Tag: mohan bhagwat

mohan bhagwat

  • Mohan Bhagwat: ভাগবতের কানাডা সফরের অনুমতি চেয়ে কার্নিকে চিঠি শতাধিক হিন্দু সংগঠনের

    Mohan Bhagwat: ভাগবতের কানাডা সফরের অনুমতি চেয়ে কার্নিকে চিঠি শতাধিক হিন্দু সংগঠনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কানাডায় আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের (Mohan Bhagwat) সফরের অনুমতি দেওয়ার দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিকে চিঠি দিল শতাধিক কানাডীয় (Canada Visit) হিন্দু সংগঠন ও নাগরিক অধিকার গোষ্ঠী। ভাগবতকে কানাডায় প্রবেশের অযোগ্য ঘোষণা করার যে দাবি উঠেছে, তা প্রত্যাখ্যান করে সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত যেন রাজনৈতিক প্রভাবের ভিত্তিতে নয়, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে নেওয়া হয়—চিঠিতে এমনই আবেদন জানানো হয়েছে।

    কানাডা সরকারকে চিঠি (Mohan Bhagwat)

    কার্নির পাশাপাশি জননিরাপত্তা মন্ত্রী গ্যারি আনন্দসাঙ্গারী, অভিবাসন মন্ত্রী লেনা মেটলেজ দিয়াব এবং বিদেশমন্ত্রী অনিতা আনন্দের কাছেও চিঠির প্রতিলিপি পাঠানো হয়েছে। আরএসএস প্রধানকে কানাডায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি এবং সংগঠনটিকেও নিষিদ্ধ করার দাবি তুলেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে কিছু খালিস্তানপন্থী নিউ ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সাংসদ, যাঁদের মধ্যে জেনি কোয়ান ও হিদার ম্যাকফারসন রয়েছেন। কিছু ইসলামপন্থী ও বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনও একই দাবি তুলেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে চিঠিতে।

    চিঠিতে বলা হয়েছে, কানাডার বৃহৎ হিন্দু জনগোষ্ঠীর কাছে ভাগবতের প্রস্তাবিত সফর “যথেষ্ট আগ্রহের বিষয়”। শতাধিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, “আমরা নিম্নস্বাক্ষরকারী ১০১টিরও বেশি কানাডীয় সংগঠন ও নাগরিক অধিকার গোষ্ঠীর প্রতিনিধি হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের প্রধান মোহন ভাগবতের কানাডা সফরের প্রস্তাবের প্রতি আমাদের সমর্থন জানাতে লিখছি। এই সফর কানাডার হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ, যার মধ্যে হিন্দু ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত ১০ লাখেরও বেশি কানাডীয় নাগরিক রয়েছেন।”

    আরএসএস ভারতের গুরুত্বপূর্ণ সংগঠন

    চিঠিতে আরএসএসকে ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংগঠন হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, জনপরিসরে মতপ্রকাশ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সামাজিক প্রকল্প এবং সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের জন্য সংগঠনটি পরিচিত। সেখানে আরও বলা হয়েছে, “তাই আমরা নিউ ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সাংসদ জেনি কোয়ান ও হিদার ম্যাকফারসন এবং কয়েকটি সংগঠনের সাম্প্রতিক সেই আহ্বান নিয়ে উদ্বিগ্ন, যেখানে কানাডা সরকারকে ভাগবতকে দেশে প্রবেশ করতে না দেওয়া এবং তাঁকে প্রবেশের অযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।”

    ভাগবতের (Mohan Bhagwat) কানাডা সফর ঠেকানোর এই প্রচেষ্টার তীব্র বিরোধিতা করেছে স্বাক্ষরকারী সংগঠনগুলি। তাদের বক্তব্য, ভাগবতের বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলি তোলা হয়েছে, সেগুলির পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ থাকা প্রয়োজন। দুই সাংসদের তরফে ভাগবতের বিরুদ্ধে ঘৃণাত্মক বক্তব্যের ইতিহাস, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে হিংসাকে সমর্থন, পরিকল্পিতভাবে ভয় দেখানো এবং সন্ত্রাসবাদী বা অপরাধমূলক সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগের মতো অভিযোগ তোলা হয়েছে বলে চিঠিতে দাবি করা হয়েছে।

    চিঠিতে যা লেখা হয়েছে

    এই বিষয়ে চিঠিতে স্পষ্ট ভাষায় বলা হয়েছে, “গুরুতর অভিযোগের জন্য বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ প্রয়োজন।”

    আরও বলা হয়েছে, “এগুলি অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগ। স্পষ্ট, বিশ্বাসযোগ্য এবং স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য প্রমাণ ছাড়া এগুলিকে রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবে ব্যবহার করা বা সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা উচিত নয় (Canada Visit)।”

    চিঠিতে কানাডীয় কর্তৃপক্ষকে অভিযোগগুলির সমর্থনে থাকা প্রমাণ খুঁজে দেখার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি বলা হয়েছে, কোনও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া গেলে তা যথাযথ আইনি ও সরকারি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মূল্যায়ন করতে হবে।

    ভাগবতের উপস্থিতি কানাডার জননিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে কিংবা সামাজিক অশান্তির কারণ হতে পারে—এমন আশঙ্কাও খারিজ করেছে সংগঠনগুলি। তাদের প্রশ্ন, কানাডায় ভাগবত বা আরএসএসের কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার নির্দিষ্ট কোনও নজির রয়েছে কি না। তাঁর কানাডা সফর জননিরাপত্তাকে বিপন্ন করবে—এমন দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য তথ্য রয়েছে কি না, সেই প্রশ্নও তোলা হয়েছে।

    চিঠিতে বলা হয়েছে, “কানাডার অভিবাসন ও জননিরাপত্তা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠিত আইন, বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে হওয়া উচিত,  অনুমান বা রাজনৈতিক বক্তব্যের ভিত্তিতে নয়।”

    হিন্দু সংগঠনগুলির বক্তব্য

    সংগঠনগুলির বক্তব্য, রাজনৈতিক মতপার্থক্য এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ গণতান্ত্রিক অধিকারের অংশ। ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক বা রাজনৈতিক নেতাদের সমালোচনাও বৈধ। তবে বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণে প্রতিষ্ঠিত না হওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে কোনও বিদেশি নেতাকে কানাডায় প্রবেশে বাধা দেওয়া হলে তা (Mohan Bhagwat) বহুত্ববাদ ও ন্যায়সঙ্গত আচরণ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলতে পারে।

    চিঠিতে আরও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে, যথেষ্ট প্রমাণ ছাড়াই ভাগবতকে কানাডায় প্রবেশ করতে না দিলে দেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর তার বৃহত্তর প্রভাব পড়তে পারে। এর ফলে কানাডীয় হিন্দু ও তাঁদের সংগঠনগুলির সঙ্গে অন্য সম্প্রদায়ের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করা হচ্ছে—এমন ধারণা তৈরি হতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

    সংগঠনগুলির বক্তব্য, “কানাডার বহুসাংস্কৃতিক ব্যবস্থা এই নীতির উপর প্রতিষ্ঠিত যে বিভিন্ন ধর্ম ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মানুষ জনজীবনে পূর্ণাঙ্গভাবে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। অন্য সব ধর্মীয় বা অ-ধর্মীয় পটভূমির কানাডীয়দের মতো হিন্দুরাও মর্যাদা, নিরাপত্তা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা, শান্তিপূর্ণ সংগঠনের অধিকার এবং আইনের চোখে সমতার অধিকারী।”

    “হিন্দুফোবিয়া”য় উদ্বেগ

    ভাগবতের বিরুদ্ধে চলা প্রচারাভিযানকে কিছু কানাডীয় হিন্দু “হিন্দুবিরোধী পক্ষপাত” বা “হিন্দুফোবিয়া” হিসেবে দেখছেন বলেও চিঠিতে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, কয়েকটি সংগঠন বা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের মতামত দিয়ে কানাডার সব নাগরিক কিংবা সমস্ত কানাডীয় হিন্দুর অবস্থানকে প্রতিনিধিত্ব করা উচিত নয়।

    চিঠিতে ভাগবতের বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, “ভাগবতের বক্তব্যের মূল গুরুত্ব সব সময় সামাজিক সম্প্রীতি, সাংস্কৃতিক পরিচয়, সমাজসেবা এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে যোগাযোগের উপর ছিল। তাই আমরা রাজনৈতিক নেতা ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সংগঠনগুলিকে তাঁদের প্রকাশ্য বক্তব্যে দায়িত্বশীল হওয়ার এবং এমন ভাষা এড়িয়ে চলার আহ্বান জানাই, যা কানাডার বৈচিত্র্যময় সম্প্রদায়গুলির মধ্যে বিভাজন আরও গভীর করতে পারে (Mohan Bhagwat)।”

    চিঠির শেষাংশে সংগঠনগুলি বলেছে, “কানাডার প্রয়োজন আরও আলোচনা, বিভাজন নয়; আরও প্রমাণ, অভিযোগ নয়; আরও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া, রাজনৈতিক চাপ নয়; এবং তার বহুসাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের প্রতি আরও সম্মান। কোনও একটি সম্প্রদায়ের নিজস্ব সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক নেতাকে স্বাগত জানানোর বৈধ অধিকারকে স্তব্ধ করার প্রচেষ্টা নয়। আমরা সম্মানের সঙ্গে কানাডা সরকারের কাছে অনুরোধ করছি, মোহন ভাগবতের প্রস্তাবিত সফর বিবেচনার সময় সমতা, বহুত্ববাদ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা, শান্তিপূর্ণ সংগঠনের অধিকার এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার নীতিগুলি বজায় রাখা হোক।”

    চিঠিতে যারা স্বাক্ষর করেছে

    এই যৌথ উদ্যোগে কানাডা ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশন, কানাডিয়ান আর্য সমাজ, ব্র্যাম্পটন হিন্দু সোসাইটি, হিন্দু সোসাইটি অব কানাডা, হিন্দু মিশন অব কানাডা, হিন্দু সভা টেম্পল, হিন্দু স্বয়ংসেবক সংঘ, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ কানাডা-সহ একাধিক মন্দির, সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সম্প্রদায়ভিত্তিক সংগঠন অংশ নিয়েছে বলে জানানো হয়েছে (Canada Visit)।

    চিঠিতে আরও দাবি করা হয়েছে, ভাগবতের প্রস্তাবিত সফরকে কেন্দ্র করে ভারতবিরোধী বিভিন্ন গোষ্ঠী—ইসলামপন্থী, বামপন্থী ও খালিস্তানপন্থী সংগঠনগুলির সমন্বয়ে একটি প্রচারাভিযান চালানো হচ্ছে। অনলাইন আবেদন, লিখিত আবেদন এবং প্রতিবাদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও যুক্তরাজ্য—এই তিন দেশের সরকারের উপর চাপ তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

    তবে ভাগবতের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং বিভিন্ন সংগঠনের পাল্টা দাবিগুলি চিঠিতে উল্লিখিত বক্তব্যের ভিত্তিতেই এসেছে, এগুলির সত্যতা নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্বাধীন যাচাই ও প্রমাণের মূল্যায়ন প্রয়োজন (Mohan Bhagwat)।

     

  • HinduPACT to USCIRF: ভাগবতের মার্কিন সফরের পক্ষে সওয়াল, আরএসএসকে ঘিরে ইউএসসিআইআরএফ-এর সমালোচনার প্রতিবাদ হিন্দুপ্যাক্ট-এর

    HinduPACT to USCIRF: ভাগবতের মার্কিন সফরের পক্ষে সওয়াল, আরএসএসকে ঘিরে ইউএসসিআইআরএফ-এর সমালোচনার প্রতিবাদ হিন্দুপ্যাক্ট-এর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (RSS) সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবতের আসন্ন মার্কিন সফর (Mohan Bhagwat’s US Visit) নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কমিশন অন ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডম (USCIRF)-এর কয়েকজন সদস্যের প্রকাশ্য আপত্তির তীব্র সমালোচনা করল হিন্দু অধিকারকেন্দ্রিক সংগঠন হিন্দু প্যাক্ট (HinduPACT)। সংগঠনটির দাবি, ইউএসসিআইআরএফ (USCIRF)-এর বক্তব্যে নিরপেক্ষতার অভাব রয়েছে। এই মন্তব্য আরএসএস (RSS) ও ভারতকে ঘিরে একটি ‘একপেশে’ প্রচারের অংশ।

    মার্কিন মুলুকে হিন্দু-বিদ্বেষ নিয়ে কেন বলে না ইউএসসিআইআরএফ

    এক বিবৃতিতে হিন্দু প্যাক্ট -এর (HinduPACT to USCIRF) অভিযোগ, ইউএসসিআইআরএফ -এর চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ এবং কমিশনার জিন মিলসের বক্তব্যে ভারসাম্যের পরিবর্তে আরএসএস-এর বিরুদ্ধে অভিযোগকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সংগঠনটির দাবি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে হিন্দু-বিদ্বেষ, মন্দিরে ভাঙচুর এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের নাগরিক অধিকার সংক্রান্ত সমস্যাগুলির প্রতি একই ধরনের গুরুত্ব দেওয়া হয় না। হিন্দু প্যাক্ট (HinduPACT) আরও দাবি করেছে, আরএসএস-কে ঘিরে ইউএসসিআইআরএফ -এর অবস্থানের সঙ্গে কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশন (Council on American-Islamic Relations বা CAIR), ইন্ডিয়ান-আমরিকানমুসলি কাউন্সিল (Indian American Muslim Council বা IAMC)এর মতো সংগঠনের অবস্থানের মিল রয়েছে। সংগঠনটির বক্তব্য, এই গোষ্ঠীগুলি দীর্ঘদিন ধরে ভারত ও হিন্দু সংগঠনগুলির বিরুদ্ধে একপেশে প্রচার চালিয়ে আসছে।

    আরএসএস-এর সামাজিক কাজ

    হিন্দু প্যাক্ট (HinduPACT)-এর বিবৃতিতে আরএসএস-এর সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের কথাও তুলে ধরা হয়েছে। হিন্দু প্যাক্টের দাবি, শিক্ষা, ত্রাণ, গ্রামীণ উন্নয়ন, স্বেচ্ছাসেবা এবং সামাজিক সংগঠনের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের দীর্ঘদিনের ভূমিকা রয়েছে। সংগঠনটির বক্তব্য, শুধুমাত্র রাজনৈতিক বা মতাদর্শগত অভিযোগের ভিত্তিতে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ-কে বিচার করা উচিত নয়। ইউএসসিআইআরএফ কমিশনার জিন মিলসের আরএসএস সদস্যদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার আহ্বান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে হিন্দু প্যাক্ট। তাদের দাবি, কোনও ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর পদক্ষেপের ক্ষেত্রে যথাযথ প্রমাণ, প্রক্রিয়াগত ন্যায়বিচার এবং নিরপেক্ষ তদন্ত থাকা জরুরি। তাদের মতে, আরএসএস-এর সঙ্গে যুক্ত থাকার ভিত্তিতে কোনও ব্যক্তিকে দোষী হিসেবে চিহ্নিত করা ‘গিল্ট বাই অ্যসোসিয়েশন’ (guilt by association)-এর সমান।

    কেন হিন্দুদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার

    মোহন ভাগবতের (Mohan Bhagwat’s US Visit) নিউ ইয়র্ক সফরের আগেই বড় অস্বস্তি। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছেন সেদেশের ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক উপদেষ্টা সংস্থার এক কর্তা। পাশাপাশি ওই সংস্থা ওয়াশিংটনের কাছে আর্জি জানিয়েছেন- যেন আরএসএস নেতাদের কোনও কূটনৈতিক সৌজন্য দেখানো না হয় বা তাঁদের সঙ্গে কোনও উচ্চপর্যায়ের বৈঠক না করা হয়। এ প্রসঙ্গে হিন্দু প্যাক্ট (HinduPACT) -এর প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান অজয় শাহ বলেন, “ইউএসসিআইআরএফ তার নিরপেক্ষতার দায়িত্বকে ক্ষুণ্ণ করেছে। মোহন ভাগবত বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হিন্দু সংগঠনের নেতৃত্ব দেন। তাঁর সফরকে অপপ্রচারের মাধ্যমে বিতর্কিত করার চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়।” তিনি আরও দাবি করেন, আরএসএস দীর্ঘদিন ধরে ত্রাণ, শিক্ষা, গ্রামীণ উন্নয়ন এবং সামাজিক সংগঠনের ক্ষেত্রে কাজ করেছে। মার্কিন মাটিতে হিন্দু সম্প্রদায়কে হেয় করার জন্য কোনও সরকারি অর্থপুষ্ট প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    প্রধানমন্ত্রী মোদিকেও অসম্মান!

    এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে ইউএসসিআইআরএফ কমিশনার জিন মিলসের মন্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। মিলস জানান, কমিশনের চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আরএসএস-এর সদস্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আরএসএস হল একটি মূল সংগঠন, যার সহযোগী বিভিন্ন গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে খ্রিস্টান ও মুসলিম-সহ ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার অভিযোগ রয়েছে। পোস্টটিতে উল্লেখ, “ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)-এর সদস্য। এটি ভারতের এমন একটি মূল সংগঠন যার বিভিন্ন উপ-গোষ্ঠী খ্রিস্টান ও মুসলিম-সহ ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা চালিয়েছে। আর এখন আরএসএস নেতা মোহন ভাগবত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফরের পরিকল্পনা করছেন।” এর আগে মার্চ মাসে ‘ইউএস কমিশন অন ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডম’ তাদের বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। সেখানে ধর্মীয় স্বাধীনতা লঙ্ঘনের অভিযোগে ভারতের সমালোচনা করা হয়েছিল এবং আরএসএস ও ‘রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিসিস উইং’ (র)-সহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংস্থার ওপর ‘সুনির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা’ আরোপের সুপারিশ করা হয়েছিল। সাম্প্রতিক এই মন্তব্যগুলো সেই ধারাবাহিকতারই অংশ। ভারত এই প্রতিবেদনটি প্রত্যাখ্যান করেছে এবং ‘ইউএস কমিশন অন ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডম’-এর বিরুদ্ধে “প্রশ্নবিদ্ধ উৎস ও আদর্শিক বয়ানের” ওপর ভিত্তি করে দেশটির একটি “বিকৃত ও বাছাইকৃত” ছবি তুলে ধরার অভিযোগ এনেছে।

    নিরপেক্ষ আচরণের দাবি হিন্দু প্যাক্ট-এর

    ‘আমেরিকান হিন্দুস ফর এনগেজমেন্ট অ্যান্ড ডায়ালগ’-এর আয়োজনে ‘ইউনিভার্সাল ওয়াননেস সেলিব্রেশনস’ কর্মসূচিতে যোগ দিতে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের ২৯ আগস্ট নিউ ইয়র্ক সফরে যাবেন। হিন্দু প্যাক্ট (HinduPACT)-এর বক্তব্য, মোহন ভাগবতের মার্কিন সফর আমেরিকার জন্য কোনও হুমকি নয়, বরং ধর্মীয় স্বাধীনতার নামে হিন্দু সংগঠনগুলির বিরুদ্ধে একতরফা অবস্থান নেওয়াই বড় প্রশ্ন তৈরি করছে। সংগঠনটি মার্কিন জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ এবং সাধারণ নাগরিকদের ইউএসসিআইআরএফ-এর বক্তব্যকে সমালোচনামূলকভাবে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছে। হিন্দু প্যাক্ট (HinduPACT) জানিয়েছে, মোহন ভাগবতের সফরকে ঘিরে ইউএসসিআইআরএফ-এর সমালোচনাকে তারা প্রত্যাখ্যান করছে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে হিন্দু সংগঠনগুলির প্রতি সমান মর্যাদা ও নিরপেক্ষ আচরণের দাবি জানাচ্ছে।

     

     

     

  • Mohan Bhagwat’s US Visit: ভাগবতের মার্কিন সফরের আগে ইউএসসিআইআরএফ-এর অবস্থান ঘিরে বিতর্ক, আরএসএস-এর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার দাবি

    Mohan Bhagwat’s US Visit: ভাগবতের মার্কিন সফরের আগে ইউএসসিআইআরএফ-এর অবস্থান ঘিরে বিতর্ক, আরএসএস-এর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার দাবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (RSS)-এর সরসংঘচালক ড. মোহন ভাগবতের আসন্ন ব্রিটেন, আমেরিকা ও কানাডা সফর ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আগামী ২৫ আগস্ট থেকে তাঁর বিদেশ সফর শুরু হওয়ার কথা। এরই মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক কমিশন— ইউনাইটেড স্টেটস কমিশন অন ইন্টারন্যাশানাল রিলিজিয়াস ফ্রিডম (USCIRF)—আরএসএস-এর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার দাবি জানিয়েছে।

    আরএসএস-এর বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃত প্রচার

    ইউএসসিআইআরএফ-এর তরফে ওয়াশিংটনের কাছে আরএসএস নেতাদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক না করার আর্জি জানানো হয়েছে। তাঁদের কূটনৈতিক সৌজন্যও না দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। সংস্থাটির বর্তমান চেয়ারম্যান পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত মার্কিন চিকিৎসক আসিফ মাহমুদ। ইউএসসিআইআরএফ-এর কমিশনার জিন মিলস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম-এ দেওয়া এক বার্তায় আরএসএস সম্পর্কে মন্তব্য করেন। তাঁর বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আরএসএস-এর সঙ্গে সম্পর্কের প্রসঙ্গও উঠে আসে। তিনি দাবি করেন, ভারত সরকারের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও আরএসএস নেতাদের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক বা কূটনৈতিক সৌজন্য দেওয়া উচিত নয়। উল্লেখ্য, আরএসএস-এর শতবর্ষ উদযাপনের আবহেই ড. মোহন ভাগবতের এই বিদেশ সফর। আরএসএস-এর প্রচারপ্রমুখ সুনীল আম্বেকর জানিয়েছেন, বিদেশের বিভিন্ন স্থানীয় সংগঠন ও ভারতীয় প্রবাসী সংগঠনের আমন্ত্রণে ২৫ আগস্ট থেকে আমেরিকা, কানাডা ও ব্রিটেনে সফর করবেন ভাগবত। সফরে তিনি ভারতীয় প্রবাসী এবং স্থানীয় বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন বলে জানা গিয়েছে।

    ইউএসসিআইআরএফ-এর নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন

    চলতি বছরের মার্চে প্রকাশিত ইউএসসিআইআরএফ-এর বার্ষিক রিপোর্টেও ভারতে ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে সমালোচনা করা হয়েছিল। রিপোর্টে আরএসএস-সহ কয়েকটি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ‘টার্গেটেড স্যাংশন’-এর সুপারিশ করা হয়। সেই রিপোর্ট অবশ্য সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছিল ভারত। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল ইউএসসিআইআরএফ-এর রিপোর্টকে ‘বিকৃত ও বাছাই করা’ চিত্র তুলে ধরার অভিযোগে তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘নির্বাচিত সমালোচনা’ চালিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে ইউএসসিআইআরএফ-এর উচিত আমেরিকায় হিন্দু মন্দিরে ভাঙচুর ও হামলা, ভারতকে লক্ষ্য করে বাছাই করা সমালোচনা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় প্রবাসীদের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান অসহিষ্ণুতা ও ভয় দেখানোর মতো ঘটনাগুলির দিকেও নজর দেওয়া। ভাগবতের সফরের ঠিক আগে আরএসএস-এর বিরুদ্ধে ইউএসসিআইআরএফ-এর এই অবস্থানকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। ভারতের পক্ষ থেকে আগেও সংস্থাটির রিপোর্টের নিরপেক্ষতা ও তথ্যসূত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

  • RSS: জনসংখ্যার ভারসাম্যহীনতা ও যুবসমাজের মাদকাসক্তি ইস্যুতে শুরু আরএসএসের তিন দিনের সমন্বয় বৈঠক

    RSS: জনসংখ্যার ভারসাম্যহীনতা ও যুবসমাজের মাদকাসক্তি ইস্যুতে শুরু আরএসএসের তিন দিনের সমন্বয় বৈঠক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জনসংখ্যার ভারসাম্যহীনতা, যুবসমাজের মাদকাসক্তি-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সমস্যা নিয়ে আগামী তিন দিন ধরে আলোচনা করবে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (RSS)। বুধবার বিশাখাপত্তনমের কাছে গুড়িলোভায় বিজ্ঞান বিহার বিদ্যালয়ে শুরু হয়েছে আরএসএসের এই বার্ষিক সর্বভারতীয় সমন্বয় বৈঠক। মঙ্গলবার বিকেলে বৈঠকের জায়গায় সাংবাদিক সম্মেলন করেন আরএসএসের সর্বভারতীয় প্রচারপ্রমুখ সুনীল আম্বেকর। তিনি জানান, ১৯ অগাস্ট (বুধবার) সকাল ৯টায় বৈঠক শুরু হবে, চলবে ২১ অগাস্ট সন্ধ্যা পর্যন্ত। সঙ্ঘের ভাবধারায় প্রাণিত ৩২টি সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদাধিকারীরা তিন দিনের এই বৈঠকে অংশ নেবেন। আরএসএসের সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবত, সরকার্যবাহ দত্তাত্রেয় হোসাবলে, সহ-সরকার্যবাহ এবং কেন্দ্রীয় স্তরের অন্যান্য পদাধিকারীরাও উপস্থিত রয়েছেন।

    বৈঠকে যোগ দিয়েছেন যাঁরা (RSS)

    সংঘ সূত্রে খবর, এদিন শুরু হওয়া ওই বৈঠকে যোগ দিয়েছেন (Demographic Imbalance) ভারতীয় মজদুর সঙ্ঘ, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ, ভারতীয় জনতা পার্টি, অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ, ভারতীয় কিষান সঙ্ঘ এবং রাষ্ট্র সেবিকা সমিতি-সহ বিভিন্ন সঙ্ঘ-প্রাণিত সংগঠনের সর্বভারতীয় সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সংগঠন সম্পাদকরা। সব মিলিয়ে প্রায় ৩২৭ জন প্রতিনিধি অংশ নিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সংগঠনগুলির ২৫৩ জন পদাধিকারী। এঁদের মধ্যে আবার রয়েছেন, ৪৯ জন মহিলা। তাঁদের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নিয়েছেন আরএসএসের শীর্ষ নেতারাও।

    সুনীল আম্বেকরের বক্তব্য

    সুনীল আম্বেকর স্পষ্ট করে জানান, এটি কোনও নির্বাহী সিদ্ধান্ত গ্রহণের বৈঠক নয়। বিভিন্ন সংগঠনের পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং সমাজের কল্যাণে তাদের মধ্যে সমন্বয় আরও শক্তিশালী করাই এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য। জনকল্যাণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, ব্যবস্থার পরিবর্তন এবং বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের মতো বিষয় নিয়ে সঙ্ঘ ও তার অনুপ্রাণিত সংগঠনগুলি কাজ করে। সেই কাজের মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় আরও দৃঢ় করার লক্ষ্যে বৈঠকে আলোচনা হবে। দেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি, সামাজিক পরিবর্তন এবং উদীয়মান বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের বাস্তবসম্মত সমাধান নিয়েও পর্যালোচনা হবে, হবে আলোচনাও। বৈঠকে দেশের জনসংখ্যার পরিবর্তিত প্রবণতা, তার বৃহত্তর প্রভাব এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

    আলোচ্যসূচিতে গুরুত্ব

    তিন দিনের এই বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব পাবে যুবসমাজকে মাদকাসক্তি থেকে মুক্ত রাখার বিষয়টি। ক্রমবর্ধমান মাদকাসক্তি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশের পাশাপাশি যুবসমাজকে মাদক ও নেশাজাতীয় দ্রব্যের ব্যবহার থেকে দূরে রাখতে একটি সুসংবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা তৈরি এবং ব্যাপক জনসচেতনতা গড়ে তোলার বিষয়েও আলোচনা হবে (RSS)।আরএসএসের শতবর্ষ উদ্‌যাপনের প্রাক্কালে সমাজে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের বিষয় তুলে ধরা হয়েছে, যাকে বলা হচ্ছে ‘পঞ্চ পরিবর্তন’। এর মধ্যে রয়েছে সামাজিক সম্প্রীতি, পরিবেশবান্ধব জীবনযাপন, পরিবারবোধ ও পারিবারিক মূল্যবোধ, স্ব-বোধ বা দেশীয় চেতনা এবং নাগরিক কর্তব্য পালন। শতবর্ষের এই পর্বে দেশজুড়ে এই পাঁচটি বিষয় নিয়ে আলোচনা ও প্রচার চালানো হচ্ছে। তিন দিনের এই সমন্বয় বৈঠকেও পঞ্চ পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে পরবর্তী কর্মসূচি ও উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হবে (Demographic Imbalance)।

    ‘ভারতীয় উন্নয়ন মডেল’

    সুনীল আম্বেকর এও জানান, অর্থনৈতিক উন্নতির পাশাপাশি সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে একটি সামগ্রিক ‘ভারতীয় উন্নয়ন মডেল’ গড়ে তোলার বিষয়টিও রয়েছে বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে। তাঁর মতে, প্রকৃত উন্নয়নকে শুধুমাত্র অর্থনৈতিক সূচকের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যায় না। সমাজের সব ক্ষেত্রে সামগ্রিক অগ্রগতিই প্রকৃত উন্নয়নের ভিত্তি হওয়া উচিত। আরএসএসের শতবর্ষের এই পর্বে সংগঠনটির প্রতি সাধারণ মানুষের আগ্রহও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে জানানো হয়েছে। ‘আরএসএসে যোগ দিন’ ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ৫৭ হাজার ৪২৩ জন নাম নথিভুক্ত করেছিলেন। ২০২৬ সালে ওই একই সময়ে সেই সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ২৩ হাজার ২৮৭। নথিভুক্তদের মধ্যে ৬৫ শতাংশেরও বেশি ৩০ বছরের কম বয়সি এবং প্রায় ৮৫ শতাংশের বয়স ৪০ বছরের কম (RSS)।

    এদিনের সাংবাদিক সম্মেলনে সুনীল আম্বেকর ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ-মধ্য ক্ষেত্রের (Demographic Imbalance) সহ-সঙ্ঘচালক শ্রী দুঙ্গি রামকৃষ্ণ, সহ-প্রচারপ্রমুখ শ্রী প্রদীপ জোশী, অন্ধ্রপ্রদেশ প্রান্তের প্রচারপ্রমুখ বায়্যা বাসু এবং সহ-প্রচারপ্রমুখ বাসুদেব রাও (RSS)।

     

  • RSS: অন্ধ্রপ্রদেশে সংঘ-প্রাণিত ৩২ সংগঠনের বার্ষিক সমন্বয় বৈঠক, আলোচনায় জনসংখ্যার ভারসাম্য-পঞ্চ পরিবর্তন

    RSS: অন্ধ্রপ্রদেশে সংঘ-প্রাণিত ৩২ সংগঠনের বার্ষিক সমন্বয় বৈঠক, আলোচনায় জনসংখ্যার ভারসাম্য-পঞ্চ পরিবর্তন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এ বছর রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) প্রেরণায় পরিচালিত বিভিন্ন সংগঠনের বার্ষিক অখিল ভারতীয় সমন্বয় বৈঠক (RSS) অনুষ্ঠিত হতে চলেছে অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনম জেলার গুডিলোভায়। আগামী ১৯ থেকে ২১ অগাস্ট এই (Akhil Bharatiya Samanvay Baithak) তিন দিন ধরে হবে এই বৈঠক। হিন্দু পঞ্জিকা অনুযায়ী, দিনগুলি যুগাব্দ ৫১২৮, বিক্রম সংবৎ ২০৮৩ এবং শ্রাবণ শুক্ল সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমী।

    বৈঠকে অংশ নেবে কারা (RSS)

    এই বৈঠকে সংঘের প্রেরণায় পরিচালিত মোট ৩২টি সংগঠন অংশ নেবে। সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলির অখিল ভারতীয় সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সংগঠন সম্পাদক এবং নির্বাচিত পদাধিকারীরা বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে এই সংগঠনগুলি দেশের সামাজিক জীবনে সক্রিয়ভাবে কাজ করে চলেছে। জনজীবনের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি জাতীয় স্বার্থে জনসচেতনতা গড়ে তোলা এবং ব্যবস্থার প্রয়োজনীয় সংস্কার ও পরিবর্তনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে সংগঠনগুলি। বৈঠকে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলি নিজেদের কাজের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরবে। পাশাপাশি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাদের পর্যবেক্ষণ ও মতামত পেশ করা হবে। সব সংগঠনের মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় ও সহযোগিতাকে আরও কার্যকর করার বিষয়েও আলোচনা হবে। জনকল্যাণ এবং নীতি-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়েও মতামত বিনিময় হওয়ার কথা রয়েছে।

    বৈঠকে আলোচ্যসূচি

    বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে সম্পর্কিত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বৈঠকের আলোচনায় ঠাঁই পাবে বলে জানা গিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জনসংখ্যাগত ভারসাম্যহীনতা, নেশামুক্তি, যুবসমাজের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি, ‘পঞ্চ পরিবর্তন’ কর্মসূচির বাস্তবায়ন এবং ভারতীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে উন্নয়নের ধারণা (RSS)। বৈঠকে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের সরসংঘচালক মোহন ভাগবত, সরকার্যবাহ দত্তাত্রেয় হোসাবলে, সমস্ত সহ-সরকার্যবাহ এবং অখিল ভারতীয় কার্যবিভাগের প্রধানরা উপস্থিত থাকবেন (Akhil Bharatiya Samanvay Baithak)। বৈঠকে ভারতীয় মজদুর সংঘ, ভারতীয় কিষান সংঘ, ভারতীয় জনতা পার্টি, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ, অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ, সক্ষম এবং রাষ্ট্র সেবিকা সমিতি-সহ ৩২টি সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদাধিকারীরা অংশ নেবেন (RSS)।

     

  • Mohan Bhagwat on Reservation: বৈষম্য না মিটলে সংরক্ষণ চলবে, উন্নীতদের স্বেচ্ছায় সুবিধা ছাড়ার আহ্বান মোহন ভাগবতের

    Mohan Bhagwat on Reservation: বৈষম্য না মিটলে সংরক্ষণ চলবে, উন্নীতদের স্বেচ্ছায় সুবিধা ছাড়ার আহ্বান মোহন ভাগবতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশে জাতিভিত্তিক সংরক্ষণ (Mohan Bhagwat on Reservation) নিয়ে নতুন করে বিতর্ক এবং বিভিন্ন রাজ্যে আন্দোলনের আবহে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করলেন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত। তিনি বলেন, “যতদিন সামাজিক বৈষম্য থাকবে, ততদিন সংরক্ষণও চলবে।” তবে যাঁরা সংরক্ষণের সুবিধা নিয়ে সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে উন্নতি করেছেন, তাঁদের উচিত উদারতার পরিচয় দিয়ে সেই সুবিধা ছেড়ে দেওয়া, যাতে একই সম্প্রদায়ের আরও পিছিয়ে থাকা মানুষ উপকৃত হতে পারেন। মুম্বইয়ের নীতা মুকেশ আম্বানি কালচারাল সেন্টার (NMACC)-এ এক অনুষ্ঠানে আনুমানিক ২,০০০ তরুণ-তরুণীর উপস্থিতিতে এই মন্তব্য করেন আরএসএসের সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবত।

    ‘আম্বেদকরের দৃষ্টিভঙ্গিতেই সংরক্ষণকে দেখতে হবে’

    শিক্ষা ও চাকরিতে সংরক্ষণ অনির্দিষ্টকাল চলবে কি না—এই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে ভাগবত বলেন, বিষয়টি ড. ভীমরাও রামজি আম্বেদকরের দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী দেখা উচিত। তাঁর কথায়, “সংরক্ষণ সামাজিক কারণে চালু হয়েছে। যতদিন সমাজে বৈষম্য থাকবে, ততদিন সংরক্ষণও থাকবে। সংরক্ষণের মাধ্যমে যাঁদের জীবনযাত্রার উন্নতি হয়েছে, তাঁদের উচিত স্বেচ্ছায় এই সুবিধা ছেড়ে দেওয়া, যাতে একই সম্প্রদায়ের আরও পিছিয়ে থাকা মানুষ সুযোগ পান।” তিনি জানান, সংরক্ষণপ্রাপ্তদের একাংশের মধ্যেই এমন মানসিকতা গড়ে উঠছে যে, সংরক্ষণ কোনও স্থায়ী ব্যবস্থা নয়; এর সুফল নিয়ে নিজেদের উন্নত করার পর অন্যদের জন্য সুযোগ ছেড়ে দেওয়া উচিত। এই মানসিকতাকে উৎসাহিত করারও আহ্বান জানান তিনি।

    উপ-শ্রেণিবিন্যাসের পক্ষে মত

    সংরক্ষিত শ্রেণির মধ্যে উপ-শ্রেণিবিন্যাস (Sub-categorisation) নিয়ে ওঠা দাবির প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেন আরএসএস প্রধান। তাঁর মতে, এর উদ্দেশ্য হল সংরক্ষণের সুবিধা যাতে প্রকৃত প্রাপকদের কাছে পৌঁছায়। তিনি উল্লেখ করেন, এই বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টও মতামত দিয়েছে। ভাগবতের বক্তব্য, সংরক্ষণকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা উচিত নয়। সরকার যদি আন্তরিকভাবে কল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে, তবে দ্রুত সামাজিক বৈষম্য কমবে এবং একসময় সংরক্ষণের প্রয়োজনও শেষ হবে। তার আগে সংরক্ষণ তুলে দেওয়ার প্রশ্ন ওঠা উচিত নয়।

    ‘রাজনীতিকরণই সমস্যার মূল’

    সংরক্ষণ নিয়ে রাজনীতির সমালোচনা করে মোহন ভাগবত বলেন, এটি মূলত সামাজিক ঐক্য প্রতিষ্ঠার জন্য চালু করা হয়েছিল। কিন্তু রাজনৈতিক স্বার্থে বিষয়টিকে ব্যবহার করায় সমাজে বিভাজন তৈরি হয়েছে। তাঁর কথায়, “ব্যবস্থাটি ভুল নয়। কিন্তু যারা এটিকে ব্যবহার করছে, তারা ভুলভাবে ব্যবহার করছে। এই প্রবণতা না বদলালে পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে না।” রাজস্থান, মহারাষ্ট্র, উত্তরপ্রদেশ ও অন্ধ্রপ্রদেশে সংরক্ষণ নীতির পর্যালোচনা বা সংশোধনের দাবিতে বিক্ষোভের আবহে সংঘ প্রধানের এই মত খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

  • Mohan Bhagwat on Gen-Z: ‘জেন জি যুক্তি চায়, প্রতিবাদ গণতন্ত্রেরই অংশ’ আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান সম্ভব, বার্তা মোহন ভাগবতের

    Mohan Bhagwat on Gen-Z: ‘জেন জি যুক্তি চায়, প্রতিবাদ গণতন্ত্রেরই অংশ’ আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান সম্ভব, বার্তা মোহন ভাগবতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের তরুণ প্রজন্ম বা জেন-জি রা যদি নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরে, তাহলে সেটিকে কেবল বিরোধিতা হিসেবে দেখা উচিত নয়। তাদের উদ্বেগ, প্রত্যাশা এবং সমস্যাগুলি সহানুভূতির সঙ্গে বোঝা এবং সমাধানের চেষ্টা করা সমাজ ও প্রশাসনের দায়িত্ব। আন্দোলন কিংবা প্রতিবাদ করলেই নতুন প্রজন্মকে ‘দেশ-বিরোধী’ (Anti-National) দেগে দেওয়ার প্রবণতাকে প্রত্যাখ্যান করলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (RSS) প্রধান মোহন ভগবত (Mohan Bhagwat)। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, আজকের ‘জেন জি’ (Gen Z) বা নতুন প্রজন্ম যদি নিজেদের অধিকারের দাবিতে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করে, তার অর্থ এই নয় যে তারা দেশবিরোধী। ওরা দেশের ভবিষ্যৎ। একটি সুস্থ গণতন্ত্রের ভিত্তি হলো সংলাপ, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং গঠনমূলক অংশগ্রহণ। সমাজ ও রাষ্ট্র যদি যুবসমাজের আকাঙ্ক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে তাদের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলে, তবে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান আরও শক্তিশালী হবে।

    জেন জি ও জেন আলফা দেশের ভবিষ্যৎ

    বৃহস্পতিবার মুম্বইয়ে এক অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে আরএসএস প্রধান (Mohan Bhagwat on Gen-Z) বর্তমান প্রজন্মের চিন্তাভাবনার প্রশংসা করে বলেন, ‘‘আমরা যখন ওদের বয়সে ছিলাম, তখন প্রবীণদের কথা চোখ বন্ধ করে শুনে নিতাম। প্রশ্ন করার সাহস বা মানসিকতা ছিল না। কিন্তু আজকের জেন জি যুক্তিসহ উত্তর চায়। তারা না বুঝে কোনও কিছু মেনে নিতে প্রস্তুত নয়।’’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘‘যদি জেন জি কোনও বিষয়ে প্রতিবাদ জানায়, তবে তারা দেশবিরোধী, এমন তো নয়। তারা আমাদেরই পরিবার, আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম। আমি মনে করি, আমাদের প্রজন্মের চেয়ে এই নতুন প্রজন্ম – জেন জি এবং জেন আলফা (Gen Alpha) অনেক বেশি সৎ। দেশপ্রেম ও সেবার সৎ বার্তা ওদের ওপর সবচেয়ে বেশি কাজ করে।’’

    সংলাপকেই সর্বপ্রথম গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান

    সমাজে মতভেদ বা অসন্তোষের পরিস্থিতিতে সংলাপকেই সর্বপ্রথম গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানালেন আরএসএসের সরসংঘচালক ড. মোহন ভাগবত। তাঁর বক্তব্য, প্রতিবাদ গণতন্ত্রের একটি স্বীকৃত মাধ্যম হলেও তা যেন সমাজে বিভাজন সৃষ্টি না করে, বরং ঐকমত্য গড়ে তোলার পথে সহায়ক হয়। সম্প্রতি মুম্বইয়ে ইন্ডিয়াস ইন্টারন্যাশনাল মুভমেন্ট টু ইউনাইট নেশনস (IIMUN)-এর একটি অনুষ্ঠানে জেন-জি প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নিয়ে ড. ভাগবত এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ভারতের প্রাচীন ‘শাস্ত্রার্থ’-এর ঐতিহ্যে বিরোধী মত (পূর্বপক্ষ) এবং তার জবাব (উত্তরপক্ষ)—উভয়কেই সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়। মতপার্থক্য দেখা দিলে আলোচনার মাধ্যমেই সমাধানের চেষ্টা করা উচিত বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    তরুণদের প্রতিবাদ করা ভুল নয়

    ড. ভাগবতের মতে, তরুণদের প্রতিবাদ করা ভুল নয়। তবে প্রতিবাদের উদ্দেশ্য, পদ্ধতি এবং আচরণ যেন মর্যাদাপূর্ণ ও দায়িত্বশীল হয়। তিনি বলেন, ভারতীয় সংবিধানের প্রণেতা ড. ভীমরাও রামজি আম্বেডকরও সাংবিধানিক মূল্যবোধ ও সঠিক নীতির ভিত্তিতে আন্দোলন পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছিলেন। তিনি আরও বলেন, কোনও আন্দোলনের লক্ষ্য কোনও ব্যক্তি, সম্প্রদায় বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে হওয়া উচিত নয়; বরং প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক ও নীতিগত সংস্কারের উদ্দেশ্যেই আন্দোলন হওয়া উচিত। এদিন আনুমানিক দুই হাজার জেন জি ও জেন আলফা প্রজন্মের শিক্ষার্থীর সঙ্গে মতবিনিময় করেন ড. ভাগবত। ‘‘বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ করতে যুবসমাজের ভূমিকা: ভারতীয় দৃষ্টিভঙ্গি’’ শীর্ষকর্ষ এই অনুষ্ঠানে দেশের ১০০-রও বেশি শহর থেকে ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সি শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়।

    সোশাল মিডিয়া নিষিদ্ধ কেন

    সোশাল মিডিয়ার ক্রমবর্ধমান প্রভাব, তরুণ প্রজন্মের পরিবর্তিতর্তি রোল মডেল এবং শিশু-কিশোরদের জন্য সামাজিক মাধ্যমের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নেও এদিন গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন মোহন ভাগবত। সংঘ প্রধানের মতে, সোশাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করাই সমস্যার সমাধান নয়; বরং সমাজের মধ্যে আত্মনিয়ন্ত্রণ, সচেতনতা ও মূল্যবোধ গড়ে তোলাই প্রকৃত পথ। মোহন ভাগবত বলেন, ‘‘সোশাল মিডিয়ার সঠিক ব্যবহারই আসল বিষয়। নিয়ম তৈরি করা এবং শৃঙ্খলা আনা প্রয়োজন, কিন্তু মানুষের মানসিকতার পরিবর্তনর্ত না হলে শুধু আইন করে কোনও লাভ হবে না। সমাজই প্রকৃত আইন।’’ তিনি বলেন, ‘‘প্রতিটি যুগে রোল মডেল পরিবর্তিত হয়। তবে যাঁদের লক্ষ লক্ষ মানুষ অনুসরণ করেন, তাঁদের আরও বেশি দায়িত্বশীল হওয়া উচিত। যদি আমার দশ লক্ষ অনুসারী থাকে, তাহলে আমার দায়িত্ব তাঁদের ভুল পথে পরিচালিত না করা। এটিই প্রকৃত প্রজ্ঞা।’’

    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) অপব্যবহার

    সোশাল মিডিয়ায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) অপব্যবহারের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন আরএসএস প্রধান। তাঁর কথায়, বর্তমান প্রযুক্তির সাহায্যে কারও মুখ, কণ্ঠস্বর বা বক্তব্য নকল করে ভুয়ো ভিডিও তৈরি করা সম্ভব। তাই যে কোনও তথ্য বিশ্বাস করার আগে অবশ্যই নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে তা যাচাই করা উচিত। ড. ভাগবত বলেন, ‘‘নতুন যুগের এই মাধ্যম ব্যবহারে আত্মনিয়ন্ত্রণ ও আত্মশৃঙ্খলা অত্যন্ত জরুরি। শুধুজেন জি নয়, গোটা সমাজকেই এই অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। বড়রা নিজেরা তা মেনে চললে তবেই তরুণ প্রজন্মও সেই শিক্ষা গ্রহণ করবে।’’ সোশাল মিডিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করে তিনি বলেন, ‘‘কোনও কিছু নিষিদ্ধ করলে তা কালোবাজারে আরও বেশি ছড়িয়ে পড়ে। তাই নিষেধাজ্ঞা কোনও সমাধান নয়। এর সমাধান সমাজের ভেতর থেকেই আসতে হবে, শুধু সরকারের ওপর নির্ভর করলে হবে না।’’

  • Mohan Bhagwat: মুম্বইয়ে জেন জি-জেন আলফার সঙ্গে বৈঠকে বসতে চলেছেন মোহন ভাগবত

    Mohan Bhagwat: মুম্বইয়ে জেন জি-জেন আলফার সঙ্গে বৈঠকে বসতে চলেছেন মোহন ভাগবত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট, জেন জি (Gen Z) এবং জেন আলফা (Gen Alpha)-র তরুণদের সঙ্গে বিশেষ আলোচনায় বসবেন আরএসএসের (RSS) সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat)। মুম্বইয়ের নীতা মুকেশ আম্বানি কালচারাল সেন্টারে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। আয়োজকদের তরফে প্রকাশিত বিবৃতি অনুযায়ী, ইন্ডিয়া’স ইন্টারন্যাশনাল মুভমেন্ট টু ইউনাইট নেশনস (IIMUN)-এর ১৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত বার্ষিক চ্যাম্পিয়নশিপ কনফারেন্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবেই ভাগবতের এই অধিবেশন হবে। অনুষ্ঠানে ভারতের ১০০টিরও বেশি শহর থেকে ২,০০০-এর বেশি উচ্চমাধ্যমিক স্তরের পড়ুয়া অংশ নেবেন।

    নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ কাজ (RSS)

    অংশগ্রহণকারী পড়ুয়াদের বয়স ১৫ থেকে ১৯ বছরের মধ্যে। দেশের বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের প্রতিনিধিত্ব করবেন এই পড়ুয়ারা। এঁরাই ভারতের অন্যতম বৃহৎ যুব-নেতৃত্বাধীন সমাবেশে অংশ নেবেন বলে দাবি আয়োজকদের। অনুষ্ঠান প্রসঙ্গে আইআইএমইউএন-এর প্রতিষ্ঠাতা ঋষভ শাহ বলেন, ‘‘নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ কাজ শুধু পরবর্তী প্রজন্মকে পথ দেখানো নয়, তাদের কথা শোনাও। ভারতের যাত্রার এই গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে এই আলোচনা আগের চেয়েও ঢের বেশি প্রয়োজন। এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এই সমাবেশে বক্তব্য রাখার আমন্ত্রণ গ্রহণ করায় আমি মোহন ভাগবতজির কাছে কৃতজ্ঞ।’’ ভাগবতের বক্তব্যের মধ্যে দিয়েই আইআইএমইউএন-এর বার্ষিক চ্যাম্পিয়নশিপ কনফারেন্সের সূচনা হবে। এই সম্মেলনে পড়ুয়ারা স্থানীয়, জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিতর্ক ও মতবিনিময় করবেন। আইআইএমইউএন-এর তরফে জানানো হয়েছে, প্রতি বছর ১০৮টি সম্মেলন এবং হাজার হাজার নাগরিক ও সামাজিক উদ্যোগের আয়োজন করা হয়। ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সি তরুণরাই মূলত এই কর্মসূচিগুলির নেতৃত্ব দেন, অংশ নেন ১১ থেকে ১৯ বছর বয়সি (RSS) পড়ুয়ারা। এবারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মূল থিম হল, ‘‘বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ করার ক্ষেত্রে যুবসমাজের ভূমিকা—ভারতীয় পথে।’’

    ‘ভারত’-এর ভাবনা ছড়িয়ে দেওয়াই লক্ষ্য

    ২০১১ সালে ঋষভ শাহ আইআইএমইউএন প্রতিষ্ঠা করেন। এটি একটি পাবলিক অ্যাফেয়ার্স প্ল্যাটফর্ম, যার লক্ষ্য ভারত বা ‘ভারত’-এর ভাবনা ছড়িয়ে দিয়ে আগামী দিনের নেতৃত্বকে সচেতন করা এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া। গত ১৫ বছর ধরে ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সি তরুণদের পরিচালনায় সংগঠনটির বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে। আইআইএমইউএন-এর বহু অংশগ্রহণকারী ও সংগঠক পরবর্তী কালে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, আমলা, লেখক, আইনজীবী, অভিনেতা এবং ব্যবসায়ী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। আইআইএমইউএন-এর উপদেষ্টা পর্ষদেও বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন অজয় পিরামল, দীপক পারেখ, নাদির গোদরেজ, শশী তারুর, প্রাক্তন বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়, করণ জোহর, প্রাক্তন সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানরা এবং পিটি ঊষা-সহ আরও অনেকে। প্রতিষ্ঠার ১৫তম বছরে আইআইএমইউএন-এর কর্মসূচি ভারতের ২৭৫টি শহর এবং বিশ্বের ৪০টি দেশে বিস্তৃত হয়েছে। সংগঠনটির দাবি, তাদের বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে ৭.৫ কোটিরও বেশি তরুণের কাছে (Mohan Bhagwat) পৌঁছনো সম্ভব (RSS) হয়েছে। পাশাপাশি ১ লাখ ৫০ হাজারেরও বেশি স্কুল-কলেজের সঙ্গেও কাজ করছে আইআইএমইউএন।

     

  • Mohan Bhagwat: ‘আদেশ নয়, আলোচনাই পথ’, যুবসমাজকে বোঝার আহ্বান আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের

    Mohan Bhagwat: ‘আদেশ নয়, আলোচনাই পথ’, যুবসমাজকে বোঝার আহ্বান আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশজুড়ে পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস ইস্যুকে কেন্দ্র করে ছাত্র আন্দোলনের আবহের মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat)। তিনি বলেন, বর্তমান প্রজন্মকে নির্দেশ দিয়ে নয়, বরং আলোচনার মাধ্যমে বোঝাতে হবে। তাঁদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতে প্রয়োজন বিশ্বাস, স্নেহ এবং নিয়মিত সংলাপ। ‘বিশ্ব মঙ্গল্য সভা’ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মোহন ভাগবত বলেন, বর্তমান প্রজন্মকে ভুল পথে পরিচালিত বা দিশাহীন বলে মনে করার কোনও কারণ নেই। বরং তাঁরা প্রশ্ন করতে শিখেছে এবং সেই প্রশ্নের যুক্তিসঙ্গত উত্তর দেওয়া বড়দের দায়িত্ব। তিনি বলেন, “আমাদের সময় ছিল নির্দেশ মানার যুগ। কিন্তু এখনকার প্রজন্ম প্রশ্ন করে। তাই তাঁদের যুক্তি দিয়ে বোঝাতে হবে, সময় দিতে হবে, ভালোবাসা দিতে হবে এবং নিয়মিত কথা বলতে হবে।”

    আস্থা অর্জনের একমাত্র উপায় হল সংলাপ

    আরএসএস প্রধানের মতে, নতুন প্রজন্মের আস্থা অর্জনের একমাত্র উপায় হল সংলাপ। তাঁর কথায়, “নির্দেশ নয়, আলোচনা। আদেশ নয়, ঐকমত্য—এই পথেই এগোতে হবে।” যদিও মোহন ভাগবত তাঁর বক্তব্যে সরাসরি দিল্লির চলমান ছাত্র আন্দোলন বা ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভের উল্লেখ করেননি, তবে রাজনৈতিক মহলে তাঁর এই মন্তব্যকে বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে ছাত্রদের বিক্ষোভ চলছে। ২০ জুলাই সংসদ ভবনের কাছাকাছি এলাকায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে। এদিকে, আরএসএস প্রধানের নীরবতা নিয়ে শুক্রবার প্রশ্ন তোলেন প্রবীণ আইনজীবী তথা রাজ্যসভার সাংসদ কপিল সিব্বল। সামাজিক মাধ্যমে তিনি লেখেন, যন্তর মন্তরের ঘটনায় মোহন ভাগবতের নীরবতা তাঁর বক্তব্যের থেকেও বেশি অর্থবহ।

    আন্দোলনকারীদের দাবি কী?

    আন্দোলনকারীদের মূল দাবি ছিল, নিট-ইউজি প্রশ্নফাঁস কাণ্ডের দায় নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। তিনি শনিবার দুপুরেই ছাত্রদের ভবিষ্যত সুরক্ষার্থেই পদত্যাগ করেছেন। ভবিষ্যতে প্রশ্নফাঁস রুখতে কঠোর আইন আনার ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সরকার জানিয়েছে, পরীক্ষা সংক্রান্ত দুর্নীতি ও প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। সিজেপি-র নেতৃত্বাধীন আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সরকারের আলোচনার মধ্য দিয়েই বেরিয়ে এসেছে সমাধান সূত্র। এই পরিস্থিতিতে মোহন ভাগবতের ‘আদেশ নয়, আলোচনা; নির্দেশ নয়, ঐকমত্য’ বার্তাকে বর্তমান ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও নৈতিক আহ্বান হিসেবে দেখা হচ্ছে।

LinkedIn
Share