর কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে গীতা পাঠের কর্মসূচি রয়েছে। সেই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার জন্য মোহন ভাগবতকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

    সেবামূলক কর্মসূচির উপর জোর

    এদিন সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের দায়িত্বপ্রাপ্তদের সঙ্গেও মত বিনিময় করেন ভাগবত। সূত্রের দাবি, রাজ্যে সেবামূলক কর্মসূচির সংখ্যা আরও বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন মোহন ভাগবত। সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছতে সমাজসেবামূলক কাজের উপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন তিনি। বৃহস্পতিবার উল্লাসের প্রান্ত কার্যালয়ে কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার পরে বিকেলে বর্ধমান মডেল স্কুলেও একটি সাংগঠনিক কর্মসূচিতে অংশ নেন ভাগবত। সেখানে আরএসএসের মুখ্য শিক্ষক ও কার্যবাহীদের নিয়ে কিছু সময় শরীরচর্চা করেন এবং তাঁদের সঙ্গে সঙ্ঘের বিস্তার নিয়ে আলোচনা করেন। এখানে মূলত একত্রীকরণ কর্মসূচি’ ছিল সঙ্ঘ প্রধানের।

    ১০২তম প্রতিষ্ঠা দিবসের আগেই রাজ্যে ভাগবত

    আরএসএস সূত্রে খবর, বৈঠকে সংঘের প্রতিনিধিদের আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ভাগবত। আরও দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে বলেছেন। ১৯২৫ সালের বিজয়া দশমীতে সংঘের প্রতিষ্ঠা। ২০২৫ সাল জুড়ে গোটা দেশে ‘শতাব্দী বর্ষ’ পালন করছিল সংঘ। তার অঙ্গ হিসেবে সামাজিক কর্মসূচি এবং জনসংযোগ বৃদ্ধিতে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছিল। সে সব কর্মসূচির বেশ কয়েকটি ২০২৬ সালেও চলছিল। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তেও সংঘের নানা জনসংযোগ কর্মসূচি হয়েছিল গত এক বছরে। তাতে লাভ কতটা হল, তৃণমূল স্তরে সংগঠনের কী অবস্থা, রাজ্যে সংঘের শাখা কতটা বিস্তার পেল, তার হিসাবও নিয়েছেন ভাগবত। সংঘের ১০২তম প্রতিষ্ঠা দিবসের সপ্তাহ দুয়েক আগেই তিনি রাজ্যে এসেছেন। শুক্রবার বর্ধমানের সংঘ কার্যালয়েই থাকবেন। সেখানে একাধিক সাংগঠনিক বৈঠক হওয়ার কথা।

    শাখার সংখ্যা ৫ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার

    জানা গিয়েছে, আজ শুক্রবারও একাধিক কর্মসূচি রয়েছে মোহন ভাগবতের। তাঁর সঙ্গে দেখা করতে পারেন বিজেপি নেতা ও রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। থাকতে পারেন বিজেপি নেতা অমিতাভ চক্রবর্তীও। তাঁদের সঙ্গে সংগঠন সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হতে পারে বলে খবর। রাজ্যে আরএসএসের শাখার সংখ্যা ৫ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছিল। ১০ অক্টোবরের মধ্যে তা করার কথা। সেই কাজ কতটা হয়েছে, সেই সব বিষয়ে বর্ধমানে সঙ্ঘের বৈঠকে আলোচনা হবে বলে জানা গিয়েছে। সঙ্ঘের আগামী দিনের সাংগঠনিক পরিকল্পনা, সমাজের বিভিন্ন স্তরে জনসংযোগ বৃদ্ধি এবং শতবর্ষ উদযাপনকে কেন্দ্র করে চলা কর্মসূচির অগ্রগতি— ভাগবতের সফরে মূলত এই বিষয়গুলিই গুরুত্ব পাচ্ছে।

    সদস্য সংখ্যা বাড়ানোর লক্ষ্যে ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ কাজের হিসেব পেশ 

    এ রাজ্যে আরএসএস-এর তিনটি সাংগঠনিক প্রান্তই দশ দিনের বিশেষ কর্মসূচি হাতে নিয়েছিল শাখার সংখ্যা বাড়ানোর লক্ষ্যে। মধ্যবঙ্গে শুরু হয়েছিল ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে। উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গে শুরু হয়েছিল ১ অক্টোবর থেকে। ১০ অক্টোবর মহালয়া। তার পর দিন থেকে দেবীপক্ষ শুরু, উৎসবের ঢাকে কাঠি। তাই মহালয়ার মধ্যেই শাখার বৃদ্ধির অভিযান শেষ করা হচ্ছে। অভিযান শেষ হওয়ার দু’দিন আগেই ভাগবত বর্ধমানে বৈঠক বসছেন। ফলে শাখা বৃদ্ধির চূড়ান্ত হিসাব তাঁর সামনে পেশ করা সম্ভব হবে না। তবে শাখা বৃদ্ধি অভিযানের ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ কাজের হিসেব হাতে নিয়েই পশ্চিমবঙ্গের আরএসএস পদাধিকারীরা সরসঙ্ঘচালকের মুখোমুখি হয়েছেন। দক্ষিণবঙ্গ আরএসএস-এর প্রচার প্রমুখ বিপ্লব রায় জানিয়েছেন, শতাব্দী বর্ষে পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে ‘প্রবুদ্ধ নাগরিক সম্পর্ক’ অভিযান করেছে সংঘ। কোথাও বিশিষ্ট নাগরিকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে দেখা করা হয়েছে। কোথাও তাঁদের অনেককে একসঙ্গে কোনও কর্মসূচিতে আমন্ত্রণ করে আনা হয়েছে। বিভিন্ন মঠ ও মিশন বছরভর রাজ্যের নানা প্রান্তে ‘হিন্দু সম্মেলন’ আয়োজন করেছে। সবশেষে রাজ্য জুড়ে ৮০০-রও বেশি জায়গায় হয়েছে ‘যুব সম্মেলন’। বিপ্লবের কথায়, ‘‘এত মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ হল,  সঙ্ঘ সম্পর্কে তাঁদের উৎসাহ বাড়ল। সে উৎসাহকে এ বার কাজে লাগানোর সময় এসেছে। যাঁদের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ স্থাপন হয়েছে, তাঁদের শাখায় আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। অনেক জায়গায় সঙ্ঘের সংস্পর্শে আসা মানুষজন নিজেরাই শাখা শুরু করার আগ্রহ দেখিয়েছেন।’’ আগামিকাল, শনিবার সকালে বর্ধমানে শেষ দফার কর্মসূচি সেরে কলকাতা বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা দেবেন মোহন ভাগবত।

     

     

     

     

  • Mohan Bhagwat: তিনদিনের সফরে বর্ধমানে মোহন ভাগবত, শাখা বিস্তার- সাংগঠনিক পরিবর্তন নিয়ে বৈঠক

    Mohan Bhagwat: তিনদিনের সফরে বর্ধমানে মোহন ভাগবত, শাখা বিস্তার- সাংগঠনিক পরিবর্তন নিয়ে বৈঠক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ, বৃহস্পতিবার রাজ্যে আসছেন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat)। তিন দিনের সফরে বর্ধমানে থাকবেন তিনি। সফর ঘিরে একাধিক কর্মসূচি থাকলেও, মূলত সাংগঠনিক বিষয় নিয়েই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করার কথা সংঘপ্রধানের। উত্তরবঙ্গ, মধ্যবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের স্বয়ংসেবকদের পাশাপাশি পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান বিভাগের (Burdwan) ক্ষেত্রপ্রমুখদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন তিনি।

    বর্ধমানে ভাগবত (Mohan Bhagwat)

    জানা গিয়েছে, ট্রেনে সরাসরি বর্ধমান স্টেশনে পৌঁছবেন ভাগবত। সেখান থেকে বর্ধমান শহরের উল্লাসে সংঘের কার্যালয়ে যাবেন তিনি। সেখানে মূলত দু’টি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা। রাজ্যে, বিশেষ করে পূর্ব বর্ধমান জেলা-সহ বিভিন্ন এলাকায় এখনও পর্যন্ত কতগুলি শাখা বৃদ্ধি পেয়েছে, সেই সংক্রান্ত সাংগঠনিক তথ্য নেবেন সংঘপ্রধান। পাশাপাশি আগামী এক বছরের কর্মসূচি নিয়েও প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

    বর্ধমান শহরের উল্লাসে সংঘের কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার পর বর্ধমান মডেল স্কুলেও যাবেন ভাগবত। সেখানে সংঘের কর্মীদের একটি কর্মসূচিতে অংশ নেবেন তিনি। সন্ধ্যায় ফের বর্ধমানে সংঘের কর্মীদের স্থানীয়ভাবে আয়োজিত একটি কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

    পরদিন, শুক্রবার সকালে সংগঠনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন ভাগবত। এরপর তিনি যাবেন সংঘের নতুন কার্যালয়ে। দিনভর সেখানে বিভিন্ন সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে একাধিক বৈঠক হওয়ার কথা। তাঁর সঙ্গে বর্ধমানে থাকার কথা সংঘের সাধারণ সম্পাদক দত্তাত্রেয় হোসাবলেরও।

    সংঘ সূত্রে খবর, সংগঠনের সাংগঠনিক কাঠামোয় বেশ কিছু পরিবর্তন আসতে চলেছে। বর্ধমান সফরে সেই বিষয়গুলিও আলোচনায় উঠে আসতে পারে। বৈঠক শেষে বর্ধমান বিভাগের সংঘকর্মীদের সঙ্গে আলাদা করে দেখা করার কথা রয়েছে ভাগবতের।

    সংঘ কর্তার ঠাসা কর্মসূচি

    এই সফরে মধ্যবঙ্গের বিভিন্ন এলাকার কর্মীদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করবেন সংঘপ্রধান। দুই বর্ধমান, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, হুগলি, নদিয়া এবং মুর্শিদাবাদের একাংশের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হওয়ার কথা। দেওয়ানদিঘির একটি স্কুলের হলঘরেও প্রায় ১২০০ প্রতিনিধির সঙ্গে তাঁর বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। পরে উল্লাসে সংঘের কার্যালয়ে যাবেন তিনি। সেখানে বিভিন্ন রাজ্যের সংঘের শীর্ষ পদাধিকারীরাও উপস্থিত থাকবেন।

    সংঘ সূত্রের দাবি, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজ্যের বহু শাখা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। পরবর্তী সময়ে সেই শাখাগুলির বেশ কিছু ফের চালু হয়েছে। আগামী দিনে আরও বেশি সংখ্যায় শাখা খোলার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। সেই সাংগঠনিক বিস্তার নিয়েও ভাগবতের সফরে আলোচনা হতে পারে (Mohan Bhagwat)।

    বিধানসভা নির্বাচনের আগে বর্ধমানে এসে ভাগবত বলেছিলেন, “আরএসএসের দরজা সবার জন্য খোলা রয়েছে। যে কেউ প্রবেশ করতে পারেন।” সেই সফরে টানা কয়েক দিন বর্ধমানে ছিলেন সংঘপ্রধান।

    রাজ্যে সংঘের ভূমিকার দিক নির্দেশ

    সংঘের এক নেতার দাবি, রাজ্যে বিজেপির ক্ষমতায় আসার পিছনে সংগঠনের কর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। প্রত্যন্ত গ্রামে গিয়ে তাঁরা কাজ করেছেন। কিন্তু সরকার গঠনের পর স্থানীয় স্তরে সংঘের কর্মীরা আগের মতো গুরুত্ব পাচ্ছেন না বলেও অভিযোগ উঠেছে। এমনকী তাঁদের উপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি ওই নেতার। আগামী দিনে রাজ্যে সংঘের ভূমিকা কী হবে, তা নিয়েও ভাগবতের সঙ্গে কর্মীদের আলোচনা হতে পারে। কর্মীদের বক্তব্য সরাসরি শোনার জন্যও সময় নির্ধারণ করা হয়েছে বলে আরএসএস সূত্রে খবর(Mohan Bhagwat)।

    আর এক সংঘনেতার বক্তব্য, বিধানসভা নির্বাচনের পর বিভিন্ন জেলায় একাধিক সমস্যা তৈরি হয়েছে। তোলাবাজি বা জরিমানা আদায়ের মতো ঘটনায় বিজেপি নেতাদের নাম জড়িয়ে যাওয়ায় সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আগামী দিনে সংগঠন বিস্তারের ক্ষেত্রে পুরনো কর্মীদের আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় উঠতে পারে।

    বিজেপির জয়ে সংঘ প্রধানের অবদান

    তবে ভাগবতের এবারের সফরের সমস্ত কর্মসূচিই অভ্যন্তরীণভাবে আয়োজন করা হচ্ছে। বিধানসভা নির্বাচনের আগে বর্ধমানে এসে সংঘপ্রধান প্রকাশ্যে সভা করেছিলেন এবং টানা কয়েক দিন সেখানে (Burdwan) ছিলেন। সেই সফরের পর বিজেপি বর্ধমান-সহ মধ্যবঙ্গে উল্লেখযোগ্য ফল করেছিল বলে মনে করে সংঘ ও বিজেপির একাংশ। এবার আগামী লোকসভা নির্বাচনের প্রস্তুতিতেও এই সফর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে (Mohan Bhagwat) বলে ধারণা রাজনৈতিক মহলের একাংশের।

     

  • RSS: ৮ অক্টোবর বর্ধমানে মোহন ভাগবত, বাংলায় সংঘের সাংগঠনিক কাঠামোয় বড় বদলের প্রস্তুতি

    RSS: ৮ অক্টোবর বর্ধমানে মোহন ভাগবত, বাংলায় সংঘের সাংগঠনিক কাঠামোয় বড় বদলের প্রস্তুতি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলায় সংগঠন বিস্তারের পরিকল্পনা আরও জোরদার করতে ৮ অক্টোবর রাজ্যে আসছেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (RSS) সরসংঘচালক মোহন ভাগবত। সংঘ সূত্রের খবর, বর্ধমানে সাংগঠনিক বৈঠক করার কথা তাঁর। রাজ্যে সংগঠনের কাঠামোয় বড়সড় পরিবর্তন, শাখার সংখ্যা বৃদ্ধি এবং আগামী এক (Mohan Bhagwat) বছরের কর্মসূচি নির্ধারণের মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে ওই বৈঠকে আলোচনা হতে পারে।

    রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর বাংলায় সংগঠন বিস্তারে নতুন করে জোর দিয়েছে আরএসএস। সেই আবহেই সংঘের সাংগঠনিক কাঠামোয় বড় পরিবর্তনের পরিকল্পনা সামনে এসেছে। এতদিন রাজ্যে ‘প্রান্ত’ কাঠামোর মাধ্যমে সাংগঠনিক কাজ চললেও এবার সারা দেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ‘সম্ভাগ’ ভিত্তিক ব্যবস্থায় যাওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। কোন অঞ্চলে কাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে, কোথায় সাংগঠনিক পরিবর্তন প্রয়োজন এবং আগামী এক বছরে সংগঠনের অগ্রাধিকার কী হবে, ভাগবতের বৈঠকে সেই রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    আরএসএসের বক্তব্য (RSS)

    আরএসএসের দক্ষিণবঙ্গের প্রান্ত প্রচারপ্রমুখ বিপ্লব রায়ের বক্তব্য, বর্তমানে বাংলায় তিনটি প্রান্ত রয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় সেই কাঠামো ভেঙে পাঁচটি সম্ভাগে সংগঠন পরিচালনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে উত্তরবঙ্গ, নবদ্বীপ, বর্ধমান ও মেদিনীপুরকে কেন্দ্র করে নতুন সাংগঠনিক বিন্যাসের কথা সামনে এসেছে। চার-পাঁচটি জেলা নিয়ে একটি করে সাংগঠনিক অঞ্চল গড়ে তোলা হতে পারে। সংঘ সূত্রের দাবি, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং তৃণমূল স্তরে সরাসরি জনসংযোগ বাড়ানোই এই পরিবর্তনের অন্যতম উদ্দেশ্য।

    শুধু বাংলা নয়, সারা দেশেই সাংগঠনিক কাঠামোয় পরিবর্তনের পরিকল্পনা রয়েছে আরএসএসের। সংঘ সূত্রে জানা গিয়েছে, দেশজুড়ে প্রান্তের সংখ্যা ৪৪ থেকে বাড়িয়ে প্রায় ১১০ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তারই প্রভাব পড়তে চলেছে বাংলার সাংগঠনিক বিন্যাসে।

    কাঠামোগত পরিবর্তনের পাশাপাশি রাজ্যে শাখা বিস্তারেও (RSS) বড় লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে সংঘ। সংগঠনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত বাংলায় প্রায় পাঁচ হাজার শাখা ছিল। আগামী ১০ অক্টোবর মহালয়ার মধ্যে সেই সংখ্যা দ্বিগুণ করে ১০ হাজারে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সেই উদ্দেশ্যে ১ থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে বিশেষ জনসংযোগ কর্মসূচি চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষত তরুণ প্রজন্মকে স্বয়ংসেবক হিসেবে সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত করার উপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

    সংগঠনের পরিধি বাড়াতে সংখ্যালঘু সমাজের কাছেও পৌঁছতে চাইছে আরএসএস। সেই লক্ষ্যে জনসংযোগ কর্মসূচিকে আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সংঘ সূত্রের খবর, ২ ও ৩ অক্টোবর কলকাতার ধনধান্য প্রেক্ষাগৃহে ‘মাইনরিটি সিটিজেন্স ফোরাম’-এর উদ্যোগে একটি কর্মসূচির আয়োজন করা হচ্ছে।

    কলকাতায় নতুন পরিকাঠামো

    এদিকে, বাংলায় সংগঠনের কাজ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কলকাতায় নতুন পরিকাঠামোও গড়ে তুলেছে আরএসএস। নিউ টাউনের অ্যাকশন এরিয়া ২ডি-তে তৈরি হয়েছে পাঁচতলা ‘কেশব স্মৃতি ভবন’। গত ২৬ সেপ্টেম্বর ভবনটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সংঘের সর্বভারতীয় সরকার্যবাহ দত্তাত্রেয় হোসেবল। নতুন ভবনে রয়েছে সভাকক্ষ, প্রেক্ষাগৃহ, সংঘের পদাধিকারীদের থাকার ব্যবস্থা এবং অন্যান্য সাংগঠনিক পরিকাঠামো।

    এতদিন মানিকতলার কেশব ভবন থেকেই বাংলায় সংঘের মূল সাংগঠনিক কাজ পরিচালিত হত। নতুন ভবনটি অতিরিক্ত সাংগঠনিক কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হবে। বিমানবন্দরের কাছাকাছি হওয়ায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সংঘের শীর্ষ নেতৃত্বের বৈঠক ও থাকার ক্ষেত্রেও এই ভবন কাজে আসবে (Mohan Bhagwat) বলে খবর।

    ইতিমধ্যেই ৮ অক্টোবর বর্ধমানে মোহন ভাগবতের (RSS) সফর ঘিরে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। সংঘ সূত্রের খবর, নতুন সাংগঠনিক কাঠামো কার্যকর করা, দায়িত্ব বণ্টন, শাখা বিস্তার এবং আগামী এক বছরের কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে ওই সফরে। রাজ্যের আঞ্চলিক নেতৃত্ব ও স্বয়ংসেবকদের সঙ্গেও বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে।

     

  • RSS: শতবর্ষের কর্মসূচির সমাপ্তি দিল্লিতে, ২৯ নভেম্বর লক্ষাধিক স্বয়ংসেবকের সমাবেশে ভাষণ দেবেন মোহন ভাগবত

    RSS: শতবর্ষের কর্মসূচির সমাপ্তি দিল্লিতে, ২৯ নভেম্বর লক্ষাধিক স্বয়ংসেবকের সমাবেশে ভাষণ দেবেন মোহন ভাগবত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক:  আরএসএসের শতবর্ষ উপলক্ষে বছরভর আয়োজিত কর্মসূচির সমাপ্তি হতে চলেছে দিল্লিতে। ২৯ নভেম্বর রাজধানীতে এক বিরাট সমাবেশের পরিকল্পনা করেছে আরএসএস। সেখানে ভাষণ দেবেন (RSS) সরসংঘচালক মোহন ভাগবত। সংগঠনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই সমাবেশে ‘গণবেশ’ পরে যোগ দেবেন প্রায় এক লাখ স্বয়ংসেবক। সমাজের বিভিন্ন স্তরের আরও ৫০ হাজার আমন্ত্রিত ব্যক্তিও উপস্থিত থাকবেন। যদিও অনুষ্ঠানের জায়গা এখনও চূড়ান্ত হয়নি (Mohan Bhagwat)। এর আগে ২০ অক্টোবর নাগপুরের রেশিমবাগে অনুষ্ঠিত হবে সংঘের বার্ষিক বিজয়া দশমী উৎসব। সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কথা। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন দৈনিক জাগরণের প্রধান সম্পাদক সঞ্জয় গুপ্ত। উৎসবে ভাষণ দেবেন মোহন ভাগবত। ১৯২৫ সালে বিজয়া দশমীর দিন নাগপুরে কেশব বলিরাম হেডগেওয়ারের হাতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল আরএসএস। ২০২৫ সালের বিজয়া দশমীতে সংগঠনটির প্রতিষ্ঠার ১০০ বছর পূর্ণ হয়। শতবর্ষ উপলক্ষে দেশজুড়ে একাধিক কর্মসূচি গ্রহণ করে সংঘ। চলতি বছরের বিজয়া দশমী উৎসব সেই শতবর্ষ উদ্‌যাপনের পরবর্তী বছরের বার্ষিক আয়োজন। সংঘ সূত্রের খবর, দিল্লির সমাবেশের মধ্যে দিয়েই দেশজুড়ে চলা স্বয়ংসেবকদের একত্রীকরণ কর্মসূচির ইতি টানা হবে। সেখানে সংগঠনের একশো বছরের যাত্রাপথের পাশাপাশি সাম্প্রতিক জাতীয় ও সামাজিক বিষয়গুলি নিয়ে ভাগবত বক্তব্য রাখতে পারেন।

    শতবর্ষে দেশজুড়ে একাধিক কর্মসূচি (RSS)

    শতবর্ষ উপলক্ষে স্বয়ংসেবকদের সংগঠিত করার পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন অংশের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে একাধিক কর্মসূচি নিয়েছিল আরএসএস। তার মধ্যে অন্যতম ছিল প্রবুদ্ধ নাগরিক সম্মেলন। চিকিৎসক, অধ্যাপক, ইঞ্জিনিয়ার-সহ বিভিন্ন পেশার মানুষের কাছে সংঘের আদর্শ ও কর্মকাণ্ড তুলে ধরাই ছিল এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য। এ ছাড়া গৃহসম্পর্ক অভিযানের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলা এবং সংগঠন সম্পর্কে প্রচারপত্র বিলির পরিকল্পনা নেওয়া হয়। গ্রাম ও শহরে হিন্দু সম্মেলনের আয়োজনের মাধ্যমে হিন্দু সমাজের বিভিন্ন অংশের মধ্যে ঐক্য ও সামাজিক সম্প্রীতি বাড়ানোর লক্ষ্যও নির্ধারণ করেছিল সংঘ। ২০২৫ সালের ৭ জুলাই সংঘের সর্বভারতীয় প্রচারপ্রধান সুনীল আম্বেকর জানিয়েছিলেন, সংগঠনের কাঠামো অনুযায়ী দেশের ৫৮ হাজার ৯৬৪টি মণ্ডল এবং ৪৪ হাজার ৫৫টি বস্তিতে হিন্দু সম্মেলনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ১১ হাজার ৩৬০টি ব্লক ও শহরে সামাজিক সম্প্রীতি বৈঠক এবং সংঘের সাংগঠনিক কাঠামোর অন্তর্গত ৯২৪টি জেলায় বিশিষ্ট নাগরিকদের নিয়ে আলোচনাসভার আয়োজনের কথাও জানিয়েছিলেন তিনি। শতবর্ষের কর্মসূচিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে ‘পঞ্চ পরিবর্তনে’র উপর। সামাজিক সম্প্রীতি, কুটুম্ব প্রবোধন বা পারিবারিক সচেতনতা, নাগরিক কর্তব্য, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্বদেশি তথা আত্মনির্ভরতা—এই পাঁচটি বিষয়কে সামনে রেখে বিভিন্ন স্তরে কর্মসূচি গ্রহণ করে সংঘ। জাতপাতের বিভাজন কমানোর লক্ষ্যেও সামাজিক সম্প্রীতি বৈঠকের আয়োজন করা হয়।

    দেশে-বিদেশে ভাগবতের জনসংযোগ

    শতবর্ষ উপলক্ষে দেশের পাশাপাশি বিদেশেও একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন মোহন ভাগবত। নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কোয়্যার গার্ডেনে প্রবাসী ভারতীয়দের উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার পাশাপাশি লন্ডন ও টরন্টো সফর করেছেন (RSS) তিনি। ২০২৫ সালের ২৬ থেকে ২৮ অগাস্ট দিল্লির বিজ্ঞান ভবনে তিন দিনের বক্তৃতামালার আয়োজন করেছিলেন ভাগবত। সেখানে সংঘের একশো বছরের ইতিহাস এবং বিভিন্ন বিষয়ে সংগঠনের অবস্থান তুলে ধরা হয়। এর আগে ২০১৮ সালেও একাধিক বিতর্কিত বিষয়ে সংঘের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে প্রকাশ্য বক্তৃতার আয়োজন করেছিলেন তিনি। চলতি বছরের ৬ আগস্ট মুম্বইয়ে জেন জি পড়ুয়াদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন ভাগবত। দিল্লির যন্তরমন্তরে তরুণদের বিক্ষোভ শেষ হওয়ার কয়েক দিন পরেই ওই অনুষ্ঠান হয়েছিল। তবে সংঘ সূত্রের দাবি, মুম্বইয়ের কর্মসূচি কয়েক মাস আগেই নির্ধারিত হয়েছিল। দিল্লি বা অন্য শহরের তরুণদের বিক্ষোভের প্রতিক্রিয়া হিসেবে ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়নি।

    সংঘের বিজয়া দশমী উদযাপন

    সংঘের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নাগপুরের বিজয়া দশমী উৎসবের পর নভেম্বরের শেষ দিকে দিল্লির সমাবেশের মধ্য দিয়ে শতবর্ষের কর্মসূচি শেষ হবে (Mohan Bhagwat)। সংগঠনের সূত্রের দাবি, সারা বছর ধরে বিভিন্ন শহরে আয়োজিত স্বয়ংসেবকদের একত্রীকরণ কর্মসূচির শেষ পর্ব হিসেবেই দিল্লির সভাকে দেখা হচ্ছে (RSS)। প্রসঙ্গত, বাংলায় বিজয়া দশমী হলে, উৎসবটি তামাম ভারতে পরিচিক দশেরা নামে। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ হিন্দু উৎসব। প্রতি বছর নবরাত্রির শেষে পালিত হয় এই উৎসব। যেহেতু আরএসএসের প্রতিষ্ঠাদিবস এটি, তাই বিজয়া দশমীই হল তাদের অন্যতম প্রধান বার্ষিক অনুষ্ঠান। প্রতি বছর এই দিনটিতে নাগপুরের রেশিমবাগ মাঠে জাঁকজমক সহকারে বিজয়া দশমী পালন করে আরএসএস। অনুষ্ঠানে সংঘচালক স্বয়ংসেবকদের উদ্দেশে ভাষণ দেন। পুজো করা হয় অস্ত্র এবং শাস্ত্র। স্বয়ংসেবকরা পূর্ণ গণবেশে রুট মার্চে অংশ নেন। গত বছর বিজয়া দশমীতে সংঘ পা দিয়েছে শতবর্ষে। সেই উপলক্ষেই বছরভর পালিত হয় নানা কর্মসূচি।

     

  • Mohan Bhagwat: “বৈচিত্র্যের মধ্যেই ঐক্য, ভিন্নতাকে সম্মান করাই ভারতীয় সভ্যতার মূল কথা”, লন্ডনে বললেন ভাগবত

    Mohan Bhagwat: “বৈচিত্র্যের মধ্যেই ঐক্য, ভিন্নতাকে সম্মান করাই ভারতীয় সভ্যতার মূল কথা”, লন্ডনে বললেন ভাগবত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “ভারতের সভ্যতাগত পরিচয়ের মূলে রয়েছে বৈচিত্র্য ও ঐক্যের সহাবস্থান। মানুষের মধ্যে যে পার্থক্য রয়েছে, তাকে সম্মান করা উচিত। কারণ এই বৈচিত্র্য আসলে একই অন্তর্নিহিত ঐক্যের ভিন্ন ভিন্ন প্রকাশ।” রবিবার লন্ডনে আয়োজিত ‘একাত্মতা উদ্‌যাপন’ অনুষ্ঠানে এমনই মন্তব্য করলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (RSS) প্রধান মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat)।

    তিনি বলেন, বৈচিত্র্য স্বাভাবিক বিষয়। তাই মানুষের মধ্যে কী কী পার্থক্য রয়েছে, তার বদলে কোন বিষয়গুলি তাঁদের একসূত্রে বাঁধে, সেদিকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

    তিনি বলেন, “হিন্দু সভ্যতা সবসময় এই উপলব্ধির উপর প্রতিষ্ঠিত যে, অস্তিত্ব মূলগতভাবে এক, যদিও তা বিভিন্ন রূপে প্রকাশিত হয়। বৈচিত্র্য স্বাভাবিক; এই পার্থক্যগুলি একই অন্তর্নিহিত ঐক্যের বিভিন্ন প্রকাশ বা অলংকারমাত্র।”

    ভারতের অগ্রগতির সঙ্গে শান্তির সম্পর্ক (Mohan Bhagwat)

    ভারতের সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের কথাও তুলে ধরেন ভাগবত। তাঁর দাবি, ভারত এগিয়ে গেলে স্বৈরশাসন বা যুদ্ধের জন্ম হয় না। বরং ভারতের অগ্রগতি শান্তি, সমৃদ্ধি, আনন্দ এবং ভ্রাতৃত্বের বার্তা বহন করে।

    ভাগবত বলেন, “ভারত এগিয়ে গেলে কখনও কোনও স্বৈরশাসকের সৃষ্টি হয় না। ভারত এগিয়ে গেলে কখনও কোনও যুদ্ধ শুরু হয় না। ভারত সমগ্র মানবজাতির মধ্যে শান্তি, আনন্দ, সমৃদ্ধি ও ভ্রাতৃত্ব এবং প্রকৃতির সঙ্গে ভ্রাতৃত্ব গড়ে তোলে।”

    তাঁর মতে, শাসক, সরকার কিংবা প্রশাসনিক ব্যবস্থা সময়ের সঙ্গে বদলাতে পারে, কিন্তু জাতি হিসেবে ভারতের অস্তিত্ব অব্যাহত থেকেছে।

    তিনি বলেন, “কখনও আমাদের প্রজাতন্ত্র ছিল। কখনও আমরা অন্যদের শাসনের অধীনে ছিলাম। কখনও স্বাধীনতার জন্য আমরা দীর্ঘ সংগ্রাম করেছি। কিন্তু সবসময়ই আমরা একটি জাতি হিসেবে ছিলাম।”

    ‘হিন্দু রাষ্ট্র’ সম্পর্কে আরএসএসের অবস্থান ব্যাখ্যা

    ‘হিন্দু রাষ্ট্র’ সম্পর্কে প্রশ্নের জবাবে ভাগবত বলেন, এই শব্দবন্ধকে শুধুমাত্র একটি রাষ্ট্রের ধারণা হিসেবে দেখলে হবে না।

    তিনি বলেন, “রাষ্ট্র মানেই জাতি নয়। রাষ্ট্রের প্রথমেই একটি উদ্দেশ্য থাকে। হিন্দু রাষ্ট্রের উদ্দেশ্য কী? বিশ্বের কাছে এই সত্য তুলে ধরা যে বৈচিত্র্য স্বাভাবিক এবং ঐক্যই সত্য। এতে সমগ্র বিশ্বেরই কল্যাণ হবে।”

    ভাগবতের বক্তব্য, হিন্দু পরিচয়কে শুধু ধর্মীয় পরিচয়ের সংকীর্ণ অর্থে দেখলে হবে না। এটি একটি বৃহত্তর সাংস্কৃতিক ও সভ্যতাগত ধারণা।

    তিনি (Mohan Bhagwat) বলেন, “হিন্দু মূলত একটি সাংস্কৃতিক ও সভ্যতাগত পরিচয়—জীবন, অস্তিত্ব এবং বিশ্বের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ককে বোঝার একটি পদ্ধতি।”

    ঐক্যের জন্য একরূপতা জরুরি নয়

    ঐক্য মানেই যে সকলকে একই রকম হতে হবে, এমন ধারণাও খারিজ করেন ভাগবত। তাঁর মতে, বৈচিত্র্য বজায় রেখেই ঐক্য সম্ভব।

    তিনি বলেন, “সকলকে একরকম করে দেওয়ার কোনও ব্যবস্থা আমাদের নেই, কারণ ঐক্যের জন্য একরূপতা অপরিহার্য নয়। আমাদের সভ্যতাগত উপলব্ধি হল বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য—আমরা বৈচিত্র্যকে গ্রহণ করি (RSS)।”

    ‘সব পথকেই স্বীকৃতি দেয় হিন্দু চিন্তা’

    হিন্দু চিন্তাধারা কোনও একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় পথ অনুসরণ করার জন্য মানুষকে বাধ্য করে না এবং অন্যদের ধর্মান্তরিত করারও চেষ্টা করে না বলে দাবি করেন ভাগবত।

    তিনি বলেন, “আমরা যখন ‘হিন্দু’ বলি, তখন সংকীর্ণ অর্থে কোনও একটি ধর্মকে বোঝাই না। হিন্দুদের মধ্যে বহু ধর্মীয় ধারা ও পরম্পরা রয়েছে, কিন্তু অন্তর্নিহিত হিন্দু চিন্তা সব পথকেই গ্রহণ করে।”

    তাঁর বক্তব্য, একই সত্যে পৌঁছনোর জন্য মানুষের বিভিন্ন পথ থাকতে পারে এবং হিন্দু চিন্তাধারা সেই সহাবস্থানকে স্বীকৃতি দেয়।

    ভাগবত বলেন, “আমরা যখন বলি হিন্দু কোনও ধর্ম নয়, তার অর্থ এই নয় যে হিন্দু ধর্ম থাকতে পারে না। হিন্দু ধর্ম বলে, অন্যান্য ধর্মগুলিও সত্য।”

    প্রকৃতির প্রতিও হিন্দু জীবনদর্শনে গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর কথায়, “একজন হিন্দু পরিবার, সম্প্রদায়, সমাজ এবং মানবতার সঙ্গে যুক্ত। একজন হিন্দু শুধু উপাসনা করে না, প্রকৃতিকেও ভালোবাসে।”

    বিভাজনের বদলে ঐক্যের জায়গাগুলিতে জোর দেওয়ার আহ্বান

    মানুষ একে অপরকে শত্রু হিসেবে দেখা বন্ধ করলে সংঘাত অনেক বেশি কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন ভাগবত।

    তিনি (Mohan Bhagwat) বলেন, “অন্যকে সীমাবদ্ধ করা বা জয় করার চেষ্টা না করে আমাদের উপলব্ধি করা উচিত যে, শেষ পর্যন্ত আমরা সকলেই একই বিষয়গুলি অর্জন করতে চাই। তাই প্রশ্ন হওয়া উচিত অন্যকে কীভাবে পরাজিত করা যায়, তা নয়; বরং কীভাবে আমরা সবাই একসঙ্গে সেই লক্ষ্য অর্জন করতে পারি, তা।”

    সমাজের প্রতি তাঁর আহ্বান, মানুষের মধ্যে বিভেদ তৈরি করে এমন বিষয়গুলির পরিবর্তে যে বিষয়গুলি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে, সেগুলিতে গুরুত্ব দিতে হবে।

    ভাগবত বলেন, “যে বিষয়গুলি আমাদের বিভক্ত করে, তার পরিবর্তে যে বিষয়গুলি আমাদের ঐক্যবদ্ধ করে, সেগুলির উপর গুরুত্ব দিন (RSS)।”

    ব্রিটিশ হিন্দুদের আনুগত্য নিয়ে ভাগবতের বক্তব্য

    ব্রিটেনে বসবাসকারী হিন্দুদের সঙ্গে ব্রিটেনের সম্পর্ক নিয়েও বক্তব্য রাখেন ভাগবত। তাঁর মতে, একজন মানুষ যে দেশে বসবাস ও কাজ করেন, সেই দেশের প্রতি তাঁর আনুগত্য থাকা স্বাভাবিক।

    তিনি বলেন, “এখানে কোনও সংঘাত নেই। যদি কখনও এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়, তাহলে এটা স্পষ্ট যে ব্রিটিশ হিন্দু ব্রিটেনের পক্ষেই থাকবে।”

    এর ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “আপনার কর্মভূমি যেখানে, আপনার আনুগত্যও সেখানে; আর জন্মভূমি সেই জায়গা, যেখানে আপনি আপনার মূল্যবোধ পেয়েছেন।”

    তরুণ প্রজন্ম নিয়ে আশাবাদী ভাগবত

    ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রসঙ্গেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন ভাগবত। তাঁর মতে, সমাজকে আরও ভালো জায়গায় নিয়ে যাওয়ার তাগিদ তরুণদের মধ্যে রয়েছে এবং সেই কারণে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উপর তাঁর আস্থা ক্রমশ বাড়ছে।

    তিনি বলেন, “আমি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উপর আরও বেশি আস্থা রাখি, কারণ এই পৃথিবীকে আরও ভালো জায়গায় পরিণত করার তাগিদ তাদের মধ্যে রয়েছে। তাদের লক্ষ্য দিন, পদ্ধতি নয়। তারা দ্রুত সর্বজনীন নৈতিকতা ও সমৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জন করবে।”

    সমাজের সেবা করতে হলে সেই কাজে এগিয়ে আসার মানসিকতা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি (Mohan Bhagwat)। তাঁর মতে, তরুণ প্রজন্ম সামাজিক বিভাজন অতিক্রম করে বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তুলতে সক্ষম।

    রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের শতবর্ষ উপলক্ষে বিদেশে আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচির অংশ হিসেবেই বর্তমানে ব্রিটেনে রয়েছেন ভাগবত। আজ, ৭ সেপ্টেম্বরই শেষ হবে তাঁর (Mohan Bhagwat) লন্ডন সফর।

  • Mohan Bhagwat: কানাডায় হিন্দু বিশ্ববন্ধু সমাবেশে মোহন ভাগবত, বার্তা বন্ধুত্ব-সম্প্রীতির

    Mohan Bhagwat: কানাডায় হিন্দু বিশ্ববন্ধু সমাবেশে মোহন ভাগবত, বার্তা বন্ধুত্ব-সম্প্রীতির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কানাডার টরন্টোয় আয়োজিত ‘হিন্দু বিশ্ববন্ধু’ শীর্ষক এক বিরাট সমাবেশে বক্তব্য রাখলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat)। ‘বন্ধুত্বের মাধ্যমে বিশ্বকে আপন করে নেওয়া’—এই ভাবনাকে সামনে রেখে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে কানাডার দশটি প্রদেশ থেকে দু’হাজারেরও বেশি মানুষ অংশ নেন। বন্ধুত্ব, পারস্পরিক আলোচনা, আপনজনের মতো একাত্মতা এবং সমাজের প্রতি যৌথ দায়িত্ববোধকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এই অনুষ্ঠান কানাডার হিন্দু সমাজের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য মিলনমেলায় পরিণত হয় (Hindu Vishwa Bandhu)।

    উদ্যোক্তাদের বক্তব্য (Mohan Bhagwat)

    কানাডার হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিনিধিদের একত্রিত করে এই সমাবেশের আয়োজন করে কানাডিয়ান হিন্দুজ ফর আউটরিচ, রিলেশনস অ্যান্ড ডায়লগ। সংগঠনটির উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কানাডার ১৭৫টিরও বেশি সংগঠন সহযোগিতা করে। আয়োজকদের বক্তব্য, কানাডার বৃহত্তর সমাজের সঙ্গে হিন্দু সম্প্রদায়ের যোগাযোগ আরও সুদৃঢ় করা, পারস্পরিক বোঝাপড়া বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে ইতিবাচক সম্পর্ক গড়ে তোলাই এই উদ্যোগের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। অনুষ্ঠানের মূল ভাবনা ছিল ভারতীয় হিন্দু সভ্যতার চিরন্তন আদর্শ ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’। অর্থাৎ, “সমস্ত পৃথিবীই এক পরিবার।” এই দর্শনকে ভিত্তি করে আয়োজিত সমাবেশে হিন্দু পরিচয়, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার উদ্‌যাপনের পাশাপাশি কানাডার বৃহত্তর সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল ও অর্থবহ অবদানের প্রয়োজনীয়তার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

    ‘হিন্দু বিশ্ববন্ধু’

    অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন ভাগবত। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে হিন্দু সভ্যতা, সমাজ ও সংস্কৃতির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কাজ করে আসা ভাগবতকে অনুষ্ঠানের আয়োজকদের পক্ষ থেকে সমাজগঠন ও সামাজিক সম্প্রীতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ চিন্তাবিদ হিসেবে তুলে ধরা হয়। চরিত্রগঠন, সামাজিক ঐক্য, সেবা, সাংস্কৃতিক ধারাবাহিকতা এবং সমাজকে আরও শক্তিশালী করার মতো বিষয় তাঁর দীর্ঘদিনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। কানাডার মতো বহুসাংস্কৃতিক দেশে বিভিন্ন ধর্ম, ভাষা ও জাতিগোষ্ঠীর মানুষের সহাবস্থানকে আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সংলাপের গুরুত্ব রয়েছে। ‘হিন্দু বিশ্ববন্ধু’ সমাবেশে সেই বিষয়টিকেই বিশেষভাবে সামনে আনা হয়। হিন্দু সম্প্রদায়ের নিজস্ব ঐতিহ্য ও মূল্যবোধকে ধরে রেখেও কীভাবে বৃহত্তর কানাডীয় সমাজের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত হওয়া যায়, সেই ভাবনা অনুষ্ঠানের আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হয়ে ওঠে (Mohan Bhagwat)।

    অনুষ্ঠান মঞ্চ আলোকিত করেছিলেন যাঁরা

    অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন আলবার্টার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এবং কানাডার প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সদস্য জেসন কেনি। কানাডার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের জনজীবনের যোগাযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে কানাডা ও ভারতের মধ্যের সম্পর্ক নিয়েও তিনি দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ছিলেন (Hindu Vishwa Bandhu)। তাঁর উপস্থিতি অনুষ্ঠানে কানাডার বহুত্ববাদী সমাজব্যবস্থার সঙ্গে হিন্দু সম্প্রদায়ের সম্পর্কের বিষয়টিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রী কাশ্মীর সিং ধালিওয়াল। তিনি খালসা দিওয়ান সোসাইটি এবং ঐতিহাসিক রস স্ট্রিট গুরুদ্বারের প্রতিনিধিত্ব করেন। তাঁর উপস্থিতি কানাডায় হিন্দু ও শিখ সম্প্রদায়ের মধ্যে দীর্ঘদিনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হয়। আয়োজকদের মতে, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহযোগিতা এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কই একটি সুস্থ ও ঐক্যবদ্ধ সমাজের ভিত্তি।

    হিন্দু পরিচয়ের গুরুত্ব

    সমাবেশে হিন্দু পরিচয় ও ঐতিহ্যের বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পায়। তবে এই পরিচয়কে কেবল নিজস্ব সম্প্রদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বৃহত্তর সমাজের কল্যাণে কাজে লাগানোর প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেওয়া হয়। সেবা, সামাজিক দায়িত্ব, সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে সমাজের প্রতিটি স্তরে ইতিবাচক অবদান রাখার আহ্বান জানানো হয়। আয়োজক সংগঠনটির লক্ষ্যও মূলত এই ভাবনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। কানাডিয়ান হিন্দু সমাজের বৈচিত্র্য এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের অবদানকে দেশের মূলধারার আলোচনায় আরও দৃশ্যমান করে তোলাই সংগঠনটির অন্যতম উদ্দেশ্য। পাশাপাশি বিভিন্ন সম্প্রদায়, ধর্মীয় গোষ্ঠী, প্রতিষ্ঠান এবং প্রজন্মের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও কাজ করতে চায় সংগঠনটি (Mohan Bhagwat)। কানাডায় বসবাসকারী হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভিন্ন ভাষা, অঞ্চল, সংস্কৃতি ও সামাজিক পরিচয়ের মানুষ রয়েছেন। তাঁদের এই বৈচিত্র্যকে একটি বৃহত্তর সাংস্কৃতিক বন্ধনে যুক্ত করার পাশাপাশি কানাডার সমাজজীবনে তাঁদের অবদানকে তুলে ধরার লক্ষ্যেই এই ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন আয়োজকরা। তাঁদের মতে, নিজস্ব শিকড় ও সাংস্কৃতিক পরিচয় অটুট রেখেও যে বৃহত্তর সমাজের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ ও গঠনমূলক সম্পর্ক গড়ে তোলা সম্ভব, ‘হিন্দু বিশ্ববন্ধু’ তারই একটি উদাহরণ (Hindu Vishwa Bandhu)।

    দু’হাজারেরও বেশি মানুষের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই সমাবেশ তাই শুধু একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকেনি। হিন্দু সমাজের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্পর্ক সুদৃঢ় করা এবং কানাডার সামগ্রিক সমাজব্যবস্থায় আরও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের বার্তাও উঠে এসেছে অনুষ্ঠানে (Mohan Bhagwat)।

    লক্ষ্য, সম্প্রীতিপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলা

    ‘বসুধৈব কুটুম্বকমে’র আদর্শকে সামনে রেখে আয়োজিত এই সমাবেশের মূল সুর ছিল—নিজের পরিচয় ও ঐতিহ্যকে সম্মান করার পাশাপাশি অন্যের পরিচয় ও বিশ্বাসের প্রতিও শ্রদ্ধাশীল থাকা। পারস্পরিক বন্ধুত্ব, আলাপ-আলোচনা, সহযোগিতা এবং সামাজিক দায়িত্বের মাধ্যমে একটি আরও সম্প্রীতিপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তাই এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়। কানাডার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণ এবং ১৭৫টিরও বেশি সংগঠনের সহযোগিতা এই উদ্যোগের ব্যাপকতাকেও স্পষ্ট করেছে। আয়োজকদের আশা, এই ধরনের সমাবেশ ভবিষ্যতে কানাডার হিন্দু সম্প্রদায় এবং বৃহত্তর কানাডীয় সমাজের মধ্যে আরও বেশি যোগাযোগ ও সহযোগিতার পথ তৈরি করবে। একই সঙ্গে বিভিন্ন (Hindu Vishwa Bandhu) ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বোঝাপড়ার পরিবেশ আরও শক্তিশালী হবে (Mohan Bhagwat)।

     

  • Mohan Bhagwat: ভাগবতের ভাষণের প্রতিবাদ, আমেরিকায় ভারতের জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগ

    Mohan Bhagwat: ভাগবতের ভাষণের প্রতিবাদ, আমেরিকায় ভারতের জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নিউইয়র্কের (New York) ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের (Mohan Bhagwat) ভাষণ ঘিরে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার ভাগবত সেখানে একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময় তাঁর সফরের প্রতিবাদে খালিস্তানপন্থী শিখদের একাংশ ভারতের জাতীয় পতাকা অবমাননা করে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রতিবাদকারীদের মধ্যে নিষিদ্ধ খালিস্তানপন্থী সংগঠন ‘শিখস ফর জাস্টিসে’র সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরাও ছিলেন বলে জানা গিয়েছে।

    ভারতের জাতীয় পতাকার অবমাননা (Mohan Bhagwat)

    ঘটনার কয়েকটি ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। একটি ভিডিয়োতে দেখা যায়, এক খালিস্তানপন্থী ব্যক্তি ভারতের জাতীয় পতাকা নিজের পায়ের চারপাশে বেঁধে ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন এবং পতাকা নিয়ে অবমাননাকর আচরণ করছেন। অন্য একটি ভিডিয়োতে কয়েকজন প্রতিবাদকারী ভারতের তেরঙ্গা পতাকা ছিনিয়ে নিয়ে ছিঁড়ে ফেলছেন এবং নাচতে নাচতে উল্লাস করছেন দেখা যায়।ভাগবতের আমেরিকা সফরের প্রতিবাদে খালিস্তানপন্থীদের একটি দল ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনের বাইরে বিক্ষোভ দেখায়। তাদের হাতে থাকা ব্যানার ও পোস্টারে ভারতের বিরুদ্ধে আপত্তিকর বার্তা দেখা যায়। এমনই একটি পোস্টারে লেখা ছিল, “মোদি হিন্দু সন্ত্রাসের মুখ।” পাশাপাশি তারা খালিস্তানের সমর্থনে এবং ভারতের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেয়। বিক্ষোভকারীরা মোহন ভাগবতের একটি প্রতিকৃতি-সহ পোস্টারও প্রদর্শন করেন। সেই প্রতিকৃতির গলায় জুতোর মালা পরানো হয় বলে অভিযোগ।

    মোহন ভাগবতকে আমেরিকান হিন্দুদের সঙ্গে সম্পৃক্ততা ও সংলাপ বিষয়ক সংগঠনের পক্ষ থেকে “সার্বজনীন একাত্মতা উদ্‌যাপন” শীর্ষক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনের ভিতরের ইনফোসিস থিয়েটারে ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

    খালিস্তানপন্থীদের অতি সক্রিয়তা

    আরএসএসের শতবর্ষ উদ্‌যাপন উপলক্ষে বিশ্বজুড়ে সংগঠনের কার্যক্রম সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে তিনটি দেশ সফরে বেরিয়েছেন ভাগবত। সেই কর্মসূচির অংশ হিসেবেই মঙ্গলবার তিনি আমেরিকায় পৌঁছন। তবে তাঁর উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে একাধিক ভারতবিরোধী ও খালিস্তানপন্থী গোষ্ঠী সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং এই সুযোগে তারা নিজেদের ভারতবিরোধী প্রচার চালায় বলে অভিযোগ (Mohan Bhagwat)।

    ভারত সরকার ‘শিখস ফর জাস্টিস’কে সন্ত্রাসবাদী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। সংগঠনটির বিরুদ্ধে অতীতেও ভারতবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার এবং ভারত সরকার ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

    ভাগবতের আমেরিকা সফরের আগে মার্কিন আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা কমিশনও আরএসএসের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি জানায়। কমিশনের নেতৃত্বে রয়েছেন পাকিস্তানে জন্মগ্রহণকারী মার্কিন নাগরিক চিকিৎসক আসিফ মাহমুদ।

    ভাগবতের সফরকে ঘিরে প্রতিবাদ এবং পাল্টা প্রতিবাদের ঘটনায় আমেরিকার মাটিতে ভারতীয় জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগ নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে, এই ঘটনাকে (New York) কেন্দ্র করে ভারতবিরোধী ও খালিস্তানপন্থী প্রচার কতটা সক্রিয় হচ্ছে, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে (Mohan Bhagwat)।

     

  • Hindus Under Attack: অব্যাহত হিন্দুদের ওপর বিরুদ্ধে হামলা, ভারত থেকে বিশ্বের নানা প্রান্তে ঘটে যাওয়া ঘটনার ঝলক

    Hindus Under Attack: অব্যাহত হিন্দুদের ওপর বিরুদ্ধে হামলা, ভারত থেকে বিশ্বের নানা প্রান্তে ঘটে যাওয়া ঘটনার ঝলক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে হিন্দু এবং হিন্দু ধর্মের ওপর হামলা, বৈষম্য ও বিদ্বেষের ঘটনা ক্রমেই উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে। অন্তত এমনই দাবি করা হয়েছে সাম্প্রতিক এক সাপ্তাহিক প্রতিবেদনে (Hindus Under Attack)। খুন, ধর্মান্তরে চাপ, জমি দখল, মন্দির ও মূর্তির অবমাননা, ধর্মীয় উৎসবে হামলা, বিদ্বেষমূলক বক্তব্য থেকে শুরু করে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি বৈষম্যের একাধিক অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে ওই প্রতিবেদনে (Weekly Roundup)।

    প্রতিবেদনটির দাবি, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে হিন্দুদের বিরুদ্ধে এই ধরনের ঘটনাগুলি দীর্ঘদিন ধরে ঘটলেও, আন্তর্জাতিক পরিসরে এর ব্যাপকতা ও গভীরতা যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি। প্রতিবেদনে এই পরিস্থিতিকে হিন্দুদের প্রতি ক্রমবর্ধমান বিদ্বেষের প্রকাশ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

    প্রতিবেদনের সম্পাদকীয় নোট (Hindus Under Attack)

    প্রতিবেদনের সম্পাদকীয় নোটে জানানো হয়েছে, ভারতে এবং বিদেশে হিন্দুদের পরিস্থিতি তুলে ধরাই এই ধারাবাহিক প্রতিবেদনের অন্যতম উদ্দেশ্য।

    সেখানে আরও বলা হয়েছে, সংখ্যাগরিষ্ঠ সম্প্রদায় হওয়া সত্ত্বেও ভারতের বিভিন্ন ক্ষেত্রেও হিন্দুরা বৈষম্য ও নিপীড়নের মুখোমুখি হচ্ছেন—এই বাস্তবতা সামনে আসা তাঁদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা।

    প্রতিবেদনে ধর্মনিরপেক্ষতা, সর্বধর্মসমভাব এবং “বসুধৈব কুটুম্বকমে”র মতো ধারণা নিয়ে নতুন করে ভাবনা-চিন্তা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনের লেখকদের মতে, এর কয়েকটি ধারণাকে মূল প্রেক্ষাপট থেকে বিচ্ছিন্ন করে ব্যবহার করা হয়েছে, যার ফলে হিন্দু সমাজ দুর্বল হয়েছে।

    প্রতিবেদনটির দাবি, ধর্মনিরপেক্ষতার নামে অতিরিক্ত সহনশীলতার ফলে কিছু বিদ্বেষমূলক অপরাধ যথেষ্ট গুরুত্ব পায় না। হিন্দু সমাজকে ধর্ম ও সংস্কৃতি রক্ষায় আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রতিবেদনে ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ ও ছত্রপতি সম্ভাজি মহারাজের উদাহরণ দেওয়া হয়েছে।

    ২৩ থেকে ২৯ আগস্ট ২০২৬ সময়কালের ঘটনাগুলির ভিত্তিতে প্রতিবেদনে ভারত ও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের একাধিক ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে।

    মেঘালয়ে জাতিগত ও ধর্মীয় বৈষম্যের অভিযোগ

    মেঘালয়ে পরিচয়ভিত্তিক রাজনীতি, সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং গির্জার প্রভাবের কারণে বিপুল সংখ্যক হিন্দু বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং অ-উপজাতি জনগোষ্ঠীর একাংশ পদ্ধতিগত জাতিগত ও ধর্মীয় বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

    শিলংয়ে খাসি ছাত্র সংগঠনের একটি সমাবেশের পর অসমীয়া ও বাঙালি বাসিন্দা এবং শ্রমিকদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগও তোলা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্তত ৩১টি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এগুলির অধিকাংশই অসম থেকে আসা ব্যক্তিদের ব্যবহৃত গাড়ি বলে দাবি করা হয়েছে। বাঙালি ও অসমীয়াদের লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া এবং শারীরিক হামলার অভিযোগও রয়েছে।

    নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ও স্বামী বিবেকানন্দের স্মৃতিবিজড়িত ভাস্কর্য ও মূর্তিতেও হামলা চালানোর অভিযোগ করা হয়েছে।

    হোসুরে হিন্দু ধর্মীয় রীতি নিয়ে প্রশ্ন তোলা প্রচারপত্র

    তামিলনাড়ুর হোসুরে হিন্দু ধর্মীয় রীতিনীতি নিয়ে প্রশ্ন তোলা একটি প্রচারপত্র বিতরণের অভিযোগ উঠেছে। মন্দিরে নারকেল ভাঙা, চুলে ফুল পরা, কর্পূর ও ধূপজাতীয় সামগ্রী ব্যবহার-সহ বিভিন্ন প্রচলিত আচারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে ওই প্রচারপত্রে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

    বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সদস্যরা বিষয়টি নিয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হন।

    মুম্বইয়ে গণেশ মূর্তির কাছে ডিম ছোড়ার অভিযোগ

    মুম্বইয়ের মাজগাঁওয়ে গণেশ মণ্ডলের ৮০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত শোভাযাত্রায় উত্তেজনা ছড়ায়। অভিযোগ, শোভাযাত্রার সময় এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি গণেশ মূর্তির কাছে ডিম ছুড়ে দেন। ঘটনায় উপস্থিত ভক্তদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

    বরলক্ষ্মী ব্রত নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিতর্ক

    দেশ-বিদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ বরলক্ষ্মী ব্রত পালন করার সময় সোশ্যাল মিডিয়ায় অভিনেত্রী চিন্ময়ী শ্রীপাদার একটি মন্তব্য নিয়েও বিতর্কের কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    প্রতিবেদনটির দাবি, নিজেকে নারীবাদী হিসেবে পরিচয় দেওয়া চিন্ময়ী হিন্দু নারীদের “পিতৃতন্ত্রের প্রহরী” বলে মন্তব্য করেছেন। একই প্রতিবেদনে তাঁর পুরনো রমজান-সংক্রান্ত একটি মন্তব্যের উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ২০১২ সালে তিনি লিখেছিলেন, “রমজানের উপবাসে থাকা বন্ধুদের প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে তাদের উপবাস ভাঙার আগে পর্যন্ত তাদের সামনে খাওয়া বা পান না করি।”

    টিপু সুলতানকে ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্টে গ্রেফতার

    কর্নাটকের চিক্কমাগালুরুতে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযোগ, তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় ৪০ ফুট উচ্চতার টিপু সুলতানের প্রতিকৃতি-সহ একটি ভিডিও প্রকাশ করেছিলেন, যার সঙ্গে পাক সেনা ও মুজাহিদিনের সঙ্গে যুক্ত একটি গান ব্যবহার করা হয়েছিল (Weekly Roundup)।

    আফরিদ নামে ওই যুবককে আদালতে হাজির করা হলে তাঁকে ১৪ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে (Hindus Under Attack)।

    স্কুলের দেওয়ালে উসকানিমূলক স্লোগান

    পাঞ্জাবের বঠিন্ডা জেলার জয় সিংহ ওয়ালা গ্রামের একটি সরকারি স্কুল এবং অন্য একটি দেওয়ালে “শহিদ দিলাওয়ার বাব্বর” এবং শিখস ফর জাস্টিসের উল্লেখ-সহ উসকানিমূলক স্লোগান লেখার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

    শিক্ষা বাজেট নিয়ে বিচারপতির মন্তব্য

    সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি প্রসন্ন বি ভারালে মহারাষ্ট্রে শিক্ষা খাতে বাজেট কমে যাওয়া এবং মারাঠি-মাধ্যমের স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।প্রতিবেদনের বক্তব্য, নাসিক-ত্র্যম্বকেশ্বর সিংহস্থ কুম্ভমেলার জন্য বরাদ্দ অর্থের সামান্য অংশও যদি ওই স্কুলগুলির জন্য ব্যবহার করা যেত, তাহলে বেশ কয়েকটি স্কুলকে রক্ষা করা সম্ভব হত। একই সঙ্গে প্রতিবেদনে হজ, মাদ্রাসা, মসজিদ ও গির্জার জন্য সরকারি অর্থায়ন নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে (Hindus Under Attack)।

    মাদ্রাসার অর্থায়ন খতিয়ে দেখছে এটিএস

    গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে উত্তরপ্রদেশের সন্ত্রাসদমন শাখা রাজ্যের হাজার হাজার মাদ্রাসার ব্যাংক হিসাব, অর্থের উৎস এবং পড়ুয়াদের নথি পরীক্ষা শুরু করেছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

    বিশেষ করে সরকারি অনুদান ছাড়াই পরিচালিত প্রায় ১৬ হাজার মাদ্রাসার অর্থের উৎস, আয়-ব্যয় এবং সেখানে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীদের তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

    ঈদ-ই-মিলাদ মিছিল ঘিরে সংঘর্ষের অভিযোগ

    বেঙ্গালুরুর বাসবনগুড়ি এলাকায় ঈদ-ই-মিলাদ উপলক্ষে আয়োজিত মিছিলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

    ঘটনাস্থলের বলে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে কয়েকজন হিন্দু যুবকের ওপর হামলা চালানোর দৃশ্য দেখা যাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকি লোহার রড দিয়ে হামলার অভিযোগও তোলা হয়েছে। তবে পরবর্তী পুলিশি পদক্ষেপে হামলার শিকার হিন্দু যুবক এবং ঘটনার প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধেই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট ও কাজে বাধা দেওয়ার মতো অভিযোগে মামলা করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে (Hindus Under Attack)।

    বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তেও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে বিতর্ক

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রীয় ধর্মীয় স্বাধীনতা পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আরএসএসের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার আহ্বান জানিয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের পরিকল্পিত আমেরিকা সফরের কয়েক সপ্তাহ আগে এই আহ্বান জানানো হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে (Weekly Roundup)।

    সংস্থাটি আরএসএসের বিরুদ্ধে “ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা অব্যাহত রাখার” অভিযোগ তুলেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে সংস্থাটির প্রধান আসিফ মাহমুদের পাকিস্তানের সঙ্গে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক যোগাযোগ রয়েছে বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে (Hindus Under Attack)।

    দীপাবলিতে আতশবাজি নিষেধাজ্ঞা নিয়েও প্রশ্ন

    প্রতিবেদনের শেষাংশে বলা হয়েছে, হিন্দুদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক অপরাধের পেছনে কিছু ধর্মীয় শিক্ষা এবং রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রভাব রয়েছে বলে লেখকদের অভিমত। ইসলামি দেশগুলিতে হিন্দুদের বিরুদ্ধে বৈরিতা তুলনামূলকভাবে স্পষ্ট হলেও নিজেদের ধর্মনিরপেক্ষ বলে পরিচয় দেওয়া রাষ্ট্রগুলির প্রতিষ্ঠান ও জনপরিসরেও সূক্ষ্ম হিন্দুবিদ্বেষ দেখা যায় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

    এই ধরনের বৈষম্য অনেক সময় সরাসরি চোখে পড়ে না এবং প্রচলিত আইন ও নীতির ধরন বিশ্লেষণ করলেই তা বোঝা যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    দীপাবলিতে আতশবাজি ব্যবহারের ওপর ধাপে ধাপে নিষেধাজ্ঞাকে এর একটি উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনের বক্তব্য, পরিবেশদূষণের দিক থেকে এই নিষেধাজ্ঞা যুক্তিসঙ্গত বলে মনে হলেও, হিন্দু উৎসবগুলির ওপর আরোপিত অন্যান্য বিধিনিষেধ এবং সেগুলির যুক্তির মধ্যে থাকা সামঞ্জস্যহীনতা বিবেচনা করলে বিষয়টি নতুনভাবে দেখা (Weekly Roundup) প্রয়োজন।

    প্রতিবেদনটির এই সমস্ত অভিযোগ ও বক্তব্য সংশ্লিষ্ট ঘটনার স্বাধীন যাচাই বা সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য ছাড়া চূড়ান্ত সত্য হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয় (Hindus Under Attack)।

     

LinkedIn
Share