Tag: Bengali news

Bengali news

  • OIC: জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে ওআইসির মন্তব্য, ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলানোর অধিকার নেই’, কড়া জবাব ভারতের

    OIC: জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে ওআইসির মন্তব্য, ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলানোর অধিকার নেই’, কড়া জবাব ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে ওআইসি (অর্গানাইজেশন অফ ইসলামিক কো-অপারেশন) গোষ্ঠীর মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানাল ভারত। নয়াদিল্লির বক্তব্য, জম্মু-কাশ্মীর ভারতের একান্ত অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং এ নিয়ে মন্তব্য করার কোনও অধিকার ওআইসির (OIC) নেই। একই সঙ্গে পাকিস্তানকে ভারতবিরোধী প্রচারের মঞ্চ (Kashmir References) করে না দেওয়ার জন্যও ওআইসিকে পরামর্শ দিয়েছে ভারত।

    বুধবার এক বিবৃতিতে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক ওআইসির জম্মু-কাশ্মীর সংক্রান্ত মন্তব্যকে অপ্রয়োজনীয় এবং তথ্যগত ভাবে ভুল বলে অভিহিত করেছে। মন্ত্রকের বক্তব্য, “ভারতের একান্ত অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে মন্তব্য করার কোনও এখতিয়ারই নেই ওআইসির।”

    ভারত আরও একবার স্পষ্ট করে জানিয়েছে, জম্মু-কাশ্মীর এবং লাদাখের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল দু’টি দেশের অবিচ্ছেদ্য ও অবিচ্ছিন্ন অংশ। আন্তর্জাতিক কোনও মঞ্চে জম্মু-কাশ্মীরের মর্যাদা নিয়ে প্রশ্ন তোলা বা তা পরিবর্তনের চেষ্টা ভারত মেনে নেবে না বলেও নিজেদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে নয়াদিল্লি।

    নিউ ইয়র্কে ওআইসির বৈঠক (OIC)

    মঙ্গলবার নিউ ইয়র্কে রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে ওআইসির যোগাযোগ গোষ্ঠীর বৈঠক হয়। বৈঠকের পর ওআইসি জানায়, জম্মু-কাশ্মীরের মানুষের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার বলে তারা যে বিষয়টিকে উল্লেখ করেছে, তার প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে যোগাযোগ গোষ্ঠী। এর পরেই ভারতের বিদেশ মন্ত্রক ওই মন্তব্যের বিরোধিতা করে বিবৃতি দেয়।

    ওআইসির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ভারতের

    জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে বারবার মন্তব্য করার কারণে ওআইসির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে ভারত। বিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্য, “এই ধরনের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্যকে বারবার সমর্থন করা ওআইসির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করে।”

    ভারত দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মঞ্চে জম্মু-কাশ্মীর প্রসঙ্গ উত্থাপনের বিরোধিতা করে আসছে। নয়াদিল্লির অবস্থান হল, বিষয়টি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে তা নিয়ে হস্তক্ষেপের কোনও প্রয়োজন নেই।

    পাকিস্তানকে ‘পরামর্শ’ দেওয়ার কথা ওআইসিকে

    ওআইসির বৈঠকে পাকিস্তানের ভূমিকারও সমালোচনা করেছে ভারত। নয়াদিল্লির অভিযোগ, ভারত যে বিষয়গুলিকে নিজেদের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে মনে করে, পাকিস্তান সেগুলিকেই আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরার জন্য ওআইসিকে ব্যবহার করছে (OIC)।

    বিদেশ মন্ত্রক বলেছে, “পাকিস্তানকে তার মনগড়া ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচার চালানোর জন্য মঞ্চ দেওয়ার পরিবর্তে, ওআইসির উচিত পাকিস্তানকে পরামর্শ দেওয়া।”

    পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদে সমর্থন ও মদত দেওয়ার সুপ্রতিষ্ঠিত ও নথিবদ্ধ রেকর্ড রয়েছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে ভারত। নয়াদিল্লির বক্তব্য, পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা থেকে সন্ত্রাসবাদের যে হুমকি তৈরি হচ্ছে, ইসলামাবাদের উচিত প্রথমে সেই সমস্যার মোকাবিলা করা।

    ওআইসি বৈঠকে কী বললেন ইশাক দার?

    নিউ ইয়র্কে ওআইসির যোগাযোগ গোষ্ঠীর বৈঠকে বক্তব্য রাখেন পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও বিদেশমন্ত্রী ইশাক দার। রাষ্ট্রপুঞ্জ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক মঞ্চে জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে ওআইসির সদস্য দেশগুলিকে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।

    ২০১৯ সালের ৫ অগাস্টের পর ভারত যে পদক্ষেপগুলি নিয়েছে, সেগুলি প্রত্যাহারের দাবিও জানান দার। এর পাশাপাশি রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার দাবিও তোলেন (Kashmir References) তিনি।

    পাকিস্তান জম্মু-কাশ্মীর প্রসঙ্গ নিয়মিত আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরে আসছে। আর, ভারত বরাবরই এই ধরনের হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করে জানিয়েছে, জম্মু-কাশ্মীর (OIC) দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং এই বিষয়ে কোনও তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়।

     

  • BJP: বাংলায় সুনীল বনসলই, তিন সহ-পর্যবেক্ষক নিয়ে নতুন পদ্ম-দল

    BJP: বাংলায় সুনীল বনসলই, তিন সহ-পর্যবেক্ষক নিয়ে নতুন পদ্ম-দল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের সংগঠন সামলানোর দায়িত্বে সুনীল বনসলকেই (Sunil Bansal) রেখে দিলেন বিজেপির (BJP) কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। বুধবার দলের সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন ২৮টি রাজ্য এবং ৮টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের জন্য নতুন পর্যবেক্ষক ও সহ-পর্যবেক্ষকদের নাম ঘোষণা করেন। সেই তালিকায় পশ্চিমবঙ্গের পর্যবেক্ষক হিসেবে নাম রয়েছে বনসলের। তাঁর সঙ্গে সহ-পর্যবেক্ষক করা হয়েছে লাল সিংহ আর্য, রাজেন্দ্র সিংহ এবং পিঙ্কি কুশওয়াহাকে। বিজেপির সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাসে একাধিক রাজ্যে নতুন দায়িত্ব বণ্টন করা হলেও পশ্চিমবঙ্গ এবং তেলঙ্গানায় বনসলের দায়িত্ব বহাল রাখা হয়েছে। তেলঙ্গানাতেও তাঁর সঙ্গে নতুন করে দুই সহ-পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে।

    তিন সহ-পর্যবেক্ষক নিয়ে বাংলায় বনসলের দল (BJP)

    পশ্চিমবঙ্গে সংগঠন পরিচালনায় বনসলকে সাহায্য করবেন লাল সিংহ আর্য, রাজেন্দ্র সিংহ এবং পিঙ্কি কুশওয়াহা। বিজেপির প্রকাশিত তালিকাতেও এই তিনজনের নাম পশ্চিমবঙ্গের সহ-পর্যবেক্ষক হিসেবে রয়েছে।

    বিজেপির সাংগঠনিক দায়িত্বে বনসলের সঙ্গে নতুন তিন নেতাকে যুক্ত করার মাধ্যমে রাজ্য সংগঠনের কাজ আরও ভাগ করে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং নির্বাচনী প্রস্তুতিতে এই দল কাজ করবে বলে বিজেপি সূত্রে খবর।

    পড়শি রাজ্য অসমের দায়িত্বেও বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। অসমের পর্যবেক্ষক করা হয়েছে মঙ্গল পাণ্ডেকে। তাঁর সঙ্গে সহ-পর্যবেক্ষক হিসেবে থাকছেন ফাংনন কোন্যাক এবং আলিপুরদুয়ারের সাংসদ মনোজ টিগ্গা।

    স্মৃতি ইরানি, রাম মাধবদেরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব

    সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাসে একাধিক প্রবীণ ও পরিচিত নেতাকে বিভিন্ন রাজ্যের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানিকে হরিয়ানা ও ছত্তিশগড়ের পর্যবেক্ষক করা হয়েছে। উত্তরপ্রদেশের দায়িত্ব পেয়েছেন দলের সাধারণ সম্পাদক বিনোদ তাওড়ে। তাঁর সঙ্গে সহ-পর্যবেক্ষক হিসেবে রয়েছেন জগদীশ পটেল, মেধা কুলকার্নি, প্রদীপ বর্মা এবং অনন্ত ওঝা।

    দিল্লির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিনয় সহস্রবুদ্ধেকে। তাঁর সঙ্গে সহ-পর্যবেক্ষক হয়েছেন জামিয়াং সেরিং নামগিয়াল এবং দর্শনা জারদোস। মহারাষ্ট্রের পর্যবেক্ষক হয়েছেন বৈজয়ন্ত জয় পাণ্ডা। তাঁর সঙ্গে সহ-পর্যবেক্ষক হিসেবে রয়েছেন অমিত মালব্য, সদানন্দ শেঠ তানাওয়াড়ে এবং কমলজিৎ সেহরাওয়াত।

    দক্ষিণ ভারতে তামিলনাড়ু ও উত্তরাখণ্ডের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রাম মাধবকে। তামিলনাড়ুতে তাঁর সঙ্গে সহ-পর্যবেক্ষক হিসেবে রয়েছেন নির্মল কুমার সুরানা এবং ডি কে অরুণা। উত্তরাখণ্ডে তাঁর সঙ্গে রয়েছেন অরবিন্দ মেনন ও বাঁসুরি স্বরাজ।

    সিকিমের দায়িত্বে দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্ত

    দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তকে সিকিমের পর্যবেক্ষক করা হয়েছে। বিজেপির এই সিদ্ধান্তের কথা সিকিমের দলীয় নেতৃত্বও জানিয়েছেন। মধ্যপ্রদেশের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেবকে। বিজেপির প্রকাশিত তালিকায় ওড়িশার দায়িত্বে ডি পুরন্দেশ্বরী এবং গুজরাতের দায়িত্বে তরুণ চুঘের নামও রয়েছে (BJP)।

    কেন্দ্রীয় প্রচার ও সংবাদমাধ্যমের দায়িত্বে রদবদল

    রাজ্যভিত্তিক সাংগঠনিক দায়িত্বের পাশাপাশি দলের সংবাদমাধ্যম ও যোগাযোগ ব্যবস্থাতেও পরিবর্তন করা হয়েছে। অনিল বালুনিকে দলের যোগাযোগ বিভাগের সমন্বয়কারী করা হয়েছে। এই বিভাগের অধীনে থাকবে জাতীয় সংবাদমাধ্যম এবং সোশ্যাল মিডিয়ার কাজ। আশিস ঊষা আগরওয়ালকে জাতীয় সংবাদমাধ্যম বিভাগের আহ্বায়ক করা হয়েছে।

    বিজেপির এই নতুন সাংগঠনিক কাঠামো ২০২৭ সালের একাধিক বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতির প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ বলেই দাবি পদ্ম শিবির সূত্রের। বিশেষ করে উত্তরপ্রদেশ, তামিলনাড়ু, উত্তরাখণ্ড-সহ একাধিক রাজ্যে আগামী নির্বাচনী প্রস্তুতিকে সামনে রেখেই দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে।

    পশ্চিমবঙ্গে বনসলকে (Sunil Bansal) বহাল রাখার সঙ্গে তিন নতুন সহ-পর্যবেক্ষক যুক্ত হওয়ায় রাজ্য সংগঠনের দায়িত্বে একটি সম্প্রসারিত কাঠামো তৈরি হল। ২০২২ সালে পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে বনসল রাজ্য সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। এবারও তাঁকেই দায়িত্বে রেখে নতুন তিন নেতাকে তাঁর সঙ্গে যুক্ত করলেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। এক বিজেপি (BJP) নেতার কথায়, “সুনীল বনসল জেলায় জেলায়, এমনকি ব্লক স্তর পর্যন্ত গিয়ে সংগঠনের সঙ্গে সমন্বয়ের কাজ করেছেন। তাই তাঁকে ফের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।”

     

  • Arrear DA: বকেয়া ডিএ মেটাতে বড় সিদ্ধান্ত নবান্নের, ২০০৮ থেকে ২০১৫ সালের টাকা এক কিস্তিতেই!

    Arrear DA: বকেয়া ডিএ মেটাতে বড় সিদ্ধান্ত নবান্নের, ২০০৮ থেকে ২০১৫ সালের টাকা এক কিস্তিতেই!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘদিনের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (Arrear DA) মেটানোর বিষয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার (West Bengal)। ২০০৮ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা এককালীন এক কিস্তিতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ২৩ সেপ্টেম্বর অর্থ দফতরের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।

    অর্থাৎ, নির্দিষ্ট সময়ের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা এবার ধাপে ধাপে নয়, একবারেই মেটানো হবে। তবে ওই সময়ের জন্য আগে যে টাকা দেওয়া হয়েছে, তা হিসেবের সঙ্গে ধরা হবে। ফলে একই সময়ের বকেয়া বাবদ যাতে দু’বার অর্থ প্রদান না হয়, সেই বিষয়টিও বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়েছে।

    বকেয়া মহার্ঘ ভাতা একবারেই (Arrear DA)

    ১ এপ্রিল ২০০৮ থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০১৫ পর্যন্ত সময়ের জন্য রাজ্য সরকারি কর্মীদের যে পরিমাণ মহার্ঘ ভাতা প্রাপ্য, তা এককালীন মেটানো হবে। হিসেব করা হবে সর্বভারতীয় ভোক্তা মূল্যসূচক এবং ১০০ শতাংশ নিরপেক্ষীকরণের ভিত্তিতে। তবে চলতি বছরের ১৩ মার্চ এবং ২৩ মার্চ জারি করা আগের নির্দেশ অনুযায়ী ওই সময়ের সঙ্গে সম্পর্কিত যে অর্থ ইতিমধ্যেই দেওয়া হয়েছে, তা নতুন করে নির্ধারিত বকেয়া থেকে বাদ দিয়ে হিসেব করা হবে।

    কার টাকা ভবিষ্যনিধিতে, কার টাকা সরাসরি ব্যাঙ্কে?

    বকেয়া মহার্ঘ ভাতা দেওয়ার ক্ষেত্রেও কর্মীদের শ্রেণি অনুযায়ী আলাদা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ‘ক’, ‘খ’ এবং ‘গ’ শ্রেণির কর্মীদের প্রাপ্য বকেয়া অর্থ তাঁদের সংশ্লিষ্ট সাধারণ ভবিষ্যনিধি হিসাবে জমা হবে। অন্যদিকে ‘ঘ’ শ্রেণির কর্মীদের বকেয়া অর্থ সরাসরি তাঁদের ব্যাঙ্ক হিসাবে দেওয়া হবে। তবে অবসরের তিন মাস আগে যাঁদের চূড়ান্ত সাধারণ ভবিষ্যনিধির অর্থ মেটানোর সময় এসে গিয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে বকেয়া মহার্ঘ ভাতা সাধারণ ভবিষ্যনিধিতে জমা হবে না। ওই অর্থ সরাসরি সংশ্লিষ্ট কর্মীর ব্যাঙ্ক হিসাবে দেওয়া হবে। সাধারণ ভবিষ্যনিধিতে বকেয়া মহার্ঘ ভাতার অর্থ জমা হলেও তা সঙ্গে সঙ্গে তোলা যাবে না। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ৩১ মার্চ ২০২৮ পর্যন্ত ওই অর্থ তোলার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা থাকবে। তবে তার আগেই সংশ্লিষ্ট কর্মীর অবসর, অবসরজনিত অবসান, মৃত্যু বা পদত্যাগ হলে, যে ঘটনা আগে ঘটবে, সেই অনুযায়ী নিয়ম প্রযোজ্য হবে (Arrear DA)।

    আয়কর কেটে দেওয়া হবে বকেয়া অর্থ

    বকেয়া মহার্ঘ ভাতা দেওয়ার সময় প্রযোজ্য আয়কর কেটে নেওয়া হবে। পাশাপাশি ১ জানুয়ারি ২০১৬ থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০১৯ পর্যন্ত সময়ের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা দেওয়ার ক্ষেত্রে আগে যে আয়কর কাটা হয়নি, প্রয়োজন অনুযায়ী তার হিসেবও করা হবে। প্রতিটি দফতরের বেতন ও কর্মীর চাকরিসংক্রান্ত নথি খতিয়ে দেখে সঠিক হিসেব করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে প্রাপ্য অর্থ নির্ধারণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দফতরগুলিকে সতর্কতার সঙ্গে নথি যাচাই করতে হবে। হিসেবের ভুল, যান্ত্রিক ত্রুটি অথবা অন্য কোনও কারণে কোনও কর্মী তাঁর প্রাপ্যের তুলনায় বেশি অর্থ পেয়ে গেলে সেই অতিরিক্ত অর্থ পরবর্তী সময়ে ফেরত নেওয়া হতে পারে। প্রয়োজনে ভবিষ্যতে কর্মীর প্রাপ্য অর্থের সঙ্গে তা অ্যাডজাস্টও করা হতে পারে।

    অনলাইন ব্যবস্থায় প্রযুক্তিগত পরিবর্তন

    বকেয়া মহার্ঘ ভাতা মেটানোর প্রক্রিয়া সহজ করতে রাজ্য সরকারের অনলাইন মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনাতেও প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত পরিবর্তন আনা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট দফতরের আধিকারিকদের মাধ্যমে বকেয়া অর্থের বিল তৈরি ও প্রক্রিয়াকরণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এই বিষয়ে পৃথক বিস্তারিত নির্দেশিকাও জারি করা হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

    উল্লেখ্য, চলতি বছরের মার্চে রাজ্য সরকার ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা দুই কিস্তিতে দেওয়ার (West Bengal) ব্যবস্থা করেছিল। ২০০৮ সালের এপ্রিল থেকে ২০১৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের বকেয়া মেটানোর পদ্ধতি পরে জানানো হবে বলে সেই সময়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল (Arrear DA)।

     

  • Assam: অসমে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ রুখতে কড়া নজর, কাছাড়ে ২২ জনকে পুশব্যাক

    Assam: অসমে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ রুখতে কড়া নজর, কাছাড়ে ২২ জনকে পুশব্যাক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আন্তর্জাতিক সীমান্তে নজরদারি আরও জোরদার করেছে অসম (Assam)। বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের চেষ্টা কিংবা রাজ্যে বেআইনিভাবে বসবাস করা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে নিরাপত্তা বাহিনী (Infiltrators Pushed Back)। সর্বশেষ অভিযানে কাছাড় জেলার সীমান্ত দিয়ে ভারতে ঢোকার চেষ্টা করা ২২ জন বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে আটক করে সীমান্তের ওপারে ফেরত পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবারের ঘটনা।

    বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী গ্রেফতার (Assam)

    এর পাশাপাশি, অসম পুলিশ রাজ্যে বেআইনিভাবে বসবাসকারী আরও ছয় বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে গ্রেফতার করেছে। তাঁদের তুলে দেওয়া হয়েছে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর হাতে। অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা বলেন, “রাজ্যে অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করা সমস্ত দেশবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে আমাদের বাহিনী সতর্ক রয়েছে।”

    এ ধরনের কার্যকলাপ প্রতিরোধে রাজ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে। অন্য একটি ঘটনায়, অসম পুলিশ দুই সাজাপ্রাপ্ত বাংলাদেশি নাগরিককে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর হাতে তুলে দেয়। পরে সীমান্তরক্ষী বাহিনী তাঁদের বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করে।

    গবাদি পশু পাচার ঘিরে ফের তৎপরতা

    এদিকে, সীমান্তপারের গবাদি পশু পাচারকে কেন্দ্র করে পৃথক একটি ঘটনায় অসমের শ্রীভূমি জেলায় চার বাংলাদেশি নাগরিক এবং তাঁদের এক ভারতীয় সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযোগ, তাঁরা গরু ও মহিষ বেআইনিভাবে সীমান্ত পার করে পাচারের চেষ্টা করছিলেন।

    পুলিশের কাছে এলাকায় সন্দেহজনক সীমান্তপারের গবাদি পশু পাচারের চেষ্টার খবর আসার পর সোমবার রাতে বদরপুর এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সেই অভিযানে পাঁচজনকে আটক করা হয় (Assam)।

    পুলিশ জানিয়েছে, বদরপুর থানার অন্তর্গত মহাকাল গ্রামে চার বাংলাদেশি নাগরিককে ধরা হয়। তাঁদের নাম রেজাউল করিম, সাব্বির আহমেদ, রাচেল আহমেদ এবং হাসান আহমেদ তাহিম। তাঁরা বাংলাদেশের সিলেট জেলার জকিগঞ্জের বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে।

    এই ঘটনায় এক ভারতীয় নাগরিককেও গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁর নাম ফজলউদ্দিন। তিনি কাছাড় জেলার কাটিগড়া বিধানসভা এলাকার জগদীশপুর গ্রামের বাসিন্দা। তদন্তকারীদের সন্দেহ, সীমান্ত পার করে গবাদি পশু নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করতে তিনি স্থানীয় সহযোগী হিসেবে কাজ করছিলেন।

    পুলিশের বক্তব্য

    প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, অভিযুক্ত বাংলাদেশি নাগরিকরা ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের টুকরগ্রাম এলাকা দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। অভিযোগ, পরে গবাদি পশুগুলি ফের বাংলাদেশে পাচার করার উদ্দেশ্য ছিল তাঁদের।

    কীভাবে তাঁরা সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে ঢুকলেন, এর নেপথ্যে আরও বড় কোনও পাচারচক্র সক্রিয় রয়েছে কি না এবং এই চক্রের সঙ্গে কারা যুক্ত, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

    পাঁচ অভিযুক্তকেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাঁদের ভারতে প্রবেশের পথ, পাচারচক্রের সঙ্গে যুক্ত অন্য ব্যক্তিদের পরিচয় এবং গবাদি পশু পাচারের পিছনে থাকা গোটা ব্যবস্থার সন্ধান চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা।

    মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা আরও বলেন, “সীমান্তের ওপারে হোক বা রাজ্যের ভিতরে, আমরা প্রত্যেক অবৈধ কার্যকলাপে যুক্ত ব্যক্তিকে খুঁজে বের করব (Infiltrators Pushed Back) এবং রাজ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে (Assam)।”

     

  • Donald Trump: ইরানের বিকল্প পথে জ্বালানি সরবরাহে জোর, ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ করিডরকে সমর্থন ট্রাম্পের

    Donald Trump: ইরানের বিকল্প পথে জ্বালানি সরবরাহে জোর, ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ করিডরকে সমর্থন ট্রাম্পের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি পরিকাঠামোকে ইরানের নিয়ন্ত্রণাধীন পথ থেকে সরিয়ে বিকল্প রুট গড়ে তোলার পক্ষে জোরালো সমর্থন জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। এ ক্ষেত্রে ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডরকে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরেছেন তিনি। রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের নেতাদের সঙ্গে বহুপাক্ষিক বৈঠকে মঙ্গলবার এ কথা (IMEC) বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

    ট্রাম্প বলেন, “প্রতিবেশী দেশগুলিতে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর ইরানের জঙ্গি হামলা দেখিয়ে দিয়েছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি পরিকাঠামোকে ইরানের নিয়ন্ত্রণাধীন পথ থেকে সরিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।”

    তিনি আরও বলেন, “এই কারণেই আমার প্রশাসন ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডর এবং তেল বাইরে নিয়ে যাওয়ার অন্যান্য পথ—তা পাইপলাইন হোক বা অন্য কোনও ব্যবস্থা—দৃঢ়ভাবে সমর্থন করে। একসঙ্গে আমরা এমন সব চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে ওঠার দ্বারপ্রান্তে রয়েছি, যেগুলি এক দশক ধরে এই অঞ্চলকে সমস্যায় রেখেছে।”

    ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডর (Donald Trump)

    ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডর একটি বহুদেশীয় পরিবহণ, জ্বালানি ও যোগাযোগ পরিকাঠামো প্রকল্প। ২০২৩ সালের ৯ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে ভারত, আমেরিকা, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন এই প্রকল্প নিয়ে সমঝোতাপত্রে সই করে।

    পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই করিডরের একটি পূর্বাঞ্চলীয় পথ ভারতকে উপসাগরীয় অঞ্চলের সঙ্গে এবং একটি উত্তরাঞ্চলীয় পথ উপসাগরীয় অঞ্চলকে ইউরোপের সঙ্গে যুক্ত করবে। এর মধ্যে রেলপথ, বন্দর-সংযোগ এবং সমুদ্র ও স্থলপথের যৌথ পরিবহণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

    প্রকল্পের আওতায় জ্বালানি ও ডিজিটাল যোগাযোগের জন্য তার এবং পরিষ্কার হাইড্রোজেন পরিবহণের জন্য পাইপলাইন তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে। এর লক্ষ্য ভারত, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের মধ্যে বাণিজ্য, যোগাযোগ এবং অর্থনৈতিক সংযোগ আরও বাড়ানো।

    চিনের বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগের বিকল্প হিসেবেও এই করিডরকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। পাশাপাশি ইরান-নিয়ন্ত্রিত গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ভারত ও ইউরোপের মধ্যে পণ্য পরিবহণের সময় কমানোর সম্ভাবনাও রয়েছে।

    বাড়ছে বিকল্প জ্বালানি পথের গুরুত্ব

    বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক জ্বালানি পরিবহণপথ হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে অস্থিরতার কারণে বিকল্প জ্বালানি করিডরের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ট্রাম্পের বক্তব্যেও এই প্রেক্ষাপট স্পষ্ট হয়েছে।

    তবে ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ করিডর এখনও পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। প্রকল্পটির অগ্রগতি নিয়ে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে রেলপথ, বন্দর ও মহাসড়কের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোর নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। তবে প্রকল্পের পূর্ণ বাস্তবায়নের জন্য নির্দিষ্ট সামগ্রিক সময়সীমা এখনও স্পষ্ট নয় (Donald Trump)।

    ইরানকে ফের কড়া হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

    এদিকে, রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদে দেওয়া আগের বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি করে ইরানকে ফের কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, আমেরিকা ইরানকে আর্থিকভাবে বিচ্ছিন্ন করেছে। তেহরান দ্রুত সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে বলেও আশা করছেন তিনি।

    ট্রাম্প বলেন, “একটা সময় আসবে যখন অনেক দেরি হয়ে যাবে এবং একটি দেশ হিসেবে তাদের টিকে থাকার সুযোগ দেওয়ার মতো পরিস্থিতি আমাদের হাতে আর থাকবে না। আমি সেটা দেখতে চাই না। তবে এই টেবিলে বসে থাকা মানুষগুলির অনেকেই সেটাই দেখতে চান।”

    ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প গত বছরের মার্কিন সামরিক অভিযান ‘মিডনাইট হ্যামারে’র কথাও উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, ওই অভিযানে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি কার্যত ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল এবং সংশ্লিষ্ট পরমাণু স্থাপনাগুলি ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়ে যায় (IMEC)।

    তবে ২০২৫ সালের ওই হামলার ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের দাবির বাইরে বিভিন্ন মূল্যায়নে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে। মার্কিন কংগ্রেসের গবেষণা সংস্থার নথি অনুযায়ী, ফোরদো, নাতাঞ্জ ও ইসফাহানের পরমাণু স্থাপনাগুলিতে হামলা চালানো হয়েছিল। পরে মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়ন নিয়ে ট্রাম্পের “সম্পূর্ণ ধ্বংস” দাবির মাত্রা নিয়ে বিতর্কও তৈরি হয় (Donald Trump)।

     

  • India Canada: ভারত-কানাডার বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে ফের আলোচনা, আগামী তিন মাস খুবই গুরুত্বপূর্ণ, বললেন পীযূষ গোয়েল

    India Canada: ভারত-কানাডার বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে ফের আলোচনা, আগামী তিন মাস খুবই গুরুত্বপূর্ণ, বললেন পীযূষ গোয়েল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের গতি পেতে চলেছে ভারত ও কানাডার (India Canada) মধ্যে প্রস্তাবিত ব্যাপক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি নিয়ে আলোচনা। ৫ অক্টোবর থেকে এই চুক্তির পঞ্চম দফার আলোচনা শুরু হবে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। দুই দেশই আলোচনা দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। চলতি বছরের শেষের মধ্যে চুক্তির আলোচনা শেষ করার লক্ষ্যও রয়েছে।

    সাংবাদিক বৈঠকে গোয়েল ভারত-কানাডা সম্পর্কের ক্ষেত্রে আগামী তিন মাসকে গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর কথায়, “আগামী ৯০ দিন ভারত-কানাডা সম্পর্কের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময় হতে চলেছে।”

    আলোচনার গতি বাড়ানোয় জোর (India Canada)

    সম্প্রতি মুম্বইয়ে কানাডার আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমন্ত্রী মানিন্দর সিধুর সঙ্গে গোয়েলের বৈঠকে চতুর্থ দফার আলোচনা শেষ হয়েছে। দুই পক্ষই আলোচনার গতি বাড়ানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছে। সেই সিদ্ধান্তের পরেই ৫ অক্টোবর থেকে পঞ্চম দফার আলোচনা শুরু করার কথা জানানো হয়েছে।

    প্রস্তাবিত চুক্তির মূল লক্ষ্য হল দুই দেশের মধ্যে পণ্য ও পরিষেবার বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ আরও বাড়ানো। পাশাপাশি একে অপরের বাজারে প্রবেশের সুযোগ সম্প্রসারণ, বাণিজ্যিক বাধা কমানো এবং রফতানিকারী ও আমদানিকারীদের জন্য আরও নিশ্চয়তা তৈরির বিষয়েও চুক্তিতে গুরুত্ব দেওয়া হবে। আলোচনায় দুই দেশের স্বার্থ ও উদ্বেগকে বিবেচনায় রেখে পারস্পরিক সুবিধাজনক সমঝোতায় পৌঁছনোর চেষ্টা করা হবে।

    ভারত ও কানাডার মধ্যে ওষুধ, প্রকৌশলজাত পণ্য, বস্ত্র, কৃষি, জ্বালানি এবং পরিষেবা-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। ২০২৫ সালে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ৩০.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০৩০ সালের মধ্যে সেই বাণিজ্য ৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে।

    চুক্তির প্রক্রিয়া

    প্রস্তাবিত ব্যাপক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তির আলোচনা অবশ্য নতুন নয়। ২০২২ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা শুরু হওয়ার পর ২০২২ ও ২০২৩ সালে মোট নয় দফা আলোচনা হয়েছিল। দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে টানাপোড়েনের মধ্যে ২০২৩ সালের আগস্টে আলোচনা স্থগিত হয়ে যায়। পরে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ফের সক্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং ২০২৬ সালে নতুন করে চুক্তির প্রক্রিয়া এগোয়। মার্চ ২০২৬-এ দুই দেশের মধ্যে আলোচনার কাঠামো সংক্রান্ত শর্তাবলিতেও সম্মতি হয় (India Canada)।

    কানাডার আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মন্ত্রকও ২১ সেপ্টেম্বর জানিয়েছে, দুই দেশ ব্যাপক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে এবং চলতি বছরের মধ্যে পারস্পরিকভাবে লাভজনক একটি চুক্তিতে পৌঁছনোর বিষয়ে কানাডার প্রতিশ্রুতি রয়েছে।

    পরবর্তী দফার আলোচনা

    ফলে ৫ অক্টোবর শুরু হতে চলা পরবর্তী দফার আলোচনায় এখনও অমীমাংসিত বিষয়গুলিতে কতটা অগ্রগতি হয় এবং দুই দেশ চুক্তির দিকে কতটা এগোতে পারে, এখন সেটাই দেখার। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, সাম্প্রতিক আলোচনার গতি এবং দুই দেশের নির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী, আগামী কয়েক মাস ভারত-কানাডার অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে (India Canada)।

     

  • Forest Operations: ছত্তিশগড়ের বীজাপুর-সুকমায় মাওবাদীদের গোপন ডেরার খোঁজ, বাজেয়াপ্ত বিপুল অস্ত্র-গোলাবারুদ

    Forest Operations: ছত্তিশগড়ের বীজাপুর-সুকমায় মাওবাদীদের গোপন ডেরার খোঁজ, বাজেয়াপ্ত বিপুল অস্ত্র-গোলাবারুদ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ছত্তিশগড়ের বস্তার অঞ্চলের জঙ্গলগুলিতে মাওবাদীদের বিরুদ্ধে তল্লাশি, মাইনমুক্তকরণ এবং এলাকায় আধিপত্য প্রতিষ্ঠার অভিযান আরও (Forest Operations) জোরদার করেছে নিরাপত্তাবাহিনী। এই অভিযানে বীজাপুর ও সুকমা জেলায় একাধিক গোপন মাওবাদী ডেরা থেকে আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ, বিস্ফোরক, যোগাযোগের সরঞ্জাম এবং অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে।

    চলতি মাসেই বীজাপুর জেলায় একাধিক অস্ত্রভাণ্ডারের খোঁজ মিলেছে। এর মধ্যে বেদ্রে থানার অধীন লঙ্কা পাহাড়ি এলাকার জঙ্গলে মাটির নীচে লুকিয়ে রাখা একটি বড় অস্ত্রভাণ্ডারও রয়েছে। সেখান থেকে একটি এসএলআর/এলএমজি রাইফেল, একটি ইনসাস রাইফেল, একটি ০.৩১৫ বোরের বন্দুক, দুটি ব্যারেল গ্রেনেড লঞ্চার, বিপুল গোলাবারুদ, ম্যাগাজিন এবং একটি চিনা হ্যান্ড গ্রেনেড উদ্ধার হয়েছে (Maoist)।

    সুকমা জেলার চিন্তলনা থানার অধীন ছোট কাঞ্চলা গ্রামের কাছের জঙ্গল থেকেও কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনী একটি গোপন মাওবাদী ডেরার খোঁজ পেয়েছে। সেখান থেকে উদ্ধার হয়েছে একটি একনলা বন্দুক, বেতার যোগাযোগের সরঞ্জাম, হাতে বহনযোগ্য তাপ-অনুসন্ধানী যন্ত্র, বৈদ্যুতিন সামগ্রী, মোবাইল ফোন, অপটিক্যাল সরঞ্জাম, মাওবাদী সাহিত্য এবং অন্যান্য উপকরণ। নিরাপত্তা সংস্থাগুলি জানিয়েছে, মাওবাদী কার্যকলাপের সময় জঙ্গলের প্রত্যন্ত এলাকায় লুকিয়ে রাখা অস্ত্র ও অন্যান্য সামগ্রী খুঁজে বের করতে লাগাতার তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

    চিনা হ্যান্ড গ্রেনেড-সহ অস্ত্র উদ্ধার (Forest Operations)

    বীজাপুরের লঙ্কা পাহাড়ি এলাকার জঙ্গলে বেদ্রে থানার অধীনে সাম্প্রতিক বড়সড় উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। ওই সময় নিরাপত্তাকর্মীরা একটি সন্দেহজনক জায়গা চিহ্নিত করেন। সেখানে তল্লাশি চালাতেই মেলে মাটির নীচে লুকানো অস্ত্রভাণ্ডারের হদিশ।

    পুলিশের দাবি, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে একটি এসএলআর/এলএমজি, একটি ইনসাস রাইফেল এবং একটি ০.৩১৫ বোরের বন্দুক। দুটি ব্যারেল গ্রেনেড লঞ্চারও উদ্ধার করা হয়েছে (Forest Operations)।

    উদ্ধার হওয়া গোলাবারুদের মধ্যে রয়েছে ১৭টি ব্যারেল গ্রেনেড লঞ্চারের গোলা, একটি চিনা হ্যান্ড গ্রেনেড, ৪৯টি তাজা এসএলআর গুলি, ০.৩১৫ বোরের ১৫টি গুলি এবং ১৫টি ব্যারেল গ্রেনেড লঞ্চারের কার্তুজ। চারটি এসএলআর ম্যাগাজিন এবং একটি ০.৩১৫ বোরের ম্যাগাজিনও বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

    ঘটনাস্থল থেকে আরও বিভিন্ন ধরনের সরঞ্জাম উদ্ধার হয়েছে। শুরু হয়েছে তদন্ত।

    পুলিশ আধিকারিক সিদ্ধার্থ সিং চৌহান বলেন, “বীজাপুরে লাগাতার তল্লাশি ও মাইনমুক্তকরণ অভিযান চলছে। এই অভিযানেই অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার হয়েছে। চলতি মাসের বিভিন্ন দিনেও অভিযানের সময় অস্ত্র এবং অন্যান্য সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।”

    একের পর এক অস্ত্রভাণ্ডারের হদিশ

    লঙ্কা পাহাড়ির উদ্ধার অভিযানটি সেপ্টেম্বর মাসে বীজাপুরে হওয়া একাধিক অভিযানের একটি।

    ২০ সেপ্টেম্বর ভৈরামগড় থানার আদওয়ারা জঙ্গলে তল্লাশি চালিয়ে একটি একে-৪৭, ০.৩১৫ বোরের অস্ত্র, একটি একনলা পিস্তল, গোলাবারুদ এবং ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়।

    ১৬ সেপ্টেম্বর বডে আলওয়াড়া জঙ্গল থেকে একটি ০.৩১৫ বোরের রাইফেল, ৪৯টি তাজা গুলি, ২৫টি ০.৩০৩ গুলি, ৪৯টি ১২ বোরের গুলি, জিলেটিন, বেতার যন্ত্র এবং অন্যান্য সরঞ্জাম উদ্ধার হয়।

    ৫ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনীর ১৯৯ নম্বর ব্যাটেলিয়ন পিডিয়া-কুপ্পাগুড়া এলাকায় বড়সড় অভিযান চালায়। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এদরি, হররা, নয়াপাড়া এবং সরপঞ্চপাড়ার আশপাশের জঙ্গলে তল্লাশি চালানো হয়। সেখানে ১৪টি সন্দেহভাজন মাওবাদী ডেরা থেকে আগ্নেয়াস্ত্র, বিস্ফোরক, ডেটোনেটর, হাতে তৈরি বিস্ফোরক যন্ত্র, যোগাযোগের সরঞ্জাম এবং অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধার করা হয় (Forest Operations)।

    ৩ সেপ্টেম্বর নীলামডগু নদীর তীরবর্তী এলাকায়ও অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা ঘটে। একটি ফাঁপা গাছের ভিতরে লুকিয়ে রাখা একটি দেশি ১২ বোরের বন্দুক, ক্ষতিগ্রস্ত একটি ব্যারেল গ্রেনেড লঞ্চার রাইফেল, আটটি গ্রেনেড লঞ্চার সেল এবং ১০টি তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়।

    বীজাপুরের পুলিশ সুপার উমেশ প্রসাদ গুপ্ত জানিয়েছেন, ঝুঁকিপূর্ণ জঙ্গল এলাকাগুলিতে তল্লাশি ও মাইনমুক্তকরণ অভিযান অব্যাহত রয়েছে, যাতে মাওবাদীরা অস্ত্র ও অন্যান্য সরঞ্জাম লুকিয়ে রাখতে না পারে (Maoist)।

    সুকমায় মাওবাদী ডেরার খোঁজ

    এদিকে সুকমা জেলার চিন্তলনা থানার ছোট কাঞ্চলা গ্রামের জঙ্গলেও মিলেছে মাও-ডেরার খোঁজ। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনীর ১৫০ নম্বর ব্যাটালিয়ন এই অভিযান চালায়। ২০ সেপ্টেম্বর ইউনিটের গোয়েন্দা শাখা মাটির নীচে লুকোনো আস্তানার খোঁজ পায়। শুরু হয় অভিযান।

    দুর্গম পাহাড়ি এলাকা এবং ঘন জঙ্গল পেরিয়ে নিরাপত্তাকর্মীরা সন্দেহভাজন এলাকায় পৌঁছন। সেখানে হাতে তৈরি বিস্ফোরক যন্ত্র থাকার আশঙ্কায় এলাকাটি ঘিরে ফেলা হয়। এরপর প্রশিক্ষিত কুকুরের দল এবং বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলের সাহায্যে তল্লাশি চালানো হয়।

    প্রশিক্ষিত কুকুরের দল একটি সন্দেহজনক জায়গা চিহ্নিত করে। সেখান থেকে মাটির নীচে পুঁতে রাখা দুটি লোহার ড্রাম উদ্ধার করা হয়।

    বাজেয়াপ্ত নানা সামগ্রী

    উদ্ধার হওয়া ড্রামের ভিতরে ছিল বিভিন্ন ধরনের সামগ্রী। এর মধ্যে রয়েছে একটি একনলা বন্দুক, তাপ-অনুসন্ধানী যন্ত্র, ভিএইচএফ বেতার যন্ত্র, বেতার যন্ত্রের ব্যাটারি চার্জার, বিভিন্ন বৈদ্যুতিন বর্তনী, অ্যান্টেনা এবং অন্যান্য বৈদ্যুতিন সরঞ্জাম (Forest Operations)। দুটি মোবাইল ফোন, দূরবীক্ষণ যন্ত্র, সাইরেনের শব্দ তৈরির যন্ত্র এবং ঢালের কোণ মাপার যন্ত্রও উদ্ধার হয়েছে।

    নিরাপত্তাকর্মীরা মাওবাদী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত একটি লাল পতাকা এবং মাওবাদী সাহিত্যও বাজেয়াপ্ত করেছেন। উদ্ধার হয়েছে একটি পিঠু ব্যাগ, গ্যাস সিলিন্ডার, ওষুধ এবং হেডফোনও।

    তদন্তকারীদের বিশেষ নজরে এসেছে উদ্ধার হওয়া কয়েকটি বেতার যোগাযোগের সরঞ্জামে থাকা চিহ্ন। ওই যন্ত্রগুলিতে “পিএল-০৪” এবং “পামদে ডিভিশনে”র মতো ইউনিট-চিহ্ন রয়েছে।

    এই চিহ্ন এবং বেতার সরঞ্জামগুলি কী কাজে ব্যবহার করা হত এবং মাওবাদী নেটওয়ার্কের সঙ্গে এগুলির কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

    বেতার সরঞ্জামের উৎস খতিয়ে দেখছে পুলিশ

    কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনীর কর্তা আনন্দ সিং রাজপুত বলেন, “মাওবাদী ডেরা থেকে উদ্ধার হওয়া বেতার যন্ত্রগুলি পরীক্ষা করা হচ্ছে। মাওবাদীরা কোথা থেকে এই বেতার যন্ত্রগুলি লুট করেছিল বা সংগ্রহ করেছিল, তা জানার চেষ্টা চলছে।”

    উদ্ধার হওয়া সরঞ্জামগুলির উৎস, মাওবাদী সংগঠনের কোন কোন ইউনিট সেগুলি ব্যবহার করত এবং কোন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সেগুলি তাদের হাতে পৌঁছেছিল, তা খতিয়ে দেখছেন (Maoist) তদন্তকারীরা।

    বস্তারজুড়ে তল্লাশি ও নিরাপত্তা অভিযান অব্যাহত

    বীজাপুর ও সুকমায় এই অস্ত্রভাণ্ডারের খোঁজ মেলার পর বস্তারজুড়ে শুরু হয়েছে জোরদার নিরাপত্তা অভিযান। পুলিশের বক্তব্য, ৩১ মার্চ ছত্তিশগড়কে সশস্ত্র মাওবাদী উপস্থিতি থেকে মুক্ত ঘোষণা করার পরেও, জঙ্গলে লুকিয়ে রাখা অস্ত্র, বিস্ফোরক, যোগাযোগের সরঞ্জাম এবং অন্যান্য সামগ্রী খুঁজে বের করতে তল্লাশি অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে নিরাপত্তাবাহিনী।

    বিস্তীর্ণ জঙ্গল, প্রত্যন্ত বসতি এবং দুর্গম যাতায়াতের পথের কারণে এই অঞ্চলে নিয়মিত নজরদারি ও মাইনমুক্তকরণ অভিযানকে নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সন্দেহভাজন এলাকাগুলিতে তল্লাশির পাশাপাশি গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মাটির নীচে লুকিয়ে রাখা অস্ত্রভাণ্ডার ও অন্যান্য সামগ্রীর খোঁজও চালানো হচ্ছে।

    সেপ্টেম্বর মাসে একাধিক এলাকায় অস্ত্র ও অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধারের ঘটনা থেকে স্পষ্ট, তল্লাশি কোনও একটি নির্দিষ্ট এলাকায় সীমাবদ্ধ নেই; বস্তারের বিভিন্ন জঙ্গল এলাকাতেই অভিযান চালানো হচ্ছে।

    বীজাপুরের লঙ্কা পাহাড়ি এলাকায় অস্ত্রভাণ্ডার উদ্ধার এবং সুকমার ছোট কাঞ্চলার কাছে মাটির নীচে লুকোনো ডেরার খোঁজ মেলার পর আশপাশের জঙ্গলে নজরদারি ও তল্লাশি আরও বাড়ানো হয়েছে।

    সন্দেহজনক সামগ্রী দেখলে পুলিশকে জানানোর আবেদন

    বীজাপুর পুলিশ স্থানীয় বাসিন্দা, জঙ্গলে বসবাসকারী মানুষ এবং প্রত্যন্ত এলাকার মধ্যে দিয়ে যাতায়াতকারী ব্যক্তিদের কাছে আবেদন জানিয়েছে, কোনও সন্দেহজনক বস্তু, অস্ত্র, গোলাবারুদ, বিস্ফোরক বা অপরিচিত সামগ্রী চোখে পড়লে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে খবর দিতে।

    বিশেষ করে নির্জন জঙ্গল এলাকায় কোনও সন্দেহজনক বস্তু দেখা গেলে সেটি স্পর্শ, সরানো বা তার কাছে যাওয়া থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। মাটির নীচে বা অন্যত্র লুকিয়ে রাখা সামগ্রী গুরুতর বিপদের কারণ হতে পারে (Forest Operations) বলেও বাসিন্দাদের সতর্ক করা হয়েছে।

     

  • Cross Border Terrorism: সীমান্তপারের সন্ত্রাসে বিশ্বাসযোগ্য পদক্ষেপ করতে হবে পাকিস্তানকে, সাফ জানাল ভারত

    Cross Border Terrorism: সীমান্তপারের সন্ত্রাসে বিশ্বাসযোগ্য পদক্ষেপ করতে হবে পাকিস্তানকে, সাফ জানাল ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ (Cross Border Terrorism) মোকাবিলায় পাকিস্তানকে (Pakistan) কথার পাশাপাশি বাস্তব ও বিশ্বাসযোগ্য পদক্ষেপ করতে হবে। পাকিস্তান কী বলছে, তা আন্তর্জাতিক মহল বিশ্বাস করার আগে ইসলামাবাদকে কাজের মাধ্যমে তার প্রতিশ্রুতি পূরণের দাবি প্রমাণ করতে হবে বলে মঙ্গলবার জানাল ভারতের বিদেশ মন্ত্রক।

    মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে সাংবাদিক সম্মেলনে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালকে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান তথা প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সাম্প্রতিক মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। মুনির জানিয়েছিলেন, দেশে জঙ্গি তৎপরতা বাড়তে থাকা হুমকির মধ্যে সন্ত্রাসবাদ পরাস্ত করতে পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

    এর জবাবে জয়সওয়াল বলেন, “পাকিস্তানকে পদক্ষেপ এবং দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রমাণ দিতে হবে। সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে তাদের বিশ্বাসযোগ্য পদক্ষেপ নিতে হবে। তারা যা বলছে, তা সত্যিই করবে—বিশ্বকে তা বিশ্বাস করাতে হলে এই পদক্ষেপ জরুরি।”

    গত বছর পহেলগাঁও হামলার পর থেকেই নয়াদিল্লি বলে আসছে, সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদে সমর্থন দেওয়া থেকে পাকিস্তানকে বিশ্বাসযোগ্য ও স্থায়ীভাবে সরে আসতে হবে।

    পেশোয়ারে আসিম মুনিরের বার্তা (Cross Border Terrorism)

    এর আগে মঙ্গলবার পাকিস্তানের ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির বলেছিলেন, দেশে জঙ্গি হুমকি বাড়তে থাকলেও, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় সশস্ত্র বাহিনী দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

    পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ দফতরের তথ্য অনুযায়ী, মুনির পেশোয়ারের সেনা সদর দফতর পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি ঊর্ধ্বতন আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং প্রদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত হন। সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং সেখানে মোতায়েন বাহিনীর প্রস্তুতি নিয়েও তাঁকে জানানো হয়।

    পাক সেনাবাহিনীর তরফে বলা হয়েছে, মুনির জোর দিয়ে জানান, দেশের জনগণের অবিচল সমর্থন নিয়ে সশস্ত্র বাহিনী সন্ত্রাসবাদ পরাস্ত করতে এবং সারা দেশে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নিহতদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান তিনি।

    আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলার নিন্দা ভারতের

    এদিকে আফগানিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় পাকিস্তানের বিমান হামলারও তীব্র নিন্দা করেছে ভারত। জয়সওয়াল বলেন, সার্বভৌম প্রতিবেশী দেশের বিরুদ্ধে এই ধরনের আগ্রাসনের ঘটনা আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তার পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। আফগানিস্তানের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি ভারতের সমর্থনের কথাও জানান তিনি।

    পাকিস্তান সোমবার জানিয়েছিল, আফগানিস্তানের সঙ্গে সীমান্তবর্তী এলাকায় সন্ত্রাসবাদীদের শিবির ও গোপন আস্তানায় বিমান হামলা চালিয়েছে তাদের নিরাপত্তা বাহিনী। পাকিস্তানের দাবি, ওই হামলায় আত্মঘাতী হামলাকারী-সহ ২৮ জন সন্ত্রাসবাদী নিহত হয়েছে। পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রক জানিয়েছে, তিনটি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়।

    তবে আফগানিস্তান পাকিস্তানের এই দাবি ও পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছে। কাবুলের তরফে আফগান ভূখণ্ড পাকিস্তানের বিরুদ্ধে হামলার জন্য ব্যবহার করতে দেওয়া হয়—এমন অভিযোগও অস্বীকার করা হয়েছে।

    পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই কাবুলের তালিবান প্রশাসনের কাছে আফগান ভূখণ্ডে থাকা সন্ত্রাসবাদী ঘাঁটি ভেঙে দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে। বিশেষ করে পাকিস্তানের নিষিদ্ধ তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত ঘাঁটিগুলির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায় ইসলামাবাদ। পাকিস্তানের অভিযোগ, এসব জায়গা থেকে তাদের দেশে হামলা চালানো হয় (Cross Border Terrorism)।

    সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি নিয়েও ভারত-পাকিস্তান মতবিরোধ

    এদিকে সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি নিয়ে সালিশি আদালতের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গেও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তথ্য বিকৃতির অভিযোগ তুলেছে ভারত।

    পাকিস্তান এই সিদ্ধান্তকে স্থায়ী সালিশি আদালতের রায় হিসেবে তুলে ধরছে—এমন প্রশ্নের জবাবে জয়সওয়াল বলেন, “প্রথমত, পাকিস্তানের মন্ত্রী যেভাবে বিষয়টি তুলে ধরছেন, তথাকথিত এই সিদ্ধান্ত স্থায়ী সালিশি আদালতের রায় নয়। এটি একটি বেআইনিভাবে গঠিত আদালতের সিদ্ধান্ত। আমরা একে বাস্তবতাকে বিকৃত করার পাকিস্তানের আর একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছি। এই বিষয়ে ভারতের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট এবং আমরা তা একাধিকবার জানিয়েও দিয়েছি।”

    অগাস্টের শেষের দিকে সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি সংক্রান্ত একটি সিদ্ধান্তে সালিশি সংস্থা (Pakistan) জানিয়েছিল, চুক্তিটি কার্যকর রয়েছে এবং ভারত একতরফাভাবে সেটিকে স্থগিত রাখতে পারে না। ভারত অবশ্য ওই সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে স্পষ্ট জানিয়েছিল, তারা ওই সালিশি প্রক্রিয়াকে স্বীকৃতিই দেয় না (Cross Border Terrorism)।

     

  • Hamid Ansari: হিন্দু দক্ষিণপন্থী সাম্প্রদায়িকতা নিয়ে হামিদ আনসারির মন্তব্যে বিতর্ক, তীব্র আক্রমণ ইমাম ইলিয়াসির

    Hamid Ansari: হিন্দু দক্ষিণপন্থী সাম্প্রদায়িকতা নিয়ে হামিদ আনসারির মন্তব্যে বিতর্ক, তীব্র আক্রমণ ইমাম ইলিয়াসির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রাক্তন উপরাষ্ট্রপতি হামিদ আনসারির (Hamid Ansari) “হিন্দু দক্ষিণপন্থী সাম্প্রদায়িকতা” সংক্রান্ত মন্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তাঁর মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন অল ইন্ডিয়া ইমাম অর্গানাইজেশনের প্রধান ইমাম উমর আহমেদ ইলিয়াসি (Imam Ilyasi)। তাঁর অভিযোগ, এই ধরনের মন্তব্য দেশের সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট করতে পারে।

    গত ১৯ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লির ইন্ডিয়া ইসলামিক কালচারাল সেন্টারে প্রয়াত সংবিধান বিশেষজ্ঞ তথা লেখক এজি নূরানির স্মরণে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন আনসারি। সেখানে তিনি নূরানির ২০১৯ সালের বই ‘দ্য আরএসএস: আ মেনেস টু ইন্ডিয়া’র প্রসঙ্গ তুলে ধরেন এবং প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর একটি পুরনো বক্তব্যের উল্লেখ করেন। আনসারি বলেন, নেহরুর মতে ভারতের জন্য প্রকৃত বিপদ সাম্যবাদ নয়, বরং হিন্দু দক্ষিণপন্থী সাম্প্রদায়িকতা। পাশাপাশি সাম্প্রতিক বছরগুলিতে নাগরিক জাতীয়তাবাদের প্রতিষ্ঠিত ধারণার পরিবর্তে সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, এই প্রবণতার মাধ্যমে ধর্মীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতাকে নির্বাচনী সংখ্যাগরিষ্ঠতার সঙ্গে এক করে রাজনৈতিক ক্ষমতা একচেটিয়া করার চেষ্টা হতে পারে। আনসারি আরও বলেন, এর ফলে ধর্মের ভিত্তিতে নাগরিকদের মধ্যে পার্থক্য তৈরি করা, অসহিষ্ণুতাকে উৎসাহ দেওয়া এবং সমাজে অন্যত্ব, অস্থিরতা ও নিরাপত্তাহীনতার পরিবেশ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    ইমাম ইলিয়াসির আক্রমণ (Hamid Ansari)

    আনসারির বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন ইলিয়াসি। তাঁর অভিযোগ, মুসলিম সমাজের মধ্যে নিজের ভাবমূর্তি পুনর্গঠনের উদ্দেশ্যেই আনসারি এই ধরনের মন্তব্য করেছেন। ইলিয়াসি বলেন, “আমি এই বক্তব্যের তীব্র নিন্দা করছি। হামিদ আনসারি সাহেব আবার মুসলিমদের কথা মনে করেছেন। তিনি যখন ক্ষমতায় ছিলেন এবং গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন, তখন তিনি ধর্মনিরপেক্ষ ছিলেন। আজ তিনি মুসলিমদের কথা মনে করছেন।” তিনি আরও বলেন, “মুসলিমরা তাঁর সম্পর্কে জানতে চাইছেন না। তাঁদের মধ্যে নিজের ভাবমূর্তি উন্নত করার জন্যই তিনি এই ধরনের মন্তব্য করেছেন।” দেশের পরিবেশ নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে ইলিয়াসির মন্তব্য, “আমার মনে হচ্ছে, কোথাও না কোথাও দেশের পরিবেশ নষ্ট করার জন্য এটি একটি বড় ষড়যন্ত্র।”

    ভাগবতের বক্তব্য সমর্থনের পরামর্শ

    ইলিয়াসি বলেন, মুসলিম সমাজ নিয়ে আলোচনা করার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের প্রধান মোহন ভাগবতের কিছু বক্তব্যকেও স্বীকৃতি দেওয়া উচিত। তিনি বলেন, “মোহন ভাগবতজি যখন বলেছেন যে সব ভারতীয়ের ডিএনএ এক, মসজিদের নীচে শিবলিঙ্গ খোঁজা উচিত নয় এবং সম্প্রতি আমেরিকা সফরের সময় মুসলিমদের অধিকারের পক্ষে বক্তব্য দিয়েছেন, তখন সেই বক্তব্যগুলিকেও সমর্থন করা উচিত (Hamid Ansari)।”

    বিজেপি এবং বিশ্ব হিন্দু পরিষদেরও সমালোচনা

    আনসারির মন্তব্যের সমালোচনা করেছে বিজেপি এবং বিশ্ব হিন্দু পরিষদও। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের নেতা বিনোদ বনসলের অভিযোগ, উপরাষ্ট্রপতি পদে থাকার সময়ে আনসারি উগ্রপন্থী সংগঠন হিসেবে বর্ণিত পিএফআই এবং এসডিপিআইয়ের আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন। বনসল বলেন, “ভারতের সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দু সমাজের কাছ থেকে কোনও হুমকি নেই। হুমকি তাদের কাছ থেকে, যারা উগ্র মানসিকতা নিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ ও সংখ্যালঘুর বিভাজনের বিষ ছড়ায় এবং যারা উগ্রপন্থাকে উৎসাহ দেয়, তাদের রক্ষা করার চেষ্টা করে।” বিজেপির অভিযোগ, আনসারির বক্তব্য কংগ্রেসের তথাকথিত হিন্দু-বিরোধী রাজনীতির প্রতিফলন। সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া এক বার্তায় রাহুল গান্ধীর অতীতের হিন্দু সংগঠন ও সন্ত্রাসবাদ সংক্রান্ত মন্তব্যের প্রসঙ্গও টেনে আনে পদ্ম শিবির। ঘটনায় (Imam Ilyasi) রাজনৈতিক বিতর্কের পাশাপাশি নাগরিক জাতীয়তাবাদ, সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদ এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিয়ে নতুন করে শুরু হয়েছে (Hamid Ansari) চর্চা।

     

  • Giorgia Meloni: ইতালির স্কুলে বোরখা-নিকাব নিষিদ্ধের প্রস্তাব, বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যায়ও সীমা চান মেলোনি

    Giorgia Meloni: ইতালির স্কুলে বোরখা-নিকাব নিষিদ্ধের প্রস্তাব, বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যায়ও সীমা চান মেলোনি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইতালির স্কুলগুলিতে বোরখা ও নিকাব (Burqa Niqab Ban) পরা নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছেন সে দেশের প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। একই সঙ্গে প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে ইতালীয় (Giorgia Meloni) নাগরিকত্ব নেই—এমন শিক্ষার্থীর সংখ্যারও একটি সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর রোমে নিজের দল ‘ব্রাদার্স অব ইতালি’-র যুব সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় এই পরিকল্পনার কথা জানান মেলোনি। তিনি বলেন, শিগগিরই প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভার বৈঠকে পেশ করা হবে।

    স্কুলে বোরখা-নিকাব নিষিদ্ধের প্রস্তাব

    প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় স্কুলে মুখ ঢেকে রাখা পোশাক, বিশেষ করে বোরখা ও নিকাব পরার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি হতে পারে। বোরখা এমন একটি পোশাক, যাতে শরীর ও মুখ সম্পূর্ণ ঢাকা থাকে। অন্যদিকে নিকাবে মুখ ঢাকা থাকে, তবে চোখ দেখা যায়।

    মেলোনি বলেন, ইতালিতে কোনও ব্যক্তি “বাস্তব বা কথিত কোনও ঐতিহ্যের নামে” কোনও তরুণীকে নিজের মুখ ঢেকে রাখতে বাধ্য করতে পারবেন না। তাঁর বক্তব্য, যাঁরা ইতালিতে এসে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়তে চান, তাঁদের ইতালীয় ভাষা শিখতে হবে, দেশের সংস্কৃতি বুঝতে হবে এবং দেশের নিয়ম মেনে চলতে হবে।

    তবে প্রস্তাবটি এখনও আইন নয়। সরকারের অনুমোদন মেলার পর ৬০ দিনের মধ্যে সংসদের অনুমোদন পেতে হবে, তবেই তা আইনে পরিণত হবে।

    শ্রেণিকক্ষে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যায়ও সীমা

    মেলোনির প্রস্তাবের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে ইতালীয় নাগরিকত্ব নেই—এমন শিক্ষার্থীর সর্বোচ্চ সংখ্যা নির্ধারণ করা। তবে সেই সীমা কত হবে, তা এখনও জানাননি প্রধানমন্ত্রী।

    এ ছাড়া, যে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ইতালীয় স্কুলব্যবস্থার সঙ্গে মানিয়ে নিতে সমস্যা হচ্ছে, তাঁদের অভিভাবকদের জন্য ইতালীয় ভাষা শেখার ক্লাস বাধ্যতামূলক করার কথাও বলেছেন মেলোনি।

    মেলোনির বক্তব্য, কোনও শ্রেণিতে মাত্র একজন শিক্ষার্থী যদি ইতালীয় ভাষা না বোঝে, তাহলে শিক্ষক ও সহপাঠীরা তাকে ভাষা শেখা এবং স্কুলের পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সাহায্য করতে পারেন। কিন্তু ভাষা না জানা শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনেক বেড়ে গেলে, এমনকি সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়ে গেলে, তাদের একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়া আরও কঠিন হতে পারে বলে তিনি মনে করেন। তিনি আরও বলেন, ইতালীয় শিশুদের নিজেদের শ্রেণিকক্ষেই যেন সংখ্যালঘু মনে না হয়, সেটিও নিশ্চিত করা দরকার।

    অভিবাসন নিয়ে বিতর্ক

    ভূমধ্যসাগরের মধ্যবর্তী অবস্থানের কারণে ইতালি ইউরোপে অভিবাসী আগমনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই দেশটির রাজনীতি ও সমাজে অভিবাসন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে রয়েছে। বিশেষ করে মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলি থেকে আসা অভিবাসীদের একীভূতকরণ নিয়ে ইতালিতে বিতর্ক রয়েছে। ধর্মীয় প্রতীক, সাংস্কৃতিক একীকরণ, নাগরিকত্বের নিয়ম এবং অভিবাসন নীতি—এই বিষয়গুলি বিভিন্ন সময়ে মতভেদের কারণ হয়েছে (Giorgia Meloni)।

    ইতালির অভিবাসন ও শিক্ষা নিয়ে গবেষণা করা প্রতিষ্ঠান ফোন্দাজিওনে ইসমুর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে ইতালির স্কুলগুলিতে ইতালীয় নাগরিকত্ব নেই—এমন শিক্ষার্থীর সংখ্যা আনুমানিক ৯ লক্ষ ৩০ হাজার। মোট স্কুলশিক্ষার্থীর মধ্যে তাদের অংশ ১১.৬ শতাংশ, অর্থাৎ প্রতি ১০০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রায় ১২ জনের ইতালীয় নাগরিকত্ব নেই।

    এখনও চূড়ান্ত নয় প্রস্তাব

    মেলোনির সরকার এখনও শ্রেণিকক্ষে ইতালীয় নাগরিকত্ব নেই এমন শিক্ষার্থীর সর্বোচ্চ সংখ্যা বা অনুপাত নির্দিষ্ট করেনি। মুখ ঢাকা পোশাক (Burqa Niqab Ban) নিষিদ্ধ করা এবং বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা সীমিত করার প্রস্তাব—দু’টিই প্রথমে সরকারের অনুমোদন এবং পরে সংসদের অনুমোদনের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাবে। ফলে প্রস্তাবগুলি ঠিক কীভাবে কার্যকর হবে, তা আইন প্রণয়নের পরেই স্পষ্ট হবে (Giorgia Meloni)।

     

LinkedIn
Share