Tag: Bengali news

Bengali news

  • NRS: এনআরএসে নার্সের রহস্যমৃত্যু! স্বাধীন তদন্ত কমিটি গড়ার সিদ্ধান্তের কথা জানালেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    NRS: এনআরএসে নার্সের রহস্যমৃত্যু! স্বাধীন তদন্ত কমিটি গড়ার সিদ্ধান্তের কথা জানালেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতার নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে (NRS) কর্মরত নার্সের রহস্যমৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বুধবার রাতে হাসপাতালের স্ত্রীরোগ বিভাগে কর্মরত অবস্থায় মৃত্যু হয় রূপালি বর্মণের। প্রাথমিকভাবে তাঁর শরীরে কোনও আঘাতের চিহ্ন (Nurse Death) মেলেনি। কোনও সুইসাইড নোটও উদ্ধার হয়নি। তাই অনুমানের ভিত্তিতে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে ধরে নিয়ে তদন্ত এগোতে নারাজ স্বাস্থ্য দফতর ও পুলিশ। পরিবারের দাবি মেনে রূপালির দেহের ময়নাতদন্ত হচ্ছে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে করা হচ্ছে।

    হাসপাতালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী (NRS)

    বৃহস্পতিবার সকালে বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। তিনি মৃত নার্সের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, ওয়ার্ডের রোগী এবং অন্য কর্মীদের সঙ্গেও কথা বলেন। কয়েক ঘণ্টা হাসপাতালে থাকার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “স্বামী ও ভাইয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে। ওঁরা চেয়েছিলেন, তাই মেডিক্যাল কলেজে ময়নাতদন্ত হবে। আমার ফোন নম্বর বাড়ির লোককে দেওয়া হয়েছে। যে কোনও ঘটনারই তদন্ত হবে, আলাদা কিছু নয়। কেউ কোনও সন্দেহ করছেন না।”

    তদন্ত কমিটি

    জানা গিয়েছে, সাতটি বিভাগের প্রধানকে নিয়ে ওই তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। নার্সিং, স্ত্রীরোগ-সহ সংশ্লিষ্ট সাতটি বিভাগের প্রধানরা কমিটিতে থাকবেন। ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে সাত দিনের মধ্যে স্বাস্থ্য ভবনে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কর্মক্ষেত্রে রূপালি কোনও ধরনের মানসিক চাপের মধ্যে ছিলেন কি না, তাও খতিয়ে দেখা হবে। মানসিক বিভাগের প্রধানকেও তদন্ত কমিটিতে রাখার কথা বলা হয়েছে। হাসপাতালে ময়নাতদন্ত না করে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে কেন ময়নাতদন্ত করা হচ্ছে, সে বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “মৃত মহিলার স্বামী চেয়েছেন, তাই করা হচ্ছে। এ নিয়ে কোনও কথা নয়। তিনটের মধ্যে ময়নাতদন্ত শুরু হবে। বিভাগীয় তদন্তও করা হবে।”

    পুলিশ দেখবেন পুলিশ

    বুধবার নাইট শিফটে ছিলেন রূপালি। স্ত্রীরোগ বিভাগে কাজে যোগ দেওয়ার কিছুক্ষণ পর থেকেই তাঁর আর খোঁজ মিলছিল না। সহকর্মীরা খোঁজ করতে গিয়ে বাথরুমের দরজা বন্ধ অবস্থায় দেখতে পান। ভিতর থেকে কোনও সাড়া না পাওয়ায় দরজা ভেঙে রূপালিকে উদ্ধার করা হয়। চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে হাসপাতালের তরফে খবর দেওয়া হয় তাঁর পরিবারকে। রূপালির আচরণ নিয়ে সহকর্মীদের বক্তব্যও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সহকর্মী ও রোগীদের অনেকেই জানিয়েছেন, তিনি হাসিখুশি স্বভাবের ছিলেন। রূপালির আকস্মিক মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না তাঁর সহকর্মীরাও। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “সকলেই বলেছেন, উনি খুবই হাসিখুশি ছিলেন। কী হয়েছে হঠাৎ, তদন্ত করে তা খুঁজে দেখা পুলিশের কাজ। তাঁরা বিষয়টি দেখবেন (NRS)।”

    তদন্তে সব সম্ভাবনাই!

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার খবর পেয়ে বুধবারই হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছন। পরে এন্টালি থানার পুলিশ এবং গোয়েন্দা বিভাগের হত্যাকাণ্ড শাখার তদন্তকারী দলও সেখানে যায়। প্রাথমিক তদন্তে রূপালির শরীরে কোনও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। উদ্ধার হয়নি কোনও সুইসাইড নোটও। তাই আত্মহত্যার সম্ভাবনা সামনে রেখে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যেতে চাইছে না পুলিশ। রূপালির বাড়ি পূর্ব মেদিনীপুরে। বছরখানেক আগে বিয়ে হয়েছিল তাঁর। স্বামী রাহুল দাসের সঙ্গে দমদম থানা এলাকায় থাকতেন তিনি। মৃত্যুর আগে তাঁর আচরণে কোনও অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করা গিয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। স্বাস্থ্য দফতরের তরফে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে (Nurse Death), ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে সমস্ত সম্ভাবনাই খতিয়ে দেখা হবে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট, পুলিশের তদন্ত এবং (NRS) তদন্ত কমিটির রিপোর্ট—এই তিন দিকের প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতেই করা হবে পরবর্তী পদক্ষেপ।

     

  • TMC: আরজি করকাণ্ডে তথ্যপ্রমাণ লোপাটের অভিযোগ, গ্রেফতার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষ

    TMC: আরজি করকাণ্ডে তথ্যপ্রমাণ লোপাটের অভিযোগ, গ্রেফতার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরজি করকাণ্ডে (TMC) তথ্যপ্রমাণ লোপাট ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগে গ্রেফতার পানিহাটির প্রাক্তন বিধায়ক তৃণমূলের নির্মল ঘোষ (Nirmal Ghosh)। সম্প্রতি এই ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে নতুন করে এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল। তাঁর পাশাপাশি আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধেও শুরু হয়েছে তদন্ত।

    নতুন করে মামলা দায়ের (TMC)

    গত রবিবার আরজি করের নিহত  চিকিৎসক-পড়ুয়ার দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটির লোকসংস্কৃতি ভবনে একটি স্মরণসভার আয়োজন করা হয়। সেখানে নিহত চিকিৎসকের মা-বাবার পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও। স্মরণসভা থেকেই তিনি ঘোষণা করেন, ব্যারাকপুরের পুলিশ কমিশনারের নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্তকারী কমিটি গঠন করা হবে। নতুন করে মামলা দায়ের করে সেই মামলার ভিত্তিতেই তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। এর পরের দিন, সোমবার ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটে নিহত চিকিৎসকের বাবা নতুন করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে দায়ের হওয়া এফআইআরে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, তথ্যপ্রমাণ লোপাট-সহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তে উঠে আসা তথ্যের ভিত্তিতেই নির্মলকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে খবর।

    শ্মশানে দেহ সৎকারের ঘটনা

    আরজি করকাণ্ডের পর ঘোলা থানার নাটাগড় কদমতলা শ্মশানে দেহ সৎকারের ঘটনাকে ঘিরে আগেই একাধিক প্রশ্ন উঠেছিল। ওই ঘটনায় নির্মল ছাড়াও সোমনাথ দে এবং সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে। তাঁদের ভূমিকা খতিয়ে দেখার দাবিও উঠেছে (TMC)। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, নির্যাতিতার দেহ সৎকারের ক্ষেত্রে নিয়মবহির্ভূতভাবে তৎপরতা দেখানো হয়েছিল। তাঁর দাবি, সৎকারের তালিকায় দেহটির ক্রম ছিল তিন নম্বরে। কিন্তু রাতারাতি সেই ক্রম বদলে এক নম্বরে করে দ্রুত দেহ সৎকার করা হয়। এমনকী শ্মশানের নির্ধারিত খরচও পরিবারের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। মৃতার পরিবারের কোনও নিকটাত্মীয়ের বাধ্যতামূলক স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে (Nirmal Ghosh)।

    সৎকারের প্রক্রিয়ায় নিয়ম ভাঙা হয়েছিল!

    এই সমস্ত অভিযোগের ভিত্তিতেই নতুন করে তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তকারীরা ওই দিনের ঘটনাক্রম, শ্মশানে উপস্থিত ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং সৎকারের প্রক্রিয়ায় কোনও নিয়ম ভাঙা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন (TMC)। প্রসঙ্গত, গত ১৩ জুলাই নির্মলের ছেলে তীর্থঙ্কর ঘোষকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তার ঠিক এক মাসের মাথায় গ্রেফতার হলেন নির্মল স্বয়ং। তবে তীর্থঙ্করের গ্রেফতারির কারণ ছিল ভোট-পরবর্তী হিংসা সংক্রান্ত একটি মামলা। আর আরজি কর কাণ্ডে তথ্যপ্রমাণ লোপাট ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে নির্মলকে (TMC)।

     

  • Air India Pilot: মাদক পরীক্ষায় পাইলটের রিপোর্ট পজিটিভ! মাঝআকাশে বিপত্তির ঘটনায় এয়ার ইন্ডিয়াকে কড়া বার্তা কেন্দ্রের

    Air India Pilot: মাদক পরীক্ষায় পাইলটের রিপোর্ট পজিটিভ! মাঝআকাশে বিপত্তির ঘটনায় এয়ার ইন্ডিয়াকে কড়া বার্তা কেন্দ্রের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফুকেট থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার (Air India Pilot) একটি বিমানে মাঝআকাশে একাধিক বিপত্তির ঘটনায় কড়া অবস্থান নিল কেন্দ্র। ঘটনার পরে বিমানের দায়িত্বে থাকা (Marijuana) পাইলটের মাদক পরীক্ষার নিশ্চিতকরণ পরীক্ষায় গাঁজার উপস্থিতি ধরা পড়েছে। একই সঙ্গে বিমানে থাকা ২০ জন যাত্রী এবং চার কেবিন কর্মীও আহত হয়েছেন বলে খবর। এয়ার ইন্ডিয়ার এআই ২৩৭৯ বিমানটি গত মঙ্গলবার ফুকেট থেকে দিল্লির উদ্দেশে উড়েছিল। ওড়িশার আকাশসীমার উপর দিয়ে যাওয়ার সময় বিমানটিতে একাধিক সতর্কবার্তা দেখা দেয়। বিমানের তিনটি জলচাপ-নির্ভর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, দরজা এবং উল্লম্ব নিয়ন্ত্রণ পাখনা সংক্রান্ত সতর্কবার্তাও পাওয়া গিয়েছে বলে সূত্রের খবর। এর মধ্যে স্বয়ংক্রিয় উড্ডয়ন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাও বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে বিমানটি প্রায় ৩০০ ফুট নীচে নেমে আসে। ঘটনার পর কেন্দ্র এয়ার ইন্ডিয়াকে পরিচালনগত নজরদারি আরও শক্তিশালী করার নির্দেশ দিয়েছে। বিমান চলাচলের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সংস্থাকে আরও বেশি দায়িত্বশীল হওয়ার কথাও জানানো হয়েছে। ঘটনার তদন্তে যার বা যাদের গাফিলতি প্রমাণিত হবে, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্র (Air India Pilot)।

    উদ্বেগ বাড়ছে বিমান নিরাপত্তা নিয়ে

    ওই ঘটনায় ২০ জন যাত্রী এবং চারজন কেবিন কর্মী আহত হন। বিমানটি দিল্লিতে অবতরণের পর আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। এর আগে ঘটনার দিন অন্তত ১৪ জনকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলে খবর।ঘটনাটি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে কারণ গত বছরের জুনে আহমেদাবাদে এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান দুর্ঘটনায় ২৬০ জনের মৃত্যু হয়েছিল। সেই দুর্ঘটনার চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন এখনও প্রকাশিত হয়নি। এক সরকারি আধিকারিক বলেন, “গত জুনের আহমেদাবাদ বিমান দুর্ঘটনায় ২৬০ জনের প্রাণহানি হয়েছিল। সেই ঘটনার চূড়ান্ত রিপোর্ট এখনও প্রকাশিত হয়নি। তার মধ্যেই এয়ার ইন্ডিয়াকে ঘিরে এমন একটি ঘটনা ঘটল।” ওই আধিকারিক আরও জানান, এআই ২৩৭৯-এর ঘটনা সরকার অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। তদন্তের পর যাঁদের দোষ প্রমাণিত হবে, তাঁদের কাউকেই রেহাই দেওয়া হবে না।

    পাইলটের মাদক পরীক্ষায় গাঁজার উপস্থিতি

    ঘটনার পর আরও গুরুতর তথ্য সামনে এসেছে। ফুকেট-দিল্লি বিমানের দায়িত্বপ্রাপ্ত পাইলটের প্রথম মাদক পরীক্ষার ফল নিয়ে সন্দেহ হওয়ার পর নিশ্চিতকরণ পরীক্ষা করা হয়। সেই পরীক্ষায়ই গাঁজার উপস্থিতি ধরা পড়ে (Air India Pilot)। তদন্তকারীদের কাছে পাইলট দাবি করেছেন, ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে তাঁকে ঘুমের ওষুধ দেওয়া হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য, ওই ওষুধ খাওয়ার ফলেই মাদক পরীক্ষার ফল ইতিবাচক এসেছে (Marijuana)। তবে তাঁর এই দাবি এবং পরীক্ষার ফল—দুই বিষয়ই এখন তদন্তের আওতায় রয়েছে। এদিকে বিমানের কেবিন কর্মীরাও পাইলটের আচরণ নিয়ে এয়ার ইন্ডিয়ার কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন। তদন্তকারীদের মতে, বিমানটি হঠাৎ উচ্চতা খোয়ানোর পেছনে একাধিক বিরল প্রযুক্তিগত ত্রুটি ছিল, নাকি পাইলটের আচরণের কোনও ভূমিকা ছিল, তা তদন্তেই স্পষ্ট হবে। ঘটনার সময় বিমানটি সাময়িকভাবে এমন অবস্থায় চলে গিয়েছিল, যেখানে বিমানের ভিতরে যাঁরা সিটবেল্ট পরেননি, তাঁদের কেউ কেউ আহত হন। কো-পাইলটকে পরিস্থিতি সামলে বিমানটি নিরাপদে দিল্লিতে নামাতে হয় (Air India Pilot)।

    মাদক পরীক্ষা আরও কড়া করার নির্দেশ

    ঘটনার পর কেন্দ্রীয় সরকার বেসামরিক বিমান চলাচল দফতরকে বিমান চলাচলের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের মাদক পরীক্ষা সংক্রান্ত বর্তমান নিয়ম আরও কঠোর করার নির্দেশ দেয় (Air India Pilot)। বাধ্যতামূলক মাদক পরীক্ষার আওতায় আরও বেশি সংখ্যক বিমানকর্মীকে আনার পাশাপাশি নিষিদ্ধ মাদক গ্রহণের অভিযোগে ধরা পড়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা আরও কঠোর করার কথাও বলা হয়েছে। বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইতিমধ্যেই বিমানকর্মীদের মাদক গ্রহণ সংক্রান্ত পরীক্ষার নিয়ম পর্যালোচনা করছে। কেন্দ্র এয়ার ইন্ডিয়াকেও স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, সংস্থার পরিচালন ব্যবস্থায় নজরদারি বাড়াতে হবে এবং বিমানের নিরাপত্তা সংক্রান্ত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন (Marijuana) নিশ্চিত করতে হবে। ঘটনাটি নিয়ে বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত সংস্থাও প্রযুক্তিগত, পরিচালনগত, চিকিৎসা এবং মানবিক—সব দিক খতিয়ে দেখছে (Air India Pilot)।

    এ কী কাণ্ড!

    জানা গিয়েছে, ডিজিসিএ (বেসামরিক বিমান চলাচল অধিদফতর) ফুকেট থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার ওই ফ্লাইটে ঘটে যাওয়া গুরুতর নিরাপত্তাজনিত ঘটনার তদন্ত করছে। অভিযোগ, বিমান যখন উড়ছিল, তখন পাইলট-ইন-কমান্ড ককপিট ছেড়ে যাত্রী কেবিনে প্রবেশ করেন এবং সেখানে ধূমপান করার চেষ্টা করেন। একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই পাইলট যাত্রী কেবিনে গিয়ে একটি আপৎকালীন বেরনোর দরজার কাছে গিয়ে মেঝেতে বসে পড়েন এবং কেবিন ক্রু সদস্যদের কাছে একটি লাইটার চান। অভিযোগ, কেবিন ক্রুরা তাঁকে ককপিটে ফিরে যেতে বলেন। এনিয়ে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

  • Imran Khan: মারা গিয়েছেন পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান? পাক সাংবাদিকের নতুন দাবিতে ফের জল্পনা

    Imran Khan: মারা গিয়েছেন পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান? পাক সাংবাদিকের নতুন দাবিতে ফের জল্পনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের জেলবন্দি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের (Imran Khan) মৃত্যু নিয়ে নতুন দাবি ঘিরে দেশটিতে (Pakistan) ফের একবার উদ্বেগ ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। পাকিস্তানি সাংবাদিক ওয়াজাহাত সাঈদ খানের দাবি, দেশটির সামরিক বাহিনীর তিন প্রবীণ আধিকারিক মনে করেন, জেলেই হয়তো ইমরানের মৃত্যু হয়েছে। যদিও এই খবরের সত্যতা যাচাই করা যায়নি। সাংবাদিক নিজেও জানিয়েছেন, তাঁর সূত্রগুলির কেউই ব্যক্তিগতভাবে ইমরানকে দেখেননি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক, এমি পুরস্কারের জন্য মনোনীত সাংবাদিক ওয়াজাহাত ১০ আগস্ট প্রকাশিত একটি ইউটিউব ভিডিওয় এই দাবি করেন। তাঁর বক্তব্য, রাওয়ালপিন্ডিতে পাক সেনাবাহিনীর জেনারেল সদর দফতরে কর্মরত প্রবীণ আধিকারিকদের কাছ থেকেই এই তথ্য পেয়েছেন তিনি।

    সাংবাদিকের দাবি (Imran Khan)

    ওয়াজাহাতের দাবি, অন্তত তিনজন আধিকারিক আলাদাভাবে তাঁকে জানিয়েছেন যে ইমরান আর আমাদের মধ্যে নেই। তবে একইসঙ্গে তিনি কবুল করেছেন, তাঁর কোনও সূত্রই ইমরানকে নিজের চোখে দেখেননি। তিনি বারবার জোর দিয়ে বলেছেন, তথ্যটি নিশ্চিত নয় এবং তিনি আশা করছেন, দাবিটি সত্য নয়। ইমরানের সঙ্গে সাক্ষাৎ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর পরিবার, আইনজীবী, দলের নেতারা এবং চিকিৎসকরা নানা সমস্যার কথা জানিয়ে আসছেন। তাঁর বোনেরা এবং পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের নেতারা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার সুযোগ চেয়ে বারবার আবেদন করেছেন। একইসঙ্গে তাঁর শারীরিক অবস্থার চিকিৎসা মূল্যায়নের দাবিও জানিয়েছে দলটি। ২০২৩ সালের ৫ অগাস্ট থেকে জেলে রয়েছেন ইমরান। বর্তমানে ১৯ কোটি পাউন্ডের আল-কাদির ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় তিনি ১৪ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। একই মামলায় তাঁর স্ত্রী বুশরা বিবিকেও ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। দু’জনেই তাঁদের সাজাকে চ্যালেঞ্জ করেছেন। ইমরানের বিরুদ্ধে ২০২৩ সালের ৯ মে-র বিক্ষোভ-সংক্রান্ত একাধিক মামলাও বিচারাধীন রয়েছে। ওই বিক্ষোভের সময় পাকিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় তাঁর দলের সমর্থকরা সামরিক কাঠামোয় হামলা চালিয়েছিলেন।

    মৃত্যুর দাবি ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা

    ইমরানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে অনিশ্চয়তা পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ এবং পাকিস্তানের সামরিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে চলা উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী এবং পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ নেতা সোহেল আফ্রিদির দাবি, ২০ লাখেরও বেশি মানুষ রাস্তায় নামতে প্রস্তুত। আফ্রিদির বক্তব্য, তাঁদের দাবি অসাংবিধানিক নয় এবং ইমরানের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগকে রাজনৈতিক বার্তা আদান-প্রদানের কাজে ব্যবহার করা হবে না। পাকিস্তানের তরুণদের মধ্যে ক্ষোভ ক্রমেই বাড়ছে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি। পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর ইসলামাবাদ অভিমুখে দীর্ঘ পদযাত্রা করার কথা ঘোষণা করেছে। ইমরানের পরিবার ও চিকিৎসকদের তাঁর সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া না হলে তার আগেই বিক্ষোভের হুমকিও দিয়েছে দলটি। ইমরানের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ এখনও বড় প্রশ্ন হয়ে থাকায় নতুন এই দাবি ফের সেই প্রশ্নই সামনে (Pakistan) এনেছে—ইমরান কি সত্যিই মারা গিয়েছেন? তবে বর্তমানে যে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, তাতে তাঁর মৃত্যুর কোনও নির্ভরযোগ্য নিশ্চিতকরণ নেই।

    এর আগেও ছড়িয়েছিল একই ধরনের গুজব

    ইমরানের মৃত্যুর গুজব এই প্রথম নয়। গত বছরের নভেম্বরেও তাঁর পরিবার এবং দলীয় কর্মীরা তাঁর সঙ্গে দেখা করতে সমস্যায় পড়ার পর একই ধরনের দাবি ছড়িয়ে পড়েছিল। পরে ২ ডিসেম্বর সেই জল্পনার অবসান ঘটে। ইমরানের বোন উজমা খানুম আদিয়ালা জেলে তাঁর সঙ্গে দেখা করেন। সাক্ষাতের পর তিনি জানান, ইমরান শারীরিকভাবে ভালো আছেন। তবে তাঁকে একাকী রাখা হয়েছিল বলে জানান তিনি। নভেম্বরেই ফের একটি বড় মৃত্যুর গুজব ছড়িয়েছিল। আফগানিস্তান টাইমস দাবি করেছিল, আদিয়ালা জেলের ভেতরে ইমরানকে হত্যা করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, জেলে নির্যাতনের পর ৭২ বছর বয়সী প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে, এবং তাঁর মরদেহ জেলের বাইরে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে পাক প্রশাসন এই দাবি অস্বীকার করে জানায়, ইমরান জীবিত রয়েছেন (Imran Khan)।

    ভুয়া সরকারি বিবৃতিতেও ইমরানের মৃত্যুর দাবি

    ২০২৫ সালের মে মাসে সোশ্যাল মিডিয়ায় পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রকের বিজ্ঞপ্তি হিসেবে একটি ছবি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে দাবি করা হয়েছিল, বিচারাধীন অবস্থায় ইমরানের মৃত্যু হয়েছে বলে সরকার নিশ্চিত করেছে (Pakistan)। তবে নথিটিতে বেশ কিছু অসঙ্গতি ছিল, যা এর সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। “৪২৭/২০২৫” নম্বর উল্লেখ থাকলেও, এতে যথাযথ তারিখ ছিল না। পাশাপাশি নথিতে বানান, বিরামচিহ্ন, ভাষা ও বিন্যাসের একাধিক ভুল দেখা যায়। পাকিস্তানের বা আন্তর্জাতিক কোনও বড় সংবাদমাধ্যম, বিদেশমন্ত্রক কিংবা প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকেও এ ব্যাপারে নিশ্চিত করে কিছু বলা হয়নি। পরে নথিটিকে প্রকৃত সরকারি বিবৃতি নয়, বরং এডিটেড ও বিকৃত ছবি হিসেবে শনাক্ত করা হয়। জেলে ইমরানের সঙ্গে কী ধরনের আচরণ করা হচ্ছে, তা নিয়ে আরও কিছু দাবির মধ্যেই এটিও ছড়িয়েছিল। ফলে তাঁর স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্যের বহর আরও বেড়ে যায়।

    কারাগারে হামলার দাবিও ছিল ভুয়া

    ইমরানের কারাবাসকে ঘিরে শুধু মৃত্যুর গুজবই নয়, আরও নানা দাবি ছড়িয়েছে। ২০২৫ সালের মে মাসে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি কথিত চিকিৎসা প্রতিবেদন ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে দাবি করা হয়, জেলে ইমরান যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন (Imran Khan)। পাক এমিরেটস সামরিক হাসপাতালের নামে প্রচারিত ওই নথিতে গুরুতর আঘাতের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। পাশাপাশি এইচআইভি, হেপাটাইটিস এবং অন্যান্য যৌন-সংক্রমণের পরীক্ষার কথাও বলা হয়। পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের অনুমোদন ছাড়া ইমরানের মুক্তি সম্ভব নয় বলেও দাবি করা হয়েছিল। কিন্তু নথিটিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অসঙ্গতি ছিল। এতে ২০২৫ সালের ৩ মে তারিখ উল্লেখ করা হলেও, সেটি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে তার আগের দিনই, ২ মে। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, সরকারি তথ্য অনুযায়ী ইমরানের চিকিৎসা পরীক্ষা ইসলামাবাদের পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসের চিকিৎসকরা করেছিলেন, পাক এমিরেটস সামরিক হাসপাতালে নয়।

    ভুয়া তথ্য!

    এই সব অসঙ্গতি থেকেই এটি স্পষ্ট হয় যে চিকিৎসা প্রতিবেদনটি আদতে ভুয়া। ইমরানের আইনজীবীরা যৌন নির্যাতনের দাবির স্বপক্ষে নিশ্চিত করে কোনও বিবৃতি দেয়নি। নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম কিংবা সরকারি কোনও বিবৃতিতেও এই দাবির সমর্থন মেলেনি (Imran Khan)। ইমরানের মৃত্যু, স্বাস্থ্য এবং জেলে তাঁর সঙ্গে আচরণ নিয়ে বারবার গুজব ছড়িয়েছে মূলত তখনই, যখন তাঁর পরিবার ও সমর্থকেরা তাঁর সঙ্গে দেখা করার ক্ষেত্রে বাধার মুখে (Pakistan) পড়েছেন। ওয়াজাহাত সাঈদ খানের সর্বশেষ দাবিও সেই পুরনো প্রশ্নকে ফের একবার সামনে এনেছে (Imran Khan)।

  • Calcutta High Court: ওবিসি সংরক্ষণে কলকাতা হাইকোর্টের বড় নির্দেশ, বাতিল তৃণমূল জমানার ‘এ’, ‘বি’ শ্রেণির শংসাপত্র

    Calcutta High Court: ওবিসি সংরক্ষণে কলকাতা হাইকোর্টের বড় নির্দেশ, বাতিল তৃণমূল জমানার ‘এ’, ‘বি’ শ্রেণির শংসাপত্র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল সরকারের আমলে পশ্চিমবঙ্গে চালু হওয়া অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির (OBC) সংরক্ষণ ব্যবস্থায় বড় ধাক্কা কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court)। ২০১০ সালের পর জারি হওয়া অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির ‘এ’ এবং ‘বি’ শ্রেণির শংসাপত্র বাতিলের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। এর ফলে ওই শংসাপত্রের ভিত্তিতে সংরক্ষণের সুবিধা নেওয়ার ক্ষেত্রে নতুন করে তৈরি হল অনিশ্চয়তা। বুধবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা এবং বিচারপতি অনুজ সিংয়ের ডিভিশন বেঞ্চ এই নির্দেশ দেয়। আদালতের নির্দেশের ফলে ২০১০ সালের পর জারি হওয়া সংশ্লিষ্ট শংসাপত্রগুলির বৈধতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠেছে। এর আগে ২০২৪ সালের রায়েও হাইকোর্ট ২০১০ সালের পর তৈরি হওয়া অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির শংসাপত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল এবং সেই সময়ের রায়ের বিরুদ্ধে রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়। সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্টের মূল নির্দেশে হস্তক্ষেপ করেনি।

    সংরক্ষণ নিয়ে সমস্যায় চাকরিপ্রার্থী ও পড়ুয়ারা (Calcutta High Court)

    এই নির্দেশের সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে চাকরিপ্রার্থী এবং পড়ুয়াদের উপর। বিশেষ করে যাঁরা অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির ‘এ’ বা ‘বি’ শ্রেণির শংসাপত্রের ভিত্তিতে চাকরি, নিয়োগ পরীক্ষা কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রে সংরক্ষণের সুবিধা নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন, তাঁদের সামনে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তবে আগের রায়ে আদালত স্পষ্ট করেছিল, ইতিমধ্যে চাকরি পেয়ে গিয়েছেন বা চাকরিতে যোগদানের প্রক্রিয়ায় রয়েছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে ওই নির্দেশের প্রভাব পড়বে না।

    ২০১০ সালের পর থেকেই বিতর্ক

    ২০১০ সালের পর পশ্চিমবঙ্গে অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির তালিকাকে মূলত ‘এ’ এবং ‘বি’—এই দুই শ্রেণিতে ভাগ করা হয়। পরবর্তী সময়ে সেই তালিকা তৈরি এবং তার আইনি বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ২০২৪ সালের ২২ মে কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ ২০১০ সালের পর তৈরি হওয়া প্রায় ১২ লক্ষ অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির শংসাপত্র বাতিলের নির্দেশ দিয়েছিল। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, ওই শংসাপত্রগুলি যথাযথ আইনি পদ্ধতি অনুসরণ করে তৈরি করা হয়নি। ওই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টে যায়। কিন্তু শীর্ষ আদালত কলকাতা হাইকোর্টের রায়ে হস্তক্ষেপ করেনি। ফলে রাজ্যের অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির সংরক্ষণ ব্যবস্থা নিয়ে আইনি জট আরও জটিল হয়ে ওঠে (Calcutta High Court)।

    নতুন তালিকা নিয়েও প্রশ্ন

    এর পর রাজ্য সরকার নতুন করে সমীক্ষা চালিয়ে অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির তালিকায় পরিবর্তন আনে। ‘এ’ এবং ‘বি’ শ্রেণির তালিকায়ও রদবদল করা হয়। কিন্তু নতুন তালিকা তৈরির পদ্ধতি নিয়েও কলকাতা হাইকোর্টে প্রশ্ন ওঠে। অভিযোগ ছিল, সীমিত সংখ্যক মানুষের নমুনার ভিত্তিতে সমীক্ষা চালিয়ে বহু জনগোষ্ঠীকে অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নতুন তালিকা নিয়েও আদালতে মামলা হয় এবং বিষয়টি ফের সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ায়।

    বদলাতে চলেছে সংরক্ষণ কাঠামো

    সাম্প্রতিক নির্দেশের ফলে পশ্চিমবঙ্গে অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির সংরক্ষণ কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ‘এ’ এবং ‘বি’—এই দুই শ্রেণির ভিত্তিতে যে ব্যবস্থা এত দিন চলছিল, আদালতের নির্দেশে তার আইনি ভিত্তি নতুন করে (OBC) প্রশ্নের মুখে পড়ল। ফলে আগামী দিনে রাজ্য সরকার কীভাবে নতুন সংরক্ষণ ব্যবস্থা কার্যকর করে এবং বর্তমানে সংরক্ষণের আওতায় থাকা চাকরিপ্রার্থী ও পড়ুয়াদের ক্ষেত্রে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়, সেটাই দেখার (Calcutta High Court)।

     

  • Amit Shah: সংসদ চলতে দিন, ছাত্র বিক্ষোভ নিয়ে ২৪ ঘণ্টা আলোচনার প্রস্তাব শাহের

    Amit Shah: সংসদ চলতে দিন, ছাত্র বিক্ষোভ নিয়ে ২৪ ঘণ্টা আলোচনার প্রস্তাব শাহের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ছাত্র বিক্ষোভ এবং আন্দোলনরত পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপ নিয়ে সংসদে চলতে থাকা সরকার ও বিরোধীদের সংঘাতের মধ্যেই আলোচনার জন্য ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা প্রস্তাব করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। বুধবার বিরোধীদের উদ্দেশে তাঁর আবেদন, সংসদের কাজ স্বাভাবিক হতে দেওয়া হোক এবং ছাত্র বিক্ষোভ ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হোক। সেই আলোচনায় সাংসদদের বক্তব্য শোনার পর তিনি নিজেই বিস্তারিত জবাব দেবেন (Student Protests)। বিরোধী দলগুলি বেশ কিছু দিন ধরেই দাবি করে আসছে, দিল্লিতে আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের বিরুদ্ধে পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে সরাসরি সংসদে বিবৃতি দিতে হবে। বিশেষ করে পুলিশের বলপ্রয়োগের অনুমতি কে দিয়েছিল এবং অভিযানের সময় গুলি ছোড়ার অভিযোগের সত্যতা কী—এই প্রশ্নগুলির জবাব চাইছেন বিরোধীরা। এই দাবিতে বারবার সংসদের অধিবেশন অচল হয়েছে। এদিকে, সরকারের বক্তব্য, এত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সংসদের নির্ধারিত নিয়ম মেনেই আলোচনা করতে হবে। সরাসরি আলাদা বিবৃতি দেওয়ার পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমেই বিষয়টি সংসদের সামনে তোলা উচিত বলে মত কেন্দ্রের।

    ২৪ ঘণ্টা ধরে আলোচনার প্রস্তাব (Amit Shah)

    এই পরিস্থিতিতেই শাহ বুধবার সংসদে আলোচনার জন্য কার্যত এক দিনের সময় দেওয়ার প্রস্তাব দেন। তাঁর বক্তব্য, বৃহস্পতিবার দুপুর ৩টে পর্যন্ত আলোচনা চালানো যেতে পারে। পুরো আলোচনা পর্বে তিনি নিজে উপস্থিত থাকবেন এবং সাংসদদের বক্তব্য শোনার পর বৃহস্পতিবার দুপুর ৩টেয় বিস্তারিত জবাব দেবেন। শাহ বলেন, “আলোচনা শুরু করা যাক। আমি সভায় থাকব এবং বৃহস্পতিবার দুপুর ৩টেয় বিস্তারিত জবাব দেব।” স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, আলোচনার আগে পৃথক কোনও বিবৃতি দেওয়ার দাবি তিনি মানতে রাজি নন। তাঁর যুক্তি, সংসদের নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে এবং এমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সেই নিয়ম মেনেই আলোচনা হওয়া উচিত। তিনি বলেন, “সংসদে আলোচনার নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। এত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আমি শুধু একটি বিবৃতি দিতে পারি না। আগে আলোচনা হোক, তারপর আমি বিস্তারিত জবাব দেব।” শাহের বক্তব্য, বিরোধী সাংসদরা যে প্রশ্নগুলি তুলতে চান, তার প্রত্যেকটির উত্তর দিতে তিনি প্রস্তুত। তবে তার আগে সংসদের কাজ স্বাভাবিকভাবে চলতে দিতে হবে। তাঁর মতে, সংসদ অচল রেখে কোনও সমস্যার সমাধান সম্ভব নয় (Amit Shah)।

    পলাতক’ তকমা নিয়েও জবাব

    সংসদে না আসা এবং বিরোধীদের প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার অভিযোগও উঠেছে শাহের বিরুদ্ধে। বিরোধী সদস্যদের একাংশ তাঁকে ‘পলাতক’ বলেও কটাক্ষ করেছেন। সেই অভিযোগেরও জবাব দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি দাবি করেন, তিনি নিয়মিত সংসদে আসছেন এবং নিজের দফতরে উপস্থিত থাকছেন। কিন্তু বিরোধীরা সংসদের কাজ চলতে না দেওয়ায় তিনি সভাকক্ষে যেতে পারছেন না (Student Protests)। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমি প্রতিদিনই আমার কক্ষে থাকি। আমি সভার ভিতরে যাই না। কারণ বিরোধীরা সংসদ চলতে দিচ্ছে না।” স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্য এমন একটা সময়ে এসেছে, যখন বিরোধীরা ছাত্রদের বিরুদ্ধে পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে তাঁর কাছ থেকে সরাসরি ব্যাখ্যা দাবি আরও জোরদার করেছেন। বিরোধীদের প্রশ্ন, আন্দোলনরত ছাত্রদের নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে বলপ্রয়োগের নির্দেশ কে দিয়েছিলেন? সেই নির্দেশের ভিত্তি কী ছিল? পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের ব্যবহৃত পদ্ধতি কতটা আইনসঙ্গত ছিল?

    সরকারের লুকোনোর কিছু নেই’, দাবি শাহের

    নিজের প্রস্তাব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে শাহ জানান, সরকার দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনা করতেও প্রস্তুত। সাংসদরা যে সব বিষয় তুলবেন, সেগুলির জবাব দেওয়া হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “বৃহস্পতিবার দুপুর ৩টে পর্যন্ত আমরা সব ধরনের আলোচনার জন্য প্রস্তুত। আমি নিজে সভায় বসব, প্রত্যেকের কথা শুনব এবং সব প্রশ্নের উত্তর দেব। সরকারের লুকোনোর কিছু নেই। আপনারা কেন আলোচনা চাননি, সেটাও আমি আলোচনা করব। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন ভারতীয় জনতা পার্টির নেতৃত্বাধীন জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট সরকার সব বিষয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত।” তিনি এও বলেন, “শুধু সংসদ চলতে দিন। আজ বিভিন্ন মাধ্যমে আমি বিরোধীদের বলতে চাই, দুপুর ২টোর মধ্যে সভাধ্যক্ষকে একটি চিঠি দিন। আমরা দুপুর ৩টে থেকে আলোচনা শুরু করব এবং বৃহস্পতিবার দুপুর ৩টের মধ্যে আমি সব প্রশ্নের উত্তর দেব। সংসদে আলোচনার জন্য নিয়ম ও পদ্ধতি নির্ধারিত রয়েছে। এখন কেউ যদি আমাকে শুধু একটি বিবৃতি দিতে বলে, এত গুরুতর বিষয়ে তা কীভাবে সম্ভব?” শাহের এই প্রস্তাবের মধ্য দিয়ে এটা স্পষ্ট যে, সরকার বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করতে প্রস্তুত। যদিও বিরোধীরা সেই প্রস্তাব কীভাবে গ্রহণ করবেন, তা স্পষ্ট নয়।

    দিল্লিতে ছাত্র বিক্ষোভ ঘিরেই মূল বিরোধ

    সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে এই সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ২০ জুলাই দিল্লিতে ছাত্রদের বিক্ষোভ এবং তার পর পুলিশের পদক্ষেপ। বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, আন্দোলনরত ছাত্রদের দমন করতে পুলিশ অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ করেছে। এই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে (Amit Shah)। বিরোধী দলগুলির নেতৃত্বে থাকা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী-সহ একাধিক নেতা দাবি করেছেন, ছাত্রদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের অনুমোদন কে দিয়েছিল, তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে সংসদে স্পষ্ট করতে হবে। বিশেষ করে অভিযানের সময় গুলি ছোড়ার অভিযোগ নিয়ে বিরোধীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে (Student Protests)। বিরোধীদের অভিযোগ, ছাত্রদের প্রতিবাদ দমনে পুলিশ যে পদ্ধতি নিয়েছে, তা নিয়ে সরকারের কাছ থেকে স্বচ্ছ ব্যাখ্যা প্রয়োজন। তাঁদের বক্তব্য, সংসদে এই প্রশ্নের উত্তর না পাওয়া পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ চলবে।

    সংসদের বাইরে বিরোধীদের বিক্ষোভ

    বুধবার সংসদের বাইরে বিরোধী নেতারাও বিক্ষোভ দেখান। সেখানে শাহের জবাব চেয়ে স্লোগান দেওয়া হয়। “অমিত শাহ জবাব দাও”—এই স্লোগানে সরব হন বিরোধী দলের নেতা ও সাংসদরা। বিক্ষোভকারীদের মূল দাবি ছিল, ছাত্রদের ওপর পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে সরাসরি জবাব দিতে হবে। শুধু দিল্লি নয়, অন্যান্য রাজ্যেও ছাত্রদের সঙ্গে পুলিশের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীরা। ছাত্র বিক্ষোভের বিষয়টি আরও বড় রাজনৈতিক সংঘাতের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। সর্বভারতীয় স্তরে পরীক্ষার প্রশ্নপত্রফাঁস, ছাত্রদের প্রতিবাদ এবং তার পর পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, তারই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে সংসদেও।

    সরকার-বিরোধী সংঘাত মেটাবে কি আলোচনা?

    একদিকে বিরোধীরা চাইছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সরাসরি বক্তব্য দিয়ে পুলিশের পদক্ষেপের ব্যাখ্যা দিন। অন্যদিকে শাহের বক্তব্য, সংসদের নিয়ম মেনে আলোচনা হলেই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া সম্ভব। ফলে মূল বিরোধ এখন আর আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে নয়, বরং আলোচনাটি কীভাবে এবং কোন প্রক্রিয়ায় হবে, তা নিয়ে (Amit Shah)। শাহের ২৪ ঘণ্টার আলোচনার প্রস্তাব তাই রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, বিরোধীরা সংসদের কাজ চালু করতে দিলে তিনি দীর্ঘ আলোচনা শুনতে এবং প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দিতে প্রস্তুত। একই সঙ্গে তিনি বিরোধীদের সংসদ অচল না করে নিয়ম মেনে আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন (Student Protests)।

  • Howrah Municipal Corporation: কলকাতা-হাওড়া পুরসভা সংশোধনী বিল পাশ, বাড়ল প্রাক্তন বিধায়কদের চিকিৎসা ভাতা

    Howrah Municipal Corporation: কলকাতা-হাওড়া পুরসভা সংশোধনী বিল পাশ, বাড়ল প্রাক্তন বিধায়কদের চিকিৎসা ভাতা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বুধবার বিধানসভার অধিবেশনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। কলকাতা ও হাওড়া পুরসভা সংক্রান্ত সংশোধনী (Howrah Municipal Corporation) বিল ধ্বনিভোটে পাশ হওয়ার পাশাপাশি অসমের ভয়াবহ বন্যায় দুর্গতদের জন্য ১০ কোটি টাকা আর্থিক সাহায্য দেওয়ার কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রাক্তন বিধায়কদের মাসিক চিকিৎসা ভাতা বৃদ্ধি এবং প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে বিধায়ক সেবাকেন্দ্র চালুর কথাও জানানো হয়েছে (West Bengal Assembly)। সেবাকেন্দ্র পরিচালনার জন্য শর্তসাপেক্ষে মাসিক ৩০ হাজার টাকা অনুদান দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে।

    পুরসভা সংক্রান্ত দু’টি পৃথক সংশোধনী বিল (Howrah Municipal Corporation)

    মঙ্গলবার বিধানসভায় পুরসভা সংক্রান্ত দু’টি পৃথক সংশোধনী বিল পেশ করা হয়। আলোচনার পর ধ্বনিভোটে দু’টি বিলই পাশ হয়ে যায়। বিল নিয়ে আলোচনার সময় বিরোধীদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।  মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানান, বিধি বা নিয়ম সরিয়ে কোনও বিল পাশ করানো হচ্ছে না। কলকাতা পুরসভার আসন সংখ্যা নির্ধারণ সংক্রান্ত বিষয়েও এদিন আলোচনা হয়। কলকাতা পুরসভার নিজস্ব আইন রয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। ওয়ার্ডের সীমানা পুনর্বিন্যাসের কাজ নির্বাচন কমিশন করবে বলেও জানান তিনি। খসড়া বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হলে তা নিয়ে মতামত জানানোর জন্য ৬০ দিন সময় পাওয়া যাবে। এই প্রক্রিয়ায় দু’টি সর্বদলীয় বৈঠকও হবে। প্রথম বৈঠক হবে খসড়া প্রকাশের আগে এবং দ্বিতীয়টি চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের আগে।

    মানবিক সরকার

    অসমের ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, বন্যায় ইতিমধ্যেই শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। অসমে বহু বাংলাভাষী মানুষ বসবাস করেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এই পরিস্থিতিতে অসমের বন্যা দুর্গতদের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। রাজ্যের পক্ষ থেকে অসমের বন্যাকবলিত মানুষের জন্য ১০ কোটি টাকা আর্থিক সাহায্যের কথা ঘোষণা করা হয় (Howrah Municipal Corporation)। প্রাক্তন বিধায়কদের আর্থিক সুরক্ষা এবং তাঁদের প্রতি সম্মান জানাতে চিকিৎসা ভাতা বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, আগের সরকারের আমলে এই বিষয়ে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

    প্রাক্তন বিধায়কদের পাশেও সরকার

    সততার সঙ্গে কাজ করেছেন এমন বহু প্রবীণ প্রাক্তন বিধায়ককে তিনি দেখেছেন বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। মহিষাদলের প্রাক্তন বিধায়ক দীনবন্ধু রায় এবং বাসন্তীর প্রাক্তন মন্ত্রী সুভাষ নস্করের মতো বর্ষীয়ান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের স্মরণ করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বর্ষীয়ান প্রাক্তন বিধায়কদের প্রতি সরকারের কিছু দায়িত্ব রয়েছে।” সেই দায়িত্বের কথা মাথায় রেখে প্রাক্তন বিধায়কদের মাসিক চিকিৎসা ভাতা ৬ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষের আরও কাছাকাছি পৌঁছনোর পাশাপাশি বিধায়কদের কাজের সুবিধার জন্য প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে একটি করে সেবাকেন্দ্র চালুর কথা ঘোষণা করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই শাসকদলের শতাধিক বিধায়ক এই ধরনের সেবাকেন্দ্র চালু করেছেন বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।

    চালু হচ্ছে সেবাকেন্দ্র!

    তবে এই সেবাকেন্দ্র চালু করতে ইচ্ছুক বিধায়কদের জন্য দু’টি শর্তের কথা জানান তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী, সেবাকেন্দ্রের নাম রাখতে হবে “নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু সেবা কেন্দ্র”। পাশাপাশি কেন্দ্রের ভিতরে নেতাজির ধুতি-পাঞ্জাবি পরিহিত ছবি রাখতে হবে। এই দু’টি শর্ত পূরণ করলে (West Bengal Assembly) সংশ্লিষ্ট বিধায়করা সেবাকেন্দ্র পরিচালনার জন্য প্রতি মাসে ৩০ হাজার টাকা করে (Howrah Municipal Corporation) অনুদান পাবেন বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।

     

  • Abhijit Dipke: সিজেপিতে অন্তর্কলহ! অভিজিৎ দীপকের নেতৃত্ব নিয়ে ‘ককরোচ’দের মধ্যে বাড়ছে বিক্ষোভ!

    Abhijit Dipke: সিজেপিতে অন্তর্কলহ! অভিজিৎ দীপকের নেতৃত্ব নিয়ে ‘ককরোচ’দের মধ্যে বাড়ছে বিক্ষোভ!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অসুস্থ হয়ে পড়ায় হাসপাতালে ভর্তি করা হল ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের (Abhijit Dipke) নেতৃত্ব ও দলের কার্যপদ্ধতির বিরুদ্ধে অনির্দিষ্টকালের জন্য অনশনে বসা দুই যুবক। সোমবার, ১০ অগাস্ট শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁদের সরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকেরা স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে তাঁদের চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে বলে জানালে পুলিশ অ্যাম্বুল্যান্সে করে তাঁদের নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে। অসুস্থ হয়ে পড়া দুই আন্দোলনকারী হলেন মণীশ ব্রহ্মভট্ট ও রাহুল পাণ্ড্য। দু’জনেই আহমেদাবাদের বাসিন্দা এবং ককরোচ জনতা পার্টির সদস্য। গত ৬ অগাস্ট থেকে তাঁরা বিভাগীয় কমিশনারের দফতর চত্বরে অনশন শুরু করেছিলেন। দলের নেতৃত্ব এবং মূল কমিটি গঠনের পদ্ধতি নিয়েও তাঁরা আপত্তি জানিয়েছিলেন।

    দলের মূল কমিটি গঠন নিয়ে ক্ষোভ (Abhijit Dipke)

    মণীশ ও রাহুলের অভিযোগ, অভিজিৎ নিজের ইচ্ছামতো দলের মূল কমিটি গঠন করেছেন। তাঁদের দাবি, এই সংগঠন কোনও এক ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠেনি, বরং এটি একটি বৃহত্তর জাতীয় আন্দোলনের প্রতিনিধিত্ব করে। তাই বিভিন্ন রাজ্য থেকে আরও বেশি প্রতিনিধিত্ব থাকা প্রয়োজন। আন্দোলনকারীদের দাবি ছিল, দীপকের গঠিত মূল কমিটিতে প্রতিটি রাজ্য থেকে পাঁচজন করে সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। তাঁদের বক্তব্য, দলের নেতৃত্বের কাছে বিষয়টি একাধিকবার জানানো হলেও, তাঁদের দাবির বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। এরপরই ৬ অগাস্ট থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য অনশনে বসার সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা। প্রথমে অভিজিতের বাসভবনের কাছে বসেই তাঁরা অনশন শুরু করেছিলেন। পুলিশ তাঁদের জানায়, তাঁর বাসভবনের কাছে অনশন চালিয়ে যাওয়া যাবে না। পরে পুলিশ আধিকারিকদের পরামর্শে তাঁরা বিভাগীয় কমিশনারের দফতর চত্বরে গিয়ে অনশন শুরু করেন।

    চতুর্থ দিনেই শারীরিক অবস্থার অবনতি

    সোমবার সকাল সাড়ে ৮টা নাগাদ চিকিৎসাকর্মীরা দুই আন্দোলনকারীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। পরীক্ষা শেষে তাঁরা পুলিশকে জানান, দু’জনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে এবং তাঁদের চিকিৎসার প্রয়োজন। এরপর পুলিশ অ্যাম্বুল্যান্সে করে তাঁদের হাসপাতালে নিয়ে যায় (CJP)। দুই মূল অনশনকারী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় অনশন আদৌ বন্ধ হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। যদিও আন্দোলন থামেনি বলেই খবর। অনশন চালিয়ে যেতে শৃঙ্খল অনশনের পথ নেওয়া হয়েছে আন্দোলনকারীদের তরফে। হাসপাতালে ভর্তি হওয়া দুই যুবকের পরিবর্তে আরও তিন যুবক শৃঙ্খল অনশনে যোগ দিয়েছেন বলে খবর। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ছত্রপতি সম্ভাজিনগরের আয়ান খান, জলনার ফারুক খান এবং আহমেদাবাদের সুনীল দেশাই। ফলে মূল দুই অনশনকারী হাসপাতালে ভর্তি হলেও অভিজিতের নেতৃত্ব এবং ককরোচ জনতা পার্টির মূল কমিটি গঠন নিয়ে আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে।

    এবার দীপকের বিরুদ্ধে পুলিশকর্মীদের সংগঠনের বিক্ষোভ

    এমন আবহেই অভিজিতের বিরুদ্ধে পৃথকভাবে সরব হয়েছে পুলিশ বয়েজ অ্যাসোসিয়েশন। মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ছত্রপতি সম্ভাজিনগরের জেলাশাসকের দফতরের বাইরে সংগঠনের সদস্যরা মৌন বিক্ষোভ দেখান (Abhijit Dipke)।সংগঠনের দাবি, অভিজিৎকে দেওয়া পুলিশি নিরাপত্তা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে এবং তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে। গত ৭ আগস্ট নিজের বাসভবনের বাইরে কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের আচরণ নিয়ে অভিজিৎ অভিযোগ তোলেন। তার পরেই সূত্রপাত হয় এই বিরোধের।

    কী নিয়ে পুলিশের সঙ্গে অভিজিতের বিরোধ?

    অভিজিতের অভিযোগ ছিল, তাঁর সঙ্গে দেখা করতে আসা লোকজনের সঙ্গে তাঁর বাসভবনের বাইরে কর্তব্যরত পুলিশকর্মীরা দুর্ব্যবহার করেন। এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিজিৎ বলেছিলেন, কার সঙ্গে তিনি দেখা করবেন তা ঠিক করার জন্য পুলিশের প্রয়োজন নেই। তিনি এক পুলিশ আধিকারিককে সেখান থেকে চলে যেতে বলেছিলেন বলেও অভিযোগ। অজিজিতের এহেন মন্তব্যের পরেই পুলিশ বয়েজ অ্যাসোসিয়েশন প্রতিবাদে নামে। সংগঠনের অভিযোগ, তিনি পুলিশ- প্রশাসনের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করেছেন। তাঁর আচরণকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে সংগঠনটি পুলিশকর্মী ও তাঁদের পরিবারের অধিকার লঙ্ঘনেরও অভিযোগ তুলেছে (CJP)।

    পুলিশি নিরাপত্তা প্রত্যাহারের দাবি

    পুলিশ বয়েজ অ্যাসোসিয়েশনের দাবি, অভিজিতকে দেওয়া পুলিশি নিরাপত্তা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে এবং তাঁর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। সংগঠনের বক্তব্য, নাগরিকদের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কোনও পুলিশকর্মীকে প্রকাশ্যে অপমান করা শুধু একজন আধিকারিককে অপমান করা নয়, এটি গোটা পুলিশবাহিনী এবং আইনের শাসনের প্রতি অসম্মান (Abhijit Dipke)। জেলাশাসকের কাছে স্মারকলিপি জমা দেওয়ার পর আপাতত বিক্ষোভ প্রত্যাহার করে নেয় সংগঠনটি। তবে অভিজিতের “দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণে”র বিরুদ্ধে তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

    গোটা পুলিশবাহিনীর প্রতি অপমান”

    পুলিশ বয়েজ অ্যাসোসিয়েশনের দাবি, প্রশাসনের কাছে আগে দেওয়া স্মারকলিপির ভিত্তিতে কোনও পদক্ষেপ না হওয়ায় মৌন বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়েছে। সংগঠনের বহু পদাধিকারী ও কর্মী এতে অংশ নেন। তাঁদের বক্তব্য, এই বিক্ষোভ পুলিশকর্মী এবং তাঁদের পরিবারের মর্যাদা ও আত্মসম্মান রক্ষার দাবিতে করা হয়েছে। সংগঠনটি জানিয়েছে, অভিজিতের পুলিশি নিরাপত্তা অবিলম্বে প্রত্যাহার করা উচিত। কোনও অপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপও করতে হবে (CJP)। এই আন্দোলনের ফলে ছত্রপতি সম্ভাজিনগরে অভিজিতকে ঘিরে এখন দু’টি পৃথক বিরোধের সূত্রপাত হয়েছে। একদিকে দলের কার্যপদ্ধতি ও মূল কমিটি গঠন নিয়ে ককরোচ জনতা পার্টির সদস্যদের আন্দোলন, অন্যদিকে পুলিশকর্মীদের সঙ্গে তাঁর আচরণ নিয়ে পুলিশ বয়েজ অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিবাদ—দুই ক্ষেত্রেই চাপের মুখে পড়েছেন ‘আরশোলা পার্টি’ সুপ্রিমো স্বয়ং (Abhijit Dipke)।

     

  • Vande Mataram: ‘বন্দে মাতরম’কে জাতীয় সঙ্গীতের সমান আইনি সুরক্ষা, রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর পরিণত আইনে

    Vande Mataram: ‘বন্দে মাতরম’কে জাতীয় সঙ্গীতের সমান আইনি সুরক্ষা, রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর পরিণত আইনে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘বন্দে মাতরম’কে (Vande Mataram) জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’-এর সমান আইনি সুরক্ষা দিল কেন্দ্র। মঙ্গলবার ১১ অগাস্ট, রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু জাতীয় (National Anthem) সম্মানের অবমাননা প্রতিরোধ (সংশোধন) বিল, ২০২৬-এ সম্মতি দেন। রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর বিলটি আইনে পরিণত হয়েছে।

    শাস্তিযোগ্য অপরাধ (Vande Mataram)

    সংসদ গত মাসেই ১৯৭১ সালের জাতীয় সম্মানের অবমাননা প্রতিরোধ আইনে সংশোধনী হিসেবে এই বিলটি পাশ করেছিল। নতুন আইনে ইচ্ছাকৃতভাবে ‘বন্দে মাতরম’ গান থামিয়ে দেওয়া অথবা জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার সময় কোনও সমাবেশে বিঘ্ন ঘটানো শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এই অপরাধে সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, জরিমানা অথবা একই সঙ্গে কারাদণ্ড ও জরিমানা হতে পারে। ১৯৭১ সালের আইনে নির্দিষ্টভাবে জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’-এর সুরক্ষার কথা বলা ছিল। ইচ্ছাকৃতভাবে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া বন্ধ করে দেওয়া অথবা তা গাওয়ার সময় কোনও ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান ছিল। দ্বিতীয় বা পরবর্তী দোষের ক্ষেত্রে ন্যূনতম এক বছরের কারাদণ্ডের বিধানও রয়েছে।

    আইনি সুরক্ষার আওতায় ‘বন্দে মাতরম’ 

    নতুন সংশোধনীর ফলে ‘বন্দে মাতরম’-ও একই আইনি সুরক্ষার আওতায় চলে এল। সংশোধনী বিলে বলা হয়েছিল, জাতীয় গান ইচ্ছাকৃতভাবে বন্ধ করে দেওয়া বা গাওয়ার সময় ইচ্ছাকৃতভাবে বাধা সৃষ্টি করা রুখতে ১৯৭১ সালের আইনে এতদিন কোনও নির্দিষ্ট বিধান ছিল না। সেই কারণে আইনের ৩ নম্বর ধারায় ‘বন্দে মাতরম’কে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। স্বাধীনতা সংগ্রামে ‘বন্দে মাতরম’-এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাও সংশোধনী আইনে তুলে ধরা হয়েছে। ১৯৫০ সালের ২৪ জানুয়ারি গণপরিষদের সভাপতি রাজেন্দ্র প্রসাদ জানিয়েছিলেন, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা এই গানকে ‘জন গণ মন’-এর সমান মর্যাদা দেওয়া হবে (Vande Mataram)।

    প্রথমে জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’

    এদিকে, জাতীয় গান পরিবেশন নিয়ে নতুন নিয়মও চালু করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। ২৮ জানুয়ারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের জারি করা নির্দেশ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির আগমন, জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং রাজ্যপালদের ভাষণের মতো সরকারি অনুষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরম’-এর ছ’টি স্তবকই গাওয়া হবে। পুরো গানটি গাইতে সময় লাগবে প্রায় ৩ মিনিট ১০ সেকেন্ড। ‘বন্দে মাতরম’ এবং ‘জন গণ মন’ একই অনুষ্ঠানে পরিবেশিত হলে প্রথমে জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া হবে। উপস্থিত সকলের তখন সতর্ক অবস্থানে দাঁড়িয়ে থাকার কথা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক আরও জানিয়েছে, এ বছর স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে প্রথমবার লালকেল্লা থেকে ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশন করা হবে (National Anthem)। দেশের স্কুলগুলিতেও দিনের কর্মসূচি জাতীয় গানটির সমবেত পরিবেশনের মাধ্যমে শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে (Vande Mataram)।

     

  • Supreme Court: নেতাজির চিতাভস্ম জাপান থেকে ভারতে ফেরানোর আর্জি, কেন্দ্রকে নোটিশ সুপ্রিম কোর্টের

    Supreme Court: নেতাজির চিতাভস্ম জাপান থেকে ভারতে ফেরানোর আর্জি, কেন্দ্রকে নোটিশ সুপ্রিম কোর্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জাপানের টোকিওর রেনকোজি মন্দিরে সংরক্ষিত নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর চিতাভস্ম (Netaji Bose Ashes Tokyo) ভারতে ফিরিয়ে আনার নির্দেশ চেয়ে দায়ের করা আবেদনের শুনানিতে কেন্দ্রীয় সরকারকে নোটিশ দিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। নেতাজির কন্যা অনিতা বি পাফ এই আবেদনটি করেছিলেন। মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হয়। আবেদনকারীর পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী এএম সিংভি আদালতকে জানান, নেতাজির কন্যা দীর্ঘদিন ধরেই প্রকাশ্যে তাঁর বাবার দেহাবশেষ ভারতে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়ে আসছেন।

    “শেষকৃত্য, মর্যাদা এবং চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য…” (Supreme Court)

    সিংভি বলেন, “শেষকৃত্য, মর্যাদা এবং চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য…” তাঁর বক্তব্য, এর আগে শীর্ষ আদালত নেতাজির উত্তরাধিকারীকে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার কথা জানিয়েছিল। সেই নির্দেশ মেনেই এবার তাঁর কন্যা সরাসরি আদালতে এসেছেন। সওয়াল-জবাবের পর কেন্দ্রীয় সরকারকে নোটিশ জারি করে আদালত। গত মার্চেই নেতাজির গ্র্যান্ড নেফিউ (নাতি-ভাইপো) আশিস রায় তাঁর দেহাবশেষ ভারতে ফিরিয়ে আনার দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছিলেন। সেই আবেদন গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছিল শীর্ষ আদালত। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, নেতাজির উত্তরাধিকারী যদি তাঁর চিতাভস্ম ভারতে ফিরিয়ে আনতে চান, তাহলে তাঁকেই আদালতের সামনে আসতে হবে। আদালত আরও জানিয়েছিল, “আমরা তাঁর আবেগকে সম্মান করি এবং তাঁর আবেগকে আইনি পদক্ষেপে রূপ দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করব (Supreme Court)।”

    সিংভির সওয়াল

    সেই শুনানির সময় সিংভি আদালতকে জানিয়েছিলেন, সুভাষচন্দ্র বসুর কন্যা ভার্চুয়াল মাধ্যমে শুনানিতে উপস্থিত রয়েছেন এবং তিনি ওই আবেদন সমর্থন করছেন। তবে বেঞ্চের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, এর আগে একই ধরনের একাধিক আবেদন করা হয়েছে এবং সেগুলি খারিজ হয়ে গিয়েছে। প্রধান বিচারপতির প্রশ্ন, “এই বিষয়টি আর কতবার আদালতের সামনে আসবে?” সিংভি জবাব দেন, এবারের বিষয়টি আগের আবেদনের মতো নয়। তখন বেঞ্চ মৌখিকভাবে মন্তব্য করে, “পরোক্ষভাবে হোক বা সরাসরি… এই আবেদন আবার কেন আসছে? প্রথমত, চিতাভস্ম কোথায় রয়েছে? তার প্রমাণ কী?” এর জবাবে সিংভি জানান, নেতাজির একমাত্র উত্তরাধিকারী তাঁর কন্যা, যাঁর বয়স ৮৪ বছর এবং যিনি সেই সময় আদালতের শুনানিতে ভার্চুয়ালি উপস্থিত ছিলেন। তিনি আরও জানান, ভারতে দায়িত্ব পালন করা প্রায় প্রত্যেক রাষ্ট্রপ্রধানই জাপানের রেনকোজি মন্দিরে গিয়ে সেখানে সংরক্ষিত নেতাজির চিতাভস্মের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন (Netaji Bose Ashes Tokyo)।

    প্রধান বিচারপতির বক্তব্য

    প্রধান বিচারপতি বলেন, “প্রথমত, আমরা জানতে চাই নেতাজির পরিবারের কতজন সদস্য জীবিত রয়েছেন। নেতাজি নিঃসন্দেহে এই দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নেতা। তাঁর সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের জন্য আমাদের অনেকেই তাঁর সামনে মাথা নত করি।” সিংভি জানান, নেতাজির একমাত্র সন্তান অনিতা এবং তিনিই একমাত্র উত্তরাধিকারী। তিনি বর্তমানে অস্ট্রিয়ায় বসবাস করেন। তবে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, তিনি এই মামলার আবেদনকারী নন। তাঁর বক্তব্য, “উত্তরাধিকারীকে আমাদের সামনে আসতে দিন… উত্তরাধিকারী যদি চিতাভস্ম আমাদের দেশে ফিরিয়ে আনতে চান, তাহলে তাঁকেই আমাদের সামনে আসতে হবে।” বেঞ্চের অবস্থান দেখে সিংভি আশিস রায়ের দায়ের করা আবেদনটি প্রত্যাহারের অনুমতি চান। তিনি জানান, নেতাজির কন্যা নিজে পরবর্তী সময়ে আবেদন করবেন। এরপর আদালত আবেদনটি প্রত্যাহার করার অনুমতি দিয়ে মামলাটির নিষ্পত্তি করে।

    রেনকোজি মন্দিরে নেতাজির চিতাভস্ম সংরক্ষিত রয়েছে বলে দীর্ঘদিন ধরে দাবি করা হয়ে আসছে। সেই চিতাভস্ম ভারতে ফিরিয়ে আনা হবে কি না, তা নিয়ে বহু বছর ধরেই (Netaji Bose Ashes Tokyo) বিতর্ক ও আইনি জটিলতা রয়েছে। এবার নেতাজির কন্যার সরাসরি আবেদনের ভিত্তিতে কেন্দ্রের বক্তব্য জানতে চাইল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)।

     

LinkedIn
Share